সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

পেটে ব্যথার কথা ভেবে হাসপাতালে গিয়ে জানলেন কোলন ক্যান্সারের শেষ পর্যায়ে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১৩:১৮
পেটে ব্যথার কথা ভেবে হাসপাতালে গিয়ে জানলেন কোলন ক্যান্সারের শেষ পর্যায়ে
পেটে ব্যথার কথা ভেবে হাসপাতালে গিয়ে জানলেন কোলন ক্যান্সারের শেষ পর্যায়ে

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ৪০ বছর বয়সী হেলেন ওয়ার্থিংটন গত বছর ২৭ আগস্ট রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় হঠাৎ তার পেটে অস্বস্তি বোধ করেন। সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা ভেবে তিনি প্রথমে বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেননি। কিন্তু সকালে ব্যথা কিছুটা বাড়লে চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পেয়ে তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান।

 

এমনকি হাসপাতালে যাওয়ার পর সাধারণ একটা ব্যথার জন্য চিকিৎসকদের মূল্যবান সময় নষ্ট করার জন্য তিনি অনুতপ্তও হচ্ছিলেন! কিন্তু চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর যা জানালেন, তাতে হেলেনের আকাশ ভেঙে পড়ে। তিনি জানতে পারেন যে তিনি শুধু কোলন ক্যান্সারেই (বাওয়েল ক্যান্সার) আক্রান্ত নন, বরং ক্যান্সারটি ইতোমধ্যে তার লিভার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

 

সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয়টি ছিল, এই চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে হেলেন ক্লান্তি ছাড়া অন্য কোনো শারীরিক লক্ষণই অনুভব করেননি। এই খবর পাওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয় এবং শুরু হয় কেমোথেরাপি। তবে হেলেনের ক্যান্সারে 'BRAF V600E' মিউটেশন থাকায় এটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। ইতোমধ্যে তিনি ২৭টি কেমোথেরাপি সেশন শেষ করেছেন।

 

কিন্তু ক্যান্সারের কাছে হার মানতে নারাজ এই সাহসী মা। ১২ বছর বয়সী মেয়ে মলির মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন এক অসম লড়াই।

 

কেমোথেরাপির পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত ব্যায়াম করে শরীর ও মনকে শক্ত রাখছেন হেলেন। 'ক্লিনিক্যাল অনকোলজি সোসাইটি অব অস্ট্রেলিয়া'-এর মতে, ক্যান্সারের রোগীদের চিকিৎসায় সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি বা ৭৫ মিনিট ভারী অ্যারোবিক ব্যায়াম করা উচিত। এতে চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমার পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা বাড়ে।

 

হেলেন জানান, ক্যান্সারের চিকিৎসায় তার কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও ব্যায়ামের মাধ্যমে শারীরিক ফিটনেস ধরে রাখার বিষয়টি তার আত্মবিশ্বাস অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আন্তর্জাতিক

