আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে ৩ হাজার ফ্লাইটে বিঘ্ন, ফের খুলল জাকার্তার বিমানবন্দর
ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও ছাইয়ের কারণে দুই দিন বন্ধ থাকার পর জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দরসহ পাঁচটি বিমানবন্দর আবার চালু হয়েছে। তবে আগ্নেয়গিরিটি এখনো সক্রিয় থাকায় নতুন করে ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধি জানিয়েছেন, সুকর্ণো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মঙ্গলবার আবার বিমান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। জাকার্তার আরেকটি বিমানবন্দর হালিম পেরদানাকুসুমা, পশ্চিম জাভার বান্দুংয়ের বিমানবন্দর এবং বানতেন প্রদেশের আরও দুটি বিমানবন্দরও পুনরায় চালু হয়েছে।
আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে রোববার থেকে বিমানবন্দরগুলো বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এ ঘটনায় ২ হাজার ৯৬১টি ফ্লাইট বাতিল, বিলম্বিত বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ৩ লাখ ৪১ হাজারের বেশি যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হন। এর মধ্যে ৬২২টি ছিল আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।
জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দরে বন্ধ থাকার সময় ১৭৮টি বিমান মাটিতে আটকে ছিল। বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার আগে এসব বিমানের উড্ডয়নযোগ্যতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও অন্যান্য স্থাপনাও পরিষ্কার করা হয়েছে।
তবে বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। আনাক ক্রাকাতাউ থেকে মঙ্গলবার ভোরেও নতুন কয়েকটি ছোট অগ্ন্যুৎপাতের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, ছাইয়ের উচ্চতা ও বাতাসের গতিপথের ওপর নির্ভর করে এসব অগ্ন্যুৎপাত আবারও বিমান চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে।
আনাক ক্রাকাতাউ জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝামাঝি সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত। আগ্নেয়গিরিটি জুলাই থেকেই ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা স্তরে রয়েছে। কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও জেলেদের সক্রিয় জ্বালামুখ থেকে অন্তত ৩ কিলোমিটার দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
আনাক ক্রাকাতাউ মূল ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির ধ্বংসাবশেষের ওপর গড়ে ওঠা নতুন আগ্নেয় দ্বীপ। ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতোয়া অগ্ন্যুৎপাতে প্রায় ৩৬ হাজার মানুষ নিহত হয়। পরে ২০১৮ সালে আনাক ক্রাকাতাউয়ের একটি অংশ ধসে পড়ে সুনামি সৃষ্টি হলে ৪৩০ জনের বেশি মানুষ মারা যান।
এবারের অগ্ন্যুৎপাতে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি এবং কোনো গণউচ্ছেদের নির্দেশও দেওয়া হয়নি। তবে ছাই ছড়িয়ে পড়ায় কিছু এলাকায় স্কুল কার্যক্রম অনলাইনে নেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreঅস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে বাসা থেকে কাজ করছিলেন ২৩ বছর বয়সী টিয়াহনা। কয়েক দিন ধরে ঘরের ছাদ থেকে একটানা অদ্ভুত শব্দ শুনছিলেন তিনি। তবে সেই শব্দ যে এত বড় কাণ্ডের ইঙ্গিত দিচ্ছিল, তা কল্পনাও করেননি। ঘটনার দিন কাজের ফাঁকে দুপুরের বিরতিতে ছিলেন টিয়াহনা। হঠাৎ আবার ছাদের ভেতর থেকে শব্দ শুনতে পান। কী হচ্ছে, তা দেখতে তিনি মোবাইল ফোন বের করে ভিডিও করা শুরু করেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ছাদের একটি অংশ ভেঙে নিচে পড়ে যায় দুটি পসাম। টিয়াহনা জানান, শব্দ শুনে তিনি ধারণা করেছিলেন ছাদের ভেতরে থাকা কোনো প্রাণীর কারণে এমনটা হতে পারে। তাই ভিডিও শুরু করেছিলেন - যদি পরে কাউকে বলতে হয়, তাহলে যেন প্রমাণ দেখাতে পারেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ভিডিওতেই ধরা পড়ে ছাদ ভেঙে পসাম দুটি ঘরে পড়ে যাওয়ার ঘটনা। টিয়াহনা ও তাঁর রুমমেটরা প্রায় দুই বছর ধরে বাসার ছাদে পসামের উপস্থিতি নিয়ে সমস্যায় ছিলেন। রাতের বিভিন্ন সময় ছাদ থেকে শব্দ শোনা যেত। একটি পসাম সরানোর জন্য বাড়ির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে লোকও পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি। টিয়াহনার ধারণা, ছাদের ভেতরে থাকা দুই পসামের মধ্যে মারামারির একপর্যায়ে ছাদের দুর্বল অংশ ভেঙে তারা রান্নাঘরের ভেতর পড়ে যায়। ওই অংশটি আগে একটি ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলেও জানান তিনি। পরে ছাদের ভাঙা অংশটি একটি বোর্ড দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। ব্রিসবেনে মানুষের বাসাবাড়ির ছাদ বা সিলিংয়ের ভেতর পসাম আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, শহরাঞ্চলে এসব প্রাণীর প্রাকৃতিক আশ্রয় কমে যাওয়ায় তারা অনেক সময় মানুষের বাড়ির ছাদ, গ্যারেজ বা দেয়ালের ফাঁকা জায়গায় আশ্রয় নেয়। পসাম অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় ও আইনগতভাবে সুরক্ষিত বন্যপ্রাণী।
সৌদিতে হুথি হামলায় ৭৩ আহত, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২৭
আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে ৩ হাজার ফ্লাইটে বিঘ্ন, ফের খুলল জাকার্তার বিমানবন্দর
‘বনের আয়ু মাত্র ৬ মাস! পুরোটা সময় কাটিয়ে দিলেন অটিস্টিক ছেলের জন্য ঘর খুঁজতে
ভারতীয় পুরুষদের বিয়ে না করার পরামর্শ দিয়ে এক ইতালীয় ব্যক্তির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, অনেক ভারতীয় পুরুষ মূলত ঘরের কাজ এড়িয়ে চলার জন্য বিয়ে করেন এবং স্ত্রীদের দিয়ে ঘর পরিষ্কারসহ গৃহস্থালির কাজ করানোর প্রত্যাশা করেন। ভিডিওতে ওই ব্যক্তি ভারতীয় সমাজে পুরুষ ও নারীর ভূমিকা এবং পারিবারিক দায়িত্ব নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা এবং সংসারের কাজের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের অসম ভূমিকার অভিযোগ। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর দর্শকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে ভারতীয় সমাজে প্রচলিত পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা ও লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে অনেকে ভিডিওটির সমালোচনা করে বলেছেন, একটি দেশের সব পুরুষকে একই ধরনের আচরণের সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক নয়। তাদের মতে, গৃহস্থালির দায়িত্ব বা দাম্পত্য সম্পর্কের অভিজ্ঞতা ব্যক্তি ও পরিবারের ওপর নির্ভর করে এবং তা দিয়ে একটি পুরো জনগোষ্ঠীকে বিচার করা যায় না। এ কারণে ভিডিওটি ঘিরে মূল বিতর্ক এখন শুধু দাম্পত্য জীবনে ঘরের কাজ ভাগাভাগি করা নিয়ে নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট দেশের বা গোষ্ঠীর মানুষকে সাধারণীকরণ করে মন্তব্য করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ, না মানলে জরিমানা ৮০০ ইউরো
হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথিদের নিয়ে একযোগে ইসরায়েলে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান
হিন্দু প্রতিনিধি দল আসতেই নারী কর্মীদের সরে যেতে বলা হয়েছিল, আইফেল টাওয়ারে তদন্তের নির্দেশ
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে মাদক বিক্রির দায়ে দোষী সাব্যস্ত ২০ বছর বয়সী এক তরুণকে কারাগারে পাঠানো হয়নি। বিচারক মনে করেছেন, তার চেহারা বয়সের তুলনায় অনেক কম বয়সী এবং কারাগারে গেলে এ কারণে তার প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত মনোযোগ তৈরি হয়ে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে আদালত তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন, যা পুরোপুরি স্থগিত রাখা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত ওই তরুণের নাম হ্যামিশ ক্রেগ লারনাখ। ২০২৪ সালের অক্টোবরে যখন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, তখন তার বয়স ছিল ১৮ বছর। পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে তদন্ত শুরু করে, কারণ এনক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে তাকে এমডিএমএ বিক্রির প্রস্তাব দিতে দেখা যায়। ব্রিসবেন সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে প্রসিকিউটর ম্যাডিসন থমসন জানান, এক গোপন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পর লারনাখ তাকে ৭০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের কিছু বেশি মূল্যের এমডিএমএ বিক্রি করেন। পরিমাণ ছিল আট গ্রামের কিছু বেশি এবং মাদকের বিশুদ্ধতা ছিল ৭২ শতাংশ। এর প্রায় এক মাস পর পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানে আরও ১১ গ্রাম এমডিএমএ, গাঁজার ভ্যাপ, মাদক রাখার ছোট প্যাকেট এবং ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্র পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া এমডিএমএর কিছু ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য এবং কিছু বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল। পরে লারনাখ মাদক সরবরাহের একটি অভিযোগ এবং মাদক রাখার দুটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালতে তার আইনজীবী ড্যানিয়েল বডিস জানান, গ্রেপ্তার ও পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম তার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। তার দাবি, ঘটনার পর লারনাখ নিজের জীবনধারায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছেন। আইনজীবী আরও জানান, লারনাখের আগে কোনো অপরাধের ইতিহাস ছিল না। ঘটনার সময় তিনি মাদকের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়। তবে পরে তিনি মাদক থেকে দূরে রয়েছেন, পূর্ণকালীন চাকরি করছেন এবং পরিবারের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী সামাজিক সহায়তা পাচ্ছেন। বিচারক সোরায়া রায়ান সাজা ঘোষণার সময় লারনাখের বয়স ও চেহারা নিয়ে বিশেষ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, লারনাখকে দেখতে ২০ বছরের মতো মনে হয় না। কারাগারে তার মতো দেখতে একজন তরুণের জন্য আলাদা ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিচারকের মতে, কারাগারে তার চেহারা অন্য বন্দীদের কাছ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। তাই সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কারাগারে থাকার সম্ভাব্য ঝুঁকিটিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু চেহারাই সাজা স্থগিত রাখার কারণ ছিল না। আদালতে লারনাখের বয়স, অপরাধের সময় তার পরিস্থিতি, পূর্বে কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকা, মাদক থেকে দূরে থাকার বর্তমান অবস্থান এবং জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়। বিচারক রায় দেওয়ার সময় এমডিএমএ ব্যবহারের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেন। লারনাখ আদালতে জানিয়েছিলেন, ওই সময় তিনি নিজের মানসিক সমস্যার সঙ্গে মানিয়ে নিতে মাদক ব্যবহার করতেন। মানসিক স্বাস্থ্য আদালতের বিচারক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রায়ান বলেন, তিনি নিয়মিত এমন মাদক ব্যবহারকারীদের দেখেন, যাদের মাদক গ্রহণের কারণে গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়তে হয়েছে। মানসিক সমস্যার চিকিৎসা হিসেবে এমডিএমএ ব্যবহার কোনো সমাধান নয় বলেও তিনি সতর্ক করেন। শেষ পর্যন্ত লারনাখকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও পুরো সাজা স্থগিত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ আপাতত তাকে কারাগারে যেতে হচ্ছে না। তবে স্থগিত সাজার শর্ত ভঙ্গ করলে পরবর্তী সময়ে কারাদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। মামলাটি অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে মাদক সরবরাহের অভিযোগে সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আদালত কী ধরনের বিষয় বিবেচনা করে, সেটিও সামনে এনেছে। একই সঙ্গে বিচারকের মন্তব্যে কারাগারে তরুণ বন্দীদের নিরাপত্তা ও ঝুঁকির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সূত্র: ডেইলি মেইল
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে প্রথমবার ডেস্ট্রয়ার-বিধ্বংসী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ভারতে ফ্রিজে মিলল স্ত্রীর কাটা মাথা, পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ স্বামীর