সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

শান্তি আলোচনার আগেই কিয়েভে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বিদ্যুৎ-পানি সংকটে লাখো মানুষ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ৬:৫৭
কিয়েভে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
কিয়েভে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে আলোচনার প্রস্তুতির মধ্যেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শনিবার রাতের হামলায় আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।

 

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ৭ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার হামলায় কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে ৩৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৭২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন জেলেনস্কি। ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে এসব হামলার প্রভাব পড়েছে।

 

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, হামলায় রাজধানীর জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শহরের তাপ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শীতের সময় এমন পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি করতে পারে।হামলার কারণে কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ নর্দার্ন ব্রিজ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। দিনভর এই সেতু দিয়ে ডিনিপ্রো নদী পারাপার করেন রাজধানীর বহু মানুষ। সেতুটি বন্ধ হওয়ায় যান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

 

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, শান্তি আলোচনার প্রস্তুতির পরিবর্তে রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আরও সহযোগিতা এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছেন।অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত নর্দার্ন ব্রিজ, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা। তবে এসব স্থাপনার আশপাশে বেসামরিক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

এদিকে যুদ্ধ বন্ধে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় এটি হবে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চতুর্থ দফার আলোচনা। এর আগে সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়।

 

তবে আলোচনার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে ইউক্রেনের ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। পশ্চিমা দেশগুলো এমন একটি সমাধান খুঁজছে, যাতে যুদ্ধের অবসান ঘটলেও ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় কোমিশুভাখা গ্রামেও উদ্ধার অভিযান চলছে। সোমবার একটি সাবেক স্কুল ও মানবিক সহায়তা কেন্দ্রে রুশ বোমা হামলার পর সেখানে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত নতুন করে ৯টি মরদেহ উদ্ধারের পর ওই হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ হয়েছে। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

 

একই দিনে রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।কূটনৈতিক আলোচনা ও সামরিক হামলা একই সময়ে চলতে থাকায় যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। আবুধাবির বৈঠকে কোনো অগ্রগতি আসে কি না, এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর সেদিকেই।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আন্তর্জাতিক

View more
কিয়েভে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
শান্তি আলোচনার আগেই কিয়েভে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বিদ্যুৎ-পানি সংকটে লাখো মানুষ

যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে আলোচনার প্রস্তুতির মধ্যেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শনিবার রাতের হামলায় আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ৭ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার হামলায় কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে ৩৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৭২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন জেলেনস্কি। ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে এসব হামলার প্রভাব পড়েছে।   কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, হামলায় রাজধানীর জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শহরের তাপ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শীতের সময় এমন পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি করতে পারে।হামলার কারণে কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ নর্দার্ন ব্রিজ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। দিনভর এই সেতু দিয়ে ডিনিপ্রো নদী পারাপার করেন রাজধানীর বহু মানুষ। সেতুটি বন্ধ হওয়ায় যান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, শান্তি আলোচনার প্রস্তুতির পরিবর্তে রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আরও সহযোগিতা এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছেন।অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত নর্দার্ন ব্রিজ, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা। তবে এসব স্থাপনার আশপাশে বেসামরিক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   এদিকে যুদ্ধ বন্ধে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় এটি হবে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চতুর্থ দফার আলোচনা। এর আগে সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়।   তবে আলোচনার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে ইউক্রেনের ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। পশ্চিমা দেশগুলো এমন একটি সমাধান খুঁজছে, যাতে যুদ্ধের অবসান ঘটলেও ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় কোমিশুভাখা গ্রামেও উদ্ধার অভিযান চলছে। সোমবার একটি সাবেক স্কুল ও মানবিক সহায়তা কেন্দ্রে রুশ বোমা হামলার পর সেখানে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত নতুন করে ৯টি মরদেহ উদ্ধারের পর ওই হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ হয়েছে। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।   একই দিনে রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।কূটনৈতিক আলোচনা ও সামরিক হামলা একই সময়ে চলতে থাকায় যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। আবুধাবির বৈঠকে কোনো অগ্রগতি আসে কি না, এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর সেদিকেই।

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ৬:৫৭
কেশম দ্বীপে আরও দুটি মার্কিন নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের

কেশম দ্বীপে আরও দুটি মার্কিন নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের

ইসরায়েলের ফাঁদে পড়ে ইরান যু দ্ধে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: সিনেটর এল-সায়েদ

ইসরায়েলের ফাঁদে পড়ে ইরান যু দ্ধে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: সিনেটর এল-সায়েদ

