‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান-আফগানিস্তান আবার ভারতের অংশ হবে, ধৈর্য ধরুন’: রামদেব
বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান একদিন আবার ভারতের সঙ্গে যুক্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের আলোচিত যোগগুরু রামদেব। এমন পরিস্থিতি দেখতে ভারতীয়দের ‘আরও কিছুটা ধৈর্য’ ধরার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। ভারতের ছত্তিশগড়ের রায়পুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন রামদেব।
সোমবার রায়পুরের স্বামী বিবেকানন্দ বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান প্রসঙ্গ উঠে আসে। এ সময় পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর ‘নির্যাতন ও অবিচার’ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রামদেব।
রামদেবের ভাষ্য, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুদের সঙ্গে যে ধরনের ‘অত্যাচার ও অবিচার’ হয়েছে, তা মানবসভ্যতার সবচেয়ে বড় নিষ্ঠুরতার ঘটনাগুলোর মধ্যে পড়ে। তবে নিজের এই দাবির পক্ষে ওই সময় নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা বা পরিসংখ্যান তুলে ধরেননি তিনি।
এরপরই তিনটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করেন রামদেব।
তিনি বলেন, “এমন দিনও আসবে, যখন পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান আবার ভারতের সঙ্গে একীভূত হবে। শুধু একটু ধৈর্য ধরুন।”
রামদেবের এই বক্তব্য তার নিজস্ব রাজনৈতিক ও আদর্শিক অভিমত। বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তানকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার কোনো স্বীকৃত সরকারি পরিকল্পনা বা প্রক্রিয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেননি। ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক নীতিগত ঘোষণা হিসেবেও তার বক্তব্যকে দেখার সুযোগ নেই।
রামদেবের মন্তব্যটি এসেছে এমন সময়ে, যখন দক্ষিণ এশিয়ায় জাতীয় পরিচয়, সীমান্ত, ধর্ম ও আঞ্চলিক রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য প্রায়ই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করছে। ফলে বাংলাদেশের মতো একটি স্বাধীন রাষ্ট্রকে ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে একীভূত হওয়ার কথা বলা স্বাভাবিকভাবেই একটি স্পর্শকাতর বক্তব্য।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ধর্মান্তর নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন রামদেব। ছত্তিশগড়ে ধর্মান্তর ঠেকাতে আনা নতুন আইনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতে হিন্দু, মুসলিম কিংবা খ্রিষ্টান - কোনো ধর্মই হুমকির মুখে নেই। তার দাবি, বরং হুমকির মুখে রয়েছে ভারতের সম্মান ও মর্যাদা।
ছত্তিশগড়ের বিধানসভা চলতি বছরের মার্চে ধর্মান্তরবিরোধী একটি কঠোর বিল পাস করে। এতে বলপ্রয়োগ, প্রলোভন, প্রতারণা, ভুল তথ্য বা অন্যান্য বেআইনি উপায়ে ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। ‘গণধর্মান্তরের’ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ব্যবস্থাও রয়েছে। বিরোধী কংগ্রেস বিলটি আরও পর্যালোচনার জন্য সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি জানিয়েছিল এবং ভোটের সময় ওয়াকআউট করে।
সনাতন ধর্ম প্রসঙ্গেও রামদেব বেশ কিছু মন্তব্য করেন। তার দাবি, সনাতন ধর্মে এমন কোনো ঘাটতি নেই যার কারণে কাউকে ইসলাম বা খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করতে হবে। অতীতে বলপ্রয়োগ, প্রলোভনসহ বিভিন্ন উপায়ে হিন্দুদের ধর্মান্তর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব বক্তব্য রামদেবের নিজস্ব দাবি; প্রতিবেদনে সেগুলোর পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন রামদেব। তার মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যেক নাগরিকের কথা বলা এবং প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। তবে সেই স্বাধীনতার ব্যবহার গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সীমার মধ্যে থাকা উচিত। দেশের ক্ষতি হয় এমনভাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ব্যবহার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ ভারত নিয়ে নিজের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথাও জানান এই যোগগুরু।
রামদেব বলেন, তিনি ভারতকে বিশ্বের সেরা গণতন্ত্র এবং ভারতীয়দের বিশ্বের সেরা নাগরিক হিসেবে দেখতে চান। ভারতের অর্থনীতিকে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিতে পরিণত করার পাশাপাশি রুপির মূল্য একদিন মার্কিন ডলার ও ব্রিটিশ পাউন্ডের সমপর্যায়ে পৌঁছাবে বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি।
এমনকি ভারতীয় পাসপোর্ট এত শক্তিশালী হওয়া উচিত, যাতে ভারতীয় নাগরিকদের বিশ্বের কোনো দেশে যেতে ভিসার প্রয়োজন না হয় বলেও মন্তব্য করেন রামদেব। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়াসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশে ভারত যেন সমান মর্যাদা ও সম্মান পায়, সেটিও তার প্রত্যাশা।
তবে তার বক্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান নিয়ে করা মন্তব্যটি।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ভাগের মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। বর্তমান বাংলাদেশ তখন পাকিস্তানের অংশ ছিল এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে আফগানিস্তান ব্রিটিশ ভারতের অংশ হিসেবে ১৯৪৭ সালে আলাদা হয়ে যাওয়া কোনো রাষ্ট্র নয়; এর স্বাধীন রাষ্ট্রীয় ইতিহাস আরও পুরোনো। ফলে তিন দেশকে একই ঐতিহাসিক কাঠামোয় ‘আবার ভারতের অংশ’ হওয়ার দাবি ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিকভাবে সরলীকৃত।
এ কারণে রামদেবের বক্তব্যকে কোনো আসন্ন সীমান্ত পরিবর্তন বা ভারত সরকারের ঘোষিত নীতি হিসেবে নয়, বরং তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক-আদর্শিক বক্তব্য হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।
তবে দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি স্বাধীন রাষ্ট্রকে নিয়ে এমন মন্তব্য করায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও অন্য দুই দেশের সরকারের পক্ষ থেকে রামদেবের সর্বশেষ এই বক্তব্য নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreনতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন। স্কুলে ঢুকতেই শিক্ষকদের সামনে অদ্ভুত এক দৃশ্য - একজনের দিকে তাকালে ঠিক একই চেহারার আরেকজন! একজন-দুজন নয়, একই এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এবার একসঙ্গে স্কুলজীবন শুরু করছে ৯ জোড়া যমজ শিশু। স্কটল্যান্ডের ইনভারক্লাইডে এমন ঘটনাই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট ইনভারক্লাইডের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাইমারি ওয়ানে যাত্রা শুরু করার কথা এই ১৮ শিশুর। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে ১৪ আগস্ট গ্রিনকের আরডগোয়ান প্রাইমারি স্কুলে তাদের একত্রিত করা হয়। ইনভারক্লাইড কাউন্সিলের আয়োজনে সেখানে নতুন ইউনিফর্ম পরে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ায় যমজ শিশুরা। তবে ইনভারক্লাইডে এত যমজ শিশুর স্কুলে যাওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। যমজের সংখ্যার কারণে এলাকাটি বহুদিন ধরেই মজার ছলে ‘টুইনভারক্লাইড’ নামে পরিচিত। ২০১৩ সাল থেকে এখানকার স্কুলগুলোতে মোট ১৭৬ জোড়া যমজ ভর্তি হয়েছে - অর্থাৎ গড়ে প্রতি বছর প্রায় ১২ জোড়া। এবারের ৯ জোড়া যমজও একই একটি স্কুলে ভর্তি হচ্ছে না। ইনভারক্লাইডের ছয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভাগ হয়ে তারা স্কুলজীবন শুরু করবে। এর মধ্যে আরডগোয়ান প্রাইমারি, সেন্ট মাইকেলস প্রাইমারি এবং গুরক প্রাইমারিতে দুই জোড়া করে যমজ ভর্তি হচ্ছে। বাকি তিন জোড়া যাবে লেডি অ্যালিস, সেন্ট জোসেফস এবং সেন্ট জনস প্রাইমারি স্কুলে। ফলে তিনটি স্কুলের শিক্ষকদের জন্য প্রথম দিনটা একটু বেশিই মজার হতে পারে - একই ক্লাস বা স্কুলে একসঙ্গে দুই জোড়া যমজকে চিনে রাখতে হবে তাদের। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি এখন আর বিস্ময়ের নয়। বরং নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে যমজ শিশুদের একত্র করে ছবি তোলা গত ১৩ বছরে ইনভারক্লাইডের একটি বার্ষিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। ইনভারক্লাইড কাউন্সিলের শিক্ষা ও কমিউনিটিবিষয়ক কনভেনার কাউন্সিলর জিম ক্লোকার্টি বলেছেন, নতুন শিক্ষাবর্ষ ঘনিয়ে আসার অন্যতম পরিচিত সংকেত হয়ে উঠেছে স্কুলে ভর্তি হতে যাওয়া যমজ শিশুদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো। তার ভাষায়, এই আয়োজন শিশুদের স্কুলে যাওয়ার উত্তেজনা বাড়ানোর পাশাপাশি অভিভাবকদের জন্যও প্রথম দিনের আগে এক ধরনের প্রস্তুতি। এবার ৯ জোড়া যমজ নিয়ে আলোচনা হলেও ইনভারক্লাইডের রেকর্ড আরও চমকপ্রদ। ২০১৫ সালে এক শিক্ষাবর্ষেই এখানকার স্কুলে প্রাইমারি ওয়ানে ভর্তি হয়েছিল রেকর্ড ১৯ জোড়া যমজ। ২০২৩ সালেও সংখ্যাটি ছিল ১৭ জোড়া - যা ছিল ওই সময় পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য ইনভারক্লাইডে যমজ শিশুর হার তুলনামূলক বেশি হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করেনি। ফলে ‘টুইনভারক্লাইড’ নামটি কোনো আনুষ্ঠানিক ভৌগোলিক নাম নয় - দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক যমজ শিশুর স্কুলে ভর্তি হওয়ার কারণেই এলাকাটি এই মজার ডাকনাম পেয়েছে। নতুন ইউনিফর্ম, নতুন ক্লাস আর নতুন বন্ধুদের সঙ্গে মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে ১৮ শিশুর নতুন অধ্যায়। তবে অন্য শিক্ষার্থীদের তুলনায় তাদের প্রথম দিনটির একটি বাড়তি আকর্ষণ থাকছেই - পাশে থাকবে দেখতে প্রায় একই রকম নিজের ভাই অথবা বোন। আর শিক্ষকদের জন্য চ্যালেঞ্জটা সম্ভবত অন্য জায়গায় - নতুন শিক্ষার্থীদের নাম মনে রাখার পাশাপাশি এবার ঠিকঠাক চিনে রাখতে হবে ৯ জোড়া যমজকেও।
