ট্রাম্পের অভিবাসী বিতাড়ন নীতির মাঝেই আইসিইকে বিলুপ্ত করার পক্ষে ভোট দিল ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটি
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসী বিতাড়ন কর্মসূচির বিস্তৃতির মধ্যেই ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বা অভিবাসন শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটি (ডিএনসি)।
শনিবার টেক্সাসের অস্টিনে অনুষ্ঠিত ডিএনসি-এর গ্রীষ্মকালীন বৈঠকে ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতাদের প্রতি এই আহ্বান জানানো হয়। তবে একই বৈঠকে সংস্থাটি সংস্কারের পক্ষেও আরেকটি আলাদা প্রস্তাব পাস হয়েছে, যা আইসিই বিলুপ্তি নাকি শুধুই সংস্কার তা নিয়ে দলের ভেতরের চলমান মতভেদকেই সামনে এনেছে।
আইসিই বিলুপ্তির এই প্রস্তাবে কেবল সংস্কারের দাবিই জানানো হয়নি; বরং কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের এমন আইন পাসের আহ্বান জানানো হয়েছে, যা আইসিই-কে পুরোপুরি বিলুপ্ত করবে।
পাশাপাশি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন বা অভিবাসী আটক ব্যবস্থা ধীরে ধীরে বন্ধ করা, নির্দিষ্ট কিছু কার্যক্রম বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) তহবিল সীমিত করা এবং বেসরকারি ডিটেনশন প্রোভাইডারদের সঙ্গে সব ধরনের চুক্তি বাতিলেরও জোর দাবি জানানো হয়েছে এতে।
২০২৬ সালের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অভিবাসন নীতি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে অন্যতম বিতর্কিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। দলের বেশ কয়েকজন প্রার্থী আইসিই-এর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক সমালোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে দলের নীতিনির্ধারকরা এই ইস্যুতে কতটা কঠোর অবস্থানে যাওয়া উচিত, তা নিয়ে রীতিমতো চিন্তিত; কারণ সাধারণত এই ধরনের বিষয়ে রিপাবলিকানরা ভোটারদের কাছে বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকে।
ডিএনসি চেয়ারম্যান কেন মার্টিন এই প্রসঙ্গে বলেন, দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান প্রতি চার বছর অন্তর কনভেনশনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। তবে অভিবাসন ইস্যুতে বর্তমান প্রশাসনের বিতর্কিত পদক্ষেপের বিরোধিতায় সব ডেমোক্র্যাট যে ঐক্যবদ্ধ, তা জোরালোভাবে উল্লেখ করেন তিনি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreক্যালিফোর্নিয়ায় গুলিতে নিহত নিউইয়র্ক টাইমসের গেমস বিভাগের প্রকৌশল পরিচালক জোনাথন ম্যাককিনসি মৃত্যুর আগের বছর স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন। আদালতের নথিতে পারিবারিক সহিংসতা ও সন্তানদের হেফাজত নিয়ে তাঁর ও স্ত্রী ক্যান্ডিস জ্যাংয়ের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের তথ্য উঠে এসেছে। ৪০ বছর বয়সী ম্যাককিনসিকে গত শনিবার ক্যালিফোর্নিয়ার ডাবলিন শহরের একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের পার্কিং এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয়। তাঁর শ্বশুর শোইয়ং ঝাং ও শাশুড়ি শিলি চেনকে গ্রেপ্তার করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে করা আবেদনে ম্যাককিনসি অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন এবং তাঁদের তিন সন্তানকেও নির্যাতন করেছেন। তাঁর দাবি, শ্বশুর-শাশুড়িও এ ধরনের আচরণে যুক্ত ছিলেন। ম্যাককিনসি আরও অভিযোগ করেন, তিনি ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের কারণে শ্বশুরবাড়ির কাছ থেকে অপমান ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসবই আদালতে তোলা অভিযোগ; এগুলো প্রমাণিত তথ্য নয়। অন্যদিকে, জ্যাংও ম্যাককিনসির বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা ও সন্তানদের প্রতি নির্যাতনের অভিযোগ করেছিলেন। ২০২৫ সালে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে ম্যাককিনসির বিরুদ্ধে মামলাও হয়; তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে দুজনই একে অপরের বিরুদ্ধে সুরক্ষা আদেশ চেয়ে আবেদন করেন। ম্যাককিনসি ও জ্যাংয়ের বিবাহবিচ্ছেদ এবং সন্তানদের হেফাজত নিয়ে আইনি বিরোধ চলছিল। তবে হত্যার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ কী, তা পুলিশ প্রকাশ করেনি। তাঁদের দুই মেয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে আদালত।
যুক্তরাষ্ট্রের ছয় অঙ্গরাজ্যে বাড়ির ইন্স্যুরেন্স বছরে ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে
মেয়েকে ড্রাইভিং শেখাতে গিয়ে বাংলাদেশি বাবার মৃত্যু, পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কমিউনিটির তহবিল সংগ্রহ
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে ১ অক্টোবর থেকে কনস্যুলার ফি পরিশোধে নতুন নিয়ম
