যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানায় একই পরিবারের ৮ জনকে গুলি করে হত্যা, নিহতদের মধ্যে রয়েছে চার শিশু
যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যের বিলিংসে একটি বাড়িতে গুলির ঘটনায় একই পরিবারের আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চার শিশুও রয়েছে। গুলির ঘটনার পর বাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। সন্তান, স্ত্রী ও পরিবারের আরও সদস্যদের হারিয়ে শোকাহত বাবা অ্যাডাম ঘেকিয়েরে জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন এবং জরুরি যোগাযোগব্যবস্থায় ঘটনাটির খবর শুনে সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগের মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন।
ঘটনাটি ঘটে গত রোববার সন্ধ্যায় বিলিংসের ওয়েস্ট এন্ড এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১ মিনিটে বাড়িটিতে গুলির ঘটনা সম্পর্কে জরুরি নম্বরে ফোন আসে। ফোনে কথা বলার সময় পেছনে গুলির শব্দও শোনা যাচ্ছিল। প্রায় ১১ মিনিট পর প্রথম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এরপর বাড়ির পেছন দিক থেকে আরও গুলির শব্দ শোনা যায় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাড়িটি আগুনে পুড়ে যেতে শুরু করে।
ঘেকিয়েরে তখন একটি এয়ার শোতে উদ্ধারকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। জরুরি যোগাযোগব্যবস্থায় কাছাকাছি এলাকায় একটি গুরুতর ঘটনা ঘটার খবর শুনেই তার সন্দেহ হয়, ঘটনাটি তার শ্বশুরবাড়ির আশপাশে কি না। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে ফোন করেন। কিন্তু কেউ ফোন ধরেনি।
পরে তিনি তার দুই সন্তান ল্যান্ডন ও শার্লটের অবস্থান জানার চেষ্টা করেন এবং তাদের ফোন করেন। কিন্তু কোনো সাড়া পাননি। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাস্থলের কাছে পৌঁছানোর পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা তাদের আর এগোতে দেননি, কারণ তখনও সেখানে সক্রিয় হামলার আশঙ্কা ছিল। সেই মুহূর্তেই তিনি সবচেয়ে খারাপ আশঙ্কা করেছিলেন।
নিহতদের মধ্যে ঘেকিয়েরের ১৫ বছর বয়সী ছেলে ল্যান্ডন এবং ১২ বছর বয়সী মেয়ে শার্লট রয়েছে। তার স্ত্রী মেগান ঘেকিয়েরেও নিহত হয়েছেন। মেগানের দুই সন্তান, ১৩ বছর বয়সী ওউেন এবং ৭ বছর বয়সী ক্লোয়িও প্রাণ হারিয়েছে। পরিবারের আরও তিন সদস্যও নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে মেগানের বাবা-মা এবং ৯২ বছর বয়সী দাদি এভলিন স্মিথও ছিলেন।
ঘটনাটি একটি যৌথ পরিবারের চার প্রজন্মকে ছিন্নভিন্ন করেছে। নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন ৭ বছরের ক্লোয়ে এবং সবচেয়ে প্রবীণ ছিলেন ৯০-এর বেশি বয়সী এক নারী। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চার শিশুসহ আটজনই একই পরিবারের সদস্য ছিলেন।
ঘটনার পর পরিবারের এক সদস্য সংবাদমাধ্যমকে জানান, সন্দেহভাজন হামলাকারী পরিবারেরই একজন। তবে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার উদ্দেশ্য প্রকাশ করেনি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে পারিবারিক বিরোধ থেকে শুরু হওয়া ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এটি অপরিচিত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে চালানো এলোমেলো হামলা ছিল না।
পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিও পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যান। তার আঘাতকে আত্মঘাতী গুলির ক্ষত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। ফলে ঘটনাটিতে সন্দেহভাজন হামলাকারীসহ মোট আটজন নিহত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ঘটনার সময় বাড়িটি দ্রুত আগুনে পুড়ে যাওয়ায় উদ্ধার ও তদন্তকাজও কঠিন হয়ে পড়ে। পুলিশ ও দমকলকর্মীদের পাশাপাশি ইয়েলোস্টোন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়, মন্টানা হাইওয়ে পেট্রোল এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা ও জরুরি সেবাদাতা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ করেন। কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছিল। পরে জানানো হয়, সাধারণ মানুষের জন্য আর কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি নেই।
নিহত দুই শিশু ল্যান্ডন ও শার্লটকে ঘিরে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে ল্যান্ডনকে ধৈর্যশীল, সুরক্ষাদানকারী ও ভালো বড় ভাই হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে। শার্লটকে বলা হয়েছে হাসিখুশি, বুদ্ধিদীপ্ত ও প্রাণবন্ত একটি শিশু, যার নিজের মতো করে চলার দৃঢ়তাও ছিল।
অ্যাডাম ঘেকিয়েরের কাছে সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঘটনার সময় তিনি সন্তানদের কাছে ছিলেন না। জরুরি যোগাযোগব্যবস্থায় খবর শোনার পর তাদের ফোন করা, অবস্থান খোঁজা এবং ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া, সবকিছুই ঘটেছিল কয়েক মিনিটের মধ্যে। কিন্তু সক্রিয় হামলার পরিস্থিতির কারণে তিনি বাড়ির কাছে যেতে পারেননি।
তদন্তকারীরা এখনো ঘটনার পূর্ণ কারণ ও ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখছেন। কেন পারিবারিক বিরোধ এমন ভয়াবহ ঘটনায় রূপ নিল, হামলার আগে ঠিক কী ঘটেছিল এবং আগুন কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে কর্তৃপক্ষ। ইয়েলোস্টোন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ঘটনাটিকে অত্যন্ত জটিল তদন্ত হিসেবে বর্ণনা করেছে।
বিলিংসের এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যেও গভীর শোক নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও প্রতিবেশীরা নিহতদের স্মরণ করছেন এবং শেষকৃত্যসহ অন্যান্য ব্যয় মেটাতে সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহ শুরু করেছেন। তদন্ত চলায় কর্তৃপক্ষ এখনো ঘটনার সব তথ্য প্রকাশ করেনি।
সংবাদসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও সিবিএস নিউজ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর নিউইয়র্কে একটি ভালো অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেওয়া অনেকের জন্যই রীতিমতো স্বপ্নের মতো। তবে সেই স্বপ্ন পূরণে সহায়ক হতে পারে নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং কানেক্ট। সম্প্রতি এই কর্তৃপক্ষের অধীনে শত শত অ্যাপার্টমেন্ট মাত্র ১৫০০ ডলারের চেয়েও কম ভাড়ায় দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্কের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পিক্স১১ এর একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সুলভ মূল্যের এই অ্যাপার্টমেন্টগুলো নিউইয়র্কের ব্রুকলিন এবং ব্রঙ্কস এলাকায় অবস্থিত। আবেদনকারীদের চাহিদা অনুযায়ী এখানে স্টুডিও, এক বেডরুম এবং দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষদের কথা মাথায় রেখেই মূলত এই আবাসন প্রকল্পগুলো সাজানো হয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি প্রকল্প হলো স্টারহিল ফেজ টু। যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ৩০ হাজার ৪৪৬ ডলার থেকে শুরু করে ১ লাখ ২৬ হাজার ২৪০ ডলারের মধ্যে, তারা এখানে ভাড়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে বাসিন্দাদের জন্য খোলা জায়গা, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সরঞ্জাম, লিফট এবং উচ্চ গতির ইন্টারনেট সংযোগসহ আরও নানা ধরনের আধুনিক সুযোগ সুবিধা রয়েছে। আরেকটি আকর্ষণীয় প্রকল্প হচ্ছে ব্লন্ডেল কমনস। এখানকার অ্যাপার্টমেন্টগুলোর জন্য আবেদন করতে হলে বার্ষিক আয় হতে হবে ২৯ হাজার ৪১৮ থেকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৮০ ডলারের মধ্যে। যারা নিজেদের সাথে পোষা প্রাণী রাখতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি দারুণ একটি জায়গা। এছাড়া এখানে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, শরীর চর্চার জন্য ব্যায়ামাগার বা জিম এবং শিশুদের জন্য আলাদা খেলার ঘর রয়েছে। যাদের আয় তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি, তাদের জন্য রয়েছে সোলেস নামের অপর একটি আবাসিক প্রকল্প। ৩৮ হাজার ৯৪৯ থেকে শুরু করে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলার বার্ষিক আয়সম্পন্ন ব্যক্তিরা এখানে আবেদন করতে পারবেন। সাধ্যের মধ্যে থাকা এই আবাসন ব্যবস্থায় একটি মিডিয়া রুম, জিম এবং ইয়োগা ও ড্যান্স স্টুডিও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। এছাড়া কলাম্বিয়া কমনস ওয়ান নামের আরও একটি আবাসন প্রকল্প রয়েছে, যেখানে বার্ষিক ৩০ হাজার ৪৪৬ থেকে ১ লাখ ৮৩ হাজার ২০০ ডলার আয়ের মানুষেরা ভাড়ার সুযোগ পাবেন। নিউইয়র্কের মতো ব্যস্ত এবং ব্যয়বহুল শহরে এমন উদ্যোগ অনেক সাধারণ মানুষের জন্যই স্বস্তির খবর। নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং কানেক্টের ওয়েবসাইটে গিয়ে এই আবাসন প্রকল্পগুলো সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে এবং অনলাইনেই ভাড়ার জন্য আবেদন করা যাবে। সংবাদসূত্র: পিক্স১১ ও নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং কানেক্ট।
চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ: যে ১০টি কাজ বিবেচনা করতে পারেন
যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানায় একই পরিবারের ৮ জনকে গুলি করে হত্যা, নিহতদের মধ্যে রয়েছে চার শিশু
বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসার আবেদন সাময়িক স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন, প্রভাব পড়বে বাংলাদেশিদের ওপরও
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের একটি বাড়ি কেনা কিংবা ভাড়ায় থাকা দুটোই সাধারণ মানুষের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। একসময় নিজের একটি দোতলা বা ছিমছাম বাড়ি আমেরিকান স্বপ্নের অন্যতম প্রধান অংশ ছিল। কিন্তু এখন শুধু বাড়ি কেনাই নয়, পরিবারের জন্য একটি বাড়ি ভাড়া পাওয়াও বেশ দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি রিয়েল এস্টেট প্ল্যাটফর্ম রিয়েলটর ডটকম একটি নতুন সমীক্ষা প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রধান মেট্রোপলিটন এলাকায় বর্তমানে একটি নতুন বা প্রাথমিক বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়ায় থাকা অনেক বেশি সাশ্রয়ী। তবে যারা ভাড়ায় থাকতে চান, তাদের জন্যও একক পরিবারের বাড়ির বা সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে। রিয়েলটর ডটকমের জুলাই ২০২৬ এর রেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৫০টি মেট্রো শহরে শূন্য থেকে দুই বেডরুমের সম্পত্তির জন্য জাতীয় গড় ভাড়া ছিল ১,৬৯৫ ডলার। এটি এক বছর আগের তুলনায় ২৪ ডলার বা ১.৪ শতাংশ কম। তবে একই এলাকায় এ ধরনের একটি প্রাথমিক বা স্টার্টার হোম কেনার মাসিক খরচ গত মাসে ছিল ২,৫৫৩ ডলার, যা ভাড়ার চেয়ে ৮৫৮ ডলার বেশি। এই মাসিক খরচের হিসাবটি করা হয়েছে শূন্য থেকে দুই বেডরুমের বাড়ির তালিকাভুক্ত গড় দাম, ১০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট, ৩০ বছর মেয়াদি নির্ধারিত বন্ধকি বা মর্টগেজ রেট, হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ফি, কর এবং মেট্রো স্তরের গড় হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্সের ওপর ভিত্তি করে। স্টার্টার হোমের বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের জন্য সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোম ভাড়া পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত রেডফিনের একটি বিশ্লেষণে সেনসাস ডেটা বা আদমশুমারির তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে মাত্র ১৩.৭ শতাংশ বা ১ কোটি ১৩ লাখ সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমে ভাড়াটিয়ারা বসবাস করছিলেন। এটি ইতিহাসের তৃতীয় সর্বনিম্ন রেকর্ড। এর বিপরীতে একই বছরে বড় বহুতল বা মাল্টিফ্যামিলি ভবনে ভাড়ায় বসবাসকারী ইউনিটের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২১ লাখ, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। এছাড়া ছোট মাল্টিফ্যামিলি ভবনে ১ কোটি এবং টাউনহোমে ৩১ লাখ ভাড়াটিয়া ইউনিট ছিল। এটি এখন আমেরিকার জন্য এক নতুন বাস্তবতা। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, ২০২১ সালেও দেশটির ভাড়ার বাজারের সবচেয়ে বড় অংশ ছিল সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোম। অন্যদিকে ২০১৯ সালের আগে এবং মহামারির সময় যখন বাড়ি কেনার হিড়িক পড়েছিল, তখন বড় মাল্টিফ্যামিলি ভবনগুলো ছিল পছন্দের তালিকার তৃতীয় স্থানে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছে বহুকাল ধরেই নিজের একটি সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমে বসবাস করা আত্মপরিচয় ও ব্যক্তিগত সাফল্যের প্রতীক। কিন্তু এখন সেই স্বপ্নে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানগুলো থেকে বোঝা যায়, যারা এখনও নিজস্ব সম্পত্তির মালিক হতে পারেননি, তাদের জন্য আমেরিকান স্বপ্নের সংজ্ঞা কতটা বদলে গেছে। এখন বেশিরভাগ ভাড়াটিয়া তাদের স্বপ্নের সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমে বসবাস করছেন না, বরং বড় অ্যাপার্টমেন্ট ভবনেই তাদের থাকতে হচ্ছে। রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩.১ শতাংশ নাগরিকের প্রধান বাসস্থান হয়ে উঠেছে এসব বড় অ্যাপার্টমেন্ট। ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর থেকে এবং বিশেষ করে মহামারির সময় সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমের চেয়ে ২০ বা তার বেশি ইউনিটের মাল্টিফ্যামিলি ভবনগুলো বেশি দ্রুত গতিতে নির্মিত হয়েছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো মহামারির সময় এসব ভবনের বেশিরভাগই ভাড়াটিয়াদের বদলে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। ফ্রেডি ম্যাকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের ২০ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে জাতীয় পর্যায়ে ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড রেট মর্টগেজের গড় ছিল ৬.৬৫ শতাংশ। চড়া সুদের হারের কারণে অনেক বাড়ির মালিক এখন তাদের বাড়ি বিক্রি করতে চাইছেন না। এর ফলে সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভাড়ার জন্য বহুতল ভবনগুলোই এখন মানুষের কাছে বেশি সাশ্রয়ী বিকল্প। অন্যদিকে সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমগুলো কেবল মুষ্টিমেয় বিত্তবানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি, কঠোর জোনিং আইন, জমির ন্যূনতম আয়তন সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং আবাসন শিল্পের পরিবর্তনের কারণে সারা দেশেই এখন স্টার্টার হোম নির্মাণের হার কমে গেছে। হোমবায়িং ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯৮০ এর দশকের শুরুতে নতুন নির্মাণের প্রায় ৪০ শতাংশই ছিল স্টার্টার হোম, কিন্তু ২০১৯ সালে তা নেমে আসে মাত্র ৭ শতাংশে। ২০২৬ সালে এসে এগুলো পাওয়া আগের দশকগুলোর চেয়ে আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্রেতাদের সামর্থ্যের চাপের কারণে সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোম নির্মাণও সার্বিকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রথমবার বাড়ি কিনতে ইচ্ছুক ক্রেতাদের জন্য সাশ্রয়ী বিকল্প না থাকায় লাখো মানুষ এখন আবাসন বাজারের বাইরে ছিটকে পড়ছেন, যার গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আমেরিকান সমাজে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটর্স এর মতে, ২০২৫ সালে মোট বাড়ি বিক্রির মাত্র ২১ শতাংশ কিনেছেন প্রথমবার ক্রেতারা। ঐতিহাসিকভাবে এই হার সাধারণত ৪০ শতাংশ থাকে। এছাড়া প্রথমবার বাড়ি কেনার গড় বয়সও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ বছরে, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ। তবে যারা এখনও বাড়ির মালিক হননি তাদের জন্য কিছুটা আশার আলোও রয়েছে। রিয়েলটর ডটকম বলছে, একটি স্টার্টার হোম ভাড়া নেওয়া এবং কেনার খরচের ব্যবধান কিছুটা কমতে শুরু করেছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে স্টার্টার হোমের মাসিক খরচ ২,৬৪২ ডলার থেকে কমে ২,৫৫৩ ডলারে নেমেছে। এর মধ্যে ৫৭ ডলার কমেছে বাড়ির তালিকাভুক্ত দাম কমার কারণে এবং ৩৩ ডলার কমেছে মর্টগেজ রেট কমার কারণে। গত এক বছরে ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড মর্টগেজ রেট ৬.৭২ শতাংশ থেকে কমে ৬.৫৪ শতাংশে নেমে এসেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভাড়ায় থাকা এখনও সস্তা হলেও এমন অনেক বাজার তৈরি হচ্ছে যেখানে ভাড়ার চেয়ে স্টার্টার হোমের দাম দ্রুত কমছে এবং মানুষের সাপ্তাহিক গড় আয় জাতীয় হার ৩.৮ শতাংশের বেশি বা সমান গতিতে বাড়ছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে ওকলাহোমা সিটি, ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো, সিয়াটল, মিয়ামি, ফ্লোরিডার টাম্পা, লাস ভেগাস এবং ন্যাশভিল। শীর্ষ ৫০টি মেট্রো শহরে জুলাই মাসে স্টার্টার হোমের তালিকাভুক্ত গড় দাম বার্ষিক ২.৯ শতাংশ কমেছে, যেখানে ভাড়ার হার কমেছে ১.৪ শতাংশ।
পেনসিলভেনিয়ায় হামে ২ জনের মৃ ত্যু, ৩৫ বছর পর প্রথম প্রাণহানি; টিকাবিহীন ছিলেন উভয়েই
ভার্জিনিয়ায় মেজবানে খাবার নিয়ে বিশৃঙ্খলা, দুঃখপ্রকাশ করে ভুল স্বীকার আয়োজকদের
মিনিয়াপলিসে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে চার্চে গোপন অভিযান, অভিযুক্ত মার্কিন প্রশাসন
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে কর্মরত অবস্থায় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি কর্মী মোহাম্মদ ইউসুফ, পরিচিতজনদের কাছে তিনি রাজু নামে পরিচিত, তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে। আকস্মিক এই ঘটনায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে স্ত্রী, মা ও দুই ছোট মেয়েকে নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে পরিবারটি। একই সঙ্গে রাজুর মরদেহ বাংলাদেশে নিয়ে গিয়ে দাফনের খরচ জোগাড় করাও পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৩ আগস্ট রাতে ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে কর্মরত অবস্থায় গুলিতে নিহত হন ৪৪ বছর বয়সী রাজু। ঘটনাটি ইতোমধ্যে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপকভাবে পরিচিত। তাই তার মৃত্যুর ঘটনার বিস্তারিতের চেয়ে এখন পরিবারের জরুরি প্রয়োজনই সামনে এসেছে। পরিবারের স্বজনরা জানিয়েছেন, রাজুই ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আয়ের ওপরই স্ত্রী, মা এবং ১২ ও ৩ বছর বয়সী দুই মেয়ে নির্ভরশীল ছিলেন। হঠাৎ করে তাকে হারানোর পর পরিবারের নিয়মিত খরচ চালানোর মতো কোনো আয় এখন নেই। এমন পরিস্থিতির জন্য পরিবারটি আগে থেকে প্রস্তুতও ছিল না। সবচেয়ে জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজুর মরদেহ দেশে পাঠানো ও দাফনের ব্যবস্থা করা। এর পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের আগামী কয়েক মাসের মৌলিক জীবনযাত্রার খরচ চালানোর জন্যও আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে রাজুর পরিবারকে সহায়তা করতে গোফান্ডমি এর মাধ্যমে একটি তহবিল সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হয়েছে। সংগৃহীত অর্থ দিয়ে প্রথমে রাজুর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো ও দাফন-সংক্রান্ত খরচ মেটানো হবে। এরপর তার স্ত্রী, মা ও দুই মেয়ের জরুরি জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে অর্থ ব্যবহার করা হবে। স্বজনরা বলছেন, রাজুর মৃত্যুতে পরিবারটি শুধু একজন প্রিয় মানুষকেই হারায়নি, হারিয়েছে পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎসও। বিশেষ করে দুই ছোট মেয়েকে নিয়ে সামনে কীভাবে সংসার চলবে, সেটিই এখন পরিবারের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা। এই কঠিন সময়ে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কাছে রাজুর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা করার পাশাপাশি যারা সরাসরি সহযোগিতা করতে পারবেন না, তারা তহবিল সংগ্রহের আবেদনটি অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। পরিবারের স্বজনদের মতে, এই অর্থ রাজুকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না। তবে তার মরদেহ শেষবারের মতো পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে এবং স্বামী, বাবা ও একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারানো পরিবারটিকে অন্তত সামনের কঠিন কয়েকটি মাস পার হতে সহায়তা করতে পারে। রাজুর পরিবারের জন্য শুরু করা গোফান্ডমি তহবিলে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। সহায়তার জন্য নিচের লিংকে ক্লিক করুন: https://gofund.me/e97a3bd4b
ফ্লোরিডায় নজিরবিহীন অভিযানে উদ্ধার ১৬৩ নিখোঁজ শিশু, গ্রেপ্তার ৩ সন্দেহভাজন
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের বেশি ফি বসানোর প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের