সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

আমিরাতে এআইয়ের কারণে ঝুঁকিতে একাধিক পেশার চাকরি, প্রবাসীদের প্রতি বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:৫২
এআই প্রযুক্তি
এআই প্রযুক্তি

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে একাধিক পেশার চাকরিতে বড় পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ডেটা এন্ট্রি, প্রশাসনিক সহায়তা, কাস্টমার সার্ভিস, কল সেন্টার, অ্যাকাউন্টিং এবং কনটেন্ট তৈরির মতো পেশায় কর্মরত ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান এখন নিয়মিত কাজের জন্য নতুন কর্মী নিয়োগের পরিবর্তে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে নিয়োগ বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য জানিয়েছেন। একই সঙ্গে চাকরি ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যতের কর্মবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

 

দুবাইভিত্তিক নিয়োগ প্রতিষ্ঠান পিংক ক্যামেল রিক্রুটমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মলি পাওয়েল জানিয়েছেন, যেসব চাকরিতে একই ধরনের কাজ বারবার করতে হয় এবং মানুষের সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন তুলনামূলক কম, সেগুলো এআইয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তনের মুখে পড়ছে। বিশেষ করে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, অফিস অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট, কাস্টমার সার্ভিস প্রতিনিধি, কল সেন্টার কর্মী, জুনিয়র অ্যাকাউন্ট্যান্ট, বুককিপার, পেরোল প্রসেসিং কর্মী, ডেটা অ্যানালিস্ট এবং এন্ট্রি-লেভেল মার্কেটিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কাজের একটি বড় অংশ স্বয়ংক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে এসব পেশার সব চাকরি বন্ধ হয়ে যাবে। বরং অনেক কোম্পানি কর্মী চলে যাওয়ার পর নতুন নিয়োগ না দিয়ে বিদ্যমান কর্মীদের এআইয়ের সাহায্যে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিচ্ছে।

 

নিয়োগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে নতুন গ্র্যাজুয়েট এবং কর্মজীবনে প্রবেশ করতে চাওয়া তরুণদের ওপর। আগে ডেটা এন্ট্রি, অফিস সহায়তা কিংবা সাধারণ হিসাবরক্ষণের কাজের মাধ্যমে অনেকে কর্মজীবন শুরু করতেন। কিন্তু এসব কাজ প্রযুক্তির সাহায্যে দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় নতুনদের জন্য প্রচলিত এন্ট্রি-লেভেল চাকরির সুযোগ কমতে পারে। মাইকেল পেজ মিডল ইস্টের প্রযুক্তিবিষয়ক সিনিয়র ম্যানেজার ম্যাট জোনস জানিয়েছেন, এআইয়ের কারণে চাকরি পুরোপুরি হারিয়ে যাবে অথবা কোনো পরিবর্তনই হবে না—এমন দুটি ধারণাই বাস্তব পরিস্থিতিকে পুরোপুরি তুলে ধরে না। বরং কর্মীদের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো কী ধরনের দক্ষতা প্রত্যাশা করে, সেটিই বদলে যাচ্ছে।

 

এদিকে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অলিভার ওয়াইম্যানের নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৮৫ শতাংশ কর্মী কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করছেন। তবে ৬৭ শতাংশ কর্মী এআইয়ের কারণে চাকরি হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। গবেষণায় আরও দেখা যায়, মাত্র ২৬ শতাংশ নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ৬ শতাংশ সামনের সারির কর্মী মনে করেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠান এআই ব্যবহারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কর্মীদের স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে। অন্যদিকে পিডব্লিউসির ২০২৬ সালের গবেষণা অনুযায়ী, আমিরাতে এআই দক্ষতা প্রয়োজন এমন চাকরির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ২০২১ সালে মোট চাকরির বিজ্ঞাপনের ১ শতাংশে এআই দক্ষতা চাওয়া হলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।

 

এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের জন্য তিনটি দক্ষতাকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন ম্যাট জোনস। প্রথমত, নিজের বর্তমান পেশায় এআই টুলস ব্যবহার করে কীভাবে কাজের গতি ও মান বাড়ানো যায়, তা শিখতে হবে। দ্বিতীয়ত, ক্রিটিক্যাল থিংকিং, সমস্যা সমাধান, যোগাযোগ, আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো দক্ষতা বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, নিজের কাজ প্রতিষ্ঠানের আয়, গ্রাহকসেবা, উৎপাদনশীলতা ও ব্যবসায়িক সাফল্যে কীভাবে অবদান রাখছে, তা বুঝতে হবে। শুধু এআই ব্যবহার জানলেই হবে না, প্রযুক্তির তৈরি তথ্য যাচাই এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও প্রয়োজন।

 

আমিরাতভিত্তিক ক্যারিয়ার পরামর্শক শাজিয়া ভারুচি জানিয়েছেন, নতুন চাকরিপ্রার্থীদের শুধু শিক্ষাগত সনদের ওপর নির্ভর না করে ইন্টার্নশিপ, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টা করা উচিত। পাশাপাশি লিংকডইনে পেশাগত যোগাযোগ বাড়ানো, নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি এবং নিজের কাজের বাস্তব ফলাফল তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের কর্মবাজারে এগিয়ে থাকবেন তাঁরাই, যাঁরা এআই প্রযুক্তির সঙ্গে মানবিক দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে সমন্বয় করতে পারবেন। আমিরাতে কর্মরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী কর্মীদের জন্যও পরিবর্তিত কর্মবাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষতা উন্নয়নের গুরুত্ব বাড়ছে।

 

সংবাদসূত্র: Gulf News


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আন্তর্জাতিক

View more
ভুল করে কানাডা সীমান্তে গিয়ে পুলিশের জালে মার্কিন নাগরিক, গাড়িতে ছিল অ স্ত্র ও গাঁজা
ভুল করে কানাডা সীমান্তে গিয়ে পুলিশের জালে মার্কিন নাগরিক, গাড়িতে ছিল অ স্ত্র ও গাঁজা

যুক্তরাষ্ট্রের বাফেলো পোর্টের লুইস্টন ব্রিজ দিয়ে ভুল করে কানাডা সীমান্তে চলে যাওয়ায় এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি)। গত ৩০ অক্টোবর অ্যাঞ্জেল লোজানো (২৫) নামের ওই যুবক ভুল পথে গাড়ি চালিয়ে সোজা সীমান্তের প্রাথমিক তল্লাশি এলাকায় পৌঁছে যান। সে সময় তার কাছে ভ্রমণের কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তাকে দ্বিতীয় ধাপের তল্লাশির (সেকেন্ডারি ইন্সপেকশন) জন্য পাঠানো হয়।   সেখানে তার গাড়ি তল্লাশি করে সিবিপি কর্মকর্তারা একটি 'স্প্রিংফিল্ড আর্মারি এক্সডি৫' (Springfield Armory XD5) আগ্নেয়াস্ত্র এবং অল্প পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে তার ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করে দেখা যায়, লোজানোর অতীত অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। আর পূর্ববর্তী অপরাধমূলক রেকর্ডের কারণে তার জন্য যেকোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র রাখা আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সিবিপি কর্মকর্তারা তাকে হেফাজতে নিয়ে প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। তার বিরুদ্ধে বেআইনি অস্ত্র রাখার গুরুতর অভিযোগ (ফেলোনি) আনা হয়েছে।   এই ঘটনা প্রসঙ্গে বাফেলো এরিয়া পোর্টের পরিচালক জোসেফ ড্রাগানাক সিবিপি কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, সম্মুখসারির কর্মকর্তারা তাদের নিখুঁত তল্লাশি ও দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে দারুণ সতর্কতার পরিচয় দিয়েছেন। তাদের এই তৎপরতার ফলেই একটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র সমাজে প্রবেশ করা থেকে আটকে গেছে। জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬ ১৫:৪৯
ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির ঝাড়খণ্ডের লোকসভা সদস্য নিশিকান্ত দুবে।

চট্টগ্রাম বন্দর ভারতের নিয়ন্ত্রণে চান বিজেপি সাংসদ, দাবি করলেন নোয়াখালী-সিলেটও

স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাজ্য ছেড়ে নাইজেরিয়ায়, অনাগত সন্তানসহ প্রাণ গেল ৪০ বছর বয়সী নারীর

স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাজ্য ছেড়ে নাইজেরিয়ায়, অনাগত সন্তানসহ প্রাণ গেল ৪০ বছর বয়সী নারীর

কানাডায় দুই লাখ অভিবাসীর পিআরের সুযোগ, বাংলাদেশিরাও পেতে পারেন সুবিধা

কানাডায় দুই লাখ অভিবাসীর পিআরের সুযোগ, বাংলাদেশিরাও পেতে পারেন সুবিধা

জীবনে শান্তি খুঁজতে ৪৩ বছরে ৫৩ বিয়ে
জীবনে শান্তি খুঁজতে ৪৩ বছরে ৫৩ বিয়ে, এখন এক স্ত্রী নিয়েই থাকতে চান সৌদি নাগরিক

জীবনে সুখ, মানসিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা খুঁজতে ৪৩ বছরে ৫৩ বার বিয়ে করার দাবি করেছেন সৌদি আরবের এক ব্যক্তি। আবু আবদুল্লাহ নামে পরিচিত ওই ব্যক্তি বলেছেন, তাঁর বিয়ের পেছনে ব্যক্তিগত ভোগের আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং এমন একজন জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা ছিল, যার সঙ্গে দীর্ঘদিন শান্তিতে জীবন কাটানো সম্ভব। বর্তমানে তাঁর বয়স ৬৩ বছর এবং তিনি এক স্ত্রীকে নিয়েই সংসার করছেন। নতুন করে বিয়ে করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।   ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি মালিকানাধীন টেলিভিশন চ্যানেল এমবিসির একটি অনুষ্ঠানে নিজের বিয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন আবু আবদুল্লাহ। পরে তাঁর বক্তব্য নিয়ে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ, এনডিটিভি, জিও নিউজ ও পাকিস্তানের দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।   আবু আবদুল্লাহ জানান, মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি প্রথম বিয়ে করেন। তাঁর প্রথম স্ত্রী বয়সে তাঁর চেয়ে ছয় বছরের বড় ছিলেন। প্রথম সংসারে তিনি সুখী ছিলেন এবং তাঁদের সন্তানও হয়েছিল। সে সময় একাধিক বিয়ে করার কোনো ইচ্ছা তাঁর ছিল না। কিন্তু কিছুদিন পর দাম্পত্য জীবনে সমস্যা দেখা দিলে তিনি দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।   তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২৩ বছর বয়সে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং এ বিষয়ে প্রথম স্ত্রীকে আগেই জানিয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ের পর দুই স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তিনি তৃতীয় ও চতুর্থ বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তী সময়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্ত্রীকে তালাক দেন বলেও সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন।   