সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীনদের সহায়তার কোটি কোটি ডলার আত্মসাতের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৮:৩৫
সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ায় কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অভিযান। ছবি: সংগৃহীত
সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ায় কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অভিযান। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীন মানুষের আবাসন ও সহায়তার জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ। একই ঘটনায় চতুর্থ এক ব্যক্তি অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগে দোষ স্বীকার করতে সম্মত হয়েছেন। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এসব ঘটনায় কোটি কোটি ডলারের সরকারি অর্থ ব্যক্তিগত খরচ, ব্যবসা ও অন্যান্য কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

 

১৬ সেপ্টেম্বর মার্কিন বিচার বিভাগের ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি কার্যালয় জানায়, গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ অর্থের অপব্যবহার ও দুর্নীতি তদন্তে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযানের অংশ হিসেবে এসব মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ‘হোম অ্যাট লাস্ট’ নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ইয়ং, ‘দ্য বিগ ব্লু আমব্রেলা’র প্রধান নির্বাহী ডনিয়ে মিচেল এবং ‘স্পেশাল সার্ভিস ফর গ্রুপস’-এর কর্মী লাকিয়া ম্যালোন। চতুর্থ ব্যক্তি আলেকজান্ডার সুফার ‘অ্যাবানড্যান্ট ব্লেসিংস’ নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন।

 

মাইকেল ইয়ংয়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, গৃহহীনদের আবাসন ও সেবা দেওয়ার জন্য বরাদ্দ ৭৫ লাখ ডলারের বেশি অর্থ তিনি ভুয়া প্রতিষ্ঠান ও বিলিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। পরে সেই অর্থের একটি অংশ বাণিজ্যিক সম্পত্তি, বিলাসবহুল ভ্রমণ, পুরোনো গাড়ি সংস্কার এবং একটি রেস্তোরাঁ ও নাইটক্লাব নির্মাণে ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ।

 

কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ইয়ং কাল্পনিক বা ভুয়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিলেন। এসব প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের কোম্পানি হিসেবে দেখিয়ে ভুয়া দরপত্র, জাল স্বাক্ষর ও মিথ্যা চালান ব্যবহার করা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মী, কার্যকর কার্যালয় বা স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ছিল না। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থ নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।

 

অভিযোগের একটি অংশে বলা হয়েছে, ইয়ং ইনগেলউডে ‘সিক্স সেভেন ফাইভ লাউঞ্জ’ নামে একটি বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ ও নাইটক্লাব চালু করতে সরকারি অর্থের ১০ লাখ ডলারের বেশি ব্যবহার করেন। ওই ব্যবসার মদের লাইসেন্স, স্থপতি, নির্মাণকাজ এবং অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার খরচেও করদাতাদের অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ওই অর্থ দিয়ে গৃহহীনদের আবাসনের সঙ্গে সম্পর্কহীন বাণিজ্যিক সম্পত্তিও কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

ইয়ংয়ের বিরুদ্ধে তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লস অ্যাঞ্জেলেস হোমলেস সার্ভিসেস অথরিটির কাছ থেকে পাওয়া অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের নথি অনুযায়ী, হোম অ্যাট লাস্টকে দেওয়া চুক্তিগুলো ২০২৬ সালের জুনে বাতিল করে লস অ্যাঞ্জেলেস হোমলেস সার্ভিসেস অথরিটি। সংস্থাটি জানিয়েছে, অনিয়মের শক্ত প্রমাণ পাওয়া এবং চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থতার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

দ্বিতীয় মামলায় ডনিয়ে মিচেলের বিরুদ্ধে ১২ লাখ ডলারের বেশি অনুদান প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মিচেল ‘দ্য বিগ ব্লু আমব্রেলা’র প্রধান নির্বাহী ও নির্বাহী পরিচালক। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির অর্থায়নে পরিচালিত একটি সংস্থার কাছে নিজের প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও গৃহহীনদের আবাসন দেওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে ওই অর্থ পান।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থ পাওয়ার পর মিচেল প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন ও ব্যয়ের তথ্যেও অসত্য তথ্য দেন। সরকারি অনুদানের অর্থের একটি অংশ নিজের জামিনের খরচ, ক্রেডিট কার্ডের দেনা, পরিবারের সদস্যদের কাছে অর্থ পাঠানো, বাসাভাড়া এবং ভিডিও গেম কেনার মতো ব্যক্তিগত খরচে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার ডলার দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থা মিচেলের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে।

 

মিচেলের বিরুদ্ধে তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১২ লাখ ডলারের বেশি অনুদান প্রতারণার অভিযোগে তারের মাধ্যমে প্রতারণার মামলা করা হয়েছে। তিনি ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রেপ্তার হননি এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাকে পলাতক হিসেবে বিবেচনা করছে।

 

তৃতীয় ঘটনায় স্পেশাল সার্ভিস ফর গ্রুপসের কর্মী লাকিয়া ম্যালোনের বিরুদ্ধে ২১টি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তিনি আলেকজান্ডার সুফারের কাছ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার ডলারের বেশি ঘুষ ও অবৈধ অর্থ নিয়েছেন। বিনিময়ে তিনি গৃহহীনদের আবাসন কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে লোক পাঠাতেন। এসব ব্যক্তির মধ্যে এমন কথিত ‘ভুয়া অংশগ্রহণকারী’ও ছিল, যারা বাস্তবে সংশ্লিষ্ট আবাসনকেন্দ্রে থাকতেন না।

 

তদন্তকারীদের অভিযোগ, এসব কাল্পনিক অংশগ্রহণকারীর জন্য ভুয়া স্বাগতপত্র, উপস্থিতির তালিকা এবং যোগ্যতার নথি তৈরি করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে সুফারের প্রতিষ্ঠান স্পেশাল সার্ভিস ফর গ্রুপসের কাছ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ম্যালোনকে এসব কথিত সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছিল বলে প্রসিকিউটরদের দাবি।

 

এই মামলার সঙ্গে যুক্ত চতুর্থ ব্যক্তি আলেকজান্ডার সুফার তারের মাধ্যমে প্রতারণা ও অর্থপাচারের একটি করে অভিযোগে দোষ স্বীকার করতে সম্মত হয়েছেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিনি স্বীকার করেছেন যে গৃহহীনদের সহায়তার জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থের ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার তিনি পেয়েছিলেন। এর অন্তত ২০ লাখ ডলার ব্যক্তিগত সুবিধা ও গৃহহীনদের আবাসনের সঙ্গে সম্পর্কহীন ব্যবসায় ব্যবহারের কথাও তিনি স্বীকার করেছেন।

 

সুফার অবৈধভাবে পাওয়া অর্থ সরকারের কাছে ফেরত দিতে সম্মত হয়েছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে তার দোষ স্বীকারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

 

মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এসব মামলার তদন্তে এফবিআই, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ বা আইআরএসের অপরাধ তদন্ত শাখা এবং আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় কাজ করছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা আরও চলবে।

 

মার্কিন আবাসন ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী স্কট টার্নার বলেছেন, গৃহহীনদের সহায়তার জন্য দেওয়া সরকারি অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রথম সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি বিল এসাইলিও বলেছেন, এসব ঘটনায় সরকারি অর্থের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এসেছে।

 

তবে মামলাগুলোর সব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মার্কিন বিচার বিভাগের নথিতেও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, অভিযোগপত্র ও ফৌজদারি অভিযোগ কেবল প্রসিকিউশনের অভিযোগ তুলে ধরে। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত সবাই আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

 

সূত্র: মার্কিন বিচার বিভাগ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসার খরচ মেটাতে প্রতি তিনজনে একজন ঋণগ্রস্ত
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসার খরচ মেটাতে প্রতি তিনজনে একজন ঋণগ্রস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের স্বাস্থ্যবিমা থাকলেও তারা চিকিৎসা ঋণের পাহাড় জমিয়ে তুলছেন। দ্য কমনওয়েলথ ফান্ড নামের একটি নির্দলীয় স্বাস্থ্য নীতি গবেষণা গ্রুপের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগকর্তা, 'অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট' মার্কেটপ্লেস বা বেসরকারি খাত থেকে স্বাস্থ্যবিমা নেওয়া প্রতি তিনজন আমেরিকানের মধ্যে একজন চিকিৎসা ঋণের কবলে পড়েছেন। তারা সময়ের সাথে সাথে কিস্তিতে এই ঋণ পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।     এই ঋণের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন, হাসপাতালের বিল থেকেই তাদের এই ঋণের সূত্রপাত। এছাড়া নিয়মিত চেকআপ, চিকিৎসকের চেম্বারে যাওয়া এবং ল্যাব বা ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার মতো সাধারণ চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়েও রোগীরা ঋণের সম্মুখীন হচ্ছেন।   গবেষণার প্রধান লেখক ও স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ সারা কলিন্স সিবিএস নিউজকে জানান, বিমা থাকার পরও রোগীদের নিজেদের পকেট থেকে ঠিক কতটা খরচ করতে হচ্ছে, মূলত তার ওপর ভিত্তি করেই এই ঋণের বিশাল বোঝা তৈরি হয়।   জরিপের তথ্যমতে, চিকিৎসা ঋণে থাকা প্রায় অর্ধেক আমেরিকানের অন্তত দুই হাজার ডলার বা তার বেশি ঋণ রয়েছে, যা কর্মক্ষম ও বেসরকারি বিমাভুক্ত প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ১৫ শতাংশ। এই বিল পরিশোধ করতে গিয়ে ৩৭ শতাংশ মানুষ তাদের জমানো সঞ্চয় ভেঙেছেন। অন্যদিকে, ৩০ শতাংশ মানুষ বাধ্য হয়ে খাবার, ঘর গরম রাখার জ্বালানি বা বাড়ি ভাড়ার মতো দৈনন্দিন মৌলিক চাহিদাগুলো কমিয়ে দিয়েছেন।   এমনকি টাকার অভাবে ৩০ শতাংশ মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে দেরি করছেন বা একেবারেই নিচ্ছেন না। সারা কলিন্সের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ মানুষের কাছেই অতিরিক্ত নগদ অর্থ থাকে না। আকস্মিক কোনো বড় খরচ সামনে এলে তা বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের দৈনন্দিন বাজেটকে পুরোপুরি এলোমেলো করে দেয়। দেশব্যাপী ৬ হাজার ৩৫৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ওপর টেলিফোন ও অনলাইনে পরিচালিত এক জরিপের ভিত্তিতে এই তথ্যগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।   বিশাল এই চিকিৎসা ঋণের বোঝা থেকে কিছুটা মুক্তি পেতে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক সময় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো ভুল চার্জ যুক্ত করে বিল পাঠায়, তাই কোনো অসংগতি মনে হলে গ্রাহকদের অবশ্যই সেই বিল নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত। যদিও ক্রেডিট স্কোর কমার ভয়ে অনেকেই এটি করতে দ্বিধাবোধ করেন, তবে প্রকৃত বিল যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।   এছাড়া, কোনো চিকিৎসার জন্য বিমা কভারেজ প্রত্যাখ্যান করা হলে গ্রাহকরা তাদের বিমা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কিস্তিতে বিল পরিশোধের সুবিধা বা নিজস্ব খরচের পরিমাণ কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে পারেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:২৭
নিউ জার্সিতে ফিলিস্তিনপন্থী শিল্পীকে বাদ দেওয়ার জেরে এড শিরানের কনসার্ট বয়কটের আহ্বান

নিউ জার্সিতে ফিলিস্তিনপন্থী শিল্পীকে বাদ দেওয়ার জেরে এড শিরানের কনসার্ট বয়কটের আহ্বান

'আমি পেডোফাইল হতে ভালোবাসি': শিশু প/র্নো/গ্রাফি চক্রের ডেট্রয়েটের চিকিৎসকের ৯ বছরের কারাদণ্ড

'আমি পেডোফাইল হতে ভালোবাসি': শিশু প/র্নো/গ্রাফি চক্রের ডেট্রয়েটের চিকিৎসকের ৯ বছরের কারাদণ্ড

লস অ্যাঞ্জেলেসে বাস দুর্ঘটনা কভার করতে গিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টার, সাংবাদিকসহ নি হত ৫

লস অ্যাঞ্জেলেসে বাস দুর্ঘটনা কভার করতে গিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টার, সাংবাদিকসহ নি হত ৫

ভেনেজুয়েলার ৪০০ কোটি ডলারের স্বর্ণের মজুত যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে
ভেনেজুয়েলার ৪০০ কোটি ডলারের স্বর্ণের মজুত যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে, দীর্ঘ বিরোধের অবসান

ভেনেজুয়েলার প্রায় ৪০০ কোটি ডলার মূল্যের স্বর্ণের মজুত লন্ডন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানান্তরের বিষয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে থাকা প্রায় ৩১ মেট্রিক টন স্বর্ণ ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে নেওয়া হতে পারে। তবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং বেশ কিছু আইনি ও কারিগরি বিষয় নিষ্পত্তি বাকি রয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত চারজনের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। রয়টার্সও প্রতিবেদনটি উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, তারা স্বাধীনভাবে এর তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি।    প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দেলসি রদ্রিগেজ স্বর্ণের ওপর আইনগত নিয়ন্ত্রণ পেতে পারেন। তবে তাঁর সরকার চাইলেই স্বর্ণ বিক্রি করতে পারবে না। বরং এই স্বর্ণকে জামানত হিসেবে ব্যবহার করে ঋণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে জুনে হওয়া দুটি বড় ভূমিকম্পের পর পুনর্গঠনকাজে অর্থায়নের জন্য ওই অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।    এই স্বর্ণ নিয়ে বিরোধের ইতিহাস প্রায় সাত বছরের। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশ তৎকালীন বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। এরপর ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে রাখা স্বর্ণের ওপর নিয়ন্ত্রণ দাবি করে ভেনেজুয়েলার বিরোধী পক্ষ। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের আদালত পর্যন্ত গড়ায়।    ব্যাংক অব ইংল্যান্ড জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের আদালত নতুন কোনো আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা স্বর্ণের হিসাব নিয়ে কোনো নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পারবে না। ব্যাংকটির বক্তব্য অনুযায়ী, স্বর্ণের ওপর আইনগত কর্তৃত্ব কার, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে যুক্তরাজ্যের আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হবে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরও জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার স্বর্ণের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান মামলায় যুক্তরাজ্য সরকার পক্ষ নয় এবং দেশটির আদালত ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের কাছ থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করে।    ভেনেজুয়েলা ও বিরোধী পক্ষ গত মাসে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে থাকা স্বর্ণ ব্যবহারের পথ খুলতে একসঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছিল। দেশটির জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ তখন বিদেশে থাকা স্বর্ণের মজুত ব্যবহারের উদ্যোগের কথা জানান। প্রস্তাবিত চুক্তিতে স্বর্ণ সরাসরি বিক্রি না করে ঋণের জামানত হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় থাকায় এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা নতুন অর্থায়নের সুযোগ পেতে পারে।    এদিকে স্বর্ণ স্থানান্তরের আলোচনার পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও ভেনেজুয়েলার কূটনৈতিক সম্পর্কও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্য কারাকাসে আবার রাষ্ট্রদূত নিয়োগের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। একই সময়ে ভেনেজুয়েলার সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ তৈরির বিষয়েও আলোচনা চলছে। ফলে স্বর্ণের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের সম্ভাব্য সমাধানটি দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়েছে।   তবে প্রস্তাবিত চুক্তি এখনো সম্পন্ন হয়নি। স্বর্ণ স্থানান্তরের আগে আইনি কর্তৃত্ব, তদারকি এবং অন্যান্য কারিগরি বিষয় চূড়ান্ত করতে হবে। ফলে ৪০০ কোটি ডলারের এই স্বর্ণ কবে এবং কীভাবে লন্ডন থেকে নিউইয়র্কে যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১১:৫১
অ্যামাজনে কর্মীদের জন্য ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম বেতন বাড়িয়ে ২০ ডলার

অ্যামাজনে কর্মীদের জন্য ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম বেতন বাড়িয়ে ২০ ডলার, মিলছে নতুন সুবিধা

দুই মাস পর নিখোঁজ ছেলেকে শনাক্ত করলেন মা

স্কুলের চিমনিতে পচা মরদেহ, দুই মাস পর নিখোঁজ ছেলেকে শনাক্ত করলেন মা

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরির বাজারে কলেজ ডিগ্রিবিহীন তরুণরা এগিয়ে

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরির বাজারে কলেজ ডিগ্রিবিহীন তরুণরা এগিয়ে, চাপে গ্র্যাজুয়েটরা

৫০০ কলেজে ৪০%–এর বেশি শিক্ষার্থী ঋণখেলাপি
কলেজের পড়াশোনায় ফেডারেল ঋণ, পরিশোধে ব্যর্থ শিক্ষার্থীর হার কোথাও ৮০%

যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৫০০টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন পরিশোধে না থাকার হার ৪০ শতাংশ বা তার বেশি। নতুন এক বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠানে এই হার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ‘ননপেমেন্ট রেট’ বলতে এমন ঋণগ্রহীতাদের বোঝানো হচ্ছে, যাঁদের ফেডারেল শিক্ষাঋণ ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে বকেয়া রয়েছে। এটি আনুষ্ঠানিক ‘ডিফল্ট রেট’-এর সঙ্গে এক নয়। এনপিআরের নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ননপেমেন্ট হারের প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই বেসরকারি ও মুনাফাভিত্তিক কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দক্ষিণ ক্যারোলাইনার কনস্ট্রাকশন ট্রেনিং সেন্টার এবং টেক্সাসের লেজেন্ডস বারবার কলেজের মতো কিছু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাঋণ পরিশোধে না থাকার হার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ডাইভারসিফায়েড ভোকেশনাল কলেজের ক্ষেত্রেও হারটি বেশ বেশি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ফেডারেল ঋণ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ৭৩ শতাংশের ঋণ পরিশোধ ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে বকেয়া ছিল। ওই বছর শিক্ষার্থীদের নেওয়া প্রায় ৩৫ লাখ ডলারের ফেডারেল ঋণ প্রতিষ্ঠানটির মোট আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশের সমান ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪০ শতাংশ বা তার বেশি ননপেমেন্ট হারের ৫০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪২৪টিই বেসরকারি মুনাফাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। তালিকায় সরকারি প্রতিষ্ঠান ছিল মাত্র ১৫টি এবং বেসরকারি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ৬১টি। অন্যদিকে, দেশজুড়ে সব প্রতিষ্ঠানের গড় ননপেমেন্ট হার ছিল প্রায় ১৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের সর্বশেষ তথ্যেও শিক্ষাঋণ পরিশোধে সমস্যার ব্যাপকতা দেখা যাচ্ছে। মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার প্রতিষ্ঠানে ননপেমেন্ট হার ২৫ শতাংশ বা তার বেশি ছিল। একই সময়ে প্রায় ৯০ লাখ ঋণগ্রহীতা মোট ২২০ বিলিয়ন ডলারের ফেডারেল শিক্ষাঋণ নিয়ে ডিফল্ট অবস্থায় ছিলেন। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উচ্চ ননপেমেন্ট হারের প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই বারবার, হেয়ারস্টাইলিং, নির্মাণ ও স্বাস্থ্যসেবা সহায়তার মতো পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেয়। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থী তুলনামূলক কম আয়ের পরিবারের এবং পড়াশোনা শেষে অপেক্ষাকৃত কম বেতনের পেশায় প্রবেশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষাঋণ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বড় অংশ ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে ফেডারেল ঋণ অব্যাহত রাখার নীতি কতটা কার্যকর। তবে ননপেমেন্টের পেছনে শিক্ষার্থীদের আয়, ঋণ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধরনসহ একাধিক কারণ থাকতে পারে। এদিকে শিক্ষাঋণ পরিশোধের হার বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরও জবাবদিহি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিভাগটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বকেয়া বা ডিফল্টে থাকা সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঋণ পরিশোধে সহায়তা করার পরামর্শ দিয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে শিক্ষা বিভাগ নতুন একটি জবাবদিহি কাঠামোও চূড়ান্ত করেছে। এর আওতায় যেসব উচ্চশিক্ষা কর্মসূচির শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে পর্যাপ্ত আয় করতে পারছেন না, সেসব কর্মসূচি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলে ফেডারেল ডাইরেক্ট লোন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৮:২২
কারাগারে থেকেও রিমোট কাজ, ঘণ্টায় ২৫ ডলার বেতনের সুযোগ

কারাগারে থেকেও ঘণ্টায় ২৫ ডলার আয়, ব ন্দি দের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কর্মসূচি

ডাউন সিনড্রোমে বেড়ে ওঠা দুই সন্তানকে নিয়ে আইসক্রিম ব্যবসায় বাবা

ডাউন সিনড্রোমের কারণে চাকরি না পাওয়া দুই সন্তানের জন্য আইসক্রিমের ব্যবসা গড়লেন বাবা

বিদেশি সরকারি কর্মীদের সন্তানদের স্থায়ী বসবাস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নিয়ম

নতুন আবেদনকারীদের গ্রিন কার্ড পেতে মানতে হবে শর্ত, জানাল ডিএইচএস

0 Comments