সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে ৩ হাজার ফ্লাইটে বিঘ্ন, ফের খুলল জাকার্তার বিমানবন্দর

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ৪:১
আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে ৩ হাজার ফ্লাইটে বিঘ্ন
আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে ৩ হাজার ফ্লাইটে বিঘ্ন

ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও ছাইয়ের কারণে দুই দিন বন্ধ থাকার পর জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দরসহ পাঁচটি বিমানবন্দর আবার চালু হয়েছে। তবে আগ্নেয়গিরিটি এখনো সক্রিয় থাকায় নতুন করে ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। 

 

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধি জানিয়েছেন, সুকর্ণো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মঙ্গলবার আবার বিমান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। জাকার্তার আরেকটি বিমানবন্দর হালিম পেরদানাকুসুমা, পশ্চিম জাভার বান্দুংয়ের বিমানবন্দর এবং বানতেন প্রদেশের আরও দুটি বিমানবন্দরও পুনরায় চালু হয়েছে। 

 

আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে রোববার থেকে বিমানবন্দরগুলো বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এ ঘটনায় ২ হাজার ৯৬১টি ফ্লাইট বাতিল, বিলম্বিত বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ৩ লাখ ৪১ হাজারের বেশি যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হন। এর মধ্যে ৬২২টি ছিল আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।

 

জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দরে বন্ধ থাকার সময় ১৭৮টি বিমান মাটিতে আটকে ছিল। বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার আগে এসব বিমানের উড্ডয়নযোগ্যতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও অন্যান্য স্থাপনাও পরিষ্কার করা হয়েছে।

 

তবে বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। আনাক ক্রাকাতাউ থেকে মঙ্গলবার ভোরেও নতুন কয়েকটি ছোট অগ্ন্যুৎপাতের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, ছাইয়ের উচ্চতা ও বাতাসের গতিপথের ওপর নির্ভর করে এসব অগ্ন্যুৎপাত আবারও বিমান চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে।

 

আনাক ক্রাকাতাউ জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝামাঝি সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত। আগ্নেয়গিরিটি জুলাই থেকেই ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা স্তরে রয়েছে। কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও জেলেদের সক্রিয় জ্বালামুখ থেকে অন্তত ৩ কিলোমিটার দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

 

আনাক ক্রাকাতাউ মূল ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির ধ্বংসাবশেষের ওপর গড়ে ওঠা নতুন আগ্নেয় দ্বীপ। ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতোয়া অগ্ন্যুৎপাতে প্রায় ৩৬ হাজার মানুষ নিহত হয়। পরে ২০১৮ সালে আনাক ক্রাকাতাউয়ের একটি অংশ ধসে পড়ে সুনামি সৃষ্টি হলে ৪৩০ জনের বেশি মানুষ মারা যান। 

 

এবারের অগ্ন্যুৎপাতে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি এবং কোনো গণউচ্ছেদের নির্দেশও দেওয়া হয়নি। তবে ছাই ছড়িয়ে পড়ায় কিছু এলাকায় স্কুল কার্যক্রম অনলাইনে নেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।  


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
ইউরোপের ৮৫৪টি শহরে ২০২৬ সালের তীব্র গরমে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপে গ্রীষ্মের তীব্র গরমে ৫০ হাজারের বেশি মৃত্যু, গবেষকদের চোখ কপালে

ইউরোপের ৮৫৪টি শহর ও নগর এলাকায় ২০২৬ সালের জুন থেকে আগস্টের তীব্র গরমে আনুমানিক ৫০ হাজার ৩৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন এক গবেষণায় এই হিসাব উঠে এসেছে। গবেষকদের অনুমান, এর মধ্যে ৩২ হাজার ৬১৯টি মৃত্যু ঘটেছে মানুষের কর্মকাণ্ডে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বেড়ে যাওয়া অতিরিক্ত তাপের প্রভাবে।    ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন ও লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের গবেষকেরা এই বিশ্লেষণে যুক্ত ছিলেন। গবেষণার আওতায় ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের নগর এলাকা। তাঁদের ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের তাপজনিত মৃত্যুর বিশ্লেষণ নেচার হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। একই সাময়িকীতে প্রকাশের জন্য গৃহীত হয়েছে ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম নিয়ে গবেষণাটিও।    এই সংখ্যা প্রতিটি মৃত্যুসনদ থেকে সরাসরি গণনা করা হয়নি। তাপমাত্রার তথ্য, জনসংখ্যা এবং অতীতে গরমের সঙ্গে মৃত্যুহারের সম্পর্ক ব্যবহার করে গবেষকেরা সম্ভাব্য অতিরিক্ত মৃত্যু হিসাব করেছেন। এরপর জলবায়ু পরিবর্তন না ঘটলে তাপমাত্রা কেমন থাকত, সেই পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে বাড়তি উষ্ণায়নের প্রভাব নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে সংখ্যাগুলোকে পরিসংখ্যানভিত্তিক অনুমান হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অতিরিক্ত গরমের বিপদ শুধু হিটস্ট্রোকে সীমিত নয়। শরীর নিজেকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে হৃদ্‌যন্ত্র ও কিডনির ওপর বাড়তি চাপ ফেলে। এতে হৃদ্‌রোগ, শ্বাসতন্ত্রের অসুখ ও ডায়াবেটিসের মতো আগে থেকে থাকা রোগের জটিলতা বাড়তে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে দিন ও রাতের উচ্চ তাপমাত্রাও শরীরে ক্রমাগত চাপ তৈরি করে।    তবে এবারের হিসাবকে গোটা ইউরোপের সব তাপজনিত মৃত্যুর মোট সংখ্যা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এটি নির্দিষ্ট নগর এলাকার বিশ্লেষণ। আগের বছরগুলোর সঙ্গে তুলনার ক্ষেত্রেও একই ভৌগোলিক এলাকা ও গবেষণাপদ্ধতি বিবেচনা করা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্ধৃত পৃথক গবেষণায় পুরো ইউরোপে ২০২২ সালের গ্রীষ্মে প্রায় ৬১ হাজার ৬৭২টি তাপজনিত অতিরিক্ত মৃত্যুর অনুমান দেওয়া হয়েছিল।    গবেষকেরা তাপপ্রবাহের আগাম সতর্কতা, ঝুঁকিতে থাকা মানুষের কাছে শীতল পরিবেশে থাকার সুবিধা পৌঁছানো এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রস্তুতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলছে, পরিকল্পিত জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও যথাসময়ে পদক্ষেপের মাধ্যমে গরমের কারণে বহু মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের ঝুঁকি সীমিত করতে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানো প্রয়োজন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ৪:৪৪
চার স্ত্রী ও ৫৮ সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে আর্থিক সংকটে আফগানিস্তানের মোহাম্মদ সাদিক। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

৫৭ বছর বয়সে ৫৮ সন্তানের বাবা, বিশাল পরিবারের ভরণপোষণে হিমশিম খাচ্ছেন সাদিক

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে রাশিয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইউরোপ রাশিয়াকে হারাতে পারবে না, দাবি পুতিনের

ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

বিক্ষোভ ও সহিংসতার আশঙ্কায় ফ্রান্সে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পারমাণবিক নীতি নিয়ে নতুন বিতর্কের মধ্যে এনপিটির বাধ্যবাধকতা স্থগিতের প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা চালালে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আহ্বান ইরানের জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতার

যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে হামলা চালালে পারমাণবিক অস্ত্রসহ প্রতিরোধমূলক অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা মোহাম্মদ-সালেহ জোকার। ইরানের পার্লামেন্টের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক কমিটির প্রধান জোকারের এই বক্তব্য দেশটির পারমাণবিক নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আহ্বান, ইরান সরকারের আনুষ্ঠানিক নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা নয়।   টাইমস টুডের ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোকারের বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন হামলা মোকাবিলায় ইরানের প্রতিরক্ষা নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া। তাঁর মতে, শত্রুপক্ষকে হামলা থেকে বিরত রাখতে পারমাণবিক অস্ত্রসহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ থাকা উচিত। তবে এ বিষয়ে ইরানের সরকার বা সামরিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   জোকার আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটির আওতায় তেহরানের বাধ্যবাধকতা স্থগিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। এনপিটি হলো পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার ঠেকানো, নিরস্ত্রীকরণে অগ্রগতি এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক চুক্তি। ইরান এই চুক্তির সদস্য। তবে জোকারের বক্তব্য থেকে দেশটি চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার বা আনুষ্ঠানিকভাবে বাধ্যবাধকতা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমন ধারণা করা ঠিক হবে না।   ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি, মজুত ও ব্যবহারকে ইসলামে নিষিদ্ধ বলে উল্লেখ করে একটি ধর্মীয় ফতোয়া দিয়েছিলেন। তবে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের পর ইরানের অভ্যন্তরে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করা উচিত কি না, তা নিয়ে কট্টরপন্থী রাজনীতিকদের মধ্যে আলোচনা জোরালো হয়েছে। রয়টার্সের মার্চ মাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির কিছু প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিনের পারমাণবিক নীতি পুনর্বিবেচনার পক্ষে মত দিচ্ছে।   অন্যদিকে, ইরানের পারমাণবিক নীতি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি সেপ্টেম্বরে বলেছিলেন, ইরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার নীতিতে রয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ফলে জোকারের বক্তব্যকে ইরানের নীতিনির্ধারণী মহলে চলমান বিতর্কের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৬ অক্টোবর ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। তবে তিনি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আবারও হামলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে জোকারের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, কোনো আইনপ্রণেতার বক্তব্য এবং রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এক বিষয় নয়। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোবে কি না, এনপিটিতে তার অবস্থান বদলাবে কি না, তা নির্ধারণে দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত জোকারের আহ্বানকে ইরানের পারমাণবিক নীতির আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   সূত্র: টাইমস টুডে, রয়টার্স, প্রেস টিভি।