View more
এআই প্রযুক্তি
আমিরাতে এআইয়ের কারণে ঝুঁকিতে একাধিক পেশার চাকরি, প্রবাসীদের প্রতি বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে একাধিক পেশার চাকরিতে বড় পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ডেটা এন্ট্রি, প্রশাসনিক সহায়তা, কাস্টমার সার্ভিস, কল সেন্টার, অ্যাকাউন্টিং এবং কনটেন্ট তৈরির মতো পেশায় কর্মরত ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান এখন নিয়মিত কাজের জন্য নতুন কর্মী নিয়োগের পরিবর্তে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে নিয়োগ বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য জানিয়েছেন। একই সঙ্গে চাকরি ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যতের কর্মবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।   দুবাইভিত্তিক নিয়োগ প্রতিষ্ঠান পিংক ক্যামেল রিক্রুটমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মলি পাওয়েল জানিয়েছেন, যেসব চাকরিতে একই ধরনের কাজ বারবার করতে হয় এবং মানুষের সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন তুলনামূলক কম, সেগুলো এআইয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তনের মুখে পড়ছে। বিশেষ করে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, অফিস অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট, কাস্টমার সার্ভিস প্রতিনিধি, কল সেন্টার কর্মী, জুনিয়র অ্যাকাউন্ট্যান্ট, বুককিপার, পেরোল প্রসেসিং কর্মী, ডেটা অ্যানালিস্ট এবং এন্ট্রি-লেভেল মার্কেটিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কাজের একটি বড় অংশ স্বয়ংক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে এসব পেশার সব চাকরি বন্ধ হয়ে যাবে। বরং অনেক কোম্পানি কর্মী চলে যাওয়ার পর নতুন নিয়োগ না দিয়ে বিদ্যমান কর্মীদের এআইয়ের সাহায্যে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিচ্ছে।   নিয়োগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে নতুন গ্র্যাজুয়েট এবং কর্মজীবনে প্রবেশ করতে চাওয়া তরুণদের ওপর। আগে ডেটা এন্ট্রি, অফিস সহায়তা কিংবা সাধারণ হিসাবরক্ষণের কাজের মাধ্যমে অনেকে কর্মজীবন শুরু করতেন। কিন্তু এসব কাজ প্রযুক্তির সাহায্যে দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় নতুনদের জন্য প্রচলিত এন্ট্রি-লেভেল চাকরির সুযোগ কমতে পারে। মাইকেল পেজ মিডল ইস্টের প্রযুক্তিবিষয়ক সিনিয়র ম্যানেজার ম্যাট জোনস জানিয়েছেন, এআইয়ের কারণে চাকরি পুরোপুরি হারিয়ে যাবে অথবা কোনো পরিবর্তনই হবে না—এমন দুটি ধারণাই বাস্তব পরিস্থিতিকে পুরোপুরি তুলে ধরে না। বরং কর্মীদের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো কী ধরনের দক্ষতা প্রত্যাশা করে, সেটিই বদলে যাচ্ছে।   এদিকে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অলিভার ওয়াইম্যানের নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৮৫ শতাংশ কর্মী কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করছেন। তবে ৬৭ শতাংশ কর্মী এআইয়ের কারণে চাকরি হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। গবেষণায় আরও দেখা যায়, মাত্র ২৬ শতাংশ নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ৬ শতাংশ সামনের সারির কর্মী মনে করেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠান এআই ব্যবহারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কর্মীদের স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে। অন্যদিকে পিডব্লিউসির ২০২৬ সালের গবেষণা অনুযায়ী, আমিরাতে এআই দক্ষতা প্রয়োজন এমন চাকরির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ২০২১ সালে মোট চাকরির বিজ্ঞাপনের ১ শতাংশে এআই দক্ষতা চাওয়া হলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।   এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের জন্য তিনটি দক্ষতাকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন ম্যাট জোনস। প্রথমত, নিজের বর্তমান পেশায় এআই টুলস ব্যবহার করে কীভাবে কাজের গতি ও মান বাড়ানো যায়, তা শিখতে হবে। দ্বিতীয়ত, ক্রিটিক্যাল থিংকিং, সমস্যা সমাধান, যোগাযোগ, আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো দক্ষতা বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, নিজের কাজ প্রতিষ্ঠানের আয়, গ্রাহকসেবা, উৎপাদনশীলতা ও ব্যবসায়িক সাফল্যে কীভাবে অবদান রাখছে, তা বুঝতে হবে। শুধু এআই ব্যবহার জানলেই হবে না, প্রযুক্তির তৈরি তথ্য যাচাই এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও প্রয়োজন।   আমিরাতভিত্তিক ক্যারিয়ার পরামর্শক শাজিয়া ভারুচি জানিয়েছেন, নতুন চাকরিপ্রার্থীদের শুধু শিক্ষাগত সনদের ওপর নির্ভর না করে ইন্টার্নশিপ, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টা করা উচিত। পাশাপাশি লিংকডইনে পেশাগত যোগাযোগ বাড়ানো, নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি এবং নিজের কাজের বাস্তব ফলাফল তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের কর্মবাজারে এগিয়ে থাকবেন তাঁরাই, যাঁরা এআই প্রযুক্তির সঙ্গে মানবিক দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে সমন্বয় করতে পারবেন। আমিরাতে কর্মরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী কর্মীদের জন্যও পরিবর্তিত কর্মবাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষতা উন্নয়নের গুরুত্ব বাড়ছে।   সংবাদসূত্র: Gulf News

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:৫২
নিরাপত্তা হুমকিতে সুইডেনে ছয় মাসের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ

নিরাপত্তা হুমকিতে সুইডেনে ছয় মাসের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, বাংলাদেশি ভ্রমণকারী ও প্রবাসীদের যে নথি সঙ্গে রাখতে হবে

পেটে ব্যথার কথা ভেবে হাসপাতালে গিয়ে জানলেন কোলন ক্যান্সারের শেষ পর্যায়ে

পেটে ব্যথার কথা ভেবে হাসপাতালে গিয়ে জানলেন কোলন ক্যান্সারের শেষ পর্যায়ে

সোমালিয়ার প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

সোমালিয়ায় প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বৃদ্ধি অবৈধ ঘোষণা সুপ্রিম কোর্টের, ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের নির্দেশ

হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে নামার প্রশিক্ষণে দুর্ঘটনা, জাপানে মার্কিন মেরিন সেনার মৃ ত্যু
হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে নামার প্রশিক্ষণে দুর্ঘটনা, জাপানে মার্কিন মেরিন সেনার মৃ ত্যু

