- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
মাত্র ২৭ বছর বয়সেই চুল পড়া নিয়ে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভারের অ্যালেক্স ফিনকেন। শেষ পর্যন্ত হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। খরচ করেন ১৭ হাজার ৫০০ ডলার। কিন্তু অপারেশনের পরদিন আয়নায় নিজেকে দেখে রীতিমতো চমকে যান। মাথা ও মুখ এতটাই ফুলে গিয়েছিল যে নিজেই মজা করে বলেছিলেন, তাকে দেখতে ডিমের মতো লাগছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশের কোঠার শুরু থেকেই মেল প্যাটার্ন বল্ডনেস বা বংশগতভাবে চুল পাতলা হওয়ার সমস্যায় ভুগছিলেন ফিনকেন। ২৪ বছর বয়সের মধ্যে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে বাইরে বের হওয়ার সময় প্রায় সবসময় টুপি পরতেন। সামাজিক পরিবেশেও টুপি ছাড়া অস্বস্তি বোধ করতেন। চুল ফিরে পাওয়ার আশায় তিনি সল্টলেক সিটিতে গিয়ে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করান। প্রক্রিয়াটিতে তার মাথার পেছনের অংশ থেকে ৩ হাজার ৫৩৬টি হেয়ার ফলিকল সংগ্রহ করে চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বিভিন্ন অংশে প্রতিস্থাপন করা হয়। অপারেশনের পর কিছুটা ফোলা স্বাভাবিক হতে পারে, সেটি আগেই জানতেন ফিনকেন। তবে নিজের ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়াটি এতটা দৃশ্যমান হবে, তা ভাবেননি তিনি। প্রথম দিন তার কপালের দুই পাশ ফুলতে শুরু করে। দ্বিতীয় দিনে এক চোখের নিচে কালচে দাগ দেখা দেয় এবং ফোলা এতটাই বাড়ে যে দৃষ্টিতেও কিছুটা বাধা তৈরি হচ্ছিল। তৃতীয় দিনে সেই ফোলা মুখের নিচের দিকে নেমে ঘাড় পর্যন্ত পৌঁছে যায়। নিজের এই পরিবর্তনের ভিডিও টিকটকে প্রকাশ করেন ফিনকেন। সেখানে তিনি মজা করে বলেন, অন্যদের ক্ষেত্রে চোখের চারপাশ কিছুটা ফুলে বক্সিং ম্যাচের পরের মতো দেখাতে পারে, কিন্তু তাকে দেখতে সরাসরি ডিমের মতো লাগছিল। ভিডিওটি পরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ফিনকেনের ভাষ্য অনুযায়ী, অপারেশনের সময় মাথার ত্বকে দেওয়া স্যালাইন ও অ্যানেসথেশিয়ার দ্রবণই এই ফোলার অন্যতম কারণ। শরীরের লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমের মাধ্যমে তরল ধীরে ধীরে নিচের দিকে নেমে যাওয়ার সময় কারও কারও ক্ষেত্রে মুখ ও চোখের আশপাশে উল্লেখযোগ্য ফোলা দেখা দিতে পারে। তবে তার নিজের একটি ভুলও পরিস্থিতি খারাপ করে থাকতে পারে বলে স্বীকার করেছেন ফিনকেন। বুধবারের অপারেশনের আগে শুক্রবার ও শনিবার তিনি অ্যালকোহল পান করেছিলেন। পরে তিনি অন্যদের সতর্ক করে বলেন, হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্টের আগে চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা উচিত। প্রাথমিকভাবে চেহারার পরিবর্তন দেখে ভয় পেলেও বড় ধরনের কোনো শারীরিক জটিলতা হয়নি বলে জানান তিনি। সবচেয়ে বেশি ফোলা ছিল প্রায় তিন দিন। এরপর প্রতিদিন দ্রুত অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। পঞ্চম দিনের দিকে ব্যথাও প্রায় চলে যায়। পুরো অভিজ্ঞতার পরও হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই ফিনকেনের। তার মতে, এটি শুধু সৌন্দর্যের বিষয় ছিল না। দীর্ঘদিনের চুল পড়ার কারণে হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য। বরং সাময়িকভাবে মুখ ফুলে যাওয়ার ঘটনাটিকে হাস্যরসের সঙ্গেই নিয়েছেন তিনি। ফিনকেনের অভিজ্ঞতা একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিচ্ছে, হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কসমেটিক প্রক্রিয়া হলেও এর পরবর্তী রিকভারি ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং অপারেশনের আগে ও পরে চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারে। দেশজুড়ে ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি প্রায় ৫.৪৬ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও আবার বাড়ছে, যা পরিবহন থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দাম পর্যন্ত নতুন চাপ তৈরির আশঙ্কা বাড়িয়েছে। ১৮ আগস্টের শিপিং তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এখন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অত্যন্ত সীমিত। সোমবার মাত্র ছয়টি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে কোনো বড় অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার বা এলএনজি ট্যাংকার ছিল না। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন এই পথ দিয়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলবে না। তেহরানের দাবির মধ্যে রয়েছে মার্কিন নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ছাড়ের মতো বিষয়। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার পরিকল্পনা করছে না। হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান পরস্পরবিরোধী অবস্থানে থাকায় জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের ওপরে উঠেছে। মঙ্গলবার ব্রেন্ট প্রায় ৯১ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই প্রায় ৮৫ ডলারের আশপাশে লেনদেন হয়েছে। সবচেয়ে সরাসরি চাপ পড়ছে ডিজেলের বাজারে। যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাক, কৃষিযন্ত্র, নির্মাণকাজ এবং পণ্য পরিবহনে ব্যাপকভাবে ডিজেল ব্যবহৃত হয়। ফলে ডিজেলের দাম বাড়লে শুধু ট্রাকচালক বা পরিবহন কোম্পানির খরচই বাড়ে না, এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত গ্রোসারি, নির্মাণসামগ্রী এবং অন্যান্য পণ্যের দামেও পড়তে পারে। ডিজেল সরবরাহ নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি রাশিয়ার রিফাইনারিগুলোতেও সমস্যার কারণে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সহজলভ্যতা কমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেলসহ ডিস্টিলেট ফুয়েলের মজুত বছরের এই সময়ের হিসাবে প্রায় তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। তবে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ নয়। সৌদি আরামকো সম্প্রতি প্রণালীর ভেতরের বন্দরগুলো থেকে আবার কিছু অপরিশোধিত তেল লোডিং শুরু করেছে। কয়েকটি বড় ট্যাংকারে লাখ লাখ ব্যারেল তেল তোলা হয়েছে। তারপরও সামগ্রিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক অবস্থার ধারেকাছেও ফেরেনি। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। পারস্য উপসাগরের তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর বিপুল পরিমাণ জ্বালানি এই সরু জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। ফলে সেখানে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে তেল, ডিজেল এবং পণ্য পরিবহনের খরচে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে জীবন থেমে গেলেও অন্যদের জীবনে বেঁচে থাকবেন লন্ডনের কিশোর ড্যানিয়েল মুসা। তার অঙ্গদানের মাধ্যমে নতুন জীবন পেয়েছেন তিনজন রোগী, যাদের একজন মাত্র দুই দিনের নবজাতক। কিশোরটির পরিবারের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত এখন অঙ্গদানের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্যানিয়েল হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এরপর তার পরিবার অঙ্গদানে সম্মতি দেয়। ড্যানিয়েলের হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন করা হয় মাত্র দুই দিনের এক শিশুর শরীরে। এত কম বয়সী শিশুর শরীরে উপযুক্ত দাতার অঙ্গ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় এই প্রতিস্থাপন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তার আরও অঙ্গ দুইজন রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। ফলে নিজের জীবন শেষ হয়ে গেলেও তিনজন মানুষের জীবন বাঁচানোর সুযোগ তৈরি করে দিয়ে গেছেন এই কিশোর। পরিবারের জন্য সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত কঠিন। সন্তান হারানোর শোকের মধ্যেই তারা অন্য পরিবারগুলোকে একই বেদনা থেকে রক্ষা করার সুযোগ হিসেবে অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেন। যুক্তরাজ্যে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় থাকা রোগীদের জন্য উপযুক্ত দাতা পাওয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে নবজাতক ও ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে শরীরের আকার এবং চিকিৎসাগত সামঞ্জস্যের কারণে উপযুক্ত অঙ্গ পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে। ড্যানিয়েলের ঘটনা সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে। মাত্র ১৬ বছরের একটি জীবন শেষ হয়ে গেলেও তার অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত অন্য তিনটি পরিবারকে দিয়েছে নতুন করে প্রিয়জনকে কাছে পাওয়ার সুযোগ।
