সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশুর ইচ্ছা ছিল বাড়ির পাশ দিয়ে কয়েকটি বাইক যাবে, এলেন ১৫ হাজার বাইকার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১০:২২
জার্মানির রাউডারফেনে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছয় বছরের কিলিয়ানের শেষ ইচ্ছা পূরণে এক অনন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত
জার্মানির রাউডারফেনে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছয় বছরের কিলিয়ানের শেষ ইচ্ছা পূরণে এক অনন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

জার্মানির রাউডারফেনে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছয় বছরের কিলিয়ানের ছোট্ট একটি ইচ্ছা পূরণ করতে ২০২১ সালের জুলাইয়ে তার বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছিলেন ১৫ হাজারেরও বেশি মোটরসাইকেল আরোহী। মোটরসাইকেলের প্রতি গভীর ভালোবাসা থাকা কিলিয়ান জানালা দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেই বিশাল বহর দেখেছিল, শুনেছিল প্রিয় বাইকের গর্জন।

 

কিলিয়ানের ইচ্ছা ছিল খুব সাধারণ। সে চেয়েছিল, অনেকগুলো মোটরসাইকেল তার বাড়ির সামনে দিয়ে যাবে এবং সে সেগুলো দেখতে ও ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পারবে। পরিবারের ঘনিষ্ঠজনেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ইচ্ছার কথা জানালে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে জার্মানির বিভিন্ন এলাকা থেকে বাইকাররা রাউডারফেনে ছুটে আসেন। 

 

২৪ জুলাই ২০২১-এ শুরু হয় ‘কিলিয়ানের জন্য গর্জন’ নামে ওই বিশেষ আয়োজন। পুলিশ জানিয়েছিল, এতে প্রায় ১৫ হাজার বাইকার অংশ নেন। কেউ কেউ ১০ থেকে ২০ হাজারের মতো অংশগ্রহণকারীর হিসাবও দিয়েছিলেন। বিশাল বহরটি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যাত্রা শুরু করে এবং প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে একের পর এক মোটরসাইকেল কিলিয়ানের বাড়ির সামনে দিয়ে যায়। 

 

মোটরসাইকেলের পাশাপাশি সেখানে ছিল কোয়াড, ট্রাইক, স্কুটার ও অন্যান্য দুই চাকার যান। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ হাততালি দিয়ে বাইকারদের স্বাগত জানান। কিলিয়ানও বাড়ির জানালা থেকে দীর্ঘ সময় ধরে সেই দৃশ্য দেখেছিল। তার বাবা এই বিপুল মানুষের উপস্থিতিতে অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন। 

 

কিলিয়ান তখন দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিল। মোটরসাইকেল ছিল তার সবচেয়ে বড় ভালোবাসাগুলোর একটি। তাই হাজার হাজার অপরিচিত মানুষের এই উদ্যোগ তার জন্য ছিল জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।

 

তবে সেই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৭ আগস্ট ২০২১, আয়োজনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর, ছয় বছর বয়সী কিলিয়ান ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে মারা যায়। 

 

তার চলে যাওয়ার পরও ‘কিলিয়ানের জন্য গর্জন’ আয়োজনটি মানুষের মনে দাগ কেটে যায়। একটি শিশুর শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে রাস্তায় নেমে আসার সেই ঘটনা আজও মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা প্রতিযোগিতায় জোড়া সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ আব্দুল্লাহ আলিম। ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় আব্দুল্লাহ আলিমের জোড়া সাফল্য

মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা প্রতিযোগিতা ‘বোর্নিও আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা প্রতিযোগিতা (বিআইআইসিসি) ২০২৬’-এর আন্তর্জাতিক পর্বে জোড়া সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশের তরুণ উদ্ভাবক আব্দুল্লাহ আলিম।   নিজের উদ্ভাবনী প্রকল্প ‘বিন টু বেনিফিট’-এর জন্য তিনি প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন বিআইআইসিসি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পরিবেশ পুরস্কার।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারনেট অব থিংসভিত্তিক প্রকল্প আব্দুল্লাহ আলিমের উদ্ভাবিত ‘বিন টু বেনিফিট’ মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিভিন্ন ধরনের সেন্সর এবং ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তিনির্ভর একটি স্মার্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মডেল।   প্রকল্পটির মাধ্যমে স্মার্ট ডাস্টবিনে জমা হওয়া বর্জ্যের পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ডাস্টবিনের অবস্থান ও তথ্য অনুসরণ করা এবং উৎস পর্যায়েই বর্জ্য পৃথকীকরণের ব্যবস্থা করার ধারণা তুলে ধরা হয়েছে।   এ ছাড়া সাধারণ মানুষকে সঠিকভাবে বর্জ্য ফেলতে উৎসাহিত করতে প্রকল্পটিতে ‘গ্রিন কয়েন’ পুরস্কার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণকারী নাগরিকদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব আচরণে উৎসাহিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।   জাতীয় পর্যায়ের সাফল্যের পর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এর আগে বিআইআইসিসি ২০২৬-এর জাতীয় পর্যায়েও ‘বিন টু বেনিফিট’ প্রকল্পের জন্য স্বর্ণপদক অর্জন করেন আব্দুল্লাহ আলিম। জাতীয় পর্যায়ের এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় তিনি আন্তর্জাতিক পর্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান।   আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বর্ণপদকের পাশাপাশি পরিবেশবিষয়ক পুরস্কার অর্জন তাঁর প্রকল্পের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সম্ভাব্য অবদানকেও স্বীকৃতি দিয়েছে।   তরুণ উদ্ভাবকের প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই অর্জন প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ আলিম বলেন, “এই অর্জন কেবল আমার একার নয়, এটি বাংলাদেশের প্রতিটি তরুণের স্বপ্ন, সাহস ও সম্ভাবনার প্রতিফলন।”   আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা তুলে ধরতে পেরে গর্বিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সঠিক সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে দেশের তরুণরা প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরতে পারবেন।   ‘বিন টু বেনিফিট’ প্রকল্পে প্রযুক্তি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক অংশগ্রহণকে একসঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পাওয়া এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের তরুণদের উদ্ভাবনী সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১১:৫১
জার্মানির রাউডারফেনে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছয় বছরের কিলিয়ানের শেষ ইচ্ছা পূরণে এক অনন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশুর ইচ্ছা ছিল বাড়ির পাশ দিয়ে কয়েকটি বাইক যাবে, এলেন ১৫ হাজার বাইকার

হেলিকপ্টার থেকে বিপন্ন ওয়ালাবিদের জন্য ফেলা হচ্ছে গাজর ও মিষ্টি আলু

অস্ট্রেলিয়ায় আগুনে খাবার হারানো প্রাণীদের জন্য আকাশ থেকে ফেলা হলো ১৪.৫ টন খাবার

টাইটানিয়ামেই নতুন জীবন পেলেন আলী

তৃতীয় তলা থেকে পড়ে ৮৩% খুলি ক্ষতিগ্রস্ত, থ্রিডি প্রযুক্তিতে নতুন জীবন পেলেন আলী

আবুধাবি ইন্টারন্যাশনাল হান্টিং অ্যান্ড ইকুয়েস্ট্রিয়ান এক্সিবিশন ২০২৬ বা এডিআইএইচইএক্সের পঞ্চম দফার বাজপাখি নিলামে বিক্রি হয় পাখিটি
মেয়ের পছন্দের পাখি কিনতে ৫ মিনিটে ৫ কোটি টাকা খরচ করলেন দুবাইয়ের শেখ!