জাপানের ওকিনাওয়ায় অবস্থিত মেরিন কর্পস ক্যাম্প শোয়াবে (Camp Schwab) প্রশিক্ষণ চলাকালে ল্যান্স কর্পোরাল ডেভিন জে. হার্নান্দেজ (২৫) নামের এক মার্কিন মেরিন সেনার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান বলে বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের থার্ড মেরিন ডিভিশন।   মেরিল্যান্ডের বাসিন্দা হার্নান্দেজ মূলত নর্থ ক্যারোলিনার ক্যাম্প লেজেউনে অবস্থিত দ্বিতীয় মেরিন ডিভিশনের কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত আগস্ট মাস থেকে ইউনিট ডিপ্লয়মেন্ট প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে তার ব্যাটালিয়ন ওকিনাওয়ায় অবস্থান করছিল।   সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হেলিকপ্টার বা অসপ্রে এয়ারক্রাফট থেকে দ্রুত দড়ি বেয়ে নিচে নামার কৌশল বা ‘ফাস্ট-রোপ’ প্রশিক্ষণের সময় গুরুতর আহত হন হার্নান্দেজ। দ্রুত তাকে ক্যাম্প ফস্টারের মার্কিন নৌ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তবে ঠিক কীভাবে তিনি আহত হয়েছিলেন এবং আঘাতের ধরন কেমন ছিল, সে সম্পর্কে বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।   এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন থার্ড মেরিন ডিভিশনের কমান্ডার মেজর জেনারেল কাইল এলিসন। তিনি হার্নান্দেজের পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, এই মুহূর্তে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমর্থন জোগানো এবং মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পেছনের কারণ গভীরভাবে তদন্ত করে দেখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১১:১২
যুক্তরাজ্যের হিথ্রো ও বার্মিংহাম বিমানবন্দরে বোমা হামলার হুমকির পর সতর্কতা জারি। ছবি: সংগৃহীত

হিথ্রো ও বার্মিংহামে বোমা হামলার ভুয়া হুমকি, ইউরোপজুড়ে ফ্লাইট বিপর্যয়

ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা বন্ধে ট্রাম্পকে সমর্থন এল-সায়েদের, চান অ স্ত্র বিক্রিও বন্ধ হোক

ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা বন্ধে ট্রাম্পকে সমর্থন এল-সায়েদের, চান অ স্ত্র বিক্রিও বন্ধ হোক

ইরানের তেল পরিবনে সহায়তার অভিযোগে ভারতীয় দম্পতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ইরানের তেল পরিবনে সহায়তার অভিযোগে ভারতীয় দম্পতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

স্পেন থেকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হলো ১৬ আশ্রয়প্রার্থী, তালিকায় বাংলাদেশিও
স্পেন থেকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হলো ১৬ আশ্রয়প্রার্থী, তালিকায় বাংলাদেশিও

স্পেনের ছিটমহল সিউটা (Ceuta) থেকে সাব-সাহারান আফ্রিকা ও এশিয়ার এক ডজনেরও বেশি অভিবাসীকে মরক্কোয় ফেরত পাঠিয়েছে স্পেন সরকার। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অভিবাসীদের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করার পর মরক্কো তাদের গ্রহণে সম্মতি জানালে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।   মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, ফেরত পাঠানো ওই ১৬ জন ব্যক্তির মধ্যে সেনেগাল, নাইজেরিয়া, ইয়েমেন, ক্যামেরুন এবং বাংলাদেশের নাগরিকরা রয়েছেন। গত জুলাই মাসে সিউটায় নজিরবিহীন গণ-অনুপ্রবেশের পর এ ধরনের বিতাড়ন বা ফেরত পাঠানোর ঘটনা এটাই প্রথম।   স্পেনের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। অ্যামনেস্টির গবেষক ভার্জিনিয়া আলভারেজ স্পেনের বামপন্থী সরকারের এই আচরণকে 'ভণ্ডামি' বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের দাবি, অভিবাসীদের প্রতি মরক্কোর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অতীত ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও স্পেন তাদের সেখানে ফেরত পাঠিয়ে চরম ঝুঁকি তৈরি করছে।   তবে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দাবি করেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) চোখে মরক্কো একটি 'নিরাপদ দেশ' এবং সমস্ত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা মেনেই এই বিতাড়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।   উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে স্পেনের সিউটা সীমান্তে প্রবেশ করেছিল। ইউরোপের সঙ্গে আফ্রিকার একমাত্র স্থল সীমান্ত হলো এই সিউটা ও মেলিলা। অনুপ্রবেশকারীদের বেশিরভাগই কয়েক দিনের মধ্যে ফিরে গেলেও এখনও স্পেনের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ৮ হাজার অভিবাসী অবস্থান করছেন, যাদের আশ্রয়ের আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।   আগামী ২৯ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে এই সিউটা সংকট সমাধানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং দেশের সাধারণ জনগণের প্রবল চাপের মুখে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকার।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ৮:৩৫
ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক  ক্ষে পণাস্ত্র লঞ্চার বিক্রিতে রাজি রাশিয়া

ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষে পণাস্ত্র লঞ্চার বিক্রিতে রাজি রাশিয়া, উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্র

বিরল প্রজাতির ভেবে উদ্ধার

বিরল প্রজাতির ভেবে উদ্ধার, ফের আলোচনায় শরীরে তরকারির ঝোল মাখানো গাঙচিল

২৩ বছরের বর্ণিল অধ্যায়ের সমাপ্তি, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে রোনালদোর অবসর

২৩ বছরের বর্ণিল অধ্যায়ের সমাপ্তি, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে রোনালদোর অবসর

0 Comments