থাইল্যান্ডে মদ্যপ অবস্থায় মারামারি, মার্কিন রণতরিতে ফেরত পাঠানো হলো দুই সেনাকে
থাইল্যান্ড সফরের সময় মদ্যপ অবস্থায় মারামারিতে জড়িয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সেনাসদস্যকে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে রণতরীটি থাইল্যান্ডের একটি বন্দরে অবস্থান করছে। প্রায় ২৮৬ দিন সমুদ্রে থাকার পর অবকাশ কাটাতে থাইল্যান্ডে আসা সেনাসদস্যদের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে।
ওই দুই সেনাসদস্যের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তাদের থাইল্যান্ডের পাতায়ায় রণতরীটির পাঁচ দিনের অবস্থানের বাকি সময় জাহাজেই থাকতে হবে। পাতায়া থাইল্যান্ডের সমুদ্রতীরবর্তী একটি জনপ্রিয় পর্যটননগরী এবং রাতের বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
বৃহস্পতিবার ভোরে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১টার দিকে একজন থাই নাগরিক জরুরি নম্বরে ফোন করে জানান, শহরের একটি বারের কাছে দুই মার্কিন সেনাসদস্যের মধ্যে হাতাহাতি চলছে। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দুই সেনাসদস্যকে পাতায়ার হার্ড রক ক্যাফেতে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডের যৌথ পরিচালনা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাদের রণতরীতে ফেরত পাঠানো হয়। থাই পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি, কারণ তারা থাইল্যান্ডের কোনো আইন ভঙ্গ করেননি।
এক থাই কর্মকর্তা ঘটনাটিকে ছোটখাটো ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই সেনাসদস্যই মদ্যপ ছিলেন এবং তারা মারামারির পাশাপাশি উচ্চস্বরে কথা বলছিলেন। জরুরি নম্বরে ফোন করা ব্যক্তি আশঙ্কা করেছিলেন, হাতাহাতির ঘটনা আরও বড় আকার নিতে পারে। সে কারণেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
ঘটনার পর দুই সেনাসদস্যকে রণতরীতে ফেরত পাঠানো হলেও থাই পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি। রণতরীতে ফেরার পর তাদের পাতায়ায় অবস্থানের বাকি সময় জাহাজের মধ্যেই থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় লায়েম চাবাং বন্দরে পৌঁছায়। রণতরীটির প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্যের জন্য এটি ছিল দীর্ঘ সময় পর তীরে নামার সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে রণতরীটি মোট ২৮৬ দিন সমুদ্রে ছিল এবং এর আগে টানা ২৬৪ দিন সমুদ্রে অবস্থান করেছিল।
রণতরীটির থাইল্যান্ড সফরটি দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার পর নাবিক ও মেরিন সদস্যদের বিশ্রামের সুযোগ হিসেবে এসেছে। তারা পাতায়াসহ আশপাশের এলাকায় অবকাশ কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যেই দুই সেনাসদস্যের মদ্যপ অবস্থায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং তাদের আবার রণতরীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
থাই পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে গুরুতর হিসেবে দেখা হয়নি। তবে স্থানীয় একজন বাসিন্দার জরুরি ফোনের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও বড় আকার নেওয়ার আগেই তা থামানো সম্ভব হয়। পরে দুই সেনাসদস্যকে রণতরীতে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreজার্মান ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস ইসরায়েলের বাজারে চালু করা একক জুতা বিক্রির নতুন কর্মসূচির প্রচারণায় শালেভ বিটন নামের এক সাবেক ইসরায়েলি সেনাসদস্যকে যুক্ত করায় সমালোচনার মুখে পড়েছে। ২০২১ সালে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় এক পা হারানো বিটনকে এই প্রচারণায় ব্যবহার করায় মানবাধিকারকর্মী ও ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। অ্যাডিডাসের ইসরায়েল শাখা সম্প্রতি ‘একক জুতা সেবা’ নামে এই কর্মসূচি চালু করেছে। এর আওতায় নিম্নাঙ্গের কোনো অংশ হারানো বা এমন শারীরিক অবস্থার মানুষ, যাদের একটির বেশি জুতার প্রয়োজন নেই, তারা পুরো জোড়ার বদলে একটি জুতা কিনতে পারবেন। একটি জুতার দাম রাখা হয়েছে সম্পূর্ণ জোড়ার দামের অর্ধেক। এই কর্মসূচির প্রচারণায় শালেভ বিটনকে বিভিন্ন অ্যাডিডাসের দোকানে দেখা যাচ্ছে। ২০২১ সালের মে মাসে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় গুরুতর আহত হওয়ার পর তার একটি পা কেটে ফেলতে হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তিনি কৃত্রিম পা ব্যবহার করে হাঁটতে শেখেন। বিটনের এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই একক জুতা বিক্রির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে আনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সাধারণত জুতা জোড়ায় বিক্রি হওয়ায় একটি পা হারানো ব্যক্তিদেরও দুটি জুতা কিনতে হয়। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে একটি জুতারই প্রয়োজন থাকায় অন্যটি অব্যবহৃত থেকে যায়। অ্যাডিডাসের নতুন কর্মসূচি সেই সমস্যার একটি বাণিজ্যিক সমাধান হিসেবে চালু করা হয়েছে। তবে বিটনের সামরিক পরিচয় সামনে আসার পরই প্রচারণাটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। মানবাধিকারকর্মী ও ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনগুলোর অভিযোগ, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত একজন সাবেক সেনাসদস্যকে ব্যবহার করে অ্যাডিডাস তাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ভাবমূর্তি তুলে ধরছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একজন ব্যবহারকারী প্রশ্ন করেছেন, পা হারানো ফিলিস্তিনিদের জন্যও অ্যাডিডাস একই ধরনের সুবিধা দিচ্ছে কি না। অন্য এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, অ্যাডিডাসের উচিত দ্বিতীয় জুতাটি গাজার শিশুদের দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা। কেউ কেউ আবার অ্যাডিডাসের এই প্রচারণা বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের আপত্তির মূল বিষয় হলো, গাজা যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন সাবেক ইসরায়েলি সেনাকে কেন প্রতিষ্ঠানটির এই কর্মসূচির প্রচারণার মুখ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণাটিকে কেন্দ্র করে অ্যাডিডাসের বিরুদ্ধে সমালোচনা ও বর্জনের আহ্বানও দেখা গেছে। অ্যাডিডাসের একক জুতা বিক্রির কর্মসূচি অবশ্য শুধু ইসরায়েলেই শুরু হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালের শুরুতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এই সেবা চালু করেছিল। পরে আগস্টে ইসরায়েলের বাজারেও কর্মসূচিটি চালু করা হয়। ইসরায়েলে অ্যাডিডাসের নিজস্ব দোকান ও ছাড়ের দোকানগুলোতে এই সুবিধা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। অ্যাডিডাসের এই উদ্যোগের লক্ষ্য মূলত নিম্নাঙ্গের প্রতিবন্ধকতা বা অঙ্গহানির কারণে যাদের একটি জুতার প্রয়োজন, তাদের জন্য আলাদা করে জুতা কেনার সুযোগ তৈরি করা। তবে সেই কর্মসূচির প্রচারণায় শালেভ বিটনের অংশগ্রহণের কারণে বিষয়টি এখন মানবাধিকার ও ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। অ্যাডিডাসকে ঘিরে এ ধরনের বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিষ্ঠানটির একটি জুতার প্রচারণা থেকে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন সুপারমডেল বেলা হাদিদকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তও আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হয়েছিল। সে সময় ইসরায়েলি সরকার ও ইসরায়েলপন্থী বিভিন্ন প্রভাবশালী গোষ্ঠীর চাপের বিষয়টি সামনে এসেছিল। বর্তমান ঘটনাতেও একদিকে অঙ্গহানির শিকার মানুষের জন্য একক জুতা কেনার সুবিধার কথা সামনে এসেছে, অন্যদিকে সেই কর্মসূচির প্রচারণায় গাজা যুদ্ধে এক পা হারানো সাবেক ইসরায়েলি সেনাকে যুক্ত করায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ফলে অ্যাডিডাসের নতুন এই বাণিজ্যিক প্রচারণা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
‘চিকেনস নেক’-এ চার লেনের মহাসড়ক বানাচ্ছে ভারত, ব্যয় ২ হাজার কোটি রুপি
থাইল্যান্ডে মদ্যপ অবস্থায় মারামারি, মার্কিন রণতরিতে ফেরত পাঠানো হলো দুই সেনাকে
প্রশাসনের অপেক্ষা না করে, হাতে ইনফেকশন হওয়া স্বত্তেও একাই নদী পরিষ্কারে ২০ বছরের এই ছাত্র
সৌদি আরবে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আলোচনায় আসেন সাইমন কলিস। ২০১১ সালে স্ত্রী হুদা মুজারকেশকে বিয়ের আগে ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি। ২০১৬ সালে সৌদি আরবের মক্কায় হজ পালন করে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। কলিস নিজেই জানিয়েছিলেন, মুসলিম সমাজে প্রায় ৩০ বছর বসবাস ও কাজের অভিজ্ঞতার পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। কলিস ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে হজ পালনের সময় তাকে সাদা ইহরাম পরা অবস্থায় মক্কায় দেখা যায়। স্ত্রী হুদা মুজারকেশের সঙ্গে তাঁর হজ পালনের ছবিও সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তাঁর ইসলাম গ্রহণের খবর আগে থেকেই কিছু কূটনীতিক ও সাংবাদিকের মধ্যে জানা থাকলেও ২০১৬ সালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সৌদি লেখক ও শিক্ষাবিদ ফাওজিয়া আল-বাকর হজের সময় কলিস ও তাঁর স্ত্রীর ছবি প্রকাশ করে জানান, ইসলাম গ্রহণের পর তিনিই ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে হজ পালন করছেন। এরপর কলিস নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ইসলাম গ্রহণের কথা নিশ্চিত করেন। দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে কলিস মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় দায়িত্ব পালন করেন। ব্রিটিশ সরকারের জীবনী অনুযায়ী, তিনি বাহরাইন, তিউনিস, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, সিরিয়া, কাতার ও সৌদি আরবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। তিনি আরবি ভাষাও শিখেছিলেন এবং ১৯৭৮ সালে ব্রিটিশ ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিসে যোগ দেন। তিনি ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত কাতারে, ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সিরিয়ায় এবং ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইরাকে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ছিলেন। এরপর ২০১৫ সালে সৌদি আরবে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেন। ২০২০ সালে তাঁর কূটনৈতিক দায়িত্বের অধ্যায় শেষ হয়। ২০১৬ সালের হজের ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়, কারণ তখন দায়িত্বে থাকা অবস্থায় একজন ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের হজ পালনের ঘটনা হিসেবে এটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল। তবে সে সময়ের সংবাদ প্রতিবেদনে তাঁকে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে প্রথম হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বিষয়টি নিয়ে কিছু প্রতিবেদনে ‘সম্ভবত প্রথম’ বলেও সতর্কতা রাখা হয়েছিল।
নয় দিন পর নেপালের বন্যাকবলিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এক ব্যক্তি উদ্ধার, ভেতরে আরও মানুষের কণ্ঠস্বর
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে ৩৪০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ কানাডার
গাজায় চিকিৎসার অপেক্ষায় আড়াই বছরের হাশেম, অপুষ্টিতে পারছে না মাথা সোজা রাখতে
ফিলিপাইনের এক যুগল প্রমাণ করেছেন, দৃঢ় ইচ্ছা ও ভালোবাসার কাছে প্রাকৃতিক দুর্যোগও হার মানে। প্রবল বর্ষণ ও বন্যার কারণে চারপাশ যখন তলিয়ে গেছে, ঠিক তখনই ম্যানিলার উত্তরাঞ্চলীয় হাগোনয় শহরের সেন্ট জন দ্য ব্যাপটিস্ট গির্জায় কোমরসমান ঘোলা পানিতে দাঁড়িয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন লেইন লিজা গালাং এবং গিলবার্ট চিকো। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গত এক মাস ধরে টানা মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে ফিলিপাইনের এই অঞ্চলটি ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে। আগস্ট মাসে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় ওই গির্জাটিও প্রায় এক মাস ধরে আংশিকভাবে পানির নিচে তলিয়ে আছে। এ কারণে গির্জা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই যুগলকে বিয়ের অনুষ্ঠান আপাতত স্থগিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে নিজেদের সিদ্ধান্তে অটুট থেকে এই দুর্যোগের মাঝেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। কনে লেইন লিজা বন্যার পানিতে হাঁটার সুবিধার্থে তার বিয়ের গাউনটির নিচের অংশ কেটে কিছুটা ছোট করে নিয়েছিলেন। উঁচু কাঠামোর একটি রিকশায় চড়ে তারা গির্জার প্রাঙ্গণে পৌঁছান, যাতে পানিতে নামার আগে পোশাক ভিজে বা নষ্ট না হয়। বিয়ের চিত্রগ্রাহক মিক্কো রে আলফোনসো জানান, এই যুগলের ভালোবাসার কাছে কোনো বাধাই টিকতে পারেনি। গির্জার ভেতরে ১৫ জনেরও কম অতিথির উপস্থিতিতে এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। গির্জার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্লাস্টিকের ফুলে সাজানো ফাঁকা বেঞ্চের সামনে কনেকে জড়িয়ে ধরে আছেন তার বাবা-মা। আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, কোমরসমান পানিতে হেঁটে বিয়ের আংটি হাতে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এক কিশোর। মধ্যপ্রাচ্যপ্রবাসী বর গিলবার্ট চিকো জানান, তাদের বিয়েটি মূলত ডিসেম্বরে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গোড়ালিতে আঘাত পাওয়ার কারণে তিনি বাধ্য হয়ে আগেভাগেই ছুটি নিয়ে দেশে ফেরায় বিয়ের তারিখ এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন তারা।
রুশ হা/মলা থেকে বাঁচতে ইউক্রেনের খারকিভে মাটির নিচে শিশুদের জন্য স্কুল, সেখানেই চলছে পাঠদান
মার্কিন শিক্ষকের ৫ হাজার ডলারের সহায়তায় মরুভূমির বুকে ৫০ হাজার গাছ, ২৭ বছর পর আবেগঘন পুনর্মিলন