সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
কলোরাডোতে পাঁচ কিশোর নিহত হওয়ার পর পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকারীদের তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীত
কলোরাডোয় খাড়া পাহাড়ে রাস্তা থেকে গাড়ি ছিটকে নিহত ১৭ বছরের পাঁচ কিশোর

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাড়া পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে গেলে ১৭ বছর বয়সী পাঁচ কিশোর নিহত হয়েছে। গ্র্যান্ড জংশন শহরের লুকআউট লেন এলাকায় শনিবার (৮ আগস্ট) গভীর রাতে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরদিন সকালে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।   গ্র্যান্ড জংশন পুলিশ এবং মেসা কাউন্টি করোনারের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটিতে থাকা পাঁচজনই গ্র্যান্ড জংশনের বাসিন্দা এবং তাদের সবার বয়স ১৭ বছর। ঘটনাস্থলেই পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, গাড়িটি লুকআউট লেন ধরে দক্ষিণ দিকে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে সেটি রাস্তা থেকে ছিটকে খাড়া পাহাড়ি ঢালের নিচে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অতিরিক্ত গতি দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।   মেসা কাউন্টি করোনারের কার্যালয় জানিয়েছে, পাঁচ কিশোরের মধ্যে তিনজন সিটবেল্ট পরেছিল। তাদের মধ্যে গাড়ির চালক ও সামনের আসনের যাত্রীও ছিল। পেছনের আসনে থাকা দুই কিশোর সিটবেল্ট না পরায় দুর্ঘটনার সময় গাড়ি থেকে ছিটকে বাইরে পড়ে যায়।   ময়নাতদন্ত শেষে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাড়ি দুর্ঘটনায় পাওয়া আঘাতের কারণেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় সরকারি কর্তৃপক্ষ তাদের নাম প্রকাশ করেনি।   তবে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের বরাতে কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিহতদের ব্রেডেন টেইলর, ট্রিস্টান টাকার, টাইটাস গোল্ড, উইলিয়াম সিমস ও টাইলার মার্টিনেজ হিসেবে শনাক্ত করেছে। তারা পরস্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল বলে জানানো হয়েছে।   একসঙ্গে পাঁচ কিশোরের মৃত্যুতে গ্র্যান্ড জংশন কমিউনিটিতে শোক নেমে এসেছে। পরিবার ও বন্ধুদের পক্ষ থেকে তাদের স্মরণে বিভিন্ন বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। কয়েকটি পরিবারের সহায়তায় অনলাইনে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।   গ্র্যান্ড জংশন পুলিশ জানিয়েছে, এমন ঘটনায় শুধু নিহতদের পরিবার নয়, বন্ধু, সহপাঠী এবং পুরো কমিউনিটি গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে এবং বিশেষ করে গাড়ির গতি কত ছিল, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১১:৫৫
মুসলিম জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান ন্যান্সি মেস এবং মুসলিম প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। ছবি: সংগৃহীত
'মিশিগানে আবদুল এল-সায়েদ নির্বাচিত হলে আমাদের নাতনিদের স্কুলে বোরকা পরে যেতে হবে'

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি পদে থাকা মুসলিমদের ‘ট্রোজান হর্স’ এবং দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান ন্যান্সি মেস। মিশিগানের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রাইমারিতে মুসলিম প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন মন্তব্য করেন সাউথ ক্যারোলাইনার এই কংগ্রেসওম্যান।   গত ৭ আগস্ট এক্সে দেওয়া পোস্টে মেস দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি পদে থাকা প্রত্যেক মুসলিমই ‘ট্রোজান হর্স’ এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রজাতন্ত্রের জন্য হুমকি। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সব মুসলিম জনপ্রতিনিধিকে নিয়ে এমন মন্তব্যের পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।   এরপর সিএনএনের একটি লাইভ সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে মেসকে প্রশ্ন করেন অ্যাঙ্কর ওমর জিমেনেজ। তিনি জানতে চান, মেস কি তাহলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পদে থাকা প্রত্যেক মুসলিমই দেশের জন্য হুমকি। জবাবে মেস বলেন, তিনি সব মুসলিমকে হুমকি হিসেবে দেখছেন না এবং তার উদ্বেগ মূলত ‘র‌্যাডিক্যাল ইসলাম’ নিয়ে।   তবে জিমেনেজ মেসের আগের বক্তব্যের সঙ্গে এই ব্যাখ্যার অসঙ্গতি তুলে ধরেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। একই সঙ্গে সংবিধানের ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধর্মীয় পরীক্ষা আরোপ করা যায় না।   সাক্ষাৎকারে মেস মুসলিম প্রার্থীদের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে আমেরিকানদের নাতনিদের স্কুলে বোরকা পরে যেতে হতে পারে। তার এ বক্তব্যেরও পাল্টা প্রশ্ন করেন জিমেনেজ। কোনো মুসলিম রাজনীতিক নির্বাচিত হলেই অন্য ধর্মের মানুষের ওপর ইসলামি পোশাক বা ধর্মীয় অনুশাসন চাপিয়ে দেওয়া হবে, এমন ধারণার সাংবিধানিক বা বাস্তব ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।   মেসের মন্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মিশিগানের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। মুসলিম পরিচয়ের এল-সায়েদের রাজনৈতিক উত্থানের পর তাকে ঘিরে ধর্মীয় পরিচয়কেন্দ্রিক আক্রমণও বেড়েছে। মেস নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকেও তার বক্তব্যে টেনে আনেন।   তবে সমালোচনার মুখে মেস দাবি করেছেন, তার আপত্তি মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং তিনি যাকে ‘র‌্যাডিক্যাল ইসলামিক আইডিওলজি’ বলছেন, তার বিরোধিতা করছেন। সমালোচকেরা অবশ্য বলছেন, তার মূল পোস্টে নির্দিষ্ট কোনো উগ্রপন্থী ব্যক্তি বা সংগঠনের পরিবর্তে সরকারি পদে থাকা ‘প্রত্যেক মুসলিমকে’ একসঙ্গে হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।   মেসের মন্তব্যকে ইসলামবিদ্বেষী আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন মহলের মানুষ। বিতর্কটি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা, নির্বাচিত পদে মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কোনো প্রার্থীর ধর্মীয় পরিচয়কে কতটা সামনে আনা উচিত, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এনেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১১:৩৮
মালয়েশিয়ায় বিশেষ ইমিগ্রেশন অভিযানে ৩৭০ বাংলাদেশিসহ ১ হাজার ৪৩ বিদেশি আটক। ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় বড় অভিযানে ৩৭০ বাংলাদেশিসহ আটক ১ হাজার ৪৩

মালয়েশিয়ায় দুই দিনব্যাপী বিশেষ ইমিগ্রেশন অভিযানে ৩৭০ বাংলাদেশিসহ মোট ১ হাজার ৪৩ বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, বৈধ কাগজপত্র না থাকা, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান এবং পাসের শর্ত লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের আটক করা হয়।   মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইটস টাইমসের বুধবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার থেকে ‘অপ সাসার’ নামে এই অভিযান শুরু হয়। বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও বিদেশি নাগরিকদের বসবাসের স্থানগুলোতে অভিযান চালান ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা।   মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানিয়েছেন, অভিযানে মোট ৩ হাজার ৩০৭ বিদেশিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৩ জনকে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে।   আটকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি। মোট ৩৭০ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার ৩২৮ এবং মিয়ানমারের ১৮৩ নাগরিক রয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশই পুরুষ এবং তাদের বয়স ১৭ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে।   মঙ্গলবার রাতে সুতেরামাস অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের জাকারিয়া শাবান বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশিদের বসবাসের কয়েকটি এলাকা চিহ্নিত করে অভিযান পরিচালনা করা হয়।   ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈধ পরিচয় বা ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে না পারা, পাসের শর্ত ভঙ্গ, অনুমোদিত সময়ের বেশি মালয়েশিয়ায় অবস্থান এবং কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতি নেই এমন কার্ড ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।   শুধু বিদেশি নাগরিক নয়, তাদের অবৈধভাবে আশ্রয় বা থাকার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ। তদন্তে সহায়তার জন্য ৪৫ মালয়েশীয় নাগরিককে সাক্ষী হিসেবে সমন দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন বাড়ির মালিকও রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বিদেশিদের থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।   মালয়েশিয়ায় অনিবন্ধিত ও কাগজপত্রবিহীন বিদেশিদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অভিযান জোরদার করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। জাকারিয়া শাবান জানিয়েছেন, বিদেশিদের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ বাড়ায় বর্তমানে দেশজুড়ে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে ছয়টির বেশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।   ইমিগ্রেশন বিভাগের সাম্প্রতিক হিসাবেও অভিযানের ব্যাপকতা উঠে এসেছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলতি বছরে ৭ হাজারের বেশি অভিযানে ৪১ হাজারের বেশি বিদেশিকে আটক করার তথ্য জানিয়েছিল মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ।   একই সঙ্গে যেসব অনিবন্ধিত অভিবাসী স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চান, তাদের জন্য ‘মাইগ্রেন্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম’ চালু রেখেছে মালয়েশিয়া সরকার। এই কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং প্রযোজ্য জরিমানা পরিশোধের মাধ্যমে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।   মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানকারী বিদেশিদের পাশাপাশি তাদের নিয়োগ দেওয়া বা আশ্রয় দেওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশটিতে অনিবন্ধিত অভিবাসীর সংখ্যা কমাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে বিভাগটি।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১১:৩১
নিহত মেলিনা গ্যালানিস ফ্রাটোলিন এবং হত্যায় দোষী সাব্যস্ত বাবা লুসিয়ানো ফ্রাটোলিন। ছবি: সংগৃহীত
৯ বছরের মেয়েকে হত্যা করে, লাশ লুকিয়ে রেখে ‘অপহরণের’ গল্প সাজিয়েছিলেন বাবা!

নিউইয়র্কে নয় বছরের মেয়ে মেলিনা গ্যালানিস ফ্রাটোলিনকে হত্যা এবং তার মরদেহ গোপন করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ৪৬ বছর বয়সী লুসিয়ানো ফ্রাটোলিন। মেয়েকে হত্যার পর তিনি প্রথমে পুলিশকে জানিয়েছিলেন, দুই ব্যক্তি তাকে অপহরণ করেছে। কিন্তু তদন্তে তার সেই দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়।   এসেক্স কাউন্টির একটি জুরি সোমবার লুসিয়ানোকে সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার এবং মানবদেহ গোপনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। প্রায় এক ঘণ্টা ১০ মিনিট আলোচনা শেষে জুরি এই রায় দেয়। তার সাজা ঘোষণা হওয়ার কথা আগামী ১৪ অক্টোবর।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে। কানাডার মন্ট্রিয়ালের বাসিন্দা লুসিয়ানো তার মেয়ে মেলিনাকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ছুটি কাটাতে এসেছিলেন। নিউইয়র্ক ও কানেকটিকাটের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ১৯ জুলাই তাদের কানাডায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।   নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ জুলাই বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সারাটোগা স্প্রিংসে বাবা ও মেয়েকে একসঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর মেলিনা তার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলে। তখন সে কোনো ধরনের আতঙ্ক বা বিপদের কথা জানায়নি।   সেদিন রাত প্রায় ১০টার দিকে লুসিয়ানো ৯১১-এ ফোন করে জানান, লেক জর্জের কাছে ইন্টারস্টেট ৮৭-এর একটি এলাকায় তার মেয়ে নিখোঁজ হয়েছে এবং সম্ভবত তাকে অপহরণ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, একটি সাদা ভ্যান এবং দুই ব্যক্তির সঙ্গে মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার সম্পর্ক থাকতে পারে।   অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত বড় ধরনের অনুসন্ধান শুরু করে। মেলিনাকে খুঁজতে অ্যাম্বার অ্যালার্ট জারি করা হয় এবং একাধিক আইনশৃঙ্খলা সংস্থা অভিযানে অংশ নেয়।   তবে খুব দ্রুত লুসিয়ানোর বর্ণনায় অসঙ্গতি খুঁজে পান তদন্তকারীরা। সময়ের হিসাব, তার চলাচলের তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ মিলিয়ে দেখার পর পুলিশ জানায়, অপহরণের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   পরদিন ২০ জুলাই নিউইয়র্ক স্টেট ফরেস্ট রেঞ্জাররা টাইকনডেরোগার একটি প্রত্যন্ত এলাকায় অগভীর পানিতে মেলিনার মরদেহ উদ্ধার করেন। তদন্তকারীরা জানান, মরদেহটি একটি পড়ে থাকা গাছ ও বড় পাথরের কাছে এমনভাবে লুকানো হয়েছিল যাতে সহজে দেখা না যায়।   ময়নাতদন্তে মেলিনার মৃত্যুর কারণ হিসেবে পানিতে ডুবে শ্বাসরোধ এবং মৃত্যুর ধরন হত্যাকাণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।   প্রসিকিউটররা আদালতে বলেন, মেয়েকে হত্যার পর লুসিয়ানো নিজেকে সন্দেহের বাইরে রাখতে অপহরণের গল্প সাজিয়েছিলেন। মামলায় সিসিটিভি ফুটেজ, সেলফোন লোকেশন, গাড়ির চলাচলের তথ্য এবং অন্যান্য ফরেনসিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়।   অন্যদিকে লুসিয়ানোর ডিফেন্স টিম দাবি করে, মামলাটি মূলত পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল এবং পুলিশ শুরু থেকেই অপহরণের সম্ভাবনাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। লুসিয়ানো নিজে বিচার চলাকালে সাক্ষ্য দেননি।   মেলিনা তার মায়ের সঙ্গে মন্ট্রিয়ালে থাকত। লুসিয়ানো ও মেলিনার মা ২০১৯ সাল থেকে আলাদা ছিলেন। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, মেয়েটি মায়ের পূর্ণকালীন হেফাজতে থাকলেও বাবার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ ছিল।   ২০২৫ সালের ২১ জুলাই লুসিয়ানোকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার এবং মানবদেহ গোপনের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। তিনি শুরু থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছিলেন।   এক বছরের বেশি সময় পর জুরির রায়ে তার সেই দাবি প্রত্যাখ্যাত হলো। যে বাবা মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার খবর দিয়ে পুলিশকে অপহরণের গল্প শুনিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই বাবাই নয় বছরের মেলিনাকে হত্যা ও মরদেহ গোপনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলেন।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১১:১২
অভিবাসীদের ওপর জরিমানা আরোপ করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
দেশ ছাড়ুন, না হলে ৫ লাখ ৭৯ হাজার ডলার জরিমানা' মিশিগানের অভিবাসীর সামনে ট্রাম্পের কঠিন শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে চাপ তৈরির অংশ হিসেবে মিশিগানে বসবাসরত ৬৮ বছর বয়সী এক অভিবাসীর ওপর ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৮৩৮ ডলারের জরিমানা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ২০১২ সালে তার বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশনের আদেশ দেওয়া হলেও পরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগই সেই আদেশ কার্যকর স্থগিত রেখেছিল। এখন দেশ না ছাড়ার কারণ দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়েছেন তিনি।   এমলাইভের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি তার অসুস্থ স্ত্রীর প্রধান দেখাশোনাকারী। তার স্ত্রী একজন মার্কিন নাগরিক। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে ওই অভিবাসীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ২০১২ সালে ডিপোর্টেশনের আদেশ হওয়ার পরও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তার রিমুভাল স্থগিত করেছিল। ফলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যান। কিন্তু চলতি বছর তাকে পাঠানো নোটিশে অভিযোগ করা হয়, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেননি। এর ভিত্তিতেই তার ওপর ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৮৩৮ ডলারের জরিমানা ধার্য করা হয়।   ডেট্রয়েটের ইমিগ্রেশন আইনজীবী রিম খ্রাইজাত ওই ব্যক্তির পক্ষে জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল করেন। আপিলের সঙ্গে তার স্ত্রীর চিকিৎসাসেবা প্রদানকারীদের চিঠিও জমা দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, ওই নারী তার স্বামীর ওপর নির্ভরশীল এবং স্বামীই তার প্রধান পরিচর্যাকারী।   তবে আইনজীবীর দাবি, আইসিই আপিলে তুলে ধরা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়েই জরিমানার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার যখন একজন ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দিয়েছে, তখন পরবর্তী সময়ে সেই একই সময়ের জন্য তাকে বিপুল অঙ্কের জরিমানা করা কতটা যৌক্তিক।   এ ঘটনা শুধু মিশিগানের একজন অভিবাসীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ট্রাম্প প্রশাসন ডিপোর্টেশন অর্ডার থাকার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা আরোপের নীতি জোরদার করেছে। একই সঙ্গে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লে এসব জরিমানা মওকুফ করার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত আইসিই ডিপোর্টেশন অর্ডারের পরও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এক লাখ তিন হাজারের বেশি জরিমানার নোটিশ দিয়েছে। এসব জরিমানার সম্মিলিত পরিমাণ ৮৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি।   ট্রাম্প প্রশাসন স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ উৎসাহিত করতে সিবিপি হোম অ্যাপ ব্যবহার করছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, যোগ্য ব্যক্তিরা এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লে নির্দিষ্ট আর্থিক সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জরিমানা মওকুফের সুযোগ পেতে পারেন।   তবে অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ও আইনজীবীদের একটি অংশ এই জরিমানা নীতির বিরুদ্ধে আদালতে গেছে। তাদের অভিযোগ, বিপুল অঙ্কের জরিমানা আরোপের প্রক্রিয়ায় যথাযথ আইনি সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে এটি মার্কিন সংবিধানের অতিরিক্ত জরিমানা নিষিদ্ধ করার বিধানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে একাধিক ফেডারেল মামলা চলছে।   মিশিগানের ওই অভিবাসীর ঘটনা এখন ট্রাম্প প্রশাসনের স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ নীতির বাস্তব প্রভাবের একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যাদের পুরোনো ডিপোর্টেশন অর্ডার রয়েছে কিন্তু বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তাদের জন্য এ ধরনের জরিমানার নীতি নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১১:০
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময়ে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি। ছবি: সংগৃহীত
স্কুল খোলার মুখে যুক্তরাষ্ট্রে হামের রেকর্ড, ৩৫ বছরের সংক্রমণ সর্বোচ্চ