এরপরও তাঁর বিয়ের সংখ্যা বাড়তে থাকে। আবু আবদুল্লাহর দাবি, তিনি বিভিন্ন সময়ে মোট ৫৩ জন নারীকে বিয়ে করেছেন। তবে এসব বিয়ে একসঙ্গে হয়নি; দীর্ঘ ৪৩ বছরে বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিয়েগুলো হয়েছে। তাঁর সবচেয়ে কম সময়ের সংসার টিকেছিল মাত্র এক রাত। অর্থাৎ, কোনো কোনো বিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে যায়।   নিজের বিয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এমন একজন নারীকে খুঁজছিলেন, যিনি তাঁকে সুখী করতে পারবেন এবং সংসারে মানসিক শান্তি এনে দেবেন। তিনি দাবি করেন, প্রতিটি স্ত্রীর প্রতি ন্যায়বিচার করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে, একজন পুরুষের প্রত্যাশা থাকে এমন একজন জীবনসঙ্গী পাওয়া, যার সঙ্গে সারা জীবন কাটানো যায়।   আবু আবদুল্লাহ আরও জানান, তাঁর অধিকাংশ স্ত্রী ছিলেন সৌদি আরবের নাগরিক। তবে ব্যক্তিগত ব্যবসার কাজে বিদেশে গেলে কখনো কখনো সেখানকার নারীদেরও বিয়ে করেছেন। বিদেশে ব্যবসায়িক সফরে তাঁকে তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত অবস্থান করতে হতো। সে সময় নিজের ভাষায়, অনৈতিকতা থেকে দূরে থাকার উদ্দেশ্যে তিনি বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতেন।   তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কেউ তাঁর বিয়ের সংখ্যা ও ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন, আবার কেউ এতগুলো বিয়ে ও বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাঁকে ‘পলিগ্যামিস্ট অব দ্য সেঞ্চুরি’ বা ‘শতাব্দীর বহুবিবাহী পুরুষ’ নামে উল্লেখ করা হয়।   তবে ৫৩টি বিয়ের সংখ্যাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নয়। এটি মূলত আবু আবদুল্লাহর নিজের দেওয়া তথ্য, যা এমবিসির সাক্ষাৎকারের পর সংবাদমাধ্যমগুলো প্রকাশ করে। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সব বিয়ে, বিচ্ছেদ কিংবা প্রতিটি সম্পর্কের বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।   বর্তমানে আবু আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, তিনি একজন স্ত্রীকে নিয়েই জীবন কাটাচ্ছেন এবং আর বিয়ে করার ইচ্ছা নেই। ৪৩ বছর ধরে সুখ ও স্থিতিশীলতা খোঁজার পর অবশেষে এক স্ত্রীকে নিয়ে থিতু হওয়ার এই দাবি তাঁকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় নিয়ে আসে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬ ৭:২৬
আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি হয়েছেন নাশরা নাইম। ছবি: সংগৃহীত

