সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর গ্রিন কার্ড পেতে পূরণ করতে হবে বিশেষ ৬ শর্ত

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ৫:৩৪
গ্রিন কার্ড পেতে পূরণ করতে হবে বিশেষ ৬ শর্ত
গ্রিন কার্ড পেতে পূরণ করতে হবে বিশেষ ৬ শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী মারা গেলে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জীবিত স্বামী বা স্ত্রী নিজস্ব আবেদনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সাধারণত ফর্ম আই-৩৬০ ব্যবহার করে আবেদন করতে হয়। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা—ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীর বৈবাহিক সম্পর্ক, মৃত স্বামীর বা স্ত্রীর নাগরিকত্ব এবং পুনর্বিবাহের বিষয়সহ কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হয়। 

 

প্রথম শর্ত হলো—মৃত স্বামী বা স্ত্রীকে মৃত্যুর সময় মার্কিন নাগরিক হতে হবে। ইউএসসিআইএসের নথি অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী নাগরিক, বিদেশে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিকের সন্তান হিসেবে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তি অথবা স্বাভাবিকীকরণের মাধ্যমে নাগরিক হওয়া ব্যক্তি—যেকোনো একটি অবস্থানে থাকতে পারেন। এ বিষয়টি প্রমাণ করতে জন্মসনদ, নাগরিকত্বের সনদ বা বৈধ মার্কিন পাসপোর্টের মতো নথি দিতে হতে পারে। 

 

দ্বিতীয় শর্ত—আইনগতভাবে বিবাহিত স্বামী বা স্ত্রী হতে হবে। আবেদনকারীর সঙ্গে মৃত মার্কিন নাগরিকের বৈধ বিবাহের প্রমাণ দিতে হবে। এর জন্য বিবাহের সনদ প্রয়োজন হয়। আগে অন্য কোনো বিবাহ হয়ে থাকলে, সেই বিবাহ আইনগতভাবে শেষ হয়েছে—এমন প্রমাণও প্রয়োজন হতে পারে। 

 

তৃতীয় শর্ত—মৃত্যুর সময় স্বামী-স্ত্রী আইনগতভাবে আলাদা থাকা যাবে না। ইউএসসিআইএসের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মৃত মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে মৃত্যুর সময় আবেদনকারী আইনগতভাবে আলাদা থাকলে এই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় আবেদন করার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। ফর্ম আই-৩৬০-এ এ বিষয়ে সরাসরি তথ্য চাওয়া হয়। 

 

চতুর্থ শর্ত—আবেদনকারীকে পুনরায় বিয়ে করা যাবে না। স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর আবেদনকারী যদি অন্য কাউকে বিয়ে করে থাকেন, তাহলে মৃত মার্কিন নাগরিকের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নষ্ট হতে পারে। ইউএসসিআইএস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আবেদন করার সময় পুনর্বিবাহ না করা একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। 

 

পঞ্চম শর্ত—স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। ইউএসসিআইএসের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে মৃত মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর দুই বছরের মধ্যে ফর্ম আই-৩৬০ জমা দিতে হয়। অর্থাৎ মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে আবেদন করলে এই বিশেষ ব্যবস্থার সুযোগ নাও থাকতে পারে। 

 

ষষ্ঠ শর্ত—বিয়েটি প্রকৃত বৈবাহিক সম্পর্ক হতে হবে এবং আবেদনকারীকে অভিবাসনের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে হবে। ইউএসসিআইএসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিয়েটি শুধু অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল—এমন হলে আবেদন গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। একই সঙ্গে আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের অন্যান্য প্রযোজ্য যোগ্যতাও পূরণ করতে হবে। 

 

কীভাবে আবেদন করবেন?

 

মৃত মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রীর পক্ষ থেকে আগে ফর্ম আই-১৩০ জমা দেওয়া হয়ে থাকলে এবং সেটি অনুমোদিত বা বিচারাধীন থাকলে, অনেক ক্ষেত্রে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিধবা বা বিপত্নীক স্বামী-স্ত্রীর ফর্ম আই-৩৬০ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নতুন করে আই-৩৬০ জমা দেওয়ার প্রয়োজন সব ক্ষেত্রে হয় না। 

 

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত যোগ্য আবেদনকারীরা পরিস্থিতি অনুযায়ী ফর্ম আই-৪৮৫ ব্যবহার করে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, এ ধরনের বিধবা বা বিপত্নীক স্বামী-স্ত্রীর জন্য অভিবাসন ভিসা সাধারণত সরাসরি পাওয়া যায় যখন আই-৩৬০ অনুমোদিত হয়। 

 

তবে শুধু এই ছয়টি শর্ত পূরণ করলেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত অভিবাসন ইতিহাস, অপরাধমূলক রেকর্ড, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ইতিহাস এবং অন্যান্য আইনগত বিষয়ও বিবেচনায় আসতে পারে। তাই বাস্তব কোনো আবেদন করার আগে ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বর্জনে ফের সরব কানাডীয়রা
শুল্কযুদ্ধের উত্তাপ বাড়তেই যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বর্জনে ফের সরব কানাডীয়রা

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর মার্কিন পণ্য ও সেবা বর্জনের আন্দোলন নতুন করে জোরদার হচ্ছে কানাডায়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের পর অনেক কানাডীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও মার্কিন পণ্য না কেনার আহ্বান জানাচ্ছেন।   দুই দেশের কয়েক দফা আলোচনার পর গত শুক্রবার বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যায়। এর পরদিন যুক্তরাষ্ট্র কানাডার কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করে। এর আওতায় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় পণ্য পড়েছে। জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।   নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘটনায় কানাডীয়দের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব আরও তীব্র হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ভ্যাঙ্কুভারের শিশুমনোরোগ বিশেষজ্ঞ টাইলার ব্ল্যাক বলেন, তাঁর এলাকায় হাঁটতে বের হলে শুল্ক, ট্রাম্প ও কার্নির বাণিজ্যনীতি নিয়ে আলোচনা শুনতে পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় প্রতিটি জায়গাতেই রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, অনেক কানাডীয় মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর আক্রমণাত্মক অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ‘বয়কট ইউএসএ’ প্রচারণা আবার সক্রিয় হয়েছে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কানাডীয় পণ্য কেনার আহ্বান জানিয়ে পোস্ট, তালিকা ও প্রচারমূলক বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে। কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বন্ধ রাখার কথাও বলছেন। এমনকি ইউরোপের কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীও এই বর্জন কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন।   কানাডায় মার্কিন পণ্য বর্জনের প্রবণতা অবশ্য নতুন নয়। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অনেক কানাডীয় মার্কিন পণ্য কেনা কমিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ থেকেও বিরত থেকেছেন। টরন্টোর লেখক টিনা গ্যারেট বলেন, সাম্প্রতিক শুল্ক আরোপের কারণে যারা আগে বর্জন শুরু করেছিলেন, তাঁদের অনেকেই আবার নতুন করে এতে সক্রিয় হতে পারেন।   কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও শুল্কসংঘাতকে জাতীয় ঐক্যের সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, কানাডার নিজস্ব সম্পদ ও সক্ষমতা রয়েছে এবং কোনো দেশকে কানাডার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে দেওয়া হবে না। তাঁর সরকার আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পণ্যে ডলারের বিপরীতে ডলার হিসেবে পাল্টা শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে।   এরই মধ্যে কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজসহ বিভিন্ন রপ্তানি নিয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ২০২৫ সালে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছিল।    নতুন মার্কিন শুল্কের প্রভাব পড়ছে কানাডার বিভিন্ন পণ্যে। মধু, প্রসাধনী, ক্রিসমাসের সাজসজ্জার সামগ্রী, হকি সরঞ্জাম, পোশাক, আসবাব, দুগ্ধজাত পণ্যসহ ৫৫০টির বেশি কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এসব পণ্যের মোট মূল্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার মোট পণ্য রপ্তানির তুলনায় একটি সীমিত অংশ।   তবে বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব শুধু দুই দেশের সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। কানাডীয় ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘদিন শুল্ক বহাল থাকলে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কানাডীয় পণ্যের প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে। একইভাবে মার্কিন আমদানিকারকরাও বাড়তি খরচের একটি অংশ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারেন।   অর্থনৈতিক বর্জনের বাস্তব প্রভাব কতটা হবে, তা অবশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোক্তাদের বড় পরিসরের বর্জন কোনো কোনো কোম্পানির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব নির্ভর করবে বর্জনের ব্যাপ্তি ও স্থায়িত্বের ওপর। তবে রাজনৈতিকভাবে এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মার্কিন শুল্কের বিরুদ্ধে কানাডীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদী মনোভাব আরও জোরালো হচ্ছে।   সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য আলোচনার ব্যর্থতার পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক বাড়ানোর হুমকি, অন্যদিকে কানাডার পাল্টা শুল্ক ও মার্কিন পণ্য বর্জনের আহ্বান—সব মিলিয়ে উত্তর আমেরিকার দুই ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যে অর্থনৈতিক সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ৬:৫৩
গ্রিন কার্ড পেতে পূরণ করতে হবে বিশেষ ৬ শর্ত

মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর গ্রিন কার্ড পেতে পূরণ করতে হবে বিশেষ ৬ শর্ত

মিডটার্ম নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের ডাকযোগে ভোটের আদেশ কার্যকরের পথ খুলে দিল সুপ্রিম কোর্ট

মিডটার্ম নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের ডাকযোগে ভোটের আদেশ কার্যকরের পথ খুলে দিল সুপ্রিম কোর্ট

ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে ট্রাম্পপুত্র ব্যারনকে হত্যার হুমকি

ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে ট্রাম্পপুত্র ব্যারনকে হত্যার হুমকি, ১ কোটি ডলারের পুরস্কারের ঘোষণা

মলোটভ ককটেলসহ আটক জর্ডানীয় নাগরিককে আদালত থেকে মুক্তির পর ফের গ্রেপ্তার করল আইস
মলোটভ ককটেলসহ আটক জর্ডানীয় নাগরিককে আদালত থেকে মুক্তির পর ফের গ্রেপ্তার করল আইস

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ের মকেনায় আটটি মলোটভ ককটেলসহ গ্রেপ্তার হওয়া ৩১ বছর বয়সী জর্ডানীয় নাগরিক হ্যামেদ মোহাম্মদ হ্যামেদ আলসাইদিকে আদালত থেকে মুক্তি দেওয়ার পর আবার আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা—আইস। স্থানীয় পুলিশ ও ফেডারেল তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘিরে এখন অস্ত্র, অভিবাসন ও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে তদন্ত চলছে।    ঘটনার সূত্রপাত ১ আগস্ট ভোরে। মকেনা পুলিশ ১৯১তম স্ট্রিট ও লা গ্রাঞ্জ রোড এলাকায় আলসাইদিকে রাস্তায় হাঁটতে দেখে। পুলিশ তাকে থামালে তিনি নিজের নাম হাকমাত সাইদি বলে পরিচয় দেন বলে কর্মকর্তারা জানান। পরে তাকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তার ব্যাকপ্যাক থেকে আটটি কাচের বোতল পাওয়া যায়। বোতলগুলোতে দাহ্য তরল এবং কাপড়ের অংশ ছিল, যা তদন্তকারীরা মলোটভ ককটেল হিসেবে চিহ্নিত করেন।    ঘটনাটি আরও গুরুত্ব পায় যখন পুলিশ তার ব্যাকপ্যাকে একটি এলাকার হাতে আঁকা মানচিত্র এবং ‘মসজিদ’ শব্দ লেখা একটি কাগজ পায়। পুলিশের দাবি, মানচিত্রে অরল্যান্ড পার্ক এলাকার একটি মসজিদ বা প্রার্থনাকেন্দ্রের অবস্থানের ইঙ্গিত ছিল। এ কারণে তদন্তকারীরা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে আলসাইদি ওই স্থানে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন—এমন অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।    পুলিশের পাশাপাশি অ্যালকোহল, তামাক, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক নিয়ন্ত্রণকারী ফেডারেল সংস্থা—এটিএফ, এফবিআই এবং ইলিনয় স্টেট ফায়ার মার্শালের কার্যালয় তদন্তে যুক্ত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আলসাইদি এর আগে একটি গ্যাস স্টেশনের কাছেও সন্দেহজনক অবস্থায় ছিলেন। পরে তাকে অন্য একটি খোলা গ্যাস স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।    প্রাথমিকভাবে আলসাইদির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অস্ত্র রাখার অভিযোগ এবং পুলিশের কাছে নিজের পরিচয় গোপন করার অভিযোগ আনা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে অরল্যান্ড পার্ক এলাকার বাসিন্দা ও ঠিকানাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সুরক্ষা আদেশও ছিল। প্রসিকিউটররা তাকে পলাতক হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।    তবে ৩ আগস্ট উইল কাউন্টির এক বিচারক তাকে কারাগারে না রেখে ইলেকট্রনিক নজরদারির শর্তে মুক্তি দেন। এরপর ৪ আগস্ট আইস কর্মকর্তারা তাকে আবার আটক করেন। শিকাগো সান-টাইমসও জানিয়েছে, আদালত থেকে ইলেকট্রনিক নজরদারিতে মুক্তি পাওয়ার দুই দিন পর তাকে আইস হেফাজতে নেওয়া হয়।    আইসের দাবি, আলসাইদির বিরুদ্ধে আগে থেকেই অভিবাসন-সংক্রান্ত আটকাদেশ ছিল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাকে মুক্তি দেওয়ার পর আইস কর্মকর্তারা তাকে খুঁজে বের করে আটক করেন। তবে ‘অভয়-শহর নীতি’র কারণে তাকে ছাড়া হয়েছিল—এটি মূলত মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য; স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তির বিষয়টিকে সরাসরি ওই নীতির ফল হিসেবে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।    এরই মধ্যে মামলাটি ফেডারেল পর্যায়ে গড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ১৭ আগস্ট ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি আলসাইদির বিরুদ্ধে নিবন্ধনহীন ধ্বংসাত্মক যন্ত্র রাখার আটটি অভিযোগ অনুমোদন করেছে। প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাদণ্ড হতে পারে। অর্থাৎ সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ সাজা ৮০ বছর পর্যন্ত হতে পারে।    ফেডারেল অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ১ আগস্ট মকেনায় আলসাইদির কাছে প্রায় আটটি কাচের বোতল ছিল, যেগুলোতে দাহ্য তরল ও আগুন ধরানোর উপযোগী উপাদান ছিল। প্রতিটি বোতলকে আলাদা একটি ধ্বংসাত্মক যন্ত্র হিসেবে গণ্য করে আলাদা অভিযোগ আনা হয়েছে।    তদন্তে আরও জানা গেছে, আলসাইদি ইলিনয়ে বসবাস করতেন এবং ফেডারেল কর্তৃপক্ষ তাকে জর্ডানের নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করেছে। তবে তার অভিবাসন-ইতিহাস নিয়ে সরকারি বক্তব্য ও স্থানীয় প্রতিবেদনে অতিরিক্ত কিছু দাবি রয়েছে; এসব দাবিকে আলাদা করে যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন না করাই নিরাপদ।   বর্তমানে আলসাইদি আইসের হেফাজতে রয়েছেন এবং ফেডারেল মামলায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার কথা। একই সঙ্গে মলোটভ ককটেলগুলোর সম্ভাব্য ব্যবহার, মানচিত্রে মসজিদের অবস্থান কেন ছিল এবং তিনি কোনো হামলার পরিকল্পনা করছিলেন কি না—এসব বিষয়েও তদন্ত চলছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ৪:২৯
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে বাড়ছে দক্ষতাভিত্তিক নিয়োগ

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে বাড়ছে দক্ষতাভিত্তিক নিয়োগ, ক্যারিয়ারে এগিয়ে দেবে যেসব সনদ

১৪ বছরের শিক্ষার্থীদের সামনে গর্ভপাত, যৌনতা ও টান্সজেন্ডার শিল্পকর্ম!

১৪ বছরের শিক্ষার্থীদের সামনে গর্ভপাত, যৌনতা ও টান্সজেন্ডার শিল্পকর্ম! অভিভাবকদের ক্ষোভ

অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ভার্জিনিয়ার বারাক ওবামা এলিমেন্টারি স্কুল

অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ভার্জিনিয়ার বারাক ওবামা এলিমেন্টারি স্কুল

মাত্র দুই সপ্তাহেই মেরিল্যান্ড-ভার্জিনিয়ায় ১,৩২৮ জনকে আটক করেছে আইসিই
মাত্র দুই সপ্তাহেই মেরিল্যান্ড-ভার্জিনিয়ায় ১,৩২৮ জনকে আটক করেছে আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ায় দুই সপ্তাহের বিশেষ ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট অভিযানে ১ হাজার ৩২৮ জনকে আটক করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। ১ থেকে ১৪ আগস্ট পরিচালিত ‘অপারেশন সেফ কমিউনিটি - ওয়াশিংটন, ডি.সি.’ অভিযানের তথ্য সোমবার জানিয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৪০০ জনের যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রেকর্ড অথবা চলমান ফৌজদারি অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, অপহরণ, ডাকাতি, পরিচয় চুরি, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং হিট অ্যান্ড রানসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ বা রেকর্ড রয়েছে।   অভিযানটির মূল লক্ষ্য ছিল ওয়াশিংটন ডিসির আশপাশের মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ার বিভিন্ন এলাকা। তবে আইসিই কর্মকর্তারা দুই অঙ্গরাজ্যের অন্যান্য এলাকাতেও অভিযান চালান। ডিএইচএস জানিয়েছে, কিছু এলাকায় স্থানীয় পর্যায়ে স্যাংচুয়ারি নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও এসব আটক করা হয়।   আটকদের মধ্যে এমএস-১৩, ১৮থ স্ট্রিট গ্যাং এবং ট্রেন দে আরাগুয়া নামে পরিচিত ট্রান্সন্যাশনাল গ্যাংয়ের সদস্যরাও ছিলেন বলে ডিএইচএস দাবি করেছে।   অভিযানে ভার্জিনিয়ার চেস্টারফিল্ড কাউন্টিতে এল সালভাদরের নাগরিক এয়গনার উইলফ্রেডো হুয়েজো-মোরানকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে রিচমন্ডে হত্যা ও আগ্নেয়াস্ত্রসংক্রান্ত মামলায় স্থানীয় পুলিশের ওয়ারেন্ট রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফৌজদারি মামলার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তাকে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়ার কথা জানিয়েছে আইসিই।   মেরিল্যান্ডের উইকোমিকো কাউন্টিতে আটক হন হাইতির নাগরিক অ্যাকশনেল পিয়ের। ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, হামলা ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের আগের রেকর্ড রয়েছে। ভার্জিনিয়ার হ্যারিসনবার্গে আটক হন্ডুরাসের নাগরিক এসত্রেয়া রেয়েস-ফুনেজের বিরুদ্ধে ফেলোনি হিট অ্যান্ড রান মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে।   এ ছাড়া ম্যানাসাসে এল সালভাদরের নাগরিক জার্মান মেহিয়া-বাইরেসকে আটক করা হয়। তাকে এমএস-১৩-এর সদস্য বলে দাবি করেছে ডিএইচএস। হায়াটসভিলে আটক এল সালভাদরের নাগরিক মাউরিসিও আন্তোনিও বারেরা-নাভিদাদকেও এমএস-১৩-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   আইসিইর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশন্স বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক প্যাট্রিসিয়া হাইড বলেন, দুই সপ্তাহের অভিযানে কর্মকর্তারা ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্ত ও আটক করতে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছেন।   তবে অভিযান নিয়ে ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নিদের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে। অ্যাটর্নি কার্লোস জুরাদো বলেন, বড় আকারের অভিযান আগের তুলনায় কমলেও কিছু আটক অভিযান এখন কম দৃশ্যমানভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং এসব ঘটনায় বলপ্রয়োগের মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।   জুরাদো তার এক মক্কেল হোসে মেহিয়া হার্নান্দেজের ঘটনা তুলে ধরে দাবি করেন, আইসিই তাকে আটক করার সময় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে হার্নান্দেজ হাসপাতালে জ্ঞান ফিরে পান এবং তার মুখে গুরুতর আঘাত ও ফোলা ছিল। হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ার এই অভিযান জুলাইয়ে জর্জিয়ায় চালানো একই ধরনের ‘অপারেশন সেফ কমিউনিটি’ অভিযানের পরপরই হয়েছে। জর্জিয়ায় ওই অভিযানে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ০:৪২
আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম রেকর্ড উচ্চতায়

আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম রেকর্ড উচ্চতায়, ইউক্রেন-ইরান সংঘাতে বাড়ছে চাপ

ম্যানহাটন ক্রিমিনাল কোর্টের বাইরে আলোচিত স্কাইওয়াকার্স যুগল অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউ ও ইভান কুজনেটসভ। ছবি: সংগৃহীত

মামলার শুনানির পর আদালতের বাইরে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের সেই দম্পতি, মিলতে পারে আইনি ছাড়

মুসলিম ও ফিলিস্তিনি শিকড় নিয়ে নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা ও আক্ষেপের কথা বলেছেন মডেল বেলা হাদিদ। ছবি: সংগৃহীত

‘মুসলিম সংস্কৃতির মধ্যে বড় হতে না পারা আমার বড় আফসোসগুলোর একটি’: বেলা হাদিদ

0 Comments