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময় হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ২ হাজার ৪৬৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে, যা গত ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি বছরের আট মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই আক্রান্তের সংখ্যা পুরো ২০২৫ সালের মোট সংক্রমণকেও ছাড়িয়ে গেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসির ৬ আগস্ট পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে মোট ২ হাজার ২৮৯টি নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছিল। বিপরীতে চলতি বছর ৬ আগস্টের মধ্যেই সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৬৫ জনে।   সিডিসির হিসাবে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭টি জুরিসডিকশন থেকে হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০টি অঙ্গরাজ্যের পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটি ও ওয়াশিংটন ডিসিকে আলাদা জুরিসডিকশন হিসেবে গণনা করা হয়। ফলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে আক্রান্ত অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা নিয়ে কিছুটা ভিন্ন তথ্য দেখা গেলেও সিডিসির সর্বশেষ হিসাবে সংক্রমণের বিস্তার আগের তুলনায় অনেক বড়।   এ বছর এখন পর্যন্ত ৩৮টি পৃথক হাম প্রাদুর্ভাব শনাক্ত করেছে সিডিসি। মোট আক্রান্তের ৯৪ শতাংশই এসব প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ বিচ্ছিন্ন কয়েকটি রোগীর পরিবর্তে নির্দিষ্ট কমিউনিটিতে একসঙ্গে বহু মানুষের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে।   এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ শিশু স্কুলে ফিরছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের বড় কারণ হলো, স্কুলে একই শ্রেণিকক্ষ ও অন্যান্য ইনডোর জায়গায় দীর্ঘ সময় কাছাকাছি থাকার কারণে টিকা না নেওয়া শিশুদের মধ্যে অত্যন্ত সংক্রামক এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।   সিডিসির তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের এমএমআর টিকা গ্রহণের হার কয়েক বছর ধরে কমছে। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে এই হার ছিল ৯৫ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে তা নেমে এসেছে ৯২ দশমিক ৫ শতাংশে। ওই শিক্ষাবর্ষেই আনুমানিক ২ লাখ ৮৬ হাজার কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থী হাম থেকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ছাড়াই ছিল।   হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক রোগের বিস্তার ঠেকাতে একটি কমিউনিটিতে সাধারণত ৯৫ শতাংশের বেশি মানুষের টিকার সুরক্ষা থাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সিডিসি। জাতীয় গড় এর নিচে নেমে যাওয়ার পাশাপাশি কিছু এলাকায় টিকা নেওয়ার হার আরও কম। ফলে সেখানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।   বিশেষ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে উটাহর মতো অঙ্গরাজ্যে। উটাহর স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সরাসরি স্কুলে যাওয়া কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের প্রায় ১২ শতাংশের এমএমআর টিকার ক্ষেত্রে ছাড় ছিল অথবা তাদের টিকা নেওয়ার প্রয়োজনীয় নথি পাওয়া যায়নি। অঙ্গরাজ্যটিতে চিকিৎসাগত কারণের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতেও স্কুলের বাধ্যতামূলক টিকা থেকে ছাড় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   স্কুলভেদে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে। কোনো কোনো কমিউনিটিতে টিকা গ্রহণের হার এতটাই কম যে, সেখানে একটি হাম আক্রান্ত শিশুর উপস্থিতিই দ্রুত বড় আকারের সংক্রমণ তৈরি করতে পারে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।   হাম বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে সংক্রামক রোগগুলোর একটি। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তি চলে যাওয়ার পরও একটি ঘরে অবস্থান করলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে।   সিডিসির হিসাবে, এমএমআর টিকার দুই ডোজ হাম প্রতিরোধে প্রায় ৯৭ শতাংশ কার্যকর। এক ডোজের কার্যকারিতা প্রায় ৯৩ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে ২০০০ সালে হাম নির্মূল হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে বিদেশ থেকে সংক্রমণ নিয়ে আসা ব্যক্তির মাধ্যমে টিকা না নেওয়া কমিউনিটিতে ভাইরাস ঢুকে পড়লে আবারও বড় প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে।   শিশুদের ক্ষেত্রে হাম বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব শিশু বয়সের কারণে এখনো নিয়মিত এমএমআর টিকা নেওয়ার পর্যায়ে পৌঁছায়নি অথবা চিকিৎসাগত কারণে টিকা নিতে পারে না, তাদের সুরক্ষা অনেকটাই নির্ভর করে আশপাশের মানুষের টিকা নেওয়ার ওপর।   স্কুলগুলোতে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ায় তাই জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নজর এখন টিকা গ্রহণের হার কম থাকা এলাকাগুলোর দিকে। সিডিসি বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে হাম থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এমএমআর টিকা এবং পরিবারগুলোকে নিজেদের ও শিশুদের টিকার অবস্থা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১০:৪৪
দারুল উলূম মিশিগানের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশন ও সম্মাননা প্রদান। ছবি: সংগৃহীত
দারুল উলূম মিশিগানের ১২তম বার্ষিক গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে দারুল উলূম মিশিগানের ১২তম বার্ষিক গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান আনন্দঘন ও দ্বীনি পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১১ আগস্ট মাদরাসার ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, আলেম-উলামা ও মুসলিম কমিউনিটির সদস্যরা অংশ নেন।   অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন মাওলানা জিল্লুর রহমান উদ্দিন ও মুফতি রবিউল ইসলাম। পরে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন শিক্ষামূলক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্ব পরিচালনা করেন মাওলানা সাদিকুর রহমান ও মাওলানা মুহাম্মদ সালমান। শিক্ষার্থীরা তাদের অর্জিত দ্বীনি জ্ঞান ও শিক্ষার বিভিন্ন দিক পরিবেশনার মাধ্যমে তুলে ধরে।   পরবর্তীতে দারুল উলূম মিশিগানের প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মদ তাজ উদ্দীন বক্তব্য দেন। তিনি মাদরাসার অগ্রগতি, ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব এবং নতুন প্রজন্মকে কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা, ইসলামী মূল্যবোধ, আদব-আখলাক ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশন ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।   অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন আরিফ বিল্লাহ হযরত মাওলানা শাহ হাকীম মুহাম্মদ আখতার (রহ.)-এর বিশিষ্ট খলিফা মাওলানা শায়খ আসগর হুসাইন হাফিযাহুল্লাহ। তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে নসিহত করেন। তাঁর বক্তব্যে দ্বীনি ইলম অর্জন, নেক আমল, উত্তম চরিত্র গঠন এবং মহান আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।   অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্বে মাওলানা বরকতুল্লাহ আশরাফ নাশিদ পরিবেশন করেন। পরে মাওলানা মুহাম্মদ সালমান বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের মাঝে যোহরের নামাজ আদায় করা হয়।   দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে উস্তাদদের পক্ষ থেকে উপহারসামগ্রী ও গিফট ব্যাগ বিতরণ করা হয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও কমিউনিটির সদস্যদের ব্যাপক অংশগ্রহণে পুরো মাদরাসা প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।   বক্তারা প্রবাসে বেড়ে ওঠা মুসলিম শিশু-কিশোরদের মধ্যে কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা, ইসলামী পরিচয়, আদব-আখলাক ও নৈতিক মূল্যবোধ ধরে রাখতে দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি একটি আদর্শ ও দ্বীনদার প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানানো হয়।   দারুল উলূম মিশিগানের ১২তম বার্ষিক গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের অর্জনের স্বীকৃতির পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রচেষ্টা ও ত্যাগেরও উদযাপনে পরিণত হয়।   অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, দারুল উলূম মিশিগানের উত্তরোত্তর উন্নতি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হয়।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১০:২৭
মার্থা ম্যাককে ও তাকে হত্যাকারী ট্রাভিস লুইস। ছবি: সংগৃহীত
মায়ের হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন চাকরি, ২৩ বছর পর তার হাতেই প্রাণ গেল মেয়ের

মাকে হত্যার দায়ে কারাগারে যাওয়া কিশোরকে ক্ষমা করেছিলেন মার্থা ম্যাককে। বছরের পর বছর তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন, প্যারোলে মুক্তির পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন, এমনকি কারাগার থেকে বের হওয়ার পর নিজের পারিবারিক সম্পত্তিতেই কাজের সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই দ্বিতীয় সুযোগের পরিণতি হয় মর্মান্তিক। ২০২০ সালে সেই ট্রাভিস লুইসের হাতেই নিহত হন মার্থা।   ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের হর্সশু লেক এলাকার ঐতিহাসিক স্নোডেন হাউসকে ঘিরে। একই পরিবারের মা ও মেয়ের মৃত্যুর সঙ্গে একই ব্যক্তির নাম জড়িয়ে যাওয়ায় ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত ট্রু ক্রাইম কাহিনিগুলোর একটি হয়ে ওঠে।   ঘটনার শুরু ১৯৯৬ সালে। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে ৭৫ বছর বয়সী স্যালি স্নোডেন ম্যাককে এবং তার ৫২ বছর বয়সী ভাতিজা জোসেফ ‘লি’ বেকারকে হত্যা করা হয়। বেকার মেমফিসের পরিচিত ব্লুজ ও রক গিটারিস্ট ছিলেন।   হত্যাকাণ্ডের সময় ট্রাভিস লুইসের বয়স ছিল ১৬ বছর। তদন্তের পর তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচার করা হয়। পরে তিনি হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন এবং ২৮ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড পান। তবে দোষ স্বীকার করলেও হত্যাকাণ্ডের জন্য অন্য একজন দায়ী বলে দাবি করে গিয়েছিলেন লুইস।   মাকে হারানোর পরও লুইসের প্রতি প্রতিশোধপরায়ণ হননি মার্থা। বরং কারাগারে থাকার সময় তার সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্থা বিশ্বাস করতেন মানুষ পরিবর্তিত হতে পারে এবং লুইসও জীবনে দ্বিতীয় সুযোগ পাওয়ার যোগ্য।   মার্থা তার প্যারোলে মুক্তির পক্ষেও সমর্থন দিয়েছিলেন। প্রায় ২৩ বছর কারাভোগের পর ২০১৮ সালে প্যারোলে মুক্তি পান লুইস।   এরপর আরও এক ধাপ এগিয়ে যান মার্থা। পরিবারের ঐতিহাসিক স্নোডেন হাউসে লুইসকে কাজ দেন তিনি। বাড়িটি সংস্কার করে বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট ও অনুষ্ঠান আয়োজনের ভেন্যু হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন মার্থা।   কিন্তু একসময় তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। মার্থার পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির একটি ঝাড়বাতি বিক্রি করে পাওয়া ১০ হাজার ডলার হারিয়ে যাওয়ার পর লুইসকে সন্দেহ করেন তিনি। ওই অর্থ হারানোর সময় লুইস বাড়িতে ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এরপর তাকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেন মার্থা।   ২০২০ সালের ২৫ মার্চ স্নোডেন হাউসে অ্যালার্ম বেজে ওঠার পর সেখানে ছুটে যান ক্রিটেনডেন কাউন্টি শেরিফের ডেপুটিরা। বাড়ির পেছনের একটি দরজা খোলা দেখতে পান তারা।   বাড়ির ভেতর তল্লাশি চালানোর সময় একজন ব্যক্তিকে দ্বিতীয় তলার জানালা দিয়ে লাফিয়ে পালাতে দেখেন পুলিশ সদস্যরা। পরে তাকে ট্রাভিস লুইস হিসেবে শনাক্ত করা হয়।   শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জানালা দিয়ে বেরিয়ে লুইস একটি গাড়িতে উঠে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু গাড়িটি বাড়ির আঙিনায় আটকে গেলে তিনি নেমে দৌড়ে পাশের হর্সশু লেকে ঝাঁপ দেন।   পানিতে ডুবে যাওয়ার পর তাকে আর ওপরে উঠতে দেখা যায়নি। পরে উদ্ধারকারী দল সোনার প্রযুক্তি ব্যবহার করে লেক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।   এরপর স্নোডেন হাউসের ভেতরে পাওয়া যায় ৬৩ বছর বয়সী মার্থা ম্যাককের মরদেহ। তদন্তকারীরা জানান, তাকে ছুরিকাঘাত ও আঘাত করে হত্যা করা হয়েছিল।   সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় ছিল হত্যাকারীর পরিচয়। পুলিশ জানায়, মার্থাকে হত্যাকারী ট্রাভিস লুইসই ১৯৯৬ সালে তার মা স্যালি এবং আত্মীয় লি বেকারকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল।   অর্থাৎ যে ব্যক্তির অপরাধের কারণে মার্থা প্রথমে নিজের মাকে হারিয়েছিলেন, ২৩ বছরের বেশি সময় পর সেই ব্যক্তির হাতেই তার নিজের জীবনও শেষ হয়।   ঘটনার পর মার্থার পরিবারও জানিয়েছিল, তারা বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যে একই ব্যক্তি তাদের পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুর জন্য দায়ী।   মার্থার সিদ্ধান্ত নিয়ে পরবর্তী সময়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। বিশেষ করে একজন দণ্ডিত হত্যাকারীকে ক্ষমা করা, তার পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা এবং তাকে আবার নিজের জীবনের এত কাছাকাছি নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।   তবে মার্থার সিদ্ধান্তকে কেবল সরল বিশ্বাস হিসেবে ব্যাখ্যা করাও পুরো ঘটনাটিকে তুলে ধরে না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তার ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, ক্ষমা ও মানুষের পরিবর্তনের সম্ভাবনার প্রতি তার গভীর বিশ্বাস ছিল। লুইস প্রথম হত্যাকাণ্ডে নিজেকে নির্দোষ দাবি করায় সেই বক্তব্যও বিশ্বাস করেছিলেন মার্থা।   শেষ পর্যন্ত তার দেওয়া দ্বিতীয় সুযোগই এক ভয়াবহ পরিণতির সঙ্গে যুক্ত হয়। মায়ের হত্যাকারীকে ক্ষমা করে যে মানুষটিকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সাহায্য করেছিলেন মার্থা ম্যাককে, সেই মানুষটির হাতেই ২৩ বছর পর নিজের জীবন হারান তিনি।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১০:১৭
ওয়ারউইকশায়ারের রাগবি এলাকার নিউবোল্ড। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের গ্রাম থেকে ১১ ও ১২ বছরের দুই স্কুলছাত্রী ‘অপহরণ’, তিন নারীসহ গ্রেপ্তার ৬

