- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
ক্যালিফোর্নিয়ার জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইন ইন-এন-আউট বার্গারের স্টোর ব্যবস্থাপকদের গড় বার্ষিক আয় ২ লাখ ডলারের বেশি। কর্মীদের বেতন, সুযোগ-সুবিধা ও পেশাগত উন্নয়নে বিনিয়োগের অংশ হিসেবেই এমন পারিশ্রমিক দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ইন-এন-আউট বার্গারের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ডেনি ওয়ার্নিক ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির স্টোর ব্যবস্থাপকেরা বছরে গড়ে ২ লাখ ডলারের বেশি আয় করেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা হ্যারি ও এসথার স্নাইডারের কর্মী কল্যাণকেন্দ্রিক দর্শনের কথা উল্লেখ করে ওয়ার্নিক বলেন, কর্মীদের পরিবারের সদস্যের মতো দেখভাল করা এবং ভালো নিয়োগকর্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করাই ছিল তাদের অন্যতম লক্ষ্য। স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বেতন দেওয়া সেই দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। ইন-এন-আউটের দাবি, সেই নীতিই এখনো চালু রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান মালিক ও প্রেসিডেন্ট লিনসি স্নাইডারের নেতৃত্বে কর্মীদের প্রতিযোগিতামূলক বেতন, ভালো সুযোগ-সুবিধা, ইতিবাচক কর্মপরিবেশ এবং দক্ষতা ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ওয়ার্নিক আরও জানান, ইন-এন-আউটের অনেক কর্মী কয়েক দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কাজ করছেন। তাদের দীর্ঘ সময়ের কর্মজীবন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতাদের মূল্যবোধ ও কর্মসংস্কৃতি ধরে রাখতে ভূমিকা রাখছে। কর্মীদের জন্য ইন-এন-আউটের বিভিন্ন সুবিধার কথাও প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেতনসহ ছুটি, নমনীয় কর্মসূচি, পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ এবং অবসরকালীন সঞ্চয় পরিকল্পনা। রেস্তোরাঁয় কাজ করা কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মকালীন খাবারের সুবিধাও রয়েছে। ইন-এন-আউট মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক একটি পারিবারিক মালিকানাধীন বার্গার চেইন। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া, নেভাদা, অ্যারিজোনা, ইউটা, টেক্সাস, ওরেগন, কলোরাডো, আইডাহো, ওয়াশিংটন ও টেনেসি, মোট ১০টি অঙ্গরাজ্যে তাদের রেস্তোরাঁ রয়েছে। ৪০০টির বেশি শাখায় ৪৪ হাজারের বেশি কর্মী কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠানটির স্টোর ব্যবস্থাপনা পদে সরাসরি নিয়োগের পরিবর্তে কর্মীদের ধাপে ধাপে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে উন্নীত করা হয়। ইন-এন-আউটের নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি স্টোর ব্যবস্থাপক পদে নিয়োগ দেয় না। সাম্প্রতিক সময়ে ইন-এন-আউট খাবারের উপকরণেও পরিবর্তন এনেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের বার্গারের পাউরুটি থেকে তিলের আটা বাদ দিয়েছে এবং আয়োডিনযুক্ত লবণের প্যাকেটের পরিবর্তে সমুদ্রের লবণ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, ক্রেতাদের আরও সতেজ ও উচ্চমানের খাবার দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এসব পরিবর্তন করা হয়েছে। ইন-এন-আউট ১৯৪৮ সালে হ্যারি ও এসথার স্নাইডার প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি স্নাইডার পরিবারই পরিচালনা করছে এবং এর কোনো শাখা ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থায় পরিচালিত হয় না। সূত্র: ফক্স বিজনেস, ইন-এন-আউট বার্গার
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে অ্যান্টি-এজিং চিকিৎসার নামে এনএডি+ শিরায় দেওয়ার পর ২৭ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যুর ঘটনাকে ‘হত্যাজনিত মৃত্যু’ হিসেবে ঘোষণা করেছে নগরীর প্রধান মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয়। এ ঘটনায় চিকিৎসা দেওয়ার বৈধ লাইসেন্স না থাকা লুইস রোহাস ক্যাবরেরার বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ আরও গুরুতর করা হয়েছে। নিহত নারীর নাম এলিজাবেথ ব্যারন। গত ১৯ জুলাই ব্রঙ্কসের রিভারডেল এলাকায় রিভারডেল অ্যাভিনিউয়ের বেরেশিত লাইফস্টাইল সেন্টারে চিকিৎসা নিতে যান তিনি। সেখানে ৫৫ বছর বয়সী ক্যাবরেরা তার হাতে শিরায় এনএডি+ নামের একটি পদার্থ দেওয়ার পরপরই ব্যারন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। পরে তাকে নিউইয়র্ক-প্রেসবিটারিয়ান অ্যালেন হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, ক্যাবরেরা যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত নন। তিনি তদন্তকারীদের কাছে বলেছেন, ডোমিনিকান রিপাবলিকে তিনি চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন এবং পুয়ের্তো রিকোতে তার চিকিৎসা সহকারী হিসেবে একটি লাইসেন্স রয়েছে। তবে নিউইয়র্কে চিকিৎসা দেওয়ার বৈধ অনুমতি তার ছিল না। প্রাথমিকভাবে ক্যাবরেরার বিরুদ্ধে বেপরোয়া আচরণের মাধ্যমে অন্যের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা এবং অনুমোদন ছাড়া পেশা পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরে ব্যারনের ময়নাতদন্তের ফল প্রকাশের পর তার মৃত্যুকে ‘হত্যাজনিত মৃত্যু’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। নিউইয়র্কের প্রধান মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয়ের মতে, ব্যারনের মৃত্যুর কারণ ছিল হৃদ্যন্ত্রে বায়ু জমে সৃষ্ট এয়ার এমবোলিজম। তদন্তকারীদের মতে, শিরায় থাকা ক্যাথেটারের মাধ্যমে বাতাস প্রবেশের ঘটনাই এ মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে ‘হত্যাজনিত মৃত্যু’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বলেই ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত হত্যা প্রমাণিত হয়েছে, এমন নয়। ক্যাবরেরার আইনজীবী ডোনাল্ড এইচ. ভোগেলম্যান বলেছেন, চিকিৎসা পরীক্ষকের ব্যবহৃত ‘হোমিসাইড’ শব্দটি সব ক্ষেত্রে পরিকল্পিত হত্যাকে বোঝায় না এবং তার দাবি, ঘটনাটি দুর্ঘটনাও হতে পারে। তিনি আদালতে তার মক্কেলকে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণের কথা জানিয়েছেন। এনএডি+ বা নিকোটিনামাইড অ্যাডেনিন ডাইনিউক্লিওটাইড হলো শরীরে স্বাভাবিকভাবে থাকা একটি কো-এনজাইম। শক্তি, বিপাক ও বার্ধক্যজনিত পরিবর্তন কমানোর মতো নানা সম্ভাব্য উপকারের কথা বলে ওয়েলনেস খাতে এর ব্যবহার বেড়েছে। তবে এ ধরনের অ্যান্টি-এজিং চিকিৎসার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণা এখনও সীমিত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এনএডি+ চিকিৎসা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও তারকাদের প্রচারণার কারণেও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। মডেল কেন্ডাল জেনার ও হেইলি বিবারসহ কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি অতীতে এ ধরনের চিকিৎসা নেওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলেছিলেন। তবে কোনো তারকার ব্যবহার কোনো চিকিৎসার নিরাপত্তা বা কার্যকারিতার নিশ্চয়তা দেয় না। ক্যাবরেরা এর আগে থেকেই আইনগত জটিলতায় ছিলেন। ২০২৫ সালে নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি বিমানবন্দরে তার বিরুদ্ধে চিকিৎসাসামগ্রী