ফের হামলা চালালে ইরানকে ‘পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি দিলেন ট্রাম্প
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের পর ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান আবার হামলা চালালে দেশটিকে আরও কঠোরভাবে আঘাত করা হবে। এমনকি তৃতীয় দফায় সংঘাত হলে ইরান ‘দেশ হিসেবে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন’ হয়ে যেতে পারে বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আবারও হামলা চালায়, তাহলে তাদের আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তৃতীয়বার এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরানের জন্য পরিণতি ভয়াবহ হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও বড় আকার নিতে পারে কি না, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসানোর জন্য তিনি কোনো চাপ প্রয়োগ করছেন না। ইরান কোনো চুক্তিতে সই করল কি না, সেটি নিয়েও তিনি খুব বেশি চিন্তিত নন বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই সর্বশেষ মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করেছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, মার্কিন হামলায় বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে তারা জানিয়েছে, একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল এমন একটি বাড়িতে হামলায় পাঁচজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। তবে সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।
মঙ্গলবারের মার্কিন হামলার পর বুধবার বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েত ইরানের হামলার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নতুন করে সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে প্রায় ৯৫ ডলারে উঠেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে এই দাম ছিল প্রায় ৭২ ডলার। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম বাড়ছে। এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে দেশটির নিয়মিত গ্যাসোলিনের জাতীয় গড় দাম প্রতিদিনই গ্যালনপ্রতি ৪ ডলারের ওপরে ছিল। বুধবার জাতীয় গড় দাম দাঁড়িয়েছে গ্যালনপ্রতি ৪.১২ ডলার। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকান দলের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে।
এর মধ্যেই মার্কিন সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের পরিবর্তনের খবর এসেছে। প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল। হোয়াইট হাউস ড্রিসকলের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেছে, তাঁর সময়ে মার্কিন সেনাবাহিনী আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়েছে। তবে তাঁর পদত্যাগের নির্দিষ্ট কারণ এখনো জানানো হয়নি।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে ড্রিসকল ও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মধ্যে মতবিরোধের কথা উঠে এসেছে। সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা নিয়ে দুজনের মধ্যে টানাপোড়েন ছিল বলে জানা গেছে। সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জ এবং ইউরোপে মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডারকে সরানো নিয়েও মতবিরোধের খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ড্রোন আধুনিকায়নের একটি কর্মসূচি, যেটির পক্ষে ড্রিসকল ছিলেন, সেটিও পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ড্রিসকলের স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা এখনো ঘোষণা করেনি হোয়াইট হাউস। অন্যদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারির পর এখন দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তদন্তকারীরা হামাসের অর্থ সংগ্রহ ও অনলাইন কার্যক্রমে ব্যবহৃত ৫ লাখ ৬০ হাজারc ডলারের বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ করেছে। একই অভিযানে হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেডের নিয়ন্ত্রিত ওয়েবসাইট ও সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সংগঠনটির জন্য পাঠানো অনুদান আটকে দেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনে হামাসকে অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করা হাজার হাজার ব্যক্তির তথ্যও সংগ্রহ করেছে এফবিআই। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এ তথ্য জানায়। আদালতের অনুমোদিত জব্দ আদেশের ভিত্তিতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভাগটি। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি এনক্রিপ্টেড অনলাইন গ্রুপ চ্যাটে সমর্থকদের একটি অর্থ সংগ্রহের ওয়েবসাইটে যেতে বলা হতো। সেখানে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অনুদান পাঠানোর জন্য বিভিন্ন সময় পরিবর্তিত একাধিক ডিজিটাল ওয়ালেটের ঠিকানা দেওয়া হতো। তদন্তকারীরা মানবসূত্র থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে এসব লেনদেন শনাক্ত ও অনুসরণ করেন। ২০২৫ সালের মার্চ, জুন ও অক্টোবর মাসে তিনটি পৃথক আদালত অনুমোদিত জব্দ কার্যক্রমে প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ করা হয়। অর্থগুলো হামাসের আল-কাসাম ব্রিগেডের জন্য পাঠানো হচ্ছিল বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর এফবিআইয়ের আলবুকার্কি ফিল্ড অফিস মানবসূত্রের সহায়তায় আল-কাসাম ব্রিগেডের প্রধান ওয়েবসাইট আলকাসাম ডট পিএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডোমেইন ও সার্ভার শনাক্ত করে সেগুলোও জব্দ করে। তদন্তকারীদের দাবি, এসব অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ফলে হামাসের উদ্দেশে পাঠানো নতুন ক্রিপ্টো অনুদানও আটকে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। শুধু অর্থ ও ওয়েবসাইট জব্দেই অভিযান সীমাবদ্ধ থাকেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও তদন্ত পদ্ধতি ব্যবহার করে এফবিআই এমন হাজার হাজার ব্যক্তির তথ্যও পেয়েছে, যারা অনলাইনে হামাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা প্রচলিত পদ্ধতিতে অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এসব তথ্য ভবিষ্যতের সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ হামাসকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। বিভাগটির কর্মকর্তারা বলছেন, অনলাইন নেটওয়ার্ক ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ বন্ধ করা তাদের সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য। মার্কিন বিচার বিভাগের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন এ. আইজেনবার্গ বলেন, এই জব্দ কার্যক্রম হামাসের অনলাইন নিয়োগ ও অর্থ সংগ্রহের সক্ষমতা কমাতে সহায়তা করবে। এফবিআইয়ের সাইবার বিভাগের সহকারী পরিচালক ব্রেট লেদারম্যানও বলেন, সংগঠনটি প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছিল। মামলাটি এফবিআইয়ের আলবুকার্কি ফিল্ড অফিস তদন্ত করছে। এর সঙ্গে এফবিআইয়ের কাউন্টারটেররিজম বিভাগ, সাইবার বিভাগ এবং নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিসও যুক্ত রয়েছে।
২৫ বার গ্রেপ্তার অভিবাসীর সঙ্গে সাক্ষাৎ চান কংগ্রেসম্যানের প্রতিনিধিরা, বহিষ্কারের উদ্যোগ আইসের
ট্রাফিক মামলা দিয়েও পেলেন প্রশংসা, আচরণে মুগ্ধ হয়ে পুলিশ বিভাগে চিঠি লিখে নারীর কৃতজ্ঞতা
ফের হামলা চালালে ইরানকে ‘পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি দিলেন ট্রাম্প
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের পর একসঙ্গে তিন পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন নাইলা ক্রাফট। বিরল এই ট্রিপলেটের মধ্যে দুজন অভিন্ন যমজ এবং অন্যজন আলাদা ভ্রূণ থেকে জন্ম নেওয়া ভাই। চিকিৎসকদের মতে, কোনো প্রজনন চিকিৎসা ছাড়াই এমন গর্ভধারণ এবং তিন শিশুর একই লিঙ্গের হওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। চলতি বছরের শুরুতে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে নিজের গর্ভাবস্থার খবর জানতে পারেন নাইলা। আল্ট্রাসাউন্ডে প্রথমে দুটি শিশুকে দেখে তিনি ভেবেছিলেন, যমজ সন্তান আসছে। কিন্তু চিকিৎসক জানান, গর্ভে রয়েছে তিনটি শিশু। এমন খবর শুনে স্বাভাবিকভাবেই বিস্মিত হয়ে পড়েন তিনি। নাইলা বলেন, প্রথমে দুটি শিশুকে দেখে তার মনে হয়েছিল যমজ সন্তান হবে। পরে চিকিৎসক যখন জানান, সেখানে তৃতীয় শিশুটিও রয়েছে, তখন তিনি অবাক হয়ে যান। মুহূর্তেই সাধারণ একটি গর্ভাবস্থার খবর বদলে যায় তিন সন্তানের অপেক্ষায়। নাইলার পরিবারে অবশ্য একসঙ্গে একাধিক সন্তান জন্মের ইতিহাস রয়েছে। তার মা যমজ এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও ট্রিপলেট রয়েছে। কয়েক প্রজন্ম পর এবার সেই ইতিহাস যেন ফিরে এল নাইলার নিজের পরিবারে। তবে পরিবারের এমন ইতিহাস থাকলেও নিজের গর্ভে তিন সন্তান বেড়ে উঠছে এই খবর তার কাছে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা। তিন সন্তানের খবর শুনে নাইলার স্বামী