যুক্তরাজ্যে নিখোঁজ হওয়ার পর ১১ ও ১২ বছর বয়সী দুই স্কুলছাত্রীকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরের কর্নওয়াল থেকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুই শিশুকে কীভাবে এত দূরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেই ঘটনার তদন্তে তিন নারী ও তিন পুরুষসহ ছয়জনকে অপহরণের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   ওয়ারউইকশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, রাগবি এলাকার নিউবোল্ডে রোববার ভোরে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ১১ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেলিকা ও ১২ বছর বয়সী ভেরিটিকে। এরপর তাদের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। দুই শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বড় পরিসরে অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ।   তল্লাশিতে হেলিকপ্টার ব্যবহারের পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ, সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং ডিজিটাল অনুসন্ধান চালানো হয়। পুলিশ শুরু থেকেই ধারণা করছিল, দুই শিশু একসঙ্গে রয়েছে এবং কর্নওয়ালের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ থাকতে পারে।   দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর মঙ্গলবার ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশের কর্মকর্তারা কর্নওয়ালে দুই শিশুকে খুঁজে পান। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারের সময় তারা নিরাপদ ও সুস্থ ছিল।   তবে রাগবি থেকে তারা কীভাবে কর্নওয়ালে পৌঁছাল, সেই প্রশ্ন সামনে আসার পর তদন্ত নতুন দিকে মোড় নেয়। বুধবার ভোরে কর্নওয়ালের টিনট্যাজেল থেকে ৬২ ও ২৫ বছর বয়সী দুই পুরুষ এবং ৫৬ বছর বয়সী এক নারীকে অপহরণের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়।   একই অভিযোগে কর্নওয়ালের ফ্যালমাউথ থেকে ৪২ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে রাগবি থেকে ৭৫ ও ৪৭ বছর বয়সী আরও দুই নারীকে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে তিন পুরুষ ও তিন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   ওয়ারউইকশায়ার পুলিশের চিফ সুপারিনটেনডেন্ট জন বেলচার জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ছয়জনই দুই শিশুর পরিচিত। এ কারণে ঘটনাটিকে সাধারণ মানুষের জন্য বৃহত্তর কোনো নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখছে না পুলিশ।   পুলিশ এখন মূলত জানার চেষ্টা করছে, দুই স্কুলছাত্রী কী পরিস্থিতিতে রাগবি থেকে কর্নওয়ালে পৌঁছেছিল এবং এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।   গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তাদের অপহরণের সন্দেহে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার পূর্ণ পরিস্থিতি জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ১০:২
বাংলাদেশি জনস্বাস্থ্য গবেষক অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ এইচ বাকী। ছবি: সংগৃহীত
নোয়াখালী থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্সে, ডা. আবদুল্লাহ বাকীর গবেষণায় নতুন জীবন লাখো মা ও শিশুর

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মা ও নবজাতকের জীবন বাঁচানোর উপায় খুঁজতে দুই দশকের বেশি আগে শুরু হয়েছিল একটি গবেষণা উদ্যোগ। সেই উদ্যোগই এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জনস্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এর পেছনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশি চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য গবেষক অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ এইচ বাকী। বর্তমানে তিনি জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের অধ্যাপক এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ম্যাটারনাল অ্যান্ড নিউবর্ন হেলথের পরিচালক।   সম্প্রতি জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথ ডা. বাকী এবং বাংলাদেশের ‘প্রজন্ম’ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের দীর্ঘ যাত্রা তুলে ধরেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, তাদের গবেষণা থেকে পাওয়া প্রমাণ বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যনীতি ও কর্মসূচিতে প্রভাব ফেলেছে।   ‘প্রজন্ম’ এর যাত্রা শুরু ২০০১ সালে। ডা. বাকী বাংলাদেশি গবেষকদের সঙ্গে নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্বে এটি গড়ে তুলেছিলেন। লক্ষ্য ছিল শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশ নয়, বাংলাদেশের বাস্তব পরিস্থিতিতে কম খরচে কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতি খুঁজে বের করা এবং সেই গবেষণাকে জাতীয় নীতিতে কাজে লাগানো।   এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগুলোর একটি পরিচালিত হয় সিলেটের গ্রামীণ এলাকায়। প্রশিক্ষিত কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কারদের মাধ্যমে বাড়িতে গিয়ে নবজাতকের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার কার্যকারিতা পরীক্ষা করেন গবেষকেরা।   ২০০৮ সালে দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত সেই গবেষণায় দেখা যায়, বাড়িভিত্তিক সমন্বিত নবজাতক সেবার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নবজাতকের মৃত্যুহার ৩৪ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছিল। গবেষণাটি ওই বছর দ্য ল্যানসেটের উল্লেখযোগ্য গবেষণাগুলোর একটি হিসেবেও স্বীকৃতি পায়।   এই গবেষণার প্রভাব গবেষণাগারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। জনস হপকিন্সের তথ্য অনুযায়ী, এর ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকার ২০০৯ সালে জাতীয় নবজাতক স্বাস্থ্য কৌশল তৈরি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফও উচ্চ মৃত্যুহারের দেশগুলোতে নবজাতকের মৃত্যুঝুঁকি কমাতে প্রসবের পর বাড়িতে গিয়ে সেবা দেওয়ার সুপারিশে এই ধরনের গবেষণার প্রমাণ ব্যবহার করে।   প্রজন্মের আরেকটি গবেষণায় নবজাতকের নাভিতে ক্লোরহেক্সিডিন ব্যবহারের সুফল পাওয়া যায়। সেই গবেষণার ফলও পরবর্তী সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ এবং এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নবজাতক স্বাস্থ্যনীতিতে প্রভাব ফেলে।   হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব নয় এমন গুরুতর সংক্রমণে আক্রান্ত নবজাতকদের জন্য তুলনামূলক সহজ অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা নিয়েও গবেষণা করেছে প্রজন্ম। সেই গবেষণা থেকে পাওয়া প্রমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন পরিবর্তন এবং হাসপাতালের বাইরে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।   দীর্ঘ এই পথচলায় গবেষণা প্রকল্পটি ধীরে ধীরে বাংলাদেশের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। ২০১৭ সালে প্রজন্ম রিসার্চ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশি এনজিও হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে এবং জনস হপকিন্স বিভিন্ন গবেষণায় টেকনিক্যাল পার্টনার হিসেবে কাজ করছে।   জনস হপকিন্সের তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের বাইরে বাংলাদেশের আরও ১১ জেলায় প্রজন্মের কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণার আওতায় এখন ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, স্বাস্থ্যব্যবস্থায় নতুন পদ্ধতির বাস্তবায়ন, নীতিমূল্যায়ন এবং মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে।   ডা. আবদুল্লাহ বাকী ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। পরে জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথ থেকে ১৯৮৫ সালে এমপিএইচ এবং ১৯৯০ সালে ডক্টর অব পাবলিক হেলথ ডিগ্রি অর্জন করেন। জনস হপকিন্সে যোগ দেওয়ার আগে তিনি প্রায় ২২ বছর আইসিডিডিআরবিতে বিভিন্ন দায়িত্বে কাজ করেছেন।   তার গবেষণার মূল ক্ষেত্র নবজাতক, শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য। জনস হপকিন্সের তথ্য অনুযায়ী, পিয়ার রিভিউড বৈজ্ঞানিক জার্নালে তার প্রায় ৩০০ গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। এর বেশ কয়েকটি গবেষণা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যনীতি ও কর্মসূচি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডা. বাকীকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া কিছু গল্পের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না। বিশেষ করে ‘জ্যাকসন হাইটসের বেসমেন্ট থেকে জনস হপকিন্সের গবেষক’, ‘একসময় টিউশনি করে চলতেন’ কিংবা তিনি নোয়াখালীর সন্তান, এমন দাবিগুলো জনস হপকিন্সের প্রকাশিত জীবনী ও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। একইভাবে তার গল্পে ‘কাঁদছে আমেরিকা’ ধরনের দাবিরও যাচাইযোগ্য ভিত্তি পাওয়া যায়নি।   এ কারণে তার প্রকৃত অর্জনই গল্পটির সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ। বাংলাদেশের গ্রাম থেকে পাওয়া গবেষণার ফল আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যনীতিতে জায়গা করে নেওয়া, নবজাতকের মৃত্যুহার কমানোর কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবন এবং স্থানীয় গবেষকদের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই ডা. আবদুল্লাহ বাকী ও তার সহকর্মীদের দীর্ঘ পথচলার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য।   জনস হপকিন্সের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রজন্মের গবেষণা থেকে তৈরি প্রমাণ এখন বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মা ও নবজাতককে প্রভাবিত করা স্বাস্থ্যনীতি ও কর্মসূচিতে অবদান রাখছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা এই বাংলাদেশি নেতৃত্বাধীন গবেষণা প্ল্যাটফর্ম দেখিয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ে শুরু হওয়া বৈজ্ঞানিক উদ্যোগও একসময় বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য নীতি বদলে দেওয়ার শক্তি অর্জন করতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ৯:৪৯
নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়া চীনের পরীক্ষামূলক ম্যাগলেভ ট্রেন। ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ৫ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতি, নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ল চীনের ট্রেন