যুক্তরাষ্ট্রে নিজ দেশের বাইরে অন্য দেশে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর নীতি আপাতত চালু রাখতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের একটি রায় স্থগিত করেছে। তবে নীতিটি বৈধ কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। আদালত ডিসেম্বরে মামলাটির শুনানি করবে। এখানে ‘তৃতীয় দেশ’ বলতে এমন দেশ বোঝানো হচ্ছে, যেটি ফেরত পাঠানো ব্যক্তির নিজের দেশ নয় এবং যেখানে তাঁর আগে কোনো সম্পর্কও নাও থাকতে পারে। এই নীতি মূলত তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে, যাঁদের নামে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার চূড়ান্ত আদেশ রয়েছে, কিন্তু আদেশে উল্লেখিত কোনো দেশে তাঁদের পাঠানো যাচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্ট সব অভিবাসীকে যেকোনো দেশে পাঠানোর সাধারণ অনুমতি দেয়নি। নির্দিষ্ট এই নীতির ওপর নিম্ন আদালতের বাধা স্থগিত করেছে। মামলার কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হলো, তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গন্তব্য জানিয়ে সেখানে নির্যাতন বা নিপীড়নের আশঙ্কা তুলে ধরার যথাযথ সুযোগ দিতে হবে কি না। ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল বিচারক ব্রায়ান মারফি নীতিটিকে বেআইনি বলে রায় দিয়েছিলেন। আপিল আদালতও তাঁর রায়ের অধিকাংশ বহাল রাখে। সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় আপাতত স্থগিত করেছে; তিন বিচারপতি স্থগিতাদেশের বিরোধিতা করেছেন। কোন দেশে পাঠানো হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এ নীতির আওতায় মানুষকে মেক্সিকো, দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা, নিরক্ষীয় গিনি, লাইবেরিয়া ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রসহ বিভিন্ন দেশে পাঠিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সংকলিত হিসাবে, ২০২৫ সাল থেকে ২৯টি তৃতীয় দেশে ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে পাঠানো হয়েছে; তাঁদের অধিকাংশকে পাঠানো হয়েছে মেক্সিকোয়। এটি সংগঠনগুলোর হিসাব, আদালতের অনুমোদিত দেশের তালিকা নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, যাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না, তাঁদের অপসারণে তৃতীয় দেশের ব্যবস্থা প্রয়োজন। অন্যদিকে মামলাকারীদের আইনজীবীরা বলছেন, গন্তব্য ও ঝুঁকি সম্পর্কে কথা বলার সুযোগ ছাড়া কাউকে পাঠালে তিনি নিপীড়ন বা নির্যাতনের মুখে পড়তে পারেন। আদালতের মঙ্গলবারের আদেশে এই বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি; ডিসেম্বরে শুনানির পর চূড়ান্ত রায় আসবে।
জর্জিয়া বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নাহিদুল হক খান সাহেলের মেয়ে নাওয়ার খান, আইনজীবী হিসেবে শপথ
ডাকাতির নাটক সাজিয়ে ইউ ভিসার চেষ্টা, ক্যামেরায় ফাঁসের পর দোকানকর্মীকে ভারতে ফেরত
ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া টেক্সাসের পরিবারে ইমিগ্রেশন জটিলতায় বিচ্ছেদের শঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কারাবন্দি এক নারীর আর্থিক বিষয়াদি দেখভালের দায়িত্ব পেয়ে প্রায় ৬৫ হাজার ডলার আত্মসাতের অভিযোগে জেসিকা এলিজাবেথ ম্যাকভে (৪৮) নামের এক সরকারি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত জেসিকা ফ্লোরিডার ১২তম জুডিশিয়াল সার্কিটের পাবলিক ডিফেন্ডার অফিসে ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্স কোঅর্ডিনেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সারাসোটা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মানাটি কাউন্টি জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় এক ভুক্তভোগী নারী ভরসা করে জেসিকাকে নিজের আর্থিক বিষয়াদি পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু এই বিশ্বাসের চরম অপব্যবহার করে জেসিকা অননুমোদিত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, ব্যাংক ট্রান্সফার, এটিএম থেকে অর্থ উত্তোলন এবং কেনাকাটার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন। পুলিশের তদন্তে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী জেলে থাকাকালীন তার অজান্তেই জেসিকা নিজের নামে খোলা একাধিক ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধ করেছেন ওই নারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে। আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য ১৫ হাজার ডলারের বিনিময়ে আইনজীবী নিয়োগের কথা বলে জেসিকা একটি 'পাওয়ার অব অ্যাটর্নি' নথিতে ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর নেন। কিন্তু পরবর্তীতে কোনো আইনজীবী নিয়োগ না করেই জেসিকা সেই অর্থ নিজের অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেন। গত ১৩ আগস্ট জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী যখন জেসিকার সঙ্গে দেখা করেন, তখন জেসিকা দাবি করেন যে, সাক্ষীরা যেন আদালতে হাজির না হন সেজন্য তিনি এক লাখ ডলার ঘুষ দিয়েছেন এবং সে কারণেই ওই নারী মুক্তি পেয়েছেন। পরদিন ১৫ আগস্ট ব্যাংক স্টেটমেন্ট হাতে পাওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী তার অ্যাকাউন্টে এসব অস্বাভাবিক লেনদেনের বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর ১৮ আগস্ট তিনি সারাসোটা পুলিশের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করলে তদন্তে নামে কর্তৃপক্ষ। ব্যাংক ও ক্রেডিট কার্ড কোম্পানিগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে গত ২৩ সেপ্টেম্বর জেসিকার বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড থেফট, প্রতারণা ও ব্যক্তিগত তথ্য চুরিসহ মোট পাঁচটি গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে সারাসোটা কাউন্টিতে জেসিকা ম্যাকভের বিচারকাজ চলছে এবং আগামী ৩০ অক্টোবর আদালতে তার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এই প্রতারণার শিকার আরও কেউ আছেন কি না, তা নিয়েও নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের প্রচারমূলক বিজ্ঞাপনে সরকারি তহবিলের ২০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের অভিযোগ
নিউইয়র্কের বাফেলোতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভ্রাম্যমাণ সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা