মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বিশ্বব্যাপী শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক আদেশে আদালত জানায়, একতরফাভাবে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছেন।
হোয়াইট হাউসের অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত এই শুল্ক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আদালতের এমন রায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে গত বছর অভিবাসন নীতি, স্বাধীন সংস্থার প্রধানদের বরখাস্ত এবং সরকারি ব্যয় হ্রাসের মতো বিষয়ে এই রক্ষণশীল আদালত বারবার প্রেসিডেন্টের পক্ষে রায় দিলেও, এবারের সিদ্ধান্ত ভিন্ন তাৎপর্য বহন করছে।
প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস-এর লেখা ৬-৩ মেজরিটির রায়ে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে অসীম পরিমাণ, মেয়াদ ও পরিধির শুল্ক আরোপের যে ক্ষমতা দাবি করেছেন, তার জন্য কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন আবশ্যক। আদালত স্পষ্ট করেছে, প্রেসিডেন্ট যে ‘জরুরি ক্ষমতা’ বা আইইইপিএ (IEEPA)-এর ওপর নির্ভর করেছিলেন, তা শুল্ক আরোপের জন্য পর্যাপ্ত নয়।
রায়ে আরও বলা হয়, কংগ্রেস যখন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয়, তখন তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সীমাবদ্ধ করে দেয়, যা এই ক্ষেত্রে মানা হয়নি। সংবিধানের আলোকে আদালতের কাজ কেবল আইনি সীমা নির্ধারণ করা এবং সেই অনুযায়ী প্রেসিডেন্টকে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়।
এই রায়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে একমত হন ট্রাম্পের আমলে নিয়োগ পাওয়া দুই রক্ষণশীল বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট ও নিল গোরসাচ, পাশাপাশি তিন লিবারেল বিচারপতি। বিপক্ষে মত দেন বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো ও ব্রেট কাভানফ।
উল্লেখ্য, এই শুল্ক ব্যবস্থার আওতায় ইতোমধ্যে ১৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এই অর্থের ভবিষ্যৎ বিষয়ে আদালত তাৎক্ষণিক কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত দেয়নি। রায়ের ফলে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এবং বাণিজ্য নীতি কার্যকরে প্রশাসনকে এখন কংগ্রেসের ওপর নির্ভর করতে হবে।
তথ্যসূত্র: আলজাজিরা
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর দুই দেশের বহুমুখী সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ভারত। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশটিতে একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি নিজেদের সমর্থনের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছে নয়াদিল্লি। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা অংশ নেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে নরেন্দ্র মোদীর একটি বিশেষ চিঠি হস্তান্তর করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। রণধীর জয়সওয়াল বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর ওই চিঠিতে একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের প্রতিশ্রুতি ও সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ভিত্তিতে নতুন প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী ভারত। বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সব ধরনের দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আলোচনা ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সূত্র: ট্রিবিউন নিউজ
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও স্পষ্ট করেছে যে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার কৌশলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতির আওতায় ঢাকা-দিল্লি সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার লক্ষ্যেই তারা কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে। নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত—সব দিক থেকেই বাংলাদেশ ভারতের ঘনিষ্ঠ অংশীদার। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাত এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় দৃশ্যমান অগ্রগতি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এদিকে ওম বিড়লা সংসদীয় পর্যায়ে দুই দেশের যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তার মতে, জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পৃক্ততা বাড়লে রাষ্ট্রীয় সম্পর্কও আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চলছে। তারেক রহমান-এর সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে কূটনৈতিক মহলে বিশ্লেষণ দেখা গেলেও দিল্লির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ভারতের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি এবং অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতেই দুই দেশের সম্পর্ক এগোচ্ছে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সন্ত্রাসবিরোধী উদ্যোগ, নদীর পানি বণ্টন এবং আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্পে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল—সব মিলিয়ে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই ভারতের প্রতিবেশীকেন্দ্রিক নীতিতে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার বজায় থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সামনে উচ্চপর্যায়ের সফর ও বৈঠকে বাণিজ্য ভারসাম্য, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে নতুন অগ্রগতি হতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ও গুরুত্ব পাবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সম্পর্ক জোরদারের এই অঙ্গীকার ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তবে ভবিষ্যতে ঘোষণার বাস্তবায়নই হবে দুই দেশের সম্পর্কের প্রকৃত মূল্যায়নের মানদণ্ড।
পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচির সোলজারবাজার এলাকায় একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে ভয়াবহ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের সময় বাসিন্দারা সেহরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। দুর্ঘটনার বিবরণ ও তীব্রতা - প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোররাতে যখন পুরো ভবনটি শান্ত ছিল এবং মানুষ সেহরির আয়োজনে ব্যস্ত ছিল, তখনই হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনটি ধসে পড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সিন্ধ প্রাদেশিক দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের (পিডিএমএ) করাচি শাখার প্রধান হাসান খান এএফপিকে বলেন, "প্রাথমিক আলামত দেখে আমরা নিশ্চিত যে এটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো কারণ আছে কি না তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।" হতাহত ও বর্তমান পরিস্থিতি - উদ্ধারকারীরা এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। আহত অন্তত ১৩ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক, যার ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিন্ধ প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন। উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জরাজীর্ণ ভবন - করাচিতে জরাজীর্ণ ভবন এবং অনিরাপদ গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গত বছরের জুলাই মাসেও লিয়ারি এলাকায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একটি ৫ তলা ভবন ধসে ২৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। বারবার এমন দুর্ঘটনায় প্রশাসনের নজরদারি এবং আবাসিক এলাকায় গ্যাস ব্যবহারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আবারও বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এক নজরে দুর্ঘটনার তথ্য: স্থান: সোলজারবাজার, করাচি, পাকিস্তান। সময়: ১৯ ফেব্রুয়ারি, ভোর ৪টা (সেহরির সময়)। হতাহত: ১৬ নিহত, ১৩ আহত (আশঙ্কাজনক)। কারণ: প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ।