টিপের টাকা ছিল না, লটারির ভাগ দিয়ে ওয়েট্রেসকে বানালেন মিলিয়নিয়ার
একটি রেস্তোরাঁয় খাবার শেষে ওয়েট্রেসকে সাধারণ ক্যাশ টিপ না দিয়ে লটারির সম্ভাব্য পুরস্কারের অর্ধেক দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন নিউইয়র্কের এক পুলিশ কর্মকর্তা। তখন হয়তো কেউই ভাবেননি, সেই কথার মূল্য একদিন দাঁড়াবে ৩০ লাখ ডলার। লটারিতে ৬ মিলিয়ন ডলার জেতার পর নিজের দেওয়া কথা রেখেছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা রবার্ট কানিংহাম। ওয়েট্রেস ফিলিস পেনজোকে দিয়েছিলেন ঠিক অর্ধেক, ৩ মিলিয়ন ডলার।
ঘটনাটি ১৯৮৪ সালের মার্চের। নিউইয়র্কের ইয়ঙ্কার্সে স্যালস পিজারিয়ায় কাজ করতেন ফিলিস পেনজো। রেস্তোরাঁটির নিয়মিত গ্রাহক ছিলেন কাছের ডবস ফেরি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা রবার্ট কানিংহাম। তাদের পরিচয়ও ছিল দীর্ঘদিনের।
সেদিন কানিংহাম একটি লটারির টিকিটের জন্য নম্বর বাছাই করছিলেন। কথার একপর্যায়ে তিনি পেনজোকে ছয়টি নম্বরের মধ্যে তিনটি বেছে নিতে বলেন। বাকি তিনটি বেছে নেন তিনি নিজে। দুজনের মধ্যে কথা হয়, টিকিটে পুরস্কার এলে অর্থ সমানভাবে ভাগ করে নেবেন। পেনজোর জন্য সেই ভাগই হবে তার টিপ।
তাদের বেছে নেওয়া ছয়টি নম্বর ছিল ৭, ৯, ২১, ২৮, ২৯ ও ৪৩। সেই টিকিটই শেষ পর্যন্ত ৬ মিলিয়ন ডলারের জ্যাকপট জিতে নেয়।
এরপরই আসে গল্পের সবচেয়ে আলোচিত অংশ। টিকিটটি ছিল কানিংহামের কাছে। দুজনের মধ্যে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে কোনো লিখিত চুক্তিও ছিল না। তারপরও তিনি আগের কথার ব্যতিক্রম করেননি। ৬ মিলিয়ন ডলারের অর্ধেক, অর্থাৎ ৩ মিলিয়ন ডলার পেনজোকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ঘটনার সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনে কানিংহাম বলেছিলেন, পেনজো জানতেন তার কথার মূল্য আছে। অন্যদিকে রাতারাতি মিলিয়নিয়ার হয়ে যাওয়া পেনজো কানিংহামের সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত উদার বলে বর্ণনা করেছিলেন।
আরও অবাক করার বিষয় হলো, বিপুল অর্থ পাওয়ার পরও পেনজো তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি ছেড়ে দেননি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই রেস্তোরাঁয় কাজ করছিলেন এবং পরিচিত গ্রাহকদের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।
এক দশক পর এই বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৯৪ সালে নির্মিত হয় হলিউড সিনেমা ‘ইট কুড হ্যাপেন টু ইউ’। নিকোলাস কেজ ও ব্রিজেট ফন্ডা অভিনীত সিনেমাটির মূল ধারণা কানিংহাম ও পেনজোর ঘটনা থেকে নেওয়া হলেও পর্দার অধিকাংশ কাহিনি ছিল কাল্পনিক।
বাস্তবে তাদের মধ্যে কোনো প্রেমের সম্পর্কের গল্প ছিল না। লটারি জয়ের সময় কানিংহাম ও পেনজো দুজনেই নিজ নিজ দাম্পত্য জীবনে ছিলেন। তাদের বাস্তব গল্পের কেন্দ্রবিন্দু ছিল একটি মৌখিক প্রতিশ্রুতি এবং সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা।
চার দশকেরও বেশি সময় পর ঘটনাটি এখনও আলোচনায় আসে মূলত একটি কারণে। সাধারণ একটি রেস্তোরাঁর টিপের জায়গায় করা কথার চুক্তি শেষ পর্যন্ত ওয়েট্রেসের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিতে পরিণত হয়েছিল। আর চাইলে সহজেই অস্বীকার করতে পারতেন এমন একটি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে কানিংহাম ভাগ করে দিয়েছিলেন ৬ মিলিয়ন ডলারের জ্যাকপট।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার পর তার মরদেহ গাড়ির যাত্রীর আসনে বসিয়ে একাধিক অঙ্গরাজ্য পেরিয়ে পাঁচ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানোর অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত টেনেসির মেমফিসে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের কারণে পুলিশ তাকে থামালে গাড়ির ভেতর থেকে তার স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্ত ৫০ বছর বয়সী টাইরন ব্রাজিল বর্তমানে হেফাজতে রয়েছেন। নিহত নারীর নাম লানেসা ব্র্যাডফোর্ড। তার বয়সও ৫০ বছর। পুলিশ বলছে, লুইজিয়ানার ব্যাটন রুজের ইন্ডিপেনডেন্স কমিউনিটি পার্কে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার একপর্যায়ে ব্রাজিল তাকে গুলি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর মরদেহ গাড়িতে রেখেই তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিল লুইজিয়ানা থেকে গাড়ি চালিয়ে মিসিসিপি হয়ে টেনেসির দিকে যান। প্রায় ৪০০ মাইল পথ পাড়ি দেওয়ার পর মেমফিসের ডাউনটাউনে তাকে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের অভিযোগে থামায় পুলিশ। গাড়ি পরীক্ষা করতে গিয়ে যাত্রীর আসনে ব্র্যাডফোর্ডকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার শরীরে গুলির আঘাত ছিল। এরপর ব্রাজিলকে ফিউজিটিভ হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। লুইজিয়ানায় তার বিরুদ্ধে সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ আনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাকে টেনেসি থেকে লুইজিয়ানায় ফেরত নেওয়ার জন্য এক্সট্রাডিশন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। ঘটনার আগে দম্পতির সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না বলে জানিয়েছেন ব্র্যাডফোর্ডের দীর্ঘদিনের বন্ধু শেলিকা ডেকার। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ব্র্যাডফোর্ড স্বামীকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং এজন্য আলাদা করে অর্থও জমিয়েছিলেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নতুন করে জীবন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। বন্ধুর দাবি, ব্র্যাডফোর্ড পরিকল্পনা করেছিলেন নিজের গাড়ি ও অন্য কিছু জিনিসপত্র ফেলে চুপচাপ এলাকা ছেড়ে চলে যাবেন, যাতে স্বামী সহজে তার অবস্থান জানতে না পারেন। তবে তার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের। ব্র্যাডফোর্ড ব্যাটন রুজের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। কয়েকদিন কাজে না যাওয়ায় তার সহকর্মীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পুলিশকে ওয়েলফেয়ার চেক করতে বলেন। এর মধ্যেই টেনেসিতে তার মরদেহ উদ্ধার হওয়ার খবর আসে। পরিবারের পরিচিতজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রাজিল ও ব্র্যাডফোর্ড বহু বছর ধরে বিবাহিত ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং ব্র্যাডফোর্ড আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে ঘটনার পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে গুলি চালানো হয়েছিল, তা এখনো তদন্তাধীন। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। মামলার পরবর্তী ধাপে তাকে লুইজিয়ানায় ফিরিয়ে নিয়ে হত্যার অভিযোগে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
কিম জং উনকে নিয়ে প্রশ্ন করতেই সিএনএন সাংবাদিককে ‘ফেক নিউজ’ বললেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
ক্যালিফোর্নিয়ার খরচে অতিষ্ঠ সিইও, কোম্পানির সদর দপ্তর সরালেন টেক্সাসে
টিপের টাকা ছিল না, লটারির ভাগ দিয়ে ওয়েট্রেসকে বানালেন মিলিয়নিয়ার
মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান এবং জাহাজের জীবনযাত্রার দুরবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন নিয়ে থাকা রণতরীটি মাসের পর মাস বন্দরে না ফিরেই মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালন করছে। এ সময়ে খাবার ও পানির সংকট, পরিচ্ছন্নতা, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তাদের পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বর্তমানে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রয়েছে। চলতি মোতায়েনটি ইতোমধ্যে ২৫০ দিনের বেশি ছাড়িয়েছে, যা রণতরীটির জন্য আধুনিক সময়ের অন্যতম দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় পরিণত হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, এটি প্রায় ৩৮ সপ্তাহের সমান সময়। সাধারণত মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোকে ৩০ থেকে ৪৫ দিন পরপর কোনো বন্দরে নেওয়া হয়। এতে নাবিকেরা বিশ্রামের সুযোগ পান, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও খাবার সংগ্রহ করা যায় এবং জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণও করা সম্ভব হয়। কিন্তু আব্রাহাম লিংকনের বর্তমান মোতায়েনে এমন নিয়মিত বন্দর বিরতি খুবই সীমিত ছিল। জাহাজের নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে নাবিকদের মধ্যে ক্লান্তি ও মানসিক চাপ বাড়ছে। খাবার ও পানির সরবরাহ নিয়েও সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। পাশাপাশি ডাকব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে নাবিকদের স্বাভাবিক বিশ্রামের সুযোগও কমে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রী নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন নাবিকের পরিবার জানিয়েছে, জাহাজে সাবান, টুথপেস্ট ও ডিওডোরেন্টের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি রয়েছে। কিছু গোসলখানা ও শৌচাগারের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি বিষয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। খাবারের মান নিয়েও উদ্বেগের কথা সামনে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত ও বৈচিত্র্যময় খাবার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন নাবিক। সরবরাহব্যবস্থার ওপর দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার চাপের কারণে তাজা খাবারের প্রাপ্যতাও সীমিত হয়ে পড়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে। একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান মোতায়েনের সময় কয়েকজন নাবিক জাহাজের বাইরে পড়ে যাওয়ার বা ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে তাদের পরিবার জানিয়েছে। ৩ আগস্ট একজন নাবিক পানিতে পড়ে যাওয়ার পর তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে নৌবাহিনী বর্তমান মোতায়েনে আত্মহত্যার চেষ্টা বা আত্মহানির ঘটনার নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। মার্কিন নৌবাহিনী অবশ্য জাহাজে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সহায়তা থাকার কথা জানিয়েছে। নাবিকদের জন্য পরামর্শদাতা, ধর্মীয় কর্মকর্তা, চিকিৎসক এবং অন্যান্য সহায়তা ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, নেতৃত্ব নাবিকদের মানসিক প্রস্তুতি ও সুস্থতার বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। এদিকে নাবিকদের পরিবারের অভিযোগ নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ ও নৌবাহিনীর বক্তব্যও এসেছে। কর্মকর্তারা জাহাজের পরিস্থিতিকে সংবাদমাধ্যমে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তার কিছু অংশকে অতিরঞ্জিত বা ভুলভাবে উপস্থাপিত বলে দাবি করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ১৪ আগস্ট আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘ মোতায়েন নিয়ে উদ্বেগকে খারিজ করে বলেন, রণতরীটির বর্তমান মিশন নিয়ে পরিবারগুলোর উদ্বেগ নেই। তবে নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা এসব বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন। তাদের অভিযোগ, যারা জাহাজে রয়েছেন তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। কয়েকটি পরিবার জানিয়েছে, দীর্ঘ মোতায়েনের কারণে তাদের স্বজনদের শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপে পড়তে হচ্ছে। দীর্ঘ মোতায়েনের প্রভাব শুধু নাবিকদের ওপরই নয়, জাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থার ওপরও পড়ছে। সমুদ্রে থাকা অবস্থায় পূর্ণাঙ্গ রক্ষণাবেক্ষণের সুযোগ সীমিত থাকে। পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি অবস্থান করায় নিয়মিত বন্দরে গিয়ে খাবার, যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের পরিবর্তে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হচ্ছে। নতুন রণতরীটি আব্রাহাম লিংকনের দায়িত্বের কিছু অংশ গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে থাকা আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের দেশে ফেরার বা বিশ্রামের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নতুন রণতরী পাঠানোর সিদ্ধান্তকে নৌবাহিনীর স্বাভাবিক ঘূর্ণায়মান মোতায়েনের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল। একই সময়ে দীর্ঘ সময় ধরে একটি বিমানবাহী রণতরীকে সক্রিয় রাখার কারণে মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ঘটনা তাই শুধু একটি রণতরীর দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার বিষয় নয়। এটি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক মোতায়েনে নাবিকদের বিশ্রাম, খাবার, সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কতটা চাপ পড়ে, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। পরিবারের অভিযোগ ও সরকারি বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় জাহাজটির প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে আরও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের দাবি উঠেছে।
২০০টির বেশি স্কলারশিপে আবেদন করে ৪০টি পেলেন তরুণী, পড়বেন আইভি লিগের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে
নিউ জার্সিতে পরিবারের সঙ্গে পিকনিকে গিয়ে লেকে ডুবে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির মৃত্যু
নিউইয়র্কে ৩৩.৫ মিলিয়ন ডলারে জমি কিনে সন্তানদের জন্য বাড়ি বানাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী নারী জুলিয়া কোচ
ডাকযোগে ভোট বা মেইল-ইন ব্যালট ব্যবস্থাকে ‘পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে বারবার সমালোচনা করলেও নিজেই আবার সেই পদ্ধতিতে ভোট দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্লোরিডায় রিপাবলিকান পার্টির প্রাইমারি নির্বাচনে তিনি ডাকযোগে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছে, পাম বিচ কাউন্টির ভোটিং রেকর্ড অনুযায়ী, ট্রাম্প গত জুলাইয়ের শেষের দিকে একটি মেইল ব্যালটের জন্য আবেদন করেছিলেন। এরপর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রাইমারি নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে, গত ১৩ আগস্ট তিনি সেটি পূরণ করে জমা দেন। এ নিয়ে চলতি বছর নিজের বর্তমান ঠিকানা ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ডাকযোগে ভোট দিলেন ট্রাম্প। এর আগে গত মার্চ মাসে ফ্লোরিডার একটি বিশেষ নির্বাচনেও ট্রাম্প ডাকযোগে ভোট দিয়েছিলেন, যদিও সেই সময় তিনি প্রকাশ্যে এই পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করছিলেন। সে সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার কারণেই ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) সে সময় জানিয়েছিল, যখন সশরীরে আগাম ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল, তখন ট্রাম্প পাম বিচেই অবস্থান করছিলেন। হোয়াইট হাউস অবশ্য তখন ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে হওয়া সমালোচনাকে 'ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছিল। ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী আচরণের কড়া সমালোচনা করেছেন তরুণ ভোটারদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন 'ভোটারস অব টুমরো'-এর নির্বাহী পরিচালক সান্তিয়াগো মেয়ার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইককে ইমেইলে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এটি সত্যিই একটি হাস্যকর ব্যাপার। ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো ভাবেন আমরা সবাই বোকা। প্রেসিডেন্ট দিনের পর দিন ডাকযোগে ভোট দেওয়ার বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন, আবার নিজেই সেই পদ্ধতিতে ভোট দেন। তিনি যদি ডাকযোগে ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে এত স্বাচ্ছন্দ্যে মিথ্যা বলতে পারেন, তবে ভেবে দেখুন তিনি আমাদের কাছে আরও কত বিষয় নিয়ে মিথ্যা বলছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে তিনি একজন চরম ভণ্ড এবং গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় হুমকি। এখন সময় এসেছে এমন একটি কংগ্রেস নির্বাচন করার, যারা এই দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনবে।” এ বিষয়ে নিউজউইকের পক্ষ থেকে সোমবার ইমেইলের মাধ্যমে হোয়াইট হাউসের মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি। গত জুলাই মাসেও ট্রাম্প ডাকযোগে ব্যালট ব্যবস্থাকে "পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত" বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। তিনি এই ব্যবস্থার ব্যবহার সীমিত করার পক্ষে মত দিয়ে বলেছিলেন, এটি কেবল অসুস্থতা, শারীরিক অক্ষমতা, সামরিক দায়িত্ব পালন বা ভ্রমণের মতো বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা উচিত। তবে ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল পাননি তথ্য যাচাইকারী বিশেষজ্ঞরা। ডাকযোগে ভোটে ব্যাপক জালিয়াতির কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ২০২৫ সালের ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি এক কোটি ডাকযোগে পড়া ভোটের মধ্যে বড়জোর চারটিতে জালিয়াতির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট ডাকযোগে দেওয়া হয়েছিল। এদিকে, কেন্দ্রীয় নির্বাচনে ভোটার নিবন্ধনের জন্য মার্কিন নাগরিকত্বের প্রামাণ্য দলিল বাধ্যতামূলক করতে 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' পাসের জন্য কংগ্রেসের ওপর চাপ প্রয়োগের নানা কৌশল অবলম্বন করছেন ট্রাম্প। এর অংশ হিসেবে তিনি প্রতিরক্ষা ব্যয় বিলের সঙ্গে এই ভোটিং বিলটি জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্টের মাধ্যমে বিলটিকে সর্বোচ্চ আইনি অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরে আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। ট্রাম্পের সমর্থকদের দাবি, এই প্রস্তাবটি নির্বাচনী স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি করবে। তবে বিরোধীদের মতে, এটি যোগ্য নাগরিকদের জন্য ভোট দেওয়াকে আরও কঠিন করে তুলবে। আর অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার যে সমস্যার কথা বলে এই বিল পাসের চেষ্টা করা হচ্ছে, বাস্তবে তার কোনো বড় ভিত্তি নেই। সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' নিয়ে এক পোস্টে ট্রাম্প ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি লেখেন, “চলতি মাসের শুরুতে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আমাদের প্রশাসনকে জিজ্ঞেস করেছিলেন বৈধ ছবিযুক্ত আইডি ছাড়া আপনারা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন করেন? ভারতের সর্বশেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটার অংশ নিয়েছিলেন! সেখানে ১ শতাংশেরও কম মানুষ ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন এবং প্রতিটি ভোটারের কাছে বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র ছিল। আমাদের এখনই সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট পাস করতে হবে!”
নিজের মেয়েকে যৌন নির্যাতনের দায়ে মেক্সিকান নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন সাবেক সেনাদের জন্য ২৯ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা, বিনা মূল্যে পাবেন খাবার, ফোন ও যাতায়াত সুবিধা