সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

তালেবানের ভয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সুরক্ষা পাওয়া আফগান তরুণকেও আফ্রিকায় পাঠিয়ে দিল ট্রাম্প প্রশাসন

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৬:১৫
তালেবানের ভয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সুরক্ষা পাওয়া আফগান তরুণকেও আফ্রিকায় পাঠিয়ে দিল ট্রাম্প প্রশাসন
তালেবানের ভয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সুরক্ষা পাওয়া আফগান তরুণকেও আফ্রিকায় পাঠিয়ে দিল ট্রাম্প প্রশাসন

তালেবানের হাতে নির্যাতনের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রে বহিষ্কার থেকে আইনি সুরক্ষা পাওয়া এক আফগান নাগরিককেও আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠিয়ে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

 

ওই আফগান তরুণের বয়স ২০-এর কোঠায়। তার আইনজীবী আলমা ডেভিড জানিয়েছেন, তালেবানের কাছ থেকে তার পরিবারের সদস্যদের পাওয়া হুমকির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত তাকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিয়েছিল।

 

তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আদালতের নথি অনুযায়ী, তালেবান ক্ষমতা দখলের আগে তার এক ভাই আফগান ন্যাশনাল আর্মিতে কাজ করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন। আরেক ভাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাইলট ছিলেন, যিনি পরে তালেবানের হাতে নিহত হন।

 

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ওই আফগান নাগরিককে শুধু ‘খলিল’ নামে শনাক্ত করেছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বাবা ও বোনও মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছেন।

 

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের কর্মকর্তা সাভি আরভেরি জানিয়েছেন, শনিবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি নির্বাসন ফ্লাইট মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের রাজধানী বাঙ্গুইয়ে পৌঁছেছে। ওই ফ্লাইটে ১২ জন আফগান ও আটজন ইরানিসহ নেপাল ও নিকারাগুয়ার কয়েকজন নাগরিক ছিলেন।

 

মানবাধিকার সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে এটি যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় নির্বাসন ফ্লাইট।

 

ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির অংশ হিসেবে তৃতীয় দেশগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে এমন অনেক মানুষকে নিজ দেশের বাইরে পাঠাচ্ছে, যেসব দেশের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ ভ্রমণ সতর্কতায় মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে কোনো কারণেই ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দেশটিতে অস্থিরতা, অপরাধ, অপহরণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সন্ত্রাসবাদের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা স্থায়ীভাবে বাতিল চূড়ান্ত করেছে ডিএইচএস। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ভাবে বাতিল হচ্ছে ওয়ার্ক পারমিটের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের আবেদন চলাকালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বিধিতে রূপ দিয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস। ব্লুমবার্গ ল-এর ১৩ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিধিটি ১৪ অক্টোবর ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের সঙ্গে কার্যকর হওয়ার কথা। এতে গত বছর চালু করা অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাকে স্থায়ী করা হচ্ছে।    এটি সব অভিবাসীর বৈধ ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নয়। পরিবর্তনটি মূলত নির্দিষ্ট শ্রেণির এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট বা ইএডি নবায়নের আবেদন জমা দেওয়ার পর পুরোনো কার্ডের মেয়াদ শেষ হলেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার স্বয়ংক্রিয় সুবিধার সঙ্গে সম্পর্কিত।    আগের ব্যবস্থায় যোগ্য আবেদনকারীরা সময়মতো নবায়নের আবেদন করলে নির্ধারিত শর্তে সর্বোচ্চ ৫৪০ দিন পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা পেতেন। আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হলেও তাঁদের কাজের অনুমতি বহাল রাখাই ছিল এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য।    তবে সুবিধাটি বাতিলের মূল পরিবর্তন শুরু হয় ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর। ওই দিনের অন্তর্বর্তীকালীন বিধি অনুযায়ী, সেদিন বা তার পরে জমা দেওয়া সংশ্লিষ্ট নবায়ন আবেদন সাধারণভাবে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা পায় না। ফলে অক্টোবরের নতুন চূড়ান্ত বিধিকে প্রথমবার সুবিধা বন্ধের ঘোষণা হিসেবে দেখলে কার্যকর হওয়ার সময় নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।    ডিএইচএসের বক্তব্য, নতুন করে কাজের অনুমতি দেওয়ার আগে আবেদনকারীর যোগ্যতা, নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় যাচাই নিশ্চিত করতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে শুধু নবায়নের আবেদন জমা দেওয়ার রসিদ দিয়ে কাজের অনুমতি বহাল আছে ধরে নেওয়া যাবে না।    বিধিতে ব্যতিক্রমও রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবরের আগে পাওয়া স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা এবং আইন বা পৃথক ফেডারেল রেজিস্টার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাড়ানো মেয়াদ এই সিদ্ধান্তে সরাসরি বাতিল করা হয়নি। তাই কারও কাজের অনুমতি বহাল আছে কি না, তা নির্ধারণে তাঁর ইএডির ক্যাটাগরি, নবায়নের আবেদনের তারিখ এবং প্রযোজ্য বিশেষ নির্দেশনা বিবেচনা করতে হবে।    এই পরিবর্তনের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি তাঁদের জন্য, যাঁদের বর্তমান ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়নের সিদ্ধান্ত আসে না। প্রযোজ্য অন্য কোনো অনুমতি বা ব্যতিক্রম না থাকলে তাঁদের কাজে বিরতি পড়তে পারে। ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ, নবায়নের আবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অভিবাসনগত স্ট্যাটাস পৃথক বিষয়, তাই একটি নথির পরিবর্তন দিয়ে অন্যটির অবস্থান নির্ধারণ করা ঠিক হবে না।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১০:৪৬
ক্যাশ অ্যাডভান্স অ্যাপ ক্লিও এআইয়ের ২১ লাখের বেশি গ্রাহককে ১ কোটি ৫৮ লাখ ডলার রিফান্ড দিচ্ছে এফটিসি। ছবি: সংগৃহীত

ক্লিও এআইয়ের ২১ লাখের বেশি গ্রাহককে ১ কোটি ৫৮ লাখ ডলারের বেশি ফেরত দিচ্ছে ফেডারেল ট্রেড কমিশন

নিউইয়র্কে মেডিকেইডের ভুয়া বিল জমা দিয়ে ৩ লাখ ডলারের বেশি আত্মসাতের অভিযোগে ডেন্টিস্ট সুলেমান নাসিমি গ্রেপ্তার। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমা জালিয়াতির অভিযোগে বাংলাদেশি চিকিৎসক গ্রেপ্তার

জ্বালানি ও গ্যাসোলিনের দাম বাড়ায় সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৭ শতাংশে পৌঁছেছে। ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানির দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ! চাপে পরিবারগুলো

বাঘের হামলায় তরুণের মৃত্যুর ঘটনার ভিডিও শেয়ারের পর বাঘের সঙ্গে খেলার কৃত্রিম ভিডিও পোস্ট করে বিতর্কে ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের চিড়িয়াখানায় বাঘের হামলায় শিশুশিল্পীর মৃত্যুর পর বাঘ বশ করার এআই ভিডিও পোস্ট ট্রাম্পের

যুক্তরাজ্যের একটি ওয়াইল্ডলাইফ পার্কে বাঘের হামলায় তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় ধারণ করা ভিডিও শেয়ার করার কয়েক ঘণ্টা পর নিজের সঙ্গে বাঘের খেলার একটি কৃত্রিমভাবে তৈরি ভিডিও পোস্ট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৩ অক্টোবর রাতে ট্রুথ সোশ্যালে ভিডিওটি প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে নিহত তরুণের পরিবার অনলাইনে ঘটনার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ছড়ানো বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।    ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ভিডিওতে ট্রাম্পকে বাঘ তাড়াতে এবং প্রাণীটির সঙ্গে খেলার ছলে ধস্তাধস্তি করতে দেখা যায়। শেষে তাঁকে বাঘটি জড়িয়ে ধরতে দেখানো হয়। পুরো দৃশ্যটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি, বাস্তবে ট্রাম্পের সঙ্গে বাঘের এমন কোনো ঘটনার ভিডিও নয়।    এর আগে ট্রাম্প ইংল্যান্ডের ডনকাস্টারের কাছে ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কে বাঘের হামলার ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে তাঁর বার্তার অর্থ ছিল, প্রকৃতির সঙ্গে কখনো খেলতে যেও না। আইটিভি নিউজ জানিয়েছে, ওই ভিডিওতে হামলার দৃশ্য থাকলেও তরুণের মৃত্যুর মুহূর্ত দেখানো হয়নি।    নিহত তরুণের নাম উইলিয়াম চ্যাপম্যান, বয়স ২৩ বছর। সাউথ ইয়র্কশায়ার পুলিশের বক্তব্য উদ্ধৃত করে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ১০ অক্টোবর তিনি বাঘের ঘেরের ভেতরে প্রবেশ করার পর হামলার শিকার হন। জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। বাঘটি ঘেরের ভেতরেই ছিল এবং আহত হয়নি।    উইলিয়ামের পরিবার জানিয়েছে, শোকের এই সময়ে আপত্তিকর অনলাইন কনটেন্টের প্রচার তাঁদের গভীর মানসিক কষ্ট দিচ্ছে। তাঁরা এ ধরনের কনটেন্ট ছড়ানো বন্ধ করতে এবং মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের প্রক্রিয়াকে সম্মান জানাতে অনুরোধ করেছেন।    আইটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর ডনকাস্টারের করোনার আদালতে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পার্কটির লাইসেন্স দেওয়ার দায়িত্বে থাকা ডনকাস্টার সিটি কাউন্সিলও স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত তদন্ত শুরু করেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৯:১৭
প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার নতুন নাম ঘোষণা করলেন মেলানিয়া ট্রাম্প

এআই নিয়ে ট্রাম্পের আপত্তির পর শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতার নাম বদলালেন মেলানিয়া ট্রাম্প

বাফলো থেকে তিন শহরে সরাসরি ফ্লাইট চালু হচ্ছে

বাফলো থেকে তিন শহরে সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে ব্রিজ এয়ারওয়েজ

নিউইয়র্কে স্পিড ক্যামেরার টিকিট চ্যালেঞ্জের নিয়ম

নিউইয়র্কে স্পিড ক্যামেরার ৫০ ডলারের টিকিট চ্যালেঞ্জ করবেন যেভাবে

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসা নিয়ে উদ্বেগে বাংলাদেশি পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারভিত্তিক ভিসায় পাবলিক চার্জ নিয়ে উদ্বেগ, স্পনসরের আর্থিক যোগ্যতা নিয়ে চাপে বাংলাদেশিরা

যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসা পেতে ‘পাবলিক চার্জ’ বিধান এবং স্পনসরের আর্থিক যোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েও ভিসা না পাওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বয়স্ক বাবা-মায়ের আবেদনও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পরিবারের দাবি, আবেদনকারীরা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন—এমন আশঙ্কায় ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২১২(এ)(৪) ধারায় পাবলিক চার্জের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। এর আওতায় আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না, তা মূল্যায়ন করা হতে পারে। তবে কয়েকটি পরিবারের অভিজ্ঞতা সামনে এলেও বাংলাদেশি আবেদনকারীদের মধ্যে এ কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে কি না, সে বিষয়ে সামগ্রিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশি আবেদনকারী মিজান সিদ্দিকী জানান, তাঁর বাবার অভিবাসন ভিসার প্রথম সাক্ষাৎকার হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৬ জুন। এরপর দীর্ঘদিন আবেদনটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটকে ছিল। সম্প্রতি তাঁকে আবার সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়। কিন্তু দ্বিতীয়বার সাক্ষাৎকারের পর পাবলিক চার্জের কারণ দেখিয়ে ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মিজানের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রত্যাখ্যানের নোটিশে বলা হয়েছে, তাঁর বাবা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে কনস্যুলার কর্মকর্তা মনে করেছেন। তবে কোন আর্থিক বা ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নোটিশে বিস্তারিত উল্লেখ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। সিলেটের ষাটোর্ধ্ব এক বাংলাদেশি নারীর পরিবারের সদস্যরাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ওই নারীর ছেলে মিশিগানে বসবাস করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। ছেলের আবেদনের ভিত্তিতে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে প্রথম সাক্ষাৎকার দিলেও ভিসা পাননি ওই নারী। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা ইস্যু স্থগিত থাকায় তখন আবেদনটির নিষ্পত্তি হয়নি। গত ২২ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বার সাক্ষাৎকার দিতে যান তিনি। পরিবারের দাবি, সাক্ষাৎকারের পর কনস্যুলার কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ওই নারী সরকারি সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন—এমন আশঙ্কায় তাঁর ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তবে এই পরিবারের অভিজ্ঞতা দিয়ে সব বয়স্ক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। অন্যদিকে, অনলাইনে আবেদনের স্ট্যাটাস ‘রিফিউজড’ দেখালেই যে পাবলিক চার্জের কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যান হয়েছে, তা নয়। জয়া সরকার নামে এক বাংলাদেশি জানিয়েছেন, তাঁর বাবার অভিবাসন ভিসার সাক্ষাৎকার হয়েছিল ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। সাক্ষাৎকারের পর আবেদনটি ২২১(জি) ধারায় রাখা হয়। পরে ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস থেকে পাসপোর্ট জমা দিতে বলা হয়। জয়ার দাবি, ২১ জানুয়ারি থেকে ভিসা ইস্যু স্থগিত হওয়ার পর দূতাবাস পাসপোর্ট