- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
ইসরায়েলের গ্যালিলি সাগরের তীরে দীর্ঘদিনের প্রত্নতাত্ত্বিক খননে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন পাওয়ার পর প্রাচীন বেথসাইদা শহর শনাক্ত করার বিষয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়েছেন গবেষকেরা। খনন দলের একাডেমিক পরিচালক রবার্ট স্টিভেন নটলির দাবি, এ পর্যন্ত পাওয়া সম্মিলিত প্রমাণগুলো উত্তর ইসরায়েলের বর্তমান এল-আরাজ এলাকায় প্রাচীন বেথসাইদা শহরের অবস্থানের ধারণাকে শক্তিশালী করেছে। বেথসাইদা খ্রিস্টীয় ধর্মগ্রন্থে উল্লেখিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন শহর। নতুন নিয়মের বর্ণনা অনুযায়ী, যিশু সেখানে কয়েকটি অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়েছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। এর মধ্যে অন্ধ ব্যক্তির দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়া এবং পাঁচটি রুটি ও দুটি মাছ দিয়ে হাজারো মানুষকে খাওয়ানোর ঘটনা উল্লেখযোগ্য। যিশুর তিন শিষ্য পিতর, আন্দ্রিয় ও ফিলিপও এই শহরের বাসিন্দা ছিলেন বলে ধর্মগ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে। প্রাচীন এই শহরের অবস্থান নিয়ে অবশ্য বহু বছর ধরে প্রত্নতাত্ত্বিকদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। গ্যালিলি সাগরের উত্তর-পূর্ব তীরে অবস্থিত এল-আরাজ এবং কাছাকাছি এট-টেল, দুটি স্থানই বেথসাইদা হিসেবে চিহ্নিত করার প্রধান দাবিদার ছিল। ২০১৬ সালে এল-আরাজ এলাকায় বড় আকারে খননকাজ শুরু করে বেথসাইদা-জুলিয়াস প্রত্নতাত্ত্বিক দল। ২০২৬ সালে এসে তারা খননের দশম মৌসুমে পৌঁছেছে। এবারের অভিযানে রোমান যুগের দেয়াল, মুদ্রা, প্রদীপ, প্রসাধনসামগ্রী, পাথরের তৈরি পেষণপাত্র এবং একটি জনসম্মুখের ভবন সাজাতে ব্যবহৃত হতে পারে এমন ডোরিক স্থাপত্যের একটি অংশ পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, এসব নিদর্শন এল-আরাজ এলাকায় খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীর সময়েও বসতি ছিল এমন ধারণাকে শক্তিশালী করে। বিশেষ করে হেরোদীয় আমলের বেশ কয়েকটি অক্ষত প্রদীপ এবং চুনাপাথরের তৈরি পাত্র পাওয়া গেছে। খনন দলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেরুজালেমে খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীতে তৈরি হওয়া এসব প্রদীপ ইহুদি জনগোষ্ঠীর বসবাসের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত হয়। খননস্থলে পাওয়া স্থাপত্য নিদর্শনও গবেষকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। রোমান যুগের দেয়ালের পাশাপাশি একটি অর্ধেক ডোরিক স্তম্ভের অংশ পাওয়া গেছে, যা কোনো গুরুত্বপূর্ণ জনসাধারণের ভবনের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে এল-আরাজে গির্জা, মোজাইক, বসতবাড়ির দেয়াল এবং রোমান যুগের বিভিন্ন নিদর্শনও উদ্ধার করা হয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, বেথসাইদা পরবর্তী সময়ে রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে জুলিয়াস নামে একটি নগরীতে রূপ নেয়। এবারের খনন সেই রূপান্তর সম্পর্কে আরও তথ্য দিয়েছে। গবেষকদের মতে, প্রাচীন গ্যালিলি অঞ্চলের মানুষকে শুধু দরিদ্র ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখার প্রচলিত ধারণার সঙ্গেও এসব নিদর্শন পুরোপুরি মেলে না। বরং স্থাপত্য, নগর পরিকল্পনা ও পাওয়া সামগ্রী থেকে বোঝা যায়, অন্তত কিছু শহর ও জনপদ তখন যথেষ্ট সমৃদ্ধ ছিল। এল-আরাজকে বেথসাইদা হিসেবে চিহ্নিত করার পক্ষে এর আগেও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২০২২ সালে সেখানে একটি বাইজেন্টাইন আমলের গির্জার মেঝেতে একটি শিলালিপি পাওয়া যায়, যেখানে পিতরের নামের সঙ্গে তাঁকে প্রেরিতদের প্রধান হিসেবে উল্লেখ করার ঐতিহ্যের প্রমাণ মিলেছে। গবেষকদের মতে, গির্জাটি পিতর ও আন্দ্রিয়ের বাড়ির ওপর নির্মিত হয়েছিল বলে পরবর্তী খ্রিস্টীয় ঐতিহ্যে যে দাবি রয়েছে, তার সঙ্গে এই আবিষ্কারের সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে বেথসাইদার অবস্থান নিয়ে বৈজ্ঞানিক বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। অন্য একটি প্রত্নতাত্ত্বিক দল দীর্ঘদিন ধরে কাছের এট-টেল এলাকাকেই প্রাচীন বেথসাইদা হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। সেখানে লৌহ যুগের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন নিদর্শন পাওয়া গেছে। ফলে এল-আরাজকে বেথসাইদা হিসেবে শনাক্ত করার দাবি এখনো প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার আলোচনার অংশ। এল-আরাজ খনন প্রকল্পের গবেষকেরা অবশ্য বলছেন, সময়ের সঙ্গে পাওয়া তথ্যগুলো একই দিকে ইঙ্গিত করছে। একাডেমিক পরিচালক স্টিভেন নটলির মতে, মাটির নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া প্রতিটি নতুন নিদর্শন প্রাচীন বেথসাইদার সঙ্গে এল-আরাজের সম্পর্কের ধারণাকে আরও শক্তিশালী করছে। তিনি এই স্থানকে গসপেল বা সুসমাচারে উল্লেখিত হারিয়ে যাওয়া শহরগুলোর অন্যতম শেষ নিদর্শন হিসেবে দেখছেন। প্রত্নতাত্ত্বিক খননের এই ধারাবাহিকতা শুধু একটি হারিয়ে যাওয়া শহরের অবস্থান শনাক্ত করার প্রশ্নেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। এর মাধ্যমে যিশুর সময়ের গ্যালিলি অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন, অর্থনীতি, ধর্মীয় পরিবেশ এবং রোমান শাসনের প্রভাব সম্পর্কেও নতুন তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। আরও খনন ও গবেষণার মাধ্যমে এল-আরাজের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে বিতর্ক আরও পরিষ্কার হবে বলে আশা করছেন গবেষকেরা। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
দশকের পর দশক ধরে পেটের আলসার বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণকেই দায়ী করা হতো। চিকিৎসকদের ধারণা ছিল, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার এবং পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিডের কারণেই আলসার হয়। রোগীদের মূলত অ্যাসিড কমানোর ওষুধ দেওয়া হতো এবং খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হতো। কিন্তু এরপরও অনেক রোগীর আলসারের যন্ত্রণাদায়ক উপসর্গগুলো বারবার ফিরে আসত। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই প্রতিষ্ঠিত ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার দুজন চিকিৎসক। তাদের যুগান্তকারী এক আবিষ্কার পাল্টে দিয়েছিল পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থা। ১৯৭৯ সালের কথা। ডা. রবিন ওয়ারেন নামের এক চিকিৎসক পাকস্থলীতে প্রদাহ হওয়া রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করছিলেন। তখন তিনি একধরনের অদ্ভুত সর্পিলাকার ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি লক্ষ্য করেন। ওই সময়ে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে, পাকস্থলীর চরম অ্যাসিডিক পরিবেশে কোনো ব্যাকটেরিয়াই টিকে থাকতে পারে না। কিন্তু ডা. ব্যারি মার্শাল নামের আরেক চিকিৎসক ডা. ওয়ারেনের এই পর্যবেক্ষণের মাঝে বিশেষ কিছু খুঁজে পান। তারা দুজন মিলে প্রশ্ন তোলেন, আলসারের পেছনে আসলেই এই ব্যাকটেরিয়া দায়ী কি না। তবে তাদের এই তত্ত্ব চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রবল সন্দেহের মুখে পড়ে। কেউই মানতে রাজি ছিলেন না যে আলসারের কারণ একটি ব্যাকটেরিয়া। এই পরিস্থিতি ডা. মার্শালকে এমন একটি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে, যা আজকের দিনের মানদণ্ডে নৈতিকভাবে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। তিনি নিজেই সেই ব্যাকটেরিয়া মেশানো একটি তরল পান করে বসেন। পরবর্তীতে এই ব্যাকটেরিয়ার নামকরণ করা হয় হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি। মূলত প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করতে তিনি নিজেকেই একটি পরীক্ষাগারে পরিণত করেছিলেন। ব্যাকটেরিয়া মিশ্রিত তরল পানের কয়েকদিনের মধ্যেই ডা. মার্শাল গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার বমি বমি ভাব, বমি হওয়া এবং মুখে দুর্গন্ধের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, তার পাকস্থলীতে মারাত্মক প্রদাহ সৃষ্টি হয়েছে এবং সেখানে ওই ব্যাকটেরিয়ার ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। এরপর তিনি অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করেন এবং পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন। যদিও তার এই আত্মঘাতী পরীক্ষাটি একাই সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি, তবে