সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
বাংলাদেশি কৃষককে বিএসএফ ধরে নেওয়ার পর দুই ভারতীয়কে ধরে আনল গ্রামবাসী
বাংলাদেশি কৃষককে বিএসএফ ধরে নেওয়ার পর দুই ভারতীয়কে ধরে আনল গ্রামবাসী

মেহেরপুর সদর উপজেলার ইছাখালী সীমান্তে এক অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী হলো দুই দেশের মানুষ। মঙ্গলবার সকালে আবদুল মান্নান (৭০) নামের এক বয়োজ্যেষ্ঠ বাংলাদেশি কৃষককে ধরে নিয়ে যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এই খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে সীমান্ত এলাকায় অবস্থানরত দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করে নিয়ে আসেন। এরপর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইছাখালী মসজিদপাড়ার বাসিন্দা আবদুল মান্নান দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তের কাছের একটি জমিতে কাঁচা মরিচসহ নানা ফসলের চাষ করে আসছেন। সকালে সেখানে কীটনাশক স্প্রে করতে গেলে বিএসএফ তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও বিএসএফ তা শোনেনি। ফলে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী সচিন কর্মকার ও নারায়ণ দেব নামের দুই ভারতীয় কৃষককে ধরে নিয়ে আসে।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেলা দুইটার দিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান নিশ্চিত করেছেন যে, ওই বৈঠকের পর উভয় পক্ষই তাদের নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের নিরাপদে হস্তান্তর করেছে।   অন্যদিকে, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী সীমান্তে আজিবর রহমান (২৩) নামের আরেক বাংলাদেশি তরুণকে আটক করেছে বিএসএফ। সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে শিলখুড়ি ইউনিয়নের কাজিয়ার চরের দোনালার মাথা এলাকার আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের কাছাকাছি দিয়ে ভারতে প্রবেশের সময় তিনি বিএসএফের হাতে ধরা পড়েন। তার সঙ্গীরা পালিয়ে আসতে পারলেও আজিবর ব্যর্থ হন। বিজিবির কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক জানিয়েছেন, আটক তরুণকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৮:৫১
মেয়ের জন্য ২০০ ডলার বাড়তি আয়ের খোঁজে নেমে, এখন মাসে ৩২ হাজার ডলার আয় নাসার ইঞ্জিনিয়ারের
মেয়ের জন্য ২০০ ডলার বাড়তি আয়ের খোঁজে নেমে, এখন মাসে ৩২ হাজার ডলার আয় নাসার ইঞ্জিনিয়ারের

দিনের বেলায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অবস্থিত নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের একজন 'হিউম্যান পারফরম্যান্স ইঞ্জিনিয়ার'। মহাকাশচারীরা যাতে স্পেসস্যুটে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারেন, তা নিয়ে কাজ করেন তিনি। কিন্তু দিনের কাজ শেষে এরিন অ্যান্ড্রুস নামের ৪১ বছর বয়সী এই নারীর জীবন সম্পূর্ণ ভিন্ন। নিজের বেডরুমের ক্লোজেটে (দেয়াল-আলমারি) তৈরি করা একটি অস্থায়ী সাউন্ড বুথে ভয়েসওভার আর্টিস্ট বা কণ্ঠশিল্পী হিসেবে 'সাইড হাসল' করেন তিনি। আর চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, এই খণ্ডকালীন কাজ থেকে তিনি এখন মাসে গড়ে ৩২ হাজার ৪০০ ডলার আয় করছেন!   ২০২২ সালের মার্চ মাসে স্বামীবিচ্ছিন্ন হওয়ার পর একজন 'সিঙ্গেল মাদার' হিসেবে এরিন চেয়েছিলেন মাসে অন্তত ২০০ ডলার বাড়তি আয় করতে, যাতে খরচের চিন্তা ছাড়া তার ছয় বছর বয়সী মেয়েকে আইসক্রিম খাওয়াতে বা শিশু জাদুঘরে নিয়ে যেতে পারেন। ইন্টারনেটে 'সিঙ্গেল মম সাইড হাসল' লিখে খুঁজতেই তিনি ভয়েসওভারের আইডিয়াটি পান। এরপর মাত্র ২০০ ডলার খরচ করে একটি ভয়েসওভার কোর্স করেন, একটি মাইক্রোফোন কেনেন এবং শব্দ নিয়ন্ত্রণের জন্য ওয়ালমার্ট থেকে ম্যাট্রেস টপার কিনে নিজের ক্লোজেটকে মিনি-রেকর্ডিং বুথে পরিণত করেন। জায়গাটি এতটাই ছোট ছিল যে, তাকে বসে বসে রেকর্ডিং করতে হতো।   অনলাইন ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস ফাইভার-এ (Fiverr) প্রোফাইল খুলে কাজ শুরু করেন এরিন। বর্তমানে তিনি অ্যাপল, কোকা-কোলা, পেটস্মার্ট এবং ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপির মতো বড় বড় ক্লায়েন্টদের হয়ে করপোরেট ঘোষণা ও ট্রেনিং ভিডিওর ভয়েসওভার দিচ্ছেন। এরিন জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর যুগে মানুষ এখন অতি-নিখুঁত কণ্ঠের বদলে আসল মানুষের একটু অমসৃণ ও স্বাভাবিক কণ্ঠ শুনতে বেশি পছন্দ করে, যা তার জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ। চলতি ২০২৬ সালে ইতিমধ্যেই এই সাইড হাসল থেকে তিনি ২ লাখ ২৭ হাজার ডলারের বেশি আয় করেছেন, যা গত ২০২৫ সালের গ্রীষ্মেই নাসায় তার মূল বেতনের অঙ্ককে ছাড়িয়ে গেছে।   বর্তমানে ভয়েসওভারের কাজ থেকে পাওয়া অর্থে তিনি ভ্রমণ করছেন, গাড়ি কিনেছেন এবং মেয়ের কলেজের পড়াশোনার জন্য সঞ্চয় করছেন। তবে নাসার চ্যালেঞ্জিং চাকরিটি ছাড়ার কোনো ইচ্ছে তার আপাতত নেই। বরং সম্প্রতি তিনি ভিডিও গেম এবং অ্যানিমেটেড কমিকসে চরিত্রভিত্তিক ভয়েসওভারের কাজও শুরু করেছেন এবং ২০২৫ সালের আগস্টে ডালাসে একটি ভিডিও গেমে কণ্ঠ দিয়ে পুরস্কারও জিতেছেন। একসময় নিজেকে কেবল বিজ্ঞান ও অঙ্কের মানুষ ভাবা এরিন এখন নিজের এই শৈল্পিক সত্তা এবং অভাবনীয় আর্থিক স্বাধীনতা নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী ও চিন্তামুক্ত জীবন কাটাচ্ছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৮:৩৩
ব্যাংক অব আমেরিকার কর্মীদের ওজন কমাতে ২৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়
ব্যাংক অব আমেরিকার কর্মীদের ওজন কমাতে ২৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়, সিইও বলছেন ‘সার্থক বিনিয়োগ’

