আমেরিকা

৫০ অঙ্গরাজ্যের মাত্র ৩টিতে ট্রাম্পের পক্ষে জনমত, জনপ্রিয়তায় বড় ধস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ৩:৯
৫০ অঙ্গরাজ্যের মাত্র ৩টিতে ট্রাম্পের পক্ষে জনমত
৫০ অঙ্গরাজ্যের মাত্র ৩টিতে ট্রাম্পের পক্ষে জনমত

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মানচিত্রে একসময় যেসব অঙ্গরাজ্যকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে দেখা হতো, সেখানেও দ্রুত বদলাচ্ছে জনমত। নতুন রাজ্যভিত্তিক জরিপ বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, দেশের ৫০ অঙ্গরাজ্যের মধ্যে মাত্র তিনটিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাজের প্রতি অনুমোদন অননুমোদনের চেয়ে বেশি। নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে এই চিত্র রিপাবলিকানদের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 

নিউজউইকের প্রকাশিত রাজ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি ইতিবাচক নেট অনুমোদন এখন মূলত তার সবচেয়ে শক্তিশালী রিপাবলিকান ঘাঁটিগুলোতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অর্থাৎ অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে তাকে সমর্থন করা মানুষের তুলনায় তার কাজের প্রতি অসন্তুষ্ট মানুষের সংখ্যা বেশি।

 

তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় রয়েছে। বিভিন্ন জরিপ প্রতিষ্ঠান রাজ্যভিত্তিক অনুমোদন হিসাব করতে আলাদা পদ্ধতি ও সময়সীমা ব্যবহার করে। ফলে কোন জরিপের কোন আপডেট বিবেচনা করা হচ্ছে, তার ওপর ইতিবাচক অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা তিন বা চার হতে পারে। সাম্প্রতিক ইকোনমিস্ট-ইউগভ মডেলে আইডাহো, নর্থ ডাকোটা, ওয়াইওমিং ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেট অনুমোদন ইতিবাচক দেখানো হয়েছে। তাই “মাত্র তিন রাজ্য” সংখ্যাটি সংশ্লিষ্ট নিউজউইক বিশ্লেষণের নির্দিষ্ট তথ্য হিসেবে দেখা উচিত, সব জরিপের অভিন্ন ফল হিসেবে নয়।

 

কিন্তু রাজ্যভিত্তিক হিসাবের এই পার্থক্যের চেয়েও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে জাতীয় জনমত।

 

১৭ আগস্ট প্রকাশিত রয়টার্স-ইপসসের সর্বশেষ জরিপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদন নেমে এসেছে মাত্র ৩৩ শতাংশে। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এটিই তার সর্বনিম্ন অনুমোদন। একই জরিপে ৬৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক তার কাজের প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন। 

 

এই পতন আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদন ছিল ৪৭ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় দেড় বছরে জাতীয় পর্যায়ে তার সমর্থনে বড় ধরনের ক্ষয় হয়েছে। 

 

কেন কমছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা?

 

এর পেছনে এখন সবচেয়ে বড় দুটি বিষয় সামনে আসছে - ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এবং আমেরিকানদের জীবনযাত্রার ব্যয়।

 

রয়টার্স-ইপসস জরিপে প্রায় ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই আশঙ্কা ৮৭ শতাংশ হলেও রিপাবলিকানদের মধ্যেও ৭১ শতাংশ একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 

আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্তটি মূল্য দেওয়ার মতো ছিল। এমনকি রিপাবলিকানদের মধ্যেও এই প্রশ্নে সমর্থন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। 

 

যুদ্ধের প্রভাব এখন শুধু পররাষ্ট্রনীতিতে সীমাবদ্ধ নেই। ইরান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে পড়ছে। ফলে হোয়াইট হাউসের জন্য ইরান যুদ্ধ ক্রমেই একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যায় পরিণত হচ্ছে।  এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিত্যপণ্যের দাম।

 

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর ২৬টি গুরুত্বপূর্ণ মুদি পণ্যের দাম গড়ে আরও ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। মূল্যবৃদ্ধির গতি বাইডেন প্রশাসনের সময়ের তুলনায় কম হলেও ভোটারদের প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম কমেনি। 

 

আর এখানেই রিপাবলিকানদের জন্য আরও একটি বড় সতর্কসংকেত দেখা যাচ্ছে।

 

আগস্টের শুরুতে প্রকাশিত আরেকটি রয়টার্স-ইপসস জরিপে প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবার অর্থনীতি পরিচালনায় রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্র্যাটদের সামান্য এগিয়ে রেখেছেন ভোটাররা। নিবন্ধিত ভোটারদের ৩৭ শতাংশ অর্থনীতি পরিচালনায় ডেমোক্র্যাটদের ওপর বেশি আস্থা জানিয়েছেন, রিপাবলিকানদের বেছে নিয়েছেন ৩৬ শতাংশ। 

 

একই জরিপের কংগ্রেসনাল ব্যালট পরীক্ষায় নিবন্ধিত ভোটারদের ৪২ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৩৭ শতাংশ রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পাঁচ পয়েন্টের এই ব্যবধান রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। 

 

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে আগামী নির্বাচনে সব অঙ্গরাজ্য ডেমোক্র্যাটদের দিকে চলে যাচ্ছে।

 

প্রেসিডেন্টের কাজের অনুমোদন এবং নির্বাচনে দলীয় ভোট দুটি আলাদা বিষয়। একজন রিপাবলিকান ভোটার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কোনো নীতিতে অসন্তুষ্ট হলেও কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীকেই ভোট দিতে পারেন। একইভাবে রাজ্যভিত্তিক অনুমোদনের জরিপ দিয়ে সরাসরি নির্বাচনের ফল অনুমান করা যায় না।

তারপরও বর্তমান প্রবণতাটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

 

বিশেষ করে পেনসিলভানিয়া, মিশিগান, উইসকনসিন, অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, নেভাদা ও নর্থ ক্যারোলিনার মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটি এখন বড় প্রশ্ন।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। অভিবাসন ইস্যুতে রিপাবলিকানরা এখনো ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় সামান্য এগিয়ে। তবে এখানেও ব্যবধান নাটকীয়ভাবে কমেছে। রয়টার্স-ইপসসের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অভিবাসন পরিচালনায় রিপাবলিকানদের সুবিধা যেখানে ছিল ২৬ পয়েন্ট, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ২ পয়েন্টে। 

 

সব মিলিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এখন একই সঙ্গে তিনটি রাজনৈতিক চাপ - ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ।

 

আর নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, হোয়াইট হাউসের জন্য প্রশ্নটি ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে - প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কি এই নিম্নমুখী জনমত ঘুরিয়ে দিতে পারবেন, নাকি তার জনপ্রিয়তার পতনের মূল্য দিতে হবে কংগ্রেসের রিপাবলিকান প্রার্থীদের?

 

কারণ মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের নাম ব্যালটে থাকবে না - কিন্তু তার জনপ্রিয়তা কিংবা অজনপ্রিয়তার প্রভাব ব্যালটের ফলাফলে পড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
বাবা-মাকে ডিপোর্ট করল আইস, ১৩ বছরের বোনের দায়িত্ব এখন ১৯ বছরের মার্কিন তরুণীর
বাবা-মাকে ডিপোর্ট করল আইস, ১৩ বছরের বোনের দায়িত্ব এখন ১৯ বছরের মার্কিন তরুণীর

যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া দুই বোনই মার্কিন নাগরিক। কিন্তু তাদের বাবা-মাকে আইস আটক করে হন্ডুরাসে ডিপোর্ট করার পর মুহূর্তেই বদলে গেছে তাদের জীবন। মাত্র ১৯ বছর বয়সী বড় বোনকে এখন নিজের জীবন সামলানোর পাশাপাশি ১৩ বছরের ছোট বোনের অভিভাবকের দায়িত্বও নিতে হচ্ছে। প্রায় এক বছর ধরে বাবা-মাকে ছাড়াই টেক্সাসে বসবাস করছে দুই বোন। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পরিবারটির এই কঠিন বাস্তবতা।   বাবা-মায়ের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের কারণে দুই বোনের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। কারণ তারা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। কিন্তু বাবা-মা ডিপোর্ট হয়ে যাওয়ার পর বড় বোনের ওপর এসে পড়েছে ছোট বোনের দৈনন্দিন দেখাশোনা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব। নিজের পড়াশোনা, কাজ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার বয়সেই তাকে কার্যত একজন অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে।   এই ঘটনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে জোরদার হওয়া অভিবাসন অভিযানের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের ওপর কতটা পড়ছে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। বাবা-মা অনথিভুক্ত অভিবাসী হলেও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তান সাধারণত জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। ফলে অভিভাবক ডিপোর্ট হলে অনেক পরিবারকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে - সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে থাকবে, নাকি বাবা-মায়ের সঙ্গে অন্য দেশে চলে যাবে।   এই সংকটের ব্যাপ্তি বোঝাতে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সাম্প্রতিক গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ একটি চিত্র সামনে এনেছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তর থেকে প্রায় ৪ লাখ অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের পর ইমিগ্রেশন হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গবেষকদের মডেলভিত্তিক অনুমান অনুযায়ী, এসব আটকের কারণে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার শিশু তাদের অন্তত একজন অভিভাবকের আইস হেফাজতে যাওয়ার পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।   গবেষণাটির হিসাবে, এই শিশুদের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজারই মার্কিন নাগরিক। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ২২ হাজারের বেশি মার্কিন নাগরিক শিশুর একই বাড়িতে বসবাসকারী সব অভিভাবকই আটক হয়েছেন বলে গবেষকেরা অনুমান করেছেন। এসব শিশুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশের বয়স খুবই কম। ফলে অভিভাবকের আকস্মিক আটক শুধু একটি ইমিগ্রেশন মামলাই নয়, পুরো পরিবারের দৈনন্দিন জীবন ও শিশুদের ভবিষ্যৎকেও বদলে দিচ্ছে।   তবে ১ লাখ ৪৫ হাজারের সংখ্যাটি সরাসরি আইস বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার গণনা নয়। ব্রুকিংস ইমিগ্রেশন হেফাজতের তথ্যের সঙ্গে আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের জনমিতিক তথ্য মিলিয়ে এই অনুমান তৈরি করেছে। গবেষকদের বক্তব্য, সরকারি তথ্যে আটক ব্যক্তিদের সন্তান সম্পর্কিত তথ্য সব ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গভাবে নথিভুক্ত না হওয়ায় প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝার জন্য মডেলভিত্তিক হিসাব ব্যবহার করতে হয়েছে।   আইসের নিজস্ব নীতিতেও আটক ব্যক্তির পিতামাতা বা আইনি অভিভাবক হওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করার নির্দেশনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আটক ব্যক্তির সন্তান আছে কি না এবং তাদের দেখাশোনার ব্যবস্থা কী হবে, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কথা। তবে গবেষণায় বলা হয়েছে, বাস্তবে সব ক্ষেত্রে এই তথ্য পূর্ণাঙ্গভাবে সংগ্রহ হয় না। আবার সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে কিছু অভিবাসীও বিস্তারিত তথ্য দিতে দ্বিধা করেন।   আইনগতভাবে এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। কোনো ব্যক্তির সন্তান মার্কিন নাগরিক হলেই সেই সন্তানের অনথিভুক্ত বাবা-মা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিপোর্টেশন থেকে সুরক্ষা পান না। একইভাবে বাবা-মায়ের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বা তাদের ডিপোর্টেশনের কারণে মার্কিন নাগরিক সন্তানের নাগরিকত্বও বাতিল হয় না। ফলে একই পরিবারের বাবা-মা ও সন্তানদের আইনি অবস্থান সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে।   এই আইনি বাস্তবতাই অনেক পরিবারকে সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের সামনে দাঁড় করাচ্ছে। বাবা-মা আটক বা ডিপোর্ট হলে সন্তানদের দেখাশোনার জন্য দ্রুত আত্মীয়, প্রাপ্তবয়স্ক ভাই-বোন অথবা বিশ্বস্ত কোনো ব্যক্তিকে দায়িত্ব নিতে হতে পারে। এমন ব্যবস্থা সম্ভব না হলে কোনো কোনো পরিস্থিতিতে শিশু সুরক্ষা সংস্থার সম্পৃক্ততার প্রয়োজন হতে পারে। অতীতেও অভিভাবকের আটক বা ডিপোর্টেশনের পর শিশুদের ফস্টার কেয়ারে যাওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।   টেক্সাসের দুই বোনের ঘটনাটি তাই শুধু একটি পরিবারের বিচ্ছেদের গল্প নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভিবাসন অভিযানের এমন একটি দিক এটি, যেখানে আইসের অভিযানের সরাসরি লক্ষ্য না হয়েও মার্কিন নাগরিক শিশুরা তার বড় প্রভাব বহন করছে। একজন অভিভাবককে আটক বা ডিপোর্ট করার পর সেই পরিবারের বাসস্থান, আয়, স্কুল, মানসিক স্থিতি এবং শিশুদের দেখাশোনার পুরো ব্যবস্থাই মুহূর্তে বদলে যেতে পারে।   মাত্র ১৯ বছর বয়সে যে তরুণীর নিজের পড়াশোনা, চাকরি ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার কথা, তাকেই এখন ১৩ বছরের ছোট বোনের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। অন্যদিকে তাদের বাবা-মা রয়েছেন হন্ডুরাসে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ায় দুই বোন নিজেদের দেশে থাকার অধিকার ধরে রেখেছে, কিন্তু সেই অধিকারের সঙ্গে তাদের সামনে এসেছে বাবা-মাকে ছাড়া জীবন চালিয়ে যাওয়ার কঠিন বাস্তবতা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ৩:৫৮
৫০ অঙ্গরাজ্যের মাত্র ৩টিতে ট্রাম্পের পক্ষে জনমত

৫০ অঙ্গরাজ্যের মাত্র ৩টিতে ট্রাম্পের পক্ষে জনমত, জনপ্রিয়তায় বড় ধস

যুদ্ধবিচ্ছিন্ন আরও এক শিশুকে মায়ের কাছে ফেরালেন মেলানিয়া ট্রাম্প

যুদ্ধবিচ্ছিন্ন আরও এক শিশুকে মায়ের কাছে ফেরালেন মেলানিয়া ট্রাম্প

স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার পর মরদেহ পাশে বসিয়ে ৫ ঘণ্টা গাড়ি চালালেন স্বামী

স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার পর মরদেহ পাশে বসিয়ে ৫ ঘণ্টা গাড়ি চালালেন স্বামী

কিম জং উনকে নিয়ে প্রশ্ন করতেই সিএনএন সাংবাদিককে ‘ফেক নিউজ’ বললেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
কিম জং উনকে নিয়ে প্রশ্ন করতেই সিএনএন সাংবাদিককে ‘ফেক নিউজ’ বললেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করতেই CNN-এর এক সাংবাদিকের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে সাংবাদিককে বারবার চুপ করতে বলেন তিনি। একপর্যায়ে তাকে ‘ফেক নিউজ’ বলেও আক্রমণ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।    সোমবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ঘটনাটি ঘটে। সেখানে ১৬ বছর বয়সী লাইফগার্ড রাইডার উইলিয়ামসকে সম্মান জানাতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সাগরের প্রবল স্রোত থেকে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে উদ্ধারের জন্য তাকে সম্মানিত করা হয়। সেই অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় উত্তর কোরিয়া প্রসঙ্গ সামনে আসে।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন তিনি এবং কিম সেই উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন।   তবে ঠিক কীভাবে যোগাযোগ হয়েছে, দুই নেতার মধ্যে সরাসরি কথা হয়েছে কি না কিংবা কিম জং উন কী বার্তা দিয়েছেন - এসব বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। রয়টার্সও জানিয়েছে, কিম তার উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন বলে প্রেসিডেন্ট দাবি করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।   আর এখান থেকেই আসে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি।   CNN-এর হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা ক্রিস্টেন হোমস জানতে চান - যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর জন্য কিম জং উন কি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছিলেন?   প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই তাকে থামিয়ে দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।   তিনি সাংবাদিককে চুপ করতে বলেন এবং সেখানে উপস্থিত কিশোরের সামনে তাকে অসম্মানজনক আচরণ করার অভিযোগ করেন। এরপর ক্রিস্টেন হোমসকে উচ্চস্বরে কথা বলা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে ‘ফেক নিউজ’ বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।   তবে সাংবাদিকের মূল প্রশ্নটির সরাসরি উত্তর দেননি তিনি।   আর ঠিক এই জায়গাতেই ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এসব মহড়াকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং উত্তর কোরিয়ার জন্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে উসকানিমূলক বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একই সঙ্গে কিম জং উনের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন। তার বক্তব্য, উত্তর কোরিয়ার নেতা তাকে সম্মান করেন এবং দুজনের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া রয়েছে। নতুন করে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ তৈরির আগ্রহও দেখাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।   কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্তের পেছনে কিম জং উনের কোনো অনুরোধ ছিল কি না - সেই প্রশ্নটির উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।   দক্ষিণ কোরিয়া অবশ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পর নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা দেখছে। সিউল আশা করছে, দুই নেতার সম্পর্ক কোরীয় উপদ্বীপে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সংলাপ আবার শুরু করতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।   উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক সম্পর্কও আগের তুলনায় অনেক গভীর হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যৌথ সামরিক মহড়া কমালে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধ প্রস্তুতি এবং প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হতে পারে বলে সতর্ক করছেন সমালোচকেরা।   মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংও বলেছেন, তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ মহড়াগুলো প্রতিরক্ষামূলক - উত্তর কোরিয়াকে আক্রমণ বা উসকানি দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়।   এদিকে ওভাল অফিসের ঘটনার পর বিতর্ক আরও বাড়ে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়ায়। ক্রিস্টেন হোমসকে লক্ষ্য করে হোয়াইট হাউসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকেও ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়। CNN পাল্টা তাদের সাংবাদিকের পাশে দাঁড়িয়ে জানায়, হোমস প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করছিলেন এবং একজন সাংবাদিকের দায়িত্বই হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের কাছে জবাব চাওয়া।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১:১৮
ক্যালিফোর্নিয়ার খরচে অতিষ্ঠ সিইও

ক্যালিফোর্নিয়ার খরচে অতিষ্ঠ সিইও, কোম্পানির সদর দপ্তর সরালেন টেক্সাসে

লটারির ভাগ দিয়ে ওয়েট্রেসকে বানালেন মিলিয়নিয়ার

টিপের টাকা ছিল না, লটারির ভাগ দিয়ে ওয়েট্রেসকে বানালেন মিলিয়নিয়ার

দীর্ঘ সময় সমুদ্রে মোতায়েন রয়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। ছবি: সংগৃহীত

টানা ৩৮ সপ্তাহ সাগরে ভাসমান মার্কিন রণতরী, খাবার ও মানসিক সংকটে ধুঁকছেন নৌসেনারা

৪০টি বৃত্তি নিয়ে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাচ্ছেন ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী আদেওলা আদেয়েমো। ছবি: সংগৃহীত
২০০টির বেশি স্কলারশিপে আবেদন করে ৪০টি পেলেন তরুণী, পড়বেন আইভি লিগের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার টাম্পার এক সদ্য উচ্চমাধ্যমিক পাস করা শিক্ষার্থী ২০০টির বেশি বৃত্তির জন্য আবেদন করে ৪০টি বৃত্তি পেয়েছেন। এসব বৃত্তির অর্থ ব্যবহার করেই এবার যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রিন্সটনে পড়ার স্বপ্ন পূরণ করতে যাচ্ছেন আদেওলা আদেয়েমো।   কলেজে পড়ার খরচ কমানোই ছিল তার মূল লক্ষ্য। তাই শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নয়, উচ্চমাধ্যমিকের শেষ সময়টায় তিনি নিয়মিত বিভিন্ন বৃত্তির জন্য আবেদন করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত ৪০টি বৃত্তি পাওয়ার পর প্রিন্সটনে পড়ার আর্থিক চাপ অনেকটাই কমেছে তার। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আদেওলা বলেন, কলেজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে খরচই ছিল তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তার ভাষায়, কলেজ নির্বাচনের সময় মূল্য ও সামর্থ্যকে তিনি সবকিছুর ওপরে রেখেছিলেন।   বৃত্তি পাওয়ার জন্য তার প্রচেষ্টার পরিমাণও ছিল উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএসভিএনকে তিনি জানান, ভ্রমণের সময়, বন্ধুদের বাড়িতে, ক্লাসের মাঝের অবসর সময়ে এমনকি দুপুরের খাবারের বিরতিতেও তিনি বৃত্তির আবেদন করতেন। তার যুক্তি ছিল, বৃত্তির অর্থ দাবি না করলে সেই অর্থ অন্য কেউ পেয়ে যাবে, তাই নিজের সুযোগ কাজে লাগাতে তিনি নিয়মিত আবেদন করে গেছেন।   প্রিন্সটনে এবার শরৎকালীন শিক্ষাবর্ষে পড়াশোনা শুরু করবেন আদেওলা। তার লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি অপারেশনস রিসার্চ অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়ার পরিকল্পনা করছেন এবং ২০৩০ সালে স্নাতক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রিন্সটনের এই বিভাগে পরিসংখ্যান, সম্ভাব্যতা, গণিতভিত্তিক বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো বিষয় পড়ানো হয়।   প্রিন্সটন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত একটি বেসরকারি আইভি লিগ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ের টিউশন ফি ৬৮ হাজার ১৪০ ডলার। এর সঙ্গে আবাসন, খাবার, বই ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ যোগ হলে এক শিক্ষাবর্ষের আনুমানিক মোট ব্যয় ৯৪ হাজার ৬২৪ ডলারে পৌঁছাতে পারে।   এত বড় অঙ্কের খরচের কারণে আদেওলার কাছে বৃত্তি সংগ্রহ ছিল শুধু অতিরিক্ত সুবিধা নয়, বরং প্রিন্সটনে পড়ার পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ৪০টি বৃত্তির অর্থ তিনি টিউশনসহ কলেজের বিভিন্ন ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করবেন। আদেওলা উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময়ও বিভিন্ন বৃত্তির সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন। ২০২৬ সালের বৃত্তিপ্রাপকদের তালিকায় তার নাম রয়েছে ডিবার্তোলো ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের বৃত্তি কর্মসূচিতেও। একই বছরে অ্যাকচুয়ারিয়াল ফাউন্ডেশনের ‘এসটিইএম স্টারস’ কর্মসূচিতেও তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। ওই কর্মসূচিতে উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের চার বছরে মোট ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়।   বিভিন্ন বৃত্তির পাশাপাশি তার একাডেমিক ও সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডও উল্লেখযোগ্য। ডিইসিএর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের বৃত্তিপ্রাপকদের তালিকাতেও আদেওলার নাম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার ব্যয় গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর খরচ অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক চাপ তৈরি করছে। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি, অনুদান ও আর্থিক সহায়তার জন্য প্রতিযোগিতাও বাড়ছে।   আদেওলার গল্পে সেই বাস্তবতার পাশাপাশি অন্য একটি দিকও উঠে এসেছে। প্রিন্সটনের মতো অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরও তিনি শুধু ভর্তি নিশ্চিত করেই থেমে থাকেননি। বরং পড়াশোনার খরচ কমাতে শত শত বৃত্তির সুযোগ খুঁজেছেন এবং যেসব বৃত্তির জন্য যোগ্য মনে করেছেন, সেগুলোতে আবেদন করেছেন।   এখন প্রিন্সটনে পড়াশোনা শুরু করার পরও থামতে চান না আদেওলা। সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের খরচ মেটাতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ও নতুন বৃত্তির জন্য আবেদন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।   তার এই প্রচেষ্টা দেখিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার খরচ অনেক বেশি হলেও বৃত্তির সুযোগ খুঁজে পরিকল্পিতভাবে আবেদন করলে শিক্ষার্থীরা আর্থিক চাপ কমানোর সুযোগ পেতে পারেন। তবে প্রতিটি বৃত্তির যোগ্যতা, আবেদনের সময়সীমা ও শর্ত আলাদা হওয়ায় আগে থেকেই পরিকল্পনা করে আবেদন করাই গুরুত্বপূর্ণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২৩:৩০
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে প্যাডলবোর্ডিং করার সময় পানিতে ডুবে মারা যান কৌশিক শর্মা। ছবি: সংগৃহীত

নিউ জার্সিতে পরিবারের সঙ্গে পিকনিকে গিয়ে লেকে ডুবে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির মৃত্যু

হ্যাম্পটনের মেডো লেনে একাধিক সম্পত্তি রয়েছে জুলিয়া কোচের। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে ৩৩.৫ মিলিয়ন ডলারে জমি কিনে সন্তানদের জন্য বাড়ি বানাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী নারী জুলিয়া কোচ

ডাকযোগে ভোট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ডাকযোগে ভোটকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বললেও ফ্লোরিডায় নিজেই সেই পদ্ধতিতে ভোট দিলেন ট্রাম্প

0 Comments