ভিপি নির্বাচিত হয়ে ১০৫ বছরের ইতিহাস বদলে দিলেন ভারতের মুসলিম তরুণী
ভারতের ঐতিহ্যবাহী আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছেন মুসলিম তরুণী নাশরা নাইম। দীর্ঘ আট বছর পর অনুষ্ঠিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ৭ হাজার ৯১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন তিনি। শুধু ভিপি পদেই নয়, এবারের নির্বাচনে ১৩টি পদের মধ্যে ছয়টিতে জয় পেয়েছেন নারী প্রার্থীরা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্ররাজনীতিতে নারীদের এই অর্জন নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভারতীয় বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) প্রতিবেদন অনুযায়ী, সহসভাপতি পদে নাশরা নাইমের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৫ হাজার ৮১৮ ভোট। অর্থাৎ ১ হাজার ২৭৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়টির দীর্ঘ ইতিহাসে এর আগে কোনো নারী শিক্ষার্থী ছাত্র সংসদের সহসভাপতি নির্বাচিত হননি। ফলে তাঁর এই জয়কে ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাশরা নাইম। তিনি জানান, সীমিত সময়, অল্পসংখ্যক সহযোগী এবং কম সুযোগ-সুবিধা নিয়েও এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে তাঁর সঙ্গে কাজ করা শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতা, সাহস ও নিষ্ঠার কারণে। একই সঙ্গে নেতৃত্বের প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এবারের নির্বাচনে নারীদের সাফল্য শুধু সহসভাপতি পদে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ছাত্র সংসদের কার্যনির্বাহী কমিটির ১০টি সদস্য পদের মধ্যে পাঁচটিতে জয়ী হয়েছেন নারী প্রার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতিহাসে এই সংখ্যাকে রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিপি পদসহ মোট ছয়টি পদে নারীদের বিজয় ছাত্র সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে ছাত্র সংসদের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ নোমান আশরাফ। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে ৪ হাজার ১০০টির বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে জয় পেয়েছেন মোহাম্মদ হামদান। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্রার্থীরা শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নবনির্বাচিত সভাপতি নোমান আশরাফ বলেন, দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষা ও আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীরা আবার ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এ কারণে এবারের নির্বাচন তাঁদের জন্য বিশেষ আনন্দের। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হামদান জানান, বড় বিজয়ের সঙ্গে বড় দায়িত্বও আসে। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ ও বিশ্ববিদ্যালয় কোর্ট নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা অধ্যাপক জাভেদ তালিব আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে উইমেনস কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা অধ্যাপক নাজিয়া হাসান সংশ্লিষ্ট নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন।
দীর্ঘ আট বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে গত তিন বছর ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ বিরতির পর ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পাওয়ায় ক্যাম্পাসে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক সচেতনতার প্রভাব দেখা গেছে। আগের বছরগুলোতে মূলত ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা হলেও এবার জাতীয় রাজনীতি এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ও শিক্ষার্থীদের আলোচনায় উঠে এসেছে।
নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নাইমা খাতুন। তিনি এই নির্বাচনকে প্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ক্রমবর্ধমান প্রতিনিধিত্বকে স্বাগত জানিয়ে নারী ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। দীর্ঘ বিরতির পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও পুরো প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি হিসেবে নাশরা নাইমের বিজয় এবং কার্যনির্বাহী কমিটিতে পাঁচ নারী প্রার্থীর জয় বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্ররাজনীতিতে নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ আট বছর পর ছাত্র সংসদ নির্বাচন ফিরে আসা এবং নারীদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবারের নির্বাচনের দুটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হয়ে উঠেছে।
সূত্র: প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আন্তর্জাতিক
View moreভারতের ঐতিহ্যবাহী আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছেন মুসলিম তরুণী নাশরা নাইম। দীর্ঘ আট বছর পর অনুষ্ঠিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ৭ হাজার ৯১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন তিনি। শুধু ভিপি পদেই নয়, এবারের নির্বাচনে ১৩টি পদের মধ্যে ছয়টিতে জয় পেয়েছেন নারী প্রার্থীরা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্ররাজনীতিতে নারীদের এই অর্জন নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারতীয় বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) প্রতিবেদন অনুযায়ী, সহসভাপতি পদে নাশরা নাইমের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৫ হাজার ৮১৮ ভোট। অর্থাৎ ১ হাজার ২৭৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়টির দীর্ঘ ইতিহাসে এর আগে কোনো নারী শিক্ষার্থী ছাত্র সংসদের সহসভাপতি নির্বাচিত হননি। ফলে তাঁর এই জয়কে ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাশরা নাইম। তিনি জানান, সীমিত সময়, অল্পসংখ্যক সহযোগী এবং কম সুযোগ-সুবিধা নিয়েও এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে তাঁর সঙ্গে কাজ করা শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতা, সাহস ও নিষ্ঠার কারণে। একই সঙ্গে নেতৃত্বের প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এবারের নির্বাচনে নারীদের সাফল্য শুধু সহসভাপতি পদে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ছাত্র সংসদের কার্যনির্বাহী কমিটির ১০টি সদস্য পদের মধ্যে পাঁচটিতে জয়ী হয়েছেন নারী প্রার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতিহাসে এই সংখ্যাকে রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিপি পদসহ মোট ছয়টি পদে নারীদের বিজয় ছাত্র সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। অন্যদিকে ছাত্র সংসদের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ নোমান আশরাফ। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে ৪ হাজার ১০০টির বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে জয় পেয়েছেন মোহাম্মদ হামদান। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্রার্থীরা শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নবনির্বাচিত সভাপতি নোমান আশরাফ বলেন, দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষা ও আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীরা আবার ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এ কারণে এবারের নির্বাচন তাঁদের জন্য বিশেষ আনন্দের। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হামদান জানান, বড় বিজয়ের সঙ্গে বড় দায়িত্বও আসে। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ ও বিশ্ববিদ্যালয় কোর্ট নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা অধ্যাপক জাভেদ তালিব আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে উইমেনস কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা অধ্যাপক নাজিয়া হাসান সংশ্লিষ্ট নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন। দীর্ঘ আট বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে গত তিন বছর ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ বিরতির পর ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পাওয়ায় ক্যাম্পাসে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক সচেতনতার প্রভাব দেখা গেছে। আগের বছরগুলোতে মূলত ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা হলেও এবার জাতীয় রাজনীতি এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ও শিক্ষার্থীদের আলোচনায় উঠে এসেছে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নাইমা খাতুন। তিনি এই নির্বাচনকে প্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ক্রমবর্ধমান প্রতিনিধিত্বকে স্বাগত জানিয়ে নারী ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। দীর্ঘ বিরতির পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও পুরো প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি হিসেবে নাশরা নাইমের বিজয় এবং কার্যনির্বাহী কমিটিতে পাঁচ নারী প্রার্থীর জয় বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্ররাজনীতিতে নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ আট বছর পর ছাত্র সংসদ নির্বাচন ফিরে আসা এবং নারীদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবারের নির্বাচনের দুটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হয়ে উঠেছে। সূত্র: প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া
গর্ভবতী হওয়ার অভিনয়, জেন্ডার রিভিল পার্টির পর পুতুলকে নবজাতক সাজালেন তরুণী!