কানাডার টরন্টোতে গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত নারীর কাছে সরকারি খুঁটি ভাঙার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে সিটি কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েও বিপদে নারী, উল্টো ২৯ হাজার ডলারের বিল পাঠাল সিটি কর্তৃপক্ষ

ইরানে গোপন হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ অস্বীকার করলেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার পরিকল্পনা নেতানিয়াহুর, বাধা হয়ে দাঁড়াল যুক্তরাষ্ট্র

ইসরাইলের নির্বাচনের আগে ইরানে গোপন সামরিক হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মোসাদ প্রধান রোমান গফম্যান। তবে শেষ মুহূর্তে এক ইসরাইলি নিরাপত্তাকর্মীর ভুলে পরিকল্পনাটির তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে যায়। এরপর ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপে অভিযানটি ভেস্তে যায় বলে দাবি করেছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২। যদিও এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে নেতানিয়াহুর কার্যালয়।   টাইমস অব ইসরাইলের বরাতে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের ঠিক আগে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নেতানিয়াহু ও মোসাদ প্রধান। তবে ইসরাইলের অন্য শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করেননি। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, হামলা চালানো হলে ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাত বা যুদ্ধ শুরু হতে পারে।   নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা ছিল, এমন সামরিক অভিযান নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজনেও বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তবে এসব আপত্তি সত্ত্বেও গোপন অভিযানের প্রস্তুতি চলতে থাকে বলে চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেষ মুহূর্তে এক ইসরাইলি নিরাপত্তাকর্মীর ভুলে পরিকল্পনাটির তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে যায়। এরপর মার্কিন কর্তৃপক্ষ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে অভিযানটি বন্ধ করে দেয়। সামরিক সেন্সরশিপের কঠোর নজরদারির মধ্যেই এই তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমটি।   তবে নেতানিয়াহুর কার্যালয় প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, ইসরাইলের নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের আলোচ্যসূচিতে ছিল না। প্রধানমন্ত্রী নিজেই সে সময় বিষয়টি পরিষ্কার করেছিলেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।   এর আগে গত ২৫ অক্টোবর, নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে, চ্যানেল ১২-এর আরেকটি প্রতিবেদনে নেতানিয়াহু ও ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ইয়াল জামিরের মধ্যে তীব্র মতবিরোধের খবর প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এমন একটি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।   তবে সেনাপ্রধান ইয়াল জামির ওই নির্দেশ বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানান বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। তিনি আরও আলোচনার পাশাপাশি নেতানিয়াহুর কাছ থেকে আইনি অনুমোদনের লিখিত দলিল চেয়েছিলেন। একজন সামরিক কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে এমন পদক্ষেপ ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাত সৃষ্টি করতে পারত।   অন্যদিকে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেনাপ্রধানের সঙ্গে বিরোধের খবর অস্বীকার করেন নেতানিয়াহু। তিনি অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ অবাস্তব বলে উল্লেখ করেন। সেনাপ্রধানের সঙ্গে তাঁর কোনো হাতাহাতি বা লড়াই হয়নি বলেও জানান তিনি।   তবে ওই সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্বীকার করেন, সম্প্রতি তিনি ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ও মোসাদকে ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাতের নির্দেশ দিয়েছিলেন।   এদিকে চ্যানেল ১২-এর আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে অবিলম্বে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনাকে আরও কিছুটা সময় দিতে চেয়েছিলেন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর আশঙ্কা ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা এগোলে তেহরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ কমে যেতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প চান, ইসরাইল যেন চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করে।   শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পরাস্ত করেছে এবং তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের পরিস্থিতি বর্তমানে ভালো। দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।   ট্রাম্প দাবি করেন, গত ছয় বা সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সেনা নিহত হননি। নিজের মধ্যস্থতা না থাকলে ইসরাইলসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ৩:৫৬
আহত ছেলের আঘাত গুরুতর নয় বলায় নাগপুরের মেয়ো হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলা চালায় এক পুলিশ সদস্য ও তাঁর ছেলে। ছবি: সংগৃহীত

‘ছেলের আঘাত গুরুতর নয়’ বলতেই ভারতে চিকিৎসকের ওপর পুলিশ সদস্যের হামলা

তামিলনাড়ুর সরকারি গ্রন্থাগারে এআই লিখিত ও ভুয়া নামে বই কেনার অভিযোগে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে এআই দিয়ে লেখা ভুয়া বইয়ে সয়লাব গ্রন্থাগার, লেখকের অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন

বাংলাদেশের নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট ‘ফিরিয়ে নেওয়ার’ দাবি বিজেপি সংসদ সদস্যের

বাংলাদেশের নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট ‘ফিরিয়ে নেওয়ার’ দাবি বিজেপি সংসদ সদস্যের

একটি উপহারেই বদলে গেল অফিসের পরিবেশ
একটি উপহারেই বদলে গেল অফিসের পরিবেশ, আইফোন পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না কর্মী

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত নারী সহকর্মীদের নতুন আইফোন উপহার দিয়ে আলোচনায় এসেছেন কেরালায় জন্ম নেওয়া ব্যবসায়ী হসিনা নিশাদ। তিনি দেশটির একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। কর্মীদের না জানিয়ে আয়োজন করা এই উপহারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতাকর্মী উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলার দৃশ্য দর্শকদের মন ছুঁয়েছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির ৬ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হসিনা নিশাদ তাঁর নারী কর্মীদের জন্য এই চমকের আয়োজন করেন। তাঁদের একটি সম্মেলনকক্ষে ডেকে বসতে বলা হয়। কিন্তু তাঁরা জানতেন না, তাঁদের জন্য কী অপেক্ষা করছে। চেয়ার সরাতেই টেবিলের নিচে রাখা মোড়ানো উপহারের বাক্স চোখে পড়ে। বাক্স খুলে নতুন আইফোন দেখে কর্মীরা আনন্দে বিস্মিত হয়ে যান।   ভিডিওতে দেখা যায়, একে একে কর্মীরা উপহারের বাক্স খুলছেন। কারও মুখে হাসি, কারও চোখেমুখে বিস্ময়। অফিসের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ মুহূর্তেই আনন্দঘন পরিবেশে পরিণত হয়। তবে ভিডিওর সবচেয়ে আবেগঘন অংশটি আসে পরে।   প্রতিষ্ঠানের একজন নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মী হসিনা নিশাদের জন্য শরবত নিয়ে আসেন। তিনিও যে এই উপহারের আয়োজনের অংশ, তা আগে থেকে জানতেন না। তাঁকেও একটি নতুন আইফোন দেওয়া হলে তিনি আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। হসিনাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন তিনি। পরে অন্য কর্মীদের সঙ্গে বসে উপহারটি খুলে দেখেন।   নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশ করে হসিনা নিশাদ নারী সহকর্মীদের স্বপ্ন, দায়িত্ব ও প্রতিদিনের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, তাঁর ইচ্ছা প্রত্যেক নারী আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠুক এবং নিজের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাক। একজন নারীর সাফল্য অন্য নারীকেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগাতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   এনডিটিভির প্রতিবেদন প্রকাশের সময় ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামে ২০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে উপহারের বাইরে না রাখার বিষয়টি মানুষের নজর কেড়েছে। অনেকের কাছে এই ঘটনাটি শুধু দামি ফোন উপহার দেওয়ার গল্প নয়, বরং কর্মক্ষেত্রে প্রত্যেক কর্মীর অবদানকে সম্মান জানানোর একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।   এটি অবশ্য প্রতিষ্ঠানটির প্রথম ব্যতিক্রমী উপহার আয়োজন নয়। এনডিটিভি জানিয়েছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতেও কর্মীদের আইফোন উপহার দেওয়ার দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। সেই আয়োজনে হসিনার স্বামী ও প্রতিষ্ঠানের মালিক নিশাদ হুসাইনকে কর্মীদের উপহার দিতে দেখা যায়।   কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের উৎসাহিত করতে বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি স্বীকৃতি ও সম্মানও গুরুত্বপূর্ণ। পদবি বা দায়িত্বের পার্থক্য না করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীকেও একই আনন্দের অংশ করে নেওয়ার দৃশ্যটি সেই বার্তাই সামনে এনেছে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ০:৩৪
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ধ্বংসস্তূপের মাঝেই বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হলেন ২৫০ ফিলিস্তিনি যুগল। ছবি: সংগৃহীত

ধ্বংসস্তূপের মাঝেও ভালোবাসার জয়, গাজায় একসঙ্গে বিয়ে করলেন ২৫০ যুগল

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কেশম দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে তাসনিম। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের পর মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি তেহরানের

মেয়ের বিয়েতে কোটি টাকা খরচ না করে ৯০ গৃহহীন পরিবারকে বাড়ি উপহার দিলেন বাবা

মেয়ের বিয়েতে কোটি টাকা খরচ না করে ৯০ গৃহহীন পরিবারকে বাড়ি উপহার দিলেন বাবা

0 Comments