ভালোবাসার মানুষটি ফিরে গেছেন হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের দেশ সুইডেনে। বিমানের টিকিট কেনার সামর্থ্য নেই। তাই ১৯৭৭ সালে ভারতীয় শিল্পী পি কে মহানন্দিয়া এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা কয়েক দশক পরও বিশ্বের আলোচিত প্রেমকাহিনিগুলোর একটি হয়ে আছে। নিজের জিনিসপত্র বিক্রি করে একটি পুরোনো সাইকেল কিনে তিনি রওনা দিয়েছিলেন সুইডেনে থাকা শার্লট ফন শেডভিনের কাছে। তাদের পরিচয় অবশ্য আরও আগে। ১৯৭৫ সালে সুইডেন থেকে ভারতে ঘুরতে এসেছিলেন শার্লট। দিল্লির কনট প্লেসে তখন মানুষের প্রতিকৃতি এঁকে পরিচিতি পাচ্ছিলেন মহানন্দিয়া। সেখানেই শার্লটের সঙ্গে তার পরিচয়। মহানন্দিয়ার কাছে নিজের প্রতিকৃতি আঁকাতে এসেছিলেন তিনি। সেই পরিচয়ই অল্প সময়ের মধ্যে ভালোবাসায় রূপ নেয়। সম্পর্ক গভীর হওয়ার পর তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু একসময় শার্লটকে সুইডেনে ফিরে যেতে হয়। মহানন্দিয়া তখন ভারতে থেকে যান। দূরত্ব তৈরি হলেও তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। চিঠির মাধ্যমে সম্পর্ক ধরে রেখেছিলেন দুজন। একপর্যায়ে আর অপেক্ষা করতে চাননি মহানন্দিয়া। কিন্তু সুইডেনে যাওয়ার বিমানের টিকিট কেনার মতো অর্থ তার ছিল না। শার্লটের কাছ থেকে ভ্রমণের টাকা নেওয়ার প্রস্তাবও তিনি গ্রহণ করেননি বলে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত নিজের জিনিসপত্র বিক্রি করে একটি সেকেন্ড হ্যান্ড সাইকেল কেনেন তিনি। ১৯৭৭ সালের ২২ জানুয়ারি দিল্লি থেকে শুরু হয় তার দীর্ঘ যাত্রা। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতেন মহানন্দিয়া। পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরান ও তুরস্ক হয়ে ইউরোপের দিকে এগিয়ে যান তিনি। পুরো যাত্রায় সব পথ অবশ্য সাইকেলে পাড়ি দেওয়া হয়নি। সুযোগ পেলে অন্য যানবাহনেও কিছু পথ অতিক্রম করেছিলেন এবং ইউরোপে পৌঁছানোর পর ভিয়েনা থেকে ট্রেনে সুইডেনের গোথেনবার্গে যান। পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অর্থ। সঙ্গে খুব বেশি টাকা ছিল না। তখন কাজে আসে তার ছবি আঁকার দক্ষতা। বিভিন্ন জায়গায় মানুষের প্রতিকৃতি এঁকে অর্থ উপার্জন করতেন। কেউ টাকা দিতেন, আবার কেউ খাবার কিংবা রাতে থাকার জায়গা করে দিতেন। চার মাসের বেশি সময় ধরে চলা সেই যাত্রা শেষে ১৯৭৭ সালের মে মাসে তিনি ইউরোপে পৌঁছান। এরপর সুইডেনে গিয়ে আবার দেখা হয় শার্লটের সঙ্গে। মহানন্দিয়া পরে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেছিলেন, দীর্ঘ যাত্রায় তার পায়ে ব্যথা হতো, ক্লান্তিও আসত। কিন্তু শার্লটের সঙ্গে আবার দেখা হবে, এই ভাবনাই তাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেত। সুইডেনে পৌঁছানোর পরও তাদের সামনে বাধা ছিল। ভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও সামাজিক পটভূমির এই সম্পর্ক সহজভাবে গ্রহণ করা হয়নি শুরুতে। তবে শেষ পর্যন্ত তারা একসঙ্গে জীবন শুরু করেন এবং সুইডেনেই সংসার গড়েন। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও মহানন্দিয়া ও শার্লট একসঙ্গেই আছেন। মহানন্দিয়া সুইডেনে শিল্পী হিসেবেও নিজের কাজ চালিয়ে গেছেন। বছরের পর বছর ধরে তাদের গল্প নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন হয়েছে, বইও লেখা হয়েছে। কিন্তু নিজের সেই দীর্ঘ সাইকেলযাত্রাকে মহানন্দিয়া কখনো বীরত্বের ঘটনা হিসেবে দেখেননি। তার কাছে কারণটি ছিল অনেক সহজ - তিনি সাইকেল ভালোবেসে এত দূর যাননি, গিয়েছিলেন ভালোবাসার মানুষটির কাছে পৌঁছাতে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজ বাড়ির বারান্দায় গুলিতে নিহত হয়েছেন ক্যালটেকের খ্যাতিমান জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ল গ্রিলমেয়ার। সৌরজগতের বাইরের গ্রহ ও মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি নিয়ে কয়েক দশক গবেষণা করা ৬৭ বছর বয়সী এই বিজ্ঞানীর হত্যার ঘটনায় ২৯ বছর বয়সী ফ্রেডি স্নাইডারের বিরুদ্ধে মার্ডারসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। ঘটনাটি ঘটে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির লানো এলাকায়। সকাল প্রায় ৬টা ১০ মিনিটে অস্ত্র দিয়ে হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফের ডেপুটিরা। বাড়ির সামনের বারান্দায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রিলমেয়ারকে পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের তথ্য অনুযায়ী, গুলির আঘাতেই তার মৃত্যু হয় এবং ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফ্রেডি স্নাইডারের বিরুদ্ধে মার্ডার, কারজ্যাকিং এবং ফার্স্ট ডিগ্রি রেসিডেনশিয়াল বার্গলারির একটি করে ফেলনি অভিযোগ রয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিস জানিয়েছে, গত ২৬ মে আদালতে হাজির হয়ে সব অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন স্নাইডার। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ঘটনার দিন সকালে স্নাইডার দুটি রাইফেল নিয়ে নিজের মায়ের কাছে গাড়ির চাবি দাবি করেন। মা চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ঘরের ছাদ লক্ষ্য করে গুলি চালান এবং পরে গাড়িটি নিয়ে বেরিয়ে যান। এরপর তিনি কাছেই গ্রিলমেয়ারের বাড়িতে যান বলে অভিযোগ। বাড়ির ড্রাইভওয়েতে গাড়ির উপস্থিতি টের পেয়ে গ্রিলমেয়ার বাইরে বেরিয়ে এলে নিজের সামনের বারান্দাতেই তাকে গুলি করা হয়। ঘটনাটির সঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যুক্ত হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই মাস আগে, ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর গ্রিলমেয়ার তার সম্পত্তিতে সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ডেকেছিলেন। ওই ঘটনায় স্নাইডারের নামও উঠে আসে। পরে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট একটি বার্গলারির অভিযোগও আনা হয়েছে। তদন্তকারীরা আগে জানিয়েছিলেন, গ্রিলমেয়ার ও স্নাইডারের মধ্যে ব্যক্তিগত পরিচয় থাকার কোনো স্পষ্ট তথ্য তারা পাননি। ফলে কেন গ্রিলমেয়ারের বাড়িতে গিয়ে তাকে গুলি করা হলো, হত্যাকাণ্ডের পেছনে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী ছিল, তা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল। গ্রিলমেয়ারের মৃত্যু ক্যালটেকের বিজ্ঞানী মহলেও বড় ধাক্কা হয়ে আসে। তিনি ক্যালটেকের আইপ্যাক সায়েন্স অ্যান্ড ডেটা সেন্টারে দীর্ঘদিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করেছেন। তার গবেষণার বড় অংশজুড়ে ছিল এক্সোপ্ল্যানেট, মিল্কিওয়ের গঠন এবং ‘স্টেলার স্ট্রিম’, অর্থাৎ প্রাচীন গ্যালাক্সি ও তারার গুচ্ছের সংঘর্ষের পর থেকে যাওয়া তারার দীর্ঘ প্রবাহ। ২০০৭ সালে তিনি এমন একটি গবেষণার নেতৃত্ব দেন, যেখানে সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে আসা আলো বিশ্লেষণ করে তাদের বায়ুমণ্ডলে অণুর উপস্থিতি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে। এক্সোপ্ল্যানেটের বায়ুমণ্ডল বোঝার ক্ষেত্রে কাজটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে ওঠে। মিল্কিওয়ের ইতিহাস বুঝতেও তার গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি কয়েক ডজন স্টেলার স্ট্রিম শনাক্ত করেছিলেন। এসব তারার প্রবাহ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বোঝার চেষ্টা করেন, কোটি কোটি বছর ধরে ছোট গ্যালাক্সি ও তারার গুচ্ছের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং একীভূত হওয়ার মধ্য দিয়ে কীভাবে মিল্কিওয়ে বর্তমান রূপ পেয়েছে। বৈজ্ঞানিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১১ সালে গ্রিলমেয়ার নাসার ‘এক্সেপশনাল সায়েন্টিফিক অ্যাচিভমেন্ট মেডেল’ পান। কর্মজীবনে তার ১৪৭টি পিয়ার রিভিউড গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। হাবল ও স্পিটজার স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করেও তিনি দীর্ঘ সময় গবেষণা করেছেন। জীবনের বড় একটি অংশ মহাকাশের দূরবর্তী গ্রহ, নক্ষত্র আর মিল্কিওয়ের অতীত অনুসন্ধানে কাটানো এই বিজ্ঞানীর জীবন শেষ হয় নিজের বাড়ির সামনের বারান্দায় একটি গুলিতে। তার মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত স্নাইডারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। তবে আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
আন্তর্জাতিক মোটরস্পোর্টে নতুন ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশের আরহাম রহমান। ফর্মুলা ৪ বা এফ৪ রেসে প্রথম বাংলাদেশি ড্রাইভার হিসেবে জয় পেয়েছেন তিনি। গত সপ্তাহান্তে অর্জিত এই ক্লাস ভিক্টরিই ছিল এফ৪ ক্যাটাগরিতে তার প্রথম পডিয়াম ফিনিশ। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সিঙ্গেল সিটার মোটরস্পোর্টে বাংলাদেশের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর আগে বাংলাদেশি ড্রাইভাররা ফর্মুলা রেসিংয়ে অংশ নিলেও এফ৪ গাড়িতে রেস জয়ের নজির ছিল না। আরহামের মোটরস্পোর্ট যাত্রা শুরু হয়েছিল অনেকটা ঘটনাচক্রে। ছোটবেলা থেকেই টেলিভিশনে মোটর রেসিং দেখতেন তিনি। তবে বাংলাদেশে মোটরস্পোর্টের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও পেশাদার রেসিংয়ে যাওয়ার সুস্পষ্ট পথ না থাকায় এটিকে ক্যারিয়ার হিসেবে ভাবার সুযোগ তখন খুব একটা ছিল না। পড়াশোনার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ১৪ বছর বয়সে বিনোদনের জন্য প্রথমবার গো কার্ট ট্র্যাকে যান আরহাম। সেই রেন্টাল কার্টিং সেশনেই জয় পান তিনি। এরপর থেকেই প্রতিযোগিতামূলক মোটরস্পোর্টে নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু করেন। কার্টিংয়ের পাশাপাশি সিমুলেটর ব্যবহার করে নিয়মিত অনুশীলন করতে থাকেন। ধীরে ধীরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ আসে। ২০২২ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত এফআইএ মোটরস্পোর্ট গেমসে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন আরহাম। অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মনোনয়ন ও সহযোগিতায় সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। পরের বছরই তার সামনে আসে বড় সুযোগ। ২০২৩ সালে এফআইএ এফ৪ সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে একটি সিটের প্রস্তাব পেয়েছিলেন আরহাম। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থ ও স্পনসরশিপের অভাবে সেই সুযোগ গ্রহণ করতে পারেননি। মোটরস্পোর্টে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অর্থই তার সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি ছিল। অস্ট্রেলিয়ায় ফর্মুলা ভি গাড়ির প্রথম টেস্টের খরচ জোগাতে তিনি মেলবোর্নের একটি বার্গার রেস্টুরেন্টে কাজ করেছিলেন। প্রায় ছয় মাস টাকা জমিয়ে সেই টেস্টে অংশ নেন। সুযোগ হারালেও রেসিং ছেড়ে দেননি আরহাম। আবার কার্টিংয়ে ফিরে নিজের দক্ষতা বাড়াতে থাকেন। ২০২৫ সালে অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত মালয়েশিয়ার ন্যাশনাল কার্টিং চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জেতেন তিনি। পরে শ্রীলঙ্কায় এশিয়া প্যাসিফিক মোটরস্পোর্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সপ্তম হন। এরপর ইন্দোনেশিয়ার মান্দালিকা গ্র্যান্ড প্রিক্স সার্কিটে এফআইএ ফর্মুলা ৪ গাড়িতে টেস্ট সম্পন্ন করেন আরহাম। একটি ফর্মুলা ৪ গাড়ি ঘণ্টায় প্রায় ২৩০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে। উচ্চগতির কর্নারে চালকের শরীরে প্রায় ৪জি পর্যন্ত চাপ পড়তে পারে, ফলে এই পর্যায়ের রেসিংয়ে দক্ষতার পাশাপাশি উচ্চমাত্রার শারীরিক সক্ষমতাও প্রয়োজন হয়। ফর্মুলা ৪ আন্তর্জাতিক মোটরস্পোর্টের সিঙ্গেল সিটার ক্যারিয়ার গড়ার অন্যতম প্রাথমিক ধাপ। সাধারণত কার্টিং থেকে উঠে আসা তরুণ ড্রাইভাররা এফ৪ দিয়ে পেশাদার ওপেন হুইল রেসিংয়ে প্রবেশ করেন। এরপর রয়েছে ফর্মুলা রিজিওনাল, ফর্মুলা ৩ এবং ফর্মুলা ২। সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে ফর্মুলা ১। আরহামের লক্ষ্যও এখানেই থেমে নেই। তার পরবর্তী বড় লক্ষ্য ২০২৭ সালের ইউরো ফর্মুলা ৩ চ্যাম্পিয়নশিপ। ওই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য একটি সিট প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় স্থানীয় আর্থিক সহায়তা ও স্পনসরশিপ পাওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। দীর্ঘমেয়াদে ফর্মুলা ১ তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। তবে ফর্মুলা ২, জিটি৩ ও এন্ডুরেন্স প্রোটোটাইপ রেসিংকেও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পথ হিসেবে দেখছেন এই বাংলাদেশি ড্রাইভার। নিজের সাফল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি কার্যকর মোটরস্পোর্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন আরহাম। তার মতে, দেশে প্রতিভাবান তরুণের অভাব নেই, কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ এবং বিনিয়োগের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে এফআইএ মানের কার্টিং অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ড্রাইভারদের আন্তর্জাতিক মোটরস্পোর্টে যাওয়ার পথ অনেক সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি। এফ৪ রেসে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে জয়ের মাধ্যমে সেই সম্ভাবনারই নতুন উদাহরণ তৈরি করলেন আরহাম রহমান। ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে এটি তার প্রথম এফ৪ পডিয়াম হলেও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সিঙ্গেল সিটার মোটরস্পোর্টের ইতিহাসে অর্জনটি জায়গা করে নিল আলাদা একটি অধ্যায় হিসেবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অপরাধ তদন্তে ব্যবহৃত ফ্লক ক্যামেরা সিস্টেমে নিজের সেপারেটেড স্ত্রীর গাড়ির লাইসেন্স প্লেট ৭১৭ বার সার্চ করার অভিযোগ উঠেছে ফ্লোরিডার এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এসব সার্চকে বৈধ পুলিশি অনুসন্ধান হিসেবে দেখাতে তিনি মাদক, ওয়ান্টেড ব্যক্তি ও গাড়িসংক্রান্ত অপরাধের মতো কারণও উল্লেখ করেছিলেন। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম ক্রিস্টোফার গুডসন। ৩১ বছর বয়সী গুডসন হেইন্স সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টে কর্মরত। আদালতে জমা দেওয়া প্রোবেবল কজ অ্যাফিডেভিট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তিনি ফ্লক ডেটাবেসে স্ত্রীর গাড়ির লাইসেন্স প্লেট ৭১৭ বার সার্চ করেন। এর মধ্যে শুধু ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেই তিনি ২৮০ বার গাড়িটি খুঁজেছেন। তদন্তে বলা হয়েছে, ওই সময় গুডসনের সেপারেটেড স্ত্রী কোনো ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনের আওতায় ছিলেন না। তার গাড়িও কোনো অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল না। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ডেটাবেসে এতবার তার অবস্থান খোঁজার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি সামনে আসার পর গুডসন কর্তৃপক্ষকে জানান, সন্তানরা যখন তাদের মায়ের সঙ্গে থাকত তখন তারা কোথায় আছে, তা জানতেই তিনি এসব সার্চ করেছিলেন। কিন্তু তদন্তকারীদের নজর পড়ে সার্চ করার সময় দেওয়া কারণগুলোর দিকে। অ্যাফিডেভিট অনুযায়ী, বিভিন্ন সময় তিনি ‘ক্রিমিনাল মোটর ভেহিকল অফেন্স’, ‘ওয়ান্টেড পারসন’ এবং ‘ড্রাগস/নারকোটিকস’সহ আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিভিন্ন কারণ নির্বাচন করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে করা সার্চগুলোকে অফিসিয়াল পুলিশি কাজ হিসেবে দেখাতেই এসব কারণ ব্যবহার করা হয়েছিল। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পেছনেও রয়েছে ভিন্ন ঘটনা। পুলিশি নথি অনুযায়ী, ১০ আগস্ট গুডসনের সেপারেটেড স্ত্রী তাকে জানান, ওয়াশিংটন পোস্টের একজন সাংবাদিক ফ্লক ডেটাবেসের সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এরপর গুডসন তার এক সুপারভাইজারকে জানান, তিনি স্ত্রীর গাড়ি নিয়ে ডেটাবেসে একাধিকবার অনুসন্ধান করেছিলেন। এরপর তার সার্চ হিস্ট্রি পর্যালোচনা শুরু হয় এবং মোট ৭১৭টি অনুসন্ধানের তথ্য পাওয়া যায়। ঘটনায় গুডসনের বিরুদ্ধে অফিসিয়াল মিসকন্ডাক্ট এবং কম্পিউটার সিস্টেম ব্যবহারসংক্রান্ত অপরাধের একটি করে অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত চলাকালে তাকে বেতনসহ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ লিভে রাখা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি চাকরি থেকে পদত্যাগের ইচ্ছাও জানিয়েছেন। হেইন্স সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, গুডসন ২০২২ সালের মার্চ থেকে বিভাগটিতে কর্মরত। পুলিশ প্রধান আইজ্যাক জ্যাকসন জানিয়েছেন, তদন্ত বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যভান্ডারে অননুমোদিত প্রবেশ কিংবা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের বিষয়টি তাদের বিভাগ সহ্য করে না। এসব সিস্টেম কেবল বৈধ অফিসিয়াল কাজে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়। ঘটনার পর ফ্লকসহ বিভিন্ন তদন্তমূলক ডেটাবেস কর্মকর্তারা যথাযথ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত তদারকির ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। ফ্লক ক্যামেরা মূলত অটোমেটেড লাইসেন্স প্লেট রিডার প্রযুক্তি। সড়কে থাকা ক্যামেরাগুলো গাড়ির লাইসেন্স প্লেটসহ বিভিন্ন তথ্য ধারণ করে এবং অনুমোদিত আইনশৃঙ্খলা সংস্থা অপরাধ তদন্ত বা সন্দেহভাজন গাড়ি শনাক্ত করতে সেই তথ্য ব্যবহার করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অপরাধ তদন্তে এই প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক গাড়ির চলাচলের তথ্য সংগ্রহ এবং সেই তথ্য কারা, কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারছেন, তা নিয়ে প্রাইভেসি ও নজরদারি সংক্রান্ত বিতর্কও বাড়ছে। ফ্লোরিডার এই ঘটনা সেই উদ্বেগকে নতুন করে সামনে এনেছে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে, অপরাধ তদন্তের জন্য তৈরি একটি শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগ হিসেবে ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা কার্যত অচল হয়ে পড়ার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখিয়ে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা ওই মানচিত্রে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে বড় একটি বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত করে ‘ইউএস টেরিটরি’ লেখা হয়েছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই পোস্ট এমন সময়ে এসেছে যখন হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ আরও জটিল হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সমঝোতায় নির্ধারিত শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্র পূরণ না করা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ থাকবে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও দেশটির শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের বক্তব্য উদ্ধৃত করে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ পুনরায় পুরোপুরি খুলতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে সামুদ্রিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা। তবে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের আত্মসমর্পণ করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি আবারও স্পষ্ট করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে ওমানকে ঘিরে ট্রাম্পের হুমকি। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক অংশীদার ওমান ইরানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার একটি ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে। ট্রাম্প বলেছেন, ওমান যদি ইরানের সঙ্গে তার সমঝোতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান ও ওমান হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের একটি কাঠামো নিয়ে অগ্রগতি করলেও বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র ইরান শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে আছে। ইরানের পক্ষ থেকেও সতর্ক করা হয়েছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে দেশটি হরমুজ এলাকায় পুরোপুরি আক্রমণাত্মক সামরিক অবস্থানে যেতে পারে। কাতারও হরমুজ নিয়ে ইরান ও ওমানের সম্ভাব্য সমঝোতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে হরমুজ নিয়ে চুক্তি হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা আবার শুরু করা অনেক সহজ হবে। এর মধ্যেই মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী থেকে বের হওয়ার সময় একটি জাহাজে প্রজেক্টাইল আঘাত হানার খবর দিয়েছে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস। ঘটনায় একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক হামলা ও উত্তেজনার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই সরু নৌপথ দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব পড়ে। সেই প্রভাব ইতোমধ্যে তেলের বাজারেও দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্রুত সমঝোতার আশা কমে যাওয়ায় মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা আরও বাড়তে পারে। তবে ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়ায় হরমুজকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো মানচিত্র প্রকাশের অর্থ এই নয় যে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী প্রণালীটির সার্বভৌম মর্যাদা পরিবর্তিত হয়েছে। হরমুজের জলসীমা ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত এবং এটি আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রণালী। ট্রাম্পের পোস্টকে ঘিরে তাই চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে ম্যাট্রেসের নিচে লুকিয়ে ছিলেন ২৪ বছর বয়সী এক যুবক। পুলিশ তাকে খুঁজে বের করার পর তিনি মাকে ডাকতে শুরু করেন। এরপর তার মা ঘরে ঢুকে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে পেছন থেকে ধরে ফেলেন এবং আরেক কর্মকর্তাকে ঘুষি মারার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেছে উইন্টার হ্যাভেন পুলিশ। ঘটনায় ছেলে ও মা দুজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উইন্টার হ্যাভেন পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার ৫ম স্ট্রিট এসই এলাকার একটি বাড়িতে সেগ্রে নোমব্রে নামের ওই যুবক অবস্থান করছেন বলে তথ্য পেয়ে কর্মকর্তারা সেখানে যান। তার বিরুদ্ধে ফেলনি ব্যাটারির একটি সক্রিয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নোমব্রের মা মিয়া জোনস প্রথমে কর্মকর্তাদের জানান, তার ছেলে বাড়িতে নেই। তবে তিনি বাড়িটি তল্লাশি করার অনুমতি দেন। একটি বেডরুমে মেঝেতে রাখা ম্যাট্রেসের মাঝখানে অস্বাভাবিকভাবে উঁচু অংশ দেখতে পান কর্মকর্তারা। ম্যাট্রেসটি তুলে তারা নোমব্রেকে নিচে লুকিয়ে থাকতে দেখেন। পুলিশ তাকে হাত দেখাতে নির্দেশ দিলে নোমব্রে মাকে ডাকতে শুরু করেন। এরপর জোনস দ্রুত ঘরে ঢুকে এক কর্মকর্তাকে পেছন থেকে ধরে ফেলেন বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে থাকা এক সার্জেন্ট তাকে সরিয়ে দিলে তিনি আবার কর্মকর্তাকে ধরার চেষ্টা করেন এবং সার্জেন্টকে ঘুষি মারার জন্য হাত চালান বলে পুলিশ জানিয়েছে। একপর্যায়ে সার্জেন্ট জোনসের ওপর টেজার ব্যবহার করেন। প্রথমবারেও তিনি প্রতিরোধ চালিয়ে যান বলে পুলিশের দাবি। দ্বিতীয়বার টেজার ব্যবহারের পর তিনি নিয়ন্ত্রণে আসেন। পরে চিকিৎসাগত পরীক্ষার জন্য তাকে উইন্টার হ্যাভেন হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, হাসপাতালে পরীক্ষা চলাকালে জোনসের শরীর থেকে মেথামফেটামিনসহ একটি স্বচ্ছ প্লাস্টিক ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে বাড়িতে পুলিশ পৌঁছানোর সময় রেইনালদো গার্সিয়া নামের আরেক ব্যক্তিকেও সেখানে পাওয়া যায়। তাকে ওই সম্পত্তি থেকে চলে যেতে বলা হয়। পরে তল্লাশিতে তার কাছ থেকে একটি কাচের পাইপ এবং মেথামফেটামিন বলে শনাক্ত হওয়া পদার্থসহ একটি ছোট ব্যাগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেগ্রে নোমব্রেকে তার আগের ফেলনি ব্যাটারি ওয়ারেন্টে পোলক কাউন্টি জেলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে মেথামফেটামিন রাখা, সহিংসভাবে পুলিশকে বাধা দেওয়া, আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তার ওপর ব্যাটারি ও অ্যাসল্ট এবং ড্রাগ প্যারাফারনেলিয়া রাখার অভিযোগও আনা হয়েছে। রেইনালদো গার্সিয়ার বিরুদ্ধে মেথামফেটামিন রাখা, ড্রাগ প্যারাফারনেলিয়া রাখা এবং ট্রেসপাসিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। উইন্টার হ্যাভেন পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে গিয়েই ঘটনাটি ঘটে। ম্যাট্রেসের নিচে লুকিয়ে থাকা সন্দেহভাজনকে খুঁজে পাওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনার একটি হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল। দিনের বড় একটি সময় কাটত স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে। কিন্তু স্কুল ছুটির পর বিশ্রামে না গিয়ে রাত ১০টায় হাজির হতেন ওয়ালমার্টে। রাতভর শেলফে পণ্য সাজিয়ে সকাল ৭টা পর্যন্ত কাজ করতেন। সেই চাকরি থেকে পাওয়া অর্থ নিজের জন্য নয়, খরচ করতেন আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য। মানবিক এই উদ্যোগের পেছনের মানুষটি হেনরি ডারবি। ঘটনাটি ২০২১ সালে ব্যাপক আলোচনায় আসে। সে সময় তিনি সাউথ ক্যারোলিনার নর্থ চার্লসটন হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল ছিলেন। শিক্ষার্থীদের পরিবারের আর্থিক দুর্দশা কাছ থেকে দেখেই অতিরিক্ত চাকরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। ডারবি জানতে পেরেছিলেন, তার স্কুলের কিছু শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার খাবার, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ ও পানির বিলসহ দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমনকি কোনো কোনো শিক্ষার্থীর স্থায়ীভাবে থাকার জায়গাও ছিল না। স্কুল ডিস্ট্রিক্টের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি এমন পরিবারের পাশে দাঁড়াতে নিজের অর্থও ব্যয় করতেন। একপর্যায়ে ডারবি সিদ্ধান্ত নেন, সহায়তার পরিমাণ বাড়াতে হলে তাকে বাড়তি আয় করতে হবে। তাই স্থানীয় একটি ওয়ালমার্টে রাতের শিফটে কাজ নেন। সপ্তাহে তিন রাত রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত সেখানে শেলফে পণ্য সাজানোর কাজ করতেন তিনি। রাতের শিফট শেষ করেই আবার স্কুলে ফিরতেন ডারবি। অর্থাৎ যে সময়টুকু তার ঘুম ও বিশ্রামের জন্য থাকার কথা, সেই সময়ের বড় অংশই চলে যেত দ্বিতীয় কর্মস্থলে। ওয়ালমার্ট থেকে পাওয়া অর্থ তিনি প্রয়োজন থাকা শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সহায়তায় ব্যবহার করতেন। কারও বিল পরিশোধ, কারও খাবার কিংবা অন্য জরুরি খরচে সেই অর্থ কাজে লাগত। প্রথমদিকে বিষয়টি গোপনই রাখতে চেয়েছিলেন ডারবি। কিন্তু ওয়ালমার্টে কাজ করার প্রথম রাতেই এক শিক্ষার্থী তাকে চিনে ফেলেন। এরপর ধীরে ধীরে তার এই উদ্যোগের কথা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া পড়ে। ডারবির উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও শিক্ষার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে আসে। সবচেয়ে বড় চমকটি আসে ওয়ালমার্টের কাছ থেকে। কেন একজন স্কুল প্রিন্সিপাল রাতভর তাদের স্টোরে কাজ করছেন, সেই কারণ জানার পর প্রতিষ্ঠানটি নর্থ চার্লসটন হাইস্কুলকে ৫০ হাজার ডলার অনুদান দেয়। ২০২১ সালের ২৯ জানুয়ারি জাতীয় টেলিভিশনে ডারবির হাতে সেই অনুদান তুলে দেওয়া হয়। শুধু ওয়ালমার্ট নয়, ডারবির উদ্যোগের কথা ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও বিপুল অর্থ সহায়তা আসে। স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছিল, তার উদ্যোগের ফলে স্কুলের সিনিয়র শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন স্কলারশিপও তৈরি হয়। ডারবির এই কাজের স্বীকৃতি আসে সাউথ ক্যারোলিনা রাজ্য থেকেও। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে গভর্নর হেনরি ম্যাকমাস্টার তাকে রাজ্যের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘অর্ডার অব দ্য পালমেটো’ প্রদান করেন। এত সহায়তা পাওয়ার পরও ডারবি তখন জানিয়েছিলেন, তিনি ওয়ালমার্টের চাকরি ছেড়ে দিতে চান না। কারণ তার কাছে এই কাজ প্রচারের জন্য নয়, বরং প্রয়োজনের সময় শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর একটি উপায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে জাতীয় সংসদ ভবনের দেয়ালে ‘কালিমা তাইয়্যেবা’ স্থাপন করা হচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। তবে মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কিংবা জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের নির্ভরযোগ্য কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ছড়িয়ে পড়া দাবিতে বলা হচ্ছে, জাতীয় সংসদ ভবনের দেয়ালে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ লেখা স্থাপন করা হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টিকে সংসদ ভবনের দৃশ্যমান অবয়বে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবেও উপস্থাপন করা হচ্ছে। তবে এমন একটি সিদ্ধান্ত জাতীয় সংসদ ভবনের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া বিষয়টিকে নিশ্চিত সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করা ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে সংসদ ভবন স্থাপত্যগত ও ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা। এ কারণে কে এই স্থাপনার অনুমোদন দিয়েছেন, কোথায় কালিমা তাইয়্যেবা স্থাপন করা হচ্ছে, এটি স্থায়ী নাকি সাময়িক এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি এ বিষয়ে কোনো পরামর্শ দিয়েছেন কি না, এসব বিষয়ে সরকারি নিশ্চিত তথ্য প্রয়োজন। কালিমা তাইয়্যেবা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের ঘোষণা। এর অর্থ, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে জাতীয় সংসদ ভবনের দেয়ালে কালিমা তাইয়্যেবা স্থাপনের বিষয়টি এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে অতিরিক্ত কান্নাকাটি ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোর কারণে ১৪ দিন বয়সী নিজের নবজাতক ছেলেকে বৃষ্টির পানি রাখার প্লাস্টিকের ড্রামে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ১৯ বছর বয়সী এক মায়ের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট শিশুটির বাবা সৌরভ হোসেন বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে শিশুটির মা ফাতেমা বেগমকে। ঘটনাটি ঘটে সোমবার ১৭ আগস্ট সন্ধ্যার পর উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদারহাট সংলগ্ন বাজার বাড়িতে। রাত প্রায় ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা বসতঘরের ভেতরে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের একটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেন। পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর শিশুটিকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা ফাতেমার কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে দাবি করেন, পেছন থেকে কেউ তাকে মাথায় আঘাত করে শিশুটিকে নিয়ে গেছে। পরে আবার বলেন, শিশুটিকে ‘জিন’ নিয়ে গেছে। তার কথাবার্তায় অসঙ্গতি দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয় এবং তারা ঘরে ও আশপাশে খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘরের ভেতরে রাখা বৃষ্টির পানির ড্রামে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফাতেমাকে হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি সন্তানকে ড্রামের পানিতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জামান জানিয়েছেন, ফাতেমা পুলিশকে বলেছেন শিশুটি অতিরিক্ত কান্নাকাটি করত, ঘুমাত না এবং তাকে ঘুমাতে দিত না। এ কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি শিশুটিকে পানির ড্রামে ফেলেছেন বলে পুলিশের দাবি। পুলিশ আরও জানিয়েছে, শিশুটিকে ড্রামে ফেলার পর সেটির মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে শিশুটির বাবা থানায় হত্যা মামলা করলে ফাতেমাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। নিহত নবজাতক সৌরভ হোসেন ও ফাতেমা বেগম দম্পতির ছেলে। প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির জন্ম হয়েছিল ৪ আগস্ট। স্থানীয় সূত্রের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেমের সম্পর্কের পর ২০২৫ সালের নভেম্বরে সৌরভ ও ফাতেমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে এই পারিবারিক বিরোধের সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর কোনো সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনো তদন্তাধীন। নবজাতকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে পুলিশ। বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ফাতেমাকে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে। একই সঙ্গে ঘটনার পুরো পরিস্থিতি, শিশুটির মৃত্যুর সময় এবং ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ১৮ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত ১০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের ফ্রি খাবার ও রিওয়ার্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জনপ্রিয় মেক্সিকান ফুড চেইন চিপোটলে। তবে সরাসরি দোকানে গিয়ে ফ্রি খাবার পাওয়া যাবে না। ‘চিপোটলে আইকিউ’ নামের অনলাইন ট্রিভিয়া গেমে অংশ নিয়ে সঠিক উত্তর দিতে হবে। চিপোটলে জানিয়েছে, রিওয়ার্ডস মেম্বাররা প্রতিদিন একবার করে এই গেমে অংশ নিতে পারবেন। গেমটি চলবে সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৫টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত প্যাসিফিক টাইমে। প্রতিটি কুইজে থাকবে পাঁচটি মাল্টিপল চয়েস বা সত্য-মিথ্যা ধরনের প্রশ্ন। প্রতি ঘণ্টায় প্রথম ৮ হাজার অংশগ্রহণকারী যারা পাঁচটির পাঁচটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেবেন, তারা খাবারের পুরস্কার পাবেন। এর মধ্যে থাকছে ৫ হাজারটি বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি এন্ট্রি অফার, ১ হাজার ৫০০টি ফ্রি সিলান্ট্রো লাইম সস এবং ১ হাজার ৫০০টি ফ্রি কেসো ব্লাঙ্কো অফার। এবারের আয়োজনে নতুনভাবে যোগ হয়েছে ‘সিলভার টিকিট’। পাঁচটির পাঁচটি প্রশ্ন ঠিক করা অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে ৫৩ জনকে র্যান্ডমভাবে এই টিকিট দেওয়া হবে। তারা একটি অতিরিক্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারলে এক বছরের জন্য ফ্রি বুরিটো জেতার সুযোগ পাবেন। যারা পাঁচটির মধ্যে চারটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেবেন, তারা ২৫টি চিপোটলে রিওয়ার্ডস পয়েন্ট পাবেন। আর সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়েও যদি খাবারের পুরস্কার না মেলে, তাহলে ৫০টি বোনাস পয়েন্ট দেওয়া হবে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০ লাখ রিওয়ার্ডস পয়েন্ট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। টানা দুই বা তিন দিন গেম খেললে অতিরিক্ত বোনাস পয়েন্ট ও বিশেষ রিওয়ার্ডস ব্যাজও পাওয়া যাবে। এছাড়া প্রথমবারের মতো চিপোটলে আইকিউ-এর একটি ফিজিক্যাল কার্ড গেমও চালু করা হয়েছে। ১৭ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত রিওয়ার্ডস মেম্বাররা ১০ পয়েন্ট ব্যবহার করে ওই কার্ড গেম এবং একটি ফ্যামিলি মিল জেতার সুইপস্টেকে অংশ নিতে পারবেন। চিপোটলে জানিয়েছে, গত বছর ১৮ লাখের বেশি চিপোটলে আইকিউ কুইজ সম্পন্ন হয়েছিল, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এ বছর তাই আরও বেশি পুরস্কার ও নতুন চ্যালেঞ্জ যোগ করা হয়েছে। এই অফারে অংশ নিতে কোনো কেনাকাটা বাধ্যতামূলক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য, ওয়াশিংটন ডিসি এবং কানাডার ১৩ বছর বা তার বেশি বয়সী যোগ্য চিপোটলে রিওয়ার্ডস সদস্যরা এতে অংশ নিতে পারবেন। অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি প্রয়োজন।
মাত্র তিন দিনের ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর সাড়ে তিন বছরেও কর্মস্থলে ফেরেননি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সরকারি মার্চেন্টস একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. জিল্লুর রহমান। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতিও নেননি তিনি। দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২২ আগস্ট থেকে তিন দিনের ছুটি নেন জিল্লুর রহমান। পরদিন ২৩ আগস্ট তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছাড়েন। এরপর আর কর্মস্থলে যোগ দেননি। এত দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তার পদটি এখনো শূন্য ঘোষণা করা হয়নি। এর আগেও ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন জিল্লুর রহমান। সে সময় বিদ্যালয় থেকে দুই মাসের ছুটি নিলেও প্রায় পাঁচ মাস চার দিন পর দেশে ফেরেন বলে বিদ্যালয় সূত্রের দাবি। ওই সফরের ক্ষেত্রেও বিদেশ যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। দেশে ফেরার পর তিনি সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন বলেও বিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে। প্রধান শিক্ষকের দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষক। তাদের ভাষ্য, একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকলে শুধু দাপ্তরিক কাজ নয়, শিক্ষক-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনাতেও এর প্রভাব পড়ে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা ফারুকী জানিয়েছেন, জিল্লুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তিনি কবে দেশে ফিরে কর্মস্থলে যোগ দেবেন, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নতুন নয়। ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন দাশ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি বিদ্যালয়টির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। বর্তমান রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউসার জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশে যেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। জিল্লুর রহমান সেই অনুমতি নেননি বলে তাদের কাছে থাকা তথ্যে জানা গেছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র মিত্রও জানিয়েছেন, চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া এভাবে বিদেশে অবস্থানের সুযোগ নেই। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে জিল্লুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। রায়পুর সরকারি মার্চেন্টস একাডেমি ২০১৭ সালের ১৯ মার্চ জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এর আগের এক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রধান শিক্ষকসহ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক পদে শূন্যতা এবং প্রশাসনিক সংকটের কথাও উঠে এসেছিল।
নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে রাজধানীতে যাত্রা শুরুর প্রথম দিনেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে ‘পিংক বাস’। মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট সড়কে নামার পর একটি বলাকা পরিবহনের বাস পিংক বাসটিকে ধাক্কা দেয়। পরে ট্রাফিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, যাত্রী পরিবহন শুরু করার কিছু সময়ের মধ্যেই বলাকা পরিবহনের বাসটির সঙ্গে পিংক বাসের সংঘর্ষ হয়। ঘটনায় হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর দায়ী বলাকা পরিবহনের বাসটির বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং জরিমানা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে মঙ্গলবার ঢাকার তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপোতে আনুষ্ঠানিকভাবে পিংক বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। প্রাথমিকভাবে ঢাকার ১০টি রুটে ১০টি বাস, চট্টগ্রামের একটি রুটে দুটি এবং বগুড়ার দুটি রুটে দুটি বাসসহ মোট ১৪টি পিংক বাস চালুর কথা জানানো হয়। রাজধানীতে নতুনবাজার থেকে মতিঝিল, তালতলা থেকে মতিঝিল, ডেমরা থেকে জিপিও, মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১২ থেকে মতিঝিল, মোহাম্মদপুর থেকে মতিঝিল এবং আব্দুল্লাহপুর থেকে মতিঝিলসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে এই বাস চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে। গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর রুটেও পিংক বাস চালানোর কথা রয়েছে। পিংক বাস সার্ভিসটি বিশেষভাবে নারী যাত্রীদের জন্য চালু করা হয়েছে। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বাসে চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবেও নারীদের দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ। উদ্বোধনের সময় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে পিংক বাসের রুট ও বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নারী যাত্রীরা যাতে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে এই সেবা ব্যবহার করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তবে যাত্রার প্রথম দিনেই অন্য একটি বাসের ধাক্কায় দুর্ঘটনার ঘটনা নতুন এই সেবার সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে। দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ এবং পিংক বাসটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির লাকেম্বা মসজিদ থেকে প্রতি শুক্রবার লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই মসজিদের মিনারে চারটি লাউডস্পিকার বসানোর জন্য করা আবেদনটির বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬০০টির বেশি আপত্তি জমা পড়েছে। অন্যদিকে প্রস্তাবের পক্ষে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের পিটিশনে ৫ হাজারের বেশি মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন। সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাকেম্বায় অবস্থিত মসজিদটির পরিচালনাকারী লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন চলতি বছরের মে মাসে ক্যান্টারবুরি-ব্যাংকসটাউন কাউন্সিলে নতুন ডেভেলপমেন্ট অ্যাপ্লিকেশন জমা দেয়। নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের প্ল্যানিং পোর্টালেও আবেদনটি নথিভুক্ত রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, মসজিদের প্রায় ২০ মিটার উঁচু মিনারে চারটি লাউডস্পিকার স্থাপন করা হবে। পরিকল্পনাটি মূলত শুক্রবারের জুমার নামাজের আগে আজান প্রচারের জন্য। তবে আজান কতক্ষণ এবং কত দূর পর্যন্ত শোনা যাবে, তা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে দেওয়া তথ্যে পার্থক্য রয়েছে। লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক পিটিশনে সপ্তাহে একবার শুক্রবার দুপুরে সর্বোচ্চ তিন মিনিট আজান প্রচারের কথা বলা হয়েছে। শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি। মসজিদ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, প্রস্তাবিত আজান স্থানীয় মুসলিমদের ধর্মীয় প্রয়োজন ও লাকেম্বার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ। তারা বলছে, শব্দের মাত্রা এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে যাতে আশপাশের বাসিন্দাদের ওপর অযৌক্তিক প্রভাব না পড়ে। তবে কাউন্সিলের কাছে জমা পড়া বিপুলসংখ্যক আপত্তিতে শব্দদূষণ, আবাসিক এলাকার শান্ত পরিবেশ এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের আবেদনের নজির তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে। ক্যান্টারবুরি-ব্যাংকসটাউন কাউন্সিলও শব্দের মাত্রা নিয়ে জমা দেওয়া বিভিন্ন মূল্যায়নের অসঙ্গতিসহ কয়েকটি বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। বিষয়টি যাচাই করতে স্বাধীন অ্যাকুস্টিক পর্যালোচনাও করা হয়েছে। কাউন্সিলর বারবারা কুরি প্রস্তাবটির অন্যতম বিরোধী। তার বক্তব্য, বিতর্কটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, বরং আবাসিক ও কর্মসংস্থান এলাকায় বাইরে থেকে উচ্চ শব্দ প্রচারের ক্ষেত্রে একই নিয়ম নিশ্চিত করার বিষয়। তিনি ধর্মীয় উপাসনালয় থেকে বাইরে প্রচারিত শব্দ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পরিকল্পনা বিধিমালা পরিবর্তনের প্রস্তাবও দিয়েছেন। এটি লাকেম্বা মসজিদের প্রথম আবেদন নয়। ২০২৫ সালে একই মসজিদের মিনারে চারটি লাউডস্পিকার বসিয়ে প্রতি শুক্রবার আজান প্রচারের একটি আবেদন করা হয়েছিল। নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের প্ল্যানিং পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, সেই আবেদন ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট স্থানীয় প্ল্যানিং প্যানেল প্রত্যাখ্যান করে। সে সময় জনমত গ্রহণে পাওয়া ৩২৯টি মতামতের মধ্যে ৩২৮টিই প্রস্তাবের বিপক্ষে ছিল। এরপর ২০২৬ সালে সংশোধিত পরিকল্পনা নিয়ে আবার আবেদন করেছে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন। নতুন আবেদনটির নম্বর ডিএ-৫১৮/২০২৬। সরকারি প্ল্যানিং পোর্টালে আবেদনটির অবস্থা এখনো বিবেচনাধীন হিসেবে দেখানো হচ্ছে। বর্তমান আবেদন নিয়ে বিতর্কের একদিকে রয়েছে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজে সমান সুযোগের প্রশ্ন, অন্যদিকে রয়েছে আবাসিক এলাকার শব্দ ও জনস্বাচ্ছন্দ্য রক্ষার দাবি। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে শব্দের মাত্রা, আশপাশের বাসিন্দাদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং স্থানীয় পরিকল্পনা বিধি বিস্তারিতভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আকাশে ওড়ার স্বপ্ন ছিল ছোটবেলা থেকেই। কিন্তু দুর্বল দৃষ্টিশক্তির কারণে পাইলট হওয়ার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ট্রাকচালক ল্যারি ওয়াল্টার্সের। শেষ পর্যন্ত ১৯৮২ সালে এমন এক উপায়ে তিনি সেই স্বপ্ন পূরণ করেন, যা পরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচলের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত অদ্ভুত ঘটনা হয়ে ওঠে। সাধারণ একটি অ্যালুমিনিয়ামের বাগানের চেয়ারে ৪২টি হিলিয়ামভর্তি আবহাওয়া বেলুন বেঁধে তিনি উঠে গিয়েছিলেন প্রায় ১৬ হাজার ফুট ওপরে। ঘটনাটি ১৯৮২ সালের ২ জুলাই। লস অ্যাঞ্জেলেসের সান পেদ্রো এলাকা থেকে নিজের তৈরি উড়ন্ত ব্যবস্থায় যাত্রা শুরু করেন ৩৩ বছর বয়সী ল্যারি। তার পরিকল্পনা ছিল কয়েক শ ফুট ওপরে উঠে কিছুক্ষণ ভেসে বেড়ানোর পর ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসা। এই অভিযানের জন্য ল্যারি ও তার বান্ধবী ৪৫টি বড় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ বেলুন কিনেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তার অ্যালুমিনিয়ামের লন চেয়ারের সঙ্গে ৪২টি বেলুন লাগানো হয়। সেগুলো হিলিয়াম দিয়ে পূর্ণ করা হয়েছিল। সঙ্গে প্রস্তুতিও ছিল। খাবার, পানীয়, ক্যামেরা, সিবি রেডিও এবং নিচে নামার জন্য একটি পেলেট গান সঙ্গে নেন তিনি। পরিকল্পনা ছিল নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছানোর পর একে একে কয়েকটি বেলুন ফুটিয়ে ধীরে ধীরে মাটিতে নেমে আসবেন। কিন্তু শুরুতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। চেয়ারটি আটকে রাখা বাঁধন নির্ধারিত সময়ের আগেই খুলে বা ছিঁড়ে গেলে ল্যারি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দ্রুত ওপরে উঠতে থাকেন। কয়েক শ ফুটে থামার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি পৌঁছে যান প্রায় ১৬ হাজার ফুট উচ্চতায়। এত ওপরে উঠে তিনি লং বিচ এলাকার নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমায় ঢুকে পড়েন। পরিস্থিতি আরও অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে যখন অন্তত দুটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের পাইলট আকাশে তাকে দেখতে পান। হাজার হাজার ফুট ওপরে একটি বাগানের চেয়ারে বসে একজন মানুষকে বেলুনের সঙ্গে ভেসে থাকতে দেখে বিষয়টি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। ল্যারি নিজেও সিবি রেডিও ব্যবহার করে মাটিতে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি জানতেন যে তার এই উড্ডয়ন অনুমোদিত ছিল না এবং তিনি নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছেন। ওই উচ্চতায় প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যেও শুরুতে বেলুন ফুটো করতে দ্বিধায় ছিলেন তিনি। কারণ একদিকে বেশি বেলুন ফেটে গেলে পুরো চেয়ারটি ভারসাম্য হারিয়ে বিপজ্জনকভাবে নিচে পড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল। আকাশে কিছু সময় কাটানোর পর শেষ পর্যন্ত পেলেট গান দিয়ে কয়েকটি বেলুন ফুটো করেন ল্যারি। এতে তার চেয়ার ধীরে ধীরে নিচে নামতে শুরু করে। একপর্যায়ে পেলেট গানটিও তার হাত থেকে নিচে পড়ে যায়। নামার শেষ পর্যায়ে আরেক বিপত্তি ঘটে। বেলুনের ঝুলন্ত দড়ি লং বিচের বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে যায়। এতে ওই এলাকার কিছু অংশে প্রায় ২০ মিনিট বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল। তবে ল্যারি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে মাটিতে নামতে সক্ষম হন। ঘটনাটি দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনায় আসে। সাধারণ একটি লন চেয়ার ও আবহাওয়া বেলুন ব্যবহার করে প্রায় তিন মাইল ওপরে উঠে যাওয়ার কারণে তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘লনচেয়ার ল্যারি’ নামে। তবে এমন ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের জন্য তাকে আইনি পরিণতিও ভোগ করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পরে তাকে ১ হাজার ৫০০ ডলার জরিমানা করে। ঘটনার পর কেন এমন ঝুঁকি নিয়েছিলেন জানতে চাইলে ল্যারি জানিয়েছিলেন, আকাশে ওড়ার স্বপ্নটি বহু বছর ধরে তার মধ্যে ছিল। তার বহুল উদ্ধৃত একটি বক্তব্যের সারকথা ছিল, একজন মানুষ তো আর সারাজীবন শুধু বসে থাকতে পারে না। চার দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ১৯৮২ সালের সেই ঘটনা আজও ‘লনচেয়ার ল্যারি ফ্লাইট’ নামে আলোচিত। পাইলট হওয়ার সুযোগ না পাওয়া এক ট্রাকচালকের আকাশে ওড়ার স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত তাকে নিয়ে গিয়েছিল এমন এক উচ্চতায়, যেখানে তাকে দেখে অবাক হয়েছিলেন বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের পাইলটরাও।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরিতে এক শিশুর জন্মের তারিখ, সময় ও ওজনের সঙ্গে অদ্ভুতভাবে মিলে গিয়েছিল ৭-ইলেভেনের নাম। ১১ জুলাই জন্ম, সময় সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিট, ওজনও ঠিক ৭ পাউন্ড ১১ আউন্স। খবরটি জানতে পেরে প্রথমে ডায়াপার ও শিশুর পোশাক পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল ৭-ইলেভেন। পরে আবার ফোন করে এমন এক উপহারের কথা জানায় প্রতিষ্ঠানটি, যা কল্পনাও করেননি শিশুটির মা। মেয়ের ভবিষ্যৎ কলেজ ফান্ডে ৭ হাজার ১১১ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দেয় তারা। ঘটনাটি ২০১৯ সালের। সেন্ট লুইসের এসএসএম হেলথ সেন্ট মেরিস হাসপাতালে ১১ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে জন্ম নেয় জে’আইম ব্রাউন। তার বাবা জনটেজ ব্রাউন ও মা র্যাচেল ল্যাংফোর্ড। জন্মের পর শিশুটির ওজন মাপা হলে দেখা যায়, সেটিও ৭ পাউন্ড ১১ আউন্স। যুক্তরাষ্ট্রে ১১ জুলাইকে ৭-ইলেভেন ডে হিসেবে উদযাপন করে কনভেনিয়েন্স স্টোর চেইনটি। দিনটি প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ড নামের সঙ্গে মিলে যায়। সেই বিশেষ দিনেই এমন সময় ও ওজন নিয়ে শিশুটির জন্মের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর র্যাচেলের কাছে প্রথম ফোন আসে ৭-ইলেভেন থেকে। প্রতিষ্ঠানটি নবজাতকের জন্য একটি গিফট বাস্কেট দিতে চায়। সেখানে ডায়াপার, ৭-ইলেভেনের শিশুর পোশাক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস রাখার কথা জানানো হয়। র্যাচেল প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন এবং ভেবেছিলেন, হয়তো এটুকুই ছিল প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে উপহার। কিন্তু কিছুদিন পর আবার ফোন আসে। এবার ৭-ইলেভেনের একজন প্রতিনিধি জানতে চান, মেয়ের জন্য আরও বড় একটি উপহারে তিনি আগ্রহী কি না। প্রতিষ্ঠানটি জে’আইমের ভবিষ্যৎ কলেজ ফান্ডে ৭ হাজার ১১১ ডলার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানানো হয়। অঙ্কটিও বেছে নেওয়া হয়েছিল শিশুটির জন্মের সেই বিশেষ সংখ্যা ৭ ও ১১-এর সঙ্গে মিল রেখে। প্রস্তাব শুনে অবাক হয়ে যান র্যাচেল। সিএনএনকে তিনি জানিয়েছিলেন, বিষয়টি তার কাছে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল এবং খবরটি শুনে তিনি ভীষণ উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন। ৭-ইলেভেনের একজন মুখপাত্রও তখন নিশ্চিত করেন, কলেজ ফান্ডের অর্থের পাশাপাশি পরিবারটিকে ডায়াপার, ওয়ানসি ও নবজাতকের জন্য অন্যান্য উপহার দেওয়া হবে। পরিবারটির জন্য অর্থটি ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। র্যাচেল তখন দুই সন্তানের মা। জে’আইম ছাড়াও তার ছয় বছর বয়সী একটি ছেলে ছিল। সন্তানদের দৈনন্দিন খরচ ও ভবিষ্যতের জন্য অর্থ জমানো যে সহজ নয়, সে কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। তাই মেয়ের কলেজ শিক্ষার জন্য জন্মের পরপরই এমন একটি আর্থিক সহায়তা পাওয়াকে বড় আশীর্বাদ হিসেবে দেখেছিলেন র্যাচেল। জে’আইমের জন্মের ঘটনাটি তখন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আলোচিত হয়। ৭-ইলেভেনও শিশুটিকে নিজেদের ‘ওয়ান ইন আ মিলিয়ন’ ৭-ইলেভেন বেবি হিসেবে উদযাপন করে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে স্বাগত জানানো হয়েছিল। জন্মদিন ৭/১১, জন্মের সময় ৭:১১ এবং ওজন ৭ পাউন্ড ১১ আউন্স। একই সংখ্যার এমন বিরল মিল শেষ পর্যন্ত জে’আইম ব্রাউনের জীবনের প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই এনে দিয়েছিল ৭ হাজার ১১১ ডলারের কলেজ ফান্ড। যে ফোনটি প্রথমে এসেছিল শুধু কয়েক প্যাকেট ডায়াপার ও শিশুর পোশাকের জন্য, দ্বিতীয়বার সেই ফোনই তার ভবিষ্যৎ শিক্ষার জন্য রেখে যায় বড় এক উপহার।
ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি সাধারণ বাড়ি কিনতে যে পরিমাণ অর্থ ডাউন পেমেন্ট হিসেবে লাগতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক সস্তা অঙ্গরাজ্য ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার কিছু এলাকায় সেই অর্থের কাছাকাছি দামেই পুরো বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে। তবে বাড়ির অবস্থান, আয়তন ও অবস্থা অনুযায়ী দাম ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। জিলোর ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি বাড়ির গড় মূল্য ৭ লাখ ৭৫ হাজার ৫৪৯ ডলার। অন্যদিকে মে মাসে রাজ্যটির মিডিয়ান বিক্রয়মূল্য ছিল ৭ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৭ ডলার। এই গড় মূল্যের একটি বাড়ি কিনতে কেউ যদি ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দেন, তাহলে শুরুতেই দিতে হবে প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ১১০ ডলার। এর বাইরে ক্লোজিং কস্ট, হোম ইন্স্যুরেন্স, প্রপার্টি ট্যাক্স এবং মর্টগেজের অন্যান্য খরচ থাকতে পারে। তবে ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়। ক্রেতার লোন প্রোগ্রাম, ক্রেডিট প্রোফাইল ও অন্যান্য শর্তের ওপর নির্ভর করে এর চেয়ে কম ডাউন পেমেন্টেও বাড়ি কেনা সম্ভব। ২০ শতাংশ দেওয়ার একটি বড় সুবিধা হলো, প্রচলিত অনেক মর্টগেজে প্রাইভেট মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স এড়ানো যায়। ক্যালিফোর্নিয়ার সঙ্গে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার দামের ব্যবধান বেশ বড়। একই সময়ের জিলো তথ্য অনুযায়ী, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় একটি বাড়ির গড় মূল্য ১ লাখ ৮২ হাজার ৭০৪ ডলার। অর্থাৎ ক্যালিফোর্নিয়ার গড় বাড়ির মূল্যের ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের সঙ্গে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার গড় বাড়ির মূল্যের ব্যবধান প্রায় ২৭ হাজার ৬০০ ডলার। তবে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার কিছু এলাকায় বাড়ির সাধারণ মূল্য এর চেয়েও কম। জিলোর জুনের তথ্যে সাটনে সাধারণ বাড়ির মূল্য প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার ৮৮২ ডলার, ফ্ল্যাটউডসে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৫৬ ডলার এবং গ্যাসাওয়েতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৬৬ ডলার। ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার গড় বাড়ির ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের সমপরিমাণ অর্থে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার কিছু বাজারে পুরো বাড়ি কেনা বাস্তবেই সম্ভব হতে পারে। তবে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার সব বাড়ি ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে পাওয়া যায়, এমন ধারণা সঠিক নয়। জিলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে রাজ্যটির মিডিয়ান বিক্রয়মূল্য ছিল ২ লাখ ২১ হাজার ১৬৭ ডলার এবং জুনে মিডিয়ান লিস্টিং প্রাইস ছিল ২ লাখ ৪৯ হাজার ৬০০ ডলার। তাই নির্দিষ্ট একটি কমদামি বাড়ির উদাহরণকে পুরো রাজ্যের বাজারদর হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার আরেকটি সুবিধা তুলনামূলক কম প্রপার্টি ট্যাক্স। ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, মালিকের নিজস্ব বসবাসের বাড়ির মূল্যের ওপর রাজ্যটির কার্যকর প্রপার্টি ট্যাক্স রেট গড়ে প্রায় শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ। বাজারে ক্রেতাদের জন্য বাড়ির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। জিলোর হিসাবে, জুনের শেষে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় বিক্রির জন্য ৫ হাজার ১৯৮টি বাড়ি ছিল এবং ওই মাসে নতুন করে ১ হাজার ৭৪৯টি বাড়ি বাজারে আসে। মে মাসে ৫৭ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ি লিস্টিং প্রাইসের নিচে বিক্রি হয়েছে। তবে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় গেলে শুধু বাড়ির দাম বিবেচনা করলেই হবে না। চাকরির সুযোগ, আয়, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট, হেলথ কেয়ার, যাতায়াত, হোম ইন্স্যুরেন্স, বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভবিষ্যতে বাড়িটি বিক্রি করার সম্ভাবনাও হিসাব করতে হবে। বিশেষ করে কমদামি পুরোনো বাড়ির ক্ষেত্রে মেরামতের খরচ উল্লেখযোগ্য হতে পারে। একই কারণে ক্যালিফোর্নিয়ায় মাসে ৩ হাজার ৫০০ ডলার এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ৮০০ থেকে ৯০০ ডলার খরচ হবেই, এমন নির্দিষ্ট তুলনাও সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। মর্টগেজের পরিমাণ, ডাউন পেমেন্ট, সুদের হার, প্রপার্টি ট্যাক্স ও ইন্স্যুরেন্সের ওপর মাসিক খরচ নির্ভর করে। আর ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক থেকে “হাজার হাজার বাংলাদেশি পরিবার” ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় চলে যাচ্ছে, এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। বরং ইউএস সেনসাস ব্যুরোর হিসাবে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার মোট জনসংখ্যা কমেছে। তারপরও বাড়ির দামের বিশাল ব্যবধান একটি বিষয় পরিষ্কার করে। ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির মালিক হতে যে অর্থ শুধু ডাউন পেমেন্টে চলে যেতে পারে, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার কিছু শহর ও ছোট কমিউনিটিতে সেই বাজেটেই মর্টগেজ ছাড়াই একটি বাড়ি কেনার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। তবে কোথায় বসবাস করবেন, সেই সিদ্ধান্তে বাড়ির দাম যতটা গুরুত্বপূর্ণ, চাকরি, জীবনযাত্রা ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক হিসাবও ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।
মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অপরাধে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারকে ১ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার জরিমানা করেছেন সিডনির একটি আদালত। একই সঙ্গে তার গাড়িতে ১২ মাসের জন্য অ্যালকোহল ইন্টারলক ডিভাইস ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত এপ্রিলে ধরা পড়ার সময় গাড়িতে তার সন্তানরাও ছিল, যে বিষয়টিকে আদালত ঘটনাটির গুরুতর দিক হিসেবে বিবেচনা করেছেন। মঙ্গলবার সিডনির ওয়েভারলি লোকাল কোর্টে ৩৯ বছর বয়সী ওয়ার্নারকে সাজা দেন ম্যাজিস্ট্রেট ক্লেয়ার ফারনান। গত জুলাইয়ে মিড-রেঞ্জ ড্রিঙ্ক-ড্রাইভিংয়ের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই তারকা ব্যাটার। ঘটনাটি ঘটে গত ৫ এপ্রিল, ইস্টার সানডেতে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ সিডনির পূর্বাঞ্চলের মারুব্রায় মালাবার রোডে র্যান্ডম ব্রেথ টেস্ট পরিচালনা করছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ার্নারের ভ্যানটি টেস্টিং পয়েন্টে পৌঁছানোর আগেই থেমে যায় এবং পার্ক করা হয়। এরপর পুলিশ সদস্যরা গাড়িটির কাছে গিয়ে তাকে পরীক্ষা করেন। প্রথম ব্রেথ টেস্টে অ্যালকোহলের উপস্থিতি ধরা পড়ার পর ওয়ার্নারকে মারুব্রা পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় পরীক্ষায় তার রিডিং আসে ০.১০৪। নিউ সাউথ ওয়েলসে সাধারণ ড্রাইভারের বৈধ সীমা ০.০৫। অর্থাৎ ওয়ার্নারের রিডিং ছিল অনুমোদিত সীমার দ্বিগুণেরও বেশি। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন বন্ধুর বাসায় তিন গ্লাস ওয়াইন পান করেছিলেন ওয়ার্নার। এরপর উবার বা অন্য কোনো বিকল্প পরিবহন ব্যবহার না করে নিজেই গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। তার আইনজীবী আগেই এই সিদ্ধান্তকে ‘বেপরোয়া’ ও ‘বোকামি’ হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছিলেন, ওয়ার্নার নিজের ভুলের দায় স্বীকার করছেন। রয়টার্স জানিয়েছে, গাড়িতে ওয়ার্নারের সন্তানদের উপস্থিতির বিষয়টিও আদালতের নজরে আসে। ম্যাজিস্ট্রেট ফারনান বলেন, ওয়ার্নারের আবার একই অপরাধ করার আশঙ্কা কম। তবে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো নিউ সাউথ ওয়েলসে এখনো গুরুতর সড়ক নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষকে নিরুৎসাহিত করার মতো শাস্তি গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ার্নারের আইনজীবী আওয়াইজ আহমেদ আদালতে তার মক্কেলের পক্ষে তুলনামূলক নমনীয় শাস্তির আবেদন করেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হওয়ায় ওয়ার্নার ইতোমধ্যে পেশাগত ও ব্যক্তিগতভাবে নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়েছেন বলেও আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়। তবে আদালত ওয়ার্নারের তারকাখ্যাতির কারণে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পক্ষে যায়নি। তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ১ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি অ্যালকোহল ইন্টারলক ব্যবস্থার আওতায় রাখা হয়েছে। ইন্টারলক হলো গাড়িতে বসানো বিশেষ ব্রেথ টেস্টিং ডিভাইস। গাড়ি স্টার্ট করার আগে চালককে এতে শ্বাসের নমুনা দিতে হয়। শরীরে নির্ধারিত মাত্রার বেশি অ্যালকোহল শনাক্ত হলে ডিভাইসটি গাড়ির ইঞ্জিন চালু হতে দেয় না। ওয়ার্নারকে ১২ মাস এই ব্যবস্থার আওতায় গাড়ি চালাতে হবে। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া ওয়ার্নার বর্তমানে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট ও ধারাভাষ্যের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বিগ ব্যাশ লিগের সিডনি থান্ডারের অধিনায়কও। ড্রিঙ্ক-ড্রাইভিংয়ের অভিযোগ সামনে আসার পর ক্রিকেট নিউ সাউথ ওয়েলস ঘটনাটিকে গুরুতর বলে উল্লেখ করে নিরাপদ গাড়ি চালানোর বিষয়ে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছিল। ওয়ার্নার অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৩৮৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দেশের অন্যতম সফল ওপেনার হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই ক্রিকেটারের সাম্প্রতিক ড্রিঙ্ক-ড্রাইভিং মামলাটি এবার দোষী সাব্যস্ত হওয়া, জরিমানা এবং বাধ্যতামূলক ইন্টারলক ব্যবহারের নির্দেশের মধ্য দিয়ে নিষ্পত্তি হলো।