ভিপি নির্বাচিত হয়ে ১০৫ বছরের ইতিহাস বদলে দিলেন ভারতের মুসলিম তরুণী

স্কটল্যান্ডে মাসের পর মাস গর্ভবতী থাকার অভিনয় করে ভুয়া নবজাতক প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত

গর্ভবতী হওয়ার অভিনয়, জেন্ডার রিভিল পার্টির পর পুতুলকে নবজাতক সাজালেন তরুণী!

মরিশাসে কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশি শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

মরিশাসে কর্মক্ষেত্রে কাচভর্তি ভারী কন্টেইনারের নিচে চাপা পড়ে তৎক্ষনাৎ ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু

অবৈধ অভিবাসী শনাক্তে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা হোম অফিসের। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে অভিবাসী শনাক্তে ফেসিয়াল রিকগনিশন, মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসাধারীদের জন্য দুঃসংবাদ

যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসীদের শনাক্ত ও ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগের কার্যক্রম জোরদার করতে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে দেশটির হোম অফিস। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমানবন্দর, বন্দর, গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনকেন্দ্র এবং জনসমাগমপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিশেষ ক্যামেরা বসানো হতে পারে। এসব ক্যামেরার সাহায্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানকারী, ডিপোর্টেশন আদেশের আওতায় থাকা এবং ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের কারণে কর্তৃপক্ষ যাঁদের খুঁজছে, তাঁদের শনাক্ত করা হবে। বুধবার (৪ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।   দ্য গার্ডিয়ানের  অনুসন্ধান অনুযায়ী, হোম অফিস ইতিমধ্যে লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন বা এলএফআর প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু করেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওয়েলসের হলিহেড বন্দরে তিন দফা পরীক্ষা চালানো হয়। মূলত আয়ারল্যান্ড থেকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময় ডিপোর্টেশন আদেশ অমান্যকারী এবং ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত অপরাধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করাই ছিল পরীক্ষার উদ্দেশ্য।   গত ৮ অক্টোবর প্রকাশিত হোম অফিসের নতুন নীতিমালা এবং পরে প্রকাশিত তথ্য সুরক্ষাসংক্রান্ত মূল্যায়নে প্রযুক্তিটির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এতে শুধু ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি নয়, ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত কিছু দেওয়ানি আইন লঙ্ঘনের কারণে কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানে থাকা ব্যক্তিদেরও নির্দিষ্ট ওয়াচলিস্টে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করে অবস্থান এবং অনুমতি ছাড়া যুক্তরাজ্যে প্রবেশের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় আসতে পারে।   ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তিতে ক্যামেরার সামনে দিয়ে যাওয়া মানুষের মুখের ছবি তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করে আগে থেকে তৈরি ওয়াচলিস্টের ছবির সঙ্গে তুলনা করা হয়। সম্ভাব্য মিল পাওয়া গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে সতর্কবার্তা যায়। এরপর প্রশিক্ষিত কর্মকর্তারা পরিচয় যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। হোম অফিসের নীতিমালা অনুযায়ী, শুধু প্রযুক্তির দেওয়া সতর্কবার্তার ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করা যাবে না। যাঁদের মুখ ওয়াচলিস্টের সঙ্গে মেলে না, তাঁদের ছবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।   যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এর আগে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের বাজেট ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে দ্বিগুণ এবং ২০২৬-২৭ সালের মধ্যে জনবল ৬০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এর মাধ্যমে আরও বেশি কর্মস্থলে অভিযান, গ্রেপ্তার এবং ডিপোর্টেশন কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। হোম অফিসের হিসাবে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে অবৈধ কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে ৭ হাজার ২৭০টি অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার ৭৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   তবে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির সম্প্রসারণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অভিবাসী অধিকার ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষাকারী সংগঠনগুলো। ওপেন রাইটস গ্রুপের সারাহ লাসোয়ে অভিযোগ করেছেন, পর্যাপ্ত জনসম্মতি ও স্বাধীন তদারকি ছাড়াই বিতর্কিত নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, প্রযুক্তির ভুল শনাক্তকরণ এবং জাতিগত পক্ষপাতের কারণে নিরপরাধ অভিবাসীরাও হয়রানির শিকার হতে পারেন।   অন্যদিকে হোম অফিস জানিয়েছে, প্রযুক্তিটির আরও পরীক্ষামূলক ব্যবহারের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সীদের ওয়াচলিস্টে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। একই সঙ্গে প্রতিটি অভিযানের জন্য আইনগত অনুমোদন ও মানবিক তদারকি প্রয়োজন হবে। তবে দেশজুড়ে কবে থেকে এই প্রযুক্তির সম্প্রসারিত ব্যবহার শুরু হবে কিংবা কোন কোন এলাকায় ক্যামেরা বসানো হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়নি।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান 

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ২৩:২৬
কানাডার পাসপোর্ট আবেদনে বয়সভিত্তিক যোগ্যতা প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। ছবি: সংগৃহীত

কানাডার পাসপোর্টে বয়সভিত্তিক ফি বেড়েছে, শিশুদের জন্য করা যাবে কেবল পাঁচ বছর মেয়াদি আবেদন

এআই প্রযুক্তি

আমিরাতে এআইয়ের কারণে ঝুঁকিতে একাধিক পেশার চাকরি, প্রবাসীদের প্রতি বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

নিরাপত্তা হুমকিতে সুইডেনে ছয় মাসের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ

নিরাপত্তা হুমকিতে সুইডেনে ছয় মাসের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, বাংলাদেশি ভ্রমণকারী ও প্রবাসীদের যে নথি সঙ্গে রাখতে হবে

0 Comments