মার্কো বার্নালও বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। কারণ তখন তাদের পরিবারে ছিল দুই সন্তান নায়া ও ম্যাসিও। একসঙ্গে আরও তিন সন্তান আসার অর্থ হলো, অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের পরিবার দুই সন্তান থেকে পাঁচ সন্তানের হয়ে যাবে। মার্কোর কাছে বিষয়টি ছিল আনন্দের পাশাপাশি বড় ধরনের এক পরিবর্তনের খবর। নতুন তিন ভাইকে ঘিরে বড় বোন নায়ার উৎসাহের কমতি নেই। সে মায়ের সঙ্গে শিশুদের যত্ন নিতে চায় এবং নতুন ভাইদের নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। তবে বড় ভাই ম্যাসিওর প্রতিক্রিয়া কিছুটা ভিন্ন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ভাইদের ব্যাপারে সে এখনো তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। চিকিৎসক কুইন ভো-হ্যানসার জানান, নাইলার গর্ভধারণের অন্যতম বিশেষ দিক হলো এটি কোনো প্রজনন চিকিৎসা বা সহায়ক প্রযুক্তির মাধ্যমে হয়নি। সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবেই গর্ভধারণের পর তিন শিশুর জন্ম হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন স্বাভাবিক ট্রিপলেট গর্ভধারণ নিজেই তুলনামূলকভাবে বিরল। তার ওপর এই তিন শিশুর ক্ষেত্রে আরও কিছু ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তিনি জানান, তিন শিশুর মধ্যে দুজন অভিন্ন যমজ। অর্থাৎ তারা একই নিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে তৈরি হয়েছে। অন্য শিশুটি আলাদা ভ্রূণ থেকে জন্ম নেওয়া তাদের ভাই। একই গর্ভে অভিন্ন যমজের পাশাপাশি আলাদা ভ্রূণ থেকে জন্ম নেওয়া আরেক শিশুর এমন সমন্বয়কে চিকিৎসকেরা বিশেষভাবে বিরল বলে মনে করছেন। তিন শিশুই ছেলে হওয়ায় ঘটনাটি আরও ব্যতিক্রমী হয়ে উঠেছে। ভো-হ্যানসার বলেন, তার তিন দশকের চিকিৎসা জীবনে এমন সব বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে থাকা ট্রিপলেট তিনি আগে দেখেননি। স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ, অভিন্ন যমজের উপস্থিতি এবং তিন শিশুর একই লিঙ্গ সব মিলিয়ে এই জন্ম চিকিৎসকদের কাছেও বিশেষ একটি ঘটনা। চিকিৎসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বছরে প্রায় ৩৫ লাখ প্রসবের মধ্যে আনুমানিক ২ হাজার ৪০০টি ট্রিপলেট জন্ম নেয়। তবে নাইলার মতো বিশেষ ধরনের ট্রিপলেটের ঘটনা আরও বিরল। একই গর্ভে অভিন্ন যমজ ও আলাদা ভ্রূণ থেকে জন্ম নেওয়া আরেক শিশুর এমন সমন্বয় চিকিৎসাবিজ্ঞানে খুব কমই দেখা যায়। তিন শিশুর জন্মের সময় হাসপাতালেও নেওয়া হয়েছিল বিশেষ প্রস্তুতি। সাধারণত একটি প্রসবের সময় যেখানে প্রায় পাঁচজন চিকিৎসাকর্মী থাকেন, সেখানে নাইলার প্রসবের সময় উপস্থিত ছিলেন প্রায় ১৫ জন। তিন শিশুর জন্য ছিলেন তিনজন এনআইসিইউ নার্স প্রতিটি শিশুর জন্য একজন করে। শিশুদের জন্য ছিলেন দুইজন চিকিৎসক, পাশাপাশি মায়ের জন্যও ছিলেন আলাদা চিকিৎসক ও অতিরিক্ত নার্স। নাইলা জানান, পুরো গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদানের সময় হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের কাছ থেকে তিনি অসাধারণ যত্ন পেয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থার ওপর নিয়মিত নজর রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এমন জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকদের নিবিড় নজরদারি তাকে মানসিকভাবেও ভরসা দিয়েছে। সন্তানদের নিরাপদে পৃথিবীতে আনার পুরো প্রক্রিয়ায় হাসপাতালের সহযোগিতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। হাসপাতালের নিওনেটোলজি বিভাগের প্রধান ডা. রোহিত পাসি বলেন, গর্ভাবস্থায় কৃষ্ণাঙ্গ মায়েদের বিভিন্ন জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় তাদের চিকিৎসায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং তার প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। নাইলার চিকিৎসায়ও তার শারীরিক ও মানসিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সামগ্রিকভাবে যত্ন নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ডা. পাসি জানান, নাইলা জীবনের শুরুর দিকে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন। একসময় তিনি আদৌ মা হতে পারবেন কি না, তা নিয়েও নিশ্চিত ছিলেন না। সেই অনিশ্চয়তা পেরিয়ে একসঙ্গে তিন সন্তানের মা হওয়া তার জন্য তাই বিশেষ এক অভিজ্ঞতা। চিকিৎসকদের কাছে তার গল্প শুধু একটি বিরল গর্ভধারণের ঘটনা নয়, বরং কঠিন পরিস্থিতি পেরিয়ে মাতৃত্বের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশের একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্পও। তিন নবজাতকের জন্মের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি মজার কাকতালীয় ঘটনা। তিন শিশুর জন্মদিন তাদের বাবা মার্কো বার্নালের জন্মদিনেই। ফলে বাবার নিজের জন্মদিন এখন থেকে একই দিনে আরও তিনটি জন্মদিন উদ্যাপনের সুযোগ তৈরি করেছে। পরিবারের জন্য এই কাকতালীয় ঘটনাটি বিরল জন্মের গল্পে যোগ করেছে আরও একটি আনন্দের মাত্রা। মার্কো বলেন, সন্তানদের জন্মদিন কীভাবে ভুলে যাবেন, যখন তিন সন্তানের জন্মদিনই তার নিজের জন্মদিন। দুই সন্তান থেকে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের বাবা হওয়া যেমন বড় পরিবর্তন, তেমনি নিজের জন্মদিন তিন সন্তানের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াও তার জন্য বিশেষ অনুভূতি। নতুন এই বাস্তবতায় পরিবারে ব্যস্ততা বাড়লেও তিন নবজাতকের আগমনে আনন্দই এখন সবচেয়ে বড় বিষয়। দুই সন্তান থেকে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের পরিবার নাইলা ও মার্কোর জীবনে এখন নিঃসন্দেহে ব্যস্ততা বেড়েছে। তবে সেই ব্যস্ততার মাঝেও তিন নবজাতককে ঘিরে পরিবারজুড়ে চলছে আনন্দ। স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের পর এমন বিরল ট্রিপলেটের জন্ম চিকিৎসকদেরও অবাক করেছে। আর পরিবারের কাছে এই তিন শিশুর আগমন হয়ে থাকল জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়গুলোর একটি।
নিউইয়র্ক পুলিশে চাকরির পরীক্ষার আবেদন চলছে, কীভাবে করবেন রেজিস্ট্রেশন
যুক্তরাষ্ট্রে খাবার ডেলিভারি রোবট দেখে অবাক ভারতীয় দম্পতি
অ্যাপলের সিইও পদ ছাড়লেও ট্রাম্পের ‘বিশেষ দূত’ হয়ে থাকছেন টিম কুক
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা সিটির ড্যানি এলার্ডের জীবন একসময় ছিল মাদকাসক্তি, গৃহহীনতা আর অনিশ্চয়তায় ভরা। প্রায় ১৫ বছর আসক্তির সঙ্গে লড়াই করার পর একপর্যায়ে তাঁকে আন্তঃরাজ্য মহাসড়কের একটি ওভারপাসের নিচে মাত্র ৯২ পাউন্ড ওজনের অবস্থায় খুঁজে পায় পুলিশ। তখন তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় পুলিশ প্রথমে তাঁকে আটক করতে চেয়েছিল। কিন্তু শারীরিক অবস্থা দেখে হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁকে। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁর জীবন এবং সংক্রমিত হাত বাঁচানোর চেষ্টা করেন। হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পর হাতে থাকা সামান্য কাপড়চোপড় নিয়ে ড্যানি যোগ দেন হোপ ইজ অ্যালাইভ নামের একটি পুনর্বাসন কর্মসূচিতে। এরপর ধীরে ধীরে শুরু হয় তাঁর নতুন জীবন। তিনি মাদকাসক্তি থেকে বেরিয়ে আসেন এবং অন্যদের পুনর্বাসনেও সহায়তা করতে শুরু করেন। ২০২৩ সালে ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটি-ওকলাহোমা সিটিতে কম্পিউটার ইনফরমেশন সিস্টেমস বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন ড্যানি। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি কাজ করতেন এবং একটি রিকভারি হোমের দায়িত্বও সামলাতেন। শেষ পর্যন্ত ৪.০ জিপিএ নিয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিতেও তাঁর ৪.০ জিপিএসহ গ্র্যাজুয়েশনের তথ্য রয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি গৃহহীন মানুষ ও মাদকাসক্তদের সহায়তায়ও যুক্ত হন ড্যানি। ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটি-ওকলাহোমা সিটির তথ্য অনুযায়ী, তিনি সিটি কেয়ারে শেল্টার অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করেন এবং গৃহহীন মানুষের সহায়তায় যুক্ত রয়েছেন। তাঁর নিজের জীবনের অভিজ্ঞতাই অন্যদের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। নিজের পুনরুদ্ধারের অভিজ্ঞতা নিয়ে ড্যানি লিখেছেন বই ‘রিকভারি ইজ পসিবল’। তাঁর লক্ষ্য, মাদকাসক্তি ও গৃহহীনতার সঙ্গে লড়াই করা মানুষকে বোঝানো যে জীবন বদলানোর সুযোগ শেষ হয়ে যায় না। একসময় যিনি রাস্তায় গৃহহীন অবস্থায় দিন কাটিয়েছেন, সেই ড্যানিই এখন অন্যদের ঘুরে দাঁড়ানোর পথ দেখাচ্ছেন। তাঁর জীবন দেখাচ্ছে, অতীত যত কঠিনই হোক, সঠিক সহায়তা, চিকিৎসা এবং নিজের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নতুন ভবিষ্যতের দরজা খুলে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট স্কোর না থাকলেও অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়ার ৭টি কার্যকর উপায়
১ লাখ ডলারের বেশি বেতন! যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত বাড়ছে যে ১৩ চাকরির চাহিদা, জেনে নিন