মার্কিন বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান 'ব্যাংক অব আমেরিকা' তাদের কর্মীদের ওজন কমানোর ওষুধ বা জিএলপি-১ (GLP-1) ওষুধের পেছনে বছরে ২৫০ মিলিয়ন (২৫ কোটি) ডলারেরও বেশি অর্থ ব্যয় করছে। ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্রায়ান ময়নিহান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রমবর্ধমান এই বিপুল ব্যয়কে কোম্পানির কর্মীদের জন্য একটি ‘সার্থক বিনিয়োগ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রায় ২ লাখ ১১ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রতি বছর ২ বিলিয়ন বা ২০০ কোটি ডলারের বেশি খরচ করে থাকে। সিইও ব্রায়ান ময়নিহানের দেওয়া তথ্যমতে, ব্যাংকটির মোট স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের প্রায় ১৩ শতাংশই এখন জিএলপি-১ ওষুধের পেছনে ব্যয় হচ্ছে।   ময়নিহান জানান, মাত্র চার-পাঁচ বছর আগেও এই খাতে তাদের ব্যয়ের পরিমাণ ছিল শূন্য; অথচ এখন তা ২৫০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওজেম্পিক (Ozempic) এবং ওয়েগোভি (Wegovy)-এর মতো জিএলপি-১ ওষুধের চাহিদা বিশ্বজুড়েই বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব ওষুধের পেছনে রোগীদের পাশাপাশি নিয়োগকর্তাদেরও বছরে হাজার হাজার ডলার খরচ করতে হয়, যা স্বাস্থ্যবিমা প্রদানকারী কোম্পানিগুলোর ওপরও চাপ বাড়াচ্ছে। খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান এই ওষুধের কভারেজ বা সুবিধা সীমিত করলেও, ব্যাংক অব আমেরিকা এটিকে কর্মীদের জন্য একটি মূল্যবান সুবিধা হিসেবেই বিবেচনা করছে।   ময়নিহান স্বীকার করেন যে, কোনো কর্মী চাকরি ছেড়ে দিলে হয়তো ব্যাংক এই ওষুধের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সুবিধাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে পাবে না, তবে কর্মীদের ওপর এর ইতিবাচক প্রভাব সুস্পষ্ট। ওষুধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও ওজন নিয়ন্ত্রণে কর্মীদের জন্য 'হেলথ কোচিং'-এর সুবিধাও দিচ্ছে ব্যাংকটি।   নিয়োগকর্তাদের জন্য কর্মীদের জিএলপি-১ ওষুধের খরচ বহন করা বর্তমানে একটি ক্রমবর্ধমান অথচ ব্যয়বহুল বিষয়ে পরিণত হয়েছে। 'ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন অব এমপ্লয়ি বেনিফিট প্ল্যানস'-এর জুলাই মাসের এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৬ সালে প্রায় ৩৬ শতাংশ নিয়োগকর্তা ডায়াবেটিস এবং ওজন কমানো—উভয় ক্ষেত্রেই জিএলপি-১ ওষুধের খরচ বহন করছেন।   এই হার ২০২৪ সালের ৩৪ শতাংশের তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও ২০২৫ সালের তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীরা জানান, চিকিৎসা ব্যয়ের এই ঊর্ধ্বগতি নিয়োগকর্তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। ২০২৬ সালের বার্ষিক স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত দাবির (Health care claims) ১১.৪ শতাংশই জিএলপি-১ ওষুধের দখলে চলে গেছে, যা ২০২৩ সালে ছিল মাত্র ৬.৯ শতাংশ।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৮:২০
নিউইয়র্কে ডোমিনিকান ডে প্যারেডে হামলা, ৬৫ বছরের বৃদ্ধকে কু পিয়ে জখম
নিউইয়র্কে ডোমিনিকান ডে প্যারেডে হামলা, ৬৫ বছরের বৃদ্ধকে কু পিয়ে জখম

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ডোমিনিকান ডে প্যারেডে চরম বিশৃঙ্খলা ও হামলার ঘটনার পর মাঝপথেই অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। রবিবার আয়োজিত এই আনন্দমিছিলে হঠাৎ করেই ভিড় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ মারাত্মকভাবে জখম হলে কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে প্যারেডটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। উল্লেখ্য, ৪২ বছর ধরে আয়োজিত এই জমকালো উৎসবে এবারও প্রায় ৫ লাখ দর্শক এবং ১১৩টি বিভিন্ন সংগঠনের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। সিক্সথ অ্যাভিনিউ ধরে সেন্ট্রাল পার্কের প্রবেশদ্বার ওয়েস্ট ৫৯ নম্বর সড়ক পর্যন্ত এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা চলার কথা ছিল।   আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রমতে, র‍্যাপারদের বহনকারী কয়েকটি ফ্লোট বা সুসজ্জিত যান যখন এগিয়ে আসছিল, তখন দর্শনার্থীরা হঠাৎ করে অতি-উৎসাহী ও উচ্ছৃঙ্খল হয়ে ওঠে। ৪৬ নম্বর সড়কের কাছে অনেকেই ব্যারিকেড টপকে মূল রাস্তায় ঢুকে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে (এনওয়াইপিডি) রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। পুলিশ যখন ভিড় ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করছিল, তখন বিকেল পৌনে চারটার দিকে ৪৫ নম্বর সড়কের কাছে এক বিবাদের জেরে ওই ১৯ বছর বয়সী তরুণ ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধের মুখ ও হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ওই তরুণকে গ্রেপ্তার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করে। আহত বৃদ্ধকে স্থিতিশীল অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরপর পুলিশ বাধ্য হয়ে সিক্সথ অ্যাভিনিউ থেকে প্যারেডটিকে ৫২ নম্বর সড়কের দিকে ঘুরিয়ে দেয়।   পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে নিউইয়র্ক পুলিশের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তারা প্যারেডটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে প্রশাসনের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে হতাশ হয়েছেন উৎসবে আসা অনেক সাধারণ দর্শনার্থী। ছোটবেলা থেকে প্রতি বছর এই প্যারেডে অংশ নেওয়া ১৭ বছর বয়সী সিনথিয়া লোপেজ নামের এক কিশোরী আক্ষেপ করে বলেন, তারা সবাই মিলে কেবল আনন্দ করছিলেন এবং সেখানে তারা কোনো ধরনের মারামারির ঘটনা দেখেননি। হঠাৎ করেই কেন এমন আনন্দঘন একটি আয়োজন মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া হলো, তা তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৮:৪
নিউইয়র্কে অতিরিক্ত প্রপার্টি ট্যাক্স আদায়ের অভিযোগ, রিফান্ড চাইছেন বাড়ির মালিকরা
নিউইয়র্কে অতিরিক্ত প্রপার্টি ট্যাক্স আদায়ের অভিযোগ, রিফান্ড চাইছেন বাড়ির মালিকরা

