- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন অভিযানে নতুন ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে আইসিই। প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে বৈদ্যুতিক শক দিতে সক্ষম বিশেষ গ্লাভস কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রকাশিত নোটিশ অনুযায়ী, হাজার হাজার গ্লাভস কিনতে ১০ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। আগামী মার্চের মধ্যে এগুলো আইসিই অফিসার ও এজেন্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ এই ডিভাইসটির নাম জি.এল.ও.ভি.ই বা গ্লাভ। কেনটাকির লেক্সিংটনভিত্তিক কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এলএলসি এটি তৈরি করে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু জেল ও পুলিশ ডিপার্টমেন্টে ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। দেখতে অনেকটা সাধারণ প্যাট্রোল গ্লাভসের মতো হলেও এর ভেতরে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, অফিসার একটি সুইচ চাপলে গ্লাভসটির বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা সক্রিয় হয়। এরপর এটি সরাসরি কারও ত্বকের সংস্পর্শে এলে তীব্র ব্যথার অনুভূতি তৈরি করতে পারে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এটিকে প্রাণঘাতী অস্ত্রের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরে বলছে, এর উদ্দেশ্য হলো শারীরিকভাবে প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা এবং দীর্ঘ সময় ধরে ধস্তাধস্তির প্রয়োজন কমানো। সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে ব্যবহার করলে সাধারণত কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একজন ব্যক্তিকে নির্দেশ মানতে বাধ্য করার মতো ব্যথার অনুভূতি তৈরি করতে পারে বলে কোম্পানিটির দাবি। তবে আইসিইর হাতে এমন ডিভাইস দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাগরিক অধিকারকর্মীরা। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর জেন রলনিক বোরচেটা প্রশ্ন তুলেছেন, সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের ক্ষেত্রে এমন ডিভাইসের প্রয়োজন কেন। তার উদ্বেগের একটি বড় কারণ হলো, একটি ছোট সুইচ চাপার মাধ্যমে শক দেওয়া সম্ভব হওয়ায় আশপাশের মানুষের পক্ষে সেটি বোঝা কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে ইনস্টিটিউট ফর দ্য প্রিভেনশন অব ইন-কাস্টডি ডেথসের প্রেসিডেন্ট জন পিটার্স এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি এপিকে বলেছেন, শকটি তাৎক্ষণিক ও তীব্র ব্যথার অনুভূতি তৈরি করে এবং প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে বিভ্রান্ত করে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করতে পারে। পিটার্সের মতে, আইসিইর পরিকল্পিত ক্রয়টি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটির এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অর্ডার হতে পারে। গাড়ি বা বাড়ি থেকে বের হতে অস্বীকৃতি জানানো ব্যক্তি এবং ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে প্রতিরোধের পরিস্থিতিতে এ ধরনের গ্লাভস ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নিজেই এর ব্যবহারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছে। কাউকে শাস্তি দেওয়ার জন্য কিংবা শুধু মৌখিকভাবে নির্দেশ অমান্য বা তর্ক করার কারণে বৈদ্যুতিক শক ব্যবহার করা উচিত নয়। শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধীসহ উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার না করার সতর্কতা রয়েছে। গ্লাভসটি ব্যবহারের আগে অফিসারদের নির্ধারিত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে। প্রস্তুতকারকের নিয়ম অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের প্রতি দুই বছর পর আবারও সার্টিফিকেশন নিতে হবে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির নোটিশ অনুযায়ী, পরিকল্পিত চুক্তির মূল্য ১০ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে। এটি নো-বিড কন্ট্রাক্ট হিসেবে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, অর্থাৎ সাধারণ প্রতিযোগিতামূলক বিডিং ছাড়াই নির্দিষ্ট কোম্পানির কাছ থেকে ডিভাইসগুলো কেনা হতে পারে। এপির প্রশ্নের জবাবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে জবাব প্রস্তুত করছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য দেয়নি সংস্থাটি। কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জেফ নিকলাউসও এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। আইসিইর গ্রেফতার অভিযান সম্প্রসারণের সময়েই নতুন এই প্রযুক্তি কেনার পরিকল্পনা সামনে এলো। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সংস্থাটির বিভিন্ন অভিযানে বলপ্রয়োগের ঘটনা নিয়ে সমালোচনা ও আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। গত মাসে মেইন ও টেক্সাসে গাড়ি থামানোর দুটি পৃথক অভিযানে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে দুই অভিবাসী নিহত হওয়ার ঘটনাও সংস্থাটির এনফোর্সমেন্ট কৌশলকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। এ অবস্থায় আইসিইর হাতে বৈদ্যুতিক শক দিতে সক্ষম গ্লাভস দেওয়ার পরিকল্পনাকে ঘিরে মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে এর ব্যবহারের সীমা, প্রশিক্ষণ এবং জবাবদিহি। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে আগামী মার্চের মধ্যে হাজার হাজার আইসিই অফিসার ও এজেন্ট নতুন এই ডিভাইস হাতে পেতে পারেন।
নিউইয়র্কের একটি ক্যাসিনোর স্লট মেশিনের স্ক্রিনে ভেসে উঠেছিল ৪২ দশমিক ৯ মিলিয়ন বা প্রায় ৪ কোটি ২৯ লাখ ডলারের জ্যাকপট। মুহূর্তটি ধরে রাখতে মেশিনের পাশে দাঁড়িয়ে ছবিও তুলেছিলেন ক্যাটরিনা বুকম্যান। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে যায় সবকিছু। ক্যাসিনো কর্তৃপক্ষ জানায়, বিপুল অঙ্কের ওই জ্যাকপট আসলে মেশিনের ত্রুটির ফল। তার প্রকৃত পাওনা মাত্র ২ ডলার ২৫ সেন্ট। ঘটনাটি ২০১৬ সালের আগস্টের। নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সের রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড ক্যাসিনোতে স্লট মেশিনে খেলছিলেন বুকম্যান। একপর্যায়ে মেশিনের স্ক্রিনে ৪২,৯৪৯,৬৭২ দশমিক ৭৬ ডলারের অঙ্ক দেখা যায়। এত বড় অঙ্ক দেখে স্বাভাবিকভাবেই বুকম্যান ভেবেছিলেন, তার জীবন বদলে দেওয়ার মতো জ্যাকপট লেগেছে। মেশিনের স্ক্রিনে দেখানো অঙ্কের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন তিনি। ওই ছবি পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। তবে ক্যাসিনো কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রায় ৪৩ মিলিয়ন ডলার দেয়নি। বিষয়টি যাচাইয়ের পর তাকে আবার ক্যাসিনোতে ফিরতে বলা হয়। পরদিন ফিরে এসে বুকম্যান জানতে পারেন, তিনি যে অর্থ পাওয়ার আশা করেছিলেন সেটি তাকে দেওয়া হবে না। রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, স্লট মেশিনটিতে ত্রুটি হয়েছিল। স্ক্রিনে যে ৪২ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার দেখানো হয়েছিল, সেটি বৈধ জ্যাকপট ছিল না। নিউইয়র্ক স্টেট গেমিং কমিশনও পরে মেশিনটি পরীক্ষা করে ত্রুটির বিষয়টি নিশ্চিত করে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, মেশিনটির রেকর্ডে ওই অঙ্কের কোনো জ্যাকপট জেতার তথ্য পাওয়া যায়নি। স্ক্রিনে বিশাল অঙ্কটি দেখানো হয়েছিল মেশিনের ডিসপ্লে ত্রুটির কারণে। এ ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল স্লট মেশিনটির সর্বোচ্চ সম্ভাব্য জ্যাকপট। মেশিনটি থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৬ হাজার ৫০০ ডলার পাওয়ার সুযোগ ছিল। ফলে স্ক্রিনে দেখানো প্রায় ৪৩ মিলিয়ন ডলার ওই গেম থেকে বৈধভাবে জেতার সুযোগই ছিল না। মেশিনটিতে একটি সতর্কবার্তাও ছিল, যেখানে যান্ত্রিক বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি হলে সংশ্লিষ্ট খেলা ও পেআউট বাতিল বলে গণ্য হওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। নিউইয়র্কের গেমিং কর্তৃপক্ষ সেই নিয়মের ভিত্তিতেই প্রায় ৪৩ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের দাবি গ্রহণ করেনি। সবচেয়ে বিস্ময়কর পরিস্থিতি তৈরি হয় বুকম্যানকে তার প্রকৃত পাওনার কথা জানানোর পর। ক্যাসিনোর হিসাবে তিনি জিতেছিলেন মাত্র ২ ডলার ২৫ সেন্ট। বিপুল অঙ্কের জ্যাকপট না পাওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড তাকে বিনামূল্যে একটি স্টেক ডিনারের প্রস্তাবও দেয়। তবে বুকম্যান সেই প্রস্তাব মেনে নেননি। পরের বছর তিনি রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড ক্যাসিনো, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং স্লট মেশিন নির্মাতার বিরুদ্ধে মামলা করেন। তার আইনজীবীর যুক্তি ছিল, মেশিনের ত্রুটির দায় একজন খেলোয়াড়ের ওপর চাপানো উচিত নয়। প্রায় ৪৩ মিলিয়ন ডলার দেওয়া না হলেও অন্তত মেশিনটির বৈধ সর্বোচ্চ জ্যাকপট ৬ হাজার ৫০০ ডলার দেওয়ার বিষয়টি তারা সামনে আনেন। ঘটনাটি সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কারণ স্ক্রিনে দেখানো অঙ্কটি সত্যিকারের জ্যাকপট হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে স্লট মেশিন থেকে পাওয়া অন্যতম বৃহৎ পুরস্কারে পরিণত হতে পারত। শেষ পর্যন্ত বুকম্যানের জীবনের সেই বহুল আলোচিত মুহূর্তটি কোটি ডলারের জ্যাকপটে পরিণত হয়নি। স্লট মেশিনের স্ক্রিনে ছিল ৪২,৯৪৯,৬৭২ দশমিক ৭৬ ডলার, আর ক্যাসিনোর হিসাবে তার প্রকৃত জেতা অর্থ ছিল মাত্র ২ ডলার ২৫ সেন্ট। সঙ্গে ছিল একটি বিনামূল্যের স্টেক ডিনারের প্রস্তাব।
কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও আশার আলো দেখাল একটি উদ্ধার অভিযান। ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ৩২ ঘণ্টা আটকে থাকার পর এক মা ও তার মাত্র ১৮ দিন বয়সী নবজাতককে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত শহর কালি (Cali)-তে ধসে পড়া একটি ভবনের নিচে মা ও শিশুটি আটকা পড়েছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে টানা অনুসন্ধান চালানোর পর জরুরি সেবা বিভাগের সদস্য, দমকলকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় তাদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধার অভিযানের ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ধাপে ধাপে ভেতরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর তারা প্রথমে শিশুটিকে এবং পরে তার মাকে নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসেন। উদ্ধারস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিরা এ সময় করতালি ও উচ্ছ্বাসে উদ্ধারকারী দলকে অভিনন্দন জানান। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর কালি শহরসহ পশ্চিম কলম্বিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। শত শত উদ্ধারকর্মী এখনো ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করতে দিনরাত কাজ করছেন। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাকে জীবিত উদ্ধার অভিযানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হয়। এপি, দ্য টাইমস এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এই ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, হাজারো মানুষ আহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও মা ও তার ১৮ দিনের নবজাতককে জীবিত উদ্ধারের ঘটনাকে মানবিক সাহস, ধৈর্য এবং উদ্ধারকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টার এক বিরল উদাহরণ হিসেবে দেখছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি লাখো মানুষকে আবেগাপ্লুত করেছে এবং দুর্যোগের মাঝেও আশা হারিয়ে না ফেলার বার্তা দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে আইসিইর মাঠপর্যায়ের অফিসারদের ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতারের সুযোগ বাড়িয়েছে সংস্থাটির নতুন ব্যাখ্যা, অন্যদিকে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। একই সময়ে ম্যাসাচুসেটস আইসিইর সিভিল ইমিগ্রেশন কার্যক্রমে রাজ্য ও স্থানীয় সংস্থার সহযোগিতা সীমিত করে নতুন আইন কার্যকর করেছে। ১২ আগস্ট পর্যন্ত পাওয়া তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই তিনটি পরিবর্তনের মধ্যে আইসিইর ওয়ারেন্টবিহীন গ্রেফতারের নীতিটি একেবারে নতুন নয়। ভারপ্রাপ্ত আইসিই পরিচালক টড লায়ন্স গত ২৮ জানুয়ারি একটি অভ্যন্তরীণ মেমোর মাধ্যমে এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দেন। পরে আদালতে জমা দেওয়া নথির মাধ্যমে ওই নির্দেশনার বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইসিই অফিসারদের ওয়ারেন্ট ছাড়াই কাউকে গ্রেফতারের ক্ষমতা আগে থেকেই রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে অফিসারের কাছে ওই ব্যক্তি ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ থাকতে হবে এবং ওয়ারেন্ট সংগ্রহের আগেই তিনি সরে যেতে পারেন বা তাকে আর খুঁজে পাওয়া নাও যেতে পারে, এমন সম্ভাবনাও থাকতে হবে। নতুন নির্দেশনায় মূল পরিবর্তন এসেছে আইনের “likely to escape” বা ওয়ারেন্ট পাওয়ার আগেই সরে যাওয়ার সম্ভাবনা সংক্রান্ত অংশের ব্যাখ্যায়। আগে আইসিই এই বিষয়টিকে অনেকটা ভবিষ্যতে কোর্ট হিয়ারিং বা ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় হাজির না হওয়ার ঝুঁকি বা “ফ্লাইট রিস্কের” সঙ্গে মিলিয়ে দেখত। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দুটি বিষয় এক নয়। এখন অফিসারকে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, প্রশাসনিক অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট সংগ্রহ করতে যে সময় লাগবে, সেই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে একই জায়গা বা অন্য কোনো স্পষ্টভাবে শনাক্তযোগ্য স্থানে পাওয়া যাবে কি না। অর্থাৎ ভবিষ্যতে তিনি কোর্টে হাজির হবেন কি না, তার বদলে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে আইসিই যেকোনো ব্যক্তিকে কোনো কারণ ছাড়াই ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করতে পারবে। নির্দেশনা অনুযায়ী, ওয়ারেন্টবিহীন সিভিল ইমিগ্রেশন গ্রেফতারের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণযোগ্য এবং ওয়ারেন্ট পাওয়ার আগেই সরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এই দুই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ভিত্তি থাকতে হবে। গ্রেফতারের পর সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে বিবেচিত কারণ নথিভুক্ত করার নির্দেশনাও রয়েছে। টার্গেটেড অপারেশনে আইসিই অফিসারদের সম্ভব হলে আগেই প্রশাসনিক অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। তবে অভিযান চলাকালে মূল টার্গেটের বাইরে অন্য কোনো সম্ভাব্য অপসারণযোগ্য অভিবাসীর মুখোমুখি হলে এবং সময়মতো ওয়ারেন্ট পাওয়া সম্ভব না হলে নতুন ব্যাখ্যার অধীনে ওয়ারেন্টবিহীন গ্রেফতারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ধরনের গ্রেফতারকে সাধারণভাবে “কোল্যাটারাল অ্যারেস্ট” বলা হয়। এই নীতির বৈধতা নিয়েও আদালতে বিরোধ চলছে। কলোরাডোতে একটি ফেডারেল আদালত এর আগে আইসিইকে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, শুধু যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানের সন্দেহই ওয়ারেন্টবিহীন গ্রেফতারের জন্য যথেষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ওয়ারেন্ট পাওয়ার আগেই সরে যেতে পারেন, এমন সিদ্ধান্তেরও ব্যক্তি ও পরিস্থিতিভিত্তিক আইনি ভিত্তি থাকতে হবে। এদিকে আইসিইর বডি ক্যামেরা কর্মসূচিতে আগস্টে বড় পরিবর্তন এসেছে। জুলাইয়ে টেক্সাস ও মেইনে আইসিই কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক ঘটনায় দুই অভিবাসী নিহত হওয়ার পর বডি ক্যামেরা নিয়ে কংগ্রেস ও জনপরিসরে চাপ বাড়ে। ওই দুটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ বডি ক্যামেরা রেকর্ডিং না থাকায় স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। প্রাথমিকভাবে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ দেশজুড়ে বডি ক্যামেরা চালুর কথা সামনে এলেও ৮ আগস্ট আইসিইর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডেভিড ভেনচুরেলা জানান, আগস্টের শেষ নাগাদ সব অফিসার ও এজেন্টের কাছে বডি ক্যামেরা পৌঁছে দেওয়ার কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। ফলে আগের সেপ্টেম্বরের সময়সীমার তুলনায় সর্বশেষ ঘোষণায় কর্মসূচি দ্রুত সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। জুলাইয়ে বডি ক্যামেরা কেনার জন্য প্রায় ৩০ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের তথ্যও সামনে এসেছে। গাড়ি থামিয়ে পরিচালিত এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে অন্তত একটি বডি ক্যামেরায় ঘটনা রেকর্ড করার নির্দেশনার কথাও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে ক্যামেরা ব্যবহারের পাশাপাশি ভিডিও প্রকাশের নীতি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। আইসিইর নীতিমালায় মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ফুটেজ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংস্থাটির উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা এবং পরিচালকের সিদ্ধান্তের সুযোগ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভিডিও প্রকাশ বিলম্বিত বা আটকে রাখা যেতে পারে। প্রকাশিত ফুটেজে অফিসারদের পরিচয় এবং সংবেদনশীল তথ্যও ঝাপসা বা গোপন করা হতে পারে। অন্যদিকে ফেডারেল পর্যায়ে আইসিইর তৎপরতা বাড়ার মধ্যেই ম্যাসাচুসেটস ভিন্ন পথে এগিয়েছে। গভর্নর মরা হিলি ৫ আগস্ট একটি বিস্তৃত ইমিগ্রেশন সুরক্ষা আইনে স্বাক্ষর করেন। প্রোটেক্ট অ্যাক্ট নামে পরিচিত আইনটি স্কুল, চাইল্ড কেয়ার সেন্টার, কোর্টহাউস এবং হেলথ কেয়ার প্রতিষ্ঠানের মতো সংবেদনশীল স্থানে সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। আইনটির গুরুত্বপূর্ণ অংশের মধ্যে রয়েছে রাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা সংস্থার নতুন ২৮৭(জি) চুক্তিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ সীমিত করা। এ ধরনের চুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তারা ফেডারেল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের কিছু দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা পান। নতুন আইনে রাজ্য ও স্থানীয় সম্পদ সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা আনা হয়েছে। তবে ম্যাসাচুসেটসের আইনকে সরাসরি “আইসিই নিষিদ্ধ” করার আইন হিসেবে বর্ণনা করা সঠিক হবে না। ফেডারেল সংস্থা হিসেবে আইসিই ম্যাসাচুসেটসেও ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগ করতে পারে। নতুন আইনটির মূল লক্ষ্য হলো নির্দিষ্ট সংবেদনশীল স্থানে সিভিল ইমিগ্রেশন গ্রেফতার সীমিত করা এবং ফেডারেল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে রাজ্য ও স্থানীয় সংস্থার অংশগ্রহণ ও সম্পদ ব্যবহারে বাধা তৈরি করা। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট নিয়ে এখন দুই বিপরীতমুখী প্রবণতা স্পষ্ট। ফেডারেল পর্যায়ে আইসিই মাঠপর্যায়ে ওয়ারেন্টবিহীন গ্রেফতারের বিদ্যমান ক্ষমতাকে আরও বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করছে এবং দেশজুড়ে বডি ক্যামেরা চালু করছে। অন্যদিকে ম্যাসাচুসেটসের মতো রাজ্যগুলো নিজেদের আইন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফেডারেল সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে সহযোগিতার সীমা আরও সংকুচিত করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল লেবানন। দেশটির পার্লামেন্ট মৃত্যুদণ্ডের বিধান আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করে তার পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আইন অনুমোদন করেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড সম্পূর্ণ বিলোপের স্বীকৃতি পেল লেবানন। মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টে এ-সংক্রান্ত বিল পাস হওয়ার পর স্পিকারের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বর্তমানে যেসব আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড রয়েছে, সেগুলো পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হবে। আইনে কঠোর শ্রমসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এখন বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। এরই মধ্যে তার সরকার বিলটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই লেবাননে কার্যত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ছিল না। সর্বশেষ ২০০৪ সালে সেখানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এরপর আর কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হলেও আদালত বিভিন্ন মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়ে আসছিল। এমনকি এই সপ্তাহের শুরুতেও একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। নতুন আইনের ফলে সেই ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো। এর আগে হত্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহের মতো অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান ছিল। নতুন আইনের অধীনে এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক হেবা মরায়েফ বলেন, লেবাননের এই সিদ্ধান্ত দেশটির মানবাধিকার অগ্রযাত্রায় একটি বড় মাইলফলক। দুই দশকের বেশি সময় ধরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়ার যে বাস্তবতা ছিল, নতুন আইন সেটিকে স্থায়ী আইনি সুরক্ষায় পরিণত করেছে এবং জীবন রক্ষার অধিকারকে আরও শক্তিশালী করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, লেবাননের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য দেশের জন্য একটি শক্তিশালী উদাহরণ হয়ে থাকবে। তবে পার্লামেন্টে বিলটি সর্বসম্মতভাবে পাস হয়নি। হিজবুল্লাহর সংসদীয় জোট এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। যদিও পার্লামেন্টের বিবৃতিতে ভোটের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। মৃত্যুদণ্ড বিলোপের পাশাপাশি লেবাননের পার্লামেন্ট কারাগারের অতিরিক্ত বন্দি সংকট মোকাবিলায় সাধারণ ক্ষমা সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবও বিবেচনা করছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির কারাগারগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি বন্দিতে পূর্ণ। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, লেবাননের কারাগারে থাকা প্রায় ৮০ শতাংশ বন্দির বিচার তখনও শেষ হয়নি। বিশ্বজুড়ে বহু দেশ ইতোমধ্যে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করলেও মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশে এখনো এই শাস্তি বহাল রয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, ইরান ও মিসরে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে লেবাননের এই সিদ্ধান্তকে অঞ্চলটির বিচারব্যবস্থায় একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। মরুভূমি, পাহাড়, সমুদ্রসৈকত ও জাতীয় উদ্যানের বৈচিত্র্যে প্রতিবছর লাখো মানুষ সেখানে ভ্রমণ করেন। তবে মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে কিছু মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, যেখানে অসতর্কতা বা প্রতিকূল পরিবেশের কারণে বহু পর্যটক প্রাণ হারিয়েছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টির রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী লিন্ডসি মারিনো অঙ্গরাজ্যের এমন পাঁচটি পর্যটনস্থানের কথা তুলে ধরেন, যেগুলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর ঘটনাতেও পরিচিত। তালিকায় রয়েছে ইয়োসেমিটি ন্যাশনাল পার্কের দুটি বিখ্যাত স্থানও। মার্কিন ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য, গবেষণা প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে মারিনোর উল্লেখ করা ঘটনাগুলোর মিল পাওয়া যায়। প্রথমেই রয়েছে ডেথ ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক। প্রায় ৩৪ লাখ একরজুড়ে বিস্তৃত এই মরুভূমি পৃথিবীর অন্যতম উষ্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত। মারিনোর ভাষায়, এখানে সবচেয়ে বড় বিপদ শুধু প্রচণ্ড গরম নয়, বরং অল্প সময়ের মধ্যেই একটি ছোট সমস্যা জীবন-মরণ পরিস্থিতিতে পরিণত হতে পারে। গাড়ির টায়ার পাংচার হওয়া বা ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও তীব্র গরমে মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। এতে পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্রুত বেড়ে যায়। ২০২৪ সালে ডেথ ভ্যালি দিয়ে যাওয়ার সময় তীব্র গরমে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়। একটি গবেষণা অনুযায়ী, ২০০৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই পার্কে অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, অর্থাৎ গড়ে বছরে প্রায় চারজন। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্যে দেখা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখানে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে সড়ক দুর্ঘটনায়। এছাড়া অতিরিক্ত গরমজনিত অসুস্থতাও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মৃত্যুর কারণ। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইয়োসেমিটি ন্যাশনাল পার্কের বিখ্যাত হাফ ডোম। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮ হাজার ৮০০ ফুট উঁচু এই গ্রানাইট শৃঙ্গ ট্রেকারদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। শীর্ষে পৌঁছাতে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ মাইল পথ হাঁটতে হয় এবং শেষ অংশে ইস্পাতের তার ধরে খাড়া ঢাল বেয়ে উঠতে হয়। চমৎকার দৃশ্যের জন্য পরিচিত হলেও এই পথ অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৮ সালের পর থেকে হাফ ডোমের কেবল অংশ ও শীর্ষ এলাকায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পার্ক কর্তৃপক্ষের পরামর্শ, বৃষ্টি, ভেজা পাথর বা বজ্রঝড়ের সময় কখনোই কেবল বেয়ে ওঠা উচিত নয়। কারণ ভেজা পাথর ও বজ্রপাত মুহূর্তেই প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। ইয়োসেমিটির আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান নেভাডা ফলস। প্রায় ৫৯৪ ফুট উঁচু এই জলপ্রপাত গত দুই দশকে একাধিক প্রাণহানির সাক্ষী হয়েছে। চলতি বছরের জুনে ২২ বছর বয়সী এক পর্যটক জলপ্রপাতের কাছে পড়ে গিয়ে মারা যান। এর আগে ২০১৮ সালে এক ইসরায়েলি পর্যটক ছবি তুলতে গিয়ে খাদের কিনারা থেকে পড়ে প্রাণ হারান। ২০১৩ সালে স্যাক্রামেন্টোর ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ জলপ্রপাতের ওপরে স্রোতে ভেসে নিচে পড়ে মারা যান। এ কারণে সেখানে বড় সতর্কবার্তাও টানানো রয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, জলপ্রপাতের ওপরে পানিতে নামা বা পিচ্ছিল পাথরের ধারে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ প্রবল স্রোত মুহূর্তের মধ্যে কাউকে জলপ্রপাতের কিনারায় নিয়ে যেতে পারে এবং নিচে পড়ে গেলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। ইয়োসেমিটিতে শুধু জলপ্রপাতই নয়, গাছও কখনো কখনো প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। গত মাসে পার্কের টুয়োলামনি গ্রোভ এলাকায় হাঁটার সময় একটি বিশাল সিকোইয়া গাছের ডাল ভেঙে পড়ে এক গুগল প্রকৌশলীর মৃত্যু হয়। তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে সান ফ্রান্সিসকোর ওশান বিচ। বাহ্যিকভাবে এটি শান্ত ও সুন্দর সৈকত মনে হলেও স্থানীয়দের কাছে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শক্তিশালী রিপ কারেন্ট, বরফশীতল পানি এবং হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া বিশাল ঢেউয়ের কারণে বহু মানুষ এখানে প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু ১৯৯৮ সালেই এই সৈকতে সাতজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আরও অন্তত আটজনের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। চলতি বছরের জুনেও অস্বাভাবিক বড় ঢেউয়ের আঘাতে এক সার্ফারের মৃত্যু হয়। সবশেষে রয়েছে মাউন্ট হুইটনি। ১৪ হাজার ৫০৫ ফুট উচ্চতার এই পর্বত যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। প্রতিবছর হাজারো পর্বতারোহী এখানে ওঠেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শীর্ষে পৌঁছানোর চেয়ে নিচে নেমে আসার পথই বেশি বিপজ্জনক। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা, বিকেলের আকস্মিক ঝড়, হিমশীতল আবহাওয়া এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি অনেক সময় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গড়ে প্রতি বছর এক থেকে দুইজন এখানে প্রাণ হারান। ২০২২ সালে চারজন পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছিল। আর চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক পর্বতারোহী সঙ্গী ফিরে গেলেও একাই আরোহণ চালিয়ে যান এবং পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার এসব স্থান প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত হলেও নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এড়িয়ে চলাই নিরাপদ ভ্রমণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাতনি কাই ট্রাম্প জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। চলতি ফল সেমিস্টারে (Fall Semester) তিনি ইউনিভার্সিটি অব মিয়ামিতে ভর্তি হচ্ছেন। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গলফ দলের হয়ে খেলবেন তিনি। তবে নতুন এই যাত্রার আগে সবচেয়ে কঠিন বিষয় হয়ে উঠেছে পরিবার, বিশেষ করে মাকে ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্ত। সম্প্রতি নিজের ইউটিউব ভ্লগে ১৯ বছর বয়সী কাই জানান, নতুন অ্যাপার্টমেন্টে ওঠার প্রস্তুতি চলছে। আগামী ১৭ আগস্ট থেকে তার ক্লাস শুরু হবে। ভিডিওতে কলেজে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো পরিচিত গলফ কোর্সে খেলতে দেখা যায় তাকে। সেই সঙ্গে জীবনের এই বড় পরিবর্তন নিয়ে নিজের অনুভূতির কথাও তুলে ধরেন। কাই বলেন, "আগামী সপ্তাহেই কলেজে যাচ্ছি। বিশ্বাসই হচ্ছে না। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে গলফ খেলব।" তিনি বলেন, "এখন বাড়ি, বন্ধু আর পরিবারকে ছেড়ে যেতে হবে। মাকে খুব বেশি মিস করব।" মায়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কাই জানান, কয়েকদিন আগে তারা একসঙ্গে একটি দোকান থেকে কেনাকাটা করে ফিরছিলেন। গাড়িতে ওঠার পর হঠাৎ তার মা কাঁদতে শুরু করেন। সেই দৃশ্য দেখে তিনিও নিজেকে সামলাতে পারেননি। তার ভাষায়, "মা খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। সেদিন গাড়িতে তিনি কাঁদতে শুরু করলেন, তারপর আমিও কেঁদে ফেললাম। সত্যিই খুব কঠিন একটা সময়।" কাই ট্রাম্প, ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও ভ্যানেসা ট্রাম্পের বড় সন্তান। গত মে মাসে ভ্যানেসা ট্রাম্প জানান, তার স্তন ক্যানসার ধরা পড়েছে এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মায়ের উদ্দেশে কাই লিখেছিলেন, "আমি যত মানুষকে চিনি, তাদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষ তুমি। তোমাকে ভালোবাসি।" ভ্যানেসা বর্তমানে ফ্লোরিডার জুপিটার শহরে থাকেন, যা ইউনিভার্সিটি অব মিয়ামি থেকে প্রায় ৯০ মাইল দূরে। ফলে প্রতিদিন দেখা না হলেও সপ্তাহান্তে মা-মেয়ের দেখা হওয়ার সুযোগ থাকবে। ১৯ বছর বয়সী কাই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ জনপ্রিয়। তার ইউটিউব চ্যানেলে ১৫ লাখের বেশি সাবস্ক্রাইবার রয়েছে। সেখানে তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবন, গলফ অনুশীলন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার ভিডিও প্রকাশ করেন। এদিকে ভ্যানেসা ট্রাম্প বর্তমানে কিংবদন্তি গলফার টাইগার উডসের সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন। ২০২৪ সালে তারা প্রকাশ্যে নিজেদের সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সূত্র: দ্য আইরিশ স্টার
করোনাভাইরাস মহামারির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তা সত্ত্বেও এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পাড়ি জমানো মার্কিনিদের কাছে বসবাসের জন্য এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য ফ্লোরিডা ও টেক্সাস। সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন এক সমীক্ষার তথ্যে এমনটাই উঠে এসেছে। অনলাইন মুভিং প্ল্যাটফর্ম ‘মুভিংপ্লেস’ (MovingPlace) চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ৫০ লাখেরও বেশি মানুষের স্থানান্তরের ডেটা বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মাথাপিছু স্থানান্তরের হিসাব এবং সামগ্রিক প্রবণতা বিশ্লেষণ করে তারা জানিয়েছে, এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় এলাকা হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করেছে ফ্লোরিডার ইনলেট বিচ। ফ্লোরিডার এমারেল্ড কোস্টে অবস্থিত ইনলেট বিচে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে মাথাপিছু ১০৬.১ জন স্থানান্তরের রেকর্ড পাওয়া গেছে। শীর্ষ ১০টি জনপ্রিয় এলাকার তালিকায় ইনলেট বিচ ছাড়াও ফ্লোরিডার আরও তিনটি এলাকা জায়গা করে নিয়েছে; এগুলো হলো পোর্ট সেন্ট লুসি, ব্র্যাডেন্টন এবং সান আন্তোনিও (ফ্লোরিডা)। এছাড়া টেক্সাসের তিনটি শহর ক্র্যান্ডল, ল্যাভন এবং ম্যাক্সওয়েলও এই তালিকায় রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, ফ্লোরিডা এবং টেক্সাসের যেসব এলাকা এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে, সেগুলো কোনো বড় বা পরিচিত মেট্রো শহর নয়। মহামারির সময়ে অস্টিন, কেপ কোরাল, টাম্পা বা মিয়ামির মতো শহরগুলোতে নতুন বাসিন্দাদের ঢল নেমেছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে এসব শহরে বাড়ির দাম দুই অঙ্কের ঘরে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিবর্তন এসেছে। মানুষ এখন বড় শহরের বদলে তুলনামূলক ছোট ও সাশ্রয়ী এলাকা খুঁজছেন। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা ১০টি এলাকা: মুভিংপ্লেসের ডেটা অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে মাথাপিছু স্থানান্তরের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০টি এলাকা হলো: ১. ইনলেট বিচ, ফ্লোরিডা ২. ক্র্যান্ডল, টেক্সাস ৩. অরোরা, কলোরাডো ৪. ল্যাভন, টেক্সাস ৫. ন্যাশভিল, টেনেসি ৬. সারপ্রাইজ, অ্যারিজোনা ৭. পোর্ট সেন্ট লুসি, ফ্লোরিডা ৮. ব্র্যাডেন্টন, ফ্লোরিডা ৯. সান আন্তোনিও, ফ্লোরিডা ১০. ম্যাক্সওয়েল, টেক্সাস কেন এই শহরগুলোর এত জনপ্রিয়তা? গবেষকদের মতে, বিলাসবহুল উপকূলীয় জীবনযাপন এবং বিশ্বের অন্যতম সুন্দর সৈকতের সান্নিধ্যের কারণে ইনলেট বিচ এতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মূলত অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং যারা দ্বিতীয় বাড়ি কিনতে চান, তারাই এখানকার মূল ক্রেতা। আবাসন বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘রেডফিন’-এর তথ্যমতে, গত জুনে ইনলেট বিচ হাইটসে একটি সাধারণ বাড়ির গড় দাম ছিল ৭ লাখ ডলার, যা রাজ্যব্যাপী গড় দামের চেয়ে প্রায় ৩ লাখ ডলার বেশি। তবে তালিকার অন্যান্য ফ্লোরিডা শহরগুলোতে সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। রেডফিনের ডেটা বলছে, পোর্ট সেন্ট লুসিতে বাড়ির গড় দাম এখনো ৪ লাখ ডলারের নিচে। অন্যদিকে, পরিবার নিয়ে থাকার জন্য বা পেশাজীবীদের কাছে ব্র্যাডেন্টন বেশ আকর্ষণীয়, যেখানে বাড়ির দাম ৩ লাখ ১৯ হাজার ডলারের কিছুটা বেশি। ফ্লোরিডার সান আন্তোনিও শহরটিও বেশ সাশ্রয়ী; গত জুনে এখানে বাড়ির গড় দাম ছিল ৪ লাখ ৬৬ হাজার ১৯৬ ডলার। একই চিত্র দেখা গেছে টেক্সাসের ক্ষেত্রেও। ডেনভার বা ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থের মতো ব্যয়বহুল শহরের সাশ্রয়ী বিকল্প হয়ে উঠেছে টেক্সাসের ক্র্যান্ডল। গত জুনে এখানে একটি বাড়ির গড় দাম ছিল ২ লাখ ৮৮ হাজার ১০৩ ডলার, যেখানে ডালাসে প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার ডলার। একইভাবে, ল্যাভন ও ম্যাক্সওয়েল শহর দুটিও উত্তর টেক্সাস এবং অস্টিনের তুলনায় অনেক সস্তা। অস্টিনে যেখানে বাড়ির গড় দাম ৫ লাখ ৫৭ হাজার ডলারের বেশি, সেখানে ম্যাক্সওয়েলে আড়াই লাখ ডলারের নিচেই বাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। মুভিংপ্লেসের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক ড্যানিয়েল কোব এক বিবৃতিতে বলেন, "মহামারির সময়ের মতো শহর ছাড়ার হিড়িক এখন হয়তো কিছুটা কমেছে। কিন্তু মানুষের আবাসন চাহিদা এখনো ঐতিহ্যবাহী বড় শহরগুলোর চেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল শহরতলি এবং সাশ্রয়ী এলাকাগুলোর দিকেই বেশি। উষ্ণ আবহাওয়া, কম কর এবং তুলনামূলক সস্তা আবাসনের কারণে মানুষ সান বেল্ট অঞ্চলে, বিশেষ করে ফ্লোরিডা এবং টেক্সাসে বসবাস করতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।"
দীর্ঘ প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও মডেল জর্জিনা রদ্রিগেজ। মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট পর্তুগালের উপকূলীয় শহর কাসকাইসে ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে ব্যক্তিগত আয়োজনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি প্রকাশ করেন রোনালদো। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া ছবিতে দুজনের হাতের বিয়ের আংটি দেখা যায়। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন শুধু, ‘C❤️G’। পোস্টটি প্রকাশের পর দ্রুতই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিয়ের অনুষ্ঠানটি আগে থেকেই অনেকটা গোপন রাখা হয়েছিল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী লিসবনের কাছের কাসকাইসে ছোট পরিসরে সিভিল সেরিমনির মাধ্যমে বিয়ে করেন রোনালদো ও জর্জিনা। অনুষ্ঠানে তাদের পাঁচ সন্তান এবং পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রোনালদো ও জর্জিনার সম্পর্কের শুরু ২০১৬ সালে। মাদ্রিদের একটি গুচি স্টোরে প্রথম পরিচয় হয় তাদের। সেখানে সেলস অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন জর্জিনা। অন্যদিকে রোনালদো তখন রিয়াল মাদ্রিদের অন্যতম বড় তারকা। পরের বছর তাদের সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ফিফার দ্য বেস্ট অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপস্থিত হন তারা। এরপর থেকে রোনালদোর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের নিয়মিত সঙ্গী হয়ে ওঠেন জর্জিনা। একই বছর তাদের পরিবারও বড় হয়। ২০১৭ সালের জুনে সারোগেসির মাধ্যমে রোনালদোর যমজ সন্তান এভা মারিয়া ও মাতেওর জন্ম হয়। ওই বছরের নভেম্বরে রোনালদো ও জর্জিনার প্রথম সন্তান আলানা মার্টিনার জন্ম হয়। ২০২২ সালে আরও একবার যমজ সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন এই দম্পতি। তবে সন্তান জন্মের সময় তাদের ছেলে অ্যাঞ্জেল মারা যায়। বেঁচে যায় যমজ কন্যা বেলা এসমেরাল্ডা। সে সময় সন্তান হারানোর খবর নিজেরাই প্রকাশ করেছিলেন রোনালদো ও জর্জিনা। বর্তমানে পাঁচ সন্তানকে ঘিরে তাদের পরিবার। রোনালদোর বড় ছেলে ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র, যমজ এভা ও মাতেও, এবং রোনালদো ও জর্জিনার দুই মেয়ে আলানা ও বেলা তাদের সঙ্গে রয়েছে। বিয়ের ঠিক এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট নিজেদের বাগদানের খবর প্রকাশ করেছিলেন রোনালদো ও জর্জিনা। জর্জিনা তখন ইনস্টাগ্রামে বাগদানের আংটির ছবি দিয়ে স্প্যানিশ ভাষায় লিখেছিলেন, ‘হ্যাঁ, আমি রাজি। এই জীবনেও এবং আমার সব জীবনেই।’ ঠিক এক বছর পর ১১ আগস্টই বিয়ে করলেন তারা। ফুটবল ক্যারিয়ারে রোনালদো বিশ্বের সবচেয়ে সফল খেলোয়াড়দের একজন। পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জেতা এই পর্তুগিজ তারকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসের মতো ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে খেলেছেন। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের আল নাসরের হয়ে খেলছেন। পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়েও দীর্ঘদিন ধরে রেকর্ড গড়ে চলেছেন রোনালদো। আন্তর্জাতিক পুরুষ ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও তার দখলে। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, একসঙ্গে পরিবার গড়ে তোলা এবং বাগদানের এক বছর পর এবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বামী-স্ত্রী হলেন রোনালদো ও জর্জিনা। বড় কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণার বদলে একটি ছবি, দুটি বিয়ের আংটি আর ‘C❤️G’ দিয়েই জীবনের নতুন অধ্যায়ের খবরটি ভক্তদের জানিয়েছেন রোনালদো।
নিউইয়র্কের কুইন্সের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে হামলার শিকার হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি ওয়াহেদ আলী মন্ডল। মঙ্গলবার দুপুরে বাসায় ফেরার পথে এক ব্যক্তি তার ওপর আকস্মিক হামলা চালায় বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আহত অবস্থায় তাকে এলমহার্স্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জ্যাকসন হাইটস থেকে নর্দার্ন বুলেভার্ডের বাসায় ফিরছিলেন ওয়াহেদ আলী মন্ডল। ৭১তম স্ট্রিট ও ৩৫তম অ্যাভিনিউয়ের কাছে পৌঁছালে একটি রিহ্যাব সেন্টারের কর্নারে হঠাৎ এক ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, হামলাকারী ওয়াহেদ আলী মন্ডলের ঘাড়, বুক, গলা ও মুখে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করলে আশপাশে থাকা লোকজন তাকে ধাওয়া করে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হামলায় আহত ওয়াহেদ আলী মন্ডলকে চিকিৎসার জন্য কুইন্সের এলমহার্স্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তার আঘাতের বিস্তারিত অবস্থা সম্পর্কে হাসপাতাল বা চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। ওয়াহেদ আলী মন্ডলের বড় ছেলে মোক্তার হোসেন তার বাবার ওপর হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বাবার দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। হামলাকারী হিসেবে আটক ব্যক্তির পরিচয় এবং তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। একইভাবে কী কারণে ওয়াহেদ আলী মন্ডলের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনার পেছনে জাতিগত, ধর্মীয় বা অন্য কোনো বিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্য ছিল কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটিকে এখনই হেইট ক্রাইম হিসেবে উল্লেখ করার সুযোগ নেই। নিউইয়র্ক পুলিশ ঘটনাটি হেইট ক্রাইম হিসেবে তদন্ত করছে কি না, সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জ্যাকসন হাইটস ও এর আশপাশের এলাকা নিউইয়র্কের অন্যতম বৃহৎ বাংলাদেশি কমিউনিটির আবাসস্থল। এলাকাটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সংগঠন রয়েছে। প্রকাশ্য রাস্তায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ বাংলাদেশির ওপর হামলার খবরে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি জানতে পুলিশের তদন্ত এবং আনুষ্ঠানিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হামলার কারণ, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং ঘটনাটি কোনো ধরনের বিদ্বেষমূলক অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়েছে। অন্য শিশুদের মতো স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে পাঁচ বছরের নোয়াও। তবে এবার তার সবচেয়ে বড় অপেক্ষা নতুন বই বা স্কুলব্যাগের জন্য নয়, মায়ের জন্য। কারণ নিয়মিত একটি অভিবাসন সাক্ষাৎকারে যাওয়ার পর থেকে তার মা মাইসা লোপেস এলিয়াসের যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস)-এর হেফাজতে রয়েছেন। আর স্ত্রীকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনতে এখন আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন সেনাবাহিনীর সদস্য অ্যালেক্সিস হারামিলো। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেএএলবি (KALB) জানায়, স্টাফ সার্জেন্ট অ্যালেক্সিস হারামিলো গত ১১ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে কর্মরত। পুয়ের্তো রিকোতে জন্ম নেওয়া এই বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ বলেন, দেশের সেবায় গর্বিত হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি নিজেকে 'প্রতারিত' মনে করছেন। হারামিলোর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই তিনি, তার স্ত্রী এবং পাঁচ বছরের ছেলে নোয়া আলাবামার মন্টগোমারিতে একটি নির্ধারিত অভিবাসন সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে আট ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে যান। সাক্ষাৎকার চলাকালে আইস কর্মকর্তারা তার স্ত্রীকে আলাদা কক্ষে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর তাদের জানানো হয়, মাইসা লোপেস এলিয়াসেরকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, "আমার ছেলের সামনেই জানানো হয় তার মাকে আটক করা হয়েছে। সেই মুহূর্তের কথা মনে করাও খুব কষ্টের।" ২০১৯ সালে ব্রাজিলের সাও পাওলো থেকে বৈধ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসেন মাইসা। পরে হারামিলোর সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে অভিবাসন মর্যাদা পরিবর্তনের আবেদনও করা হয়। তবে অভিবাসন আইনজীবী মাইকেল গাহাগান জানান, মাইসা নির্ধারিত একটি বায়োমেট্রিকস (আঙুলের ছাপ ও পরিচয় যাচাই) সাক্ষাতে উপস্থিত হননি। এর ফলে তার আশ্রয় আবেদন বাতিল হয় এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ জারি করা হয়। হারামিলো বলেন, তারা মনে করেছিলেন বিয়ের পর নতুন করে জমা দেওয়া কাগজপত্রের কারণে আগের বায়োমেট্রিকস সাক্ষাতে আর যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আইন অনুযায়ী একটি আবেদন অন্য প্রক্রিয়াকে বাতিল করে না। বর্তমানে হারামিলোর আইনজীবী মামলাটি পুনরায় চালুর আবেদন করেছেন। আইনজীবীদের আশা, আদালত আবেদন গ্রহণ করলে আপাতত বহিষ্কারের প্রক্রিয়া স্থগিত হতে পারে। তবে এরই মধ্যে আইস ব্রাজিলের কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে। স্ত্রীকে মুক্ত করতে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে গিয়ে আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম চাপের মধ্যে রয়েছেন হারামিলো। তিনি বলেন, মামলার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই চাপ তার ব্যক্তিগত জীবন তো বটেই, সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের ওপরও প্রভাব ফেলছে। তার ভাষায়, "আমার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা আমার ছেলে। স্কুল শুরু হয়েছে, কিন্তু এবার প্রথমবারের মতো তার মা তাকে স্কুলের প্রথম দিনে নিয়ে যেতে পারছে না।" বর্তমানে মাইসা লুইজিয়ানার ব্যাসিলে অবস্থিত আইস প্রসেসিং সেন্টারে আটক আছেন। তার স্বামীর দাবি, তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। যদি শেষ পর্যন্ত তার স্ত্রীকে ব্রাজিলে ফেরত পাঠানো হয়, সেটিই হবে তার জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন বলে মন্তব্য করেন হারামিলো। তিনি বলেন, "আমরা আইন ভাঙার চেষ্টা করছি না। বরং আইন মেনেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চেয়েছি।" হারামিলো যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের প্রতি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আইনি লড়াইয়ের ব্যয় মেটাতে একটি গোফান্ডমি তহবিলও চালু করেছেন। এদিকে, এ ঘটনায় মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও আইসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সূত্র: কেএএলবি (KALB), গ্রে নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের অ্যাঙ্কোরেজে গত মাসে ঘটে যাওয়া একটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মায়ের চার বছর বয়সী কন্যাও দুই দিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। একই দুর্ঘটনায় আহত পরিবারের এক বছরের শিশুপুত্র প্রাণে বেঁচে গেলেও তার দুই পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেটিইউইউ (KTUU) এবং অ্যাঙ্কোরেজ পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পর এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ২৩ বছর বয়সী কাইলি হুগেনডর্ন একটি জিএমসি সিয়েরা পিকআপ ট্রাক চালাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি রাস্তার পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। গাড়িতে থাকা তার দুই সন্তান, চার বছর ও এক বছর বয়সী, দুজনকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে দুর্ঘটনার দুই দিন পর, ৩০ জুলাই, চার বছরের শিশুকন্যাটিও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এক বছরের শিশুপুত্রটি প্রাণে বেঁচে গেছে। তবে দুর্ঘটনায় তার দুই পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং তার চিকিৎসা চলছে। পরিবারটির সহায়তায় খোলা একটি গোফান্ডমি (GoFundMe) তহবিলের বিবরণে বলা হয়েছে, কাইলি হুগেনডর্ন তার দুই সন্তানকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তার ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব তাকে চেনা সবার হৃদয়ে স্থায়ী স্মৃতি হয়ে থাকবে। অ্যাঙ্কোরেজ পুলিশ জানিয়েছে, কী কারণে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, তা এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। সূত্র: কেটিইউইউ (KTUU), অ্যাঙ্কোরেজ পুলিশ বিভাগ
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস) কর্মকর্তাদের জন্য বিদ্যুৎ শক দিতে সক্ষম বিশেষ ধরনের গ্লাভস কিনতে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের (ডিএইচএস) প্রকাশিত একটি ক্রয়সংক্রান্ত নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পরিকল্পনাটি প্রকাশের পরই মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ডিএইচএসের নোটিশ অনুযায়ী, আগামী বছরের মার্চের মধ্যে আইসের কর্মকর্তা ও এজেন্টদের ব্যবহারের জন্য হাজার হাজার 'গ্লোভ (Generated Low Output Voltage Emitter)' কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো তৈরি করে কেন্টাকির লেক্সিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এলএলসি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই গ্লাভস সাধারণ টহল গ্লাভসের মতোই ব্যবহার করা যায়। তবে প্রয়োজনে একটি সুইচ চাপলে এটি বিদ্যুৎ শক দেওয়ার মোডে চলে যায়। কারও খোলা ত্বকে স্পর্শ করালে এটি তীব্র ব্যথার অনুভূতি সৃষ্টি করে এবং সাধারণত তিন সেকেন্ডেরও কম সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এতে পোড়া দাগ, ক্ষত বা স্থায়ী চিহ্ন পড়ে না। কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এ প্রযুক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য তুলনামূলক কম দৃশ্যমান এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে সহায়ক একটি পদ্ধতি হিসেবে বর্ণনা করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি কারাগারেও এ ধরনের গ্লাভস ব্যবহারের নজির রয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর দ্য প্রিভেনশন অব ইন-কাস্টডি ডেথসের সভাপতি জন পিটার্স, যিনি এ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করছেন, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, বিদ্যুৎ শকের অনুভূতি অনেকটা মৌমাছির হুল ফোটানোর মতো তীব্র ও তাৎক্ষণিক। তার মতে, কেউ প্রতিরোধ করলে কর্মকর্তাদের জন্য এটি কার্যকর একটি নিয়ন্ত্রণমূলক সরঞ্জাম হতে পারে। তবে পরিকল্পনাটি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। তাদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিষয়ক কঠোর নীতি বাস্তবায়নের সময় আইসের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ আগেই উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ শক দেওয়ার নতুন সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ আরও বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) পুলিশিং প্রকল্পের উপপরিচালক জেন রলনিক বোরকেটা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, বেসামরিক অভিবাসন আইন প্রয়োগে এ ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে তার গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তার ভাষায়, "গত এক বছরে আইস দেখিয়েছে যে তারা খুব দ্রুত বলপ্রয়োগে যায়। এখন একটি বোতাম চাপলেই তারা বিদ্যুৎ শক ব্যবহার করতে পারবে, যা হয়তো অন্য কেউ দেখতেও পারবে না। এতে সাধারণ মানুষের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।" অন্যদিকে জন পিটার্সের ধারণা, আইসের এই ক্রয়াদেশ সম্ভবত কোম্পানিটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্ডার হতে যাচ্ছে। তার মতে, গাড়ি, বাড়ি বা আটককেন্দ্রে সহযোগিতা না করা ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্মকর্তারা এ গ্লাভস ব্যবহার করতে পারেন। তবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিজেও কিছু সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছে। তাদের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এটি কোনোভাবেই শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না। শুধু মৌখিকভাবে প্রতিবাদ বা অসহযোগিতা করছেন, এমন ব্যক্তির বিরুদ্ধেও এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। এছাড়া শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধীদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর এ গ্লাভস ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেফ নিকলাস ই-মেইলে জানান, এ বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে অপারগ। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের একটি হাইস্কুলে ফুটবল অনুশীলন চলছিল। হঠাৎ এক খেলোয়াড়ের হেলমেটের ভেতর থেকে উঁকি দিল একটি বিষধর সাপ। এমন অভাবনীয় ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে অনুশীলন বন্ধ হয়ে যায়। প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই শিক্ষার্থী যে সাপের কামড় থেকে রক্ষা পেয়েছেন, তা নিতান্তই তার সৌভাগ্য। গত সপ্তাহে আরকানসাসের মাউমেল হাইস্কুলে এ ঘটনা ঘটে। হেলমেটের ভেতর সাপটি দেখার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ দ্রুত স্থানীয় প্রাণী নিয়ন্ত্রণ সংস্থায় খবর দেয়। শুরুতে সাপটিকে 'কপারহেড' প্রজাতির মনে করা হলেও পরে বিশেষজ্ঞরা এসে নিশ্চিত করেন, এটি আসলে একটি বিষধর 'কটনমাউথ' সাপ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেএটিভি-কে (KATV) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাউমেল অ্যানিমেল সার্ভিসের পরিচালক ক্রিস ডেভিস বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, "আমি এর আগে গাড়ির ভেন্ট, ইঞ্জিন, নারীদের পার্স কিংবা ব্যাকপ্যাক থেকে সাপ উদ্ধার করেছি। কিন্তু হেলমেটের ভেতর? এমনটা আগে কখনো দেখিনি। এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য একটা ব্যাপার।" সাপটি হেলমেটের ভেতরের ফোমের প্যাডিংয়ের মধ্যে এমনভাবে কুঁচকে লুকিয়ে ছিল যে তাকে বের করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রাণী নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা হেলমেটের ভেতর পানি ঢেলে সাপটিকে বের করে আনতে বাধ্য হন। পরে এটিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। কটনমাউথ সাপ সাধারণত অন্ধকার ও নিরাপদ স্থানে লুকিয়ে থাকতে পছন্দ করে। এটি আরকানসাসের অন্যতম বিষধর সাপ হিসেবে পরিচিত। এ বিষয়ে ক্রিস ডেভিস আরও বলেন, "আমার মতে, আরকানসাসে র্যাটলস্নেকের পরই কটনমাউথ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিষধর সাপ। এটি যদি ওই কিশোরকে কামড়াত, তবে পরিণতি হতে পারত অত্যন্ত ভয়াবহ এবং প্রাণঘাতী।" ডেভিসের ভাষায় পুরো ঘটনাটি ছিল 'অবাস্তব'। তিনি বলেন, "পরিস্থিতি এতটাই অদ্ভুত ছিল যে, নিজের চোখে দেখে ছবি না তুললে বিশ্বাস করা কঠিন হতো।" উল্লেখ্য, আরকানসাস অঙ্গরাজ্যে যে ছয় প্রজাতির বিষধর সাপ পাওয়া যায়, তার মধ্যে কটনমাউথ অন্যতম। ভারী শরীরের এই সাপগুলো সাধারণত গাঢ় জলপাই-বাদামি বা কালো রঙের হয়ে থাকে। শরীর ভিজে না থাকলে এদের গায়ের ডোরাকাটা দাগগুলো খুব একটা স্পষ্ট বোঝা যায় না। এদের ওপরের ঠোঁট সাদাটে হয় এবং নাক থেকে গলা পর্যন্ত একটি কালো রেখা টানা থাকে।
নিউইয়র্ক সিটির বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির ওপর আরোপিত বিতর্কিত ‘পিয়ে-আ-তের’ (Pied-à-terre) কর বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন আদালত। এর জেরে গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বিষয়টি গভর্নর হোকুলের পুনর্নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মঙ্গলবার প্রকাশিত নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ওয়েন ওজি সোমবার কর বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে স্থগিতের নির্দেশ দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই করটি নিয়ে রাজ্য সরকার ও সিটি হলের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিতর্কিত এই করের লক্ষ্য নিউইয়র্ক সিটিতে থাকা উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় আবাসন বা বিলাসবহুল বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করা। চলতি বছরের মে মাসে গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা রাজ্য বাজেটের অংশ হিসেবে করটির অনুমোদন দেন। এটি ছিল মেয়র মামদানি এবং তার সমর্থকদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলোর একটি। তবে কর বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার পরপরই একাধিক জটিলতা সামনে আসে। এরপর আদালতের স্থগিতাদেশ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এ অবস্থায় গভর্নর হোকুলের কার্যালয় জানিয়েছে, করটির বাস্তবায়নের দায় নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের। গভর্নরের মুখপাত্র জেনিফার গুডম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, এই মামলাটি কর বাস্তবায়নের প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে, যা আদালত এবং সিটি প্রশাসনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। তবে গভর্নর এখনও মনে করেন, যারা নিউইয়র্ক সিটিতে কয়েক মিলিয়ন ডলারের দ্বিতীয় বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখেন, তারা ন্যায্য হারে কর দেওয়ারও সামর্থ্য রাখেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন গভর্নর নির্বাচন সামনে রেখে হোকুল এই বিতর্ক থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চাইছেন। ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, নির্বাচনের আগে হোকুলের জন্য ‘কর বাড়ানো ও অতিরিক্ত ব্যয়ের’ ভাবমূর্তি মোটেই সুবিধাজনক নয়। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী ব্রুস ব্লেকম্যান এই ইস্যুতে গভর্নরকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন। কুইন্সে এক নির্বাচনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, হোকুল নিজের ব্যর্থতার দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। তার দাবি, ডেমোক্রেটিক পার্টিতে এখন মামদানির প্রভাব বেড়েছে এবং গভর্নর তার চাওয়া অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এদিকে, আদালতের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করেছে মামদানির প্রশাসন। তাদের দাবি, স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হলে মামলার শুনানি চলাকালেও কর বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। তবে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী র্যান্ডি মাস্ত্রো অভিযোগ করেছেন, আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পরও সিটি প্রশাসন কর বাস্তবায়নের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আদালতে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এ ধরনের পদক্ষেপকে ‘আইনের শাসনের পরিপন্থী’ বলে উল্লেখ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের বর্তমান স্থগিতাদেশ শুধু তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক জটিলতাই নয়, ভবিষ্যতে নিউইয়র্ক সিটির দীর্ঘদিনের জটিল সম্পত্তি কর ব্যবস্থার বড় ধরনের সংস্কারের প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। কারণ, এই কর কার্যকর করতে হলে শহরের বিদ্যমান সম্পত্তি কর কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে হতে পারে, যা অতীতের কোনো মেয়রই বাস্তবে কার্যকর করতে পারেননি। রিপাবলিকান নেতারাও এই সুযোগে গভর্নর হোকুলের সমালোচনা আরও জোরদার করেছেন। অঙ্গরাজ্যের কম্পট্রোলার পদপ্রার্থী জোসেফ হার্নান্দেজ বলেন, মামদানি নতুন কর চেয়েছিলেন, হোকুল সেটি অনুমোদন দিয়েছেন। এখন এর পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে নিউইয়র্কের বাড়ির মালিকদের। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা মাইকেল ট্যানুসিসও দাবি করেন, এই করের বাস্তবায়ন যেমন সমস্যায় পড়েছে, তেমনি করটির প্রয়োজনীয়তাও প্রশ্নবিদ্ধ। তার ভাষায়, শুধু বাস্তবায়ন নয়, এমন করই থাকা উচিত নয়। নিউইয়র্কে ‘পিয়ে-আ-তের’ কর নিয়ে আইনি লড়াই এখনও চলমান। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে করটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে কি না এবং এটি গভর্নর ক্যাথি হোকুল ও মেয়র জোহরান মামদানির রাজনৈতিক অবস্থানে কতটা প্রভাব ফেলবে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
ব্যবসায়িক লোকসান ও ধীর প্রবৃদ্ধির ধাক্কা সামলাতে এবার নতুন এক কৌশল হাতে নিয়েছে 'ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ'। প্রতিষ্ঠানটি তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্টগুলোতে অন্যদের চেয়ে দ্রুত নজর রাখার সুযোগ অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করতে শুরু করেছে। 'ট্রুথ এপিআই' (Truth API) নামের এই ডেটা ফিডের মাধ্যমে ট্রাম্পের পোস্টগুলো সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছানোর কয়েক মিলি-সেকেন্ড আগেই নির্দিষ্ট গ্রাহকদের কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসবে। এই আগাম তথ্যের সুবিধা পেতে গ্রাহকদের মাসে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত গুণতে হচ্ছে। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেভিন ম্যাকগার্ন বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছেন, এরই মধ্যে ১০টিরও বেশি গ্রাহক প্রতিষ্ঠান এই এপিআই চুক্তিতে সই করেছে। এর মধ্যে অধিকাংশই 'হাই-ফ্রিকোয়েন্সি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং ফার্ম', যারা শুল্ক নীতি বা বৈদেশিক নীতির মতো বাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো সামান্য আগে জেনে পুঁজিবাজারে ব্যবসায়িক সুবিধা নিতে চায়। কোম্পানিটি বর্তমানে বড় বড় ক্লাউড কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথেও এই ডেটা ফিড বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ট্রাম্প মিডিয়ার এই বাণিজ্যিক উদ্যোগ তীব্র নৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা এবং আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একজন প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য অর্থের বিনিময়ে আগেভাগে জানার সুযোগ শেয়ারবাজারে মারাত্মক কারসাজি বা 'ইনসাইডার ট্রেডিং'-এর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প মিডিয়া কখনো লাভের মুখ দেখেনি। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির ক্রিপ্টোকারেন্সির দরপতনের কারণে দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের লোকসানের পরিমাণ দশ গুণ বেড়ে ২৩ কোটি ৮০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। আয় বাড়াতে তারা এখন দেশপ্রেম-নির্ভর ইটিএফ (ETF) থেকে শুরু করে ফিউশন এনার্জি কোম্পানিতেও বিনিয়োগ করছে। ট্রুথ সোশ্যাল কোম্পানিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রায় ৪১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০০ কোটি ডলার। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সরকারি তথ্য অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা এবং তার মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়াটা নৈতিকভাবে সম্পূর্ণ অনুচিত। যদিও ট্রাম্প মিডিয়ার সিইও এসব সমালোচনাকে 'ভ্রান্ত' বলে উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছেন, তাদের গ্রাহকরা কেবল প্রকাশ্য তথ্যই সামান্য দ্রুত পেয়ে থাকেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানিয়েছেন, দীর্ঘ চার বছরের বেশি সময় ধরে রাশিয়ার কারাগারে বন্দী থাকা এক সাবেক মার্কিন নৌসেনাকে (মেরিন ভেটেরান) মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রবার্ট গিলম্যান নামের এই মার্কিন নাগরিকের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল বলে সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল তার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত একটি অধিকার গোষ্ঠী। ট্রাম্প জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন 'মানবিক কারণে' গিলম্যানকে মুক্তি দিতে রাজি হয়েছেন এবং এর বিনিময়ে রাশিয়া কোনো বন্দী বিনিময় বা অন্য কোনো শর্ত দাবি করেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ ট্রাম্প লেখেন, "কোনো বন্দী বিনিময় হয়নি"। তিনি আরও জানান, দেশে ফেরার পর গিলম্যান কেবল একটি ভালো মানের 'চিজবার্গার' খেতে চেয়েছেন এবং তিনি সেটির ব্যবস্থা করবেন। গ্লোবাল রিচ নামের একটি সংস্থার চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার এরিক লেবসন জানিয়েছেন, ৩২ বছর বয়সী গিলম্যানকে টেক্সাসের একটি মার্কিন সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, গিলম্যান মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে পৌঁছাবেন এবং সেখানে তার দলের প্রতিনিধিরা তাকে স্বাগত জানাবেন। গিলম্যানের সাথে তার মা-ও যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন, যিনি অসুস্থ ছেলেকে দেখতে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। গিলম্যানের বোন লেক্সি হাডসন তার ভাইয়ের জীবন বাঁচানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ম্যাসাচুসেটসের বাসিন্দা এবং পেশায় শিক্ষক রবার্ট গিলম্যান ২০২২ সাল থেকে রাশিয়ায় বন্দী ছিলেন। ট্রেনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তাকে নামিয়ে দেওয়ার পর এক পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধরের দালায় প্রাথমিকভাবে তাকে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কারাগারে পরিদর্শক ও প্রহরীদের ওপর হামলার অভিযোগে তার সাজার মেয়াদ কয়েক দফায় বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়। লেবসন জানান, রাশিয়ায় বন্দিদশায় গিলম্যানকে চরম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে; যার মধ্যে দৈনিক ১৬ ঘণ্টার বাধ্যতামূলক ব্যায়াম এবং মানসিক ভারসাম্য নষ্টকারী সাইকোট্রপিক ওষুধ প্রয়োগের মতো ঘটনাও রয়েছে। এমনকি ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতেও তাকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অমানবিক নির্যাতনের কারণে গিলম্যান গত ৪৭ দিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন বা 'ডিসোসিয়েটিভ স্টুপোর' অবস্থায় ছিলেন। সম্প্রতি তাকে কারাগার থেকে একটি বেসামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করে বিছানার সাথে হাতকড়া পরিয়ে ফিডিং টিউবের মাধ্যমে খাবার দেওয়া হচ্ছিল। তার এই মুমূর্ষু অবস্থার কথা জানতে পেরেই মার্কিন প্রশাসন রাশিয়ার সাথে বারবার যোগাযোগ করে মানবিক কারণে তার দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা করে।
গ্রীষ্মের বিদায়বেলা এবং আসন্ন লেবার ডেকে সামনে রেখে ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের কাছে এখন ক্যাম্পিংয়ের বিষয়টি দারুণ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। যারা শহরের কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য রয়েছে দারুণ সুখবর। আউটডোর থাকার জায়গা খোঁজার জনপ্রিয় অ্যাপ 'হিপক্যাম্প'-এর তথ্যমতে, ক্যালিফোর্নিয়ার সর্বোচ্চ রেটিংপ্রাপ্ত ক্যাম্পসাইটের খেতাব পেয়েছে একসময়ের একটি পুরোনো অ্যাভোকাডো খামার। প্রায় দুই হাজার পর্যটকের পর্যালোচনার ভিত্তিতে ৯৫ শতাংশ ইতিবাচক রেটিং পেয়ে তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে 'স্প্লিটরক ফার্ম অ্যান্ড রিট্রিট' নামের এই ক্যাম্পসাইটটি। লস অ্যাঞ্জেলেসের ডাউনটাউন থেকে মাত্র দুই ঘণ্টার দূরত্বে ডি লুজ হাইটস এলাকায় অবস্থিত এই ক্যাম্পসাইটটি প্রায় ১০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। বিশালাকার গ্রানাইট পাথর এবং ওক, পাম ও পাইন গাছের মনোরম সমারোহে ঘেরা এই জায়গাটি ১৯৭০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত একটি সমৃদ্ধ অ্যাভোকাডো খামার হিসেবে পরিচিত ছিল, যেখানে বছরে ১০ লাখ পাউন্ডেরও বেশি অ্যাভোকাডো উৎপাদিত হতো। ২০২১ সালে বেন করবেট নামের এক ব্যক্তি টেকসই কৃষি ও আউটডোর বিনোদনের প্রসারের লক্ষ্যে জমিটি কিনে নেন। শরীর, মন ও আত্মার সুস্থতার জন্য প্রকৃতিকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই তিনি জায়গাটিকে একটি অনন্য রিট্রিট সেন্টারে পরিণত করেছেন। স্প্লিটরক ফার্মে বর্তমানে ৩৬টি আলাদা ক্যাম্পসাইট রয়েছে, যেখানে মাত্র ২২ ডলার খরচ করে রাত কাটানো যায়। তাঁবু বা আরভি (RV) থেকে শুরু করে বিলাসবহুল গ্ল্যাম্পিংয়েরও (glamping) সুব্যবস্থা রয়েছে এখানে। পর্যটকেরা চাইলে বাড়তি খরচের বিনিময়ে ক্যানভাস বেল টেন্ট, স্লিপিং ট্রেইলার, ব্যক্তিগত যোগব্যায়াম সেশন, ছাগলছানাদের সাথে খেলাধুলা কিংবা সানসেট সাউন্ড বাথের মতো বিশেষ সুবিধাগুলো উপভোগ করতে পারেন। এখানকার সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত 'গ্রানাইট ট্যাবারনাকল' সাইটটি থেকে প্যানোরামিক ভিউ উপভোগ করা যায়, যেখানে একসঙ্গে দশজনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া 'বেবি ওকস ওয়েসিস' এলাকাটি সুস্থতা কেন্দ্র, যোগব্যায়ামের কর্মশালা বা ছোট পরিসরের সংগীতানুষ্ঠানের জন্য দারুণভাবে সাজানো হয়েছে। ক্যাম্পসাইটটি থেকে মাত্র ৩ মাইল দূরে রয়েছে সান্তা মার্গারিটা রিভার ট্রেইল প্রিজার্ভ এবং ৫ মাইল দূরে ফালব্রুকের ডাউনটাউন, ফলে পর্যটকদের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা বা রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা পোহাতে হয় না। দর্শনার্থীরা জায়গাটির নিরিবিলি পরিবেশ, চমৎকার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের প্রশংসা করে অ্যাপে অসংখ্য ইতিবাচক রিভিউ দিয়েছেন। শুধু সাধারণ ক্যাম্পিং-ই নয়, আগামী ২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর এখানে একটি বিশেষ যোগব্যায়াম রিট্রিটের আয়োজন করা হচ্ছে। এছাড়া গ্রীষ্মের মাসগুলোতে শিশুদের খামারের পশুপাখি ও প্রকৃতির সাথে পরিচিত করে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে বিশেষ ডে-ক্যাম্পেরও ব্যবস্থা থাকে এখানে।
মেহেরপুর সদর উপজেলার ইছাখালী সীমান্তে এক অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী হলো দুই দেশের মানুষ। মঙ্গলবার সকালে আবদুল মান্নান (৭০) নামের এক বয়োজ্যেষ্ঠ বাংলাদেশি কৃষককে ধরে নিয়ে যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এই খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে সীমান্ত এলাকায় অবস্থানরত দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করে নিয়ে আসেন। এরপর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইছাখালী মসজিদপাড়ার বাসিন্দা আবদুল মান্নান দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তের কাছের একটি জমিতে কাঁচা মরিচসহ নানা ফসলের চাষ করে আসছেন। সকালে সেখানে কীটনাশক স্প্রে করতে গেলে বিএসএফ তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও বিএসএফ তা শোনেনি। ফলে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী সচিন কর্মকার ও নারায়ণ দেব নামের দুই ভারতীয় কৃষককে ধরে নিয়ে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেলা দুইটার দিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান নিশ্চিত করেছেন যে, ওই বৈঠকের পর উভয় পক্ষই তাদের নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের নিরাপদে হস্তান্তর করেছে। অন্যদিকে, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী সীমান্তে আজিবর রহমান (২৩) নামের আরেক বাংলাদেশি তরুণকে আটক করেছে বিএসএফ। সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে শিলখুড়ি ইউনিয়নের কাজিয়ার চরের দোনালার মাথা এলাকার আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের কাছাকাছি দিয়ে ভারতে প্রবেশের সময় তিনি বিএসএফের হাতে ধরা পড়েন। তার সঙ্গীরা পালিয়ে আসতে পারলেও আজিবর ব্যর্থ হন। বিজিবির কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক জানিয়েছেন, আটক তরুণকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
দিনের বেলায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অবস্থিত নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের একজন 'হিউম্যান পারফরম্যান্স ইঞ্জিনিয়ার'। মহাকাশচারীরা যাতে স্পেসস্যুটে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারেন, তা নিয়ে কাজ করেন তিনি। কিন্তু দিনের কাজ শেষে এরিন অ্যান্ড্রুস নামের ৪১ বছর বয়সী এই নারীর জীবন সম্পূর্ণ ভিন্ন। নিজের বেডরুমের ক্লোজেটে (দেয়াল-আলমারি) তৈরি করা একটি অস্থায়ী সাউন্ড বুথে ভয়েসওভার আর্টিস্ট বা কণ্ঠশিল্পী হিসেবে 'সাইড হাসল' করেন তিনি। আর চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, এই খণ্ডকালীন কাজ থেকে তিনি এখন মাসে গড়ে ৩২ হাজার ৪০০ ডলার আয় করছেন! ২০২২ সালের মার্চ মাসে স্বামীবিচ্ছিন্ন হওয়ার পর একজন 'সিঙ্গেল মাদার' হিসেবে এরিন চেয়েছিলেন মাসে অন্তত ২০০ ডলার বাড়তি আয় করতে, যাতে খরচের চিন্তা ছাড়া তার ছয় বছর বয়সী মেয়েকে আইসক্রিম খাওয়াতে বা শিশু জাদুঘরে নিয়ে যেতে পারেন। ইন্টারনেটে 'সিঙ্গেল মম সাইড হাসল' লিখে খুঁজতেই তিনি ভয়েসওভারের আইডিয়াটি পান। এরপর মাত্র ২০০ ডলার খরচ করে একটি ভয়েসওভার কোর্স করেন, একটি মাইক্রোফোন কেনেন এবং শব্দ নিয়ন্ত্রণের জন্য ওয়ালমার্ট থেকে ম্যাট্রেস টপার কিনে নিজের ক্লোজেটকে মিনি-রেকর্ডিং বুথে পরিণত করেন। জায়গাটি এতটাই ছোট ছিল যে, তাকে বসে বসে রেকর্ডিং করতে হতো। অনলাইন ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস ফাইভার-এ (Fiverr) প্রোফাইল খুলে কাজ শুরু করেন এরিন। বর্তমানে তিনি অ্যাপল, কোকা-কোলা, পেটস্মার্ট এবং ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপির মতো বড় বড় ক্লায়েন্টদের হয়ে করপোরেট ঘোষণা ও ট্রেনিং ভিডিওর ভয়েসওভার দিচ্ছেন। এরিন জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর যুগে মানুষ এখন অতি-নিখুঁত কণ্ঠের বদলে আসল মানুষের একটু অমসৃণ ও স্বাভাবিক কণ্ঠ শুনতে বেশি পছন্দ করে, যা তার জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ। চলতি ২০২৬ সালে ইতিমধ্যেই এই সাইড হাসল থেকে তিনি ২ লাখ ২৭ হাজার ডলারের বেশি আয় করেছেন, যা গত ২০২৫ সালের গ্রীষ্মেই নাসায় তার মূল বেতনের অঙ্ককে ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে ভয়েসওভারের কাজ থেকে পাওয়া অর্থে তিনি ভ্রমণ করছেন, গাড়ি কিনেছেন এবং মেয়ের কলেজের পড়াশোনার জন্য সঞ্চয় করছেন। তবে নাসার চ্যালেঞ্জিং চাকরিটি ছাড়ার কোনো ইচ্ছে তার আপাতত নেই। বরং সম্প্রতি তিনি ভিডিও গেম এবং অ্যানিমেটেড কমিকসে চরিত্রভিত্তিক ভয়েসওভারের কাজও শুরু করেছেন এবং ২০২৫ সালের আগস্টে ডালাসে একটি ভিডিও গেমে কণ্ঠ দিয়ে পুরস্কারও জিতেছেন। একসময় নিজেকে কেবল বিজ্ঞান ও অঙ্কের মানুষ ভাবা এরিন এখন নিজের এই শৈল্পিক সত্তা এবং অভাবনীয় আর্থিক স্বাধীনতা নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী ও চিন্তামুক্ত জীবন কাটাচ্ছেন।