অবৈধ অভিবাসীদের কর সুবিধা দাবি ঠেকাতে আইআরএসের নতুন পদক্ষেপ
যুক্তরাষ্ট্রে চার ধরনের ফেরতযোগ্য আয়কর সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতার নিয়ম আরও কঠোর করার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির ট্রেজারি বিভাগ ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব দপ্তর বা আইআরএস। নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ফেডারেল আইনে যেসব ব্যক্তি এসব সরকারি সুবিধা পাওয়ার জন্য যোগ্য নন, তারা করদাতাদের অর্থে দেওয়া এসব সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পাবেন না।
১৯ আগস্ট ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস যৌথভাবে প্রস্তাবিত বিধিমালা প্রকাশ করে। এর মাধ্যমে ১৯৯৬ সালের ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও কর্মসংস্থান সুযোগ পুনর্মিলন আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ফেরতযোগ্য আয়কর সুবিধার ফেরত দেওয়া অংশকে ফেডারেল সরকারি সুবিধা হিসেবে স্পষ্টভাবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত নিয়মের আওতায় পড়বে চার ধরনের কর সুবিধা। এগুলো হলো দত্তক গ্রহণ কর সুবিধা, শিশু কর সুবিধা, আমেরিকান সুযোগ কর সুবিধা এবং অর্জিত আয় কর সুবিধা।
নতুন নিয়ম চূড়ান্ত হলে এসব সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পেতে করদাতাকে ফেডারেল আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার তারিখে মার্কিন নাগরিক, মার্কিন জাতীয় অথবা আইনে নির্ধারিত যোগ্য বিদেশি হতে হবে। যোগ্য বিদেশিদের মধ্যে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি, শরণার্থী এবং আইনে নির্ধারিত আরও কিছু শ্রেণির মানুষ অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
করদাতাকে নিজের ট্যাক্স রিটার্নে শপথভঙ্গের শাস্তির বিধান মাথায় রেখে ঘোষণা করতে হবে যে তিনি সংশ্লিষ্ট কর সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার জন্য আইনগতভাবে যোগ্য।
যৌথভাবে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়া দম্পতিদের ক্ষেত্রে নিয়মটি কিছুটা আলাদা। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অন্তত একজন মার্কিন নাগরিক, মার্কিন জাতীয় অথবা যোগ্য বিদেশি হলেই সংশ্লিষ্ট কর সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্যতা পূরণ হবে।
তবে প্রস্তাবিত নিয়মের অর্থ এই নয় যে যোগ্য নন এমন ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট কর সুবিধার কোনো অংশই দাবি করতে পারবেন না। যে অংশটি সরাসরি আয়করের দায় কমাতে ব্যবহৃত হয়, অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করলে সেটি দাবি করা যেতে পারে। মূলত করের দায়ের চেয়ে বেশি হয়ে যে অর্থ করদাতাকে ফেরত দেওয়া হয়, নতুন নিয়মে সেই অংশটিকেই সরকারি সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বিধিমালার উদ্দেশ্য হলো ফেডারেল আইনে যাদের এসব সরকারি সুবিধা পাওয়ার অনুমতি নেই, তাদের কাছে করদাতাদের অর্থে দেওয়া সুবিধা পৌঁছানো ঠেকানো। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, আইন অনুযায়ী যারা এসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন, তাদের হাতে করদাতাদের অর্থ যাওয়ার সুযোগ বন্ধ করাই সরকারের লক্ষ্য।
আইআরএসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফ্র্যাঙ্ক জে. বিসিগনানো বলেন, ফেরতযোগ্য কর সুবিধা বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মার্কিন পরিবার এবং কর্মজীবীদের আর্থিক সহায়তার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে এসব সুবিধা কেবল আইনগতভাবে যোগ্য করদাতাদের জন্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি করব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত নিয়ম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস এ বিষয়ে জনসাধারণের মতামত এবং প্রকাশ্য শুনানির অনুরোধ গ্রহণ করবে। নিয়ম চূড়ান্ত হলে চূড়ান্ত বিধিমালা প্রকাশের তারিখে বা তার পরে শেষ হওয়া কর বছরের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের ওজু করার সুবিধা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ডালাস এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনের দাবি, তাদের একজন রিপোর্টার গোপন অনুসন্ধানের সময় বিমানবন্দরের দুই কর্মীর কাছে মুসলিমদের নামাজের আগে ওজু করার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা সম্পর্কে জানতে চাইলে, দুই কর্মীই আলাদাভাবে সাধারণ শৌচাগারের বেসিনে পা ধোয়ার পরামর্শ দেন। ওজু হলো নামাজের আগে মুসলিমদের পবিত্রতা অর্জনের একটি ধর্মীয় প্রক্রিয়া। এতে মুখ, হাত, মাথা ও পা ধোয়ার মতো নির্দিষ্ট কিছু ধাপ রয়েছে। বিমানবন্দরের মতো দীর্ঘ সময় ভ্রমণ করতে হয় এমন জায়গায় মুসলিম যাত্রীদের জন্য ওজুর উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকা ধর্মীয় অনুশীলন সহজ করতে পারে। ডালাস এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের একজন রিপোর্টার গোপনে বিমানবন্দরের কর্মীদের কাছে ওজু করার ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় দুই কর্মী পৃথকভাবে তাঁকে সাধারণ শৌচাগারের বেসিন ব্যবহারের কথা জানান। প্রতিবেদনে ওই কর্মীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে ডিএফডব্লিউ বিমানবন্দরে ওজুর সুবিধা একেবারে নতুন কোনো বিষয় নয়। বিমানবন্দরের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, টার্মিনাল ডির আন্তধর্মীয় প্রার্থনাকক্ষের পাশে আগে থেকেই দুটি ওজুর ব্যবস্থা রয়েছে। ২০১৯ সালে প্রার্থনাকক্ষটি নতুন জায়গায় স্থানান্তরের সময় এই সুবিধা যুক্ত করা হয়। বিমানবন্দরের বিভিন্ন টার্মিনালে আন্তধর্মীয় প্রার্থনার স্থানও রয়েছে। এদিকে সাম্প্রতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয় টার্মিনাল ডিতে পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা ওজুর ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে। প্রকল্পের নথিতে প্রায় ৩ লাখ ডলারের সংস্কারকাজের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরুষ ও নারীদের দুটি বিদ্যমান শৌচাগারে আলাদা ওজুর ব্যবস্থা যুক্ত করার কথা ছিল। এই পরিকল্পনা নিয়ে টেক্সাসে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট বিমানবন্দরগুলোতে মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচ্ছন্নতার জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বিমানবন্দরগুলোর অর্থায়ন ও এ ধরনের সুবিধা নিয়ে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ওজুর ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেও ডিএফডব্লিউ বিমানবন্দরের আগের নথিতে দেখা যায়, মুসলিম যাত্রীদের ধর্মীয় প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে ২০১৯ সালেই আন্তধর্মীয় প্রার্থনাকক্ষের পাশে ওজুর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই প্রার্থনাকক্ষ ও ধর্মীয় সুবিধাগুলো বিভিন্ন ধর্মের যাত্রী, কর্মী ও দর্শনার্থীদের ব্যবহারের জন্য রয়েছে। ডালাস এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে কর্মীদের সাধারণ বেসিন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, বিমানবন্দরে ধর্মীয় অনুশীলনের জন্য যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সুবিধা সম্পর্কে কর্মীদের মধ্যে যথেষ্ট স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে কি না। বিমানবন্দরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডিএফডব্লিউতে পাঁচটি টার্মিনালজুড়ে বিভিন্ন ধরনের যাত্রীসেবা ও সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে আন্তধর্মীয় প্রার্থনাকক্ষও অন্তর্ভুক্ত। তবে ওজু করার জন্য সাধারণ শৌচাগারের বেসিন ব্যবহারের বিষয়ে বিমানবন্দরের বর্তমান নীতিমালা সম্পর্কে এই প্রতিবেদনে আলাদা কোনো সরকারি নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। ফলে দুই কর্মী রিপোর্টারকে কী কারণে সাধারণ বেসিন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন, সেটি তাঁদের ব্যক্তিগত নির্দেশনা ছিল নাকি বিমানবন্দরের প্রচলিত নিয়মের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যই চূড়ান্ত অবস্থান বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অবৈধ অভিবাসীদের কর সুবিধা দাবি ঠেকাতে আইআরএসের নতুন পদক্ষেপ
আমেরিকায় স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ওয়েবসাইটে চাকরি খুঁজছেন? আবেদন করার সহজ নিয়ম জানুন
যুক্তরাষ্ট্রে ডলার স্টোরের সাশ্রয়ী মূল্যের খাবারে স্বাস্থ্যঝুঁকি? গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রে সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ির সংকট কাটাতে নতুন নির্মাণ বাড়ানো প্রয়োজন হলেও উল্টো কমছে বাড়ি তৈরির গতি। জুলাইয়ে একক পরিবারের নতুন বাড়ি নির্মাণের হার আগের মাসের তুলনায় ৯ দশমিক ৯ শতাংশ কমে বার্ষিক হিসাবে ৮ লাখ ৮ হাজার ইউনিটে নেমে এসেছে বলে মার্কিন জনগণনা ব্যুরোর সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এটি ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সবচেয়ে কম পর্যায়ের হার। একক পরিবারের বাড়িই যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন নির্মাণের সবচেয়ে বড় অংশ। ফলে এই খাতে এমন পতন আবাসন সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই মাসে অ্যাপার্টমেন্টসহ সব ধরনের নতুন আবাসিক ইউনিটের নির্মাণ শুরুর হারও কমেছে বলে সরকারি তথ্যে উঠে এসেছে। এর পেছনে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে রয়েছে বাড়ি কেনার ঋণের উচ্চ সুদ। ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা বাজারে প্রবেশ না করে অপেক্ষা করছেন। অন্যদিকে নির্মাণসামগ্রী, শ্রম ও জমির ব্যয়ও বেশি থাকায় নির্মাতাদের জন্য কম দামে নতুন বাড়ি বাজারে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে। জাতীয় আবাসন নির্মাতা সমিতি বা এনএএইচবির সাম্প্রতিক তথ্যও একই ধরনের চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগস্টে নতুন একক পরিবারের বাড়ি নির্মাণ নিয়ে নির্মাতাদের আস্থা এক পয়েন্ট বেড়ে ৩৫ হয়েছে। তবে সূচকটি ৫০-এর নিচে থাকায় সামগ্রিকভাবে নির্মাতাদের বড় অংশ এখনো বাজার পরিস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন না। আগস্ট ছিল টানা ১৬তম মাস, যখন এই সূচক ৪০-এর নিচে রয়েছে। জুলাইয়ে নির্মাতাদের আস্থার সূচক ছিল ৩৪। তখন বর্তমান বিক্রয় পরিস্থিতির সূচক ৩৭, আগামী ছয় মাসের বিক্রয় প্রত্যাশা ৪৩ এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের যাতায়াতের সূচক ছিল মাত্র ২৩। অর্থাৎ বাড়ি কিনতে আগ্রহী মানুষের উপস্থিতিও তুলনামূলক দুর্বল ছিল। বাড়ির দামও ক্রেতাদের জন্য বড় বাধা হয়ে আছে। জাতীয় পর্যায়ে বাড়ির দাম উচ্চ অবস্থানে থাকায় কম সুদের ঋণের জন্য অপেক্ষা করছেন অনেক ক্রেতা। ফলে একদিকে বাড়ির প্রয়োজন ও চাহিদা রয়েছে, অন্যদিকে বর্তমান দামে অনেক পরিবারের পক্ষে বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর দেশটির আবাসন নির্মাণ খাত বড় ধাক্কা খায়। বহু নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ব্যবসা বন্ধ করে, কর্মীরা খাতটি ছেড়ে যান এবং নতুন প্রকল্পে ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে কয়েক বছর ধরে প্রয়োজনের তুলনায় কম বাড়ি নির্মাণ হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির সময় সুদের হার ঐতিহাসিকভাবে কমে যাওয়ার পর বাড়ি কেনার চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। কিন্তু তখনও বাজারে পর্যাপ্ত বাড়ি ছিল না। সীমিত সরবরাহের বিপরীতে ক্রেতাদের প্রতিযোগিতা বাড়ায় বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির দাম দ্রুত বেড়ে যায়। মহামারির পর নির্মাণ কিছুটা বাড়লেও দীর্ঘদিনের ঘাটতি এখনো কাটেনি। ফ্রেডি ম্যাকের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ৩৭ লাখ বাড়ির ঘাটতি রয়েছে। আবাসন সংকটের আকার নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাব ভিন্ন হলেও, পর্যাপ্ত সরবরাহের অভাব যে বাজারের বড় সমস্যা, তা নিয়ে ব্যাপক ঐকমত্য রয়েছে। অন্যদিকে নির্মাতাদের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা জটিল। দেশে বাড়ির ঘাটতি থাকলেও ক্রেতারা বর্তমান দামে পর্যাপ্ত বাড়ি কিনতে পারছেন না। ফলে নতুন বাড়ি নির্মাণ করে বিক্রি না হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এতে নির্মাতারা নতুন প্রকল্প শুরু করার ক্ষেত্রে সতর্ক হয়ে পড়ছেন। এনএএইচবির তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে ৩৭ শতাংশ নির্মাতা বাড়ির দাম কমিয়েছিলেন। গড়ে দাম কমানোর হার ছিল ৬ শতাংশ। একই সময়ে ৬৩ শতাংশ নির্মাতা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন ধরনের বিক্রয় সুবিধা বা প্রণোদনা দিয়েছেন। আগস্টেও নির্মাতাদের মধ্যে এই চাপ পুরোপুরি কাটেনি। এনএএইচবির চেয়ারম্যান বিল ওওয়েন্স বলেন, উচ্চ নির্মাণ ব্যয় ও আবাসনের সামর্থ্যসংক্রান্ত চাপ নির্মাতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। উচ্চ বন্ধকি ঋণের হার সম্ভাব্য ক্রেতাদের বাজারের বাইরে রাখছে, আর নির্মাণসামগ্রী, জ্বালানি ও অন্যান্য ব্যয় বাড়ায় ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে বাড়ি তৈরি করা কঠিন হয়ে উঠছে। তবে পুরো চিত্রই নেতিবাচক নয়। জুলাইয়ে আবাসিক ভবনের নির্মাণ অনুমোদনের হার বেড়েছে। জনগণনা ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মোট নির্মাণ অনুমোদন বার্ষিক হিসাবে প্রায় ১৪ লাখ ৪০ হাজার ইউনিটে উঠেছে। একক পরিবারের বাড়ির অনুমোদনও বেড়েছে। অর্থাৎ নির্মাতাদের একটি অংশ ভবিষ্যতের চাহিদা নিয়ে এখনো পুরোপুরি আশাহত হননি। এখানে নির্মাণ অনুমোদন এবং নির্মাণ শুরু হওয়ার মধ্যে পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বাড়ির নির্মাণ অনুমোদন পাওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে নির্মাণ শুরু হয়ে গেছে এমন নয়। ফলে অনুমোদন বাড়লেও প্রকৃত নির্মাণ শুরু হতে সময় লাগতে পারে। আবাসন বাজারের এই চাপ শুধু বাড়ি নির্মাতা বা ক্রেতাদের বিষয় নয়। নতুন বাড়ির সরবরাহ কম থাকলে পুরোনো বাড়ির বাজারেও চাপ তৈরি হতে পারে। আবার বাড়ির দাম দীর্ঘদিন উচ্চ থাকলে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে যাওয়া পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে। বিশেষ করে তরুণ পরিবার ও মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনার সামর্থ্য এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঋণের সুদ, ডাউন পেমেন্ট, বাড়ির মূল্য এবং মাসিক কিস্তি সব মিলিয়ে বাড়ি কেনার মোট খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজার এখন এক ধরনের বৈপরীত্যের মধ্যে রয়েছে। একদিকে দেশটির দীর্ঘমেয়াদি বাড়ির ঘাটতি পূরণ করতে আরও নির্মাণ প্রয়োজন, অন্যদিকে উচ্চ সুদ ও নির্মাণ ব্যয়ের কারণে নির্মাতারা নতুন প্রকল্পে ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। ক্রেতাদের সামর্থ্য না বাড়লে শুধু নির্মাণ বাড়ালেই সমস্যার পুরো সমাধান হবে না। আগামী মাসগুলোতে বন্ধকি ঋণের সুদ, নির্মাণসামগ্রীর দাম, বাড়ির বিক্রি এবং নির্মাতাদের আস্থার সূচক আবাসন বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের দুর্বল নির্মাণের পরও নির্মাণ অনুমোদনের কিছুটা উন্নতি বাজারে সম্ভাব্য পুনরুদ্ধারের আশা ধরে রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এআই-নির্ভর সাইবার হামলার আশঙ্কা, সতর্ক করল কর্তৃপক্ষ
মিশিগানে লেকের নীল পানির পাশে একটি বাড়ি এখন ক্রেতার অপেক্ষায়, দাম চাওয়া হচ্ছে প্রায় ১৩ লাখ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ায় মাঝ আকাশে পুলিশ হেলিকপ্টার ও বিমানের সংঘর্ষ, ঘটনাস্থলে জরুরি বাহিনী
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় আগামী ২৩ আগস্ট বসছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানকে ঘিরে বড় ধরনের প্রবাসী মিলনমেলা। বাংলাদেশ-আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন (বাইটপো) এর উদ্যোগে আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কে দিনব্যাপী এই আয়োজনে থাকছে ঐতিহ্যবাহী মেজবানি খাবার, লাইভ সংগীত, ফ্যাশন শো, বিভিন্ন ধরনের গেমস, র্যাফেল ড্র এবং নানা বিনোদনমূলক আয়োজন। রোববার, ২৩ আগস্ট সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ফোর্ট হান্ট পার্কের শেল্টার-০০এ১-এ অনুষ্ঠিত হবে অনুষ্ঠানটি। এর ঠিকানা ৮৯৯৯ ফোর্ট হান্ট রোড, আলেকজান্দ্রিয়া, ভার্জিনিয়া ২২৩০৮। বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকা ছাড়াও ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড ও আশপাশের স্টেটের বাংলাদেশিদের পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকরা। এবারের আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নকীব খানের লাইভ পারফরম্যান্স। আয়োজকরা জানান, ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় প্রথমবারের মতো নকীব খান এই অনুষ্ঠানে সরাসরি সংগীত পরিবেশন করবেন। তার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সংগীতশিল্পী প্রতীক হাসানও মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করবেন। নকীব খান বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের অন্যতম পরিচিত শিল্পী, সুরকার, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক। তার গান বাংলাদেশের একাধিক প্রজন্মের শ্রোতার কাছে জনপ্রিয়। ফলে প্রবাসের মাটিতে তার সরাসরি সংগীত পরিবেশনাকে ঘিরে বৃহত্তর ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মেজবানির মূল আকর্ষণ থাকছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক অতিথির জন্য খাবার প্রস্তুতের লক্ষ্যে অনুষ্ঠানের আগের দিন থেকেই প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হবে। রোববার সকাল থেকে অনুষ্ঠানস্থলে অতিথিদের স্বাগত জানানোসহ বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু হবে। দুপুরের দিকে মেজবানি খাবার পরিবেশন করা হবে। খাবারের পাশাপাশি দিনব্যাপী চলবে আড্ডা, পারিবারিক মিলন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিনোদনমূলক আয়োজন। আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে বাইটপোর ইভেন্ট ডিরেক্টর স্যাম রিয়া জানান, পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের একসঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করাই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানকে কেন্দ্র করে প্রবাসের নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি সংযোগ তৈরি করতেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন। আয়োজক শামসুদ্দিন মাহমুদের তথ্য অনুযায়ী, মেজবান সফল করতে আগের দিন থেকেই খাবার প্রস্তুতি ও অন্যান্য আয়োজনের কাজ শুরু হবে। রোববার সকাল থেকে অতিথিদের স্বাগত জানানো এবং অনুষ্ঠান পরিচালনার বিভিন্ন কার্যক্রম চলবে। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক মঞ্চে সংগীত পরিবেশনাও থাকবে। মেজবানি ও সংগীতের পাশাপাশি এবারের অনুষ্ঠানে থাকছে বিশেষ র্যাফেল ড্র। প্রথম পুরস্কার হিসেবে রয়েছে একটি হিরের আংটি। দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ৪কে টেলিভিশন এবং তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে ল্যাপটপ দেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের বিশেষ গেমসের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ ফ্যাশন শোরও আয়োজন থাকছে।সারাহ, দিশা ও স্মিতার নাম ফ্যাশন শোর অংশগ্রহণকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘পুট দ্য মাস্ট্যাশ অন আঙ্কেল স্যাম’ নামে একটি বিনোদনমূলক আয়োজনও থাকছে। এটি এনায়েত খান ও আবু রুমি আয়োজন করছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের মেজবানকে আগের আয়োজনগুলোর তুলনায় আরও বড় ও বৈচিত্র্যময় করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শুধু খাবার বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, পুরো দিনটিকে পরিবার ও কমিউনিটির মানুষের জন্য একটি আনন্দময় মিলনমেলায় পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও চট্টগ্রামের ঐতিহ্য তুলে ধরাও এবারের আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্দেশ্য। মেজবানের খাবার, সংগীত, ফ্যাশন ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ভিন্ন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের একসঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আগাম রিজার্ভেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রচারপত্রে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে রিজার্ভেশন করা যাবে। জেল-এর মাধ্যমে যোগাযোগ বা অর্থ প্রদানের জন্য baitpodc@gmail.com ইমেইল ঠিকানাও দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানসংক্রান্ত যোগাযোগের জন্য বাইটপোর ইভেন্ট ডিরেক্টর স্যাম রিয়ার ফোন নম্বর ৭০৩-৩৩২-৫৯৫৮ দেওয়া হয়েছে।
দেখলে মনে হবে বাড়ি নয়, জঙ্গলেরই অংশ! নিউইয়র্কের ‘মিরর হাউস’ বিক্রি হচ্ছে ১৫ মিলিয়ন ডলারে
যুক্তরাষ্ট্রের ২৭ অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়েছে ওষুধপ্রতিরোধী ছত্রাক, ঝুঁকিতে গুরুতর অসুস্থরা