- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে ভ্রমণ না করতে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। ইসরায়েল ও ইরান, হিজবুল্লাহ ও হামাসের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিদেশে ইসরায়েলি ও ইহুদিদের ওপর হামলার ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হালনাগাদ নিরাপত্তা মূল্যায়নে বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকির দেশগুলোর তালিকায় রাখা হয়েছে। একই তালিকায় রয়েছে সোমালিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, লিবিয়া ও আলজেরিয়া। এসব দেশে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। তবে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল জানিয়েছে, এই মূল্যায়ন নতুন করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি নয়। বরং বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি ও ইহুদিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি সম্পর্কে নাগরিকদের সতর্ক করতে এটি প্রকাশ করা হয়েছে। মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো বিদেশে ইসরায়েলি ও ইহুদিদের জন্য সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হামাসও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলি ও ইহুদিদের লক্ষ্য করে হামলার সক্ষমতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। আগামী অক্টোবর মাসে ৭ অক্টোবরের হামলার তৃতীয় বার্ষিকী ঘিরে বিভিন্ন দেশে বড় ধরনের বিক্ষোভ হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। এসব বিক্ষোভের কিছু সহিংস রূপ নিতে পারে এবং একই সময়ে ইসরায়েলিদের লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কাও বাড়তে পারে বলে মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া জর্ডান, কাতার, সোমালিল্যান্ড ও মিসর, বিশেষ করে সিনাই উপদ্বীপে, সর্বোচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় ইসরায়েলিদের ভ্রমণ না করতে এবং অবস্থান করলে সরে যেতে বলা হয়েছে। ইরাক, ইয়েমেন, ইরান, সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলিদের ভ্রমণ আইনগতভাবেই নিষিদ্ধ রয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত ইসরায়েলিদের প্রকাশ্যে ইসরায়েলি বা ইহুদি পরিচয়ের চিহ্ন প্রদর্শন না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ না করা, বিক্ষোভ এড়িয়ে চলা এবং সিনাগগ, কোশার রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য ইহুদি সমাবেশস্থলের আশপাশে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাহামাসে অবকাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ফেরার পথে একটি ছোট বিমান সাগরে বিধ্বস্ত হওয়ার পর এক দম্পতি ও তাদের দুই নাতি-নাতনির খোঁজ মিলছে না। সোমবার দুর্ঘটনার পর তাদের সন্ধানে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। বাহামাসের রয়্যাল বাহামাস পুলিশ ফোর্স জানিয়েছে, সোমবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে আন্দ্রোস দ্বীপের প্রায় ১৩ মাইল পশ্চিমে একটি পাঁচ আসনের পিএ-৩৪ পাইপার বিমান সাগরে পড়ে যায়। বিমানটি বাহামাসের গ্রেট হারবার কে থেকে সকালে উড্ডয়ন করে ফ্লোরিডার ওপা-লকায় যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। নিখোঁজ চারজন হলেন ৮০ বছর বয়সী পাইলট মারিও লামার, তার ৭৯ বছর বয়সী স্ত্রী লিলি লামার এবং তাদের দুই নাতি-নাতনি—২৮ বছর বয়সী সোফিয়া সোসা ও ২২ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ান সোসা। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা সবাই মিয়ামির বাসিন্দা। দুর্ঘটনার আগে পরিবারটি শ্রম দিবসের ছুটির সপ্তাহান্তে গ্রেট হারবার কে-তে নিজেদের বাড়িতে সময় কাটিয়েছিল। পরিবারটির ভাষ্য, বহু বছর ধরে ওই জায়গাটি তাদের কাছে দ্বিতীয় বাড়ির মতো। এবার সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটির গতি হঠাৎ করে কয়েকবার পরিবর্তিত হয়। একই সময়ে মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে এর উচ্চতা ১০ হাজার ফুট থেকে নেমে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ ফুটে চলে আসে। এরপর বিমানটির সঙ্গে রাডার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরিবারের সদস্য সিলভিয়া লারিয়ু জানান, আন্দ্রোস দ্বীপের উত্তর প্রান্তের কাছে বিমানটি খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে পড়েছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বাহামাসের উদ্ধারকারী দলও তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। এক ভিডিও বার্তায় নিখোঁজদের সন্ধানে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন লারিয়ু। তিনি বলেন, তাদের খুঁজে বের করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনতে যেকোনো ধরনের সহায়তা প্রয়োজন। নিখোঁজদের সন্ধানে বাহামাসের কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড। উদ্ধার অভিযানে তারা একটি এইচসি-১৪৪ ওশান সেন্ট্রি বিমান ব্যবহার করছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাইলট মারিও লামার অত্যন্ত অভিজ্ঞ ছিলেন এবং তার ৪০ বছরেরও বেশি সময়ের উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা রয়েছে। এদিকে, সোফিয়া সোসা সম্প্রতি ওয়েক ফরেস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। তার ভাই ক্রিশ্চিয়ান সোসাও সম্প্রতি লয়োলা মেরিমাউন্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ চারজনের পরিবারের সদস্যরা তাদের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। এখন পর্যন্ত তাদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সৌদি আরবে জেদ্দা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চালকসহ চার বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। তায়েফ থেকে জেদ্দাগামী একটি গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে তাদের মৃত্যু হয়। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে তায়েফের আল-খুরমা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা তায়েফ থেকে জেদ্দা বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র ও প্রবাসীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় নিহত চারজনেরই বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়। নিহতদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন করিম উদ্দিন ও খালিদ মিয়া। নিহত অপর দুজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জেদ্দা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশির মৃত্যুতে সৌদি আরবে থাকা প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে নিহতদের নিজ এলাকা কানাইঘাটেও শোকের আবহ বিরাজ করছে। নিহত অপর দুজনের পরিচয় শনাক্ত এবং মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সরকার। নির্দিষ্ট অভিবাসন মর্যাদায় থাকা বিদেশিরাও সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই সুবিধা পেতে পারেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেই এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিএইচএস-এর নিয়ম অনুযায়ী ‘যোগ্য বিদেশি’ হিসেবে বিবেচিত হতে হবে। এসএসআই হলো সীমিত আয় ও সম্পদ থাকা ব্যক্তিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাত ধরনের অভিবাসন মর্যাদায় থাকা বিদেশিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এই সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন। প্রথমত, যারা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন, তারা