মরিশাসে কর্মক্ষেত্রে কাচভর্তি ভারী কন্টেইনারের নিচে চাপা পড়ে তৎক্ষনাৎ ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু
যুক্তরাজ্যে অভিবাসী শনাক্তে ফেসিয়াল রিকগনিশন, মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসাধারীদের জন্য দুঃসংবাদ
কানাডার পাসপোর্ট আবেদনে বয়সভিত্তিক যোগ্যতা ও নতুন ফি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী কানাডিয়ান নাগরিকেরা পাঁচ অথবা দশ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। অন্যদিকে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য শুধু পাঁচ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ব্যবস্থা রয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ থেকে কার্যকর হওয়া নতুন আবেদন ফি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছে ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি)। কানাডার সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদি শিশুদের পাসপোর্টের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সর্বনিম্ন বয়সসীমা নেই। জন্মের পর থেকেই যোগ্য কানাডিয়ান নাগরিক শিশুর পাসপোর্টের আবেদন করা যায়। তবে আবেদনটি করতে হবে শিশুর বাবা-মা অথবা আইনগত অভিভাবককে। শূন্য থেকে ১৫ বছর বয়সীদের পাসপোর্ট সর্বোচ্চ পাঁচ বছর মেয়াদি হয়। শিশুর বয়স ১৬ বছর পূর্ণ হওয়ার পর নতুন করে প্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্টের আবেদন করা যাবে। অন্যদিকে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী কানাডিয়ান নাগরিকদের জন্য রয়েছে দুটি বিকল্প। তাঁরা চাইলে পাঁচ বছর অথবা দশ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট নিতে পারবেন। তবে বয়স ১৬ বছর পূর্ণ হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দশ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট দেওয়া হয় না। আবেদনকারীকে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে পছন্দের মেয়াদের জন্য আবেদন করতে হবে। এটি আগে থেকেই কার্যকর বয়সসংক্রান্ত নিয়ম, নতুন কোনো বয়সসীমা নয়। কানাডা সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩১ মার্চ থেকে পাসপোর্টের আবেদন ফি বাড়ানো হয়েছে। কানাডার ভেতরে বসবাসকারী ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের পাঁচ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ফি ১২০ কানাডিয়ান ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২২ দশমিক ৫০ ডলার করা হয়েছে। দশ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ফি ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬৩ দশমিক ৫০ ডলার। অন্যদিকে শিশুদের পাঁচ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ফি ৫৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫৮ দশমিক ৫০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। কানাডার বাইরে বসবাসকারী নাগরিকদের জন্য ফি তুলনামূলক বেশি। বিদেশ থেকে আবেদন করলে প্রাপ্তবয়স্কদের পাঁচ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ফি ১৯৪ দশমিক ২৫ কানাডিয়ান ডলার এবং দশ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ফি ২৬৬ দশমিক ২৫ ডলার। শিশুদের পাঁচ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ফি ১০২ দশমিক ৫০ ডলার। এসব ফি কানাডিয়ান মুদ্রায় নির্ধারিত এবং জরুরি সেবা বা অন্যান্য বিশেষ পরিষেবার জন্য অতিরিক্ত চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে। কানাডা সরকার জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি ও পাসপোর্ট তৈরির ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ফি সমন্বয় করা হয়েছে। সার্ভিস ফিস অ্যাক্ট অনুযায়ী এখন থেকে প্রতিবছর নির্ধারিত পদ্ধতিতে এসব ফি পরিবর্তন করা হতে পারে। ডাকযোগে আবেদন করলে যে তারিখে সরকারি কর্তৃপক্ষ আবেদন গ্রহণ করবে, সেই তারিখে কার্যকর ফি প্রযোজ্য হবে। আবেদনকারীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকরণে সময়সীমা। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়াকরণে ৩০ কর্মদিবসের বেশি সময় লাগলে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী পাসপোর্টের ফি সম্পূর্ণ ফেরতের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। আবেদনকারীদের আলাদাভাবে রিফান্ডের অনুরোধ করতে হবে না। এদিকে কানাডায় বসবাসকারী বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কানাডিয়ান পাসপোর্ট কেবল কানাডার নাগরিকদের জন্য। শুধু স্টুডেন্ট ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট কিংবা পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট স্ট্যাটাস থাকলেই কানাডিয়ান পাসপোর্ট পাওয়া যায় না। অন্যদিকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যাঁরা ইতিমধ্যে কানাডার নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন, তাঁরা বয়স ও অন্যান্য যোগ্যতা অনুযায়ী এই সুবিধা পাবেন।
