- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
নিউইয়র্কে ড্রাইভার লাইসেন্সের রোড টেস্ট দিতে গিয়ে ছোট একটি ভুলও পরীক্ষার্থীর ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে স্টপ সাইনে পুরোপুরি না থামা, ব্লাইন্ড স্পট না দেখা, লেন পরিবর্তনের আগে যথাযথ পর্যবেক্ষণ না করা এবং প্যারালাল পার্কিংয়ে নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো ভুল এড়াতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেয় নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিক্যালস বা ডিএমভি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া রোড টেস্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যে অতিরঞ্জিত ও ভুল দাবিও রয়েছে। যেমন, ‘৯০ শতাংশ বাংলাদেশি তিনটি নির্দিষ্ট ভুলে ফেল করেন’ এমন কোনো পরিসংখ্যান নিউইয়র্ক ডিএমভি প্রকাশ করেছে বলে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না। একইভাবে পরীক্ষক গাড়িতে ওঠার ‘প্রথম ১০ সেকেন্ডেই’ নির্দিষ্ট সংখ্যক পয়েন্ট কেটে দেন, এমন দাবিরও সরকারি ভিত্তি পাওয়া যায়নি। রোড টেস্টে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো চারপাশের ট্রাফিক সম্পর্কে সচেতন থাকা। গাড়ি চালানো শুরু করা, লেন পরিবর্তন, পার্কিং বা অন্য কোনো ম্যানুভারের সময় শুধু মিররের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্লাইন্ড স্পটও পরীক্ষা করতে হবে। পরীক্ষক দেখতে চান, চালক আশপাশের গাড়ি, পথচারী ও সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন কি না। স্টপ সাইনেও নিয়মটি পরিষ্কার। নিউইয়র্ক ডিএমভির ড্রাইভার্স ম্যানুয়াল অনুযায়ী, স্টপ সাইনে গাড়িকে সম্পূর্ণ থামাতে হবে। স্টপ লাইন থাকলে তার আগে থামতে হবে। স্টপ লাইন না থাকলেও ক্রসওয়াক থাকলে সেটিতে প্রবেশের আগে থামতে হবে। কোনোটিই না থাকলে ইন্টারসেকশনে ঢোকার আগে এমন স্থানে থামতে হবে, যেখান থেকে অন্য দিকের ট্রাফিক দেখা যায়। তবে ‘স্টপ সাইনে বাধ্যতামূলকভাবে তিন সেকেন্ড থামতে হবে’ এমন নির্দিষ্ট সময়সীমা নিউইয়র্ক ডিএমভির নিয়মে নেই। মূল শর্ত হলো গাড়ি সম্পূর্ণ থামানো এবং নিরাপদ হলে তবেই আবার চলা শুরু করা। ফলে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ‘তিন সেকেন্ডের নিয়ম’ মুখস্থ করার চেয়ে গাড়িকে সত্যিকার অর্থে সম্পূর্ণ থামানোর অভ্যাস করাই গুরুত্বপূর্ণ। প্যারালাল পার্কিংও নিউইয়র্কের রোড টেস্টের অংশ। ডিএমভির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গাড়ি পেছনে নেওয়ার সময় চালককে গাড়ির চারপাশ এবং পেছনের এলাকা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ব্যাকআপ ক্যামেরা বা সেন্সর থাকলেও শুধু সেগুলোর ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। গাড়ির নিরাপদ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব চালকেরই। লেন পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও পর্যবেক্ষণ এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। লেন পরিবর্তনের আগে সিগন্যাল দেওয়া, মিরর দেখা, প্রয়োজন অনুযায়ী ব্লাইন্ড স্পট পরীক্ষা করা এবং নিরাপদ জায়গা নিশ্চিত হওয়ার পর লেন পরিবর্তনের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। শুধু পরীক্ষায় পাস করার জন্য নয়, দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতেও এই অভ্যাস জরুরি। রোড টেস্টের আগে গাড়িটিও পরীক্ষার উপযোগী অবস্থায় থাকতে হবে। ডিএমভি পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং গাড়ির শর্ত আগে থেকেই যাচাই করে নেওয়া ভালো। সিটবেল্ট ব্যবহারসহ মৌলিক নিরাপত্তার নিয়মগুলোও শুরু থেকেই মেনে চলতে হবে। পরীক্ষার্থীদের আরেকটি সাধারণ ভুল হলো অতিরিক্ত নার্ভাস হয়ে খুব ধীরে বা অনিশ্চিতভাবে গাড়ি চালানো। পরীক্ষক শুধু দ্রুতগতির ভুল দেখেন না, চালক পরিস্থিতি অনুযায়ী নিরাপদ ও স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। রোড টেস্টের ফল এখন নিউইয়র্ক ডিএমভির নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে পাওয়া যায়। ফলাফল দেখার পর কোন কোন দক্ষতায় ঘাটতি ছিল, সেগুলো চিহ্নিত করে পরবর্তী পরীক্ষার আগে অনুশীলন করা যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রোড টেস্টের প্রস্তুতির সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘গোপন নিয়ম’ বা ‘নিশ্চিত পাসের কৌশল’কে সরকারি নিয়ম হিসেবে ধরে না নেওয়া। স্টপ সাইনে সম্পূর্ণ থামা, চারপাশ পর্যবেক্ষণ করা, ব্লাইন্ড স্পট দেখা, সঠিকভাবে সিগন্যাল ব্যবহার, নিরাপদ গতিতে গাড়ি চালানো এবং প্যারালাল পার্কিংসহ মৌলিক ড্রাইভিং দক্ষতায় ভালো প্রস্তুতিই নিউইয়র্কের রোড টেস্টে সফল হওয়ার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ।
ভারতের উত্তর প্রদেশে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে একের পর এক নারীকে বিয়ে ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত প্রখর ত্রিবেদী প্রায় ২৫ নারীকে বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্যটির সেভাতা আসনের বিজেপি বিধায়ক জ্ঞান তিওয়ারি। তার নিজের মেয়েও প্রখরের সঙ্গে বিয়ের পর প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীতাপুরের বিজেপি বিধায়ক জ্ঞান তিওয়ারি এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার অভিযোগ, প্রখর ত্রিবেদী ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন এবং বিয়ে করতেন। এভাবে প্রায় ২৫ নারী তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। জ্ঞান তিওয়ারির অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রখরের সঙ্গে তার মেয়ে প্রজ্ঞা তিওয়ারির বিয়ে হয়। প্রখরের বাবা অনুজ ত্রিবেদী উত্তর প্রদেশের মিসরিখ এলাকার বাসিন্দা। বিয়ের আগে অনুজ নিজেকে মুম্বাইয়ের একজন প্রতিষ্ঠিত আবাসন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন বলে দাবি বিধায়কের। বিধায়কের অভিযোগ, বিয়ের সময় প্রখরের অতীত সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা হয়েছিল। বিয়ের প্রস্তাব আসার পর পরিবারটি স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর নেয় এবং বিভিন্ন পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করে। তখন সন্দেহজনক কিছু জানতে না পারায় বিয়েতে সম্মতি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে বিয়ের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। জ্ঞান তিওয়ারির দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার পরিবার প্রখরের অতীত সম্পর্কে জানতে শুরু করে। এরপরই তার বিরুদ্ধে ভুয়া পরিচয়ে একাধিক নারীকে বিয়ে এবং আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ সামনে আসে। বিধায়কের অভিযোগ, প্রখর বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতেন। পরে তাদের বিয়ে করে অর্থ হাতিয়ে নিতেন। মহারাষ্ট্রসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে একই কৌশলে তিনি প্রায় ২৫টি বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা এখন পর্যন্ত পুলিশের তদন্তে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনা জানার পর জ্ঞান তিওয়ারি মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনেন এবং অভিযুক্ত পরিবারের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেন। তিনি প্রকাশ্যেও বিষয়টি সামনে এনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিধায়কের অভিযোগের পর ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণাসহ প্রযোজ্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। প্রখরের বিরুদ্ধে অতীতে অন্য কোনো মামলা বা অভিযোগ রয়েছে কি না এবং কথিত ২৫টি বিয়ের দাবির পক্ষে কী ধরনের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়, সেগুলোও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর উত্তর প্রদেশে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। একজন ক্ষমতাসীন দলের বিধায়কের পরিবারই এমন অভিযোগের শিকার হওয়ায় বিয়ের আগে পরিচয় ও অতীত যাচাইয়ের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে প্রখর ত্রিবেদী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলোকে পুলিশের কাছে করা দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
নিজের হাতে পুরো ডিসার্টেশন লেখার পরও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল যুক্তরাজ্যের এক মেডিকেল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। নিখুঁত ব্যাকরণ, লেখার একই ধরনের ছন্দ এবং কিছু বিরামচিহ্নের ব্যবহার দেখে তার কাজ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন একজন পরীক্ষক। অভিযোগ প্রমাণিত ধরে প্রথমে তার নম্বর সীমিত করে দেওয়া হয় এবং বিষয়টি ভবিষ্যৎ চিকিৎসক হিসেবে তার পেশাগত রেকর্ডেও প্রভাব ফেলতে পারত। তবে দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়ার পর অভিযোগ থেকে মুক্তি পান তিনি এবং শেষ পর্যন্ত ডিসার্টেশনে পূর্ণ নম্বর পান। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট অ্যান্ড্রুজের মেডিকেল শিক্ষার্থী হ্যারিসন শার্পলসের সঙ্গে ঘটনাটি ঘটে। গত বছরের আগস্টে ২০ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী জানতে পারেন, তার ডিসার্টেশনে এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে একাডেমিক অসদাচরণের অভিযোগ তোলা হয়েছে। শার্পলসের ডিসার্টেশনের বিষয় ছিল হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের উদ্বেগ কমাতে প্লে থেরাপির প্রভাব। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তার কাজ দুজন মানব পরীক্ষক মূল্যায়ন করেন। তাদের একজন লেখাটিতে সম্ভাব্য এআই ব্যবহারের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। বিবিসির দেখা পরীক্ষকের নোটে শার্পলসের লেখার অত্যন্ত পরিশীলিত ও একই ধরনের ভাষাশৈলী নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় ধারাবাহিকভাবে প্রায় নিখুঁত ব্যাকরণ, বাক্য ও অনুচ্ছেদের গঠনে মিল এবং লেখার কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা। একই সঙ্গে তার লেখায় এম ড্যাশের ব্যবহারও সন্দেহের কারণগুলোর একটি হিসেবে উঠে আসে। শার্পলস অবশ্য শুরু থেকেই দাবি করেন, পুরো ডিসার্টেশন তিনি নিজেই লিখেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কাজটি শেষ করার জন্য তার হাতে পর্যাপ্ত সময় ছিল এবং বিষয়টি নিয়ে লিখতেও তিনি আগ্রহী ছিলেন। ফলে এআই ব্যবহার করার প্রয়োজনই তিনি অনুভব করেননি। অভিযোগ ওঠার পর তাকে ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিনের একটি প্যানেলের সামনে অনলাইন শুনানিতে অংশ নিতে হয়। সেখানে ডিসার্টেশনে ব্যবহৃত বিভিন্ন শব্দ ও মেডিকেল টার্মের অর্থ জানতে চাওয়া হয়। শার্পলস পরে জানান, এমন ধরনের প্রশ্নের জন্য তিনি প্রস্তুত ছিলেন না এবং শুনানিতে নিজের অবস্থান প্রত্যাশামতো তুলে ধরতে পারেননি। প্রথম শুনানির এক সপ্তাহ পর তাকে জানানো হয়, এআই ব্যবহারের অভিযোগ বহাল রাখা হয়েছে। এর ফলে তার ডিসার্টেশনের গ্রেড সীমিত করে দেওয়া হয়। বিষয়টি তার ভবিষ্যৎ চিকিৎসা পেশার রেকর্ডেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানতে পেরে তিনি সিদ্ধান্তটির বিরুদ্ধে আপিল করেন। শার্পলসের আপিলের অন্যতম ভিত্তি ছিল প্রথম শুনানির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন। আপিল গৃহীত হওয়ার পর দ্বিতীয়বার তার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়। নতুন শুনানিতে তার লেখার প্রক্রিয়া ও কীভাবে তিনি ডিসার্টেশন তৈরি করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। দ্বিতীয় শুনানিতে শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে এআই ব্যবহারের অভিযোগ বহাল থাকেনি। পরে ডিসার্টেশনের জন্য তাকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হয়। তবে পুরো প্রক্রিয়ার কারণে তার পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে এবং গ্র্যাজুয়েশনও পিছিয়ে যায়। ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিবিসিকে জানিয়েছে, তারা কোনো শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত মামলার বিস্তারিত নিয়ে মন্তব্য করে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চিত করেছে, ওই শিক্ষার্থীর আপিল গ্রহণের সিদ্ধান্তটি প্রথম শুনানির আয়োজনসংক্রান্ত একটি প্রক্রিয়াগত সমস্যার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় আরও জানিয়েছে, উচ্চশিক্ষায় এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এবং বৃহত্তর শিক্ষা খাতের সঙ্গে কাজ করছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের লেখায় এআই ব্যবহার শনাক্ত করা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। শার্পলসের ঘটনা দেখিয়েছে, শুধু লেখার ধরন, নিখুঁত ব্যাকরণ বা নির্দিষ্ট বিরামচিহ্নের মতো বৈশিষ্ট্যকে সন্দেহের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করলে মানুষের নিজের লেখা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
চাকরিপ্রার্থীদের সরাসরি নিয়োগদাতা ও কর্মসংস্থান সহায়তা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে কুইন্সে চাকরি নিয়োগ মেলা আয়োজন করতে যাচ্ছে নিউইয়র্ক সিটি। অনুষ্ঠানটি ২৫ আগস্ট ২০২৬, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানের স্থান দ্য গ্রেটার অ্যালেন এএমই ক্যাথেড্রাল অব নিউইয়র্ক, ১১০-৩১ মেরিক বুলেভার্ড, কুইন্স। এখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ, নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, কর্মদক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত সহায়তা পাওয়া যাবে। চাকরিপ্রার্থীদের আগেভাগে নিবন্ধন করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে পরিপাটি পেশাগত পোশাক, ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র এবং কয়েক কপি জীবনবৃত্তান্ত সঙ্গে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। কিছু নিয়োগদাতা ঘটনাস্থলেই সাক্ষাৎকার নিতে পারেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের চাকরির সুযোগের পাশাপাশি জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, চাকরির আবেদন এবং কর্মজীবন উন্নয়ন সম্পর্কিত সহায়তাও পাওয়া যাবে। নিউইয়র্ক সিটি বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের চাকরির মেলার মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ করে দিচ্ছে। বিশেষ করে নতুন চাকরি খুঁজছেন এমন ব্যক্তি ও কর্মজীবন পরিবর্তনে আগ্রহীদের জন্য এসব আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করছে।
কাবুলে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পাঁচ বছর পরও মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত লাখো কিশোরী; নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উদ্বেগ ইউনেস্কোর। তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পাঁচ বছর পর আফগানিস্তানে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছে প্রায় ২৪ লাখ মেয়ে। এতে দেশটির মেয়েদের শিক্ষায় গত দুই দশকে অর্জিত অগ্রগতির বড় অংশই কার্যত পিছিয়ে গেছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউনেস্কো আফগান মেয়েদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় ফেরার অধিকার ‘অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে’ পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছে। ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তান বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে মেয়েদের প্রাথমিক স্তরের পর শিক্ষা গ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ। ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সেনারা দুই দশকের যুদ্ধ শেষে আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার শুরু করার সময় তালেবান আবার ক্ষমতা দখল করে। এরপর ধাপে ধাপে মেয়েদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর ফলে আগের দুই দশকে মেয়েদের শিক্ষায় যে অগ্রগতি হয়েছিল, তা বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়ে। ইউনেস্কো বলছে, ২০০১ সালে আফগান মেয়েদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত। কিন্তু ২০২১ সালের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ মেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষায় ভর্তি হয়েছিল। পাঁচ বছর পর সেই শিক্ষাব্যবস্থা থেকে প্রায় ২৪ লাখ মেয়ে বাইরে রয়েছে। ইউনেস্কোর জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ক হোদা জাবেরিয়ান বলেন, পাঁচ বছর কোনো শিশুর শিক্ষাজীবনে সাময়িক বিরতি নয়। এটি প্রায় পুরো একটি মাধ্যমিক শিক্ষাচক্রের সমান সময়। শুধু শিক্ষাই নয়, তালেবানের বিভিন্ন নীতির প্রভাব নারীদের কর্মজীবন ও সামাজিক জীবনেও পড়েছে। অধিকাংশ বেতনভুক্ত চাকরি ও জনসম্মুখের পেশায় নারীদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণের ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে। ইউনেস্কোর ভাষায়, নারীদের জনজীবন থেকে কার্যত সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একটি নতুন প্রজন্ম শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে বেড়ে উঠছে, যা তাদের ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। শিক্ষাবঞ্চনার অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও সতর্ক করেছে সংস্থাটি। আফগানিস্তানের প্রায় অর্ধেক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত থাকায় পরিবারে তাদের আর্থিক অবদান এবং দেশের অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ—দুই ক্ষেত্রেই ক্ষতি হচ্ছে। মেয়েদের দীর্ঘদিন স্কুলের বাইরে রাখার ফলে বাল্যবিবাহের ঝুঁকি, মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে ইউনেস্কো। এর প্রভাব পড়ছে ছেলেদের শিক্ষার ওপরও। ইউনেস্কোর মতে, নারী শিক্ষকদের ছেলেদের পড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা শিক্ষক সংকট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং সামগ্রিকভাবে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ বন্ধ থাকলেও মেয়েদের শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত রাখতে বিকল্প কর্মসূচি চালাচ্ছে ইউনেস্কো। কমিউনিটিভিত্তিক শিক্ষা, সাক্ষরতা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মানসিক সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ এসব উদ্যোগে অংশ নিয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৭৩ শতাংশ নারী। স্থানীয় কমিউনিটি স্পেস ও প্রশিক্ষকদের বাড়িতেও কিছু শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব কর্মসূচিতে এক হাজারের বেশি সাক্ষরতা প্রশিক্ষক যুক্ত রয়েছেন। ইউনেস্কো বলছে, এসব বিকল্প কর্মসূচি কিছু ক্ষেত্রে পরিবারের আয় ও জীবিকার উন্নতিতে সহায়তা করেছে। তবে এগুলো কোনোভাবেই আনুষ্ঠানিক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার বিকল্প হতে পারে না। ইউনেস্কোর কর্মকর্তারা বলছেন, আফগান মেয়েদের শিক্ষা কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়; এটি তাদের মৌলিক মানবাধিকার। তাই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের দাবি থেকে সরে আসবে না সংস্থাটি। তালেবান সরকারের ওপর জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংগঠন, বিভিন্ন দেশ ও ইসলামি বিশ্বের পক্ষ থেকে বারবার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হলেও এখন পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষার ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়নি। ফলে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পাঁচ বছর পর আফগানিস্তানে একটি পুরো প্রজন্মের মেয়ের শিক্ষা থমকে আছে—যে অগ্রগতি দুই দশকে তৈরি হয়েছিল, তা এখন দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে স্যান্ডউইচ কামড়ে বন্দুকের আকৃতি তৈরি করে সহপাঠীর দিকে সেটি তাক করার অভিযোগে ৬ বছরের এক অটিজম আক্রান্ত শিশুকে স্কুল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে শিশুটির বাবা-মা এখন স্কুলের শাস্তিমূলক নীতি এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের প্রতি এর প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শিশুটির নাম জন মেদিনা। গত মার্চে ফায়েট কাউন্টির সারাহ হার্প এলিমেন্টারি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে পড়ার সময় তাকে সাময়িকভাবে স্কুল থেকে বরখাস্ত করা হয়। জনের বাবা-মা ক্রিস্টিন ও হুয়ান ‘রিকি’ মেদিনা জানিয়েছেন, তাদের ছেলে চার বছর বয়সে অটিজমে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়। পরে তার এডিএইচডিও শনাক্ত করা হয়। এসব বিকাশগত অবস্থার কারণে সামাজিক আচরণ ও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া বোঝা তার জন্য কখনো কখনো কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানান তারা। তাদের দাবি, জন পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী হলেও স্কুলে তার আচরণকে ঘিরে ২০২৩ সাল থেকে প্রায় ১৫ বার সাময়িক বরখাস্ত এবং দুই ডজনের বেশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাবা-মায়ের ভাষ্য, এর মধ্যে কিছু ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কারণ থাকলেও বেশ কয়েকটি ঘটনা ছিল তুলনামূলকভাবে নিরীহ। যেমন হাত দিয়ে বন্দুকের ভঙ্গি করা, ‘বন্দুক’ শব্দটি বলা কিংবা খেলাচ্ছলে অস্ত্রের ছবি আঁকার মতো আচরণও স্কুলের নজরে এসেছে। স্যান্ডউইচের ঘটনাটি তাদের কাছে বিশেষভাবে হতাশাজনক হয়ে ওঠে। দুপুরের খাবারের সময় জন স্যান্ডউইচ কামড়ে বন্দুকের মতো আকৃতি তৈরি করে এবং সেটি সহপাঠীর দিকে তাক করে। স্কুল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এর পর তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। জনের মা ক্রিস্টিন বলেন, সন্তানকে শাস্তি দেওয়ার বদলে ঘটনাটিকে শেখানোর সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত ছিল। তার মতে, শিশুটিকে বোঝানো দরকার ছিল স্কুলে এ ধরনের আচরণ কেন উপযুক্ত নয় এবং কীভাবে সে পরিস্থিতিতে অন্যভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। পরিবারের অভিযোগ, স্কুলে ছোটখাটো আচরণও কখনো কখনো শাস্তির পর্যায়ে চলে যায়। তাদের দাবি, হাত দিয়ে বন্দুকের ইঙ্গিত করা বা ‘বন্দুক’ শব্দটি বলার মতো ঘটনাও স্কুলের শাস্তিমূলক ব্যবস্থায় জমা হতে থাকে এবং পরবর্তী সময়ে তা সাময়িক বরখাস্তের কারণ হয়ে ওঠে। তবে জনের বাবা-মা স্বীকার করেছেন, তাদের ছেলে কয়েকটি গুরুতর আচরণেও জড়িয়েছে। এর মধ্যে শরীরচর্চার ক্লাসে এক শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দেওয়া এবং একটি ডাল দিয়ে সহপাঠীকে আঘাত করার ঘটনাও রয়েছে। তবে তাদের মতে, এসব ঘটনার পাশাপাশি যেসব আচরণ তুলনামূলকভাবে নিরীহ, সেগুলোকেও একই ধরনের শাস্তির আওতায় আনা জনের আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বাবা-মায়ের দাবি, জন এখন নিজেকে কখনো কখনো ‘খারাপ ছেলে’ হিসেবে ভাবতে শুরু করেছে। স্কুলে বন্ধু তৈরি করতে তার সমস্যা হয় এবং বারবার শাস্তির কারণে সে নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা মনে করছে। পরিবারটির আরও অভিযোগ, জনের বিকাশগত সমস্যার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ সহায়তা পেতেও শুরুতে তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। ক্রিস্টিনের দাবি, প্রথম দিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষা পরিকল্পনা বা আইইপি দিতে রাজি হয়নি। কারণ হিসেবে তার একাডেমিক দক্ষতা এবং স্কুলে অটিজমের প্রভাব স্পষ্টভাবে না দেখার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছিল বলে জানান তিনি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় বছর, ১০ থেকে ১২টি সাময়িক বরখাস্ত এবং দ্বিতীয়বার মূল্যায়নের পর যেখানে এডিএইচডি শনাক্ত হয় জনের জন্য আইইপি অনুমোদন করা হয়। বর্তমানে জনের জন্য একটি আচরণগত পরিকল্পনা রয়েছে। স্কুলের তুলনামূলক অনিয়ন্ত্রিত সময় যেমন দুপুরের খাবার, বিরতি ও শরীরচর্চার সময় তার সঙ্গে একজন সহকারী থাকেন। পাশাপাশি শান্ত পরিবেশের ছোট একটি শ্রেণিকক্ষেও সে সময় কাটায়। সেখানে তার পারফরম্যান্স ভালো বলে জানিয়েছেন তার বাবা-মা। বিশেষ শিক্ষা বিষয়ে একজন পরামর্শককে পরিবারের পক্ষ থেকে নিয়োগ দেওয়ার পর স্কুলে সাময়িক বরখাস্তের ঘটনাও কমেছে বলে দাবি করেছেন তারা। অন্যদিকে, জনের বাবা-মা জানিয়েছেন, কঠোর শাস্তির বদলে আচরণগত সমস্যাগুলো নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলা এবং পরিস্থিতি থেকে শেখার সুযোগ তৈরি করাই বেশি কার্যকর হতে পারে। তাদের মতে, জনের একাডেমিক সক্ষমতাও তার সম্ভাবনার দিকটি স্পষ্ট করে। আগের শিক্ষাবর্ষের শেষে সে তৃতীয় শ্রেণির সমপর্যায়ের পড়ার দক্ষতা অর্জন করেছিল এবং মেধাবৃত্তিক বা প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে যোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফল থেকে মাত্র চার পয়েন্ট পিছিয়ে ছিল। ফায়েট কাউন্টি পাবলিক স্কুলস জনের নির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। তবে স্কুল জেলা জানিয়েছে, একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার ওপর গুরুত্ব না দিয়ে শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ শাস্তিমূলক ইতিহাস এবং ঘটনার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা উচিত। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের আচরণগত সমস্যা মোকাবিলায় শাস্তি বনাম সহায়ক শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে চলমান বিতর্ককেও সামনে এনেছে। জনের পরিবারের মূল দাবি নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখেও তার অটিজম ও বিকাশগত প্রয়োজনকে বিবেচনায় নিয়ে শাস্তির বদলে শেখানো ও সহায়তার সুযোগ বাড়ানো।
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে একটি ১৮-চাকার ট্রাক থেকে প্রায় ৭৯০ পাউন্ড মেথামফেটামিন জব্দ করেছে পুলিশ। ঘটনাটিকে অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে মেথামফেটামিন জব্দের অন্যতম বড় ঘটনা বলে উল্লেখ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। লিভিংস্টন প্যারিশ শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার ডেনহাম স্প্রিংস এলাকায় আই-১২ মহাসড়কে নিয়মিত ট্রাফিক স্টপের সময় ট্রাকটি থামানো হয়। এলাকাটি ব্যাটন রুজ শহর থেকে প্রায় ২০ মাইল দূরে। ট্রাকটির চালক হিসেবে অ্যান্টন ভিতালিয়েভিচ রাকভ নামে এক রুশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ তাকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বৈধ অনুমতি না থাকা এবং বহিষ্কারযোগ্য বিদেশি হিসেবে বর্ণনা করেছে। শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাকভকে আটকের পর ট্রাকটির ট্রেইলারে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে প্রায় ৩৫৮ দশমিক ১৪ কেজি বা ৭৮৯ দশমিক ৫৬ পাউন্ড মেথামফেটামিন উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা মাদকগুলো অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মোড়ানো বড় বড় প্যাকেটে রাখা ছিল। প্রকাশিত ছবিতে বিপুল পরিমাণ মাদক কয়েকটি বড় কনটেইনারে এবং টেবিলের ওপর সাজানো অবস্থায় দেখা যায়। একটি ছবিতে তদন্তকারীকে ট্রাকের ওপরের অংশ পরীক্ষা করতেও দেখা গেছে। লিভিংস্টন প্যারিশের শেরিফ জেসন আরড ঘটনাটিকে অঙ্গরাজ্যের অন্যতম বড় মেথামফেটামিন জব্দের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে ট্রাকটি ঠিক কী কারণে প্রথমে থামানো হয়েছিল, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি। গ্রেপ্তারের পর রাকভকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তিনি হেফাজতে রয়েছেন। এই জব্দের মাত্রা সাম্প্রতিক কয়েকটি বড় মাদক উদ্ধারের ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একই লিভিংস্টন প্যারিশে একটি ট্রাফিক স্টপের সময় প্রায় ৩৬১ পাউন্ড মেথামফেটামিন উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই মাদকের আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ৪০ লাখ ডলার বলে মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য জানিয়েছিল। এর আগে মার্চে ডিইএ, এফবিআই ও লুইজিয়ানা স্টেট পুলিশের সমন্বিত একটি মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স ১৮-চাকার একটি ট্রাক থেকে প্রায় ৩২৫ পাউন্ড মাদক উদ্ধার করে। মাদকগুলো আইসক্রিম ফ্রিজারের ভেতরে লুকানো বিশেষ ধাতব বাক্সে রাখা হয়েছিল। নতুন এই ঘটনায় বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি ট্রাকের চালকের অভিবাসন অবস্থাও সামনে এসেছে। তবে মাদকগুলো কোথা থেকে কোথায় নেওয়া হচ্ছিল এবং এই চালানের সঙ্গে আর কারা জড়িত—এসব বিষয়ে তদন্তকারীরা এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
মেক্সিকো ভ্রমণে বিদেশি ক্রুজযাত্রীদের খরচ আরও বাড়ছে। দেশটির জনপ্রিয় কয়েকটি ক্রুজ পর্যটনকেন্দ্রে নামা বিদেশি যাত্রীদের প্রবেশ ফি ৫ ডলার থেকে দ্বিগুণ করে ১০ ডলার করা হয়েছে। নতুন ফি গত ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। মেক্সিকোর ধাপে ধাপে কর ও ফি বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর আওতায় রয়েছে জনপ্রিয় ক্রুজ গন্তব্য কাবো সান লুকাস, পুয়ের্তো ভালার্তা, কোজুমেল ও কোস্টা মায়া। ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘দ্য পয়েন্টস গাই’-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ক্লিন্ট হেন্ডারসন বলেন, ভ্রমণের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কর ও ফি ক্রমেই বাড়ছে। ফলে মেক্সিকো ভ্রমণের মোট খরচও ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। তবে ১০ ডলারের এই ফি-ই শেষ নয়। মেক্সিকোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে ফি বেড়ে ১৫ ডলার হবে। এরপর ২০২৮ সালের ১ আগস্ট থেকে তা ২১ ডলারে উন্নীত হওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ, আগামী দুই বছরে জনপ্রিয় এসব পর্যটনকেন্দ্রে ক্রুজযাত্রীদের প্রবেশ ফি বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। মেক্সিকো অবশ্য এর আগে আরও বেশি ফি আরোপের পরিকল্পনা করেছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদেশি ক্রুজযাত্রীদের জন্য ৪২ ডলারের একটি ফি পুনর্বহাল করা হয়েছিল। তবে ক্রুজ শিল্পের ব্যাপক আপত্তির পর তা কমিয়ে ৫ ডলার করা হয়, যা ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছিল। এবার নতুন করে ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্তে ভ্রমণ খাতে খরচ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ক্রুজ ভ্রমণে গেলে যাত্রীসংখ্যা বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত ফি মোট খরচে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। শুধু মেক্সিকো নয়, সামগ্রিকভাবেই ক্রুজ ভ্রমণের খরচ বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি, খাবার, কর্মী ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন ক্রুজ কোম্পানিও অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করছে। এরই মধ্যে মালয়েশিয়াভিত্তিক স্টারড্রিম ক্রুজেস এশিয়াগামী কিছু ভ্রমণে দৈনিক জ্বালানি সারচার্জ চালু করেছে। যাত্রাপথ অনুযায়ী এই অতিরিক্ত ফি প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২৬ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়া সেলিব্রিটি ক্রুজেস প্রতিদিনের গ্র্যাচুইটি বা সেবা ফিও যাত্রীপ্রতি ১ দশমিক ৫০ ডলার বাড়িয়েছে। এ সিদ্ধান্ত নিয়েও যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ফলে মেক্সিকোর নতুন প্রবেশ ফি কেবল একটি অতিরিক্ত খরচ নয়; বরং কর, জ্বালানি ও সেবা ফি সব মিলিয়ে ক্রুজ ভ্রমণের সামগ্রিক ব্যয় বাড়ার একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ হয়ে উঠছে।
২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভিযানে ১৫৩ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ২৪৩ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পেন্টাগনের একটি মূল্যায়নের বরাত দিয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে মার্কিন সামরিক অভিযানে মাত্র দুজন বেসামরিক নিহত ও দুজন আহত হওয়ার কথা নথিভুক্ত হয়েছিল। মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেওয়া পেন্টাগনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে নথিভুক্ত বেসামরিক হতাহতের সব ঘটনাই ইয়েমেনে চালানো তিনটি মার্কিন হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ইয়েমেনে চালানো ওই তিন হামলার বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মূল্যায়নে দেখা যায়, এসব অভিযানে বেসামরিক মানুষের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল ‘সম্ভাব্যতার দিক থেকে বেশি’। তবে ইয়েমেনে মার্কিন সামরিক অভিযানের কারণে বেসামরিক হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। পেন্টাগনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইয়েমেনে আরও ১৫টি ঘটনার মূল্যায়ন চলছিল। বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে এসব ঘটনা তদন্ত করছে সেন্টকম। ইয়েমেনে মার্কিন সামরিক অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা। হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযান মূলত লোহিত সাগর ও আশপাশের জলপথে জাহাজ চলাচলের ওপর তাদের হামলার প্রেক্ষাপটে পরিচালিত হয়। তবে পেন্টাগনের নতুন হিসাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ক্যারিবীয় অঞ্চল ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ২০২৫ সালে মার্কিন বাহিনীর চালানো হামলায় হতাহতের তথ্য এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মার্কিন সাদার্ন কমান্ডের মূল্যায়নে তাদের দায়িত্বাধীন এলাকায় এমন কোনো ঘটনা পাওয়া যায়নি, যেখানে মার্কিন সামরিক অভিযানের কারণে বেসামরিক হতাহতের সম্ভাবনা ‘সম্ভাব্যতার দিক থেকে বেশি’ ছিল। তবে ওই দুই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযানে প্রাণহানি নিয়ে আলাদা বিতর্ক রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পরিবহনের অভিযোগে বেশ কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটন এসব লক্ষ্যবস্তুকে ‘নার্কো-টেররিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রকাশিত বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, এসব অভিযানে ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে এসব মৃত্যুর ঘটনা পেন্টাগনের ২০২৫ সালের বেসামরিক হতাহতের নতুন হিসাবের অংশ নয়। মাদকবাহী জাহাজে মার্কিন হামলার বৈধতা নিয়েও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এসব অভিযানের বৈধতা এবং লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে করা কিছু অভিযোগের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। ফলে পেন্টাগনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান শুধু ইয়েমেনে মার্কিন সামরিক অভিযানের বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতিকেই সামনে আনেনি; একই সঙ্গে সামরিক অভিযানের বৈধতা, বেসামরিক নাগরিক সুরক্ষা এবং বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি ব্যবহারের নীতি নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
ব্রঙ্কসের থ্রগস নেক এলাকায় বাড়ির সামনে এক ৩৪ বছর বয়সী নারীকে একাধিকবার গুলি করার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এখন দুই মুখোশধারী সন্দেহভাজনকে খুঁজছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত প্রায় ১০টা ১০ মিনিটে হলিউড অ্যাভিনিউতে ঘটনাটি ঘটে। ওই নারী গাড়ি নিয়ে বাড়ির সামনে পৌঁছানোর পর তার ১৫ বছর বয়সী ছেলে গেট খুলতে গাড়ি থেকে নামেন। এ সময় তিনি মাকে সতর্ক করার পরপরই গুলির শব্দ শোনা যায়। নারীটির বাম হাত ও নিতম্বে গুলি লাগে। তাকে দ্রুত জ্যাকোবি হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি বেঁচে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজনরা একটি ধূসর রঙের গাড়িতে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে একজন কালো নাইকি লেখা পোশাক পরেছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। গুলির কারণ বা ওই নারীকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ভুক্তভোগী সন্দেহভাজনদের চিনতেন কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের নজরদারি ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
আগামী ১২ আগস্ট আকাশপ্রেমীদের জন্য হতে যাচ্ছে বিশেষ একটি দিন। একই সময়ের কাছাকাছি একাধিক মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে—এর মধ্যে রয়েছে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, পারসিড উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ সময় এবং ভোরের আকাশে একসঙ্গে একাধিক গ্রহের উপস্থিতি। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি হলো সূর্যগ্রহণ। ১২ আগস্টের গ্রহণটি গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া, আটলান্টিক মহাসাগর, স্পেন ও পর্তুগালের একটি অংশ থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হিসেবে দেখা যাবে। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলসহ ইউরোপ ও উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে দেখা যাবে আংশিক সূর্যগ্রহণ। নিউইয়র্কে এটি হবে আংশিক সূর্যগ্রহণ। সেখানে গ্রহণ শুরু হবে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৭ মিনিটে, সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে ১টা ৫৪ মিনিটে এবং শেষ হবে ২টা ৩৮ মিনিটে। পুরো ঘটনাটি স্থায়ী হবে প্রায় ১ ঘণ্টা ৩১ মিনিট। সূর্যগ্রহণ দেখার সময় অবশ্যই প্রত্যয়িত সূর্যগ্রহণের চশমা ব্যবহার করতে হবে। সাধারণ সানগ্লাস দিয়ে সূর্যের দিকে তাকানো নিরাপদ নয়। এরপর রাতের আকাশে শুরু হবে আরেক আকর্ষণ—পারসিড উল্কাবৃষ্টি। নাসার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পারসিড উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ সময় হবে ১২ আগস্ট রাত থেকে ১৩ আগস্ট ভোর পর্যন্ত। এ বছর নতুন চাঁদের কারণে আকাশ তুলনামূলক অন্ধকার থাকবে, ফলে উল্কাবৃষ্টি দেখার পরিস্থিতিও বেশ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পারসিড উল্কাবৃষ্টি তৈরি হয় পৃথিবী যখন সুইফট-টাটল ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণার প্রবাহের মধ্য দিয়ে যায়। এসব ক্ষুদ্র কণা প্রচণ্ড গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে জ্বলে ওঠে, আর তখনই আকাশে দেখা যায় আলোর ঝলকানি। উপযুক্ত অন্ধকার আকাশে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০০টি পর্যন্ত উল্কা দেখা যেতে পারে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণভিত্তিক পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। সবচেয়ে ভালো দৃশ্য পাওয়ার জন্য শহরের আলো থেকে দূরে গিয়ে চোখকে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট অন্ধকারের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পর আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে বলা হয়েছে। তবে শুধু রাতের আকাশই নয়, ১২ আগস্ট ভোরের আগেও গ্রহ পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকবে। শনি, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, ইউরেনাস ও নেপচুন একই সময় আকাশে দৃশ্যমান থাকার কথা। তবে এগুলো আসলে মহাকাশে সরলরেখায় সারিবদ্ধ হয়ে থাকবে না; পৃথিবী থেকে একই আকাশপটে একসঙ্গে দেখা যাওয়াকেই সাধারণভাবে গ্রহের সারিবদ্ধতা বলা হয়। শনি ও বৃহস্পতি তুলনামূলক সহজে শনাক্ত করা গেলেও ইউরেনাস দেখতে দূরবীন এবং নেপচুন পর্যবেক্ষণে টেলিস্কোপের প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ, ১২ আগস্ট দিনের আকাশে সূর্যগ্রহণ আর রাতের আকাশে পারসিড উল্কাবৃষ্টি—এর সঙ্গে ভোরের গ্রহ পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে আকাশপ্রেমীদের জন্য তৈরি হচ্ছে বিরল এক মহাজাগতিক আয়োজন। তবে আবহাওয়া পরিষ্কার না থাকলে এসব দৃশ্য দেখা কঠিন হতে পারে। তাই যারা এই মহাজাগতিক প্রদর্শনী দেখতে চান, তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হলো আলো দূষণমুক্ত জায়গা বেছে নেওয়া এবং আকাশ পরিষ্কার থাকার বিষয়টি আগে থেকেই নিশ্চিত করা।
যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুক্তরাজ্যের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পণ্য রপ্তানি ১৫ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানি ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রায় ৭০ কোটি পাউন্ডে নেমেছে। ফলে দুই দেশের মোট পণ্য বাণিজ্য বেড়ে প্রায় ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে এবং যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ-সংক্রান্ত বাণিজ্যঘাটতিও বেড়েছে। বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাজ্য গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজারগুলোর একটি। বাংলাদেশ হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানির বড় অংশই তৈরি পোশাক। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার বড় অংশজুড়ে ছিল নিট ও ওভেন পোশাক। সর্বশেষ এক বছরের পরিসংখ্যানেও সেই চিত্রই স্পষ্ট। যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির মধ্যে তৈরি পোশাকের মূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন পাউন্ড। এর বাইরে টেক্সটাইল ফেব্রিক, প্রক্রিয়াজাত মাছ, জুতা এবং অন্যান্য পণ্যও যুক্তরাজ্যের বাজারে যাচ্ছে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ওপর তৈরি পোশাক খাতের নির্ভরতা এখনও অনেক বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও দেশের মোট পণ্য রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি এসেছে পোশাক খাত থেকে। তবে ওই অর্থবছরে বাংলাদেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ০ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক বৈদেশিক বাণিজ্যেও ২০২৬ সালের মার্চে রপ্তানি বেড়েছিল। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের হিসাবে, ওই মাসে যুক্তরাজ্যের মোট পণ্য রপ্তানি আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাজ্যের বাজারের গুরুত্ব আরও বাড়ছে সম্ভাব্য বাণিজ্য সুবিধার কারণে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার ধরে রাখা ও বাণিজ্য সুবিধা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের জন্য এই বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে। তাই শুধু তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভর না করে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, জুতা এবং অন্যান্য উচ্চমূল্যের পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সার্বিকভাবে, এক বছরে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি ১৫ শতাংশ বাড়ার তথ্য দেশটির বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শক্ত অবস্থান এবং বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নিউইয়র্ক সিটির গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও নিরাপদ করতে এবার কিউ৮ বাস রুটে চালু হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ। শুক্রবার থেকেই এই রুটে বাস স্টপ আটকে রাখা, ডাবল পার্কিং কিংবা অবৈধভাবে বাস লেন ও বাসওয়ে ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি (এমটিএ)। এখন থেকে রাস্তায় কোনো ট্রাফিক পুলিশ উপস্থিত না থাকলেও বাসে সংযুক্ত ক্যামেরার মাধ্যমেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্ত করে জরিমানার নোটিশ পাঠানো হবে। কুইন্সের জ্যামাইকা বাস টার্মিনাল থেকে ব্রুকলিনের গেটওয়ে মল পর্যন্ত চলাচলকারী কিউ৮ বাসটি ১০১তম অ্যাভিনিউ হয়ে দুই বরোর মধ্যে বিপুল সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করে। ব্যস্ততম এই রুটে প্রতিদিনের যানজট ও বিশৃঙ্খলা এড়াতেই এমটিএ এই অটোমেটেড ক্যামেরা এনফোর্সমেন্ট কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। নতুন এই নিয়মের আওতায় কোনো গাড়ির মালিক প্রথমবার অবৈধভাবে বাস লেন ব্যবহার বা পার্কিং করলে তাকে ৫০ ডলার জরিমানা গুনতে হবে। তবে একই গাড়ি বারবার নিয়ম ভাঙলে জরিমানার পরিমাণ ধাপে ধাপে বেড়ে সর্বোচ্চ ২৫০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এমটিএ কর্তৃপক্ষের মতে, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য কেবল জরিমানা আদায় করা নয়, বরং বাস চলাচলে অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা দূর করে যাত্রীদের মূল্যবান সময় বাঁচানো। বাস স্টপ বা বাস লেন অন্য গাড়ির দখলে থাকলে বাসগুলোকে বাধ্য হয়ে অন্য লেনে যেতে হয়, যা যাত্রীদের ওঠানামা ও সামগ্রিক সড়ক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। চলতি বছর নিউইয়র্ক সিটির ১৪তম বাস রুট হিসেবে কিউ৮-এ এই প্রযুক্তি যুক্ত হলো। ফলে এখন থেকে এই রুটের আশপাশে গাড়ি চালানো বা পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে চালকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, অন্যথায় ক্যামেরার চোখ ফাঁকি দিয়ে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে প্রথম সেমিস্টারে পরীক্ষার ফল প্রকাশের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনছে। আগামী শরৎ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন এই গ্রেডিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। নতুন ব্যবস্থার আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব লিটারেচার, সায়েন্স অ্যান্ড দ্য আর্টস-এ ভর্তি হওয়া প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রথম সেমিস্টারে প্রচলিত লেটার গ্রেড পাবেন না। তাদের সরকারি একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টে শুধু কোনো কোর্সের ক্রেডিট অর্জিত হয়েছে কি না তা উল্লেখ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে, কলেজটির শিক্ষার্থীরাই মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট প্রায় ৮ হাজার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীর অর্ধেকের কাছাকাছি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, কলেজজীবনের প্রথম ধাপে শিক্ষার্থীদের নতুন পরিবেশ ও পড়াশোনার চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে গ্রেডের কারণে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক ক্ষতির ভয় ছাড়াই শিক্ষার্থীরা নতুন বিষয় বা তুলনামূলক কঠিন কোনো কোর্স বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রথম সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের কোনো গ্রেডই থাকবে না। শিক্ষকেরা অভ্যন্তরীণভাবে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত গ্রেড সংরক্ষণ করবেন। এসব তথ্য সম্মাননা, বৃত্তি ও অন্যান্য একাডেমিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে, সরকারি ট্রান্সক্রিপ্টে প্রথম সেমিস্টারের লেটার গ্রেড না থাকায় শিক্ষার্থীদের জিপিএতেও ওই সেমিস্টারের গ্রেডের প্রভাব পড়বে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থাটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। আগামী শরৎকালে এর বিস্তারিত কাঠামো, বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে। কেন এমন পরিবর্তন? বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, কলেজের প্রথম বছর বিশেষ করে প্রথম সেমিস্টার অনেক শিক্ষার্থীর জন্য বড় ধরনের পরিবর্তনের সময়। নতুন পরিবেশ, পড়াশোনার চাপ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের সঙ্গে অনেকেই মানসিকভাবে লড়াই করেন। ফলে একটি খারাপ গ্রেড যেন পুরো একাডেমিক জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব না ফেলে, সেই সুযোগ তৈরি করতেই নতুন পদ্ধতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষায় গ্রেডের মান, গ্রেড বাড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা এবং কলেজে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতি নিয়ে বিতর্ক চলছে। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও গ্রেড বাড়ার প্রবণতা নিয়ে তথ্য সামনে এসেছে। এমলাইভের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের ৭৪ দশমিক ১ শতাংশ গ্রেড ‘এ’ পর্যায়ে ছিল। এক দশক আগে এই হার ছিল ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের গ্রেডিং নিয়ে ভিন্ন ধরনের উদ্যোগ রয়েছে। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির মতো বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য তুলনামূলক নমনীয় গ্রেডিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য এক নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতাদের একটি অংশ সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, প্রথম সেমিস্টারের গ্রেড নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গ্রেডের চাপ কমলে শিক্ষার্থীরা শুধু ভালো ফলের পেছনে না ছুটে শেখার দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন। তবে সমালোচকরাও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের আশঙ্কা, প্রথম সেমিস্টারে সরকারি ট্রান্সক্রিপ্টে গ্রেড না থাকলে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক মান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা অস্পষ্টতা তৈরি হতে পারে। কেউ কেউ এটিকে উচ্চশিক্ষায় একাডেমিক মানদণ্ড আরও শিথিল করার প্রবণতা হিসেবেও দেখছেন। সব মিলিয়ে, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষায় গ্রেড, মানসিক স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক চাপের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। আগামী শরৎ থেকে শুরু হওয়া পাইলট কর্মসূচির ফলাফলই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে এই পদ্ধতি কতটা কার্যকর হয়।
এটি ১২ আগস্ট ২০২৬-এর সর্বশেষ ঘটনা। উত্তর কোরিয়া বুধবার পূর্ব উপকূলের ওয়ানসান এলাকা থেকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে সাগরে পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে উৎক্ষেপণ করা হয়। জাপানও এটিকে সম্ভাব্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে শনাক্ত করেছে। জাপানের অর্থনৈতিক জলসীমায় এটি পড়েনি বলে জানানো হয়েছে। এই উৎক্ষেপণের সময়টিই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ১৭ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ সামরিক মহড়া শুরু হওয়ার কথা। ১১ দিনের এই মহড়ায় প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে দেখে আসছে। ফলে বড় ধরনের মহড়ার আগে পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এটি এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। এর আগে ৬ আগস্টও দেশটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান উৎক্ষেপণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সিউল জরুরি জাতীয় নিরাপত্তা বৈঠক করেছে এবং পিয়ংইয়ংকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন করে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণটি যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি করেনি। তবে ওয়াশিংটন দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক মহড়ার আগে এই ধরনের অস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা হতে পারে। একই সঙ্গে পিয়ংইয়ং তার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আরও উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে মহড়াকে কেন্দ্র করে উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা নিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির কারণে তুরস্ক সফর শেষে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় তাকে বিমান পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছিল মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনী। ঘটনাটি নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা যায়, তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠানো হলেও সেটি ছিল মূলত বিভ্রান্তিমূলক ব্যবস্থা। ট্রাম্পকে পরে গোপনে বিমানবন্দরের একটি যানবাহনের মাধ্যমে অন্য একটি সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ওয়াশিংটন পোস্ট ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সম্ভাব্য হুমকির কারণে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্প নিজেও পরে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিনি সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণ করেছেন। তবে হুমকির সুনির্দিষ্ট ধরন সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেননি বলে জানান। এর আগে ট্রাম্প তুরস্ক থেকে যুক্তরাজ্য যাওয়ার সময় পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করার বিষয়টিকে প্রকাশ্যে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। পরে গোপন নিরাপত্তা অভিযানের তথ্য সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের দাবি এদিকে ইরান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর এখন যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরান আর মধ্যপ্রাচ্যের ‘বুলি’ হিসেবে আগের অবস্থানে নেই। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য এই জলপথের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা বা জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও পণ্যের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তবে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এটি ট্রাম্পের বক্তব্য। এই দাবির সমর্থনে স্বাধীন কোনো পূর্ণাঙ্গ সামরিক মূল্যায়ন এই মুহূর্তে পাওয়া যায়নি। তাই প্রতিবেদনে এটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে। কেন ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ? একদিকে ট্রাম্পের বিমান পরিবর্তনের ঘটনা ইরান-সংক্রান্ত সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের দাবি ইরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনার নতুন মাত্রা তুলে ধরছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্টের অবস্থান গোপন রাখতে এয়ার ফোর্স ওয়ানকে বিভ্রান্তিমূলকভাবে ব্যবহার এবং ট্রাম্পকে আলাদা সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়ার তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় তার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান—দুটিই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার নতুন ইঙ্গিত হিসেবে সামনে এসেছে।
প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা করেছেন বারবার। ভোটের রাজনীতিতে সফল হতে পারেননি। কিন্তু ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে কখনোই হারিয়ে যাননি মোহসেন রেজাই। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় বিপ্লবী গার্ডের নেতৃত্ব দেওয়া সেই প্রবীণ সামরিক কর্মকর্তা এবার দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নীতি নির্ধারণী সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তীব্র সংঘাতের মধ্যে তার এই উত্থানকে ইরানের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে কট্টর অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। রোববার (৯ আগস্ট) ৭১ বছর বয়সী রেজাইকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি মোহাম্মদ বাঘের জোলগাদরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতিনিধিত্বও করবেন এই গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কাঠামোয়। রেজাইয়ের উত্থান বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ে। মাত্র ২৭ বছর বয়সে ১৯৮১ সালে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফ হন তিনি। এরপর টানা ১৬ বছর, ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বাহিনীটির নেতৃত্ব দেন। আট বছরের ইরান-ইরাক যুদ্ধের প্রায় পুরো সময়ই বিপ্লবী গার্ডের নেতৃত্বে ছিলেন রেজাই। সেই যুদ্ধই তাকে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার অন্যতম পরিচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করে। তার নেতৃত্বের সময় আইআরজিসি শুধু একটি সামরিক বাহিনী হিসেবেই নয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবেও বিস্তার লাভ করে। ১৯৯৭ সালে সামরিক দায়িত্ব ছাড়ার পরও ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে সরে যাননি রেজাই। তাকে এক্সপিডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিলের সেক্রেটারি করা হয়। সংসদ ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তিসহ ইরানের নীতিনির্ধারণী ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই পরিষদের। পরে অর্থনীতি নিয়েও সক্রিয় হন রেজাই। অর্থনীতিতে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা এক্সপিডিয়েন্সি কাউন্সিলের সামষ্টিক অর্থনীতি ও বাণিজ্য কমিশনের নেতৃত্বও দিয়েছেন। অর্থাৎ যুদ্ধক্ষেত্রের কমান্ডার থেকে ধীরে ধীরে অর্থনীতি, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের ভেতরে নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি। তবে জনগণের সরাসরি ভোটের পরীক্ষায় রেজাইয়ের সাফল্য নেই। ২০০৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হলেও ভোটের মাত্র দুই দিন আগে তিনি সরে দাঁড়ান। ২০০৯ সালের নির্বাচনে মাত্র ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। ২০১৩ সালে প্রায় ১০ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে চতুর্থ হন। ২০২১ সালেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জিততে পারেননি। অর্থাৎ ব্যালট বাক্স তাকে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে পৌঁছে দিতে পারেনি। কিন্তু ইরানের ক্ষমতার কাঠামোয় তার প্রভাব কখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। সেই রেজাই এখন এমন এক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পদে ফিরলেন, যখন ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সামরিক ও নিরাপত্তা নিয়োগগুলোতে পুরোনো এবং কট্টরপন্থী বিপ্লবী গার্ড নেতৃত্বের প্রভাব বেড়েছে। আনুগত্য, অভিজ্ঞতা ও অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে এই মুহূর্তে তেহরান বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। রেজাই নিজেও দায়িত্ব নেওয়ার পর কট্টর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, হুমকির মুখে ইরান তার ‘জাতীয় অধিকার’ থেকে পিছু হটবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে তার এমন বক্তব্য নতুন দায়িত্বে তার অবস্থানেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। রেজাইকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বিতর্কও পুরোনো। ১৯৯৪ সালে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আয়ারেসে এএমআইএ ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে বোমা হামলায় ৮৫ জন নিহত হন। আর্জেন্টিনার তদন্তে ওই হামলার সঙ্গে রেজাইয়ের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়। ইন্টারপোল ২০০৭ সালে তারসহ কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। রেজাই ও ইরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। তার পুরোনো কিছু বক্তব্যও আবার আলোচনায় এসেছে। ২০১৫ সালে রেজাই বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে মার্কিন সেনাদের বন্দি করে তাদের মুক্তির বিনিময়ে বিপুল অর্থ আদায় করা সম্ভব। বক্তব্যটি সে সময়ও ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করেছিল। এখন যে কাউন্সিলের সেক্রেটারি হয়েছেন রেজাই, সেটি ইরানের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কেন্দ্রে অবস্থান করে। জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সিদ্ধান্ত সমন্বয়ের কাজ করে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল। প্রেসিডেন্ট, সামরিক নেতৃত্ব এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা এর সঙ্গে যুক্ত থাকেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদনের অধীন। ফলে রেজাইয়ের নিয়োগ শুধু একজন প্রবীণ কর্মকর্তার নতুন পদ পাওয়া নয়। যুদ্ধের মধ্যে ইরান এমন একজনকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনল, যার রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে সামরিক ইতিহাস অনেক বেশি শক্তিশালী। ভোটে তিনি কখনো প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি। কিন্তু ইরান-ইরাক যুদ্ধের তরুণ কমান্ডার থেকে চার দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বিভিন্ন স্তর পেরিয়ে সেই মোহসেন রেজাই এখন আবার ইরানের যুদ্ধ, নিরাপত্তা ও কূটনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রগুলোর একটির দায়িত্বে। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে তার এই প্রত্যাবর্তনই ইঙ্গিত দিচ্ছে—তেহরান আপাতত নিরাপত্তা নীতিতে অভিজ্ঞ ও কট্টর পুরোনো নেতৃত্বের ওপরই বেশি ভরসা রাখছে।
উড়োজাহাজে চড়ার ভয় কিংবা আকাশপথ এড়িয়ে ইউরোপ ভ্রমণের ইচ্ছা থাকলে যুক্তরাজ্য থেকে স্পেন যাওয়ার বিকল্প হতে পারে রেলপথ। লন্ডন থেকে ফ্রান্সের প্যারিস ও স্পেনের বার্সেলোনা হয়ে ট্রেনেই পৌঁছানো যায় দক্ষিণ স্পেনের জনপ্রিয় পর্যটন শহর মালাগায়। তবে এই যাত্রায় সময় লাগবে বেশি এবং পথে অন্তত এক রাত থাকার পরিকল্পনা করাই সুবিধাজনক। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিররের এক প্রতিবেদনে ক্লেয়ার নামের এক নারীর এমন একটি ভ্রমণ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লন্ডন থেকে মালাগা পর্যন্ত উড়োজাহাজ ছাড়াই ট্রেনে যাওয়ার সম্ভাব্য রুট, সময় ও খরচের হিসাব দিয়েছেন। যাত্রার প্রথম ধাপ লন্ডনের সেন্ট প্যানক্রাস ইন্টারন্যাশনাল স্টেশন থেকে প্যারিস। ইউরোস্টারের সরাসরি ট্রেনে লন্ডন থেকে প্যারিস পৌঁছাতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা লাগে। ইউরোস্টারের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, এই রুটে আগাম বুকিং করলে তুলনামূলক কম দামের টিকিট পাওয়া যায়। তবে ভ্রমণের দিন ও চাহিদার ওপর ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। প্যারিসে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের গার দু নর্দ স্টেশন থেকে গার দ্য লিওঁ স্টেশনে যেতে হবে। সেখান থেকেই বার্সেলোনাগামী দ্রুতগতির ট্রেন ছাড়ে। বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী, প্যারিস থেকে দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে ছেড়ে যাওয়া ট্রেন রাত ৯টা ৩২ মিনিটে বার্সেলোনা সান্তস স্টেশনে পৌঁছায়। চাইলে একই দিনে লন্ডন থেকে যাত্রা শুরু করে প্যারিস হয়ে বার্সেলোনায় পৌঁছানো সম্ভব। তবে প্যারিসে ট্রেন পরিবর্তনের জন্য পর্যাপ্ত সময় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আর যারা ধীরগতিতে ভ্রমণ করতে চান, তারা প্যারিসে এক রাত থেকে পরদিন বার্সেলোনার পথে রওনা দিতে পারেন। বার্সেলোনায় পৌঁছে সান্তস স্টেশনের আশপাশে রাত কাটানোর ব্যবস্থা রয়েছে। ক্লেয়ারের দেওয়া উদাহরণে প্রায় ৬৫ পাউন্ডে থাকার ব্যবস্থা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে হোটেলের ভাড়া নির্দিষ্ট নয়। মৌসুম, বুকিংয়ের সময় এবং কক্ষের প্রাপ্যতার ওপর এটি কম বা বেশি হতে পারে। সময় হাতে থাকলে বার্সেলোনায় এক রাতের বদলে দুই রাত অবস্থান করেও যাত্রা সাজানো যায়। এতে মালাগায় যাওয়ার আগে শহরটি ঘুরে দেখার সুযোগ পাওয়া যাবে। একই রেলপথের আশপাশে ফিগেরেস ও জিরোনার মতো শহরও রয়েছে, ফলে পুরো যাত্রাকে শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোর মাধ্যম না রেখে ইউরোপ ঘুরে দেখার অংশ হিসেবেও সাজানো সম্ভব। বার্সেলোনা থেকে মালাগায় সরাসরি দ্রুতগতির ট্রেন রয়েছে। এই অংশের যাত্রায় কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। তবে ট্রেনের সময়সূচি দিন ও সেবাভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট রেল অপারেটরের হালনাগাদ সময়সূচি দেখে টিকিট বুক করা প্রয়োজন। ক্লেয়ারের উদাহরণভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, লন্ডন থেকে মালাগা পর্যন্ত ট্রেনের টিকিট এবং পথে এক রাতের থাকার খরচ মিলিয়ে প্রায় ২৬৫ পাউন্ড ব্যয় হতে পারে। তার হিসাবে লন্ডন থেকে প্যারিসের টিকিট প্রায় ৪৯ পাউন্ড, প্যারিস থেকে বার্সেলোনা প্রায় ৮৯ পাউন্ড এবং বার্সেলোনা থেকে মালাগার টিকিট প্রায় ৫৮ পাউন্ড ধরে হিসাব করা হয়েছে। তবে ২৬৫ পাউন্ডকে এই ভ্রমণের নির্দিষ্ট খরচ হিসেবে ধরা ঠিক হবে না। রেলের টিকিটের মূল্য অনেকটাই নির্ভর করে কত আগে বুকিং করা হচ্ছে, কোন দিনে ভ্রমণ করা হচ্ছে, আসনের চাহিদা এবং সংশ্লিষ্ট রেল কোম্পানির ভাড়ার ওপর। হোটেলের খরচও একইভাবে পরিবর্তনশীল। উড়োজাহাজের তুলনায় এই যাত্রায় সময় অনেক বেশি লাগলেও এর একটি আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। বিমানবন্দর থেকে শহরে যাতায়াতের বদলে লন্ডন, প্যারিস ও বার্সেলোনার কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন ব্যবহার করে ধাপে ধাপে মালাগায় পৌঁছানো যায়। ফলে যাদের হাতে সময় আছে এবং যাত্রাপথকেও ভ্রমণের অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে দেখতে চান, তাদের জন্য লন্ডন থেকে মালাগার এই রেলপথ হতে পারে আকাশপথের একটি ব্যতিক্রমী বিকল্প।
যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাসে একটি ট্রাফিক স্টপের সময় ১৮ বছর বয়সী তরুণীকে মাটিতে ফেলে মুখে ঘুষি মারার ঘটনায় এক স্টেট ট্রুপারের আচরণ নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ড্যাশক্যাম ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর নাগরিক অধিকার আইনজীবী বেন ক্রাম্প ঘটনাটির আনুষ্ঠানিক তদন্ত দাবি করেছেন। ঘটনাটি ঘটে ১ আগস্ট রাত প্রায় ১০টা ৪৫ মিনিটে আরকানসাসের ম্যানিলার কাছে স্টেট হাইওয়ে ১৮-তে। পুলিশ রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী আলিসা হ্যাকেট ঘণ্টায় ৬০ মাইলের জোনে ৭১ মাইল গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। গাড়ির হ্যাজার্ড লাইটও চালু ছিল। হ্যাকেট পুলিশকে জানান, তার গাড়ির জানালা ভেঙে যাওয়ায় তিনি দ্রুত বাড়ি ফিরছিলেন। আরকানসাস স্টেট পুলিশ ট্রুপার মোইসেস আরেয়ানো তাকে থামান। পুলিশ রিপোর্টে বলা হয়, ট্রুপার গাড়িতে একটি অ্যালকোহলের বোতল দেখতে পান এবং হ্যাকেটের বয়স ২১ বছরের কম হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করেন। প্রকাশিত ভিডিওতে পরে ওই বোতলটি সিল করা ছিল বলে ট্রুপারকে স্বীকার করতে শোনা যায়। রিপোর্টে আরও বলা হয়, হ্যাকেট সিটবেল্ট পরেননি এবং গাড়ির লাইসেন্স প্লেট যথাযথভাবে দৃশ্যমান ছিল না। ঘটনার শুরুতে তাকে কয়েকটি সাইটেশন দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। পরিস্থিতি বদলে যায় আরেক ট্রুপারের সঙ্গে কথোপকথনের পর। ড্যাশক্যাম ফুটেজে ওই ট্রুপারকে বলতে শোনা যায়, কয়েক দিন আগেও হ্যাকেটকে স্পিডিংয়ের কারণে থামানো হয়েছিল। এরপর হ্যাকেটের আচরণ নিয়ে মন্তব্য করে তাকে জেলে নেওয়ার পরামর্শ দেন ওই ট্রুপার। এরপর আরেয়ানো হ্যাকেটকে গাড়ি থেকে বের হতে বলেন এবং তাকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেন। পুলিশ রিপোর্ট অনুযায়ী, হ্যাকেট প্রথমে গাড়ি থেকে বের হলেও কেন তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে জানতে চান এবং একপর্যায়ে অফিসারের কাছ থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এরপরই পরিস্থিতি শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। ড্যাশক্যাম ভিডিওতে ট্রুপারকে হ্যাকেটকে মাটিতে ফেলে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি তরুণীর মুখের পাশে ঘুষি মারেন। নিজের রিপোর্টে আরেয়ানো লিখেছেন, হ্যাকেটকে বারবার শরীর ঘুরিয়ে হাত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানছিলেন না। তাকে নিয়ন্ত্রণে আনতেই মুখের বাম পাশে একবার বন্ধ মুষ্টিতে আঘাত করেন বলে দাবি করেন ট্রুপার। ঘুষি খাওয়ার পর হ্যাকেটকে প্রতিবাদ করতে শোনা যায়। ভিডিওতে তিনি বলেন, একজন অফিসার তার মুখে ঘুষি মারতে পারেন না। জবাবে ট্রুপারকে তার সেই বক্তব্য চ্যালেঞ্জ করতে শোনা যায়। পরে হ্যাকেট তার মাকে ফোন করার অনুরোধও করেন। একপর্যায়ে ট্রুপার তার দিকে স্টান গান তাক করেন, তবে পুলিশ রিপোর্ট অনুযায়ী সেটি ব্যবহার করা হয়নি। এরপর হ্যাকেট হাত পেছনে দিলে তাকে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। পুলিশ রিপোর্ট অনুযায়ী, হ্যাকেটের বিরুদ্ধে গ্রেফতারে বাধা দেওয়া, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় অ্যালকোহল রাখা, স্পিডিং, সিটবেল্ট না পরা, লাইসেন্স প্লেট যথাযথভাবে প্রদর্শন না করা এবং গাড়ির হেডলাইটসংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়। তবে ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর মূল বিতর্ক তৈরি হয়েছে গ্রেফতারের কারণ এবং একজন ১৮ বছর বয়সী তরুণীকে নিয়ন্ত্রণে নিতে ট্রুপারের ব্যবহৃত শক্তি প্রয়োজনীয় ও আইনসম্মত ছিল কি না, তা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিত নাগরিক অধিকার আইনজীবী বেন ক্রাম্প ঘটনাটির আনুষ্ঠানিক তদন্ত দাবি করেছেন। তার দাবি, ড্যাশক্যাম ভিডিওতে দেখা আচরণ যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট অফিসারের বলপ্রয়োগ আইনসঙ্গত ছিল কি না তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। ঘটনায় অভিযুক্ত ট্রুপার মোইসেস আরেয়ানো তুলনামূলকভাবে নতুন সদস্য। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আরকানসাস স্টেট পুলিশের প্রশিক্ষণ শেষ করে তিনি ট্রুপ সি-তে যোগ দেন। ঘটনাটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হলেও ভিডিওর একটি অংশ দেখে পুরো ঘটনার আইনি বৈধতা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। পুলিশের রিপোর্টে হ্যাকেটের বিরুদ্ধে গ্রেফতারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, অন্যদিকে প্রকাশিত ফুটেজে অফিসারের বলপ্রয়োগ নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এখন তদন্তের মূল বিষয় হবে, হ্যাকেটকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি কী ছিল এবং তাকে মাটিতে ফেলে মুখে ঘুষি মারার মতো বলপ্রয়োগ ওই পরিস্থিতিতে যুক্তিসংগত ও প্রয়োজনীয় ছিল কি না।
যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর সময় পুলিশ থামালে ভয় বা নার্ভাসনেস থেকে অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কথা বলে ফেলেন। বিশেষ করে নতুন অভিবাসী বা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাফিক আইন ও পুলিশি প্রক্রিয়ার সঙ্গে কম পরিচিত চালকদের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কিন্তু ট্রাফিক স্টপে বলা কিছু কথা পরে টিকিট, তদন্ত বা আদালতের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন বা এসিএলইউর সর্বশেষ “নো ইয়োর রাইটস” নির্দেশনা অনুযায়ী, পুলিশ গাড়ি থামালে চালক ও যাত্রী উভয়েরই চুপ থাকার অধিকার রয়েছে। তবে চালককে পুলিশ চাইলে ড্রাইভার লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন এবং ইন্স্যুরেন্সের প্রমাণ দেখাতে হয়। একই সঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে শান্ত থাকা, হঠাৎ নড়াচড়া না করা এবং হাত দৃশ্যমান রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, “আপনি আমার গাড়ি সার্চ করতে পারেন” এমন সম্মতি দেওয়ার আগে নিজের অধিকার জানা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে একজন চালক পুলিশের কাছে নিজের গাড়ি সার্চ করার সম্মতি দিতে বাধ্য নন। পুলিশ যদি সার্চের অনুমতি চায় এবং চালক সম্মতি দিতে না চান, তিনি শান্তভাবে বলতে পারেন, “অফিসার, আমি সার্চে সম্মতি দিচ্ছি না।” তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। গাড়ি সার্চ করতে পুলিশের সব ক্ষেত্রেই ওয়ারেন্ট প্রয়োজন হয়, এমন দাবি সঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে গাড়ির ক্ষেত্রে বেশ কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। বৈধ আইনি ভিত্তি থাকলে কোনো কোনো পরিস্থিতিতে চালকের সম্মতি বা আগে থেকে নেওয়া ওয়ারেন্ট ছাড়াও পুলিশ গাড়ি সার্চ করতে পারে। তাই সম্মতি না দেওয়া মানেই পুলিশ কোনো অবস্থাতেই সার্চ করতে পারবে না, বিষয়টি এমন নয়। দ্বিতীয়ত, পুলিশ কেন থামিয়েছে জানতে চাইলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে নিজের ভুল স্বীকার করে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। “আমি জানতাম না এটা বেআইনি”, “আমি স্পিড লিমিট খেয়াল করিনি” বা “দুঃখিত, আমি নতুন” ধরনের বক্তব্য পরিস্থিতি অনুযায়ী অফিসারের নোট বা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে। তবে শুধু “সরি” বললেই আইনগতভাবে কেউ দোষী হয়ে যান, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। একইভাবে এমন বক্তব্য দিলে ট্রাফিক টিকিট ডিসমিস হওয়ার সম্ভাবনা “৯০ শতাংশ কমে যায়” এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্যও নেই। দোষী বা নির্দোষ নির্ধারণের বিষয়টি নির্ভর করে অভিযোগ, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট আদালত বা ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর। এসিএলইউর পরামর্শ হলো, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অপ্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা বা অজুহাত না দেওয়া। চুপ থাকার অধিকার ব্যবহার করতে চাইলে সেটি স্পষ্টভাবে জানানো যেতে পারে। তবে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা ভুয়া ডকুমেন্ট দেখানো উচিত নয়। তৃতীয়ত, গাড়িতে অবৈধ কিছু থাকার কথা বা অ্যালকোহল গ্রহণের বিষয়ে স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত তথ্য দেওয়ার আগে আইনি পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। পুলিশ “আপনি জানেন কেন আপনাকে থামিয়েছি?” অথবা অ্যালকোহল গ্রহণ করেছেন কি না, এমন প্রশ্ন করতে পারে। সাধারণ পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে চালক ও যাত্রীর চুপ থাকার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে, যদিও পরিচয়, ড্রাইভিং ডকুমেন্ট, ডিইউআই তদন্ত এবং বিভিন্ন স্টেটের আইনের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে ডিইউআই বা অ্যালকোহল ও মাদকসংক্রান্ত ড্রাইভিংয়ের ঘটনায় বিষয়টি শুধু ট্রাফিক টিকিটে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। গ্রেফতার, ক্রিমিনাল চার্জ, ড্রাইভার লাইসেন্স সাসপেনশন এবং কিছু ননইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারীর ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন বা ভিসাসংক্রান্ত জটিলতাও তৈরি হতে পারে। তবে “ডিইউআই বর্তমানে ভিসা বাতিলের এক নম্বর কারণ” এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য সরকারি র্যাঙ্কিং পাওয়া যায় না। চতুর্থত, পুলিশ অফিসারের সঙ্গে তর্ক, শারীরিক প্রতিরোধ, পালানোর চেষ্টা বা হঠাৎ পকেট কিংবা গ্লাভ বক্সে হাত দেওয়া পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। এসিএলইউর নির্দেশনা হলো, শান্ত থাকতে হবে, দৌড়ানো বা বাধা দেওয়া যাবে না এবং হাত এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে অফিসার দেখতে পারেন। লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন গ্লাভ বক্সে থাকলে সেটি বের করার আগে অফিসারকে জানানো নিরাপদ অভ্যাস। যেমন বলা যেতে পারে, “আমার লাইসেন্স গ্লাভ বক্সে আছে, আমি কি সেটি বের করব?” কোনো সার্চে সম্মতি না থাকলে শান্তভাবে সেটিও জানানো যায়। তবে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে শারীরিকভাবে বাধা দেওয়া উচিত নয়। নিজের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে মনে হলে ঘটনার সময়, স্থান, অফিসারের নাম বা ব্যাজ নম্বর, প্যাট্রোল কার নম্বর এবং অন্যান্য তথ্য পরে লিখে রাখা যেতে পারে। পুলিশের কার্যক্রম রেকর্ড করার ক্ষেত্রেও সাংবিধানিক সুরক্ষা রয়েছে। এসিএলইউর ২০২৬ সালের হালনাগাদ নির্দেশনা অনুযায়ী, জনসমক্ষে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তার ছবি বা ভিডিও ধারণ সাধারণভাবে ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্টের সুরক্ষার আওতায় পড়ে। নিউইয়র্কেও আইনসম্মতভাবে উপস্থিত কোনো ব্যক্তি পুলিশের কার্যক্রম রেকর্ড করতে পারেন। তবে রেকর্ড করার সময় পুলিশি কাজে শারীরিক বাধা সৃষ্টি করা বা বৈধ নির্দেশ অমান্য করা উচিত নয়। পুলিশ গাড়ি থামালে নিরাপদ জায়গায় দ্রুত গাড়ি থামানো, ইঞ্জিন বন্ধ করা, জানালা আংশিক নামানো এবং হাত স্টিয়ারিং হুইলে রাখার পরামর্শ দিয়েছে এসিএলইউ। পুলিশ চাইলে ড্রাইভার লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন ও ইন্স্যুরেন্সের প্রমাণ দেখাতে হবে। হঠাৎ কোনো নড়াচড়া না করে ডকুমেন্ট কোথায় রয়েছে তা আগে জানানো নিরাপদ। ট্রাফিক টিকিট পাওয়ার পরও সেটির নির্দেশনা ভালোভাবে পড়া জরুরি। বিশেষ করে নিউইয়র্কে টিকিটের ধরন ও কোথায় সেটি ইস্যু হয়েছে তার ওপর পরবর্তী প্রক্রিয়া নির্ভর করে। নিউইয়র্ক সিটির নন-ক্রিমিনাল ট্রাফিক টিকিট সাধারণত ডিএমভির ট্রাফিক ভায়োলেশনস ব্যুরো পরিচালনা করে এবং সেখানে চালককে অভিযোগে গিল্টি অথবা নট গিল্টি প্লি করার সুযোগ দেওয়া হয়। নিউইয়র্ক সিটির বাইরের টিকিট সাধারণত স্থানীয় কোর্টে নিষ্পত্তি হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাফিক স্টপের আইন ও প্রক্রিয়া স্টেটভেদে আলাদা হতে পারে। তাই “সব পরিস্থিতিতে এই একটি বাক্য বললেই নিরাপদ” এমন কোনো নিয়ম নেই। শান্ত থাকা, মিথ্যা তথ্য না দেওয়া, প্রয়োজনীয় ড্রাইভিং ডকুমেন্ট দেখানো এবং নিজের সাংবিধানিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রতিবেদনটি সাধারণ তথ্যের জন্য। এটি ব্যক্তিগত আইনি পরামর্শ নয়। কোনো ট্রাফিক স্টপ, ডিইউআই, গ্রেফতার বা ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট স্টেটের যোগ্য অ্যাটর্নির পরামর্শ নেওয়া উচিত।