ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে ২৯৪টির মধ্যে ২৯১টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) কলকাতার কালীঘাটে নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তালিকা প্রকাশ করেন দলের নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
দার্জিলিংয়ের বাকি তিনটি আসন মিত্র দল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময় বিজেপিকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, এবার ২২৬টি আসনে জয়ী হয়ে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করবে তৃণমূল। গত নির্বাচনে তৃণমূল ২১৩টি এবং বিজেপি ৭৭টি আসনে জয় পেয়েছিল।
বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, তারা সরাসরি রাজনৈতিক লড়াইয়ে না নেমে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, “সাহস থাকলে সামনে এসে লড়াই করুন, আড়ালে থেকে কোনো লাভ হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “দিল্লি কা লাড্ডু জিতবে না,” এবং দাবি করেন, জনগণ এবার বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করবে।
এবারের প্রার্থী তালিকায় অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি নতুন মুখ ও বিনোদন জগতের তারকাদের স্থান দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সুজিত বসু, ব্রাত্য বসু ও বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। বিনোদন অঙ্গন থেকে প্রার্থী হয়েছেন রাজ চক্রবর্তী, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও লাভলি মৈত্র।
সংবাদ সম্মেলনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় ৫২ জন নারী, ৯৫ জন তপসিলি সম্প্রদায়ের এবং ৪৭ জন মুসলিম প্রার্থী রয়েছেন। বিভিন্ন বয়সের প্রার্থীদের সমন্বয়ে অভিজ্ঞতা ও নতুন নেতৃত্বের ভারসাম্য রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার সময় হঠাৎ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কিউবা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, কিউবাকে ‘দখল’ করা তার জন্য অসম্ভব নয়, বরং এটি হতে পারে ‘একটি সম্মানের বিষয়’। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য নিছক আবেগপ্রসূত নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সঙ্গে কিউবা সংকটকে ব্যবহার করে ভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। কিউবার অর্থনৈতিক অবস্থা এই হুমকিকে আরও কার্যকর করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের তেল অবরোধ ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় দেশটি বিদ্যুৎ, খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটে পড়েছে। ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে ‘দুর্বল রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, তিনি চাইলে কিউবার ওপর ‘যেকোনো কিছু’ করতে পারেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এখানে ‘দখল’ শব্দটি সরাসরি সামরিক অভিযান নির্দেশ করছে না। বরং এটি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, সরকার পরিবর্তন বা যুক্তরাষ্ট্রপন্থী কাঠামো প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত বহন করে। রাশিয়া ইতিমধ্যেই কিউবার পাশে দাঁড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ‘সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা কিউবারকে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত। ট্রাম্প প্রশাসন কিছু বক্তব্যে ‘ফ্রেন্ডলি টেকওভার’ বা বন্ধুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণের কথাও উল্লেখ করেছে। অর্থাৎ সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন, যুক্তরাষ্ট্রপন্থী অর্থনৈতিক কাঠামো বা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর হতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। মূলত এটি একটি কৌশলগত চাপ সৃষ্টির ভাষা, যার লক্ষ্য হলো আলোচনায় সুবিধা নেওয়া এবং প্রতিপক্ষকে দুর্বল করা। ইরান যুদ্ধ ও কিউবা সংকট, যদিও দুটি ভিন্ন ইস্যু, বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতিতে একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি স্পষ্ট: একাধিক অঞ্চলে একযোগে চাপ সৃষ্টি করে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করা এবং বৈশ্বিক প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে সোমবার রাতে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের এই হামলায় একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র (হাসপাতাল) ধ্বংস হয়েছে এবং কয়েকশ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তান এই অভিযোগকে পুরোপুরি 'ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, তাদের বিমানবাহিনী কাবুলের নির্দিষ্ট কিছু 'সন্ত্রাসী আস্তানা' এবং 'কারিগরি সহায়তা অবকাঠামো' লক্ষ্য করে নিখুঁত (precision) হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেসব স্থাপনা থেকে পাকিস্তানে আন্তঃসীমান্ত হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনা করা হচ্ছিল, কেবল সেগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। কোনো হাসপাতাল বা বেসামরিক এলাকায় হামলা চালানোর তথ্য নাকচ করে দিয়ে পাকিস্তান দাবি করেছে, তালেবান সরকার বিশ্ববাসীর সহানুভূতি পেতে এবং সন্ত্রাসীদের মদত দেওয়ার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে, আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানগুলো কাবুলের ‘উমিদ’ (Omid) নামক একটি ২,০০০ শয্যার মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র ও হাসপাতালে বোমাবর্ষণ করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত এবং ২৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই চিকিৎসাধীন রোগী ছিলেন। তালেবান প্রশাসন এই ঘটনাকে ‘মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন’ এবং ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের দাবি, নিষিদ্ধ ঘোষিত টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে, যা দমনে তালেবান সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ‘অপারেশন গজব লিল-হক’ (Operation Ghazab lil-Haq) শুরু করে আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালাচ্ছে। জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দুই পক্ষকেই ধৈর্য ধারণ করার এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে দুই দেশের বর্তমান যুদ্ধংদেহী অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আজ দাবি করেছে যে, ইরানের অন্যতম ক্ষমতাধর নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি এবং আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর প্রধানকে হত্যা করা হয়েছে। এই জোড়া আঘাত কি ইরানের শাসনব্যবস্থাকে ধসিয়ে দিতে পারবে? আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো এইচ. এ. হেলিয়ার জানান, ইরানের নেতৃত্ব কাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা যেকোনো বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড বা শূন্যতা মোকাবিলা করে টিকে থাকতে সক্ষম। তার মতে, দেশটির শাসনব্যবস্থা ‘স্থিতিস্থাপকতা’ বা রেজিলিয়েন্সের ওপর ভিত্তি করে গঠিত। এমনকি চার স্তরের গভীর পর্যন্ত উত্তরসূরি নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে যাতে শীর্ষ কোনো নেতার মৃত্যুতে প্রশাসনিক বা সামরিক কার্যক্রমে কোনো স্থবিরতা না আসে। এর আগে সর্বোচ্চ নেতার ক্ষেত্রেও যেমন দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতেও ইরান সেই একই পথে হাঁটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও ইরান এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির কমান্ড স্ট্রাকচার এতটাই গভীরে প্রোথিত যে কোনো একক লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করে এই ব্যবস্থাকে পুরোপুরি অচল করা অসম্ভব।