চীনের একটি পরীক্ষামূলক ম্যাগলেভ যান স্থির অবস্থা থেকে মাত্র ৫ দশমিক ৩ সেকেন্ডে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। মধ্য চীনের হুবেই প্রদেশে এক কিলোমিটার দীর্ঘ বিশেষ পরীক্ষামূলক ট্র্যাকে এই পরীক্ষা চালানো হয়। অত্যন্ত অল্প দূরত্বে এত দ্রুত গতি অর্জনকে উচ্চগতির ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক প্রপালশন প্রযুক্তিতে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন গবেষকেরা।   তবে এটিকে যাত্রীবাহী বুলেট ট্রেন হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। পরীক্ষায় ব্যবহৃত যানটি ছিল প্রায় ১ দশমিক ১ টন ওজনের একটি ম্যাগলেভ মডেল ভেহিকল। এটি বর্তমানে যাত্রী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে না।   চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, হুবেইয়ের ইস্ট লেক ল্যাবরেটরির গবেষকেরা এক হাজার মিটার দীর্ঘ পরীক্ষামূলক ট্র্যাকে যানটি চালান। স্থির অবস্থা থেকে যাত্রা শুরুর পর প্রায় ৬০০ মিটারের মধ্যেই এটি ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার সর্বোচ্চ গতিতে পৌঁছে যায়।   সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, পুরো পরীক্ষাটি শেষ হয় মাত্র আট সেকেন্ডে। সর্বোচ্চ গতি অর্জনের পর একই পরীক্ষামূলক ট্র্যাকের মধ্যেই যানটিকে নিয়ন্ত্রিতভাবে থামানো সম্ভব হয়।   গবেষকদের দাবি, স্বল্প দূরত্বের ম্যাগলেভ অ্যাকসেলারেশন পরীক্ষায় এটি নতুন বিশ্বরেকর্ড। এই সাফল্যের পেছনে ব্যবহার করা হয়েছে পার্মানেন্ট ম্যাগনেট ইলেকট্রিক সাসপেনশন গাইডেন্স এবং ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক প্রপালশন প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবস্থা।   প্রচলিত ট্রেনের মতো ম্যাগলেভের চাকা রেলের সঙ্গে ঘর্ষণের মাধ্যমে চলে না। শক্তিশালী চৌম্বকীয় প্রযুক্তির সাহায্যে যানটি ট্র্যাকের ওপর ভাসমান অবস্থায় চলতে পারে। ফলে চাকা ও রেলের সরাসরি সংস্পর্শ না থাকায় অত্যন্ত উচ্চগতিতে চলার ক্ষেত্রে ঘর্ষণজনিত বাধা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।   তবে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতি অর্জন করাই একমাত্র চ্যালেঞ্জ ছিল না। এত অল্প দূরত্বে যানটির স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, সঠিক অবস্থান নির্ণয়, অত্যন্ত কম বিলম্বের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নির্ভুলভাবে মোটর নিয়ন্ত্রণের মতো প্রযুক্তিগত সমস্যাও সমাধান করতে হয়েছে গবেষকদের।   এই পরীক্ষার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে দ্রুত ব্রেকিং। ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছানোর পর যানটিকে এক কিলোমিটার দীর্ঘ ট্র্যাকের শেষ হওয়ার আগেই নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিতভাবে থামানো হয়েছে।   ইস্ট লেক ল্যাবরেটরির জন্য এটিই প্রথম গতির রেকর্ড নয়। একই গবেষণা দল ২০২৫ সালের জুনে পরীক্ষামূলক যানকে ঘণ্টায় ৬৫০ কিলোমিটার এবং জুলাইয়ে ঘণ্টায় ৭০০ কিলোমিটার গতিতে নিয়ে গিয়েছিল। এরপর ৮০০ কিলোমিটারের মাইলফলক স্পর্শ করে তারা নিজেদের আগের রেকর্ডও ভেঙেছে।   গবেষণাটির লক্ষ্য শুধু দ্রুতগতির ট্রেন তৈরি নয়। এক হাজার মিটারের এই পরীক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম ভবিষ্যতের ম্যাগলেভ পরিবহন ব্যবস্থা, অ্যারোস্পেস ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক লঞ্চ এবং অন্যান্য উচ্চগতির প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।   চীন একই সময়ে যাত্রী পরিবহনের জন্য আলাদাভাবে সিআর৪৫০ হাইস্পিড ট্রেনও পরীক্ষা করছে। সেই ট্রেন পরীক্ষায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫৩ কিলোমিটার গতি অর্জন করেছে এবং ভবিষ্যতে ঘণ্টায় ৪০০ কিলোমিটার বাণিজ্যিক গতিতে চালানোর জন্য তৈরি করা হচ্ছে।   সিআর৪৫০ এবং ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতির এই ম্যাগলেভ পরীক্ষাকে তাই এক করে দেখা যাবে না। সিআর৪৫০ পূর্ণাঙ্গ যাত্রীবাহী হাইস্পিড ট্রেন হিসেবে বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে ৮০০ কিলোমিটার গতির রেকর্ডটি একটি বিশেষ পরীক্ষামূলক ম্যাগলেভ মডেল ভেহিকলের।   ইস্ট লেক ল্যাবরেটরির এই পরীক্ষা দেখিয়েছে, অত্যন্ত সীমিত দূরত্বের মধ্যেও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি ভারী যানকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অস্বাভাবিক উচ্চগতিতে নিয়ে গিয়ে আবার নিয়ন্ত্রিতভাবে থামানো সম্ভব। এই প্রযুক্তি সরাসরি যাত্রী পরিবহনে কবে ব্যবহার করা যাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ভবিষ্যতের অতিদ্রুত পরিবহন ও অ্যারোস্পেস প্রযুক্তির গবেষণায় এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ৯:৩৯
ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে বড় ব্যবধানে জয়ী কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর। ছবি: সংগৃহীত
আবারো মিনেসোটায় ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে ভূমিধস জয় ইলহান ওমরের

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর। মঙ্গলবারের নির্বাচনে ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে টানা পঞ্চম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে যাওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন সোমালি বংশোদ্ভূত এই মার্কিন রাজনীতিক।   সিবিএস নিউজের প্রজেকশন অনুযায়ী, প্রাইমারিতে ইলহান ওমরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জুলি টি লে, আবেনা ম্যাকেঞ্জি, লাটোনিয়া রিভস ও নাট শ্লুটার। তবে তাদের কেউই বর্তমান কংগ্রেসওম্যানকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেননি।   মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট দীর্ঘদিন ধরেই ডেমোক্রেটিক পার্টির শক্ত ঘাঁটি। মিনিয়াপোলিসসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনকে মিনেসোটার সবচেয়ে ডেমোক্রেটিক ঝোঁকসম্পন্ন কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   ২০১৮ সালে প্রথমবার এই আসন থেকে কংগ্রেসে নির্বাচিত হন ইলহান ওমর। এরপর প্রতিটি নির্বাচনেই আসনটি ধরে রেখেছেন তিনি। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রায় ৫০ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ওমর। একই বছরের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে তার জয়ের ব্যবধান ছিল ১৩ পয়েন্ট।   এবারের প্রাইমারিতে পরিস্থিতি ছিল আরও স্বস্তিদায়ক। আগের কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় শক্তিশালী কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হতে হয়নি তাকে। শেষ পর্যন্ত ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়ায় নিজ দলের ভোটারদের মধ্যে তার শক্ত অবস্থান আবারও স্পষ্ট হলো।   ওমরের প্রধান রাজনৈতিক অবস্থানগুলোর একটি হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ইমিগ্রেশন নীতির বিরোধিতা। ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন ক্র্যাকডাউনের বিরুদ্ধে লড়াইকে নিজের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি। অন্যদিকে ট্রাম্পও দীর্ঘদিন ধরে ওমরের কঠোর সমালোচক।   প্রাইমারির ঠিক আগমুহূর্তে ইলহান ওমরের একটি টাউন হলের বাইরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের একজন আন্ডারকভার এজেন্টের উপস্থিতি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়।   ওমরের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬ আগস্ট রিচফিল্ডে তার টাউন হল চলাকালে কমিউনিটি সেন্টারের বাইরে ওই এজেন্টকে একটি গাড়িতে অবস্থান করতে দেখা যায়। বিষয়টি সামনে আসার পর ওমর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।   ওমরের অভিযোগ, ওই এজেন্ট কেন তার কংগ্রেশনাল অনুষ্ঠানের বাইরে অবস্থান করছিলেন এবং তিনি কীভাবে টাউন হলের বিষয়ে জানতে পেরেছিলেন, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। ওই কর্মকর্তা কোনো রাজনৈতিক নজরদারির অংশ হিসেবে সেখানে ছিলেন কি না, সেটিও জানতে চেয়েছেন তিনি।   তবে ওই এজেন্ট স্থানীয় পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তিনি একটি আন্ডারকভার ড্রাগ অপারেশনের কাজে সেখানে ছিলেন। এ কারণে ওমরের অনুষ্ঠানকে লক্ষ্য করে তাকে সেখানে পাঠানো হয়েছিল, এমনটি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়নি।   নিরাপত্তা নিয়ে ওমরের উদ্বেগের পেছনে সাম্প্রতিক আরেকটি ঘটনাও রয়েছে। গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে একটি টাউন হলের সময় এক ব্যক্তি তার দিকে এগিয়ে এসে একটি তরল পদার্থ ছুড়ে মারেন। পরে সেটি আপেল সিডার ভিনেগার হিসেবে শনাক্ত হয়। ঘটনার পরও ওমর অনুষ্ঠান চালিয়ে যান এবং জানান, তাকে ভয় দেখিয়ে থামানো যাবে না।   এদিকে পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের রিপাবলিকান প্রাইমারিতে জন নাগেল ৫২ দশমিক ১ শতাংশ ভোট নিয়ে জয়ী হওয়ার প্রজেকশন পেয়েছেন। ফলে নভেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে ইলহান ওমরের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে যাচ্ছেন তিনি।   তবে ডিস্ট্রিক্টটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফল বিবেচনায় সাধারণ নির্বাচনে ইলহান ওমরই শক্তিশালী অবস্থানে থাকছেন। ১১ আগস্টের প্রাইমারিতে ৮০ শতাংশের বেশি ভোটের এই জয় সেই অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ৯:২৬
ইকুয়েডরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সেই চার মাস বয়সী শিশুকন্যা। ছবি: সংগৃহীত
শিশুকে হাসপাতালে ফেলে গেছে পরিবার, কেউ পাশ দিয়ে গেলেই মাথা তুলে তাকায় ফেরার অপেক্ষায়

বয়স মাত্র চার মাস। জীবনের প্রায় পুরো সময়টাই কেটে গেছে হাসপাতালের বিছানায়। ইকুয়েডরের গুয়াকিল শহরের ফ্রান্সিসকো দে ইকাজা বুস্তামান্তে শিশু হাসপাতালে গত মার্চ থেকে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এই শিশুকন্যা। পরিবারের কেউ তার দায়িত্ব নিতে না আসায় সম্ভাব্য পরিত্যাগের ঘটনা হিসেবে বিষয়টি তদন্ত করছে দেশটির প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয়।   শিশুটির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ইকুয়েডরে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মার্চে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে সেখানেই রয়েছে সে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটি বর্তমানে শারীরিকভাবে স্থিতিশীল এবং তাকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় যত্ন দেওয়া হচ্ছে।   তবে শিশুটিকে সত্যিই পরিবার পরিত্যাগ করেছে কি না এবং এর পেছনের পরিস্থিতি কী, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে ‘সম্ভাব্য পরিত্যাগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করছে ইকুয়েডরের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয়।   স্থানীয় কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে শিশুটির পরিবারের কেউ তার দায়িত্ব নিতে আসেননি। তার ভবিষ্যৎ সুরক্ষা ও আইনি অবস্থান কী হবে, সেটি নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষও কাজ করছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটিকে ঘিরে আরও একটি আবেগঘন বর্ণনা ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দাবি করা হচ্ছে, হাসপাতালের বিছানার পাশ দিয়ে কেউ হেঁটে গেলে শিশুটি মাথা তুলে তাকানোর চেষ্টা করে। যেন পরিচিত কাউকে খুঁজছে কিংবা কেউ তাকে কোলে নেবে সেই অপেক্ষায় রয়েছে।   তবে শিশুটি কেন এভাবে তাকায় বা সে কী অনুভব করছে, তা নিশ্চিতভাবে জানার কোনো উপায় নেই। হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতেও এই আচরণের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই বর্ণনাকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে না দেখে শিশুটিকে ঘিরে মানুষের আবেগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   চার মাস বয়সী একটি শিশুর দীর্ঘদিন হাসপাতালে পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বহু মানুষ তাকে দত্তক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। অনেকে আবার শিশুটির জন্য অর্থ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠাতে চান।   এরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিক সতর্কতা দিতে হয়। ফ্রান্সিসকো দে ইকাজা বুস্তামান্তে শিশু হাসপাতাল স্পষ্ট জানিয়েছে, হাসপাতাল কিংবা ইকুয়েডরের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কোনো দত্তক প্রক্রিয়া পরিচালনা করে না। শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট বিচারিক ও শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের।   একই সঙ্গে শিশুটির নামে অনলাইনে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েও সতর্ক করেছে হাসপাতাল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা শিশুটির জন্য কোনো ডোনেশন ক্যাম্পেইন শুরু করেনি এবং অর্থ পাঠানোর জন্য কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ফোন নম্বর কিংবা অন্য কোনো মাধ্যম অনুমোদন দেয়নি।   হাসপাতালের নাম বা শিশুটির ঘটনা ব্যবহার করে তৃতীয় পক্ষের কোনো অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগে টাকা না পাঠানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগের সঙ্গে হাসপাতালের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে।   শিশুটির ব্যক্তিগত পরিচয় ও পরিবারের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার কারণে তার ভবিষ্যৎ আইনি প্রক্রিয়ার অনেক তথ্যও জনসমক্ষে আসেনি।   আপাতত তার পৃথিবী হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং পরিচর্যাকারীদের ঘিরেই। তারা সার্বক্ষণিকভাবে শিশুটির চিকিৎসা ও যত্ন নিশ্চিত করছেন। একই সময়ে প্রসিকিউটররা খতিয়ে দেখছেন, কী পরিস্থিতিতে চার মাস বয়সী শিশুটিকে পরিবারের কাউকে ছাড়াই এত দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকতে হলো।   তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে শিশুটির পরবর্তী সুরক্ষা ব্যবস্থা নির্ধারণ করতে হবে। পরিবারে ফেরানো সম্ভব হবে কি না, নাকি অন্য কোনো আইনসম্মত সুরক্ষা ব্যবস্থায় তাকে নিতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে তদন্ত ও শিশু সুরক্ষা প্রক্রিয়ার ওপর।   জীবনের প্রথম চার মাসেই পরিবারের পরিবর্তে হাসপাতালকে আশ্রয় হিসেবে পাওয়া এই শিশুর ঘটনা এখন ইকুয়েডরে শিশু সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে। হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসকদের যত্নে সে নিরাপদ ও স্থিতিশীল থাকলেও তার স্থায়ী ঠিকানা কোথায় হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ৯:৬
কমান্ড সেন্টারের ভেতরে কর্তব্যরত মার্কিন নৌবাহিনীর নাবিক। ছবি:সংগৃহীত
টানা ২০৭ দিন সমুদ্রে মার্কিন রণতরী, নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে ৭ নৌসেনা নিহতের দাবি ইরানি সংবাদমাধ্যমের

মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে নৌসেনাদের মধ্যে গোলাগুলিতে সাতজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি। ১১ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়। তবে ঘটনাটি এখনো মার্কিন নৌবাহিনী বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। ফলে নিহতের সংখ্যা বা গোলাগুলির ঘটনা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে মোতায়েন থাকা রণতরীটিতে নৌসেনাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার পর পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। একপর্যায়ে নিজেদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে এবং এতে সাতজন নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্যের পক্ষে কোনো স্বাধীন মার্কিন সূত্রের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়নি।   ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের বিষয়টি অবশ্য আলাদাভাবে নিশ্চিত হয়েছে। মার্কিন সামরিক বিষয়ক সংবাদমাধ্যম স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের প্রতিবেদনে বলা হয়, রণতরীটি টানা ২০৭ দিন সমুদ্রে অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। এর আগে কোভিড-১৯ মহামারির সময় ইউএসএস ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার টানা ২০৬ দিন সমুদ্রে থাকার রেকর্ড করেছিল।    দীর্ঘ এই মোতায়েনের কারণে রণতরীটির নৌসেনাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ নিয়ে এরই মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে নৌসেনাদের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকা, সীমিত বিশ্রাম এবং পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রণতরীটিতে প্রায় ৫ হাজার নৌসেনা ও মেরিন দায়িত্ব পালন করেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মূলত একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী এবং এর সঙ্গে থাকে একাধিক যুদ্ধজাহাজ নিয়ে গঠিত ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানে রণতরীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর আগে ইরান একাধিকবার রণতরীটিকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি করলেও এসব দাবির কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড অস্বীকার করেছে। মার্চে সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছিল, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে আঘাত করেনি।    চলতি বছরের মার্চে আব্রাহাম লিংকে বিমান পরিচালনার সময় একজন মার্কিন নৌসেনা আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। মার্কিন পঞ্চম নৌবহর জানিয়েছিল, ঘটনাটি যুদ্ধজনিত ছিল না এবং আহত নৌসেনার অবস্থা জীবনহানির ঝুঁকিমুক্ত ছিল। পরে তাকে তীরে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।    ইরানি সংবাদমাধ্যমের সর্বশেষ দাবিটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি এবং ইরানের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা তীব্র। এর আগে ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার শাহরাম ইরানি দাবি করেছিলেন, তাদের বাহিনী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের বিরুদ্ধে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান চালিয়েছে। ইরানের এসব সামরিক দাবি অবশ্য আলাদাভাবে যাচাই করা যায়নি।    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সাতজন নৌসেনা নিহত হওয়ার দাবিটি এখনো শুধু ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে। মার্কিন নৌবাহিনী, প্রতিরক্ষা দপ্তর বা অন্য কোনো স্বাধীন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে ঘটনার নিশ্চিত তথ্য না আসা পর্যন্ত এটিকে নিশ্চিত মৃত্যু বা গোলাগুলির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ৮:৫৪
ফেডারেল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এজেন্ট। ছবি : সংগৃহীত।
মার্কিন নাগরিকের দিকে বন্দুক তাক করলেন আইসিই এজেন্ট, ভিডিওতে ধরা পড়ল ভয়ংকর মুহূর্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় এক মার্কিন নাগরিকের গাড়ি ঘিরে ধরে তার দিকে বন্দুক তাক করার অভিযোগ উঠেছে আইসিই এজেন্টের বিরুদ্ধে। নর্দার্ন ভার্জিনিয়ার ফলস চার্চ এলাকায় ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার ড্যাশক্যাম ও সেলফোন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আইসিই এজেন্টদের আচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির দাবি, ওই নারী গাড়ি ব্যবহার করে এজেন্টদের ক্ষতি করার চেষ্টা করেছিলেন।   ঘটনাটি ঘটে সোমবার, ১০ আগস্ট বিকেলে। ওই নারীর নাম ক্যারোলিনা মোলিনা। তিনি একজন মার্কিন নাগরিক এবং লাইসেন্সধারী প্রফেশনাল কাউন্সেলর। ইমিগ্রেশন কেসে অ্যাটর্নিদের সঙ্গে কাজ করে তিনি সাইকোলজিক্যাল ইভ্যালুয়েশনও করে থাকেন।   এনবিসি ওয়াশিংটন ও ফক্স ৫ ডিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় মোলিনা কলাম্বিয়া পাইকের কাছে বিভিন্ন ল অফিসে নিজের বিজনেস কার্ড দিতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি আইসিই এজেন্টদের দুই ব্যক্তিকে আটক করতে দেখেন।   মোলিনার ভাষ্য অনুযায়ী, আইসিই এজেন্টদের পাশ দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি তাদের উদ্দেশে ক্ষুব্ধ মন্তব্য করেন। এরপর তিনি সেখান থেকে চলে যান। পরে একটি অফিসে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন হওয়ায় গাড়ি ঘুরিয়ে আবার ওই এলাকায় আসেন।   ড্যাশক্যাম ভিডিওতে দেখা যায়, কিছুক্ষণের মধ্যে দুটি এসইউভি তার গাড়ির সামনে ও পেছনে অবস্থান নেয়। এরপর মুখ ঢাকা কয়েকজন এজেন্ট গাড়ির কাছে এগিয়ে আসেন। একজন এজেন্ট তাকে প্রশ্ন করেন, তিনি তাদের অনুসরণ করছেন কি না। মোলিনা তা অস্বীকার করেন।   পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেলফোন ভিডিওতে এক এজেন্টকে মোলিনার বিরুদ্ধে গাড়ি দিয়ে তাদের চাপা দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ করতে শোনা যায়। একই সময় ওই এজেন্টের হাতে বন্দুক দেখা যায়। ভিডিওতে তাকে মোলিনার গাড়ির ড্রাইভার সাইডের জানালার কাছে অস্ত্র হাতে কথা বলতে দেখা গেছে।   একপর্যায়ে এজেন্ট তাকে গ্রেফতারের হুমকিও দেন। জবাবে মোলিনা জানান, তিনি একজন মার্কিন নাগরিক। এজেন্ট তখন বলেন, এতে তার কিছু যায় আসে না।   মোলিনা আইসিই এজেন্টদের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তার গাড়িতে ড্যাশক্যাম রয়েছে এবং পুরো ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। এনবিসি ওয়াশিংটনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এজেন্ট গাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় থেকেই তার হাতে বন্দুক ছিল। ভিডিওতে ধারণ হওয়া পুরো মুখোমুখি অবস্থানটি প্রায় ৫০ সেকেন্ড স্থায়ী হয়।   ফক্স ৫ ডিসিকে মোলিনা বলেন, তাকে গাড়ি থেকে নামতে বলা হয়নি এবং গ্রেফতারও করা হয়নি। পরে তাকে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে দেওয়া হয়। তার দাবি, তিনি কাউকে গাড়ি দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেননি।   ঘটনার পর মোলিনা বলেন, পরিস্থিতি যেভাবে দ্রুত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল, তাতে তিনি আতঙ্কিত হয়েছেন। তার পরিবার ও সন্তান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে জড়ানোর ইচ্ছা তার ছিল না।   তবে মোলিনার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি। সংস্থাটির দাবি, ফলস চার্চে আইসিই একটি নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট অপারেশন পরিচালনা করছিল। এ সময় এক আইসিইবিরোধী ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে এজেন্টদের আশপাশে ঘোরাঘুরি করেন এবং গাড়িকে ব্যবহার করে তাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করেন।   ডিএইচএসের দাবি, নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার পর আইসিই এজেন্টরা ওই গাড়ি থামান এবং চালকের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। ওই নারীর বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে ক্রিমিনাল প্রসিকিউশন হতে পারে বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে। তবে বুধবার পর্যন্ত মোলিনাকে গ্রেফতার করা হয়নি।   ডিএইচএস আরও জানিয়েছে, ওই দিনের অভিযানে হিট অ্যান্ড রান ও ড্রাগ ট্রাফিকিংয়ের মতো অপরাধে অভিযুক্ত এবং ফাইনাল রিমুভাল অর্ডার থাকা ব্যক্তিদের টার্গেট করা হয়েছিল।   ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর আইসিই এজেন্টের বন্দুক বের করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মোলিনার দাবি, একজন মার্কিন নাগরিক হিসেবে এজেন্টদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করার অধিকার তার রয়েছে এবং সেই মন্তব্যের কারণে তার বিরুদ্ধে এ ধরনের শক্তি প্রদর্শন যুক্তিসঙ্গত ছিল না।   অন্যদিকে ডিএইচএস বলছে, এজেন্টরা সম্ভাব্য বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে নিজেদের প্রশিক্ষণ অনুযায়ী কাজ করেছেন। ফলে ঘটনাটিকে ঘিরে এখন দুই পক্ষের সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছে। তবে ড্যাশক্যাম ও সেলফোনে ধারণ হওয়া ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ায় নর্দার্ন ভার্জিনিয়ায় চলমান আইসিই অভিযানের সময় এজেন্টদের বলপ্রয়োগ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে আচরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ৮:৪১
জোহরান কোয়ামে মামদানি। ছবি:সংগৃহীত
ধনীদের বাড়িতে কর বসাতে বাধা , মামদানির পরিকল্পনা আটকাল আদালতে

নিউইয়র্ক সিটির বিলাসবহুল সেকেন্ড হোমের ওপর নতুন পিয়েদ-আ-তের ট্যাক্স কার্যকরের প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছেন স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের এক বিচারক। নিজেদের প্রাইমারি রেসিডেন্সকেও ভুলভাবে এই ট্যাক্সের আওতাভুক্ত করা হয়েছে অভিযোগ করে কয়েকজন বাড়ির মালিক মামলা করার পর আদালত এ আদেশ দেন।   রিচমন্ড কাউন্টি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ওয়েন ওজি সোমবার একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আদালতের নির্দেশে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সকে প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার আবাসিক প্রপার্টির একটি প্রকাশিত তালিকা সরিয়ে নিতে বলা হয়। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে পাঠানো নোটিশের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতেও সাময়িকভাবে বাধা দেওয়া হয়।   তবে এই আদেশের পর নিউইয়র্ক সিটি আপিল করেছে। আপিলের কারণে বিচারকের অস্থায়ী আদেশের কার্যকারিতা আপাতত স্থগিত হয়েছে। মামলার পরবর্তী হিয়ারিং নির্ধারিত রয়েছে ৩১ আগস্ট। ফলে নতুন ট্যাক্সের বাস্তবায়ন নিয়ে আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি।   মূল বিরোধ ট্যাক্সটি বৈধ কি না, তা নিয়ে নয়। মামলাকারীদের আপত্তির কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে ট্যাক্স কার্যকরের পদ্ধতি। তাদের অভিযোগ, কোন বাড়ি প্রকৃতপক্ষে সেকেন্ড হোম তা আগে নিশ্চিত করার বদলে সিটি কর্তৃপক্ষ বিপুলসংখ্যক প্রপার্টিকে সম্ভাব্য তালিকায় রেখেছে এবং অনেক মালিকের ওপর নিজেদের বাড়ি প্রাইমারি রেসিডেন্স প্রমাণ করার দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে।   নিউইয়র্ক সিটির নতুন পিয়েদ-আ-তের ট্যাক্স মূলত এমন উচ্চমূল্যের আবাসিক প্রপার্টির জন্য, যেগুলো মালিকের প্রধান বাসস্থান নয়। চলতি বছরের শুরুতে মেয়র জোহরান মামদানি ও গভর্নর ক্যাথি হোকুল এই উদ্যোগ সামনে আনেন। তাদের লক্ষ্য ছিল বিলাসবহুল সেকেন্ড হোম থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করে নিউইয়র্ক সিটির বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়তা করা।   প্রাথমিক প্রস্তাবে ৫০ লাখ ডলার বা তার বেশি মূল্যের বিলাসবহুল সেকেন্ড হোমকে লক্ষ্য করার কথা বলা হলেও পরে অনুমোদিত কাঠামোয় প্রপার্টির ধরন অনুযায়ী মূল্যসীমা নির্ধারণ করা হয়। এক থেকে তিন পরিবারের বাড়ির ক্ষেত্রে ৫০ লাখ ডলার বা তার বেশি মূল্য এবং কন্ডো ও কো-অপের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ১০ লাখ ডলার থেকে ট্যাক্সের আওতায় আসার সুযোগ রাখা হয়েছে।   কিন্তু বাস্তবায়নের শুরুতেই বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়। প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার প্রপার্টির তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি প্রায় ১৭ হাজার বাড়ির মালিককে নোটিশ পাঠানো হয়। এর মধ্যে এমন অনেক মালিক রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, যারা সংশ্লিষ্ট বাড়িতেই নিয়মিত বসবাস করেন এবং সেটিই তাদের প্রাইমারি রেসিডেন্স।   মামলাটি করেছেন র‍্যাচেল ও’ব্রায়েন, কারমাইন মোরানো ও সাইমন হেডলি। তাদের দাবি, সিটির পদ্ধতির কারণে প্রকৃত নিউইয়র্কবাসীকেও অপ্রয়োজনীয়ভাবে নিজেদের বসবাসের প্রমাণ দিতে হচ্ছে। মামলায় তারা ট্যাক্সের মূল উদ্দেশ্যের পরিবর্তে এটি বাস্তবায়নে ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের ব্যবহৃত প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।   মামদানি প্রশাসনের যুক্তি, নিউইয়র্কে উচ্চমূল্যের সেকেন্ড হোম থাকা ধনী ও শহরের বাইরে বসবাসকারী মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করা হলে সাধারণ নিউইয়র্কবাসীর ওপর নতুন চাপ না দিয়েই গুরুত্বপূর্ণ সিটি সার্ভিসে অর্থায়ন সম্ভব হবে। মেয়র ও গভর্নর উদ্যোগটি ঘোষণার সময় বছরে প্রায় ৫০ কোটি ডলার রাজস্ব আসতে পারে বলে ধারণা দিয়েছিলেন।   তবে নিউইয়র্ক সিটি কম্পট্রোলারের অফিসের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ট্যাক্সটির নকশা ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রকৃত রাজস্ব নির্ভর করবে। তাদের হিসাবে বছরে সর্বোচ্চ প্রায় ৫১ কোটি ডলার সংগ্রহ সম্ভব হলেও বিভিন্ন অনিশ্চয়তার কারণে তা ৩৪ কোটি থেকে ৩৮ কোটি ডলারের মধ্যেও নেমে আসতে পারে।   এখন আদালতের সামনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, সিটি কর্তৃপক্ষ ট্যাক্সের আওতাভুক্ত প্রপার্টি চিহ্নিত করতে আইনসম্মত ও যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করেছে কি না। ৩১ আগস্টের পরবর্তী কোর্ট হিয়ারিংয়ে এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা আসতে পারে। তার আগে মামদানি প্রশাসনের বহুল আলোচিত এই নতুন ট্যাক্সের বাস্তবায়ন ঘিরে আইনি অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ৮:২৪
গোলাম রুহানি ও বিপ্লব। ছবি:সংগৃহীত
চাকরি হারালেন রাব্বানীর ভাই ও বিপ্লব কুমারসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা

ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহানী এবং আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সরকারসহ ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। বুধবার, ১২ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।   সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় দেওয়া ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।   বরখাস্ত হওয়া ছয় কর্মকর্তা হলেন কক্সবাজার ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাশ, ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহানী, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের উপপুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং সুদীপ কুমার চক্রবর্তী।   এদের মধ্যে গোলাম রুহানী ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই। তিনি বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা এবং একসময় ডিএমপির রমনা জোনে দায়িত্ব পালন করেছেন।   ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার ঘটনায় রুহানীর বিরুদ্ধে এর আগেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। সে সময় সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, তিনি ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।   বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে বিপ্লব কুমার সরকার দীর্ঘদিন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কর্মস্থলে অনুপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের যে তালিকা সামনে আসে, সেখানে তার নামও ছিল।   সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও কাজী আশরাফুল আজীমের নামও এর আগে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা পুলিশ কর্মকর্তাদের তালিকায় আসে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং বিভিন্ন অভিযোগে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার।   এর আগে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে পুলিশের ৫৭ কর্মকর্তাকে বরখাস্তের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার তথ্য সামনে আসে। সেই তালিকায় সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, বিপ্লব কুমার সরকার, প্রলয় কুমার জোয়ারদার, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, নূরে আলম মিনাসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নাম ছিল।   তবে বুধবারের পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিপ্লব কুমার সরকার, গোলাম রুহানীসহ এই ছয় কর্মকর্তার ক্ষেত্রে সরকার চূড়ান্তভাবে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানাল।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ৭:৫৭
ভারতে সরকারিভাবে গোমূত্র সংগ্রহ ।ছবি:সংগৃহীত
ভারতে সরকারিভাবে গোমূত্র সংগ্রহ শুরু, লিটারপ্রতি ২০ রুপি দেয়ার পরিকল্পনা

ভারতের উত্তর প্রদেশে কৃষকদের কাছ থেকে গোমূত্র সংগ্রহের পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু হয়েছে। রাজ্যের বুলন্দশহরের ১৫টি গ্রামে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে প্রতি লিটার গোমূত্র সর্বোচ্চ ২০ রুপি দরে কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে কৃষকদের পাশাপাশি গোমূত্র সংগ্রহে যুক্ত গ্রামীণ নারীদেরও বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরির কথা বলা হচ্ছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর প্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের উদ্যোগে প্রকল্পটি পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য গরু পালনকে আরও লাভজনক করা এবং দুধ দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া গরু পালনে কৃষকদের আর্থিক উৎসাহ তৈরি করা।   বুলন্দশহরের সায়ানা তহসিলের নরসাইনা গ্রামকে কেন্দ্র করে একটি কৃষক উৎপাদক সংগঠনের মাধ্যমে গোমূত্র সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটির আওতায় থাকা ১৫টি গ্রাম থেকে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ লিটার গোমূত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি লিটার গোমূত্র ২০ রুপি পর্যন্ত দামে কেনা হতে পারে। সংগ্রহ করা গোমূত্র সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোতে ২০০ লিটার ধারণক্ষমতার ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে।   প্রকল্পটিতে স্থানীয় নারীদেরও যুক্ত করা হয়েছে। গ্রামে গোমূত্র সংগ্রহে সহায়তাকারী নারীরা প্রতি লিটারের জন্য ২ রুপি কমিশন পাচ্ছেন। প্রায় ৩০০ নারী এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং তাদের প্রকল্পের শেয়ারহোল্ডার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংগৃহীত গোমূত্র কৃষিকাজে ব্যবহারের উপযোগী বিভিন্ন পণ্য তৈরির কাঁচামাল হিসেবে কাজে লাগানো হবে। রাসায়নিকনির্ভর কৃষি উপকরণের কিছু বিকল্প তৈরির সম্ভাবনাও এই প্রকল্পের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।   উত্তর প্রদেশ সরকারের প্রত্যাশা, গরু দুধ দেওয়া বন্ধ করার পরও যদি গোমূত্র বিক্রি করে কৃষকরা আয় করতে পারেন, তাহলে ওই গরুগুলো পালন চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের আর্থিক প্রণোদনা তৈরি হবে। রাজ্যটিতে পরিত্যক্ত ও ভবঘুরে গবাদিপশুর সমস্যা দীর্ঘদিন ধরেই একটি আলোচিত বিষয়।   পরীক্ষামূলক প্রকল্পের ফলাফল ইতিবাচক হলে গোমূত্র সংগ্রহ ও কেনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নীতিমালা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর বুলন্দশহরের বাইরে উত্তর প্রদেশের অন্যান্য এলাকাতেও এই ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হতে পারে।   তবে প্রকল্পটি নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। উত্তর প্রদেশের প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি উদ্যোগটিকে ‘কেলেঙ্কারি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, উন্নয়নের নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করতেই এমন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।   সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র মোহাম্মদ আজম খান প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। রাজ্যের গোশালা এবং সেখানে থাকা গরুগুলোর পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবে কোনো উন্নয়ন আনবে না।   বিরোধীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দলটির মুখপাত্র হিরো বাজপাই বলেছেন, রাজ্য সরকার কোনো উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নিলেই সমাজবাদী পার্টি তাতে ত্রুটি খোঁজে। প্রকল্পটির মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী আর্থিকভাবে উপকৃত হতে পারে বলেও দাবি করেছেন তিনি।   তবে প্রকল্পটি নিয়ে রাজনৈতিক পক্ষগুলোর এসব বক্তব্য তাদের নিজস্ব দাবি। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর এর অর্থনৈতিক কার্যকারিতা, কৃষকদের আয় এবং সংগৃহীত গোমূত্রের বাণিজ্যিক ব্যবহার কতটা সফল হয়, তার ওপরই রাজ্যজুড়ে প্রকল্পটি সম্প্রসারণের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ৭:৫৩
ড্রাইভিং এ ফেল হওয়ার প্রতীকী।ছবি:সংগৃহীত
নিউইয়র্কে ড্রাইভিং টেস্টে ফেল হওয়ার বড় ৩ কারণ, শুরুতেই যা যাচাই করেন ইন্সপেক্টর

নিউইয়র্কে ড্রাইভার লাইসেন্সের রোড টেস্ট দিতে গিয়ে ছোট একটি ভুলও পরীক্ষার্থীর ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে স্টপ সাইনে পুরোপুরি না থামা, ব্লাইন্ড স্পট না দেখা, লেন পরিবর্তনের আগে যথাযথ পর্যবেক্ষণ না করা এবং প্যারালাল পার্কিংয়ে নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো ভুল এড়াতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেয় নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিক্যালস বা ডিএমভি।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া রোড টেস্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যে অতিরঞ্জিত ও ভুল দাবিও রয়েছে। যেমন, ‘৯০ শতাংশ বাংলাদেশি তিনটি নির্দিষ্ট ভুলে ফেল করেন’ এমন কোনো পরিসংখ্যান নিউইয়র্ক ডিএমভি প্রকাশ করেছে বলে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না। একইভাবে পরীক্ষক গাড়িতে ওঠার ‘প্রথম ১০ সেকেন্ডেই’ নির্দিষ্ট সংখ্যক পয়েন্ট কেটে দেন, এমন দাবিরও সরকারি ভিত্তি পাওয়া যায়নি।   রোড টেস্টে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো চারপাশের ট্রাফিক সম্পর্কে সচেতন থাকা। গাড়ি চালানো শুরু করা, লেন পরিবর্তন, পার্কিং বা অন্য কোনো ম্যানুভারের সময় শুধু মিররের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্লাইন্ড স্পটও পরীক্ষা করতে হবে। পরীক্ষক দেখতে চান, চালক আশপাশের গাড়ি, পথচারী ও সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন কি না।   স্টপ সাইনেও নিয়মটি পরিষ্কার। নিউইয়র্ক ডিএমভির ড্রাইভার্স ম্যানুয়াল অনুযায়ী, স্টপ সাইনে গাড়িকে সম্পূর্ণ থামাতে হবে। স্টপ লাইন থাকলে তার আগে থামতে হবে। স্টপ লাইন না থাকলেও ক্রসওয়াক থাকলে সেটিতে প্রবেশের আগে থামতে হবে। কোনোটিই না থাকলে ইন্টারসেকশনে ঢোকার আগে এমন স্থানে থামতে হবে, যেখান থেকে অন্য দিকের ট্রাফিক দেখা যায়।   তবে ‘স্টপ সাইনে বাধ্যতামূলকভাবে তিন সেকেন্ড থামতে হবে’ এমন নির্দিষ্ট সময়সীমা নিউইয়র্ক ডিএমভির নিয়মে নেই। মূল শর্ত হলো গাড়ি সম্পূর্ণ থামানো এবং নিরাপদ হলে তবেই আবার চলা শুরু করা। ফলে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ‘তিন সেকেন্ডের নিয়ম’ মুখস্থ করার চেয়ে গাড়িকে সত্যিকার অর্থে সম্পূর্ণ থামানোর অভ্যাস করাই গুরুত্বপূর্ণ।   প্যারালাল পার্কিংও নিউইয়র্কের রোড টেস্টের অংশ। ডিএমভির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গাড়ি পেছনে নেওয়ার সময় চালককে গাড়ির চারপাশ এবং পেছনের এলাকা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ব্যাকআপ ক্যামেরা বা সেন্সর থাকলেও শুধু সেগুলোর ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। গাড়ির নিরাপদ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব চালকেরই।   লেন পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও পর্যবেক্ষণ এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। লেন পরিবর্তনের আগে সিগন্যাল দেওয়া, মিরর দেখা, প্রয়োজন অনুযায়ী ব্লাইন্ড স্পট পরীক্ষা করা এবং নিরাপদ জায়গা নিশ্চিত হওয়ার পর লেন পরিবর্তনের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। শুধু পরীক্ষায় পাস করার জন্য নয়, দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতেও এই অভ্যাস জরুরি।   রোড টেস্টের আগে গাড়িটিও পরীক্ষার উপযোগী অবস্থায় থাকতে হবে। ডিএমভি পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং গাড়ির শর্ত আগে থেকেই যাচাই করে নেওয়া ভালো। সিটবেল্ট ব্যবহারসহ মৌলিক নিরাপত্তার নিয়মগুলোও শুরু থেকেই মেনে চলতে হবে।   পরীক্ষার্থীদের আরেকটি সাধারণ ভুল হলো অতিরিক্ত নার্ভাস হয়ে খুব ধীরে বা অনিশ্চিতভাবে গাড়ি চালানো। পরীক্ষক শুধু দ্রুতগতির ভুল দেখেন না, চালক পরিস্থিতি অনুযায়ী নিরাপদ ও স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।   রোড টেস্টের ফল এখন নিউইয়র্ক ডিএমভির নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে পাওয়া যায়। ফলাফল দেখার পর কোন কোন দক্ষতায় ঘাটতি ছিল, সেগুলো চিহ্নিত করে পরবর্তী পরীক্ষার আগে অনুশীলন করা যায়।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রোড টেস্টের প্রস্তুতির সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘গোপন নিয়ম’ বা ‘নিশ্চিত পাসের কৌশল’কে সরকারি নিয়ম হিসেবে ধরে না নেওয়া। স্টপ সাইনে সম্পূর্ণ থামা, চারপাশ পর্যবেক্ষণ করা, ব্লাইন্ড স্পট দেখা, সঠিকভাবে সিগন্যাল ব্যবহার, নিরাপদ গতিতে গাড়ি চালানো এবং প্যারালাল পার্কিংসহ মৌলিক ড্রাইভিং দক্ষতায় ভালো প্রস্তুতিই নিউইয়র্কের রোড টেস্টে সফল হওয়ার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ৭:২১
বিবাহ জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর, উত্তরপ্রদেশের বিজেপি বিধায়ক জ্ঞান তিওয়ারি ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে তাঁর মেয়ে ডঃ প্রজ্ঞা তিওয়ারিকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীর পরিবারের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন। ছবি:সংগৃহীত
মেয়ের জামাই করেছেন ২৫ বিয়ে, শ্বশুর জানলেন আড়াই বছর পর

ভারতের উত্তর প্রদেশে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে একের পর এক নারীকে বিয়ে ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত প্রখর ত্রিবেদী প্রায় ২৫ নারীকে বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্যটির সেভাতা আসনের বিজেপি বিধায়ক জ্ঞান তিওয়ারি। তার নিজের মেয়েও প্রখরের সঙ্গে বিয়ের পর প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন তিনি।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীতাপুরের বিজেপি বিধায়ক জ্ঞান তিওয়ারি এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার অভিযোগ, প্রখর ত্রিবেদী ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন এবং বিয়ে করতেন। এভাবে প্রায় ২৫ নারী তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।   জ্ঞান তিওয়ারির অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রখরের সঙ্গে তার মেয়ে প্রজ্ঞা তিওয়ারির বিয়ে হয়। প্রখরের বাবা অনুজ ত্রিবেদী উত্তর প্রদেশের মিসরিখ এলাকার বাসিন্দা। বিয়ের আগে অনুজ নিজেকে মুম্বাইয়ের একজন প্রতিষ্ঠিত আবাসন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন বলে দাবি বিধায়কের।   বিধায়কের অভিযোগ, বিয়ের সময় প্রখরের অতীত সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা হয়েছিল। বিয়ের প্রস্তাব আসার পর পরিবারটি স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর নেয় এবং বিভিন্ন পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করে। তখন সন্দেহজনক কিছু জানতে না পারায় বিয়েতে সম্মতি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।   তবে বিয়ের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। জ্ঞান তিওয়ারির দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার পরিবার প্রখরের অতীত সম্পর্কে জানতে শুরু করে। এরপরই তার বিরুদ্ধে ভুয়া পরিচয়ে একাধিক নারীকে বিয়ে এবং আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ সামনে আসে।   বিধায়কের অভিযোগ, প্রখর বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতেন। পরে তাদের বিয়ে করে অর্থ হাতিয়ে নিতেন। মহারাষ্ট্রসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে একই কৌশলে তিনি প্রায় ২৫টি বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা এখন পর্যন্ত পুলিশের তদন্তে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনা জানার পর জ্ঞান তিওয়ারি মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনেন এবং অভিযুক্ত পরিবারের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেন। তিনি প্রকাশ্যেও বিষয়টি সামনে এনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।   বিধায়কের অভিযোগের পর ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণাসহ প্রযোজ্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। প্রখরের বিরুদ্ধে অতীতে অন্য কোনো মামলা বা অভিযোগ রয়েছে কি না এবং কথিত ২৫টি বিয়ের দাবির পক্ষে কী ধরনের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়, সেগুলোও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।   ঘটনাটি সামনে আসার পর উত্তর প্রদেশে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। একজন ক্ষমতাসীন দলের বিধায়কের পরিবারই এমন অভিযোগের শিকার হওয়ায় বিয়ের আগে পরিচয় ও অতীত যাচাইয়ের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে প্রখর ত্রিবেদী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলোকে পুলিশের কাছে করা দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১২, ২০২৬ ৭:১০