সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় এড শিরানের ট্যুর থেকে পাওয়া ১০ লাখ ডলার দানের ঘোষণা দিয়েছেন ম্যাকলমোর। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনকে ট্যুরের ১০ লাখ ডলার আয়ের পুরোটাই দিচ্ছেন ম্যাকলমোর

এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে পাওয়া নিজের পুরো ১০ লাখ ডলার নিট আয় ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় দান করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর। ট্যুরের উদ্বোধনী শিল্পী হিসেবে পাওয়া এই অর্থ ছয়টি সংস্থার মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এর পর রবার্ট ক্রাফট জানিয়েছেন, এড শিরান ও তিনি প্রত্যেকে ২০ লাখ ডলার করে ওই অঞ্চলের মানবিক সহায়তায় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।   ফিলিস্তিনের পক্ষে মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার পর এড শিরানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের বাকি অংশ থেকে ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার ঘটনা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এই ঘোষণা এলো। ম্যাকলমোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহের পর তিনি আলোচনাকে আবার ফিলিস্তিনি জনগণের মানবিক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে চান।   ম্যাকলমোর জানান, তাঁর ১০ লাখ ডলারের পুরো নিট আয় ফিলিস্তিনিদের সরাসরি সহায়তা করা ছয়টি সংস্থাকে দেওয়া হবে। এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ড, হিল প্যালেস্টাইন, গাজা স্যুপ কিচেন, মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টিনিয়ানস, ইউএনআরডব্লিউএ ইউএসএ ন্যাশনাল কমিটি এবং আনেরা।   ম্যাকলমোর একই সঙ্গে নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক ও গিলেট স্টেডিয়ামের মালিক রবার্ট ক্রাফটকে তাঁর অনুদানের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার আহ্বান জানান। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্রাফট একটি বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি জানান, এড শিরান তাঁকে ফোন করে ২০ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে অনুরোধ করেছিলেন এবং তিনি সেই অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ক্রাফট নিজেও আরও ২০ লাখ ডলার দেওয়ার কথা জানান।   ক্রাফটের বক্তব্য অনুযায়ী, ম্যাকলমোরের প্রকাশ্য আহ্বানের আগেই শিরানের সঙ্গে তাঁর এ বিষয়ে কথা হয়েছিল। তিনি বলেন, মানবিক সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহায়তার অংশ হিসেবে শিরান ২০ লাখ ডলার দিতে চেয়েছেন এবং তিনি নিজেও একই পরিমাণ অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শিরান অন্যান্য স্টেডিয়াম মালিকের সঙ্গেও এ ধরনের সহায়তা নিয়ে যোগাযোগ করবেন বলেও ক্রাফট জানান।   এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এড শিরানের সঙ্গে সফরের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ম্যাকলমোর। সেখানে তিনি ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানান এবং গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের মানুষের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যের পর ইসরায়েলি-আমেরিকান কাউন্সিল ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে একটি আবেদন শুরু করে।   পরবর্তী সময়ে ম্যাকলমোর জানান, সফরের কয়েকটি ভেন্যুর মালিক তাঁকে সঙ্গে রেখে অনুষ্ঠান আয়োজন না করার অবস্থান নিয়েছেন। সফরের প্রোমোটার মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপও জানায়, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে বাকি অনুষ্ঠানগুলোতে ম্যাকলমোর আর অংশ নেবেন না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাকলমোরের দাবি ছিল, কয়েকজন স্টেডিয়াম মালিক তাঁর অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছিলেন।   এড শিরান পরে স্পষ্ট করেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের ছিল না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি নিয়েছে সফরের প্রোমোটার ও ভেন্যু কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভেন্যু ও প্রোমোটারের সিদ্ধান্তই কার্যকর হয়।   ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার পর সফরের বাকি উদ্বোধনী শিল্পীদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ফিনিয়াস, লুকাস গ্রাহাম, অ্যারন রো এবং বেওগা সফরের বাকি অংশ থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁরা ম্যাকলমোরের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন এবং শিল্পীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি সামনে আনেন।   রবার্ট ক্রাফট অবশ্য ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য, ম্যাকলমোরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পাশাপাশি অতীতে ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য ও প্রতীক ব্যবহারের অভিযোগও সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল। ম্যাকলমোর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ইসরায়েল সরকারের সমালোচনাকে ইহুদিবিদ্বেষের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। রয়টার্সও জানিয়েছে, এই অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান ভিন্ন।   ম্যাকলমোরের ট্যুর থেকে বাদ পড়ার ঘটনাটি এখন সংগীতাঙ্গনের বাইরেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শিল্পীদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। সাবেক এনএফএল খেলোয়াড় কলিন ক্যাপারনিকও ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।   তবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মানবিক সহায়তার বিষয়টি। ম্যাকলমোর তাঁর ট্যুরের আয় থেকে ১০ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে ক্রাফটের বিবৃতি অনুযায়ী, শিরান ও ক্রাফটের পক্ষ থেকে আরও ৪০ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এসেছে। ফলে তিন পক্ষের ঘোষিত অর্থের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে মোট ৫০ লাখ ডলার। তবে এই অর্থের ব্যবহার ও কোন কোন সংস্থা তা পাবে, বিশেষ করে শিরান ও ক্রাফটের ঘোষিত ৪০ লাখ ডলারের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   সূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান-

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৭:৩৫
তিন বছর পর নীতিগত সুদহার বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ। ছবি: সংগৃহীত
৩ বছর পর সুদের হার বাড়াল মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক, প্রভাব পড়তে পারে অর্থনীতিতে

তিন বছর পর আবারও নীতিগত সুদহার বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ। মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে বুধবার সুদহার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০২৩ সালের পর এটিই ফেডের প্রথম সুদহার বৃদ্ধি।   ফেডের সিদ্ধান্তটি এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি এখনও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম এবং আমদানি ব্যয় নিয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির প্রভাব। এসব বিষয় মূল্যস্ফীতিকে দীর্ঘ সময় ধরে উঁচু পর্যায়ে রাখার ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলে ফেডের কর্মকর্তারা মনে করছেন।   ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের ভিত্তি এখনো শক্তিশালী। তবে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি পুরোপুরি কমে যায়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধিকে শুধু জ্বালানি বা আমদানি ব্যয়ের সাময়িক প্রভাব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে মূল্যস্ফীতির চাপ বিস্তৃত হচ্ছে।   ফেডের সর্বশেষ পূর্বাভাসে আরও সুদহার বৃদ্ধির ইঙ্গিতও রয়েছে। ১৮ জন নীতিনির্ধারকের মধ্যে ১৬ জনই চলতি বছর অন্তত আরও এক দফা সুদহার বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন। একই সঙ্গে ২০২৭ সালে সুদহার স্থিতিশীল রাখার এবং পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে কমানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।   মূল্যস্ফীতির সর্বশেষ সরকারি তথ্যও ফেডের সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশটির ভোক্তা মূল্যসূচক এক বছরের ব্যবধানে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। জুলাইয়ে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। আগস্টে মাসিক ভিত্তিতেও ভোক্তা মূল্যসূচক ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।   খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে আগস্টে মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৭ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্য জুলাইয়ের তুলনায় ০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। তবে জ্বালানি খাতে মূল্যবৃদ্ধি ছিল অনেক বেশি। আগস্টে জ্বালানির দাম মাসিক ভিত্তিতে ২ দশমিক ১ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। পেট্রলের দামও এক বছরে ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।   ফেডের কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে তৈরি জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। ইরানকে ঘিরে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন থেকে শুরু করে উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহের খরচ বাড়ে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতিও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করছে। আমদানি করা পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের ফলে ব্যবসায়ীদের ব্যয় বেড়েছে। এর একটি অংশ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি দামের মাধ্যমে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি মূল্যও বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।   ফেডের সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ঘনিষ্ঠভাবে আলোচনায় এসেছে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় মার্কিন ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে সুদহার কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। বুধবার ফেড সুদহার বাড়ানোর পর তিনি আবারও যুক্তরাষ্ট্রে অনেক কম সুদহার থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন।   রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে ফেডের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের নীতিগত অবস্থানের পার্থক্যও এখন আলোচনায় এসেছে। ট্রাম্প মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ঋণের ব্যয় কমানোর জন্য কম সুদহার চান। অন্যদিকে ফেডের বর্তমান নেতৃত্বের প্রধান উদ্বেগ মূল্যস্ফীতিকে আবারও নিয়ন্ত্রণে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্থিতি নিশ্চিত করা।   সুদহার বাড়ানোর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ঋণ নেওয়ার খরচ আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব বাড়ি কেনার ঋণ, গাড়ির ঋণ, ব্যবসায়িক ঋণ এবং অন্যান্য ঋণের সুদে পড়তে পারে। একই সঙ্গে বেশি সুদহার মানুষের ব্যয় কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। তবে অতিরিক্ত সময় ধরে সুদহার উঁচু থাকলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের ওপর চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।   তবে বর্তমানে মার্কিন অর্থনীতির কিছু সূচক তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। আগস্টে দেশটির খুচরা বিক্রি ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে, যা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। এই তথ্য থেকে অর্থনীতিতে ভোক্তাদের ব্যয়ের সক্ষমতা এখনো শক্তিশালী থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।   ফেডের নতুন পূর্বাভাসে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ধীরে কমে ২০২৯ সালের দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রায় ফিরতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডকে আরও দীর্ঘ সময় কঠোর নীতি ধরে রাখতে হতে পারে।   ফেডের এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। মার্কিন সুদহার বাড়লে সাধারণত ডলারের চাহিদা বাড়ে এবং অন্যান্য দেশের মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক বেশি সুদের কারণে মার্কিন সম্পদে বিনিয়োগ বাড়াতে পারেন। এতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর পুঁজিপ্রবাহ, বিনিময় হার এবং ঋণের খরচেও প্রভাব পড়তে পারে।   সব মিলিয়ে, তিন বছর পর ফেডের সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মার্কিন অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বড় উদ্বেগ হয়ে ওঠার বিষয়টি সামনে এনেছে। চলতি বছর আরও একবার সুদহার বাড়ানো হয় কি না এবং জ্বালানি ও আমদানি ব্যয়ের চাপ আগামী মাসগুলোতে কতটা স্থায়ী হয়, তার ওপর ফেডের পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করবে।   সূত্র: রয়টার্স, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ, ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৭:১৩
মাহমুদ আব্বাসসহ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ভিসা নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টসহ কর্মকর্তাদের এবারও ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসসহ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার (পিএলও) কর্মকর্তাদের ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এর ফলে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে সরাসরি উপস্থিত হতে পারছেন না আব্বাস।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কর্মকাণ্ডের কারণে পিএ ও পিএলও কর্মকর্তাদের ভিসা নিষেধাজ্ঞা বহাল ও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। মার্কিন সরকারের অভিযোগ, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সরাসরি আলোচনার বাইরে আন্তর্জাতিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করছে এবং ইসরায়েলের সঙ্গে বিরোধ আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়ে যাচ্ছে।   ওয়াশিংটনের আরও অভিযোগ, ইসরায়েলিদের ওপর হামলায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ মার্কিন আইনেরও লঙ্ঘন করছে। যুক্তরাষ্ট্র এসব পদক্ষেপকে শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর হিসেবে দেখছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব কারণেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখা হয়েছে।   তবে ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের নিয়মিত কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। জাতিসংঘের সদর দপ্তর চুক্তির আওতায় ফিলিস্তিনি মিশনের বিশেষ সুবিধা বহাল থাকবে। ফলে তাদের নিয়মিত কূটনীতিক ও কর্মীরা নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন, যদিও নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।   গত বছরও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র মাহমুদ আব্বাসসহ প্রায় ৮০ জন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার ভিসা বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করেছিল। এরপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৪৫-৫ ভোটে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে, যাতে ভিসা না পাওয়ায় আব্বাসের সরাসরি উপস্থিতির পরিবর্তে ভিডিও বা আগে থেকে ধারণ করা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়।    জাতিসংঘের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৪৭ সালের সদর দপ্তর চুক্তি নিয়ে এ সিদ্ধান্তের কারণে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা ২০২৫ সালে বলেছিলেন, জাতিসংঘের আমন্ত্রণে নিউইয়র্কে আসা কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। তাদের মতে, সদর দপ্তর চুক্তির অধীনে জাতিসংঘের কার্যক্রমে অংশ নিতে আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।    এদিকে এ বছরের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং গাজার মানবিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হওয়ার কথা। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডাসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।   ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট সরাসরি নিউইয়র্কে উপস্থিত হতে না পারায় এবারও তার বক্তব্য কীভাবে জাতিসংঘে উপস্থাপন করা হবে, তা নিয়ে আলাদা ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে। ২০২৫ সালে ভিসা প্রত্যাখ্যানের পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বিশেষ ব্যবস্থায় আব্বাসের রেকর্ড করা বক্তব্য প্রচারের অনুমতি দিয়েছিল।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৬:৫৭
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লাইয়েন। ছবি: সংগৃহীত
কানাডাকে ইইউর সহযোগী সদস্য করলে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ইউরোপের সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে বাণিজ্য বন্ধ করা কিংবা বড় ধরনের শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, কানাডাকে ইইউর সঙ্গে এতটা ঘনিষ্ঠ করার উদ্দেশ্য যদি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে ওয়াশিংটন কঠোর বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নিতে পারে।   বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইইউর এই পদক্ষেপকে তিনি শত্রুতামূলক মনে করলে ইউরোপীয় পণ্যের ওপর ‘খুব কঠোর শুল্ক’ আরোপ করবেন। এমনকি ইউরোপের সঙ্গে বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য বন্ধ করার কথাও বলেন তিনি। তবে উদ্যোগটির উদ্দেশ্য ভালো হলে সেটিকে ভিন্নভাবে দেখবেন বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।   ট্রাম্প কানাডাকে ইইউর সহযোগী সদস্য করার পরিকল্পনাকে ‘হাস্যকর’ বলেও মন্তব্য করেছেন। তাঁর এই প্রতিক্রিয়া আসে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লাইয়েনের বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন’ ভাষণের এক দিন পর।   ১৬ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে ফন ডার লাইয়েন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি কানাডাকে ইইউর প্রথম সহযোগী সদস্য করার পথ খুলতে কাজ করতে চান। এ সময় পার্লামেন্টে উপস্থিত সদস্যরা কার্নিকে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা জানান। বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর।   ফন ডার লাইয়েন বলেন, ইউরোপ ও কানাডার মধ্যে বর্তমান বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত অংশীদারত্বে নিয়ে যেতে চায় ইইউ। কানাডা ও ইইউর মধ্যে বর্তমানে কানাডা-ইইউ ব্যাপক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি বা সিইটিএ রয়েছে। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে এই সম্পর্ককে ‘ভবিষ্যতের জোটে’ রূপ দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।   প্রস্তাবিত সহযোগিতার ক্ষেত্রও শুধু বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ইইউর পরিকল্পনায় উন্নত উৎপাদন, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্প, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ব্যাটারি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মতো বিষয় রয়েছে। আর্কটিক অঞ্চলকেও কানাডা ও ইউরোপের যৌথ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন ফন ডার লাইয়েন।   ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেছেন, কানাডার সঙ্গে এই অংশীদারত্ব কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে গড়ে তোলা হচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, এটি দুই পক্ষের অভিন্ন সক্ষমতা ও স্বার্থকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ। ইইউর সরকারি নথিতেও কানাডার সঙ্গে সম্পর্ককে বাণিজ্য থেকে আরও বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতায় নেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।   কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, কার্নি ও ফন ডার লাইয়েন ১৬ সেপ্টেম্বর স্ট্রাসবুর্গে বৈঠক করেন। সেখানে দুই নেতা সিইটিএর বাইরে আরও উচ্চাভিলাষী ও বিস্তৃত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হন। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রতিরক্ষা শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা, মহাকাশ, আর্থিক সেবা এবং ডিজিটাল বাণিজ্য নিয়ে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।   তবে কানাডার সম্ভাব্য সহযোগী সদস্যপদের কাঠামো এখনো পুরোপুরি নির্ধারিত হয়নি। ইইউর পূর্ণ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে যে ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক একীভূতকরণ প্রয়োজন, কানাডা সেই পথে যাচ্ছে না। বরং কানাডা নিজের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে ইইউর সঙ্গে যতটা সম্ভব ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী বলে কানাডার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   এই উদ্যোগের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সাম্প্রতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার বিষয়ে তাঁর বিভিন্ন মন্তব্যের পর অটোয়া ওয়াশিংটনের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে। কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যায়। ফলে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক বাড়ানোর উদ্যোগকে কানাডার জন্য নতুন বাজার ও অংশীদার তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।   কার্নি এর আগে ইইউর সঙ্গে একটি ‘অনন্য জোট’ গড়ার কথা বলেছিলেন। তাঁর সরকারের লক্ষ্য হলো কানাডার অর্থনীতিকে এমনভাবে বৈচিত্র্যময় করা, যাতে কোনো একটি দেশের বাজার বা নীতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা না থাকে। ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পাশাপাশি কানাডা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও নতুন প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে।   ইইউর সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে নানা চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যদিও ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের মধ্যে একটি বাণিজ্য সমঝোতা রয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন একই সময়ে কানাডার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগ নিয়েছে।   প্রস্তাবিত সহযোগী সদস্যপদ কার্যকর হলে এটি ইইউর জন্যও নতুন ধরনের সম্পর্কের মডেল তৈরি করবে। কারণ কানাডা হবে এই ধরনের মর্যাদা পাওয়া প্রথম দেশ। এর মাধ্যমে পূর্ণ সদস্যপদ ছাড়াই কোনো দেশের সঙ্গে ইইউ কতটা গভীর অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করতে পারে, তার একটি নতুন কাঠামো তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট শর্ত, ইইউর একক বাজারে কানাডার প্রবেশাধিকার এবং দুই পক্ষের নাগরিকদের চলাচল বা কাজের অধিকার কী হবে, সেসব বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়।   এদিকে কানাডা ও ইইউর সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আগামী মাসে মন্ট্রিয়েলে একটি শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে প্রস্তাবিত নতুন অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে।   ফলে কানাডাকে ইইউর সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত কোনো চুক্তি নয়। তবে এটি বাস্তবায়িত হলে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন অধ্যায় তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপ ও কানাডার বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপরও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স, ইউরোপীয় কমিশন, কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৬:৫১
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড আবেদনের ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি পরিবর্তন নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন আইনি লড়াই। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন কার্ড পাওয়া কঠিন করায়, ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ম ঠেকাতে ২২ রাজ্য ও ডিসির মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই তা ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া। ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে ১৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে মামলা করা হয়। একই সময়ে নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে কয়েকটি শহর ও কাউন্টিও পৃথক মামলা করেছে। নতুন নিয়মটি ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।    নতুন নীতিতে গ্রিন কার্ড, নির্দিষ্ট ভিসা বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন পর্যালোচনার সময় কোনো আবেদনকারী সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন কি না, তা বিবেচনায় নেওয়ার ক্ষমতা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের বাড়ানো হয়েছে। এর আওতায় মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা, আবাসন সহায়তা এবং শিশুদের স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচির মতো কিছু সরকারি সুবিধা বিবেচনায় আসতে পারে। রাজ্যগুলো বলছে, এতে বৈধভাবে এসব সুবিধা ব্যবহার করা অভিবাসী পরিবারগুলো গ্রিন কার্ডের আবেদন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।    মামলাকারী রাজ্যগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটস, মিশিগান, মিনেসোটা, ওয়াশিংটন, ভার্জিনিয়া, কলোরাডোসহ মোট ২২টি রাজ্য রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়াও যুক্ত হয়েছে। মামলাটি নিউইয়র্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে করা হয়েছে। রাজ্যগুলোর অভিযোগ, নতুন নীতিটি ডিএইচএসের আইনগত ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার নিয়মও লঙ্ঘন করেছে।    অন্যদিকে, নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে পৃথক একটি মামলায় শিকাগো, সিয়াটল, সান ফ্রান্সিসকো এবং কয়েকটি কাউন্টি ও স্থানীয় সরকার যুক্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকারগুলোর দাবি, নতুন নীতির কারণে অভিবাসী পরিবারগুলো মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা বা অন্যান্য বৈধ সরকারি সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারে। এতে শুধু অভিবাসীদের নয়, এসব কর্মসূচি পরিচালনাকারী রাজ্য ও স্থানীয় সরকারের ওপরও আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে তারা আদালতে যুক্তি দিয়েছে।    ডিএইচএস অবশ্য নতুন নীতিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করছে। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে এমন ব্যক্তিদের গ্রিন কার্ড বা ভিসা দেওয়া থেকে বিরত থাকার বিধান রয়েছে, যারা ভবিষ্যতে সরকারের ওপর প্রধানত নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের কোনো আবেদনকারীর পরিস্থিতি কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে মূল্যায়নের সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।    নতুন নিয়মটি ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে চালু করা অনুরূপ নীতির সঙ্গে মিল রয়েছে। পরে বাইডেন প্রশাসন সেই নীতি বাতিল করে ২০২২ সালে তুলনামূলকভাবে সীমিত একটি কাঠামো চালু করেছিল। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ডিএইচএস সেই ২০২২ সালের বিধান বাতিলের ঘোষণা দেয় এবং জানায়, নতুন নিয়ম ১৮ সেপ্টেম্বর কার্যকর হবে।    মামলার ফলে এখন ফেডারেল আদালতকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নতুন নীতিটি আইন অনুযায়ী বৈধভাবে কার্যকর করা হয়েছে কি না এবং তা সাময়িকভাবে আটকে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে কি না। আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ১৮ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত কার্যকর তারিখ ঘিরে গ্রিন কার্ড ও সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন আবেদনকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে নতুন নিয়মে সরকারি সুবিধা ব্যবহার করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো ব্যক্তির গ্রিন কার্ড আবেদন বাতিল হবে, এমন সরল নিয়ম নয়; কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করবেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৬:২৮
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান নিয়ে কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ একদম শেষের পথে, ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি চুক্তির দাবি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ ‘আশা করছি শেষের দিকে’ এগোচ্ছে। বুধবার তিনি দাবি করেন, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কথা হয়েছে এবং তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে একই ধরনের নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।    ট্রাম্পের বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত সপ্তম মাসে গড়িয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র হয়েছে। এতে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।    ট্রাম্প এর আগে একাধিকবার দাবি করেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহী। জুনে তিনি বলেছিলেন, দুই দেশের আলোচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। তবে আলোচনার কাঠামো, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।    ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক পর্যায়েও তৎপরতা বেড়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংযত হয়ে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতার কাঠামোয় ফিরে যাওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।    তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বা আনুষ্ঠানিক শান্তি ঘোষণা হয়নি। বরং একই সময়ে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি বাহিনীর সংঘর্ষ এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের বক্তব্যকে সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হলেও যুদ্ধের সমাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে এমন তথ্য এখনো নেই।    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হলে এর প্রভাব শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে কোনো চুক্তি হলে তার শর্ত এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াই পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৬:১৬
ছেলের হার্ট সার্জারির টাকা বিয়ন্সের কনসার্টে খরচ
ছেলের হার্ট সার্জারির টাকা বিয়ন্সের কনসার্টে খরচ, স্ত্রীর বিরুদ্ধে ডিভোর্স দিলেন স্বামী

বিয়ন্সের কনসার্টের টিকিট কিনতে এক নারী তাঁর প্রেমিকের অ্যাকাউন্ট থেকে শিশুর হার্ট সার্জারির জন্য জমিয়ে রাখা টাকা চুরি করেছেন, এমন একটি গল্প ২০২৩ সালে টিকটকে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছিল। দাবি করা হয়, প্রেমিক কনসার্টের টিকিট কিনে দিতে রাজি না হওয়ায় ওই নারী নিজেই টাকা নিয়ে নেন। তবে পরে গল্পটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং এর পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি সত্যিই ঘটেছিল কি না, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।    ভাইরাল গল্পটি ছড়িয়ে দেন টিকটক ব্যবহারকারী নোয়া গ্লেন কার্টার। তাঁর পোস্ট অনুযায়ী, ওই নারী জানতেন যে তাঁর প্রেমিক নিজের সন্তানের হার্টের অস্ত্রোপচারের খরচ মেটাতে টাকা জমাচ্ছিলেন। কিন্তু বিয়ন্সের কনসার্টে যাওয়ার ইচ্ছা পূরণ না হওয়ায় তিনি সেই টাকা নিয়ে টিকিট কিনেছিলেন বলে দাবি করা হয়। গল্পটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।    কেউ কেউ ওই নারীকে ভবিষ্যতে বিয়ন্সের কনসার্টে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। আবার কয়েকজন মন্তব্য করেন, ঘটনাটি সত্য হলে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হওয়া উচিত। একজন মন্তব্যকারী দাবি করেন, চুরি করা অর্থের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার ডলার হতে পারে। তবে এই অর্থের পরিমাণেরও কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   এরপরই গল্পটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। নোয়া গ্লেন কার্টারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্টের মধ্যে স্কিট বা অভিনয়ভিত্তিক ভিডিও রয়েছে বলে ব্যবহারকারীরা উল্লেখ করেন। ফলে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেন, ভাইরাল ঘটনাটিও হয়তো বাস্তব ঘটনা নয়, বরং বিনোদন বা প্রতিক্রিয়া তৈরির জন্য বানানো কনটেন্ট হতে পারে।    ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা দেখা যায়। ডেক্সার্টোর প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, ওই নারী সত্যিই শিশুর হার্ট সার্জারির টাকা নিয়ে বিয়ন্সের কনসার্টের টিকিট কিনেছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি। কোনো নিশ্চিত পরিচয়, আদালতের মামলা বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণও সামনে আসেনি।    তবু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গল্পটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে প্রমাণ দেখার আগেই ঘটনাটিকে সত্য ধরে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিভিন্ন অনলাইন আলোচনায় কেউ কেউ গল্পটির ভিডিওকে সাজানো বা রেজবেইট বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন। তবে এসব মন্তব্যও নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের ধারণা, প্রমাণিত তথ্য নয়।    এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল কোনো দাবিকে যাচাই না করে সত্য ধরে নেওয়ার ঝুঁকিও সামনে আনে। গল্পটি যত দ্রুত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল, তার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ততটা পাওয়া যায়নি। ফলে শিশুর চিকিৎসার টাকা চুরি এবং বিয়ন্সের কনসার্টের টিকিট কেনার পুরো ঘটনাটিকে নিশ্চিত বাস্তব ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৪:৫৭
বাংলাদেশি গবেষকের স্টার্টআপ কিনল অ্যাপল
বাংলাদেশি গবেষকের স্টার্টআপ কিনল অ্যাপল, মস্তিষ্কের সংকেত শনাক্তে নতুন প্রযুক্তি

বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রকৌশলী ও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির অধ্যাপক সায়ীফ সালাহউদ্দিনের সহপ্রতিষ্ঠিত ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি স্টার্টআপ সোনেরা ম্যাগনেটিকস অধিগ্রহণ করেছে অ্যাপল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিগ্রহণসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে এই অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়। তবে অ্যাপল বা সোনেরা আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির ঘোষণা দেয়নি।    সোনেরা এমন একটি নন-ইনভেসিভ সেন্সর প্রযুক্তি তৈরি করেছে, যা শরীরে কোনো যন্ত্র বসানো বা ত্বকে ইলেকট্রোড লাগানো ছাড়াই মস্তিষ্ক, স্নায়ু ও পেশির তৈরি অত্যন্ত ক্ষুদ্র চৌম্বকীয় সংকেত শনাক্ত করতে পারে। প্রচলিত বৈদ্যুতিক সংকেতভিত্তিক প্রযুক্তির তুলনায় এই পদ্ধতিতে খুলির মধ্য দিয়ে সংকেত দুর্বল হয়ে যাওয়ার সমস্যা কম হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট গবেষণায় দেখানো হয়েছে।    সোনেরা ২০১৮ সালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির গবেষণার পরিবেশ থেকে যাত্রা শুরু করে। এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন নিশিতা ডেকা, ডমিনিক লাবানোস্কি ও সায়ীফ সালাহউদ্দিন। ২০২৩ সালে কোম্পানিটি প্রকাশ্যে আসার সময় প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ডলার অর্থায়নের কথা জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য ছিল মস্তিষ্কের কার্যকলাপ শনাক্তের প্রযুক্তিকে আরও ছোট, বহনযোগ্য ও সহজলভ্য করা।    সোনেরার প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো এস১ চিপ। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এটি পেশির কার্যকলাপ থেকে তৈরি চৌম্বকীয় সংকেত শনাক্ত করতে পারে এবং ভবিষ্যতে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণেও ব্যবহার করা যেতে পারে। এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহারের মধ্যে কৃত্রিম অঙ্গ নিয়ন্ত্রণ, নিউরোমাসকুলার রোগ পর্যবেক্ষণ এবং শরীরে পরিধানযোগ্য স্মার্ট ডিভাইসে নতুন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা যুক্ত করার বিষয় রয়েছে।    অ্যাপলের জন্য এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে স্বাস্থ্য ও অ্যাক্সেসিবিলিটি সুবিধার ক্ষেত্রে। প্রযুক্তিটি আরও উন্নত হলে ভবিষ্যতের অ্যাপল ওয়াচ বা অন্য পরিধানযোগ্য ডিভাইসে শরীরের স্নায়ু ও পেশির কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণের নতুন সুবিধা যুক্ত হতে পারে। একই সঙ্গে শরীরে কোনো ইমপ্ল্যান্ট বসানো ছাড়াই মস্তিষ্কের সংকেত ব্যবহার করে ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। তবে সোনেরা অধিগ্রহণের পর অ্যাপল ঠিক কোন পণ্যে বা কীভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।    বাংলাদেশি-আমেরিকান গবেষক সায়ীফ সালাহউদ্দিনের ক্যারিয়ারও উল্লেখযোগ্য। তিনি ২০০৩ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। পরে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্সেস বিভাগে অধ্যাপনায় যুক্ত হন। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্রের মধ্যে চৌম্বকীয় সেন্সর, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ম্যাটেরিয়ালস ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি রয়েছে।    সায়ীফ সালাহউদ্দিনের গবেষণা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পর্যায়েও স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০১৬ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁকে প্রেসিডেনশিয়াল আর্লি ক্যারিয়ার অ্যাওয়ার্ড ফর সায়েন্টিস্টস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স সম্মাননা দেন। প্রাথমিক ক্যারিয়ারের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের জন্য এটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত হয়।   অ্যাপলের এই অধিগ্রহণের আর্থিক মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। ইউরোপীয় কমিশনের নথি অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় সোনেরার নির্দিষ্ট সম্পদ অধিগ্রহণের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির কিছু কর্মীকে চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়ও ছিল। অধিগ্রহণের পর সোনেরার ওয়েবসাইটও বন্ধ হয়ে যায়।    সোনেরার প্রযুক্তি এখনো ব্যাপক ভোক্তা ব্যবহারের পণ্য হিসেবে বাজারে আসেনি। তবে মস্তিষ্ক ও শরীরের চৌম্বকীয় সংকেত ছোট আকারের সেন্সরের মাধ্যমে শনাক্ত করার সক্ষমতা অ্যাপলের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য, অ্যাক্সেসিবিলিটি ও মানব-কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তিতে কীভাবে ব্যবহৃত হয়, সেটিই এখন প্রযুক্তি খাতের আগ্রহের বিষয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৪:২৯
গর্ভধারিনী মার দেখাশোনা করতে ৩০ বছরেই সেনাবাহিনী ছাড়লেন রাষ্ট্রপতির সাবেক এডিসি ঋষভ
গর্ভধারিনী মার দেখাশোনা করতে ৩০ বছরেই সেনাবাহিনী ছাড়লেন রাষ্ট্রপতির সাবেক এডিসি ঋষভ

ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সাবেক এডিসি মেজর ঋষভ সিং সাম্বিয়াল ১২ বছর সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের পর ৩০ বছর বয়সে সময়পূর্ব অবসর নিয়েছেন। ৪ প্যারা স্পেশাল ফোর্সে দায়িত্ব পালন এবং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে দেখা যাওয়ার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া এই সেনা কর্মকর্তার অবসরের কারণও এখন সামনে এসেছে। ঋষভ জানিয়েছেন, নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পাশাপাশি পরিবার ও বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দিতেই তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।    সম্প্রতি রাজ শামানির পডকাস্টে নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলেন ঋষভ। পরে একটি ভিডিওতেও তিনি অবসরের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীতে কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করা ছিল তাঁর স্বপ্নের পেশা। এত দ্রুত ইউনিফর্ম ছেড়ে দিতে হবে, এমনটা তিনি কখনো ভাবেননি। তবে জীবনের একটি পর্যায়ে এসে পরিবারকে সময় দেওয়া এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনীয়তা তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।    ঋষভ জানান, ২০১৪ সাল থেকে সামরিক জীবনের কারণে দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। বিশেষ করে বাবা-মায়ের পাশে থাকা এবং পারিবারিক দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তাঁর সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি এই অবসরকে সহজ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না; বরং নিজের জীবনের অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।    ঋষভের সামরিক ক্যারিয়ারও ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমি এবং ইন্ডিয়ান মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। জাট রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালনের পর তিনি ৪ প্যারা স্পেশাল ফোর্সে কাজ করেন। ২০২১ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে জাট রেজিমেন্টের কন্টিনজেন্টের নেতৃত্ব দেন তিনি। ওই কন্টিনজেন্ট সেরা মার্চিং কন্টিনজেন্ট ট্রফিও জেতে।    ২০২৩ সালের মার্চে ঋষভকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর এডিসি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এরপর রাষ্ট্রপতির বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান, আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ও বিদেশ সফরে তাঁর উপস্থিতি নিয়মিত চোখে পড়ে। দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর সামরিক শৃঙ্খলা ও ব্যক্তিত্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। চলতি বছরের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানেও রাষ্ট্রপতির পাশে তাঁকে দেখা যাওয়ার পর তাঁর পরিচিতি আরও ছড়িয়ে পড়ে।    অবসরের পর ঋষভের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা ছড়ায়। বিশেষ করে বিয়ে বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে তিনি সেনাবাহিনী ছেড়েছেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়। তবে ঋষভ এসব ধারণা নাকচ করে জানিয়েছেন, তাঁর অবসরের সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ পরিবার ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব। নিজের সামরিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে তরুণদের অনুপ্রাণিত করার মতো কোনো কাজে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৩:৫৭
আইসিইর ধরপাকড় ও বহিষ্কারে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারাবে ৬০ লাখ
আইসিইর ধরপাকড় ও বহিষ্কারে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারাবে ৬০ লাখ, নতুন প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসন ধরপাকড় ও বহিষ্কার কার্যক্রমের প্রভাব শুধু অনিবন্ধিত অভিবাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং মার্কিন নাগরিকদের চাকরিতেও পড়তে পারে বলে দাবি করেছে নতুন এক প্রতিবেদনে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (ACLU) ও এএফএল-সিআইওর যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান নীতি অব্যাহত থাকলে প্রায় ৬০ লাখ চাকরি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে, যার প্রায় অর্ধেক বর্তমানে মার্কিন নাগরিকদের দখলে।   ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘সিটিজেনশিপ অ্যান্ড দ্য অ্যাফোর্ডেবিলিটি এজেন্ডা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সংগঠন দুটি দাবি করেছে, ব্যাপক ডিপোর্টেশন শ্রমবাজারে কর্মী সংকট তৈরি করছে এবং নির্মাণ, হসপিটালিটি ও কেয়ারগিভিংয়ের মতো অভিবাসী কর্মী নির্ভর খাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত করছে। তাদের মতে, এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্য ও সেবার দাম এবং কর্মসংস্থানের ওপরও পড়তে পারে।    প্রতিবেদনের সবচেয়ে আলোচিত হিসাবটি এসেছে ইকোনমিক পলিসি ইনস্টিটিউটের একটি প্রক্ষেপণ থেকে। এতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপোর্টেশন কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে প্রায় ৬০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত হতে পারে। এর প্রায় অর্ধেক চাকরি বর্তমানে মার্কিন নাগরিকরা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রক্ষেপণ, ইতোমধ্যে হারিয়ে যাওয়া চাকরির পরিসংখ্যান নয়।    ACLU ও এএফএল-সিআইও আরও দাবি করেছে, অভিবাসন ধরপাকড়ের কারণে অনেক এলাকায় মানুষ কর্মস্থলে যাওয়া, কেনাকাটা ও রেস্টুরেন্টে যাওয়ার মতো স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড থেকেও দূরে থাকছেন। তাদের প্রতিবেদনে একটি হিসাব তুলে ধরে বলা হয়েছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বছরে প্রায় ৮ দশমিক ১ বিলিয়ন কম ভিজিট এবং ৩ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলারের কম ব্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মিনেসোটায় ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ চলাকালে ব্যবসাগুলোর সাপ্তাহিক ১০ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    প্রতিবেদনটির আরেকটি দাবি হলো, অভিবাসন এনফোর্সমেন্টের ফলে শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা বাড়লে কিছু নিয়োগকর্তার জন্য কর্মীদের কম মজুরি দেওয়া বা শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। সংগঠন দুটি বলছে, এর প্রভাব শুধু অভিবাসীদের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না এবং অভিবাসী ও মার্কিন নাগরিক উভয় ধরনের কর্মী থাকা একই শিল্পে মজুরি ও কর্মপরিবেশের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।    তবে এসব দাবির সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন একমত নয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লরেন বিস নিউজউইককে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিত অভিবাসন বৃদ্ধিই মার্কিন নাগরিকদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক চাপ, মূল্যস্ফীতি এবং মজুরির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে প্রশাসনের অবস্থান। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিবাসন আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মার্কিন কর্মীদের জন্য চাকরির সুযোগ বাড়ানোই তাদের লক্ষ্য।   অভিবাসন নীতির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২৬ সালের মে মাসে ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের একটি গবেষণায় বলা হয়েছিল, বেশি ICE গ্রেপ্তার হওয়া এলাকাগুলোতে অনিবন্ধিত কর্মীদের কর্মসংস্থান ৪ থেকে ৫ শতাংশ কমেছিল। একই গবেষণায় দেখা যায়, উচ্চমাধ্যমিক বা তার নিচের শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কিন নাগরিক পুরুষদের কর্মসংস্থানও কমেছে।    ওই গবেষণায় আরও দেখা যায়, অনিবন্ধিত পুরুষ কর্মীদের প্রতি ছয়জন চাকরি হারানোর বিপরীতে প্রায় একজন মার্কিন নাগরিক কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। গবেষকরা বিশেষ করে কৃষি, নির্মাণ ও উৎপাদন খাতে এর প্রভাব দেখতে পেয়েছেন। গবেষণাটি ২০২৫ সালে ICE গ্রেপ্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল এমন এলাকাগুলোর মাসভিত্তিক কর্মসংস্থান তথ্য বিশ্লেষণ করে তুলনা করেছে।    অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের সমর্থকদের যুক্তি হলো, অনিবন্ধিত কর্মীদের শ্রমবাজার থেকে সরিয়ে দিলে মার্কিন নাগরিকদের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে নতুন ACLU ও এএফএল-সিআইও প্রতিবেদন এবং প্রশাসনের অবস্থানের মধ্যে মূল বিরোধটি হলো, অভিবাসন ধরপাকড় শেষ পর্যন্ত মার্কিন কর্মীদের জন্য চাকরি ও মজুরি বাড়াবে, নাকি শ্রমবাজার ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সংকুচিত করে উল্টো প্রভাব ফেলবে।   নতুন প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়, চাকরি ও মজুরি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনও সামনে রয়েছে। তবে প্রতিবেদনটির ৬০ লাখ চাকরি হারানোর হিসাব একটি প্রক্ষেপণ এবং এর সঙ্গে অভিবাসন নীতির পাশাপাশি অর্থনীতির অন্যান্য পরিবর্তনশীল কারণও জড়িত থাকতে পারে। তাই এটিকে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ ফলাফল হিসেবে নয়, বরং একটি নীতি বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাবের হিসাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৩:৪৯
মণীশের নামে গিনেস বিশ্বরেকর্ড
১,৬৩৮টি বৈধ ক্রেডিট কার্ড! মণীশের নামে গিনেস বিশ্বরেকর্ড