আমিরাতে এআইয়ের কারণে ঝুঁকিতে একাধিক পেশার চাকরি, প্রবাসীদের প্রতি বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
নিরাপত্তা হুমকিতে সুইডেনে ছয় মাসের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, বাংলাদেশি ভ্রমণকারী ও প্রবাসীদের যে নথি সঙ্গে রাখতে হবে
পেটে ব্যথার কথা ভেবে হাসপাতালে গিয়ে জানলেন কোলন ক্যান্সারের শেষ পর্যায়ে
পূর্ব আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদের ক্ষমতার মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেওয়া এক ঐতিহাসিক রায়ে আদালত জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক মেয়াদ গত ১৫ মে শেষ হয়েছে। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বর্তমান প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো বৈধ সুযোগ নেই। একই সঙ্গে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এই রায়ের ফলে কয়েক মাস ধরে চলা রাজনৈতিক সংকট নতুন মোড় নিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি ও আরব নিউজ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ ২০২২ সালে চার বছরের মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। সেই হিসাবে চলতি বছরের মে মাসে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত মার্চে সোমালিয়ার পার্লামেন্ট সংবিধান সংশোধন করে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টের মেয়াদ চার বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করে। সংশোধিত বিধানের ভিত্তিতে সরকার অতিরিক্ত এক বছর ক্ষমতায় থাকার ঘোষণা দেয়। এ সময়কে নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য বিশেষ ট্রানজিশন পিরিয়ড বা অন্তর্বর্তীকালীন সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও আঞ্চলিক নেতারা শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছেন। তাঁদের অভিযোগ, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের মেয়াদ বাড়ানো জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করেছে। বিরোধীদের অনেকেই সংবিধান সংশোধনের সংসদীয় ভোট বর্জন করেছিলেন। এই বিরোধের জেরে রাজধানী মোগাদিশু এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারপন্থী ও বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে সহিংস সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ বৃহস্পতিবারের রায়ে বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে মেয়াদ বাড়ানো হলেও সেটি বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হতে পারে না। সংশোধনীতে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের জন্য নতুন মেয়াদ প্রযোজ্য হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ২০১২ সালের সংবিধান অনুযায়ী তাঁদের চার বছরের মেয়াদই কার্যকর থাকবে। আদালতের হিসাবে, পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ ও সরকারের মেয়াদ গত ১৪ এপ্রিল এবং প্রেসিডেন্টের মেয়াদ ১৫ মে শেষ হয়েছে। সোমালিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট শরিফ শেখ আহমেদের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় দেওয়া হয়। আদালত সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষগুলোকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের গ্রহণযোগ্য কাঠামো নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সময়ে সরকার কেবল নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে রায়ের আগেই বিচার বিভাগের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রেসিডেন্ট মোহামুদ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বাশে ইউসুফ আহমেদকে বরখাস্ত করে তাঁর স্থলে ইব্রাহিম ইদলে সুলেইমানকে নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দেন। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের দাবি, বিচার বিভাগের কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট পৃথক বিবৃতিতে প্রধান বিচারপতিকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তও অবৈধ ঘোষণা করেন। আদালতের অভিযোগ, চলমান সাংবিধানিক মামলার বিচারিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে সোমালিয়ার নির্বাচন কমিশন ২০২৭ সালের ১৫ এপ্রিল পার্লামেন্ট এবং ১৫ মে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি ঘোষণা করেছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নতুন নির্দেশনার পর সেই সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, আঞ্চলিক বিরোধ ও আল-শাবাবের সহিংসতার মুখে থাকা সোমালিয়ায় এই সাংবিধানিক সংকট আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে সরকার ও বিরোধী পক্ষগুলো কী অবস্থান নেয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের। সূত্র: এএফপি
হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে নামার প্রশিক্ষণে দুর্ঘটনা, জাপানে মার্কিন মেরিন সেনার মৃ ত্যু
হিথ্রো ও বার্মিংহামে বোমা হামলার ভুয়া হুমকি, ইউরোপজুড়ে ফ্লাইট বিপর্যয়