হরমুজ প্রণালিতে চলমান নৌ-চলাচল সংকট নিরসনে অবিলম্বে একটি টেকসই যুদ্ধবিরতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই অঞ্চলে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার জন্য সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং যুদ্ধবিরতিই একমাত্র মৌলিক সমাধান। বেইজিং মনে করে, সংঘাত বন্ধের মাধ্যমেই কেবল বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি নিরাপদ রাখা সম্ভব।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াং ই বেইজিংয়ের এই কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বাস করেন, বিচ্ছিন্ন কোনো সামরিক হামলা বা পাল্টা হামলা পরিস্থিতির কোনো স্থায়ী সমাধান আনতে পারবে না। বরং একটি ব্যাপকভিত্তিক কূটনৈতিক সমঝোতাই পারে এই কৌশলগত জলপথের অচলাবস্থা কাটাতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখতে।
দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক উত্তেজনা কমিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও বিস্তারিত কথা হয়েছে। রাশিয়া ও চীন উভয় দেশই মনে করে, বাইরের কোনো শক্তির একতরফা হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তাই একটি টেকসই শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করতে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টা এখন সময়ের দাবি।
জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম হওয়ায় চীন এই বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ফোনালাপে ওয়াং ই এবং লাভরভ বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন। এই আলোচনার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে চীন ও রাশিয়ার অভিন্ন অবস্থানের বিষয়টি আবারও জোরালোভাবে ফুটে উঠেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
কানাডার অটোয়ায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় দুই শিশুসন্তানের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে বাবার বাড়ি থেকে ৭ ও ১২ বছর বয়সী ওই দুই ভাইয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিন ওই বাড়ি থেকে প্রায় ২১ মাইল দূরে ৪১৬ নম্বর হাইওয়ের পাশে পার্ক করা একটি জ্বলন্ত গাড়ি থেকে তাদের বাবার মৃতদেহও উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিজের দুই সন্তানকে হত্যার পর ওই ব্যক্তি নিজেও গাড়িতে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি পুরো অটোয়া কমিউনিটিকে গভীরভাবে শোকাহত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শিশুদের বাবা-মায়ের মধ্যে আগেই বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল এবং শিশু দুটি ওই বাড়িতে তাদের বাবার সঙ্গেই থাকছিল। সোমবার সকাল ১০টার দিকে এক ব্যক্তি ওই বাড়িতে গিয়ে কারও সাড়াশব্দ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পুলিশকে খবর দেন। মূলত শিশুদের মায়ের দিক থেকে নয়, বরং ওই দর্শনার্থীর অনুরোধেই পুলিশ ‘ওয়েলফেয়ার চেক’ বা সার্বিক অবস্থার খোঁজ নিতে গিয়ে বাড়ির ভেতরে শিশুদের নিথর দেহের সন্ধান পায়। অটোয়া পুলিশ সার্ভিস এই ঘটনাকে অত্যন্ত জটিল উল্লেখ করে জানিয়েছে, তারা নিহতদের মা, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে। অটোয়া পুলিশ এবং অন্টারিও প্রভিন্সিয়াল পুলিশ যৌথভাবে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত করছে। শিশুদের হত্যার পর বাবা কীভাবে মারা গেলেন এবং এর সাথে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৬০ মাইল দূরের একটি বাণিজ্যিক ভবনে লাগা অগ্নিকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে পুলিশ জনসাধারণকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে, এই ঘটনার পর ওই এলাকায় আর কোনো ধরনের নিরাপত্তাজনিত হুমকি নেই। এই পরিবারের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শিশুরাও বর্তমানে সম্পূর্ণ নিরাপদে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। অটোয়া পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট জেমি ডানলপ সাংবাদিকদের বলেন, এটি পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং প্রতিবেশীদের জন্য এক অকল্পনীয় ট্র্যাজেডি। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এমন মর্মান্তিক ঘটনা মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। এই ঘটনায় স্থানীয় নেতারাও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অটোয়ার মেয়র মার্ক সাটক্লিফ এটিকে কমিউনিটির জন্য একটি 'অত্যন্ত কঠিন দিন' হিসেবে উল্লেখ করে নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। রিভারসাইড সাউথ-ফিন্ডলে ক্রিক কাউন্সিলর স্টিভ ডেসরোচেসও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এই ঘটনাকে একটি হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি আখ্যা দিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন।
ভারত মহাসাগরে চীন ও পাকিস্তানের সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজের ক্রমবর্ধমান আনাগোনা ঠেকাতে সমুদ্রের তলদেশে এক বিশাল নজরদারি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে ভারত। শত্রুপক্ষের জলযানের ওপর সার্বক্ষণিক কড়া নজর রাখতে সমুদ্রের তলদেশে ফাইবার অপটিক সেন্সর বসানোর এই বিশেষ প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও)। এই প্রকল্পের আওতায় সমুদ্রের তলদেশে অত্যাধুনিক সেন্সর নোড স্থাপন করা হবে, যা ফাইবার অপটিক কেবলের মাধ্যমে সরাসরি একটি উপকূলীয় নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সাথে যুক্ত থাকবে। সেখান থেকেই সমুদ্রের নিচের সব ধরনের গতিবিধি ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে। এই বিশেষ ব্যবস্থার নকশা তৈরি, সরবরাহ ও স্থাপনের জন্য ইতিমধ্যে একটি যোগ্য শিল্প অংশীদার বা ঠিকাদার খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভারত মহাসাগরে সাম্প্রতিক সময়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামরিক প্রতিযোগিতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চীনের পারমাণবিক ও সাধারণ সাবমেরিনগুলো প্রায়ই এই অঞ্চলে টহল দিচ্ছে। পাশাপাশি পাকিস্তানের নৌবাহিনীও চীনের তৈরি দূরপাল্লার অত্যাধুনিক সাবমেরিন নিজেদের বহরে যুক্ত করা শুরু করেছে, যা পানির নিচে দীর্ঘ সময় সচল থাকতে পারে। শত্রুপক্ষের এমন শক্তির বিপরীতে ভারতের নিজস্ব সাবমেরিন বহরের আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়া এখনো বেশ পিছিয়ে রয়েছে। বর্তমানে ভারতের নৌবাহিনীতে পর্যাপ্ত পরমাণু চালিত যুদ্ধজাহাজ বা সাবমেরিনের ঘাটতি রয়েছে এবং নতুন দেশীয় প্রজেক্টগুলো আলোর মুখ দেখতে আরও এক দশকেরও বেশি সময় লাগতে পারে। এই অবস্থায় আকাশ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের নিয়মিত টহলের পাশাপাশি সমুদ্রের তলদেশের এই স্থায়ী সেন্সর নেটওয়ার্ক ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় ঘাটতি পূরণ করবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। শীতল যুদ্ধের সময় আমেরিকাও সোভিয়েত ইউনিয়নের সাবমেরিন শনাক্ত করতে সমুদ্রের তলদেশে এমন বিশেষ হাইড্রোফোন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছিল। পরবর্তীতে চীনও দক্ষিণ চীন সাগরে নিজস্ব নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলে। ভারতের এই নতুন প্রযুক্তির নেটওয়ার্কটির মেয়াদকাল হবে ২০ বছর এবং আগামী ৪৮ মাসের মধ্যে সমুদ্রের তলদেশে এটি সম্পূর্ণ সচল করার প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পূর্ব চীনের কৌশলগত সমুদ্রসীমা ও আকাশসীমায় চলতি সপ্তাহেই শুরু হতে যাচ্ছে পরাশক্তি চীন এবং রাশিয়ার নৌবাহিনীর বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া। বেইজিংয়ের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার এক বিশেষ বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। দুই দেশের মধ্যকার এই সামরিক সহযোগিতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। চীনের অন্যতম প্রধান বন্দর নগরী চিংদাও উপকূলের এই মহড়াটি সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। আগামী ১৩ জুলাই পর্যন্ত এই যৌথ মহড়াটি চলমান থাকবে বলে জানানো হয়েছে। মহড়া সমাপ্ত হওয়ার পর দুই দেশের নৌবাহিনী প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় যৌথ টহল পরিচালনা করবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই যৌথ মহড়ায় অংশ নিতে রাশিয়ার প্যাসিফিক ফ্লিটের একটি ক্রুজার, একটি কর্ভেট, একটি ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন এবং একটি উদ্ধারকারী জাহাজ ইতোমধ্যেই চিংদাও বন্দরে এসে পৌঁছেছে। রাশিয়ার এই শক্তিশালী নৌবহর মহড়ায় প্রধান ভূমিকা পালন করবে। অন্যদিকে, চীনের নর্দার্ন থিয়েটার কমান্ড জানিয়েছে যে তাদের পক্ষ থেকে দুটি ডেস্ট্রয়ার, একটি ফ্রিগেট, একটি সাবমেরিন, একটি সাপ্লাই জাহাজ এবং একটি উদ্ধারকারী জাহাজ এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। এবারের মহড়ায় দুই দেশের নৌবাহিনী মূলত শত্রুপক্ষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠে আকস্মিক হামলার মোকাবিলার মতো কৌশলগত প্রস্তুতিগুলো ঝালিয়ে নেবে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক মহড়াটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যার মাত্র দুই মাস আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চীন সফর করেছিলেন। সেই সফরে তিনি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নজিরবিহীন উচ্চতায় রয়েছে বলে অভিহিত করেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও এই অংশীদারিত্বকে অটল ও অবিচল বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে এই দুই পরাশক্তি নিয়মিতভাবে 'জয়েন্ট সি' নামের এই যৌথ নৌ মহড়া পরিচালনা করে আসছে। গত বছর এই মহড়াটি রাশিয়ার ভ্লাদিভোস্তোক বন্দরের কাছে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর থেকে চীন কখনই এর সরাসরি নিন্দা জানায়নি, বরং নিজেদের একটি নিরপেক্ষ পক্ষ দাবি করে বেইজিং বরাবরই শান্তি আলোচনার আহ্বান জানিয়ে আসছে।