সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ সেনাদের মনোবল বাড়াতে পুতিনের ভরসা ৬০০ বছরের পুরোনো সেনাপতির দে হাবশেষ
ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ সেনাদের মনোবল বাড়াতে পুতিনের ভরসা ৬০০ বছরের পুরোনো সেনাপতির দে হাবশেষ

ইউক্রেন যুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না পেয়ে এবার সেনাদের হারানো মনোবল চাঙা করতে মধ্যযুগীয় ইতিহাস ও ধর্মীয় আবেগের দ্বারস্থ হয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। চতুর্দশ শতকের বিখ্যাত রুশ সামরিক নেতা গ্র্যান্ড প্রিন্স দিমিত্রি দনস্কয়ের সদ্য আবিষ্কৃত দেহাবশেষ বা হাড়গোড় ইউক্রেনে যুদ্ধরত রুশ সেনাদের কাছে পাঠানোর এক ব্যতিক্রমী পরিকল্পনায় আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছেন তিনি।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি বিস্টের এক প্রতিবেদনে পুতিনের এই অভিনব যুদ্ধ-কৌশলের কথা তুলে ধরা হয়েছে।   সম্প্রতি মস্কোর ঐতিহাসিক আর্কেঞ্জেল ক্যাথেড্রালের সংস্কারকাজ চলার সময় দিমিত্রি দনস্কয়ের এই দেহাবশেষ আবিষ্কৃত হয় বলে জানায় রুশ অর্থোডক্স চার্চ। তাদের দাবি, ১৩৮৯ সালে মারা যাওয়া এই বীরের দেহাবশেষ প্রায় সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে; কেবল বাম পায়ের গোড়ালির একটি হাড় ছাড়া।   এই আবিষ্কারের পরপরই গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ক্যাথেড্রালটি পরিদর্শনে যান ৭৩ বছর বয়সী পুতিন। ক্রেমলিনের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি মোমবাতি হাতে প্রার্থনাসভায় অংশ নিচ্ছেন এবং রুশ সেনাবাহিনীর বিজয় ও জাতির জন্য আশীর্বাদ কামনা করছেন। প্রার্থনা শেষে তিনি কাপড়ে ঢাকা ওই দেহাবশেষ রাখা দুটি খোলা সমাধিও ঘুরে দেখেন।   রুশ ইতিহাসে দিমিত্রি দনস্কয় এক কিংবদন্তি সামরিক বীর, যিনি ১৩৮০ সালের কুলিকোভোর যুদ্ধে দুর্ধর্ষ মঙ্গোল বাহিনীকে পরাজিত করেছিলেন। রুশ অর্থোডক্স চার্চের প্রধান প্যাট্রিয়ার্ক কিরিল এই বীরের দেহাবশেষের কিছু অংশ ইউক্রেন ফ্রন্টে লড়াইরত সেনাদের কাছে পাঠানোর প্রস্তাব দিলে পুতিন তাতে সম্মতি দেন।   যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে এমন এক কিংবদন্তি বীরের দেহাবশেষ আবিষ্কারের ঘটনাকে ‘বিস্ময়কর’ ও ‘অলৌকিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।   বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে রাশিয়াকে বিপুল সামরিক সরঞ্জাম হারাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটিতে দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট।   দেশ ও দেশের বাইরে যখন পুতিনের ওপর চাপ বাড়ছে, ঠিক তখনই মধ্যযুগীয় এক বীরের স্মৃতি ও ধর্মীয় প্রতীককে সামনে এনে রুশ বাহিনীর মনোবল পুনরুদ্ধারের এই আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে ক্রেমলিন।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৮:১৭
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের নবজাতক সন্তানকে শ্বাসরোধে হ ত্যা করে ব্যাগে লুকিয়েছিলেন মৃ তদেহ, আদালতে মায়ের স্বীকারোক্তি
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের নবজাতক সন্তানকে শ্বাসরোধে হ ত্যা করে ব্যাগে লুকিয়েছিলেন মৃ তদেহ, আদালতে মায়ের স্বীকারোক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন ছাত্রী নিজের নবজাতক সন্তানকে হত্যার পর তার মৃতদেহ লুকিয়ে রাখার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন। শুক্রবার আদালতে দাঁড়িয়ে ২২ বছর বয়সী লেকেন স্নেলিং নামের ওই তরুণী ফার্স্ট-ডিগ্রি ম্যানস্লটার বা নরহত্যা, মৃতদেহের প্রতি অবমাননা, আলামত নষ্ট করা এবং সন্তান জন্মের তথ্য গোপন করার মতো গুরুতর অভিযোগগুলো মাথা পেতে নেন।   শুনানির একপর্যায়ে স্নেলিং কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং স্বীকার করেন যে, তার শিশুটি জীবিত অবস্থায় জন্মেছিল কিন্তু তিনি তাকে শ্বাস নিতে দেননি। আদালতে তিনি বলেন, "আমি তখন প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলাম এবং আমার বাচ্চাটা অপ্রত্যাশিতভাবেই পৃথিবীতে চলে এসেছিল।"   ফেয়েট সার্কিট আদালতের বিচারক ডায়ান মিনিফিল্ড যখন জানতে চান যে, সন্তানকে সাহায্য না করার কথা বলে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তখন স্নেলিংয়ের সরাসরি উত্তর ছিল, "আমি তার জীবন শেষ করে দিয়েছি।" কীভাবে এই কাজ করেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান যে, তিনি শিশুটিকে অক্সিজেন থেকে বঞ্চিত করে শ্বাসরোধ করেছিলেন।   ২০২৫ সালের আগস্টে স্নেলিংয়ের রুমমেটরা ক্যাম্পাসের বাইরের ওই বাড়ির একটি ওয়ারড্রোবের ভেতর প্লাস্টিকের ব্যাগে নবজাতকের মৃতদেহ আবিষ্কার করলে লেক্সিংটন পুলিশ তদন্ত শুরু করে। কেনটাকির মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয় পরবর্তীতে নিশ্চিত করে যে, শিশুটি জীবিত জন্মেছিল এবং অজ্ঞাত কোনো উপায়ে শ্বাসরোধের কারণেই তার মৃত্যু হয়।   যদিও তদন্তকারীদের কাছে শুরুতে স্নেলিং দাবি করেছিলেন যে জন্মের পর শিশুটি শ্বাস নিচ্ছিল না। পরে তিনি এমন দাবিও করেন যে, তিনি বাচ্চাটির ওপর অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন এবং ঘুম ভাঙার পর তাকে নীল ও বেগুনি হয়ে যেতে দেখেন। তবে শেষ পর্যন্ত শুক্রবার তিনি প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে মৃতদেহটি প্লাস্টিকের ব্যাগে এবং রক্তমাখা তোয়ালেগুলো অন্য ব্যাগে লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করে নেন।   ঘটনার সময় স্নেলিং কেনটাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং সেখানকার 'স্টান্ট' দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন, যদিও পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেন। এই অপরাধের দায়ে প্রসিকিউটররা তাকে হত্যার জন্য ১০ বছর এবং বাকি তিনটি অভিযোগের প্রত্যেকটির জন্য এক বছর করে কারাদণ্ডের সুপারিশ করেছেন।   এই সাজা পর্যায়ক্রমে কার্যকর হলে তাকে সর্বোচ্চ ১৩ বছর কারাগারে কাটাতে হতে পারে। তবে বিচারক চাইলে সাজাগুলো একসঙ্গে বা আংশিকভাবেও কার্যকর করার নির্দেশ দিতে পারেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৭:৫৬
‘মুসলিম দেশগুলোর সম্পদ লুট করতে চায় শত্রুরা’, হুঁশিয়ারি ইরানের স্পিকার গালিবাফের
‘মুসলিম দেশগুলোর সম্পদ লুট করতে চায় শত্রুরা’, হুঁশিয়ারি ইরানের স্পিকার গালিবাফের

মুসলিম দেশগুলোর মূল্যবান সম্পদ ও কাঁচামাল লুট করার জন্য শত্রুরা সবসময় তৎপর রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) ইরাকের রাজধানী বাগদাদে আয়োজিত ইরানি ও ইরাকি ব্যবসায়ীদের এক যৌথ বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, গালিবাফ তাঁর বক্তব্যে মুসলিম বিশ্বের ওপর চলমান আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে, শত্রুদের প্রধান লক্ষ্যই হলো ইসলামী দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক শক্তিকে দুর্বল করে নিজেদের ফায়দা হাসিল করা।   একই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনায় মুখর হন শীর্ষ এই ইরানি কর্মকর্তা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বিভিন্ন অর্থনৈতিক বাধাকে ‘অন্যায্য নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দ্রুত সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।   ইরাক ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার মাধ্যমে এই মার্কিন চাপ মোকাবিলার ওপর জোর দেন তিনি। গালিবাফ মনে করেন, প্রতিবেশী ও মিত্র দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই শত্রুদের সম্পদ লুটের এই ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া এবং নিজেদের অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করা সম্ভব।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৭:৩৭
ইলহান ওমরকে ‘ডিপোর্ট’ করার দাবি ন্যান্সি মেসের, তুঙ্গে মার্কিন রাজনৈতিক বিতর্ক
ইলহান ওমরকে ‘ডিপোর্ট’ করার দাবি ন্যান্সি মেসের, তুঙ্গে মার্কিন রাজনৈতিক বিতর্ক

ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করার বা ‘ডিপোর্ট’ করার দাবি আবারও জোরালোভাবে তুলেছেন সাউথ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি ন্যান্সি মেস। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেস লিখেছেন, "ইলহান ওমরকে বিতাড়িত করার জন্য আজ একটি ভালো দিন হতে পারে।" মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত সহকর্মী ওমরের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে মেসের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য অবশ্য এটিই প্রথম নয়।   এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ন্যান্সি মেস বলেছিলেন, সোমালিয়া চাইলে ওমরকে "ফিরিয়ে নিতে পারে"। সেসময় ওমরের কংগ্রেসের আসন ও নাগরিকত্ব বাতিলেরও দাবি জানান তিনি।   এমনকি চলতি বছরের জানুয়ারিতে হাউস ওভারসাইট কমিটিতে ওমরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘বিয়ে জালিয়াতি’র অভিযোগ তুলে তাঁর অভিবাসন রেকর্ড তলবের চেষ্টাও করেছিলেন মেস, যদিও কমিটি সেই অনুরোধ অনুমোদন করেনি।   তবে আইনি ও বাস্তব চিত্র হলো, ইলহান ওমর ২০০০ সাল থেকে একজন বৈধ মার্কিন নাগরিক। সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে ১৯৯৫ সালে শিশু বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো নাগরিকের নাগরিকত্ব আইনি প্রক্রিয়ায় বা ‘ডিন্যাচুরালাইজেশন’-এর মাধ্যমে বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা সম্ভব নয়।   আর এই বাতিলের জন্য ফেডারেল আদালতে জালিয়াতি বা তথ্য গোপনের অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়। ওমরের বিরুদ্ধে যে বিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ তোলা হয়, তা বছরের পর বছর ধরে চর্চিত হলেও কখনোই তা প্রমাণিত হয়নি।   নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ ও বিতাড়নের ডাককে বরাবরই উড়িয়ে দিয়েছেন ইলহান ওমর। ২০১৯ সাল থেকে মিনেসোটার ৫ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করা এই ডেমোক্র্যাট নেত্রীর মতে, এসব আক্রমণ তাঁর দৈনন্দিন রাজনৈতিক কাজ বা কংগ্রেসের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলতে পারবে না।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৭:২৪
অনলাইনে পাতা হতো ফাঁদ! যুক্তরাষ্ট্রে আইসের গোপন অভিযানে ৫ শিশু যৌ ন নিপীড়ক গ্রেপ্তার
অনলাইনে পাতা হতো ফাঁদ! যুক্তরাষ্ট্রে আইসের গোপন অভিযানে ৫ শিশু যৌ ন নিপীড়ক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ওমাহায় শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন ও পাচারের বিরুদ্ধে একটি বড়সড় আন্ডারকভার অভিযান চালিয়েছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। সংস্থাটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই) বিভাগের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে পাঁচজন সন্দেহভাজন শিশু নিপীড়ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   শিশুদের যৌন নির্যাতনের উদ্দেশ্যে যারা অনলাইনে ও বাস্তবে তৎপর, মূলত তাদের হাতেনাতে ধরতেই ১২ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযানটি চালানো হয়।   গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনের মধ্যে জোকসান আপারিসিও সান্তোস নামের ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মেক্সিকান নাগরিক, যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা।   বাকি চারজন হলেন ব্রায়ান ড্যাডি, লোগান ট্রিগ, টিলিয়ান হাটন এবং মিয়ানমার বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ল এহ—যাঁরা সকলেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।   এইচএসআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তিনজনেরই আগে থেকে শিশুদের ওপর যৌন অপরাধের রেকর্ড রয়েছে এবং তাঁরা পুলিশের ‘সেক্স অফেন্ডার’ রেজিস্ট্রিতেও তালিকাভুক্ত ছিলেন।   স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানটি প্রমাণ করে যে, সমাজে শিশুদের ওপর যৌন শোষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধের গভীর ও বাস্তব ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে।   এইচএসআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যারা অনলাইনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শিশুদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে, তাদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।   শিশু নিপীড়কদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে এবং কমিউনিটির শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এমন কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৭:১১
কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে বাংলাদেশ শীর্ষ দেশগুলোর একটি, দুই বছরে প্রায় ৪০ হাজার আবেদন
কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে বাংলাদেশ শীর্ষ দেশগুলোর একটি, দুই বছরে প্রায় ৪০ হাজার আবেদন

কানাডায় বাংলাদেশি নাগরিকদের রিফিউজি বা রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। কানাডার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে কানাডার রিফিউজি ক্লেইমের অন্যতম বড় উৎস দেশগুলোর একটি।   ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ১৮ হাজারের বেশি রিফিউজি ক্লেইম কানাডার রিফিউজি প্রোটেকশন ডিভিশনে পাঠানো হয়। ২০২৫ সালেও বাংলাদেশি আবেদনকারীদের সংখ্যা ছিল ২০ হাজারের ঘরে। ফলে দুই বছরে বাংলাদেশ থেকে আসা রিফিউজি ক্লেইমের সংখ্যা কানাডার শরণার্থী নির্ধারণ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি করেছে।   কানাডার আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দেশে প্রবেশের পর নিজেকে নির্যাতন, নিপীড়ন বা গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকার দাবি করলে তার আবেদন নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করা হয়। আবেদনকারী সত্যিই রিফিউজি সুরক্ষার যোগ্য কি না, সেই সিদ্ধান্ত রিফিউজি প্রোটেকশন ডিভিশন আলাদাভাবে যাচাই করে নেয়।   বাংলাদেশ-সম্পর্কিত এসব আবেদনের একটি অংশ গ্রহণ করা হয়েছে, আবার কিছু আবেদন প্রত্যাখ্যান, প্রত্যাহার বা পরিত্যক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মামলা সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে আসা আবেদনের সংখ্যা যেমন আলোচনায় এসেছে, তেমনি এসব মামলা নিষ্পত্তিতে কানাডার রিফিউজি ব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।   সাম্প্রতিক সময়ে কানাডায় বিশ্বকাপের খেলা দেখতে যাওয়া কিছু বাংলাদেশি নাগরিক রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। তবে এ ধরনের নির্দিষ্ট ঘটনার সংখ্যা বা পরিমাণ সরকারি সূত্রে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেটিকে সামগ্রিক প্রবণতার প্রমাণ হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না।   কানাডায় ভিজিটর, স্টুডেন্ট বা অন্য কোনো অস্থায়ী ভিসায় যাওয়ার পর কেউ রিফিউজি ক্লেইম করলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। আবেদনকারীকে তার দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ দিতে হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার দাবি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়।   একইভাবে কানাডার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ভিসা আবেদনের সময় আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য, আর্থিক সক্ষমতা, নিজ দেশের পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক এবং নির্ধারিত সময় শেষে কানাডা ছাড়ার সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে।   তাই বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আবেদনে সঠিক তথ্য দেওয়া এবং যে উদ্দেশ্যে ভিসা নেওয়া হচ্ছে, সেটি সম্পর্কে সত্যনিষ্ঠ থাকা। ভুয়া তথ্য, জাল কাগজপত্র বা ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার অপব্যবহার ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজের আবেদন এবং ভবিষ্যৎ ইমিগ্রেশন সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।   বাংলাদেশ থেকে কানাডায় রিফিউজি ক্লেইমের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে, এটি সরকারি পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। তবে এই প্রবণতার কারণে পুরো বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করা বা বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেখলেই কানাডার ইমিগ্রেশন অফিসার স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন, এমন কোনো সরকারি নীতির প্রমাণ নেই।   মূল বিষয় হলো, কানাডার ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় আবেদনকারীর জাতীয়তার পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, নথিপত্র, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং আইনি যোগ্যতা বিবেচনা করা হয়। তাই কানাডায় যেতে আগ্রহী বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং ইমিগ্রেশন আইনের শর্ত মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কানাডায় ২০২৬ ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপের খেলা দেখার উদ্দেশ্যে যাওয়া পঁয়তাল্লিশ জন বাংলাদেশির মধ্যে দশ জনই হঠাৎ রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করে বসেছেন । অর্থাৎ খেলার আনন্দ উদযাপনের নামে ভিসা নিয়ে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার এই হিড়াহার প্রায় বাইশ শতাংশ ।   বিদেশে যাওয়ার যে কোনো বৈধ সুযোগকে স্থায়ী হওয়ার চাবি হিসেবে ব্যবহার করার এই প্রবণতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় । কাজের ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা কিংবা ভিজিটার ভিসা, উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন এয়ারপোর্টে নেমেই ভিত্তিহীন দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়া এখন এক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। 

