বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত, নতুন তারিখ দেবে দূতাবাস
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে নির্ধারিত ভিসা সাক্ষাৎকার সাময়িকভাবে স্থগিত ও পুনর্বিন্যাস করছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার কর্মকর্তাদের জন্য শুরু হওয়া একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কারণে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এরই মধ্যে নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের তারিখ থাকা কিছু আবেদনকারী ইমেইলে তাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পুনর্বিন্যাসের বার্তা পেয়েছেন। নতুন তারিখ ও সময় পরে জানানো হবে বলে তাদের জানানো হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়া কতদিন চলবে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেয়নি।
পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো ভিসা আবেদনকারীদের আরও বিস্তৃত ও একই ধরনের মানদণ্ডে যাচাই করা। বিশেষ করে কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রাখেন কি না, তা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানো হবে।
ভিসা সাক্ষাৎকারের এই পরিবর্তন ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যেই এসেছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন ও ভিসা ব্যবস্থায়ও কঠোর যাচাই-বাছাই জোরদার করেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং আবেদন প্রত্যাখ্যানের ঘটনাও সামনে এসেছে।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত করেছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ওই তালিকায় বাংলাদেশও ছিল। তবে গত ২১ আগস্ট নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক জেনেট ভার্গাস ওই নীতি বাতিল করে বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এর আগে জানিয়েছে, কিছু অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ‘পাবলিক চার্জ’ ঝুঁকি যাচাই করা হচ্ছে। এমনকি নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীর জন্য পাবলিক চার্জ বন্ডের ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।
এদিকে পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের ভিসা বাতিলের পরিকল্পনাসহ আরও কয়েকটি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েও প্রশাসন এগোচ্ছে। কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের ক্ষেত্রেও এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন এসব পদক্ষেপকে ভিসা ব্যবস্থাপনা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সরকারি সুবিধার অপব্যবহার ঠেকানোর অংশ হিসেবে দেখাচ্ছে। তবে অভিবাসন অধিকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের সমালোচনা করে আসছে। তাদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত বিধিনিষেধের ফলে বৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে এবং নাগরিক অধিকার ও ন্যায্য প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য নতুন নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশটির কাস্টমস ও বর্ডার প্রোটেকশন সংস্থা সিবিপিতে একাধিক পদে বর্তমানে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন অফিসার পদে বিভিন্ন লোকেশনে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন অফিসাররা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রবেশপথে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাত্রী ও পণ্য পরীক্ষা করা এবং কাস্টমস ও অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে কাজ করেন। পদটি ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী চাকরি হওয়ায় দায়িত্বের সঙ্গে ইউনিফর্ম পরা, আগ্নেয়াস্ত্র বহন এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার বিষয়ও যুক্ত রয়েছে। বর্তমান একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এই পদে বেতন ৬৩ হাজার ৪৩১ ডলার থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৬৪ ডলার পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। পূর্ণ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মূল বেতনের বাইরে বছরে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ওভারটাইম আয় করতে পারেন। চাকরিটি পূর্ণকালীন এবং নিয়মিত শিফট ও ওভারটাইমে কাজ করার প্রয়োজন হতে পারে। নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন যোগ্যতা ও যাচাই প্রক্রিয়া রয়েছে। আবেদনকারীদের ব্যাকগ্রাউন্ড ইনভেস্টিগেশন, ড্রাগ টেস্ট, মেডিকেল পরীক্ষা এবং অন্যান্য নিয়োগসংক্রান্ত ধাপ পেরোতে হয়। কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন অফিসার পদে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে দক্ষতাও বাধ্যতামূলক। কিছু নির্দিষ্ট লোকেশনে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য অতিরিক্ত নিয়োগ প্রণোদনাও রয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট এলাকায় তিন বছরের সার্ভিস কনট্রাক্টের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার এবং কিছু এলাকায় চার বছরের সার্ভিস কনট্রাক্টের জন্যও বছরে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়া হতে পারে। শুধু কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন অফিসার নয়, সিবিপির ক্যারিয়ার পেজে বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্ট, মেরিন ইন্টারডিকশন এজেন্ট এবং এয়ার ইন্টারডিকশন এজেন্টসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী পদেও নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। এসব পদের কয়েকটির আবেদন শেষ হওয়ার তারিখও ৩১ আগস্ট ২০২৬। তবে পদভেদে যোগ্যতা, বয়সসীমা, বেতন, দায়িত্ব, কর্মস্থল এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া আলাদা। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সর্বশেষ তথ্য দেখে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও শর্ত নিশ্চিত করা জরুরি।
নিউইয়র্কে আইসের অভিযান ঘিরে বড় পরিবর্তন, কার্যকর হলো নতুন দুই আইন
টেক্সাসের খ্রিষ্টান বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য হালাল খাবারের ব্যবস্থা
ঘর পুড়ে ছাই, পাশে দাঁড়ালেন ডলি পার্টন, ৯০০ পরিবার পেল ১০ হাজার ডলার
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে নির্ধারিত ভিসা সাক্ষাৎকার সাময়িকভাবে স্থগিত ও পুনর্বিন্যাস করছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার কর্মকর্তাদের জন্য শুরু হওয়া একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কারণে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এরই মধ্যে নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের তারিখ থাকা কিছু আবেদনকারী ইমেইলে তাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পুনর্বিন্যাসের বার্তা পেয়েছেন। নতুন তারিখ ও সময় পরে জানানো হবে বলে তাদের জানানো হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়া কতদিন চলবে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেয়নি। পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো ভিসা আবেদনকারীদের আরও বিস্তৃত ও একই ধরনের মানদণ্ডে যাচাই করা। বিশেষ করে কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রাখেন কি না, তা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানো হবে। ভিসা সাক্ষাৎকারের এই পরিবর্তন ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যেই এসেছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন ও ভিসা ব্যবস্থায়ও কঠোর যাচাই-বাছাই জোরদার করেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং আবেদন প্রত্যাখ্যানের ঘটনাও সামনে এসেছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত করেছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ওই তালিকায় বাংলাদেশও ছিল। তবে গত ২১ আগস্ট নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক জেনেট ভার্গাস ওই নীতি বাতিল করে বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এর আগে জানিয়েছে, কিছু অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ‘পাবলিক চার্জ’ ঝুঁকি যাচাই করা হচ্ছে। এমনকি নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীর জন্য পাবলিক চার্জ বন্ডের ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। এদিকে পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের ভিসা বাতিলের পরিকল্পনাসহ আরও কয়েকটি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েও প্রশাসন এগোচ্ছে। কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের ক্ষেত্রেও এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন এসব পদক্ষেপকে ভিসা ব্যবস্থাপনা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সরকারি সুবিধার অপব্যবহার ঠেকানোর অংশ হিসেবে দেখাচ্ছে। তবে অভিবাসন অধিকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের সমালোচনা করে আসছে। তাদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত বিধিনিষেধের ফলে বৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে এবং নাগরিক অধিকার ও ন্যায্য প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
দুর্ব্যবহারের অভিযোগের তদন্তে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের তিন কর্মকর্তা ছুটিতে
মসজিদ সফরে শিক্ষার্থীদের হিজাব ও কোরআন দেওয়ায় ক্যালিফোর্নিয়ার স্কুল ডিস্ট্রিক্টের বিরুদ্ধে মামলা
২৬ আগস্ট সোশ্যাল সিকিউরিটির চেক, কারা পাচ্ছেন জেনে নিন
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের পারমায় একটি স্কুলবাসের ধাক্কায় হুইলচেয়ারে থাকা এক নারী আহত হয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর ওই নারীকে মেট্রো হেলথ মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। বাসে থাকা শিক্ষার্থীদের কেউ আহত হয়নি। পুলিশের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ৮ জানিয়েছে, স্কুলবাসটি ওই নারীকে ধাক্কা দেওয়ার পর ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা সংস্থার সদস্যরা পৌঁছান। পরে আহত নারীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার সময় স্কুলবাসে থাকা শিক্ষার্থীদের কেউ আহত না হওয়ায় তাদের বিষয়ে বড় ধরনের কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং দুর্ঘটনার জন্য কারও দায় রয়েছে কি না, তা নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ বা আহত নারীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
অন্তর্বাসে লুকিয়ে দুটি জীবন্ত কচ্ছপ নেওয়ার চেষ্টা, মিয়ামি বিমানবন্দরে ধরা পড়লেন নারী
নিউইয়র্কে সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ, ১,৫০০ ডলারের নিচে ভাড়ায় মিলছে অ্যাপার্টমেন্ট