প্রকাশ: অক্টোবর ২২, ২০২৬ ২১:৩৩
বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ঋণ ও সুদ পরিশোধের চাপ

ঋণের পাহাড়ে বিশ্ব অর্থনীতি, ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বোঝায় বাড়ছে সুদের খরচ

মেয়ে আশুরার কোরআন মুখস্থের অর্জনের কথা জানিয়েছেন চেচেন নেতা রমজান কাদিরভ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

পবিত্র কোরআনের হাফেজা হলেন চেচেন নেতা রমজান কাদিরভের মেয়ে আশুরা কাদিরভা

সন্তান ধারণ ও অভিভাবকত্বের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে এনেছেন নিউজিল্যান্ডের ফ্র্যাঙ্কি ও রাওয়া। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউজিল্যান্ডে বাবা হওয়ার স্বপ্ন পূরণে সন্তানের জন্ম দিলেন ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ

ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির অবস্থান আবারও জানালেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট

ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে মেক্সিকো। দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমের সরকার ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে দুটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। মেক্সিকো সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য উভয় রাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আলোচনা প্রয়োজন। দেশটির এই অবস্থান নতুন নয়, বরং দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা।       মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জানান, তাঁর সরকারের সময়ই ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নাদিয়া রাশিদের পরিচয়পত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগে মেক্সিকোতে ফিলিস্তিনের কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থাকলেও পূর্ণ রাষ্ট্রদূত হিসেবে স্বীকৃতির ক্ষেত্রে এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। শেইনবাউম বলেন, ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল উভয় রাষ্ট্রের স্বীকৃতি এবং বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা বন্ধ করা তাঁর সরকারের অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।       মেক্সিকোর পররাষ্ট্রনীতিতে জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। দেশটির সরকার মনে করে, ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয় পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করে আলোচনা এগিয়ে নিতে হবে। এ অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যায় গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েও মেক্সিকোর বক্তব্যে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গাজার জন্য প্রস্তাবিত শান্তি পর্ষদে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেলেও মেক্সিকো পূর্ণ সদস্য না হয়ে পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়।       ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার বিষয়ে মেক্সিকোর অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার যেকোনো উদ্যোগে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। মেক্সিকো সরকার বহুপক্ষীয় আলোচনা ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে সংকট সমাধানের পক্ষে রয়েছে। দেশটির এই অবস্থান ফিলিস্তিন প্রশ্নে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের সমর্থনকে আবারও সামনে এনেছে।       সূত্র: মেক্সিকো সরকারের প্রেসিডেন্সি দপ্তর, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ২২:২৯
উইন্ডসর ক্যাসেলে ওমানের সুলতানের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে মহানবী (সা.)-এর হাদিস উদ্ধৃত করেন রাজা তৃতীয় চার্লস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদ উইন্ডসর ক্যাসেলে মহানবী (সা.)-এর বাণী পড়ে শোনালেন রাজা চার্লস

বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে দ্রুত পদক্ষেপের তাগিদ জাতিসংঘের

বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রিতে সীমিত রাখার লক্ষ্য ভেস্তে যাওয়ার পথে

বিরল শারীরিক সমস্যায় মুখমণ্ডলে বড় ধরনের পরিবর্তনের শিকার চীনের শিয়া ইউয়ানহাই। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

বিরল রোগে বদলে গেছে চীনা ব্যক্তির মুখমণ্ডল, স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যাশা

0 Comments