যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ayatollah Ali Khamenei নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পাকিস্তান, ইরাক ও ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরসহ একাধিক অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনিসহ ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়।
রোববার পাকিস্তানের করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। কনস্যুলেটের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীদের গুলিতে অন্তত ৯ বিক্ষোভকারী নিহত ও ৩৪ জন আহত হন বলে পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন। কনস্যুলেটের প্রধান ফটকের বাইরে একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তানের স্কার্দু শহরে জাতিসংঘের একটি কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। লাহোর ও রাজধানী ইসলামাবাদেও মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনার সামনে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Mohsin Naqvi বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইরানের জনগণের মতো পাকিস্তানিরাও শোকাহত। উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানে অবস্থানরত পশ্চিমা দেশগুলোর মিশনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে কড়া নিরাপত্তা সত্ত্বেও শত শত বিক্ষোভকারী মার্কিন দূতাবাসের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে। ইরাক সরকার খামেনির মৃত্যুতে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে। দেশটির শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতা Ali al-Sistani ইরানিদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেও কয়েক হাজার শিয়া মুসলিম বিক্ষোভে অংশ নেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর বিরুদ্ধেও স্লোগান দেওয়া হয়।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ayatollah Ali Khamenei নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পাকিস্তান, ইরাক ও ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরসহ একাধিক অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনিসহ ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। রোববার পাকিস্তানের করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। কনস্যুলেটের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীদের গুলিতে অন্তত ৯ বিক্ষোভকারী নিহত ও ৩৪ জন আহত হন বলে পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন। কনস্যুলেটের প্রধান ফটকের বাইরে একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তানের স্কার্দু শহরে জাতিসংঘের একটি কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। লাহোর ও রাজধানী ইসলামাবাদেও মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনার সামনে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Mohsin Naqvi বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইরানের জনগণের মতো পাকিস্তানিরাও শোকাহত। উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানে অবস্থানরত পশ্চিমা দেশগুলোর মিশনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এদিকে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে কড়া নিরাপত্তা সত্ত্বেও শত শত বিক্ষোভকারী মার্কিন দূতাবাসের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে। ইরাক সরকার খামেনির মৃত্যুতে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে। দেশটির শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতা Ali al-Sistani ইরানিদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেও কয়েক হাজার শিয়া মুসলিম বিক্ষোভে অংশ নেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর বিরুদ্ধেও স্লোগান দেওয়া হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চরম উত্তজনা ছড়িয়ে ইরানের ওপর স্মরণীয় এক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী (আইডিএফ) ও মার্কিন বিমান বাহিনী (ইউএসএএফ)। ১২০০টিরও বেশি বোমা বর্ষণের মাধ্যমে ইরানের আকাশসীমায় ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ বা ‘এয়ার সুপ্রিমেসি’ প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে ইসরায়েল। রোববার সকাল সোয়া দশটা থেকে তেহরানের প্রশাসনিক ও কৌশলগত কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে এই ভয়াবহ হামলা শুরু হয়। গোয়েন্দা তথ্যানুসারে, এবারের অভিযানে শুধুমাত্র সামরিক ঘাঁটি নয়, বরং ইরানের প্রভাবশালী ‘থারাল্লাহ’ সদর দপ্তরকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, লাগাতার এই বোমা বর্ষণে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। তবে ইসরায়েলের এই দাবির মুখেও দমে থাকেনি ইরান। পাল্টা জবাব হিসেবে বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক মিসাইল হামলা চালাচ্ছে তেহরান। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এখন যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অবস্থান ও গতিবিধি নিয়ে দীর্ঘদিনের নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে বদলে গেছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ। রয়টার্স ও নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ইসরায়েলি মোসাদের নিখুঁত সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়। মূলত খামেনির একটি বিশেষ বৈঠকের সময় পরিবর্তনের গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়াই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। শনিবার সন্ধ্যায় বৈঠকটি হওয়ার কথা থাকলেও গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, খামেনি তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের নিয়ে সকালেই তেহরানের একটি উচ্চ-নিরাপত্তা সম্পন্ন কম্পাউন্ডে উপস্থিত হয়েছেন। এই খবর পাওয়ার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে মধ্যরাতের পর হামলার চূড়ান্ত নির্দেশ দেন। সিআইএ নিশ্চিত ছিল যে, এটিই খামেনিকে সরাসরি আঘাত করার সেরা ‘সুযোগের জানালা’। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সূত্রমতে, রোববার ভোর ৬টায় অভিযান শুরু হয় এবং সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে দূরপাল্লার অত্যন্ত নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেহরানের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, খামেনির সেই সুরক্ষিত কম্পাউন্ডটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এই হামলায় খামেনি ছাড়াও তার শীর্ষ উপদেষ্টা আলি শামখানি, আইআরজিসি প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদুল রহিম মুসাভিসহ উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করার পর বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ৪৬ বছরের শিয়া ধর্মতান্ত্রিক শাসনের এই আকস্মিক পতন মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং জীবিত নেতারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের ভয়াবহতম’ প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।