সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

যৌনকর্মীর পারিশ্রমিক না দেওয়ায় ধর্ষণ মামলায় চিকিৎসক মাহবুব গ্রেপ্তার এবং ডিপোর্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১২:৩৪
ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া থেকে ডিপোর্ট হলেন ব্রিটিশ চিকিৎসক ফারাজ মাহবুব। ছবি: সংগৃহীত
ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া থেকে ডিপোর্ট হলেন ব্রিটিশ চিকিৎসক ফারাজ মাহবুব। ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ায় যৌনকর্মীদের পারিশ্রমিক না দেওয়ার ঘটনায় ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ব্রিটিশ নাগরিক চিকিৎসক ফারাজ মাহবুবকে দেশ থেকে ডিপোর্ট করা হয়েছে। ৩২ বছর বয়সী এই মেডিকেল শিক্ষার্থীকে চলতি বছরের শুরুতে সাজা দেওয়া হয়েছিল।

 

আদালতের নথি ও অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টার জানিয়েছে, মাহবুব দুই নারী যৌনকর্মীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের পর পারিশ্রমিক পরিশোধ না করে ভুয়া ব্যাংক রসিদ ও অন্যান্য নথি ব্যবহার করেছিলেন।

 

নিউ সাউথ ওয়েলসে প্রচলিত আইনের আওতায় পারিশ্রমিক দেওয়ার চুক্তির ভিত্তিতে সম্মতি নিয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের পর সেই পারিশ্রমিক না দেওয়ার ঘটনাকেও যৌন নিপীড়ন হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এই আইনের আওতাতেই মাহবুবের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয় এবং তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।

 

আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম নারীকে তিনি নিজের পরিচয় গোপন করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ভুয়া নথি এবং ২ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার পরিশোধের একটি জাল ব্যাংক রসিদ পাঠিয়েছিলেন। যৌন সম্পর্কের পর তিনি ওই নারীকে বার্তা পাঠিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হয়।

 

দ্বিতীয় এক যৌনকর্মীর সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। মাহবুব তাঁর কাছে অন্য একটি নাম ব্যবহার করে যোগাযোগ করেন। যৌন সম্পর্কের পর পারিশ্রমিক পরিশোধ না করে তিনি ব্যাংক-সংক্রান্ত সমস্যার কথা জানান। পরে ওই নারী পুলিশে অভিযোগ করার কথা জানালে মাহবুব আরও নানা আর্থিক সমস্যার কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আদালতের নথিতে তাঁর পাঠানো একাধিক ভুয়া নথির কথাও উঠে এসেছে।

 

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বা গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন অ-নাগরিকদের বিষয়ে তারা কমিউনিটির নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে। মাহবুবের ডিপোর্টেশনের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিবাসন আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেয়।

 

ঘটনাটি অস্ট্রেলিয়ায় যৌনকর্মীদের পারিশ্রমিক, সম্মতি এবং যৌন অপরাধসংক্রান্ত আইনের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। আদালতের রায়ে মাহবুবের অপরাধের ধরন এবং পারিশ্রমিক না দেওয়ার ঘটনাকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
বিধানসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীল হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন থালাপতি বিজয়। ছবি: সংগৃহীত
নারীদের অপমান করলে ছাড় নয়, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি থালাপতি বিজয়ের

নারীদের নিয়ে অবমাননাকর বা কুরুচিকর মন্তব্য কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে সতর্ক করেছেন ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক কারণে তীব্র সমালোচনা করা যেতে পারে, তবে নারীদের অসম্মান করে কোনো বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়। বিধানসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি সেই স্বাধীনতা ব্যবহারে দায়িত্বশীল হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।   বিজয় বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রত্যেকের ব্যক্তিগত অধিকার। তবে সেই স্বাধীনতা কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। রাজনৈতিক সমালোচনার ক্ষেত্রে ব্যক্তি, নারী বা অন্য কাউকে হেয় না করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক কারণে সমালোচনা করা গেলেও কোনো নারীকে অসম্মান করে বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়।   তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যটির রাজনীতিতে নারীদের নিয়ে অশালীন ও বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জনসমক্ষে কথা বলার সময় ঘরে থাকা নারীদের, বিশেষ করে মা ও বোনের মর্যাদার কথা মনে রাখার আহ্বান জানান তিনি। নারীদের নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার কথাও বলেন বিজয়।   বিজয় আরও বলেন, তিনি আজ যে অবস্থানে পৌঁছেছেন, তার পেছনে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পরিবারের নারীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নারীদের নিয়ে অশালীন বা মানহানিকর মন্তব্য করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। রাজনৈতিক বক্তব্যের ক্ষেত্রেও নারীদের সম্মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী।   বিজয়ের এই বক্তব্য এসেছে বিরোধীদলীয় নেতা উদয়নিধি স্টালিনের বিরুদ্ধে অভিনেত্রী তৃষাকে নিয়ে কথিত দ্ব্যর্থবোধক মন্তব্যের বিতর্কের কয়েক দিন পর। আগস্টে কাবেরী নদী নিয়ে একটি প্রতিবাদ সভায় উদয়নিধি এমন একটি মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে, যা তৃষাকে ইঙ্গিত করে করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।   তবে ডিএমকে দাবি করেছে, উদয়নিধির বক্তব্য সম্পাদনা করে বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। দলটির দাবি, উদয়নিধি তাঁর বক্তব্যে তৃষার নাম উচ্চারণ করেননি। এ নিয়ে বিতর্কের পর বিষয়টি তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনায় আসে।   ঘটনার পর পুলিশ উদয়নিধিকে হেফাজতে নেয়। পরে মাদ্রাজ হাইকোর্টের নির্দেশে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারীদের নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য, মন্তব্যের ভাষা এবং এর আইনি পরিণতি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।   বিধানসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় বিজয় অতীতের ঘটনাগুলোর কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একই বিরোধী দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে আগেও নারীদের অপমানের অভিযোগ উঠেছিল। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতাকে একই বিধানসভায় অপমান করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   অন্যদিকে, বিধানসভার অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় উদয়নিধি বিজয়ের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী ডিএমকের বিরুদ্ধে একাধিক ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন। তবে বিরোধী দলকে এসব অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।   উদয়নিধি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী প্রায় ১১ মিনিট পুলিশ বিভাগ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তারা নীরবে শুনেছেন। এরপর তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হলেও কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগ করলেই তা সত্য হয়ে যায় না। যেকোনো অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ থাকতে হবে।   নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের বিষয়ে বিজয়ের সতর্কবার্তার পাশাপাশি উদয়নিধির বক্তব্যে রাজনৈতিক অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগের বিষয়টিও সামনে এসেছে। বিজয় নারীদের সম্মান বজায় রেখে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং অশালীন বা মানহানিকর মন্তব্যের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।   অন্যদিকে, উদয়নিধি মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে ডিএমকের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের সমালোচনা করে সেগুলোর পক্ষে প্রমাণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ফলে বিধানসভায় বিজয়ের বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন অবস্থান সামনে এসেছে।   সূত্র: এনডিটিভি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৩:১
ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া থেকে ডিপোর্ট হলেন ব্রিটিশ চিকিৎসক ফারাজ মাহবুব। ছবি: সংগৃহীত

যৌনকর্মীর পারিশ্রমিক না দেওয়ায় ধর্ষণ মামলায় চিকিৎসক মাহবুব গ্রেপ্তার এবং ডিপোর্ট

রক্তে বিরল অ্যান্টিবডির উপস্থিতির কারণে ‘গোল্ডেন আর্ম’ নামে পরিচিত জেমস হ্যারিসন। ছবি: সংগৃহীত

৬০ বছরে ১,১৭৩ বার রক্তদান! শরীরের বিরল রক্তে বাঁচিয়েছেন ২৪ লাখ শিশু

ফিলিস্তিনি দুই নারী যাত্রীর কাছ থেকে ভাড়া নিতে অস্বীকৃতি জানালেন তুর্কি ট্যাক্সিচালক। ছবি: সংগৃহীত

'আপনারা আমার বোন', ফিলিস্তিনি দুই নারীর কাছ থেকে ভাড়া নিলেন না ট্যাক্সিচালক

সিগারেটের নেশা ছাড়তে মাথায় তামার তারের খাঁচা পরেন ইব্রাহিম ইউজেল। ছবি: সংগৃহীত
সিগারেট ছাড়তে মাথায় তালাবদ্ধ লোহার খাঁচা, চাবি ছিল শুধু মেয়ে ও স্ত্রীর কাছে

সিগারেটের নেশা ছাড়তে তুরস্কের কুতাহিয়া প্রদেশের ইব্রাহিম ইউজেল ২০১৩ সালে নিয়েছিলেন অদ্ভুত এক কঠোর সিদ্ধান্ত। ২৬ বছর ধরে প্রতিদিন প্রায় দুই প্যাকেট সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস ছাড়তে তিনি নিজের মাথার চারপাশে তামার তার দিয়ে তৈরি একটি খাঁচা পরতেন। খাঁচাটিতে তালা লাগিয়ে সেই চাবি স্ত্রী ও মেয়ের কাছে রেখে দিতেন, যাতে চাইলেও দিনের বেলা সহজে সিগারেট ধরাতে না পারেন।    তখন ৪২ বছর বয়সী ইব্রাহিম একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। বহুবার সিগারেট ছাড়ার চেষ্টা করেও সফল হননি তিনি। নিজের ইচ্ছাশক্তির ওপর পুরোপুরি ভরসা করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত এমন একটি ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেন, যা তাকে সরাসরি সিগারেটের কাছে পৌঁছাতেই দেবে না।    মোটরসাইকেলের হেলমেট দেখে ধারণাটি তার মাথায় আসে। সেই ধারণা থেকে তামার তার দিয়ে হেলমেটের মতো একটি খাঁচা তৈরি করেন তিনি। খাঁচাটিতে দুটি তালা ছিল এবং বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় একটি চাবি স্ত্রী ও অন্যটি মেয়ের কাছে দিয়ে যেতেন। ফলে ধূমপানের তীব্র ইচ্ছা হলেও নিজের হাতে তালা খুলে সিগারেট ধরানোর সুযোগ থাকত না।    ইব্রাহিমের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল পারিবারিক একটি কঠিন অভিজ্ঞতাও। তার বাবা ধূমপানের কারণে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপরও নিজের দীর্ঘদিনের আসক্তি কাটিয়ে উঠতে না পারায় তিনি আরও কঠোরভাবে সিগারেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।    খাঁচা পরার প্রথম দিকে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে অবাক ও অস্বস্তিতে ছিলেন। তবে ইব্রাহিমের দৃঢ়তা দেখে পরে তার পরিবারও তাকে সমর্থন করতে শুরু করে। ২০১৩ সালের সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাঁচাটি ব্যবহারের প্রথম কয়েক দিন তিনি সিগারেট না খেয়ে থাকার কথা জানিয়েছিলেন।    ইব্রাহিমের এই অস্বাভাবিক উদ্যোগ তখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। ঘটনাটি মূলত দেখিয়েছিল, দীর্ঘদিনের নিকোটিন আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসা কতটা কঠিন হতে পারে এবং তা থেকে মুক্তি পেতে একজন মানুষ কতটা মরিয়া হয়ে উঠতে পারেন।   তবে মাথায় তালা দেওয়া খাঁচা কোনো নিরাপদ বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বীকৃত ধূমপান ছাড়ার পদ্ধতি নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন ধূমপান ছাড়ার জন্য কাউন্সেলিং ও প্রমাণভিত্তিক ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি, যেমন নিকোটিন প্যাচ, গাম বা লজেন্স এবং চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট ওষুধও ব্যবহার করা যেতে পারে। কাউন্সেলিং ও ওষুধ একসঙ্গে ব্যবহার করলে সফলভাবে ধূমপান ছাড়ার সম্ভাবনা আরও বাড়ে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ৯:৩৮
আল-কায়েদা সদস্যকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিলেন, এখন উগ্রবাদবিরোধী সচেতনতায় ইয়াসমিন

আল-কায়েদা সদস্যকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিলেন, এখন উগ্রবাদবিরোধী সচেতনতায় ইয়াসমিন

কলম্বিয়ার আর্মেনিয়া শহরের ৬৭ বছর বয়সী মিরিয়াম

প্রতিবেশীর গোপন খবর বিক্রি করে দুই বাড়ির মালিক কলম্বিয়ার নারী

১৬ বছর বয়সী মুহাম্মদ ইসমাইল আলুম

লন্ডনে ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির ধাক্কায় নি হত হাফেজ কিশোর

সুইজারল্যান্ডের মার্কেটে খালি গায়ে দাঁত ব্রাশ করতে করতে বাজার, বাংলাদেশিকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা
সুইজারল্যান্ডের মার্কেটে খালি গায়ে দাঁত ব্রাশ করতে করতে বাজার, বাংলাদেশিকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা

সুইজারল্যান্ডের একটি সুপারমার্কেটে খালি গায়ে মুখে টুথব্রাশ নিয়ে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর বাজার করার একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   সুইজারল্যান্ডপ্রবাসী এক বাংলাদেশির ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটির বর্ণনা দেওয়া হয়। পোস্ট অনুযায়ী, ওই বাংলাদেশি খালি গায়ে দাঁত ব্রাশ করতে করতে একটি সুপারমার্কেটে বাজার করতে যান। বিষয়টি দেখে দোকানের একজন ম্যানেজার তার এমন অবস্থায় সুপারমার্কেটে আসার কারণ জানতে চান।   ম্যানেজার স্থানীয় ভাষায় তাকে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি দাঁত ব্রাশ করতে করতে খালি গায়ে সুপারমার্কেটে এসেছেন। জবাবে ওই ব্যক্তি ইংরেজিতে বলেন, “No problem. Our national dress.” অর্থাৎ, “কোনো সমস্যা নেই, এটি আমাদের জাতীয় পোশাক।”   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্ট ছাড়া ঘটনাটির স্বাধীন কোনো সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কোন শহরের কোন সুপারমার্কেটে ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়েও পোস্টে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।   ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বিষয়টিকে মজার ঘটনা হিসেবে দেখেছেন এবং প্রবাসে থেকেও বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক ধরে রাখার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।   অন্যদিকে, কেউ কেউ এটিকে বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেছেন এবং বিদেশের জনসমাগমপূর্ণ স্থানে স্থানীয় সামাজিক রীতি, পোশাক ও শিষ্টাচার মেনে চলার পক্ষে মত দিয়েছেন।   আবার কয়েকজন মন্তব্যকারী মনে করেন, লুঙ্গি বা গামছার মতো দেশীয় পোশাক পরা নিজে কোনো সমস্যা নয়; তবে কোথায় কোন পোশাক বা আচরণ উপযুক্ত, সেটিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।   ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা মূলত প্রবাসে বাংলাদেশিদের সাংস্কৃতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং বিদেশি সমাজে প্রচলিত সামাজিক শিষ্টাচার—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই তৈরি হয়েছে।   সূত্র: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্ট।

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ২৩:১৪
শিক্ষার্থীদের আনন্দভ্রমণ শেষ হলো শোকে, ৩০ মিটার গভীর খাদে বাস পড়ে প্রাণ গেল ২৫ জনের

শিক্ষার্থীদের আনন্দভ্রমণ শেষ হলো শোকে, ৩০ মিটার গভীর খাদে বাস পড়ে প্রাণ গেল ২৫ জনের

চিকিৎসার টাকা দিতে পারেননি, কৃতজ্ঞতায় জীবন বাঁচানো চিকিৎসককে নিজের পোষা দুটি মুরগিই দিলেন কৃষক

চিকিৎসার টাকা দিতে পারেননি, কৃতজ্ঞতায় জীবন বাঁচানো চিকিৎসককে নিজের পোষা দুটি মুরগিই দিলেন কৃষক

যুক্তরাজ্যের প্রথম দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও বধির চিকিৎসক হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন আলেকজান্দ্রা অ্যাডামস। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবন্ধী বলে যাকে চিকিৎসক হওয়া অসম্ভব বলা হয়েছিল, তিনিই গড়লেন ইতিহাস

0 Comments