ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে ট্রাম্পপুত্র ব্যারনকে হত্যার হুমকি, ১ কোটি ডলারের পুরস্কারের ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ বছর বয়সী ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একটি হুমকিমূলক ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, ব্যারনের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং তাকে হত্যার জন্য ১ কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের চ্যানেল থ্রিতে প্রচারিত ভিডিওটির সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর—আইআরজিসির ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ভিডিওটির শিরোনাম ছিল, ‘ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় ও কীভাবে হত্যা করা হবে?’ এতে ব্যারনের বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান, তাকে বহনকারী গাড়ি এবং নিরাপত্তায় থাকা সিক্রেট সার্ভিস সদস্যদের অবস্থান সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।
ভিডিওতে আরও দাবি করা হয়, ব্যারনের চলাফেরা ‘সম্পূর্ণ নজরদারিতে’ রয়েছে। এমনকি তার ব্যক্তিগত যোগাযোগের বিষয়েও বিভিন্ন তথ্য দেখানো হয়। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ইউরোনিউজও জানিয়েছে, ভিডিওতে করা দাবিগুলো তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
প্রচারিত ভিডিওতে আরও দাবি করা হয়, এক তরুণী সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা এড়িয়ে ব্যারনের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেছিলেন এবং পরে তার সম্পর্কে তথ্য ভিডিওটির নির্মাতাদের কাছে পৌঁছে দেন। ব্যারন ব্যক্তিগত যোগাযোগের জন্য এক্সবক্স ব্যবহার করেন—এমন দাবিও করা হয়েছে। এসব তথ্যেরও স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ব্যারন ট্রাম্প বর্তমানে নিউইয়র্কে কলেজে পড়াশোনা করছেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের কনিষ্ঠ সন্তান। অন্যদের তুলনায় তিনি সাধারণত জনসম্মুখে কম থাকেন। তবে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাকে পরিবারের সঙ্গে দেখা গেছে।
এটি অবশ্য ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে ইরান-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রথম হুমকি নয়। এর আগে জুলাইয়ে মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়েও একই ধরনের একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছিল। সেই ভিডিওতে তাঁর চলাচল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, ব্যারনকে ঘিরে প্রচারিত ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেছেন, তাদের সুরক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হুমকি হিসেবে বিবেচিত যেকোনো বিষয় তারা তদন্ত করে। ফলে ভিডিওটি প্রকাশের পর ব্যারনের নিরাপত্তা নিয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র। ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকির পরও তেহরান কঠোর অবস্থান নিয়েছে। একই সময়ে দুই দেশের চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর আরও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ট্রাম্প নিজেও অতীতে ইরানের পক্ষ থেকে হত্যার হুমকি নিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার ঘটনায় ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। এর আগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকটি মামলাও হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ব্যারন ট্রাম্পকে ঘিরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারে এমন হুমকি দুই দেশের চলমান সংঘাতকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। তবে ভিডিওতে করা ১ কোটি ডলারের পুরস্কার, নজরদারি এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেদ করার দাবিগুলো এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়—এ বিষয়টি আলাদা করে মনে রাখা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী মারা গেলে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জীবিত স্বামী বা স্ত্রী নিজস্ব আবেদনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সাধারণত ফর্ম আই-৩৬০ ব্যবহার করে আবেদন করতে হয়। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা—ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীর বৈবাহিক সম্পর্ক, মৃত স্বামীর বা স্ত্রীর নাগরিকত্ব এবং পুনর্বিবাহের বিষয়সহ কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রথম শর্ত হলো—মৃত স্বামী বা স্ত্রীকে মৃত্যুর সময় মার্কিন নাগরিক হতে হবে। ইউএসসিআইএসের নথি অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী নাগরিক, বিদেশে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিকের সন্তান হিসেবে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তি অথবা স্বাভাবিকীকরণের মাধ্যমে নাগরিক হওয়া ব্যক্তি—যেকোনো একটি অবস্থানে থাকতে পারেন। এ বিষয়টি প্রমাণ করতে জন্মসনদ, নাগরিকত্বের সনদ বা বৈধ মার্কিন পাসপোর্টের মতো নথি দিতে হতে পারে। দ্বিতীয় শর্ত—আইনগতভাবে বিবাহিত স্বামী বা স্ত্রী হতে হবে। আবেদনকারীর সঙ্গে মৃত মার্কিন নাগরিকের বৈধ বিবাহের প্রমাণ দিতে হবে। এর জন্য বিবাহের সনদ প্রয়োজন হয়। আগে অন্য কোনো বিবাহ হয়ে থাকলে, সেই বিবাহ আইনগতভাবে শেষ হয়েছে—এমন প্রমাণও প্রয়োজন হতে পারে। তৃতীয় শর্ত—মৃত্যুর সময় স্বামী-স্ত্রী আইনগতভাবে আলাদা থাকা যাবে না। ইউএসসিআইএসের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মৃত মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে মৃত্যুর সময় আবেদনকারী আইনগতভাবে আলাদা থাকলে এই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় আবেদন করার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। ফর্ম আই-৩৬০-এ এ বিষয়ে সরাসরি তথ্য চাওয়া হয়। চতুর্থ শর্ত—আবেদনকারীকে পুনরায় বিয়ে করা যাবে না। স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর আবেদনকারী যদি অন্য কাউকে বিয়ে করে থাকেন, তাহলে মৃত মার্কিন নাগরিকের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নষ্ট হতে পারে। ইউএসসিআইএস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আবেদন করার সময় পুনর্বিবাহ না করা একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। পঞ্চম শর্ত—স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। ইউএসসিআইএসের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে মৃত মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর দুই বছরের মধ্যে ফর্ম আই-৩৬০ জমা দিতে হয়। অর্থাৎ মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে আবেদন করলে এই বিশেষ ব্যবস্থার সুযোগ নাও থাকতে পারে। ষষ্ঠ শর্ত—বিয়েটি প্রকৃত বৈবাহিক সম্পর্ক হতে হবে এবং আবেদনকারীকে অভিবাসনের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে হবে। ইউএসসিআইএসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিয়েটি শুধু অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল—এমন হলে আবেদন গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। একই সঙ্গে আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের অন্যান্য প্রযোজ্য যোগ্যতাও পূরণ করতে হবে। কীভাবে আবেদন করবেন? মৃত মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রীর পক্ষ থেকে আগে ফর্ম আই-১৩০ জমা দেওয়া হয়ে থাকলে এবং সেটি অনুমোদিত বা বিচারাধীন থাকলে, অনেক ক্ষেত্রে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিধবা বা বিপত্নীক স্বামী-স্ত্রীর ফর্ম আই-৩৬০ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নতুন করে আই-৩৬০ জমা দেওয়ার প্রয়োজন সব ক্ষেত্রে হয় না। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত যোগ্য আবেদনকারীরা পরিস্থিতি অনুযায়ী ফর্ম আই-৪৮৫ ব্যবহার করে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, এ ধরনের বিধবা বা বিপত্নীক স্বামী-স্ত্রীর জন্য অভিবাসন ভিসা সাধারণত সরাসরি পাওয়া যায় যখন আই-৩৬০ অনুমোদিত হয়। তবে শুধু এই ছয়টি শর্ত পূরণ করলেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত অভিবাসন ইতিহাস, অপরাধমূলক রেকর্ড, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ইতিহাস এবং অন্যান্য আইনগত বিষয়ও বিবেচনায় আসতে পারে। তাই বাস্তব কোনো আবেদন করার আগে ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
মিডটার্ম নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের ডাকযোগে ভোটের আদেশ কার্যকরের পথ খুলে দিল সুপ্রিম কোর্ট
ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে ট্রাম্পপুত্র ব্যারনকে হত্যার হুমকি, ১ কোটি ডলারের পুরস্কারের ঘোষণা
মলোটভ ককটেলসহ আটক জর্ডানীয় নাগরিককে আদালত থেকে মুক্তির পর ফের গ্রেপ্তার করল আইস
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে শুধু ডিগ্রির বদলে প্রার্থীর বাস্তব দক্ষতার গুরুত্ব বাড়ছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব কলেজেস অ্যান্ড এমপ্লয়ার্সের (এনএসিই) ২০২৬ সালের চাকরির বাজারবিষয়ক জরিপে অংশ নেওয়া ৭০ শতাংশ নিয়োগদাতা জানিয়েছেন, তারা এন্ট্রি লেভেলের নিয়োগে দক্ষতাভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এক বছর আগে এই হার ছিল ৬৫ শতাংশ। এই পরিবর্তনের ফলে নতুন অভিবাসী, ক্যারিয়ার পরিবর্তন করতে চাওয়া ব্যক্তি এবং সাম্প্রতিক গ্র্যাজুয়েটদের জন্য স্বল্পমেয়াদি ও পেশাভিত্তিক সনদের গুরুত্ব বাড়ছে। তবে কোনো একটি সনদই চাকরি বা নির্দিষ্ট বেতন নিশ্চিত করে না। নিয়োগদাতারা সনদের পাশাপাশি প্রার্থীর বাস্তব দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রযুক্তি খাতে কম্পটিআইএ সিকিউরিটি প্লাস, এডব্লিউএস ক্লাউড প্র্যাকটিশনার এবং গুগলের ক্লাউডভিত্তিক বিভিন্ন সনদ এন্ট্রি লেভেলের চাকরিতে দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য এসব সনদ কাজে আসতে পারে। তবে চাকরির চাহিদা, বেতন ও নিয়োগের সুযোগ পদ এবং অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে। আরও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের জন্য এডব্লিউএস সার্টিফায়েড সলিউশনস আর্কিটেক্ট, সিআইএসএসপি এবং পিএমপির মতো পেশাগত সনদ ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা খাতে পিএমপি দীর্ঘদিন ধরে স্বীকৃত একটি পেশাগত সনদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের ২০২৫ সালের বেতন জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পিএমপি সনদধারী পেশাজীবীদের মধ্যম বেতন ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। একই জরিপে পিএমপি না থাকা পেশাজীবীদের মধ্যম বেতন ছিল ১ লাখ ৯ হাজার ১৫৭ ডলার। অর্থাৎ দুই দলের বেতনের ব্যবধান ছিল প্রায় ২৪ শতাংশ। অভিজ্ঞতার সঙ্গে এই ব্যবধান আরও বাড়তে পারে। ওই জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে পিএমপি সনদ থাকা পেশাজীবীদের মধ্যম বেতন ১ লাখ ৭৩ হাজার ডলার। বিপরীতে পাঁচ বছরের কম সময় ধরে পিএমপি সনদধারীদের মধ্যম বেতন ছিল ১ লাখ ২৩ হাজার ডলার। তবে শুধু পরীক্ষায় পাস করে সনদ অর্জন করাই চাকরি পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। এনএসিইর তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগদাতারা বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা, ইন্টার্নশিপ, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি এবং দক্ষতার বাস্তব প্রমাণকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাই জীবনবৃত্তান্তে শুধু সনদের নাম উল্লেখ করার পরিবর্তে সেই সনদ থেকে অর্জিত দক্ষতা কীভাবে বাস্তব কাজে প্রয়োগ করা হয়েছে, তা তুলে ধরা বেশি কার্যকর। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের সরকারি তথ্যেও দেখা যায়, সব চাকরির জন্য চার বছরের ব্যাচেলর ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়। মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৫ সালের পেশাগত প্রয়োজনীয়তা জরিপ অনুযায়ী, সব পেশা মিলিয়ে ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ কর্মীর ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ন্যূনতম আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করা হয়নি। ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশ কর্মীর ক্ষেত্রে হাইস্কুল ডিপ্লোমা ছিল ন্যূনতম শিক্ষাগত শর্ত। আর ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ কর্মীর ক্ষেত্রে ব্যাচেলর ডিগ্রি ছিল ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে পেশাগত সনদকে ডিগ্রির সরাসরি বিকল্প হিসেবে দেখার চেয়ে নির্দিষ্ট চাকরির প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা বেশি বাস্তবসম্মত। বিশেষ করে প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রে সঠিক সনদের সঙ্গে বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা যুক্ত করতে পারলে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করা সহজ হতে পারে।
১৪ বছরের শিক্ষার্থীদের সামনে গর্ভপাত, যৌনতা ও টান্সজেন্ডার শিল্পকর্ম! অভিভাবকদের ক্ষোভ
অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ভার্জিনিয়ার বারাক ওবামা এলিমেন্টারি স্কুল
মাত্র দুই সপ্তাহেই মেরিল্যান্ড-ভার্জিনিয়ায় ১,৩২৮ জনকে আটক করেছে আইসিই
যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম আগস্ট মাসের জন্য রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। সোমবার জাতীয়ভাবে নিয়মিত গ্যাসোলিনের গড় দাম ছিল গ্যালনপ্রতি ৪.০৫ ডলার, যা বছরের এই সময়ে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত ও তেল সরবরাহে অস্থিরতার কারণে সামনে দাম আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন জ্বালানি বিশ্লেষকেরা। অঙ্গরাজ্যভেদে পরিস্থিতি আরও কঠিন। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের অনেক এলাকায় গ্যালনপ্রতি গ্যাসের দাম ইতোমধ্যে ৫ ডলারের ওপরে উঠেছে। এ এ এ -এর তথ্য অনুযায়ী, ২০ আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় গড় দাম ছিল ৪.১০ ডলার, যা ওই তারিখের জন্য রেকর্ড সর্বোচ্চ। চলতি আগস্টে গড় দাম ৪.০৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২২ সালের আগস্টের ৩.৯৭ ডলারের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। জ্বালানি বিশ্লেষক প্যাট্রিক ডি হানের মতে, শুধু অপরিশোধিত তেলের দাম নয়, বিশ্বজুড়ে রিফাইনারি সক্ষমতার ওপর চাপও গ্যাসের দাম বাড়ার বড় কারণ হয়ে উঠেছে। ইউক্রেনের রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ধারাবাহিক হামলার কারণে রাশিয়ার বেশ কিছু রিফাইনারি সক্ষমতা ব্যাহত হয়েছে। ফলে পরিশোধিত জ্বালানি, বিশেষ করে গ্যাসোলিন ও ডিজেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হচ্ছে। ডি হান বলেন, রাশিয়া বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিশোধনকারী দেশগুলোর একটি। দেশটির রিফাইনারিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শুধু অপরিশোধিত তেলের বাজার নয়, গ্যাসোলিন, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের মতো পরিশোধিত জ্বালানির বৈশ্বিক বাজারেও চাপ বাড়ছে। ডিজেলের বাজারে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট। ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু এলাকায় ডিজেলের দাম আবার গ্যালনপ্রতি ৭ ডলারের ওপরে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ডিজেলের গড় দামও গত এক মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে বড় ধরনের ব্যাঘাত তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেলবাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ৮০ ডলারের ওপরে থাকায় তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের পাম্পের দামে। দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনাও রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন স্বাভাবিক সময়ের প্রায় আড়াই সপ্তাহ আগেই শীতকালীন ব্লেন্ডের গ্যাসোলিন বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। এই ধরনের গ্যাসোলিন উৎপাদন তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল হওয়ায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, সামনে ঝুঁকি এখনও অনেক। যুক্তরাষ্ট্রে হারিকেন মৌসুম চলমান থাকায় গালফ কোস্টের রিফাইনারি ও জ্বালানি সরবরাহ যেকোনো সময় ব্যাহত হতে পারে। একই সময়ে ভূরাজনৈতিক সংঘাত অব্যাহত থাকলে তেলের বাজারে অস্থিরতাও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভও কমছে। অনুমোদিত তেল ছাড়ের কারণে মজুত প্রায় ২৯৫ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহে তা আরও কমে প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ব্যারেলে নামতে পারে বলে জ্বালানি বিশ্লেষক প্যাট্রিক ডি হান জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে আগস্ট ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল গ্যাসোলিনের মাস হতে চলেছে। বিশেষ করে লেবার ডে উইকেন্ড সামনে থাকায় জাতীয় গড় দাম প্রথমবারের মতো ৪ ডলারের ওপরে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে লেবার ডে-তে সর্বোচ্চ জাতীয় গড় দাম ছিল ২০১২ সালে, যখন তা ৩.৮৩ ডলারে উঠেছিল। জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতা কতদিন থাকবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ, ইরানকে ঘিরে সংঘাত, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, রিফাইনারি সক্ষমতা এবং হারিকেন মৌসুম - সবগুলো বিষয় একসঙ্গে গ্যাসের দামের ওপর চাপ তৈরি করছে। ফলে আগামী কয়েক মাসেও যুক্তরাষ্ট্রের গাড়িচালকদের জন্য পাম্পের দাম বড় একটি উদ্বেগ হয়ে থাকতে পারে।
মামলার শুনানির পর আদালতের বাইরে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের সেই দম্পতি, মিলতে পারে আইনি ছাড়
‘মুসলিম সংস্কৃতির মধ্যে বড় হতে না পারা আমার বড় আফসোসগুলোর একটি’: বেলা হাদিদ