- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অপরাধে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারকে ১ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার জরিমানা করেছেন সিডনির একটি আদালত। একই সঙ্গে তার গাড়িতে ১২ মাসের জন্য অ্যালকোহল ইন্টারলক ডিভাইস ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত এপ্রিলে ধরা পড়ার সময় গাড়িতে তার সন্তানরাও ছিল, যে বিষয়টিকে আদালত ঘটনাটির গুরুতর দিক হিসেবে বিবেচনা করেছেন। মঙ্গলবার সিডনির ওয়েভারলি লোকাল কোর্টে ৩৯ বছর বয়সী ওয়ার্নারকে সাজা দেন ম্যাজিস্ট্রেট ক্লেয়ার ফারনান। গত জুলাইয়ে মিড-রেঞ্জ ড্রিঙ্ক-ড্রাইভিংয়ের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই তারকা ব্যাটার। ঘটনাটি ঘটে গত ৫ এপ্রিল, ইস্টার সানডেতে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ সিডনির পূর্বাঞ্চলের মারুব্রায় মালাবার রোডে র্যান্ডম ব্রেথ টেস্ট পরিচালনা করছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ার্নারের ভ্যানটি টেস্টিং পয়েন্টে পৌঁছানোর আগেই থেমে যায় এবং পার্ক করা হয়। এরপর পুলিশ সদস্যরা গাড়িটির কাছে গিয়ে তাকে পরীক্ষা করেন। প্রথম ব্রেথ টেস্টে অ্যালকোহলের উপস্থিতি ধরা পড়ার পর ওয়ার্নারকে মারুব্রা পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় পরীক্ষায় তার রিডিং আসে ০.১০৪। নিউ সাউথ ওয়েলসে সাধারণ ড্রাইভারের বৈধ সীমা ০.০৫। অর্থাৎ ওয়ার্নারের রিডিং ছিল অনুমোদিত সীমার দ্বিগুণেরও বেশি। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন বন্ধুর বাসায় তিন গ্লাস ওয়াইন পান করেছিলেন ওয়ার্নার। এরপর উবার বা অন্য কোনো বিকল্প পরিবহন ব্যবহার না করে নিজেই গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। তার আইনজীবী আগেই এই সিদ্ধান্তকে ‘বেপরোয়া’ ও ‘বোকামি’ হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছিলেন, ওয়ার্নার নিজের ভুলের দায় স্বীকার করছেন। রয়টার্স জানিয়েছে, গাড়িতে ওয়ার্নারের সন্তানদের উপস্থিতির বিষয়টিও আদালতের নজরে আসে। ম্যাজিস্ট্রেট ফারনান বলেন, ওয়ার্নারের আবার একই অপরাধ করার আশঙ্কা কম। তবে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো নিউ সাউথ ওয়েলসে এখনো গুরুতর সড়ক নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষকে নিরুৎসাহিত করার মতো শাস্তি গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ার্নারের আইনজীবী আওয়াইজ আহমেদ আদালতে তার মক্কেলের পক্ষে তুলনামূলক নমনীয় শাস্তির আবেদন করেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হওয়ায় ওয়ার্নার ইতোমধ্যে পেশাগত ও ব্যক্তিগতভাবে নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়েছেন বলেও আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়। তবে আদালত ওয়ার্নারের তারকাখ্যাতির কারণে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পক্ষে যায়নি। তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ১ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি অ্যালকোহল ইন্টারলক ব্যবস্থার আওতায় রাখা হয়েছে। ইন্টারলক হলো গাড়িতে বসানো বিশেষ ব্রেথ টেস্টিং ডিভাইস। গাড়ি স্টার্ট করার আগে চালককে এতে শ্বাসের নমুনা দিতে হয়। শরীরে নির্ধারিত মাত্রার বেশি অ্যালকোহল শনাক্ত হলে ডিভাইসটি গাড়ির ইঞ্জিন চালু হতে দেয় না। ওয়ার্নারকে ১২ মাস এই ব্যবস্থার আওতায় গাড়ি চালাতে হবে। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া ওয়ার্নার বর্তমানে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট ও ধারাভাষ্যের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বিগ ব্যাশ লিগের সিডনি থান্ডারের অধিনায়কও। ড্রিঙ্ক-ড্রাইভিংয়ের অভিযোগ সামনে আসার পর ক্রিকেট নিউ সাউথ ওয়েলস ঘটনাটিকে গুরুতর বলে উল্লেখ করে নিরাপদ গাড়ি চালানোর বিষয়ে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছিল। ওয়ার্নার অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৩৮৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দেশের অন্যতম সফল ওপেনার হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই ক্রিকেটারের সাম্প্রতিক ড্রিঙ্ক-ড্রাইভিং মামলাটি এবার দোষী সাব্যস্ত হওয়া, জরিমানা এবং বাধ্যতামূলক ইন্টারলক ব্যবহারের নির্দেশের মধ্য দিয়ে নিষ্পত্তি হলো।
নিউইয়র্কে বেড়াতে এসে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এক অস্ট্রেলিয়ান তরুণ। ম্যানহাটনের টাইমস স্কয়ার ও পেন স্টেশনের কাছের একটি ম্যাকডোনাল্ডসে বসে খাবার খাওয়ার সময় তাকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় ২৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত প্রায় ২টার দিকে ম্যানহাটনের এইটথ অ্যাভিনিউয়ের একটি ম্যাকডোনাল্ডসে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ওই তরুণের পাঁজরের অংশ ও পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত ৯১১-এ ফোন করলে জরুরি সেবা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত তরুণকে বেলভিউ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, তার অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ সন্দেহভাজন একজনকে হেফাজতে নেয়। পরে তাকে ফ্লোরিডার পোর্ট শার্লটের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী হুয়ান মার্সিডিজ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে সেকেন্ড ডিগ্রি অ্যাসল্টের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে দুজনের মধ্যে সংক্ষিপ্ত কথাবার্তা হয়েছিল। তবে কেন ওই তরুণের ওপর হামলা চালানো হলো, তার স্পষ্ট কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি তদন্ত করছে এনওয়াইপিডি। যে ম্যাকডোনাল্ডসে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি ম্যানহাটনের ৪৯০ এইটথ অ্যাভিনিউয়ে। পেন স্টেশন ও টাইমস স্কয়ারের মাঝামাঝি ব্যস্ত এলাকায় থাকা রেস্তোরাঁটি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটক এই এলাকা দিয়ে চলাচল করেন। তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিশেষ করে গভীর রাতে ওই ম্যাকডোনাল্ডস ও আশপাশের এলাকায় ঝগড়া ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা নতুন নয়। নিয়মিত একজন গ্রাহক জানান, রাতে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে তিনি ওই এলাকায় বেশিক্ষণ অবস্থান করেন না। ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন নিউইয়র্কে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত পর্যটন এলাকা টাইমস স্কয়ার ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে পর্যটকদের আগ্রহ সবসময়ই বেশি থাকে। এনওয়াইপিডির মিডটাউন সাউথ প্রিসিঙ্কট এলাকায় চলতি বছর সামগ্রিক বড় ধরনের অপরাধ কমলেও বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান তরুণটির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। নিউইয়র্ক পুলিশ এখন হামলার আগের পরিস্থিতি, দুই ব্যক্তির মধ্যে কোনো পূর্বপরিচয় ছিল কি না এবং ঠিক কী কারণে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখছে।
অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে ইসলামী অর্থনীতি। দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান ভোক্তা চাহিদাকে কেন্দ্র করে হালাল খাদ্য, পর্যটন, পোশাক, প্রসাধনী, ওষুধ, গণমাধ্যম ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে তৈরি হচ্ছে বড় বাজার। একটি জাতীয় প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম জনগোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ ব্যয় প্রায় ৯ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারে পৌঁছাতে পারে। ‘দ্য স্টেট অ্যান্ড ফিউচার অব দ্য অস্ট্রেলিয়ান ইসলামিক ইকোনমি রিপোর্ট’-এ দেশটির ইসলামী অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের মূল বার্তা হলো, মুসলিমদের ঘিরে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে এখন আর ছোট বা বিশেষায়িত বাজার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তর অর্থনীতির একটি পরিমাপযোগ্য ও ক্রমবর্ধমান অংশে পরিণত হচ্ছে। এই বাজার সম্প্রসারণের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম জনগোষ্ঠীর আকার ও তাদের ক্রমবর্ধমান ক্রয়ক্ষমতা। প্রতিবেদনে বর্তমানে দেশটিতে ১০ লাখের বেশি মুসলিম বসবাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই জনগোষ্ঠীর খাদ্যাভ্যাস, ভ্রমণ, পোশাক, আর্থিক সেবা ও জীবনযাপনের বিভিন্ন চাহিদাকে কেন্দ্র করে নতুন ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোর একটি মুসলিমবান্ধব পর্যটন। প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিম পর্যটকদের ব্যয় ১৭০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই খাতে বার্ষিক যৌগিক প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। ফলে হালাল খাবার, নামাজের সুবিধা ও মুসলিমবান্ধব আবাসন নিশ্চিত করতে পারলে পর্যটন খাতে আরও বড় বাজার তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। হালাল প্রসাধনী ও ওষুধের বাজারেও উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণের কথা উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। গত পাঁচ বছরে অস্ট্রেলিয়ার হালাল প্রসাধনী খাতে প্রায় ১০০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে হালাল ওষুধের বাজার প্রায় ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ হালাল ধারণাটি শুধু খাদ্যপণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ব্যক্তিগত পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ নতুন নতুন খাতে ছড়িয়ে পড়ছে। অস্ট্রেলিয়ার জন্য ইসলামী অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হালাল পণ্য রফতানি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটি বছরে প্রায় ১৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের হালাল পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করে। এর প্রায় ৯৭ শতাংশই খাদ্যপণ্য। বিশেষ করে হালাল মাংস রফতানিতে অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থান করছে। এই রফতানি বাজার অস্ট্রেলিয়ার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান দেশে হালাল খাদ্যের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বের ১২তম বৃহত্তম হালাল পণ্য সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় মুসলিম ভোক্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক হালাল বাজারও দেশটির কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রফতানি খাতের সামনে বড় সুযোগ তৈরি করছে। তবে সম্ভাবনার তুলনায় অস্ট্রেলিয়ার ইসলামী অর্থায়ন খাত এখনো অপেক্ষাকৃত ছোট। প্রতিবেদনে এই খাতে প্রায় ১০০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের সম্পদ ও তহবিল থাকার কথা বলা হয়েছে। শরিয়াহসম্মত বাড়ি কেনার অর্থায়ন, বিনিয়োগ ও অন্যান্য আর্থিক পণ্যের চাহিদা থাকলেও প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে নিয়ন্ত্রক ও কাঠামোগত পার্থক্য এই খাতের দ্রুত সম্প্রসারণে বাধা হয়ে আছে। প্রতিবেদনে ইসলামী অর্থনীতির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে কয়েকটি ক্ষেত্রে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আরও কার্যকর ও সমন্বিত হালাল সনদব্যবস্থা, ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য সমতাভিত্তিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় রফতানি সহায়তা। অস্ট্রেলিয়ার ইসলামী অর্থনীতির এই সম্প্রসারণ শুধু মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যাবৃদ্ধির গল্প নয়। বরং এটি এমন একটি বাজারের বিকাশ, যেখানে ধর্মীয় চাহিদার সঙ্গে পর্যটন, কৃষি, খাদ্য, অর্থায়ন, স্বাস্থ্যসেবা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সরাসরি যুক্ত হচ্ছে। ফলে মুসলিম ভোক্তাদের জন্য তৈরি পণ্য ও সেবা এখন দেশটির মূলধারার ব্যবসার কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সুযোগ হয়ে উঠছে। ৯ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ ব্যয় থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলারের হালাল রফতানি - পরিসংখ্যানগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ায় ইসলামী অর্থনীতি আর ছোট কোনো বিশেষায়িত বাজারে সীমাবদ্ধ নেই। প্রয়োজনীয় নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক সহায়তা পাওয়া গেলে আগামী কয়েক বছরে এটি দেশটির আরও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হতে পারে।
গাজায় দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা শান্তি পরিকল্পনাকে আবারও সচল করতে বড় ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মিসরের কায়রোতে হামাসের শীর্ষ নেতা খলিল আল-হাইয়ার সঙ্গে বিরল সরাসরি বৈঠকের একদিন পর জেরুজালেমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। তবে কয়েক ঘণ্টার আলোচনার পরও মূল বিরোধের সমাধান হয়নি। কুশনারের এই সফরের মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ১৫ দফা গাজা রোডম্যাপ বাস্তবায়নের পথ তৈরি করা। পরিকল্পনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, গাজার বেসামরিক শাসন নতুন ব্যবস্থার হাতে তুলে দেওয়া এবং এর বিনিময়ে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয় রয়েছে। হামাস পরিকল্পনাটিতে সম্মতি জানিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কিন্তু কোন পদক্ষেপটি আগে বাস্তবায়িত হবে - সেটিই এখন সবচেয়ে বড় বাধা। ইসরায়েলের অবস্থান স্পষ্ট - হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র হওয়ার আগে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে চান না প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অন্যদিকে হামাস চায় ইসরায়েল প্রথমে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে স্পষ্ট ও কার্যকর প্রতিশ্রুতি দিক। এই দুই অবস্থানের ব্যবধানের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এর আগে কায়রোতে হামাসের শীর্ষ নেতা খলিল আল-হাইয়ার সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেন জ্যারেড কুশনার। আলোচনায় মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীরাও যুক্ত ছিলেন। হামাস নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধির এমন সরাসরি আলোচনা এখনো বিরল ঘটনা - ফলে বৈঠকটিকে গাজা নিয়ে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কুশনারের সঙ্গে হামাসের এটিই প্রথম পরিচিত সরাসরি যোগাযোগ নয়। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে স্টিভ উইটকফকে সঙ্গে নিয়ে হামাস প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তিনি। তবে এবারের আলোচনা এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার নিরাপত্তা, নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মতো সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলো সামনে চলে এসেছে। কায়রোর আলোচনা শেষে জেরুজালেমে গিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা বৈঠক করেন কুশনার। বৈঠকটিকে ইসরায়েলি পক্ষ ‘গভীর ও গঠনমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করলেও যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা পরিকল্পনায় ইসরায়েলের পূর্ণ সম্মতি পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও গাজা পরিকল্পনার মূল বাধা এখনো কাটেনি। তবে বৈঠক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে। গাজার নিরস্ত্রীকরণ এবং অবকাঠামো ও জনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করতে দুটি পৃথক ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়ে নেতানিয়াহু ও কুশনার একমত হয়েছেন। গাজার পুনর্গঠনের আগে অঞ্চলটিকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্য নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। কুশনার জানিয়েছেন, হামাসের সঙ্গে আলোচনায় ইতিবাচক বক্তব্য পাওয়া গেলেও এখন কথার পরিবর্তে বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায় ওয়াশিংটন। তার মতে, অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া এবং হামাসের ব্যবহৃত টানেল বন্ধের মতো দৃশ্যমান অগ্রগতি শুরু হলে আগামী ৩০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তবে সেটি পুরোপুরি নির্ভর করছে পরিকল্পনার শর্ত বাস্তবায়নের ওপর। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও গাজার পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি প্রকাশ্যে ইসরায়েলকে গাজায় হামলা বন্ধ করার কথা বলেছেন। এমন সময়ে এই মন্তব্য এসেছে, যখন তার দূত কুশনার নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পরিকল্পনায় এগিয়ে নিতে চেষ্টা করছেন। এই কূটনৈতিক তৎপরতায় মিসর, কাতার ও তুরস্কের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কায়রোর আলোচনায় তিন দেশের মধ্যস্থতাকারীরা যুক্ত ছিলেন এবং হামাস ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগের পথ তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন। ফলে গাজা নিয়ে বর্তমান আলোচনা শুধু ওয়াশিংটন, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই - পুরো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শক্তিগুলোও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বড় বাধা এখনো একই জায়গায় - কে আগে পদক্ষেপ নেবে। হামাস ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা চায়, আর নেতানিয়াহু চান আগে হামাসের পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ। কয়েক ঘণ্টার কুশনার-নেতানিয়াহু বৈঠকেও এই মৌলিক ব্যবধান দূর করা সম্ভব হয়নি। ফলে গাজা শান্তি পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে দুই পক্ষের মধ্যে এই আস্থার সংকট কত দ্রুত কাটানো যায় তার ওপর। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার - যুক্তরাষ্ট্র এবার শুধু মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দূত সরাসরি হামাস নেতৃত্বের সঙ্গে বসছেন, পরদিনই আলোচনা করছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে। গাজার যুদ্ধ থামানো এবং যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির প্রচেষ্টা তাই নতুন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এখন নজর থাকবে দুটি বিষয়ে - হামাস বাস্তবে নিরস্ত্রীকরণের পথে পদক্ষেপ নেয় কি না এবং তার বিপরীতে ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয় কি না। এই দুই প্রশ্নের সমাধান না হলে বৈঠক যতই বাড়ুক, গাজা নিয়ে স্থায়ী সমঝোতার পথ খোলা কঠিনই থেকে যাবে।
লেখক ও সাবেক ম্যাগাজিন কলামিস্ট ই. জিন ক্যারলকে মানহানির জন্য ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় বাতিল করতে এবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার আইনজীবীদের দাবি, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেওয়া বক্তব্যের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটির প্রশ্ন যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি নিম্ন আদালত। গত ২৮ জুলাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি শুনানির জন্য আবেদন করেন। সর্বোচ্চ আদালতের ডকেট অনুযায়ী, আবেদনটি ৩০ জুলাই নথিভুক্ত হয়েছে এবং ই. জিন ক্যারলের পক্ষের জবাব দেওয়ার সময়সীমা বর্তমানে ৩১ আগস্ট। তবে সুপ্রিম কোর্ট এখনো মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেনি এবং ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের রায়ও বাতিল করেনি। মামলাটির সূত্রপাত ই. জিন ক্যারলের অভিযোগ থেকে। সাবেক এল ম্যাগাজিন কলামিস্ট ক্যারল অভিযোগ করেন, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের বার্গডর্ফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের একটি ড্রেসিং রুমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং ক্যারল মিথ্যা বলছেন বলে দাবি করেছেন। ২০১৯ সালে ক্যারল তার স্মৃতিকথায় অভিযোগটি প্রকাশ্যে আনার পর তখন প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকা ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তা অস্বীকার করেন। ওই বক্তব্যের জেরেই ক্যারল তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল জুরি ক্যারলের পক্ষে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করে। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু নিউইয়র্কভিত্তিক দ্বিতীয় সার্কিট আপিল আদালত রায় বহাল রাখে। আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটির যুক্তির বিষয়ে বলেছিল, মামলার যথাযথ পর্যায়ে সেই প্রতিরক্ষা না তোলায় তিনি তা ব্যবহারের সুযোগ হারিয়েছেন। চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল পূর্ণাঙ্গ আপিল আদালতে পুনর্বিবেচনার আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হয়। সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবীরা সেই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ করছেন। তাদের বক্তব্য, দায়িত্বে থাকা একজন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তার অফিসিয়াল বক্তব্যের জন্য ক্ষতিপূরণের দায় আরোপের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটির প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া উচিত হয়নি। তারা চাইছেন সর্বোচ্চ আদালত মামলাটি গ্রহণ করে এই সাংবিধানিক প্রশ্নটির নিষ্পত্তি করুক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবীদের যুক্তি, একজন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সময় তার যোগ্যতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সরকারি দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। সে কারণে ২০১৯ সালে দেওয়া বক্তব্যকে ব্যক্তিগত বক্তব্য না ধরে প্রেসিডেন্টের অফিসিয়াল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখার দাবি করছেন তারা। এই মামলায় ২০২৪ সালের সুপ্রিম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তও আলোচনায় এসেছে। ওই রায়ে সর্বোচ্চ আদালত বলেছিল, প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতার আওতায় নেওয়া কিছু সরকারি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে সাবেক প্রেসিডেন্টরা ফৌজদারি মামলা থেকে ইমিউনিটি পেতে পারেন। তবে ই. জিন ক্যারলের মামলা ফৌজদারি নয় - এটি দেওয়ানি মামলা। ফলে সেই সিদ্ধান্ত এই মামলায় কতটা প্রযোজ্য, সেটিই এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন। এদিকে ক্যারলকে ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরেকটি ৫০ লাখ ডলারের মামলায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে ইতোমধ্যে চূড়ান্ত ধাক্কা এসেছে। গত জুনে সুপ্রিম কোর্ট ওই মামলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপিল শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এরপর পুনর্বিবেচনার আবেদনও ১৭ আগস্ট প্রত্যাখ্যান করেছে আদালত। ফলে ২০২৩ সালের ওই জুরি রায় এখন চূড়ান্ত অবস্থায় রয়েছে। ওই পৃথক মামলায় জুরি সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন এবং পরে মানহানি করেছেন। তবে জুরি নিউইয়র্ক আইনের অধীনে ক্যারলের ধর্ষণের নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেয়নি। মামলাটি মূলত ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে হয়েছিল, যখন তিনি প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন না। দুটি মামলার মধ্যে তাই গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ৫০ লাখ ডলারের মামলাটি ২০২২ সালের বক্তব্য এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের সামনে থাকা ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের মামলাটি মূলত ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে থাকার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। আর এই পার্থক্যকেই প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটির যুক্তিতে সামনে আনছেন তার আইনজীবীরা। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো - ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের রায় বাতিল হয়নি এবং সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি শুনবেই, এমন সিদ্ধান্তও এখনো হয়নি। আদালত প্রথমে ঠিক করবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আবেদন গ্রহণ করে মামলাটির পূর্ণ শুনানি করবে কি না। বর্তমান ডকেট অনুযায়ী, ক্যারলের জবাব জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩১ আগস্ট। ফলে ই. জিন ক্যারলকে ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের একটি মামলা শেষ হয়ে গেলেও সবচেয়ে বড় অঙ্কের মামলাটি এখনো ঝুলে রয়েছে। এবার নজর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের দিকে - ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের রায় নিয়ে প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটির প্রশ্নটি তারা শুনানির জন্য গ্রহণ করে কি না, সেটিই হবে এই আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে সাত সদস্যের একটি পরিবার উঠেছিল তাদের নতুন বাড়িতে। ঘরের ভেতরে তখনও পড়ে ছিল স্থানান্তরের বাক্সপত্র, সবকিছু ঠিকমতো গুছিয়েও উঠতে পারেননি তারা। কিন্তু নতুন বাড়িতে ওঠার মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যেই সবকিছু বদলে যায়। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ ওল্ড ট্রেইলস দাবানল থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাড়ি ছেড়ে পালাতে হয় তাদের। পরে আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায় সেই নতুন বাড়ি। ঘটনাটি গত ১ আগস্ট ওয়াশিংটনের স্পোকেন কাউন্টিতে। দিনটি পরিবারটির জন্য নতুন অধ্যায়ের শুরু হওয়ার কথা ছিল। সাত সদস্যের এই মিশ্র পরিবার নতুন বাড়িতে জিনিসপত্র নিয়ে আসছিল এবং বাক্স খুলে ঘর গোছানোর কাজ করছিল। কিন্তু মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাছাকাছি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে ওল্ড ট্রেইলস ফায়ার। পরিস্থিতি এত দ্রুত ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে নতুন বাড়িতে একটি রাতও কাটানোর সুযোগ পায়নি পরিবারটি। পরিবারটি প্রথমে ভেবেছিল আগুন হয়তো তাদের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছাবে না। কিন্তু আকাশ ধোঁয়ায় ঢেকে যেতে শুরু করলে এবং পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে থাকলে তারা বুঝতে পারে, আর অপেক্ষা করার সুযোগ নেই। প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস সঙ্গে নিয়ে দ্রুত বাড়ি ছাড়ে সবাই। শেষ পর্যন্ত সাতজনই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন - কিন্তু নতুন বাড়িটি আর রক্ষা করা যায়নি। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় - পরিবারটি তখনও নতুন বাড়িতে পুরোপুরি বসবাসই শুরু করতে পারেনি। যে বাক্সগুলো খুলে নতুন সংসার সাজানোর কথা ছিল, সেগুলোর অনেক কিছুই আগুনের মধ্যে থেকে যায়। কয়েক ঘণ্টা আগেও যে বাড়িটিকে ঘিরে ছিল নতুন শুরুর আনন্দ, দাবানল সেটিকে মুহূর্তের মধ্যে পরিণত করে ধ্বংসস্তূপে। পরিবারটির ঘটনা অবশ্য স্পোকেনের এই ভয়াবহ দুর্যোগের একটি ছোট অংশ মাত্র। ১ আগস্ট শক্তিশালী বাতাস ও প্রচণ্ড গরমের মধ্যে স্পোকেন এলাকায় একাধিক দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের কারণে প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নিতে হয় এবং ৬০০টির বেশি বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনা ধ্বংস হয় বলে কর্মকর্তাদের তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে সিবিএস নিউজ। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় স্পোকেন কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। কাউন্টি কমিশনাররা জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেন, যাতে অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সহায়তা দ্রুত সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। স্পোকেনের মেয়র লিসা ব্রাউন এই দাবানলকে অঞ্চলটির মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ওল্ড ট্রেইলস ফায়ার কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়। পরে স্পোকেন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের মেজর ক্রাইমস ডিটেকটিভ এবং ওয়াশিংটন স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেসের তদন্তকারীরা অগ্নিসংযোগের অভিযোগে একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেন। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি সম্ভাব্য অগ্নিসংযোগ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম ফারিনাচ্চি, বয়স ৩৭ বছর। তার বিরুদ্ধে ওল্ড ট্রেইলস ফায়ার শুরু করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে আগুন লাগানোর পরিকল্পনা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন - এমন অভিযোগও আদালতের নথিতে উঠে এসেছে। মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। দাবানল নিয়ন্ত্রণে আসার পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। স্পোকেন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, সফল অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমের পর ১১ আগস্ট ওল্ড ট্রেইলস রোড ও অটাম লেন এলাকার বাকি সব সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে অগ্নিনির্বাপণকর্মী, বিদ্যুৎ ও পুনরুদ্ধারকারী দল তখনও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। আগুন থামলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এখন শুরু হয়েছে আরেক লড়াই - নতুন করে জীবন গড়ে তোলার লড়াই। পুড়ে যাওয়া বাড়ির জায়গায় ফিরে কেউ খুঁজছেন স্মৃতিচিহ্ন, কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা আগুন থেকে বেঁচে যাওয়া কোনো জিনিস। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে খাবার, পানি এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দিচ্ছেন। সাত সদস্যের এই পরিবারের জন্য ক্ষতিটা আরও নির্মম - কারণ তাদের নতুন শুরুটা শেষ হয়ে গেছে শুরু হওয়ার আগেই। নতুন বাড়িতে একটি রাত কাটানোরও সুযোগ হয়নি তাদের। তবে শেষ মুহূর্তে দ্রুত বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্তে পরিবারের সাত সদস্যই প্রাণে বেঁচে গেছেন। মাত্র সাত ঘণ্টা আগে যে দরজা দিয়ে তারা নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ঘরে ঢুকেছিলেন - কয়েক ঘণ্টা পর সেই একই বাড়ি ছেড়ে তাদের পালাতে হয়েছে শুধু জীবন বাঁচাতে। এখন বাড়ি নেই, অনেক জিনিসপত্রও নেই - কিন্তু পরিবারের সাতজনই বেঁচে আছেন। ভয়াবহ সেই রাতের পর সেটিই এখন তাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন। স্কুলে ঢুকতেই শিক্ষকদের সামনে অদ্ভুত এক দৃশ্য - একজনের দিকে তাকালে ঠিক একই চেহারার আরেকজন! একজন-দুজন নয়, একই এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এবার একসঙ্গে স্কুলজীবন শুরু করছে ৯ জোড়া যমজ শিশু। স্কটল্যান্ডের ইনভারক্লাইডে এমন ঘটনাই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট ইনভারক্লাইডের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাইমারি ওয়ানে যাত্রা শুরু করার কথা এই ১৮ শিশুর। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে ১৪ আগস্ট গ্রিনকের আরডগোয়ান প্রাইমারি স্কুলে তাদের একত্রিত করা হয়। ইনভারক্লাইড কাউন্সিলের আয়োজনে সেখানে নতুন ইউনিফর্ম পরে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ায় যমজ শিশুরা। তবে ইনভারক্লাইডে এত যমজ শিশুর স্কুলে যাওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। যমজের সংখ্যার কারণে এলাকাটি বহুদিন ধরেই মজার ছলে ‘টুইনভারক্লাইড’ নামে পরিচিত। ২০১৩ সাল থেকে এখানকার স্কুলগুলোতে মোট ১৭৬ জোড়া যমজ ভর্তি হয়েছে - অর্থাৎ গড়ে প্রতি বছর প্রায় ১২ জোড়া। এবারের ৯ জোড়া যমজও একই একটি স্কুলে ভর্তি হচ্ছে না। ইনভারক্লাইডের ছয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভাগ হয়ে তারা স্কুলজীবন শুরু করবে। এর মধ্যে আরডগোয়ান প্রাইমারি, সেন্ট মাইকেলস প্রাইমারি এবং গুরক প্রাইমারিতে দুই জোড়া করে যমজ ভর্তি হচ্ছে। বাকি তিন জোড়া যাবে লেডি অ্যালিস, সেন্ট জোসেফস এবং সেন্ট জনস প্রাইমারি স্কুলে। ফলে তিনটি স্কুলের শিক্ষকদের জন্য প্রথম দিনটা একটু বেশিই মজার হতে পারে - একই ক্লাস বা স্কুলে একসঙ্গে দুই জোড়া যমজকে চিনে রাখতে হবে তাদের। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি এখন আর বিস্ময়ের নয়। বরং নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে যমজ শিশুদের একত্র করে ছবি তোলা গত ১৩ বছরে ইনভারক্লাইডের একটি বার্ষিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। ইনভারক্লাইড কাউন্সিলের শিক্ষা ও কমিউনিটিবিষয়ক কনভেনার কাউন্সিলর জিম ক্লোকার্টি বলেছেন, নতুন শিক্ষাবর্ষ ঘনিয়ে আসার অন্যতম পরিচিত সংকেত হয়ে উঠেছে স্কুলে ভর্তি হতে যাওয়া যমজ শিশুদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো। তার ভাষায়, এই আয়োজন শিশুদের স্কুলে যাওয়ার উত্তেজনা বাড়ানোর পাশাপাশি অভিভাবকদের জন্যও প্রথম দিনের আগে এক ধরনের প্রস্তুতি। এবার ৯ জোড়া যমজ নিয়ে আলোচনা হলেও ইনভারক্লাইডের রেকর্ড আরও চমকপ্রদ। ২০১৫ সালে এক শিক্ষাবর্ষেই এখানকার স্কুলে প্রাইমারি ওয়ানে ভর্তি হয়েছিল রেকর্ড ১৯ জোড়া যমজ। ২০২৩ সালেও সংখ্যাটি ছিল ১৭ জোড়া - যা ছিল ওই সময় পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য ইনভারক্লাইডে যমজ শিশুর হার তুলনামূলক বেশি হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করেনি। ফলে ‘টুইনভারক্লাইড’ নামটি কোনো আনুষ্ঠানিক ভৌগোলিক নাম নয় - দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক যমজ শিশুর স্কুলে ভর্তি হওয়ার কারণেই এলাকাটি এই মজার ডাকনাম পেয়েছে। নতুন ইউনিফর্ম, নতুন ক্লাস আর নতুন বন্ধুদের সঙ্গে মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে ১৮ শিশুর নতুন অধ্যায়। তবে অন্য শিক্ষার্থীদের তুলনায় তাদের প্রথম দিনটির একটি বাড়তি আকর্ষণ থাকছেই - পাশে থাকবে দেখতে প্রায় একই রকম নিজের ভাই অথবা বোন। আর শিক্ষকদের জন্য চ্যালেঞ্জটা সম্ভবত অন্য জায়গায় - নতুন শিক্ষার্থীদের নাম মনে রাখার পাশাপাশি এবার ঠিকঠাক চিনে রাখতে হবে ৯ জোড়া যমজকেও।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া দুই বোনই মার্কিন নাগরিক। কিন্তু তাদের বাবা-মাকে আইস আটক করে হন্ডুরাসে ডিপোর্ট করার পর মুহূর্তেই বদলে গেছে তাদের জীবন। মাত্র ১৯ বছর বয়সী বড় বোনকে এখন নিজের জীবন সামলানোর পাশাপাশি ১৩ বছরের ছোট বোনের অভিভাবকের দায়িত্বও নিতে হচ্ছে। প্রায় এক বছর ধরে বাবা-মাকে ছাড়াই টেক্সাসে বসবাস করছে দুই বোন। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পরিবারটির এই কঠিন বাস্তবতা। বাবা-মায়ের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের কারণে দুই বোনের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। কারণ তারা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। কিন্তু বাবা-মা ডিপোর্ট হয়ে যাওয়ার পর বড় বোনের ওপর এসে পড়েছে ছোট বোনের দৈনন্দিন দেখাশোনা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব। নিজের পড়াশোনা, কাজ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার বয়সেই তাকে কার্যত একজন অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে। এই ঘটনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে জোরদার হওয়া অভিবাসন অভিযানের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের ওপর কতটা পড়ছে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। বাবা-মা অনথিভুক্ত অভিবাসী হলেও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তান সাধারণত জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। ফলে অভিভাবক ডিপোর্ট হলে অনেক পরিবারকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে - সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে থাকবে, নাকি বাবা-মায়ের সঙ্গে অন্য দেশে চলে যাবে। এই সংকটের ব্যাপ্তি বোঝাতে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সাম্প্রতিক গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ একটি চিত্র সামনে এনেছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তর থেকে প্রায় ৪ লাখ অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের পর ইমিগ্রেশন হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গবেষকদের মডেলভিত্তিক অনুমান অনুযায়ী, এসব আটকের কারণে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার শিশু তাদের অন্তত একজন অভিভাবকের আইস হেফাজতে যাওয়ার পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। গবেষণাটির হিসাবে, এই শিশুদের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজারই মার্কিন নাগরিক। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ২২ হাজারের বেশি মার্কিন নাগরিক শিশুর একই বাড়িতে বসবাসকারী সব অভিভাবকই আটক হয়েছেন বলে গবেষকেরা অনুমান করেছেন। এসব শিশুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশের বয়স খুবই কম। ফলে অভিভাবকের আকস্মিক আটক শুধু একটি ইমিগ্রেশন মামলাই নয়, পুরো পরিবারের দৈনন্দিন জীবন ও শিশুদের ভবিষ্যৎকেও বদলে দিচ্ছে। তবে ১ লাখ ৪৫ হাজারের সংখ্যাটি সরাসরি আইস বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার গণনা নয়। ব্রুকিংস ইমিগ্রেশন হেফাজতের তথ্যের সঙ্গে আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের জনমিতিক তথ্য মিলিয়ে এই অনুমান তৈরি করেছে। গবেষকদের বক্তব্য, সরকারি তথ্যে আটক ব্যক্তিদের সন্তান সম্পর্কিত তথ্য সব ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গভাবে নথিভুক্ত না হওয়ায় প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝার জন্য মডেলভিত্তিক হিসাব ব্যবহার করতে হয়েছে। আইসের নিজস্ব নীতিতেও আটক ব্যক্তির পিতামাতা বা আইনি অভিভাবক হওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করার নির্দেশনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আটক ব্যক্তির সন্তান আছে কি না এবং তাদের দেখাশোনার ব্যবস্থা কী হবে, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কথা। তবে গবেষণায় বলা হয়েছে, বাস্তবে সব ক্ষেত্রে এই তথ্য পূর্ণাঙ্গভাবে সংগ্রহ হয় না। আবার সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে কিছু অভিবাসীও বিস্তারিত তথ্য দিতে দ্বিধা করেন। আইনগতভাবে এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। কোনো ব্যক্তির সন্তান মার্কিন নাগরিক হলেই সেই সন্তানের অনথিভুক্ত বাবা-মা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিপোর্টেশন থেকে সুরক্ষা পান না। একইভাবে বাবা-মায়ের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বা তাদের ডিপোর্টেশনের কারণে মার্কিন নাগরিক সন্তানের নাগরিকত্বও বাতিল হয় না। ফলে একই পরিবারের বাবা-মা ও সন্তানদের আইনি অবস্থান সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। এই আইনি বাস্তবতাই অনেক পরিবারকে সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের সামনে দাঁড় করাচ্ছে। বাবা-মা আটক বা ডিপোর্ট হলে সন্তানদের দেখাশোনার জন্য দ্রুত আত্মীয়, প্রাপ্তবয়স্ক ভাই-বোন অথবা বিশ্বস্ত কোনো ব্যক্তিকে দায়িত্ব নিতে হতে পারে। এমন ব্যবস্থা সম্ভব না হলে কোনো কোনো পরিস্থিতিতে শিশু সুরক্ষা সংস্থার সম্পৃক্ততার প্রয়োজন হতে পারে। অতীতেও অভিভাবকের আটক বা ডিপোর্টেশনের পর শিশুদের ফস্টার কেয়ারে যাওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। টেক্সাসের দুই বোনের ঘটনাটি তাই শুধু একটি পরিবারের বিচ্ছেদের গল্প নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভিবাসন অভিযানের এমন একটি দিক এটি, যেখানে আইসের অভিযানের সরাসরি লক্ষ্য না হয়েও মার্কিন নাগরিক শিশুরা তার বড় প্রভাব বহন করছে। একজন অভিভাবককে আটক বা ডিপোর্ট করার পর সেই পরিবারের বাসস্থান, আয়, স্কুল, মানসিক স্থিতি এবং শিশুদের দেখাশোনার পুরো ব্যবস্থাই মুহূর্তে বদলে যেতে পারে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে যে তরুণীর নিজের পড়াশোনা, চাকরি ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার কথা, তাকেই এখন ১৩ বছরের ছোট বোনের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। অন্যদিকে তাদের বাবা-মা রয়েছেন হন্ডুরাসে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ায় দুই বোন নিজেদের দেশে থাকার অধিকার ধরে রেখেছে, কিন্তু সেই অধিকারের সঙ্গে তাদের সামনে এসেছে বাবা-মাকে ছাড়া জীবন চালিয়ে যাওয়ার কঠিন বাস্তবতা।
ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তাপ এবার আরও গভীরে পৌঁছেছে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয়। রাতভর মস্কো ও আশপাশের অঞ্চল লক্ষ্য করে ৬২০টি ড্রোন পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা। একই সময়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন ব্যবহারের অভিযোগ তুলে যুক্তরাজ্যকে ‘পরিণতি ভোগ করতে হবে’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে মস্কো। মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত চলা হামলা নিয়ে মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, রাজধানী ও আশপাশের এলাকা লক্ষ্য করে আসা ড্রোনগুলোর মধ্যে অন্তত ১৮০টি ধ্বংস করেছে রুশ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ৬২০ ড্রোন পাঠানোর এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। কয়েকটি ভবন ও স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া গেছে। রাশিয়ার রাজধানীর দিকে এত বিপুলসংখ্যক ড্রোন পাঠানোর ঘটনা ইউক্রেন যুদ্ধের পরিবর্তিত চিত্র সামনে আনছে। সম্মুখযুদ্ধের পাশাপাশি দুই দেশই এখন দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ভূখণ্ডের গভীরে আঘাত বাড়াচ্ছে। ইউক্রেন বিশেষভাবে রাশিয়ার সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং যুদ্ধের সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে। তবে এবারের ঘটনাপ্রবাহ শুধু রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। নতুন করে উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাজ্যও। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের দুটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি ড্রোন ইউক্রেন রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে হামলার জন্য ব্যবহার করছে। এসব হামলায় রাশিয়ার সামরিক ও শিল্প স্থাপনাসহ তেল শোধনাগার এবং বিভিন্ন লজিস্টিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এরপরই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে লন্ডনে রুশ দূতাবাস। রাশিয়ার অভিযোগ, ইউক্রেনকে এ ধরনের অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য শুধু কিয়েভকে সহায়তা করছে না - বরং রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলার সহযোগীতে পরিণত হচ্ছে। মস্কোর হুঁশিয়ারি, সংঘাতে ব্রিটেনের সম্পৃক্ততা যত বাড়বে, দেশটিকে তার জন্য তত বড় মূল্য দিতে হতে পারে। তবে রাশিয়ার এসব অভিযোগ ও হুঁশিয়ারির পরও অবস্থান পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি ব্রিটেন। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। অর্থাৎ মস্কোর সতর্কবার্তার পরও কিয়েভকে সামরিক সহায়তা থেকে সরে আসার কোনো ঘোষণা দেয়নি লন্ডন। ফলে ব্রিটিশ তৈরি ড্রোনের ব্যবহার নিয়ে রাশিয়ার অভিযোগ এখন ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে মস্কো ও লন্ডনের পুরোনো উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেন যখন রাশিয়ার গভীরে হামলার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তখন ইউক্রেনের জ্বালানি ও শিল্প অবকাঠামোর ওপরও আক্রমণ জোরদার করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাফটোগাজ জানিয়েছে, মাত্র এক সপ্তাহে তাদের স্থাপনাগুলোতে ১৩টি রুশ হামলা হয়েছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, শীতের আগে দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থা দুর্বল করে দিতেই পরিকল্পিতভাবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক রুশ হামলায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহের একটি বড় ইস্পাত কারখানাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে দুইজন নিহত এবং অন্তত ১৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাল্টাপাল্টি এসব হামলা দেখাচ্ছে, যুদ্ধ এখন আর শুধু সম্মুখসারিতে সীমাবদ্ধ নেই - উভয় পক্ষই প্রতিপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও ভূখণ্ডের গভীরে আঘাত হানার চেষ্টা করছে। আর ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন রাশিয়ার অভ্যন্তরে ব্যবহারের অভিযোগ সেই উত্তেজনাকে আরও বড় আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে। এখন প্রশ্ন শুধু ইউক্রেন রাশিয়ার কতটা গভীরে আঘাত করতে পারছে, সেটি নয় - পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহ করা অস্ত্র রাশিয়ার অভ্যন্তরে কতটা ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এর জবাবে মস্কো কতদূর যেতে প্রস্তুত, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ৬২০ ড্রোনের বিশাল হামলার পর তাই নজর এখন মস্কোর পরবর্তী পদক্ষেপে। বিশেষ করে ব্রিটেনকে দেওয়া ‘পরিণতি ভোগের’ হুঁশিয়ারি শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি রাশিয়া সেটিকে বাস্তব কোনো পদক্ষেপে রূপ দেয় - সেটিই এখন লন্ডন-মস্কোর ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার পরবর্তী বড় প্রশ্ন।
বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান একদিন আবার ভারতের সঙ্গে যুক্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের আলোচিত যোগগুরু রামদেব। এমন পরিস্থিতি দেখতে ভারতীয়দের ‘আরও কিছুটা ধৈর্য’ ধরার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। ভারতের ছত্তিশগড়ের রায়পুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন রামদেব। সোমবার রায়পুরের স্বামী বিবেকানন্দ বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান প্রসঙ্গ উঠে আসে। এ সময় পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর ‘নির্যাতন ও অবিচার’ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রামদেব। রামদেবের ভাষ্য, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুদের সঙ্গে যে ধরনের ‘অত্যাচার ও অবিচার’ হয়েছে, তা মানবসভ্যতার সবচেয়ে বড় নিষ্ঠুরতার ঘটনাগুলোর মধ্যে পড়ে। তবে নিজের এই দাবির পক্ষে ওই সময় নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা বা পরিসংখ্যান তুলে ধরেননি তিনি। এরপরই তিনটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করেন রামদেব। তিনি বলেন, “এমন দিনও আসবে, যখন পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান আবার ভারতের সঙ্গে একীভূত হবে। শুধু একটু ধৈর্য ধরুন।” রামদেবের এই বক্তব্য তার নিজস্ব রাজনৈতিক ও আদর্শিক অভিমত। বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তানকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার কোনো স্বীকৃত সরকারি পরিকল্পনা বা প্রক্রিয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেননি। ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক নীতিগত ঘোষণা হিসেবেও তার বক্তব্যকে দেখার সুযোগ নেই। রামদেবের মন্তব্যটি এসেছে এমন সময়ে, যখন দক্ষিণ এশিয়ায় জাতীয় পরিচয়, সীমান্ত, ধর্ম ও আঞ্চলিক রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য প্রায়ই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করছে। ফলে বাংলাদেশের মতো একটি স্বাধীন রাষ্ট্রকে ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে একীভূত হওয়ার কথা বলা স্বাভাবিকভাবেই একটি স্পর্শকাতর বক্তব্য। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ধর্মান্তর নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন রামদেব। ছত্তিশগড়ে ধর্মান্তর ঠেকাতে আনা নতুন আইনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতে হিন্দু, মুসলিম কিংবা খ্রিষ্টান - কোনো ধর্মই হুমকির মুখে নেই। তার দাবি, বরং হুমকির মুখে রয়েছে ভারতের সম্মান ও মর্যাদা। ছত্তিশগড়ের বিধানসভা চলতি বছরের মার্চে ধর্মান্তরবিরোধী একটি কঠোর বিল পাস করে। এতে বলপ্রয়োগ, প্রলোভন, প্রতারণা, ভুল তথ্য বা অন্যান্য বেআইনি উপায়ে ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। ‘গণধর্মান্তরের’ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ব্যবস্থাও রয়েছে। বিরোধী কংগ্রেস বিলটি আরও পর্যালোচনার জন্য সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি জানিয়েছিল এবং ভোটের সময় ওয়াকআউট করে। সনাতন ধর্ম প্রসঙ্গেও রামদেব বেশ কিছু মন্তব্য করেন। তার দাবি, সনাতন ধর্মে এমন কোনো ঘাটতি নেই যার কারণে কাউকে ইসলাম বা খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করতে হবে। অতীতে বলপ্রয়োগ, প্রলোভনসহ বিভিন্ন উপায়ে হিন্দুদের ধর্মান্তর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব বক্তব্য রামদেবের নিজস্ব দাবি; প্রতিবেদনে সেগুলোর পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন রামদেব। তার মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যেক নাগরিকের কথা বলা এবং প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। তবে সেই স্বাধীনতার ব্যবহার গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সীমার মধ্যে থাকা উচিত। দেশের ক্ষতি হয় এমনভাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ব্যবহার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ ভারত নিয়ে নিজের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথাও জানান এই যোগগুরু। রামদেব বলেন, তিনি ভারতকে বিশ্বের সেরা গণতন্ত্র এবং ভারতীয়দের বিশ্বের সেরা নাগরিক হিসেবে দেখতে চান। ভারতের অর্থনীতিকে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিতে পরিণত করার পাশাপাশি রুপির মূল্য একদিন মার্কিন ডলার ও ব্রিটিশ পাউন্ডের সমপর্যায়ে পৌঁছাবে বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি। এমনকি ভারতীয় পাসপোর্ট এত শক্তিশালী হওয়া উচিত, যাতে ভারতীয় নাগরিকদের বিশ্বের কোনো দেশে যেতে ভিসার প্রয়োজন না হয় বলেও মন্তব্য করেন রামদেব। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়াসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশে ভারত যেন সমান মর্যাদা ও সম্মান পায়, সেটিও তার প্রত্যাশা। তবে তার বক্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান নিয়ে করা মন্তব্যটি। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ভাগের মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। বর্তমান বাংলাদেশ তখন পাকিস্তানের অংশ ছিল এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে আফগানিস্তান ব্রিটিশ ভারতের অংশ হিসেবে ১৯৪৭ সালে আলাদা হয়ে যাওয়া কোনো রাষ্ট্র নয়; এর স্বাধীন রাষ্ট্রীয় ইতিহাস আরও পুরোনো। ফলে তিন দেশকে একই ঐতিহাসিক কাঠামোয় ‘আবার ভারতের অংশ’ হওয়ার দাবি ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিকভাবে সরলীকৃত। এ কারণে রামদেবের বক্তব্যকে কোনো আসন্ন সীমান্ত পরিবর্তন বা ভারত সরকারের ঘোষিত নীতি হিসেবে নয়, বরং তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক-আদর্শিক বক্তব্য হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। তবে দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি স্বাধীন রাষ্ট্রকে নিয়ে এমন মন্তব্য করায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও অন্য দুই দেশের সরকারের পক্ষ থেকে রামদেবের সর্বশেষ এই বক্তব্য নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মানচিত্রে একসময় যেসব অঙ্গরাজ্যকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে দেখা হতো, সেখানেও দ্রুত বদলাচ্ছে জনমত। নতুন রাজ্যভিত্তিক জরিপ বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, দেশের ৫০ অঙ্গরাজ্যের মধ্যে মাত্র তিনটিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাজের প্রতি অনুমোদন অননুমোদনের চেয়ে বেশি। নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে এই চিত্র রিপাবলিকানদের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। নিউজউইকের প্রকাশিত রাজ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি ইতিবাচক নেট অনুমোদন এখন মূলত তার সবচেয়ে শক্তিশালী রিপাবলিকান ঘাঁটিগুলোতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অর্থাৎ অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে তাকে সমর্থন করা মানুষের তুলনায় তার কাজের প্রতি অসন্তুষ্ট মানুষের সংখ্যা বেশি। তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় রয়েছে। বিভিন্ন জরিপ প্রতিষ্ঠান রাজ্যভিত্তিক অনুমোদন হিসাব করতে আলাদা পদ্ধতি ও সময়সীমা ব্যবহার করে। ফলে কোন জরিপের কোন আপডেট বিবেচনা করা হচ্ছে, তার ওপর ইতিবাচক অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা তিন বা চার হতে পারে। সাম্প্রতিক ইকোনমিস্ট-ইউগভ মডেলে আইডাহো, নর্থ ডাকোটা, ওয়াইওমিং ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেট অনুমোদন ইতিবাচক দেখানো হয়েছে। তাই “মাত্র তিন রাজ্য” সংখ্যাটি সংশ্লিষ্ট নিউজউইক বিশ্লেষণের নির্দিষ্ট তথ্য হিসেবে দেখা উচিত, সব জরিপের অভিন্ন ফল হিসেবে নয়। কিন্তু রাজ্যভিত্তিক হিসাবের এই পার্থক্যের চেয়েও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে জাতীয় জনমত। ১৭ আগস্ট প্রকাশিত রয়টার্স-ইপসসের সর্বশেষ জরিপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদন নেমে এসেছে মাত্র ৩৩ শতাংশে। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এটিই তার সর্বনিম্ন অনুমোদন। একই জরিপে ৬৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক তার কাজের প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন। এই পতন আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদন ছিল ৪৭ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় দেড় বছরে জাতীয় পর্যায়ে তার সমর্থনে বড় ধরনের ক্ষয় হয়েছে। কেন কমছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা? এর পেছনে এখন সবচেয়ে বড় দুটি বিষয় সামনে আসছে - ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এবং আমেরিকানদের জীবনযাত্রার ব্যয়। রয়টার্স-ইপসস জরিপে প্রায় ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই আশঙ্কা ৮৭ শতাংশ হলেও রিপাবলিকানদের মধ্যেও ৭১ শতাংশ একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্তটি মূল্য দেওয়ার মতো ছিল। এমনকি রিপাবলিকানদের মধ্যেও এই প্রশ্নে সমর্থন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। যুদ্ধের প্রভাব এখন শুধু পররাষ্ট্রনীতিতে সীমাবদ্ধ নেই। ইরান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে পড়ছে। ফলে হোয়াইট হাউসের জন্য ইরান যুদ্ধ ক্রমেই একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিত্যপণ্যের দাম। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর ২৬টি গুরুত্বপূর্ণ মুদি পণ্যের দাম গড়ে আরও ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। মূল্যবৃদ্ধির গতি বাইডেন প্রশাসনের সময়ের তুলনায় কম হলেও ভোটারদের প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম কমেনি। আর এখানেই রিপাবলিকানদের জন্য আরও একটি বড় সতর্কসংকেত দেখা যাচ্ছে। আগস্টের শুরুতে প্রকাশিত আরেকটি রয়টার্স-ইপসস জরিপে প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবার অর্থনীতি পরিচালনায় রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্র্যাটদের সামান্য এগিয়ে রেখেছেন ভোটাররা। নিবন্ধিত ভোটারদের ৩৭ শতাংশ অর্থনীতি পরিচালনায় ডেমোক্র্যাটদের ওপর বেশি আস্থা জানিয়েছেন, রিপাবলিকানদের বেছে নিয়েছেন ৩৬ শতাংশ। একই জরিপের কংগ্রেসনাল ব্যালট পরীক্ষায় নিবন্ধিত ভোটারদের ৪২ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৩৭ শতাংশ রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পাঁচ পয়েন্টের এই ব্যবধান রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে আগামী নির্বাচনে সব অঙ্গরাজ্য ডেমোক্র্যাটদের দিকে চলে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্টের কাজের অনুমোদন এবং নির্বাচনে দলীয় ভোট দুটি আলাদা বিষয়। একজন রিপাবলিকান ভোটার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কোনো নীতিতে অসন্তুষ্ট হলেও কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীকেই ভোট দিতে পারেন। একইভাবে রাজ্যভিত্তিক অনুমোদনের জরিপ দিয়ে সরাসরি নির্বাচনের ফল অনুমান করা যায় না। তারপরও বর্তমান প্রবণতাটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পেনসিলভানিয়া, মিশিগান, উইসকনসিন, অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, নেভাদা ও নর্থ ক্যারোলিনার মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটি এখন বড় প্রশ্ন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। অভিবাসন ইস্যুতে রিপাবলিকানরা এখনো ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় সামান্য এগিয়ে। তবে এখানেও ব্যবধান নাটকীয়ভাবে কমেছে। রয়টার্স-ইপসসের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অভিবাসন পরিচালনায় রিপাবলিকানদের সুবিধা যেখানে ছিল ২৬ পয়েন্ট, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ২ পয়েন্টে। সব মিলিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এখন একই সঙ্গে তিনটি রাজনৈতিক চাপ - ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ। আর নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, হোয়াইট হাউসের জন্য প্রশ্নটি ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে - প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কি এই নিম্নমুখী জনমত ঘুরিয়ে দিতে পারবেন, নাকি তার জনপ্রিয়তার পতনের মূল্য দিতে হবে কংগ্রেসের রিপাবলিকান প্রার্থীদের? কারণ মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের নাম ব্যালটে থাকবে না - কিন্তু তার জনপ্রিয়তা কিংবা অজনপ্রিয়তার প্রভাব ব্যালটের ফলাফলে পড়তে পারে।
কানাডায় উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ খুঁজছেন ফ্রেঞ্চভাষী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন করে ২ হাজার ৯৭০টি স্টাডি পারমিট আবেদন গ্রহণের কোটা শুরু হচ্ছে আগামী ২৬ আগস্ট। কানাডার ফ্রাঙ্কোফোন মাইনরিটি কমিউনিটিজ স্টুডেন্ট পাইলট বা এফএমসিএসপির আওতায় এই কোটা কার্যকর থাকবে ২০২৭ সালের ২৫ আগস্ট পর্যন্ত। কানাডার ইমিগ্রেশন, রিফিউজি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা বা আইআরসিসির সর্বশেষ সরকারি নীতিমালা যাচাই করে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। আইআরসিসির ২৫ জুন স্বাক্ষরিত এবং ২১ জুলাই প্রকাশিত হালনাগাদ নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২৬ আগস্ট থেকে ২০২৭ সালের ২৫ আগস্ট পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৭০টি নতুন স্টাডি পারমিট আবেদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য গ্রহণ করা হবে। নির্ধারিত সীমা পূরণ হয়ে গেলে অতিরিক্ত আবেদন গ্রহণ না করে আবেদনকারীর কাছে ফেরত দেওয়া হবে। আগের ২০২৫-২৬ মেয়াদেও কোটা ছিল ২ হাজার ৯৭০। সুযোগ ৩৩ দেশের নাগরিকদের এই বিশেষ কর্মসূচি বিশ্বের সব দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত নয়। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও আমেরিকা অঞ্চলের নির্ধারিত ৩৩টি দেশের নাগরিকরা আবেদন করতে পারবেন। আফ্রিকার ২৮টি দেশের মধ্যে রয়েছে বেনিন, বুরকিনা ফাসো, বুরুন্ডি, কাবো ভার্দে, ক্যামেরুন, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, চাদ, কোমোরোস, আইভরি কোস্ট, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, জিবুতি, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, গ্যাবন, গিনি, গিনি-বিসাউ, মাদাগাস্কার, মালি, মৌরিতানিয়া, মরিশাস, মরক্কো, নাইজার, রুয়ান্ডা, সাও টোমে ও প্রিন্সিপে, সেনেগাল, সেশেলস, টোগো ও তিউনিসিয়া। মধ্যপ্রাচ্য থেকে মিসর ও লেবানন এবং আমেরিকা অঞ্চল থেকে হাইতি, ডমিনিকা ও সেন্ট লুসিয়ার নাগরিকরা সুযোগটি পাবেন। তবে শুধু এসব দেশের নাগরিক হলেই আবেদন করা যাবে না। আবেদনকারীকে ফ্রেঞ্চ ভাষায় কথা বলা, শোনা, পড়া ও লেখার প্রতিটি দক্ষতায় কানাডিয়ান ভাষা মানদণ্ড এনসিএলসি-তে কমপক্ষে লেভেল ৫ অর্জন করতে হবে। অনুমোদিত ভাষা পরীক্ষার ফলও আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে। কানাডায় থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য নয় নতুন আবেদন এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। নতুন আবেদনকারীকে এফএমসিএসপির আওতায় স্টাডি পারমিটের আবেদন কানাডায় প্রবেশের আগেই করতে হবে। অর্থাৎ ইতোমধ্যে কানাডায় অবস্থানকারী কেউ সাধারণভাবে এই পাইলটের নতুন মূল আবেদনকারী হিসেবে ভেতর থেকে আবেদন করতে পারবেন না। তবে আগে থেকেই এফএমসিএসপির স্টাডি পারমিট পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য কানাডার ভেতর থেকে সেই পারমিট নবায়নের আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ আইআরসিসির বর্তমান তালিকায় কুইবেকের বাইরে ১৭টি নির্ধারিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এফএমসিএসপিতে অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব অটোয়া, ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা, ইউনিভার্সিটি অব রেজাইনা, ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গ্লেনডন ক্যাম্পাস, ইউনিভার্সিটি দ্য মঙ্কটন, কলেজ লা সিতে এবং কলেজ বোরিয়ালের মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও প্রতিষ্ঠান এই তালিকায় যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে আইআরসিসি। আবেদনকারীর কাছে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের গ্রহণপত্র থাকতে হবে এবং সেখানে উল্লেখ থাকতে হবে যে শিক্ষার্থী এফএমসিএসপির অধীনে আবেদন করছেন। শিক্ষা কার্যক্রমটি অবশ্যই পোস্ট-সেকেন্ডারি পর্যায়ের, পূর্ণকালীন এবং কমপক্ষে দুই বছরের হতে হবে। কোর্স শেষ করলে ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা অর্জন করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, কোর্সের ৫০ শতাংশের বেশি ক্লাস ফ্রেঞ্চ ভাষায় পরিচালিত হতে হবে। সাধারণ স্টাডি পারমিটের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সুবিধা এফএমসিএসপির একটি বড় সুবিধা হলো, এই কর্মসূচির আবেদনকারীদের প্রভিন্সিয়াল বা টেরিটোরিয়াল অ্যাটেস্টেশন লেটার জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সময় কানাডায় সেটেলমেন্ট সার্ভিস ব্যবহারের সুযোগও পান। আর্থিক সক্ষমতার ক্ষেত্রেও বিশেষ নিয়ম রয়েছে। আবেদনকারীকে প্রথম বছরের টিউশন ফি ও যাতায়াত খরচ বহনের সামর্থ্য দেখানোর পাশাপাশি যে শহরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল ক্যাম্পাস অবস্থিত, সেই এলাকার জন্য নির্ধারিত অর্থের প্রমাণ দিতে হবে। প্রয়োজনীয় অর্থ শহরের জনসংখ্যা ও পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বরের পরের আবেদনের বর্তমান হিসাবে পাঁচ লাখ বা তার বেশি জনসংখ্যার শহরে একক শিক্ষার্থীর জীবনযাত্রার জন্য বছরে ২২ হাজার ৮৯৫ কানাডিয়ান ডলার দেখাতে হয়। গ্রামীণ এলাকায় একই হিসাব ১৫ হাজার ৭৬১ কানাডিয়ান ডলার। এর বাইরে প্রথম বছরের টিউশন ও যাতায়াতের অর্থ থাকতে হবে। স্টাডি পারমিট আবেদনের সরকারি ফি বর্তমানে ১৫০ কানাডিয়ান ডলার। পরিবারও যেতে পারবে যোগ্য শিক্ষার্থী তার স্বামী বা স্ত্রী, কমন-ল পার্টনার এবং নির্ভরশীল সন্তানদের সঙ্গে কানাডায় নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। পরিবারের সদস্যরা পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিজিটর ভিসা, স্টাডি পারমিট কিংবা ওপেন ওয়ার্ক পারমিটের জন্য যোগ্য হতে পারেন। তাদের আবেদনে মূল শিক্ষার্থী যে এফএমসিএসপির আওতায় আবেদন করছেন বা অনুমোদন পেয়েছেন, তার প্রমাণ দিতে হবে। পড়াশোনা শেষেই খুলতে পারে স্থায়ী বসবাসের পথ এই পাইলটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ শুধু স্টাডি পারমিট নয়। সফলভাবে নির্ধারিত কোর্স শেষ করা শিক্ষার্থীদের জন্য কানাডায় স্থায়ী বসবাসের বিশেষ পথও রাখা হয়েছে। আইআরসিসির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, এফএমসিএসপির স্থায়ী বসবাসের আবেদন ব্যবস্থা ২০২৭ সালের শীতকালে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন প্রয়োজন। এটিকে সরাসরি ‘পড়াশোনা করলেই পিআর নিশ্চিত’ বলা ঠিক হবে না। আবেদনকারীকে এফএমসিএসপির অধীনে স্টাডি পারমিট পেতে হবে, নির্ধারিত কমপক্ষে দুই বছরের কোর্স সফলভাবে শেষ করতে হবে, আবেদন করার সময় কুইবেকের বাইরে কানাডায় বসবাস করতে হবে এবং বৈধ অস্থায়ী স্ট্যাটাসসহ অন্যান্য গ্রহণযোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। তবে প্রচলিত অর্থনৈতিক অভিবাসন কর্মসূচির মতো আলাদা কোনো চাকরির প্রস্তাব বা এক্সপ্রেস এন্ট্রির সিআরএস স্কোরকে এই বিশেষ নীতিতে যোগ্যতার শর্ত হিসেবে রাখা হয়নি। মূল শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগ্য পরিবারের সদস্যদেরও স্থায়ী বসবাসের আবেদনে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে। স্থায়ী বসবাসের আবেদন জমা দেওয়ার পর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা যোগ্য গ্র্যাজুয়েট সর্বোচ্চ তিন বছরের ওপেন ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন। যোগ্য পরিবারের সদস্যদের জন্যও ওপেন ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো - বাংলাদেশ এই ৩৩ দেশের তালিকায় নেই। ফলে শুধু বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে কোনো শিক্ষার্থী ২৬ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া এফএমসিএসপির ২ হাজার ৯৭০ আবেদনের কোটায় আবেদন করতে পারবেন না। ফ্রেঞ্চ ভাষায় দক্ষ হলেও নাগরিকত্বের শর্ত পূরণ না হলে এই বিশেষ পাইলটের সুবিধা পাওয়া যাবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশিদের জন্য কানাডার স্টাডি পারমিট বন্ধ। এফএমসিএসপি সাধারণ স্টাডি পারমিট ব্যবস্থা থেকে আলাদা একটি বিশেষ পাইলট। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যোগ্যতা পূরণ করলে কানাডার প্রচলিত স্টাডি পারমিট ব্যবস্থায় আবেদন করতে পারবেন। সব মিলিয়ে ২৬ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া নতুন ২ হাজার ৯৭০ আবেদনের কোটা মূলত নির্দিষ্ট ৩৩ দেশের ফ্রেঞ্চভাষী শিক্ষার্থীদের জন্য কানাডায় পড়াশোনা থেকে স্থায়ী বসবাস পর্যন্ত একটি বিশেষ পথ। তবে সীমিত কোটা, নির্দিষ্ট নাগরিকত্ব, ফ্রেঞ্চ ভাষায় এনসিএলসি ৫, অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি এবং আর্থিক সক্ষমতাসহ প্রতিটি শর্ত পূরণ করেই আবেদন করতে হবে। আর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে জরুরি বার্তা - এই ২ হাজার ৯৭০টি সুযোগ বাংলাদেশের জন্য নয়; কানাডায় পড়তে চাইলে তাদের নিয়মিত স্টাডি পারমিটের পথেই আবেদন করতে হবে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন আরও এক শিশুকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে সহায়তা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। নতুন এই পুনর্মিলনের মধ্য দিয়ে তার উদ্যোগে পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়া শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে। ১৭ আগস্ট হোয়াইট হাউস এ তথ্য জানিয়েছে। দীর্ঘদিন পর মা ও সন্তানের এই পুনর্মিলন নিয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মেলানিয়া ট্রাম্প। তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন থাকার পর একজন মায়ের সঙ্গে তার সন্তানকে পুনর্মিলিত করার চেয়ে শক্তিশালী আর কিছু নেই।” তবে নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে সর্বশেষ ফিরে আসা শিশুটির পরিচয়, বয়স কিংবা কী পরিস্থিতিতে সে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, সেই বিস্তারিত প্রকাশ করেনি হোয়াইট হাউস। মেলানিয়া ট্রাম্প জানিয়েছেন, এখানেই থামছে না তার উদ্যোগ। যুদ্ধের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া আরও শিশু ও পরিবারের পুনর্মিলন নিশ্চিত করতে তার প্রতিনিধি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই মানবিক উদ্যোগের শুরুটা হয়েছিল এক চিঠি দিয়ে। ২০২৫ সালের আগস্টে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি একটি চিঠি লিখেছিলেন মেলানিয়া ট্রাম্প। সেখানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শিশুদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। আলাস্কায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট পুতিনের বৈঠকের সময় সেই চিঠি রুশ প্রেসিডেন্টের হাতে পৌঁছে দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এরপর বিষয়টি শুধু চিঠিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইউক্রেন ও রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে ফার্স্ট লেডির কার্যালয়। ধারাবাহিক সেই প্রচেষ্টায় একের পর এক শিশুকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ৩০ জুলাইও ইউক্রেনীয় ও রুশ পাঁচ শিশুকে পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলিত করার কথা জানিয়েছিল হোয়াইট হাউস। আর সর্বশেষ আরও এক শিশুর ঘরে ফেরার মধ্য দিয়ে মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগে এই সংখ্যা এখন ৩৪। তবে এই ৩৪ শিশুর গল্পের পেছনে রয়েছে আরও অনেক বড় এক মানবিক সংকট। ইউক্রেন সরকারের ‘চিলড্রেন অব ওয়ার’ তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ২০ হাজার ৬১০ ইউক্রেনীয় শিশুকে নির্বাসিত অথবা জোরপূর্বক স্থানান্তরিত হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৪৭০ শিশুকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরের মার্চে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন জানায়, ইউক্রেনীয় শিশুদের রাশিয়ায় নির্বাসন ও জোরপূর্বক স্থানান্তরের ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। এরও আগে ২০২৩ সালে ইউক্রেনের অধিকৃত অঞ্চল থেকে শিশুদের বেআইনিভাবে নির্বাসন ও স্থানান্তরের অভিযোগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং রাশিয়ার শিশু অধিকারবিষয়ক কমিশনার মারিয়া লভোভা-বেলোভার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। রাশিয়া এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ইউক্রেন বলছে, দেশ থেকে নিয়ে যাওয়া প্রতিটি শিশুকে ফিরিয়ে আনা তাদের অন্যতম প্রধান মানবিক দাবি। এজন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তাও চাইছে কিয়েভ। সেই বিশাল সংকটের তুলনায় ৩৪ সংখ্যাটি হয়তো খুবই ছোট। কিন্তু প্রতিটি সংখ্যার পেছনেই রয়েছে একটি শিশু, একটি পরিবার এবং দীর্ঘ অপেক্ষার একটি গল্প। আর সেই কারণেই মেলানিয়া ট্রাম্পের সর্বশেষ বার্তাটিও তাৎপর্যপূর্ণ - যুদ্ধের কূটনীতি যত কঠিনই হোক, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন শিশুদের ঘরে ফেরানোর প্রচেষ্টা থামছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে মানবপাচার ও শিশুদের যৌন শোষণ ঠেকাতে চালানো বড় ধরনের আন্ডারকভার অভিযানে ৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ‘অপারেশন রেড কার্ড’ নামের এই অভিযানে ৪০ জনের বেশি সম্ভাব্য মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিকে শনাক্ত বা উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সোমবার অভিযানের ফলাফল প্রকাশ করে ট্যারান্ট কাউন্টি কর্তৃপক্ষ। ট্যারান্ট কাউন্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং টাস্ক ফোর্সের নেতৃত্বে স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে বিশ্বকাপ চলাকালে কয়েক দফায় অভিযানটি পরিচালিত হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ৫৬ জনের মধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা অনলাইনে শিশু সেজে সন্দেহভাজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। অভিযুক্তরা যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে বিশ্বাস করেছিলেন, তাদের বয়স ৪ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অভিযানের অংশ হিসেবে আন্ডারকভার অফিসাররা যৌনকর্মী সেজে অনলাইনে যোগাযোগ করেন, অনলাইনে প্রকাশিত যৌনসেবার বিজ্ঞাপনের জবাব দেন এবং কিছু ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ক পরিচয়ে সন্দেহভাজনদের সঙ্গে কথোপকথন চালান। এরপর নির্ধারিত স্থানে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযানটি একদিনে পরিচালিত হয়নি। আর্লিংটন পুলিশের সঙ্গে ১৫, ১৬ ও ১৮ জুন, ফোর্ট ওর্থ পুলিশের সঙ্গে ২৯ জুন এবং ১ ও ২ জুলাই এবং ট্যারান্ট কাউন্টি শেরিফের অফিস ও আর্লিংটন পুলিশের সঙ্গে ৮ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত পৃথক অভিযান চালানো হয়। জুনের মাঝামাঝি আর্লিংটনে পরিচালিত একটি অভিযানে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের অভিযোগ, আন্ডারকভার অফিসারদের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগের পর তারা অর্থের বিনিময়ে যৌন সম্পর্কের বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে টেক্সাস আইনে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত যৌনসেবা কেনার অভিযোগ আনা হয়েছে। জুনের শেষ এবং জুলাইয়ের শুরুতে আরও চারটি সরাসরি আন্ডারকভার অভিযানে একই ধরনের অভিযোগে আরও ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট অভিযানগুলোতে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ ও আগে থেকে থাকা অ্যারেস্ট ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে আরও সাতজনকে আটক করা হয়েছে। শিশুদের লক্ষ্য করে অনলাইনে যোগাযোগের অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই অংশের তদন্তে ইউএস সিক্রেট সার্ভিসের ডালাস ফিল্ড অফিস আন্ডারকভার অনলাইন কর্মী, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিশ্লেষণ দিয়ে সহযোগিতা করেছে। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, তাদের সহায়তায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটররাও অভিযানের কয়েকটি মামলা পর্যালোচনা করছেন। এরই মধ্যে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ককে যৌন কর্মকাণ্ডে প্রলুব্ধ করার চেষ্টার অভিযোগে ফেডারেল চার্জ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তারা এমন একজনের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন, যাকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর বলে মনে করেছিলেন। বাস্তবে সেটি ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আন্ডারকভার অপারেশন। অভিযানে শুধু গ্রেপ্তারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ইউএস অ্যাটর্নির অফিস জানিয়েছে, ৪০ জনের বেশি সম্ভাব্য মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিকে শনাক্ত বা উদ্ধার করে বিভিন্ন সহায়তা সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা আনবাউন্ড নাও জানিয়েছে, বিশ্বকাপকেন্দ্রিক এসব অভিযানে শনাক্ত ১৫ জনকে তারা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। জরুরি পোশাক, যাতায়াত, চিকিৎসা, নিরাপদ আশ্রয়, কাউন্সেলিং, শিক্ষা সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা এসব সেবার অন্তর্ভুক্ত। তদন্ত এখানেই শেষ হচ্ছে না। আরও ১৪টি তদন্ত সক্রিয় রয়েছে এবং কয়েকটি অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট এখনো কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে সামনে আরও গ্রেপ্তার ও নতুন অভিযোগ আসতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ট্যারান্ট কাউন্টির এই অভিযানে ইউএস সিক্রেট সার্ভিস, ইউএস অ্যাটর্নির অফিস, এফবিআইয়ের ডালাস ডিভিশন, আর্লিংটন পুলিশ ও ফোর্ট ওর্থ পুলিশসহ একাধিক সংস্থা অংশ নেয়। আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তাদের বক্তব্য, বিশ্বকাপের মতো বিপুল মানুষের সমাগমের বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনকে মানবপাচারকারীরা সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, আর সে কারণেই বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বিশ্বকাপের নিরাপত্তা ঘিরে উত্তর টেক্সাসে এর আগেও ‘অপারেশন রেড কার্ড’ নামে বৃহত্তর আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। এবারের মানবপাচারবিরোধী অভিযানের তদন্তও চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অন্য সন্দেহভাজনদের শনাক্তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার পর তার মরদেহ গাড়ির যাত্রীর আসনে বসিয়ে একাধিক অঙ্গরাজ্য পেরিয়ে পাঁচ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানোর অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত টেনেসির মেমফিসে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের কারণে পুলিশ তাকে থামালে গাড়ির ভেতর থেকে তার স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্ত ৫০ বছর বয়সী টাইরন ব্রাজিল বর্তমানে হেফাজতে রয়েছেন। নিহত নারীর নাম লানেসা ব্র্যাডফোর্ড। তার বয়সও ৫০ বছর। পুলিশ বলছে, লুইজিয়ানার ব্যাটন রুজের ইন্ডিপেনডেন্স কমিউনিটি পার্কে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার একপর্যায়ে ব্রাজিল তাকে গুলি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর মরদেহ গাড়িতে রেখেই তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিল লুইজিয়ানা থেকে গাড়ি চালিয়ে মিসিসিপি হয়ে টেনেসির দিকে যান। প্রায় ৪০০ মাইল পথ পাড়ি দেওয়ার পর মেমফিসের ডাউনটাউনে তাকে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের অভিযোগে থামায় পুলিশ। গাড়ি পরীক্ষা করতে গিয়ে যাত্রীর আসনে ব্র্যাডফোর্ডকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার শরীরে গুলির আঘাত ছিল। এরপর ব্রাজিলকে ফিউজিটিভ হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। লুইজিয়ানায় তার বিরুদ্ধে সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ আনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাকে টেনেসি থেকে লুইজিয়ানায় ফেরত নেওয়ার জন্য এক্সট্রাডিশন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। ঘটনার আগে দম্পতির সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না বলে জানিয়েছেন ব্র্যাডফোর্ডের দীর্ঘদিনের বন্ধু শেলিকা ডেকার। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ব্র্যাডফোর্ড স্বামীকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং এজন্য আলাদা করে অর্থও জমিয়েছিলেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নতুন করে জীবন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। বন্ধুর দাবি, ব্র্যাডফোর্ড পরিকল্পনা করেছিলেন নিজের গাড়ি ও অন্য কিছু জিনিসপত্র ফেলে চুপচাপ এলাকা ছেড়ে চলে যাবেন, যাতে স্বামী সহজে তার অবস্থান জানতে না পারেন। তবে তার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের। ব্র্যাডফোর্ড ব্যাটন রুজের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। কয়েকদিন কাজে না যাওয়ায় তার সহকর্মীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পুলিশকে ওয়েলফেয়ার চেক করতে বলেন। এর মধ্যেই টেনেসিতে তার মরদেহ উদ্ধার হওয়ার খবর আসে। পরিবারের পরিচিতজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রাজিল ও ব্র্যাডফোর্ড বহু বছর ধরে বিবাহিত ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং ব্র্যাডফোর্ড আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে ঘটনার পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে গুলি চালানো হয়েছিল, তা এখনো তদন্তাধীন। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। মামলার পরবর্তী ধাপে তাকে লুইজিয়ানায় ফিরিয়ে নিয়ে হত্যার অভিযোগে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করতেই CNN-এর এক সাংবাদিকের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে সাংবাদিককে বারবার চুপ করতে বলেন তিনি। একপর্যায়ে তাকে ‘ফেক নিউজ’ বলেও আক্রমণ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ঘটনাটি ঘটে। সেখানে ১৬ বছর বয়সী লাইফগার্ড রাইডার উইলিয়ামসকে সম্মান জানাতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সাগরের প্রবল স্রোত থেকে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে উদ্ধারের জন্য তাকে সম্মানিত করা হয়। সেই অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় উত্তর কোরিয়া প্রসঙ্গ সামনে আসে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন তিনি এবং কিম সেই উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন। তবে ঠিক কীভাবে যোগাযোগ হয়েছে, দুই নেতার মধ্যে সরাসরি কথা হয়েছে কি না কিংবা কিম জং উন কী বার্তা দিয়েছেন - এসব বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। রয়টার্সও জানিয়েছে, কিম তার উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন বলে প্রেসিডেন্ট দাবি করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি। আর এখান থেকেই আসে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি। CNN-এর হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা ক্রিস্টেন হোমস জানতে চান - যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর জন্য কিম জং উন কি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছিলেন? প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই তাকে থামিয়ে দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি সাংবাদিককে চুপ করতে বলেন এবং সেখানে উপস্থিত কিশোরের সামনে তাকে অসম্মানজনক আচরণ করার অভিযোগ করেন। এরপর ক্রিস্টেন হোমসকে উচ্চস্বরে কথা বলা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে ‘ফেক নিউজ’ বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে সাংবাদিকের মূল প্রশ্নটির সরাসরি উত্তর দেননি তিনি। আর ঠিক এই জায়গাতেই ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এসব মহড়াকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং উত্তর কোরিয়ার জন্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে উসকানিমূলক বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একই সঙ্গে কিম জং উনের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন। তার বক্তব্য, উত্তর কোরিয়ার নেতা তাকে সম্মান করেন এবং দুজনের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া রয়েছে। নতুন করে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ তৈরির আগ্রহও দেখাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্তের পেছনে কিম জং উনের কোনো অনুরোধ ছিল কি না - সেই প্রশ্নটির উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। দক্ষিণ কোরিয়া অবশ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পর নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা দেখছে। সিউল আশা করছে, দুই নেতার সম্পর্ক কোরীয় উপদ্বীপে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সংলাপ আবার শুরু করতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক সম্পর্কও আগের তুলনায় অনেক গভীর হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যৌথ সামরিক মহড়া কমালে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধ প্রস্তুতি এবং প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হতে পারে বলে সতর্ক করছেন সমালোচকেরা। মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংও বলেছেন, তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ মহড়াগুলো প্রতিরক্ষামূলক - উত্তর কোরিয়াকে আক্রমণ বা উসকানি দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়। এদিকে ওভাল অফিসের ঘটনার পর বিতর্ক আরও বাড়ে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়ায়। ক্রিস্টেন হোমসকে লক্ষ্য করে হোয়াইট হাউসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকেও ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়। CNN পাল্টা তাদের সাংবাদিকের পাশে দাঁড়িয়ে জানায়, হোমস প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করছিলেন এবং একজন সাংবাদিকের দায়িত্বই হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের কাছে জবাব চাওয়া।
ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যবসা পরিচালনার উচ্চ খরচ, ট্যাক্স ও নিয়ন্ত্রক জটিলতা নিয়ে হতাশ হয়ে নিজের কোম্পানির সদর দপ্তর টেক্সাসে সরিয়ে নিয়েছেন ডিজিটাল ব্র্যান্ডস গ্রুপের প্রধান নির্বাহী হিল ডেভিস। ক্যালিফোর্নিয়ায় দীর্ঘদিন ব্যবসা চালানোর পর তার ভাষ্য, সেখানে কোম্পানি পরিচালনা করা ক্রমেই ব্যয়বহুল ও কঠিন হয়ে উঠছিল। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোশাক ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড পরিচালনাকারী ডিজিটাল ব্র্যান্ডস গ্রুপের সদর দপ্তর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসের রাউন্ড রকে স্থানান্তর করা হয়েছে। অস্টিনের কাছের এই শহরে কোম্পানিটি প্রায় ৭০ হাজার বর্গফুটের একটি ওয়্যারহাউস ও অফিস স্পেস লিজ নিয়েছে। ডেভিসের দাবি, ক্যালিফোর্নিয়ার ভার্ননে কোম্পানিটি যে খরচে আগের জায়গাটি ব্যবহার করছিল, প্রায় একই খরচে টেক্সাসে অনেক বড় ও সুবিধাজনক জায়গা পাওয়া গেছে। নতুন স্থাপনায় অফিসের পাশাপাশি কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউশন কার্যক্রমও পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। শুধু জায়গার খরচ নয়, ব্যবসা পরিচালনার সামগ্রিক পরিবেশও সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানান ডেভিস। তার অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্যাক্স, বিভিন্ন রেগুলেশন, আইনি জটিলতা এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া ব্যবসার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। কর্মীদের দীর্ঘ সময় কমিউট করাও কোম্পানির জন্য আরেকটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে ডিজিটাল ব্র্যান্ডস গ্রুপ পুরোপুরি ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে যাচ্ছে না। লস অ্যাঞ্জেলেসে কোম্পানিটির কিছু কার্যক্রম থাকবে। একই সঙ্গে কর্মীদের মধ্যে যারা টেক্সাসে যেতে চান, তাদের স্থানান্তরের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ডেভিসের এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসে বিভিন্ন কোম্পানির সদর দপ্তর স্থানান্তর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আলোচনা চলছে। গত কয়েক বছরে টেসলা, ওরাকল ও শেভরনের মতো বড় কোম্পানিও তাদের সদর দপ্তর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসে সরিয়েছে। ২০২৬ সালের ফরচুন ৫০০ তালিকাতেও করপোরেট সদর দপ্তরের সংখ্যায় ক্যালিফোর্নিয়াকে ছাড়িয়ে গেছে টেক্সাস। তালিকা অনুযায়ী, টেক্সাসে ফরচুন ৫০০ কোম্পানির সদর দপ্তর রয়েছে ৫৭টি, ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৬টি। কয়েক বছর আগেও এই হিসাবে এগিয়ে ছিল ক্যালিফোর্নিয়া। টেক্সাসে ব্যক্তিগত স্টেট ইনকাম ট্যাক্স না থাকা এবং তুলনামূলক কম অপারেটিং খরচ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন কোম্পানিকে আকৃষ্ট করছে। তবে ক্যালিফোর্নিয়া এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, বিনোদন ও উদ্ভাবন খাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সিলিকন ভ্যালি ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো অঞ্চল বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে রয়ে গেছে। ডেভিসও মনে করেন না যে হঠাৎ করেই সব কোম্পানি ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে চলে যাবে। তার মতে, পরিবর্তনটি বরং ধীরে ধীরে ঘটছে। কিন্তু ব্যবসার খরচ ও পরিচালন পরিবেশে বড় পার্থক্য থাকলে আরও প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে বিকল্প রাজ্যের দিকে যেতে পারে।
নেপালে একটি মসজিদে হামলার সময় এক পা হারানো অবস্থাতেই হামলাকারীদের সামনে দাঁড়িয়ে আলোচনায় এসেছিলেন শেখ রহিমুল্লাহ। হাতে লাঠি নিয়ে মসজিদ রক্ষায় তার প্রতিরোধের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির গণ্ডি পেরিয়ে বহু মানুষের নজর কাড়ে। ঘটনাটি নেপালের রাউতাহাট এলাকায়। ধর্মীয় একটি আয়োজনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার একপর্যায়ে একদল লোক কাছের একটি মসজিদের দিকে এগিয়ে গেলে তাদের বাধা দিতে সামনে আসেন রহিমুল্লাহ। তার একটি পা না থাকলেও লাঠি ও ক্রাচের সাহায্যে তিনি সেখানে অবস্থান নেন। পরবর্তী সময়ে ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম কনহাবের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনেও রহিমুল্লাহর এই ঘটনার উল্লেখ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক পা না থাকা সত্ত্বেও মসজিদ রক্ষায় হামলাকারীদের সামনে দাঁড়ানোর ঘটনায় তিনি ব্যাপক প্রশংসা পান। তার এই সাহসিকতার স্বীকৃতি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তুরস্কের ভুসলাত অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশে নির্মিত একটি মসজিদের নামও তার নামে রেখেছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে উদ্বোধন করা মসজিদটির নাম দেওয়া হয় ‘নেপালি মসজিদ রক্ষাকারী শেখ রহিমুল্লাহ মসজিদ’। সংস্থাটি জানায়, তার সাহস ও আত্মত্যাগের স্মৃতি ধরে রাখতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে রহিমুল্লাহকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে, সৌদি আরবের দাতাদের সহায়তায় তিনি বাবা-মাসহ পবিত্র ওমরাহ পালনের সুযোগ পেয়েছেন। এসব পোস্টে আরও দাবি করা হচ্ছে, আগস্টের শুরুতে মক্কায় পৌঁছানোর পর স্থানীয়রা তাকে স্বাগত জানান এবং সৌদির একটি সংস্থা তার জন্য কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে ওমরাহ সফরের অর্থায়ন, মক্কায় পৌঁছানোর নির্দিষ্ট তারিখ এবং কৃত্রিম পা দেওয়ার উদ্যোগের বিষয়ে সৌদি সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীন নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে এসব তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। রহিমুল্লাহর মসজিদ রক্ষার ঘটনাটি অবশ্য এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশে আলোচিত হয়েছে। শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সংকটের মুহূর্তে সামনে দাঁড়ানোর সেই দৃশ্যই তাকে নেপালের বাইরে পরিচিত করে তুলেছে।
একটি রেস্তোরাঁয় খাবার শেষে ওয়েট্রেসকে সাধারণ ক্যাশ টিপ না দিয়ে লটারির সম্ভাব্য পুরস্কারের অর্ধেক দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন নিউইয়র্কের এক পুলিশ কর্মকর্তা। তখন হয়তো কেউই ভাবেননি, সেই কথার মূল্য একদিন দাঁড়াবে ৩০ লাখ ডলার। লটারিতে ৬ মিলিয়ন ডলার জেতার পর নিজের দেওয়া কথা রেখেছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা রবার্ট কানিংহাম। ওয়েট্রেস ফিলিস পেনজোকে দিয়েছিলেন ঠিক অর্ধেক, ৩ মিলিয়ন ডলার। ঘটনাটি ১৯৮৪ সালের মার্চের। নিউইয়র্কের ইয়ঙ্কার্সে স্যালস পিজারিয়ায় কাজ করতেন ফিলিস পেনজো। রেস্তোরাঁটির নিয়মিত গ্রাহক ছিলেন কাছের ডবস ফেরি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা রবার্ট কানিংহাম। তাদের পরিচয়ও ছিল দীর্ঘদিনের। সেদিন কানিংহাম একটি লটারির টিকিটের জন্য নম্বর বাছাই করছিলেন। কথার একপর্যায়ে তিনি পেনজোকে ছয়টি নম্বরের মধ্যে তিনটি বেছে নিতে বলেন। বাকি তিনটি বেছে নেন তিনি নিজে। দুজনের মধ্যে কথা হয়, টিকিটে পুরস্কার এলে অর্থ সমানভাবে ভাগ করে নেবেন। পেনজোর জন্য সেই ভাগই হবে তার টিপ। তাদের বেছে নেওয়া ছয়টি নম্বর ছিল ৭, ৯, ২১, ২৮, ২৯ ও ৪৩। সেই টিকিটই শেষ পর্যন্ত ৬ মিলিয়ন ডলারের জ্যাকপট জিতে নেয়। এরপরই আসে গল্পের সবচেয়ে আলোচিত অংশ। টিকিটটি ছিল কানিংহামের কাছে। দুজনের মধ্যে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে কোনো লিখিত চুক্তিও ছিল না। তারপরও তিনি আগের কথার ব্যতিক্রম করেননি। ৬ মিলিয়ন ডলারের অর্ধেক, অর্থাৎ ৩ মিলিয়ন ডলার পেনজোকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ঘটনার সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনে কানিংহাম বলেছিলেন, পেনজো জানতেন তার কথার মূল্য আছে। অন্যদিকে রাতারাতি মিলিয়নিয়ার হয়ে যাওয়া পেনজো কানিংহামের সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত উদার বলে বর্ণনা করেছিলেন। আরও অবাক করার বিষয় হলো, বিপুল অর্থ পাওয়ার পরও পেনজো তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি ছেড়ে দেননি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই রেস্তোরাঁয় কাজ করছিলেন এবং পরিচিত গ্রাহকদের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। এক দশক পর এই বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৯৪ সালে নির্মিত হয় হলিউড সিনেমা ‘ইট কুড হ্যাপেন টু ইউ’। নিকোলাস কেজ ও ব্রিজেট ফন্ডা অভিনীত সিনেমাটির মূল ধারণা কানিংহাম ও পেনজোর ঘটনা থেকে নেওয়া হলেও পর্দার অধিকাংশ কাহিনি ছিল কাল্পনিক। বাস্তবে তাদের মধ্যে কোনো প্রেমের সম্পর্কের গল্প ছিল না। লটারি জয়ের সময় কানিংহাম ও পেনজো দুজনেই নিজ নিজ দাম্পত্য জীবনে ছিলেন। তাদের বাস্তব গল্পের কেন্দ্রবিন্দু ছিল একটি মৌখিক প্রতিশ্রুতি এবং সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা। চার দশকেরও বেশি সময় পর ঘটনাটি এখনও আলোচনায় আসে মূলত একটি কারণে। সাধারণ একটি রেস্তোরাঁর টিপের জায়গায় করা কথার চুক্তি শেষ পর্যন্ত ওয়েট্রেসের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিতে পরিণত হয়েছিল। আর চাইলে সহজেই অস্বীকার করতে পারতেন এমন একটি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে কানিংহাম ভাগ করে দিয়েছিলেন ৬ মিলিয়ন ডলারের জ্যাকপট।
ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠকে নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক ‘জেনারেল’ পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সোমবার ১৭ আগস্ট কাঠমান্ডুর শীতল নিবাসে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল তাকে এই সম্মাননা দেন। ভারত ও নেপালের সেনাপ্রধানকে পরস্পরের সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা দেওয়ার দীর্ঘদিনের সামরিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই এই সম্মান পেলেন শেঠ। নেপালের সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেলের আমন্ত্রণে সরকারি সফরে দেশটিতে গেছেন জেনারেল শেঠ। সফরকালে দুই সেনাপ্রধানের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। সেখানে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। ভারত ও নেপালের সেনাপ্রধানদের এই পারস্পরিক সম্মান দেওয়ার রীতি শুরু হয় ১৯৫০ সালে। এরপর থেকে দুই দেশের নতুন সেনাপ্রধানরা দায়িত্ব নেওয়ার পর একে অপরের সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা পেয়ে আসছেন। প্রতিবেশী দুই দেশের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্কের একটি প্রতীকী অংশ হিসেবে এই প্রথা বহাল রয়েছে। নেপালের প্রেসিডেন্টের সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শীতল নিবাসের অনুষ্ঠানে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট রাম সাহায় প্রসাদ যাদব, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল, নেপালে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব এবং নেপাল সেনাবাহিনী ও সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জেনারেল শেঠ নেপালে পৌঁছানোর পর দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে স্বাগত জানানো হয়। সেনা সদর দপ্তরে তিনি গার্ড অব অনার গ্রহণ ও পরিদর্শন করেন। সেখানে একটি গাছের চারাও রোপণ করেন তিনি। সফরের অংশ হিসেবে নেপাল সেনাবাহিনীর কাছে সামরিক ও চিকিৎসা সরঞ্জাম হস্তান্তর করেন ভারতের সেনাপ্রধান। নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জেনারেল শেঠের এই সফর দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করবে বলে তারা আশা করছে। জেনারেল শেঠ কাঠমান্ডুতে ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তবের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। সেখানে ভারত ও নেপালের সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেনারেল ধীরাজ শেঠ চলতি বছরের ৩০ জুন ভারতের ৩১তম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। প্রায় চার দশকের সামরিক ক্যারিয়ারে তিনি ভারতের সাউথ ওয়েস্টার্ন কমান্ড ও সাউদার্ন কমান্ডের নেতৃত্ব দেওয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক দায়িত্ব পালন করেছেন। সেনাপ্রধান হওয়ার আগে তিনি ভারতের ভাইস চিফ অব দ্য আর্মি স্টাফ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে আর্মার্ড কোরে কমিশন পাওয়া শেঠ জম্মু ও কাশ্মীরে কাউন্টার ইনসার্জেন্সি ফোর্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ও ফরমেশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ভারতের সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নেপাল সফরে গিয়ে তিনি দেশটির সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক সর্বোচ্চ পদমর্যাদা পেলেন। নেপাল ও ভারতের সামরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সম্মানসূচক পদমর্যাদা মূলত প্রতীকী। এর মাধ্যমে একজন দেশের সেনাপ্রধান অন্য দেশের সেনাবাহিনীতে কার্যকর কমান্ড বা পরিচালনার ক্ষমতা পান না। বরং দুই প্রতিবেশী দেশের সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, পারস্পরিক আস্থা ও সামরিক সহযোগিতার প্রতীক হিসেবেই এই সম্মান দেওয়া হয়ে থাকে।