এটি এমন একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছিল যা পরবর্তী গবেষণায় সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। এই যুগান্তকারী আবিষ্কার আলসারের চিকিৎসায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসে। শুধু পাকস্থলীর অ্যাসিড কমানো এবং উপসর্গ ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকার বদলে চিকিৎসকরা এখন অ্যাসিড কমানোর ওষুধের পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে সরাসরি ব্যাকটেরিয়ার চিকিৎসা করতে পারেন। একসময় যে রোগটিকে দীর্ঘস্থায়ী এবং বারবার ফিরে আসা একটি যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা হিসেবে দেখা হতো, তা এখন পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য হয়ে উঠেছে। এই আবিষ্কারের গুরুত্ব কেবল আলসারের চিকিৎসাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পরবর্তী গবেষণায় দেখা গেছে, এই ব্যাকটেরিয়ার দীর্ঘমেয়াদী সংক্রমণ পাকস্থলীর ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। তবে আক্রান্ত অনেক মানুষের শরীরে কখনোই আলসার বা ক্যান্সার দেখা দেয় না। গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্বজুড়ে এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি বেশ সাধারণ। একটি বড় পরিসরের পর্যালোচনায় অনুমান করা হয়েছে যে, ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী এর উপস্থিতি ছিল ৫৮ দশমিক ২ শতাংশ, যা ২০১১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে কমে ৪৩ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবুও বিশ্বের প্রতি ১০ জনের মধ্যে অন্তত চারজন এই ব্যাকটেরিয়া বহন করেন। এই যুগান্তকারী আবিষ্কার চিকিৎসা ব্যবসার একটি বড় বাণিজ্যিক গল্পকেও পাল্টে দিয়েছিল। একসময় আলসারের চিকিৎসায় অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণের ওষুধগুলোই ছিল প্রধান ভরসা। কিন্তু নতুন এই প্রমাণের ফলে চিকিৎসার মনোযোগ শুধু উপসর্গ ব্যবস্থাপনার বদলে মূল কারণটি নির্মূলের দিকে সরে যায়। এটি প্রমাণ করে যে, কীভাবে দীর্ঘদিনের বদ্ধমূল ধারণা রোগীদের চিকিৎসাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। একইসঙ্গে সতর্ক পর্যবেক্ষণ, অধ্যবসায় এবং প্রমাণের ভিত্তিতে কীভাবে চিকিৎসকরা রোগীদের জন্য তাদের জ্ঞানকে নতুন করে লিখতে পারেন, এটি তার একটি বড় উদাহরণ। এই অসামান্য আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৫ সালে ডা. ব্যারি মার্শাল এবং ডা. রবিন ওয়ারেন চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। সূত্র: নোবেল পুরস্কার কর্তৃপক্ষ ও পিয়ার-রিভিউড চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা।
জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে পাঁচ দিনের যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করতে যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, ‘ফ্রিডম এজ ২৬’ নামের এই মহড়া ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অনুষ্ঠিত হবে। তিন দেশের সামরিক বাহিনীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মহড়ায় সমুদ্র, আকাশ ও সাইবার ক্ষেত্রসহ একাধিক ক্ষেত্রে সমন্বিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, বিমান প্রতিরক্ষা, সাবমেরিনবিরোধী অভিযান এবং সমুদ্রপথে বাধাদানের মতো সামরিক কার্যক্রমও মহড়ার অংশ হবে। ‘ফ্রিডম এজ’ মহড়া প্রথম শুরু হয় ২০২৪ সালে। এরপর ২০২৪ সালের জুন ও নভেম্বর এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এর আয়োজন করা হয়। এবার চতুর্থ দফায় তিন দেশ একসঙ্গে এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী বলছে, মহড়াটি নিয়মিত ও প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা থেকে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য। তবে মহড়াটির ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কিছুটা শিথিল করার চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ার সময়সীমা কমিয়ে দেওয়া হয়। ১৭ আগস্ট শুরু হওয়া ওই মহড়া ১১ দিনের পরিবর্তে পাঁচ দিনেই শেষ করা হয়। ট্রাম্পের নির্দেশেই এর সময় কমানো হয়েছিল বলে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্য প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নতুন করে আলোচনার পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প এর আগে বড় আকারের সামরিক মহড়া উত্তর কোরিয়ার কাছে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উত্তেজনাপূর্ণ বার্তা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। এর মধ্যেই জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন মহড়া উত্তর কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকেরা। বিশেষ করে মহড়াটি পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হলে পিয়ংইয়ং এটিকে সামরিক চাপ হিসেবে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা কমানোর চলমান প্রচেষ্টার গতি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে তিন দেশের যৌথ মহড়াকে শুধু উত্তর কোরিয়াকে কেন্দ্র করে দেখছেন না কিছু বিশ্লেষক। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় মহড়াগুলো মূলত উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলার পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতির ওপর জোর দিলেও জাপানকে সঙ্গে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় মহড়ার কৌশলগত গুরুত্ব আরও বিস্তৃত। এটি পূর্ব এশিয়ায় চীনের সামরিক প্রভাব মোকাবিলায়ও একটি প্রতিরোধমূলক বার্তা দিতে পারে। এবারের ‘ফ্রিডম এজ’ মহড়ায় তিন দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার তাৎক্ষণিক তথ্য বিনিময় এবং তিন দেশের বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমকে আরও উন্নত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি সামুদ্রিক ও বিমান সক্ষমতার সমন্বিত ব্যবহার, উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা পরিস্থিতির অনুশীলন এবং আহত বা বিপদে পড়া ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার প্রশিক্ষণও থাকবে। মহড়ার নির্দিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম, জাহাজ বা বিমানসংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে আগের আয়োজনগুলোর মতো এবারও এর সময়কাল প্রায় পাঁচ দিন থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। চলতি আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ মহড়া চলাকালে পিয়ংইয়ং প্রায় ১০টি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। ফলে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রিপক্ষীয় মহড়াকে ঘিরে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে। একদিকে ওয়াশিংটন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার পথ খোলার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে মিত্র জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক প্রস্তুতিও অব্যাহত রাখছে। এই দুই ধারার মধ্যে ভারসাম্য রাখাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের গাজা যুদ্ধের সমালোচনা বা ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে মত প্রকাশের কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল বা দেশ থেকে বহিষ্কার করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত। আদালত বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের বাক্স্বাধীনতার সুরক্ষা লঙ্ঘন করে। সান হোসের ফেডারেল বিচারক নোয়েল ওয়াইজ শুক্রবার দেওয়া ৯০ পৃষ্ঠার রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া কিছু অভিবাসন পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করেন। মামলাটি করেছিল স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত সংবাদপত্র ‘দ্য স্ট্যানফোর্ড ডেইলি’। পত্রিকাটির দাবি ছিল, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে মত প্রকাশের কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীরা ভিসা বাতিল ও বহিষ্কারের আশঙ্কায় নিজেদের মত প্রকাশ থেকে বিরত থাকছিলেন। বিচারক ওয়াইজ তাঁর রায়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী নাগরিকদের পাশাপাশি বৈধভাবে দেশটিতে অবস্থানরত অ-নাগরিকদেরও মত প্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত করে। সরকারের পছন্দ নয় এমন মত প্রকাশ করলেই অভিবাসন আইন ব্যবহার করে কাউকে শাস্তি দেওয়া সেই অধিকারকে কার্যত সীমিত করে দেয়। মামলার সূত্রপাত মূলত ২০২৫ সালের ঘটনাপ্রবাহ থেকে। সে সময় ট্রাম্প প্রশাসন ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে যুক্ত কয়েকজন বিদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীকে ভিসা বাতিল, আটক এবং বহিষ্কারের উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহমুদ খলিল এবং টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের রুমাইসা ওজতুর্কের ঘটনাও ব্যাপক আলোচনায় আসে। এসব ঘটনার পর স্ট্যানফোর্ড ডেইলি আশঙ্কা প্রকাশ করে যে তাদের বিদেশি শিক্ষার্থী সাংবাদিকরাও একই ধরনের সরকারি পদক্ষেপের মুখে পড়তে পারেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, স্ট্যানফোর্ড ডেইলির কয়েকজন বৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি শিক্ষার্থী ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন নিয়ে লেখা প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছিলেন। কেউ আগে প্রকাশিত লেখা সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছেন, কেউ নতুন লেখা প্রকাশ থেকে বিরত থেকেছেন, আবার কেউ নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করেছেন। এমনকি কয়েকজন শিক্ষার্থী সংবাদপত্রটির কাজ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন। বিচারক ওয়াইজ বলেন, সরকারের পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে কার্যত এমন বার্তা পৌঁছেছিল যে ইসরায়েলের সমালোচনা বা ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে কথা বললে তাদের ভিসা বাতিল এবং বহিষ্কার করা হতে পারে। ফলে অনেকেই নিজেদের মত প্রকাশ থেকে বিরত হয়েছেন। রায়ে বিচারক আরও বলেন, সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ও অভিবাসন বিষয়ে যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। তবে সেই ক্ষমতা এমনভাবে প্রয়োগ করা যাবে না, যাতে সাধারণ মানুষ বুঝতেই না পারেন কোন ধরনের বক্তব্য আইনসম্মত এবং কোন বক্তব্যের কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তিনি এই ধরনের অস্পষ্ট মানদণ্ডকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। ওয়াইজের মতে, গণতন্ত্রে বাক্স্বাধীনতার অর্থ শুধু সরকারের সঙ্গে একমত হওয়ার অধিকার নয়। সরকারের নীতি, পররাষ্ট্রনীতি, সামরিক কর্মকাণ্ড বা যুদ্ধের সমালোচনা করার অধিকারও এর অংশ। এমনকি কোনো মতামত প্রচলিত রাজনৈতিক ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বা অনেকের কাছে অগ্রহণযোগ্য হলেও, সেটি প্রকাশের অধিকার সংবিধান সুরক্ষা দিতে পারে। এই মামলায় স্ট্যানফোর্ড ডেইলির পক্ষে কাজ করেছে ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিভিজুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশন। সংগঠনটির আইনজীবী কনর ফিটজপ্যাট্রিক আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাক্স্বাধীনতা শুধু সরকারের পছন্দের মত প্রকাশকারীদের জন্য নয়। স্ট্যানফোর্ড ডেইলির প্রধান সম্পাদক জর্জ পোরটিয়াসও রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সংবাদকক্ষে কাজ করা সাংবাদিকদের কোনো প্রতিবেদন লেখার কারণে দেশ থেকে বহিষ্কারের ভয় পাওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে সেই ভয় অনেকটাই দূর হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ রায়টির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। ফলে প্রশাসন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ক্যালিফোর্নিয়ার এই রায়টি এমন সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন দমনের পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক আইনি লড়াই চলছে। এর আগে বোস্টনের একজন ফেডারেল বিচারকও রায় দিয়েছিলেন যে শুধু ফিলিস্তিনিদের সমর্থন বা ইসরায়েলের সমালোচনার কারণে অ-নাগরিকদের বহিষ্কারের উদ্যোগ সংবিধানবিরোধী। সাম্প্রতিক রায়টি বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ আদালত স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও সাংবিধানিক বাক্স্বাধীনতার সুরক্ষা প্রযোজ্য এবং অভিবাসন আইনের ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজনৈতিক মত প্রকাশ দমন করা যাবে না। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স ও স্ট্যানফোর্ড ডেইলি।
নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পেছনে ভূমিকম্প নয়, একটি বিশাল হিমবাহ ধসে পড়াকে দায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস। হিমবাহের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত তৈরি করে। পরে তা নদীপথ আটকে দিয়ে হঠাৎ বাঁধ ভেঙে যাওয়ার মতো ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় নেপাল ও তিব্বতে ইতোমধ্যে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ২৬ আগস্ট সকালে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে এই বিপর্যয় শুরু হয়। প্রথম দিকে ভূকম্পন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো ঘটনাটিকে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে শনাক্ত করেছিল। পরে আরও বিশ্লেষণ, ভূকম্পন তরঙ্গের ধরন এবং উপগ্রহের ছবি পরীক্ষা করে ইউএসজিএস সিদ্ধান্তে আসে, এটি কোনো টেকটোনিক ভূমিকম্প ছিল না। বরং হিমবাহ ধস ও তার সঙ্গে তৈরি হওয়া ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ থেকেই ভূকম্পনসদৃশ সংকেত তৈরি হয়েছিল। ইউএসজিএসের হিসাবে, হিমবাহ ধসের শক্তি ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য ছিল। অর্থাৎ ভূগর্ভে কোনো বড় ধরনের ভূত্বকীয় নড়াচড়া হয়নি, বরং বরফ, পাথর ও অন্যান্য উপাদান পাহাড় থেকে প্রচণ্ড শক্তিতে নিচে নেমে আসার কারণেই এত শক্তিশালী ভূকম্পন সংকেত তৈরি হয়। ঘটনাটির প্রায় তিন ঘণ্টা পর ওই অঞ্চলে আরও একটি ভূমিধসের মতো ঘটনা রেকর্ড করা হয়, যার শক্তি ছিল ৪ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য। উপগ্রহের প্রাথমিক ছবি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় হিমবাহের নিচের অংশের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। সেটি প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার নিচে নেমে আসার সময় বিপুল পরিমাণ পাথর ও ধ্বংসাবশেষ সঙ্গে নিয়ে যায়। পরে এই বরফ-পাথরের স্রোত তিব্বতের লেন্দে নদীতে গিয়ে পড়ে এবং নদীর পানি সাময়িকভাবে আটকে দেয়। প্রাকৃতিক সেই বাধা ভেঙে যাওয়ার পর বিপুল পরিমাণ পানি, বরফ, কাদা ও পাথর একসঙ্গে নিচের দিকে ছুটে যায়। প্রবল স্রোত ভোতে কোশি নদীতে প্রবেশ করে এবং পরে নেপালের ত্রিশূলী নদীর দিকে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ত্রিশূলী নদীর পানির উচ্চতা মাত্র আধা ঘণ্টায় প্রায় ৯ মিটার বেড়ে যায়। এই বন্যার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল, প্রচলিত অর্থে এটি বৃষ্টির বন্যা ছিল না। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় সেখানে বৃষ্টি হয়নি। ফলে অনেক মানুষ পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেননি। বর্ষাকালে বন্যার সঙ্গে অভ্যস্ত স্থানীয়দের কাছে হঠাৎ করে পাহাড়ি নদীর পানি এভাবে বেড়ে যাওয়া ছিল অস্বাভাবিক। নেপালের রাসুয়া জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। বন্যার স্রোত পরে নুওয়াকোট ও ধাদিংসহ আরও নিচের এলাকাগুলোতে পৌঁছে যায়। সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অন্তত ১৯টি সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল। হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট এই ধরনের বন্যাকে বিশেষজ্ঞরা হিমবাহজনিত হ্রদ বিস্ফোরণ বন্যা বা জিএলওএফের সঙ্গে তুলনা করছেন। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব দ্য সানশাইন কোস্টের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ অ্যাড্রিয়ান ম্যাককলাম ব্যাখ্যা করেছেন, হিমবাহ গলে পেছনে পানি জমতে পারে এবং সেই পানি প্রাকৃতিক পাথর ও মাটির বাঁধের পেছনে আটকে থাকে। কোনো কারণে সেই বাঁধ ভেঙে গেলে বিপুল পরিমাণ পানি একসঙ্গে নিচের দিকে নেমে গিয়ে পথের সবকিছুকে ভাসিয়ে নিতে পারে। লাট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ইতিহাসবিদ রুথ গ্যাম্বল এই বন্যার গতিকে একটি স্থলভাগের সুনামির সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর মতে, প্রবল পানির স্রোত ভোতে কোশি উপত্যকা দিয়ে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মধ্য নেপালের দিকে ছুটে যায়। যে পথটি নেপাল ও তিব্বতের মধ্যে যাতায়াতকারী পর্যটকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিপর্যয় এখানেই শেষ হয়ে যায়নি। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন নতুন করে আরেকটি বন্যার আশঙ্কা। নেপাল ও চীন সীমান্তের দুই পাশে বন্যার পর তৈরি হওয়া বা পানি জমে থাকা দুটি হ্রদ নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এসব জলাধারের কোনো একটি প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে গেলে আবারও বড় ধরনের পানির ঢল নেমে আসতে পারে। নেপালের ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টবিষয়ক আন্তর্জাতিক কেন্দ্র, আইসিমোড জানিয়েছে, বন্যার সঙ্গে আসা ধ্বংসাবশেষ ত্রিশূলী নদীর একটি সরু অংশে সাময়িক বাধা তৈরি করেছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রাকৃতিক বাধার পেছনে পানি জমে গেলে সেটি হঠাৎ ভেঙে পড়ার ঝুঁকি থাকে। আইসিমোডের জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিভাগের প্রধান কিয়াংগং ঝাং সতর্ক করে বলেছেন, নেপাল-চীন সীমান্তের উজানে যদি কোনো বাধা থেকে থাকে, সেটি নতুন ঢলের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সীমান্তের জিরং বন্দরের কাছাকাছি এলাকাতেও সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢলের আশঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষও সীমান্তের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের হিসাবে, পরবর্তী কয়েক দিনে প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি একটি ইতোমধ্যে বাধাগ্রস্ত হ্রদে প্রবেশ করতে পারে। পরিমাণটি প্রায় ১ হাজার ২০০টি অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুলের পানির সমান। পানির চাপ বাড়তে থাকলে প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সেপ্টেম্বরের ১ তারিখের দিকে পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কাও জানানো হয়েছিল। এর সঙ্গে আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টির পূর্বাভাসও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের গবেষক ঝু জিনফেং বলেছেন, পানির পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ছে। তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় বন্যার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সীমান্তের কাছে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের পানি ধীরে ধীরে কমেছে এবং উপগ্রহের ছবিতে হ্রদের তলদেশের কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে। তারপরও সেখানে আরও একটি বড় হ্রদ শনাক্ত হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে। এদিকে এই হিমবাহ ধসের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়া এবং পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির অস্থিতিশীলতা নিয়ে বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ বাড়ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলে উষ্ণতা বৃদ্ধি হিমবাহ গলন, পাথরের অস্থিতিশীলতা এবং পারমাফ্রস্ট বা দীর্ঘদিন জমাট থাকা মাটির বরফ গলে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এসব পরিবর্তন ভবিষ্যতে ধস, আকস্মিক বন্যা ও অন্যান্য বিপদের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। গবেষকেরা বলছেন, এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, শুধু বৃষ্টি ও নদীর পানির উচ্চতা পর্যবেক্ষণ করে সব ধরনের পাহাড়ি বন্যার আগাম সতর্কতা দেওয়া সম্ভব নয়। আকাশ পরিষ্কার থাকা অবস্থাতেও হিমবাহ ধসের মতো ঘটনা কয়েক মিনিটের মধ্যে ভয়াবহ বন্যা তৈরি করতে পারে। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান নাদের নাদেরপাজুহ বলেছেন, ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরীয় সুনামির পর যেভাবে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছিল, হিমবাহ ও পাহাড়ি জলাধার পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রেও তেমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। পানি জমে ওঠার বিষয়টি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। দ্রুত সতর্কতা ও প্রস্তুতি মানুষের জীবন রক্ষা এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নেপালের এবারের বিপর্যয় তাই শুধু একটি আকস্মিক বন্যার ঘটনা নয়। হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশ, হিমবাহের অস্থিতিশীলতা এবং পাহাড়ি নদী অববাহিকায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়েও এটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সূত্র: ইউএসজিএস
ওজন কমানোর জন্য ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যাভ্যাস বা কম চর্বিযুক্ত উদ্ভিদনির্ভর খাবারকে দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে নতুন একটি ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে, একই পরিমাণ ওজন কমানোর পরও কিটোজেনিক বা কিটো ডায়েট লিভারের চর্বি কমানো এবং শরীরের বিপাকীয় স্বাস্থ্যের কয়েকটি সূচকে তুলনামূলকভাবে বেশি উন্নতি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের গবেষকদের পরিচালিত এই গবেষণাটি ২৭ আগস্ট ২০২৬ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘সেল মেটাবলিজম’-এ প্রকাশিত হয়। গবেষণায় স্থূলতা, প্রিডায়াবেটিস ও ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে তিন ধরনের খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব তুলনা করা হয়। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের কিটোজেনিক, ভূমধ্যসাগরীয় এবং কম চর্বিযুক্ত উদ্ভিদনির্ভর খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে একটি অনুসরণ করতে দেওয়া হয়। গবেষকরা প্রত্যেকের খাবারের ক্যালরি এমনভাবে নির্ধারণ করেন, যাতে চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে তাদের শরীরের ওজন প্রায় ১০ শতাংশ কমে আসে। অংশগ্রহণকারীদের খাবার গবেষকরাই সরবরাহ করেন এবং খাদ্যাভ্যাস ঠিকভাবে অনুসরণ করার জন্য প্রতি সপ্তাহে খাদ্যবিশেষজ্ঞের সঙ্গে তাদের দেখা করানো হয়। তিনটি খাদ্যাভ্যাসেই অংশগ্রহণকারীদের শরীরের চর্বি কমেছে এবং ইনসুলিনের প্রতি সংবেদনশীলতা বেড়েছে। এর ফলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও উন্নতি দেখা যায়। অর্থাৎ শুধু ওজন কমানোর ক্ষেত্রেই নয়, তিনটি পদ্ধতিই বিপাকীয় স্বাস্থ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। তবে পার্থক্য দেখা গেছে লিভারের চর্বি কমানোর ক্ষেত্রে। গবেষণায় কিটো ডায়েট অনুসরণকারীদের লিভারে জমে থাকা চর্বির পরিমাণ গড়ে ৬৭ শতাংশ কমে যায়। অন্যদিকে ভূমধ্যসাগরীয় এবং কম চর্বিযুক্ত উদ্ভিদনির্ভর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণকারীদের ক্ষেত্রে এই হ্রাস ছিল প্রায় ৪৫ শতাংশ। গবেষকদের মতে, কিটো ডায়েটের কারণে শরীরে এমন কিছু হরমোনগত পরিবর্তন ঘটে, যা লিভারের চর্বি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। এই খাদ্যাভ্যাসে রক্তে গ্লুকাগন নামের একটি হরমোনের মাত্রা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। গ্লুকাগন শরীরে সঞ্চিত চর্বি ব্যবহারে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে কিটো গ্রুপে রক্তের ইনসুলিনের মাত্রাও অন্য দুই গ্রুপের তুলনায় বেশি কমেছে। প্রিডায়াবেটিসের ক্ষেত্রেও কিটো ডায়েট গ্রুপে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া গেছে। ওজন কমানোর পর কিটো ডায়েট অনুসরণকারীদের প্রায় ৫০ শতাংশ আর প্রিডায়াবেটিসের মানদণ্ড পূরণ করেননি। ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ২৯ শতাংশ এবং কম চর্বিযুক্ত উদ্ভিদনির্ভর খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে মাত্র ৭ শতাংশ। কিটো ডায়েটের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ খুব কম এবং চর্বির পরিমাণ বেশি। গবেষণায় কিটো খাদ্য থেকে মাত্র ৪ শতাংশ ক্যালরি কার্বোহাইড্রেট এবং প্রায় ৭৩ শতাংশ ক্যালরি চর্বি থেকে এসেছে। ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যাভ্যাসে কার্বোহাইড্রেট ছিল প্রায় ৫০ শতাংশ এবং চর্বি ৩৫ শতাংশ। অন্যদিকে কম চর্বিযুক্ত উদ্ভিদনির্ভর খাদ্যাভ্যাসে প্রায় ৭০ শতাংশ ক্যালরি এসেছে কার্বোহাইড্রেট থেকে এবং মাত্র ১৫ শতাংশ চর্বি থেকে। গবেষণার প্রথম লেখক ম্যাক্স পিটারসেনের কাছে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় ছিল, বেশি চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া সত্ত্বেও কিটো গ্রুপের অংশগ্রহণকারীদের রক্তে চর্বি বা কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়নি। গবেষকদের মতে, এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে শুধু খাবারে চর্বির পরিমাণ বেশি হলেই রক্তে চর্বি বা কোলেস্টেরল বেড়ে যাবে, এমন সরল সম্পর্ক সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। তবে গবেষণার ফলকে কিটো ডায়েট সবার জন্য সবচেয়ে ভালো খাদ্যাভ্যাস হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। গবেষণাটি সীমিতসংখ্যক অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে করা হয়েছে এবং খাদ্যাভ্যাসটি অনুসরণ করা হয়েছে মাত্র চার থেকে পাঁচ মাস। দীর্ঘমেয়াদে কিটো ডায়েট কতটা নিরাপদ, কার্যকর এবং টেকসই, তা জানতে আরও বড় ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন। কিটো ডায়েট দীর্ঘদিন অনুসরণ করাও অনেকের জন্য কঠিন হতে পারে। কার্বোহাইড্রেট ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়ার কারণে খাদ্যতালিকা বেশ সীমিত হয়ে যায়। এতে কিছু মানুষের ক্লান্তি, বিরক্তি বা মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং খাবারের বৈচিত্র্য কমে গেলে প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। গবেষকেরা বলছেন, বর্তমানে স্থূলতা কমাতে জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ ব্যবহার বাড়লেও খাবারের ধরন পরিবর্তন করেও ওজন কমানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিপাকীয় সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। তবে ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা, রোগের ইতিহাস এবং পুষ্টির প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তাই কিটো, ভূমধ্যসাগরীয় বা অন্য কোনো কঠোর খাদ্যাভ্যাস শুরু করার আগে চিকিৎসক অথবা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস, লিভারের সমস্যা বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে নিজের সিদ্ধান্তে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন না করাই ভালো। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
জন্মহার কমে যাওয়ায় নাগরিকদের সন্তান গ্রহণে উৎসাহিত করতে এক বিশাল আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে সিঙ্গাপুর সরকার। দেশটির নতুন ‘এসজি চাইল্ড সাপোর্ট প্যাকেজ’-এর আওতায় যোগ্য নাগরিকরা সন্তান জন্মের পর থেকে ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার বা প্রায় ৬৭ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাবেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল ডে র্যালিতে এই যুগান্তকারী উদ্যোগের ঘোষণা দেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং। এই প্যাকেজের আওতায় শিশুদের জন্য সরাসরি ৬২ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার বরাদ্দ করা হবে এবং বিদ্যমান অন্যান্য সরকারি চিকিৎসা ও শিক্ষা সুবিধার মাধ্যমে আরও বাড়তি অর্থ দেওয়া হবে, যা সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ হাজার ডলারে গিয়ে দাঁড়াবে। সরকারি নীতিমালা ও নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল বা তার পরে জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুর জন্মলগ্নেই ১০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার নগদ উপহার হিসেবে দেওয়া হবে। এই অর্থ শিশুর প্রথম এক বছরের মধ্যে দুটি কিস্তিতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি, শিশুটির বয়স ১৬ বছর হওয়া পর্যন্ত প্রতি বছর আরও ২ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার করে 'চাইল্ড ক্রেডিট' দেওয়া হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান সুবিধার তুলনায় প্রথম সন্তানের ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত একটি পরিবার অতিরিক্ত ৪২ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার সহায়তা পাবে। সরকারের এই নতুন উদ্যোগের ফলে দেশটির প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার পরিবার এবং ১৭ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সী প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজারের বেশি শিশু সরাসরি উপকৃত হবে। মূলত দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধ হওয়ার তীব্র চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই এই মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। সিঙ্গাপুরের জন্মহার বর্তমানে রেকর্ড সর্বনিম্নে এসে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, দেশটি একটি ‘সুপার-এজড সোসাইটি’ বা অতি-বয়স্ক সমাজ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পথে রয়েছে, যেখানে মোট জনসংখ্যার অন্তত ২০ শতাংশ মানুষের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। এই জনসংখ্যাগত বিপর্যয়, ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের সংকট এবং বয়স্কদের নির্ভরতা সামাল দিতেই মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন নীতিগুলো ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি এমন অভাবনীয় আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ চালু করেছে সিঙ্গাপুর সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক হাইস্কুল ক্যাম্পাসে ১৭ বছর বয়সী এক ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়ানোর দায়ে হেদার ম্যাশবার্ন-স্মিথ নামের এক শিক্ষিকাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৩৭ বছর বয়সী ওই শিক্ষিকাকে আরও ১৫ বছরের প্রবেশনে (probation) থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত এপ্রিলে গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার তিনি অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে বেআইনি কার্যকলাপে জড়িত থাকার দোষ স্বীকার করেন এবং বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তার এই সাজা ঘোষণা করা হয়। পুলিশ ও এবিসি৭-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোর্ট শার্লট হাইস্কুলের ওই শিক্ষিকা গত এপ্রিলে স্কুল ক্যাম্পাসের ভেতরেই ওই ছাত্রের সঙ্গে অন্তত দুবার যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন। ফ্লোরিডার আইন অনুযায়ী যৌন সম্পর্কের সম্মতির ন্যূনতম বয়সসীমা ১৮ বছর। যেহেতু অভিযুক্ত নারী একজন শিক্ষিকা, তাই তার বিরুদ্ধে প্রথম মাত্রার ফেলোনি বা গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। শার্লট কাউন্টির শেরিফ বিল প্রুমেল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, "এই নারী যা করেছেন তা শুধু বেআইনিই নয়, বরং এটি তার চারপাশের শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। যাদের রক্ষা করার দায়িত্ব তার ওপর ছিল, তিনি সেই বিশ্বাস ও দুর্বলতারই ঘৃণ্য সুযোগ নিয়েছেন।" জানা গেছে, গত ২৯ এপ্রিল গ্রেপ্তারের পরপরই ম্যাশবার্ন-স্মিথ পুলিশের কাছে নিজের অপরাধের পূর্ণ স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন। ন্যাক্কারজনক এই ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। আদালত সাজা ঘোষণার আগে হাজতবাসের কারণে তার সাজার মেয়াদ থেকে ১১৮ দিন মওকুফ করেছেন। এ বিষয়ে শার্লট কাউন্টি শেরিফ অফিস, ক্লার্ক অফিস বা স্কুল ডিস্ট্রিক্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উত্তর কোরিয়ার সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী নো কোয়াং চোলকে পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। শনিবার দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই "কাঠামোগত পুনর্গঠন পরিকল্পনা" অনুমোদিত হয় বলে রবিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ (KCNA) নিশ্চিত করেছে। কেসিএনএ-এর তথ্যমতে, নো কোয়াং চোলকে কেবল প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকেই সরানো হয়নি, ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃত্বেও তার পদাবনতি ঘটিয়ে ‘যুদ্ধাস্ত্র শিল্প বিভাগের প্রথম ভাইস ডিরেক্টর’ করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কোরিয়ান পিপলস আর্মির জেনারেল পলিটিক্যাল ব্যুরোর পরিচালক কিম সং গিকে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা পাক জং চোনকে সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ক্ষমতাসীন দলের শক্তিশালী পলিটিক্যাল ব্যুরোর সদস্য হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল ও পদোন্নতি ঘোষণা করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার পরপরই উত্তর কোরিয়ার সামরিক নেতৃত্বে এই বড় পরিবর্তনের ঘটনা ঘটল। পিয়ংইয়ং বরাবরই এ ধরনের যৌথ মহড়াকে দেশটিতে আগ্রাসনের মহড়া হিসেবে কঠোর সমালোচনা করে আসছে। তবে এ বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মহড়ার সময়সীমা সংক্ষিপ্ত করার নির্দেশ দিলে বিষয়টি নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ট্রাম্প এই মহড়াকে উত্তর কোরিয়ার জন্য উসকানিমূলক আখ্যা দিয়ে সিউলের সমালোচনা করেন এবং কিম জং উনের ইতিবাচক প্রশংসা করেন।
দীর্ঘ প্রায় ২,০০০ বছর ধরে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, জেরুজালেমের 'চার্চ অফ দ্য হোলি সেপালকার' হলো সেই পবিত্র স্থান যেখানে যিশু খ্রিষ্টকে ক্রুশবিদ্ধ করে সমাহিত করা হয়েছিল। এবার দীর্ঘ দুই সহস্রাব্দ পর সেই ঐতিহাসিক গির্জার নিচে বিস্তর খননকাজ চালিয়ে এক প্রাচীন নিসর্গের খোঁজ পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা, যার সঙ্গে বাইবেলের 'গসপেল অফ জন'-এ বর্ণিত যিশুর সমাধির আশেপাশের পরিবেশের বিস্ময়কর মিল রয়েছে। গবেষকদের দাবি, প্রায় দুই হাজার বছর আগের এই নতুন আবিষ্কার প্রমাণ করে যে গির্জার নিচের ওই স্থানটিই সম্ভবত যিশুর প্রকৃত সমাধিক্ষেত্র। খননকাজে ওই স্থানে প্রাচীন আবাদি জমি, আঙুর ও জলপাই গাছের বাগান, একটি পরিত্যক্ত পাথরের খনি এবং পাথর কেটে তৈরি একাধিক প্রাচীন সমাধির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক ফ্রান্সেসকা রোমানা স্টাসোল্লা জানিয়েছেন, তারা সেখানে একটি প্রাচীন সমাধিক্ষেত্রের পাশাপাশি কিছু বিক্ষিপ্ত মানুষের আনাগোনা থাকা গ্রামীণ পরিবেশের অকাট্য প্রমাণ পেয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, খ্রিষ্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীতে সম্রাট হাদ্রিয়ানের জেরুজালেম পুনর্নির্মাণের আগেই এই সমাধিগুলো তৈরি করা হয়েছিল—যা যিশুর সমকালীন অর্থাৎ প্রায় দুই হাজার বছর আগের সময়কালের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, বাগান, চারণভূমি ও সমাধির পাশাপাশি অবস্থানের এই দৃশ্যপটটি বাইবেলের বর্ণনার সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। সেখানে বলা হয়েছিল, যিশুকে যেখানে ক্রুশবিদ্ধ করা হয় তার কাছেই একটি বাগান ছিল এবং সেই বাগানের ভেতরেই ছিল একটি সমাধি। তবে প্রত্নতাত্ত্বিকরা স্পষ্ট করেছেন, সমাধিগুলোতে যিশুর নাম খোদাই করা কোনো সরাসরি ভৌত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তা সত্ত্বেও, ২,০০০ বছর পর এই আবিষ্কার স্থানটিকে যিশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার এবং সমাধিস্থ হওয়ার সবচেয়ে জোরালো ও সম্ভাব্য ঐতিহাসিক ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। উল্লেখ্য, রোমান স্থাপনা ধ্বংস করে ৩৩৫ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত খ্রিষ্টানদের অন্যতম পবিত্র এই গির্জাটিতে প্রতি বছর প্রায় ৪০ লাখ দর্শনার্থী আসেন। সূত্রঃ দ্য সান
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ডাউনটাউনে একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে এক নারী আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার সকালে ঘটা এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। লস অ্যাঞ্জেলেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, সকাল ৮টা ৫১ মিনিটে ১২০০ সাউথ গ্র্যান্ড অ্যাভিনিউ এলাকায় ভবন থেকে এক ব্যক্তির লাফ দেওয়ার প্রস্তুতির খবর পান তারা। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এলএপিডি) সঙ্গে যৌথভাবে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উদ্ধারকর্মীরা ভবনের ছাদে গিয়ে ওই নারীকে লাফ দেওয়া থেকে বিরত করার জন্য বোঝানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাদের সেই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। প্রাপ্তবয়স্ক ওই নারী ভবন থেকে নিচে লাফিয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই নারী সম্ভবত ভবনের সপ্তম তলা থেকে লাফ দিয়েছিলেন, তবে এই তথ্যের আনুষ্ঠানিক সত্যতা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করা হয়নি। আত্মহত্যা সংক্রান্ত বিভাগের নিজস্ব নীতিমালার কারণে পুলিশ এই ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী 'অসাম কফি' নামের একটি ক্যাফের এক কর্মী সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি এক নারীকে ওই ভবন থেকে লাফ দিতে দেখেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সেসময় ওই এলাকার রাস্তাঘাট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। নিহত নারীর পরিচয় এখনো জানা যায়নি, তবে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনার কার্যালয় থেকে ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মর্মান্তিক এই আত্মহত্যার ঘটনাটি লস অ্যাঞ্জেলেস কনভেনশন সেন্টারের ঠিক কয়েক ব্লক পূর্ব দিকে ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক বছর বয়সী নিজের নাতনিকে তপ্ত গাড়ির ভেতর ফেলে রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে কারেন বেনিয়ার্ড নামের ৭৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই অবহেলার কারণে ওই দাদির বিরুদ্ধে গুরুতর নরহত্যার (অ্যাগ্রাভেটেড ম্যানস্লটার) অভিযোগ এনেছে স্থানীয় পুলিশ। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত কারেন বেনিয়ার্ড শিশুটিকে অন্তত ৯০ মিনিটের বেশি সময় ধরে একটি বন্ধ ও উত্তপ্ত গাড়ির ভেতর রেখে বাড়ির ভেতরে গিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছিলেন। তীব্র গরমে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার ফলে একপর্যায়ে শিশুটির করুণ মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে সেলফোনের ডেটা এবং বাড়ির রিং ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পেছনের সময়রেখা সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছে। আপন দাদির এমন চরম অবহেলায় ছোট্ট একটি প্রাণের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের নীতির সমালোচনা ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানানোর কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীদের দেশে ফেরত (ডিপোর্ট) পাঠানোর যে উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসন নিয়েছিল, তা অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক ফেডারেল বিচারক। শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে-তে মার্কিন জেলা জজ নোয়েল ওয়াইজ এই যুগান্তকারী রায় প্রদান করেন। রায়ে তিনি মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে বাকস্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং জানান যে, শান্তিপূর্ণভাবে মতামত প্রকাশের কারণে অ-নাগরিক শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চরম লঙ্ঘন। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত পত্রিকা ‘দ্য স্ট্যানফোর্ড ডেইলি’-এর দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে এই রায় দেওয়া হয়। পত্রিকাটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, ভিসা বাতিল ও ডিপোর্টেশনের হুমকির কারণে অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ বা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছিলেন। বিচারক ওয়াইজ তাঁর রায়ে উল্লেখ করেন, বাকস্বাধীনতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আমেরিকার টেকসই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকার যদি শুধু তাদের অপছন্দের মতামতের কারণে কাউকে বিতাড়িত করে, তবে তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এই রায়টি প্রায় এক বছর আগে বোস্টনের এক মার্কিন জেলা জজের দেওয়া অনুরূপ একটি রায়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ, যেখানে ইসরায়েলকে সমালোচনার জেরে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছিল। বিচারক ওয়াইজ তাঁর রায়ে ২০২৫ সালের মার্চে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনকারী এবং পরবর্তীতে চার্লি কার্কের সমালোচনাকারীদের ওপর মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের দমন-পীড়নের বিষয়টিও উল্লেখ করেন। এই আইনি লড়াইয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষে লড়া সংস্থা ‘ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিভিজুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশন’-এর আইনজীবী কনর ফিটজপ্যাট্রিক এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, আমেরিকায় বাকস্বাধীনতা কেবল সরকারের সঙ্গে একমত পোষণকারীদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না।
বিদেশে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি ঘটেছে পোল্যান্ডে। মার্কিন কংগ্রেসের চাহিদার প্রেক্ষিতে তৈরি সামরিক বাহিনীর বার্ষিক যৌন নিপীড়ন বিষয়ক নতুন এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে ন্যাটো জোটের পূর্বাঞ্চলীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে গত বছর পোল্যান্ডে অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনা মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ঘাঁটিতে পরিণত হওয়া দেশটিতে গত বছর মার্কিন সেনাদের দ্বারা ৭৩টি যৌন নিপীড়নের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের যৌন নিপীড়নের ঘটনা সামগ্রিকভাবে প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে এমন অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় পোল্যান্ডে যৌন নিপীড়নের হার দ্বিগুণেরও বেশি এবং টানা তৃতীয় বছরের মতো দেশটি এই তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে। অথচ জার্মানিতে পোল্যান্ডের তুলনায় তিনগুণ বেশি (প্রায় ৩৫ হাজার) মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকলেও সেখানে এমন ঘটনার হার তুলনামূলক কম। মার্কিন কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পোল্যান্ডে এই সমস্যার এতটা প্রকট হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেননি। তবে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তার প্রমাণ দেয়। উদাহরণস্বরূপ, গত জুনে সেনাবাহিনীর পেট্রোলিয়াম সরবরাহ বিশেষজ্ঞ সার্জেন্ট উলরিখ কামেনি দুজন নারীকে নিপীড়ন ও অপর একজনের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের কথা স্বীকার করেন। ক্যাম্প কোসিয়ুসকোতে সামরিক আদালতের বিচারে তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে প্রণয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় নিজ তত্ত্বাবধানে থাকা এক নারী সেনাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছিলেন কামেনি। এরপর ২০২৪ সালে পোল্যান্ডের জিলোনা গোরার একটি বারে মদ্যপ অবস্থায় এক পোলিশ নারীর ঘাড় চেপে ধরে তাকে আহত করেন তিনি। প্রতিরক্ষা বিভাগের সার্বিক তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে বিশ্বজুড়ে মার্কিন সেনাদের জড়িত থাকার ৮ হাজার ১৯৬টি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ কমে এ বছর তা ৭ হাজার ৯৯৮টিতে দাঁড়িয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ১ হাজার ৩২১ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। তবে জরিপের তথ্য বলছে, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে, কারণ ভুক্তভোগীদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেন। বিদেশে মোতায়েন সেনাদের মোট ২৪৬টি যৌন নিপীড়নের ঘটনার মধ্যে পোল্যান্ডের পরই রয়েছে কুয়েত (৩০), কাতার (২৪), ইরাক (২৩) ও রোমানিয়া (২০)। দীর্ঘ বছর ধরে এই সমস্যা সমাধানে সোচ্চার ডেমোক্র্যাট সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড সার্বিক হার ২ শতাংশ কমে আসাকে একটি 'ইতিবাচক অগ্রগতি' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মার্কিন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর ট্রাভিস শ পোল্যান্ড নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য না করলেও জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী তাদের পদমর্যাদার মধ্যে যেকোনো ধরনের যৌন হয়রানি নির্মূল করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে কাজ করে যাচ্ছে।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডের রোজলিন হাইটসের বাসিন্দা অমিতা আমিন। চলতি সপ্তাহে ওই অঞ্চলের গ্রাম ও উপত্যকাগুলোতে আকস্মিক বন্যার পানি আছড়ে পড়লে সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর যে হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন, ৬৭ বছর বয়সী অমিতা তাদেরই একজন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, অমিতা একটি ট্যুর গ্রুপের সঙ্গে নেপাল থেকে তিব্বতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। তিব্বতের পবিত্র কৈলাস পর্বতে এটি ছিল তার সপ্তম তীর্থযাত্রা। তার ছেলে ডা. ধ্রুব আমিন জানান, নিখোঁজ হওয়ার আগে তার মায়ের সর্বশেষ অবস্থান ছিল এমন একটি ভবনে, যা পরবর্তীতে বন্যার ভয়াবহ আঘাতে বিধ্বস্ত হয়। অমিতার সঙ্গে ধ্রুব আমিনের শাশুড়ি তেজাল ব্যোমেশ প্যাটেল এবং পারিবারিক বন্ধু জিতেন্দ্র মনুভাই প্যাটেলও ছিলেন। অমিতার স্বামী মহেন্দ্র আমিন জানান, ঘটনার পর থেকে ওই গ্রুপের কোনো সদস্যের সঙ্গেই তারা আর যোগাযোগ করতে পারছেন না। গত বুধবার আঘাত হানা এই প্রলয়ংকরী বন্যার পর ওই অঞ্চলে ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে। কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৫৪৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং অন্তত দুই হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা যখন ধ্বংসস্তূপ ও প্লাবিত এলাকায় নিরলস তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন, তখন অমিতা আমিনের পরিবারও তাকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় বুক বেঁধে আছে। স্ত্রীর উদ্দেশ্যে মহেন্দ্র আমিনের আবেগঘন বার্তা— 'তুমি যদি আমাকে দেখে থাকো, তবে ফিরে এসো। আমরা সবাই তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।'
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পেশাজীবন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য বিনামূল্যে দুটি বৃহৎ যুব কর্মসংস্থান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শুধু কাজের অভিজ্ঞতাই নয়, বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পারিশ্রমিক পাওয়ারও দারুণ সুযোগ থাকছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা নতুন পেশার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি অভিজ্ঞদের পরামর্শ ও পড়াশোনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন করে ভাবতে সাহায্য করছে। শহরের যুব ও সম্প্রদায় উন্নয়ন বিভাগের অধীনে পরিচালিত ছয় সপ্তাহব্যাপী 'গ্রীষ্মকালীন যুব কর্মসংস্থান কর্মসূচি'-তে প্রতি বছর ১৪ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় এক লাখ তরুণ অংশ নেয়। ব্রঙ্কসের গ্যাব্রিয়েল পিটার্স নামের ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও হিপহপ জাদুঘরের একটি যৌথ প্রকল্পে কাজের সুযোগ পায়। পিটার্স জানায়, আগে সে শুধু অভিনয়শিল্পী বা গায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও, এই কর্মসূচিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির সঙ্গে সংগীতের সমন্বয়ের বিষয়টি জেনে তার আগ্রহের পরিধি আরও বেড়েছে। এই চমৎকার অভিজ্ঞতার পর সে হিপহপ জাদুঘরে শিক্ষানবিশ হিসেবেও কাজের সুযোগ পেয়েছে। অন্যদিকে, 'লার্ন অ্যান্ড আর্ন' নামক অপর একটি কর্মসূচিতে নিউইয়র্কের উচ্চবিদ্যালয়গুলোর একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির প্রায় এক হাজার ১০০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির পাশাপাশি পুরো শিক্ষাবর্ষজুড়েই এটি পরিচালিত হয়। আয়োজকরা জানিয়েছেন, নিউইয়র্কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা, দলগত কাজ, কর্মক্ষেত্রের আচরণ এবং নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো শেখানো হচ্ছে। এই দক্ষতাগুলো শুধু কর্মজীবনেই নয়, বরং ভবিষ্যৎ জীবনেও ব্যাপক কাজে আসবে। যুব কর্মশক্তি উন্নয়ন কর্মসূচির কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে কলেজে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া অনেকটাই চাকরির আবেদনের মতো প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। তাই আবেদনপত্রে বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা থাকাটা শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই জরুরি। বিনামূল্যে পরিচালিত এই উদ্যোগগুলোর সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো শিক্ষার্থীদের মানসিক ও ব্যক্তিগত উন্নয়ন। লাজুক ও আত্মবিশ্বাসহীন অনেক তরুণ এই কর্মসূচি শেষে প্রবল আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করার এক অভাবনীয় সুযোগ পাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইস) তাদের অভিযানগুলোতে কর্মকর্তাদের সহায়তার জন্য কুকুরের আকৃতির অত্যাধুনিক রোবট কেনার পরিকল্পনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের অর্থায়নসংক্রান্ত একটি নথির বরাতে জানা গেছে, এই প্রযুক্তি যুক্ত করতে সংস্থাটি সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বোস্টন ডায়নামিকসের তৈরি 'স্পট' নামের এই বিশেষ রোবটগুলো কেনার প্রক্রিয়া চলছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রকাশিত নথি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এই রোবটগুলো কাউকে সরাসরি গ্রেফতারের কাজে ব্যবহার করা হবে না। বরং যেসব স্থানে কর্মকর্তাদের প্রবেশ করা বিপজ্জনক, সেখানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ঝুঁকি নিরূপণে এগুলো মোতায়েন করা হবে। ক্যামেরা এবং সংবেদনশীল সেন্সরযুক্ত এই রোবটগুলো খুব সহজেই কম্পন, ক্ষতিকর গ্যাস ও তেজস্ক্রিয়তার মতো ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান শনাক্ত করতে সক্ষম। এর ফলে বিপজ্জনক, সংকীর্ণ বা সহজে প্রবেশ করা যায় না এমন এলাকায় অভিযানের সময় পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। অবশ্য রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোস্টন ডায়নামিকস স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের এই প্রযুক্তি কোনোভাবেই অস্ত্র হিসেবে বা স্বয়ংক্রিয় লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের মতো ক্ষতিকর কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। কুকুরের আকৃতির এই রোবট প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ইতোমধ্যে ব্যবহার করছে। লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্কের পুলিশ বিভাগের পাশাপাশি ২০২৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো বাসভবনের নিরাপত্তায়ও এমন রোবট ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে আইসের এই রোবট কেনার পরিকল্পনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন সম্প্রতি সংস্থাটির জন্য ২ কোটি ডলার ব্যয়ে বিদ্যুৎ-শক দেওয়া দস্তানা (গ্লাভস) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটররা ইতোমধ্যে ওই দস্তানা কেনার চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তীব্র বিতর্কের মাঝেই নতুন করে রোবট কুকুর যুক্ত করার এই উদ্যোগ অভিবাসন অভিযানে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও একধাপ এগিয়ে নেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ দুজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ঘাতককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) নিশ্চিত করেছে, শহরজুড়ে টানা কয়েকদিনের চিরুনি অভিযানের পর ৩১ বছর বয়সী জেসুস অ্যাকোস্টাকে আটক করা হয়েছে। ব্রুকলিনের একটি রেস্তোরাঁয় প্রবাসী বাংলাদেশি মো. ইউসুফকে হত্যা এবং ব্রঙ্কসের একটি দোকানে আরেকজনকে খুনের ঘটনায় এই ভয়ংকর বন্দুকধারীকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, প্রথম মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে গত রোববার ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিলের 'আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা' নামের একটি রেস্তোরাঁয়। সেখানে আকস্মিক সশস্ত্র হামলায় ঘাতক জেসুস প্রথমে মোহাম্মদ রাসেল নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশির পায়ে গুলি করে। এরপর রাসেলের বন্ধু ও সহকর্মী ৪৪ বছর বয়সী মো. ইউসুফের মাথায় গুলি চালিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। নিহত ইউসুফ দুই কন্যাসন্তানের জনক ছিলেন। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোক ও চরম আতঙ্ক নেমে আসে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র দুদিনের ব্যবধানে মঙ্গলবার মধ্যরাতের ঠিক পরপরই ব্রঙ্কসের মেলরোজ এলাকার '১৪৯ গ্রিল' নামের একটি দোকানে ফের হামলা চালায় জেসুস। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সে হঠাৎ বন্দুক বের করে ৩৩ বছর বয়সী তেভন শুলার নামের এক ক্রেতার বুকে সরাসরি গুলি ছোড়ে। এরপর আতঙ্কে ক্রেতা ও কর্মচারীরা নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটতে থাকলে সে কাউন্টারের পেছনে গিয়ে ক্যাশবাক্স থেকে নগদ অর্থ লুট করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত শুলারকে পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তারা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হন যে দুটি ঘটনাতেই একই ব্যক্তি জড়িত। পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, জেসুস অ্যাকোস্টার এক দীর্ঘ ও ভয়ংকর অপরাধের ইতিহাস রয়েছে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে সশস্ত্র ডাকাতির মাধ্যমে অপরাধ জগতে হাতেখড়ি হওয়া এই সন্ত্রাসীকে এর আগে ১৩ বার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সাবওয়ে স্টেশনে এক ব্যক্তিকে গুলি করার অপরাধে ১০ বছর কারাভোগের পর গত এপ্রিলেই সে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিল। অত্যন্ত বিপজ্জনক এই খুনিকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ২৫ হাজার ডলার এবং 'ইউনাইটেড বোদেগাস অব আমেরিকা' ১০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। অবশেষে পুলিশের টানা অভিযানে ঘাতক ধরা পড়লেও ঠিক কোথা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি এনওয়াইপিডি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের বেজমেন্ট থেকে অত্যন্ত শোচনীয় ও মানবেতর অবস্থায় দুটি কুকুর উদ্ধার করা হয়েছে। 'এনওয়াইসি সেকেন্ড চান্স রেসকিউ' নামের একটি প্রাণী কল্যাণ সংস্থা জানিয়েছে, অন্ধকার ওই বেজমেন্টে নিজেদের মলমূত্রের মধ্যেই দীর্ঘদিন ধরে বন্দি ছিল কুকুরগুলো। মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধারের পর বর্তমানে তাদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ফক্স স্ট্রিটের ওই ভবনটির নতুন তত্ত্বাবধায়ক (সুপারিনটেনডেন্ট) বেজমেন্টে এই দুটি পুরুষ কুকুরকে দেখতে পেয়ে সর্বপ্রথম উদ্ধারকারী সংস্থায় খবর দেন। সংস্থাটির শেয়ার করা ছবিতে কুকুরগুলোর চরম অযত্ন ও অবহেলার ছাপ স্পষ্ট দেখা যায়। প্রাণীগুলোর লোম মারাত্মকভাবে জট পাকানো ছিল। সংস্থাটি জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে প্রাণী দুটির শরীরে মারাত্মক ঘা ও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল। এমনকি একটি কুকুরের লোমের জটের নিচে ত্বকে পোকা (ম্যাগট) পর্যন্ত জন্মেছিল। ঠিক কতদিন ধরে কুকুর দুটি ওই অন্ধকার বেজমেন্টে এভাবে পড়ে ছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে উদ্ধারকারী সংস্থাটিকে জানানো হয়েছে, ভবনের আগের তত্ত্বাবধায়ক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে এলাকা ছাড়ার সময় কুকুরগুলোকে এভাবেই সেখানে ফেলে রেখে চলে যান। উদ্ধারের পরপরই কুকুরগুলোকে দ্রুত জরুরি ভেটেরিনারি কেয়ারে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে 'এনওয়াইসি সেকেন্ড চান্স রেসকিউ' অবলা এই প্রাণী দুটির চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে তহবিল সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একটি বিশাল ট্রাক (বিগ রিগ) উল্টে গিয়ে সেতুর রেলিং পার হয়ে নদীর ওপর বিপজ্জনকভাবে ঝুলে থাকার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে নেভাদা কাউন্টির ফ্লোরিস্টনের কাছে ৮০ নম্বর আন্তঃরাজ্য মহাসড়কে (I-80) এই দুর্ঘটনা ঘটে। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল (CHP) জানিয়েছে, কোনো একটি কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি উল্টে গেলে এর চালক তীব্র বেগে গাড়ি থেকে ছিটকে বাইরে পড়ে যান। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ওই ট্রাকচালক। তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা না গেলেও, দ্রুত তাকে উদ্ধার করে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে নেভাদার রেনো শহরের রিনাউন রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ধারণ করা ছবিতে দেখা যায়, মহাসড়কের ওপর ট্রাকটির পেছনের অংশ সম্পূর্ণ উল্টে থাকলেও এর সামনের মূল কেবিনটি সেতুর রেলিং গলে শূন্যে ঝুলছে। এই দুর্ঘটনার জেরে ওই মহাসড়কে দীর্ঘ ও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উদ্ধারকর্মীদের বেগ পোহাতে হয় এবং শুক্রবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত মহাসড়কের পূর্বমুখী লেনে গাড়ি আটকে থাকতে দেখা যায়। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোলের ট্রাকি অফিস থেকে সতর্কতা জারি করে চালকদের ধীরগতিতে ও সাবধানে ওই এলাকা পার হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। দীর্ঘ উদ্ধারকাজ শেষে রাত ১টা ৩৭ মিনিটে ফ্লোরিস্টনের কাছে মহাসড়কটি পুনরায় যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। তবে ঠিক কী কারণে এই একক যানের দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।