সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

আইসিইর হাতে আসছে ‘ইলেকট্রিক গ্লাভস’, স্পর্শেই দেওয়া যাবে যন্ত্রণাদায়ক শক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ১:১
আইসিইর হাতে আসছে ‘ইলেকট্রিক গ্লাভস’
আইসিইর হাতে আসছে ‘ইলেকট্রিক গ্লাভস’

যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন অভিযানে নতুন ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে আইসিই। প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে বৈদ্যুতিক শক দিতে সক্ষম বিশেষ গ্লাভস কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রকাশিত নোটিশ অনুযায়ী, হাজার হাজার গ্লাভস কিনতে ১০ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। আগামী মার্চের মধ্যে এগুলো আইসিই অফিসার ও এজেন্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ এই ডিভাইসটির নাম জি.এল.ও.ভি.ই বা গ্লাভ। কেনটাকির লেক্সিংটনভিত্তিক কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এলএলসি এটি তৈরি করে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু জেল ও পুলিশ ডিপার্টমেন্টে ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

 

দেখতে অনেকটা সাধারণ প্যাট্রোল গ্লাভসের মতো হলেও এর ভেতরে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, অফিসার একটি সুইচ চাপলে গ্লাভসটির বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা সক্রিয় হয়। এরপর এটি সরাসরি কারও ত্বকের সংস্পর্শে এলে তীব্র ব্যথার অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

 

প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এটিকে প্রাণঘাতী অস্ত্রের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরে বলছে, এর উদ্দেশ্য হলো শারীরিকভাবে প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা এবং দীর্ঘ সময় ধরে ধস্তাধস্তির প্রয়োজন কমানো। সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে ব্যবহার করলে সাধারণত কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একজন ব্যক্তিকে নির্দেশ মানতে বাধ্য করার মতো ব্যথার অনুভূতি তৈরি করতে পারে বলে কোম্পানিটির দাবি।

 

তবে আইসিইর হাতে এমন ডিভাইস দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাগরিক অধিকারকর্মীরা। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর জেন রলনিক বোরচেটা প্রশ্ন তুলেছেন, সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের ক্ষেত্রে এমন ডিভাইসের প্রয়োজন কেন। তার উদ্বেগের একটি বড় কারণ হলো, একটি ছোট সুইচ চাপার মাধ্যমে শক দেওয়া সম্ভব হওয়ায় আশপাশের মানুষের পক্ষে সেটি বোঝা কঠিন হতে পারে।

 

অন্যদিকে ইনস্টিটিউট ফর দ্য প্রিভেনশন অব ইন-কাস্টডি ডেথসের প্রেসিডেন্ট জন পিটার্স এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি এপিকে বলেছেন, শকটি তাৎক্ষণিক ও তীব্র ব্যথার অনুভূতি তৈরি করে এবং প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে বিভ্রান্ত করে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করতে পারে।

 

পিটার্সের মতে, আইসিইর পরিকল্পিত ক্রয়টি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটির এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অর্ডার হতে পারে। গাড়ি বা বাড়ি থেকে বের হতে অস্বীকৃতি জানানো ব্যক্তি এবং ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে প্রতিরোধের পরিস্থিতিতে এ ধরনের গ্লাভস ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

তবে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নিজেই এর ব্যবহারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছে। কাউকে শাস্তি দেওয়ার জন্য কিংবা শুধু মৌখিকভাবে নির্দেশ অমান্য বা তর্ক করার কারণে বৈদ্যুতিক শক ব্যবহার করা উচিত নয়। শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধীসহ উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার না করার সতর্কতা রয়েছে।

 

গ্লাভসটি ব্যবহারের আগে অফিসারদের নির্ধারিত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে। প্রস্তুতকারকের নিয়ম অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের প্রতি দুই বছর পর আবারও সার্টিফিকেশন নিতে হবে।

 

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির নোটিশ অনুযায়ী, পরিকল্পিত চুক্তির মূল্য ১০ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে। এটি নো-বিড কন্ট্রাক্ট হিসেবে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, অর্থাৎ সাধারণ প্রতিযোগিতামূলক বিডিং ছাড়াই নির্দিষ্ট কোম্পানির কাছ থেকে ডিভাইসগুলো কেনা হতে পারে।

 

এপির প্রশ্নের জবাবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে জবাব প্রস্তুত করছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য দেয়নি সংস্থাটি। কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জেফ নিকলাউসও এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

 

আইসিইর গ্রেফতার অভিযান সম্প্রসারণের সময়েই নতুন এই প্রযুক্তি কেনার পরিকল্পনা সামনে এলো। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সংস্থাটির বিভিন্ন অভিযানে বলপ্রয়োগের ঘটনা নিয়ে সমালোচনা ও আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। গত মাসে মেইন ও টেক্সাসে গাড়ি থামানোর দুটি পৃথক অভিযানে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে দুই অভিবাসী নিহত হওয়ার ঘটনাও সংস্থাটির এনফোর্সমেন্ট কৌশলকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

 

এ অবস্থায় আইসিইর হাতে বৈদ্যুতিক শক দিতে সক্ষম গ্লাভস দেওয়ার পরিকল্পনাকে ঘিরে মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে এর ব্যবহারের সীমা, প্রশিক্ষণ এবং জবাবদিহি। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে আগামী মার্চের মধ্যে হাজার হাজার আইসিই অফিসার ও এজেন্ট নতুন এই ডিভাইস হাতে পেতে পারেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ট্রাম্পের এয়ার ফোর্স ওয়ান সফরের সাংবাদিকদল থেকে সিএনএনকে বাদ দেওয়া হয়েছে
ট্রাম্পের এয়ার ফোর্স ওয়ান সফরে সিএনএনকে জায়গা দিল না হোয়াইট হাউস

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শনিবারের টেনেসি সফরে এয়ার ফোর্স ওয়ানের নির্ধারিত সাংবাদিকদল থেকে সিএনএনকে বাদ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর যৌথ টেলিভিশন কাভারেজের দায়িত্বে এবার সিএনএনের থাকার কথা ছিল। তার জায়গায় রাখা হয়েছে রিয়েল আমেরিকাস ভয়েস নিউজকে।   ট্রাম্প টেনেসির নক্সভিলে একটি কলেজ ফুটবল ম্যাচ দেখতে যাওয়ার কথা রয়েছে। প্রেসিডেন্টের বিমানে জায়গা সীমিত থাকায় নির্ধারিত সাংবাদিকেরা পালা করে সফরে যান এবং তাঁদের সংগ্রহ করা সংবাদ ও ভিডিও অন্য সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভাগ করেন। সিএনএন সেই ব্যবস্থার অংশ হলেও রিয়েল আমেরিকাস ভয়েস নিউজ যৌথ টেলিভিশন সাংবাদিকদলের সদস্য নয়।   এর আগে সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল। তিনটি সংবাদমাধ্যম আদালতে গেলে এক ফেডারেল বিচারক সাময়িক আদেশে তাঁদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সুযোগ ফিরিয়ে দেন। তবে ওই আদেশে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সফর বা যৌথ সাংবাদিকদলের দায়িত্বের বিষয়ে সরাসরি কিছু বলা হয়নি।   তিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, তাদের প্রতিবেদনের কারণে প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়েছে, যা সংবাদমাধ্যমের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে। হোয়াইট হাউসের অবস্থান, সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়। এ নিয়ে আইনি বিরোধ চলার মধ্যেই সিএনএনকে শনিবারের বিমান সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৯:২২
হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের মানচিত্রের জবাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে ইরানের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের মানচিত্রের জবাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে নিজেদের চিহ্নিত করল ইরান

স্বামীকে ফেন্টানিল মিশিয়ে হ ত্যার দায়ে কৌরি রিচিনসের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

স্বামীকে বি ষ মিশিয়ে হ ত্যা! শিশুদের সঙ্গে শোক সামলানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছিলেন বই

বাংলাদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর নিয়ম স্টেটভেদে ভিন্ন।

বাংলাদেশি লাইসেন্সে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানো যাবে? স্টেটভেদে জেনে নিন নিয়ম

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস
‘ট্রাম্পের আনুগত্যের পরীক্ষা থেকে বের হতে হবে’, হোয়াইট হাউসকে রিপাবলিকান সিনেটরের বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেই কোনো রিপাবলিকানকে ‘অবিশ্বস্ত’ হিসেবে দেখা উচিত নয়। উত্তর ক্যারোলাইনার এই সিনেটর বলেন, হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মকর্তা ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্যের বিষয়টিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং দলের সদস্যদের নীতিগত মতপার্থক্য মেনে নেওয়া উচিত।   বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় টিলিস বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি বিষয়ে মতপার্থক্য হলেই কাউকে অবিশ্বস্ত হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি দাবি করেন, গুরুত্বপূর্ণ ভোটের ক্ষেত্রে তিনি ৯০ শতাংশের বেশি সময় ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন। তবে অন্য রিপাবলিকানদের কোনো বিষয়ে ভিন্নমত থাকলে সেটি প্রকাশ করার সুযোগ থাকা উচিত বলেও তিনি জানান।   টিলিস আরও বলেন, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের ‘আনুগত্যের পরীক্ষা’ বা সব বিষয়ে নিখুঁতভাবে একমত হওয়ার প্রত্যাশা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রেসিডেন্টকে খুশি করার জন্য সিনেটে নেই; বরং উত্তর ক্যারোলাইনার যেসব মানুষ তাকে ভোট দিয়েছেন, তাদের প্রতিনিধিত্ব করতেই তিনি সেখানে রয়েছেন।   ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের বিষয়টিকেও উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন টিলিস। তার মতে, কোনো রিপাবলিকান যদি এই যুদ্ধের বিষয়ে প্রশাসনের নীতির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন, তাহলে সেটিকে দলীয় অবিশ্বস্ততা হিসেবে দেখা উচিত নয়।   টিলিসের এই বক্তব্য তার সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েক মাসের প্রকাশ্য মতপার্থক্যের ধারাবাহিকতায় এসেছে। এর আগে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সমালোচনা করেছেন এবং ইরান যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে তার ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছিলেন। ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও টিলিসসহ কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর অবস্থান নিয়েছেন।   চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়েও টিলিস ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। তিনি ট্রাম্পের শিকে দেওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনাকে প্রশ্ন করে বলেন, চীনের মতো দেশের নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।   টিলিস ২০২৬ সালের নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছেন। এরপর থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও কর্মকর্তাদের নিয়ে তার প্রকাশ্য সমালোচনা আরও স্পষ্ট হয়েছে।   টিলিসের সর্বশেষ বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ও প্রশাসনের সঙ্গে সত্য কথা বলাই এক ধরনের আনুগত্য। তার মতে, কোনো বিষয়ে নীতিগতভাবে ভিন্নমত প্রকাশ করা এবং প্রেসিডেন্টের প্রতি অবিশ্বস্ত হওয়া—দুটি বিষয়কে এক করে দেখা উচিত নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৬:২৭
ডা. ইদ্রিস ইভান্স ও তার স্ত্রীকে ঘুমের মধ্যে ছুরিকাঘাত করা হয়

‘আমি ঈশ্বর’ দাবি করা ব্যক্তির ছু রিকাঘাতে শিশু চিকিৎসকের প্রাণহানি, আহত স্ত্রীও

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের আবেদন ও ন্যাচারালাইজেশন প্রক্রিয়ার প্রতীকী ছবি

আমেরিকান নাগরিকত্বের আবেদনেই বড় সুবিধা, ফি দিতে হবে না যাদের

শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা

শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা

ইরানের ৭ দিনের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, নির্বাচনের পর ফের হামলার আভাস
ইরানের ৭ দিনের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, নির্বাচনের পর ফের হামলার আভাস

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে ইরানের দেওয়া সাত দিনের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন তথ্য জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি বলেছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মানবে কি না তা নিয়ে ট্রাম্প সংশয়ী এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবার মার্কিন বোমা হামলা শুরু হতে পারে বলে সহযোগীদের জানিয়েছেন তিনি। তবে হোয়াইট হাউস এখনো প্রকাশ্যে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেয়নি।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের জানান, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি ‘সুনির্দিষ্ট সাত দিনের পরিকল্পনা’ পাঠিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় শর্তগুলো মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি জানান। আরাঘচির ভাষায়, সিদ্ধান্ত এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।   প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে, ইরানের আটকে থাকা অর্থ ছাড় করতে হবে এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দিতে হবে। একই সঙ্গে লেবাননসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধের শর্ত রয়েছে। বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহত্তর আলোচনা শুরু করবে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনাটি সাত দিনের একটি ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্মতি দেওয়ার পর সময় গণনা শুরু হবে; প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো কয়েক দিনের মধ্যে নেওয়ার পর ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং সপ্তম দিনে পারস্পরিকভাবে সম্মত বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।   তবে পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়নি ইরান। একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সাত দিনের প্রস্তাব গ্রহণ করলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার কিংবা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর প্রশ্নে তেহরান নমনীয় হবে না। প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও বলেছেন, ইরান আলোচনা করতে প্রস্তুত, কিন্তু চাপ বা জবরদস্তি মেনে নেবে না।   কূটনৈতিক প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে—এমনটিও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত নয়। রয়টার্স জানিয়েছে, এর আগে একজন মার্কিন কর্মকর্তা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। অন্যদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রত্যাখ্যানের খবর প্রকাশের পরও তেহরান বলছে, তারা ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।   সাত দিনের এই প্রস্তাবের পেছনে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতার কাঠামোও রয়েছে। আরাঘচি বলেছেন, ওয়াশিংটনের কাছে নতুন কোনো দাবি তোলা হয়নি; যুক্তরাষ্ট্রের যেসব পদক্ষেপ চাওয়া হচ্ছে, সেগুলো আগের সমঝোতাতেই ছিল। সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ থামাতে পারেনি এবং পরে আবার হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়।   হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিষয় নয়। প্রায় সাত মাসের সংঘাতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথটিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনে হুতিদের হামলা সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও বিকল্প রেড সি রুটের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।   এর মধ্যেই ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘে ইরানকে আরও অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি একই সঙ্গে বলেছিলেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর একটি চুক্তি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। ফলে একদিকে ইরানের সাত দিনের দ্রুত সমঝোতার প্রস্তাব, অন্যদিকে নির্বাচনের পর সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্য—দুই পক্ষের সময়সীমা ও শর্তে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৪:২২
আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারের: যুক্তরাষ্ট্র

আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারের: যুক্তরাষ্ট্র

পেনসিলভানিয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, নতুন ৫৫ জনসহ আক্রান্ত ৮৯০

পেনসিলভানিয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, নতুন ৫৫ জনসহ আক্রান্ত ৮৯০

অ্যাপার্টমেন্ট ছাড়লেই বিপুল অর্থ! তবুও ছাড়তে চাচ্ছেন না সান ফ্রান্সিসকোর ভাড়াটিয়া

অ্যাপার্টমেন্ট ছাড়লেই বিপুল অর্থ! তবুও ছাড়তে চাচ্ছেন না সান ফ্রান্সিসকোর ভাড়াটিয়া

0 Comments