- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে চার বছর বয়সী এক শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫০ থেকে ৬৮ জন। ঘটনাটি হরমুজ প্রণালির কাছে হওয়ায় নতুন করে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সিরিকের উপকূলীয় এলাকায় বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে একটি আবাসিক ভবনে হামলা হয় বলে জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট। তাদের দাবি, মার্কিন হামলার পর ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ওই বাড়িতে আঘাত হানে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। ইরানের আধা-সরকারি মেহর সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। রেড ক্রিসেন্টের হিসাবে আহত হয়েছেন ৫০ জনের বেশি। তবে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে এক প্রাদেশিক কর্মকর্তা আহতের সংখ্যা ৬৮ বলে জানিয়েছেন। হামলায় আহতদের কাছাকাছি মিনাব ও সিরিকের হাসপাতালগুলোতে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের বিভিন্ন স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। এসব হামলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক সামরিক সরঞ্জাম, মাইন স্থাপনের সক্ষমতা এবং যোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়েছে। এর জবাবে ইরান জর্ডান, ইরাক ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। তবে এসব হামলায় মার্কিন সেনা হতাহত হওয়ার বিষয়ে ইরানের দাবি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। সিরিকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের ভাষ্য, বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার জবাব দেওয়া হবে। তবে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো দায় স্বীকার বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। জুলাইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় সরাসরি সামরিক সংঘাতগুলোর একটি। কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর দুই দেশের মধ্যে আবারও হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি সিরিকের অবস্থান হওয়ায় ঘটনাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ এই প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী এক দশকে ১ লাখ ডলারের বেশি বার্ষিক বেতন পাওয়া যায় এমন বেশ কয়েকটি পেশায় কর্মসংস্থান দ্রুত বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির শ্রম বিভাগ। তালিকায় স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও বিজ্ঞানভিত্তিক একাধিক পেশা রয়েছে। শ্রম বিভাগের সর্বশেষ কর্মসংস্থান পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে মোট কর্মসংস্থান বাড়বে প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এর বিপরীতে, তালিকার সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা পেশা নার্স প্র্যাকটিশনারদের চাকরি বাড়তে পারে ৪১ শতাংশ। ২০২৫ সালে নার্স প্র্যাকটিশনারদের গড় বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার ৩০০ ডলার। এই পেশায় আগামী ১০ বছরে প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮০০ নতুন চাকরি তৈরি হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডেটা সায়েন্টিস্ট। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ পেশায় কর্মসংস্থান বাড়তে পারে ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৫ সালে এ পেশার মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ২৩০ ডলার। তৃতীয় অবস্থানে থাকা মেডিকেল অ্যান্ড হেলথ সার্ভিসেস ম্যানেজারদের চাকরি বাড়তে পারে ২৪ দশমিক ২ শতাংশ। এ পেশায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ১০০টি নতুন চাকরি তৈরির পূর্বাভাস রয়েছে এবং ২০২৫ সালে মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৬০ ডলার। তালিকায় কম্পিউটার ও তথ্য গবেষণা বিজ্ঞানীদের চাকরি বাড়ার হার ২১ দশমিক ৮ শতাংশ। এ পেশায় ২০২৫ সালের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ৩০০ ডলার। ফিজিশিয়ান অ্যাসিস্ট্যান্টদের চাকরি বাড়তে পারে ২১ দশমিক ১ শতাংশ। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৮০ ডলার। একই সময়ে ইনফরমেশন সিকিউরিটি অ্যানালিস্টদের চাকরি বাড়ার পূর্বাভাস ২১ শতাংশ এবং তাদের মধ্যম বার্ষিক বেতন প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ১৮০ ডলার। এ ছাড়া পোস্টসেকেন্ডারি হেলথ স্পেশালটি শিক্ষকদের চাকরি ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ, কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস ম্যানেজারদের ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং অকুপেশনাল থেরাপিস্টদের ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। তালিকার বাকি পেশাগুলোর মধ্যে রয়েছে মেডিকেল সায়েন্টিস্ট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ার, বায়োকেমিস্ট ও বায়োফিজিসিস্ট এবং ফিজিক্যাল থেরাপিস্ট। এসব পেশার ক্ষেত্রেও ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বয়স্ক জনসংখ্যা বাড়তে থাকায় হেলথ কেয়ার ও সোশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স খাতে কর্মীর চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। ২০৩৫ সাল পর্যন্ত এই খাতে প্রায় ২২ লাখ নতুন চাকরি যোগ হতে পারে, যা দেশটিতে তৈরি হতে যাওয়া মোট নতুন চাকরির প্রায় ৩৭ শতাংশ। অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারও চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তন আনছে। ডেটা সায়েন্টিস্ট এবং কম্পিউটার ও তথ্য গবেষণা বিজ্ঞানীদের মতো প্রযুক্তিনির্ভর পেশাগুলো উচ্চ বেতনের পাশাপাশি দ্রুত বর্ধনশীল চাকরির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের এই নতুন পূর্বাভাসে ৮০০টির বেশি পেশা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কর্মসংস্থানের হিসাব ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে এবং বেতনের সর্বশেষ তথ্য নেওয়া হয়েছে ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত।
যুক্তরাষ্ট্রে এক নারী একজন এফবিআই কর্মকর্তার পরিচয় প্রকাশ করে দেওয়ার অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তা গোপন দায়িত্বে কাজ করছিলেন এবং তার পরিচয় প্রকাশের ফলে চলমান তদন্ত ও নিরাপত্তা কার্যক্রম ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। ইয়াহু নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোপন কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নারী কীভাবে ওই কর্মকর্তার পরিচয় জানতে পেরেছিলেন এবং তা প্রকাশ করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এফবিআই কর্মকর্তা একটি সংবেদনশীল তদন্তে কাজ করছিলেন। তার পরিচয় প্রকাশ্যে চলে আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা এবং চলমান তদন্তের গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ ধরনের গোপন দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের পরিচয় সাধারণত প্রকাশ না করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরিচয় ফাঁস হলে শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাই নয়, তার সঙ্গে কাজ করা অন্য এজেন্ট, তথ্যদাতা এবং চলমান তদন্তও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তবে ওই নারীর বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং মামলাটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সীমিত তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে গোপন তদন্তে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিচয় সুরক্ষা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সংবেদনশীল তদন্তের ক্ষেত্রে পরিচয় প্রকাশ পেলে তদন্তের স্বার্থে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি হয়েছিল কোনো বিলাসবহুল বোর্ডরুমে নয়, একটি সাধারণ কাগজের ন্যাপকিনে। ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর মাত্র ১৩ বছর বয়সী লিওনেল মেসিকে দলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি সেই ন্যাপকিনেই লিখেছিলেন বার্সেলোনার তৎকালীন স্পোর্টিং ডিরেক্টর কার্লেস রেক্সাচ। তখন আর্জেন্টিনা থেকে বার্সেলোনায় ট্রায়াল দিতে আসা মেসিকে নিয়ে ক্লাবের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। কিন্তু চুক্তি চূড়ান্ত হতে দেরি হওয়ায় মেসির বাবা হোর্হে মেসি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এমনকি ছেলেকে নিয়ে আর্জেন্টিনায় ফিরে যাওয়ার কথাও ভাবছিলেন তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে বার্সেলোনার কর্মকর্তারা বার্সেলোনার একটি টেনিস ক্লাবে বৈঠকে বসেন। সেখানে রেক্সাচের সঙ্গে ছিলেন ক্লাবের ট্রান্সফার উপদেষ্টা জোসেপ মিংগেয়া এবং আর্জেন্টাইন এজেন্ট হোরাসিও গাগিওলি, যিনি মেসিকে বার্সেলোনার নজরে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। কাছে কোনো কাগজ না থাকায় রেক্সাচ ওয়েটারের কাছ থেকে একটি ন্যাপকিন নিয়ে তাতেই মেসিকে চুক্তিবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি লিখে দেন। ন্যাপকিনটিতে রেক্সাচ, মিংগেয়া ও গাগিওলি স্বাক্ষর করেন। এতে মেসিকে নির্ধারিত শর্তে বার্সেলোনায় সই করানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এরপর আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয় এবং মেসির বার্সেলোনা অধ্যায়ের শুরু। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ক্লাবটির যুব দলে যোগ দেওয়া মেসি পরে বার্সেলোনার ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। ক্লাবটির হয়ে ৭৭৮ ম্যাচে ৬৭২ গোল করেন তিনি। জেতেন ১০টি লা লিগা ও চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা। ব্যক্তিগতভাবে আটবার ব্যালন ডি’অরও জিতেছেন মেসি। দুই দশকের বেশি সময় ধরে ন্যাপকিনটি নিরাপদে অ্যান্ডোরার একটি ব্যাংকের ভল্টে সংরক্ষিত ছিল। ২০২৪ সালে এটি নিলামে তোলে ব্রিটিশ নিলাম প্রতিষ্ঠান বোনহামস। শুরুতে এর ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ লাখ পাউন্ড। শেষ পর্যন্ত ন্যাপকিনটি ৭ লাখ ৬২ হাজার ৪০০ পাউন্ডে বিক্রি হয়, যা প্রায় ৯ লাখ ৬৫ হাজার মার্কিন ডলারের সমান। ন্যাপকিনটি ফ্রেমে বাঁধানো ও সংরক্ষিত অবস্থায় নিলামে তোলা হয়েছিল। একটি সাধারণ ন্যাপকিনে লেখা সেই প্রতিশ্রুতিই শেষ পর্যন্ত বদলে দেয় মেসির জীবন এবং বার্সেলোনার ইতিহাস। ফুটবল দুনিয়ার সবচেয়ে মূল্যবান স্মারকগুলোর একটি হয়ে ওঠা সেই ছোট্ট কাগজ এখন প্রায় ১০ লাখ ডলারের সংগ্রহযোগ্য নিদর্শন।
তাইওয়ানে স্ত্রীর পরকীয়ার প্রমাণ সংগ্রহ করতে রোবট ভ্যাকুয়ামের ক্যামেরা ব্যবহার করে প্রায় ৫ লাখ নিউ তাইওয়ান ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন এক ব্যক্তি। কিন্তু একই ভিডিও গোপনে ধারণ করার দায়ে শেষ পর্যন্ত তাকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাইওয়ানের তাওইউয়ান জেলা আদালতের সাম্প্রতিক এক রায়ে এ তথ্য উঠে এসেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালে ওই ব্যক্তির বিয়ে হয়। তাদের একটি ছুটির বাড়ি ছিল, যেখানে তারা মাঝেমধ্যে যেতেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ওই বাড়িতে অপরিচিত একটি টুথব্রাশ দেখতে পান তিনি। এতে স্ত্রীর প্রতি তার সন্দেহ তৈরি হয়। পরে বাড়ির পার্কিং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে তিনি দেখতে পান, এক অপরিচিত ব্যক্তি তার স্ত্রীকে গাড়িতে করে সেখানে নিয়ে এসেছেন এবং রাতও কাটিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। এর প্রায় তিন মাস পর ওই ব্যক্তি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ছুটির বাড়িতে থাকা রোবট ভ্যাকুয়ামটি দূর থেকে চালু করেন। ভ্যাকুয়ামটিতে ক্যামেরা ও যোগাযোগের সুবিধা ছিল। স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার উদ্দেশ্যে সেটি ব্যবহার করতে গিয়ে ক্যামেরার লাইভ ভিডিওতে তিনি স্ত্রীকে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তিনি ভিডিও ধারণ শুরু করেন এবং সেটিকে স্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেন। স্ত্রী ও ওই পুরুষের বিরুদ্ধে করা দেওয়ানি মামলায় তিনি ২০ লাখ নিউ তাইওয়ান ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। আদালত তাদের সম্পর্ক সাধারণ বন্ধুত্বের সীমা ছাড়িয়ে গেছে বলে রায় দিয়ে দুজনকে যৌথভাবে ৫ লাখ নিউ তাইওয়ান ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে এরপরই মামলাটি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। ভিডিও ধারণের ঘটনায় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেন তার স্ত্রী। তার অভিযোগ, ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ মুহূর্তে তার অনুমতি ছাড়াই ভিডিও ধারণ করে স্বামী তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন করেছেন। স্বামী আদালতে যুক্তি দেন, স্ত্রীর পরকীয়ার প্রমাণ সংগ্রহের জন্যই তিনি ভিডিওটি ধারণ করেছিলেন এবং ওই ভিডিও দেওয়ানি মামলায় প্রমাণ হিসেবেও গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু ফৌজদারি আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি। আদালত জানায়, বিবাহিত সম্পর্কের দায়িত্ব থাকলেও তা একজন স্বামী বা স্ত্রীকে অন্যজনের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘনের অনুমতি দেয় না। স্ত্রী ওই সময় ব্যক্তিগত পরিবেশে ছিলেন এবং তাকে ভিডিও ধারণ করা হচ্ছে, এমনটা তিনি জানতেন বা এতে সম্মতি দিয়েছিলেন, এমন কোনো প্রমাণও আদালত পায়নি। ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণের দায়ে ওই ব্যক্তিকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ ৫০ হাজার নিউ তাইওয়ান ডলার জরিমানা করা হয়েছে। তবে আদালতের রায় অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্তে কারাদণ্ডের পরিবর্তে জরিমানা পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ২৫ লাখ শিশু মেডিকেইড ও শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি বা চিপের আওতা থেকে বাদ পড়েছে। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারির তুলনায় দেশজুড়ে শিশুদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে নিবন্ধন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, বাদ পড়া ২৫ লাখ শিশুর প্রত্যেকেই সরাসরি চিকিৎসা সুবিধা হারিয়েছে। মূলত মেডিকেইড ও চিপে শিশুদের নিবন্ধনের সংখ্যা কমেছে। গবেষকদের আশঙ্কা, এই পতনের একটি অংশের কারণে শিশুরা স্বাস্থ্যবিমাহীন হয়ে পড়তে পারে। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে শিশুদের মেডিকেইড ও চিপে নিবন্ধন ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে ইন্ডিয়ানায়। সেখানে শিশুদের নিবন্ধন ২৩ শতাংশেরও বেশি কমেছে। বিপরীতে, একই সময়ে কলোরাডো ও হাওয়াইয়ে শিশুদের এই দুই কর্মসূচিতে নিবন্ধন বেড়েছে। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজের নির্বাহী পরিচালক জোয়ান আলকার বলেন, শিশুদের মেডিকেইডে নিবন্ধন কমে গেলে সাধারণত স্বাস্থ্যবিমাহীন শিশুর সংখ্যা বাড়ে। এর ফলে পরিবারগুলোর জন্য শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতি এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস মেডিকেইড ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। ২০২৫ সালে পাস হওয়া ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে আগামী ১০ বছরে মেডিকেইড ব্যয়ে প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলার কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন আইনের বেশ কিছু পরিবর্তন আগামী বছর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এর মধ্যে মেডিকেইড সুবিধা ধরে রাখতে বাড়তি কাগজপত্র জমা দেওয়া এবং নিবন্ধন যাচাইয়ের মতো প্রশাসনিক শর্ত রয়েছে। কিছু প্রাপ্তবয়স্ক সুবিধাভোগীর ক্ষেত্রে মাসে ৮০ ঘণ্টা কাজ, স্বেচ্ছাসেবা অথবা পড়াশোনার শর্তও চালু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে শিশুদের মেডিকেইড ও চিপে নিবন্ধন কমে যাওয়ার পুরো কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, নতুন করে বড় ধরনের মেডিকেইড কাটছাঁট পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার আগেই শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা কভারেজে এই পতন শুরু হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক জটিলতা, নিবন্ধন নবায়নের প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য কারণও এতে ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে, শিশুদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কভারেজ আরও কমতে থাকলে স্বাস্থ্যবিমাহীন শিশুর সংখ্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিমার আওতার বাইরে চলে যাওয়া শিশুদের নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির রাজ্যভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে শিশুদের মেডিকেইড ও চিপে নিবন্ধনের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর শিশুদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে প্রায় ২৫ লাখের নিবন্ধন কমে যাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী লুৎফুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, সান মার্কোসে টেনিওরড অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। এর আগে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে শিক্ষকতা ও গবেষণা করছিলেন। বগুড়ায় শিক্ষাজীবন শুরু করা লুৎফুর রহমান মর্তুজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। বুয়েটে পড়াশোনা শেষে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লুৎফুর রহমান জানান, ২০১৬ সালে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইডে পিএইচডি শুরু করেন এবং ২০২০ সালে তা শেষ করেন। পরের বছর ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, সান মার্কোসে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে যোগ দেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রযুক্তি ও গবেষণাক্ষেত্রেও তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস আর্মি কমব্যাট ক্যাপাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট কমান্ড আর্মি রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে ভিজিটিং রিসার্চার ও ভিজিটিং রিসার্চ ইন্টার্ন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, সান মার্কোসের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায় বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৪ সালের একটি কনফারেন্স প্রোগ্রামেও। সেখানে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বগুড়ার স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বুয়েট, এরপর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাঙ্গনে লুৎফুর রহমানের পথচলা বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষকতা ও গবেষণায় তাঁর এই অগ্রযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষাবিদদের সাফল্যের ধারাকেও আরও সমৃদ্ধ করেছে। সূত্র: দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস
মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কথিত ‘অপরাধের জন্য অনুতপ্ত’ না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাবে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে দেওয়া এক বক্তব্যে জোলফাঘারি বলেন, দক্ষিণ ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানি বাহিনী অঞ্চলটির বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানি এই সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, এসব পাল্টা হামলায় মার্কিন সামরিক অবকাঠামো, স্থাপনা, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে ‘উল্লেখযোগ্যসংখ্যক’ মার্কিন কমান্ডার ও সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। জোলফাঘারি বলেন, “আমেরিকানদের বিরুদ্ধে এসব আক্রমণাত্মক অভিযান চলতে থাকবে, যতক্ষণ না তারা তাদের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়।” তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে সামরিক হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে তেহরানের পরবর্তী জবাব আরও “ভারী, বিস্তৃত ও ধ্বংসাত্মক” হবে। তাঁর বক্তব্যে দুই দেশের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও সহযোগী দেশগুলোকেও সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করা যেকোনো দেশকে এর ‘বিপজ্জনক পরিণতি’ মেনে নিতে হবে। এর আগে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় মার্কিন হামলার খবর পাওয়া যায়। এর প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর সামনে আসে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যে সামরিক অভিযানের পরিধি আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত রয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে ইরানের কর্মকর্তার করা নিহত ও আহতের দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি হামলার পাশাপাশি একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক যোগাযোগপথ থাকায় সংঘাতের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সংবাদসূত্র: আলজাজিরা
মধ্য গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালাহ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ইসরা আল-হিসি নামে সাত বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পূর্ব দেইর আল-বালাহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ফিলিস্তিনি চিকিৎসাকর্মীদের বরাতে ফ্রান্স ২৪ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। চিকিৎসাকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, দেইর আল-বালাহর পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনী ওই এলাকায় গুলি চালালে ইসরা গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ফ্রান্স ২৪-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবির বর্ণনা অনুযায়ী, নিহত ইসরা আল-হিসির বয়স ছিল সাত বছর। তার মরদেহ দাফনের আগে পরিবারের সদস্যরা তাকে শেষবারের মতো বিদায় জানান। ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় একই দিনে গাজায় আরও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনি চিকিৎসাকর্মীরা জানিয়েছেন, পৃথক একটি হামলায় অন্তত দুই শিশু ও এক নারী নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। গাজা শহরের পশ্চিমাঞ্চলের একটি এলাকায় দুটি গাড়িও হামলার শিকার হয়ে ধ্বংস হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য হুমকি তৈরি করছে এমন কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে তারা হামলা চালিয়েছে। তবে ইসরা আল-হিসির মৃত্যুর বিষয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে আলাদা কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবারের ঘটনাগুলোও সেই উদ্বেগকে নতুন করে সামনে এনেছে। সূত্র: ফ্রান্স ২৪, বিবিসি আরবি
মঙ্গলবার রাতে ইরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় শিশুসহ কয়েকজন নিহত এবং অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রাণঘাতী হামলার পরপরই উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত অন্তত চারটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। পাল্টাপাল্টি এই হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এবং ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ ইরানের সিরিক শহরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। সাধারণ মানুষের ওপর এমন হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, সিরিক শহর ছাড়াও ইরানের কোনারাক কাউন্টি, জাস্ক এবং বন্দর লেঙ্গেহ শহরও মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় জিরোফতে একটি বেসামরিক বিমানবন্দরেও হামলা চালিয়েছে। এছাড়া হরমুজগান প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের পূর্ব দিকে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আইআরআইবি আরও নিশ্চিত করেছে, কেশম দ্বীপের মাসান গ্রামের আশপাশে পাঁচটির বেশি এবং হরমুজ প্রণালির দিক থেকে আরও অন্তত চারটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বৃহত্তর সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানের সরকারি মালিকানাধীন দুটি তেলের ট্যাংকারেও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হামলার ঘটনা এটিই প্রথম। এই হামলার বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী মূলত ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, রাডার ব্যবস্থা, সামুদ্রিক সম্পদ ও স্থাপনা, মাইন স্থাপনের সক্ষমতা এবং সামরিক যোগাযোগ অবকাঠামো। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কড়া জবাব দিতে দেরি করেনি ইরান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, নিজ ভূখণ্ডে হামলার পরপরই পাল্টা আক্রমণ শুরু করে তেহরান। মঙ্গলবার রাতেই উপসাগরীয় অঞ্চলের জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলোতে একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানের আইআরজিসি। আইআরজিসির দাবি, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে দীর্ঘপাল্লার আরকিউ ফোর এবং এমকিউ নাইন ড্রোন রাখা হ্যাঙ্গারগুলো লক্ষ্য করে তারা একটি ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। আইআরআইবিতে প্রকাশিত আইআরজিসির বিবৃতিতে দাবি করা হয়, এই হামলায় বেশ কয়েকটি মার্কিন ড্রোন ধ্বংস হয়েছে এবং কয়েকজন আমেরিকান ফ্লাইট ও কারিগরি কর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া অবকাঠামোর কয়েকটি অংশে আগুন ধরে যাওয়ার কথাও বলা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানি ভূখণ্ড থেকে ছোড়া ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মাঝপথেই ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দেয়। জর্ডানের সামরিক মুখপাত্র জানান, অবশিষ্ট তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র লোকালয় থেকে অনেক দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পড়েছে এবং এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এর পাশাপাশি উত্তর ইরাকের এরবিল প্রদেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনায় সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, এই হামলায় একটি মেরামত কেন্দ্র, কারিগরি সরঞ্জামের গুদাম এবং মার্কিন নজরদারি বেলুনের একটি গাইডেন্স সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে। ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে যাওয়া এবং বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনার নিহত হওয়ার কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি। এদিকে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রু ড্রোন প্রতিহত করেছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোন ভূপাতিত করার কারণেই মূলত বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানায় তারা। কুয়েত এই ঘটনাকে ইরানের আগ্রাসনের অংশ বলে উল্লেখ করেছে। বাহরাইনেও হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম দেশটির সেনাবাহিনীর এক বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে, বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকা এলাকা ও রাডার স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এক ঝাঁক ড্রোন ছোড়া হয়েছে। অপারেশন থান্ডার নামক সামরিক অভিযানের ২৯তম ধাপের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়। পারস্য উপসাগরে শেখ ঈসা ঘাঁটিটি মার্কিন বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ এবং নজরদারি উড়োজাহাজের কাজে ব্যবহৃত হয়। খবরের সূত্র: চ্যানেল টোয়েন্টিফোর
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানদের পাসপোর্ট আবেদনের নিয়ম আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রস্তাবিত নতুন নির্দেশনায়, সন্তানের পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার সময় বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবকদের নিজেদের মার্কিন নাগরিকত্ব কিংবা অভিবাসন status-এর প্রমাণ দিতে হতে পারে। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের খসড়া নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার সাম্প্রতিক নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে শিশুদের পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের পরিচয় ও সন্তানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের প্রমাণ দিতে হয়। তবে বাবা-মা মার্কিন নাগরিক কি না, তা জানাতে আবেদনপত্রে ঘর পূরণ করলেও সাধারণত আলাদা করে নাগরিকত্বের প্রমাণ জমা দিতে হয় না। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে বাবা-মাকে নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট বা জন্মসনদ দিতে হতে পারে। আর মার্কিন নাগরিক না হলে বৈধ অভিবাসন status-এর প্রমাণ হিসেবে স্থায়ী বসবাসের কার্ড, যেটি গ্রিন কার্ড নামে পরিচিত, কিংবা আই-৯৪-এর মতো নথি জমা দিতে হতে পারে। এসব তথ্য ব্যবহার করে সরকার নির্ধারণ করবে, সংশ্লিষ্ট শিশু নতুন নির্বাহী আদেশের আওতায় মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য কি না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের খসড়ায় বলা হয়েছে, সন্তানের পাসপোর্ট আবেদনের সময় বাবা-মায়ের তথ্য এবং তাদের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন status-এর প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। এর উদ্দেশ্য হবে, সংশ্লিষ্ট শিশু প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের আওতায় পড়ছে কি না, তা নির্ধারণ করা। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত নিয়ম নয়। পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের আগে আরও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের নতুন জন্মসূত্রে নাগরিকত্বসংক্রান্ত নির্বাহী আদেশ নিয়েও আদালতে মামলা চলছে। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর আগে ট্রাম্প এমন একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কিছু শিশুর স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের অধিকার সীমিত করা। সেই উদ্যোগের বিরুদ্ধে ব্যাপক আইনি চ্যালেঞ্জ হয়। ২০২৬ সালের জুনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের প্রচেষ্টাকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেয়। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা মনে করেন, ওই আদেশ সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ববিষয়ক ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এরপর ৬ আগস্ট ট্রাম্প আরও সীমিত পরিসরে নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যেখানে বিশেষভাবে তথাকথিত ‘জন্ম পর্যটন’ বন্ধ করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ‘জন্ম পর্যটন’ বলতে সাধারণত এমন পরিস্থিতিকে বোঝানো হয়, যেখানে কোনো নারী যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে ভ্রমণ করেন এবং সন্তানের জন্মের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ট্রাম্পের নতুন আদেশে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এমন ক্ষেত্রে, যখন শিশুর বাবা-মায়ের একজন যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য প্রতারণা বা বাণিজ্যিক লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকে, অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ‘শত্রু বিদেশি’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। এই নতুন নির্দেশনা নিয়ে ইতোমধ্যে আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়েছে। শিশুদের হয়ে মামলা করা আইনজীবীরা দুটি পৃথক ফেডারেল আদালতে আবেদন করেছেন, যাতে ট্রাম্পের নতুন আদেশ কার্যকর হওয়া ঠেকানো যায়। এর মধ্যে একটি মামলা মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টে মার্কিন জেলা বিচারক ডেবোরা বোর্ডম্যানের আদালতে রয়েছে। গত ২৮ আগস্ট তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আদেশটি স্থগিত করেননি। তবে এর আইনি ভিত্তি নিয়ে তিনি গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন এবং বাদীপক্ষকে তাদের মামলার আবেদন সংশোধনের অনুমতি দিয়েছেন, যাতে নতুন আদেশটি আটকে দেওয়া যায় কি না তা আদালত বিবেচনা করতে পারে। অন্যদিকে, মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, নতুন নির্দেশনার বিরুদ্ধে এখনই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উপযুক্ত হবে না। কারণ, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো কীভাবে প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বাস্তবায়ন করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা তখনও প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমান মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবস্থায়ও শিশুদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হয়। পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, শিশুর মার্কিন জন্মসনদ, আগের বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট কিংবা নাগরিকত্বের অন্য গ্রহণযোগ্য নথি দিয়ে তার নাগরিকত্ব প্রমাণ করা যায়। ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুর পাসপোর্ট আবেদনে সাধারণত বাবা-মা বা অভিভাবকদের উপস্থিতি এবং তাদের পরিচয়পত্রও প্রয়োজন হয়। তবে নতুন প্রস্তাবের পার্থক্য হলো, সন্তানের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পাশাপাশি বাবা-মায়ের নিজেদের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন status-এর নথিও চাওয়া হতে পারে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারগুলোর পাসপোর্ট আবেদনের প্রক্রিয়া আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন নাগরিকত্বের অর্থ ও মূল্য রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পাসপোর্ট যাচাই প্রক্রিয়াও সেই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে তা শুধু পাসপোর্ট প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক পরিবর্তন আনবে না, বরং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক বিতর্ককেও আরও তীব্র করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব নির্ধারণে বাবা-মায়ের status কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে, সেটিই এখন আদালত ও প্রশাসনের সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় ঠিক কবে থেকে এবং কোন কোন পরিবারের ক্ষেত্রে নতুন নথি বাধ্যতামূলক হবে, তা নিশ্চিত নয়। আদালতে চলমান মামলাগুলোর সিদ্ধান্তও এই নীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত ছয় মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কংগ্রেসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণার অনুমোদন চায়নি ট্রাম্প প্রশাসন। আর সরকারের এই সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হচ্ছে যুদ্ধে প্রাণ হারানো মার্কিন সেনাদের পরিবারকে। আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা না থাকায় এক নিহত মার্কিন বিমান বাহিনীর মেজরের পরিবারকে ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত ওই সামরিক কর্মকর্তার নাম মেজর জন অ্যালেক্স ক্লিনার। ৩৩ বছর বয়সী এই মেজর অপারেশন এপিক ফিউরি এর অংশ হিসেবে ইরাকে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সম্প্রতি ইরাকে একটি কেসি ১৩৫ রিফুয়েলিং বা মাঝ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হলে ছয়জন ক্রু প্রাণ হারান, মেজর ক্লিনার ছিলেন তাদেরই একজন। অবার্ন ইউনিভার্সিটির স্নাতক ও ট্রাসভিলের বাসিন্দা ক্লিনারের মৃত্যুতে তার স্ত্রী লিবি এবং তিন সন্তান এখন অথৈ সাগরে পড়েছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে লিবি জানান, মার্কিন বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়েছে যে তার পরিবার কিছু নির্দিষ্ট সামরিক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নয়। লিবি তার পোস্টে লেখেন, বিমান বাহিনী সম্প্রতি আমাকে জানিয়েছে যে, যেহেতু আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করিনি, তাই আমি ও আমার সন্তানরা কিছু নির্দিষ্ট সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নই। যে যুদ্ধে আমার স্বামী কখনোই অংশ নিতে চায়নি, সেখানে তাকে প্রাণ দিতে হলো। আর এখন আমরা যে সামান্য সুবিধাটুকু পেতাম, সেটিও আটকে আছে কেবল শব্দের মারপ্যাঁচ আর লোক দেখানো নীতির কারণে। এটি এমন এক যুদ্ধ যা ছয় মাস ধরে চললেও আমরা এটিকে যুদ্ধ বলতে পারছি না। স্বামীর মৃত্যুর পর অনেকেই লিবির পোস্টে সমবেদনা জানিয়েছেন। তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে লিবি সেসব সমালোচকদেরও কড়া জবাব দিয়েছেন, যারা প্রশ্ন তুলেছিলেন যে যুদ্ধে যাওয়ার ইচ্ছা না থাকলে ক্লিনার কেন সামরিক বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। সমালোচকদের উদ্দেশে লিবি বলেন, কেউ যুদ্ধে যাওয়ার জন্য সামরিক বাহিনীতে যোগ দেয় না। সামরিক বাহিনীর সদস্যরা কখনোই পরিবার ছেড়ে দূরে মোতায়েন থাকতে পছন্দ করেন না। তারা তাদের দেশকে রক্ষা করার শপথ নেন, এটা জেনেই যে তাদের হয়তো কখনো যুদ্ধে পাঠানো হতে পারে। তবে তারা সবসময় আশা করেন যেন এমন পরিস্থিতি না আসে। তারা এই ধারণা নিয়েই বাহিনীতে যোগ দেন যে যুদ্ধ হবে একদম শেষ বিকল্প, কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে মোটেও তা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে ঠিক কী ধরনের সুবিধা থেকে এই পরিবারটিকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানিয়েছেন লিবি। সামরিক বাহিনীর ক্যাজুয়ালটি অ্যাসিস্ট্যান্স অফিসার বা হতাহতদের সহায়তা প্রদানকারী কর্মকর্তার বরাত দিয়ে লিবি জানান, আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা না থাকার কারণেই মূলত অতিরিক্ত সুবিধাগুলো দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাদ পড়া সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে কমব্যাট পে বা যুদ্ধকালীন ভাতা, যেমন চরম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালনের ভাতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রের করছাড় সুবিধা। নিজের এই দাবিকে যারা মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন, তাদেরও একহাত নিয়েছেন লিবি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যারা মন্তব্য করছেন যে আমি কেবল মনোযোগ আকর্ষণের জন্য এসব পোস্ট করছি, তাদের উদ্দেশে বলছি, নিজের জীবনসঙ্গীকে কবর দেওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি না হওয়া পর্যন্ত অন্তত কাউকে বিচার করা থেকে বিরত থাকুন। উল্লেখ্য, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অপারেশন এপিক ফিউরি চলমান থাকলেও মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন না থাকায় আইনি জটিলতায় পড়েছেন যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী হাজারো সেনা ও তাদের পরিবার।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন। তিনি দাবি করেছেন, মিথ্যা বলাটা ইরানিদের ধর্মের একটি অংশ। তার এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পর দেশটিকে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্যাপিটল হিলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ৫৪ বছর বয়সী মাইক জনসন এই মন্তব্য করেন। এ সময় তার পেছনে রিপাবলিকান দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জনসন বলেন, ইরানিদের কোনোভাবেই বিশ্বাস করা যায় না। আমাদের হতাশার মূল কারণ হলো তাদের ওপর আস্থা রাখতে না পারা। তারা আলোচনার টেবিলে বসে এক কথা বলে, আর সেখান থেকে বেরিয়ে গিয়ে ঠিক তার উল্টো কাজটি করে। তিনি আরও যোগ করেন, তাদের কারও কারও ক্ষেত্রে এমনটা মনে হয় যে, যাদের সঙ্গে তাদের মতবিরোধ রয়েছে, তাদের কাছে মিথ্যা বলাটা যেন তাদের ধর্মেরই একটি অংশ। রিপাবলিকান নেতার এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এক্সে থাকা নেটিজেনরা। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, এটি সেই পুরোনো কৌশল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যা করছে, তার দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। তিনি আরও লেখেন, এই কৌশল বেশিদিন টিকবে না। যারা আপনার কথায় বিশ্বাস করছে, সত্যটা সামনে এলে তারাই সবচেয়ে বেশি হতাশ হবে। আরেকজন মন্তব্য করেছেন, স্পষ্টতই এটি মাইক জনসনের ধর্মের অংশ যে তিনি চাইলেই মিথ্যা বলতে পারেন। তিনি প্রতিবার কথা বলার সময় ভীতি প্রদর্শনের কৌশল ও মিথ্যার আশ্রয় নেন। আমেরিকানরা তাকে বিশ্বাস করতে পারে না। এদিকে এই উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এখনই শেষ হচ্ছে না। সোমবার সকালে ফক্স নিউজের ট্রে ইংস্টের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা জানান। মূলত জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে রাতভর হামলার বিষয়ে কথা বলছিলেন তিনি। লারাক দ্বীপে ইরানের রকেট লঞ্চারে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হামলার পরই এই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানতে যাচ্ছি। এর একটি মোক্ষম জবাব দেওয়া হবে। ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের ছোড়া একটি ছাড়া বাকি সব কটি ক্ষেপণাস্ত্রই মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে আটকে দিয়েছে। যে ক্ষেপণাস্ত্রটি আটকানো যায়নি, সেটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুর দিকে যাচ্ছিল না বলে এটিকে আকাশসীমায় ঢুকতে দেওয়া হয়েছিল। রবিবার হরমুজ প্রণালীতে ইরানের রকেট লঞ্চারগুলোতে মার্কিন বাহিনীর হামলার পরই মূলত পাল্টা আক্রমণ চালায় ইরান। এর মাধ্যমে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা থেমে থেমে যুদ্ধের এক মাসের বিরতির অবসান ঘটে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স জানান, রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সদস্যদের সামুদ্রিক মাইনসহ রকেট নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিতে দেখা গিয়েছিল। গত সপ্তাহেই ওই প্রণালীর আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের রুট থেকে সামুদ্রিক মাইন অপসারণের কাজ শেষ করেছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, তাদের বেশ কয়েকজন যোদ্ধা ও দেশবাসী শহীদ ও আহত হয়েছেন। পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখানো হয় যে, মার্কিন হামলার জবাবে জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে ইরান। সূত্র: এওএল, হাফপোস্ট, রয়টার্স
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ইনস্টাগ্রাম কি নতুন যুগে সিগারেটের জায়গা নিতে যাচ্ছে? মেটার প্রস্তাবিত নতুন কিছু বিধিনিষেধ অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্করা কীভাবে ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুক ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে সম্প্রতি একটি বড় ধরনের চুক্তিতে সম্মত হয়েছে মেটা। এই পদক্ষেপ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ঠিক সেভাবেই বিবেচনা করতে শুরু করেছে, যেভাবে তারা একসময় সিগারেটকে করেছিল। অর্থাৎ এটিকে একটি আইনি ভোগ্যপণ্য হিসেবে ধরা হচ্ছে, যার ব্যবহারের ঝুঁকি কমানোর দায়ভার খোদ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ওপরই বর্তাবে। গত বুধবার ঘোষণা করা এই চুক্তিটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি কার্যকর হলে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিদিন সম্মিলিতভাবে দুই ঘণ্টার একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। একইসঙ্গে রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে তাদের প্রবেশাধিকার বন্ধ থাকবে। এছাড়া স্কুলের সময়টাতে নোটিফিকেশন সীমিত করা এবং বয়স যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার কথা বলা হয়েছে এই চুক্তিতে। মেটা ঠিকমতো এসব নিয়ম মেনে চলছে কি না, তা তদারকি করবে একটি স্বাধীন নিরীক্ষক দল ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোর কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূল দায়িত্ব পরিবারের ওপরই চাপিয়ে রাখা হয়েছিল। মেটা এতদিন অভিভাবকদের জন্য কিছু টুল বা সুবিধা দিয়ে আসছিল, যার মাধ্যমে তারা সন্তানদের অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারতেন। কিশোরদের ফোন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হতো এবং অভিভাবকের তদারকিকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে প্রচার করা হতো। কিন্তু প্রস্তাবিত এই নতুন চুক্তি সেই পুরোনো ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে। এখন কোনো পরিবার আলাদাভাবে বিধিনিষেধ আরোপের অনুরোধ করুক বা না করুক, মেটাকে নিজ থেকেই সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। তামাক বা সিগারেট শিল্পের ক্ষেত্রেও ঠিক একই ধরনের পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। সেখানেও ব্যবহারকারীর আচরণ নিয়ন্ত্রণের বদলে পণ্য এবং বিক্রেতা কোম্পানিকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হয়েছিল। সিগারেট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক আগেই বদলাতে শুরু করেছিল। একসময় ধূমপানকে নিছকই ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু নীতিনির্ধারকরা যখন বুঝতে পারলেন এটি মানুষের জন্য ক্ষতিকর, তখন তারা পণ্যটি তৈরি ও বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর ওপর দায়বদ্ধতা চাপিয়ে দেন। ফলে সাধারণ সামাজিক জীবনের অংশ হিসেবে বিবেচিত ধূমপান এমন একটি পণ্যে পরিণত হয়, যা মূলত শিশু ও সাধারণ মানুষকে এর ঝুঁকি থেকে রক্ষার জন্য নানা বিধিনিষেধের বেড়াজালে আবদ্ধ। ১৯৯৮ সালের টোব্যাকো মাস্টার সেটেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট এই পরিবর্তনকে একটি আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল। ওই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য বড় বড় সিগারেট প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। সেখানে তরুণদের লক্ষ্য করে চালানো বিজ্ঞাপন, প্রচার ও অন্যান্য কৌশলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল এবং কোম্পানিগুলোর ওপর বড় অঙ্কের আর্থিক দায়বদ্ধতা চাপানো হয়েছিল। মেটার নতুন প্রস্তাবিত চুক্তিটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষেত্রে অনেকটা সেরকমই একটি মোড় ঘোরানো পরিবর্তন। সন্তান কতক্ষণ ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করবে, তা কেবল অভিভাবকদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার বদলে মেটাকে এখন নিজ থেকেই অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহারের ওপর লাগাম টানতে হবে। যদি এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনুমোদিত হয়, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এর দায়ভার পণ্য ব্যবহারকারী পরিবারের কাছ থেকে সরাসরি পরিবেশক কোম্পানির কাঁধে চলে যাবে। অবশ্য সিগারেটের সঙ্গে এই তুলনার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মানসিক ও সামাজিক নেতিবাচক প্রভাব থাকলেও সিগারেটের মতো সরাসরি শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকি এর নেই। তবে নীতিনির্ধারকদের যুক্তি এখানে বেশ পরিচিত। যখন তারা দেখেন যে শুধুমাত্র দায়িত্বশীল ব্যবহারের পরামর্শ যথেষ্ট নয়, তখন তারা সরাসরি পণ্যটিকেই নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেন। কিশোরদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত আসক্তি এবং পরিসংখ্যানগত উদ্বেগের কথা বিবেচনা করলে এটি নিঃসন্দেহে একটি দুর্দান্ত সূচনা। তবে ইনস্টাগ্রামের ওপর দুই ঘণ্টার সীমাবদ্ধতা খুব একটা কাজে আসবে না, যদি কিশোররা সহজেই টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট বা ইউটিউবের মতো অন্য প্ল্যাটফর্মে চলে যাওয়ার সুযোগ পায়। কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আনতে হলে পুরো প্রযুক্তি শিল্পজুড়েই এ ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়া জরুরি। এখানেও সিগারেটের উদাহরণটি প্রাসঙ্গিক। তামাক নিয়ন্ত্রণ কেবল একটি কোম্পানি বা একটি চুক্তির মাধ্যমেই থেমে থাকেনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিধিনিষেধগুলো পুরো শিল্পের জন্য নিয়ম বদলে দিয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও সম্ভবত একই পথে এগোচ্ছে। আগামী দিনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে প্রযুক্তিপণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে এই ধরনের ব্যবহারিক সীমাবদ্ধতা হয়তো ব্যবসার একটি স্বাভাবিক শর্ত হয়ে দাঁড়াবে। আর যখন তা হবে, তখন এই চুক্তিটি কেবল কিশোররা দিনে কত ঘণ্টা ফোন ব্যবহার করতে পারবে সেই আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এটি এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে যেখানে শিশুদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকেই অনেকটা অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হবে। খবরের সূত্র: নিউজউইক
একটি স্মার্টফোনে গোপনে ঢুকে ব্যক্তিগত বার্তা ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করতে পারে ‘গ্রাফাইট’ নামের শক্তিশালী স্পাইওয়্যার। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এর কিছু আক্রমণে ফোনের মালিককে কোনো লিংকে ক্লিক করা, ফাইল খোলা কিংবা কোনো সফটওয়্যার ডাউনলোড করার প্রয়োজনও হয় না। এমন প্রযুক্তি তৈরি করা প্রতিষ্ঠান প্যারাগন সলিউশন্সের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর ২০ লাখ ডলারের একটি চুক্তি রয়েছে। গ্রাফাইটকে বাণিজ্যিক নজরদারি প্রযুক্তির একটি শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়। এটি সরকারের গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর কাছে বিক্রি করা হয়। বহুল আলোচিত পেগাসাসের মতো গ্রাফাইটও এমন প্রযুক্তির অংশ, যেগুলো নির্দিষ্ট ব্যক্তির স্মার্টফোনে গোপনে প্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা দেয়। তবে প্যারাগনের প্রযুক্তির বিষয়ে সব তথ্য প্রকাশ্যে নেই। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে, তারা যাচাই করা সরকারি সংস্থার কাছেই প্রযুক্তি বিক্রি করে এবং সাংবাদিক বা নাগরিক সমাজের সদস্যদের বেআইনিভাবে নজরদারির অনুমতি দেয় না। কিন্তু ইতালি ও ইউরোপের কয়েকটি ঘটনায় গবেষকেরা গ্রাফাইটের ব্যবহার নিয়ে ফরেনসিক প্রমাণ পাওয়ার পর প্রযুক্তিটির ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গ্রাফাইট কীভাবে ফোনে ঢোকে গ্রাফাইটের সবচেয়ে আলোচিত সক্ষমতার একটি হলো ‘জিরো-ক্লিক’ আক্রমণ। সাধারণ সাইবার হামলায় ব্যবহারকারীকে কোনো ক্ষতিকর লিংকে ক্লিক করতে, সংযুক্ত ফাইল খুলতে বা কোনো অ্যাপ ইনস্টল করতে হয়। কিন্তু জিরো-ক্লিক আক্রমণে ব্যবহারকারীর এমন কোনো ভুল করার প্রয়োজন নেই। স্মার্টফোনে আসা বার্তা, ছবি বা অন্য কোনো তথ্য প্রদর্শনের আগে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা ও প্রক্রিয়াজাত করে। এই প্রক্রিয়ার কোনো নিরাপত্তা দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বিশেষভাবে তৈরি তথ্য ফোনে পৌঁছালে আক্রমণকারী ডিভাইসে ক্ষতিকর কোড চালানোর সুযোগ পেতে পারে। এরপর ফোনের ভেতরে স্পাইওয়্যারের অংশ বসিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। সিটিজেন ল্যাবের গবেষণা অনুযায়ী, প্যারাগনের অবকাঠামো ও গ্রাফাইটের সঙ্গে যুক্ত একটি জিরো-ক্লিক আক্রমণ শনাক্ত করতে হোয়াটসঅ্যাপকে সহায়তা করেছিল তাদের গবেষণা। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াটসঅ্যাপ প্রায় ৯০ জন ব্যবহারকারীকে সতর্ক করে জানায় যে তারা প্যারাগনের স্পাইওয়্যারের লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকতে পারেন। আক্রান্তদের মধ্যে সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের সদস্যও ছিলেন। হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষেত্রে আক্রমণের একটি পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পিডিএফ ফাইল ব্যবহার করা হয়েছিল বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল। লক্ষ্যবস্তুদের একটি গ্রুপে যুক্ত করে তাদের কাছে ওই ধরনের ফাইল পাঠানো হয়েছিল। গবেষকদের কাছে এটিই গ্রাফাইটের জিরো-ক্লিক সক্ষমতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে ওঠে। এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনও কেন পুরোপুরি রক্ষা করতে পারে না গ্রাফাইটের মতো স্পাইওয়্যার নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো, হোয়াটসঅ্যাপ বা সিগন্যালের মতো অ্যাপের বার্তা যদি এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনে সুরক্ষিত থাকে, তাহলে সেগুলো কীভাবে পড়া সম্ভব? এর উত্তর হলো, এনক্রিপশন বার্তাকে এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে যাওয়ার সময় সুরক্ষা দেয়। কিন্তু বার্তাটি ব্যবহারকারীর ফোনে পৌঁছে অ্যাপ যখন সেটিকে পড়ার উপযোগী করে, তখন সেটি ডিভাইসের ভেতরেই দৃশ্যমান হয়ে যায়। স্পাইওয়্যার যদি আগে থেকেই সেই ফোনে প্রবেশ করতে পারে, তাহলে এনক্রিপশন ভাঙার প্রয়োজন ছাড়াই ডিভাইসের ভেতরে থাকা তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে। এই কারণেই গ্রাফাইটের মতো স্পাইওয়্যার শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা নয়, বরং পুরো ডিভাইসের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। ইতালিতে সাংবাদিক ও অভিবাসন অধিকারকর্মীদের ফোনে গ্রাফাইট গ্রাফাইট নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তদন্তগুলোর একটি হয়েছে ইতালিতে। সিটিজেন ল্যাব কয়েকজন ইতালীয় নাগরিকের ফোন ফরেনসিকভাবে পরীক্ষা করে প্যারাগনের স্পাইওয়্যারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চিহ্ন খুঁজে পায়। লুকা কাসারিনি ও জুসেপ্পে কাচ্চি নামে দুই অভিবাসন অধিকারকর্মীর অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গ্রাফাইট-সংশ্লিষ্ট স্পাইওয়্যার ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। ইতালীয় সাংবাদিক ফ্রানচেস্কো কানচেল্লাতোকেও হোয়াটসঅ্যাপ সতর্ক করেছিল যে তার ফোন লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকতে পারে। ২০২৬ সালের মার্চে রোম ও নেপলসের প্রসিকিউটরদের তদন্তে তিনটি ফোনেই ক্ষতিকর সফটওয়্যারের চিহ্ন পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের মতে, কাসারিনি, কাচ্চি ও কানচেল্লাতোর ফোনে একই সময়ের কাছাকাছি অস্বাভাবিক কার্যক্রম দেখা যায় এবং সেগুলো গ্রাফাইটের কার্যপ্রণালির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ইতালীয় তদন্তে কাসারিনি ও কাচ্চির বিরুদ্ধে গ্রাফাইট ব্যবহারের সঙ্গে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রমের সম্পর্ক পাওয়া গেলেও সাংবাদিক কানচেল্লাতোর ক্ষেত্রে একই ধরনের সরকারি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত এখনো তার ফোনে কে নজরদারি চালিয়েছিল, তা নির্ধারণের চেষ্টা করছে। ইতালীয় গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কাসারিনি ও কাচ্চির ওপর গ্রাফাইট ব্যবহার আইনগত অনুমোদনের ভিত্তিতে করা হয়েছিল। সাংবাদিক কানচেল্লাতোর ক্ষেত্রে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ নেই বলেও গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে। এই ঘটনায় একটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি দাবি করে যে তার প্রযুক্তি শুধু আইনসম্মত নজরদারির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, তাহলে বাস্তবে কোনো সরকারি সংস্থা সেই প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করছে, তা কতটা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব? প্যারাগনের নিয়ন্ত্রণ প্যানেলের ছবিও আলোচনায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রাফাইট নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় প্যারাগনের একজন শীর্ষ আইন কর্মকর্তার লিংকডইনে দেওয়া একটি ছবিকে ঘিরে। ছবিতে পেছনের একটি বড় পর্দায় গ্রাফাইটের নিয়ন্ত্রণ প্যানেলের মতো একটি ইন্টারফেস দেখা যায়। পরে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হলেও সাইবার নিরাপত্তা গবেষকেরা ছবিটি সংরক্ষণ করেন। ছবিতে একটি ফোন নম্বর, ‘ভ্যালেন্তিনা’ নামে একটি পরিচিতি, বার্তা ও তথ্য সংগ্রহের রেকর্ড এবং বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু বিভাগ দেখা যাচ্ছিল বলে সাইবার নিরাপত্তা গবেষকেরা জানান। সেখানে হোয়াটসঅ্যাপ, সিগন্যাল, টেলিগ্রাম ও লাইনসহ কয়েকটি যোগাযোগ অ্যাপের চিহ্নও দেখা যায়। এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ প্যানেল থেকে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর ডিভাইসে নজরদারি পরিচালনা, সংগৃহীত তথ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং অনুমোদনের মেয়াদ সম্পর্কিত তথ্য দেখার সুযোগ থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। প্যারাগনের প্রতিষ্ঠা ও মালিকানা প্যারাগন সলিউশন্স প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালে ইসরায়েলে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক এবং ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা ইউনিট ৮২০০-এর সাবেক কমান্ডার এহুদ শ্নোরসন। ২০২৪ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্টনার্স প্যারাগন অধিগ্রহণে সম্মত হয় বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। চুক্তিটির মূল্য কমপক্ষে ৫০ কোটি ডলার বলে তখন জানানো হয়েছিল। পরে প্যারাগনের শেয়ার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মূল প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরিত হওয়ার তথ্যও প্রকাশ্যে আসে। প্যারাগন নিজেকে অন্যান্য বিতর্কিত বাণিজ্যিক স্পাইওয়্যার প্রতিষ্ঠানের তুলনায় দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরে। তাদের বক্তব্য, প্রযুক্তিটি গণতান্ত্রিক দেশের যাচাই করা সরকারি সংস্থার কাছে বিক্রি করা হয় এবং সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের সদস্যদের বেআইনিভাবে লক্ষ্যবস্তু করা নিষিদ্ধ। কিন্তু ইতালির ঘটনাগুলো সেই দাবির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কারণ কোনো প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে চুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা বাইরের মানুষের পক্ষে যাচাই করা কঠিন। আইসিইর সঙ্গে ২০ লাখ ডলারের চুক্তি প্যারাগন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ আরও বেড়েছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর সঙ্গে ২০ লাখ ডলারের চুক্তির কারণে। আইসিইর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস বিভাগের সঙ্গে প্যারাগনের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের এক বছরের চুক্তি ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তিটির মূল্য ছিল ২০ লাখ ডলার। কয়েক দিনের মধ্যেই সেটি নিয়ে পর্যালোচনা শুরু হয় এবং ৮ অক্টোবর ‘স্টপ-ওয়ার্ক’ আদেশ দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল চুক্তিটি বাণিজ্যিক স্পাইওয়্যার ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ২০২৩ সালের নির্বাহী আদেশে এমন বাণিজ্যিক স্পাইওয়্যার ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, যেগুলো জাতীয় নিরাপত্তা বা মানবাধিকার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। প্রায় এক বছর পর, ২০২৫ সালের আগস্টের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নথিতে জানানো হয়, আইসিইর চুক্তির ওপর থাকা ‘স্টপ-ওয়ার্ক’ আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে প্যারাগনের সঙ্গে চুক্তিটি কার্যকর করার পথ আবার খুলে যায়। তবে প্রকাশ্য চুক্তির নথিতে গ্রাফাইটের নাম সরাসরি উল্লেখ নেই। সেখানে প্যারাগনের কাছ থেকে কনফিগার করা মালিকানাধীন সমাধান, সফটওয়্যার লাইসেন্স, হার্ডওয়্যার, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণের কথা রয়েছে। ফলে আইসিই ঠিক কোন নজরদারি সক্ষমতা পেয়েছে বা ব্যবহার করতে চায়, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। এই জায়গাটিই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। কারণ গ্রাফাইট যদি চুক্তির আওতায় থাকে বা ভবিষ্যতে ব্যবহার করা হয়, তাহলে প্রচলিত তল্লাশি বা জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই কোনো ব্যক্তির ফোন থেকে যোগাযোগ ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার হাতে চলে যেতে পারে। অভিবাসী ও সাংবাদিকদের ওপর ব্যবহারের আশঙ্কা আইসিই মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকা সংস্থা। ফলে প্যারাগনের মতো শক্তিশালী নজরদারি প্রযুক্তির সঙ্গে তাদের চুক্তি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও গোপনীয়তা অধিকারকর্মীদের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অভিবাসী, আইনজীবী, সাংবাদিক, অধিকারকর্মী বা অন্য কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে কি না। চুক্তির প্রকাশ্য নথিতে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনের নিয়ম, ব্যবহারের সীমা এবং স্বাধীন নজরদারির বিস্তারিত তথ্য নেই। বিতর্কের মূল জায়গা এখানেই। কোনো স্মার্টফোনে গ্রাফাইটের মতো প্রযুক্তি সফলভাবে প্রবেশ করলে ব্যবহারকারী নিজে বিষয়টি বুঝতেই নাও পারেন। ফোনে কোনো অস্বাভাবিক বার্তা, পপ-আপ বা সতর্কতা দেখা না দিয়েও তথ্য সংগ্রহ হতে পারে। ফলে সাধারণ নিরাপত্তা সতর্কতা মেনে চলা একজন ব্যবহারকারীর পক্ষেও এমন আক্রমণ ঠেকানো কঠিন হতে পারে। সিটিজেন ল্যাবের গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৯০টি ঘটনা সম্ভবত প্যারাগনের মোট নজরদারি কার্যক্রমের একটি অংশ মাত্র। কারণ সব ধরনের সংক্রমণ একই পদ্ধতিতে শনাক্ত করা সম্ভব নয় এবং অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি কখনোই সতর্কবার্তা পেতে পারেন না। ফলে গ্রাফাইটের ঘটনা শুধু একটি স্পাইওয়্যার বা একটি প্রতিষ্ঠানের বিতর্কে সীমাবদ্ধ নয়। এটি সরকারি নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারের সীমা, নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সাংবাদিকদের তথ্যসূত্রের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার জবাবদিহি নিয়ে বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ হলো, প্রযুক্তি ব্যবহারের পর কোনো ব্যক্তি যদি জানতে না পারেন যে তার ফোনে নজরদারি চালানো হয়েছে, তাহলে সেই নজরদারির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগও সীমিত হয়ে যায়। আর এ কারণেই গ্রাফাইটের মতো প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি নয়, স্বাধীন তদারকি ও স্পষ্ট আইনি সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন অধিকারকর্মীরা। সূত্র: দ্য সিটিজেন ল্যাব
যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম পাওয়ার পথ ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসন অভিবাসন আদালত ব্যবস্থায় বড় ধরনের রদবদল আনায় আশ্রয় আবেদন বাতিলের হার বিস্ময়করভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্দলীয় গবেষণা সংস্থা ট্রানজ্যাকশনাল রেকর্ডস অ্যাক্সেস ক্লিয়ারিংহাউস (টিআরএসি)-এর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে অভিবাসন বিচারকরা ১৪ হাজারের বেশি আশ্রয় আবেদনের রায় দিয়েছেন, যার মধ্যে ৯৪.১ শতাংশ আবেদনই সরাসরি বাতিল করা হয়েছে। এই মাসে মাত্র ৭৭১ জন ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের অনুমতি পেয়েছেন। টিআরএসি-এর তথ্য বলছে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদের শুরুর দিকে এই অনুমোদনের হার ছিল ৫০ শতাংশের বেশি, যা তার মেয়াদের শেষে ৩২ শতাংশে নেমে আসে। কিন্তু ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই পরিস্থিতি আমূল পালটে গেছে। অভিবাসন আদালত ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে ২০২৫ এবং ২০২৬ অর্থবছরে অন্তত ২৭৯ জন অভিবাসন বিচারক পদত্যাগ করেছেন অথবা তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে, যা বাইডেন আমলের শেষ দিকের মোট বিচারক সংখ্যার প্রায় ৩৮ শতাংশ। এর বিপরীতে ট্রাম্প প্রশাসন ১৯২ জন নতুন বিচারক এবং ৫৩ জন অস্থায়ী বিচারককে নিয়োগ দিয়েছে। ফলে চলতি বছর যারা আশ্রয়ের রায় দিচ্ছেন, তাদের অর্ধেকের বেশি ট্রাম্পের আমলে নিয়োগ পাওয়া। তবে কেবল নতুন বিচারক নিয়োগের কারণেই যে বাতিলের হার বেড়েছে, বিষয়টি এমন নয়। টিআরএসি-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২১ সাল থেকে বিচারকের আসনে থাকা ১৩০ জন পুরনো বিচারকও আগের চেয়ে অনেক বেশি আবেদন বাতিল করছেন। ২০২১ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে তাদের আবেদন বাতিলের হার গড়ে ৩৩ শতাংশীয় পয়েন্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, সামগ্রিক বাতিলের হার ৯৪ শতাংশ হওয়ার মানে এই নয় যে, প্রত্যেক আবেদনকারীর আবেদন বাতিলের আশঙ্কা ৯৪ শতাংশ। আবেদনকারীর জাতীয়তা, আইনি সহায়তা, আটকের পরিস্থিতি এবং নির্দিষ্ট বিচারকের ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি মামলার রায় ভিন্ন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ কিংবা দেশ থেকে বের হওয়ার সময় সঙ্গে ১০ হাজার ডলারের বেশি নগদ অর্থ বা নির্দিষ্ট ধরনের মনিটারি ইন্সট্রুমেন্ট