সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত, নতুন তারিখ দেবে দূতাবাস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১:৩৭
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাসগুলোতে নির্ধারিত ভিসা সাক্ষাৎকার সাময়িকভাবে স্থগিত করছে। ছবি: সংগৃহীত
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাসগুলোতে নির্ধারিত ভিসা সাক্ষাৎকার সাময়িকভাবে স্থগিত করছে। ছবি: সংগৃহীত

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে নির্ধারিত ভিসা সাক্ষাৎকার সাময়িকভাবে স্থগিত ও পুনর্বিন্যাস করছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার কর্মকর্তাদের জন্য শুরু হওয়া একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কারণে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

 

এরই মধ্যে নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের তারিখ থাকা কিছু আবেদনকারী ইমেইলে তাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পুনর্বিন্যাসের বার্তা পেয়েছেন। নতুন তারিখ ও সময় পরে জানানো হবে বলে তাদের জানানো হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়া কতদিন চলবে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেয়নি। 

 

পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো ভিসা আবেদনকারীদের আরও বিস্তৃত ও একই ধরনের মানদণ্ডে যাচাই করা। বিশেষ করে কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রাখেন কি না, তা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানো হবে। 

 

ভিসা সাক্ষাৎকারের এই পরিবর্তন ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যেই এসেছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন ও ভিসা ব্যবস্থায়ও কঠোর যাচাই-বাছাই জোরদার করেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং আবেদন প্রত্যাখ্যানের ঘটনাও সামনে এসেছে।

 

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত করেছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ওই তালিকায় বাংলাদেশও ছিল। তবে গত ২১ আগস্ট নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক জেনেট ভার্গাস ওই নীতি বাতিল করে বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।

 

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এর আগে জানিয়েছে, কিছু অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ‘পাবলিক চার্জ’ ঝুঁকি যাচাই করা হচ্ছে। এমনকি নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীর জন্য পাবলিক চার্জ বন্ডের ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।

 

এদিকে পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের ভিসা বাতিলের পরিকল্পনাসহ আরও কয়েকটি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েও প্রশাসন এগোচ্ছে। কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের ক্ষেত্রেও এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

প্রশাসন এসব পদক্ষেপকে ভিসা ব্যবস্থাপনা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সরকারি সুবিধার অপব্যবহার ঠেকানোর অংশ হিসেবে দেখাচ্ছে। তবে অভিবাসন অধিকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের সমালোচনা করে আসছে। তাদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত বিধিনিষেধের ফলে বৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে এবং নাগরিক অধিকার ও ন্যায্য প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে আসন হারানোর ঝুঁকিতে রিপাবলিকানরা, বাড়ছে ডেমোক্র্যাটদের

যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হচ্ছে। নির্বাচনের প্রায় চার সপ্তাহ আগে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের অবস্থানের উন্নতি দেখা যাচ্ছে। ৫ অক্টোবর প্রকাশিত সিএনএনের এক বিশ্লেষণে সিনেটের ১০টি আসন চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলো এবারের নির্বাচনে দল পরিবর্তনের সম্ভাবনায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। তালিকায় প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে কানসাস, যেখানে গত ৯৪ বছরে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ডেমোক্র্যাটদের রিপাবলিকানদের দখলে থাকা অন্তত চারটি আসন জিততে হবে এবং নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলো ধরে রাখতে হবে। সিএনএনের বিশ্লেষণে উত্তর ক্যারোলাইনাকে ডেমোক্র্যাটদের জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় অঙ্গরাজ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে সাবেক ডেমোক্র্যাট গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত মাসে প্রকাশিত এলন ইউনিভার্সিটি ও ইউগভের এক জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে কুপার ১১ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। ওহাইওতেও ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনা বেড়েছে। সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা ইউনিভার্সিটির এক জরিপে ব্রাউন ৪৯ শতাংশ এবং হাস্টেড ৪৬ শতাংশ সমর্থন পেয়েছিলেন। আলাস্কায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলা এবং রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের লড়াইও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো ও রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও এবারের নির্বাচনে বিশেষ নজর কাড়ছে। তবে এসব জরিপের ফল নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নিশ্চিত করে না। সিএনএনের বিশ্লেষণে মেইন, মিশিগান, আইওয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ারকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কানসাসে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অঙ্গরাজ্যটিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ১৬ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। এমন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ডেমোক্র্যাটদের জন্য আসনটি জয় করা কঠিন হলেও সাম্প্রতিক জরিপে প্রতিযোগিতা কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছেছে। ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনা বাড়ার পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনীতি নিয়ে অসন্তোষ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে যাওয়ার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছে সিএনএন। প্রতিবেদনে সিএনএনের জনমত জরিপগুলোর সমন্বিত হিসাবে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ৩৪ শতাংশে নেমে আসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে রিপাবলিকানদের বিজ্ঞাপন প্রচারে বেশি অর্থ ব্যয়ের সক্ষমতা ডেমোক্র্যাটদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শুরু থেকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ১০টি সিনেট আসনের মধ্যে আটটিতে রিপাবলিকানদের বিজ্ঞাপন ব্যয় ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে বেশি হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। জর্জিয়ার সিনেট নির্বাচনও এই লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইক কলিন্সের বিরুদ্ধে নিজের আসন ধরে রাখার লড়াই করছেন। সিএনএনের বিশ্লেষণে অসফকে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে দেখা হয়েছে। অঙ্গরাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাটদের বিজ্ঞাপন প্রচারের ব্যয়ও রিপাবলিকানদের চেয়ে বেশি হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে এসব অঙ্গরাজ্যের ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সিএনএনের তালিকাটি বর্তমান জরিপ, তহবিল সংগ্রহ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে তৈরি বিশ্লেষণ, নির্বাচনের নিশ্চিত ফলাফলের পূর্বাভাস নয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ৯:৫৩
নিউইয়র্কে কারা কর্মকর্তা পদে নিয়োগের আবেদন চলছে

নিউইয়র্কে কারা কর্মকর্তা পদে নিয়োগের আবেদন চলছে, বেতন বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৯ হাজার ডলার

চীনের পর্যটনকেন্দ্রে শৌচাগার

চীনের পর্যটনকেন্দ্রে শৌচাগারের বাইরে টাইমার, দেখা যায় ব্যবহারের সময়

যুক্তরাষ্ট্র পাসপোর্ট

মার্কিন পাসপোর্টের প্রথম আবেদনও অনলাইনে নেয়ার পরিকল্পনা, বদলাবে নকশাও

Woman Frustrated with Credit Card
ফেসবুকে ২০০ ডলার হারিয়ে অভিযোগ করতে গিয়ে আরও ১৩ অ্যাকাউন্টের তথ্য দিলেন প্রতারককে

ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে ট্র্যাক্টর কেনার জন্য ২০০ ডলার অগ্রিম পাঠিয়ে প্রতারণার শিকার হন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার ডোনা শাক। ঘটনাটি ফেসবুকে জানাতে গিয়ে তিনি গুগলে পাওয়া একটি ভুয়া কাস্টমার সার্ভিস নম্বরে ফোন করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানেই দ্বিতীয়বার প্রতারণার শিকার হয়ে সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরসহ ১৩টি অ্যাকাউন্টের তথ্য দিয়ে ফেলেন তিনি।    ল্যাংকাস্টার কাউন্টির ডোনা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউজিএএলকে জানান, মার্কেটপ্লেসে একটি ছোট ট্র্যাক্টরের বিজ্ঞাপন দেখে তিনি বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই বিক্রেতা তাঁর পরিবারের দুজনের ফেসবুক ফ্রেন্ড ছিলেন। তাই ২০০ ডলার অগ্রিম পাঠান। কিছুক্ষণ পর বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় এবং তাঁর প্রোফাইলও আর দেখা যায়নি।    অভিযোগ জানাতে ফেসবুকের কাস্টমার সার্ভিস নম্বর খুঁজে ফোন করলে এক ব্যক্তি নিজেকে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয় দেন। ডোনার দাবি, ওই ব্যক্তি তাঁকে বলেন, বিক্রেতা হয়তো তাঁর ফোনের তথ্যেও প্রবেশ করতে পেরেছেন। অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখা ও কার্ডগুলো বাতিল করার কথা বলে তিনি ডোনার সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর এবং ব্যাংক ও ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চান। ডোনা ১৩টি অ্যাকাউন্টের তথ্য দেন। পরে বুঝতে পারেন, নম্বরটি ভুয়া ছিল।    ডোনা এখন সংশ্লিষ্ট কার্ডগুলোর পরিবর্তে নতুন কার্ড পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। দ্বিতীয় ঘটনায় তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছে, এমন কোনো অঙ্ক নিশ্চিত করা হওয়া যায়নি।    যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন সতর্ক করেছে, সার্চ রেজাল্টে পরিচিত প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া কাস্টমার সার্ভিস নম্বর দেখাতে পারে প্রতারকেরা। কোনো প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ জানাতে হলে সরাসরি তার অফিশিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে দেওয়া যোগাযোগের ব্যবস্থা ব্যবহার করার পরামর্শ সংস্থাটির। সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা আর্থিক তথ্য প্রতারকের হাতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে দ্রুত জানানো এবং পরিচয় চুরির ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছে কমিশন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ৬:২১
যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ সেন্টের একটি নিকেল মুদ্রা

যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ সেন্টের একটি নিকেল মুদ্রা তৈরি করতে খরচ হচ্ছে ১৩ সেন্টের বেশি

mother-and-child-watching-airplanes-at-airport-win

যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাইট বিলম্বে খাবার-হোটেল সুবিধা কমতে পারে ১৯ অক্টোবর থেকে

২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত নাসিমী অন্তত ৩৫ জন মেডিকেইড সুবিধাভোগীর নামে এমন দন্তচিকিৎসার বিল জমা দেন, যা তিনি করেননি

হেলথ ইন্স্যুরেন্স জালিয়াতি, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি চিকিৎসকসহ গ্রেপ্তার পাঁচ শতাধিক

ইসাইয়াস স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে ফ্লোরিডার ডেস্টিনের কাছে উপকূলে আঘাত হানে
হারিকেন ইসাইয়াসে যুক্তরাষ্ট্রে চারজনের মৃত্যু, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন প্রায় ৬ লাখ এর বেশি মানুষ

হারিকেন ইসাইয়াসের আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার, ১০ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত ফ্লোরিডা, আলাবামা, জর্জিয়া ও মিসিসিপিতে প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। ঝড় দুর্বল হয়ে পড়লেও দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা, দমকা বাতাস ও টর্নেডোর ঝুঁকি অব্যাহত থাকার কথা জানিয়েছে ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বাড়ির ওপর গাছ পড়ে।    ইসাইয়াস স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে ফ্লোরিডার ডেস্টিনের কাছে উপকূলে আঘাত হানে। তখন এটি ক্যাটাগরি ২ মাত্রার হারিকেন ছিল। স্থলভাগে ঢোকার পর ঝড়টি দুর্বল হতে থাকে। তবে আলাবামার দক্ষিণাঞ্চল, ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডেল এবং জর্জিয়ার দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কা রয়ে যায়।    বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান পাওয়ারআউটেজের হিসাব অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে ফ্লোরিডায় প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার, আলাবামায় ১ লাখ ৯০ হাজার, জর্জিয়ায় ৪৩ হাজার এবং মিসিসিপিতে ১৭ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন। এই সংখ্যা বিদ্যুৎ সংযোগের হিসাব, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মোট সংখ্যা নয়।    আলাবামার হিউস্টন কাউন্টিতে উপড়ে পড়া গাছ ও বিদ্যুতের তারের কারণে সড়কে চলাচল বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। রাজ্যের জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাউন্টির সব সড়ক বন্ধ থাকবে। এলাকাটিতে আকস্মিক বন্যার সতর্কতাও জারি ছিল।    ফ্লোরিডায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। গভর্নর রন ডিস্যান্টিস জানিয়েছেন, ঝড় মোকাবিলায় প্রায় ১৬ হাজার বিদ্যুৎকর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। বিভিন্ন এলাকায় হাইওয়ে, সেতু ও বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ চললেও পেনসাকোলা বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ২:৫০
মৌসুমি কৃষিকর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি

নিউ ইয়র্কে কৃষিকাজে ঘণ্টায় ১৯.২৫ ডলার বেতনে ১২৬ জনের চাকরির সুযোগ, লাগবে না শিক্ষাগত ডিগ্রি

টেক্সাসের বাসিন্দা কিম এরিক স্মিথ

মৃত ছেলের দেহ ভেগাসের জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে, ‘প্রমাণ’ পাওয়ার দাবি মায়ের

উচ্চ মর্টগেজ সুদে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা কঠিন

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা আরও কঠিন, মর্টগেজ সুদ ৭.৫৫ শতাংশে পৌঁছানোয় বাড়ছে ঋণের চাপ

0 Comments