একজন মানুষের কাছে ক্রেডিট কার্ড থাকতে পারে কতটি? পাঁচটি, দশটি কিংবা কয়েক ডজন। কিন্তু ভারতের মণীশ ধামেজার কাছে ছিল ১,৬৩৮টি বৈধ ক্রেডিট কার্ড। এই সংখ্যার জন্য ২০২১ সালের ৩০ এপ্রিল হায়দরাবাদে তাকে ‘সবচেয়ে বেশি বৈধ ক্রেডিট কার্ডের সংগ্রহ’-এর গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড দেওয়া হয়। গিনেসের সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, যাচাইয়ের সময় কার্ডগুলোর সবই বৈধ ছিল।    মণীশের এই বিপুল সংগ্রহ শুধু কার্ড জমিয়ে রাখার জন্য নয়। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে দেওয়া তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন কার্ডের আলাদা আলাদা সুবিধা কাজে লাগান তিনি। পুরস্কার পয়েন্ট, বিমানযাত্রার মাইল, ক্যাশব্যাক, বিমানবন্দরের লাউঞ্জ, রেলওয়ে লাউঞ্জ, হোটেল সুবিধা, ভ্রমণ, খাবার, কেনাকাটার ভাউচার, সিনেমার টিকিট, গলফ সেশন এবং জ্বালানির সুবিধার মতো নানা ধরনের অফার তিনি ব্যবহার করেন।    একটি কার্ডে যে সুবিধা বেশি, অন্য কার্ডে সেটি নাও থাকতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা কার্ড ব্যবহারের কৌশল নিয়েছেন মণীশ। বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্রমণ, কেনাকাটা, জ্বালানি বা হোটেলের মতো আলাদা খরচের জন্য তিনি আলাদা কার্ড ব্যবহার করেন। প্রতিটি কার্ডের নিয়ম, বিলিং সাইকেল ও পুরস্কার সুবিধা বুঝে ব্যবহার করাই তার ব্যবস্থাপনার অন্যতম দিক।    মণীশের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০০৫ সালে তিনি প্রথম ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার শুরু করেন। ধীরে ধীরে কার্ডের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ২০২১ সালে তা ১,৬৩৮-এ পৌঁছায়। গিনেসের রেকর্ডের সময় এই ১,৬৩৮টি কার্ডই বৈধ হিসেবে যাচাই করা হয়।    ২০১৬ সালে ভারতের নোটবন্দির সময়ও ক্রেডিট কার্ড তার কাজে এসেছিল বলে গিনেসকে দেওয়া বক্তব্যে মণীশ জানিয়েছেন। ওই সময় নগদ টাকার সংকটের মধ্যে তিনি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ডিজিটাল লেনদেন চালিয়ে যান। গিনেসের রেকর্ড পাতাতেও তার এই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ রয়েছে।    এত বিপুল সংখ্যক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো হিসাব রাখা। প্রতিটি কার্ডের বিলিং সাইকেল, পেমেন্টের সময়সীমা, ফি এবং পুরস্কারের শর্ত আলাদা হতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে মণীশের ক্ষেত্রে নিয়মিত হিসাব রাখা এবং সময়মতো বিল পরিশোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের কয়েকটি প্রতিবেদনে তাকে বকেয়া ঋণ ছাড়াই কার্ড ব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।    গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মণীশ ধামেজার রেকর্ডের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ১,৬৩৮ এবং রেকর্ডটি অর্জনের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০২১। পরবর্তী সময়ে সংবাদমাধ্যমে তার বর্তমান কার্ডের সংখ্যা আরও বেশি বলে বিভিন্ন দাবি প্রকাশিত হলেও, সেগুলোকে নতুন গিনেস রেকর্ড হিসেবে ধরা যায় না। গিনেস নিজেই জানিয়েছে, রেকর্ড প্রতিদিন পরিবর্তিত হতে পারে এবং সব পরিবর্তন সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনে প্রকাশিত হয় না।    মণীশের ঘটনা দেখায়, ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা বাড়ানোই মূল বিষয় নয়, বরং প্রতিটি কার্ডের শর্ত ও সুবিধা বোঝা এবং সময়মতো বিল পরিশোধ করাই গুরুত্বপূর্ণ। তার ১,৬৩৮টি কার্ডের রেকর্ডটি অবশ্যই ব্যতিক্রমী। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সংখ্যক ক্রেডিট কার্ড মানেই অতিরিক্ত সুবিধা নয়। হিসাবের জটিলতা, ফি, সুদ ও বকেয়া এড়াতে আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী কার্ড ব্যবহার করাই গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: এনডিটিভি

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৩:১৮
স্বামীর জন্য নিজেই পছন্দ করলেন দ্বিতীয় স্ত্রী
স্বামীর জন্য নিজেই পছন্দ করলেন দ্বিতীয় স্ত্রী, একই সংসারে দুই স্ত্রী থাকছেন বন্ধুর মতো

গাজীপুরের চন্দ্রা-কোনাবাড়ী এলাকায় ব্যতিক্রমী এক পারিবারিক সম্পর্কের গল্প সামনে এসেছে। আব্দুর রহমান নামের এক ব্যক্তি চার বছর ধরে দুই স্ত্রীকে নিয়ে একই সংসারে বসবাস করছেন। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, স্বামীর দ্বিতীয় বিয়েতে আপত্তি না করে বরং নিজেই উদ্যোগ নিয়েছিলেন প্রথম স্ত্রী রুমা আক্তার।   পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগে পারিবারিকভাবে রুমা আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় আব্দুর রহমানের। দীর্ঘদিন একসঙ্গে সংসার করার পর একপর্যায়ে নাজনিন সুলতানা নামের আরেক নারীকে পছন্দ করেন তিনি। বিষয়টি গোপন না রেখে স্বামী প্রথম স্ত্রীকে জানান। এরপর রুমা স্বামীর ইচ্ছাকে মেনে নিয়ে দ্বিতীয় বিয়েতে সম্মতি দেন।   পরে রুমা নিজে উপস্থিত থেকে কাজী অফিসে বিয়ের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। বিয়ে শেষে নাজনিনকে পরিবারের সদস্য হিসেবে ঘরে তুলে আনেন তিনি। সেই থেকে প্রায় চার বছর ধরে দুই স্ত্রীকে নিয়েই চলছে আব্দুর রহমানের সংসার। বর্তমানে এই পরিবারে মোট তিন সন্তান রয়েছে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।   এই পরিবারের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো দুই স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্ক। সাধারণত সতিনের সম্পর্ককে ঘিরে পারিবারিক দ্বন্দ্বের নানা ঘটনা শোনা গেলেও আব্দুর রহমানের পরিবারের চিত্র ভিন্ন। রুমা ও নাজনিনের মধ্যে গড়ে উঠেছে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। তারা একে অপরকে বোনের মতো সহযোগিতা করেন বলে পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য।   শুধু ঘরের কাজেই নয়, বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের একসঙ্গে দেখা যায়। বাজার করতে যাওয়া, আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া কিংবা পারিবারিক বিভিন্ন কাজে তারা পাশাপাশি থাকেন। দীর্ঘদিন একই সংসারে থাকার ফলে তাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়াও তৈরি হয়েছে বলে পরিবারটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   আব্দুর রহমান জানান, দুই স্ত্রীকে নিয়ে সংসার পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি দুজনের প্রতি সমান অধিকার ও মর্যাদা বজায় রাখার চেষ্টা করেন। সমাজের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন করেন এবং কৌতূহল দেখান। তবে এসবের বাইরে পারিবারিক শান্তি বজায় রাখাকেই তিনি গুরুত্ব দেন বলে জানান।   তবে এই পরিবারের অভিজ্ঞতা যে সবার ক্ষেত্রে একই হবে, এমন কোনো সাধারণ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বহুবিবাহের সামাজিক, পারিবারিক ও আইনি বিষয় দেশভেদে এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। আব্দুর রহমানের পরিবারের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর সম্মতি এবং দুই স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্কই ঘটনাটিকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।   চার বছর ধরে একই সংসারে দুই স্ত্রীকে নিয়ে বসবাসের এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই পরিবারের পারস্পরিক বোঝাপড়া নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে পরিবারের সদস্যদের কাছে এটি এখন তাদের স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন, যেখানে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পারস্পরিক সম্মতি, সহযোগিতা ও মর্যাদাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   সূত্র: কালবেলা

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৩:৮
সোলো ট্রিপে আফগানিস্তানে গিয়ে গ্রেপ্তার কেরালার তরুণী
মেয়ে হয়ে একা একা ঘোরা! সোলো ট্রিপে আফগানিস্তানে গিয়ে গ্রেপ্তার কেরালার তরুণী

আফগানিস্তানের বামিয়ানে একা ভ্রমণ করায় গ্রেপ্তারের হুমকির মুখে পড়েছেন ভারতের কেরালার ট্রাভেল ভ্লগার অরুণিমা আইপি, যিনি ‘ব্যাকপ্যাকার অরুণিমা’ নামে পরিচিত। ১৫ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা চেয়ে বার্তা দেওয়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে তিনি জানান, তাকে কোনো পুলিশ স্টেশন বা কারাগারে নেওয়া হয়নি এবং তিনি নিরাপদে আছেন।    অরুণিমা কেরালার পালাক্কাড জেলার অট্টাপালাম এলাকার বাসিন্দা। গত কয়েক বছর ধরে তিনি একা বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে সেই অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরছেন। আফগানিস্তানে যাওয়ার পরও তিনি নিয়মিত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করছিলেন। চলতি সফরে তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় একাই ঘুরছিলেন।    বামিয়ানে পৌঁছানোর পরই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে বলে অরুণিমা জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার দিকে একটি ট্রাকে লিফট নিয়ে তিনি বামিয়ানে পৌঁছান। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন তার কাছে পাসপোর্ট, ভিসা ও ভ্রমণের অনুমতিপত্র দেখতে চান। এরপর তাকে বলা হয়, একজন পুরুষ সঙ্গী বা গাইড ছাড়া একা ভ্রমণ করা নিয়ে স্থানীয় নিয়মের সঙ্গে তার অবস্থান সাংঘর্ষিক।    এর আগে জালালাবাদে ভ্রমণের অনুমতি নিতে গিয়েও একই সমস্যায় পড়েছিলেন বলে অরুণিমা জানিয়েছেন। তার দাবি, একা ভ্রমণ করায় তাকে অনুমতিপত্র দেওয়া হয়নি। বামিয়ানে তাকে বলা হয়, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে যাতায়াত করাও নিয়মের লঙ্ঘন হতে পারে এবং এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।    ঘটনার এক পর্যায়ে অরুণিমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা দিয়ে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা চান। তার পোস্টে তিনি দাবি করেছিলেন, ‘মুজাহিদিন’ তাকে আটক করেছে এবং তার কাছে প্রয়োজনীয় অফিসিয়াল চিঠি নেই। ওই পোস্টের সত্যতা সে সময় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরে অরুণিমা নিজেই ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, তাকে থানায় বা কারাগারে নেওয়া হয়নি, বরং কয়েক ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল এবং গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।    অরুণিমার বর্ণনা অনুযায়ী, পরিস্থিতি সামাল দিতে তার আগে বামিয়ানে পৌঁছাতে সহায়তা করা এক স্থানীয় ব্যক্তি হস্তক্ষেপ করেন। তার সঙ্গে কর্তৃপক্ষের কথা বলার পর অরুণিমাকে শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি নিরাপদে আছেন।    ঘটনার পর আফগানিস্তানে নারীদের চলাচল ও ভ্রমণ নিয়ে দেশটির কঠোর বিধিনিষেধ আবারও আলোচনায় এসেছে। অরুণিমার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, নারী একা ভ্রমণ করতে পারবেন না এবং বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে পুরুষ সঙ্গী বা গাইড এবং অনুমতিপত্রের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এসব বিধিনিষেধের নির্দিষ্ট প্রয়োগ এবং তার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ সম্পর্কে আফগান সরকারের কোনো স্বাধীন আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।    অরুণিমা পরে জানান, তিনি নিরাপদে আছেন এবং আফগানিস্তান থেকে বের হয়ে উজবেকিস্তানের দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। প্রথমে ‘গ্রেপ্তার’ বললেও পরবর্তী বক্তব্যে তিনি ঘটনাটিকে মূলত আটক, জিজ্ঞাসাবাদ এবং গ্রেপ্তারের হুমকি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। ফলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে সতর্ক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ২:১৩
বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবার আনার সুযোগ বন্ধ করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবার আনার সুযোগ বন্ধ করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা ও পরিবার নিয়ে যাওয়ার নিয়ম আরও কঠোর করার পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার। নতুন ব্যবস্থায় অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পড়াশোনার সময় স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানকে অস্ট্রেলিয়ায় সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। একই সঙ্গে অস্থায়ী ভিসাধারীদের দীর্ঘদিন অবস্থান এবং এক ভিসা থেকে আরেক ভিসায় যাওয়ার সুযোগও সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।    বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে অভিবাসন নীতি নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সরকারের লক্ষ্য হলো নেট বিদেশি অভিবাসন বছরে প্রায় ৩ লাখ থেকে কমিয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা।    বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে তাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ১৮ বছরের কম বয়সী নির্ভরশীল সন্তানকে অস্ট্রেলিয়ায় নিতে পারেন। শিক্ষার্থীর কোর্স ও ভিসার ধরন অনুযায়ী পরিবারের সদস্যদের কাজের সুযোগও থাকতে পারে। নতুন পরিকল্পনায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্য এই সুবিধা কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে।    সরকারের অভিবাসন পরিকল্পনায় শুধু শিক্ষার্থীদের পরিবার নয়, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়া এবং এক ধরনের অস্থায়ী ভিসা থেকে অন্য ভিসায় যাওয়ার প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বৈধ অবস্থান নিশ্চিত করতে নতুন করে নজরদারি ও প্রয়োগ ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।    অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন কমানোর এই উদ্যোগ এমন সময়ে এসেছে, যখন দেশটিতে বিদেশি শিক্ষার্থী ও অন্যান্য অস্থায়ী ভিসাধারীর সংখ্যা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। করোনা মহামারির পর ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক সীমান্ত খুলে দেওয়ার পর অভিবাসন দ্রুত বাড়ে। তবে এরপর থেকে নেট বিদেশি অভিবাসনের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে।    অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটির নেট বিদেশি অভিবাসন ছিল ৩ লাখ ৬ হাজার। এর আগের বছর ছিল ৪ লাখ ২৯ হাজার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই সংখ্যা ৫ লাখ ৩৮ হাজারে পৌঁছেছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অস্ট্রেলিয়ায় নতুন অভিবাসীদের সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী ছিল অস্থায়ী শিক্ষার্থী, যাদের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার।    সরকারের নতুন পরিকল্পনার পেছনে আবাসন, অবকাঠামো এবং শ্রমবাজারের ওপর অভিবাসনের প্রভাব নিয়ে চলমান বিতর্কও রয়েছে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী নিশ্চিত রাখার বিষয়টিও সরকার বিবেচনায় রাখছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেছেন, অভিবাসন কমানোর পাশাপাশি দেশের প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।    আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নিয়ম কার্যকর হলে অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী স্বামী-স্ত্রী বা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের ভিসা আবেদন ও পারিবারিক পরিকল্পনায় নতুন নিয়মগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে নতুন বিধিগুলোর বিস্তারিত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং কোন কোন শিক্ষার্থী বা কোর্স এর আওতায় পড়বে, তা সরকারের চূড়ান্ত নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ২:৩
শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোয় পুলিশ কর্মকর্তা পেলেন পদোন্নতি
ধ্বংসস্তূপে ২ দিন না খেয়ে থাকা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোয় পুলিশ কর্মকর্তা পেলেন পদোন্নতি

মেক্সিকোর আকাপুলকোয় ভয়াবহ হ্যারিকেন ওটিসের পর উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় ক্ষুধার্ত চার মাস বয়সী এক শিশুকে বুকের দুধ খাইয়ে আলোচনায় আসেন মেক্সিকো সিটির পুলিশ কর্মকর্তা আরিজবেথ ডিওনিসিও অ্যামব্রোসিও। মানবিক এই উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে ‘পুলিশিয়া প্রিমেরো’ পদ থেকে ‘সুবঅফিসিয়াল’ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে, হ্যারিকেন ওটিস আকাপুলকোয় আঘাত হানার পর।    ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর মেক্সিকোর আকাপুলকোয় ক্যাটাগরি ৫ হ্যারিকেন ওটিস আঘাত হানে। ঝড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর মেক্সিকো সিটির পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা উদ্ধার, ত্রাণ ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজে সেখানে মোতায়েন হন। অ্যামব্রোসিওও তাদের সঙ্গে আকাপুলকোয় যান। তিনি তখন ৩৩ বছর বয়সী এবং নিজেও দুই সন্তানের মা ছিলেন। একই সময়ে তিনি নিজের এক বছর বয়সী শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছিলেন।    ঝড়ের পর উদ্ধারকাজ ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর সময় অ্যামব্রোসিও একটি শিশুর কান্না শুনতে পান। তিনি কান্নার উৎসের দিকে গিয়ে এক নারীর সঙ্গে কথা বলেন। ওই নারী শিশুটির মা অথবা স্বজন ছিলেন বলে অ্যামব্রোসিও পরে জানান। শিশুটির বয়স ছিল প্রায় চার মাস। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটি দীর্ঘ সময় ধরে খাবার পায়নি এবং ক্ষুধায় কাঁদছিল। মেক্সিকোর সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুটি প্রায় ৪৮ ঘণ্টা খাবার ছাড়াই ছিল।    অ্যামব্রোসিও তখন বুঝতে পারেন, তিনি নিজেও যেহেতু সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন, তাই শিশুটিকে দুধ খাওয়াতে পারেন। তিনি ওই নারীর অনুমতি চান। অনুমতি পাওয়ার পর তিনি শিশুটিকে কোলে নিয়ে বুকের দুধ খাওয়ান। অ্যামব্রোসিওর ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে তার কাছে দেওয়ার পর কান্না ধীরে ধীরে থেমে যায়। তিনি পরে বলেন, ওই মুহূর্তে নিজের দুই সন্তানের কথা তার মনে পড়েছিল এবং প্রয়োজনের সময় শিশুটিকে প্রয়োজনীয় কিছু দিতে পেরে তার মনে শান্তি এসেছিল।    ঘটনাটি ক্যামেরায় ধরা পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে অ্যামব্রোসিওকে শিশুটিকে বুকের দুধ খাওয়াতে দেখা যায়। আকাপুলকোয় তখন যোগাযোগব্যবস্থা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় অ্যামব্রোসিও নিজেও প্রথমে জানতে পারেননি যে ছবিটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি প্রায় আট দিন সেখানে থেকে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে অংশ নেন বলে মেক্সিকোর সংবাদমাধ্যম এল ইউনিভার্সাল জানিয়েছে।    আকাপুলকো থেকে ফিরে আসার পর তাকে মেক্সিকো সিটির নিরাপত্তা বিভাগের সদর দপ্তরে ডাকা হয়। সেখানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পাবলো ভাসকেস কামাচো তার কাছে শিশুটিকে সহায়তা করার ঘটনাটি জানতে চান। এরপরই তাকে পদোন্নতির কথা জানানো হয়। তিনি ‘পুলিশিয়া প্রিমেরো’ পদ থেকে ‘সুবঅফিসিয়াল’ পদে উন্নীত হন, যা তাকে নেতৃত্বের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। কামাচো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যামব্রোসিওর সেবার প্রশংসা করে বলেন, আকাপুলকোয় শিশুটির জীবন রক্ষায় তার ভূমিকা মানবিকতার উদাহরণ।    তবে অ্যামব্রোসিও নিজে ঘটনাটিকে অসাধারণ বা বীরত্বপূর্ণ কিছু হিসেবে দেখেননি। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনের মুহূর্তে যা করা দরকার ছিল, তিনি সেটিই করেছেন। শিশুটিকে সাহায্য করার পর তিনি আবার হেলমেট, ফার্স্ট এইড কিট ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে উদ্ধারকাজে ফিরে যান। শিশুটির সঙ্গে সেটিই ছিল তার শেষ দেখা। পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সুযোগ পেলে সেই পরিবারের সঙ্গে আবার দেখা করে শিশুটিকে দেখতে চাইতেন।    হ্যারিকেন ওটিসের পর আকাপুলকোয় ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যে অ্যামব্রোসিওর এই ঘটনা উদ্ধারকাজের আরেকটি মানবিক দিক সামনে আনে। ধ্বংসস্তূপ সরানো ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো দায়িত্বের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের প্রতি নজর দেওয়ার ঘটনাটিও তখন ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষও তার এই ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১:৩৫
পানির বোতলে ব্লিচ ঢেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে খাওয়ান হোমকেয়ার
পানির বোতলে ব্লিচ ঢেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে খাওয়ান হোমকেয়ার, ভিডিও ভাইরাল

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার লেক চার্লস শহরে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী এক ব্যক্তিকে ব্লিচ খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে তারই হোম কেয়ার কর্মীর বিরুদ্ধে। পুলিশের অভিযোগ, ৩০ বছর বয়সী রেজিনাল্ড আন্দ্রে উইলসন একটি পানির বোতলে ব্লিচ ঢেলে ওই ব্যক্তিকে তা পান করতে দিয়েছিলেন। ঘটনাটি ধরা পড়ে বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায়।    পরিবারের প্রকাশ করা নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, উইলসন একটি বড় পাত্র থেকে বোতলে তরল ঢালছেন। এরপর তিনি পাত্রটি লন্ড্রি এলাকার দিকে রেখে বোতলটি ঝাঁকিয়ে নেন। পরে ওই বোতল নিয়ে তিনি তার দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাছে যান এবং সেটি পান করতে বলেন বলে পুলিশের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।    পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি বোতল থেকে পান করার পর তরলটির স্বাদ ব্লিচের মতো অনুভব করেন। বিষয়টি তিনি পরিবারের এক সদস্যকে জানান। পরে ওই পরিবারের সদস্য উইলসনকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পুলিশের দাবি, তখন উইলসন বোতলের পানিতে ব্লিচ ঢালার কথা স্বীকার করেন। পরিবার পরে নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।    উইলসন লেক চার্লসের হেভেন অন আর্থ নেটওয়ার্ক নামের একটি প্রতিষ্ঠানে হোম কেয়ার কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। প্রতিষ্ঠানটি ব্যক্তিগত যত্ন ও দৈনন্দিন কাজে সহায়তা দেওয়ার সেবা প্রদান করে। ঘটনার খবর পাওয়ার পর তাকে ওই বাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং ওই ব্যক্তিকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য ইমার্জেন্সি রুমে নেওয়া হয়। পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি ভালো আছেন।    লেক চার্লস পুলিশ উইলসনকে ক্ষতিকর পদার্থ মেশানো, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ওপর নিষ্ঠুরতা এবং গুরুতর হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই উইলসন সেখান থেকে চলে গিয়েছিলেন। পরে তাকে খুঁজে বের করে কোনো ধরনের ঘটনা ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়।    হেভেন অন আর্থ নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, তাদের কাছে সেবাগ্রহীতার নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনো ধরনের নির্যাতন তারা মেনে নেয় না। প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের তদন্তে সহযোগিতা করছে। গোপনীয়তা আইনের কারণে ওই ব্যক্তির চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।    ঘটনার পেছনে উইলসনের সম্ভাব্য উদ্দেশ্য কী ছিল, তা পুলিশ প্রকাশ করেনি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আইনগতভাবে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১:২১
৩ বছরের রুশ বন্দিদশা বদলে দিয়েছে ইউক্রেনীয় সেনার চেহারা
৩ বছরের রুশ বন্দিদশা বদলে দিয়েছে ইউক্রেনীয় সেনার চেহারা, ভাইরাল দুই ছবিতে যুদ্ধের নির্মমতা

ইউক্রেনের মারিউপোল যুদ্ধে রুশ বাহিনীর হাতে বন্দি হওয়ার প্রায় তিন বছর পর দেশে ফিরেছিলেন ইউক্রেনীয় নৌসেনা ওলেক্সান্দর কিরিয়েঙ্কো। ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে মুক্তি পাওয়ার পর তার আগের ও পরের দুটি ছবি সামনে আসে। ছবিতে বন্দিদশার সময় তার শারীরিক পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।    কিরিয়েঙ্কো ইউক্রেনের ৩৬তম মেরিন ব্রিগেডের প্রধান সার্জেন্ট এবং স্নাইপার প্লাটুনের প্রধান সার্জেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পূর্ণমাত্রার রুশ আগ্রাসন শুরু হলে তিনি মারিউপোলের প্রতিরক্ষায় অংশ নেন। ২০২২ সালের ১২ এপ্রিল ইলিচ কারখানা থেকে সহযোদ্ধাদের সঙ্গে বের হওয়ার সময় তিনি রুশ বাহিনীর হাতে বন্দি হন।    এরপর প্রায় তিন বছর রাশিয়ার বন্দিদশায় কাটে তার। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তার বর্ণনা অনুযায়ী, বন্দিদশায় তাকে নির্যাতন ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের বন্দিত্ব, কঠিন পরিস্থিতি এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবের কারণে তার ওজন প্রায় ৪০ কেজি কমে যায় বলে তিনি জানিয়েছেন।    বন্দিদশার সময় তাকে রাশিয়ার মর্দোভিয়ার একটি কারাগারে রাখা হয়েছিল বলে ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। কিরিয়েঙ্কো পরে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, বন্দিদের ওপর নির্যাতন চালানো হতো এবং তাদের খাবার ও চিকিৎসা নিয়েও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এসব বক্তব্য তার নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।    ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে অবশেষে ইউক্রেনে ফেরেন কিরিয়েঙ্কো। দেশে ফেরার পর তিনি শারীরিক পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। প্রায় তিন বছরের ব্যবধানের দুটি ছবিতে তার আগের শক্তসমর্থ চেহারার সঙ্গে মুক্তির পরের শারীরিক অবস্থার বড় পার্থক্য দেখা যায়।    কিরিয়েঙ্কোর বন্দিদশার অভিজ্ঞতা পরে আরও আলোচনায় আসে ২০২৫ সালের আগস্টে। যুক্তরাষ্ট্রের র‍্যাপার আজেলিয়া ব্যাংকস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিরিয়েঙ্কোর বন্দিত্বের আগে ও পরে তোলা ছবি নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। এর জবাবে কিরিয়েঙ্কো বলেন, নির্যাতন একটি অপরাধ এবং বন্দিত্বের এমন অভিজ্ঞতা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত নয়।    মারিউপোলের যুদ্ধ, দীর্ঘ বন্দিত্ব এবং শেষ পর্যন্ত বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে দেশে ফেরার কিরিয়েঙ্কোর ঘটনা ইউক্রেনীয় যুদ্ধবন্দিদের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রায় তিন বছরের ব্যবধানের দুটি ছবি সেই দীর্ঘ সময়ের শারীরিক পরিবর্তনকে দৃশ্যমান করে তুলেছে। দেশে ফিরলেও বন্দিদশার অভিজ্ঞতা থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে তার দীর্ঘ পুনর্বাসনের প্রয়োজন হচ্ছে বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১:২
দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের
দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের, বাড়ছে কূটনৈতিক বিরোধ

দক্ষিণ আফ্রিকার নির্দিষ্ট কিছু নাগরিকের বিরুদ্ধে নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৫ সেপ্টেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, জাতিগত বৈষম্য, সহিংসতায় উসকানি এবং ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি অধিগ্রহণের মতো নীতির সঙ্গে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে এই ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়েছে।    রুবিওর অভিযোগ, দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার গ্রামীণ এলাকায় অপরাধ, সহিংস ও অবমাননাকর বক্তব্য এবং আফ্রিকানারসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জাতিগত বৈষম্যমূলক নীতি যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতিতে এসব নীতি তৈরি বা বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।    এর মধ্যে ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি অধিগ্রহণের নীতি, জাতিগত বৈষম্য এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আসন্ন সহিংসতায় উসকানির অভিযোগও রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী বা এতে সহযোগী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভিসা বিধিনিষেধ প্রয়োগ করা হবে।   দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আপত্তি অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার ভূমি আইন, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য এবং কৃষকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ওই আদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য মার্কিন সহায়তা বন্ধের নির্দেশ এবং নির্যাতনের শিকার আফ্রিকানারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগের কথাও বলা হয়েছিল।    তবে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার এসব অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। দেশটির পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাস, বৈষম্য ও ভূমি সংস্কারের বাস্তবতা যথাযথভাবে তুলে ধরে না। প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার সরকারও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অভিযোগের জবাবে নিজেদের নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।    এদিকে নতুন ভিসা নীতির আওতায় ঠিক কোন কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তাদের নাম প্রকাশ করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। দক্ষিণ আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভূমি সংস্কার, জাতিগত নীতি, গ্রামীণ অপরাধ এবং রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে মতপার্থক্য অব্যাহত থাকায় দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নতুন এই পদক্ষেপের প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ০:৪৫
মর্গে ৫ দিন পড়ে ছিল মরদেহ
মর্গে ৫ দিন পড়ে ছিল মরদেহ, হঠাৎ জীবিত হয়ে ওঠেন খোরশেদ, চমকে যায় সবাই

২০০৯ সালের ঘটনা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঁচ দিন পড়ে ছিল খোরশেদ আলমের মরদেহ। লিভারের জটিলতায় চিকিৎসাধীন খোরশেদকে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়। স্বজনেরা শোকাহত হয়ে দাফনের প্রস্তুতি নিলেও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কারণে মরদেহ কয়েক দিন মর্গে রাখা হয়। পঞ্চম দিন মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার সময় ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা।   পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, মরদেহ বহনের সময় হঠাৎ নড়েচড়ে ওঠেন খোরশেদ। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্বজনেরা দ্রুত তাকে আবার হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন বলে জানা যায়। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং খোরশেদ পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘মৃত খোরশেদ’ নামে।   ঘটনাটি ২০০৯ সালের হলেও এত বছর পরও চট্টগ্রামের স্থানীয় মানুষের মধ্যে গল্পটি প্রচলিত রয়েছে। তবে ঘটনার চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা সে সময়ের হাসপাতাল-সংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে তাকে কীভাবে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল বা পরে তার নড়াচড়ার সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক কারণ কী ছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।   সম্প্রতি সেই খোরশেদ আলমের সঙ্গে দেখা করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসাইন। এ সময় খোরশেদের বর্তমান জীবনযাপন ও আর্থিক পরিস্থিতির কথা জানতে পারেন তিনি। খোরশেদের জন্য নিজের অর্থায়নে একটি দোকানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।   মেয়রের এই উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন খোরশেদ। একপর্যায়ে তিনি মেয়রকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। দীর্ঘদিন পরও যে পুরোনো ঘটনাটি মানুষের মনে রয়ে গেছে, সেই খোরশেদের জীবনে নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করতেই দোকানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।   চট্টগ্রামের মানুষের কাছে খোরশেদের গল্প শুধু অস্বাভাবিক একটি ঘটনার স্মৃতি নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে বেঁচে থাকা একটি স্থানীয় কাহিনি। ২০০৯ সালের সেই ঘটনার পর কেটে গেছে বহু বছর। আর এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছেন খোরশেদ, তার সেই পুরোনো পরিচয়ের কারণে নয়, বরং জীবিকা গড়ার একটি নতুন সুযোগ পাওয়ার কারণে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ০:৩০
যুক্তরাষ্ট্রে বড় মজুরি পরিবর্তনের প্রস্তাব
যুক্তরাষ্ট্রে বড় মজুরি পরিবর্তনের প্রস্তাব, ঘণ্টায় ৭.২৫ থেকে ২৫ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ৭ দশমিক ২৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৫ ডলার করার প্রস্তাব উঠেছে কংগ্রেসে। ‘সবার জন্য জীবিকার উপযোগী মজুরি আইন’ নামে প্রস্তাবিত বিলটি ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সিনেটে উত্থাপন করা হয় এবং পরে সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তবে এটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ৭ দশমিক ২৫ ডলার। নতুন প্রস্তাবে একবারে মজুরি ২৫ ডলারে উন্নীত করার পরিবর্তে কয়েক ধাপে তা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। বিল অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি ১২ ডলারে উন্নীত করা হবে। এরপর কয়েকটি ধাপে মজুরি বাড়িয়ে ঘণ্টাপ্রতি ২৫ ডলারে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   প্রস্তাবিত আইনে বড় ও ছোট ব্যবসার জন্য আলাদা সময়সীমা রাখার কথা বলা হয়েছে। বড় নিয়োগদাতাদের ২০৩২ সালের মধ্যে কর্মীদের ঘণ্টায় ২৫ ডলার মজুরি দেওয়ার লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। ছোট ব্যবসাগুলোকে এই পরিবর্তনের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি সময় দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে সময়সীমা ২০৩৯ সাল পর্যন্ত যেতে পারে।   বিলটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভবিষ্যতে ন্যূনতম মজুরি কীভাবে সমন্বয় করা হবে। ২৫ ডলারে পৌঁছানোর পর জাতীয় মধ্যম মজুরির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি নিয়মিত সমন্বয় করার প্রস্তাব রয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে জীবনযাত্রার ব্যয় ও দেশের সামগ্রিক মজুরি কাঠামোর পরিবর্তনের সঙ্গে ন্যূনতম মজুরি সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।   প্রস্তাবটির সমর্থকেরা মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি অপরিবর্তিত থাকায় কর্মীদের আয় জীবনযাত্রার ব্যয় ও সামগ্রিক মজুরি বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়েনি। তাদের মতে, ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো হলে কম আয়ের কর্মীদের উপার্জন বাড়তে পারে। অন্যদিকে, সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, বড় ধরনের মজুরি বৃদ্ধিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শ্রম ব্যয় বাড়বে। এর প্রভাব পণ্যের দাম, নিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ওপর পড়তে পারে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসাগুলোর ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।   তবে প্রস্তাবিত এই বিলকে বর্তমান আইন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ২০২৬ সালের ১৪ জুলাই বিলটি সিনেটে উত্থাপনের পর স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শ্রম ও পেনশনবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ এটি এখনো আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষে অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরসহ আরও কয়েকটি ধাপ পেরোতে হবে।   ফেডারেল ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কর্মী, নিয়োগদাতা ও ভোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিতর্ক সামনে এনেছে। কর্মীদের বেশি মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বাড়তি ব্যয়, পণ্যের দাম এবং কর্মসংস্থানের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত ঘণ্টাপ্রতি ২৫ ডলারের মজুরি কেবল একটি প্রস্তাব, এটি কার্যকর কোনো আইন নয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ২৩:৪০