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৬:৫৫
যুক্তরাষ্ট্রে পিকআপ ট্রাকে এক বছরের সন্তানকে রেখে যান বাবা, কিছুক্ষণ পরই মৃ ত্যু; অভিযুক্ত বাবা
যুক্তরাষ্ট্রে পিকআপ ট্রাকে এক বছরের সন্তানকে রেখে যান বাবা, কিছুক্ষণ পরই মৃ ত্যু; অভিযুক্ত বাবা

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের ইস্ট উইন্ডসরে একটি স্ট্রবেরি খামারে মর্মান্তিক এক ঘটনা ঘটেছে। পিকআপ ট্রাকের ভেতর এক বছর বয়সী সন্তানকে ফেলে যাওয়ায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা কেভিন পেলের বিরুদ্ধে নাবালকের জীবনের ঝুঁকি তৈরির অভিযোগে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।   পুলিশ জানায়, কেভিন তার ছেলেকে ট্রাকের ভেতর রেখে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি দেখেন শিশুটির শরীর নীল হয়ে গেছে এবং সে নিশ্বাস নিচ্ছে না। জরুরি সেবাকর্মীরা পৌঁছানোর আগে তিনি নিজেই সন্তানকে সিপিআর দিচ্ছিলেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।   অভিযুক্ত বাবার আইনজীবী জানিয়েছেন, মর্মান্তিক এই মৃত্যুতে পুরো পরিবারটি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত। তারা এই কঠিন সময়ে সবার কাছে গোপনীয়তা ও সহানুভূতি কামনা করেছেন। এছাড়া, আদালত কেভিনকে তার বাড়িতে থাকা অপর সন্তানের ক্ষেত্রে শিশু সুরক্ষা দপ্তরের নিরাপত্তা শর্তগুলো মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন।   আপাতত কেভিনের বিরুদ্ধে নাবালকের ক্ষতি করার ঝুঁকি তৈরির একটিমাত্র অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন যে, পুলিশি তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্ত এই বাবার বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু অভিযোগ গঠন করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৬:৩৩
ঋণের ভারে নুয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, মাথাপিছু বোঝা ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার
ঋণের ভারে নুয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, মাথাপিছু বোঝা ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ঋণের এই নতুন মাইলফলক দেশটির দীর্ঘদিনের বাজেট ঘাটতি ও সরকারি ব্যয়ের চাপ নিয়ে আবারও বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।    আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মোট জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। চলতি বছরের মার্চেই ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। অর্থাৎ প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যেই আরও ১ ট্রিলিয়ন ডলার যোগ হয়েছে।    দেশটির মোট জনসংখ্যা দিয়ে এই ঋণের অঙ্ক ভাগ করলে মাথাপিছু বোঝা দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার। আর একটি পরিবারের হিসাবে তা প্রায় ২ লাখ ৯৭ হাজার ডলার।   গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। করোনা মহামারির সময় ট্রাম্প ও বাইডেন দুই প্রশাসনের ব্যাপক সরকারি ব্যয় এই ঋণ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। পরে অবকাঠামো বিনিয়োগ, জ্বালানি ও শিল্পখাতে ভর্তুকি, সামাজিক কর্মসূচি এবং ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও সরকারি অর্থের ওপর চাপ বাড়িয়েছে।    তবে ঋণ বৃদ্ধির দায় শুধু একটি প্রশাসনের ওপর দেওয়া যায় না। ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও জাতীয় ঋণ বেড়েছিল। তাঁর ২০১৭ সালের কর কমানোর নীতিও দীর্ঘমেয়াদে ফেডারেল ঘাটতি বাড়ানোর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।    আর ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প বলেছিলেন, তখনকার প্রায় ১৯ ট্রিলিয়ন ডলারের জাতীয় ঋণ তিনি আট বছরের মধ্যে পুরোপুরি পরিশোধ করতে পারবেন। পরে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। বরং ২০২০ সালে তাঁর প্রথম মেয়াদের শেষদিকে তিনি নিজেই স্বীকার করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর জাতীয় ঋণ আরও বেড়েছে।    এরপর বাইডেন প্রশাসনের সময়ও জাতীয় ঋণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অবকাঠামো বিনিয়োগ, কোভিড-পরবর্তী সরকারি ব্যয় এবং বিভিন্ন শিল্প ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকির পাশাপাশি আগের ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও ঋণ বৃদ্ধির ধারাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।    বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ শুধু ঋণের মোট পরিমাণ নয়, এর সুদ পরিশোধের খরচ। ঋণের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সরকারকে প্রতিবছর বিপুল অর্থ শুধু সুদ পরিশোধে ব্যয় করতে হচ্ছে। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে ঋণের সুদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের চেয়েও বেশি হয়ে উঠেছে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।    অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, ঋণ যদি অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির চেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর চাপ আরও বাড়বে। এর প্রভাব পড়তে পারে সরকারি ব্যয়, বন্ডের সুদের হার এবং সাধারণ মানুষের মর্টগেজ ও অন্যান্য ঋণের খরচেও।   ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের এই মাইলফলক তাই শুধু একটি বিশাল সংখ্যা নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান দলের দীর্ঘদিনের ব্যয়, করনীতি ও বাজেট ঘাটতির রাজনীতির সামনে নতুন করে বড় একটি আর্থিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৬:১২
সুহাস ও প্রিয়াঙ্কা ভারতীয় প্রবাসী দম্পতি I ছবি: সংগৃহীত
‘আমেরিকায় আসবেন না’, ভারতীয় তরুণদের নিজ দেশেই ক্যারিয়ার গড়ার পরামর্শ প্রবাসী দম্পতির

উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর স্বপ্ন দেখেন বহু ভারতীয় তরুণ। তবে সম্প্রতি এক ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে সুহাস ও প্রিয়াঙ্কা নামের এক প্রবাসী দম্পতি তরুণদের আমেরিকায় না আসার পরামর্শ দিয়েছেন। কনটেন্ট ক্রিয়েটর দর্শনার ওই ভিডিওতে সুহাস তরুণদের উদ্দেশ্যে সরাসরি বলেন, "এখানে আসবেন না।"   সুহাস জানান, তারা যখন যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন তখন ভারতের পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল এবং সেখানে ভালো চাকরি পাওয়া অনেক কঠিন ছিল। কিন্তু বর্তমানে ভারতেও যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ ক্যারিয়ার গড়ার দারুণ সব সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রিয়াঙ্কাও জানান, এখন অনেক বিনিয়োগকারীও ভারতের বাজারে ব্যবসার জন্য ঝুঁকছেন।   নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সুহাস জানান, পরিবার ও বন্ধুদের ছেড়ে ভিনদেশে নতুন করে সবকিছু শুরু করার মানসিক মূল্য অনেক চড়া। দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করার পরও তারা সেখানে আপন হওয়ার অনুভূতি পান না। সুযোগ থাকলে তিনি এখনই নিজ দেশ ভারতে ফিরে যেতেন বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন।   প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে চীনা শিক্ষার্থীদের একটি তুলনামূলক চিত্রও তুলে ধরেন এই দম্পতি। তারা জানান, চীনারা বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে জ্ঞান অর্জন শেষে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখেন। ভারতীয় তরুণদের মধ্যেও এই ফিরে যাওয়ার মানসিকতা গড়ে ওঠা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৫:৫৬
মার্কিন সেনাবাহিনীর স্টাফ সার্জেন্ট ম্যাথিউ ব্ল্যাঙ্ক এবং তার স্ত্রী অ্যানি রামোস
সেনাসদস্যের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় নিবন্ধন করতে গিয়ে সেনাঘাঁটিতেই আইসিইর হাতে আটক নববধূ

মার্কিন সেনাবাহিনীর স্টাফ সার্জেন্ট ম্যাথিউ ব্ল্যাঙ্ক এবং তার স্ত্রী অ্যানি রামোসের বিয়ের বয়স তখন মাত্র দুই দিন। নববধূর সামরিক আইডি সংগ্রহ ও সেনা পরিবারের সুবিধাগুলো চালুর উদ্দেশ্যে লুইজিয়ানার ফোর্ট পোল্ক সেনাঘাঁটিতে গিয়েছিলেন তারা। অ্যানি পেশায় একজন শিক্ষিকা, যিনি শিশু বয়স থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।   ভিজিটর সেন্টারে ম্যাথিউয়ের সামরিক আইডি, বিয়ের সনদ ও অ্যানির হন্ডুরাসের পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পর তারা পরবর্তী ধাপের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু এর বদলে সেখানে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কর্মকর্তারা হাজির হন। এরপর পরিবারের চোখের সামনেই অ্যানিকে হাতকড়া পরিয়ে ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।   জানা যায়, অ্যানির বয়স যখন মাত্র ২০ মাস, তখন তার পরিবার একটি ইমিগ্রেশন শুনানিতে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হয়। মূলত সেই কারণেই তখন শিশু অ্যানির বিরুদ্ধে দেশত্যাগের নির্দেশ বা রিমুভাল অর্ডার জারি হয়েছিল। যদিও তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং আইনি বৈধতা পেতে তারা আইনজীবীর মাধ্যমেও চেষ্টা করছিলেন।   ট্রাম্প প্রশাসনের সময় সামরিক পরিবারের সদস্যদের প্রতি নমনীয়তা দেখানোর বিশেষ নীতি বাতিল হয়ে যাওয়ায় তাদের এই বিপদে পড়তে হয়। আটকের পাঁচ দিন পর আইসিই অ্যানিকে মুক্তি দিলেও, তাকে পায়ে একটি জিপিএস মনিটর পরিয়ে পাঠানো হয়েছে। শিশু বয়স থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের দেশ ভাবা অ্যানি এখন কেবল একটু মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার আকুতি জানিয়েছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৫:২৯
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭২ দিনের দীর্ঘ মিশন শেষে দেশে ফিরছে মার্কিন রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন I ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭২ দিনের দীর্ঘ মিশন শেষে দেশে ফিরছে মার্কিন রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ ৯ মাসের সামরিক অভিযান শেষে অবশেষে দেশের পথে রওনা হয়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও ক্রু নিয়ে গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রণতরিটি যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।   এই দীর্ঘ সময়ে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এটি। বর্তমানে আব্রাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে অপর মার্কিন রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার রণতরিটির বিদায়বেলায় এক বার্তায় নাবিকদের শুভযাত্রা কামনা করে শিগগিরই তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।   গত বছরের ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল আব্রাহাম লিংকন। দীর্ঘ ২৭২ দিনের এই মিশনে রণতরিটি মাত্র দুবার সমুদ্রে বিরতি নেয়। এর মধ্যে ডিসেম্বরে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়ামে স্বল্প সময়ের জন্য এবং পরবর্তীতে রসদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ওমানে নোঙর করেছিল এটি।   টানা সমুদ্রযাত্রায় থাকা নাবিকদের জন্য বিশ্রামের কোনো নির্ধারিত ছুটির দিন ছিল না। এখন প্রায় ১৩ হাজার মাইল দীর্ঘ সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে দেশে ফিরতে তাদের আরও চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে।   ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক তৎপরতার অংশ হিসেবে আব্রাহাম লিংকনকে এই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে মিশন চলাকালে রণতরিতে নাবিকদের জীবনযাত্রার মান এবং আনুষঙ্গিক নানা সংকট নিয়ে সম্প্রতি বেশ কিছু প্রতিবেদন সামনে আসে।   প্রাপ্ত তথ্যমতে, ইরানের হামলায় বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ঘাঁটি ধ্বংস হওয়ার পর এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় চরম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে মিশন চালিয়ে নিতে হয়েছে রণতরিটির হাজারো ক্রুকে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৫:১১
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় সামরিক মিশনে যাওয়ার পথে বিমান বিধ্বস্ত, প্রাণ গেল ৮ জনের
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় সামরিক মিশনে যাওয়ার পথে বিমান বিধ্বস্ত, প্রাণ গেল ৮ জনের

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য আলাস্কায় একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট ও যাত্রীসহ মোট আটজন নিহত হয়েছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য চার্টার্ড করা ওই বিমানটি একটি দুর্গম এয়ারক্রাফট-ট্র্যাকিং রাডার স্টেশনের দিকে যাওয়ার সময় মাঝপথে বিধ্বস্ত হয়।   অ্যাঙ্করেজ থেকে প্রায় ৪৫০ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত কেপ নিউয়েনহ্যাম লং রেঞ্জ রাডার সাইট এয়ারপোর্টের কাছে বৃহস্পতিবার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। ইউএস আর্মি কর্পস অব ইঞ্জিনিয়ার্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তাদের দুজন কর্মীও রয়েছেন যারা মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি প্রকল্পের কাজে সেখানে যাচ্ছিলেন।   ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, টুইন-ইঞ্জিন বিশিষ্ট সেসনা ৪৪১ মডেলের বিমানটি টেড স্টিভেন্স অ্যাঙ্করেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করেছিল। ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের (এনটিএসবি) আলাস্কা অঞ্চলের প্রধান ক্লিন্ট জনসন নিশ্চিত করেছেন যে, ওই ফ্লাইটে দুজন পাইলট এবং ছয়জন যাত্রী ছিলেন।   বেসরকারি সংস্থা ফ্লাইট সেফটি ফাউন্ডেশনের একটি পরিষেবার তথ্যমতে, দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকার আবহাওয়া বেশ কুয়াশাচ্ছন্ন ছিল। জানা গেছে, অ্যাঙ্করেজ-ভিত্তিক এয়ার চার্টার কোম্পানি 'সিকিউরিটি এভিয়েশন' এই বিমানটি পরিচালনা করত।   দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে এনটিএসবি এবং এফএএ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। এনটিএসবি-এর মুখপাত্র পিটার নুডসন জানিয়েছেন, তাদের পাঁচজন তদন্তকারী ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করে একটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হবে।   আলাস্কান কমান্ডের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল রবার্ট ডেভিস এই ঘটনাকে সামরিক পরিবার ও স্থানীয়দের জন্য এক ‘মর্মান্তিক ক্ষতি’ বলে উল্লেখ করেছেন। ইউএস আর্মি কর্পস অব ইঞ্জিনিয়ার্স-এর কমান্ডিং জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল উইলিয়াম গ্রাহাম নিহত কর্মীদের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে তাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। আলাস্কার সিনেটর লিসা মুরকাউস্কিও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং উদ্ধারকারী দলের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন।   উল্লেখ্য, যে বিমানবন্দরটির কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে সেটি মূলত একটি সংরক্ষিত সামরিক সাইট। প্যাসিফিক এয়ার ফোর্সেস রিজিওনাল সাপোর্ট সেন্টার পরিচালিত এই রাডার সাইটটি আলাস্কার আকাশসীমা ও সীমান্ত পর্যবেক্ষণের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কের অংশ। স্নায়ুযুদ্ধের সময় ১৯৫০ সালে সোভিয়েত হামলা সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা পেতে এই কেপ নিউয়েনহ্যামে এই রাডার স্টেশনটি স্থাপন করা হয়েছিল, যার অতি সামান্য অংশই বর্তমানে টিকে আছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:৪৬
পেনসিলভানিয়ায় ‘শয়তানের আদেশে’ প্রেমিকাকে কুপিয়ে হত্যা, লাশ গুমে ছেলেকে সাহায্য করলেন খোদ মা
পেনসিলভানিয়ায় ‘শয়তানের আদেশে’ প্রেমিকাকে কুপিয়ে হত্যা, লাশ গুমে ছেলেকে সাহায্য করলেন খোদ মা

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, বুধবার পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পর ক্যারোলিন তার প্রেমিক মোজারের সঙ্গে দেখা করতে পিটসবার্গের দক্ষিণ-পশ্চিমে নর্থ স্ট্রাবান টাউনশিপে যান। সেখানে গাড়ির ভেতরে বসে নিজেদের সম্পর্ক এবং কলেজে ওঠার পর তা কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে কথা বলছিলেন এই তরুণ যুগল।   কথোপকথনের এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রেমিকার কোনো কথায় ক্ষুব্ধ হয়ে মোজার বাড়ির ভেতর থেকে একটি বড় ছুরি নিয়ে আসে এবং ক্যারোলিনের বুকে উপর্যুপরি আঘাত করে তাকে হত্যা করে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে মোজার দাবি করে যে, একটি 'শয়তান' বা অশুভ আত্মা তাকে নিয়ন্ত্রণ করছিল এবং সেই তাকে এই খুন করতে নির্দেশ দিয়েছে।   হত্যার পর প্রেমিকার মৃতদেহ গাড়ির পেছনের অংশে লুকিয়ে মোজার প্রায় ২৫ মিনিট ড্রাইভ করে পেনসিলভানিয়ার বিলসভিল-এ তার মায়ের কাছে যায়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মোজার জানায়, তার মা গাড়িটি পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে সাহায্য করার প্রস্তাব দেন। অভিযোগ রয়েছে, র‍্যাচেল মোজার ছেলেকে ল্যাটেক্স গ্লাভস পরতে দেন এবং তাকে গোসল করতে বলেন।   তিনি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি একটি পলিথিনে লুকিয়ে রাখেন এবং ছেলের রক্তমাখা কাপড় ওয়াশিং মেশিনে ধুয়ে ফেলেন। এরপর তারা প্রমাণ লোপাটের জন্য রক্তমাখা গাড়িটি নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া বরো-তে রেখে আসেন। এ সময় মা র‍্যাচেল তার নিজের গাড়ি নিয়ে ছেলের পেছন পেছন যান।   বৃহস্পতিবার সকালেই পুলিশ মোজার ও তার মা র‍্যাচেলকে গ্রেপ্তার করে। মোজারের বিরুদ্ধে হত্যা, প্রমাণ লোপাট, মৃতদেহের অবমাননা এবং বিচারকাজে বাধা দেওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, তার মায়ের বিরুদ্ধেও পলাতক আসামিকে সহায়তা, প্রমাণ লোপাট এবং মৃতদেহের অবমাননার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।   সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ ঢেকে পুলিশ ভ্যানে ওঠার সময় র‍্যাচেল সাংবাদিকদের বলেন, তার ছেলে একটি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে তিনি দুঃখিত। পেনওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ডিভিশন-২ সকার দলের এই মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:২৬
৮ বছরের মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কের পর মায়ের উদ্যোগে চালু হলো বিশেষ ট্যাক্সি সার্ভিস ‘পিংক লেডিস’
৮ বছরের মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কের পর মায়ের উদ্যোগে চালু হলো বিশেষ ট্যাক্সি সার্ভিস ‘পিংক লেডিস’

আট বছর বয়সী মেয়েকে একা ট্যাক্সিতে পাঠিয়েছিলেন মা। কিন্তু দুর্গম এলাকায় যাওয়ার পর নেটওয়ার্ক না থাকায় হঠাৎ মেয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেই মুহূর্তের চরম আতঙ্ক ও অসহায়ত্ব গভীরভাবে দাগ কাটে মা অ্যামবেরিন নেওয়াজের মনে।   আর সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতাই তাকে নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা জোগায়। নারী, শিশু ও অরক্ষিত যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি চালু করেন সম্পূর্ণ নারীদের পরিচালিত বিশেষ ট্যাক্সি সার্ভিস ‘পিংক লেডিস’।   এই সার্ভিসের ট্যাক্সিগুলো উজ্জ্বল গোলাপি রঙের হওয়ায় রাস্তায় খুব সহজেই সবার নজর কাড়ে। শুধু নারী ও শিশু যাত্রীদের জন্যই এই সার্ভিসটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।   ‘পিংক লেডিস’-এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এর চালকরা সবাই নারী এবং তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যভুক্ত যাত্রীর বাইরে অন্য কেউ রাইড শেয়ার করতে চাইলে চালকের তা প্রত্যাখ্যান করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। মূলত নারীদের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতেই এই কঠোর নীতিমালা গ্রহণ করা হয়েছে।   বর্তমানে যাত্রীদের মধ্যে নিরাপদ যাতায়াতের এই সার্ভিসের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে এবং এর কার্যক্রমও সম্প্রসারিত হচ্ছে। উদ্যোক্তা অ্যামবেরিন নেওয়াজ আশা করেন, তার এই উদ্যোগ শুধু যাত্রীদের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না, বরং সমাজের অন্য নারীদেরও পেশা হিসেবে ড্রাইভিংকে বেছে নিতে উৎসাহিত করবে।   নারীদের স্বাধীনভাবে ও নিরাপদে চলাচলের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:৬
৫২ বছর বয়সেই চাকরি ছেড়ে অবসর নেওয়া নারী
৫২ বছরেই অবসরের পরিকল্পনা! মাসে ৩ হাজার পাউন্ড আয়ের স্বপ্ন কতটা বাস্তব?

যুক্তরাজ্যে ৫২ বছর বয়সেই চাকরি ছেড়ে অবসর নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন এক নারী। তার লক্ষ্য, নিজের বাড়ি ধরে রেখে পেনশন ও বিনিয়োগ থেকে মাসে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার পাউন্ড আয় করা এবং অবসরের কিছুটা সময় ভারতে কাটানো। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা সম্ভব, সেটিই এখন তার সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রশ্ন।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের ‘মানি মেকওভার’ বিভাগে প্রকাশিত আর্থিক পরিকল্পনা বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অল্প বয়সে অবসর নিতে চাইলে শুধু বর্তমান সঞ্চয় বা পেনশনের পরিমাণ দেখলেই হবে না। অবসর-পরবর্তী দীর্ঘ সময়ের জীবনযাত্রার ব্যয়, বিনিয়োগ থেকে সম্ভাব্য আয়, মূল্যস্ফীতি এবং বাড়ি সংক্রান্ত খরচও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে।   বিশেষ করে ৫২ বছর বয়সে অবসর নেওয়ার অর্থ হলো প্রচলিত অবসর বয়সের তুলনায় অনেক বেশি সময় চাকরি ছাড়া জীবনযাপন করতে হবে। ফলে পেনশন পাওয়ার বয়স হওয়ার আগের সময়টুকুর খরচ কীভাবে চালানো হবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পেনশনের পাশাপাশি বিনিয়োগ থেকে নিয়মিত অর্থ তুলতে হলে সেই বিনিয়োগের মূলধন কতদিন টিকবে, সেটিও হিসাব করতে হবে।   অবসরে মাসে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার পাউন্ড খরচের লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন তৈরি করতে পারে। কারণ আজকের ২ হাজার পাউন্ডের ক্রয়ক্ষমতা ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতির কারণে একই থাকবে না। একই সঙ্গে বাজারভিত্তিক বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয়ও প্রতি বছর একই থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।   নিজের বাড়ি ধরে রাখার সিদ্ধান্তও এই অবসর পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাড়ির ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ করা থাকলে মাসিক ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। তবে গৃহঋণ, বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, স্থানীয় কর, বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ বিভিন্ন পরিষেবার বিল এবং অন্যান্য আবাসন ব্যয় থাকলে সেগুলোও অবসরকালীন বাজেটে আলাদাভাবে ধরতে হবে।   ভারতে বছরের একটি অংশ কাটানোর পরিকল্পনা অবসরকালীন ব্যয় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় দুই দেশে বসবাস করলে যাতায়াত, চিকিৎসা, বিমা এবং করসংক্রান্ত খরচও আগে থেকেই হিসাব করা প্রয়োজন।   আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫২ বছর বয়সে অবসর নেওয়ার লক্ষ্য থাকলে এখন থেকেই পেনশন ও বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় ঋণ কমানো এবং অবসর পর্যন্ত কত অর্থ প্রয়োজন হবে তার একটি বাস্তবসম্মত হিসাব তৈরি করা জরুরি। শুধু মাসে কত টাকা আয় করতে চান তা নির্ধারণ করলেই হবে না, সেই অর্থ কত বছর ধরে প্রয়োজন হবে সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।   তাই ৫২ বছর বয়সে অবসর নেওয়া অসম্ভব নয়। তবে বাড়ি ধরে রাখা, মাসে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার পাউন্ড খরচ করা এবং একই সঙ্গে ভারতের মতো অন্য দেশে নিয়মিত সময় কাটানোর পরিকল্পনা থাকলে পর্যাপ্ত পেনশন ও বিনিয়োগের ভিত্তি তৈরি না করে চাকরি ছেড়ে দেওয়া বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৩:৪৭
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অভিবাসী? প্রথম ৩০ দিনে এই ১০ কাজ না করলে পরে বাড়তে পারে ভোগান্তি
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অভিবাসী? প্রথম ৩০ দিনে এই ১০ কাজ না করলে পরে বাড়তে পারে ভোগান্তি

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অভিবাসী হিসেবে আসার পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ শুধু চাকরি খোঁজা বা বাসা গোছানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, ড্রাইভার লাইসেন্স থেকে শুরু করে ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরি, চাকরির প্রস্তুতি ও স্থানীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মতো বেশ কিছু কাজ শুরুতেই গুছিয়ে নেওয়া জরুরি। তবে কোন কাজটি কখন করতে হবে, তা ব্যক্তির ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ও অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে।   নতুন অভিবাসীদের জন্য প্রথম ৩০ দিনে অগ্রাধিকার দিয়ে যে ১০টি কাজ করা যেতে পারে, সেগুলো হলো:   ১. সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের ব্যবস্থা করুন: চাকরি, কর প্রদান, ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন কাজে সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা এসএসএন প্রয়োজন হতে পারে। অভিবাসী ভিসার আবেদন করার সময় সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের জন্য আবেদন করলে আলাদাভাবে সোশ্যাল সিকিউরিটি অফিসে যেতে নাও হতে পারে। সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এভাবে আবেদন করলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর কার্ড ডাকযোগে পাঠানো হয়।   যারা ভিসা আবেদনের সময় সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের জন্য আবেদন করেননি, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সোশ্যাল সিকিউরিটি অফিসে আবেদন করতে হতে পারে। তাই প্রথম মাসেই নিজের সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের আবেদন ও কার্ড পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।   ২. একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলুন: দৈনন্দিন খরচ, বেতন জমা, বিল পরিশোধ এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের জন্য একটি চেকিং অ্যাকাউন্ট কাজে লাগে। তাই সম্ভব হলে প্রথম দিকেই নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী কোনো ব্যাংক বা ক্রেডিট ইউনিয়নে অ্যাকাউন্ট খোলার প্রস্তুতি নিন।   অ্যাকাউন্ট খোলার আগে ব্যাংক কী ধরনের পরিচয়পত্র, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা অন্য কাগজপত্র গ্রহণ করে এবং ঠিকানার কী প্রমাণ প্রয়োজন, তা জেনে নেওয়া ভালো। নতুনদের ক্ষেত্রে ব্যাংকভেদে নিয়ম আলাদা হতে পারে।   ৩. একটি মোবাইল নম্বর নিন: যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর দ্রুত একটি কার্যকর মোবাইল নম্বর নেওয়া জরুরি। ব্যাংক, চাকরির আবেদন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট, স্কুলসহ নানা কাজে এই নম্বর ব্যবহার করতে হবে।   শুরুতে প্রিপেইড সিম বা কম খরচের মোবাইল প্ল্যান নেওয়া যেতে পারে। পরে প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী প্ল্যান পরিবর্তন করা সম্ভব।   ৪. ঠিকানার কাগজপত্র গুছিয়ে রাখুন: যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবায় বর্তমান ঠিকানা যাচাই করার প্রয়োজন হতে পারে। বাসার লিজ, ইউটিলিটি বিল, ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা গ্রহণযোগ্য অন্য কোনো কাগজপত্র সংরক্ষণ করুন।   নতুন ঠিকানায় আসার পর প্রয়োজন অনুযায়ী ডাক বিভাগের মাধ্যমে চিঠিপত্র অন্য ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থাও করা ভালো। ভবিষ্যতে ব্যাংক, ড্রাইভার লাইসেন্স, স্কুল বা অন্যান্য সেবায় ঠিকানা আপডেট করতে এসব কাগজ কাজে লাগতে পারে।   ৫. স্টেট আইডি বা ড্রাইভার লাইসেন্সের প্রস্তুতি নিন: যুক্তরাষ্ট্রে ছবি সংবলিত পরিচয়পত্র হিসেবে স্টেট আইডি বা ড্রাইভার লাইসেন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোন কাগজপত্র লাগবে এবং আবেদন প্রক্রিয়া কী হবে, তা অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন।   যারা গাড়ি চালাবেন, তারা নিজের অঙ্গরাজ্যের মোটরযান বিভাগ বা ডিএমভির নিয়ম দেখে ড্রাইভার লাইসেন্সের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। আর গাড়ি চালানোর প্রয়োজন না থাকলে স্টেট আইডি নেওয়া যেতে পারে।   ৬. হেলথ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থা করুন: যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার খরচ অনেক বেশি হতে পারে। তাই নতুন দেশে আসার পর হেলথ ইন্স্যুরেন্সের বিষয়টি অবহেলা না করাই ভালো।   আইনগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী অনেক অভিবাসী স্বাস্থ্যবিমা মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে কভারেজ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। আয় অনুযায়ী প্রিমিয়ামে ছাড় বা অন্যান্য আর্থিক সহায়তাও পাওয়া যেতে পারে। তবে যোগ্যতার নিয়ম ব্যক্তির ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ও আয়ের ওপর নির্ভর করে।   যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বসবাস শুরু করাও কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে স্বাস্থ্যবিমায় নাম লেখানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি যোগ্য ব্যক্তিরা সারা বছর মেডিকেইড বা শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির জন্য আবেদন করতে পারেন।   ৭. আমেরিকান ফরম্যাটে জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করুন: বাংলাদেশে ব্যবহৃত দীর্ঘ সিভি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে ব্যবহার না করে পদের সঙ্গে মিল রেখে একটি সংক্ষিপ্ত, পরিষ্কার ও চাকরির আবেদন বাছাইয়ের সফটওয়্যার উপযোগী জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করা ভালো।   নিজের আগের কাজের অভিজ্ঞতাকে যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে প্রচলিত দায়িত্ব ও দক্ষতার ভাষায় উপস্থাপন করুন। পাশাপাশি পেশাগত যোগাযোগের অনলাইন প্রোফাইলও হালনাগাদ করে রাখা যেতে পারে।   ৮. চাকরি খোঁজা শুরু করুন: পছন্দের চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিতে সময় লাগলেও শুরুতেই চাকরির বাজার সম্পর্কে ধারণা নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে সাময়িক কাজের জন্য আবেদন করা যেতে পারে।   চাকরির ওয়েবসাইট ও পেশাগত যোগাযোগের প্ল্যাটফর্মে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিল থাকা চাকরি খুঁজুন। একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা, কমিউনিটি নেটওয়ার্ক ও পরিচিতদের মাধ্যমেও চাকরির সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারেন।   তবে কাজের অনুমতি ব্যক্তির ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের ওপর নির্ভর করে। তাই বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি আছে কি না, তা নিশ্চিত না হয়ে কোনো চাকরিতে যোগ দেওয়া উচিত নয়।   ৯. ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরির দিকে নজর দিন: যুক্তরাষ্ট্রে নতুনদের জন্য ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরি করা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ক্রেডিট হিস্ট্রি ও ক্রেডিট স্কোর পরবর্তীতে ক্রেডিট কার্ড, গাড়ির ঋণ, বাসা ভাড়া বা অন্যান্য আর্থিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।   যারা যোগ্য, তারা ব্যাংক বা কার্ড কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী জামানতভিত্তিক ক্রেডিট কার্ড দিয়ে শুরু করতে পারেন। কার্ড ব্যবহার করলে সময়মতো বিল পরিশোধ করা এবং নিজের সামর্থ্যের মধ্যে খরচ করা গুরুত্বপূর্ণ।   ১০. স্থানীয় কমিউনিটি ও প্রয়োজনীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত হন: নতুন দেশে পরিচিত মানুষ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের নেটওয়ার্ক তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি, মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার বা পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন।   তবে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে ইমিগ্রেশন, ট্যাক্স, হেলথ ইন্স্যুরেন্স বা সরকারি সুবিধার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার তথ্য যাচাই করা উচিত।   প্রথম মাসে এসব কাজ গুছিয়ে নিতে পারলে নতুন পরিবেশে দৈনন্দিন জীবন, চাকরি, ব্যাংকিং ও সরকারি সেবার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অনেক সহজ হতে পারে। তবে সব অভিবাসীর পরিস্থিতি এক নয়। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, অঙ্গরাজ্য, আয় ও পারিবারিক অবস্থার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও আলাদা হতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৩:৩০
ডিপোর্টের পর ফের যুক্তরাষ্ট্রে, টেক্সাসে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইসিই
ডিপোর্টের পর ফের যুক্তরাষ্ট্রে, টেক্সাসে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইসিই

টেক্সাসের একটি স্ট্যাশ হাউসে অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের মধ্যে আটজনকে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট করা হয়েছিল। ১৪ আগস্ট এল পাসো এলাকায় এই অভিযান চালানো হয় বলে আইসিই জানিয়েছে।   আইসিই এল পাসোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্ডার এনফোর্সমেন্ট সিকিউরিটি টাস্ক ফোর্স এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় ওই স্ট্যাশ হাউসে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার ১৭ জনের মধ্যে ১৩ জন মেক্সিকোর, দুজন ব্রাজিলের, একজন গুয়াতেমালার এবং একজন হন্ডুরাসের নাগরিক।   আইসিই জানিয়েছে, আটজন আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট হওয়ার পর আবারও দেশে প্রবেশ করেছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে পরিস্থিতি অনুযায়ী অবৈধভাবে পুনঃপ্রবেশের ফেডারেল অভিযোগ এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে আরও দুজনের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন জজের দেওয়া চূড়ান্ত অপসারণের আদেশ বা ফাইনাল অর্ডার অব রিমুভাল রয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে।   অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া একজন মেক্সিকান নাগরিকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে বলে আইসিই জানিয়েছে।   ডিপোর্টের পর আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বিষয়টি ফেডারেল আইনে গুরুতর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আগেও ডিপোর্ট হওয়া কোনো ব্যক্তি অনুমতি ছাড়া আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার পাশাপাশি ফেডারেল ক্রিমিনাল মামলাও হতে পারে। মামলার পরিস্থিতি ও ব্যক্তির আগের রেকর্ডের ওপর সম্ভাব্য শাস্তি নির্ভর করে।   একই সময়ে টেক্সাসের ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টে ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগে বড় ধরনের ফেডারেল কার্যক্রমের তথ্যও প্রকাশ করেছে ইউএস অ্যাটর্নির অফিস। ৭ থেকে ১৩ আগস্টের মধ্যে সেখানে ইমিগ্রেশন ও ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত অপরাধে ২৯২টি নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে ১৪ আগস্টের সরকারি প্রতিবেদনে জানানো হয়। এসব মামলার মধ্যে আগে ডিপোর্ট হওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অভিযোগও রয়েছে।   ওই সরকারি প্রতিবেদনে ব্রাজিলের এক নাগরিকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, যাকে এর আগে তিনবার ডিপোর্ট করা হয়েছিল। মেক্সিকোর আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও তিনবার পূর্ববর্তী ডিপোর্টেশনের পর পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে।   ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের আওতায় ৬৮টি কাউন্টি রয়েছে। প্রায় ৯৩ হাজার বর্গমাইলের এই অঞ্চলে এল পাসো, সান অ্যান্টোনিও ও অস্টিনের মতো বড় শহর রয়েছে এবং মেক্সিকোর সঙ্গে প্রায় ৬৬০ মাইল সীমান্ত রয়েছে।   আইসিইর এই অভিযান এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ ইমিগ্রেশন নিয়ন্ত্রণ এবং ডিপোর্টেশন কার্যক্রম জোরদার করেছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৩:১৮
ট্রাম্পের ভিডিওতে আরিয়ানা গ্রান্ডের গান, ক্ষুব্ধ গায়িকা
ট্রাম্পের ভিডিওতে আরিয়ানা গ্রান্ডের গান, ক্ষুব্ধ গায়িকা: ‘আর কখনো আমার গান ব্যবহার করবেন না’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রচারে আবারও নিজের গান ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন জনপ্রিয় পপ তারকা আরিয়ানা গ্রান্ডে। বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ট্রাম্পের সরকারি দলের টিকটক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে গ্রান্ডের জনপ্রিয় গান ‘উই ক্যান্ট বি ফ্রেন্ডস (ওয়েট ফর ইউর লাভ)’ ব্যবহার করা হয়। ভিডিওটি প্রকাশের পরই গ্রান্ডে তার গান আর ব্যবহার না করার জন্য ট্রাম্পের দলকে সতর্ক করেন।   ভিডিওতে ট্রাম্পকে একটি সমাবেশে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। পেছনে বাজছিল গ্রান্ডের গানটি। ভিডিওতে লেখা ছিল, ‘পুরুষরা সন্তান জন্ম দিতে পারে না এবং নারীদের খেলাধুলায় প্রতিযোগিতা করা উচিত নয়।’ পোস্টটির ক্যাপশনে বলা হয়, ‘এ নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই।’   ভিডিওটির মন্তব্যের ঘরে গ্রান্ডে লেখেন, ‘আমার গান আর কখনো ব্যবহার করবেন না। আর আপনার সত্য সত্য নয়।’ পরে তার মন্তব্যটি আর দেখা যায়নি।   ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গে নিজের গান যুক্ত করার বিষয়ে গ্রান্ডের আপত্তি এবারই প্রথম নয়। এর আগে জুন মাসে হোয়াইট হাউসের একটি টিকটক ভিডিওতেও তার ‘বাই’ গান ব্যবহার করা হয়েছিল। ওই ভিডিওতে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) কর্মকর্তাদের মানুষজনকে আটক ও গ্রেপ্তার করতে দেখা যায়। ভিডিওটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির প্রচারে ব্যবহার করা হয়েছিল।   সেই ঘটনার পর গ্রান্ডে হোয়াইট হাউসের ভিডিওটির মন্তব্যের ঘরে তার গানকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত না করার আহ্বান জানান। পরে ভিডিওটি থেকে গানটির শব্দ সরিয়ে দেওয়া হয়।   ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি প্রচারে জনপ্রিয় শিল্পীদের গান ব্যবহারের ঘটনা নিয়ে এর আগেও একাধিক শিল্পী আপত্তি জানিয়েছেন। গ্রান্ডের পাশাপাশি সাবরিনা কার্পেন্টার, কেটি পেরি, এসজেডএ, অ্যাডেল, স্টিভেন টাইলার, নিল ইয়ং, রোলিং স্টোনস, এলটন জন, ফ্যারেল উইলিয়ামস, রিহানা ও সেলিন ডিওনের মতো শিল্পীরাও ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের গান ব্যবহারের বিরোধিতা করেছেন।   গ্রান্ডের সর্বশেষ প্রতিবাদ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের ট্রান্সজেন্ডার নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই ট্রান্সজেন্ডারদের সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন এবং সরকারি নথিতে লিঙ্গপরিচয় সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতি নিয়ে প্রশাসন একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সময়ে নারীদের খেলাধুলায় ট্রান্স নারীদের অংশগ্রহণ নিয়েও দেশটিতে ব্যাপক বিতর্ক চলছে।   ট্রাম্পের রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গে নিজের গান ব্যবহারের বিরুদ্ধে গ্রান্ডের প্রকাশ্য অবস্থান তাই আবারও সামনে এনেছে শিল্পীদের সংগীত রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহারের অধিকার ও অনুমতি নিয়ে চলমান বিতর্ক।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৩:১০
হাঙ্গেরিতে মুসলমানদের ইতিহাস: রাজকীয় বাহিনী থেকে আধুনিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায় I
হাঙ্গেরিতে মুসলমানদের ইতিহাস: রাজকীয় বাহিনী থেকে আধুনিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়

মধ্য ইউরোপের স্থলবেষ্টিত ও বৈচিত্র্যময় অর্থনীতির দেশ হাঙ্গেরি। প্রায় ৯৩ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের সমতলভূমির এই দেশটির চারপাশে স্লোভাকিয়া, ইউক্রেন, রোমানিয়া, সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া, স্লোভেনিয়া ও অস্ট্রিয়া অবস্থিত। অটোমোবাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ফার্মাসিউটিক্যালস ও পর্যটননির্ভর এই দেশের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৯৫ লাখ। ২০২২ সালের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশটিতে প্রায় আট হাজার মুসলিম বসবাস করলেও, বেসরকারি বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী প্রকৃত সংখ্যাটি ৫০ থেকে ৬০ হাজারের কাছাকাছি।   ইতিহাসবিদদের মতে, হিজরি চতুর্থ শতকের শেষভাগে বুলগেরিয়া থেকে হিজরতের মাধ্যমে হাঙ্গেরিতে মুসলমানদের প্রথম আগমন ঘটে। বিখ্যাত আরব ভূগোলবিদ ইয়াকুত হামাভির বর্ণনায় জানা যায়, ত্রয়োদশ শতাব্দীর দিকে হাঙ্গেরিতে অন্তত ৩০টি মুসলিম গ্রাম ছিল যারা হানাফি মাজহাবের অনুসারী ছিলেন।   ওই সময় মুসলমানরা হাঙ্গেরীয় জনগণের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছিল। 'বোসজোরমেনি' বা 'কালিস' নামে পরিচিত মুসলিমরা হাঙ্গেরির রাজকীয় বাহিনীতে অগ্রগামী ও বিশেষ সেনাদল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। শুধু সামরিক বাহিনীতেই নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কারুশিল্পেও তাদের ব্যাপক সুখ্যাতি ছিল। ১২৪১ সালে মোঙ্গলীয় আগ্রাসন রুখে দিতেও এই মুসলিম যোদ্ধারা অসীম বীরত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন।   পরবর্তীতে ১৫২৬ সালে মোহাচের যুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে হাঙ্গেরিতে উসমানীয় সাম্রাজ্যের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। এই জয়ের ফলে দেশটিতে মুসলমানদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায় এবং বিভিন্ন মুসলিম জনগোষ্ঠী সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। দীর্ঘ শাসন শেষে ১৭১৮ সালে উসমানীয়রা চূড়ান্তভাবে হাঙ্গেরি ত্যাগ করলেও বহু মুসলিম সেখানে থেকে যান।   কালের পরিক্রমায় বর্তমানে রাজধানী বুদাপেস্টে সুফি গুল বাবার মাজার, পেস শহরের একটি মসজিদসহ বেশ কিছু ঐতিহাসিক ইসলামী নিদর্শন আজও টিকে আছে। দেশটির সংবিধানে ধর্মপালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হলেও, বর্তমানে বেশ কিছু আইন মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য বৈষম্যমূলক বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১২:৫৭
প্যাকেজ দিতে এসে সোজা সুইমিং পুলে! অ্যামাজনের ড্রোনের কাণ্ডে ভাইরাল ভিডিও
প্যাকেজ দিতে এসে সোজা সুইমিং পুলে! অ্যামাজনের ড্রোনের কাণ্ডে ভাইরাল ভিডিও

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অ্যামাজনের ডেলিভারি ড্রোন এক গ্রাহকের প্যাকেজ বাড়ির সুইমিং পুলে ফেলে দিয়েছে। ঘটনাটি ভিডিওতে ধারণ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। রিচমন্ডের বাসিন্দা লিন্ডসে অস্টেন জানান, ড্রোনের মাধ্যমে প্যাকেজ আসার নোটিফিকেশন পাওয়ার পর তিনি বাইরে গিয়ে পুরো ঘটনাটি নিজের চোখে দেখেন।   অস্টেনের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির পেছনে ড্রোনের শব্দ শুনে তিনি বাইরে আসেন। এরপর ড্রোনটি সুইমিং পুলের ওপর অবস্থান নিয়ে নিচের দিকে প্যাকেজটি ছেড়ে দেয়। প্যাকেজটি সরাসরি পানিতে পড়ে যাওয়ায় তিনি হতবাক হয়ে যান।   ঘটনার ভিডিওতেও দেখা যায়, ড্রোনটি প্যাকেজ নিয়ে বাড়ির পেছনের এলাকায় আসে। এরপর সুইমিং পুলের ওপর থেকে প্যাকেজটি ছেড়ে দিলে সেটি সোজা পানিতে গিয়ে পড়ে।   অস্টেন বলেন, প্যাকেজটি পানিতে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে তিনি একেবারেই হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। এমন অভিজ্ঞতার পর ভবিষ্যতে আবার ড্রোনের মাধ্যমে প্যাকেজ নিতে তিনি আগ্রহী নন বলেও জানান।   ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন অ্যামাজন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ড্রোনের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সেবা আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। কোম্পানিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রায় ৫০০টি মার্কিন শহরে এই সেবা চালুর লক্ষ্য রয়েছে।   অ্যামাজনের এই ড্রোন ডেলিভারি ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো ছোট আকারের পণ্য দ্রুত গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ড্রোনগুলো সর্বোচ্চ প্রায় ৫ পাউন্ড বা ২ দশমিক ৩ কেজি ওজনের প্যাকেজ বহন করতে পারে। নির্দিষ্ট এলাকায় অর্ডার দেওয়ার পর প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এই সেবা পরিচালনা করা হয়।   অ্যামাজনের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে বিরল একটি ত্রুটি হিসেবে দেখা হয়েছে। কোম্পানির মুখপাত্র অ্যালি পেইন জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা থেকে পাওয়া তথ্য কাজে লাগিয়ে ড্রোন ডেলিভারি ব্যবস্থা আরও উন্নত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।   ড্রোন ডেলিভারি মূলত এমন শহরতলি ও আবাসিক এলাকায় পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ঘনবসতি, উঁচু ভবন কিংবা বড় বিমানবন্দরের মতো জটিলতা তুলনামূলক কম। তবে ড্রোন পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন, নিরাপত্তা বিধি এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক শর্তও মানতে হয়।   ড্রোনের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রযুক্তি দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও সঠিক জায়গায় প্যাকেজ নামানো এবং পণ্য অক্ষত রাখার বিষয়টি এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। টেক্সাসের এই ঘটনাটি সেই প্রযুক্তির বাস্তব ব্যবহারে নির্ভুলতার গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে।   অ্যামাজনের ড্রোন ডেলিভারি সেবা যত বিস্তৃত হচ্ছে, ততই গ্রাহকের বাড়িতে নিরাপদ ও নির্ভুলভাবে প্যাকেজ পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে নজর বাড়ছে। সুইমিং পুলে প্যাকেজ পড়ে যাওয়ার এই ঘটনাও সেই চ্যালেঞ্জেরই একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২১, ২০২৬ ১২:৩৪