ক্যালিফোর্নিয়ায় সাবেক আইসিই কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরিতে নিষেধাজ্ঞার পথে নতুন বিল
ক্যালিফোর্নিয়ায় সাবেক ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তা ও ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে কাজ করা ব্যক্তিদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের পথ বন্ধ করতে একটি বিল পাস করেছে অঙ্গরাজ্যটির আইনসভা। এখন বিলটি গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
‘গেট দ্য ফেডস আউট অ্যাক্ট’ বা ‘জিটিএফও অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত বিলটির লক্ষ্য হলো যারা ফেডারেল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন, তাদের ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় চাকরির ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করা। এর আওতায় রাজ্য, কাউন্টি, শহর, স্কুল ডিস্ট্রিক্টসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান পড়বে।
বিলটি অ্যাসেম্বলিতে মে মাসে ৫৩-২১ ভোটে পাস হয়। আগস্টের শেষ দিকে সিনেটও বিলটি অনুমোদন করে এবং সিনেটের সংশোধনীতে অ্যাসেম্বলির সম্মতি পাওয়ার পর এটি গভর্নরের কাছে পাঠানো হয়।
বিলটির মূল উদ্যোক্তাদের একজন ডেমোক্র্যাট অ্যাসেম্বলিম্যান মার্ক গনজালেজ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে একই ধরনের দায়িত্বশীলতা ও মূল্যবোধের মানদণ্ড থাকা প্রয়োজন।
তবে বিলটি নিয়ে বিরোধিতাও রয়েছে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা এর সমালোচনা করে বলেছেন, ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পালন করাকে কেন্দ্র করে কাউকে ভবিষ্যতে সরকারি চাকরি থেকে বাদ দেওয়া আইনগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
বিলটিতে কিছু ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো পুলিশ সংস্থায় যোগ দিয়ে রাজ্যের মৌলিক পুলিশ প্রশিক্ষণ নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রার্থীর যোগ্যতা আলাদাভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
গভর্নর নিউজম এখন বিলটিতে স্বাক্ষর করবেন নাকি ভেটো দেবেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আইনসভা থেকে পাস হওয়া বিলগুলোতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাঁর ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে।
বিলটি আইনে পরিণত হলে ক্যালিফোর্নিয়াই হবে সাবেক ফেডারেল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তাদের অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা প্রথম অঙ্গরাজ্যগুলোর একটি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে লিস্টেরিয়া মনোসাইটোজেনেস ব্যাকটেরিয়ার সম্ভাব্য দূষণের আশঙ্কায় আট অঙ্গরাজ্য থেকে আমদানি করা শুকরের মাংসের একটি পণ্য প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টিকে সবচেয়ে গুরুতর ‘ক্লাস-১’ রিকল হিসেবে ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ফুড সেফটি অ্যান্ড ইনস্পেকশন সার্ভিস। যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত প্রক্রিয়াজাত শুকরের মাংস পণ্য গ্রহণে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা 'ক্লাস ১' রিকল (পণ্য বাজার থেকে তুলে নেয়ার নির্দেশ) জারি করেছে সেদেশের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)। সরকারি পরিদর্শকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ক্ষতিকর ‘লিস্টেরিয়া মোনোসাইটোজেনেস নামক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ধরা পড়ায় ৮টি অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়া পণ্যগুলো জরুরি ভিত্তিতে ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর (রবিবার) মার্কিন কৃষি বিভাগের ফুড সেফটি অ্যান্ড ইন্সপেকশন সার্ভিস (এফএসআইএস) জানায়, প্রাইম লাইন ডিস্ট্রিবিউটরস এবং ফেরারিনি ইউএসএ যৌথভাবে প্রায় ১,৫১৩ পাউন্ড শুকরের গাল দিয়ে তৈরি শুষ্ক ও প্রক্রিয়াজাত মাংস (পোর্ক গুয়ানচিয়ালে) বাজার থেকে তুলে নিচ্ছে। ইতালি থেকে আমদানিকৃত এই পণ্যটি মূলত ইতালীয় খাবারে ব্যবহৃত হয়। পরিদর্শনের সময় পরীক্ষার নমুনা পজিটিভ আসায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, আইডাহো, ইলিনয়, মিশিগান, নিউ জার্সি, নিউ ইয়র্ক এবং টেক্সাস—এই ৮টি অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, খুচরা দোকান ও পরিবেশকদের কাছে পণ্যটি সরবরাহ করা হয়েছিল। আক্রান্ত পণ্যের বিবরণ: পণ্যটির LOT নম্বর 263311US, বেস্ট-বাই তারিখ ১৬ মে ২০২৭ এবং প্রতিষ্ঠানের নম্বর IT 1937 L CE। এখন পর্যন্ত পণ্যটি খেয়ে কেউ অসুস্থ হওয়ার খবর মেলেনি। তবে এফএসআইএস গ্রাহকদের এটি না খাওয়ার এবং দোকান বা রেস্তোরাঁগুলোকে তা বিক্রি না করার আহ্বান জানিয়েছে। এফএসআইএস-এর মতে, লিস্টেরিয়া ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে সৃষ্ট লিস্টেরিওসিস মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী, নবজাতক এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তিদের জন্য এটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ। সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাংসপেশিতে ব্যথা, মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, মানসিক বিভ্রান্তি, শরীরের ভারসাম্য হারানো এবং খিঁচুনি। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এর ফলে গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব বা নবজাতকের জীবনঘাতী অসুস্থতা হতে পারে। উল্লেখ্য, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যবাহিত রোগের বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সাইক্লোস্পোরা, সালমোনেলা ও ই-কোলাই সংক্রমণের কারণে প্রায় ১৮,০০০-এর বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং মেক্সিকো থেকে আসা আইসবার্গ লেটুস পাতা থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাদুর্ভাবে ৪৯৫ জন হাসপাতালে ভর্তি ও দুইজন মারা গেছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে এই মাংসের রিকল জারি হলো।
ক্যালিফোর্নিয়ায় সাবেক আইসিই কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরিতে নিষেধাজ্ঞার পথে নতুন বিল
ক্যালিফোর্নিয়ায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ব্রেন ডেড, লাইফ সাপোর্ট বন্ধ ২২ বছরের অন্তঃসত্ত্বা মায়ের
যুক্তরাষ্ট্রে দরিদ্রদের ঘরের অভাবে হাহাকার, অথচ খালি হাজারো সাশ্রয়ী ইউনিট
আজকের নিউইয়র্ক সিটি এক বিশাল মহানগর। আকাশচুম্বী ভবন, টাইমস স্কয়ার, স্ট্যাচু অব লিবার্টি আর ব্যস্ত নগরজীবনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই শহরের অতীত অবশ্য অনেক পুরোনো এবং বেশ জটিল। নিউইয়র্ক নামটি কীভাবে এলো, তার পেছনে রয়েছে আদিবাসী লেনাপি জনগোষ্ঠী, ডাচ উপনিবেশ এবং পরে ইংরেজ শাসনের দীর্ঘ ইতিহাস। ইউরোপীয়দের আগমনের আগে বর্তমান নিউইয়র্ক অঞ্চলে লেনাপি জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের বসবাস ছিল। ম্যানহাটন দ্বীপকে লেনাপিরা ‘Mannahatta’ নামে চিনত। আধুনিক গবেষণায় সেই সময়ের ম্যানহাটনকে ঘন বন, জলাভূমি, তৃণভূমি ও নানা ধরনের বন্যপ্রাণীর সমৃদ্ধ একটি প্রাকৃতিক এলাকা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ১৬০৯ সালে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হয়ে ইংরেজ নাবিক হেনরি হাডসন বর্তমান নিউইয়র্ক অঞ্চলে পৌঁছান। এরপর ডাচরা হাডসন নদী উপত্যকায় বাণিজ্যিক ঘাঁটি গড়ে তোলে। ১৬২৪ সালে ম্যানহাটন দ্বীপে ডাচ বসতি স্থাপন শুরু হয় এবং পরে এর নাম হয় নিউ আমস্টারডাম। নিউইয়র্ক হিস্টোরিক্যালের তথ্য অনুযায়ী, নিউ আমস্টারডাম ছিল ডাচদের নিউ নেদারল্যান্ড উপনিবেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। তবে নিউইয়র্ক নামটি তখনও আসেনি। ১৬৬৪ সালে ইংরেজরা ডাচদের কাছ থেকে নিউ নেদারল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ৮ সেপ্টেম্বর নিউ আমস্টারডাম আনুষ্ঠানিকভাবে ইংরেজদের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং শহরটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় নিউইয়র্ক। নামটি নেওয়া হয় জেমস, ডিউক অব ইয়র্কের নামে। তিনি ছিলেন ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লসের ভাই এবং নতুন দখল করা ভূখণ্ডের অধিকারও তার সঙ্গে যুক্ত ছিল। ম্যানহাটন কেনার গল্পটিও নিউইয়র্কের ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি। প্রচলিত বর্ণনায় বলা হয়, ১৬২৬ সালে ডাচরা মাত্র ৬০ গিল্ডারের বিনিময়ে ম্যানহাটন দ্বীপ কিনেছিল, যা পরে প্রায় ২৪ ডলারের সমান বলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে ইতিহাসবিদরা মনে করেন, সেই সময়কার জমির মালিকানা, লেনাপি জনগোষ্ঠীর ধারণা এবং ডাচদের জমি অধিগ্রহণের পদ্ধতিকে আধুনিক অর্থে একটি সরল ‘জমি কেনাবেচা’ হিসেবে দেখলে বিষয়টি অতিরিক্ত সরলীকরণ হয়ে যায়। নিউইয়র্কের ইতিহাসে ডাচ অধ্যায়ের প্রভাব এখনো স্পষ্ট। শহরের অন্যতম পরিচিত এলাকা ও রাস্তার নামেও সেই সময়ের ছাপ রয়েছে। এমনকি ‘Wall Street’ নামটির পেছনেও ডাচ আমলের প্রতিরক্ষা দেয়ালের ইতিহাস রয়েছে। পরবর্তী কয়েক শতকে নিউইয়র্ক দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর, বাণিজ্যকেন্দ্র ও অভিবাসীদের শহরে পরিণত হয়। ১৭৮৮ সালে নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্রের ১১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে যুক্ত হয়। পরে নিউইয়র্ক সিটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে। তাই নিউইয়র্কের ইতিহাস কেবল একটি শহরের নাম বদলের গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে লেনাপি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, ডাচ উপনিবেশ, ইংরেজ দখল এবং কয়েক শতকের নগর বিকাশ। নিউ আমস্টারডাম থেকে নিউইয়র্ক হয়ে আজকের বিশ্বনগরীতে পরিণত হওয়ার এই দীর্ঘ পথই শহরটির পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কুইন্সে প্রশিক্ষণরত অবস্থায় হঠাৎ এনওয়াইপিডি রিক্রুটের মৃত্যু
ফোবানার ২০২৬–২৭ মেয়াদের নতুন চেয়ারম্যান জহির, নির্বাহী সচিব প্রিয়লাল
ক্রেডিট কার্ডে বছরে শত শত ডলার বেনিফিট, একাউন্ট খোলার আগে যেসব বিষয় দেখবেন
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের ২০২৬ সালের নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন পদে নির্ধারিত মনোনয়ন ফি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা শুরু হয়েছে। সভাপতি পদে প্রার্থী হতে ৬ হাজার ডলার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৫ হাজার ডলার দিতে হবে। সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদেও মনোনয়ন ফি ৫ হাজার ডলার। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে এবারের নির্বাচন। বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন ফি ৪ হাজার ৫০০ ডলার, অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি ৩ হাজার ৫০০, ট্রেজারার ৩ হাজার এবং অর্গানাইজিং সেক্রেটারি পদে ২ হাজার ৫০০ ডলার। এছাড়া একাধিক সম্পাদকীয় পদে ফি ২ হাজার ডলার এবং ছয়টি এক্সিকিউটিভ মেম্বার পদের প্রত্যেকটির জন্য ১ হাজার ৫০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত ফি নগদে জমা দিতে হবে এবং অর্থ গ্রহণের পর প্রার্থীকে অফিসিয়াল রসিদ দেওয়া হবে। কমিশন ও নির্বাহী কমিটির যৌথ সিদ্ধান্তে এসব মনোনয়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে কমিশনের প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়। বাংলাদেশ সোসাইটি নিজেদের পরিচিতিতে সংগঠনটিকে নন-পলিটিক্যাল, নন-প্রফিট ও নন-রিলিজিয়াস সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির ২০২৫ অর্থবছরের সর্বশেষ প্রকাশ্য ফর্ম ৯৯০ অনুযায়ী, ওই বছর সভাপতি, সেক্রেটারি ও ট্রেজারারের কমপেনসেশন শূন্য ডলার দেখানো হয়েছে। একই ফাইলিংয়ে সংগঠনটির মোট আয় ৩ লাখ ১৪ হাজার ৬০৭ ডলার এবং ব্যয় ২ লাখ ৬৯ হাজার ৩৫ ডলার দেখানো হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মনোনয়ন ফি এর পরিমাণ নিয়ে কমিউনিটিতে মূল আলোচনা হচ্ছে, নন-প্রফিট সংগঠনের নির্বাচিত নেতৃত্বের পদগুলো বেতনভুক্ত না হলে প্রার্থী হতে এত বেশি অর্থ নির্ধারণের কারণ কী এবং এই অর্থ কীভাবে ব্যবহৃত হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মতামত আসছে। বাংলাদেশি কমিউনিটিতে পরিচিত অ্যাটর্নি-অ্যাট-ল ও ইমিগ্রেশন লয়ার মইন চৌধুরী এক ফেসবুক পোস্টে সভাপতি পদে ৬ হাজার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৫ হাজার ডলারের মনোনয়ন ফি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি লিখেছেন, নিউইয়র্কের অলাভজনক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির মনোনয়ন ফি হিসেবে এই পরিমাণ অর্থ তাঁর কাছে অনৈতিক মনে হয়। কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ও নিউইয়র্কের পরিচিত মুখ তারিকুল ইসলাম মিঠুও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশ সোসাইটির দুই বছর মেয়াদের নির্বাচনে সভাপতি পদে দাঁড়ানোর জন্য শুধু মনোনয়ন পেপারের ফি হিসেবে ৬ হাজার ডলার দিতে হচ্ছে। তিনি নির্বাচনে মোট খরচ কত হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এত অর্থ ব্যয় করেও নির্বাচনে জয়ের নিশ্চয়তা নেই। একই পোস্টের শেষদিকে তিনি প্রশ্ন করেন, “এর মধ্যে কি মধু আছে ভাই?” এদিকে মনোনয়ন ফি নির্ধারণের কারণ ও এ অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য জানতে আমেরিকা বাংলা থেকে যোগাযোগ করা হলে কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। বাংলাদেশ সোসাইটির সর্বশেষ ফর্ম ৯৯০ অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে সংগঠনটির ১০০ শতাংশ আয় কনট্রিবিউশন হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং এক্সিকিউটিভ কমপেনসেশন ছিল শূন্য ডলার। সংগঠনটির ওই বছরের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৯ হাজার ৬৭৪ ডলার। এদিকে ২০২৬ সালের নির্বাচনের সময়সূচি অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। ৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন যাচাই-বাছাই, ৮ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা, ৯ সেপ্টেম্বর আপিল, ১০ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং ১১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৫ অক্টোবর। মনোনয়ন ফি নিয়ে আলোচনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমিউনিটির অনেকের আগ্রহ এখন নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষে এই অর্থের ব্যবহার ও নির্বাচনী ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব কীভাবে উপস্থাপন করা হয়, সেদিকে।
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান ও তার স্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের নথিপত্র দুদককে দিল এফবিআই
ফ্লোরিডায় ট্রাকের কেবিনে ছয় বছর চার শিশুকে আটকে রাখার অভিযোগ, দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড চায় রাষ্ট্রপক্ষ