লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে এক দিনে রেকর্ডসংখ্যক নজিরবিহীন হামলার দাবি করেছে। সোমবার (২৩ মার্চ) ভোরে তাদের নিজস্ব টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত রোববার তারা ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে মোট ৬৩টি পৃথক হামলা সম্পন্ন করেছে। এসব হামলায় ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এবং দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে বিপুল পরিমাণ রকেট, ড্রোন এবং কামানের গোলা বর্ষণ করা হয়েছে। তবে সপ্তাহের শুরুর দিন সোমবার সকাল থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো হামলার ঘোষণা দেয়নি গোষ্ঠীটি।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর ক্রমাগত হুমকির মুখে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে তাদের স্থল অভিযান আরও জোরদার করেছে। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি বাহিনীর এই ধারাবাহিক হামলায় লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১,০২৯ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ২,৭৮৬ জন। সংঘাতের ভয়াবহতা ও প্রাণহানির এই পরিসংখ্যান পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
যুদ্ধের এই চরম পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে লেবাননের ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। হিজবুল্লাহর ড্রোন ও রকেট হামলার পাল্টা জবাবে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ও স্থলসেনারা লেবাননের বিভিন্ন জনপদে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি হামলা দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ভারতের বিমানবাহিনীতে পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক বেসামরিক কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা। গ্রেপ্তারকৃত সুমিত কুমার (৩৬) আসামের ডিব্রুগড়ের চাবুয়া বিমানবাহিনী স্টেশনে 'মাল্টি-টাস্কিং স্টাফ' হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত রোববার (২২ মার্চ) রাজস্থান গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিমানবাহিনী গোয়েন্দা সংস্থার এক যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমিত স্বীকার করেছেন যে, তিনি ২০২৩ সাল থেকে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার (আইএসআই) এজেন্টদের সাথে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং অর্থের বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করছিলেন। রাজস্থান গোয়েন্দা সংস্থার অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিচালক প্রফুল্ল কুমার জানিয়েছেন, গত জানুয়ারিতে জয়সলমীর থেকে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের সূত্র ধরেই সুমিতের সন্ধান মেলে। উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা সুমিত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে ভারতের যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার অবস্থান, বিমানবাহিনীর সদস্যদের ব্যক্তিগত তথ্য এবং স্পর্শকাতর রণকৌশল ইসলামাবাদে পাচার করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ চক্র দীর্ঘ দিন ধরে প্রতিবেশী দেশটিতে তথ্য পাচার করছে—এমন আশঙ্কায় গোপনে এই স্পর্শকাতর তদন্ত কার্যক্রম চলছিল। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সুমিত ইতোমধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও গোপনীয় তথ্য পাচারের কথা স্বীকার করেছেন। বর্তমানে তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তিনি আরও কী কী তথ্য পাচার করেছেন তা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। এই গ্রেপ্তারের ফলে ভারতীয় বিমানবাহিনীর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় বড় ধরনের ফাঁকফোকর বেরিয়ে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের নতুন বছর ‘নওরোজ’ উপলক্ষে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব ও জনগণকে বিশেষ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শনিবার ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুতিন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। বার্তায় পুতিন জোর দিয়ে বলেন, এই কঠিন সময়ে মস্কো তেহরানের একনিষ্ঠ বন্ধু এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে। ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ফলে সৃষ্ট বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘কঠিন পরীক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন পুতিন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ইরানি জনগণ মর্যাদার সঙ্গে এই সংকট মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। এছাড়া মস্কো গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলাকে মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করার প্রক্রিয়া হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে এবং ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুকে ‘নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে রাশিয়ার এই মৌখিক সমর্থনের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক বিশ্লেষক। কিছু ইরানি সূত্র দাবি করেছে, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরান বর্তমানে সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি হলেও মস্কোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য সামরিক বা বাস্তব সহায়তা পাওয়া যায়নি। যদিও 'পলিটিকো' এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল যে, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন প্রস্তাবের কথা উঠেছিল, তবে মস্কো সেটিকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ২০ বছর মেয়াদী একটি ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হলেও তাতে কোনো ‘পারস্পরিক প্রতিরক্ষা’ বা সরাসরি যুদ্ধে সহায়তার ধারা নেই। এছাড়া রাশিয়া স্পষ্ট করেছে যে, তারা ইরানে পারমাণবিক অস্ত্রের বিকাশ চায় না, কারণ এটি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে তেলের দাম বৃদ্ধিতে রাশিয়া অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হলেও ইরানের এই যুদ্ধে মস্কোর সরাসরি জড়িয়ে পড়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মাঝে ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের নীতি বা 'নিউক্লিয়ার ডকট্রিন' নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহমেদ নাজ্জার সতর্ক করেছেন যে, ইসরায়েল তার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের যে সীমা (threshold) নির্ধারণ করে রেখেছে, তা অত্যন্ত নিচু এবং বিপজ্জনক। নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়, কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলের পারমাণবিক সক্ষমতাকে একটি 'উন্মুক্ত গোপন রহস্য' হিসেবে গণ্য করা হলেও দেশটি কখনোই এর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। তবে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (SIPRI) তথ্যমতে, ইসরায়েলের কাছে অন্তত ৮০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং সেগুলো নিক্ষেপ করার মতো অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেম রয়েছে। সাধারণত পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো অন্য দেশের পারমাণবিক হামলা ঠেকাতে (Deterrence) এই অস্ত্র রাখে। কিন্তু ইসরায়েলের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। নিবন্ধে বলা হয়েছে, ইসরায়েল তার অস্তিত্বের ওপর সামান্যতম হুমকি অনুভব করলেই এই বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে—এমনকি প্রতিপক্ষ কোনো পারমাণবিক শক্তিধর দেশ না হলেও। একে সামরিক পরিভাষায় অনেক সময় ‘স্যামসন অপশন’ (Samson Option) বলা হয়, যার অর্থ হলো পরাজয়ের মুখে পড়ার আগে চূড়ান্ত ধ্বংসাত্মক পথ বেছে নেওয়া। বর্তমানে ইরান ও হিজবুল্লাহর সাথে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই ঝুঁকি আরও বেড়েছে। গত শনিবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের ডিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে আঘাত হানার পর পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, গাজা ও লেবাননে ইসরায়েল যেভাবে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, তাতে স্পষ্ট যে তাদের সামরিক কৌশল অত্যন্ত আগ্রাসী। গাজায় ইতিমধ্যে যে পরিমাণ বিস্ফোরক ফেলা হয়েছে, তার শক্তি হিরোশিমা পারমাণবিক বোমার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন। অন্যান্য পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) তদারকির অধীনে থাকলেও, ইসরায়েল এখন পর্যন্ত 'নন-প্রলিফারেশন ট্রিটি' (NPT)-তে স্বাক্ষর করেনি। ফলে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কোনো আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ নেই। নিবন্ধে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, বর্তমানে ইসরায়েলের ক্ষমতায় থাকা ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টরপন্থী সরকার এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইসরায়েলি সমাজের ক্রমবর্ধমান উগ্র জাতীয়তাবাদী মানসিকতা সামান্য বিরোধকেও ‘অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ’ হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি করছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের মনস্তাত্ত্বিক বাধাকে কমিয়ে দিতে পারে। পরিশেষে, আহমেদ নাজ্জার বিশ্ব সম্প্রদায় এবং পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোকে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ইসরায়েলের এই অস্পষ্ট ও বিপজ্জনক পারমাণবিক নীতি যে কোনো সময় মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে পুরো বিশ্বকে একটি পারমাণবিক মহাপ্রলয়ের (Armageddon) দিকে ঠেলে দিতে পারে।