মামলার শুনানির পর আদালতের বাইরে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের সেই দম্পতি, মিলতে পারে আইনি ছাড়
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত বিখ্যাত এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়ায় উঠে প্রেম নিবেদনের ঘটনায় অভিযুক্ত এক দুঃসাহসী যুগল ম্যানহাটন ক্রিমিনাল কোর্টে হাজিরা দিয়েছেন। গত সোমবার আদালতে হাজিরার পর এই জুটির বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর ক্ষেত্রে আইনি সমঝোতা বা প্লি ডিল হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন সরকারি কৌঁসুলিরা। আর এই খবর শোনার পরই আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে প্রকাশ্যেই অন্তরঙ্গভাবে উদযাপন করতে দেখা গেছে তাদের।
নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ৩৩ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউ এবং তার ৩২ বছর বয়সী প্রেমিক ইভান কুজনেটসভ গত জুলাই মাসে নিজেদের বাগদানের জন্য এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ে উঠেছিলেন। এই বিপজ্জনক ও বেআইনি কাজের জন্য তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। সোমবার শুনানির পর আদালত ভবনের বাইরে একটি হটডগের দোকানের কাছে তারা একে অপরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
সে সময় তাদের হাতে খেলনা হাতকড়া পরা ছিল। প্রায় আধা মিনিট ধরে তারা একে অপরকে চুম্বন করেন। এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের প্রায় এক হাজার ফুটেরও বেশি উঁচুতে ইভান হাঁটু গেড়ে বসে অ্যাঞ্জেলাকে যে আংটি দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেটিও এদিন প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে প্রদর্শন করেন অ্যাঞ্জেলা।
তবে আদালতে যাওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি অদ্ভুত ভিডিও পোস্ট করেছিলেন অ্যাঞ্জেলা। সেখানে তাকে একটি ল্যাটেক্স বডিস্যুট পরে হাতে ছুরি নিয়ে তার প্রেমিকের মাথায় জিহ্বা লাগাতে দেখা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন কোর্ট প্রেপ বা আদালতের প্রস্তুতি।
শুনানির দিন বিচারক বেভারলি টাথামের সামনে আইনজীবীদের পেছনে দাঁড়িয়ে তারা একে অপরের হাত ধরে রেখেছিলেন। শুনানিতে ম্যানহাটনের সহকারী ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জেসিকা ওয়াল্ডম্যান জানান, এই যুগলের সঙ্গে তাদের সক্রিয় আইনি সমঝোতার আলোচনা চলছে। এই সম্ভাব্য চুক্তির শর্তগুলো ঠিক কী হতে পারে তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে চুরি এবং বেপরোয়াভাবে জীবনের ঝুঁকি সৃষ্টির মতো যেসব গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাতে দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
সরকারি কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, গত মাসে নিউইয়র্কের অন্যতম প্রধান এই স্থাপনায় ওঠার সময় তারা প্রায় দুই হাজার ডলারের সমপরিমাণ ক্ষতি করেছেন। এছাড়া তাদের কারণে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের সম্প্রচার অ্যান্টেনার বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই রাত ৯টার দিকে ওই যুগল এক হাজার ৪৫৪ ফুট উঁচু এই ভবনে প্রবেশের জন্য টিকিট কাটেন। এরপর তারা সেখানে সারারাত লুকিয়ে থাকেন। পরদিন ভোর ৫টার দিকে তারা ভবনের ১০২ তলার একটি হ্যাচ বা ঢাকনা খুলে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
এরপর তারা ভবনের অ্যান্টেনা বেয়ে উঠতে শুরু করেন এবং সেখানে একটি ব্যানার ঝুলিয়ে দেন। ব্যানারে লেখা ছিল, যখন ক্ষমতার প্রতি ভালোবাসার চেয়ে ভালোবাসার ক্ষমতা জয়ী হয়, তখন বিশ্ব শান্তি লাভ করে। এই মুহূর্তের ভিডিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং ওই যুগল নিজেরাই ধারণ করেছিলেন। অ্যান্টেনা থেকে নিচে নামার পর ইভান একটি কালো বিড়ালের মুখোশ পরা অ্যাঞ্জেলাকে হাঁটু গেড়ে বসে বিয়ের প্রস্তাব দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইভান ভানিয়া বিয়ারকাস নামেও পরিচিত।
এই ঘটনার পর অ্যাঞ্জেলা এবং ইভানের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চুরি, বেপরোয়া আচরণ এবং অপরাধমূলক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। এর পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে চুরির সরঞ্জাম রাখা এবং অবৈধভাবে অনধিকার প্রবেশের মতো ছোটখাটো অভিযোগও রয়েছে।
উল্লেখ্য, এই যুগল ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া নেটফ্লিক্সের একটি প্রামাণ্যচিত্র স্কাইওয়াকার্স: অ্যা লাভ স্টোরি এর মূল চরিত্র ছিলেন। প্রামাণ্যচিত্রটি ওই বছর সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়েছিল। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর তাদের আবার আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ের মকেনায় আটটি মলোটভ ককটেলসহ গ্রেপ্তার হওয়া ৩১ বছর বয়সী জর্ডানীয় নাগরিক হ্যামেদ মোহাম্মদ হ্যামেদ আলসাইদিকে আদালত থেকে মুক্তি দেওয়ার পর আবার আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা—আইস। স্থানীয় পুলিশ ও ফেডারেল তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘিরে এখন অস্ত্র, অভিবাসন ও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনার সূত্রপাত ১ আগস্ট ভোরে। মকেনা পুলিশ ১৯১তম স্ট্রিট ও লা গ্রাঞ্জ রোড এলাকায় আলসাইদিকে রাস্তায় হাঁটতে দেখে। পুলিশ তাকে থামালে তিনি নিজের নাম হাকমাত সাইদি বলে পরিচয় দেন বলে কর্মকর্তারা জানান। পরে তাকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তার ব্যাকপ্যাক থেকে আটটি কাচের বোতল পাওয়া যায়। বোতলগুলোতে দাহ্য তরল এবং কাপড়ের অংশ ছিল, যা তদন্তকারীরা মলোটভ ককটেল হিসেবে চিহ্নিত করেন। ঘটনাটি আরও গুরুত্ব পায় যখন পুলিশ তার ব্যাকপ্যাকে একটি এলাকার হাতে আঁকা মানচিত্র এবং ‘মসজিদ’ শব্দ লেখা একটি কাগজ পায়। পুলিশের দাবি, মানচিত্রে অরল্যান্ড পার্ক এলাকার একটি মসজিদ বা প্রার্থনাকেন্দ্রের অবস্থানের ইঙ্গিত ছিল। এ কারণে তদন্তকারীরা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে আলসাইদি ওই স্থানে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন—এমন অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। পুলিশের পাশাপাশি অ্যালকোহল, তামাক, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক নিয়ন্ত্রণকারী ফেডারেল সংস্থা—এটিএফ, এফবিআই এবং ইলিনয় স্টেট ফায়ার মার্শালের কার্যালয় তদন্তে যুক্ত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আলসাইদি এর আগে একটি গ্যাস স্টেশনের কাছেও সন্দেহজনক অবস্থায় ছিলেন। পরে তাকে অন্য একটি খোলা গ্যাস স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে আলসাইদির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অস্ত্র রাখার অভিযোগ এবং পুলিশের কাছে নিজের পরিচয় গোপন করার অভিযোগ আনা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে অরল্যান্ড পার্ক এলাকার বাসিন্দা ও ঠিকানাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সুরক্ষা আদেশও ছিল। প্রসিকিউটররা তাকে পলাতক হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে ৩ আগস্ট উইল কাউন্টির এক বিচারক তাকে কারাগারে না রেখে ইলেকট্রনিক নজরদারির শর্তে মুক্তি দেন। এরপর ৪ আগস্ট আইস কর্মকর্তারা তাকে আবার আটক করেন। শিকাগো সান-টাইমসও জানিয়েছে, আদালত থেকে ইলেকট্রনিক নজরদারিতে মুক্তি পাওয়ার দুই দিন পর তাকে আইস হেফাজতে নেওয়া হয়। আইসের দাবি, আলসাইদির বিরুদ্ধে আগে থেকেই অভিবাসন-সংক্রান্ত আটকাদেশ ছিল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাকে মুক্তি দেওয়ার পর আইস কর্মকর্তারা তাকে খুঁজে বের করে আটক করেন। তবে ‘অভয়-শহর নীতি’র কারণে তাকে ছাড়া হয়েছিল—এটি মূলত মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য; স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তির বিষয়টিকে সরাসরি ওই নীতির ফল হিসেবে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এরই মধ্যে মামলাটি ফেডারেল পর্যায়ে গড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ১৭ আগস্ট ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি আলসাইদির বিরুদ্ধে নিবন্ধনহীন ধ্বংসাত্মক যন্ত্র রাখার আটটি অভিযোগ অনুমোদন করেছে। প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাদণ্ড হতে পারে। অর্থাৎ সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ সাজা ৮০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। ফেডারেল অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ১ আগস্ট মকেনায় আলসাইদির কাছে প্রায় আটটি কাচের বোতল ছিল, যেগুলোতে দাহ্য তরল ও আগুন ধরানোর উপযোগী উপাদান ছিল। প্রতিটি বোতলকে আলাদা একটি ধ্বংসাত্মক যন্ত্র হিসেবে গণ্য করে আলাদা অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, আলসাইদি ইলিনয়ে বসবাস করতেন এবং ফেডারেল কর্তৃপক্ষ তাকে জর্ডানের নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করেছে। তবে তার অভিবাসন-ইতিহাস নিয়ে সরকারি বক্তব্য ও স্থানীয় প্রতিবেদনে অতিরিক্ত কিছু দাবি রয়েছে; এসব দাবিকে আলাদা করে যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন না করাই নিরাপদ। বর্তমানে আলসাইদি আইসের হেফাজতে রয়েছেন এবং ফেডারেল মামলায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার কথা। একই সঙ্গে মলোটভ ককটেলগুলোর সম্ভাব্য ব্যবহার, মানচিত্রে মসজিদের অবস্থান কেন ছিল এবং তিনি কোনো হামলার পরিকল্পনা করছিলেন কি না—এসব বিষয়েও তদন্ত চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে বাড়ছে দক্ষতাভিত্তিক নিয়োগ, ক্যারিয়ারে এগিয়ে দেবে যেসব সনদ
১৪ বছরের শিক্ষার্থীদের সামনে গর্ভপাত, যৌনতা ও টান্সজেন্ডার শিল্পকর্ম! অভিভাবকদের ক্ষোভ
অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ভার্জিনিয়ার বারাক ওবামা এলিমেন্টারি স্কুল
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ায় দুই সপ্তাহের বিশেষ ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট অভিযানে ১ হাজার ৩২৮ জনকে আটক করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। ১ থেকে ১৪ আগস্ট পরিচালিত ‘অপারেশন সেফ কমিউনিটি - ওয়াশিংটন, ডি.সি.’ অভিযানের তথ্য সোমবার জানিয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৪০০ জনের যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রেকর্ড অথবা চলমান ফৌজদারি অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, অপহরণ, ডাকাতি, পরিচয় চুরি, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং হিট অ্যান্ড রানসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ বা রেকর্ড রয়েছে। অভিযানটির মূল লক্ষ্য ছিল ওয়াশিংটন ডিসির আশপাশের মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ার বিভিন্ন এলাকা। তবে আইসিই কর্মকর্তারা দুই অঙ্গরাজ্যের অন্যান্য এলাকাতেও অভিযান চালান। ডিএইচএস জানিয়েছে, কিছু এলাকায় স্থানীয় পর্যায়ে স্যাংচুয়ারি নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও এসব আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে এমএস-১৩, ১৮থ স্ট্রিট গ্যাং এবং ট্রেন দে আরাগুয়া নামে পরিচিত ট্রান্সন্যাশনাল গ্যাংয়ের সদস্যরাও ছিলেন বলে ডিএইচএস দাবি করেছে। অভিযানে ভার্জিনিয়ার চেস্টারফিল্ড কাউন্টিতে এল সালভাদরের নাগরিক এয়গনার উইলফ্রেডো হুয়েজো-মোরানকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে রিচমন্ডে হত্যা ও আগ্নেয়াস্ত্রসংক্রান্ত মামলায় স্থানীয় পুলিশের ওয়ারেন্ট রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফৌজদারি মামলার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তাকে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়ার কথা জানিয়েছে আইসিই। মেরিল্যান্ডের উইকোমিকো কাউন্টিতে আটক হন হাইতির নাগরিক অ্যাকশনেল পিয়ের। ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, হামলা ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের আগের রেকর্ড রয়েছে। ভার্জিনিয়ার হ্যারিসনবার্গে আটক হন্ডুরাসের নাগরিক এসত্রেয়া রেয়েস-ফুনেজের বিরুদ্ধে ফেলোনি হিট অ্যান্ড রান মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। এ ছাড়া ম্যানাসাসে এল সালভাদরের নাগরিক জার্মান মেহিয়া-বাইরেসকে আটক করা হয়। তাকে এমএস-১৩-এর সদস্য বলে দাবি করেছে ডিএইচএস। হায়াটসভিলে আটক এল সালভাদরের নাগরিক মাউরিসিও আন্তোনিও বারেরা-নাভিদাদকেও এমএস-১৩-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আইসিইর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশন্স বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক প্যাট্রিসিয়া হাইড বলেন, দুই সপ্তাহের অভিযানে কর্মকর্তারা ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্ত ও আটক করতে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছেন। তবে অভিযান নিয়ে ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নিদের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে। অ্যাটর্নি কার্লোস জুরাদো বলেন, বড় আকারের অভিযান আগের তুলনায় কমলেও কিছু আটক অভিযান এখন কম দৃশ্যমানভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং এসব ঘটনায় বলপ্রয়োগের মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। জুরাদো তার এক মক্কেল হোসে মেহিয়া হার্নান্দেজের ঘটনা তুলে ধরে দাবি করেন, আইসিই তাকে আটক করার সময় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে হার্নান্দেজ হাসপাতালে জ্ঞান ফিরে পান এবং তার মুখে গুরুতর আঘাত ও ফোলা ছিল। হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ার এই অভিযান জুলাইয়ে জর্জিয়ায় চালানো একই ধরনের ‘অপারেশন সেফ কমিউনিটি’ অভিযানের পরপরই হয়েছে। জর্জিয়ায় ওই অভিযানে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছিল।
আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম রেকর্ড উচ্চতায়, ইউক্রেন-ইরান সংঘাতে বাড়ছে চাপ
মামলার শুনানির পর আদালতের বাইরে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের সেই দম্পতি, মিলতে পারে আইনি ছাড়
‘মুসলিম সংস্কৃতির মধ্যে বড় হতে না পারা আমার বড় আফসোসগুলোর একটি’: বেলা হাদিদ
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনায় একটি নার্সিং হোমের চরম অবহেলায় এক বৃদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ৮৩ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধা আলঝেইমার রোগে ভুগছিলেন। নার্সিং হোমের খোলা দরজা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার পর তাকে আক্রমণ করে অসংখ্য বিষ পিঁপড়া বা ফায়ার অ্যান্ট। তার শরীরে এক হাজারেরও বেশি কামড়ের দাগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় ওই নার্সিং হোমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে নিহতের পরিবার। আইন ও অপরাধ বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ল অ্যান্ড ক্রাইমের হাতে আসা মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, নিহত বৃদ্ধার নাম শেলবা ক্যাটারটন। তিনি কথা বলতে পারতেন না এবং অ্যাডভান্সড ডিমেনশিয়া বা চরম স্মৃতিভ্রম রোগে ভুগছিলেন। গত ২৩ জুলাই রাত ১০টার পর নার্সিং হোমের এক কর্মীর ভুলে খোলা থাকা একটি দরজা দিয়ে তিনি একা বাইরে বেরিয়ে যান। এরপরই তিনি পিঁপড়ার আক্রমণের শিকার হন। কয়েক ঘণ্টা পর চার্লসটনের হারমনি অ্যাট ওয়েস্ট অ্যাশলে নামের ওই নার্সিং হোমের একটি সুরক্ষিত আঙিনায় পিঁপড়ার ঢিবির ওপর তাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। অসুস্থতার কারণে তিনি চিৎকার করতে বা শরীর থেকে পিঁপড়াগুলো সরিয়ে ফেলতে পারেননি। এক কর্মী তাকে ওই অবস্থায় দেখে জরুরি সেবা ৯১১ নম্বরে কল করেন। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ওই কর্মী কল রিসিভারকে জানিয়েছিলেন, বৃদ্ধার শরীরে অসংখ্য পিঁপড়া ছেঁকে ধরেছিল। তার পিঠে এবং মুখে প্রচুর ফোসকা পড়েছিল। চার্লসটন পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে এবং তাদের ধারণা, এক কর্মীর খোলা রাখা দরজা দিয়েই ক্যাটারটন বাইরে গিয়েছিলেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, হারমনির কর্মীরা যখন তাকে উদ্ধার করেন, ততক্ষণে তার শরীরে অন্তত এক হাজারবার কামড় ও হুল ফোটানো হয়েছে। তার মুখ, চোখ, মাথা, পিঠ, বুক, হাত ও পায়ে ছিল অসংখ্য কামড়ের দাগ। উদ্ধারের পর ক্যাটারটনের চিকিৎসা করা চিকিৎসকরা জানান, তিনি হাইপোথার্মিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তার শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক করার পর তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, ৭ আগস্ট ওই বৃদ্ধা মারা যান। এই ঘটনায় নিহতের পরিবার অবহেলা, অস্বাভাবিক মৃত্যু এবং আলঝেইমার রোগীদের যত্নের বিষয়ে রাজ্যের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর ৩৬ ঘণ্টা পার হলেও কর্মীরা তাদের কিছু জানাননি। পরিবারের আইনজীবী নেট হিউই স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউসিবিডিকে জানান, গত ২৫ বছরে বয়স্কদের ওপর নির্যাতনের যতগুলো মামলা তিনি পরিচালনা করেছেন, এটি তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। ক্যাটারটনের মেয়ে জ্যান বুইস ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তিনি এই ঘটনায় আতঙ্কিত। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে কারও যাওয়া উচিত নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফায়ার অ্যান্ট বা বিষ পিঁপড়ার কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা বিরল হলেও শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে একাধিক কামড়ে অ্যানাফিল্যাকটিক শকসহ মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এদিকে হারমনি নার্সিং হোমের একজন মুখপাত্র ডব্লিউসিবিডিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তবে বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় তারা বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। দ্য ইনডিপেনডেন্ট এ বিষয়ে আরও জানতে নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। তথ্যসূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট
২৫ সপ্তাহে গর্ভের বাইরে এনে শিশুর ফুসফুসের চিকিৎসা, এরপর আবার গর্ভেই ফিরিয়ে দিলেন চিকিৎসকেরা
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভিসা বাতিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন, ঝুঁকিতে ২ লাখ আশ্রয়প্রার্থী