৬২০ ড্রোনে মস্কোয় ইউক্রেনের বিশাল হামলা, ব্রিটেনকে ‘পরিণতি ভোগের’ হুঁশিয়ারি রাশিয়ার
‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান-আফগানিস্তান আবার ভারতের অংশ হবে, ধৈর্য ধরুন’: রামদেব
মসজিদ রক্ষায় এক পায়ে লড়েছিলেন, সেই নেপালিকে সৌদির উপহার
ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠকে নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক ‘জেনারেল’ পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সোমবার ১৭ আগস্ট কাঠমান্ডুর শীতল নিবাসে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল তাকে এই সম্মাননা দেন। ভারত ও নেপালের সেনাপ্রধানকে পরস্পরের সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা দেওয়ার দীর্ঘদিনের সামরিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই এই সম্মান পেলেন শেঠ। নেপালের সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেলের আমন্ত্রণে সরকারি সফরে দেশটিতে গেছেন জেনারেল শেঠ। সফরকালে দুই সেনাপ্রধানের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। সেখানে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। ভারত ও নেপালের সেনাপ্রধানদের এই পারস্পরিক সম্মান দেওয়ার রীতি শুরু হয় ১৯৫০ সালে। এরপর থেকে দুই দেশের নতুন সেনাপ্রধানরা দায়িত্ব নেওয়ার পর একে অপরের সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা পেয়ে আসছেন। প্রতিবেশী দুই দেশের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্কের একটি প্রতীকী অংশ হিসেবে এই প্রথা বহাল রয়েছে। নেপালের প্রেসিডেন্টের সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শীতল নিবাসের অনুষ্ঠানে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট রাম সাহায় প্রসাদ যাদব, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল, নেপালে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব এবং নেপাল সেনাবাহিনী ও সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জেনারেল শেঠ নেপালে পৌঁছানোর পর দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে স্বাগত জানানো হয়। সেনা সদর দপ্তরে তিনি গার্ড অব অনার গ্রহণ ও পরিদর্শন করেন। সেখানে একটি গাছের চারাও রোপণ করেন তিনি। সফরের অংশ হিসেবে নেপাল সেনাবাহিনীর কাছে সামরিক ও চিকিৎসা সরঞ্জাম হস্তান্তর করেন ভারতের সেনাপ্রধান। নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জেনারেল শেঠের এই সফর দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করবে বলে তারা আশা করছে। জেনারেল শেঠ কাঠমান্ডুতে ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তবের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। সেখানে ভারত ও নেপালের সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেনারেল ধীরাজ শেঠ চলতি বছরের ৩০ জুন ভারতের ৩১তম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। প্রায় চার দশকের সামরিক ক্যারিয়ারে তিনি ভারতের সাউথ ওয়েস্টার্ন কমান্ড ও সাউদার্ন কমান্ডের নেতৃত্ব দেওয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক দায়িত্ব পালন করেছেন। সেনাপ্রধান হওয়ার আগে তিনি ভারতের ভাইস চিফ অব দ্য আর্মি স্টাফ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে আর্মার্ড কোরে কমিশন পাওয়া শেঠ জম্মু ও কাশ্মীরে কাউন্টার ইনসার্জেন্সি ফোর্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ও ফরমেশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ভারতের সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নেপাল সফরে গিয়ে তিনি দেশটির সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক সর্বোচ্চ পদমর্যাদা পেলেন। নেপাল ও ভারতের সামরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সম্মানসূচক পদমর্যাদা মূলত প্রতীকী। এর মাধ্যমে একজন দেশের সেনাপ্রধান অন্য দেশের সেনাবাহিনীতে কার্যকর কমান্ড বা পরিচালনার ক্ষমতা পান না। বরং দুই প্রতিবেশী দেশের সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, পারস্পরিক আস্থা ও সামরিক সহযোগিতার প্রতীক হিসেবেই এই সম্মান দেওয়া হয়ে থাকে।
স্পেনের সেউতায় আশ্রয়ের দাবিতে শত শত অভিবাসীর বিক্ষোভ, মানবিক সংকট আরও গভীর
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৬৮, ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি দুই ডলারের বেশি বেড়েছে।
ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনার পর সংস্থাটির পাইলটদের নিয়ে শুরু হওয়া মাদক পরীক্ষায় আরও দুই পাইলটের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ এসেছে। চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দুই পাইলটের নমুনা এখন নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় ‘নন-নেগেটিভ’ ফল পাওয়ার অর্থ চূড়ান্তভাবে মাদক গ্রহণ প্রমাণিত হওয়া নয়। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এয়ার ইন্ডিয়া সম্প্রতি নিজেদের পাইলটদের জন্য এককালীন বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষা শুরু করেছে। এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের প্রায় পাঁচ হাজার পাইলটকে এই পরীক্ষার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন কর্মসূচির অধীনে ইতোমধ্যে তিন শতাধিক পাইলটের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এই ব্যাপক পরীক্ষার সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই২৩৭৯-এর গুরুতর ঘটনা। এয়ারবাস এ৩২০নিও উড়োজাহাজটি মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ২৪ জন আহত হন। পরে উড়োজাহাজটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে। ঘটনার পর ফ্লাইটটির পাইলটদের মাদক পরীক্ষা করা হয়। ফ্লাইটের ক্যাপ্টেনের প্রাথমিক পরীক্ষায় সন্দেহজনক ফল আসার পর নমুনা নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরবর্তী পরীক্ষায় তার শরীরে গাঁজার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে একাধিক ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তির শরীরে গাঁজার উপাদান শনাক্ত হওয়া এবং ফ্লাইট পরিচালনার সময় তিনি মাদকের প্রভাবে ছিলেন, এই দুটি বিষয় এক নয়। তদন্তকারীরা এখন মাদক পরীক্ষার ফলের পাশাপাশি পাইলটদের আচরণ, ফ্লাইট ডেটা, উড়োজাহাজের কারিগরি অবস্থা এবং ঘটনার সময় ককপিটে কী ঘটেছিল, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছেন। ঘটনাটিতে কারিগরি ত্রুটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সামনে এসেছে। এয়ারবাসের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উড়োজাহাজটির তিনটি স্বতন্ত্র হাইড্রোলিক ব্যবস্থাতেই সাময়িকভাবে চাপ কমে যায়। এর ফলে প্রায় চার সেকেন্ডের জন্য এলিভেটর ও আইলারনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট কন্ট্রোল স্বাভাবিকভাবে সাড়া দেয়নি। হাইড্রোলিক চাপ ফিরে আসার পর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আবার কার্যকর হয়। এই তথ্যের কারণে ঘটনাটিকে শুধু পাইলটের মাদক পরীক্ষার ফলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে না। উড়োজাহাজের হাইড্রোলিক ব্যবস্থা কেন একই সময়ে সমস্যায় পড়েছিল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো ঘটনাটিকে ‘গুরুতর ঘটনা’ হিসেবে তদন্ত করছে। এয়ারবাস এবং ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থার বিশেষজ্ঞরাও কারিগরি তদন্তে সহায়তা করছেন। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পাইলটদের মাদক পরীক্ষা নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রক্রিয়া ও বেসামরিক বিমান চলাচলের বিধি অনুসরণ করে করা হচ্ছে। নতুন পরীক্ষায় যাদের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ আসছে, নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট ডিউটি থেকে সরিয়ে রাখা হচ্ছে। ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটের ঘটনার পর এখন তদন্তের দুটি দিক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। একদিকে পাইলটের নিশ্চিত মাদক পরীক্ষার ফল ও ক্রুদের ফিটনেস, অন্যদিকে একই সময়ে উড়োজাহাজের তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় দেখা দেওয়া বিরল কারিগরি ত্রুটি। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হলেই ৩০০ ফুট আকস্মিক পতনের পেছনে ঠিক কোন কোন কারণ ভূমিকা রেখেছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
মেয়ের মা হওয়ার স্বপ্ন পূরণে, ৬১ বছর বয়সে নিজের গর্ভে নাতিকে ধারণ করলেন মা
একটি ফোনকলের পরই ডিপোর্টেশন ফ্লাইট থেকে ফিরিয়ে আনা হলো মার্কিন সেনার স্ত্রীকে