নেপালে ভয়াবহ বন্যার কারণ ভূমিকম্প নয়, ভেঙে পড়েছিল হিমবাহ; ফের বন্যার আশঙ্কা
নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পেছনে ভূমিকম্প নয়, একটি বিশাল হিমবাহ ধসে পড়াকে দায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস। হিমবাহের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত তৈরি করে। পরে তা নদীপথ আটকে দিয়ে হঠাৎ বাঁধ ভেঙে যাওয়ার মতো ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় নেপাল ও তিব্বতে ইতোমধ্যে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
২৬ আগস্ট সকালে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে এই বিপর্যয় শুরু হয়। প্রথম দিকে ভূকম্পন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো ঘটনাটিকে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে শনাক্ত করেছিল। পরে আরও বিশ্লেষণ, ভূকম্পন তরঙ্গের ধরন এবং উপগ্রহের ছবি পরীক্ষা করে ইউএসজিএস সিদ্ধান্তে আসে, এটি কোনো টেকটোনিক ভূমিকম্প ছিল না। বরং হিমবাহ ধস ও তার সঙ্গে তৈরি হওয়া ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ থেকেই ভূকম্পনসদৃশ সংকেত তৈরি হয়েছিল।
ইউএসজিএসের হিসাবে, হিমবাহ ধসের শক্তি ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য ছিল। অর্থাৎ ভূগর্ভে কোনো বড় ধরনের ভূত্বকীয় নড়াচড়া হয়নি, বরং বরফ, পাথর ও অন্যান্য উপাদান পাহাড় থেকে প্রচণ্ড শক্তিতে নিচে নেমে আসার কারণেই এত শক্তিশালী ভূকম্পন সংকেত তৈরি হয়। ঘটনাটির প্রায় তিন ঘণ্টা পর ওই অঞ্চলে আরও একটি ভূমিধসের মতো ঘটনা রেকর্ড করা হয়, যার শক্তি ছিল ৪ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য।
উপগ্রহের প্রাথমিক ছবি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় হিমবাহের নিচের অংশের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। সেটি প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার নিচে নেমে আসার সময় বিপুল পরিমাণ পাথর ও ধ্বংসাবশেষ সঙ্গে নিয়ে যায়। পরে এই বরফ-পাথরের স্রোত তিব্বতের লেন্দে নদীতে গিয়ে পড়ে এবং নদীর পানি সাময়িকভাবে আটকে দেয়।
প্রাকৃতিক সেই বাধা ভেঙে যাওয়ার পর বিপুল পরিমাণ পানি, বরফ, কাদা ও পাথর একসঙ্গে নিচের দিকে ছুটে যায়। প্রবল স্রোত ভোতে কোশি নদীতে প্রবেশ করে এবং পরে নেপালের ত্রিশূলী নদীর দিকে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ত্রিশূলী নদীর পানির উচ্চতা মাত্র আধা ঘণ্টায় প্রায় ৯ মিটার বেড়ে যায়।
এই বন্যার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল, প্রচলিত অর্থে এটি বৃষ্টির বন্যা ছিল না। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় সেখানে বৃষ্টি হয়নি। ফলে অনেক মানুষ পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেননি। বর্ষাকালে বন্যার সঙ্গে অভ্যস্ত স্থানীয়দের কাছে হঠাৎ করে পাহাড়ি নদীর পানি এভাবে বেড়ে যাওয়া ছিল অস্বাভাবিক।
নেপালের রাসুয়া জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। বন্যার স্রোত পরে নুওয়াকোট ও ধাদিংসহ আরও নিচের এলাকাগুলোতে পৌঁছে যায়। সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অন্তত ১৯টি সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল।
হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট এই ধরনের বন্যাকে বিশেষজ্ঞরা হিমবাহজনিত হ্রদ বিস্ফোরণ বন্যা বা জিএলওএফের সঙ্গে তুলনা করছেন। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব দ্য সানশাইন কোস্টের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ অ্যাড্রিয়ান ম্যাককলাম ব্যাখ্যা করেছেন, হিমবাহ গলে পেছনে পানি জমতে পারে এবং সেই পানি প্রাকৃতিক পাথর ও মাটির বাঁধের পেছনে আটকে থাকে। কোনো কারণে সেই বাঁধ ভেঙে গেলে বিপুল পরিমাণ পানি একসঙ্গে নিচের দিকে নেমে গিয়ে পথের সবকিছুকে ভাসিয়ে নিতে পারে।
লাট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ইতিহাসবিদ রুথ গ্যাম্বল এই বন্যার গতিকে একটি স্থলভাগের সুনামির সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর মতে, প্রবল পানির স্রোত ভোতে কোশি উপত্যকা দিয়ে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মধ্য নেপালের দিকে ছুটে যায়। যে পথটি নেপাল ও তিব্বতের মধ্যে যাতায়াতকারী পর্যটকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে বিপর্যয় এখানেই শেষ হয়ে যায়নি। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন নতুন করে আরেকটি বন্যার আশঙ্কা।
নেপাল ও চীন সীমান্তের দুই পাশে বন্যার পর তৈরি হওয়া বা পানি জমে থাকা দুটি হ্রদ নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এসব জলাধারের কোনো একটি প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে গেলে আবারও বড় ধরনের পানির ঢল নেমে আসতে পারে।
নেপালের ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টবিষয়ক আন্তর্জাতিক কেন্দ্র, আইসিমোড জানিয়েছে, বন্যার সঙ্গে আসা ধ্বংসাবশেষ ত্রিশূলী নদীর একটি সরু অংশে সাময়িক বাধা তৈরি করেছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রাকৃতিক বাধার পেছনে পানি জমে গেলে সেটি হঠাৎ ভেঙে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
আইসিমোডের জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিভাগের প্রধান কিয়াংগং ঝাং সতর্ক করে বলেছেন, নেপাল-চীন সীমান্তের উজানে যদি কোনো বাধা থেকে থাকে, সেটি নতুন ঢলের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সীমান্তের জিরং বন্দরের কাছাকাছি এলাকাতেও সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢলের আশঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চীনা কর্তৃপক্ষও সীমান্তের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের হিসাবে, পরবর্তী কয়েক দিনে প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি একটি ইতোমধ্যে বাধাগ্রস্ত হ্রদে প্রবেশ করতে পারে। পরিমাণটি প্রায় ১ হাজার ২০০টি অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুলের পানির সমান। পানির চাপ বাড়তে থাকলে প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সেপ্টেম্বরের ১ তারিখের দিকে পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কাও জানানো হয়েছিল।
এর সঙ্গে আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টির পূর্বাভাসও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের গবেষক ঝু জিনফেং বলেছেন, পানির পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ছে।
তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় বন্যার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সীমান্তের কাছে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের পানি ধীরে ধীরে কমেছে এবং উপগ্রহের ছবিতে হ্রদের তলদেশের কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে। তারপরও সেখানে আরও একটি বড় হ্রদ শনাক্ত হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে এই হিমবাহ ধসের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়া এবং পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির অস্থিতিশীলতা নিয়ে বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ বাড়ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলে উষ্ণতা বৃদ্ধি হিমবাহ গলন, পাথরের অস্থিতিশীলতা এবং পারমাফ্রস্ট বা দীর্ঘদিন জমাট থাকা মাটির বরফ গলে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এসব পরিবর্তন ভবিষ্যতে ধস, আকস্মিক বন্যা ও অন্যান্য বিপদের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
গবেষকেরা বলছেন, এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, শুধু বৃষ্টি ও নদীর পানির উচ্চতা পর্যবেক্ষণ করে সব ধরনের পাহাড়ি বন্যার আগাম সতর্কতা দেওয়া সম্ভব নয়। আকাশ পরিষ্কার থাকা অবস্থাতেও হিমবাহ ধসের মতো ঘটনা কয়েক মিনিটের মধ্যে ভয়াবহ বন্যা তৈরি করতে পারে।
সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান নাদের নাদেরপাজুহ বলেছেন, ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরীয় সুনামির পর যেভাবে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছিল, হিমবাহ ও পাহাড়ি জলাধার পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রেও তেমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। পানি জমে ওঠার বিষয়টি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। দ্রুত সতর্কতা ও প্রস্তুতি মানুষের জীবন রক্ষা এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নেপালের এবারের বিপর্যয় তাই শুধু একটি আকস্মিক বন্যার ঘটনা নয়। হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশ, হিমবাহের অস্থিতিশীলতা এবং পাহাড়ি নদী অববাহিকায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়েও এটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সূত্র: ইউএসজিএস
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreজাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে পাঁচ দিনের যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করতে যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, ‘ফ্রিডম এজ ২৬’ নামের এই মহড়া ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অনুষ্ঠিত হবে। তিন দেশের সামরিক বাহিনীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মহড়ায় সমুদ্র, আকাশ ও সাইবার ক্ষেত্রসহ একাধিক ক্ষেত্রে সমন্বিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, বিমান প্রতিরক্ষা, সাবমেরিনবিরোধী অভিযান এবং সমুদ্রপথে বাধাদানের মতো সামরিক কার্যক্রমও মহড়ার অংশ হবে। ‘ফ্রিডম এজ’ মহড়া প্রথম শুরু হয় ২০২৪ সালে। এরপর ২০২৪ সালের জুন ও নভেম্বর এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এর আয়োজন করা হয়। এবার চতুর্থ দফায় তিন দেশ একসঙ্গে এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী বলছে, মহড়াটি নিয়মিত ও প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা থেকে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য। তবে মহড়াটির ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কিছুটা শিথিল করার চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ার সময়সীমা কমিয়ে দেওয়া হয়। ১৭ আগস্ট শুরু হওয়া ওই মহড়া ১১ দিনের পরিবর্তে পাঁচ দিনেই শেষ করা হয়। ট্রাম্পের নির্দেশেই এর সময় কমানো হয়েছিল বলে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্য প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নতুন করে আলোচনার পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প এর আগে বড় আকারের সামরিক মহড়া উত্তর কোরিয়ার কাছে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উত্তেজনাপূর্ণ বার্তা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। এর মধ্যেই জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন মহড়া উত্তর কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকেরা। বিশেষ করে মহড়াটি পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হলে পিয়ংইয়ং এটিকে সামরিক চাপ হিসেবে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা কমানোর চলমান প্রচেষ্টার গতি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে তিন দেশের যৌথ মহড়াকে শুধু উত্তর কোরিয়াকে কেন্দ্র করে দেখছেন না কিছু বিশ্লেষক। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় মহড়াগুলো মূলত উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলার পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতির ওপর জোর দিলেও জাপানকে সঙ্গে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় মহড়ার কৌশলগত গুরুত্ব আরও বিস্তৃত। এটি পূর্ব এশিয়ায় চীনের সামরিক প্রভাব মোকাবিলায়ও একটি প্রতিরোধমূলক বার্তা দিতে পারে। এবারের ‘ফ্রিডম এজ’ মহড়ায় তিন দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার তাৎক্ষণিক তথ্য বিনিময় এবং তিন দেশের বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমকে আরও উন্নত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি সামুদ্রিক ও বিমান সক্ষমতার সমন্বিত ব্যবহার, উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা পরিস্থিতির অনুশীলন এবং আহত বা বিপদে পড়া ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার প্রশিক্ষণও থাকবে। মহড়ার নির্দিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম, জাহাজ বা বিমানসংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে আগের আয়োজনগুলোর মতো এবারও এর সময়কাল প্রায় পাঁচ দিন থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। চলতি আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ মহড়া চলাকালে পিয়ংইয়ং প্রায় ১০টি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। ফলে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রিপক্ষীয় মহড়াকে ঘিরে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে। একদিকে ওয়াশিংটন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার পথ খোলার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে মিত্র জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক প্রস্তুতিও অব্যাহত রাখছে। এই দুই ধারার মধ্যে ভারসাম্য রাখাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
নেপালে ভয়াবহ বন্যার কারণ ভূমিকম্প নয়, ভেঙে পড়েছিল হিমবাহ; ফের বন্যার আশঙ্কা
নিরাপত্তা হুমকি কেটে যাওয়ায় মেক্সিকালিতে ভ্রমণ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা রাশিয়ার
নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার পর্যন্ত দুই দেশে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্যোগের চতুর্থ দিনে উদ্ধার অভিযান চললেও বৈরী আবহাওয়ায় তা ব্যাহত হচ্ছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৬২৬ জনে পৌঁছেছে এবং ২ হাজার ৪২৬ জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিব্বতে চীনা কর্তৃপক্ষ সাতজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে এবং আরও ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এদের মধ্যে বিদেশি নাগরিক, পর্যটক, শ্রমিক ও তীর্থযাত্রীও রয়েছেন। গত বুধবার হিমালয়ের উচ্চাঞ্চলে হিমবাহ, বরফ, পাথর ও মাটির বিশাল স্তর ধসে নদীপথে নেমে আসার পর এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রবল স্রোত ও কাদামাটির ঢল নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোটসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু, স্কুল, হাসপাতাল ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপালের উদ্ধারকারীরা এখনো দুর্গত এলাকাগুলোতে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ করছেন। বিশেষ করে রাসুয়া জেলার আপার ত্রিশূলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি কাদায় ভরা টানেলে শতাধিক মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত কাদার স্তর ও হেলিকপ্টার অবতরণের উপযোগী জায়গার সংকটে উদ্ধারকাজ ধীরগতিতে চলছে। দুর্যোগের পর পাহাড়ি এলাকায় নতুন একটি হ্রদ তৈরি হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় বন্যার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছিল। এ কারণে একপর্যায়ে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পরে পানির উচ্চতা কমতে থাকায় ঝুঁকি কিছুটা কমেছে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়। তবে পাহাড়ি হ্রদ ও নদীগুলোর পরিস্থিতি এখনো নজরদারিতে রাখা হয়েছে। নেপাল সাধারণ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে বিদেশি দল পাঠানোর প্রস্তাব গ্রহণ না করলেও বিশেষায়িত প্রযুক্তিগত সহায়তা চেয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিসির খানাল জানিয়েছেন, প্লাবিত টানেলে আটকে পড়াদের উদ্ধার, মরদেহ শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা এবং মরদেহ সংরক্ষণের মতো ক্ষেত্রে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা প্রয়োজন। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ উদ্ধার ও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি ধ্বংস হয়ে যাওয়া যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে ভারত ও চীনের কাছে অস্থায়ী সেতু সরবরাহের অনুরোধ করেছে নেপাল। এদিকে দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজের পাশাপাশি ত্রাণ ও পুনর্বাসনের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্যোগে বিপুল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারপর্ব শেষ হওয়ার পরও নেপালের সামনে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনের বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় এই বাড়িটাই প্রাণ বাঁচাল বহু মানুষের, অলৌকিকভাবে রক্ষা
নেপালে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর ১০৫ বছরের বৃদ্ধা জীবিত উদ্ধার
চাকরি ছেড়ে সারাদিন গেম খেলায় মগ্ন ছেলে, গেমে তাকে হারাতে পেশাদার গেমার ভাড়া করলেন বাবা
স্কটল্যান্ডের ক্ল্যাকম্যানানশায়ারের কয়লা খনি অধ্যুষিত কোয়ালসনটন এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধস ও মাটির নিচের নড়াচড়ার কারণে ৯৭টি বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার পর এবার ৬০টি বাড়ি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ তদন্তে এই ভূমির অস্থিতিশীলতার সঙ্গে পুরোনো কয়লা খনির কার্যক্রমের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। মে মাসে নিরাপত্তার কারণে এসব বাড়ির বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর প্রায় আট সপ্তাহ ধরে মাইনিং রেমেডিয়েশন অথরিটি (MRA) মাটি ও স্থাপনার অবস্থা পরীক্ষা করে। সংস্থাটির সর্বশেষ মূল্যায়নে দেখা গেছে, বেনবাক ভিউ ও ডানমস ভিউ এলাকার বাড়িগুলো এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেগুলো মেরামত করে নিরাপদ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর এসব বাড়ি অধিগ্রহণ করে ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হলে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, বছরের পর বছর পরিশ্রম করে তৈরি করা বাড়ি হারানোর বিষয়টি তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। ৬৭ বছর বয়সী সাইমন উডওয়ার্ড জানিয়েছেন, তিনি ১৭ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন এবং অবসর জীবনের জন্য বাড়িটিকে নিজের মতো করে সাজিয়েছিলেন। তার মতে, বাড়ি হারানোর ক্ষতি শুধু আর্থিকভাবে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে সব বাড়ির পরিস্থিতি এক নয়। তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত ল্যাংগোর এলাকায় মাটির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পর বাড়িগুলো মেরামতের পরিকল্পনা রয়েছে। নেকটান ড্রাইভের কাছেও আরও স্থিতিশীলকরণ কাজ এবং দ্য গ্লেনে সড়ক মেরামতের পরিকল্পনা করা হয়েছে। মাইনিং রেমেডিয়েশন অথরিটির প্রধান অপারেশনস কর্মকর্তা কার্ল ব্যান্টন জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ও ঝুঁকি নির্ধারণে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং মূল্যায়ন, ভূগর্ভস্থ পরীক্ষা এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত জরিপ চালানো হয়েছে। এসব পরীক্ষার ভিত্তিতেই কোন বাড়ি ভাঙতে হবে এবং কোন এলাকায় মেরামত সম্ভব, তা নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, কোয়ালসনটনের এই ঘটনায় জরুরি সাড়া ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের ব্যয় বহন করা হবে। এর আগে স্কটিশ সরকার ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সহায়তায় ক্ল্যাকম্যানানশায়ার কাউন্সিলকে ১০ লাখ পাউন্ড অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে। ভূমি স্থিতিশীল হওয়ার পরও এলাকাটি নিরাপদ কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
ইসরায়েলি কারাগার থেকে দুই বছর পর মুক্তি, চেহারায় যেন ২০ বছরের ছাপ ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের
আয়াত শুনেই বিস্ময়করভাবে সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ দৃষ্টিহীন ৫ বছরের শিশুর