আবুধাবির একটি নিলামে বিরল সাদা বাজপাখি বিক্রি হয়েছে ১৫ লাখ সংযুক্ত আরব আমিরাত দিরহামে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। মেয়ের পছন্দের এই পাখিটি কিনতে তার মামা এই বিপুল অর্থ খরচ করেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি ছড়িয়েছে। তবে নিলাম কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্যে ক্রেতার পরিচয় বা মেয়েকে খুশি করতেই পাখিটি কেনা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।  ঘটনাটি ঘটে আবুধাবি ইন্টারন্যাশনাল হান্টিং অ্যান্ড ইকুয়েস্ট্রিয়ান এক্সিবিশন ২০২৬ বা এডিআইএইচইএক্সের পঞ্চম দফার বাজপাখি নিলামে। সেখানে ‘কারমুশা পিওর আল্ট্রা হোয়াইট’ নামে একটি বিরল সাদা গাইর কারমুশা বাজপাখির বাচ্চা ১৫ লাখ দিরহামে বিক্রি হয়। চলতি প্রদর্শনীর নিলামে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হওয়া বাজপাখি।  যুক্তরাষ্ট্রের মার্ক মগলিশ ফ্যালকন ফার্মে পাখিটি প্রজনন করা হয়েছিল। এর ওজন প্রায় ১ কেজি এবং দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ প্রায় ১৬ দশমিক ৫ ইঞ্চি। সম্পূর্ণ সাদা পালক ও বিশেষ শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে নিলামে পাখিটি ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে।  এই নিলাম ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাইখা আল মানসুরি নামের এক তরুণী ও তার মামার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে শাইখাকে বাজপাখি ও পাখির প্রতি নিজের আগ্রহের কথা বলতে দেখা যায়। কে তাকে পাখি সম্পর্কে আগ্রহী করে তুলেছেন জানতে চাইলে তিনি তার মামার কথা বলেন। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি ছড়ায়, তার ইচ্ছা পূরণ করতে মামাই ১৫ লাখ দিরহামের বাজপাখিটি কিনেছেন।  তবে ভিডিওতে ওই ব্যক্তি যে ১৫ লাখ দিরহামের পাখিটির ক্রেতা, এমন সরাসরি প্রমাণ নেই। তাই মেয়ের ইচ্ছা পূরণে মামা পাখিটি কিনেছেন, বিষয়টি এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দাবি হিসেবেই রয়েছে।  সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাজপাখি পালন ও শিকার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। এডিআইএইচইএক্সে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাজপাখি প্রজননকারী, ব্যবসায়ী ও শিকারপ্রেমীরা অংশ নেন। এবারের প্রদর্শনীতে ৫৫টি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজপাখি প্রজনন ও পরিচর্যা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ৭:২৯
শিশুদের ছবি ব্যবহার করে এআই ডিপফেক তৈরির পর স্কুলকে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ—বাড়ছে উদ্বেগ

স্কুলের ওয়েবসাইটের ছবি থেকেই যৌন ডিপফেক, এরপরই চাঁদাবাজির ফাঁদ!

ছবি:সংগৃহীত

দুই দিন পর খুলল ইন্দোনেশিয়ার বিমানবন্দর, ফের অগ্ন্যুৎপাতের শঙ্কা

ধর্মীয় উৎসবের মাঝেই মধ্য মেক্সিকোয় আতশবাজির ভয়াবহ বিস্ফোরণ, মুহূর্তে আকাশ ঢেকে যায় কালো ধোঁয়ায়

ধর্মীয় উৎসবে আতশবাজির বিস্ফোরণ, মধ্য মেক্সিকোয় নিহত ১০, আহত ৬৪

মেয়েদের আবাসিক স্কুলে ভূগোলের ক্লাসে বৈশ্বিক বাণিজ্য বোঝাতে একটি গানের ভিডিও খুঁজছিলেন শিক্ষক
ক্লাসে ভুলেই ইউটিউব সার্চ হিস্ট্রি ফাঁস, চাকরি হারিয়ে শিক্ষক এখন নিষিদ্ধ

ভূগোলের ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সামনে ভুল করে নিজের ইউটিউব সার্চ হিস্ট্রি দেখিয়ে বিপাকে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের এক শিক্ষক। সার্চ তালিকায় যৌনধর্মী কিছু শব্দ শিক্ষার্থীদের চোখে পড়ার পর শুরু হয় তদন্ত। শেষ পর্যন্ত চাকরি হারানোর পাশাপাশি অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষকতা থেকেও নিষিদ্ধ হয়েছেন তিনি। জেমস হিন্ডসন নামের ওই শিক্ষক যুক্তরাজ্যের শপশায়ারের মোরটন হল স্কুলে পড়াতেন। মেয়েদের এই আবাসিক স্কুলে এক ভূগোলের ক্লাসে বৈশ্বিক বাণিজ্য বোঝাতে একটি গানের ভিডিও খুঁজছিলেন তিনি। কিন্তু ভিডিও সার্চ করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত স্ক্রিনে ভেসে ওঠে তার আগের ইউটিউব সার্চ হিস্ট্রি। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে ‘টিন বিকিনি হল’ ধরনের একটি সার্চ দেখা যায়। আরও একটি সার্চ তারা ‘টিনস ইন থংস’ অথবা ‘গার্লস ইন থংস’ হিসেবে মনে রেখেছে। ঘটনাটি সেখানেই থেমে থাকেনি। একজন শিক্ষার্থী স্ক্রিনের ছবিও তুলে রাখে, যা পরে স্কুলের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়। ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের মে মাসে। হিন্ডসন স্বীকার করেন, অন্তত একটি যৌনধর্মী সার্চ ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সামনে চলে এসেছিল। তবে তার দাবি, ওই সার্চগুলো তিনি বাড়িতে থাকা অবস্থায় করেছিলেন। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ তার ইউটিউব সার্চ হিস্ট্রি খতিয়ে দেখে। সেখানে ‘টিন’ শব্দ ব্যবহার করে করা বেশ কিছু সার্চ পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের মতে, এসব সার্চের ফলাফলে অল্প পোশাক পরা কিশোর-কিশোরী কিংবা খেলাধুলা-সংক্রান্ত ভিডিও উঠে আসছিল। পাশাপাশি অনুপযুক্ত ভিডিও খোঁজার আরও একটি দীর্ঘ তালিকাও তদন্তে সামনে আসে। বিষয়টি পরে যুক্তরাজ্যের শিক্ষক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার আচরণবিষয়ক প্যানেলের সামনে যায়। প্যানেল জানায়, সার্চগুলো দীর্ঘ সময় ধরে করা হয়েছিল এবং বেশ কয়েকটির মধ্যে যৌনধর্মী বিষয়ের স্পষ্ট মিল ছিল। এসব কর্মকাণ্ডের কোনো নির্দোষ ব্যাখ্যাও তারা খুঁজে পায়নি। প্যানেলের মতে, প্রমাণের ভিত্তিতে হিন্ডসনের আচরণ যৌন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিল। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের যে পেশাগত মানদণ্ড মেনে চলতে হয়, তিনি তার কয়েকটি লঙ্ঘন করেছেন। ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যেও হিন্ডসনকে নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়। পুরো ঘটনাটি তাদের জন্য বিব্রতকর ছিল বলেও উল্লেখ করেছে প্যানেল। তবে তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উঠে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছিল, হিন্ডসনের আচরণ ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। কোনো শিশুর অশালীন ছবি বা ভিডিও তিনি দেখেছেন—এমন প্রমাণও পাওয়া যায়নি। তারপরও পেশাগত আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে হিন্ডসনকে দায়ী করা হয়। শেষ পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষকতা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ, ভূগোলের ক্লাসে বিশ্ববাণিজ্যের একটি ভিডিও খুঁজতে গিয়ে নিজের ইউটিউব সার্চ হিস্ট্রিই শেষ পর্যন্ত তার শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনে দিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৮:২৪
বাড়ি থেকে বের হওয়ার ১০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে বাড়িতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়

বিয়ের চার মাস না যেতেই ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হলো গাজার নবদম্পতির স্বপ্নের ঘর

১৯১২ কোটি টাকার লটারি জিতে মানবসেবায় অর্ধেকের বেশি দান করলেন ফ্রান্সেস কনলি

১৯১২ কোটি টাকার লটারি জিতে বদলে গেল জীবন, অর্ধেকই বিলিয়ে দিলেন এই নারী!

বিধানসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীল হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন থালাপতি বিজয়। ছবি: সংগৃহীত

নারীদের অপমান করলে ছাড় নয়, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি থালাপতি বিজয়ের

0 Comments