- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত বিখ্যাত এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়ায় উঠে প্রেম নিবেদনের ঘটনায় অভিযুক্ত এক দুঃসাহসী যুগল ম্যানহাটন ক্রিমিনাল কোর্টে হাজিরা দিয়েছেন। গত সোমবার আদালতে হাজিরার পর এই জুটির বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর ক্ষেত্রে আইনি সমঝোতা বা প্লি ডিল হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন সরকারি কৌঁসুলিরা। আর এই খবর শোনার পরই আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে প্রকাশ্যেই অন্তরঙ্গভাবে উদযাপন করতে দেখা গেছে তাদের। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ৩৩ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউ এবং তার ৩২ বছর বয়সী প্রেমিক ইভান কুজনেটসভ গত জুলাই মাসে নিজেদের বাগদানের জন্য এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ে উঠেছিলেন। এই বিপজ্জনক ও বেআইনি কাজের জন্য তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। সোমবার শুনানির পর আদালত ভবনের বাইরে একটি হটডগের দোকানের কাছে তারা একে অপরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন। সে সময় তাদের হাতে খেলনা হাতকড়া পরা ছিল। প্রায় আধা মিনিট ধরে তারা একে অপরকে চুম্বন করেন। এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের প্রায় এক হাজার ফুটেরও বেশি উঁচুতে ইভান হাঁটু গেড়ে বসে অ্যাঞ্জেলাকে যে আংটি দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেটিও এদিন প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে প্রদর্শন করেন অ্যাঞ্জেলা। তবে আদালতে যাওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি অদ্ভুত ভিডিও পোস্ট করেছিলেন অ্যাঞ্জেলা। সেখানে তাকে একটি ল্যাটেক্স বডিস্যুট পরে হাতে ছুরি নিয়ে তার প্রেমিকের মাথায় জিহ্বা লাগাতে দেখা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন কোর্ট প্রেপ বা আদালতের প্রস্তুতি। শুনানির দিন বিচারক বেভারলি টাথামের সামনে আইনজীবীদের পেছনে দাঁড়িয়ে তারা একে অপরের হাত ধরে রেখেছিলেন। শুনানিতে ম্যানহাটনের সহকারী ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জেসিকা ওয়াল্ডম্যান জানান, এই যুগলের সঙ্গে তাদের সক্রিয় আইনি সমঝোতার আলোচনা চলছে। এই সম্ভাব্য চুক্তির শর্তগুলো ঠিক কী হতে পারে তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে চুরি এবং বেপরোয়াভাবে জীবনের ঝুঁকি সৃষ্টির মতো যেসব গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাতে দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। সরকারি কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, গত মাসে নিউইয়র্কের অন্যতম প্রধান এই স্থাপনায় ওঠার সময় তারা প্রায় দুই হাজার ডলারের সমপরিমাণ ক্ষতি করেছেন। এছাড়া তাদের কারণে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের সম্প্রচার অ্যান্টেনার বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ রাখতে হয়েছিল। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই রাত ৯টার দিকে ওই যুগল এক হাজার ৪৫৪ ফুট উঁচু এই ভবনে প্রবেশের জন্য টিকিট কাটেন। এরপর তারা সেখানে সারারাত লুকিয়ে থাকেন। পরদিন ভোর ৫টার দিকে তারা ভবনের ১০২ তলার একটি হ্যাচ বা ঢাকনা খুলে বাইরে বেরিয়ে আসেন। এরপর তারা ভবনের অ্যান্টেনা বেয়ে উঠতে শুরু করেন এবং সেখানে একটি ব্যানার ঝুলিয়ে দেন। ব্যানারে লেখা ছিল, যখন ক্ষমতার প্রতি ভালোবাসার চেয়ে ভালোবাসার ক্ষমতা জয়ী হয়, তখন বিশ্ব শান্তি লাভ করে। এই মুহূর্তের ভিডিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং ওই যুগল নিজেরাই ধারণ করেছিলেন। অ্যান্টেনা থেকে নিচে নামার পর ইভান একটি কালো বিড়ালের মুখোশ পরা অ্যাঞ্জেলাকে হাঁটু গেড়ে বসে বিয়ের প্রস্তাব দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইভান ভানিয়া বিয়ারকাস নামেও পরিচিত। এই ঘটনার পর অ্যাঞ্জেলা এবং ইভানের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চুরি, বেপরোয়া আচরণ এবং অপরাধমূলক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। এর পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে চুরির সরঞ্জাম রাখা এবং অবৈধভাবে অনধিকার প্রবেশের মতো ছোটখাটো অভিযোগও রয়েছে। উল্লেখ্য, এই যুগল ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া নেটফ্লিক্সের একটি প্রামাণ্যচিত্র স্কাইওয়াকার্স: অ্যা লাভ স্টোরি এর মূল চরিত্র ছিলেন। প্রামাণ্যচিত্রটি ওই বছর সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়েছিল। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর তাদের আবার আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিজের বাসভবনে তেলাপোকা দেখে প্রথমে চমকে উঠেছিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তবে পরে তার কর্মীরা সেটি সরিয়ে দেওয়ার পর উল্টো কিছুটা ‘একাকী’ ও ‘মন খারাপ’ লাগার কথা জানিয়েছেন তিনি। ব্যতিক্রমী এই অভিজ্ঞতার কথা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই শেয়ার করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। ২২ আগস্ট এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তাকাইচি তার সরকারি বাসভবনে তেলাপোকা দেখার ঘটনা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি নিয়মিত যে ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হন, সেগুলোর কয়েকটির উত্তর দিচ্ছিলেন। এর মধ্যে একটি ছিল, টোকিওর প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন নিয়ে প্রচলিত ভূতের গল্প সত্যি কি না এবং তিনি সেখানে কোনো ভূত দেখেছেন কি না। তাকাইচি জানান, তিনি এখন পর্যন্ত কোনো ভূত দেখেননি। তবে একটি তেলাপোকার দেখা পেয়েছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনটি দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। ১৯৩০-এর দশকে জাপানে সংঘটিত দুটি ব্যর্থ অভ্যুত্থানের সঙ্গে ভবনটির ইতিহাসের যোগসূত্র রয়েছে। ওই সময় নিহত ব্যক্তিদের আত্মা সেখানে ঘোরাফেরা করে বলে দীর্ঘদিন ধরে নানা গল্প প্রচলিত রয়েছে। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভূত দেখার প্রশ্নটি করা হয়েছিল বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভূতের বদলে তাকাইচির সামনে হাজির হয়েছিল বাস্তবের একটি তেলাপোকা। এক্সে তাকাইচি লেখেন, এর আগে সদস্যদের আবাসিক ভবনে থাকার সময় তিনি কখনো তেলাপোকার মুখোমুখি হননি। সরকারি বাসভবনে ওঠার পরও তিনি পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে বেশ সতর্ক ছিলেন। খাবারের উচ্ছিষ্ট ঢাকনাযুক্ত শক্ত ময়লার পাত্রে রাখতেন, প্লাস্টিকের পাত্র ধুয়ে পরিষ্কার করতেন এবং খাবার টেবিলের নিচের মেঝে নিয়মিত পরিষ্কার করতেন। তারপরও একদিন হঠাৎ খাবার টেবিলের পাশ দিয়ে একটি তেলাপোকা দৌড়ে যেতে দেখে তিনি বেশ অবাক হন। তাকাইচি জানান, ছোটবেলায় ওসামু তেজুকার ‘ফিনিক্স’ মাঙ্গা তার খুব প্রিয় ছিল। পুনর্জন্ম ও জীবনের চক্রের মতো বিষয় নিয়ে তৈরি সেই গল্পের প্রভাব তার মধ্যে এতটাই গভীর যে বড় হওয়ার পরও কোনো পোকামাকড়, এমনকি তেলাপোকাকেও হত্যা করতে তার মন সায় দেয় না। তাই তেলাপোকাটিকে মেরে ফেলার বদলে তিনি সেটিকে কিছু সময়ের জন্য বাড়ির ভেতরেই ঘুরে বেড়াতে দেন। নিজের ভাবনার কথা বলতে গিয়ে তাকাইচি জানান, তার মনে হয়েছিল, হয়তো এই জীবনও পুনর্জন্মের দীর্ঘ চক্রেরই একটি অংশ। তবে তেলাপোকাটিকে বেশিদিন স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতে দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর কর্মীরা বিষয়টি জানতে পারেন। তাকাইচির ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি শুনে তার এক কর্মী বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে বলেন, এটি অস্বাস্থ্যকর এবং তিনি নিজেই ব্যবস্থা নেবেন। এরপর কর্মীদের উদ্যোগে তেলাপোকা ধরার জন্য একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়। তাকাইচি সেটিকে মজার ছলে ‘অপারেশন কমব্যাট’ বলে উল্লেখ করেছেন। কর্মীদের সেই অভিযানের পর সরকারি বাসভবনে আর কোনো তেলাপোকা দেখেননি তাকাইচি। কিন্তু ঘটনাটির শেষটা তার নিজের কাছেই কিছুটা অপ্রত্যাশিত। তেলাপোকাটি চলে যাওয়ায় স্বস্তি পেলেও একই সঙ্গে তার কিছুটা একাকী বা বিষণ্ন লাগছিল বলে জানান তিনি। এক্স পোস্টে তাকাইচি লিখেছেন, তেলাপোকাটি চলে যাওয়ার পর তিনি স্বস্তি পেয়েছিলেন, তবে একই সঙ্গে কিছুটা একাকী বা মন খারাপও লাগছিল। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর এমন ব্যক্তিগত ও হালকা মেজাজের গল্প প্রকাশ্যে আসার বিষয়টি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাকাইচি সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি কাজের পাশাপাশি নিজের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য শেয়ার করছেন। তবে তেলাপোকার গল্পটি প্রকাশের আগে আরেকটি পোস্টে তাকাইচি জানিয়েছিলেন, তিনি তার দপ্তরের পরিবর্তে সরকারি বাসভবন থেকেই বেশি কাজ করছেন। তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন তিনি সরকারি বাসভবনে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় কাটাচ্ছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে আলোচনা হচ্ছিল। তাকাইচির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাসভবন থেকে কাজ করলে একই সময়ে প্রয়োজনীয় কর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। বিশেষ পুলিশ বা নিরাপত্তা সদস্যদেরও কম সময়ের জন্য যুক্ত করতে হয়। এতে কর্মীদের ওপর কাজের চাপ কমানোর পাশাপাশি দাপ্তরিক কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয় বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন শুধু থাকার জায়গা নয়। এটি বৈঠক এবং বিভিন্ন সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্যও ব্যবহৃত হয়। সব মিলিয়ে, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর তেলাপোকা নিয়ে এই গল্পটি দেশটির রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বাসভবনকে ঘিরে প্রচলিত ভূতের গল্পের আলোচনায়ও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভূত না দেখলেও তেলাপোকার সঙ্গে তার এই অপ্রত্যাশিত সাক্ষাৎ এবং সেটি চলে যাওয়ার পর তার ‘একাকী’ অনুভূতির কথা এখন মানুষের কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির এক্স পোস্ট
বিশ্বখ্যাত মডেল বেলা হাদিদ তার শৈশব, পারিবারিক বিচ্ছেদ এবং নিজের মুসলিম ও ফিলিস্তিনি শিকড় থেকে দূরে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ছোটবেলায় মুসলিমদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিবেশে বড় হতে না পারা এবং বাবার সঙ্গে থেকে নিজের ধর্মীয় সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ না পাওয়া তার জীবনের অন্যতম বড় আফসোস। ২০২২ সালে জিকিউ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেলা এসব কথা বলেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তার সেই বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর মাত্র চার বছর বয়সে তার জীবনের পরিবেশ অনেকটাই বদলে যায়। তিনি মা ইয়োলান্ডা হাদিদের সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারায় চলে যান এবং বাবার ফিলিস্তিনি পরিবারের কাছ থেকে দূরে বড় হতে থাকেন। বেলার বাবা মোহাম্মদ হাদিদ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী এবং মা ইয়োলান্ডা হাদিদ ডাচ মডেল। বেলার বড় বোন গিগি হাদিদ এবং ছোট ভাই আনোয়ার হাদিদও পরিচিত মডেল। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর সন্তানদের বড় করার দায়িত্ব মূলত মায়ের সঙ্গে থাকলেও বেলার ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে তার বাবার দিকের ফিলিস্তিনি ও মুসলিম সংস্কৃতির সঙ্গে দৈনন্দিন যোগাযোগ অনেকটাই কমে যায়। সান্তা বারবারায় বেড়ে ওঠার সময় বেলা তার স্কুলে প্রায়ই একমাত্র আরব মেয়ে ছিলেন। তার নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, কৈশোরে কখনো কখনো তাকে বর্ণবাদী মন্তব্যেরও মুখোমুখি হতে হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা তাকে নিজের পরিচয় নিয়ে এক ধরনের বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি দিয়েছিল। জিকিউকে বেলা বলেছিলেন, দীর্ঘ সময় তিনি নিজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হারিয়ে ফেলেছেন বলে মনে করতেন। এই অনুভূতি তাকে অনেক বছর ধরে দুঃখী ও একাকী করে রেখেছিল বলে জানান তিনি। নিজের সবচেয়ে বড় আফসোসের কথা বলতে গিয়ে বেলা জানান, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর মুসলিম মানুষের পরিবেশে বড় হতে পারেননি তিনি। বাবার সঙ্গে প্রতিদিন থাকা, ধর্মীয় বিষয় শেখা এবং নিজের বিশ্বাস চর্চা করার সুযোগ থাকলে তার শৈশব অন্যরকম হতে পারত বলে মনে করেন এই মডেল। “আমি প্রতিদিন বাবার সঙ্গে থাকতে, পড়াশোনা করতে এবং নিজের ধর্ম পালন করতে চেয়েছিলাম। মুসলিম সংস্কৃতির মধ্যে বড় হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেই সুযোগ আমি পাইনি”, জিকিউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলেন বেলা। তার জীবনে পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে ‘রামি’ নামের মার্কিন টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার পর। এটি মিশরীয়-আমেরিকান এক মুসলিম তরুণের জীবন, বিশ্বাস ও পরিচয় নিয়ে নির্মিত সিরিজ। বেলা এতে অতিথি শিল্পী হিসেবে অভিনয়ের সুযোগ পান। এই ধারাবাহিকের সেটে গিয়ে বেলা প্রথমবার এমন একটি পরিবেশ পান, যেখানে আরব ও মুসলিম পরিচয়ের সঙ্গে তার নিজের অভিজ্ঞতার মিল খুঁজে পান। প্রথম দিন সেটে পৌঁছানোর পর সেখানে কর্মীরা তাকে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ লেখা একটি টি-শার্ট উপহার দিয়েছিলেন। ঘটনাটি তাকে এতটাই আবেগপ্রবণ করে তুলেছিল যে তিনি কেঁদে ফেলেন বলে জানান। বেলার ভাষায়, আরব হিসেবে বেড়ে ওঠার পর সেটিই ছিল প্রথমবার যখন তিনি নিজের মতো চিন্তা করা মানুষের মধ্যে নিজেকে দেখতে পেয়েছিলেন। ‘রামি’র অভিনেতা ও নির্মাতা রামি ইউসুফের সঙ্গে বেলার বন্ধুত্বও তার নিজের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে নতুন করে ভাবতে সাহায্য করে। বেলা জানান, রমজান মাসে একবার রামি তার সঙ্গে নামাজ পড়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাকে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের অন্যতম সুন্দর মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন। বেলার এই অভিজ্ঞতা শুধু ব্যক্তিগত পরিচয়ের প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলে আসছেন। নিজের পারিবারিক শিকড় এবং ফিলিস্তিনি পরিচয়কে তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন। জিকিউর সাক্ষাৎকারে বেলা আরও বলেন, তিনি মনে করেন মডেলিংই তার জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। নিজের পরিচয়, বিশ্বাস ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে কথা বলার সুযোগকেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। মডেল হিসেবে নিজের পেশাগত অবস্থান ঝুঁকিতে পড়লেও এসব বিষয়ে কথা বলা থেকে পিছিয়ে যেতে চান না বলে জানান তিনি। বেলার বক্তব্যে উঠে এসেছে, শৈশবে নিজের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের কাছ থেকে দূরে থাকা কীভাবে একজন মানুষের আত্মপরিচয় ও মানসিক অনুভূতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। ‘রামি’ ধারাবাহিকে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার জন্য সেই হারিয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংযোগের কিছুটা পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি করেছিল বলে মনে করেন তিনি। তবে বেলার এই বক্তব্য নতুন কোনো সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারের নয়। তিনি মূলত ২০২২ সালে জিকিউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেই এসব কথা বলেছিলেন। বর্তমানে তার পুরোনো বক্তব্য নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে আলোচনায় আসায় বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। সূত্র: জিকিউ, দ্য ন্যাশনাল, আরব নিউজ ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
এল সালভাদরের সোন্সোনাতে ওস্তে এলাকায় এক অভিনব প্রতারণার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। পুলিশের গ্রেপ্তার এড়াতে কুখ্যাত অপরাধী চক্র এমএস থার্টিন এর এক সদস্য ক্যাথলিক যাজকের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন। তিনি নিয়মিত যাজকের পোশাক পরে গির্জার প্রার্থনায় অংশ নিতেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার শরীরের ট্যাটুই তাকে ধরিয়ে দিয়েছে। এল সালভাদরের কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ক্যাথলিক চার্চের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। যাজকের লম্বা আলখাল্লার নিচে তিনি তার আসল পরিচয় সযত্নে লুকিয়ে রেখেছিলেন। পুলিশের সন্দেহ এড়াতে এবং অপরাধী চক্রের সদস্য হিসেবে নিজের পরিচয় গোপন রাখতে এটি ছিল তার জন্য এক নিখুঁত আবরণ। কেউ ঘুণাক্ষরেও সন্দেহ করেনি যে, ওই পবিত্র পোশাকের নিচে লুকিয়ে আছে ভয়ংকর গ্যাং এমএস থার্টিনের ট্যাটু। এই ঘটনার একটি কৌতূহলোদ্দীপক দিক হলো, এর আগে এল সালভাদরে ইভানজেলিকাল যাজকদের ধর্মীয় সমাবেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগ প্রায়ই পাওয়া যেত। কিন্তু এই প্রথম ক্যাথলিক যাজক সেজে প্রতারণার কোনো ঘটনা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হলো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যখন তাকে আটক করেন, তখন তার যাজকীয় পোশাকের ভেতরের আসল সত্য বেরিয়ে আসে। তার চামড়ায় আঁকা ট্যাটুই বলে দেয় গ্যাংয়ের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কথা। গ্যাং সদস্যরা সাধারণত নিজেদের শরীরে নির্দিষ্ট ট্যাটু ব্যবহার করে থাকে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তাদের পরিচয়ের বড় প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। বর্তমানে এই গ্যাং সদস্যের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে, গির্জায় কাটানো তার প্রতিটি মুহূর্ত এবং কার্যক্রম গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, এল সালভাদরে অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অভিযানের কারণে গ্যাং সদস্যরা এখন নিজেদের বাঁচাতে এ ধরনের অভিনব ও বেপরোয়া কৌশল বেছে নিচ্ছেন। তবে যাজক সেজে আত্মগোপনের এই কৌশল ব্যর্থ হওয়ায় অপরাধীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তথ্যসূত্র: রদ্রিগো মার্তিনেজ
অস্ট্রেলিয়ার পার্থে নিজের বাবা-মায়ের কেনা বাড়ির মালিক হওয়ার আশায় ১১ বছরে তাদের ৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি দিয়েছিলেন এক নারী। কিন্তু এক দশকেরও বেশি সময় পর বাবা-মা জানালেন, তিনি বাড়িটির মালিক নন, কেবল ভাড়াটিয়া। শেষ পর্যন্ত বাড়িটি বিক্রি ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হলেও পুরোপুরি সফল হননি ওই নারী। তবে বিক্রির পর পাওয়া অর্থের একটি অংশের ওপর তার দাবি থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আদালত। ব্রিয়ানা লেন নামের ওই নারী পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সুপ্রিম কোর্টে বাবা অ্যালান ব্রিগস ও মা ওয়েন্ডি ব্রিগসের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন। তার দাবি, ২০১৪ সালে বাবা-মায়ের সঙ্গে একটি মৌখিক সমঝোতা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী, বাবা-মা তাদের নামে বাড়ি কিনবেন এবং তিনি ও তার স্বামী প্রতি মাসে অর্থ পরিশোধ করবেন। একসময় বাড়িটির মালিকানা তাদের কাছে চলে যাওয়ার কথা ছিল। বাবা-মায়ের বক্তব্য অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের দাবি, তারা মেয়েকে বাড়িতে থাকার সুযোগ দিয়েছিলেন ভাড়াটিয়া হিসেবে। বাড়িটি কখনো তার নামে দেওয়ার কোনো লিখিত বা মৌখিক চুক্তি তারা করেননি। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি লারিসা স্ট্রকের সাম্প্রতিক রায়ে দুই পক্ষের এই ভিন্ন বক্তব্য উঠে এসেছে। ঘটনার শুরু ২০১৪ সালে। তখন ব্রিয়ানা ও তার স্বামী বেন লেন আর্থিক সংকটে ছিলেন এবং পার্থের ক্ল্যারমন্ট এলাকায় যে বাড়িতে ভাড়া থাকতেন, সেটি হারানোর আশঙ্কায় ছিলেন বলে আদালতকে জানান ব্রিয়ানা। তার দাবি, ওই সময় তিনি বাবা-মায়ের কাছে নিজেদের জন্য একটি বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সহায়তা চান। বাবা তাদের ঋণের জামিনদার হতে রাজি না হয়ে নিজের নামে বাড়ি কেনার প্রস্তাব দেন। ব্রিয়ানার ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িটির ঋণের মাসিক কিস্তি তারা পরিশোধ করবেন এবং ভবিষ্যতে বাড়িটির মালিকানা তাদের হবে। এরপর ২০১৪ সালের নভেম্বরে অ্যালান ও ওয়েন্ডি ব্রিগস পার্থের সোয়ানবোর্ন এলাকায় তিন শয়নকক্ষের একটি বাড়ি কেনেন। বাড়িটির দাম ছিল প্রায় ১১ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার। বাড়িটি কটেসলো বিচের কাছাকাছি একটি অভিজাত এলাকায় অবস্থিত। পরের মাস থেকেই ব্রিয়ানা ও তার স্বামী সেখানে বসবাস শুরু করেন এবং অর্থ পরিশোধ করতে থাকেন। ব্রিয়ানার হিসাব অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি ৬৯টি মাসিক কিস্তিতে মোট ২ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০ ডলার দেন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় কিস্তি চালিয়ে যেতে তিনি নিজের অবসরকালীন সঞ্চয় থেকে আরও ১০ হাজার ডলার তোলেন। এরপর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্তও তিনি নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করেছেন বলে দাবি করেন। ব্যাংক লেনদেনের বিবরণে অনেক ক্ষেত্রে এসব অর্থের পাশে ‘মর্টগেজ’ বা বাড়ির ঋণের কিস্তি লেখা ছিল। ওই সময় তিনি মোট ২ লাখ ৫৩ হাজার ৪৬২ ডলার দিয়েছেন বলে আদালতকে জানান। বাড়িতে অগ্নিকুণ্ড স্থাপন, বৈদ্যুতিক কাজ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মতো বিভিন্ন কাজে ২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে আরও ১৯ হাজার ৮০ ডলার খরচ করার দাবিও করেন তিনি। তবে বাবা-মায়ের দাবি, ওই অর্থ বাড়ির মালিকানা পাওয়ার জন্য দেওয়া হয়নি। তারা বলছেন, মেয়ে কখনো কখনো ভাড়া হিসেবে অর্থ পাঠাতেন, আবার কোনো কোনো মাসে কিছুই দিতেন না। কিছু সময়ে মাসিক ভাড়া মাত্র ৩৩৪ ডলার পর্যন্ত নেমে এসেছিল এবং একপর্যায়ে প্রায় ৫ হাজার ৩০০ ডলার ভাড়া বকেয়াও হয়েছিল। ব্রিগস দম্পতির দাবি, বাড়িটি তারা ১২ বছরের সুদভিত্তিক ঋণে কিনেছিলেন। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তারা মূল ঋণ কমানোর পরিবর্তে মূলত সুদ পরিশোধ করছিলেন। তাদের মাসিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ হাজার ৫০০ ডলার। বিরোধটি প্রকাশ্যে আসে ২০২৪ সালে। তখন অ্যালান ব্রিগস তার মেয়েকে জানান, বাড়িটি তারই মালিকানাধীন এবং ব্রিয়ানা সেখানে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকছেন। তিনি একটি আনুষ্ঠানিক ভাড়ার চুক্তি করার কথাও বলেন। পরের বছর অ্যালান জানান, তারা বাড়িটি বিক্রি করতে চান। ব্রিয়ানা তখন বাড়ি দেখতে সম্ভাব্য ক্রেতাদের প্রবেশের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে বাবা-মায়ের সঙ্গে তার বিরোধ আরও তীব্র হয়। মামলায় ব্রিয়ানার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বাবার পাঠানো কিছু খুদে বার্তাও। ২০২৪ সালের অক্টোবরে অ্যালান তাকে একটি বার্তায় জানান, বাড়ি বিক্রির পর বিনিয়োগ করার বা কোনো ঘাটতি পূরণের জন্য তার হাতে অর্থ থাকবে। কয়েক সপ্তাহ পর আরেক বার্তায় তিনি বাড়ি বিক্রির পর মেয়েকে অর্থ দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানান। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও বাড়ি বিক্রি ও সেই অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে তিনি ব্রিয়ানাকে একটি প্রস্তাব দেন। আদালতে এসব বার্তা দুই পক্ষের সম্পর্ক ও বাড়ির অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার প্রমাণ হিসেবে উঠে আসে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে ব্রিগস দম্পতি বাড়িটির জন্য একজন ক্রেতার প্রস্তাব গ্রহণ করেন। রায়ে বিক্রয়মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। তবে সম্পত্তির বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন সম্পত্তি-তথ্যভিত্তিক সূত্রে ধারণা করা হয়েছে। অর্থাৎ ২০১৪ সালে কেনার সময়ের তুলনায় বাড়িটির মূল্য প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এরপর ৯ জুলাই ব্রিয়ানা অর্থ পরিশোধ বন্ধ করেন। একই মাসে তিনি বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং বাড়ি বিক্রি ঠেকাতে সম্পত্তির ওপর বিশেষ আইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপের আবেদন জানান। বিচারপতি স্ট্রক বলেন, ব্রিয়ানার দাবি এমন একটি গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে, যা বিচার করার মতো। তবে এই পর্যায়ে তার দাবিকে খুব শক্তিশালী বলা যাচ্ছে না। প্রকৃতপক্ষে বাড়িটির মালিকানা নিয়ে কে সঠিক, তা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণের জন্য আলাদা আইনি কার্যক্রম প্রয়োজন হবে। আদালত শেষ পর্যন্ত বাড়ি বিক্রির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন। বিচারপতির মতে, বাড়িটি বিক্রি করা এবং বিক্রির অর্থের মধ্যে যেকোনো বিতর্কিত অধিকার সংরক্ষণ করাই দুই পক্ষের স্বার্থের জন্য বেশি উপযোগী। এর একটি বড় কারণ ছিল বাবা-মায়ের বাড়ির ঋণের চাপ। আদালতকে জানানো হয়, বাড়িটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিক্রি না হলে ঋণের মাসিক পরিশোধের পরিমাণ আরও বেড়ে যেতে পারে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তাদের মাসিক পরিশোধের চাপ ১৩ হাজার ৫১৩ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আদালতে তুলে ধরা হয়। ব্রিগস দম্পতির বক্তব্য ছিল, তারা যদি বাড়িটি বিক্রি করতে না পারেন এবং ঋণের পুরো দায় বহন করতে হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তারা আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়তে পারেন। তবে আদালত ব্রিয়ানার দাবি পুরোপুরি বাতিল করেনি। বিচারপতি স্ট্রক বলেছেন, বাড়ি বিক্রির পর ঋণ, বিক্রয়সংক্রান্ত খরচ এবং মূলধন লাভ কর পরিশোধের পর আনুমানিক ৮ লাখ ডলার অবশিষ্ট থাকতে পারে। ওই অর্থের ওপর ব্রিয়ানার কোনো আইনগত দাবি আছে কি না, তা পরবর্তী মামলায় নির্ধারণ করা হবে। এ জন্য ব্রিয়ানাকে ২১ দিনের মধ্যে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বাড়ি বিক্রির পর অবশিষ্ট অর্থ আদালতের তত্ত্বাবধানে রাখা হবে। অর্থাৎ, আপাতত বাড়ি বিক্রির পথ খুলে গেলেও ১১ বছর ধরে দেওয়া ৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি অর্থের পুরো বিষয়টি এখানেই শেষ হচ্ছে না। বাড়িটির মালিকানা নিয়ে বাবা-মেয়ের বিরোধ এবং ব্রিয়ানার অর্থ ফেরত বা বিক্রয়লব্ধ অর্থের অংশ পাওয়ার দাবি পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। সূত্র: ডেইলি মেইল ও পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সুপ্রিম কোর্টের রায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনায় একটি নার্সিং হোমের চরম অবহেলায় এক বৃদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ৮৩ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধা আলঝেইমার রোগে ভুগছিলেন। নার্সিং হোমের খোলা দরজা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার পর তাকে আক্রমণ করে অসংখ্য বিষ পিঁপড়া বা ফায়ার অ্যান্ট। তার শরীরে এক হাজারেরও বেশি কামড়ের দাগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় ওই নার্সিং হোমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে নিহতের পরিবার। আইন ও অপরাধ বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ল অ্যান্ড ক্রাইমের হাতে আসা মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, নিহত বৃদ্ধার নাম শেলবা ক্যাটারটন। তিনি কথা বলতে পারতেন না এবং অ্যাডভান্সড ডিমেনশিয়া বা চরম স্মৃতিভ্রম রোগে ভুগছিলেন। গত ২৩ জুলাই রাত ১০টার পর নার্সিং হোমের এক কর্মীর ভুলে খোলা থাকা একটি দরজা দিয়ে তিনি একা বাইরে বেরিয়ে যান। এরপরই তিনি পিঁপড়ার আক্রমণের শিকার হন। কয়েক ঘণ্টা পর চার্লসটনের হারমনি অ্যাট ওয়েস্ট অ্যাশলে নামের ওই নার্সিং হোমের একটি সুরক্ষিত আঙিনায় পিঁপড়ার ঢিবির ওপর তাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। অসুস্থতার কারণে তিনি চিৎকার করতে বা শরীর থেকে পিঁপড়াগুলো সরিয়ে ফেলতে পারেননি। এক কর্মী তাকে ওই অবস্থায় দেখে জরুরি সেবা ৯১১ নম্বরে কল করেন। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ওই কর্মী কল রিসিভারকে জানিয়েছিলেন, বৃদ্ধার শরীরে অসংখ্য পিঁপড়া ছেঁকে ধরেছিল। তার পিঠে এবং মুখে প্রচুর ফোসকা পড়েছিল। চার্লসটন পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে এবং তাদের ধারণা, এক কর্মীর খোলা রাখা দরজা দিয়েই ক্যাটারটন বাইরে গিয়েছিলেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, হারমনির কর্মীরা যখন তাকে উদ্ধার করেন, ততক্ষণে তার শরীরে অন্তত এক হাজারবার কামড় ও হুল ফোটানো হয়েছে। তার মুখ, চোখ, মাথা, পিঠ, বুক, হাত ও পায়ে ছিল অসংখ্য কামড়ের দাগ। উদ্ধারের পর ক্যাটারটনের চিকিৎসা করা চিকিৎসকরা জানান, তিনি হাইপোথার্মিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তার শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক করার পর তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, ৭ আগস্ট ওই বৃদ্ধা মারা যান। এই ঘটনায় নিহতের পরিবার অবহেলা, অস্বাভাবিক মৃত্যু এবং আলঝেইমার রোগীদের যত্নের বিষয়ে রাজ্যের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর ৩৬ ঘণ্টা পার হলেও কর্মীরা তাদের কিছু জানাননি। পরিবারের আইনজীবী নেট হিউই স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউসিবিডিকে জানান, গত ২৫ বছরে বয়স্কদের ওপর নির্যাতনের যতগুলো মামলা তিনি পরিচালনা করেছেন, এটি তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। ক্যাটারটনের মেয়ে জ্যান বুইস ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তিনি এই ঘটনায় আতঙ্কিত। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে কারও যাওয়া উচিত নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফায়ার অ্যান্ট বা বিষ পিঁপড়ার কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা বিরল হলেও শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে একাধিক কামড়ে অ্যানাফিল্যাকটিক শকসহ মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এদিকে হারমনি নার্সিং হোমের একজন মুখপাত্র ডব্লিউসিবিডিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তবে বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় তারা বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। দ্য ইনডিপেনডেন্ট এ বিষয়ে আরও জানতে নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। তথ্যসূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট
১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে ইতালির কাগলিয়ারিতে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে এমন এক দৃশ্যের জন্ম হয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে এইচআইভি ও এইডস নিয়ে সামাজিক ভয় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে। ইতালীয় রোগপ্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ ফার্নান্দো আইউতি এইচআইভি নিয়ে বসবাসকারী ২৫ বছর বয়সী রোসারিয়া ইয়ারদিনোকে প্রকাশ্যে ঠোঁটে চুমু দেন। ঘটনাটি ঘটে ১৯৯১ সালের ২ ডিসেম্বর কাগলিয়ারি মেলার মাঠে অনুষ্ঠিত এইডস বিষয়ক একটি সম্মেলনে। সে সময় এইচআইভি নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও ভুল ধারণা ছিল। বিশেষ করে চুম্বন বা লালার মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে কি না, তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ ছিল। আইউতি ও ইয়ারদিনো সেই ভয় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতীকী বার্তা দিতে নিজেদের উদ্যোগেই এই চুম্বনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আইউতি ছিলেন ইতালির এইচআইভি ও এইডস গবেষণা এবং জনসচেতনতার অন্যতম পরিচিত চিকিৎসক। সম্মেলনের সময় এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি মঞ্চ থেকে নেমে ইয়ারদিনোর কাছে যান এবং তাকে আলিঙ্গন করে চুমু দেন। একজন ফটোসাংবাদিক সেই মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দী করেন। পরে ছবিটি ইতালির গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ইয়ারদিনো তখন ২৫ বছর বয়সী ছিলেন এবং কয়েক বছর ধরে এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছিলেন। পরে তিনি জানান, সেই চুম্বনের সিদ্ধান্তটি তারা আগের রাতেই নিয়েছিলেন। কারণ শুধু কথা বলা বা বৈজ্ঞানিক তথ্য তুলে ধরার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া ভয় দূর করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাদের ধারণা ছিল, একটি প্রতীকী ঘটনা মানুষের কাছে বিষয়টি আরও সরাসরি পৌঁছে দিতে পারে। সেই সময় এইচআইভি আক্রান্ত মানুষদের ঘিরে সামাজিক বৈষম্য ছিল ব্যাপক। অনেকে ভুলভাবে মনে করতেন, আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্পর্শ করা, আলিঙ্গন করা কিংবা একই পরিবেশে থাকার মাধ্যমেও এইচআইভি ছড়াতে পারে। এমন ভুল ধারণার কারণে আক্রান্ত ব্যক্তিরা পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সমাজে নানা ধরনের বঞ্চনা ও দূরত্বের মুখোমুখি হতেন। ইয়ারদিনো পরবর্তী এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তখন সামাজিক কলঙ্ক অনেক মানুষের জীবনে সংক্রমণের চেয়েও বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আইউতি ও ইয়ারদিনোর সেই ছবি দ্রুত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ইতালি ছাড়াও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশিত হয়। একসময়ের বিতর্কিত সেই দৃশ্য পরে এইচআইভি আক্রান্ত মানুষদের প্রতি বৈষম্য ও সামাজিক কলঙ্কের বিরুদ্ধে সচেতনতার প্রতীকে পরিণত হয়। তবে ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক দিকও রয়েছে। এইচআইভি সাধারণ চুম্বন, আলিঙ্গন বা দৈনন্দিন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়ায় না। ভাইরাসটি মূলত নির্দিষ্ট ধরনের শারীরিক তরল, যেমন রক্ত, বীর্য, যোনি ও মলদ্বারের তরল এবং বুকের দুধের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। লালায় ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেলেও সাধারণ চুম্বনের মাধ্যমে সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি নেই। ১৯৯১ সালে এই বিষয়গুলো নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে আজকের মতো পরিষ্কার ধারণা ছিল না। ফলে আইউতির প্রকাশ্য চুম্বনকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোনো পরীক্ষার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং মানুষের ভয় ও ভুল ধারণার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়। ইয়ারদিনো পরবর্তী সময়েও এইচআইভি সচেতনতা ও বৈষম্যবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। আইউতি ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ৮৩ বছর বয়সে মারা যান। তার মৃত্যুর পর ইয়ারদিনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে স্মরণ করে সেই ঐতিহাসিক চুম্বনের কথা উল্লেখ করেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সেই মুহূর্তকে তাদের দীর্ঘদিনের সচেতনতা কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিন দশকেরও বেশি সময় পরেও কাগলিয়ারির সেই ছবিটি এইচআইভি আক্রান্ত মানুষদের প্রতি বৈষম্য দূর করার আলোচনায় ফিরে আসে। কারণ ঘটনাটি শুধু একজন চিকিৎসকের একজন রোগীকে চুমু দেওয়ার ছবি ছিল না, বরং এমন এক সময়ে সামাজিক ভয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান ছিল, যখন এইচআইভি সম্পর্কে ভুল তথ্য মানুষের আচরণ ও সামাজিক সম্পর্ককে গভীরভাবে প্রভাবিত করছিল। সূত্র: এএনএসএ, কোরিয়েরে দেলা সেরা
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বিরল ও জটিল এক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাণঘাতী শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত এক শিশুর জীবন বাঁচিয়েছেন চিকিৎসকেরা। গর্ভাবস্থার ২৫ সপ্তাহে অস্ত্রোপচারের জন্য শিশুটিকে মায়ের গর্ভ থেকে আংশিকভাবে বের করে আনা হয়। চিকিৎসকেরা তার শ্বাসনালিতে একটি নল স্থাপন করে ফুসফুসে জমে থাকা তরল বের করার ব্যবস্থা করেন। এরপর শিশুটিকে আবার মায়ের গর্ভে ফিরিয়ে দিয়ে গর্ভাবস্থা আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে দেওয়া হয়। শিশুটির নাম ক্যাসিয়ান জুবার্ট। ২০২৫ সালের জুনে অরল্যান্ডো হেলথ উইনি পামার হাসপাতাল ফর উইমেন অ্যান্ড বেবিজে এই জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। তখন ক্যাসিয়ানের গর্ভকাল ছিল ২৫ সপ্তাহ। পরবর্তীতে আগস্ট ২০২৫ সালে তার জন্ম হয়। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সে ভালো আছে। ঘটনাটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি বিরল ও নজিরবিহীন পদ্ধতির সফল প্রয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্যাসিয়ানের মা কেইশেরা জুবার্টের গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে করা আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় শিশুটির গুরুতর শারীরিক জটিলতা ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা দেখতে পান, তার শ্বাসনালিতে একটি বাধা রয়েছে। এর ফলে ফুসফুস থেকে স্বাভাবিকভাবে তরল বের হতে পারছিল না। তরল জমে ফুসফুস অস্বাভাবিকভাবে ফুলে উঠছিল এবং হৃদযন্ত্রের ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছিল। এই অবস্থাটির চিকিৎসাবিজ্ঞানের নাম কনজেনিটাল হাই এয়ারওয়ে অবস্ট্রাকশন সিনড্রোম বা সিএইচএওএস। এটি অত্যন্ত বিরল একটি জন্মগত সমস্যা। সাধারণত গর্ভের শিশুর ফুসফুসে তৈরি হওয়া তরল শ্বাসনালির মাধ্যমে বের হয়ে যায়। কিন্তু শ্বাসনালিতে সম্পূর্ণ বা গুরুতর বাধা থাকলে সেই তরল আটকে যায়। এতে ফুসফুস ফুলে ওঠে এবং আশপাশের অঙ্গের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। চিকিৎসা না হলে এই জটিলতা প্রাণঘাতী হতে পারে। ক্যাসিয়ানের ক্ষেত্রে প্রথমে গর্ভের ভেতর থেকেই শ্বাসনালির বাধা দূর করার চেষ্টা করা হয়। চিকিৎসকেরা লেজার-ভিত্তিক একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে বাধাটি খুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। এরপর চিকিৎসক ইমানুয়েল ভ্লাসতোস ও তার দলের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত আসে। শিশুটিকে স্বাভাবিকভাবে গর্ভে রেখে দিলে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম ছিল। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকেরা একটি ব্যতিক্রমী পদ্ধতির পরিকল্পনা করেন। শিশুটিকে পুরোপুরি জন্ম না দিয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শুধু মাথা, ঘাড় ও কাঁধের অংশ গর্ভের বাইরে আনা হবে এবং তাকে নাভিরজ্জু ও প্লাসেন্টার মাধ্যমে মায়ের শরীরের সঙ্গে সংযুক্ত রেখেই চিকিৎসা করা হবে। অস্ত্রোপচারের সময় ক্যাসিয়ানের মাথা ও ঘাড় গর্ভের বাইরে আনার পর তার শ্বাসনালিতে একটি বিশেষ নল প্রবেশ করানো হয়। এর মাধ্যমে ফুসফুসে জমে থাকা তরল বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুরো প্রক্রিয়ার সময় শিশুটি মায়ের সঙ্গে নাভিরজ্জু ও প্লাসেন্টার মাধ্যমে সংযুক্ত ছিল। তরল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার পর চিকিৎসকেরা শিশুটির শরীরের উপরের অংশ আবার মায়ের জরায়ুর ভেতরে ফিরিয়ে দেন। এরপর জরায়ু বন্ধ করে দেওয়া হয়। ক্যাসিয়ান তখনও মায়ের গর্ভেই থেকে যায় এবং আরও কয়েক সপ্তাহ তার বিকাশ অব্যাহত থাকে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল শিশুটিকে এমন অবস্থায় রাখা, যাতে সে বাইরে শ্বাস নেওয়া শুরু না করে। কারণ সে যদি নিজে শ্বাস নিতে শুরু করত, তাহলে রক্ত সঞ্চালনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসত এবং তাকে আবার নিরাপদে গর্ভে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হতো না। অস্ত্রোপচারের সময় মায়ের জরায়ুর পেশি শিথিল রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ জরায়ু সংকুচিত হয়ে গেলে আগেভাগে প্রসব এবং অতিরিক্ত রক্তপাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারত। এ ধরনের পদ্ধতি সাধারণত শিশুর জন্মের সময় ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ক্যাসিয়ানের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার মাত্র ২৫ সপ্তাহে এই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং চিকিৎসার পর তাকে আবার গর্ভে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের মতে, এত কম গর্ভকালীন সময়ে এভাবে শ্বাসনালিতে নল স্থাপন করে শিশুকে আবার জরায়ুতে ফিরিয়ে দেওয়ার নজির তারা আগে দেখেননি। অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসকদের একটি নৈতিক কমিটির অনুমোদনও নিতে হয়েছিল। কারণ মা ও অনাগত শিশুর জন্য এটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। তবু ক্যাসিয়ানের বাবা-মা চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে এই প্রচেষ্টায় সম্মতি দেন। চিকিৎসকদের মতে, প্রচলিত চিকিৎসায় আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকায় নতুন পদ্ধতিটি চেষ্টা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার পর কেইশেরা আরও কয়েক সপ্তাহ গর্ভাবস্থা চালিয়ে যান। প্রায় ছয় সপ্তাহ পর আগস্টে তার প্রসববেদনা শুরু হয় এবং ক্যাসিয়ানের জন্ম হয়। এরপর তাকে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে ক্যাসিয়ান সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে বলে চিকিৎসক ও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অরল্যান্ডো হেলথের ফিটাল কেয়ার সেন্টারে উচ্চঝুঁকির গর্ভাবস্থা ও গর্ভের শিশুর বিভিন্ন জটিলতার চিকিৎসায় বিশেষায়িত দল কাজ করে। সেখানে মাতৃ ও ভ্রূণ চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ, প্রসূতি চিকিৎসক, শিশু সার্জন, নবজাতক বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকেরা সমন্বিতভাবে কাজ করেন। সিএইচএওএসও তাদের চিকিৎসাসেবার আওতায় থাকা জটিলতাগুলোর একটি। ক্যাসিয়ানের ঘটনাটি চিকিৎসকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সিএইচএওএস অত্যন্ত বিরল হওয়ায় এই রোগের সব ক্ষেত্রে অনুসরণ করার মতো একক ও প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসাপদ্ধতি নেই। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা আশা করছেন, এই সফল অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে একই ধরনের জটিলতায় আক্রান্ত অন্য শিশুদের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি করতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ক্যাসিয়ানকে আক্ষরিক অর্থে দুবার জন্ম নেওয়া বলা ঠিক নয়। তবে অস্ত্রোপচারের সময় তাকে আংশিকভাবে গর্ভের বাইরে আনা এবং পরে আবার জরায়ুর ভেতরে ফিরিয়ে দেওয়ার কারণে তার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ‘দুইবার জন্ম নেওয়া শিশু’ হিসেবে আলোচিত হয়েছে। সূত্র: অরল্যান্ডো হেলথ, লাইভ সায়েন্স, এবিসি নিউজ ও দ্য গার্ডিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। যারা পর্যটক বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে দেশটিতে প্রবেশ করে পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, এমন প্রায় দুই লাখ বিদেশির ভিসা বাতিল করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ফক্স নিউজ ও সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। অভ্যন্তরীণ নথিপত্র এবং দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এপি জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বড় ধরনের এই পদক্ষেপের ঘোষণা দিতে পারে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা বি-১ এবং বি-২ ভিসাগুলো বাতিল করা, যেসব ভিসাধারী পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের প্রার্থনা করেছেন। যদি এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একযোগে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ভিসা বাতিলের ঘটনা। তবে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসনের এই বিশাল পদক্ষেপ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যারা সাময়িক সময়ের দর্শনার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসার কথা বলে প্রবেশ করেছেন কিন্তু পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, তাদের চিহ্নিত করতে তারা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) সঙ্গে সমন্বয় করছেন। এসব অ-অভিবাসী ভিসাগুলো বাতিল করার জন্য কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঠিক কতজন মানুষ এর দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন, তা নির্দিষ্ট করে নিশ্চিত করেননি পিগট। এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি জানিয়েছেন, ভিসা বাতিলের এই প্রক্রিয়াটি পর্যায়ক্রমে চলবে এবং মোট সংখ্যাটি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল থাকবে। তবে কর্মকর্তারা এপিকে জানিয়েছেন, ভিসা বাতিল হওয়ার অর্থ এই নয় যে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বা ডিপোর্ট করা হবে। যাদের আশ্রয়ের আবেদনগুলো এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে, তাদের নতুন করে শ্রেণিবিন্যাস করা হবে। তবে তারা তাদের ব্যবসা বা পর্যটন ভিসার বৈধতা পুরোপুরি হারাবেন। সাধারণত বি-১ ভিসা দেওয়া হয় ব্যবসায়িক ভ্রমণের জন্য। অন্যদিকে বি-২ ভিসা দেওয়া হয় পর্যটন, পরিবারের সঙ্গে দেখা করা এবং চিকিৎসাসেবা নেওয়ার উদ্দেশ্যে। বর্তমানে এসব ভিসার আবেদনকারীদের প্রমাণ করতে হয় যে, তারা নির্দিষ্ট সময়ের সফর শেষে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রাখেন। অভিবাসন আইনের অপব্যবহার নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি সম্প্রতি আরও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। গত সোমবার মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, অভিবাসন আইন এড়িয়ে যাওয়ার জন্য আশ্রয়ের আবেদনকে কোনোভাবেই ব্যবহার করা উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বের মানুষ ভুয়া আশ্রয়ের আবেদনে বিরক্ত হয়ে গেছে বলে তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় যে কোনো ধরনের অপব্যবহার রোধে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ আগে থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্যমতে, এই নীতির অংশ হিসেবে গত ১৮ মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিল করেছে। এবার এই তালিকায় আরও দুই লাখ মানুষের নাম যুক্ত হতে যাচ্ছে, যা অভিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তথ্যসূত্র: ফক্স নিউজ ও এপি
নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির বাসিন্দাদের জন্য মঙ্গলবার ভোরে আকাশে দেখা যেতে পারে বিরল ও দৃষ্টিনন্দন এক মহাজাগতিক দৃশ্য। আকাশ পরিষ্কার থাকলে স্পেসএক্সের একটি রকেট উৎক্ষেপণের পাশাপাশি এর পেছনে তৈরি হওয়া উজ্জ্বল ‘জেলিফিশ মেঘ’ বা জেলিফিশের মতো দেখতে আলোকিত ধোঁয়ার বিস্তারও দেখা যেতে পারে। মঙ্গলবার ভোরে ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশনের স্পেস লঞ্চ কমপ্লেক্স-৪০ থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেট উৎক্ষেপণের কথা রয়েছে। এই মিশনের নাম ‘স্টারলিংক গ্রুপ ১০-৪৯’। এতে ২৯টি স্টারলিংক উপগ্রহ নিম্ন পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠানো হবে। উৎক্ষেপণের নির্ধারিত সময় ভোর ৫টা ৩৩ মিনিট পূর্বাঞ্চলীয় সময়। উৎক্ষেপণের পর রকেটটি উত্তর-পূর্ব দিকে এগিয়ে যাবে, মোটামুটি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের সমান্তরাল পথে। ফলে ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণের কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিউইয়র্ক, নিউজার্সি ও আশপাশের ত্রিরাজ্য এলাকায় থাকা মানুষজন আকাশে রকেটটির গতিপথ দেখতে পারেন। তবে এই দৃশ্যের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হতে পারে রকেটের পেছনে তৈরি হওয়া ‘জেলিফিশ’ আকৃতির আলোকিত মেঘ। এটি আসলে কোনো মেঘ নয়। রকেটের ইঞ্জিন থেকে বের হওয়া গ্যাস ও ধোঁয়ার বিস্তৃত নির্গমন বা নিষ্কাশন ধারা উচ্চ বায়ুমণ্ডলে পৌঁছে ছড়িয়ে পড়ে। ভোরের সময় মাটিতে তখনও অন্ধকার থাকলেও রকেট ও এর ধোঁয়ার অংশটি যখন অনেক ওপরে উঠে যায়, তখন তা সূর্যের সরাসরি আলো পেতে পারে। ফলে অন্ধকার আকাশের পটভূমিতে ধোঁয়ার বিস্তার উজ্জ্বল হয়ে জেলিফিশের মতো আকৃতি তৈরি করতে পারে। এই ধরনের দৃশ্যকে সাধারণভাবে ‘জেলিফিশ ইফেক্ট’ বলা হয়। ভোর বা সন্ধ্যার কাছাকাছি সময়ে রকেট উৎক্ষেপণ হলে এ ধরনের আলোকিত নিষ্কাশন ধারা দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। জুলাইতেও ফ্লোরিডায় একটি স্পেসএক্স উৎক্ষেপণের সময় একই ধরনের জেলিফিশ আকৃতির উজ্জ্বল দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। মঙ্গলবারের উৎক্ষেপণের জন্য আবহাওয়াও মোটামুটি অনুকূল থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে আকাশে মেঘের উপস্থিতি দৃশ্যটি কতটা পরিষ্কারভাবে দেখা যাবে, সেটিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এই মিশনে ব্যবহৃত ফ্যালকন-৯ রকেটের প্রথম ধাপের বুস্টারটির নাম বি১০৬৭। এটি রকেটটির ৩৭তম মিশন হতে যাচ্ছে, যা ফ্যালকন-৯-এর পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। উৎক্ষেপণের পর প্রথম ধাপটি আটলান্টিক মহাসাগরে থাকা ‘এ শর্টফল অব গ্র্যাভিটাস’ নামের ড্রোন জাহাজে অবতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। ২৯টি স্টারলিংক উপগ্রহ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পৌঁছানোর পর স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে। এসব উপগ্রহ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা দিতে ব্যবহৃত হয়। তবে নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির বাসিন্দাদের জন্য এই উৎক্ষেপণের আকর্ষণ শুধু মহাকাশযাত্রা দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে ভোরের অন্ধকার আকাশে রকেটের উজ্জ্বল গতিপথ এবং তার পেছনে সূর্যের আলোয় আলোকিত বিশাল ধোঁয়ার বিস্তার একসঙ্গে দেখা যেতে পারে, যা অনেকটা আকাশে ভাসমান জেলিফিশের মতো দেখাবে। উৎক্ষেপণের সময় বা দৃশ্যমানতা আবহাওয়া ও রকেটের প্রকৃত গতিপথের ওপর নির্ভর করবে। তাই আকাশ পরিষ্কার থাকলেও সব স্থান থেকে একই মাত্রায় দৃশ্যটি দেখা যাবে এমন নিশ্চয়তা নেই। সূত্র: পিক্স১১
ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টো হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষামূলক সফরে মসজিদে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলার পর ফেডারেল মামলায় নাম এসেছে মুসলিম অধিকারকর্মী জাহরা বিলুর। ২০২৫ সালের শরতে স্কুলের ‘সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের সান্তা ক্লারার মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনের মসজিদে নেওয়া হয়েছিল। ওই সফরকে কেন্দ্র করে পালো আল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও স্কুলের প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন একদল অভিভাবক ও সাবেক শিক্ষার্থী। মামলায় বিলুর ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়েছে। ৮ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল কোর্টে মামলাটি দায়ের করা হয়। ‘কমিউনিটি মেম্বার্স ফর রিলিজিয়াস নিউট্রালিটি ইন পাবলিক স্কুলস’ নামে একটি গ্রুপের সঙ্গে কয়েকজন অভিভাবক ও বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী মামলাটি করেছেন। তাদের অভিযোগ, স্কুলের ওই সফরে শিক্ষার্থীদের কোরআন দেওয়া হয়, মেয়েদের হিজাব পরতে উৎসাহিত করা হয় এবং তারা মুসলিমদের নামাজ পর্যবেক্ষণ করে। শিক্ষার্থীদের ইসলামি ধর্মীয় যুব কর্মসূচির সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের এমন ধারণার সঙ্গে পরিচয় করানো হয়েছিল যে ইসলাম বিশেষভাবে সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে সম্পর্কিত। সফরের সময় শিক্ষার্থীদের ছবি তোলা এবং অভিভাবকদের যথাযথ অনুমতি ছাড়া সেসব ছবি অনলাইনে প্রকাশের অভিযোগও রয়েছে। মামলাকারীদের দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষ ধর্মীয় নিরপেক্ষতা, শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা এবং বিভিন্ন ধর্মের প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই মামলায় জাহরা বিলুর নাম আসার কারণ হলো, তিনি ওই সফরের সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। বিলু কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা CAIR-এর সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া অফিসের নির্বাহী পরিচালক। নিজের বক্তব্যে তিনি জানান, তাকে একজন আমেরিকান মুসলিম নারী হিসেবে তার নাগরিক অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বিলু মামলাটিকে ভুলভাবে উপস্থাপিত বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, পাবলিক স্কুলে ধর্ম নিয়ে শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা থাকা প্রয়োজন, কিন্তু নিরপেক্ষতার অর্থ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্ম ও ধর্মীয় সম্প্রদায় সম্পর্কে জানার সুযোগ থেকে দূরে রাখা নয়। তিনি বলেন, মসজিদ পরিদর্শন, মুসলিমদের নামাজ দেখা কিংবা ইসলাম সম্পর্কে শেখা আর শিক্ষার্থীদের ইসলাম ধর্ম পালনে বাধ্য করা এক বিষয় নয়। পালো আল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট জেসন গ্লাস জানিয়েছেন, ধর্ম বিষয়ে স্কুলের শিক্ষা একাডেমিক হতে হবে, ধর্মীয় আচার পালনের উদ্দেশ্যে নয়। কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে প্রচার বা অবমূল্যায়ন করাও স্কুলের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মামলা চলমান থাকায় ডিস্ট্রিক্ট এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি এবং জানিয়েছে, তারা নিজেদের প্রক্রিয়াগুলো পর্যালোচনা করছে। অন্যদিকে, মামলাকারীরা বলছেন, সফরটি শুধু ধর্ম সম্পর্কে জানার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না এবং ইসলামকে অন্য ধর্মের তুলনায় বিশেষভাবে সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে যুক্ত করে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তাদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড পাবলিক স্কুলের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার সীমা লঙ্ঘন করতে পারে। তবে সফরে অংশ নেওয়া অন্তত একজন শিক্ষার্থী ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তার মতে, এটি ছিল ধর্ম সম্পর্কে একটি বৃহত্তর শিক্ষামূলক ইউনিটের অংশ, যেখানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্ম ও স্থানীয় ধর্মীয় সম্প্রদায় সম্পর্কে জানানো হচ্ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মসজিদ সফরের উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম সম্পর্কে শেখা, কাউকে ধর্মান্তরিত করা নয়। ফলে মামলাটিকে ঘিরে মূল প্রশ্ন এখন দাঁড়িয়েছে, পাবলিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় সম্পর্কে সরাসরি শেখানোর ক্ষেত্রে শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা এবং ধর্মীয় অনুশীলনে সম্পৃক্ত করার মধ্যে আইনগত সীমারেখা কোথায়। ফেডারেল আদালতে মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রমে সেই প্রশ্নই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা এক মার্কিন নৌসেনা দেশে ফেরার পথে জানতে পারলেন, তার বাবাকে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আটক করেছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা নৌসেনা জোশুয়া অ্যাভিলেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবার আটকের খবর প্রকাশ করেন। আটক ব্যক্তি লুইস ম্যানুয়েল অ্যাভিলেস রোয়া, ৪৮ বছর বয়সী নিকারাগুয়ার নাগরিক। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, ২২ আগস্ট ফ্লোরিডার কী ওয়েস্টে একটি গাড়ি থামানোর সময় বর্ডার প্যাট্রোল তাকে আটক করে। কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। পরে তাকে আইসিইর হেফাজতে নেওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে রিমুভাল প্রসিডিংস চলছে। জোশুয়া অ্যাভিলেস জানান, তিনি নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে সমুদ্রে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে দায়িত্ব পালন করছেন। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সমর্থন দিতে জাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন ছিল। দেশে ফেরার পথে বাবাকে আইসিই আটক করেছে জানতে পেরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের গভীর উদ্বেগের কথা জানান। জোশুয়া লেখেন, তার বাবা একজন পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। বাবার আটকের খবর পাওয়ার পর ১২ ঘণ্টার বেশি সময়ের শিফটে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাওয়া তার জন্য মানসিকভাবে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও জানান তিনি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, লুইস অ্যাভিলেস প্রায় ১৯ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তার ড্রাইভার লাইসেন্স, সোশ্যাল সিকিউটি কার্ড এবং ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে। পরিবারের দাবি, তারা তার গ্রিন কার্ডের জন্য ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করছিল এবং অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। পরিবারের সদস্যরা আরও জানিয়েছেন, তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড সম্পর্কে তারা জানেন না। তার স্ত্রী আর্জেলিয়া অ্যাভিলেসের ভাষ্য, ঘটনার দিন লুইস গাড়ি মেরামতের জন্য মেকানিকের কাছে যাচ্ছিলেন। তখনই তাকে বর্ডার প্যাট্রোল আটক করে। তবে ডিএইচএস পরিবারের বক্তব্যের পাশাপাশি নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে। সংস্থাটি বলেছে, কোনো ব্যক্তির পরিবারের সদস্য মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কাজ করলেই ইমিগ্রেশন আইন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছাড় পাওয়া যায় না। ডিএইচএস এর মতে, কর্তৃপক্ষ কংগ্রেসের অনুমোদিত ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগ করছে। এদিকে জোশুয়া অ্যাভিলেস যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে দায়িত্ব পালন করছেন, সেটিও সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। ইরান যুদ্ধের সময় দীর্ঘ মেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা এই বিমানবাহী রণতরী ২০০ দিনেরও বেশি সময় কোনো বন্দরে না থেমে সমুদ্রে ছিল, যা আধুনিক মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম দীর্ঘ টানা সমুদ্রযাত্রার রেকর্ড তৈরি করেছে। দীর্ঘ মোতায়েন নিয়ে নৌসেনাদের পরিবার ও আইনপ্রণেতাদের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ফিরছে। আর সেই ফেরার সময়ই জোশুয়ার পরিবারের সামনে তৈরি হয়েছে নতুন এক অনিশ্চয়তা। দীর্ঘ নয় মাসের সামরিক দায়িত্ব শেষে দেশে ফিরতে থাকা এই নৌসেনা এখন বাবার সঙ্গে কবে দেখা করতে পারবেন, সেটিই পরিবারের বড় উদ্বেগ। লুইস অ্যাভিলেস আপাতত আইসিই হেফাজতে রয়েছেন এবং তার ইমিগ্রেশন মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে তার ভবিষ্যৎ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে একটি প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকায় গাড়ির ভেতর ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে নগ্ন অবস্থায় এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ৯টার পর রিভারসাইডের ডেভিড সারনফ প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকায় নিয়মিত টহলের সময় পুলিশ তাদের দেখতে পায়। পুলিশের বরাতে জানা গেছে, আটক যুবকের নাম ভিক্টর এলিজাদে, বয়স ১৯ বছর। সাউদ্যাম্পটন টাউন পুলিশের এক কর্মকর্তা নিয়মিত টহলের সময় গাড়িটির কাছে গিয়ে ওই অবস্থায় তাদের দেখতে পান। পরে যুবককে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় এলিজাদের বিরুদ্ধে শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তাকে হেফাজতে না রেখে পরে আদালতে হাজিরার নোটিশ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাকে আদালতে হাজির হতে হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরী ও এলিজাদের মধ্যে যৌন নির্যাতনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা বলেছেন, ওই কিশোরীকে এলিজাদে যৌন নির্যাতন করেছেন বা আগে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে—এমন কোনো ইঙ্গিতও তারা পাননি। এ কারণে বর্তমানে তদন্তটি বন্ধ করা হয়েছে। তবে কিশোরী কীভাবে এলিজাদের সঙ্গে ওই প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকায় পৌঁছেছিল এবং গাড়িতে তাদের অবস্থানের পেছনে ঠিক কী পরিস্থিতি ছিল, সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত জানায়নি। কিশোরীর পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এলিজাদের এর আগেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে জটিলতা হয়েছিল। গত জুনে লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে। বর্তমান ঘটনায় অভিযোগ গুরুতর হলেও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ না পাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আপাতত তার বিরুদ্ধে শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগই রয়েছে এবং আদালতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মামলাটি এগোবে।
ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রুজে ক্লিফ থেকে গাড়ি সাগরে পড়ে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ১৯ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম অ্যালি রেনি সিং। তিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান্তা ক্রুজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে তার তৃতীয় বর্ষ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঘটনাটি ঘটে ১৩ আগস্ট রাত প্রায় ১২টা ৫০ মিনিটে সান্তা ক্রুজের ওয়েস্ট ক্লিফ ড্রাইভে, স্টিমার লেনের কাছে। জরুরি বিভাগে খবর আসে একটি গাড়ি ক্লিফ থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাগরে পড়ে গেছে। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায়, গাড়িটি পানিতে ডুবে রয়েছে এবং ভেতরে একজন আটকা পড়েছেন। সান্তা ক্রুজ ফায়ার ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, গাড়িতে থাকা একজন ব্যক্তি নিজে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন এবং তিনি সামান্য আহত হন। অন্যদিকে অ্যালি গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে ছিলেন। চারজন ওশান রেসকিউ সুইমার পানিতে নেমে ডুবে থাকা গাড়ির কাছে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সান্তা ক্রুজ পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি একজন নারী চালাচ্ছিলেন এবং বেঁচে যাওয়া যাত্রী ছিলেন একজন পুরুষ। তবে দুর্ঘটনাটি ঠিক কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে। পুলিশ এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। অ্যালি ২০২৪ সালের জুনে ইউসি সান্তা ক্রুজে ভর্তি হন। তিনি সাইকোলজি নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন আর. লুইস কলেজ কমিউনিটির সদস্য ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র স্কট হার্নান্দেজ-জেসন তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে জানান, শিক্ষার্থীর পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গভীর সমবেদনা রয়েছে এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় সাপোর্ট রিসোর্স দেওয়া হচ্ছে। অ্যালির খালা মনিকা সিং-স্ট্রোহমেয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন এবং পরিবারের এই কঠিন সময়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সময় দেওয়ার অনুরোধ জানান। পরিবারের পক্ষ থেকে অ্যালিকে মেধাবী, ভালোবাসাপূর্ণ ও প্রাণবন্ত তরুণী হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে। স্টিমার লেন সান্তা ক্রুজের পরিচিত একটি সার্ফিং স্পট। এলাকাটি ওয়েস্ট ক্লিফ ড্রাইভের পাশে প্রশান্ত মহাসাগরের খাড়া উপকূল বরাবর অবস্থিত। সেখানে শক্তিশালী ঢেউ ও খাড়া ক্লিফের কারণে উদ্ধার অভিযানও বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থলের ওয়েস্ট ক্লিফ ড্রাইভের একটি অংশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উপকূলীয় ক্ষয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ি কেনা ও ভাড়া নেওয়া দুটোই এখন অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত। তবে এপার্টমেন্ট ডট কমের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ বলছে, দেশটির সাতটি বড় মেট্রো এলাকায় বাড়ি কেনার তুলনায় ভাড়া থাকলে মাসে কয়েকশ থেকে ১ হাজার ডলারের বেশি সাশ্রয় হতে পারে। এর মধ্যে অস্টিন ও স্যাক্রামেন্টোতে এই ব্যবধান সবচেয়ে বেশি। তালিকায় রয়েছে টেক্সাসের অস্টিন, ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টো, কলোরাডোর ডেনভার, ওরেগনের পোর্টল্যান্ড, মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর, ইউটাহর সল্ট লেক সিটি এবং ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো। এসব মেট্রো এলাকায় গড় মাসিক রেন্টের তুলনায় মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। অস্টিনে মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ৪৭৫ ডলার। বিপরীতে গড় মাসিক রেন্ট ১ হাজার ৪২১ ডলার। অর্থাৎ বাড়ি কেনার পরিবর্তে ভাড়া থাকলে মাসে প্রায় ১ হাজার ৫৪ ডলার কম খরচ হতে পারে। স্যাক্রামেন্টোতে ব্যবধানও ১ হাজার ডলারের বেশি। সেখানে মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ৬২১ ডলার, আর গড় রেন্ট ১ হাজার ৫৭৯ ডলার। ফলে ভাড়া থাকলে মাসে প্রায় ১ হাজার ৪২ ডলার সাশ্রয় হতে পারে। ডেনভারে মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ৫১৮ ডলার এবং গড় রেন্ট ১ হাজার ৬৩৩ ডলার। ব্যবধান প্রায় ৮৮৫ ডলার। ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে মধ্যম মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ৪০৪ ডলার, যেখানে গড় রেন্ট ১ হাজার ৫৫১ ডলার। অর্থাৎ ভাড়া থাকলে মাসে প্রায় ৮৫৩ ডলার কম খরচ হতে পারে। মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ২৫৪ ডলার এবং গড় রেন্ট ১ হাজার ৫২৭ ডলার। এখানে ব্যবধান প্রায় ৭২৭ ডলার। ইউটাহর সল্ট লেক সিটিতে মধ্যম মর্টগেজ পেমেন্ট ২ হাজার ১০৬ ডলার। গড় রেন্ট ১ হাজার ৪২৮ ডলার। ফলে ভাড়া থাকলে মাসে প্রায় ৬৭৮ ডলার সাশ্রয় হতে পারে। তালিকার সপ্তম শহর ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো। সেখানে মধ্যম মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট ১ হাজার ৯৬৭ ডলার এবং গড় রেন্ট ১ হাজার ৫৯০ ডলার। ব্যবধান প্রায় ৩৭৭ ডলার। বিশ্লেষণে ব্যবহৃত রেন্টের তথ্য এপার্টমেন্ট ডট কমের সাম্প্রতিক বাজারের হিসাবের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। জুলাই ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী অস্টিনে গড় রেন্ট ছিল প্রায় ১ হাজার ৪২০ ডলার, স্যাক্রামেন্টোতে ১ হাজার ৫৮৩ ডলার, ডেনভারে ১ হাজার ৬৪২ ডলার এবং পোর্টল্যান্ডে ১ হাজার ৫২৯ ডলার। একই সময়ে অরল্যান্ডোর গড় রেন্ট ছিল প্রায় ১ হাজার ৫৮৫ ডলার। অস্টিনের আবাসন বাজার নিয়ে স্থানীয় রিয়েল এস্টেট এজেন্ট দিলার শোয়ার্টজ ফক্স বিজনেসকে বলেন, শহরটিতে বাড়ি কেনা ও রেন্ট নেওয়া দুই বাজারেই চাহিদা রয়েছে। কাজের কারণে অস্টিনে আসা, নতুন এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা এবং বিভিন্ন সাবডিভিশনে স্থানান্তরের কারণে রেন্টাল ইনকোয়ারি বেড়েছে বলে তিনি জানান। তবে রেন্ট বনাম বাইয়ের সিদ্ধান্ত শুধু মাসিক রেন্ট ও মর্টগেজ পেমেন্টের পার্থক্যের ওপর নির্ভর করে না। বাড়ি কিনলে ডাউন পেমেন্ট, প্রপার্টি ট্যাক্স, হোম ইন্স্যুরেন্স, মেইনটেন্যান্স ও ক্লোজিং কস্টের মতো অতিরিক্ত খরচ থাকে। অন্যদিকে রেন্টারদের সাধারণত এসব মালিকানাসংক্রান্ত খরচ বহন করতে হয় না। বর্তমান আবাসন বাজারে মর্টগেজের উচ্চ খরচ ও বাড়ির দামের কারণে অনেক পরিবারের জন্য রেন্ট নেওয়া স্বল্পমেয়াদে তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে অস্টিন ও স্যাক্রামেন্টোর মতো শহরে মাসিক ব্যয়ের ব্যবধান ১ হাজার ডলারের বেশি হওয়ায় বাড়ি কেনার আগে রেন্ট বনাম বাইয়ের হিসাব নতুন করে বিবেচনা করছেন অনেক ক্রেতা।
যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে আশ্রয় চাইছেন এমন বিদেশিদের সর্বোচ্চ ২ লাখ ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। স্টেট ডিপার্টমেন্টের নথি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে সবচেয়ে বড় পরিসরে ভিসা বাতিলের ঘটনা। স্টেট ডিপার্টমেন্টের নথি অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা B1 ও B2 ভিসাধারীদের মধ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করেছেন অথবা বর্তমানে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে প্রক্রিয়ায় রয়েছেন, তাদের ভিসা পর্যালোচনা করে বাতিল করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ কার্যক্রমে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা DHS-এর সঙ্গে সমন্বয় করছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, যারা স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, তাদের ননইমিগ্র্যান্ট ভিসা শনাক্ত ও বাতিলের বিষয়ে DHS-এর সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। তবে ঠিক কতটি ভিসা বাতিল হবে, সে সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত নয়। প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে চলবে এবং সংখ্যাটি পরিবর্তিত হতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। তবে এর আগে সিদ্ধান্তটি পরিবর্তন বা সংশোধন হতে পারে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য এই পদক্ষেপ আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। B1 ভিসা সাধারণত ব্যবসায়িক সফরের জন্য দেওয়া হয়। আর B2 ভিসা পর্যটন, পরিবারের সঙ্গে দেখা করা বা চিকিৎসার মতো স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের কাজে ব্যবহৃত হয়। প্রস্তাবিত পদক্ষেপের আওতায় কতজন B1 বা B2 ভিসাধারী পড়বেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিসা বাতিল হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট করা হবে, এমন নয়। কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যাদের আশ্রয়ের মামলা বর্তমানে চলমান, তাদের ক্ষেত্রে ভিসার ধরন পরিবর্তিত হতে পারে এবং তারা ব্যবসা বা পর্যটনের উদ্দেশ্যে বৈধ ভিসাধারী হিসেবে তাদের আগের অবস্থান হারাতে পারেন। ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ও ইমিগ্রেশন নীতিতে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া ইতিহাস যাচাই, নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ইস্যু সীমিত করা এবং কিছু ক্ষেত্রে ভিসা বন্ডের মতো অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করা হয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, কিছু বিদেশি পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের সুযোগ নিচ্ছেন। ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেছেন, আশ্রয়ব্যবস্থা ইমিগ্রেশন আইন এড়িয়ে যাওয়ার পথ হওয়া উচিত নয়। স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ মাসে বিভিন্ন কারণে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত বা অপরাধের অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নীতির প্রকাশ্য সমালোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। নতুন পরিকল্পনাটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বা আশ্রয়প্রক্রিয়ায় থাকা B1 ও B2 ভিসাধারীদের ঘিরে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের নথি থেকে জানা যায়, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস থেকে আশ্রয় আবেদনের তথ্য পাওয়ার পর বর্তমান B1 ও B2 ভিসাধারীদের বিষয়ে যাচাই শুরু করা হয়। তবে সর্বোচ্চ ২ লাখ ভিসা বাতিলের পরিকল্পনাটি এখনো চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়নি। সিদ্ধান্তটি ঘোষণা ও বাস্তবায়নের পর প্রকৃত সংখ্যা কত হবে এবং এর বিরুদ্ধে আদালতে কী ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জ আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নতুন মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তবে এ বিষয়ে এখনো নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে গত ৭ আগস্ট ২০২৬ মক্কায় স্বাক্ষরিত হয়। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। চুক্তিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ভবিষ্যতে এই কাঠামোয় আরও দেশকে যুক্ত করার সুযোগ রাখার কথাও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো জানিয়েছে। বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কয়েক দিন ধরে স্থানীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। রোববার আরব নিউজকে শামা ওবায়েদ বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে আলোচনা চলছে।” এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও সম্ভাব্য এই জোটে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে কথা বলেন। সোমবার তিনি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিষয় দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া বক্তব্যে হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে নিয়ে সম্ভাব্য কোনো অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক অবস্থান বিবেচনা করছে। তবে এ ক্ষেত্রে দেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। মক্কা চুক্তিতে থাকা তিন দেশই নিজেদের অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত। পাকিস্তানের রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বড় সক্রিয় সামরিক বাহিনী এবং মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার। সৌদি আরবের রয়েছে বড় অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আঞ্চলিক প্রভাব ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো। অন্যদিকে তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং দেশটির রয়েছে বড় সামরিক বাহিনী ও শক্তিশালী নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প। ফলে তিন দেশের এই প্রতিরক্ষা জোট মধ্যপ্রাচ্য ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বাংলাদেশের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কও এ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী অক্টোবরে প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে সৌদি আরবের রিয়াদে যাওয়ার কথা রয়েছে। সৌদি যুবরাজের আমন্ত্রণে এ সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সফর সামনে রেখে সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ বিন আবদুলকরিম আল-খুরাইজিও চলতি মাসের শুরুতে ঢাকা সফর করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, দুই পক্ষ বাংলাদেশ-সৌদি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ। দেশটির সক্রিয় সামরিক সদস্যের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার, যা জনবলের দিক থেকে এশিয়ার অন্যতম বড় সামরিক বাহিনী। সব মিলিয়ে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদানের বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে ঢাকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং সামনে প্রধানমন্ত্রীর রিয়াদ সফরকে ঘিরে এ আলোচনা আগামী দিনগুলোতে আরও গুরুত্ব পেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত এমন অভিবাসীদের গ্রহণ করতে শুরু করেছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়া, যারা দেশটির নাগরিক নন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতির আওতায় করা চুক্তির প্রথম ধাপে গত ২০ আগস্ট প্রায় ২০ জনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে লাইবেরিয়ায় পাঠানো হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ জনকে লাইবেরিয়ায় পাঠানো হতে পারে। এসব ব্যক্তির মধ্যে আফ্রিকা, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। লাইবেরিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো ব্যক্তিরা দেশটির নাগরিক নন এবং তাদের ‘তৃতীয় দেশের নাগরিক’ হিসেবে গ্রহণ করা হবে। তাদের মধ্যে যারা চাইবেন, তারা লাইবেরিয়ায় আশ্রয়ের আবেদন করতে পারবেন। প্রথম দলটি লুইজিয়ানা থেকে একটি বিমানে করে লাইবেরিয়ার রাজধানী মনরোভিয়ার বাইরে রবার্টস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। তবে বিমানটি অবতরণের পর কয়েকজন বহিষ্কৃত ব্যক্তি বিমান থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাদের গন্তব্য নিয়ে আপত্তি তোলেন। পরে জানা যায়, প্রথম দফায় পাঠানো ছয়জন—চারজন কিউবার নাগরিক, একজন ব্রাজিলের নাগরিক এবং একজন ক্যামেরুনের নারী—বিমান থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানান। তাদের দাবি ছিল, লাইবেরিয়া তাদের নিজ দেশ নয় এবং সেখানে গেলে তারা নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে পারেন। লাইবেরিয়ার সরকার বলেছে, এই ব্যবস্থা দুই দেশের মধ্যে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের কূটনৈতিক নোট বিনিময়ের ভিত্তিতে করা হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ এটিকে মানবিক ব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরেছে এবং জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা ব্যক্তিদের অতিথি হিসেবে গ্রহণ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এটি এমন একটি নীতির অংশ, যার মাধ্যমে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো আইনগতভাবে সম্ভব নয় বা যাদের নিজ দেশে ফেরত গেলে নির্যাতন কিংবা অন্য গুরুতর ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে, তাদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সঙ্গে এ ধরনের ব্যবস্থা করেছে। তবে এই নীতি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসন অধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নিজ দেশের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এমন জায়গায় বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের পাঠানো হলে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে এবং পরবর্তী সময়ে তারা আবার অন্য দেশে পাঠানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। লাইবেরিয়ার জন্য বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশটির প্রায় ৬০ লাখ মানুষের বড় একটি অংশ এমন জনগোষ্ঠীর বংশধর, যাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত কৃষ্ণাঙ্গদের ইতিহাস রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত মানুষদের গ্রহণের এই নতুন ভূমিকা দেশটির ঐতিহাসিক সম্পর্কের সঙ্গেও নতুন এক বৈপরীত্য তৈরি করেছে। সব মিলিয়ে, লাইবেরিয়ায় প্রথম ২০ জনকে পাঠানোর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘তৃতীয় দেশে বহিষ্কার’ নীতির নতুন একটি অধ্যায় শুরু হয়েছে। আগামী এক বছরে আরও ১ হাজার ১৮০ জন পর্যন্ত মানুষকে সেখানে পাঠানো হলে এ ব্যবস্থা অভিবাসন নীতি, মানবাধিকার ও দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বাংলাদেশি স্থপতি, নগরবিদ, স্থাপত্য ইতিহাসবিদ, গবেষক ও লেখক ড. কাজী খালিদ আশরাফকে সম্মাননা জানিয়েছে ডেলাওয়ার ভ্যালির বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি। গত ২৩ আগস্ট রোববার ড্রেক্সেল হিলের শপ্তক কালচারাল সেন্টারে আয়োজিত এ সম্মাননা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্থাপত্য, নগরায়ণ, ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, ড. আশরাফের সহকর্মী, বন্ধু ও শিক্ষার্থীসহ বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ড. কাজী খালিদ আশরাফ তাঁর স্থাপত্যচিন্তা, গবেষণা ও বাংলাদেশের নগর ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি তরুণ স্থপতিদের গতানুগতিক চিন্তার বাইরে গিয়ে সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী চিন্তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বিশেষভাবে নদী, খাল, জলাভূমি ও পরিবেশকে বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। ড. আশরাফ বুয়েট থেকে স্থাপত্যে ডিগ্রি অর্জনের পর এমআইটি থেকে মাস্টার্স এবং ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পর ২০১৫ সালে বাংলাদেশে ফিরে স্থাপত্য ও নগর গবেষণায় সক্রিয় হন। বর্তমানে তিনি বেঙ্গল ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেকচার, ল্যান্ডস্কেপ অ্যান্ড সেটেলমেন্টসের ডিরেক্টর জেনারেল। তাঁর গবেষণা ও লেখালেখির মধ্যে বাংলাদেশের স্থাপত্য ইতিহাস, নগরায়ণ, পরিবেশ, মাজহারুল ইসলাম ও লুই কানসহ আধুনিক স্থাপত্যের বিভিন্ন বিষয় উল্লেখযোগ্য। স্থাপত্য-গবেষণায় অবদানের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক ছিলেন ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ডেলাওয়ার ভ্যালি, বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটি ফোরাম পেনসিলভানিয়া এবং ফিলাডেলফিয়া পত্রিকা। অনুষ্ঠানে ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা মতবিনিময়ে অংশ নেন। শেষ পর্বে প্রকৌশলী সালাউদ্দিন আহমেদ তারেক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী কাদের কিবরিয়ার সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। আয়োজকদের মতে, ড. কাজী খালিদ আশরাফকে সম্মাননা জানানোর পাশাপাশি এ আয়োজন প্রবাসী নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থাপত্য, জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক সংযোগ তৈরি করেছে।
ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও কৌশলগত অবস্থানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন চার তারকা জেনারেল ব্যারি আর. ম্যাকক্যাফ্রে। ম্যাকক্যাফ্রের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় ১৫টি সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার স্থায়ীভাবে হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তার মতে, এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে ওয়াশিংটনকে নতুন করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে হতে পারে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রকে পশ্চিম সৌদি আরব, ইসরায়েল ও দক্ষিণ ইউরোপে নতুন সামরিক প্রবেশাধিকার নিয়ে আলোচনা করতে হতে পারে। ম্যাকক্যাফ্রে দীর্ঘ সামরিক ক্যারিয়ারে ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে উপসাগরীয় যুদ্ধ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের প্রশাসনেও দায়িত্ব পালন করেন। তার এই মূল্যায়ন সামনে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর লজিস্টিক ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার সময়। পোস্টটিতে দাবি করা হয়েছে, ইরানের পাল্টা হামলায় অঞ্চলটির মার্কিন ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ম্যাকক্যাফ্রের মতে, এর ফলে শুধু কয়েকটি সামরিক স্থাপনার বিষয় নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রয়োগের সক্ষমতা ও কৌশলগত প্রভাবের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। তার বক্তব্যের সারকথা হলো, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক প্রবেশাধিকার সীমিত হলে যুক্তরাষ্ট্রকে বিকল্প ঘাঁটি ও নতুন সামরিক অংশীদার খুঁজতে হবে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের সামরিক পরিকল্পনা পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন হতে পারে।