ফেরত দেয় এবং ফোন করে স্থগিত থাকার বিষয়টি জানায়। সর্বশেষ ৪ অক্টোবর তাঁর বাবার আবেদনের স্ট্যাটাস হালনাগাদ হলেও কনস্যুলার ইলেকট্রনিক অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে ‘রিফিউজড’ দেখাচ্ছে। তবে ২২১(জি) ধারায় কোনো আবেদন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় রাখা হলে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ বা যাচাইয়ের জন্য সময় লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে অনলাইন স্ট্যাটাসকে চূড়ান্ত প্রত্যাখ্যানের প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এ ছাড়া বাংলাদেশিসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখার যে ব্যবস্থা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়েছিল, আদালতের আদেশের পর ২১ আগস্ট তা আর কার্যকর নেই বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে। ফলে জয়ার বাবার বর্তমান স্ট্যাটাসের কারণ জানতে দূতাবাসের লিখিত নির্দেশনা ও আবেদনের নির্দিষ্ট ধারা যাচাই করা জরুরি। যৌথ স্পনসর খুঁজতেও বিপাকে পরিবার পাবলিক চার্জের আশঙ্কার পাশাপাশি স্পনসরের আয় ও আর্থিক সক্ষমতার শর্ত পূরণ করতে গিয়েও সমস্যায় পড়ছেন অনেকে। নিউইয়র্কে বসবাসরত এক বাংলাদেশি-আমেরিকান জানিয়েছেন, তিনি তাঁর বোন, বোনের স্বামী ও তাঁদের সন্তানদের জন্য আবেদন করেছেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর চলতি অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে চার সদস্যের পরিবারের সাক্ষাৎকারের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু তাঁদের স্পনসর করার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক যোগ্যতা তাঁর একার নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। ওই ব্যক্তি জানান, যৌথ স্পনসরের সহায়তা পেতে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কাউকে রাজি করাতে পারেননি। অনেকে সহায়তা করতে আগ্রহী হলেও আর্থিক দায় এবং যাচাইপ্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগের কারণে পিছিয়ে যাচ্ছেন। সাক্ষাৎকারের সময় ঘনিয়ে আসায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে পরিবারটি। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার ক্ষেত্রে সাধারণত স্পনসরের বার্ষিক আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ হতে হয়। তবে সামরিক বাহিনীতে কর্মরত যোগ্য স্পনসর নিজের স্ত্রী বা সন্তানকে স্পনসর করার ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন সীমার সুবিধা পেতে পারেন। আয়সংক্রান্ত এই শর্ত নতুন নয়; পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও প্রযোজ্য নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আয়ের পরিমাণ নির্ধারিত হয়। ২০২৬ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের ৪৮টি স্টেট ও ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই সদস্যের স্পনসর পরিবারের জন্য সাধারণ ন্যূনতম বার্ষিক আয় ২৭ হাজার ৫০ ডলার। তিন সদস্যের ক্ষেত্রে তা ৩৪ হাজার ১৫০ ডলার এবং চার সদস্যের ক্ষেত্রে ৪১ হাজার ২৫০ ডলার। পাঁচ সদস্যের জন্য প্রয়োজন ৪৮ হাজার ৩৫০ ডলার, ছয় সদস্যের জন্য ৫৫ হাজার ৪৫০ ডলার, সাত সদস্যের জন্য ৬২ হাজার ৫৫০ ডলার এবং আট সদস্যের জন্য ৬৯ হাজার ৬৫০ ডলার। আটজনের বেশি হলে অতিরিক্ত প্রত্যেক সদস্যের জন্য আরও ৭ হাজার ১০০ ডলার যোগ হয়। আলাস্কা ও হাওয়াইয়ে আলাদা সীমা প্রযোজ্য। এখানে পরিবারের সদস্যসংখ্যা বলতে শুধু বিদেশ থেকে আসতে যাওয়া ব্যক্তিদের বোঝায় না। স্পনসর নিজে, তাঁর স্বামী বা স্ত্রী, নির্ভরশীল সদস্য এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আগে স্পনসর করা ব্যক্তিদেরও হিসাবের মধ্যে রাখতে হয়। ফলে চারজন আত্মীয়কে স্পনসর করার জন্য প্রয়োজনীয় আয় নির্ধারণ করতে শুধু তাঁদের সংখ্যা বিবেচনা করলেই হবে না। আয় পর্যাপ্ত না হলে কিছু ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য সম্পদের প্রমাণ দেওয়া, যোগ্য পরিবারের সদস্যের আয় যুক্ত করা কিংবা যৌথ স্পনসরের সহায়তা নেওয়া যায়। পরিবারের সদস্যের আয় যুক্ত করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে আই-৮৬৪এ ফরম প্রয়োজন হতে পারে। যৌথ স্পনসরকে তাঁর নিজের পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং যাঁদের স্পনসর করছেন, তাঁদের বিবেচনায় নির্ধারিত আর্থিক শর্ত পূরণ করতে হয়। যৌথ স্পনসর থাকলেও মূল আবেদনকারীর স্পনসরকে সাধারণত নিজস্ব আই-৮৬৪ ফরম জমা দিতে হয়। স্পনসরশিপ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর নয়। আই-৮৬৪ ফরমের মাধ্যমে স্পনসর আইনগতভাবে আর্থিক সহায়তার অঙ্গীকার করেন। সাধারণভাবে স্পনসর করা ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া অথবা সামাজিক নিরাপত্তা আইনের অধীনে ৪০টি যোগ্য কর্মকাল অর্জন করা পর্যন্ত এই দায় বহাল থাকতে পারে। নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধার ব্যয় ফেরত দেওয়ার দাবিও স্পনসরের বিরুদ্ধে উঠতে পারে। তাই যৌথ স্পনসর হওয়ার আগে অনেকেই সম্ভাব্য দায় নিয়ে সতর্ক থাকেন। পাবলিক চার্জ বিধিতে পরিবর্তন, তবে সব আবেদন এক নয় যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ২০২২ সালের পাবলিক চার্জ বিধিমালা বাতিল করে নতুন বিধান কার্যকর করেছে ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে। নতুন বিধানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। তবে এই পরিবর্তন মূলত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন এবং দেশটির ভেতরে থেকে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার জন্য স্ট্যাটাস সমন্বয়ের নির্দিষ্ট আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিদেশে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে অভিবাসন ভিসার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র দপ্তরের বিধান ও নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাংলাদেশে আলোচিত প্রত্যাখ্যানগুলোর সঙ্গে নতুন বিধানের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য নেই। একইভাবে বয়স বেশি হলেই ভিসা প্রত্যাখ্যান হবে, এমন কোনো স্বয়ংক্রিয় নিয়মও নেই। আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, শিক্ষা, দক্ষতা, সম্পদ এবং স্পনসরের আর্থিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় আসতে পারে। গত ৫ আগস্ট মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নির্বাচিত কিছু অভিবাসন ভিসা আবেদনে পাবলিক চার্জ বন্ডের পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এটি সব আবেদনকারীর জন্য উন্মুক্ত নয়। সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্মকর্তা কোনো আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা প্রযোজ্য কি না, তা জানাতে পারেন। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ এবং বন্ড অনুমোদিত হলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আগে পাবলিক চার্জের কারণে প্রত্যাখ্যাত ভিসা ইস্যুর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে অতিরিক্ত নথি বা বন্ড জমা দিলেই ভিসা নিশ্চিত—এমন নয়। সব মিলিয়ে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার ক্ষেত্রে দীর্ঘ অপেক্ষার পর সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাওয়া মানেই ভিসা অনুমোদন নয়। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, স্পনসরের আয়, পরিবারের সঠিক সদস্যসংখ্যা এবং আর্থিক সহায়তার প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বয়স্ক বাবা-মাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে ইচ্ছুক পরিবার এবং যৌথ স্পনসরের ওপর নির্ভরশীল আবেদনকারীদের জন্য এই অনিশ্চয়তা পারিবারিক পুনর্মিলনের অপেক্ষাকে আরও কঠিন করে তুলছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৭:৫৮
অর্থপাচারের অভিযোগে ১২০ কোটি ডলার জরিমানার মুখে ব্যাংক অব আমেরিকা

অর্থপাচার ও নিষেধাজ্ঞা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যাংক অব আমেরিকাকে ১২০ কোটি ডলার জরিমানা

হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে নিজের সম্পদ বাড়ানোতেই ট্রাম্পের মনোযোগ, বলছে নতুন জনমত জরিপ

আটলান্টার শিক্ষাকর্মী হাসান জিহাদ ইবন কারিম

ক্যানসার ও গাড়ির আগুন থেকে বেঁচেও রোলার কোস্টারে প্রাণ  গেল জর্জিয়ার শিক্ষক জিহাদের

0 Comments