সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

আমেরিকায় পুলিশ থামালে বাংলাদেশিরা ভুলেও যে ৪ কথা বলবেন না

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ১:২৯
আমেরিকায় পুলিশ থামালে বাংলাদেশিরা ভুলেও যে ৪ কথা বলবেন না
আমেরিকায় পুলিশ থামালে বাংলাদেশিরা ভুলেও যে ৪ কথা বলবেন না

যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর সময় পুলিশ থামালে ভয় বা নার্ভাসনেস থেকে অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কথা বলে ফেলেন। বিশেষ করে নতুন অভিবাসী বা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাফিক আইন ও পুলিশি প্রক্রিয়ার সঙ্গে কম পরিচিত চালকদের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কিন্তু ট্রাফিক স্টপে বলা কিছু কথা পরে টিকিট, তদন্ত বা আদালতের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

 

আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন বা এসিএলইউর সর্বশেষ “নো ইয়োর রাইটস” নির্দেশনা অনুযায়ী, পুলিশ গাড়ি থামালে চালক ও যাত্রী উভয়েরই চুপ থাকার অধিকার রয়েছে। তবে চালককে পুলিশ চাইলে ড্রাইভার লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন এবং ইন্স্যুরেন্সের প্রমাণ দেখাতে হয়। একই সঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে শান্ত থাকা, হঠাৎ নড়াচড়া না করা এবং হাত দৃশ্যমান রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

প্রথমত, “আপনি আমার গাড়ি সার্চ করতে পারেন” এমন সম্মতি দেওয়ার আগে নিজের অধিকার জানা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে একজন চালক পুলিশের কাছে নিজের গাড়ি সার্চ করার সম্মতি দিতে বাধ্য নন। পুলিশ যদি সার্চের অনুমতি চায় এবং চালক সম্মতি দিতে না চান, তিনি শান্তভাবে বলতে পারেন, “অফিসার, আমি সার্চে সম্মতি দিচ্ছি না।”

 

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। গাড়ি সার্চ করতে পুলিশের সব ক্ষেত্রেই ওয়ারেন্ট প্রয়োজন হয়, এমন দাবি সঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে গাড়ির ক্ষেত্রে বেশ কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। বৈধ আইনি ভিত্তি থাকলে কোনো কোনো পরিস্থিতিতে চালকের সম্মতি বা আগে থেকে নেওয়া ওয়ারেন্ট ছাড়াও পুলিশ গাড়ি সার্চ করতে পারে। তাই সম্মতি না দেওয়া মানেই পুলিশ কোনো অবস্থাতেই সার্চ করতে পারবে না, বিষয়টি এমন নয়।

 

দ্বিতীয়ত, পুলিশ কেন থামিয়েছে জানতে চাইলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে নিজের ভুল স্বীকার করে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। “আমি জানতাম না এটা বেআইনি”, “আমি স্পিড লিমিট খেয়াল করিনি” বা “দুঃখিত, আমি নতুন” ধরনের বক্তব্য পরিস্থিতি অনুযায়ী অফিসারের নোট বা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে।

 

তবে শুধু “সরি” বললেই আইনগতভাবে কেউ দোষী হয়ে যান, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। একইভাবে এমন বক্তব্য দিলে ট্রাফিক টিকিট ডিসমিস হওয়ার সম্ভাবনা “৯০ শতাংশ কমে যায়” এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্যও নেই। দোষী বা নির্দোষ নির্ধারণের বিষয়টি নির্ভর করে অভিযোগ, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট আদালত বা ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর।

 

এসিএলইউর পরামর্শ হলো, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অপ্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা বা অজুহাত না দেওয়া। চুপ থাকার অধিকার ব্যবহার করতে চাইলে সেটি স্পষ্টভাবে জানানো যেতে পারে। তবে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা ভুয়া ডকুমেন্ট দেখানো উচিত নয়।

 

তৃতীয়ত, গাড়িতে অবৈধ কিছু থাকার কথা বা অ্যালকোহল গ্রহণের বিষয়ে স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত তথ্য দেওয়ার আগে আইনি পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। পুলিশ “আপনি জানেন কেন আপনাকে থামিয়েছি?” অথবা অ্যালকোহল গ্রহণ করেছেন কি না, এমন প্রশ্ন করতে পারে। সাধারণ পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে চালক ও যাত্রীর চুপ থাকার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে, যদিও পরিচয়, ড্রাইভিং ডকুমেন্ট, ডিইউআই তদন্ত এবং বিভিন্ন স্টেটের আইনের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।

 

বিশেষ করে ডিইউআই বা অ্যালকোহল ও মাদকসংক্রান্ত ড্রাইভিংয়ের ঘটনায় বিষয়টি শুধু ট্রাফিক টিকিটে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। গ্রেফতার, ক্রিমিনাল চার্জ, ড্রাইভার লাইসেন্স সাসপেনশন এবং কিছু ননইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারীর ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন বা ভিসাসংক্রান্ত জটিলতাও তৈরি হতে পারে। তবে “ডিইউআই বর্তমানে ভিসা বাতিলের এক নম্বর কারণ” এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য সরকারি র‌্যাঙ্কিং পাওয়া যায় না।

 

চতুর্থত, পুলিশ অফিসারের সঙ্গে তর্ক, শারীরিক প্রতিরোধ, পালানোর চেষ্টা বা হঠাৎ পকেট কিংবা গ্লাভ বক্সে হাত দেওয়া পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। এসিএলইউর নির্দেশনা হলো, শান্ত থাকতে হবে, দৌড়ানো বা বাধা দেওয়া যাবে না এবং হাত এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে অফিসার দেখতে পারেন।

 

লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন গ্লাভ বক্সে থাকলে সেটি বের করার আগে অফিসারকে জানানো নিরাপদ অভ্যাস। যেমন বলা যেতে পারে, “আমার লাইসেন্স গ্লাভ বক্সে আছে, আমি কি সেটি বের করব?”

 

কোনো সার্চে সম্মতি না থাকলে শান্তভাবে সেটিও জানানো যায়। তবে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে শারীরিকভাবে বাধা দেওয়া উচিত নয়। নিজের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে মনে হলে ঘটনার সময়, স্থান, অফিসারের নাম বা ব্যাজ নম্বর, প্যাট্রোল কার নম্বর এবং অন্যান্য তথ্য পরে লিখে রাখা যেতে পারে।

 

পুলিশের কার্যক্রম রেকর্ড করার ক্ষেত্রেও সাংবিধানিক সুরক্ষা রয়েছে। এসিএলইউর ২০২৬ সালের হালনাগাদ নির্দেশনা অনুযায়ী, জনসমক্ষে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তার ছবি বা ভিডিও ধারণ সাধারণভাবে ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্টের সুরক্ষার আওতায় পড়ে। নিউইয়র্কেও আইনসম্মতভাবে উপস্থিত কোনো ব্যক্তি পুলিশের কার্যক্রম রেকর্ড করতে পারেন। তবে রেকর্ড করার সময় পুলিশি কাজে শারীরিক বাধা সৃষ্টি করা বা বৈধ নির্দেশ অমান্য করা উচিত নয়।

 

পুলিশ গাড়ি থামালে নিরাপদ জায়গায় দ্রুত গাড়ি থামানো, ইঞ্জিন বন্ধ করা, জানালা আংশিক নামানো এবং হাত স্টিয়ারিং হুইলে রাখার পরামর্শ দিয়েছে এসিএলইউ। পুলিশ চাইলে ড্রাইভার লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন ও ইন্স্যুরেন্সের প্রমাণ দেখাতে হবে। হঠাৎ কোনো নড়াচড়া না করে ডকুমেন্ট কোথায় রয়েছে তা আগে জানানো নিরাপদ।

 

ট্রাফিক টিকিট পাওয়ার পরও সেটির নির্দেশনা ভালোভাবে পড়া জরুরি। বিশেষ করে নিউইয়র্কে টিকিটের ধরন ও কোথায় সেটি ইস্যু হয়েছে তার ওপর পরবর্তী প্রক্রিয়া নির্ভর করে। নিউইয়র্ক সিটির নন-ক্রিমিনাল ট্রাফিক টিকিট সাধারণত ডিএমভির ট্রাফিক ভায়োলেশনস ব্যুরো পরিচালনা করে এবং সেখানে চালককে অভিযোগে গিল্টি অথবা নট গিল্টি প্লি করার সুযোগ দেওয়া হয়। নিউইয়র্ক সিটির বাইরের টিকিট সাধারণত স্থানীয় কোর্টে নিষ্পত্তি হয়।

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাফিক স্টপের আইন ও প্রক্রিয়া স্টেটভেদে আলাদা হতে পারে। তাই “সব পরিস্থিতিতে এই একটি বাক্য বললেই নিরাপদ” এমন কোনো নিয়ম নেই। শান্ত থাকা, মিথ্যা তথ্য না দেওয়া, প্রয়োজনীয় ড্রাইভিং ডকুমেন্ট দেখানো এবং নিজের সাংবিধানিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

এই প্রতিবেদনটি সাধারণ তথ্যের জন্য। এটি ব্যক্তিগত আইনি পরামর্শ নয়। কোনো ট্রাফিক স্টপ, ডিইউআই, গ্রেফতার বা ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট স্টেটের যোগ্য অ্যাটর্নির পরামর্শ নেওয়া উচিত।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে আরোপিত আমদানি শুল্ক বাবদ দেওয়া অর্থের ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ফেরত পেয়েছে খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কস্টকো। ছবি: সংগৃহীত
শুল্কের ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ফেরত পেল কস্টকো, কমাচ্ছে প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম

যুক্তরাষ্ট্রে আরোপিত আমদানি শুল্ক বাবদ দেওয়া অর্থের ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ফেরত পেয়েছে খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কস্টকো। বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত আর্থিক ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটি এ তথ্য জানিয়েছে। কস্টকোর ভাষ্য, ফেরত পাওয়া অর্থের একটি অংশ দিয়ে ইতিমধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয়সহ বিভিন্ন পণ্যের দাম কমানো হয়েছে।   কস্টকোর কর্মকর্তারা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় জানান, ফেরত পাওয়া অর্থের মধ্যে ১৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার শুল্কের টাকা এবং ১ কোটি ডলার সুদ। প্রতিষ্ঠানটি আরও অর্থ ফেরত পাওয়ার আশা করছে। ভবিষ্যতে পাওয়া অর্থের বেশির ভাগও সদস্য ক্রেতাদের জন্য পণ্যের দাম কমানোসহ অন্যান্য সুবিধায় ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তারা জানান।   কস্টকোর প্রধান নির্বাহী রন ভ্যাকরিস বলেন, গত প্রান্তিকের শেষ ভাগে ফলমূল ও শাকসবজি, মাংস এবং পানীয়সহ দৈনন্দিন কেনাকাটার বেশ কিছু পণ্যের দাম কমানো হয়েছে। ঘরের আসবাব ও হার্ডওয়্যারের কিছু পণ্যের দামও কমেছে। তবে শুল্ক ফেরতের অর্থ থেকে কোনো ক্রেতাকে সরাসরি টাকা দেওয়ার ঘোষণা প্রতিষ্ঠানটি দেয়নি।   ২০২৫ সালে জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, ওই আইনে প্রেসিডেন্টকে এভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। এরপর আদায় করা শুল্কের অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়।   কস্টকোর প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ৩০ আগস্ট শেষ হওয়া ১৬ সপ্তাহের প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৯ হাজার ৩৯০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এ সময়ে নিট মুনাফা হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, শুল্ক ফেরতের অর্থের একটি অংশ ক্রেতাদের সুবিধায় ব্যয় করার পরও তা প্রান্তিকের মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।   কস্টকোর সদস্যদের জন্য এর বাস্তব অর্থ হলো নির্বাচিত পণ্যে কম দাম। কোন পণ্যের দাম কতটা কমবে, তা পণ্যভেদে নির্ভর করবে; সব কেনাকাটায় সমান ছাড় বা আগের কেনাকাটার বিপরীতে নগদ ফেরত দেওয়ার কথা প্রতিষ্ঠানটি জানায়নি।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১০:২৩
বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

'বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত' ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের আহ্বান তারেক রহমানের

আসক্ত করার অভিযোগে মামলা নিষ্পত্তিতে আলাবামা অঙ্গরাজ্যকে ১০ কোটি ডলার দিতে রাজি হয়েছে টিকটক। ছবি: সংগৃহীত

শিশুদের আসক্তির অভিযোগে আলাবামায় টিকটকের ১০ কোটি ডলারের সমঝোতা

ট্রাম্পের এয়ার ফোর্স ওয়ান সফরের সাংবাদিকদল থেকে সিএনএনকে বাদ দেওয়া হয়েছে

ট্রাম্পের এয়ার ফোর্স ওয়ান সফরে সিএনএনকে জায়গা দিল না হোয়াইট হাউস

হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের মানচিত্রের জবাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে ইরানের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের মানচিত্রের জবাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে নিজেদের চিহ্নিত করল ইরান

হরমুজ প্রণালিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট করা মানচিত্রের জবাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করে পাল্টা মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইরানের একটি সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট। ১৮ আগস্ট প্রকাশিত ওই পোস্টে ক্যালিফোর্নিয়াকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নতুন ভূখণ্ড’ বলে উল্লেখ করা হয়।   ১৮ আগস্ট ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। ছবিতে প্রণালিটির ওপর ‘NEW U.S. Territory’ লেখা ছিল। পরে হোয়াইট হাউসের সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টেও ট্রাম্পের পোস্টটি শেয়ার করা হয়।   এর জবাবে ‘Iran in Hyderabad’ নামে ইরানের সরকারি অ্যাকাউন্ট যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে ক্যালিফোর্নিয়াকে নীল রঙে আলাদা করে দেখানো হয়। ছবির ওপর লেখা ছিল, ‘NEW TERRITORY OF ISLAMIC REPUBLIC OF IRAN’। পোস্টটির ভাষা ও সময় বিবেচনায় এটি ট্রাম্পের হরমুজ-সংক্রান্ত মানচিত্রের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছিল; ক্যালিফোর্নিয়া নিয়ে ইরানের আনুষ্ঠানিক ভূখণ্ড দাবি হিসেবে এটিকে উপস্থাপন করা হয়নি।   এর কয়েক দিন আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন। ১৮ আগস্ট তিনি ওই বক্তব্যের পরই মানচিত্রটি প্রকাশ করেন।   ট্রাম্পের পোস্টের জবাবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সেখানে নৌ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই দুই পক্ষের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি মানচিত্র প্রকাশের ঘটনা ঘটে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৮:৪৮
স্বামীকে ফেন্টানিল মিশিয়ে হ ত্যার দায়ে কৌরি রিচিনসের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

স্বামীকে বি ষ মিশিয়ে হ ত্যা! শিশুদের সঙ্গে শোক সামলানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছিলেন বই

বাংলাদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর নিয়ম স্টেটভেদে ভিন্ন।

বাংলাদেশি লাইসেন্সে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানো যাবে? স্টেটভেদে জেনে নিন নিয়ম

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস

‘ট্রাম্পের আনুগত্যের পরীক্ষা থেকে বের হতে হবে’, হোয়াইট হাউসকে রিপাবলিকান সিনেটরের বার্তা

ডা. ইদ্রিস ইভান্স ও তার স্ত্রীকে ঘুমের মধ্যে ছুরিকাঘাত করা হয়
‘আমি ঈশ্বর’ দাবি করা ব্যক্তির ছু রিকাঘাতে শিশু চিকিৎসকের প্রাণহানি, আহত স্ত্রীও

যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গে নিজ বাড়িতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন শিশু চিকিৎসক ডা. ইদ্রিস ইভান্স। ভোররাতে হঠাৎ এক ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকে রান্নাঘরের ছু রি দিয়ে তাদের ওপর হা ম লা চালায়। গুরুতর আ হ ত হয়ে পরে ৪৬ বছর বয়সী এই চিকিৎসকের মৃ ত্যু হয়। হা ম লায় তার স্ত্রীও গুরুতর আ হ ত হয়েছেন।   বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে পিটসবার্গের উপকণ্ঠ এজউডের একটি বাড়িতে দুইজনকে ছু রিকা ঘা তের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে ডা. ইভান্স ও তার স্ত্রীকে একাধিক ছু রিকা ঘা তের জখমসহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইভান্সের মৃ ত্যু হয়। তার স্ত্রীকে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   ডা. ইদ্রিস ইভান্স ইউপিএমসি চিলড্রেনস হাসপাতাল অব পিটসবার্গের শিশুদের গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসক ছিলেন। তিনি পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপকও ছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে তার মৃ ত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ইভান্স ও তার স্ত্রী বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় হা ম লাকারী তাদের ওপর ছু রি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ইভান্সের স্ত্রী পুলিশকে জানান, হা ম লাকারী শুধু অন্তর্বাস পরা ছিল এবং সে ‘আমি ঈশ্বর’ ধরনের কথা বলছিল। হা ম লার সময় তিনি তাদের দুই সন্তানকে দ্রুত প্রতিবেশীর বাড়িতে চলে যেতে বলেন।   পুলিশ পরে হা ম লার ঘটনায় ৩২ বছর বয়সী এলিয়াহ হেমিংওয়েকে আ ট ক করে। তদন্তকারীরা তাকে কাছের একটি বাড়ির পেছনে খুঁজে পান। তার হাতেও কাটা জখম ছিল এবং চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে হ ত্যা, গুরুতর হা ম লা, বাড়িতে অবৈধভাবে প্রবেশ এবং অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে।   ইভান্সের স্ত্রী পুলিশকে জানান, হা ম লার সময় তার স্বামী হা ম লাকারীকে ‘এলিয়াহ’ নামে ডাকেন। তবে পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয় যে ইভান্স ও স ন্দে হভাজন ব্যক্তির মধ্যে আগে কোনো পরিচয় বা সম্পর্ক ছিল কি না। হা ম লার উদ্দেশ্যও এখনো জানা যায়নি।   আলেঘেনি কাউন্টি পুলিশের সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট ভিক্টর জোসেফ জানান, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত সহিং স। শোবার ঘরের আসবাবপত্র ও আয়না ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও হা ম লার উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চলছে।    

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৬:৫
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের আবেদন ও ন্যাচারালাইজেশন প্রক্রিয়ার প্রতীকী ছবি

আমেরিকান নাগরিকত্বের আবেদনেই বড় সুবিধা, ফি দিতে হবে না যাদের

শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা

শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা

ইরানের ৭ দিনের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, নির্বাচনের পর ফের হামলার আভাস

ইরানের ৭ দিনের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, নির্বাচনের পর ফের হামলার আভাস

0 Comments