ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমকে নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে থেকে শতাধিক মার্কিন সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, এমন তথ্য জানানো হয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে।
তবে ইরাক, সিরিয়া, কুয়েত, সৌদি আরব, জর্ডান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন সেনারা এখনো দায়িত্ব পালন করছে।
মার্কিন কংগ্রেসের দুই সদস্য জশ গটহাইমার ও মাইক ললর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আক্রমণকে সমর্থন করেননি। তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, প্রস্তাবিত পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিক্রিয়াকে দুর্বল করতে পারে।
এছাড়া, কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি ও রো খানা যে “ওয়ার পাওয়ার্স রেজ্যুলেশন” প্রস্তাব করেছেন, তা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের ওপর হামলার সম্ভাবনা এবং তেহরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুমকি এ পদক্ষেপকে সতর্কতামূলক হিসাবে দেখা যেতে পারে। ইরান ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে, হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করা হবে।
জাতিসংঘের মহাসচিবকে পাঠানো এক চিঠিতে ইরানের মিশন প্রধান সতর্ক করেছেন, আক্রমণের ক্ষেত্রে অঞ্চলের সকল সামরিক ঘাঁটি ও সম্পদ বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য যে কোনো অপ্রত্যাশিত ফলাফলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে।
উল্লেখযোগ্য, কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক কেন্দ্র, যেখানে প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের সামরিক শক্তির জানান দিল ইরান। দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) প্রথমবারের মতো তাদের উন্নত প্রযুক্তির নৌ-আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ‘সাইয়াদ-৩জি’ (Sayyad-3G)-এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) আইআরজিসি-র নৌ শাখা এক ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের তথ্য নিশ্চিত করেছে। ‘স্মার্ট কন্ট্রোল’ নামক তিন দিনব্যাপী এক বিশেষ নৌ মহড়ার অংশ হিসেবে এই পরীক্ষা চালানো হয়। ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্য ও সক্ষমতা: প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘সাইয়াদ-৩জি’ হলো ইরানের ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ‘সাইয়াদ-৩’ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি উন্নত নৌ সংস্করণ। এই ক্ষেপণাস্ত্রের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: পাল্লা: এটি ১৫০ কিলোমিটার (প্রায় ৯৩ মাইল) দূরের লক্ষ্যবস্তু নির্ভুলভাবে আঘাত করতে সক্ষম। ভার্টিকাল লঞ্চ সিস্টেম: ক্ষেপণাস্ত্রটি যুদ্ধজাহাজ থেকে লম্বভাবে (Vertical Launch) উৎক্ষেপণ করা যায়, যা আধুনিক নৌ যুদ্ধের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। প্রতিরক্ষা বলয়: এই সিস্টেমটি ইরানের ‘শহীদ সোলেইমানি’ ক্লাসের যুদ্ধজাহাজগুলোর চারপাশে একটি আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় বা ‘এয়ার ডিফেন্স আমব্রেলা’ তৈরি করতে সক্ষম। লক্ষ্যবস্তু: এটি মূলত শত্রুদেশের যুদ্ধবিমান, উচ্চ উচ্চতার ড্রোন এবং ক্রুজ মিসাইল শনাক্ত ও ধ্বংস করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব: আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘শহীদ সাইয়াদ শিরাজি’ নামক যুদ্ধজাহাজ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সামরিক মহড়ায় ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বিভিন্ন ড্রোন এবং নজরদারি সরঞ্জামও ব্যবহার করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাণিজ্যের জন্য অন্যতম প্রধান রুট। এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই ইরান এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালো। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে তেহরান স্পষ্ট বার্তা দিল যে, তারা কেবল স্থলেই নয়, সমুদ্রসীমাতেও যেকোনো আকাশপথের হুমকি মোকাবিলা করতে পুরোপুরি প্রস্তুত। উল্লেখ্য, ইরান এর আগে ২০১৬ সালে সাইয়াদ-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের স্থল সংস্করণের সফল পরীক্ষা চালিয়েছিল। এবারের নতুন নৌ সংস্করণটি ইরানের নৌবাহিনীর সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত শোক র্যালিতে সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এ বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ভিডিও যাচাইকারী সংস্থা ও বার্তা সংস্থা Agence France-Presse (এএফপি) জানিয়েছে, শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি–সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের ভিডিও পাওয়া গেছে। এসব ভিডিওতে ভিড়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ফারসি ভাষায় ‘নির্লজ্জ’ বলে স্লোগান দিতে শোনা গেছে। বিদেশ থেকে পরিচালিত ফারসি সংবাদমাধ্যম Iran International–এর ফুটেজেও শিক্ষার্থীদের সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা গেছে। ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলন গত বছরের ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে পরে ব্যাপক আকার ধারণ করে। আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর ভূমিকার অভিযোগ ওঠে। Human Rights Activists News Agency (HRANA)–এর তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে সাত হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদিও ইরান সরকার এ সংখ্যা অস্বীকার করেছে। ইরান কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তিন হাজারের বেশি মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে এবং দাবি করেছে যে সহিংসতার পেছনে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ ও বিদেশি উসকানি ছিল। শিয়া ধর্মাবলম্বীদের প্রথা অনুযায়ী নিহতদের ৪০তম দিনে স্মরণ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করলেও পরে স্লোগান ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ইরানের জাতীয় পতাকা হাতে একদল লোক বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি অবস্থান নেয়। মাস্ক পরা আরেক দল বিক্ষোভকারী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এমন সময় এই বিক্ষোভ হচ্ছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে অতীতে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন এবং সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক চাপ—দুই দিক থেকেই ইরান বর্তমানে জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি।
নিউ ইয়র্ক সিটির কর্মজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) থেকে নগরীতে সম্প্রসারিত ‘প্রটেক্টেড টাইম অফ’ (Protected Time Off) বা সংরক্ষিত ছুটি আইন কার্যকর শুরু হয়েছে। এই নতুন আইনের আওতায় কর্মীরা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রয়োজনে বাড়তি ছুটির সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মীদের প্রাপ্য ছুটি দিতে অবহেলা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র। নতুন আইনে যা থাকছে: লোকাল ল-১৪৫ (Local Law 145) এর অধীনে এখন থেকে নিউ ইয়র্কের নিয়োগকর্তাদের তাদের কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত ৩২ ঘণ্টার অবৈতনিক সংরক্ষিত ছুটি বরাদ্দ রাখতে হবে। এই সুবিধাটি নিয়োগের সাথে সাথেই কার্যকর হবে এবং প্রতি ক্যালেন্ডার বছরের শুরুতে নবায়ন করা হবে। ছুটি ব্যবহারের সুযোগও আগের চেয়ে অনেক বিস্তৃত করা হয়েছে। এখন থেকে অসুস্থতা ছাড়াও সন্তান দেখাশোনা (Childcare), প্রতিবন্ধী পরিবারের সদস্যদের সেবা, আবাসন বা সরকারি সুবিধার জন্য নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টে হাজিরা দেওয়া এবং কর্মক্ষেত্রে সহিংসতার শিকার হলে বা জরুরি দুর্যোগের সময় কর্মীরা এই ছুটি ভোগ করতে পারবেন। নিয়োগকর্তাদের প্রতি কড়া বার্তা: মেয়র মামদানি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নিয়ম অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হবে। শুক্রবারই শহরের ৫৬ হাজার প্রতিষ্ঠানে এই নতুন আইন মেনে চলার সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। মেয়র বলেন, "নিউ ইয়র্কবাসীকে কাজ এবং পরিবারের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করা যাবে না। আপনার জীবনের সংকটে আপনার চাকরি যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, আমরা সেটিই নিশ্চিত করছি।" তিনি আরও জানান, কনজিউমার অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রোটেকশন বিভাগ (DCWP) একটি বিশেষ অভিযান (Enforcement Blitz) শুরু করবে। বিশেষ করে রেস্তোরাঁ এবং যেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের ছুটির হার অস্বাভাবিকভাবে কম, সেগুলোকে ডেটা-চালিত প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করে তদন্ত করা হবে। জরিমানা ও দণ্ড: আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিটি কর্মীর জন্য ২৫০ থেকে ২,৫০০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে। এছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত ছুটি দিতে ব্যর্থ হবে, তাদের প্রতি বছর ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীকে অন্তত ৫০০ ডলার ক্ষতিপূরণ এবং সমপরিমাণ অর্থ সিটির সিভিল পেনাল্টি হিসেবে দিতে হবে। প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, এই আইনটি এর আগে সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামস ভেটো দিয়ে আটকে দিয়েছিলেন। তবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সিটি কাউন্সিল সেই ভেটো বাতিল করে আইনটি পাসের পথ প্রশস্ত করে। মেয়র মামদানি তার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন। শুক্রবার কুইন্সে এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র যখন এই ঘোষণা দেন, তখন তার সাথে আমাজন (Amazon) কর্মীদের একটি প্রতিনিধি দলও উপস্থিত ছিল, যারা দীর্ঘদিন ধরে কর্মক্ষেত্রে ছুটির অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করে আসছেন।