সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ভেনেজুয়েলার তেল খাতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, উৎপাদনের লক্ষ্য ১৫ লাখ ব্যারেল

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৫:৭
ভেনেজুয়েলার তেল খাতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ
ভেনেজুয়েলার তেল খাতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ভেনেজুয়েলার সঙ্গে নতুন তেল চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে তুলে ধরেছেন দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। তাঁর দাবি, ২৫ বছরের এই চুক্তির আওতায় ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র উন্নয়ন করে দিনে ১৫ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। 

 

শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে রদ্রিগেজ বলেন, এই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার দ্বিপক্ষীয় প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্য। এর পাশাপাশি আরও আটটি নতুন তেল ব্লক উন্নয়নের বৃহত্তর পরিকল্পনাও রয়েছে। 

 

এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি প্রমাণিত তেল মজুদের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে। তিনি চুক্তিটিকে ‘বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। 

 

চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও একটি বেসরকারি ভেনেজুয়েলীয় অংশীদারের মাধ্যমে নতুন একটি কোম্পানি গঠনের কথা রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কোম্পানি ১৭টি তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন করবে। যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর অংশীদারিত্ব হবে প্রায় ৫৫ শতাংশ, পাশাপাশি উৎপাদিত তেল নির্দিষ্ট শর্তে কেনার অধিকারও থাকবে। 

 

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, চুক্তিটি ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আনতে পারে। এতে হাজার হাজার কর্মসংস্থান তৈরি এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়তা হবে বলে দাবি করেন তিনি। 

 

অন্যদিকে, রদ্রিগেজের বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার সরকার সম্ভাব্যভাবে ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর রাজস্ব পেতে পারে। অর্থাৎ সংবাদে উল্লেখ করা ২০০ বিলিয়ন ডলার চুক্তির মূল্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে সম্ভাব্য সরকারি কর-আয়ের হিসাব। 

 

রদ্রিগেজ একই সঙ্গে জোর দিয়ে বলেছেন, ভেনেজুয়েলা তার প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব ধরে রাখবে। দেশটির দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও অব্যবস্থাপনায় ক্ষতিগ্রস্ত তেল খাত পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধন, প্রযুক্তি ও পরিচালনাগত দক্ষতা কাজে লাগানো হবে বলে তিনি জানান। 

 

তবে চুক্তির সব বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার বহু পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত তেল অবকাঠামো পুনর্গঠনে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। ফলে দিনে ১৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে এবং চুক্তির বাস্তব প্রভাব এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। 

 

ট্রাম্পের দাবি, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের তেলের সরবরাহ বাড়াবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশটিতে জ্বালানির দাম কমাতে সহায়তা করবে। তবে উৎপাদন বাড়তে সময় লাগায় এর তাৎক্ষণিক প্রভাব নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
তালেবানের ভয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সুরক্ষা পাওয়া আফগান তরুণকেও আফ্রিকায় পাঠিয়ে দিল ট্রাম্প প্রশাসন
তালেবানের ভয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সুরক্ষা পাওয়া আফগান তরুণকেও আফ্রিকায় পাঠিয়ে দিল ট্রাম্প প্রশাসন

তালেবানের হাতে নির্যাতনের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রে বহিষ্কার থেকে আইনি সুরক্ষা পাওয়া এক আফগান নাগরিককেও আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠিয়ে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।   ওই আফগান তরুণের বয়স ২০-এর কোঠায়। তার আইনজীবী আলমা ডেভিড জানিয়েছেন, তালেবানের কাছ থেকে তার পরিবারের সদস্যদের পাওয়া হুমকির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত তাকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিয়েছিল।   তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আদালতের নথি অনুযায়ী, তালেবান ক্ষমতা দখলের আগে তার এক ভাই আফগান ন্যাশনাল আর্মিতে কাজ করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন। আরেক ভাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাইলট ছিলেন, যিনি পরে তালেবানের হাতে নিহত হন।   দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ওই আফগান নাগরিককে শুধু ‘খলিল’ নামে শনাক্ত করেছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বাবা ও বোনও মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছেন।   মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের কর্মকর্তা সাভি আরভেরি জানিয়েছেন, শনিবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি নির্বাসন ফ্লাইট মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের রাজধানী বাঙ্গুইয়ে পৌঁছেছে। ওই ফ্লাইটে ১২ জন আফগান ও আটজন ইরানিসহ নেপাল ও নিকারাগুয়ার কয়েকজন নাগরিক ছিলেন।   মানবাধিকার সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে এটি যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় নির্বাসন ফ্লাইট।   ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির অংশ হিসেবে তৃতীয় দেশগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে এমন অনেক মানুষকে নিজ দেশের বাইরে পাঠাচ্ছে, যেসব দেশের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ ভ্রমণ সতর্কতায় মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে কোনো কারণেই ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দেশটিতে অস্থিরতা, অপরাধ, অপহরণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সন্ত্রাসবাদের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৬:১৫
ভেনেজুয়েলার তেল খাতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ

ভেনেজুয়েলার তেল খাতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, উৎপাদনের লক্ষ্য ১৫ লাখ ব্যারেল

অভিবাসীদের ডিপোর্টেশন অভিযানে রোবট কুকুর ব্যবহার করবে আইসিই

অভিবাসীদের ডিপোর্টেশন অভিযানে রোবট কুকুর ব্যবহার করবে আইসিই

নিউ ইয়র্কে মসজিদে চুরির ধারাবাহিক ঘটনায় নাবিল খুঁজছে এনওয়াইপিডি

নিউ ইয়র্কে মসজিদে চুরির ধারাবাহিক ঘটনায় নাবিল খুঁজছে এনওয়াইপিডি

নিউইয়র্কে মেট্রো ভাড়া অর্ধেক, ফেয়ার ফেয়ারসে মিলছে $১.৪৫ ভাড়া
নিউইয়র্কে মেট্রো ভাড়া অর্ধেক, ফেয়ার ফেয়ারসে মিলছে $১.৪৫ ভাড়া

নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাসকারী কম আয়ের মানুষের জন্য গণপরিবহনে ভাড়া কমানোর বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে ফেয়ার ফেয়ার্স নিউইয়র্ক। এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য বাসিন্দারা সাবওয়ে ও নির্দিষ্ট বাসে ৫০ শতাংশ কম ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারেন। ২০২৬ সালে চার সদস্যের পরিবারের বার্ষিক আয় ৪৯ হাজার ৫০০ ডলার বা তার কম হলে এই সুবিধার জন্য যোগ্য হওয়ার সুযোগ রয়েছে।   নিউইয়র্ক সিটির মানবসম্পদ প্রশাসন পরিচালিত ফেয়ার ফেয়ার্স নিউইয়র্ক কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো কম আয়ের বাসিন্দাদের যাতায়াতের খরচ কমানো। সাবওয়ে ও যোগ্য বাসের পাশাপাশি বিশেষ পরিবহনসেবা ব্যবহারকারীরাও এই কর্মসূচির আওতায় ৫০ শতাংশ ছাড় পেতে পারেন।   বর্তমান সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী আয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এক সদস্যের পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ বার্ষিক আয় ২৩ হাজার ৯৪০ ডলার, দুই সদস্যের জন্য ৩২ হাজার ৪৬০ ডলার, তিন সদস্যের জন্য ৪০ হাজার ৯৮০ ডলার, চার সদস্যের জন্য ৪৯ হাজার ৫০০ ডলার এবং পাঁচ সদস্যের পরিবারের জন্য ৫৮ হাজার ২০ ডলার।   ফেয়ার ফেয়ার্সের জন্য সাধারণত আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরোর কোনো একটিতে বসবাস করতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে। যারা অন্য কোনো ছাড়যুক্ত গণপরিবহন কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছেন বা তার জন্য যোগ্য, তারা এই কর্মসূচির কিছু সুবিধা থেকে বাদ পড়তে পারেন।   অভিবাসন স্ট্যাটাস নিয়েও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ফেয়ার ফেয়ার্স কর্মসূচিতে আবেদন করার জন্য আবেদনকারীর অভিবাসন স্ট্যাটাস জানতে চাওয়া হয় না এবং এই তথ্য সংরক্ষণও করা হয় না। ফলে নির্ধারিত অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করলে বিভিন্ন অভিবাসন স্ট্যাটাসের নিউইয়র্কবাসী আবেদন করতে পারেন।   ফেয়ার ফেয়ার্স কর্মসূচিতে আর মেট্রোকার্ড ব্যবহার করা হয় না। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এই কর্মসূচি ওএমএনওয়াই ব্যবস্থায় স্থানান্তরিত হয়েছে। অনুমোদিত আবেদনকারীদের ফেয়ার ফেয়ার্স ওএমএনওয়াই কার্ড দেওয়া হয়। এই কার্ড দিয়ে সাবওয়ে, নির্দিষ্ট বাস, স্ট্যাটেন আইল্যান্ড রেলওয়ে, রুজভেল্ট আইল্যান্ড ট্রাম এবং হাডসন রেল লিংকে ছাড়ের ভাড়া ব্যবহার করা যায়। তবে এক্সপ্রেস বাসে পূর্ণ ভাড়া দিতে হয়।   আবেদন করা যায় অনলাইনে ফেয়ার ফেয়ার্স নিউইয়র্কের মাধ্যমে অথবা অ্যাক্সেস এইচআরএ অ্যাপ ব্যবহার করে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচয়, বয়স, নিউইয়র্কে বসবাস এবং আয়ের প্রমাণ জমা দিতে হতে পারে। আবেদন অনুমোদিত হলে ফেয়ার ফেয়ার্স ওএমএনওয়াই কার্ড সাধারণত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ডাকযোগে পাঠানো হয়।   নিউইয়র্ক সিটির এই কর্মসূচি ২০১৯ সালে চালু হয়। পরবর্তী সময়ে আয়ের যোগ্যতার সীমা বাড়ানো হয়েছে, যাতে আরও বেশি কম আয়ের নিউইয়র্কবাসী গণপরিবহনে ছাড়ের সুবিধা পেতে পারেন।   নিউইয়র্কে নিয়মিত সাবওয়ে বা বাস ব্যবহার করেন এবং পরিবারের আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকলে ফেয়ার ফেয়ার্স কর্মসূচির জন্য যোগ্যতা যাচাই করে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবার প্রতিদিন গণপরিবহনের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই সুবিধা মাসিক যাতায়াতের খরচ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১:৪৬
মুসলিম সহকর্মী সেনার অনুপ্রেরণায় শাহাদা পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ মার্কিন নারী সেনা কর্মকর্তার

মুসলিম সহকর্মী সেনার অনুপ্রেরণায় শাহাদা পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ মার্কিন নারী সেনা কর্মকর্তার

অভিবাসনবিরোধী উসকানিদাতা ইয়ান্নোপোলোসকে গ্রেপ্তারের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার

অভিবাসনবিরোধী উসকানিদাতা ইয়ান্নোপোলোসকে গ্রেপ্তারের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার

যৌনকর্মীর কাছে যাওয়ার ইতিহাস থাকলেও এফবিআইয়ে মিলবে চাকরির সুযোগ

যৌনকর্মীর কাছে যাওয়ার ইতিহাস থাকলেও এফবিআইয়ে মিলবে চাকরির সুযোগ

থাকার জায়গা না পেয়ে যে স্কুলে কাজ করতেন, সেখানেই গোপনে ৬ মাস থাকলেন কাস্টোডিয়ান
থাকার জায়গা না পেয়ে যে স্কুলে কাজ করতেন, সেখানেই গোপনে ৬ মাস থাকলেন কাস্টোডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রে একটি স্কুলের কাস্টোডিয়ান প্রায় ছয় মাস ধরে গোপনে ওই স্কুলেই বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি স্কুল ভবনের ভেতরেই নিজের থাকার ব্যবস্থা করে নিয়েছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি গোপন রাখতে সক্ষম হন। তবে কীভাবে তিনি নিয়মিতভাবে স্কুলে অবস্থান করতেন এবং বিষয়টি এতদিন কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুলে কাস্টোডিয়ানের দায়িত্ব পালন করার সুযোগকে কাজে লাগিয়েই তিনি ভবনের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। স্কুলের স্বাভাবিক কার্যক্রম চললেও কর্তৃপক্ষ প্রথমদিকে তার সেখানে বসবাসের বিষয়টি জানতে পারেনি।   ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্কুলের নিরাপত্তা, কর্মীদের প্রবেশাধিকার এবং ভবন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কর্মীদের দায়িত্ব পালনের সময় ও দায়িত্বের বাইরে স্কুল ভবনে অবস্থানের নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।   তবে ওই কাস্টোডিয়ান কেন স্কুলে গোপনে বসবাস করছিলেন এবং তার এমন সিদ্ধান্তের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনাটি সামনে আসার পর স্কুল ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কর্মীদের জন্য নির্ধারিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ০:১৬
প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ফার্নান্দো ভিলাভিসেনসিও হত্যাকাণ্ডে তদন্তাধীন হোসে সেরানোকে ইকুয়েডরে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ইকুয়েডরের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেশে ফেরত পাঠাল আইসিই, প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ

নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত

নিউ ইয়র্কে ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন আরএসএস প্রধানের অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ মুসলিমদের

চাকরি হারানো এইচ-১বি কর্মীদের জন্য ৬০ দিনের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব এগিয়ে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

চাকরি হারালেই দ্রুত ছাড়তে হবে যুক্তরাষ্ট্র, H-1B ভিসাধারীদের জন্য ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা

0 Comments