জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া শুরু ৭ সেপ্টেম্বর, ক্ষুব্ধ হতে পারে উত্তর কোরিয়া
জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে পাঁচ দিনের যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করতে যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, ‘ফ্রিডম এজ ২৬’ নামের এই মহড়া ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অনুষ্ঠিত হবে।
তিন দেশের সামরিক বাহিনীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মহড়ায় সমুদ্র, আকাশ ও সাইবার ক্ষেত্রসহ একাধিক ক্ষেত্রে সমন্বিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, বিমান প্রতিরক্ষা, সাবমেরিনবিরোধী অভিযান এবং সমুদ্রপথে বাধাদানের মতো সামরিক কার্যক্রমও মহড়ার অংশ হবে।
‘ফ্রিডম এজ’ মহড়া প্রথম শুরু হয় ২০২৪ সালে। এরপর ২০২৪ সালের জুন ও নভেম্বর এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এর আয়োজন করা হয়। এবার চতুর্থ দফায় তিন দেশ একসঙ্গে এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী বলছে, মহড়াটি নিয়মিত ও প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা থেকে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য।
তবে মহড়াটির ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কিছুটা শিথিল করার চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ার সময়সীমা কমিয়ে দেওয়া হয়। ১৭ আগস্ট শুরু হওয়া ওই মহড়া ১১ দিনের পরিবর্তে পাঁচ দিনেই শেষ করা হয়। ট্রাম্পের নির্দেশেই এর সময় কমানো হয়েছিল বলে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্য প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নতুন করে আলোচনার পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প এর আগে বড় আকারের সামরিক মহড়া উত্তর কোরিয়ার কাছে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উত্তেজনাপূর্ণ বার্তা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন।
এর মধ্যেই জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন মহড়া উত্তর কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকেরা। বিশেষ করে মহড়াটি পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হলে পিয়ংইয়ং এটিকে সামরিক চাপ হিসেবে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা কমানোর চলমান প্রচেষ্টার গতি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
তবে তিন দেশের যৌথ মহড়াকে শুধু উত্তর কোরিয়াকে কেন্দ্র করে দেখছেন না কিছু বিশ্লেষক। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় মহড়াগুলো মূলত উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলার পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতির ওপর জোর দিলেও জাপানকে সঙ্গে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় মহড়ার কৌশলগত গুরুত্ব আরও বিস্তৃত। এটি পূর্ব এশিয়ায় চীনের সামরিক প্রভাব মোকাবিলায়ও একটি প্রতিরোধমূলক বার্তা দিতে পারে।
এবারের ‘ফ্রিডম এজ’ মহড়ায় তিন দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার তাৎক্ষণিক তথ্য বিনিময় এবং তিন দেশের বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমকে আরও উন্নত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি সামুদ্রিক ও বিমান সক্ষমতার সমন্বিত ব্যবহার, উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা পরিস্থিতির অনুশীলন এবং আহত বা বিপদে পড়া ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার প্রশিক্ষণও থাকবে।
মহড়ার নির্দিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম, জাহাজ বা বিমানসংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে আগের আয়োজনগুলোর মতো এবারও এর সময়কাল প্রায় পাঁচ দিন থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। চলতি আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ মহড়া চলাকালে পিয়ংইয়ং প্রায় ১০টি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।
ফলে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রিপক্ষীয় মহড়াকে ঘিরে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে। একদিকে ওয়াশিংটন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার পথ খোলার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে মিত্র জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক প্রস্তুতিও অব্যাহত রাখছে। এই দুই ধারার মধ্যে ভারসাম্য রাখাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreইসরায়েলের গ্যালিলি সাগরের তীরে দীর্ঘদিনের প্রত্নতাত্ত্বিক খননে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন পাওয়ার পর প্রাচীন বেথসাইদা শহর শনাক্ত করার বিষয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়েছেন গবেষকেরা। খনন দলের একাডেমিক পরিচালক রবার্ট স্টিভেন নটলির দাবি, এ পর্যন্ত পাওয়া সম্মিলিত প্রমাণগুলো উত্তর ইসরায়েলের বর্তমান এল-আরাজ এলাকায় প্রাচীন বেথসাইদা শহরের অবস্থানের ধারণাকে শক্তিশালী করেছে। বেথসাইদা খ্রিস্টীয় ধর্মগ্রন্থে উল্লেখিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন শহর। নতুন নিয়মের বর্ণনা অনুযায়ী, যিশু সেখানে কয়েকটি অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়েছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। এর মধ্যে অন্ধ ব্যক্তির দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়া এবং পাঁচটি রুটি ও দুটি মাছ দিয়ে হাজারো মানুষকে খাওয়ানোর ঘটনা উল্লেখযোগ্য। যিশুর তিন শিষ্য পিতর, আন্দ্রিয় ও ফিলিপও এই শহরের বাসিন্দা ছিলেন বলে ধর্মগ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে। প্রাচীন এই শহরের অবস্থান নিয়ে অবশ্য বহু বছর ধরে প্রত্নতাত্ত্বিকদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। গ্যালিলি সাগরের উত্তর-পূর্ব তীরে অবস্থিত এল-আরাজ এবং কাছাকাছি এট-টেল, দুটি স্থানই বেথসাইদা হিসেবে চিহ্নিত করার প্রধান দাবিদার ছিল। ২০১৬ সালে এল-আরাজ এলাকায় বড় আকারে খননকাজ শুরু করে বেথসাইদা-জুলিয়াস প্রত্নতাত্ত্বিক দল। ২০২৬ সালে এসে তারা খননের দশম মৌসুমে পৌঁছেছে। এবারের অভিযানে রোমান যুগের দেয়াল, মুদ্রা, প্রদীপ, প্রসাধনসামগ্রী, পাথরের তৈরি পেষণপাত্র এবং একটি জনসম্মুখের ভবন সাজাতে ব্যবহৃত হতে পারে এমন ডোরিক স্থাপত্যের একটি অংশ পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, এসব নিদর্শন এল-আরাজ এলাকায় খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীর সময়েও বসতি ছিল এমন ধারণাকে শক্তিশালী করে। বিশেষ করে হেরোদীয় আমলের বেশ কয়েকটি অক্ষত প্রদীপ এবং চুনাপাথরের তৈরি পাত্র পাওয়া গেছে। খনন দলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেরুজালেমে খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীতে তৈরি হওয়া এসব প্রদীপ ইহুদি জনগোষ্ঠীর বসবাসের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত হয়। খননস্থলে পাওয়া স্থাপত্য নিদর্শনও গবেষকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। রোমান যুগের দেয়ালের পাশাপাশি একটি অর্ধেক ডোরিক স্তম্ভের অংশ পাওয়া গেছে, যা কোনো গুরুত্বপূর্ণ জনসাধারণের ভবনের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে এল-আরাজে গির্জা, মোজাইক, বসতবাড়ির দেয়াল এবং রোমান যুগের বিভিন্ন নিদর্শনও উদ্ধার করা হয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, বেথসাইদা পরবর্তী সময়ে রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে জুলিয়াস নামে একটি নগরীতে রূপ নেয়। এবারের খনন সেই রূপান্তর সম্পর্কে আরও তথ্য দিয়েছে। গবেষকদের মতে, প্রাচীন গ্যালিলি অঞ্চলের মানুষকে শুধু দরিদ্র ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখার প্রচলিত ধারণার সঙ্গেও এসব নিদর্শন পুরোপুরি মেলে না। বরং স্থাপত্য, নগর পরিকল্পনা ও পাওয়া সামগ্রী থেকে বোঝা যায়, অন্তত কিছু শহর ও জনপদ তখন যথেষ্ট সমৃদ্ধ ছিল। এল-আরাজকে বেথসাইদা হিসেবে চিহ্নিত করার পক্ষে এর আগেও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২০২২ সালে সেখানে একটি বাইজেন্টাইন আমলের গির্জার মেঝেতে একটি শিলালিপি পাওয়া যায়, যেখানে পিতরের নামের সঙ্গে তাঁকে প্রেরিতদের প্রধান হিসেবে উল্লেখ করার ঐতিহ্যের প্রমাণ মিলেছে। গবেষকদের মতে, গির্জাটি পিতর ও আন্দ্রিয়ের বাড়ির ওপর নির্মিত হয়েছিল বলে পরবর্তী