থাকলে তা মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি এর কাছে ঘোষণা করা বাধ্যতামূলক। তবে ১০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ বহন করা নিজে অবৈধ নয়। সঠিকভাবে ঘোষণা না করলে অর্থ জব্দ বা ফোরফিচারের পাশাপাশি আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেল বিমানবন্দরের একটি ঘটনায়। সিবিপি এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া এক যাত্রীর কাছে ২০ হাজার ডলারের বেশি অঘোষিত নগদ অর্থ পাওয়া যায়। কর্মকর্তারা জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই যাত্রী তার কাছে ১০ হাজার ডলারের বেশি নগদ থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন। পরে তল্লাশিতে ২০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ পাওয়ার পর সেটি জব্দ করা হয়। মার্কিন সরকারের ফিনান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক বা ফিনসেন এর নিয়ম অনুযায়ী, একবারে ১০ হাজার ডলারের বেশি নগদ বা নির্দিষ্ট মনিটারি ইন্সট্রুমেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নিয়ে গেলে কিংবা বিদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে এলে ফিনসেন ফর্ম ১০৫ জমা দিতে হয়। অর্থাৎ নিয়মটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় নয়, দেশ থেকে বের হওয়ার সময়ও সমানভাবে প্রযোজ্য। এই সীমা শুধু মার্কিন ডলারের ক্ষেত্রে নয়। U.S. ও বিদেশি মুদ্রা মিলিয়ে মোট মূল্য ১০ হাজার ডলারের বেশি হলে এবং নির্দিষ্ট ধরনের ট্রাভেলার্স চেক, মানি অর্ডারসহ অন্যান্য মনিটারি ইন্সট্রুমেন্ট থাকলেও রিপোর্টিংয়ের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তবে ১০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ সঙ্গে থাকলেই সেটি অবৈধ হয়ে যায় না। মার্কিন আইনে এ ধরনের অর্থ বহনের কোনো নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমা নেই। মূল বিষয় হলো, প্রয়োজনীয় ডিক্লারেশন সঠিকভাবে করা। রিপোর্ট না করা, অর্থের পরিমাণ গোপন করা বা কর্মকর্তাদের কাছে ভুল তথ্য দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট অর্থ জব্দ এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশে যাওয়ার সময় ব্যবসা, পারিবারিক প্রয়োজন বা অন্য বৈধ কারণে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ বহন করলে আগে থেকেই রিপোর্টিংয়ের নিয়ম জেনে নেওয়া উচিত। সহজভাবে বললে, ১০ হাজার ডলারের সীমা কোনো নিষেধাজ্ঞার সীমা নয়, এটি মূলত রিপোর্টিংয়ের সীমা। টাকা বৈধ হলে তা বহন করা যেতে পারে, কিন্তু প্রয়োজনীয় ডিক্লারেশন করতে হবে।
টানা ২০০ দিনের বেশি সময় সমুদ্রে কাটানোর পর থাইল্যান্ডের বিখ্যাত পর্যটন নগরী পাতায়ায় পৌঁছাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোভিত্তিক বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন'। রণতরীতে থাকা প্রায় ৫ হাজার নৌসেনা ও মেরিনের আগমনের আগেই স্থানীয় বিনোদন ও সমুদ্রসৈকত এলাকাগুলোতে জোরদার দেহব্যবসা বিরোধী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে থাই পুলিশ। চলতি সপ্তাহে শহরটির কাছাকাছি লাম চাবাং বন্দরে দুটি সহযোগী নৌযানসহ রণতরীটির নোঙর করার কথা রয়েছে। সৈকত ও নাইটলাইফ এলাকাগুলোতে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে এবং সম্প্রতি চালানো বিভিন্ন অভিযানে দেহব্যবসায় জড়িত থাকার সন্দেহে অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। পাতায়া পুলিশ প্রধান অনেক স্রাথংইয়ু স্বীকার করেছেন যে, পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও প্রকাশ্যে দেহব্যবসা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। যদিও থাইল্যান্ডে দেহব্যবসা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ, তবুও পাতায়া ও ব্যাংককের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে এটি দীর্ঘদিন ধরেই দৃশ্যমান। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় থেকেই মার্কিন সেনাদের অবকাশযাপনের কেন্দ্র হিসেবে পাতায়া বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়। গত নভেম্বরে সান ডিয়েগো বন্দর ত্যাগ করার পর মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের সামরিক কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছিল। টানা দীর্ঘ মোতায়েনের কারণে রণতরীর কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোবলে চরম অবনতি দেখা দিয়েছে বলে বিভিন্ন সামরিক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে। এই দীর্ঘ মিশনের পর তীরে নেমে বিশ্রামের সুযোগ পাবেন সেনারা। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিনোদন খাতের সঙ্গে জড়িতরা এই সফরকে অর্থনৈতিকভাবে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। পাতায়ার মেয়র পোরামাস এনগামপিচেস ধারণা করছেন, প্রতিটি নৌসেনা দৈনিক গড়ে প্রায় ৩০ থেকে ৯১ মার্কিন ডলার ব্যয় করতে পারেন, যা শহরের ব্যবসায়িক মন্দা কাটাতে সাহায্য করবে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমন যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকি ও যৌন শোষণের আশঙ্কাও বাড়িয়ে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ভয়াবহ হামলা চলাকালে নিজস্ব অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করে শত্রু বাহিনীর ২০০টিরও বেশি সামরিক বিমান ও ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইরানের ‘বিমান প্রতিরক্ষা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশটির শীর্ষ সেনা কমান্ডাররা এই সামরিক সাফল্যের তথ্য প্রকাশ্যে আনেন। প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামি জানান, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসব অস্ত্রের ক্ষমতা এতটাই গোপন ও আধুনিক ছিল যে, হামলাকারী মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী বুঝতেই পারেনি ঠিক কোথা থেকে তাদের বিমানে আঘাত হানা হচ্ছে। দেশের আকাশসীমাকে সুরক্ষিত রাখতে মরুভূমি, সমুদ্র উপকূল, পাহাড়ি অঞ্চল ও দ্বীপসহ প্রায় ৩ হাজার ৮০০টির বেশি দুর্গম স্থানে ইরানের প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় মোতায়েন রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, আকাশপথে যেকোনো শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন বা উড়োজাহাজ শনাক্ত হওয়ামাত্রই তা ধ্বংস করার পূর্ণ সক্ষমতা তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার রয়েছে। সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি এক দৃঢ়বার্তায় জানান, মাতৃভূমি রক্ষায় প্রয়োজনে আগামী ২০ প্রজন্ম ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ইরানের জনগণ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বড় পরিসরে বিমান হামলা চালায়। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তা প্রাণ হারান। এই ঘটনার পর ইরান তীব্র প্রতিশোধ নিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে পাল্টা ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, যা পুরো অঞ্চলে এক ভয়াবহ সংঘাতের জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এক পাষণ্ড বাবার বিরুদ্ধে নিজের ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণ ও গর্ভবতী করার ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি নির্জন রাস্তা থেকে ওই কিশোরীর নবজাতকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বর্তমানে অভিযুক্ত ৩৮ বছর বয়সী সার্জিও গালভেস পেরেজ তার কিশোরী মেয়েকে নিয়ে পলাতক রয়েছেন। মন্টেরে কাউন্টি শেরিফ অফিস নিশ্চিত করেছে যে, পেরেজ ওই কিশোরী এবং মৃত নবজাতক উভয়েরই জন্মদাতা বাবা। তদন্তকারীরা নিহত ওই নবজাতকের নাম রেখেছেন ‘অ্যাঞ্জেলিতো’। গত ১ আগস্ট মস ল্যান্ডিংয়ের কাছের একটি নির্জন রাস্তার পাশ থেকে নবজাতকের মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় শিশুটির নাড়ি যুক্ত ছিল এবং শরীরে আঘাতের সুস্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া যায়। এই ঘটনায় ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে তার সন্তানের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে তার জড়িত থাকার বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত করা হলো, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, মেয়েটির বয়স যখন মাত্র ১৩ বছর, তখনই পেরেজ তাকে ধর্ষণ করে গর্ভবতী করে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে নিজ পরিবারের সদস্যের সঙ্গে অজাচার এবং নাবালিকার ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মন্টেরে কাউন্টির শেরিফ টিনা নিয়েতো জানান, পলাতক ওই কিশোরী চরম বিপদের মধ্যে থাকতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। তিনি বলেন, "সে মাত্র ১৪ বছরের একটি শিশু। যদিও সে এই হত্যা মামলার সন্দেহভাজন, কিন্তু দিনশেষে সে নিজেও একজন ভুক্তভোগী।" পুলিশ দ্রুত মেয়েটিকে উদ্ধার করে তার জবানবন্দি শুনতে চায় এবং পাষণ্ড বাবাকে আইনের আওতায় আনতে জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেছে। ফ্লক ক্যামেরার ফুটেজের সাহায্যে পুলিশ পেরেজ ও তার স্ত্রী ওফেলিয়া গার্সিয়া ওর্তেগার নামে নিবন্ধিত একটি গাড়ি শনাক্ত করে, যা এই তদন্তে বড় অগ্রগতি এনে দেয়। ইতোমধ্যে শিশু বিপন্ন করার অভিযোগে ওর্তেগাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।