বহনের ঘটনায় গ্রেপ্তারের তথ্যও সামনে এসেছে। তবে ব্যারনের মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত মামলাটিই বর্তমানে তার বিরুদ্ধে চলমান প্রধান তদন্তের বিষয়। ব্যারনের মৃত্যুর পর জুলাইয়ে ক্যাবরেরাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং পরে জামিন ছাড়াই মুক্তি দেওয়া হয়। আদালত তার পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। বর্তমানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ব্রঙ্কস জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, ক্যাবরেরার কাছ থেকে চিকিৎসা নেওয়া অন্য কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, নিউজ ১২ ব্রঙ্কস, গথামিস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের মেয়র জোহরান মামদানির সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১২ মাসের মধ্যে এটি তাদের তৃতীয় বৈঠক। অন্যান্য ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কারণে সমালোচিত হলেও, মেয়র মামদানি তার এই আলোচনার সিদ্ধান্তকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শহরের বাসিন্দাদের জন্য সর্বোচ্চ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই তার মূল লক্ষ্য এবং সে কারণেই এই ধরনের কথোপকথন অত্যন্ত জরুরি ও মূল্যবান। বৈঠক শেষে মেয়র মামদানি জানান, নিউইয়র্ক শহরকে আরও উন্নত করে গড়ে তোলা এবং অভিবাসীদের নিরাপত্তার বিষয়টি তাদের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গ্রেসি ম্যানশনে তার অতীতের স্মৃতিচারণ করার পাশাপাশি মেয়রের প্রস্তাবিত একটি বৃহৎ আবাসন উন্নয়ন প্রকল্পে সমর্থন দেওয়ার বিষয়েও ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শ সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী হওয়া সত্ত্বেও এই দুই নেতার মধ্যকার আলোচনাগুলো বরাবরই বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ হতে দেখা গেছে। গত ২০২৫ সালের নভেম্বরে মেয়র হিসেবে মামদানি নির্বাচিত হওয়ার পরপরই হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে তাদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও তারা দ্বিতীয়বারের মতো মুখোমুখি বসেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যারের সাসেক্স কাউন্টিতে হরিণ শিকারে বেরিয়ে ভুলবশত এক নারীকে গুলি করে হত্যা করেছেন ম্যারিল্যান্ডের এক বৃদ্ধ শিকারি। ডেলাওয়্যার স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, মর্মান্তিক এই ঘটনায় ৭৪ বছর বয়সী ওয়াল্টার মুরহেড নামের ওই শিকারির বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যাসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে সাউথ ওল্ড স্টেট রোডের কাছের একটি খোলা মাঠে এই প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ৩৯ বছর বয়সী সান্তোস মারিয়া চিলল সোটো এক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও দুই শিশুর সঙ্গে ওই মাঠ দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় দূরে থাকা মুরহেড নড়াচড়া দেখতে পান এবং হরিণ ভেবে নিজের রাইফেল থেকে গুলি ছোড়েন। গুলির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে পাঠায়। তবে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ নিশ্চিত হয় যে মুরহেডই গুলি চালিয়েছিলেন এবং তাকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যা, অপরাধ সংঘটনের সময় আগ্নেয়াস্ত্র কাছে রাখা এবং ফার্স্ট-ডিগ্রি বেপরোয়া আচরণের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। পরবর্তীতে জাস্টিস অব দ্য পিস কোর্টে হাজির করার পর ৪৩ হাজার ডলারের নগদ বন্ড জমা দেওয়ার শর্তে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি আরবের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তুরস্ক ও পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইয়েমেন সংঘাতে সৌদি আরবের পক্ষে কোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপে যুক্ত হলে এই দুই দেশকে কঠোর ও নির্মম জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে হুথি গোষ্ঠী। ইরাকি টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘অ্যানাদার রিডিং’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কড়া বার্তা দেন হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও ধামার প্রদেশের গভর্নর মোহাম্মদ আল-বুখাইতি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তুরস্ক ও পাকিস্তান যদি এই সংঘাতে সামরিকভাবে জড়ায়, তবে তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানা হবে এবং উচিত শিক্ষা দেওয়া হবে। তবে তিনি এ-ও উল্লেখ করেন যে, এই দেশগুলোর সাধারণ মানুষের মনে ইয়েমেনের প্রতি গভীর সহানুভূতি রয়েছে, তাই এই হুঁশিয়ারি মূলত দেশগুলোর সরকারের উদ্দেশে দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হুথিদের ধারাবাহিক হামলার পর রিয়াদ, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারার মধ্যকার ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। গত ৭ আগস্ট এই তিন দেশের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মূল লক্ষ্য সম্মিলিত প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধি করা। এই চুক্তির আওতায় কোনো একটি অংশীদার দেশের ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। হুথিদের হুমকির প্রেক্ষিতে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বর্তমানে গুরুতর হুমকির মুখে রয়েছে এবং জোটের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তুরস্ক রিয়াদের পাশে দাঁড়াতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি আরও জানান, সামরিক সহযোগিতার প্রয়োজনে তুরস্ক পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করে রিয়াদকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, ইয়েমেন সংঘাতের শুরু থেকেই হুথিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছে পাকিস্তান। বিশেষ করে পবিত্র মক্কার কাছাকাছি হামলার খবরের পর থেকে পাকিস্তানের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, মক্কা ও মদিনার সুরক্ষা নিশ্চিত করা পাকিস্তানের জন্য একটি চিরন্তন ও ধর্মীয় দায়িত্ব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পবিত্র কাবা বা মহানবীর জন্মস্থানে হামলা হলে কোনো চুক্তির অপেক্ষা না করেই তা রক্ষা করা প্রতিটি মুসলিমের অবশ্য কর্তব্য। এর সঙ্গে সুর মিলিয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর আন্তঃসেবা জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালকও জানিয়েছেন যে, হারামাইন শরিফাইনের সুরক্ষায় পাকিস্তান যেকোনো সীমা অতিক্রম করতে প্রস্তুত রয়েছে। ২০১৪ সালে হুথিরা সানা দখল করার পর থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত বর্তমানে ত্রিপক্ষীয় জোটের হস্তক্ষেপে নতুন মাত্রা পেয়েছে, যা গোটা মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে এক জটিল সমীকরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বহুল আলোচিত হত্যা মামলার বিচারকার্য চলাকালে নিহত স্ত্রী অ্যাশলি ফ্লিনের ময়নাতদন্তের বীভৎস বর্ণনা শুনে আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাবেক ‘আমেরিকান আইডল’ তারকা ক্যালেব ফ্লিন। সোমবার আদালতে তার স্ত্রীর মৃতদেহের ময়নাতদন্তের ছবি ও আঘাতের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন চিকিৎসক, যা শুনে আসামির কাঠগড়ায় থাকা ক্যালেব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং কান্না চেপে রাখার চেষ্টা করেন। আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় মন্টগোমারি কাউন্টির ডেপুটি করোনার ও প্যাথলজিস্ট ডা. ব্রায়ান কাস্টো অ্যাশলির মৃতদেহের ভয়াবহ অবস্থার বর্ণনা দেন। তিনি জানান, মৃতদেহটি পরিষ্কার করার আগে তোলা ছবিতে চুল, রক্ত ও মগজ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যা মূলত মাথার ডান দিকের পেছনে লাগা দুটি বুলেটের আঘাতের কারণে হয়েছিল। এছাড়া মৃতদেহ পরিষ্কার করার পর নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য তোলা আরেকটি ছবিতে অ্যাশলির মাথার সামনের দিকের খুলিতে বড় ধরনের ফাটল দেখা যায়। ডা. কাস্টো জানান, ওই ফাটলটি মাথা ফুঁড়ে দুটি বুলেট বেরিয়ে যাওয়ার ফলে তৈরি হয়েছিল এবং ছবিতে তার বাম চোখটি আঘাতের কারণে কালচে দেখাচ্ছিল। প্যাথলজিস্টের বর্ণনায় আরও উঠে আসে যে, নিহতের মুখমণ্ডলে হাড়ের টুকরো এবং দুই হাতে বুলেটের আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল। এই রোমহর্ষক ও বীভৎস বর্ণনা শুনে ক্যালেব ফ্লিন এবং তার পেছনে গ্যালারিতে বসে থাকা দর্শকরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনেকেই এ সময় হতাশা ও শোকে মাথা নাড়তে থাকেন। তবে আদালতের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সেই ভয়াবহ ছবিগুলো এজলাসে প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের বার্লিংটনে ২০২৩ সালের নভেম্বরে তিন ফিলিস্তিনি কলেজ শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার দায়ে জেসন ইটন (৫১) নামের এক ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে জুরি বোর্ড। সোমবার আসামিপক্ষের 'মানসিক ভারসাম্যহীনতার' দাবি প্রত্যাখ্যান করে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এই অপরাধে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালের থ্যাংকসগিভিং ছুটির পর ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্ট ক্যাম্পাসের কাছে হাঁটাহাঁটি করার সময় ওই তিন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় হিশাম আওয়ারতানি কোমরের নিচ থেকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং তার দুই বন্ধু তাহসিন আলিয়াহমাদ ও কিনান আবদুল হামিদ গুরুতর আহত হন। হামলাকারী জেসন ইটন নিজে গুলি চালানোর কথা স্বীকার করলেও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তার আইনজীবীরা যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন এবং সিআইএ ও মোসাদের নির্দেশে এমন কাজ করেছেন বলে তার ভ্রম হয়েছিল। তবে সপ্তাহব্যাপী বিচার প্রক্রিয়া শেষে আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের ডাকা মনস্তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্য এবং আহত তিন তরুণের জবানবন্দি গ্রহণের পর জুরি বোর্ড আসামির ওই যুক্তি খারিজ করে দেয়। হামলার শিকার ওই তিন তরুণ শৈশবে পশ্চিম তীরের রামাল্লায় একসঙ্গে পড়াশোনা করেছেন এবং পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর ঘটা এই হামলার ঘটনায় সে সময় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং একে 'হেইট ক্রাইম' হিসেবে তদন্তের দাবি ওঠে। যদিও শেষ পর্যন্ত বিদ্বেষমূলক অপরাধের কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। তবে বিচার শেষে রায় ঘোষণার সময় আসামিকে নির্বিকার বসে থাকতে দেখা যায়, অন্যদিকে গ্যালারির সামনের সারিতে বসে থাকা আওয়ারতানি ও আলিয়াহমাদ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। ইটনের চূড়ান্ত সাজা ঘোষণার তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
ব্রাজিলের ক্লাউদিও ভিয়েরা ডি অলিভেইরা ১৯৭৬ সালে এক বিরল শারীরিক অবস্থা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। এই বিরল রোগের কারণে তার জয়েন্ট ও পেশিগুলোর বিকাশ স্বাভাবিকভাবে হয়নি, এমনকি তার মাথাটিও পেছনের দিকে উল্টানো বা বাঁকানো অবস্থায় থাকে। জন্মের পর তার অস্বাভাবিক শারীরিক গঠন দেখে চিকিৎসকরা আশঙ্কা করেছিলেন যে তিনি হয়তো বেশিদিন বাঁচবেন না। তবে চারপাশের সব নেতিবাচক ধারণা ও শঙ্কাকে ভুল প্রমাণ করে ক্লাউদিও আজ জীবনযুদ্ধে এক অনন্য বিজয়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মায়ের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সমর্থন ক্লাউদিওকে আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করেছে। দৈনন্দিন জীবনের সব কাজ করার জন্য তিনি নিজের মতো করে অভিনব উপায় বের করে নেন। মুখে কলম আটকে টাইপ করা থেকে শুরু করে নিজে নিজে পড়া, লেখা এমনকি স্বাধীনভাবে কম্পিউটার ব্যবহারের কৌশলও তিনি আয়ত্ত করেন। পড়াশোনায় অদম্য ক্লাউদিও পরবর্তীতে অ্যাকাউন্টিং বা হিসাববিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন এবং নিজের একটি সফল পেশাদার ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীর কাছে প্রমাণ করেছেন যে, শারীরিক গঠন বা প্রতিবন্ধকতা কখনোই কোনো মানুষের মেধা ও সক্ষমতাকে সংজ্ঞায়িত করতে পারে না। সময়ের পরিক্রমায় বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান, সংবাদমাধ্যমের ডকুমেন্টারি এবং পাবলিক ইভেন্টের মাধ্যমে ক্লাউদিও বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে নিজের জীবনসংগ্রামের অভিজ্ঞতা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। বিশেষত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, সমাজের সর্বস্তরে তাদের প্রবেশগম্যতা এবং মানসিক দৃঢ়তার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে তিনি জোরালো ভূমিকা রাখছেন। ক্লাউদিওর এই অবিশ্বাস্য পথচলা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে—সঠিক সমর্থন, সুযোগ এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো মানুষ সমাজের প্রচলিত প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বড় কিছু অর্জন করতে পারে।
কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে প্রস্তাবিত নতুন অর্থনৈতিক জোটে যুক্তরাজ্যকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বদলে যাওয়া বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক বলয় গড়ে তুলতে অংশীদারত্বের ধরন নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে হবে। যুক্তরাজ্য ও কানাডার মূল্যবোধ এবং বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি এক হওয়ায় এই জোটে তাদের যৌথ অংশগ্রহণ অত্যন্ত সময়োপযোগী হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন কানাডাকে ইইউ-এর প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ (Associate Member) করার নজিরবিহীন এক প্রস্তাব দেন। এরপরই কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি স্ট্রাসবার্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাষণ দেন। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সাবেক এই গভর্নর দীর্ঘদিন ধরে মাঝারি শক্তির গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈশ্বিক স্থিতিস্থাপকতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি যৌথ জোট গড়ে তোলার পক্ষে মত দিয়ে আসছেন। শ্যাম্পেন জানান, বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য বদলের সাথে সাথে মধ্যম শক্তির দেশগুলোর এমন সম্মিলিত উদ্যোগই হবে মূলত ‘ভবিষ্যতের জোট’। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কানাডার ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য সংঘাতের পটভূমিতে এই উদ্যোগ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। গত মাসে মার্কিন প্রশাসনের সাথে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর উভয় পক্ষই পাল্টা শুল্ক আরোপ শুরু করে। শ্যাম্পেন স্পষ্ট জানান, নিজের দেশের শিল্প ও শ্রমিকদের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থেই অটোয়া শুল্কের জবাবে পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে বাধ্য হয়েছে। তবে উত্তেজনার পারদ না বাড়িয়ে উপযুক্ত সময়ে ওয়াশিংটনের সাথে তারা পুনরায় সংলাপে বসতে প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সহযোগী সদস্যপদের পরিকল্পনাকে উপহাস করার পাশাপাশি ইউরোপ ও কানাডার বিরুদ্ধে আরও কঠোর বাণিজ্য পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে রেখেছেন। যদিও কানাডার ‘সহযোগী সদস্যপদ’-এর রূপরেখা এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রযুক্তি, শিক্ষা, গবেষণা তহবিল ও প্রতিরক্ষা খাতে সমন্বয়ের ব্যাপক সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কানাডার খনিজ সম্পদ ও জ্বালানি ইউরোপের সরবরাহ সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাস্তবতায় ইউরোপ ও আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা ব্রিটেনের জন্য এই জোট নতুন একটি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
হোয়াইট হাউস থেকে তিনটি গণমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করার ঘটনায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন জেডি ভ্যান্স। নর্থ ক্যারোলাইনায় এক নির্বাচনী প্রচারণায় যাওয়ার পথে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজের টারমাকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভ্যান্স এই পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত’ বলে দাবি করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ঘোষণায় ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে সরাসরি ‘নিষেধাজ্ঞা’ বললেও, ভ্যান্সের দাবি—কাউকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না, বরং অপপ্রচারে লিপ্ত থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষ সুবিধা বা প্রবেশাধিকার বাতিল করা হচ্ছে। প্রশাসনের প্রতি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর অতিরিক্ত নেতিবাচক কভারেজের সমালোচনা করে ভ্যান্স বলেন, এ ধরনের একপেশে খবর মার্কিন জনগণের প্রকৃত মনোভাবের প্রতিফলন ঘটায় না। তাই চরম বামপন্থী অপপ্রচারে যুক্ত থাকলে হোয়াইট হাউস কেন তাদের বিশেষ সুযোগ দেবে, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে এই সিদ্ধান্ত সংবাদমাধ্যমের বাকস্বাধীনতা বা অধিকার হরণ করে না দাবি করে ভ্যান্স আরও উল্লেখ করেন, তারা এখনো প্রশাসন নিয়ে প্রতিবেদন করতে পারবে এবং কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে পারবে। তারা কেবল হোয়াইট হাউসে স্থায়ী দপ্তর ব্যবহারের বিশেষ সুযোগ হারাবে, যতক্ষণ না তারা দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের মতো আচরণ শুরু করে। এদিকে হোয়াইট হাউসের এই পদক্ষেপের জবাবে সংবাদমাধ্যমের যৌথ প্রতিবাদ ও বয়কট আরও বিস্তৃত হয়েছে। ভিডিও কভারেজ বর্জনের পর এবার স্থিরচিত্র বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে পত্রিকাটি জানায়, নিষিদ্ধ হওয়া সংবাদমাধ্যমগুলোর সমর্থনে আলোকচিত্রীদের সম্মিলিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে মধ্যরাত পর্যন্ত ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস ত্যাগ কিংবা জাতিসংঘ অধিবেশনসহ কোনো কর্মসূচির ছবিই তারা প্রকাশ করবে না। সংবাদমাধ্যমের এই জোরালো অবস্থান হোয়াইট হাউসের সাথে গণমাধ্যমের চলমান বিরোধকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সন্দেহভাজন এক চীনা গুপ্তচরের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা একটি পরিবার মার্কিন রাজনীতিকদের ৪৪ লাখ মার্কিন ডলার রাজনৈতিক অনুদান দিয়েছে। এই বিপুল অর্থ গ্রহণ করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিওসম, ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। সম্প্রতি অবমুক্ত হওয়া এফবিআইয়ের গোপন নথি এবং রাজ্য ও ফেডারেল নির্বাচনী প্রচারণার আর্থিক হিসাব থেকে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। এর ফলে মার্কিন রাজনীতিতে বিদেশি রাষ্ট্রের পরোক্ষ প্রভাব বিস্তারের চলমান বিতর্কটি নতুন করে জোরালো হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় ম্যাকডোনাল্ডসের ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসা থেকে কোটি কোটি ডলার আয় করেছে ইন (Yin) পরিবার। এই পরিবারের প্রধান চে চিয়েন ইন (সি.সি. ইন) এবং তার ভাই হেনরি ইন ‘এশিয়ান প্যাসিফিক আমেরিকান পাবলিক অ্যাফেয়ার্স’ (APAPA) নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, সি.সি. ইন একসময় সন্দেহভাজন চীনা গুপ্তচর ক্রিস্টিন ফাংয়ের (যিনি ফাং ফাং নামেও পরিচিত) সঙ্গে পেশাগতভাবে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া, হেনরি ইন গত এক দশকে চীনের ‘ইউনাইটেড ফ্রন্ট’-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন বলে জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ পেয়েছেন। এটি মূলত চীনা সরকারের বিদেশি প্রভাব বিস্তারের কাজে নিয়োজিত একটি বিশেষ শাখা। রেকর্ড অনুযায়ী, ইন পরিবার ক্যালিফোর্নিয়ার রাজ্য পর্যায়ের রাজনীতিতে প্রায় ৩০ লাখ এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের প্রচারণায় আরও সাড়ে ১৪ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছে, যার সুবিধাভোগীদের মধ্যে নিওসম, কমলা হ্যারিস ও কংগ্রেস সদস্য রো খান্নার মতো হেভিওয়েট নেতারা রয়েছেন। এমনকি ২০২৩ সালে চীনে গ্যাভিন নিওসমের সফরের পেছনেও এই পরিবারের ভূমিকা ছিল। তবে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সি.সি. ইন জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ভালোবাসেন এবং যেকোনো বিদেশি সরকারের হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানান। তার দাবি, শুধু এশীয় বংশোদ্ভূতদের নেতৃত্ব বিকাশে সাহায্য করতে এবং গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ বাড়াতেই তিনি ওই সংগঠনটি গড়ে তুলেছিলেন। এখন পর্যন্ত হেনরি ইন বা তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে গুপ্তচরবৃত্তির কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের ইউনাইটেড ফ্রন্ট এভাবেই সাধারণত সফল ও প্রভাবশালী মার্কিন নাগরিকদের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক স্থাপন করে। অনুদান ও উপহারের মাধ্যমে সখ্যতা গড়ে তুলে পরবর্তীতে তারা মার্কিন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চালিয়ে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোতে নাভাহো নেশন এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় ভেসে গিয়ে সাত বছর বয়সী এক শিশু, তার দাদি এবং তাদের এক পারিবারিক বন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার প্রবল বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- এলসি, তার নাতনি লুসি অ্যালিসন মাইক এবং তাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসা বন্ধু ডোরা ফ্রাঙ্কলিন। পারিবারিক সূত্র জানায়, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর লুসির অষ্টম জন্মদিন উদযাপনের কথা ছিল। সেদিন জন্মদিনের কেনাকাটা শেষে তারা ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে নিউকম্ব এলাকার কাছে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে তাদের গাড়িটি কাদায় আটকে যায়। এসময় লুসির মা কালিসি হেঁটে বাড়ির দিকে রওনা দিলেও, লুসি ও তার দাদি গাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীতে তারা এবং তাদের সাহায্য করতে ছুটে আসা বন্ধু ডোরা ফ্রাঙ্কলিন বন্যার পানির স্রোত পার হওয়ার চেষ্টা করলে প্রবল তোড়ে ভেসে যান। পরদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে বন্যার পানিতে কয়েকজন ভেসে যাওয়ার খবর পেয়ে নাভাহো পুলিশ ঘটনাস্থলে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। স্থানীয় বিভিন্ন সংস্থার যৌথ তল্লাশির পর এক শিশু ও দুজন প্রাপ্তবয়স্কের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নাভাহো নেশনের প্রেসিডেন্ট বুউ নিগ্রেন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোক প্রকাশের কোনো ভাষা নেই, তিনটি প্রাণ হারানোর খবরে পুরো কমিউনিটি গভীরভাবে শোকাহত। এদিকে, নাভাহো নেশন জুড়ে বর্তমানে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সান জুয়ান নদীর তীরবর্তী বেশ কয়েকটি পরিবারকে এরই মধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চলমান এই বর্ষা মৌসুম শেষ না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের আবহাওয়ার পরিবর্তন সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। এছাড়া আগামী সপ্তাহের সম্ভাব্য বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে ঝুঁকি এড়াতে বাসিন্দাদের মধ্যে বালির বস্তা বিতরণ করছে স্থানীয় প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে নতুন নির্মিত একটি গ্রানাইট হ্যালিপ্যাড উদ্বোধন করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রশাসন এবং সংবাদমাধ্যমের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে মূলধারার কোনো মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্কই এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করেনি। সোমবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প একটি সোনালি কাঁচি দিয়ে লাল, সাদা ও নীল রঙের ফিতা কেটে হ্যালিপ্যাডটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটিকে প্রেসিডেন্ট 'একটি শিল্পকর্ম' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হ্যালিপ্যাডটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিলমোহর খোদাই করা রয়েছে। হোয়াইট হাউস তাদের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুষ্ঠানটি প্রচার করলেও, পেছনে থাকা মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারের ইঞ্জিনের বিকট শব্দের কারণে ট্রাম্পের কোনো বক্তব্য শোনা যায়নি। সাধারণত এ ধরনের অনুষ্ঠানে জাতীয় সংবাদমাধ্যমের টিভি ক্যামেরা এবং শক্তিশালী বুম-মাইক থাকে, যা এবার অনুপস্থিত ছিল। এর আগে সোমবার সকালে হোয়াইট হাউস সিএনএন-কে (CNN) অনুষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় টিভি নেটওয়ার্কগুলো প্রতিবাদস্বরূপ তাদের ‘টিভি পুল’ সম্প্রচার স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এই পুল ক্যামেরার মাধ্যমেই সাধারণত প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ফুটেজ সারা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমগুলোতে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এর জবাবে হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানায়, গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার পরিবর্তনের বিষয়টি নতুন কিছু নয়; তবে শুধু বন্ধুভাবাপন্ন বামপন্থীদের ক্ষেত্রে এ নিয়মটিকে হঠাৎ পবিত্র বলে দাবি করাটাই নতুন। উদ্বোধনের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হ্যালিপ্যাড নির্মাণে যুক্ত কর্মীদের সাথে করমর্দন করেন এবং তাদের ধন্যবাদ জানান। এরপর তিনি আকারে বড় ও আধুনিক নতুন মেরিন ওয়ান (ভিএইচ-৯২এ প্যাট্রিয়ট) হেলিকপ্টারে চড়ে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখান থেকে এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে তার নিউইয়র্ক যাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তিনি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মামদানির সাথেও বৈঠক করবেন। উল্লেখ্য, ভারী ও আধুনিক হেলিকপ্টারের কারণে সাউথ লনের ঘাসের যেন ক্ষতি না হয়, মূলত সেজন্যই নতুন এই হ্যালিপ্যাডটি নির্মাণ করা হয়েছে। এটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হাতে নেওয়া হোয়াইট হাউসের বেশ কয়েকটি নতুন নির্মাণ প্রকল্পের অন্যতম।
অস্ট্রেলিয়ার ব্লু মাউন্টেনস এলাকায় এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনায় নিজের পাঁচ বছর বয়সী সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন এক নারী। এ ঘটনায় তার আরও দুই শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। ৪৫ বছর বয়সী ওই মাকে এই ঘটনার মূল সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তার শরীরেও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা তিনি নিজেই করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার সকালে ভ্যালি হাইটস শহরের একটি ফাঁকা জায়গায় পার্ক করা গাড়ির কাছে এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখতে পান পথচারী সাইক্লিস্টরা। তারা দ্রুত জরুরি সেবায় খবর দেন এবং আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পাঁচ বছর বয়সী ওই শিশুর মৃত্যু হয়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জুলি সুক্কার সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি ঝোপের মধ্যে এক নারীকে পড়ে থাকতে দেখেন এবং গাড়ির সিটে একটি ছোট শিশু ছিল। সেখানে আরেক নারীকে শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে দেখেন তিনি। পরে তিনি বুঝতে পারেন যে সেখানে মোট তিনটি শিশু ছিল এবং উপস্থিত সবাই তাদের সাহায্য করার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল। অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী পুরো দৃশ্যটিকে অত্যন্ত ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ও আহত শিশুদের বাবাকে খবর দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন এবং খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মা ও তার বেঁচে থাকা দুই শিশুকে ওয়েস্টমিড হাসপাতাল এবং চিলড্রেনস হসপিটাল অ্যাট ওয়েস্টমিডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের ডেপুটি কমিশনার পিটার ম্যাককেনা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ওই নারী সুস্থ হয়ে উঠলে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হবে। গাড়ি থামিয়ে ওই নির্জন স্থানে কেন এই নৃশংস ঘটনা ঘটানো হলো, তার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো তদন্তকারীদের জানা নেই। তিনি আরও জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় ওই এলাকায় এটিসহ মোট চারটি পৃথক পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা তার পুলিশি ক্যারিয়ারের অন্যতম মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা। এর মধ্যে ওয়াগাতে এক যুবক তার প্রেমিকাকে, বন্ডাই বিচে এক নাতি তার দাদিকে এবং মোল রিভারে এক ছেলে তার মাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছে। অভিযুক্তদের কারো বিরুদ্ধেই আগে থেকে পারিবারিক সহিংসতার কোনো পূর্ব-রেকর্ড ছিল না। ভয়াবহ এই সপ্তাহান্তের পর অস্ট্রেলিয়ায় পারিবারিক সহিংসতা রোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ ও পর্যাপ্ত তহবিল বরাদ্দের দাবি তুলেছেন সচেতন নাগরিক ও অধিকারকর্মীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা অ্যালিস ওগলট্রি অসুস্থ নবজাতকদের সাহায্যে অবিশ্বাস্য পরিমাণ বুকের দুধ দান করে নতুন এক গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছেন। শুধু তাই নয়, নিজের গড়া পুরোনো রেকর্ড নিজেই ভেঙে দিয়ে মানবতা ও মহানুভবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই নারী। গিনেস কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ২ হাজার ৬৪৫ লিটারের বেশি বুকের দুধ দান করে তিনি এই অনন্য রেকর্ডটি নিজের করে নেন। অ্যালিসের এই মহৎ উদ্যোগের শুরুটা হয়েছিল ২০১০ সালে। সে সময় তার নিজের সন্তান মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে এক নার্সের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে, দান করা বুকের দুধ অন্যান্য অসুস্থ ও অসহায় নবজাতকের জীবন বাঁচাতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর আগে এ ধরনের অনুদান বা মিল্ক ব্যাংক সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিল না। তবে নার্সের দেওয়া ওই একটি তথ্যই তার দৃষ্টিভঙ্গি পালটে দেয় এবং এরপর থেকে তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত বুকের দুধ দান করতে শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে প্রায় ১ হাজার ৫৬৯ লিটার বুকের দুধ দান করে প্রথমবারের মতো গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েন অ্যালিস। তবে রেকর্ড গড়ার পরও থেমে যাননি তিনি। বছরের পর বছর ধরে তার এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকে এবং নিজের পূর্বের রেকর্ড অতিক্রম করে যান। প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবের বাইরেও বিভিন্ন মিল্ক ব্যাংক ও অনেক পরিবারকে সরাসরি আরও হাজার হাজার আউন্স দুধ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অ্যালিস। একজন নার্সের দেওয়া ছোট্ট একটি ধারণা থেকে শুরু হওয়া তার এই অসাধারণ উদারতা আজ হাজার হাজার নবজাতক ও তাদের পরিবারের জন্য পরম আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে ইরানের অত্যাধুনিক সামরিক সক্ষমতা ও নতুন অস্ত্র দেখে বিশ্ব চমকে যাবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সোমবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বির বরাতে এই তথ্য জানানো হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহেব্বি স্পষ্ট জানান, মার্কিন বাহিনীর যেকোনো হামলার জবাবে ইরানের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা আক্রমণের কৌশলে এবার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হবে। এই কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করবে তেহরান, যা আগের লক্ষ্যবস্তুগুলোর চেয়ে ভিন্ন এবং নতুন স্থানে আঘাত হানবে। সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক ও অপমানজনক পরাজয়ের মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র। তিনি জানান, এই পরাজয় মেনে নেওয়ার মতো সাহস ওয়াশিংটনের নেই। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকা এবং মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ অভিযানের জবাবে ইরানের জলপথ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাকে তিনি মার্কিন ব্যর্থতার সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়াও পারস্য উপসাগরীয় এলাকা ও উত্তর ইরাকে অবস্থিত মার্কিন গোয়েন্দা ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের সফল আঘাতের কথা উল্লেখ করে মোহেব্বি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি এখন ইরানের পূর্ণ নাগালের মধ্যে রয়েছে। তবে আইআরজিসির এসব সামরিক দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছেন মধ্যস্থতাকারীরা। উভয় পক্ষের মধ্যকার মতপার্থক্য কমিয়ে এনে একটি গঠনমূলক সমঝোতার পথ খুঁজতে ইতোমধ্যে একাধিক প্রস্তাব আদান-প্রদান করা হচ্ছে।
ফ্লোরিডার টামারাকের ৫৭ বছর বয়সী জয় ইয়ভেট হোল্ডারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি একটি বৃদ্ধের পম্পানো বিচের বাড়ি ৩ লাখ ৪৫ হাজার ডলারে বিক্রি করে বিক্রির অর্থের ৩ লাখ ১৯ হাজার ৪৭ ডলার নিজের ও অন্যদের ব্যবহারের জন্য সরিয়ে নিয়েছেন। ব্রোওয়ার্ড শেরিফের কার্যালয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বৃদ্ধের নিজের বিষয়ে সম্মতি দেওয়ার সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও হোল্ডার তার সম্পত্তির ওপর ক্ষমতা নেওয়ার জন্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ব্যবহার করেন। ১৭ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে হোল্ডারের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার ডলার বা তার বেশি মূল্যের প্রবীণ ব্যক্তি বা প্রতিবন্ধী প্রাপ্তবয়স্কের আর্থিক শোষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগটি ফ্লোরিডা আইনে প্রথম শ্রেণির গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হোল্ডারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তিনি আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। ব্রোওয়ার্ড শেরিফের কার্যালয়ের গোয়েন্দা জনাথন আর. মাসরির সম্ভাব্য কারণসংক্রান্ত হলফনামা অনুযায়ী, হোল্ডার ২০২২ সালের ২৪ মার্চ ওই বৃদ্ধের সক্ষমতা নিয়ে অনুষ্ঠিত একটি প্রাপ্তবয়স্ক সুরক্ষা-সংক্রান্ত শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। ওই শুনানির নথি অনুযায়ী, বৃদ্ধ নিজের বিষয় পরিচালনা এবং সেবার বিষয়ে সম্মতি দেওয়ার সক্ষমতা হারিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়। গোয়েন্দার অভিযোগ, বিষয়টি জানা সত্ত্বেও হোল্ডার ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বরের দিকে একটি স্থায়ী পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নেন। এরপর ওই ক্ষমতাপত্র ব্যবহার করে হোল্ডার পম্পানো বিচের সাউথ সাইপ্রেস রোডে থাকা বৃদ্ধের বাড়ি বিক্রির ব্যবস্থা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হলফনামায় বলা হয়েছে, বাড়িটির চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ডলার। ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ফ্লোরিডা টাইটেল অ্যান্ড এসক্রো সার্ভিসেস এলএলসি ৩ লাখ ১৯ হাজার ৪৭ ডলার একটি সিটিব্যাংক হিসাবে পাঠায়। ওই হিসাবটি হোল্ডার ও বৃদ্ধের যৌথ নামে ছিল। গোয়েন্দার অভিযোগ, জয় হোল্ডার ও রে হোল্ডার ওই অর্থ নিজেদের ব্যক্তিগত সুবিধায় ব্যবহার করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জয় হোল্ডার তার পরিচ্ছন্নতা ব্যবসার মাধ্যমে অর্থের একটি অংশ ঘোরান। ওই ব্যবসার নাম ‘জয়’স ক্লিনিং’। ফ্লোরিডার করপোরেট নথি অনুযায়ী, জয় হোল্ডার প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক ও নিবন্ধিত এজেন্ট। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি রাজ্যে নিবন্ধিত হয় এবং বর্তমানে সক্রিয় হিসেবে তালিকাভুক্ত। মামলার নথিতে আরও একটি গাড়ি হস্তান্তরের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালে বৃদ্ধ নিজের অর্থে ৩১ হাজার ৫৬৩ দশমিক ৯২ ডলারে একটি ২০১৭ সালের নিসান ম্যাক্সিমা কিনেছিলেন। গোয়েন্দার অভিযোগ, ২০২৩ সালের ১৬ জুনের দিকে রে হোল্ডার ওই বৃদ্ধকে গাড়িটি তার নামে হস্তান্তরের একটি বিক্রয় দলিলে স্বাক্ষর করান। তদন্তকারীর দাবি, রে হোল্ডার জানতেন বা জানা উচিত ছিল যে ওই ব্যক্তি লেনদেনে সম্মতি দেওয়ার সক্ষমতা রাখতেন না। এরপর ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ফ্লোরিডার শিশু ও পরিবারবিষয়ক দপ্তরের একজন তদন্তকারী বৃদ্ধের খোঁজ নিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। হলফনামা অনুযায়ী, রে হোল্ডার ও রিয়ানা অ্যাশলিন মারিয়া হোল্ডারকে ওই পরিদর্শনের কথা আগেই জানানো হয়েছিল। গোয়েন্দার অভিযোগ, তারা সেদিন বৃদ্ধকে অরল্যান্ডো নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাকে বলা হয়, তিনি তার বোনের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন। আদালতের কর্মী, তদন্তকারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বৃদ্ধের কাছে পৌঁছানোর প্রচেষ্টায় রিয়ানা বাধা দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউটরদের ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ সালের অভিযোগপত্রে অভিযোগিত কর্মকাণ্ডের সময়কাল ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বলা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ৩০ জানুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় এবং ১৭ সেপ্টেম্বর তা কার্যকর করা হয়। মামলাটি আদালতে সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে ব্রোওয়ার্ড শেরিফের কার্যালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হোল্ডারের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ লাখ ৪৫ হাজার ডলারের সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অভিযোগের মধ্যে বাড়ি বিক্রির অর্থ ব্যবহার, গাড়ি হস্তান্তর এবং বৃদ্ধের সঙ্গে সুরক্ষা সংস্থার যোগাযোগে বাধা দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে। সূত্র: ওয়েলথ অব গিকস
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোরে ২০২১ সালে সরিয়ে নেওয়া ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ নামের সম্মানসূচক সড়ক নামফলক পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে মেরিল্যান্ড বিএনপি। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, বাল্টিমোর নগর কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিষয়টি আবারও উপস্থাপন করা হবে। ২০২১ সালের ২০ জুন বাল্টিমোরে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ লেখা একটি সম্মানসূচক সড়ক নামফলক উন্মোচন করা হয়েছিল। ওই উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার দাবি করেছেন মেরিল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কাজল। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, নামফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে কয়েক শ বাংলাদেশি-আমেরিকান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মেরিল্যান্ড স্টেট ডেলিগেট রবিন টি. লুইস নামফলকটি উন্মোচন করেন। স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও এতে অংশ নেন। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়েছিলেন। তিনি এ উদ্যোগের জন্য বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষ ও মোহাম্মদ কাজলকে ধন্যবাদ জানান। তবে নামফলক উন্মোচনের কয়েক মাসের মধ্যেই এর নামকরণ নিয়ে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটিতে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিসহ কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকে বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষের কাছে নামটি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। আপত্তিকারীদের বক্তব্য ছিল, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের একজন সামরিক শাসক ছিলেন এবং তাঁর ক্ষমতায় আসার প্রক্রিয়া নিয়ে গণতান্ত্রিক বৈধতার প্রশ্ন রয়েছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষ সম্মানসূচক নামফলকটি সরিয়ে নেয়। অন্যদিকে, মেরিল্যান্ড বিএনপির নেতারা নামফলক অপসারণের উদ্যোগকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তাদের বক্তব্য, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরে নামটি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নামফলক অপসারণের ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। তবে এসব অভিযোগের প্রত্যেকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সমসাময়িক প্রতিবেদনে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদের বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষের কাছে আপত্তি জানানো এবং নামফলক সরানোর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। নতুন করে পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ মেরিল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খাজা মোহাম্মদ কাজল জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন করে বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে চান তারা। অর্থাৎ নতুন উদ্যোগের ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নির্ধারিত নিয়ম মেনে এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে মেরিল্যান্ড বিএনপির। তবে সড়কটির সম্মানসূচক নাম পুনরায় স্থাপন করা হবে কি না, সেটি এখনো চূড়ান্ত নয়। এ সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বাল্টিমোর নগর কর্তৃপক্ষের প্রযোজ্য আইন, নীতিমালা ও সিদ্ধান্তের ওপর। বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকার এককভাবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধিতা বাড়ছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত স্থানীয়দের বিরোধিতার কারণে প্রায় ৬৮ বিলিয়ন ডলারের ৪৫টি ডেটা সেন্টার প্রকল্প আটকে গেছে বা বিলম্বিত হয়েছে বলে গবেষণা সংস্থা ডেটা সেন্টার ওয়াচের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণ ঠেকাতে স্থানীয় পর্যায়ে স্থগিতাদেশ আরোপের উদ্যোগ নিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রেই নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান অনুমতির আবেদন করার আগেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চলতি বছর প্রায় ৩০টি অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় ডেটা সেন্টারের অবস্থান নির্ধারণ, বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নতুন নিয়ম প্রস্তাব বা গ্রহণ করা হয়েছে। ডেটা সেন্টার ওয়াচ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৯টি অঙ্গরাজ্যে বর্তমানে