খ্রিস্টীয় ঐতিহ্যে যে দাবি রয়েছে, তার সঙ্গে এই আবিষ্কারের সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে বেথসাইদার অবস্থান নিয়ে বৈজ্ঞানিক বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। অন্য একটি প্রত্নতাত্ত্বিক দল দীর্ঘদিন ধরে কাছের এট-টেল এলাকাকেই প্রাচীন বেথসাইদা হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। সেখানে লৌহ যুগের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন নিদর্শন পাওয়া গেছে। ফলে এল-আরাজকে বেথসাইদা হিসেবে শনাক্ত করার দাবি এখনো প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার আলোচনার অংশ। এল-আরাজ খনন প্রকল্পের গবেষকেরা অবশ্য বলছেন, সময়ের সঙ্গে পাওয়া তথ্যগুলো একই দিকে ইঙ্গিত করছে। একাডেমিক পরিচালক স্টিভেন নটলির মতে, মাটির নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া প্রতিটি নতুন নিদর্শন প্রাচীন বেথসাইদার সঙ্গে এল-আরাজের সম্পর্কের ধারণাকে আরও শক্তিশালী করছে। তিনি এই স্থানকে গসপেল বা সুসমাচারে উল্লেখিত হারিয়ে যাওয়া শহরগুলোর অন্যতম শেষ নিদর্শন হিসেবে দেখছেন। প্রত্নতাত্ত্বিক খননের এই ধারাবাহিকতা শুধু একটি হারিয়ে যাওয়া শহরের অবস্থান শনাক্ত করার প্রশ্নেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। এর মাধ্যমে যিশুর সময়ের গ্যালিলি অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন, অর্থনীতি, ধর্মীয় পরিবেশ এবং রোমান শাসনের প্রভাব সম্পর্কেও নতুন তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। আরও খনন ও গবেষণার মাধ্যমে এল-আরাজের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে বিতর্ক আরও পরিষ্কার হবে বলে আশা করছেন গবেষকেরা। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া শুরু ৭ সেপ্টেম্বর, ক্ষুব্ধ হতে পারে উত্তর কোরিয়া
নেপালে ভয়াবহ বন্যার কারণ ভূমিকম্প নয়, ভেঙে পড়েছিল হিমবাহ; ফের বন্যার আশঙ্কা
নিরাপত্তা হুমকি কেটে যাওয়ায় মেক্সিকালিতে ভ্রমণ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর প্রধান জন র্যাটক্লিফের মস্কো সফরের কয়েক দিনের মধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা ৬ হাজার ৭০০ কিলোমিটারের বেশি, যা যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পৌঁছাতে সক্ষম। শুক্রবার রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আরখানগেলস্ক অঞ্চল থেকে মোবাইল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে দেশটির সুদূর পূর্বাঞ্চলের কামচাটকা অঞ্চলের কুরা পরীক্ষাকেন্দ্রে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার সময় কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী একটি মোবাইল আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের লঞ্চারকে দূরবর্তী এলাকায় সরিয়ে নেওয়া, উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি এবং সফল উৎক্ষেপণের প্রক্রিয়া অনুশীলন করে। রাশিয়ার এই পরীক্ষা এমন সময়ে হলো, যখন গত ২৫ আগস্ট সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ গোপনে মস্কো সফর করেন। সেখানে তিনি রুশ গোয়েন্দাপ্রধান সের্গেই নারিশকিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশের বিরুদ্ধে রাশিয়া সামরিক পদক্ষেপ নিলে তার পরিণতি নিয়ে মস্কোকে সতর্ক করাই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল। তবে ক্রেমলিন জানিয়েছে, র্যাটক্লিফের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কোনো বৈঠক হয়নি। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সফরটিকে দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে যোগাযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩০০টি দূরপাল্লার ড্রোন হামলার বদলে তা প্রতিদিন ১ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাশিয়ার জ্বালানি খাতেও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার প্রভাব পড়ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাধিক তেল শোধনাগারে হামলার পর আগস্টের শেষ দিকে রাশিয়ার পেট্রোল উৎপাদন অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশে নেমে এসেছে। এদিকে রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনী ওজোনের একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে বলে কিয়েভভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। হামলার পর নিরাপত্তা পরিদর্শনের জন্য ওই কেন্দ্রের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং ইউক্রেনের পাল্টা দূরপাল্লার হামলা—দুই পক্ষের সামরিক তৎপরতাই যে আরও তীব্র হচ্ছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে তারই ইঙ্গিত মিলছে।
নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত ৬২৬, আন্তর্জাতিক উদ্ধার সহায়তা ফিরিয়ে দিল সরকার
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় এই বাড়িটাই প্রাণ বাঁচাল বহু মানুষের, অলৌকিকভাবে রক্ষা
নেপালে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর ১০৫ বছরের বৃদ্ধা জীবিত উদ্ধার
সন্তানের ভিডিও গেমের আসক্তি নিয়ে বর্তমান বিশ্বের প্রায় সব অভিভাবকই কমবেশি চিন্তিত থাকেন। সন্তানকে গেম থেকে দূরে রাখতে বাবা মায়েরা বকাঝকা থেকে শুরু করে ডিভাইস কেড়ে নেওয়ার মতো অনেক কিছুই করে থাকেন। তবে চীনের এক বাবা তার বেকার ছেলেকে গেমের নেশা থেকে বের করে কাজে ফেরাতে এমন এক অভিনব কৌশল বেছে নিয়েছেন, যা শুনে যে কেউ অবাক হবেন। ছেলেকে গেমের ভার্চুয়াল জগতে প্রতিনিয়ত হত্যা করার জন্য রীতিমতো পেশাদার গেমার বা খেলোয়াড় ভাড়া করেছিলেন তিনি। চীনের বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী তরুণ জিয়াও ফেং। কিছুদিন আগে তিনি তার চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর থেকে সারাদিন ভিডিও গেম খেলাতেই মগ্ন থাকতেন তিনি। তার বাবার অভিযোগ ছিল, ছেলে সারাদিন অনলাইনে গেম খেলে সময় নষ্ট করছে এবং নতুন কোনো চাকরি খোঁজার ব্যাপারে তার কোনো তাগিদই নেই। ছেলেকে স্বাভাবিকভাবে বুঝিয়ে কোনো লাভ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তি এক ভিন্নধর্মী পরিকল্পনা করেন। তিনি ভেবেছিলেন, ছেলেকে যখন গেম থেকে বের করে আনা যাচ্ছে না, তখন তাকেই ওই গেমের ভেতরে প্রবেশ করতে হবে। তবে নিজে গেম খেলা শুরু করার বদলে তিনি অন্য পথ ধরেন। তিনি ছেলের চেয়েও অনেক বেশি দক্ষ ও উচ্চ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন পেশাদার গেমারকে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেন। তাদের কাজ ছিল একটাই, জিয়াও ফেং যখনই গেমে লগ ইন করবেন, তখনই তাকে খুঁজে বের করে গেমের ভেতরেই হত্যা করা। ওই বাবার মূল পরিকল্পনা ছিল, বারবার গেমে হেরে গিয়ে বা খুন হয়ে ছেলে হতাশ হয়ে পড়বে। এক পর্যায়ে গেমের প্রতি তার আগ্রহ নষ্ট হয়ে যাবে এবং সে বাধ্য হয়ে আবারও কাজের প্রতি মনোযোগী হবে। তবে বাবার এই গোপন পরিকল্পনা খুব বেশিদিন চাপা থাকেনি। জিয়াও ফেং বুঝতে পারেন যে গেমের ভেতরে অদ্ভুত কিছু একটা ঘটছে। তিনি লক্ষ্য করেন, তিনি যখনই গেম খেলতে ঢুকছেন, তখনই নির্দিষ্ট কিছু উচ্চ পর্যায়ের খেলোয়াড় তাকে টার্গেট করে আক্রমণ করছে। এক পর্যায়ে তিনি আবিষ্কার করেন যে এই ডিজিটাল গুপ্তঘাতকদের পেছনে আসলে তার নিজের বাবাই রয়েছেন। বাবার এই কাণ্ড জানার পর জিয়াও ফেং তাকে নিজের চাকরি ছাড়ার পেছনের আসল কারণটি বুঝিয়ে বলেন। তিনি বাবাকে জানান, সারাজীবন গেম খেলার জন্য তিনি চাকরি ছাড়েননি। মূলত নিজের মনের মতো কোনো কাজ না পাওয়ার কারণেই তিনি আপাতত বেকার বসে আছেন এবং সময় কাটাচ্ছেন। তবে বাবার এই সুপরিকল্পিত এবং ব্যয়বহুল কৌশল শেষ পর্যন্ত খুব একটা কাজে আসেনি। পেশাদার গেমার লেলিয়ে দেওয়ার পরও জিয়াও ফেং স্ক্রিনের সামনে কাটানো সময় খুব একটা কমিয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও ওই বাবা অন্তত এটুকু ভেবে সান্ত্বনা পেতে পারেন যে ছেলের নেশা ছাড়ানোর জন্য তিনি সম্ভাব্য সব চেষ্টাই করেছেন। ডিভাইস কেড়ে নেওয়ার সুযোগ না থাকায় গেমের ভেতরেই ছেলের জীবন অতিষ্ঠ করে তোলার এই ঘটনাটি এখন নেট দুনিয়ায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংবাদসূত্র: দ্য এপক টাইমস, কেএসএল, দ্য গার্ডিয়ান ও অন্যান্য সমসাময়িক প্রতিবেদন।
যুক্তরাজ্যে ৬০ টি বাড়ি ভাঙার সিদ্ধান্ত! কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাসিন্দারা
ইসরায়েলি কারাগার থেকে দুই বছর পর মুক্তি, চেহারায় যেন ২০ বছরের ছাপ ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের