সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে পদত্যাগ করলেন মার্কিন সেনাসচিব ড্যান ডিসক্রল
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে পদত্যাগ করলেন মার্কিন সেনাসচিব ড্যান ডিসক্রল, নতুন চ্যালেঞ্জে পেন্টাগন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ ও টানাপোড়েনের জেরে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন মার্কিন সেনাসচিব (আর্মি সেক্রেটারি) ড্যান ডিসক্রল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো।   হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ডিসক্রলের প্রশংসা করে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামরিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে এবং ঐতিহাসিক সামরিক অভিযানগুলোতে তিনি অত্যন্ত দক্ষ নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে বিবৃতিতে পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।   পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সঙ্গে ডিসক্রলের সম্পর্ক বেশ কিছুদিন ধরেই বৈরী ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য সাবেক এই সেনাসচিব বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। হোয়াইট হাউসে ডিসক্রলের এই সরাসরি প্রবেশাধিকার ও প্রভাবকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ নিজের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে একধরনের বাইপাস বা হুমকি হিসেবে দেখছিলেন।   এই দ্বন্দ্ব আরও প্রকট আকার ধারণ করে যখন চলতি বছরের এপ্রিলে হেগসেথ আকস্মিকভাবে আর্মি চিফ অব স্টাফ জেনারেল রেন্ডি জর্জকে বরখাস্ত করেন। জেনারেল জর্জের সঙ্গে ডিসক্রলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কাজের সম্পর্ক ছিল এবং এই বরখাস্তের ঘটনা তাদের মধ্যকার চাপা উত্তেজনাকে সম্পূর্ণ প্রকাশ্যে নিয়ে আসে।   ডিসক্রলের এই পদত্যাগ এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান সামরিক সংঘাত ষষ্ঠ মাসে গড়িয়েছে। সংঘাত শেষ হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি হচ্ছে।   সম্প্রতি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথকে দেওয়া এক গোপন মূল্যায়নে (সেক্রেটারি অব ডিফেন্স অর্ডার্স বুক) শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, ইউরোপ, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার অনেক যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও সামরিক সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ায় অন্যান্য অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর নিয়মিত কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ ব্যাহত হচ্ছে।   বিশেষ করে নৌবাহিনীর ওপর এই যুদ্ধের চাপ সবচেয়ে বেশি। নৌবাহিনীর প্রধান স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমান মাত্রায় এই অভিযান দীর্ঘায়িত করা কোনোভাবেই টেকসই নয়।   ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এবং সামরিক সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সীমানা ও অন্যান্য বৈশ্বিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে।   ঠিক এই রকম একটি জটিল ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ড্যান ডিসক্রলের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্তার বিদায়ে পেন্টাগনের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হলো, যা মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভবিষ্যৎ কৌশল ও স্থিতিশীলতাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৮:৭
তিস্তা মহাপ্রকল্পের সঙ্গে চীনা যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কিনছে বাংলাদেশ
তিস্তা মহাপ্রকল্পের সঙ্গে চীনা যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কিনছে বাংলাদেশ

চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য তিস্তা মহাপ্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে অত্যাধুনিক জে-১০সিই (J-10CE) যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে এই যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   মে মাসে সংঘটিত স্বল্পস্থায়ী ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমানের বিপরীতে চীনা জে-১০সিই-এর অভাবনীয় যুদ্ধসাফল্যের কারণেই বাংলাদেশ এই ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানটির প্রতি বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে বলে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (এসসিএমপি) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে হুমায়ুন কবির চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে আখ্যায়িত করে ‘এক চীন নীতি’র প্রতি ঢাকার অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর দুদেশের সম্পর্ককে ‘ভবিষ্যতে চীন–বাংলাদেশ অভিন্ন সম্প্রদায়’ পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়েও তারা একমত হন। এছাড়া, প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) প্রতিষ্ঠা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও ইপিজেড নির্মাণ, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ নানা দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।   সিইআইজেড-এ প্রায় ৩০টি চীনা কোম্পানি বিনিয়োগ করতে পারে, যা স্থানীয়দের জন্য প্রায় এক লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।   সামরিক চুক্তির বিষয়ে সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, জে-১০সিই যুদ্ধবিমান এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার জন্য সরকার গঠিত একটি প্যানেল ইতোমধ্যে খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করছে।   বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টি-রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এমআরসিএ), অ্যাটাক ও ভিআইপি হেলিকপ্টার এবং ইউএভি (UAV) সিস্টেম নিয়ে চীনের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চলছে। ইউরোপীয় রাফাল বা ইউরোফাইটার টাইফুনের তুলনায় চীনা যুদ্ধবিমানের দাম তুলনামূলক কম হওয়া এবং সরাসরি যুদ্ধে এর চমৎকার পারফরম্যান্সের কারণে বাংলাদেশ এটিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।   চলতি অর্থবছরের বাজেট সহায়তা পেলে দ্রুতই এই সামরিক চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে বলে সরকারি পর্যায় থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৭:৪৫
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধতা হারিয়ে পায়ে জিপিএস ট্র্যাকার, অপমান ও নির্বাসনের আতঙ্কে হাইতিয়ান তরুণের মর্মান্তিক আ/ত্মহত্যা
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধতা হারিয়ে পায়ে জিপিএস ট্র্যাকার, অপমান ও নির্বাসনের আতঙ্কে হাইতিয়ান তরুণের মর্মান্তিক আ/ত্মহত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের স্প্রিংফিল্ডে টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিল হওয়ার পর পিয়েরে দামাস বেল নামের ২০ বছর বয়সী এক হাইতিয়ান তরুণ আত্মহত্যা করেছেন। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, গত সোমবার ইন্টারস্টেট ৭০ মহাসড়কে নিজের টয়োটা গাড়ি থামিয়ে চলন্ত গাড়ির সামনে হেঁটে গিয়ে আত্মাহুতি দেন সদ্য হাইস্কুলের গণ্ডি পার হওয়া এই মেধাবী শিক্ষার্থী। ওহাইও স্টেট হাইওয়ে প্যাট্রোল বর্তমানে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত করছে।   গত জুনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে টিপিএস কর্মসূচি বাতিলের অনুমতি দেওয়ার পর যে সাড়ে তিন লাখের বেশি হাইতিয়ান অভিবাসী তাদের আইনি সুরক্ষা হারিয়েছেন, বেল ছিলেন তাদেরই একজন। সশস্ত্র সংঘাত বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নিজ দেশ থেকে পালিয়ে আসা অভিবাসীদের কাজের অনুমতি ও নির্বাসনের হাত থেকে সুরক্ষা দিত এই কর্মসূচি।   সম্প্রতি ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) সাবেক টিপিএস হোল্ডারদের ওপর নজরদারির অংশ হিসেবে বেলের পায়ে একটি জিপিএস অ্যাঙ্কেল মনিটর পরিয়ে দেয়। গত জুলাই মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেল লিখেছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে এসেছেন, কোনো অপরাধ করতে নয়; অথচ পায়ে জিপিএস ট্র্যাকার নিয়ে তাকে এমন এক লজ্জা ও অপমানের বোঝা নিয়ে রাস্তায় চলতে হচ্ছে, যা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি।   ২০২৪ সালে হাইতি থেকে পালিয়ে আসা বাবা-মায়ের সঙ্গে মিলিত হতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন বেল। স্প্রিংফিল্ড হাইস্কুলের ভার্সিটি সকার টিমের সদস্য বেল জুনিয়র রিজার্ভ অফিসার্স ট্রেনিং কর্পসে (JROTC) লেফটেন্যান্ট পদমর্যাদাও অর্জন করেছিলেন এবং এই শরতেই ওহাইওর রাইট স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন।   যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার আশায় লড়তে থাকা বেলের অভিবাসন মামলার বিচারকের কাছে লেখা শিক্ষক ও নিয়োগকর্তাদের প্রশংসাপত্র থেকে জানা যায়, অত্যন্ত অল্প সময়ে অপরিচিত এক পরিবেশে নিজেকে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। তার জেআরওটিসি সামরিক প্রশিক্ষক তাকে মার্কিন সমাজের জন্য একজন অমূল্য সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।   হাইতিয়ান অভিবাসীদের সহায়তাকারী সংস্থা 'হাইতিয়ান ব্রিজ অ্যালায়েন্স'-এর নির্বাহী পরিচালক গুয়েরলিন জোসেফ জানান, বেলকে হাইতিতে ফেরত পাঠানোর আশঙ্কায় তিনি চরম হতাশায় ভুগছিলেন।   আত্মহত্যার দিন সকালে বাবাকে ফোন করে বেল জানিয়েছিলেন যে, নির্বাসিত হওয়ার ভয় তার কাছে ‘অসহনীয়’ হয়ে উঠেছে এবং অ্যাঙ্কেল মনিটর পরানোর পর থেকে তিনি মানসিকভাবে মারাত্মক বিপর্যস্ত।   বাবা তাকে স্কুল থেকে ফেরার পর বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলার আশ্বাস দিলেও তার ঠিক পরপরই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। জোসেফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই তরুণের মৃত্যুর জন্য মার্কিন সরকার, অভিবাসন ব্যবস্থা এবং সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি দায়ী।   ট্রাম্প প্রশাসন টিপিএস বাতিলের পর অভিবাসনবিরোধী ক্র্যাকডাউনের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে হাইতিতে দুটি নির্বাসন ফ্লাইট পাঠিয়েছে, যেখানে খোদ যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুরাও ছিল বলে জানিয়েছেন জোসেফ।   চরম গ্যাং সহিংসতার কারণে মানবাধিকার কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে হাইতিতে নির্বাসন বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছেন। গত সপ্তাহেও হাইতির রাজধানীর কাছে সশস্ত্র হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি অপহৃত হয়েছেন।   এদিকে, বেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তদন্তাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ডিএইচএস।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৭:১৫
নিউইয়র্কে আইসিইর অভিযানে ২,১৯৭ জন গ্রেপ্তার
নিউইয়র্কে আইসিইর অভিযানে ২,১৯৭ জন গ্রেপ্তার, তালিকায় খু নি-ধ র্ষকসহ বহু অপরাধী

গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ‘অপারেশন রোটেন অ্যাপল’ বা পচা আপেল অভিযানের আওতায় প্রায় ২ হাজার ২০০ অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত খুনি, ধর্ষক এবং মাদক চোরাকারবারি রয়েছে।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন মঙ্গলবার জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী বা গভর্নর ক্যাথি হোকুলের কোনো ধরনের সহায়তা ছাড়াই এই অভিযান সফলভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। সামনে এমন আরও বড় পরিসরের অভিযান চালানো হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।   গত ২৭ জুলাই থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত চলা এই অভিযানে মোট ২ হাজার ১৯৭ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়। মুলিন সাংবাদিকদের জানান, নিউইয়র্কের মেয়র এবং গভর্নর স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আইসিই-এর সহযোগিতার পথ বন্ধ করে দেওয়ায় এ ধরনের বিশাল অভিযানের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।   তিনি মেয়র মামদানীর সমালোচনা করে বলেন, তিনি জনগণের নিরাপত্তা ও চাহিদার বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। ফেডারেল সরকারের কাজে স্থানীয় প্রশাসন অসহযোগিতা অব্যাহত রাখলে আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়োজনে আরও বেশি এজেন্ট মোতায়েন করা হবে বলেও সাফ জানিয়ে দেন মুলিন।   গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ইউক্রেনীয় নাগরিক বোগদান ডেট্রোভিচ গ্রেন রয়েছেন, যার বিরুদ্ধে হত্যা ও অপহরণের অভিযোগ প্রমাণিত। এছাড়া শিশু নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত কলম্বিয়ার আন্দ্রেয়াস বারনাল চিকুইতো, জার্মানিতে ধর্ষণের দায়ে দণ্ডিত ভারতীয় নাগরিক পালবিন্দর সিং এবং ভেনেজুয়েলার কার্লোস মেন্ডেজ-অ্যাকোস্টাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   মেয়র মামদানী গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে আইসিই-এর সঙ্গে কাজ করা থেকে বিরত রাখতে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। একইভাবে গভর্নর হোকুলও রাজ্য পুলিশকে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করতে নিষেধ করে আইন পাস করেছেন।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মতে, এসব চরমপন্থী নীতির কারণে ১৩ হাজারের বেশি অপরাধী অভিবাসী নিউইয়র্কের রাস্তায় অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে আইন অমান্যকারী এসব 'স্যাংচুয়ারি' বা আশ্রয়দাতা রাজ্য ও শহরগুলোতে ফেডারেল তহবিল পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৬:৫২
ফ্লোরিডায় ট্রাকের কেবিনে ৬ বছর বন্দি চার শিশু, দুই নারীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ যৌ/ন নির্যা/তনের অভিযোগ
ফ্লোরিডায় ট্রাকের কেবিনে ৬ বছর বন্দি চার শিশু, দুই নারীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ যৌ/ন নির্যা/তনের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই নারী ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে চার শিশুকে একটি চলন্ত ট্রাকের স্লিপার কেবিনে বন্দি রেখে ভয়ংকর শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার গত মঙ্গলবার কিসিমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গা শিউরে ওঠা ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করেন।   তিনি জানান, আটলান্টা ও মিয়ামির পথে ছুটে চলা বিশাল এই সেমি-ট্রাকটি ওই চার নিষ্পাপ শিশুর জন্য আক্ষরিক অর্থেই একটি "চলন্ত অন্ধকূপে" পরিণত হয়েছিল। স্কুলে যাওয়া বা ট্রাকের বাইরে বের হওয়ার কোনো অনুমতিই তাদের ছিল না।   অভিযুক্ত দুই নারী হলেন আটলান্টার ৫১ বছর বয়সী কেইশা মনিক এপস এবং জ্যাকসনভিলের ৩৭ বছর বয়সী টামরা মার্শন স্টুয়ার্ট। নির্যাতন শুরু হওয়ার সময় ওই দুই ছেলে ও দুই মেয়ে শিশুটির বয়স ছিল মাত্র পাঁচ থেকে নয় বছরের মধ্যে।   প্রসিকিউটররা জানান, স্টুয়ার্ট মেয়ে শিশু দুটির ওপর ভয়াবহ যৌন নিপীড়ন চালাতেন। ছেলে দুটি এর প্রতিবাদ করলে বা এপসকে জানালে তাদের ওপরও নেমে আসত অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন।   দিনের পর দিন তাদের ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না, এমনকি গোসল করার সুযোগ থেকেও তারা ছিল বঞ্চিত। প্রাপ্তবয়স্করা ট্রাক স্টেশনে থেমে নিজেদের পরিচ্ছন্নতার কাজ সারলেও শিশুদের ওই অন্ধকূপেই আটকে রাখা হতো।   বছরের পর বছর একটি আবদ্ধ কেবিনে বন্দি থাকার কারণে শিশুদের হাঁটাচলায় অস্বাভাবিকতা দেখা দিয়েছে এবং তারা মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতায় ভুগছে।   ন্যূনতম চিকিৎসা সেবার অভাবে গরম নুডলসে পুড়ে যাওয়া এক শিশুর শরীরে স্থায়ী ক্ষত তৈরি হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ শিশুদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে তারা নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে দীর্ঘমেয়াদি থেরাপি ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।   অভিযুক্ত স্টুয়ার্ট ও এপসের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন ও কর্তব্যে অবহেলার মতো একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শিশুদের ক্ষতি করতে চাওয়া কাউকেই ফ্লোরিডায় বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৬:৪০
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল; ইন্টারভিউ দিয়ে ভিসা পাননি, তাদের যা জানা জরুরি
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল; ইন্টারভিউ দিয়ে ভিসা পাননি, তাদের যা জানা জরুরি

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা ইস্যুতে চলা স্থগিতাদেশ বাতিল হওয়ার পর এখন সবচেয়ে বেশি অপেক্ষায় রয়েছেন তারা, যারা ইতোমধ্যে ভিসা ইন্টারভিউ দিয়েছেন কিন্তু এখনো ভিসা হাতে পাননি। ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে এই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।   ফলে শুধু বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ার কারণে অভিবাসী ভিসা আটকে রাখার আগের বাধাটি এখন আর নেই। তবে এর অর্থ এই নয় যে ইন্টারভিউ দেওয়া প্রত্যেক আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা পেয়ে যাবেন।   যারা ইন্টারভিউ দিয়েছেন এবং ইন্টারভিউয়ের পর ভিসা ইস্যু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় হলো তাদের কেসের বর্তমান অবস্থা। কোনো আবেদনকারীর কেস যদি শুধু ৭৫ দেশের ওপর আরোপ করা আগের ভিসা স্থগিতাদেশের কারণে আটকে থাকে, তাহলে সেই বাধা এখন আর নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এসব অপেক্ষমাণ কেস আবার প্রক্রিয়াকরণ ও ভিসা ইস্যুর দিকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   অভিবাসন আইনজীবীরাও বলছেন, আদালতের এই সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশের কারণে আটকে থাকা কেসগুলো আবার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে আইনজীবী রিচার্ড টি. হারম্যান সতর্ক করে বলেছেন, এর অর্থ সবার ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদন হয়ে যাওয়া নয়। আবেদনকারীর অন্য কোনো যাচাই বা আইনগত শর্ত বাকি থাকলে সেটি সম্পন্ন হতে হবে।   তবে কোনো আবেদনকারীর কেস যদি প্রশাসনিক যাচাই, নিরাপত্তা যাচাই, অতিরিক্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা বা অন্য কোনো আইনগত প্রক্রিয়ায় থাকে, তাহলে সেই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভিসা ইস্যু নাও হতে পারে। তাই ইন্টারভিউ পাস করলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য প্রতিটি কেসের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়া জরুরি।   এখন বাংলাদেশি আবেদনকারীদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তাদের কতদিন অপেক্ষা করতে হবে। এ বিষয়ে এখনো সবার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। তাই ৭ দিন, ১৫ দিন বা ৩০ দিনের মধ্যে সব অপেক্ষমাণ কেস শেষ হয়ে যাবে, এমন দাবি করার মতো কোনো সরকারি তথ্য নেই।   অন্যদিকে যারা এখনো ইন্টারভিউ দেননি, তাদের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। ৭৫ দেশের ওপর আগের ভিসা ইস্যু স্থগিতাদেশ বাতিল হলেও বর্তমানে অভিবাসী ভিসার ইন্টারভিউ নির্ধারণ নিয়ে আলাদা সাময়িক পরিবর্তন চলছে। ফলে পুরোনো স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই নতুন ইন্টারভিউয়ের তারিখ পেয়ে যাবেন, এমন নিশ্চয়তাও এখনো নেই।   যারা ইতোমধ্যে ইন্টারভিউ দিয়েছেন, তাদের নতুন করে পুরো ভিসা আবেদন শুরু করার প্রয়োজন আছে, এমন কোনো সাধারণ নির্দেশনা এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। তাদের উচিত নিজেদের সিইএসি কেসের অবস্থা নিয়মিত দেখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে কোনো নতুন ইমেইল বা নির্দেশনা এলে তা অনুসরণ করা।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো বাংলাদেশি আবেদনকারীর ভিসা ইন্টারভিউ হয়ে থাকলে এবং শুধুমাত্র ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিতাদেশের কারণে তার ভিসা আটকে থাকলে, সেই নির্দিষ্ট বাধা এখন আর কার্যকর নেই। তবে ভিসা ইস্যুর আগে অন্য কোনো যাচাই বা প্রক্রিয়া বাকি থাকলে সেটি সম্পন্ন হতে হবে।   অর্থাৎ, ইন্টারভিউ দিয়ে যারা ভিসার অপেক্ষায় আছেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি আগের চেয়ে ইতিবাচক। এখন অপেক্ষা হচ্ছে তাদের অপেক্ষমাণ কেস কত দ্রুত আবার প্রক্রিয়াকরণ ও ভিসা ইস্যুর পর্যায়ে এগিয়ে যায়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৬:১১
৩২ বছর বয়সী এরিন পিয়াচেন্তি, ব্যাংক অব আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট
টাইমস স্কয়ারে নিজ কর্মস্থলের কাছেই ছু/রিকাঘাতে প্রাণ গেল ব্যাংক অব আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্টের

নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে সোমবার বিকেলে আকস্মিক ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এরিন পিয়াচেন্তি, ব্যাংক অব আমেরিকার একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট। নিউ জার্সির চেস্টারে বসবাসকারী পিয়াচেন্তি ম্যানহাটনে ব্যাংক অব আমেরিকার অফিসে কাজ করতেন। হামলার স্থানটি তার কর্মস্থল ওয়ান ব্রায়ান্ট পার্ক থেকে মাত্র এক ব্লকের মতো দূরে ছিল।   ৩১ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টার কিছু আগে ওয়েস্ট ৪২তম স্ট্রিট ও সেভেন্থ অ্যাভিনিউ এলাকায় এই হামলা ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৪৯ বছর বয়সী পামেলা সিসনেরোস প্রথমে সাবওয়ে থেকে বের হওয়া ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করেন। এর প্রায় ২০ সেকেন্ড পর তিনি সেভেন্থ অ্যাভিনিউ ধরে এগিয়ে পিয়াচেন্তিকে পেটে ছুরিকাঘাত করেন।   গুরুতর আহত পিয়াচেন্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। ৬৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিও আহত হন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ।   পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ বলেছেন, প্রাথমিক তদন্তে দুই হামলাই এলোমেলো ও উসকানিবিহীন বলে মনে হচ্ছে। পিয়াচেন্তিকে ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছিল, এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে দেখারও কোনো কারণ পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।   পিয়াচেন্তি ব্যাংক অব আমেরিকার ব্যবসা নির্বাচন ও স্বার্থসংঘাত বিভাগে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। তার পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি আইন বিষয়েও তার শক্তিশালী শিক্ষাগত পটভূমি ছিল। তিনি ২০১৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে স্নাতক এবং ২০২১ সালে ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন।   ব্যাংক অব আমেরিকা এক বিবৃতিতে পিয়াচেন্তির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাকে একজন মূল্যবান সহকর্মী হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে, তার মৃত্যুতে সহকর্মীরা গভীরভাবে শোকাহত এবং তার পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি তাদের সমবেদনা রয়েছে।   হামলার পর সিসনেরোসকে কাছাকাছি এলাকায় পুলিশ আটকানোর চেষ্টা করে। পুলিশ কর্মকর্তারা প্রায় চার মিনিট ধরে তাকে ছুরি ফেলে দিতে বলেন। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে ছুরি হাতে পুলিশের দিকে এগিয়ে যান। তাকে থামাতে টেজার ব্যবহার করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। পরে দুই পুলিশ অফিসার গুলি চালালে সিসনেরোস গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সিসনেরোসের আগে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত দুটি ঘটনা পুলিশের নথিতে ছিল। তবে তার নিউইয়র্কে আগের কোনো গ্রেপ্তারের রেকর্ড ছিল না। হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ফোর্স ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের তদন্ত চলছে।   ব্যস্ত কর্মদিবসে নিজের কর্মস্থলের মাত্র এক ব্লকের মতো দূরে এমন আকস্মিক হামলায় পিয়াচেন্তির মৃত্যু ব্যাংক অব আমেরিকার সহকর্মীদের মধ্যে শোকের সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি আবারও নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় আকস্মিক সহিংসতার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৫:৫৬
পুরনো পেনি ফেলে দেওয়ার আগে সাবধান, একটি কয়েনের দাম হতে পারে ৬ লাখ ডলার
পুরনো পেনি ফেলে দেওয়ার আগে সাবধান, একটি কয়েনের দাম হতে পারে ৬ লাখ ডলার

পুরনো ড্রয়ার বা সোফার কুশনের ফাঁকে একটু ভালোভাবে খোঁজ করে দেখতে পারেন; হয়তো আপনার কাছেই পড়ে আছে এমন একটি বিরল পেনি, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬ লাখ ডলার! ১৯৬৯ সালে সান ফ্রান্সিসকোতে তৈরি হওয়া আব্রাহাম লিংকনের ছবিযুক্ত একটি বিশেষ সেন্ট বা পেনি নিয়েই এই আলোচনা, যাতে ‘ডাবলড ডাই’ (doubled die) বা মুদ্রণজনিত এক অদ্ভুত ত্রুটি রয়েছে।   সাধারণত কয়েন তৈরির সময় স্ট্যাম্প বা ডাই-এর অবস্থান ভুল হলে মূল নকশাটি জোড়া বা দ্বিগুণ দেখা যায়। কয়েন নিলামকারী প্রতিষ্ঠান স্ট্যাকস বোয়ার্স-এর মতে, বর্তমানে বিশ্বে এ ধরনের মাত্র ৪০ থেকে ৫০টি পেনি টিকে আছে।   প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এই কয়েনে থাকা দ্বৈত নকশাটি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং এটি সুপরিচিত ১৯৫৫ ও ১৯৭২ সালের ‘ডাবলড ডাই’ ত্রুটিযুক্ত পেনিগুলোর চেয়েও প্রায় ১০০ গুণ বেশি বিরল। অনলাইনে মূল্যবান ধাতু বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এসডি বুলিয়নের মতে, ১৯৬৯ সালের এস-মিন্ট ‘ডাবলড ডাই’ পেনিটির দাম ৩১ হাজার ৫০০ থেকে শুরু করে ৬ লাখ ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে।   এর আগে নিলামে এই ধরনের কয়েন কয়েক হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছে। স্ট্যাকস বোয়ার্স জানিয়েছে, ২০১০ সালের নভেম্বরে একটি কয়েন ৮৬ হাজার ২৫০ ডলারে, ২০১৮ সালের মার্চে ১ লাখ ২৬ হাজার ডলারে এবং ২০২৩ সালের আগস্টে অপর একটি কয়েন ৭২ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিল। এমনকি পিসিজিএস (PCGS) কর্তৃক স্বীকৃত সবচেয়ে ভালো মানের একটি পেনি ২০২৩ সালের শুরুর দিকে ৬ লাখ ১ হাজার ৮৭৫ ডলারে বিক্রি হয়েছে।   এসডি বুলিয়নের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের দৈনন্দিন ব্যবহারের মুদ্রায় প্রথমবারের মতো কোনো বাস্তব ব্যক্তির ছবি যুক্ত করায় সংগ্রাহকদের কাছে এই পেনিটির ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের জন্মের শততম বার্ষিকী উপলক্ষে ১৯০৯ সালে এটি প্রথম বাজারে আনা হয়েছিল।   মুদ্রণ ত্রুটিবিহীন সাধারণ ১৯৬৯ সালের পেনিগুলো অবশ্য তেমন বিরল নয়। ফিলাডেলফিয়া ও ডেনভার মিন্টে যথাক্রমে প্রায় ১.১৪ বিলিয়ন এবং ৪ বিলিয়ন পেনি তৈরি হলেও, সান ফ্রান্সিসকোতে মাত্র ৫৪৪.৩৮ মিলিয়ন পেনি তৈরি করে বাজারে ছাড়া হয়েছিল। অতিরিক্ত উৎপাদন খরচ এবং প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে মার্কিন অর্থদপ্তর গত বছর থেকে পেনি তৈরি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।   একটি পেনি তৈরি করতে সরকারের প্রায় ৩.৬৯ সেন্ট খরচ হতো। উৎপাদন বন্ধের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন বছরে প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার সাশ্রয় হবে বলে ধারণা করছে ফেডারেল সরকার।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৫:৪০
ক্যালিফোর্নিয়ায় ‘শক গ্লাভস’ নিষিদ্ধে বিল পাস, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নতুন সংঘাতে রাজ্য
ক্যালিফোর্নিয়ায় ‘শক গ্লাভস’ নিষিদ্ধে বিল পাস, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নতুন সংঘাতে রাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার (আইসিই) কর্মকর্তাদের 'শক গ্লাভস' বা বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার গ্লাভস ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে সম্প্রতি একটি নতুন বিল পাস করেছেন। 'অ্যাসেম্বলি বিল ২৭৬০' নামের এই প্রস্তাবটি বর্তমানে চূড়ান্ত স্বাক্ষরের জন্য গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের ডেস্কে পাঠানো হয়েছে।   বিলটি আইনে পরিণত হলে ক্যালিফোর্নিয়ার যেকোনো স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য পরিধানযোগ্য ইলেকট্রোশক বা বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ হবে। ফেডারেল সরকার এই বিশেষ গ্লাভস কেনার জন্য ২ কোটি ডলার বরাদ্দ দেওয়ার খবরের পরপরই ডেমোক্র্যাট দলীয় আইনপ্রণেতা লাশায় শার্প-কলিন্স তড়িঘড়ি করে বিলটি উত্থাপন করেন।   কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা এই প্রযুক্তিটি মূলত 'জি.এল.ও.ভি.ই' (জেনারেটেড লো আউটপুট ভোল্টেজ এমিটার) নামে পরিচিত। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এই গ্লাভসকে পরিস্থিতি শান্ত করার একটি হাতিয়ার বা 'ডি-এসকেলেশন টুল' হিসেবে বর্ণনা করেছে।   তবে ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে আইসিই কর্মকর্তারা অনেক বেশি আক্রমণাত্মক আচরণ করছেন। শার্প-কলিন্সের মতে, এই গ্লাভসগুলো সবচেয়ে কম প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও বেপরোয়া কর্মকর্তাদের হাতে গিয়ে পড়বে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।   এদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ক্যালিফোর্নিয়ার এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে একে 'অসাংবিধানিক' আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিষিদ্ধ করার এই অপচেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এটি তাদের কর্মকর্তাদের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ।   সংবিধানের 'সুপ্রিমেসি ক্লজ'-এর বরাত দিয়ে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে যে, অঙ্গরাজ্যের কোনো আইন কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ খাটাতে পারে না, তাই তারা এই নিষেধাজ্ঞা মানবে না। ক্যালিফোর্নিয়ার স্থানীয় পুলিশও বিলটির বিরোধিতা করেছে। স্যাক্রামেন্টো কাউন্টির শেরিফ জিম কুপার জানান, তার বিভাগ প্রাণঘাতী অস্ত্রের বিকল্প হিসেবে ইতোমধ্যেই ৩৫ হাজার ডলার খরচ করে ১০টি শক গ্লাভস কিনেছে এবং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছে।   তিনি স্বীকার করেন যে এটি অস্বস্তিকর এবং এতে ব্যথা লাগে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এটি বেশ কার্যকর। উল্লেখ্য, গত বছর ক্যালিফোর্নিয়া আইসিই এজেন্টদের ফেস মাস্ক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে একটি আইন করলেও পরবর্তীতে একজন ফেডারেল বিচারক তা বাতিল করে দিয়েছিলেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৫:১৬
আটলান্টায় পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই সড়ক দু/র্ঘটনায় প্রাণ গেল ২৪ বছরের তরুণের
আটলান্টায় পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই সড়ক দু/র্ঘটনায় প্রাণ গেল ২৪ বছরের তরুণের

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মোসেস রাস নামের ২৪ বছর বয়সী এক পুলিশ রিক্রুট নিহত হয়েছেন। আটলান্টা পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এপিডি) জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল সোয়া সাতটার দিকে মোরল্যান্ড অ্যাভিনিউ ও ম্যাকডোনাহ বুলেভার্ডের সংযোগস্থলে একটি গাড়ি ও মোটরসাইকেলের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।   কর্মস্থলে যোগ দিতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হলে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে গ্রেডি মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয়, তবে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   আটলান্টা পুলিশ একাডেমির ৩০২তম ব্যাচের সদস্য হিসেবে মোসেস রাস তার ১৬তম সপ্তাহের প্রশিক্ষণে ছিলেন। এছাড়া সম্প্রতি ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন আটলান্টার ডাউনটাউনে দায়িত্ব পালনেও তাকে নিয়োজিত করা হয়েছিল।   এপিডিতে যোগদানের আগে তিনি দুই বছর আটলান্টা ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনসে কর্মরত ছিলেন এবং এর আগে মার্কিন কোস্ট গার্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।   এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আটলান্টার মেয়র আন্দ্রে ডিকেন্স এবং পুলিশ প্রধান ডারিন শিয়ারবাম গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, মোসেস ছিলেন জনসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকা একজন আদর্শ ব্যক্তি।   সহকর্মীর এমন আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে শোক পালনের সুযোগ দিতে অন্য পুলিশ রিক্রুটদের প্রশিক্ষণ সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে একাডেমি কর্তৃপক্ষ। পুলিশ প্রধান ডারিন শিয়ারবাম এই পরিস্থিতিকে সবার জন্য এক "কঠিন সময়" বলে উল্লেখ করেছেন।   দুর্ঘটনায় জড়িত অপর গাড়ির চালক সামান্য আহত হলেও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটনে এখনো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৫:৩
বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর, অভিবাসী ভিসার স্থগিতাদেশ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর, অভিবাসী ভিসার স্থগিতাদেশ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২১ অগাস্ট থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা এই বিতর্কিত নিষেধাজ্ঞা আর কার্যকর থাকছে না।   এর আগে গত ২১ অগাস্ট নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত এক যুগান্তকারী রায়ে এই স্থগিতাদেশ বাতিল করে দেয়। ‘ক্লিনিক বনাম রুবিও’ নামে পরিচিত এই মামলায় আদালত জানায়, এ ধরনের নীতি প্রণয়নে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনি এখতিয়ারের সীমা লঙ্ঘন করেছেন।   চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপালসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্রান্ট বা অভিবাসী ভিসা ইস্যু করার প্রক্রিয়াটি স্থগিত করা হয়েছিল। তৎকালীন প্রশাসনের দাবি ছিল, এসব দেশের আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে সরকারি সহায়তা বা জনকল্যাণমূলক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ‘উচ্চ ঝুঁকি’ রয়েছে।   তবে গত ২৮ অগাস্ট মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করে যে, আদালতের নির্দেশে এই স্থগিতাদেশ এখন সম্পূর্ণ অকার্যকর। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে অভিবাসীদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে এবং তারা যেন কোনোভাবেই রাষ্ট্রের ওপর বোঝা হয়ে না দাঁড়ান, তা নিশ্চিত করতে যাচাইকরণ নীতিমালাগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে।   নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে আবেদনকারীদের ভিসা দেওয়া বন্ধ থাকলেও আবেদন জমা দেওয়া বা সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সুযোগ চালু ছিল।   বর্তমানে এই স্থগিতাদেশ পুরোপুরি উঠে যাওয়ায় আটকে থাকা ভিসা ইস্যুর চূড়ান্ত ধাপটি আবারও উন্মুক্ত হলো। এর ফলে বাংলাদেশসহ তালিকাভুক্ত ৭৫টি দেশের নাগরিকরা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো বাধা ছাড়াই তাদের গ্রিন কার্ড ও অভিবাসী ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়াটি পুনরায় এগিয়ে নিতে পারবেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:৩৯
মার্কিন গ্রিন কার্ডের আশায় ভারতীয়দের দীর্ঘ অপেক্ষা
মার্কিন গ্রিন কার্ডের আশায় ভারতীয়দের দীর্ঘ অপেক্ষা, নতুন আবেদনকারীদের জন্য সময় লাগতে পারে ১৭৯ বছর

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড প্রত্যাশী ভারতীয় নাগরিকদের জন্য চরম অনিশ্চয়তা ও দীর্ঘ অপেক্ষার চিত্র উঠে এসেছে এক গবেষণা প্রতিবেদনে। ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আমেরিকান পলিসির (এনএফএপি) তথ্যমতে, চলতি বছরে কোনো ভারতীয় পেশাজীবী গ্রিন কার্ডের আবেদন করলে ক্যাটাগরিভেদে তাকে সর্বোচ্চ ১৭৯ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।   ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসের (ইউএসসিআইএস) সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, একই প্রক্রিয়ায় চীনা নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই অপেক্ষার সময় সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে।   মার্কিন ইমিগ্রেশন আইনের কঠোর কোটাব্যবস্থা ও ব্যাকলগের কারণেই এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশটিতে প্রতি বছর চাকরিভিত্তিক ক্যাটাগরিতে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার গ্রিন কার্ড ইস্যু করা হয়, যেখানে কোনো একক দেশকে মোট সংখ্যার ৭ শতাংশের বেশি দেওয়ার সুযোগ নেই।   বিজ্ঞান ও প্রকৌশল খাতে ভারতীয় মেধার বিপুল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও এই সীমাবদ্ধতার কারণে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ ভারতীয় এই দীর্ঘ জটে আটকে রয়েছেন।   গত পাঁচ বছরে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অগ্রাধিকার ক্যাটাগরিতে (ইবি-১, ইবি-২ ও ইবি-৩) আবেদন জট ২০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে মোট ১২ লাখ ৬০ হাজারে পৌঁছেছে। ফলে নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ইবি-২ ক্যাটাগরিতে ১৭৯ বছর, ইবি-৩ ক্যাটাগরিতে ৩৮ বছর এবং ইবি-১ ক্যাটাগরিতে ৪ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।   দীর্ঘ অপেক্ষার এই সংকট সাময়িক এইচ-ওয়ানবি (H-1B) ভিসায় থাকা দক্ষ কর্মী ও তাদের পরিবারের জীবনে মারাত্মক অনিশ্চয়তা তৈরি করছে, পাশাপাশি মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক প্রতিভা ধরে রাখার সুযোগও সংকুচিত করছে। এর ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী নানা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।   যার মধ্যে রাজনৈতিক অবস্থানসহ বিভিন্ন কারণে ভিসা বাতিল এবং নতুন আবেদন ফির মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। দেশটিতে বসবাসরত প্রায় ৩২ লাখ ভারতীয় জনগোষ্ঠীর ওপর এই কঠোর নীতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে বলে মানবাধিকার ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:২২
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় মৃ/তের সংখ্যা হাজার ছাড়াল, এক বাড়িতেই মিলল ২৪ ম/রদেহ
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় মৃ/তের সংখ্যা হাজার ছাড়াল, এক বাড়িতেই মিলল ২৪ ম/রদেহ

নেপালের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হিমবাহ ধস ও ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৬ আগস্ট শুরু হওয়া এই প্রলয়ঙ্করী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত এক হাজার তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ৯১৬ জন।   উচ্চভূমি থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল, বরফশীতল পানি, পাথর ও কাদার স্রোতে মুহূর্তের মধ্যে ভেসে গেছে অসংখ্য ঘরবাড়ি ও জনপদ। চারদিকে শুধু স্বজনহারা মানুষের কান্না আর ধ্বংসস্তূপের চিত্র, যা পুরো এলাকাকে এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে।   বিপুলসংখ্যক মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় মৃতদেহ শনাক্ত করা এবং ধর্মীয় রীতি মেনে পৃথকভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ নিহতদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর গণকবরের মাধ্যমে দাফন প্রক্রিয়া শুরু করেছে।   চিতওয়ান জেলায় এরই মধ্যে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের চিরায়ত দাহ ও প্রার্থনার রীতির বদলে এই গণকবরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্যোগের ভয়াবহতার সবচেয়ে মর্মান্তিক চিত্রটি দেখা গেছে নুয়াকোট জেলায়। সেখানে দুর্গম এলাকায় ড্রোন দিয়ে তল্লাশি চালানোর সময় পুলিশ একটি মাত্র বাড়ির ভেতর থেকেই ২৪টি মরদেহ উদ্ধার করেছে।   হিমালয়ঘেঁষা এই বিপর্যয়ের ভয়াবহ প্রভাব কেবল নেপালের সীমানাতেই আটকে নেই; নদীর ভাটির স্রোতে ভেসে যাওয়া অন্তত ১৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ এই ভয়াবহ দুর্যোগকে ‘অকল্পনীয় ও হৃদয়বিদারক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।   দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধারকাজ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে এবং উদ্ধার তৎপরতায় আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:৪
সাবেক মার্কিন বর্ডার প্যাট্রল কমান্ডার বোভিনো I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
ইহুদিবি/দ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগে তদন্ত চলাকালে পদত্যাগ করেছিলেন সাবেক মার্কিন বর্ডার প্যাট্রল কমান্ডার বোভিনো

ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক বর্ডার প্যাট্রল কমান্ডার গ্রেগরি বোভিনো অবসরে যাওয়ার সময় একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তের মুখে ছিলেন। সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু নথির বরাতে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ফেডারেল আদালতে দেওয়া তার বিতর্কিত সাক্ষ্য এবং অতীতের ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্যের জেরেই এই তদন্ত শুরু হয়েছিল।   কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) গত ২ মার্চ এক ইমেইলে বোভিনোকে তার বিরুদ্ধে ওঠা অসদাচরণের অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর কথা জানায়। এই বার্তার মাত্র ১৬ দিন পরই তড়িঘড়ি করে তিনি অবসরের আবেদন জমা দেন।   মিনিয়াপোলিসে দুই মার্কিন নাগরিক রেনে গুড এবং অ্যালেক্স প্রেটির প্রাণঘাতী গোলাগুলির ঘটনার পর গত জানুয়ারির শেষের দিকে বোভিনোকে তার ‘কমান্ডার অ্যাট লার্জ’ পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর কোনো প্রমাণ ছাড়াই বোভিনো দাবি করেছিলেন যে, প্রেটি ফেডারেল এজেন্টদের ‘গণহত্যা’ করার পরিকল্পনা করছিলেন।   তার এমন মন্তব্যে সেসময় ব্যাপক রাজনৈতিক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর আগে থেকেই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য বর্ডার প্যাট্রল সমালোচনার মুখে ছিল। বিশেষ করে বিক্ষোভকারী ও সাংবাদিকদের ওপর টিয়ারগ্যাস এবং রাবার বুলেট ছোঁড়ার মতো অমানবিক কৌশল ব্যবহারের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছিল।   তদন্তের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ সারা এলিসের একটি পর্যবেক্ষণ। তিনি লিটল ভিলেজে বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের ঘটনায় বোভিনোকে আদালতে বারবার মিথ্যা বলার দায়ে অভিযুক্ত করেছিলেন। সিবিপি কর্মকর্তারা তদন্তের অংশ হিসেবে বোভিনোর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, বিচারকের এই মন্তব্যের পর আইনি প্রক্রিয়ায় তার নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা কতটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।   এছাড়া, মিনিয়াপোলিসের একজন বিচারককে নিয়ে তার কথিত ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য নিয়েও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিশেষ করে, "অর্থোডক্স অপরাধীরাও কি শনিবারে ছুটি কাটায়?" বা "মনোনীত জাতি" শীর্ষক তার বৈষম্যমূলক মন্তব্যগুলো সিবিপি’র পেশাদারিত্ব ও আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন কি না, তদন্তে সেটিই গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছিল।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৩:৩৪
ব্যাংককে বারের বিল পরিশোধ না করায় এক তরুণীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
প্রায় ১ হাজার ৮০০ ডলারের বারের বিল ফাঁকি! তরুণীকে ধরে চুল কেটে দিল বারকর্মী

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ডলারের বারের বিল পরিশোধ না করে পালানোর চেষ্টার অভিযোগে এক তরুণীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।   ভাইরাল প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংককের পিঙ্কলাও এলাকার বিভিন্ন ক্লাব ও রেস্তোরাঁয় বিল পরিশোধ না করে চলে যাওয়ার অভিযোগে ওই তরুণী আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন। গত ২৫ আগস্ট তিনি ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একটি জনপ্রিয় বারে প্রবেশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বারে তরুণীর বিল দাঁড়ায় প্রায় ৬০ হাজার থাই বাত, যা প্রায় ১ হাজার ৮১২ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। পরে বিল পরিশোধ না করেই তিনি বার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপরই তার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একজন বারকর্মী বৈদ্যুতিক রেজার দিয়ে ওই তরুণীর কাঁধ পর্যন্ত লম্বা চুল কেটে দিচ্ছেন। জানা গেছে, কেটে নেওয়া চুল দান করার কথা বলা হয়েছিল। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।   ঘটনাটি নিয়ে থাইল্যান্ডে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা বি ওয়ান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চালিদা ‘টন অর’ ফালামাত মনে করেন, বার কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় সীমা অতিক্রম করেছে।   চালিদা জানান, বার কর্তৃপক্ষ পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্ষমা চেয়েছে। কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে, ব্যবস্থাপক রাগ ও আবেগের বশে এমন আচরণ করেছিলেন। একই সঙ্গে তরুণীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনা করার কথাও জানিয়েছে বার কর্তৃপক্ষ।   চালিদার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি বোঝা গেলেও কাউকে জোর করে চুল কাটানো আইনসঙ্গত নয়। চাপ প্রয়োগ করে করা কোনো চুক্তি বৈধ নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, কারও ইচ্ছার বিরুদ্ধে মাথার চুল কেটে দেওয়া হামলা, জবরদস্তি ও বেআইনি আটকের মতো অভিযোগের আওতায় পড়তে পারে।   তরুণীর বিরুদ্ধে বারের বিল পরিশোধ না করে চলে যাওয়ার চেষ্টা এবং ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও, এসব অভিযোগের জবাবে তার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে মূলত এই আচরণের বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।   ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়া এবং তরুণীর পরিবারের সঙ্গে ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনার কথা জানানো হলেও, পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   সূত্র: ভাইরাল প্রেস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৩:২৫
ইরানের বিভিন্ন আদালতে দণ্ডিত ২ হাজার ৫৭৭ জন কারাবন্দির সাজা মওকুফ করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে ২ হাজার ৫৭৭ বন্দির সাজা মওকুফ করলেন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

ইরানে বিভিন্ন আদালতে দণ্ডিত ২ হাজার ৫৭৭ জনের সাজা মওকুফ বা কমিয়ে দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সেয়েদ মোজতবা হোসেইনি খামেনি। দেশটির বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেইর সুপারিশের পর এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।   নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও শিয়া মুসলিমদের ষষ্ঠ ইমাম ইমাম জাফর সাদিকের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই দণ্ড মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চান্দ্র হিজরি বর্ষপঞ্জির রবিউল আউয়াল মাসের ১৭ তারিখে তাদের জন্মবার্ষিকী পালিত হয়। এ বছর দিনটি ৩০ আগস্ট ছিল।   বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেইর অনুরোধের পর সর্বোচ্চ নেতা এই প্রস্তাব অনুমোদন করেন। এর ফলে দেশটির বিভিন্ন আদালতে দণ্ডিত মোট ২ হাজার ৫৭৭ জনের সাজা মওকুফ অথবা কমিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   ইরানের সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচার বিভাগের প্রধানের সুপারিশের ভিত্তিতে দণ্ডিত ব্যক্তিদের সাজা মওকুফ বা কমিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা দেশটির সর্বোচ্চ নেতার রয়েছে। এবারের সিদ্ধান্তও সেই সাংবিধানিক ক্ষমতার আওতায় নেওয়া হয়েছে।   তবে এই দণ্ড মওকুফ বা সাজা কমানোর সুবিধা সব ধরনের দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য হবে না। দেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেওয়া, সশস্ত্র বা সংঘবদ্ধ মাদক পাচার এবং সশস্ত্র ডাকাতির মতো অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের এই সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে।   এ ছাড়া অস্ত্র চোরাচালান, অপহরণ, ঘুষ এবং অর্থ আত্মসাতের মতো অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিরাও এই দণ্ড মওকুফের আওতায় পড়বেন না। ফলে ২ হাজার ৫৭৭ জনের সাজা মওকুফ বা কমানোর সিদ্ধান্ত নির্দিষ্ট অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।   ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দুই ব্যক্তির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ইরানে দণ্ড মওকুফের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রবিউল আউয়াল মাসের ১৭ তারিখে নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং ইমাম জাফর সাদিকের জন্মবার্ষিকী পালিত হয়। এ বছর সেই দিনটি ৩০ আগস্ট পড়েছিল।   সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদনের ফলে বিভিন্ন আদালতে দণ্ডিত ২ হাজার ৫৭৭ জনের ক্ষেত্রে সাজা মওকুফ অথবা কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের এই সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে।   সূত্র: তাসনিম নিউজ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৩:৯
একসঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিলেন তিন বন্ধু, গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের বন্যা কেড়ে নিল দুজনকে, নিখোঁজ এক
একসঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিলেন তিন বন্ধু, গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের বন্যা কেড়ে নিল দুজনকে, নিখোঁজ আরও একজন

যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে সপ্তাহান্তে আঘাত হানা ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় তিন বন্ধুর মধ্যে দুজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং তৃতীয়জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতরা হলেন টেক্সাসের গ্রানবারি শহরের ৪৬ বছর বয়সী চিকিৎসক ডা. জন জিউস্টি এবং ৪২ বছর বয়সী ব্রেন্ট রোজেনক্রাঞ্জ।   তাদের আরেক বন্ধু ৫৩ বছর বয়সী টিমোথি অ্যালেন স্মিথের সন্ধানে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার ক্যানিয়নে প্রবেশ করে এই তিন বন্ধু ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ডে গিয়েছিলেন। সেখানে দুদিন ঘুরে মাছ ধরার পর হাভাসুপাই গার্ডেনস হয়ে তাদের ফেরার কথা ছিল। ব্যক্তিজীবনে নিহত ও নিখোঁজ তিনজনেরই স্ত্রী ও তিনটি করে সন্তান রয়েছে।   পরিবারের শোকবার্তায় ডা. জিউস্টিকে একজন নিবেদিতপ্রাণ বাবা এবং বাস্তব জীবনের ‘সুপারহিরো’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। অন্যদিকে, নিহত রোজেনক্রাঞ্জ ছিলেন একজন আজীবন মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষক, যিনি সর্বদা তার প্রিয়জনদের পাশে থাকতেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন।   নিখোঁজ স্মিথের পরিবার জানিয়েছে, তিনি প্রকৃতি ও অ্যাডভেঞ্চার ভালোবাসতেন এবং হাইকিং বা ক্যাম্পিং করতে পছন্দ করতেন এই মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবারগুলো গভীরভাবে শোকাহত এবং উদ্ধারকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টার প্রতি তারা বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।   মাত্র দুদিনে ছয় মাসের সমান বৃষ্টিপাতের ফলে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের ব্রাইট অ্যাঞ্জেল এবং ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ এলাকায় এই প্রলয়ঙ্করী বন্যার সৃষ্টি হয়। প্রাথমিকভাবে ১৫ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়ালেও, উদ্ধারকর্মীদের তৎপরতায় ৬১ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে কেবল স্মিথই নিখোঁজ রয়েছেন। সোমবারের টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।   আকস্মিক এই বন্যার ভয়াবহতা তুলে ধরে প্রাণে বেঁচে ফেরা পর্যটক এরিকা ভায়োলা জানান, রেঞ্জারদের নির্দেশে তারা যখন প্রাণভয়ে দৌড়াচ্ছিলেন, ঠিক তার দশ মিনিট পরেই পারাপারের জন্য ব্যবহৃত পদচারী সেতুটি বন্যার তোড়ে ভেসে যায়।   পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের ওপর থাকা প্রায় সবগুলো সেতুই সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ক্যানিয়নের ভেতরে আটকে পড়া মানুষের জন্য পালানোর কোনো পথ অবশিষ্ট ছিল না।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৩:১০
বিমানের ভেতর মেয়ে শ্বেতা পাণ্ডেকে জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত বাবা। ছবি: সংগৃহীত
বিমানসেবিকা মেয়েকে হঠাৎ দেখে আবেগে কেঁদে ফেললেন বাবা, জড়িয়ে ধরলেন বিমানে

বাবার জন্মদিনে তাকে না জানিয়ে বিমানের ভেতর বিশেষ চমক দিলেন বিমানসেবিকা মেয়ে শ্বেতা পাণ্ডে। যাত্রী হিসেবে বিমানে ওঠার সময় নিজের মেয়েকে বিমানসেবিকার পোশাকে দেখে হঠাৎ চমকে যান ওই প্রৌঢ় বাবা। মেয়েকে সামনে দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে মেয়েকে জড়িয়ে ধরেন বাবা।   ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিদিনের মতো যাত্রীরা একে একে বিমানে প্রবেশ করছেন। বিমানের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে বিমানসেবিকারা হাসিমুখে যাত্রীদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছিলেন। এ সময় এক প্রৌঢ় ব্যক্তি বিমানে ওঠেন। তিনি এদিক-ওদিক তাকিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন।   একপর্যায়ে তার চোখ পড়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক বিমানসেবিকার দিকে। তাকে ভালোভাবে দেখার পর হঠাৎ থেমে যান তিনি। কয়েক মুহূর্তের জন্য যেন নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। কারণ, সামনে থাকা বিমানসেবিকা আর কেউ নন, তার নিজের মেয়ে শ্বেতা পাণ্ডে।   জানা গেছে, ওই দিন ছিল শ্বেতার বাবার জন্মদিন। বাবা যে ওই বিমানে যাত্রী হিসেবে ভ্রমণ করবেন, তা আগে থেকে তাকে বুঝতে দেননি শ্বেতা। বাবার জন্য এমন একটি অপ্রত্যাশিত চমকের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। দায়িত্ব পালন করার সময় মেয়েকে হঠাৎ সামনে দেখে বাবার মধ্যে তীব্র আবেগ তৈরি হয়।   বাবাকে দেখেই শ্বেতা তাকে প্রণাম করেন। এরপরই বাবা মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। ওই সময় বাবার চোখের কোণে আনন্দের জল দেখা যায়। একই সঙ্গে মেয়েকে নিয়ে তার মুখে গর্বের ছাপও ফুটে ওঠে। জন্মদিনের দিনে মেয়েকে এভাবে হঠাৎ সামনে পাওয়ার মুহূর্তটি বাবা-মেয়ের সম্পর্কের আবেগকে আরও গভীর করে তোলে।   শ্বেতা নিজেই তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এই বিশেষ মুহূর্তের ভিডিও প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশের পর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দেখে নেটাগরিকদের অনেকেই বাবা-মেয়ের ভালোবাসার এমন দৃশ্যের প্রশংসা করেন এবং নিজেদের আবেগের কথাও জানান।   এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, প্রৌঢ় বাবার চোখেমুখে মেয়ের জন্য গর্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং এর চেয়ে সুন্দর দৃশ্য আর কিছু হতে পারে না। আরেকজন মন্তব্য করেন, এর চেয়ে মিষ্টি চমক আর হতে পারে না। এমন মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ভিডিওটি ঘিরে মানুষের আবেগঘন প্রতিক্রিয়াও সামনে আসে।   বাবা-মেয়ের এই মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার মূল কারণ ছিল বাবার জন্য মেয়ের অপ্রত্যাশিত আয়োজন এবং মেয়েকে হঠাৎ সামনে দেখে তার আবেগঘন প্রতিক্রিয়া। বিমানে ওঠার সময় মেয়েকে বিমানসেবিকার পোশাকে দেখে যে বিস্ময় ও আনন্দ বাবার মধ্যে তৈরি হয়, সেটিই পরে ভালোবাসার এক স্মরণীয় মুহূর্তে পরিণত হয়।   ঘটনাটি বাবা-মেয়ের সম্পর্কের গভীর আবেগকেও সামনে এনেছে। বাবার জন্মদিনে তাকে না জানিয়ে এমন চমক দেওয়ার পর মেয়েকে হঠাৎ সামনে পেয়ে বাবার প্রতিক্রিয়া ভিডিওটিকে আরও আবেগঘন করে তুলেছে। আর সেই দৃশ্যই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের মন ছুঁয়ে যাচ্ছে।   সূত্র: আনন্দবাজার

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১২:৫৭
ফ্লক ক্যামেরা ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লক ক্যামেরার অপব্যবহারের অভিযোগ! মার্কিন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠাল কর্তৃপক্ষ

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ওয়েস্ট শিকাগো শহরে পুলিশের ব্যবহৃত ফ্লক ক্যামেরা ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে তদন্ত চলাকালে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ সামনে আসার পর শহর কর্তৃপক্ষ পুরো ব্যবস্থাটির কার্যক্রম পর্যালোচনা শুরু করেছে।   শহর কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার জানিয়েছে, ফ্লক স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা পর্যালোচনার সময় এমন কিছু তথ্য পাওয়া যায়, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে একজন পুলিশ কর্মকর্তা ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৫ সালের শুরুর সময় পর্যন্ত ব্যবস্থাটি অননুমোদিত কাজে ব্যবহার করে থাকতে পারেন। তবে কী ধরনের অননুমোদিত কাজে ব্যবস্থাটি ব্যবহার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি।   অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যালোচনায় পাওয়া তথ্য ও নথি সংরক্ষণে শহর কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে।   ঘটনাটি স্বাধীনভাবে তদন্তের জন্য ডুপেজ কাউন্টির স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ওয়েস্ট শিকাগো কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের ঘটনায় ফৌজদারি মামলা করার মতো কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখবে ওই কার্যালয়। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করছে।   এর পাশাপাশি পুলিশ বিভাগের ফ্লক ক্যামেরা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও বিস্তৃত নিরীক্ষা শুরু হয়েছে। এতে ব্যবস্থাটি ব্যবহারের ধরন, প্রবেশাধিকার, নিরীক্ষা পদ্ধতি, তদারকি, প্রশিক্ষণ, নীতিমালা, কার্যপ্রণালি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্লক ব্যবস্থার ব্যবহার পর্যবেক্ষণের জন্য সম্প্রতি আরও কিছু প্রাথমিক পর্যায়ের নিরীক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রযুক্তিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কার্যকর পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে নতুন এসব ব্যবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   কর্তৃপক্ষ বলেছে, স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তি জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দিয়েছে। তবে এর ব্যবহার যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্পষ্ট নীতিমালা, কার্যকর তদারকি এবং জবাবদিহির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।   ফ্লক ক্যামেরা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগও বেড়েছে। এর আগে ফ্লক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে তথ্য অপব্যবহারের কয়েকটি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।   আগস্টের শুরুতে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফ্লক ক্যামেরা নেটওয়ার্ক অপব্যবহারের অন্তত ৪৬টি ঘটনার কথা উঠে আসে। এসব অভিযোগের মধ্যে নারীদের অনুসরণ করার ঘটনাও ছিল।   জুলাই মাসে ইলিনয়ের হলিডে হিলসের সাবেক পুলিশ প্রধান উইলিয়াম কপের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্বের অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়। প্রেইরি গ্রোভে খণ্ডকালীন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ফ্লক ব্যবস্থায় প্রায় ২৫০টি অননুমোদিত অনুসন্ধান করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়।   উইসকনসিনের কেনোশায় এক সাবেক শেরিফের ডেপুটির বিরুদ্ধেও ফ্লক ক্যামেরা ব্যবহার করে তার সঙ্গে সম্পর্ক থাকা আরেক ডেপুটিকে অনুসরণ করার অভিযোগে মামলা হয়েছিল।   নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা একটি অলাভজনক আইন প্রতিষ্ঠানও স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ ব্যবস্থার অপব্যবহারের শতাধিক ঘটনা শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে অনুসরণ এবং ভুলভাবে গাড়ি থামানোর মতো অভিযোগ রয়েছে।   ওয়েস্ট শিকাগো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান তদন্তের কারণে এ ঘটনায় আপাতত আর কোনো তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের পাশাপাশি শহরটির ফ্লক ক্যামেরা ব্যবস্থার ব্যবহার, তদারকি ও নিরাপত্তা নিয়েও বিস্তৃত পর্যালোচনা অব্যাহত থাকবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১২:৪৫
লেবার ডে ছুটিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত
লেবার ডে ছুটিতে ২৩ লাখ যাত্রীর ভিড়, ব্যস্ত হয়ে উঠছে আটলান্টা বিমানবন্দর

লেবার ডে ছুটিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবার প্রায় ২৩ লাখ যাত্রীর সমাগমের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই বিপুলসংখ্যক যাত্রী বিমানবন্দরটি ব্যবহার করতে পারেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার যাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১ শতাংশ বাড়তে পারে।   বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর হবে এবারের সবচেয়ে ব্যস্ত দিন। ওই দিন ৩ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি যাত্রী বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করতে পারেন। গত বছর সবচেয়ে ব্যস্ত দিনে প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার যাত্রীর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই হিসাবের তুলনায় সম্ভাব্য যাত্রীসংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি বেশি।   ছুটির সময়ে বাড়তি যাত্রী চাপের কথা বিবেচনা করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ভ্রমণকারীদের আগেভাগে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছে। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের যাত্রীদের নির্ধারিত উড্ডয়নের অন্তত দুই ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে অন্তত তিন ঘণ্টা আগে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   যাত্রীদের পার্কিং, বিমানবন্দরে নামা এবং যাত্রী নেওয়ার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সময় হাতে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে পার্কিংয়ের খালি জায়গা এবং নিরাপত্তা তল্লাশির অপেক্ষার সময়ের সর্বশেষ তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে যাত্রীদের নিজ নিজ বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের অবস্থান, গেট নির্ধারণ এবং লাগেজসংক্রান্ত নিয়ম জেনে নিতে বলা হয়েছে। ছুটির সময়ে যাত্রীর চাপ বাড়তে পারে বলে প্রয়োজনীয় তথ্য আগে থেকেই যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের লাগেজও বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে ভালোভাবে পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র থাকলে তা খালি অবস্থায় যথাযথভাবে নিরাপদ করে শুধু চেক-ইন করা লাগেজে রাখতে হবে। কোন কোন জিনিস বিমানবন্দরে নেওয়া যাবে, সে বিষয়ে পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের তালিকা দেখে নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।   গত বছরও লেবার ডে ছুটির সময়ে আটলান্টা বিমানবন্দর দিয়ে ২৩ লাখের বেশি যাত্রী যাতায়াতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের ওই যাত্রাপর্ব ২৭ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছিল এবং সবচেয়ে ব্যস্ত দিনে প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার যাত্রী বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারেন বলে তখন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।   এবারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, লেবার ডে ছুটিতে আটলান্টা বিমানবন্দরে যাত্রীর চাপ গত বছরের তুলনায় কিছুটা বাড়তে পারে। বিশেষ করে ৪ সেপ্টেম্বর সবচেয়ে ব্যস্ত দিন হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় যাত্রীদের পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১২:৩৩