এই তালিকায় রয়েছেন। এর মধ্যে নির্দিষ্ট শ্রেণির আমেরেশিয়ান অভিবাসীরাও অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয়ত, ১৯৮০ সালের ১ এপ্রিলের আগে কার্যকর থাকা অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের নির্দিষ্ট ধারার আওতায় যারা শর্তসাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছিলেন, তারাও যোগ্য হতে পারেন। তৃতীয়ত, ওই আইনের নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী অন্তত এক বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বিশেষ অনুমতি বা ‘প্যারোল’ পাওয়া বিদেশিরাও এসএসআই সুবিধার আওতায় পড়তে পারেন। চতুর্থত, শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিরা এই সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারেন। পঞ্চমত, যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম পাওয়া বিদেশিরাও এই তালিকায় রয়েছেন। ষষ্ঠত, যাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার বা দেশত্যাগ স্থগিত করা হয়েছে, তারাও নির্দিষ্ট শর্তে এসএসআই সুবিধা পেতে পারেন। সপ্তমত, আইনি সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘কিউবান বা হাইতিয়ান প্রবেশকারী’ হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিরা এবং এসএসআইয়ের ক্ষেত্রে একই মর্যাদা পাওয়া ব্যক্তিরাও এই সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারেন। তবে তালিকায় থাকা কোনো একটি শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হলেই এসএসআই পাওয়া নিশ্চিত নয়। বিদেশিদের ক্ষেত্রে আয়, সম্পদ এবং অন্যান্য নির্ধারিত শর্তও পূরণ করতে হবে। একইভাবে, শুধু দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেই কেউ এই সুবিধার জন্য যোগ্য হয়ে যাবেন না। এদিকে, বিদেশিদের সরকারি সুবিধা নেওয়া নিয়ে ডেনমার্কেও সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সরকার। কাজ বা পড়াশোনার অনুমতিতে থাকা বিদেশিরা নির্দিষ্ট কিছু সরকারি সুবিধা নিলে তাদের বসবাস বা কাজের অনুমতি বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমনকি তাদের সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্যরাও দেশটিতে থাকার অধিকার হারাতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ৪০ বছর বয়সী রিস উইলার্ড প্রথমে বুঝতেই পারেননি, তার শরীরে ধীরে ধীরে বাসা বাঁধছে গুরুতর এক রোগ। কয়েক মাস ধরে ক্লান্তি, রাতে অতিরিক্ত ঘাম ও দ্রুত ওজন কমার মতো উপসর্গ দেখা দিলেও সেগুলোকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি তিনি। কিন্তু হঠাৎ শরীরজুড়ে বড় বড় কালশিটে দেখা দেওয়ার পর রক্ত পরীক্ষা করাতেই সামনে আসে ভয়ংকর সত্য—তিনি অ্যাকিউট মাইলয়েড লিউকেমিয়ায় (এএমএল) আক্রান্ত। ডালাসে স্ত্রী সারাহ উইলার্ড ও মেয়েকে নিয়ে থাকেন রিস। কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড ক্লান্তিতে ভুগছিলেন তিনি। রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে গেলেও ক্লান্তি কাটছিল না। পরে শুরু হয় রাতে অতিরিক্ত ঘাম, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া এবং ত্বকে ছোট ছোট লাল দাগ। শুরুতে এসব উপসর্গ খুব একটা গুরুতর মনে হয়নি। একদিন রিসের শরীরের পাশে বেশ কিছু লাল দাগ দেখতে পান তার স্ত্রী। গ্লাস দিয়ে চাপ দিয়ে দেখে ওই জায়গার ছবি তোলেন তিনি। পরে ছবিটি চ্যাটজিপিটিতে দিলে সেটি দাগগুলোকে ‘পিটেকিয়া’ হতে পারে বলে জানায়। ছোট রক্তনালি থেকে ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ হলে এমন লাল দাগ দেখা দিতে পারে। তবে তখনও বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত হননি তারা। পরিস্থিতি বদলে যায় প্রায় ছয় সপ্তাহ পর। রিস নিয়মিত হাঁটাহাঁটি ও আউটডোর কার্যক্রম করতে পছন্দ করেন। একবার ২৭ মাইল বা প্রায় ৪৩ কিলোমিটার হাঁটার পর বাড়ি ফিরে তার শরীরজুড়ে বিশাল বিশাল কালশিটে দেখতে পান সারাহ। মুষ্টির সমান আকারের এসব কালশিটে ছিল তার হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে। সারাহ বলেন, এতটা শারীরিক পরিশ্রমের পরও এমন কালশিটে হওয়া স্বাভাবিক নয়। তখনই বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এরপর আগের চ্যাটজিপিটি কথোপকথনে রিসের নতুন উপসর্গের কথা জানান সারাহ। এবার দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। রিস হাসপাতালে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা তার সম্পূর্ণ রক্ত পরীক্ষা করেন। পরীক্ষার ফল হাতে পেয়েই তারা বুঝতে পারেন, পরিস্থিতি গুরুতর। তাকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করে আরও পরীক্ষা শুরু করা হয়। পরদিন একজন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ রিসকে জানান, তার শ্বেত রক্তকণিকার ৮৭ শতাংশই মাইলোব্লাস্ট। এটি লিউকেমিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। পরে বোন ম্যারো বা অস্থিমজ্জার পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়, রিস অ্যাকিউট মাইলয়েড লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত। এএমএল একটি দ্রুতগতির রক্তের ক্যানসার। এই রোগে ক্লান্তি, জ্বর, ওজন কমে যাওয়া ও রাতে ঘামের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। রক্তের বিভিন্ন কোষের মাত্রা কমে গেলে সহজেই কালশিটে পড়া, বারবার সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্টও হতে পারে। রিসকে পরে বেইলর ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শুরু হয় চিকিৎসা। একপর্যায়ে তিনি সেপটিক শকেও আক্রান্ত হন। এএমএলের চিকিৎসায় তাকে অত্যন্ত শক্তিশালী কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। এতে তার রক্তের বিভিন্ন উপাদানের মাত্রা আরও কমে যায় এবং প্রচণ্ড ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। তবে চিকিৎসায় সাড়া দিয়েছেন রিস। বর্তমানে তিনি গভীর রেমিশনে রয়েছেন এবং ধীরে ধীরে তার রক্তের মাত্রা স্বাভাবিকের দিকে ফিরছে। টানা ৩০ দিন হাসপাতালে থাকার পর অবশেষে বাড়ি ফেরেন তিনি। এক মাস পর স্বামীকে হাসপাতাল থেকে বের হতে দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি সারাহ। এই অভিজ্ঞতার পর রিসের জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে গেছে। নিজের গল্প শেয়ার করে তিনি অন্যদের শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার পরামর্শ, জীবনের ব্যস্ততার মধ্যে নিজের শরীরের সংকেতগুলো যেন কেউ উপেক্ষা না করেন। অস্বাভাবিক কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্কুলকে লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে যৌনধর্মী ডিপফেক ছবি তৈরি করছে অপরাধী চক্র। পরে এসব ছবি ব্যবহার করে স্কুল কর্তৃপক্ষকে ব্ল্যাকমেইল করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের প্রায় অর্ধেক স্কুলপ্রধান জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের ছবি ক্ষতিকর কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের ঘটনাও রয়েছে। একই সঙ্গে অর্ধেকের বেশি স্কুলপ্রধান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, স্কুলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত শিক্ষার্থীদের ছবিও এআইয়ের অপব্যবহারের ঝুঁকিতে রয়েছে। শিশু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইনে শিশুদের যৌনধর্মী ডিপফেক ছবি তৈরির ঘটনা এখন ‘মহামারি’র মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্কুলগুলোও অপরাধীদের টার্গেটে পরিণত হচ্ছে। এআইভিত্তিক শিশু সুরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইডোসের উদ্যোগে পরিচালিত ‘ইন প্লেইন সাইট’ শীর্ষক প্রতিবেদনের জন্য যুক্তরাজ্যের ৫০০টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের ওপর জরিপ চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, ৪৯ শতাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ছবি অপব্যবহার, বিকৃত করা বা চাঁদাবাজির চেষ্টার অন্তত একটি ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন। এ ছাড়া ৫৪ শতাংশ শিক্ষক জানিয়েছেন, স্কুলের প্রকাশিত ছবিগুলো এআইয়ের অপব্যবহারের শিকার হতে পারে—এ নিয়ে তাদের ব্যক্তিগত উদ্বেগ রয়েছে। ৪৫ শতাংশ শিক্ষক জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের ছবি অপব্যবহারের অভিযোগে তাদের স্কুলে অভিভাবকদের কাছ থেকে সরাসরি অভিযোগও এসেছে। যুক্তরাজ্যের সাবেক জাতীয় শিশু সুরক্ষা পুলিশিং প্রধান সাইমন বেইলি বলেন, সংগঠিত অপরাধী চক্রগুলো স্কুলপ্রধানদের এমনভাবে টার্গেট করছে, যাতে তাদের ওপর থাকা চাপ ও দুর্বলতার জায়গাগুলো তারা কাজে লাগাতে পারে। তিনি বলেন, অনেক স্কুলপ্রধানই প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। অপরাধীরা এই স্বাভাবিক প্রবণতাকেই কাজে লাগাচ্ছে। তার আশঙ্কা, অনেক স্কুল এমন ঘটনার শিকার হলেও তা কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছে না; বরং বিষয়টি নিজেদের মধ্যেই সামলানোর চেষ্টা করছে। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি জানা যাচ্ছে না। আইডোসের প্রতিষ্ঠাতা ক্যারোল অসবোর্ন বলেন, শুধু অপরাধী চক্রই নয়, যৌন অপরাধীরাও স্কুলের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ব্যবহার করে শিশুদের যৌন নির্যাতনের ভুয়া ছবি তৈরি করছে। এমনকি শিশুরাও অন্য শিশু এবং শিক্ষকদের ছবি ব্যবহার করে ডিপফেক তৈরি করছে। অসবোর্ন বলেন, এসব ঘটনা যে বাড়ছে তা তিনি জানতেন, তবে এত বেশি স্কুল এর শিকার হয়েছে—জরিপের ফল দেখে তিনি নিজেই বিস্মিত হয়েছেন। তার মতে, অনেক স্কুল এখনো মনে করছে তাদের সঙ্গে এমন কিছু ঘটবে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এসব ঘটনা ইতোমধ্যে ঘটছে এবং স্কুলগুলোকে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে হবে। এর আগে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) এবং ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশন (আইডব্লিউএফ) অভিভাবকদের সন্তানদের ছবি অনলাইনে প্রকাশের বিষয়ে সতর্ক করেছিল। আইডব্লিউএফের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড্যান সেক্সটন বলেন, শিশুদের ছবি অনলাইনে প্রকাশ না করতে অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া তার জন্যও অস্বস্তিকর। তবে অনলাইনে প্রকাশিত ছবির অপব্যবহার ঠেকানোর কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় সতর্ক থাকা ছাড়া আপাতত আর কোনো বিকল্প দেখছেন না তিনি।
ঘুষের বিনিময়ে গ্রিন কার্ডসহ বিভিন্ন অভিবাসন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা ইউএসসিআইএস- এর সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম লুকমান ওলাবি গানিউ। তবে তার আইনজীবী এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, গানিউ ইউএসসিআইএস-এ তার পদের অপব্যবহার করে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাস (গ্রিন কার্ড) ও নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদন করতেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি প্রয়োজনীয় সরকারি যাচাই-বাছাই এড়িয়ে বিভিন্ন আবেদন দ্রুত অনুমোদন করেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। এসবের মধ্যে গ্রিন কার্ডের জন্য ব্যবহৃত ‘আই-৪৮৫’ ফর্ম ছাড়াও পারিবারিক স্পনসরশিপ ও নাগরিকত্বের আবেদন অন্তর্ভুক্ত ছিল। আদালতের নথি থেকে জানা যায়, এই দুর্নীতি চক্রে আদেনিই আকিম সোমোয়ে নামে আরেকজন সহযোগী যুক্ত ছিলেন। গত ২ সেপ্টেম্বর গানিয়ু ও সোমোয়ে উভয়কেই গ্রেফতার করা হয়। হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের মাধ্যমে তারা আবেদনকারীদের কাছ থেকে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন বলে তদন্তকারীরা জানান। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, গানিয়ুর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৩০ ডলারের অজ্ঞাত নগদ জমা এবং জেলি ও ক্যাশ অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় ৬ লাখ ৭১ হাজার ৪৩৮ ডলার লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। অথচ ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সরকারি চাকরি থেকে তার বৈধ বেতন ছিল প্রায় ৪ লাখ ৭ হাজার ৮৩৮ ডলার। ২০২৫ সালের মে মাসে একটি গোপন অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। উল্লেখ্য, গানিউ ২০১৮ সালের নভেম্বরে ইউএসসিআইএস-এ যোগ দেন এবং ক্যানসাস, টেক্সাস ও নর্থ ক্যারোলাইনায় দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৪ সালের এপ্রিলে তিনি ডালাসে জ্যেষ্ঠ অভিবাসন সেবা কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি পান। অন্যদিকে, গানিয়ুর আইনজীবী আলফনসো কাবানাস নিউজউইককে জানান, তার মক্কেল কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না এবং সরকারের আনা অর্থনৈতিক লেনদেনের বিবরণীকে তারা চ্যালেঞ্জ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন আবেদনের অনুমোদন ও দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে ইউএসসিআইএসের সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পদ ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার একটি দুর্নীতি চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা লুকমান ওওলাবি গানিউ, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের সাবেক সিনিয়র ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস অফিসার। তাঁর সঙ্গে আদেনিই আকিম সোমোয়ে নামের আরেক ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুজনকেই ২ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়। ফেডারেল আদালতে ৩১ আগস্ট দাখিল করা ফৌজদারি অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গানিউ তাঁর সরকারি পদ ব্যবহার করে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন আবেদন অনুমোদন ও দ্রুত নিষ্পত্তি করতেন বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ। এর মধ্যে ছিল পরিবারের সদস্যদের জন্য ইমিগ্রেশন আবেদন, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের আবেদন, গ্রিন কার্ডের শর্ত তুলে নেওয়ার আবেদন এবং নাগরিকত্বের আবেদন। এসব আবেদনের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা ফেডারেল আইনের অধীনে যোগ্য ছিলেন না বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, গানিউ স্বাভাবিক ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার একাধিক ধাপ পাশ কাটিয়ে আবেদন অনুমোদন করতেন। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় সাক্ষাৎকার, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পর্যালোচনা, নির্ধারিত এখতিয়ার, ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই এবং ইউএসসিআইএসের নিয়মিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের দাবি, গানিউ ও সোমোয়ে মিলে আবেদনকারীদের কাছ থেকে কয়েক লাখ ডলার অর্থ নিয়েছেন। তদন্তে তাদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে হাজার হাজার বার্তা এবং শত শত ফোনকলের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিছু অর্থপ্রদানের সঙ্গে নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন আবেদন অনুমোদনের সরাসরি যোগসূত্রও তদন্তকারীরা পেয়েছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। গানিউয়ের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ হলো সরকারি কর্মকর্তাকে অবৈধ অর্থ দেওয়ার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রতিটি আসামির সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা হতে পারে। মামলাটি তদন্ত করেছে ইউএসসিআইএসের তদন্ত বিভাগ, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় এবং এফবিআইয়ের ডালাস ফিল্ড অফিস। ফেডারেল প্রসিকিউটর রায়ান রেবোল্ড বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তার হাতে বৈধ ইমিগ্রেশন সুবিধার বিনিময়ে অর্থ নেওয়া জনগণের আস্থার গুরুতর অপব্যবহার। এ ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এগুলো এখনো অভিযোগ, আদালতে প্রমাণিত অপরাধ নয়। ফেডারেল বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, ফৌজদারি অভিযোগপত্রে থাকা তথ্যগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে এবং আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিরা নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে বাসা থেকে কাজ করছিলেন ২৩ বছর বয়সী টিয়াহনা। কয়েক দিন ধরে ঘরের ছাদ থেকে একটানা অদ্ভুত শব্দ শুনছিলেন তিনি। তবে সেই শব্দ যে এত বড় কাণ্ডের ইঙ্গিত দিচ্ছিল, তা কল্পনাও করেননি। ঘটনার দিন কাজের ফাঁকে দুপুরের বিরতিতে ছিলেন টিয়াহনা। হঠাৎ আবার ছাদের ভেতর থেকে শব্দ শুনতে পান। কী হচ্ছে, তা দেখতে তিনি মোবাইল ফোন বের করে ভিডিও করা শুরু করেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ছাদের একটি অংশ ভেঙে নিচে পড়ে যায় দুটি পসাম। টিয়াহনা জানান, শব্দ শুনে তিনি ধারণা করেছিলেন ছাদের ভেতরে থাকা কোনো প্রাণীর কারণে এমনটা হতে পারে। তাই ভিডিও শুরু করেছিলেন - যদি পরে কাউকে বলতে হয়, তাহলে যেন প্রমাণ দেখাতে পারেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ভিডিওতেই ধরা পড়ে ছাদ ভেঙে পসাম দুটি ঘরে পড়ে যাওয়ার ঘটনা। টিয়াহনা ও তাঁর রুমমেটরা প্রায় দুই বছর ধরে বাসার ছাদে পসামের উপস্থিতি নিয়ে সমস্যায় ছিলেন। রাতের বিভিন্ন সময় ছাদ থেকে শব্দ শোনা যেত। একটি পসাম সরানোর জন্য বাড়ির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে লোকও পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি। টিয়াহনার ধারণা, ছাদের ভেতরে থাকা দুই পসামের মধ্যে মারামারির একপর্যায়ে ছাদের দুর্বল অংশ ভেঙে তারা রান্নাঘরের ভেতর পড়ে যায়। ওই অংশটি আগে একটি ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলেও জানান তিনি। পরে ছাদের ভাঙা অংশটি একটি বোর্ড দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। ব্রিসবেনে মানুষের বাসাবাড়ির ছাদ বা সিলিংয়ের ভেতর পসাম আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, শহরাঞ্চলে এসব প্রাণীর প্রাকৃতিক আশ্রয় কমে যাওয়ায় তারা অনেক সময় মানুষের বাড়ির ছাদ, গ্যারেজ বা দেয়ালের ফাঁকা জায়গায় আশ্রয় নেয়। পসাম অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় ও আইনগতভাবে সুরক্ষিত বন্যপ্রাণী।
ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাইয়ের কারণে দু'দিন বন্ধ থাকার পর দেশটির প্রধান প্রধান বিমানবন্দরগুলো আবার চালু হয়েছে। তবে মঙ্গলবার নতুন করে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হওয়ায় পুনরায় ফ্লাইট চলাচলে ফের বিঘ্নের আশঙ্কা রয়েছে। রোববার থেকে শুরু হওয়া বিমানবন্দর বন্ধের ঘটনায় ২ হাজার ৯৬১টি ফ্লাইট বাতিল বা বিঘ্নিত হয়, যার মধ্যে ৬২২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। এতে ৩ লাখ ৪১ হাজারের বেশি যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন। যোগাযোগমন্ত্রী দুদি পুরওয়াগান্ধি জানান, ‘রাজধানী জাকার্তার সুকর্ণ-হাত্তা ও হালিম পারদানা কুসুমা বিমানবন্দর, পশ্চিম জাভার বান্দুংয়ের হুসেইন সাস্ত্রানেগারা বিমানবন্দর এবং বানতেন প্রদেশের দুটি ছোট বিমানবন্দর মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে সুমাত্রার ল্যাম্পুংয়ের রাদিন ইন্তেন ২-সহ তিনটি বিমানবন্দর মঙ্গলবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বন্ধ ছিল। এর আগে গত রবিবার থেকে বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ৬২২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটসহ মোট ২,৯৬১টি ফ্লাইট বাতিল হয় এবং প্রায় ৩ লাখ ৪১ হাজারের বেশি যাত্রী আটকা পড়েন।‘ তিনি আরও বলেন,’বাতাসের দিক পরিবর্তনশীল হওয়ায় কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও বিমানে ছাই জমা হয়েছে কি না তা পরীক্ষা এবং রানওয়ে পরিষ্কার করার জন্য বাড়তি সময় নেওয়া হয়। এছাড়া সুকর্ণ-হাত্তা বিমানবন্দরে আটকে থাকা ১৭৮টি বিমানের উড্ডয়নযোগ্যতা পরীক্ষা করা হচ্ছে।‘ সান্দা প্রণালীতে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরিটি গত রবিবার থেকে একটানা অগ্ন্যুৎপাত ঘটানোর পর মঙ্গলবার সকালেও সক্রিয় ছিল। সকাল ৫টা ০৮ মিনিট ও ৫টা ৩৪ মিনিটে দুটি ছোট অগ্ন্যুৎপাত রেকর্ড করা হয়। ভূতাত্ত্বিক সংস্থার প্রধান লানা সারিয়া জানান, পরিস্থিতি আগের মতো ভয়াবহ না হলেও সতর্ক নজরদারি চালানো হচ্ছে। আগ্নেয়গিরিটিকে সতর্কতার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তরে রাখা হয়েছে এবং ৩ কিলোমিটারের মধ্যে পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থার প্রধান লানা সারিয়া বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এসব অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাব আগের তুলনায় কম। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।‘ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় যাত্রীদেরও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। জাভার মালাং থেকে রোববার সকাল থেকে জাকারিয়া ফেরার চেষ্টা করা ৪৬ বছর বয়সী ফিন্না জানান, ‘বারবার ফ্লাইটের সময় পরিবর্তন হওয়ায় বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে তিনি দুটি আন্তঃনগর ট্রেনে রাতভর যাত্রা করে সোমবার ভোর ৩টায় জাকারিয়ায় পৌঁছান।‘ উল্লেখ্য, ১৮৮৩ সালে বিখ্যাত ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর সমুদ্র থেকে উঠে আসে এই 'আনাক ক্রাকাতাউ' (ক্রাকাতাউয়ের সন্তান)। এর আগে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এই আগ্নেয়গিরির একাংশ ধসে পড়ে সৃষ্ট সুনামিতে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। প্রশান্ত মহাসাগরীয় 'রিং অব ফায়ার' এলাকায় অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায় ১২০টিরও বেশি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে একসঙ্গে বাড়ছে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ। সৌদি আরবে হুথিদের হামলায় ৭৩ জন আহত হয়েছেন, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ২৭ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ইরানে বাড়ানো হয়েছে বেশি পেট্রোল ব্যবহারকারীদের জ্বালানির দাম। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির বিকল্প তেল পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট। ইয়েমেনের হুথিদের হামলায় সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকির দাবি, হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নাজরান শহরের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর সৌদির কিছু জ্বালানি স্থাপনার কার্যক্রমও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে হামলার ধরন ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবিগুলোই এখন পর্যন্ত প্রধান তথ্যসূত্র। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প তেল পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এরই মধ্যে তেল রপ্তানি ও বাণিজ্যের জন্য বিকল্প পাইপলাইন, বন্দর ও পরিবহনপথ জোরদার করছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন পাইপলাইন তৈরি করলেও হরমুজ প্রণালির পুরো বিকল্প তৈরি করা সহজ নয়। কারণ বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পরিবহনের সক্ষমতা এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের ক্ষেত্রে এই জলপথের গুরুত্ব অনেক বেশি। সাম্প্রতিক হামলা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কেপলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০টি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যা মে মাসের পর সর্বনিম্ন। অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে বেশি পেট্রোল ব্যবহারকারীদের জন্য জ্বালানির দাম দ্বিগুণ করেছে ইরান। নতুন নিয়মে মাসে ১১০ লিটারের বেশি পেট্রল ব্যবহার করলে প্রতি লিটারে ১ লাখ রিয়াল দিতে হবে। আগের দাম ছিল ৫০ হাজার রিয়াল। ইরানের রাষ্ট্রীয় তেল বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান জানিয়েছেন, নতুন দাম প্রায় ১৫ শতাংশ গ্রাহকের ওপর প্রভাব ফেলবে। আগস্টে দেশটিতে দৈনিক পেট্রোল ব্যবহার রেকর্ড ১৪ কোটি ৫০ লাখ লিটারে পৌঁছেছিল, যেখানে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ১২ কোটি ২০ লাখ লিটার। ঘাটতি মেটাতে অতিরিক্ত জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে। ইরানে বর্তমানে মূল্যস্ফীতিও প্রায় ৬৭ শতাংশে রয়েছে। ফলে নতুন করে পেট্রোলের দাম বাড়ায় খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির বাসিন্দারা। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে তিন দিনের ইসরায়েলি হামলায় ২৭ জন নিহত এবং ৬৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও চিকিৎসাকর্মীও রয়েছেন। কাফর রুম্মানে একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি হামলায় ১২ জন নিহত ও ১০ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও চার নারী ছিলেন বলে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য জানিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলছে, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পরিপ্রেক্ষিতে এসব অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, হিজবুল্লাহর বিস্ফোরকবোঝাই একটি ড্রোন হামলার পর ইসরায়েল পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক টিকে থাকাকে দেশের নিরাপত্তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তাঁর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট। সোমবার রোশ হাইনের এক সমাবেশে আইজেনকোট বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার পর প্রায় তিন বছর ধরে নেতানিয়াহু জবাবদিহি এড়িয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন দূর করে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন। আইজেনকোটের নতুন দল ইয়াশার সাম্প্রতিক জনমত জরিপে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম কান-এর জরিপে দলটি ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ২৩টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যেখানে নেতানিয়াহুর লিকুদ পেতে পারে ২০টি। তবে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের কাছাকাছি নেই। সৌদি আরবে হুথি হামলা, লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও চাপ বাড়ছে। একই সময়ে ইরানের অভ্যন্তরে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি দেশটির অর্থনৈতিক সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে লিস্টেরিয়া মনোসাইটোজেনেস ব্যাকটেরিয়ার সম্ভাব্য দূষণের আশঙ্কায় আট অঙ্গরাজ্য থেকে আমদানি করা শুকরের মাংসের একটি পণ্য প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টিকে সবচেয়ে গুরুতর ‘ক্লাস-১’ রিকল হিসেবে ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ফুড সেফটি অ্যান্ড ইনস্পেকশন সার্ভিস। যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত প্রক্রিয়াজাত শুকরের মাংস পণ্য গ্রহণে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা 'ক্লাস ১' রিকল (পণ্য বাজার থেকে তুলে নেয়ার নির্দেশ) জারি করেছে সেদেশের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)। সরকারি পরিদর্শকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ক্ষতিকর ‘লিস্টেরিয়া মোনোসাইটোজেনেস নামক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ধরা পড়ায় ৮টি অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়া পণ্যগুলো জরুরি ভিত্তিতে ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর (রবিবার) মার্কিন কৃষি বিভাগের ফুড সেফটি অ্যান্ড ইন্সপেকশন সার্ভিস (এফএসআইএস) জানায়, প্রাইম লাইন ডিস্ট্রিবিউটরস এবং ফেরারিনি ইউএসএ যৌথভাবে প্রায় ১,৫১৩ পাউন্ড শুকরের গাল দিয়ে তৈরি শুষ্ক ও প্রক্রিয়াজাত মাংস (পোর্ক গুয়ানচিয়ালে) বাজার থেকে তুলে নিচ্ছে। ইতালি থেকে আমদানিকৃত এই পণ্যটি মূলত ইতালীয় খাবারে ব্যবহৃত হয়। পরিদর্শনের সময় পরীক্ষার নমুনা পজিটিভ আসায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, আইডাহো, ইলিনয়, মিশিগান, নিউ জার্সি, নিউ ইয়র্ক এবং টেক্সাস—এই ৮টি অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, খুচরা দোকান ও পরিবেশকদের কাছে পণ্যটি সরবরাহ করা হয়েছিল। আক্রান্ত পণ্যের বিবরণ: পণ্যটির LOT নম্বর 263311US, বেস্ট-বাই তারিখ ১৬ মে ২০২৭ এবং প্রতিষ্ঠানের নম্বর IT 1937 L CE। এখন পর্যন্ত পণ্যটি খেয়ে কেউ অসুস্থ হওয়ার খবর মেলেনি। তবে এফএসআইএস গ্রাহকদের এটি না খাওয়ার এবং দোকান বা রেস্তোরাঁগুলোকে তা বিক্রি না করার আহ্বান জানিয়েছে। এফএসআইএস-এর মতে, লিস্টেরিয়া ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে সৃষ্ট লিস্টেরিওসিস মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী, নবজাতক এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তিদের জন্য এটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ। সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাংসপেশিতে ব্যথা, মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, মানসিক বিভ্রান্তি, শরীরের ভারসাম্য হারানো এবং খিঁচুনি। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এর ফলে গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব বা নবজাতকের জীবনঘাতী অসুস্থতা হতে পারে। উল্লেখ্য, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যবাহিত রোগের বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সাইক্লোস্পোরা, সালমোনেলা ও ই-কোলাই সংক্রমণের কারণে প্রায় ১৮,০০০-এর বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং মেক্সিকো থেকে আসা আইসবার্গ লেটুস পাতা থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাদুর্ভাবে ৪৯৫ জন হাসপাতালে ভর্তি ও দুইজন মারা গেছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে এই মাংসের রিকল জারি হলো।
ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও ছাইয়ের কারণে দুই দিন বন্ধ থাকার পর জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দরসহ পাঁচটি বিমানবন্দর আবার চালু হয়েছে। তবে আগ্নেয়গিরিটি এখনো সক্রিয় থাকায় নতুন করে ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধি জানিয়েছেন, সুকর্ণো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মঙ্গলবার আবার বিমান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। জাকার্তার আরেকটি বিমানবন্দর হালিম পেরদানাকুসুমা, পশ্চিম জাভার বান্দুংয়ের বিমানবন্দর এবং বানতেন প্রদেশের আরও দুটি বিমানবন্দরও পুনরায় চালু হয়েছে। আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে রোববার থেকে বিমানবন্দরগুলো বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এ ঘটনায় ২ হাজার ৯৬১টি ফ্লাইট বাতিল, বিলম্বিত বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ৩ লাখ ৪১ হাজারের বেশি যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হন। এর মধ্যে ৬২২টি ছিল আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দরে বন্ধ থাকার সময় ১৭৮টি বিমান মাটিতে আটকে ছিল। বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার আগে এসব বিমানের উড্ডয়নযোগ্যতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও অন্যান্য স্থাপনাও পরিষ্কার করা হয়েছে। তবে বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। আনাক ক্রাকাতাউ থেকে মঙ্গলবার ভোরেও নতুন কয়েকটি ছোট অগ্ন্যুৎপাতের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, ছাইয়ের উচ্চতা ও বাতাসের গতিপথের ওপর নির্ভর করে এসব অগ্ন্যুৎপাত আবারও বিমান চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে। আনাক ক্রাকাতাউ জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝামাঝি সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত। আগ্নেয়গিরিটি জুলাই থেকেই ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা স্তরে রয়েছে। কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও জেলেদের সক্রিয় জ্বালামুখ থেকে অন্তত ৩ কিলোমিটার দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। আনাক ক্রাকাতাউ মূল ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির ধ্বংসাবশেষের ওপর গড়ে ওঠা নতুন আগ্নেয় দ্বীপ। ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতোয়া অগ্ন্যুৎপাতে প্রায় ৩৬ হাজার মানুষ নিহত হয়। পরে ২০১৮ সালে আনাক ক্রাকাতাউয়ের একটি অংশ ধসে পড়ে সুনামি সৃষ্টি হলে ৪৩০ জনের বেশি মানুষ মারা যান। এবারের অগ্ন্যুৎপাতে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি এবং কোনো গণউচ্ছেদের নির্দেশও দেওয়া হয়নি। তবে ছাই ছড়িয়ে পড়ায় কিছু এলাকায় স্কুল কার্যক্রম অনলাইনে নেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার লেখক জিওন গিয়ং-চিওল, যিনি গুরুতর অটিজমে আক্রান্ত ছেলের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লড়াই করে ‘পিটার প্যান বাবা’ নামে পরিচিতি পেয়েছিলেন, মারা গেছেন। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৫৬ মিনিটে ৬৪ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। ২৭ বছর ধরে তিনি একাই তার ছেলের দেখাশোনা করছিলেন। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল, তিনি মারা গেলে কে তার সন্তানের দায়িত্ব নেবে এবং কোথায় সে নিরাপদে থাকতে পারবে। গত বছর চূড়ান্ত পর্যায়ের লিভার ক্যানসার ধরা পড়ার পরও নিজের চিকিৎসার চেয়ে ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিলেন জিওন। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আবাসিক প্রতিষ্ঠান ও কল্যাণকেন্দ্র খুঁজতে থাকেন, যেখানে তার অনুপস্থিতিতেও ছেলে নিরাপদে থাকতে পারবে। একপর্যায়ে তিনি প্রায় এক হাজার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেও ছেলের জন্য জায়গা খুঁজে পাননি। পরে নিজের গল্প প্রকাশ্যে তুলে ধরলে বিষয়টি ব্যাপক মানুষের নজরে আসে। টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও তার সংগ্রামের কথা উঠে আসে। দেশজুড়ে সহায়তা ও সমর্থন পাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত তার ছেলের জন্য একটি নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা হয়। নিজের এই দীর্ঘ সংগ্রাম নিয়ে তিনি একটি বইও লেখেন। গুরুতর প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেঁচে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আরও ভালো আবাসন ও যত্নের ব্যবস্থা প্রয়োজন, এই বার্তাও তিনি তুলে ধরেছিলেন। মৃত্যুর আগে ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার উদ্বেগই তাকে মানুষের কাছে আলাদা করে পরিচিত করে তোলে। তার গল্প দক্ষিণ কোরিয়ায় গুরুতর প্রতিবন্ধী সন্তানদের দীর্ঘমেয়াদি যত্ন ও পরিবারের ওপর থাকা চাপ নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করে। জিওনের ইচ্ছা অনুযায়ী তার মৃত্যুর পর আলাদা কোনো শোকসভা বা মরদেহ দর্শনের আয়োজন রাখা হয়নি।
ক্যালিফোর্নিয়ায় সাবেক ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তা ও ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে কাজ করা ব্যক্তিদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের পথ বন্ধ করতে একটি বিল পাস করেছে অঙ্গরাজ্যটির আইনসভা। এখন বিলটি গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ‘গেট দ্য ফেডস আউট অ্যাক্ট’ বা ‘জিটিএফও অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত বিলটির লক্ষ্য হলো যারা ফেডারেল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন, তাদের ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় চাকরির ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করা। এর আওতায় রাজ্য, কাউন্টি, শহর, স্কুল ডিস্ট্রিক্টসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান পড়বে। বিলটি অ্যাসেম্বলিতে মে মাসে ৫৩-২১ ভোটে পাস হয়। আগস্টের শেষ দিকে সিনেটও বিলটি অনুমোদন করে এবং সিনেটের সংশোধনীতে অ্যাসেম্বলির সম্মতি পাওয়ার পর এটি গভর্নরের কাছে পাঠানো হয়। বিলটির মূল উদ্যোক্তাদের একজন ডেমোক্র্যাট অ্যাসেম্বলিম্যান মার্ক গনজালেজ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে একই ধরনের দায়িত্বশীলতা ও মূল্যবোধের মানদণ্ড থাকা প্রয়োজন। তবে বিলটি নিয়ে বিরোধিতাও রয়েছে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা এর সমালোচনা করে বলেছেন, ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পালন করাকে কেন্দ্র করে কাউকে ভবিষ্যতে সরকারি চাকরি থেকে বাদ দেওয়া আইনগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিলটিতে কিছু ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো পুলিশ সংস্থায় যোগ দিয়ে রাজ্যের মৌলিক পুলিশ প্রশিক্ষণ নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রার্থীর যোগ্যতা আলাদাভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। গভর্নর নিউজম এখন বিলটিতে স্বাক্ষর করবেন নাকি ভেটো দেবেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আইনসভা থেকে পাস হওয়া বিলগুলোতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাঁর ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে ক্যালিফোর্নিয়াই হবে সাবেক ফেডারেল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তাদের অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা প্রথম অঙ্গরাজ্যগুলোর একটি।
ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যানোগা পার্কে গুলিতে গুরুতর আহত ২২ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা অ্যাড্রিয়ানা হিমেনেসকে লাইফ সাপোর্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ২৩ আগস্ট গাড়িতে বসে থাকা অবস্থায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি ব্রেন ডেড অবস্থায় ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর অনাগত সন্তানও মারা গেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ আগস্ট সকাল ৭টা ৪৯ মিনিটের দিকে ক্যানোগা পার্কের নর্থগেট অ্যাভিনিউর ৮৩০০ ব্লকের একটি গলিতে গুলির ঘটনা ঘটে। অ্যাড্রিয়ানা ও তাঁর বোন মারিয়া ফার্নান্দা হিমেনেস গাড়ির ভেতরে বসে ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি কাছে এসে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। অ্যাড্রিয়ানা মাথায় গুলিবিদ্ধ হন এবং তাঁর বোনও গুলিতে আহত হন। অ্যাড্রিয়ানা ১৬ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং তাঁর ছয় বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আগামী ১১ সেপ্টেম্বর তাঁর ২৩তম জন্মদিন উপলক্ষে অনাগত সন্তানের লিঙ্গ জানার অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা ছিল। সেই অনুষ্ঠান আর করা হলো না। অ্যাড্রিয়ানার বোন মারিয়া ফার্নান্দাও গুলিবিদ্ধ হন। একটি গুলি তাঁর গলা ভেদ করে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও কণ্ঠনালি অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং সুস্থ হয়ে ওঠার আশা করা হচ্ছে। ঘটনার দুই দিন পর ৩০ বছর বয়সী ওয়াল্টার ফ্রান্সিসকো রদ্রিগেজ গার্সিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের পরিচিত এবং ঘটনার সঙ্গে গ্যাংয়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে কেন তিনি হামলা চালিয়েছিলেন, সেই উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এলএপিডি) ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। অ্যাড্রিয়ানার ছয় বছর বয়সী মেয়েটিকে এখন পরিবারের সদস্যরা দেখাশোনা করছেন। মায়ের মৃত্যুতে শিশুটির ভবিষ্যৎ দেখভাল এবং চিকিৎসা ও শেষকৃত্যের খরচ বহনে সহায়তার জন্য পরিবার তহবিল সংগ্রহ করছে।
গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া বিপন্ন প্রজাতির তিনটি রিংটেইল লেমুরের মধ্যে দুটি ভারতের গুজরাটে পাওয়া গেছে। ভারতের শীর্ষ ধনকুবের মুকেশ আম্বানির পরিবারের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ প্রকল্প বনতারাায় রয়েছে লেমুর দুটি। বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে, একাধিক হাত ঘুরে প্রাণী দুটি সেখানে প্রায় ৪৮ লাখ রুপিতে বিক্রি হয়েছিল। সিআইডির তদন্ত ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ গভীর রাতে গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে তিনটি লেমুর চুরি হয়। এর মধ্যে দুটি পরে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা হয়। ঘটনার পরদিন সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ মামলা করলে তদন্তের দায়িত্ব নেয় সিআইডি। তদন্তে উঠে এসেছে, সাফারি পার্কে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া নিরাপত্তাকর্মী নিপেন মাহমুদের সহযোগিতায় জুয়েল নামের এক বন্য প্রাণী চোরাকারবারি লেমুরগুলো চুরি করেন। পরে প্রাণীগুলো একটি বাড়িতে নিয়ে রেখে তাদের ছবি ও ভিডিও সম্ভাব্য ভারতীয় ক্রেতাদের কাছে পাঠানো হয়। তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, কলকাতার বাবলু ও মুম্বাইয়ের শিপলু নামের দুই ব্যক্তি ২০২৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশে আসেন। পরে স্থানীয় কয়েকজনের মাধ্যমে লেমুর বিক্রির চুক্তি হয়। একটি প্রাপ্তবয়স্ক লেমুর ও একটি শাবকের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৭ লাখ টাকা এবং আরেকটি শাবকের দাম ৩ লাখ টাকা। পরে স্থানীয় এক সীমান্ত লাইনম্যানের সহযোগিতায় দুটি লেমুরকে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাঠানো হয়। কয়েক দফা হাতবদলের পর প্রাণী দুটি গুজরাটের জামনগরে পৌঁছায়। এরপর ভারতীয় ক্রেতারা সেগুলো বনতারা প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৪৮ লাখ রুপিতে বিক্রি করেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। বনতারাায় লেমুর দুটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি বাংলাদেশের তদন্তকারীদের নজরে আসে। ছবির সঙ্গে গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া লেমুরের মিল পাওয়ার পর সেগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতাও চেয়েছে। তবে লেমুর দুটি বাংলাদেশ থেকে চুরি হওয়া প্রাণী কি না, তা বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিয়েছে। কারণ সাফারি পার্কে থাকার সময় প্রাণীগুলোর শরীরে কোনো মাইক্রোচিপ বসানো হয়নি, স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ নম্বরও ছিল না। এমনকি তাদের ডিএনএ প্রোফাইলও সংরক্ষণ করা হয়নি। বর্তমানে দেশে থাকা একটি শাবক লেমুরের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করে ভারতে থাকা দুটি লেমুরের সঙ্গে জেনেটিক সম্পর্ক মিলিয়ে দেখার চেষ্টা চলছে। সিআইডি জানিয়েছে, এ ঘটনায় মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। দুই আসামি জামিনে বের হয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। রিংটেইল লেমুর মাদাগাস্কারের স্থানীয় প্রাণী এবং কালো-সাদা বলয়যুক্ত লম্বা লেজের জন্য পরিচিত। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘের লাল তালিকায় প্রজাতিটি গুরুতরভাবে বিপন্ন হিসেবে তালিকাভুক্ত। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বন্য প্রাণী বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণকারী সাইটিসের পরিশিষ্ট-১-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিশেষ শর্ত ছাড়া এর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিষিদ্ধ। বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপন্ন প্রাণী সংরক্ষণে নেওয়ার পরই ডিএনএ প্রোফাইল, মাইক্রোচিপ ও অন্যান্য স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ তথ্য সংরক্ষণ করা জরুরি। এতে প্রাণী চুরি বা পাচারের ঘটনায় মালিকানা ও পরিচয় নিশ্চিত করা সহজ হয়। পাশাপাশি সীমান্তপথে বন্য প্রাণী পাচার ঠেকাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে। সূত্র: আজকের পত্রিকা
ভারতীয় পুরুষদের বিয়ে না করার পরামর্শ দিয়ে এক ইতালীয় ব্যক্তির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, অনেক ভারতীয় পুরুষ মূলত ঘরের কাজ এড়িয়ে চলার জন্য বিয়ে করেন এবং স্ত্রীদের দিয়ে ঘর পরিষ্কারসহ গৃহস্থালির কাজ করানোর প্রত্যাশা করেন। ভিডিওতে ওই ব্যক্তি ভারতীয় সমাজে পুরুষ ও নারীর ভূমিকা এবং পারিবারিক দায়িত্ব নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা এবং সংসারের কাজের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের অসম ভূমিকার অভিযোগ। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর দর্শকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে ভারতীয় সমাজে প্রচলিত পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা ও লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে অনেকে ভিডিওটির সমালোচনা করে বলেছেন, একটি দেশের সব পুরুষকে একই ধরনের আচরণের সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক নয়। তাদের মতে, গৃহস্থালির দায়িত্ব বা দাম্পত্য সম্পর্কের অভিজ্ঞতা ব্যক্তি ও পরিবারের ওপর নির্ভর করে এবং তা দিয়ে একটি পুরো জনগোষ্ঠীকে বিচার করা যায় না। এ কারণে ভিডিওটি ঘিরে মূল বিতর্ক এখন শুধু দাম্পত্য জীবনে ঘরের কাজ ভাগাভাগি করা নিয়ে নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট দেশের বা গোষ্ঠীর মানুষকে সাধারণীকরণ করে মন্তব্য করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে কম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী বাসার সংকট তীব্র হলেও দেশের কিছু শহরে একই সময়ে শত শত এমন ইউনিট খালি পড়ে আছে। এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে, যাদের জন্য এসব বাসা তৈরি করা হয়েছে, তাদের অনেকের কাছেই নির্ধারিত ভাড়াও সামর্থ্যের বাইরে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে অস্টিন, টেক্সাসের ৪৯ বছর বয়সী ম্যাথিউ ডেভিসের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। তিনি একটি গৃহহীন আশ্রয়কেন্দ্রে থাকেন এবং রক্তের প্লাজমা দান করে সামান্য আয় করেন। মাসে ৪৫০ ডলারের একটি ছোট বাসাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। অথচ অস্টিনে শহর কর্তৃপক্ষের হিসাবে ৪ হাজার ৫০০টির বেশি সাশ্রয়ী বাসা খালি পড়ে আছে, যা মোট সাশ্রয়ী ইউনিটের প্রায় ১৬ শতাংশ। এমন পরিস্থিতি শুধু অস্টিনেই নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কম আয়ের মানুষদের জন্য সাশ্রয়ী বাসার ঘাটতি সবচেয়ে বেশি। ন্যাশনাল লো-ইনকাম হাউজিং কোয়ালিশনের হিসাবে, দেশের প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ অত্যন্ত কম আয়ের ভাড়াটিয়া পরিবারের বিপরীতে সাশ্রয়ী ভাড়ার বাসা রয়েছে প্রায় ৪০ লাখ। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় বাসার ঘাটতি প্রায় ৭০ লাখ। অত্যন্ত কম আয়ের পরিবার বলতে সাধারণত এমন পরিবারকে বোঝানো হয়, যাদের আয় দারিদ্র্যসীমার নিচে অথবা নিজ এলাকার মধ্যম আয়ের ৩০ শতাংশের মধ্যে। এই শ্রেণির মানুষদের মধ্যে কম বেতনের কর্মী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল প্রতিবন্ধী মানুষও রয়েছেন। তাদের পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলছে বাড়িভাড়ার চাপ। গবেষণা অনুযায়ী, এই শ্রেণির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ পরিবার তাদের আয়ের অর্ধেকেরও বেশি রেন্ট ও ইউটিলিটি বিল দিতে ব্যয় করে। ফলে খাবার, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের জন্য হাতে খুব কম অর্থ থাকে। সমস্যার একটি বড় দিক হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তৈরি হওয়া অনেক ‘সাশ্রয়ী’ বাসা আসলে সবচেয়ে দরিদ্র মানুষদের জন্য যথেষ্ট সাশ্রয়ী নয়। ২০২৪ সালে লো-ইনকাম হাউজিং ট্যাক্স ক্রেডিট কর্মসূচির আওতায় অর্থায়ন পাওয়া সাশ্রয়ী ইউনিটগুলোর মাত্র প্রায় ১২ শতাংশ ছিল অত্যন্ত কম আয়ের পরিবারের জন্য নির্ধারিত। অন্যদিকে অধিকাংশ ইউনিট এমন পরিবারগুলোর জন্য, যাদের আয় এলাকার মধ্যম আয়ের অন্তত ৫০ শতাংশ। ফলে কাগজে-কলমে এসব বাসা সাশ্রয়ী হলেও সবচেয়ে কম আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছে। অস্টিনের চিত্রটিও বিষয়টি স্পষ্ট করে। শহরটি ২০১৮ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে অত্যন্ত কম আয়ের মানুষের জন্য ২০ হাজার বাসা তৈরির লক্ষ্য নিয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সাল পর্যন্ত তৈরি হয়েছে মাত্র ৫৪৩টি। একই সময়ে এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ আয় করা পরিবারের জন্য পরিকল্পিত প্রায় ১৫ হাজার ইউনিটই তৈরি হয়ে গেছে। এর ফলে একদিকে গৃহহীন মানুষ নিজের জন্য একটি বাসা খুঁজে পাচ্ছেন না, অন্যদিকে তাদের জন্য নির্ধারিত কিছু ইউনিটও খালি পড়ে থাকছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন বাসা নির্মাণ করলেই এই সংকটের সমাধান হবে না। কার জন্য কত ভাড়ায় বাসা প্রয়োজন, সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সাশ্রয়ী বাসার কর্মসূচি সাজানো জরুরি। ম্যাথিউ ডেভিসের মতো মানুষের কাছে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত শুধু একটি বাসার প্রশ্ন নয়। নিজের একটি দরজা বন্ধ করে রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারার মতো একটি জায়গা পাওয়াই তাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া।
আজকের নিউইয়র্ক সিটি এক বিশাল মহানগর। আকাশচুম্বী ভবন, টাইমস স্কয়ার, স্ট্যাচু অব লিবার্টি আর ব্যস্ত নগরজীবনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই শহরের অতীত অবশ্য অনেক পুরোনো এবং বেশ জটিল। নিউইয়র্ক নামটি কীভাবে এলো, তার পেছনে রয়েছে আদিবাসী লেনাপি জনগোষ্ঠী, ডাচ উপনিবেশ এবং পরে ইংরেজ শাসনের দীর্ঘ ইতিহাস। ইউরোপীয়দের আগমনের আগে বর্তমান নিউইয়র্ক অঞ্চলে লেনাপি জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের বসবাস ছিল। ম্যানহাটন দ্বীপকে লেনাপিরা ‘Mannahatta’ নামে চিনত। আধুনিক গবেষণায় সেই সময়ের ম্যানহাটনকে ঘন বন, জলাভূমি, তৃণভূমি ও নানা ধরনের বন্যপ্রাণীর সমৃদ্ধ একটি প্রাকৃতিক এলাকা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ১৬০৯ সালে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হয়ে ইংরেজ নাবিক হেনরি হাডসন বর্তমান নিউইয়র্ক অঞ্চলে পৌঁছান। এরপর ডাচরা হাডসন নদী উপত্যকায় বাণিজ্যিক ঘাঁটি গড়ে তোলে। ১৬২৪ সালে ম্যানহাটন দ্বীপে ডাচ বসতি স্থাপন শুরু হয় এবং পরে এর নাম হয় নিউ আমস্টারডাম। নিউইয়র্ক হিস্টোরিক্যালের তথ্য অনুযায়ী, নিউ আমস্টারডাম ছিল ডাচদের নিউ নেদারল্যান্ড উপনিবেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। তবে নিউইয়র্ক নামটি তখনও আসেনি। ১৬৬৪ সালে ইংরেজরা ডাচদের কাছ থেকে নিউ নেদারল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ৮ সেপ্টেম্বর নিউ আমস্টারডাম আনুষ্ঠানিকভাবে ইংরেজদের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং শহরটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় নিউইয়র্ক। নামটি নেওয়া হয় জেমস, ডিউক অব ইয়র্কের নামে। তিনি ছিলেন ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লসের ভাই এবং নতুন দখল করা ভূখণ্ডের অধিকারও তার সঙ্গে যুক্ত ছিল। ম্যানহাটন কেনার গল্পটিও নিউইয়র্কের ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি। প্রচলিত বর্ণনায় বলা হয়, ১৬২৬ সালে ডাচরা মাত্র ৬০ গিল্ডারের বিনিময়ে ম্যানহাটন দ্বীপ কিনেছিল, যা পরে প্রায় ২৪ ডলারের সমান বলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে ইতিহাসবিদরা মনে করেন, সেই সময়কার জমির মালিকানা, লেনাপি জনগোষ্ঠীর ধারণা এবং ডাচদের জমি অধিগ্রহণের পদ্ধতিকে আধুনিক অর্থে একটি সরল ‘জমি কেনাবেচা’ হিসেবে দেখলে বিষয়টি অতিরিক্ত সরলীকরণ হয়ে যায়। নিউইয়র্কের ইতিহাসে ডাচ অধ্যায়ের প্রভাব এখনো স্পষ্ট। শহরের অন্যতম পরিচিত এলাকা ও রাস্তার নামেও সেই সময়ের ছাপ রয়েছে। এমনকি ‘Wall Street’ নামটির পেছনেও ডাচ আমলের প্রতিরক্ষা দেয়ালের ইতিহাস রয়েছে। পরবর্তী কয়েক শতকে নিউইয়র্ক দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর, বাণিজ্যকেন্দ্র ও অভিবাসীদের শহরে পরিণত হয়। ১৭৮৮ সালে নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্রের ১১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে যুক্ত হয়। পরে নিউইয়র্ক সিটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে। তাই নিউইয়র্কের ইতিহাস কেবল একটি শহরের নাম বদলের গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে লেনাপি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, ডাচ উপনিবেশ, ইংরেজ দখল এবং কয়েক শতকের নগর বিকাশ। নিউ আমস্টারডাম থেকে নিউইয়র্ক হয়ে আজকের বিশ্বনগরীতে পরিণত হওয়ার এই দীর্ঘ পথই শহরটির পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।