ডেটা সেন্টারবিরোধী ৮৪৩টি গোষ্ঠী রয়েছে। একমাত্র হাওয়াইয়ে এমন কোনো গোষ্ঠীর তথ্য পাওয়া যায়নি। সংস্থাটির প্রধান বিশ্লেষক মিগুয়েল ভিলা বলেন, নতুন নতুন বিরোধী গোষ্ঠী তৈরি হচ্ছে এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় এলাকায় এই বিরোধিতা ছড়িয়ে পড়ছে। অনলাইন আবেদনে স্বাক্ষরের সংখ্যাও বাড়ছে। গবেষণা সংস্থাটির মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত সম্প্রসারণ নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের প্রতিফলন হচ্ছে ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন। নতুন কম্পিউটিং অবকাঠামো তৈরির পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ায় পরিবেশের ওপর প্রভাব এবং বিদ্যুৎ ও পানির মতো সম্পদের ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ডেটা সেন্টারের বিরোধিতায় প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের অবস্থানের পার্থক্যও স্পষ্ট হয়েছে। অ্যামাজন, মেটা, মাইক্রোসফট ও অ্যালফাবেটের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, চীনের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে এসব অবকাঠামো প্রয়োজন। অন্যদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, ডেটা সেন্টার পরিবেশের ওপর চাপ তৈরি করে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার জন্য বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সম্পদ ব্যবহার করে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেও ডেটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে বড় ধরনের বিরোধ দেখা যায়। ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫টি প্রকল্প, যার আনুমানিক মূল্য ১৩০ বিলিয়ন ডলার, স্থানীয় বিরোধিতার মুখে পড়েছিল। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫টি প্রকল্প ছিল ওই সময়ে ডেটা সেন্টার ওয়াচের নজরদারিতে আসা নতুন বড় প্রকল্পগুলোর অর্ধেকেরও বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনপরিচিত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণও এসব বিরোধিতাকে আরও দৃশ্যমান করে তুলছে। টেনেসির একটি ডেটা সেন্টার প্রকল্পের বিরুদ্ধে অনলাইনে করা একটি আবেদনে পাঁচ লাখের বেশি স্বাক্ষর পড়েছে। ডেটা সেন্টার ওয়াচ জানিয়েছে, ওই স্বাক্ষরের সংখ্যা চলতি প্রান্তিকে অনলাইন আন্দোলনভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে সংগৃহীত মোট স্বাক্ষরের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। এবার প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও ডেটা সেন্টার নিয়ে বিরোধিতার বিষয়টি নিজেদের গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করেছে ডেটা সেন্টার ওয়াচ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আরও কয়েকটি অঞ্চলে স্থানীয় গোষ্ঠীগুলো নির্দিষ্ট প্রকল্প, সরকারি অনুমোদন এবং সম্পদ ব্যবহারের বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করছে। ডেটা সেন্টার ওয়াচের প্রধান বিশ্লেষক ভিলা বলেন, ডেটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে এই প্রবণতা এখন আর শুধু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টার নির্মাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের বিরোধিতাও আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। সূত্র: ব্লুমবার্গ
ভারতে পড়াশোনা শেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দিয়েছিলেন এক ভারতীয় তরুণ। নিজের পড়াশোনার ক্ষেত্রে চাকরি না পেয়ে শুরু করেছিলেন পিজা শপে ফুলটাইম কাজ, পাশাপাশি পিজা ডেলিভারি। প্রায় তিন বছর পর ব্যবসায়িক অংশীদার ও সঞ্চিত অর্থ নিয়ে একটি পিজা ফ্র্যাঞ্চাইজিতে বিনিয়োগ করেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে আরও দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি যুক্ত করে বর্তমানে তিনটি রেস্টুরেন্টের মালিক হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার শ্যালক ও উদ্যোক্তা ভিনিথ কে। ১১ বছর আগে উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া ওই ব্যক্তির এই যাত্রার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তুলে ধরেন ভিনিথ। তার পোস্ট অনুযায়ী, বর্তমানে ওই ব্যক্তির অস্ট্রেলিয়ায় একটি বাড়ি ও বিএমডব্লিউ গাড়ি রয়েছে। পাশাপাশি ভারতের হায়দরাবাদে একটি বাড়ি তৈরি করেছেন এবং তার বাবা-মাকেও অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে গেছেন। ভিনিথের বর্ণনা অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা শেষ করার পর নিজের পড়াশোনার ক্ষেত্রের চাকরি না পাওয়ায় তিনি পিজা শপে ফুলটাইম চাকরি নেন। সেখানে পিজা তৈরি ও অর্ডার সরবরাহের কাজ করতেন। প্রায় তিন বছর কাজ করার পর একজন ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে মিলে এবং কিছু অর্থ বিনিয়োগ করে প্রথম পিজা ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানায় যুক্ত হন। প্রথম ব্যবসা চালুর পর ধীরে ধীরে সেটি সম্প্রসারিত হয়। পরে আরও দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি যুক্ত হওয়ায় তার ব্যবসার পরিধি তিনটি রেস্টুরেন্টে পৌঁছায় বলে ভিনিথ জানিয়েছেন। তবে কোন ব্র্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি, কত অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছিল বা ওই ব্যক্তির পড়াশোনার বিষয় কী ছিল, এসব বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। ব্যক্তিগত জীবনেও এ সময়ে বড় পরিবর্তন আসে। ভিনিথের পোস্ট অনুযায়ী, কোভিড-১৯ মহামারির সময় ওই ব্যক্তি ভারতে ফিরে বিয়ে করেন। পরে স্ত্রীকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে গিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যান। ২০২৬ সালে এসে তাদের পরিবারে দুই সন্তানও রয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিনিথ আরও জানান, ওই ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ায় নিজের বাড়ি করেছেন, বিএমডব্লিউ কিনেছেন এবং হায়দরাবাদে পরিবারের জন্য একটি বাড়ি তৈরি করেছেন। পরে বাবা-মাকেও অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যান তিনি। চলতি সপ্তাহে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেয়েছেন বলেও ভিনিথের পোস্টে জানানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিনিথের পোস্ট প্রকাশের পর ঘটনাটি বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হয়। পোস্টটিতে মূলত একজন শিক্ষার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া, নিজের ক্ষেত্রে চাকরি না পাওয়া, পিজা ডেলিভারির কাজ শুরু করা এবং পরে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসায় প্রবেশের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়েছে। তবে ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি। তার ব্যবসার আয়, সম্পদের মূল্য, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অবস্থান কিংবা নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে বাড়ি, গাড়ি, তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং নাগরিকত্বসহ এসব তথ্য ভিনিথ কে-এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও তা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে।