২০২৮ নির্বাচনে মিশেল ওবামা-এওসিকে পেছনে ফেলে তরুণ ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ পছন্দ কমলা হ্যারিস
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তরুণ ভোটারদের পছন্দের তালিকায় সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস সবার শীর্ষে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘অ্যাক্সিওস-জেনারেশন ল্যাব’-এর এক যৌথ জনমত জরিপে দেখা গেছে, তরুণ ডেমোক্র্যাটদের পছন্দে সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা এবং কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেজকে (এওসি) পেছনে ফেলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন হ্যারিস।
গত ২৯ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী ১ হাজার ৭৫ জন মার্কিন তরুণের ওপর এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়।
জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, তরুণ ডেমোক্র্যাটদের ২৮ দশমিক ৭ শতাংশের সমর্থন পেয়ে শীর্ষে রয়েছেন কমলা হ্যারিস, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা মিশেল ওবামার (১৪ দশমিক ৯ শতাংশ) সমর্থনের প্রায় দ্বিগুণ। অন্যদিকে, নিউ ইয়র্কের প্রভাবশালী প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেজ ১১ দশমিক ৭ শতাংশ সমর্থন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। যদিও এই তিনজনের কেউই এখনো ২০২৮ সালের নির্বাচনে লড়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি।
তবে স্বতন্ত্র তরুণ ভোটারদের পছন্দের তালিকায় ১১ দশমিক ৪ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন মিশেল ওবামা এবং ৯ দশমিক ২ শতাংশ পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন ওকাসিও-করতেজ। অন্যদিকে তরুণ রিপাবলিকানদের মধ্যে বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ সমর্থন পেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
জরিপটিতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সার্বিক মার্কিন রাজনীতি ও অর্থনীতির বিষয়ে তীব্র অসন্তোষের চিত্রও ফুটে উঠেছে। অংশগ্রহণকারী তরুণদের ৬৬ শতাংশই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং ৯৬ শতাংশ তরুণ বাড়িভাড়া, মুদিপণ্য ও ইউটিলিটি বিলসহ জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন।
এমনকি নিত্যপণ্যের দাম কমানোর প্রশ্নে ডেমোক্র্যাট কিংবা রিপাবলিকান—কোনো দলের প্রতিই ভরসা পাচ্ছেন না সর্বোচ্চ ৩৬ শতাংশ তরুণ। জেনারেশন ল্যাবের প্রধান নির্বাহী সাইরাস বেশলস তরুণদের এমন মনোভাবকে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর চরম হতাশার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে অর্থনৈতিক এই অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক ক্ষোভের মাঝেও তরুণ ডেমোক্র্যাটদের এমন জোরালো সমর্থন ২০২৮ সালের হোয়াইট হাউস লড়াইয়ে কমলা হ্যারিসকে আবারও সুবিধাজনক অবস্থানে রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View more'পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান' ফ্র্যাঞ্চাইজিতে আবারও দেখা যেতে পারে জনি ডেপকে। ব্লকবাস্টার এই সিরিজের ষষ্ঠ কিস্তিতে আইকনিক চরিত্র ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো হিসেবে তার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা হলিউডে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ডিজনির ডি২৩ (D23) এক্সপোতে ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রযোজক জেরি ব্রাকহেইমার সংবাদমাধ্যম ডেডলাইনকে জানিয়েছেন, জনি ডেপের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে এবং একটি চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ এগোচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই এই চুক্তিটি সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদী। তবে নতুন এই কিস্তিতে একটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে। অভ্যন্তরীণ সূত্রমতে, ষষ্ঠ ছবিটিতে মূল চরিত্রে থাকবেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মার্গট রবি, আর জনি ডেপকে এবার দেখা যেতে পারে একটি পার্শ্ব চরিত্রে। ২০০৩ সালে 'দ্য কার্স অব দ্য ব্ল্যাক পার্ল' দিয়ে জ্যাক স্প্যারো হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন জনি ডেপ। এরপর ২০০৬, ২০০৭, ২০১১ এবং সবশেষ ২০১৭ সালে 'ডেড মেন টেল নো টেলস' ছবিতে তাকে এই চরিত্রে দেখা যায়। এখন পর্যন্ত এই পাঁচটি ছবি বিশ্বব্যাপী সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেছে। ২০১৮ সালে চিত্রনাট্যকার স্টুয়ার্ট বিটি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ডেপ হয়তো এই আইকনিক চরিত্র থেকে অবসর নিতে যাচ্ছেন, তবে সাম্প্রতিক এই আলোচনা ভক্তদের মনে নতুন করে আশা জাগিয়েছে। সাবেক স্ত্রী অ্যাম্বার হার্ডের সঙ্গে ২০২২ সালের বহু আলোচিত মানহানির মামলায় জয়ের পর এটিই হতে পারে জনি ডেপের বড় কোনো প্রজেক্ট। ওই মামলায় হার্ডের বিরুদ্ধে একটি সংবাদমাধ্যমে লেখা নিবন্ধের জেরে মামলা করে ১ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ জিতেছিলেন ডেপ। এদিকে, আগামী ১৩ নভেম্বর মুক্তি পেতে যাচ্ছে জনি ডেপ অভিনীত নতুন সিনেমা ‘এবেনেজার: আ ক্রিসমাস ক্যারল’, যেখানে তিনি এবেনেজার স্ক্রুজ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। গত জুলাইয়ে সান দিয়েগো কমিক-কনে এই চরিত্রের সাজে সম্পূর্ণ অচেনা রূপে হাজির হয়ে ভক্তদের চমকে দিয়েছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে নতুন প্রজেক্টগুলোর মাধ্যমে হলিউডে জনি ডেপের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
কিমকে খুশি করতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমাচ্ছেন ট্রাম্প
এআই ডাটা সেন্টারের জন্য মেটার ২৬ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন কেনটাকির মা-মেয়ে
দ্বন্দ্ব ভুলে ফের একজোট ট্রাম্প-মাস্ক, মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য ১২ কোটি ডলার দিচ্ছেন ইলন
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনভিত্তিক একটি স্টার্টআপ কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের গ্রীষ্মকালীন চাকরিতে নিয়োগ দিয়ে প্রায় ১০ লাখ (এক মিলিয়ন) মার্কিন ডলার মজুরি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। 'নালানে গ্রিন সলিউশনস' নামক ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মাথাটা "মো" এমপেলার বিরুদ্ধে এ নিয়ে একটি ফেডারেল ক্লাস-অ্যাকশন মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষার মহান উদ্দেশ্যের কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাজে লাগিয়ে বিনা পারিশ্রমিকে তাদের চরমভাবে শোষণের অভিযোগ আনা হয়েছে এই মামলায়। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, এমপেলা তার 'গ্রিন অ্যাপ্রেন্টিস প্রোগ্রাম'-এর জন্য সিটি ইউনিভার্সিটি অফ নিউইয়র্ক (CUNY) এবং হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির ২০ জনেরও বেশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ইস্ট নিউইয়র্কের ট্রানজিট টেক হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি বা গ্রিন টেক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য তাদের ঘণ্টায় ২২ থেকে ৪০ ডলার বেতনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষার এই উদ্যোগে কাজ করতে অনেক শিক্ষার্থী দেশের অন্য প্রান্ত থেকে নিউইয়র্কে ছুটে আসেন এবং অন্যান্য লোভনীয় চাকরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় কাজ করার পরও তাদের কাউকেই এক সেন্টও পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন। হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির মেধাবী শিক্ষার্থী জিওভান্নি লুটি জানান, এই প্রকল্পে কাজ করার জন্য তিনি 'কলিন্স অ্যারোস্পেস'-এর একটি বড় চাকরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে টেক্সাস থেকে ব্রঙ্কসের একটি ইঁদুর উপদ্রুত অ্যাপার্টমেন্টে চলে এসেছিলেন। তাকে দিয়ে একটি হাই স্কুলের বেসমেন্টে বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) চার্জার তৈরির অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অনৈতিক একটি প্রকল্পের প্রস্তাবনা লেখানো হয়েছিল। সিইউএনওয়াই-এর স্নাতক শিক্ষার্থী জুলি লিউ জানান, মানুষের সেবা করার প্রতি তাদের যে অকৃত্রিম আগ্রহ ছিল, এমপেলা সেটাকে স্রেফ নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। আরেক শিক্ষার্থী আলানা মার্শিয়াল জানান, তিনি ৬৩৬ ঘণ্টা কাজ করেও কোনো বেতন পাননি। নিজেকে চরম শোষিত দাবি করে ক্ষুব্ধ এই শিক্ষার্থী বলেন, "এই প্রতারণা আর চলতে দেওয়া যায় না, এর শেষ এখানেই হতে হবে।" এদিকে অভিযুক্ত এমপেলা মজুরি না দেওয়ার পেছনে নিউইয়র্ক স্টেটের অনুদান পেতে দেরি হওয়াকে দায়ী করেছেন। সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি দাবি করেন যে, শিক্ষার্থীদের কাছে তার দেনার পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ নয়, বরং মাত্র ৫৩ হাজার ডলার। তবে বাদীদের আইনজীবীরা তার এই দাবিকে ডাহা মিথ্যা বলে আখ্যা দিয়েছেন। এদিকে, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর সিইউএনওয়াই কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে নালানে গ্রিন সলিউশনসকে তাদের নিয়োগ ব্যবস্থা থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, গত এপ্রিলে প্রথমবার মামলা হওয়ার পরও এমপেলা চলতি গ্রীষ্মে হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে নতুন করে আবারও শিক্ষার্থী নিয়োগ দিয়ে এই প্রতারণা চালিয়ে গেছেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসায় কড়াকড়ি, বাতিল হচ্ছে ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’
নিউইয়র্কে মশাল হাতে শপথ, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফিরবেন প্রায় হাজার নেতাকর্মী
স্যাক্রামেন্টোয় ইমিগ্রেশন আইনজীবীর অফিসে আইসিই পরিচয়ে সশস্ত্র ব্যক্তিদের হানা, ওয়ারেন্ট না থাকায় ব্যর্থ অভিযান
যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম মিশিগানে টিউবিং করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া এক মা, তাঁর ৯ বছরের ছেলে এবং এক আত্মীয়কে প্রায় তিন দিন পর গভীর জঙ্গল থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মাসকিগন নদীতে টিউবিং করার সময় গাছের গুঁড়ির ধাক্কায় তাদের টিউব ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা নদীর এক দুর্গম এলাকায় আটকা পড়েন। নিখোঁজ এই তিনজন হলেন ২৮ বছর বয়সী সারাহ ভিদা, তাঁর ছেলে কেডেন কোভালসিক এবং সারাহর ২৮ বছর বয়সী খালাতো বোন জ্যাজমিন হক। উদ্ধার অভিযানের হৃদয়স্পর্শী ভিডিও প্রকাশের পর ঘটনাটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে। গত ৫ আগস্ট পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে পুলিশকে খবর দেন। নদীর তীরে তাদের গাড়ি পাওয়ার পর পুলিশ, প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা, উদ্ধারকারী দল ও কুকুর ইউনিট ব্যাপক তল্লাশি শুরু করে। টানা তিন দিন পর কাদা-মাটিতে পায়ের ছাপ, ভাঙা ডালপালা, নুয়ে যাওয়া ঘাস ও নদীর পাশে পড়ে থাকা টিউবের সূত্র ধরে উদ্ধারকারীরা জঙ্গলের গভীরে তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হন। উদ্ধারকারীদের চিৎকারের জবাবে শিশু কেডেনের আওয়াজ শুনে তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়। তখন তারা চরম ক্লান্তি, পানিশূন্যতা, শরীরজুড়ে কাটা-ছেঁড়া ও পোকামাকড়ের কামড়ে জর্জরিত ছিলেন। জানা যায়, এই দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকার জন্য তারা নদীর পানি পানের পাশাপাশি ফুল, গাছের ছাল এবং পিঁপড়া পর্যন্ত খেয়েছেন। উদ্ধারের সময় ৯ বছরের শিশু কেডেনকে এক কর্মকর্তা পিঠে করে জঙ্গল থেকে বের করে আনেন এবং চরম দুর্বল দুই নারীকে স্ট্রেচারে করে আনা হয়। দ্রুত তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে বর্তমানে তারা সবাই সুস্থতার পথে রয়েছেন বলে জানা গেছে। উদ্ধারকারী কর্মকর্তা ক্যামেরন রাইট এই ঘটনাকে ‘প্রায় অলৌকিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিন দিন ধরে জঙ্গলের মাঝে ভয়, ক্ষুধা আর মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর পরিবারের সঙ্গে তাদের পুনর্মিলনের মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন ও স্বস্তিদায়ক।
জলবায়ু অভিবাসনে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতি: সুবিধা পাবে দক্ষিণ এশিয়ার ৩ দেশ
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার কিশোরদের চিকিৎসায় মেডিকেইড তহবিল বন্ধ করল ট্রাম্প প্রশাসন