আমেরিকা

ট্রাফিক স্টপে ১৮ বছরের তরুণীর মুখে ঘুষি! সুযোগ পেলে আবারও মারার হুমকি স্টেট ট্রুপারের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ২:২৭
সুযোগ পেলে আবারও মারার হুমকি স্টেট ট্রুপারের
সুযোগ পেলে আবারও মারার হুমকি স্টেট ট্রুপারের

যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাসে একটি ট্রাফিক স্টপের সময় ১৮ বছর বয়সী তরুণীকে মাটিতে ফেলে মুখে ঘুষি মারার ঘটনায় এক স্টেট ট্রুপারের আচরণ নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ড্যাশক্যাম ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর নাগরিক অধিকার আইনজীবী বেন ক্রাম্প ঘটনাটির আনুষ্ঠানিক তদন্ত দাবি করেছেন।

 

ঘটনাটি ঘটে ১ আগস্ট রাত প্রায় ১০টা ৪৫ মিনিটে আরকানসাসের ম্যানিলার কাছে স্টেট হাইওয়ে ১৮-তে। পুলিশ রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী আলিসা হ্যাকেট ঘণ্টায় ৬০ মাইলের জোনে ৭১ মাইল গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। গাড়ির হ্যাজার্ড লাইটও চালু ছিল।

 

হ্যাকেট পুলিশকে জানান, তার গাড়ির জানালা ভেঙে যাওয়ায় তিনি দ্রুত বাড়ি ফিরছিলেন। আরকানসাস স্টেট পুলিশ ট্রুপার মোইসেস আরেয়ানো তাকে থামান।

 

পুলিশ রিপোর্টে বলা হয়, ট্রুপার গাড়িতে একটি অ্যালকোহলের বোতল দেখতে পান এবং হ্যাকেটের বয়স ২১ বছরের কম হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করেন। প্রকাশিত ভিডিওতে পরে ওই বোতলটি সিল করা ছিল বলে ট্রুপারকে স্বীকার করতে শোনা যায়। রিপোর্টে আরও বলা হয়, হ্যাকেট সিটবেল্ট পরেননি এবং গাড়ির লাইসেন্স প্লেট যথাযথভাবে দৃশ্যমান ছিল না।

 

ঘটনার শুরুতে তাকে কয়েকটি সাইটেশন দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। পরিস্থিতি বদলে যায় আরেক ট্রুপারের সঙ্গে কথোপকথনের পর। ড্যাশক্যাম ফুটেজে ওই ট্রুপারকে বলতে শোনা যায়, কয়েক দিন আগেও হ্যাকেটকে স্পিডিংয়ের কারণে থামানো হয়েছিল। এরপর হ্যাকেটের আচরণ নিয়ে মন্তব্য করে তাকে জেলে নেওয়ার পরামর্শ দেন ওই ট্রুপার।

 

এরপর আরেয়ানো হ্যাকেটকে গাড়ি থেকে বের হতে বলেন এবং তাকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেন। পুলিশ রিপোর্ট অনুযায়ী, হ্যাকেট প্রথমে গাড়ি থেকে বের হলেও কেন তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে জানতে চান এবং একপর্যায়ে অফিসারের কাছ থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

 

এরপরই পরিস্থিতি শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। ড্যাশক্যাম ভিডিওতে ট্রুপারকে হ্যাকেটকে মাটিতে ফেলে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি তরুণীর মুখের পাশে ঘুষি মারেন।

 

নিজের রিপোর্টে আরেয়ানো লিখেছেন, হ্যাকেটকে বারবার শরীর ঘুরিয়ে হাত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানছিলেন না। তাকে নিয়ন্ত্রণে আনতেই মুখের বাম পাশে একবার বন্ধ মুষ্টিতে আঘাত করেন বলে দাবি করেন ট্রুপার।

 

ঘুষি খাওয়ার পর হ্যাকেটকে প্রতিবাদ করতে শোনা যায়। ভিডিওতে তিনি বলেন, একজন অফিসার তার মুখে ঘুষি মারতে পারেন না। জবাবে ট্রুপারকে তার সেই বক্তব্য চ্যালেঞ্জ করতে শোনা যায়। পরে হ্যাকেট তার মাকে ফোন করার অনুরোধও করেন।

 

একপর্যায়ে ট্রুপার তার দিকে স্টান গান তাক করেন, তবে পুলিশ রিপোর্ট অনুযায়ী সেটি ব্যবহার করা হয়নি। এরপর হ্যাকেট হাত পেছনে দিলে তাকে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়।

 

পুলিশ রিপোর্ট অনুযায়ী, হ্যাকেটের বিরুদ্ধে গ্রেফতারে বাধা দেওয়া, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় অ্যালকোহল রাখা, স্পিডিং, সিটবেল্ট না পরা, লাইসেন্স প্লেট যথাযথভাবে প্রদর্শন না করা এবং গাড়ির হেডলাইটসংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়।

 

তবে ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর মূল বিতর্ক তৈরি হয়েছে গ্রেফতারের কারণ এবং একজন ১৮ বছর বয়সী তরুণীকে নিয়ন্ত্রণে নিতে ট্রুপারের ব্যবহৃত শক্তি প্রয়োজনীয় ও আইনসম্মত ছিল কি না, তা নিয়ে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিত নাগরিক অধিকার আইনজীবী বেন ক্রাম্প ঘটনাটির আনুষ্ঠানিক তদন্ত দাবি করেছেন। তার দাবি, ড্যাশক্যাম ভিডিওতে দেখা আচরণ যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট অফিসারের বলপ্রয়োগ আইনসঙ্গত ছিল কি না তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

 

ঘটনায় অভিযুক্ত ট্রুপার মোইসেস আরেয়ানো তুলনামূলকভাবে নতুন সদস্য। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আরকানসাস স্টেট পুলিশের প্রশিক্ষণ শেষ করে তিনি ট্রুপ সি-তে যোগ দেন।

 

ঘটনাটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হলেও ভিডিওর একটি অংশ দেখে পুরো ঘটনার আইনি বৈধতা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। পুলিশের রিপোর্টে হ্যাকেটের বিরুদ্ধে গ্রেফতারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, অন্যদিকে প্রকাশিত ফুটেজে অফিসারের বলপ্রয়োগ নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

 

এখন তদন্তের মূল বিষয় হবে, হ্যাকেটকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি কী ছিল এবং তাকে মাটিতে ফেলে মুখে ঘুষি মারার মতো বলপ্রয়োগ ওই পরিস্থিতিতে যুক্তিসংগত ও প্রয়োজনীয় ছিল কি না।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কের কিউ৮ বাস রুটে ক্যামেরার কড়া নজর, ট্রাফিক আইন ভাঙলেই ৫০ থেকে ২৫০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা
নিউইয়র্কের কিউ৮ বাস রুটে ক্যামেরার কড়া নজর, ট্রাফিক আইন ভাঙলেই ৫০ থেকে ২৫০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা

নিউইয়র্ক সিটির গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও নিরাপদ করতে এবার কিউ৮ বাস রুটে চালু হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ। শুক্রবার থেকেই এই রুটে বাস স্টপ আটকে রাখা, ডাবল পার্কিং কিংবা অবৈধভাবে বাস লেন ও বাসওয়ে ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি (এমটিএ)। এখন থেকে রাস্তায় কোনো ট্রাফিক পুলিশ উপস্থিত না থাকলেও বাসে সংযুক্ত ক্যামেরার মাধ্যমেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্ত করে জরিমানার নোটিশ পাঠানো হবে।   কুইন্সের জ্যামাইকা বাস টার্মিনাল থেকে ব্রুকলিনের গেটওয়ে মল পর্যন্ত চলাচলকারী কিউ৮ বাসটি ১০১তম অ্যাভিনিউ হয়ে দুই বরোর মধ্যে বিপুল সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করে। ব্যস্ততম এই রুটে প্রতিদিনের যানজট ও বিশৃঙ্খলা এড়াতেই এমটিএ এই অটোমেটেড ক্যামেরা এনফোর্সমেন্ট কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। নতুন এই নিয়মের আওতায় কোনো গাড়ির মালিক প্রথমবার অবৈধভাবে বাস লেন ব্যবহার বা পার্কিং করলে তাকে ৫০ ডলার জরিমানা গুনতে হবে। তবে একই গাড়ি বারবার নিয়ম ভাঙলে জরিমানার পরিমাণ ধাপে ধাপে বেড়ে সর্বোচ্চ ২৫০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।   এমটিএ কর্তৃপক্ষের মতে, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য কেবল জরিমানা আদায় করা নয়, বরং বাস চলাচলে অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা দূর করে যাত্রীদের মূল্যবান সময় বাঁচানো। বাস স্টপ বা বাস লেন অন্য গাড়ির দখলে থাকলে বাসগুলোকে বাধ্য হয়ে অন্য লেনে যেতে হয়, যা যাত্রীদের ওঠানামা ও সামগ্রিক সড়ক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। চলতি বছর নিউইয়র্ক সিটির ১৪তম বাস রুট হিসেবে কিউ৮-এ এই প্রযুক্তি যুক্ত হলো। ফলে এখন থেকে এই রুটের আশপাশে গাড়ি চালানো বা পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে চালকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, অন্যথায় ক্যামেরার চোখ ফাঁকি দিয়ে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ৪:১৯
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের হুমকিতে গোপনে বিমান বদলের কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প

সুযোগ পেলে আবারও মারার হুমকি স্টেট ট্রুপারের

ট্রাফিক স্টপে ১৮ বছরের তরুণীর মুখে ঘুষি! সুযোগ পেলে আবারও মারার হুমকি স্টেট ট্রুপারের

আমেরিকায় পুলিশ থামালে বাংলাদেশিরা ভুলেও যে ৪ কথা বলবেন না

আমেরিকায় পুলিশ থামালে বাংলাদেশিরা ভুলেও যে ৪ কথা বলবেন না

আইসিইর হাতে আসছে ‘ইলেকট্রিক গ্লাভস’
আইসিইর হাতে আসছে ‘ইলেকট্রিক গ্লাভস’, স্পর্শেই দেওয়া যাবে যন্ত্রণাদায়ক শক

যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন অভিযানে নতুন ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে আইসিই। প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে বৈদ্যুতিক শক দিতে সক্ষম বিশেষ গ্লাভস কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রকাশিত নোটিশ অনুযায়ী, হাজার হাজার গ্লাভস কিনতে ১০ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। আগামী মার্চের মধ্যে এগুলো আইসিই অফিসার ও এজেন্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ এই ডিভাইসটির নাম জি.এল.ও.ভি.ই বা গ্লাভ। কেনটাকির লেক্সিংটনভিত্তিক কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এলএলসি এটি তৈরি করে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু জেল ও পুলিশ ডিপার্টমেন্টে ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।   দেখতে অনেকটা সাধারণ প্যাট্রোল গ্লাভসের মতো হলেও এর ভেতরে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, অফিসার একটি সুইচ চাপলে গ্লাভসটির বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা সক্রিয় হয়। এরপর এটি সরাসরি কারও ত্বকের সংস্পর্শে এলে তীব্র ব্যথার অনুভূতি তৈরি করতে পারে।   প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এটিকে প্রাণঘাতী অস্ত্রের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরে বলছে, এর উদ্দেশ্য হলো শারীরিকভাবে প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা এবং দীর্ঘ সময় ধরে ধস্তাধস্তির প্রয়োজন কমানো। সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে ব্যবহার করলে সাধারণত কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একজন ব্যক্তিকে নির্দেশ মানতে বাধ্য করার মতো ব্যথার অনুভূতি তৈরি করতে পারে বলে কোম্পানিটির দাবি।   তবে আইসিইর হাতে এমন ডিভাইস দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাগরিক অধিকারকর্মীরা। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর জেন রলনিক বোরচেটা প্রশ্ন তুলেছেন, সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের ক্ষেত্রে এমন ডিভাইসের প্রয়োজন কেন। তার উদ্বেগের একটি বড় কারণ হলো, একটি ছোট সুইচ চাপার মাধ্যমে শক দেওয়া সম্ভব হওয়ায় আশপাশের মানুষের পক্ষে সেটি বোঝা কঠিন হতে পারে।   অন্যদিকে ইনস্টিটিউট ফর দ্য প্রিভেনশন অব ইন-কাস্টডি ডেথসের প্রেসিডেন্ট জন পিটার্স এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি এপিকে বলেছেন, শকটি তাৎক্ষণিক ও তীব্র ব্যথার অনুভূতি তৈরি করে এবং প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে বিভ্রান্ত করে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করতে পারে।   পিটার্সের মতে, আইসিইর পরিকল্পিত ক্রয়টি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটির এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অর্ডার হতে পারে। গাড়ি বা বাড়ি থেকে বের হতে অস্বীকৃতি জানানো ব্যক্তি এবং ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে প্রতিরোধের পরিস্থিতিতে এ ধরনের গ্লাভস ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।   তবে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নিজেই এর ব্যবহারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছে। কাউকে শাস্তি দেওয়ার জন্য কিংবা শুধু মৌখিকভাবে নির্দেশ অমান্য বা তর্ক করার কারণে বৈদ্যুতিক শক ব্যবহার করা উচিত নয়। শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধীসহ উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার না করার সতর্কতা রয়েছে।   গ্লাভসটি ব্যবহারের আগে অফিসারদের নির্ধারিত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে। প্রস্তুতকারকের নিয়ম অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের প্রতি দুই বছর পর আবারও সার্টিফিকেশন নিতে হবে।   ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির নোটিশ অনুযায়ী, পরিকল্পিত চুক্তির মূল্য ১০ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে। এটি নো-বিড কন্ট্রাক্ট হিসেবে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, অর্থাৎ সাধারণ প্রতিযোগিতামূলক বিডিং ছাড়াই নির্দিষ্ট কোম্পানির কাছ থেকে ডিভাইসগুলো কেনা হতে পারে।   এপির প্রশ্নের জবাবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে জবাব প্রস্তুত করছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য দেয়নি সংস্থাটি। কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জেফ নিকলাউসও এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।   আইসিইর গ্রেফতার অভিযান সম্প্রসারণের সময়েই নতুন এই প্রযুক্তি কেনার পরিকল্পনা সামনে এলো। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সংস্থাটির বিভিন্ন অভিযানে বলপ্রয়োগের ঘটনা নিয়ে সমালোচনা ও আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। গত মাসে মেইন ও টেক্সাসে গাড়ি থামানোর দুটি পৃথক অভিযানে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে দুই অভিবাসী নিহত হওয়ার ঘটনাও সংস্থাটির এনফোর্সমেন্ট কৌশলকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।   এ অবস্থায় আইসিইর হাতে বৈদ্যুতিক শক দিতে সক্ষম গ্লাভস দেওয়ার পরিকল্পনাকে ঘিরে মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে এর ব্যবহারের সীমা, প্রশিক্ষণ এবং জবাবদিহি। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে আগামী মার্চের মধ্যে হাজার হাজার আইসিই অফিসার ও এজেন্ট নতুন এই ডিভাইস হাতে পেতে পারেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ১:১
স্লট মেশিনে জিতলেন ৪ কোটি ২৯ লাখ ডলার

স্লট মেশিনে জিতলেন ৪ কোটি ২৯ লাখ ডলার, ক্যাসিনো দিল মাত্র ২.২৫ ডলার আর স্টেক ডিনার

ওয়ারেন্ট ছাড়াই তুলে নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ল আইসিইর

বৈধ কাগজপত্র পেন্ডিং থাকলেও গ্রেফতার, ওয়ারেন্ট ছাড়াই তুলে নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ল আইসিইর

ক্যালিফোর্নিয়ার জনপ্রিয় কয়েকটি পর্যটনস্থলে প্রতিবছরই ঘটে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ার যে ৫টি পর্যটনস্থলে সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারান দর্শনার্থীরা, সেখানে ভুল করলেই বিপদ

ফল সেমিস্টারে ইউনিভার্সিটি অব মিয়ামিতে পড়াশোনা শুরু করতে যাচ্ছেন কাই ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
বাড়ি ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিদায়ের মুহূর্তে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ট্রাম্পের নাতনি ও তার মা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাতনি কাই ট্রাম্প জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। চলতি ফল সেমিস্টারে (Fall Semester) তিনি ইউনিভার্সিটি অব মিয়ামিতে ভর্তি হচ্ছেন। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গলফ দলের হয়ে খেলবেন তিনি। তবে নতুন এই যাত্রার আগে সবচেয়ে কঠিন বিষয় হয়ে উঠেছে পরিবার, বিশেষ করে মাকে ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্ত।   সম্প্রতি নিজের ইউটিউব ভ্লগে ১৯ বছর বয়সী কাই জানান, নতুন অ্যাপার্টমেন্টে ওঠার প্রস্তুতি চলছে। আগামী ১৭ আগস্ট থেকে তার ক্লাস শুরু হবে। ভিডিওতে কলেজে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো পরিচিত গলফ কোর্সে খেলতে দেখা যায় তাকে। সেই সঙ্গে জীবনের এই বড় পরিবর্তন নিয়ে নিজের অনুভূতির কথাও তুলে ধরেন।   কাই বলেন, "আগামী সপ্তাহেই কলেজে যাচ্ছি। বিশ্বাসই হচ্ছে না। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে গলফ খেলব।" তিনি বলেন, "এখন বাড়ি, বন্ধু আর পরিবারকে ছেড়ে যেতে হবে। মাকে খুব বেশি মিস করব।" মায়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কাই জানান, কয়েকদিন আগে তারা একসঙ্গে একটি দোকান থেকে কেনাকাটা করে ফিরছিলেন। গাড়িতে ওঠার পর হঠাৎ তার মা কাঁদতে শুরু করেন। সেই দৃশ্য দেখে তিনিও নিজেকে সামলাতে পারেননি।   তার ভাষায়, "মা খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। সেদিন গাড়িতে তিনি কাঁদতে শুরু করলেন, তারপর আমিও কেঁদে ফেললাম। সত্যিই খুব কঠিন একটা সময়।" কাই ট্রাম্প, ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও ভ্যানেসা ট্রাম্পের বড় সন্তান। গত মে মাসে ভ্যানেসা ট্রাম্প জানান, তার স্তন ক্যানসার ধরা পড়েছে এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে।   সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মায়ের উদ্দেশে কাই লিখেছিলেন, "আমি যত মানুষকে চিনি, তাদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষ তুমি। তোমাকে ভালোবাসি।" ভ্যানেসা বর্তমানে ফ্লোরিডার জুপিটার শহরে থাকেন, যা ইউনিভার্সিটি অব মিয়ামি থেকে প্রায় ৯০ মাইল দূরে। ফলে প্রতিদিন দেখা না হলেও সপ্তাহান্তে মা-মেয়ের দেখা হওয়ার সুযোগ থাকবে।   ১৯ বছর বয়সী কাই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ জনপ্রিয়। তার ইউটিউব চ্যানেলে ১৫ লাখের বেশি সাবস্ক্রাইবার রয়েছে। সেখানে তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবন, গলফ অনুশীলন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার ভিডিও প্রকাশ করেন। এদিকে ভ্যানেসা ট্রাম্প বর্তমানে কিংবদন্তি গলফার টাইগার উডসের সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন। ২০২৪ সালে তারা প্রকাশ্যে নিজেদের সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।   সূত্র: দ্য আইরিশ স্টার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ২৩:১২
বড় শহরের কোলাহল ছেড়ে তুলনামূলক সাশ্রয়ী ও শান্ত শহরগুলোতে বসবাসের আগ্রহ বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় এলাকা কোনগুলো? জানাল নতুন সমীক্ষা

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি ওয়াহেদ আলী মন্ডল

বাসায় যাওয়ার পথে নিউইয়র্কে বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলা

স্ত্রীকে আইসের হেফাজত থেকে মুক্ত করতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন সেনাসদস্য অ্যালেক্সিস হারামিলো। ছবি: সংগৃহীত

মায়ের অপেক্ষায় ৫ বছরের ছেলে, স্ত্রীকে আইসের হেফাজত থেকে ফেরাতে আইনি লড়াইয়ে মার্কিন সেনাসদস্য

0 Comments