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি যখন ধনীদের দ্বিতীয় বাড়ির ওপর নতুন কর আরোপের উদ্যোগ নিচ্ছেন, ঠিক তখনই সাধারণ বাড়ির মালিকেরা এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। কো-অপ এবং কন্ডো (condo) মালিকদের দাবি, বর্গফুটের ভুল হিসাবের কারণে তারা বছরের পর বছর ধরে অতিরিক্ত সম্পত্তি কর বা প্রপার্টি ট্যাক্স দিয়ে আসছেন। সব মিলিয়ে পুরো শহরে যার পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে লাখ লাখ ডলারে। অথচ এখন নিজেদের অতিরিক্ত দেওয়া টাকা ফেরত বা রিফান্ড পেতে গিয়ে নগর কর্তৃপক্ষের কাছে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা।   আপার ওয়েস্ট সাইডের শতবর্ষী একটি কো-অপ ভবনের বাসিন্দা এলেন সিলভারম্যান জানান, ভবনের সংস্কার কাজের সময় একজন স্থপতি দিয়ে নতুন করে মাপজোক করা হলে এই বিশাল গরমিল ধরা পড়ে। তিনি দেখতে পান, ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের রেকর্ডে থাকা তথ্যের চেয়ে তাদের ভবনের প্রকৃত আয়তন ২২ শতাংশ কম। নিউইয়র্ক সিটি মূলত বাসযোগ্য বর্গফুটের একটি জটিল সূত্রের ওপর ভিত্তি করে কর নির্ধারণ করে থাকে। এই ভুল হিসাবের কারণে গত ৪০ বছর ধরে ভবনটিকে লাখ লাখ ডলার অতিরিক্ত কর গুণতে হয়েছে। ২০২৩ সালে সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে 'ক্ল্যারিক্যাল এরর রিপোর্ট' জমা দেওয়ার পর ভবিষ্যতের জন্য আয়তন সংশোধন করা হলেও, আইন অনুযায়ী পূর্ববর্তী ছয় বছরের পাওনা রিফান্ড দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ।   একই ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়েছেন আপার ইস্ট সাইডের বাসিন্দা অ্যান্ড্রু ক্যাভাগনারো। তার ভবনের আয়তনও প্রায় ১০ হাজার বর্গফুট বেশি দেখানো হয়েছিল। অভিযোগ জানানোর পর তাকে মাত্র দুই বছরের রিফান্ড দেওয়া হয়েছে, অথচ তার নিয়ম অনুযায়ী ছয় বছরের সম্পূর্ণ টাকা ফেরত পাওয়ার কথা ছিল। প্রপার্টি ট্যাক্স কনসালট্যান্ট স্ট্যান রুশো জানান, নিউইয়র্কের প্রায় ৭০ শতাংশ কন্ডো ও কো-অপ ভবনের বর্গফুটের হিসাবে এ ধরনের অতিরঞ্জন রয়েছে। গত বছর সিটি কর্তৃপক্ষ রিফান্ড পাওয়ার যোগ্য সময়সীমা ছয় বছর থেকে কমিয়ে তিন বছরে নামিয়ে এনেছে। রুশোর মতে, কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবেই রিফান্ড দেওয়ার প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে, যাতে বাসিন্দাদের টাকা ফেরত দিতে না হয়।   এদিকে এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্স। তারা শুধু একটি লিখিত বিবৃতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের 'ট্যাক্স কমিশন'-এর কাছে আপিল করার পরামর্শ দিয়েছে। তবে ট্যাক্স কমিশন বা মেয়র মামদানির দপ্তর থেকে একাধিকবার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পায়নি সংবাদমাধ্যমগুলো। নিউইয়র্ক সিটিতে বর্তমানে সাত হাজারের বেশি কন্ডো এবং কো-অপ ভবন রয়েছে। সিটি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সুস্পষ্ট উত্তর বা সহযোগিতা না পেয়ে ভুক্তভোগী মালিকরা এখন নিজেদের অধিকার আদায়ে স্থানীয় ও রাষ্ট্রীয় আইনপ্রণেতাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৭:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ের খাদে গাড়ি, নি হত ১৭ বছরের পাঁচ কিশোর
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ের খাদে গাড়ি, নি হত ১৭ বছরের পাঁচ কিশোর

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ের গভীর খাদে পড়ে গেলে পাঁচ কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মেসা কাউন্টি করোনার অফিস জানিয়েছে, নিহত পাঁচজনেরই বয়স ১৭ বছর এবং তারা সবাই গ্র্যান্ড জংশন এলাকার বাসিন্দা। শনিবার গভীর রাতে গ্র্যান্ড জংশনের একটি আবাসিক এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে।   গ্র্যান্ড জংশন পুলিশ বিভাগ জানায়, রোববার স্থানীয় সময় সকাল আটটার কিছু আগে লুকআউট লেনের ২০০০ ব্লকে একটি গাড়ি পাহাড়ের খাদে পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তল্লাশি চালিয়ে তারা পাহাড়ের ঢালে বিধ্বস্ত গাড়িটির সন্ধান পান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলেই ওই পাঁচ কিশোরকে মৃত ঘোষণা করেন।   প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাড়িটি লুকআউট লেন ধরে দক্ষিণ দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ রাস্তা থেকে ছিটকে পাহাড়ের খাড়া ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে যায়। এই দুর্ঘটনার পেছনে গাড়ির অতিরিক্ত গতি অন্যতম কারণ হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। করোনার অফিস সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, গাড়ির চালক ও সামনের সিটের যাত্রীর পাশাপাশি অপর একজন সিটবেল্ট পরা অবস্থায় ছিলেন। তবে বাকি দুজনের সিটবেল্ট বাঁধা না থাকায় দুর্ঘটনার প্রচণ্ড ধাক্কায় তারা গাড়ি থেকে ছিটকে বাইরে পড়ে যান।   একাধিক সংস্থার উদ্ধারকর্মীরা দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন। নিহতরা সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় নীতিমালার কারণে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি স্থানীয় প্রশাসন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় গ্র্যান্ড জংশন পুলিশ বিভাগ গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বর্তমানে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৭:২৩
ফ্লোরিডায় স্ত্রী ও দুই অবুঝ সৎমেয়েকে হ ত্যার ১৪ বছর পর আদালতে দোষ স্বীকার পাষণ্ড স্বামীর
ফ্লোরিডায় স্ত্রী ও দুই অবুঝ সৎমেয়েকে হ ত্যার ১৪ বছর পর আদালতে দোষ স্বীকার পাষণ্ড স্বামীর

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্ত্রী এবং দুই সৎমেয়েকে হত্যার প্রায় ১৪ বছর পর আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন আলবার্তো সিয়েরা নামের এক ব্যক্তি। ৪২ বছর বয়সী এই স্বামীর বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার বা প্রথম মাত্রার খুন, অপহরণ, চুরি এবং মরদেহের ওপর বিকৃত নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। গত শুক্রবার মিয়ামি-ডেড কাউন্টির আদালতে তিনি এসব অভিযোগের দায় মাথা পেতে নেন।   দোষ স্বীকারের পর এখন তার শাস্তি হিসেবে আমৃত্যু কারাদণ্ড নাকি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে, তা নির্ধারণের জন্য চলতি মাসের শেষের দিকে একটি জুরি বোর্ড গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো।   মিয়ামি হেরাল্ড ও সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২ সালের ১৩ নভেম্বর ফ্লোরিডার মিয়ামি-ডেড কাউন্টির নিজ বাড়ি থেকে গ্লাডিস মাচাদো (২৯) এবং তার দুই শিশুকন্যা জুলিয়া প্যাড্রন (৮) ও দানিয়েলা প্যাড্রনের (৪) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সেসময় বাড়িটি থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ আসতে থাকলে এক প্রতিবেশী পুলিশে খবর দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে আলবার্তো সিয়েরা স্বীকার করেছেন যে, তিনি তার স্ত্রী গ্লাডিসকে ছুরিকাঘাতে এবং দুই শিশুকন্যাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন।   তবে এই হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা এখানেই শেষ নয়। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে হত্যার পর সিয়েরা তার স্ত্রী এবং আট বছর বয়সী সৎমেয়ের মৃতদেহের ওপর পাশবিক ও বিকৃত যৌন নির্যাতন চালিয়েছিলেন। তবে সৌভাগ্যবশত, গ্লাডিসের ছয় বছর বয়সী ছেলে ঘটনার সময় বাড়িতে না থাকায় সে এই নির্মম হত্যাযজ্ঞ থেকে প্রাণে বেঁচে যায়। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর এই রোমহর্ষক মামলার বিচারকাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোয় একটি ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয়রা।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৭:৯
ভারতের ১৩৭ যাত্রীবাহী বিমানে মাঝ আকাশে ভয়াবহ ঝাঁকুনি, পরে জানা যায় পাইলট গাঁজা সেবন করেছিলেন
ভারতের ১৩৭ যাত্রীবাহী বিমানে মাঝ আকাশে ভয়াবহ ঝাঁকুনি, পরে জানা যায় পাইলট গাঁজা সেবন করেছিলেন

থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে ভারতের দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে মাঝ আকাশে ভয়াবহ ঝাঁকুনি ও আকস্মিক নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ফ্লাইটটির পাইলটের শরীরে দুই দফা ডোপ টেস্টের পর মাদকজাতীয় সাইকোঅ্যাকটিভ পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ওই পাইলটের গাঁজা বা 'উইড' সেবনের বিষয়টি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।   গত ৪ আগস্ট এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-২৩৭৯ ফ্লাইটটি ১৩৭ জন যাত্রী ও আটজন ক্রু সদস্য নিয়ে ফুকেট থেকে দিল্লির উদ্দেশে উড্ডয়ন করেছিল। মাঝ আকাশে বিমানটি আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে গেলে অন্তত ২০ জন যাত্রী এবং চারজন ক্রু সদস্য আহত হন। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী রাম মোহন নাইডু জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে দুই ক্রু সদস্যের ঘাড় ও মেরুদণ্ডের নিচের অংশে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। মূলত বিমানের পেছনের অংশে যেসব যাত্রী সিটবেল্ট বাঁধেননি, তারাই এই আকস্মিক পতনে বেশি আহত হয়েছেন।   সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঘটনার সময় অভিযুক্ত পাইলট নিজের আসনে ছিলেন না। সে সময় এয়ারবাস এ৩২০নিও উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণে ছিলেন সহকারী পাইলট। বিমানটি হঠাৎ নিচের দিকে নেমে গেলে ককপিটের ভেতর ‘নেগেটিভ-জি’ পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার ফলে ককপিটের বিভিন্ন জিনিসপত্রসহ পাইলট নিজেও কিছুটা শূন্যে ভেসে ওঠেন। পরবর্তীতে দিল্লিতে অবতরণের পর নিয়মিত পোস্ট-ফ্লাইট স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার মাদক গ্রহণের বিষয়টি ধরা পড়ে।   ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইটটির দুই পাইলটকেই দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারিগরি, পরিচালনাগত, চিকিৎসা ও মানবিক বিষয়গুলোর তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপ্রত্যাশিত ও বিপজ্জনক ঘটনা এড়াতে ফ্লাইট রেকর্ড, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৬:৫০
ফ্লোরিডা থেকে নিখোঁজ, ১১ দিন পর ১২০০ মাইল দূরে নিউজার্সিতে মিলল কিশোরীর সন্ধান
ফ্লোরিডা থেকে নিখোঁজ, ১১ দিন পর ১২০০ মাইল দূরে নিউজার্সিতে এফবিআইয়ের হাতে উদ্ধার কিশোরী

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে গত মাসে নিখোঁজ হওয়া ১৬ বছর বয়সী কিশোরী সোফিয়া কভারকে বাড়ি থেকে ১২০০ মাইলেরও বেশি দূরে নিউজার্সিতে নিরাপদে খুঁজে পাওয়া গেছে। গত ৩১ জুলাই গভীর রাতে বাড়ি থেকে চুপিসারে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। সোমবার সন্ধ্যায় সোফিয়ার বাবা রিক কভার ফেসবুকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, এফবিআই (FBI) তার মেয়েকে নিউজার্সিতে নিরাপদে উদ্ধার করেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পরিবার অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সুখবরটি পেয়েছে বলে স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি।   মেয়েকে ফিরে পাওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রিক কভার। তিনি বিশেষভাবে কলিয়ার কাউন্টি শেরিফ অফিস এবং গোয়েন্দা মারিসল রদ্রিগেজের নাম উল্লেখ করেন। এর পাশাপাশি, যেসব পরিচিত ও অপরিচিত মানুষ সোফিয়ার ছবি শেয়ার করেছেন, তার জন্য প্রার্থনা করেছেন এবং নানা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন, তাদের সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এই বাবা। তিনি বলেন, হাজারো মানুষ তার মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার খবরটি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন বলেই আজ তাকে ফিরে পাওয়া সম্ভব হয়েছে।   সংবাদমাধ্যম 'গালফ কোস্ট নিউজ নাউ'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিক কভার জানান, দীর্ঘ ১১ দিন পর মেয়ের সাথে দেখা করতে যত দ্রুত সম্ভব তিনি নিউজার্সিতে উড়ে যাবেন। সোফিয়া নিউজার্সিতে তার বন্ধুদের সাথে অবস্থান করছিল বলে জানা গেছে। তবে সে কীভাবে এতদূর পৌঁছাল এবং কবে নাগাদ তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা যাবে, সে বিষয়ে ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। রিক আরও জানান, তারা ধীরে ধীরে পুরো বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করবেন এবং ঠিক কী ঘটেছিল তা উদ্ঘাটন করবেন।   গত ৩১ জুলাই গোল্ডেন গেট এস্টেটসে অবস্থিত নিজ বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে সোফিয়াকে ভোরের দিকে অজানা কারণে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এরপর থেকেই চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন তার বাবা। মেয়ে যে স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে, তা কোনোভাবেই মানতে রাজি ছিলেন না তিনি। মেয়েকে খুঁজে বের করতে অনলাইনে ও স্থানীয়ভাবে তিনি ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান শুরু করেছিলেন। সেই সময় এক আবেগঘন বার্তায় তিনি সোফিয়াকে যেকোনো পুলিশ সদস্য বা নিরাপদ কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কাছে আশ্রয় নিয়ে বাড়ি ফিরে আসার আকুতি জানিয়েছিলেন।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৬:৩৩
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরিতে দাদির অসুস্থতার অজুহাতে গলফে জালিয়াতি, ফেক ‘হোল-ইন-ওয়ান’ করে বিপাকে খেলোয়াড়
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরিতে দাদির অসুস্থতার অজুহাতে গলফে জালিয়াতি, ফেইক ‘হোল-ইন-ওয়ান’ করে বিপাকে খেলোয়াড়

গলফ কোর্সে অসুস্থ দাদির খোঁজ নেওয়ার মিথ্যা অজুহাত দিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে চরম তোপের মুখে পড়েছেন এক মার্কিন অপেশাদার গলফার। জ্যাক হল্যান্ড নামের ওই খেলোয়াড় একটি টুর্নামেন্টে 'ফেক হোল-ইন-ওয়ান' (এক শটে বল গর্তে ফেলা) সাজিয়েছিলেন। জালিয়াতি ধরা পড়ার পর তীব্র সমালোচনার শিকার হয়ে তিনি এখন গলফ দুনিয়ায় রীতিমতো 'পাবলিক এনিমি নম্বর ওয়ান' বা এক নম্বর শত্রুতে পরিণত হয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির ও’ফ্যালন শহরের উইংহ্যাভেন কান্ট্রি ক্লাবে সম্প্রতি সদস্যদের জন্য আয়োজিত একটি টুর্নামেন্টে এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটে। সাবেক কলেজিয়েট গলফার জ্যাক হল্যান্ড খেলার মাঝপথে তার সঙ্গীদের জানান, মুমূর্ষু দাদির স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে তাকে একটু দূরে গিয়ে একটি জরুরি ফোন কল ধরতে হবে। এই সুযোগে তিনি ৩ নম্বর হোল থেকে দ্রুত এগিয়ে ৪ নম্বর হোলে চলে যান। সেখানে গিয়ে গর্তের কাছে মাটিতে কৃত্রিম আঘাতের চিহ্ন তৈরি করে নিজের বলটি গর্তের ভেতর রেখে দেন। পরে সঙ্গীরা সেখানে পৌঁছালে তিনি দাবি করেন যে, তিনি বলটি ঠিকমতো মারতে পারেননি এবং সেটি কোথায় গেছে তা তার জানা নেই। এরপর গর্তের ভেতর থেকে বলটি উদ্ধার হলে সবাই প্রথমে এই বিরল সাফল্যে আনন্দ উল্লাস করলেও কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় দ্রুতই সন্দেহের দানা বাঁধে।   কোর্সটিতে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় হল্যান্ডের সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসে। এরপর ক্লাবের জেনারেল ম্যানেজারের মুখোমুখি হলে তিনি তার দোষ স্বীকার করে নেন এবং নিজেই ক্লাবের সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন। সম্প্রতি সেন্ট লুইসের একটি রেডিও শো 'দ্য মর্নিং আফটার'-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে হল্যান্ড তার এই জালিয়াতির কথা অকপটে স্বীকার করেন। নিজের এই কাজকে 'চরম বোকামি' ও 'নৈতিকতার অভাব' আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, এই ঘটনার পর থেকে তিনি ভয়াবহ সামাজিক হেনস্থার শিকার হচ্ছেন।   হল্যান্ড জানিয়েছেন, গলফ ক্যারিয়ারের চেয়েও এখন তার পরিবারের নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়ে তিনি বেশি চিন্তিত। পাঁচ বছরের বিবাহিত জীবনে এমন একটি ঘটনা তার স্ত্রীর সাথে চরম বিশ্বাসভঙ্গ করেছে এবং তিন বছরের কম বয়সী দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি চরম উদ্বিগ্ন। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এই গলফার বর্তমানে নিজের ভুলের জন্য অনুশোচনা করছেন এবং নিজেকে শুধরে নিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিচ্ছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৬:১১
বাড়ির দাম নয়, বীমার চড়া প্রিমিয়ামেই টেক্সাসে বাড়ি কেনার সামর্থ্য হারিয়েছে ৭০ লাখ পরিবার
বাড়ির দাম নয়, বীমার চড়া প্রিমিয়ামেই টেক্সাসে বাড়ি কেনার সামর্থ্য হারিয়েছে ৭০ লাখ পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে লাগামহীনভাবে বাড়ি বীমার (হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স) খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম আবাসন সংকটে পড়েছেন বাসিন্দারা। রাইস ইউনিভার্সিটির কিণ্ডার ইনস্টিটিউট ফর আরবান রিসার্চ এবং পাবলিক পলিসি সংস্থা 'টেক্সাস ২০৩৬'-এর যৌথ গবেষণায় চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বীমার অতিরিক্ত প্রিমিয়াম যুক্ত করার পর দেখা যায়, টেক্সাসের প্রায় ৬৪ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৭০ লাখ পরিবার তাদের নিজ কাউন্টির গড় মূল্যের একটি সাধারণ বাড়ি কেনার সামর্থ্যও হারিয়ে ফেলেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ টেক্সাস রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে কম খরচে আবাসন সুবিধা মিললেও, বীমার দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকায় সেই সস্তা স্বর্গের সুনাম এখন ধ্বংসের মুখে।   গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে টেক্সাসে বাড়ি বীমার গড় খরচ ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বার্ষিক প্রায় ২,৯৮৩ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে রাজ্যে বাড়ির গড় মূল্য ৩১ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৬৯ হাজার ২৫০ ডলারে দাঁড়ালেও মানুষের আয় সেই অনুপাতে বাড়েনি। গত পাঁচ বছরে টেক্সাসে গৃহস্থালিগুলোর মধ্যবর্তী আয় বেড়েছে মাত্র ৩ শতাংশ, যা একটি মধ্যম মূল্যের বাড়ি কেনার জন্য প্রয়োজনীয় বার্ষিক আয়ের চেয়ে প্রায় ৫,৩৬৫ ডলার কম। অঞ্চলটিতে ঘনঘন তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং নির্মাণসামগ্রীর আকাশচুম্বী দামকেই বীমার এই অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।   গবেষকদের মতে, মোট আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি অর্থ যদি বাড়ি কেনা ও রক্ষণাবেক্ষণের পেছনে চলে যায়, তবে তা সাধারণ পরিবারের জন্য অসাধ্য হয়ে পড়ে। ভবিষ্যতে এই বীমা প্রিমিয়াম যদি মাত্র ৪ থেকে ১০ শতাংশও বৃদ্ধি পায়, তবে নতুন করে আরও ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার পরিবার গৃহহীন থাকার ঝুঁকিতে পড়বে। এই সংকট বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার এবং কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে। অস্টিন, ডালাস কিংবা হিউস্টনের মতো বড় মেট্রোপলিটন শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ কাউন্টিগুলোতেও বীমার এই অতিরিক্ত বোঝা সাধারণ মানুষের দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ সঞ্চয়ের পথকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৫:৫০
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি আবেদনে বড় ব্যবধান, ডেমোক্র্যাট এলাকায় ৫১ লাখ, রিপাবলিকান এলাকায় ১৭ লাখের কম
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি আবেদনে বড় ব্যবধান, ডেমোক্র্যাট এলাকায় ৫১ লাখ, রিপাবলিকান এলাকায় ১৭ লাখের কম

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট বা নির্বাচনী এলাকাগুলোতে গত এক দশকে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য রিপাবলিকান এলাকার তুলনায় তিন গুণেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। ‘লেঅফহেজ’ (LayoffHedge)-এর নতুন এক বিশ্লেষণে কেন্দ্রীয় শ্রম দপ্তরের এই তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৫ অর্থবছর থেকে ২০২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত প্রায় ৬৯ লাখ অনুমোদিত লেবার কন্ডিশন অ্যাপ্লিকেশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে এই আবেদনের সংখ্যা ছিল ৫১ লাখ ৭০ হাজার। অন্যদিকে, রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত এলাকায় এর পরিমাণ ছিল মাত্র ১৬ লাখ ৯০ হাজার। বাকি ৫৬ হাজার ৫৯৬টি আবেদন বর্তমানে শূন্য থাকা চারটি আসন থেকে এসেছে।   সার্বিক পরিসংখ্যানে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধির চিত্রটি বেশ চমকপ্রদ। ২০১৯ থেকে ২০২৫ অর্থবছরের মধ্যে এইচ-১বি ভিসার আবেদন সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া শীর্ষ আটটি নির্বাচনী এলাকাই টেক্সাসের রিপাবলিকানদের দখলে রয়েছে। লেঅফহেজের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই তথ্য মূলত নিয়োগকর্তারা কোথায় কর্মীদের পদায়ন করতে চেয়েছেন তা নির্দেশ করে। এটি প্রমাণ করে না যে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল এইচ-১বি ভিসার ব্যবহার বাড়াতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। উল্লেখ্য, এই পরিসংখ্যানটি সরাসরি ইস্যু করা ভিসা বা নির্দিষ্ট কোনো কর্মীর সংখ্যা নয়, বরং এটি লেবার কন্ডিশন অ্যাপ্লিকেশনের হিসাব, যা কোনো বিদেশি কর্মীকে নিয়োগের আবেদন করার আগে মার্কিন শ্রম দপ্তরে জমা দিতে হয়। একটি আবেদনের মাধ্যমে একাধিক কর্মীর জন্যও অনুরোধ করা যেতে পারে।   এই পরিসংখ্যান এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন আইনি অভিবাসনের পথ, বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে কড়াকড়ি আরোপের পদক্ষেপ নিচ্ছে। ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই বর্তমান প্রশাসন বার্ষিক এইচ-১বি লটারি ব্যবস্থা বাতিল করে উচ্চ বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নিয়ম চালু করেছে। এছাড়া ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক স্ক্রিনিং ফি বৃদ্ধি এবং চাকরিচ্যুত কর্মীদের নতুন কাজ খোঁজার জন্য দেওয়া ৬০ দিনের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বাতিলের প্রস্তাবও করা হয়েছে। ট্রাম্প সমর্থক বা ‘মাগা’ (MAGA) আন্দোলনের কট্টরপন্থীদের দাবি, এই ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে বিদেশি কর্মীদের জায়গা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রযুক্তি খাতের কর্মকর্তা ও ব্যবসাবান্ধব রক্ষণশীলদের মতে, দক্ষ বিদেশি কর্মীদের প্রবেশ সীমিত করা হলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ কঠিন হয়ে পড়বে।   বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রধান প্রযুক্তি ও ব্যবসাকেন্দ্রগুলোতেই এইচ-১বি ভিসার আবেদন সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীভূত। এর মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার ১৭তম ডিস্ট্রিক্ট (প্রতিনিধি রো খান্না) ৩ লাখ ২৩ হাজার ৯৬৬টি আবেদন নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে নিউইয়র্কের ১২তম এবং ক্যালিফোর্নিয়ার ১৬তম ডিস্ট্রিক্ট। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে টেক্সাসের ৪নং ডিস্ট্রিক্ট, যেখানে আবেদনের সংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজার ৮৯২টি। এরপরই রয়েছে জর্জিয়ার ৭নং এবং টেক্সাসের ২৪নং ডিস্ট্রিক্ট। শীর্ষ ১০টি ডিস্ট্রিক্ট মিলে মোট ১৭ লাখ ২৭ হাজার ৭৬৬টি আবেদন রেকর্ড করা হয়েছে, যা সারা দেশের ২১৯টি রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত এলাকার মোট আবেদনের চেয়েও বেশি। লেঅফহেজ জানিয়েছে, মাত্র ৪০টি কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকেই মোট আবেদনের অর্ধেক জমা পড়েছে, যা প্রমাণ করে যে এইচ-১বি ভিসার ব্যবহার পুরো দেশে সমানভাবে নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে ব্যাপকভাবে কেন্দ্রীভূত।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৫:৩৩
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সেরা অঙ্গরাজ্যের তালিকায় ৬০.১৫ স্কোর নিয়ে শীর্ষে আইডাহো, ৫৯.৪১ নিয়ে দ্বিতীয় নিউজার্সি
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সেরা অঙ্গরাজ্যের তালিকায় ৬০.১৫ স্কোর নিয়ে শীর্ষে আইডাহো, ৫৯.৪১ নিয়ে দ্বিতীয় নিউজার্সি

বসবাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা অঙ্গরাজ্যগুলোর একটি নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে আর্থিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাব। ৫০টি অঙ্গরাজ্যের ওপর ৫১টি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড বিবেচনা করে তৈরি করা এই তালিকায় সবাইকে চমকে দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে একসময়ের নেতিবাচক পরিচিতি পাওয়া অঙ্গরাজ্য নিউজার্সি। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুর্দান্ত স্কোর করে এই অঙ্গরাজ্যটি প্রমাণ করেছে কেন একে 'গার্ডেন স্টেট' বা বাগানের অঙ্গরাজ্য বলা হয়ে থাকে।   ওয়ালেটহাবের সমীক্ষায় মোট ৫৯.৪১ স্কোর পেয়েছে নিউজার্সি। জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সম্পত্তির ওপর উচ্চ কর থাকা সত্ত্বেও দেশের সর্বনিম্ন অপরাধের হার একে বসবাসের জন্য আদর্শ করে তুলেছে। পাশাপাশি, এখানকার উচ্চ গড় আয়, শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা এবং নিউইয়র্ক সিটি ও ফিলাডেলফিয়ার মতো বড় শহরের কাছাকাছি অবস্থান একে মানুষের কাছে ভীষণ আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ডগলাস এলিম্যান-এর নিউজার্সি বিভাগের প্রধান লিসা পোগি জানান, মূলত শিল্পাঞ্চল ও তেল শোধনাগারের কারণে এই অঙ্গরাজ্যটি সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সমুদ্রসৈকত, পাহাড় ও ব্রডওয়ে থিয়েটারের অসাধারণ মেলবন্ধন এই অঙ্গরাজ্যটিকে অনন্য এক ভৌগোলিক সুবিধা এনে দিয়েছে।   তবে নিউজার্সিকে পেছনে ফেলে ৬০.১৫ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষস্থানটি দখল করে নিয়েছে আইডাহো। রিয়েল এস্টেট করের নিম্নহার, বাড়ির মালিকানার উচ্চহার এবং দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ গড় আয় বৃদ্ধির কারণে অঙ্গরাজ্যটি এক নম্বরে উঠে এসেছে। এছাড়া, ওয়াইওমিংয়ের পর এটি যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় নিরাপদ অঙ্গরাজ্য। শীর্ষ পাঁচে থাকা অন্য অঙ্গরাজ্যগুলো হলো যথাক্রমে উইসকনসিন, ম্যাসাচুসেটস এবং নিউ হ্যাম্পশায়ার। অন্যদিকে, মাত্র ৪১.৪২ স্কোর নিয়ে তালিকার একেবারে তলানিতে রয়েছে নিউ মেক্সিকো। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় চরম পিছিয়ে থাকার পাশাপাশি এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে অনিরাপদ অঙ্গরাজ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৫:১১
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ, নতুন ‘গ্রুমিং’ আইনে গ্রেপ্তার ২৫ বছরের শিক্ষিকা
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ, নতুন ‘গ্রুমিং’ আইনে গ্রেপ্তার ২৫ বছরের শিক্ষিকা

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিতে প্রণীত নতুন ‘গ্রুমিং’ আইনের অধীনে প্রথমবারের মতো গ্রেপ্তার হয়েছেন স্যাডি ফ্লোরেস নামের ২৫ বছর বয়সী এক মিডল স্কুল শিক্ষিকা। অবাক করা বিষয় হলো, এই শিক্ষিকা বিবাহিত এবং সম্প্রতি তিনি এক কন্যা সন্তানের মা হয়েছেন। চার বছর আগে ডেভিড নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন তিনি এবং গত বছরের জুলাইয়ে ফেসবুকে অত্যন্ত উচ্ছ্বাসের সাথে নিজের মাতৃত্বের খবরটি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের অভিযোগের ভিত্তিতে কর্মক্ষেত্র থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।   গ্রেভস কাউন্টি শেরিফ অফিসের তথ্যমতে, ওই শিক্ষিকা এক নাবালক শিক্ষার্থীকে প্রলুব্ধ করার বা 'গ্রুমিং' করার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের মধ্যে সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের বাইরেও প্রেম ও প্রশংসামূলক কথাবার্তা আদান-প্রদান হতো। পুলিশের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বয়স আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের অভিভাবক স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে এই অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিভাবক তার সন্তান এবং শিক্ষিকার মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া এমন কিছু খুদে বার্তা খুঁজে পান, যেগুলো কোনোভাবেই শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বা যৌক্তিক ছিল না।   পুলিশ আরও জানিয়েছে, ওই শিক্ষিকা এবং শিক্ষার্থী স্কুলের বাইরেও গোপনে দেখা করতেন, যার সাথে স্কুলের কোনো সম্পর্ক ছিল না। এমনকি অভিভাবকের অজান্তেই গভীর রাতে তাদের মধ্যে ফেসটাইম (FaceTime) কলেও কথা হতো। তবে ঠিক কতদিন ধরে তাদের মধ্যে এমন যোগাযোগ চলছিল, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।   গত ১৫ জুলাই কেন্টাকিতে কার্যকর হওয়া নতুন এই 'গ্রুমিং' আইনের অধীনে কোনো যৌন নির্যাতন ঘটার আগেই সম্ভাব্য অপরাধীকে গ্রেপ্তার করার বিধান রয়েছে। এই আইনের আওতায় স্কুল শিক্ষকদের গ্রুমিং প্রতিরোধের সেশনে অংশ নেওয়াও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফ্লোরেসকে কবে আদালতে হাজির করা হবে বা তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেছেন কি না, তা এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:৪৯
টানা ২০ বছর একা ভ্রমণের পর, প্রথম গ্রুপ ট্যুরেই খুঁজে পেলেন জীবনসঙ্গী
টানা ২০ বছর একা ভ্রমণের পর, প্রথম গ্রুপ ট্যুরেই খুঁজে পেলেন জীবনসঙ্গী

টানা দুই দশক ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে একা ভ্রমণ করে আসছিলেন এই ব্রিটিশ নারী পর্যটক। জর্জিয়া, কলম্বিয়া বা ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে একাই ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। তবে ২০ বছর পর প্রথমবারের মতো একটি গ্রুপ ট্যুরে নাম লিখিয়েছিলেন তিনি। আর এই একটি সিদ্ধান্তই চিরতরে বদলে দিয়েছে তার জীবন; অপ্রত্যাশিতভাবে খুঁজে পেয়েছেন নিজের ভালোবাসার মানুষকে।   সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এ প্রকাশিত এক ভ্রমণকাহিনিতে লিডিয়া সোয়িনস্কো নামের এই পর্যটক জানিয়েছেন তার অসাধারণ এই অভিজ্ঞতার কথা। মিলেনিয়াল বা বর্তমান প্রজন্মের কাছে গ্রুপ ট্যুরের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা নিয়ে একটি অ্যাসাইনমেন্টের অংশ হিসেবে তিনি ২০২৪ সালের মার্চ মাসে শ্রীলঙ্কায় ১২ দিনের একটি গ্রুপ ট্যুরে অংশ নেন। অপরিচিত মানুষদের সাথে ছোটখাটো আড্ডা বা জোর করে আনন্দ করার বিষয়ে আগে থেকেই তার মনে বেশ ভীতি ছিল। কিন্তু শ্রীলঙ্কায় পা রাখার পর এই চমৎকার দ্বীপরাষ্ট্রটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করে।   এই ১২ দিনের ট্যুরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার আরও কয়েকজন পর্যটকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তাদের গাইড হিসেবে ছিলেন সুরঙ্গা নামের এক স্থানীয় যুবক। সুরঙ্গার গভীর জ্ঞান, পর্যটকদের প্রতি তার ধৈর্য আর সূক্ষ্ম রসবোধ শুরু থেকেই লিডিয়াকে আকৃষ্ট করেছিল। তবে তাদের সম্পর্কের মোড় ঘোরে সফরের অষ্টম দিনে। ইয়ালা ন্যাশনাল পার্কে সাফারি শেষে রাতে হঠাৎ হাত থেকে পড়ে লিডিয়ার মোবাইলের স্ক্রিন ভেঙে যায়।   ট্যুর শেষে কলম্বোর পেট্টাহ এলাকার একটি দোকানে ফোনটি সারাতে তাকে সাহায্য করার জন্য নিজে থেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেন গাইড সুরঙ্গা। ফোন জমা দিয়ে তারা দুজন কাছের একটি ক্যাফেতে সময় কাটান এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে গল্প করেন। গ্রুপ ট্যুরের ধরাবাঁধা নিয়মের বাইরে গিয়ে সেই দিনের এই একান্তে কাটানো আড্ডাতেই তাদের মধ্যে একটি বিশেষ সখ্যতা গড়ে ওঠে।   এরপর লিডিয়া তার শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের সময়সীমা আরও কয়েক মাস বাড়িয়ে নেন। তারা দুজনে প্রতিদিন কথা বলতেন এবং সময় মিললেই দেখা করতেন। এভাবে ছয় মাস পার হওয়ার পর তারা ভিন্ন সংস্কৃতি ও প্রত্যাশার ব্যবধান ঘুচিয়ে একসঙ্গে জীবন কাটানোর বড় সিদ্ধান্তটি নিয়ে ফেলেন। বর্তমানে দুই বছরের বেশি সময় ধরে তারা একসঙ্গেই আছেন এবং শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন অচেনা-অজানা অঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।   লিডিয়ার মতে, গ্রুপ ট্যুর হয়তো তার মতো স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য উপযুক্ত নয়। কিন্তু নিজের কমফোর্ট জোন বা স্বস্তির জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার কারণেই তিনি এমন একজনকে খুঁজে পেয়েছেন, যার সঙ্গে অন্য কোনো উপায়ে হয়তো তার কখনোই দেখা হতো না। তার এই গল্পটি প্রমাণ করে যে, জীবনে কখনো কখনো অপছন্দের পথে পা বাড়ালেও তা আমাদের সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:১৯
আইনজীবী আসমা আলী
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে মুসলিম হওয়ায় ইতিহাস গড়া নারী বিচারককে অপসারণের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম নারী মিউনিসিপ্যাল বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। গত ৫ আগস্ট ইয়েমেনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান ও পেশায় আইনজীবী আসমা আলী মিসিসিপির ডেল্টা অঞ্চলের বেনোয়েট শহরের বিচারক হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। চারশোরও কম বাসিন্দার এই ছোট শহরটিতে মিউনিসিপ্যাল বিচারকরা মূলত ছোটখাটো অপরাধ, শহরের আইন লঙ্ঘন এবং ট্রাফিক টিকিটের মতো বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি করে থাকেন। তবে আসমা আলীর এই ঐতিহাসিক নিয়োগ উদযাপনের বদলে তাকে এবং তার কার্যালয়কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিদ্বেষ ও মিথ্যা তথ্যের বিস্তার ঘটেছে।   এই নিয়োগের পর থেকেই মিসিসিপির রক্ষণশীল রাজনীতিকদের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। স্টেট সিনেটর মাইকেল ম্যাকলেনডন প্রকাশ্যেই আসমা আলীকে বেঞ্চ থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এই রিপাবলিকান সিনেটর দাবি করেন যে তিনি 'মোহাম্মদের ওপর নয়, সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাস রাখেন' এবং তার দায়িত্ব পালনের সময় মিসিসিপিকে কোনোভাবেই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ শহরে পরিণত হতে দেবেন না। পাশাপাশি, মিসিসিপির কৃষিমন্ত্রী ও গভর্নর পদপ্রার্থী অ্যান্ডি গিপসন এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাজ্যে শরিয়া আইন নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।   সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো গুজব আর ক্রমাগত হুমকির মুখেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন বিচারক আসমা আলী। সমালোচনার জবাবে তিনি দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন, একজন আমেরিকান হিসেবে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছেন ও পড়াশোনা করেছেন এবং তিনি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানেরই প্রয়োগ করবেন। কোনো ধর্মীয় আইন প্রয়োগের ভিত্তিহীন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার কারণেই কেন তাকে একজন বিচারক হিসেবে অযোগ্য ভাবা হবে। ধর্মীয় বিদ্বেষের এই ঘটনা দেশটিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য বিচারব্যবস্থায় যোগদানের পথ কতটা কণ্টকাকীর্ণ, সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:৩
যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হামের প্রকোপ, এর মাঝেই শিশুদের টিকা কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হামের প্রকোপ, এর মাঝেই শিশুদের টিকা কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রে গত ৩৫ বছরের মধ্যে হামের সর্বোচ্চ প্রকোপের মাঝেই শিশুদের টিকার পরিমাণ কমানোর এক নির্দেশিকায় স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই আদেশে শিশুদের জন্য প্রস্তাবিত টিকার সংখ্যা বর্তমান ১৮টি থেকে কমিয়ে ১১টি করার সুপারিশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে মাম্পস, হাম ও রুবেলা বা এমএমআর (MMR) টিকাগুলো একসঙ্গে না দিয়ে আলাদাভাবে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সোমবার ওভাল অফিসে এই নির্দেশিকা নিয়ে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, কয়েক দশক আগে শিশুদের অনেক কম টিকা দেওয়া হতো এবং তখন তারা বর্তমানের তুলনায় বেশি সুস্থ ছিল।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এমএমআর টিকার নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছেন এবং এর সঙ্গে অটিজমের ভিত্তিহীন সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (এইচএইচএস) সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র এই পদক্ষেপকে অভিভাবকদের পছন্দের সুযোগ বাড়ানোর একটি উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্পের এই আদেশে টিকায় ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়ামের বিকল্প খোঁজার এবং সেসব আরও নিরাপদ কি না, তা পরীক্ষা করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই আদেশের কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে উপস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় টিকার বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবর্তে রাজ্য পর্যায়ে নির্ধারিত হয়ে থাকে।   প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস (এএপি)-এর প্রেসিডেন্ট ডা. অ্যান্ড্রু রেসিন ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশকে ‘বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্বজুড়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রে যখন হামের সংক্রমণ বাড়ছে, তখন টিকা দিতে দেরি করা বা বাদ দেওয়া শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। রিপাবলিকান সিনেটর ও চিকিৎসক বিল ক্যাসিডিও এই আদেশের সমালোচনা করে জানিয়েছেন, এ ধরনের বৈজ্ঞানিক পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা প্রেসিডেন্টের নেই। তিনি অভিভাবকদের প্রতি ভুল তথ্যসম্বলিত আদেশের বদলে চিকিৎসকদের পরামর্শ শোনার আহ্বান জানান।   চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, এমএমআর টিকার সঙ্গে অটিজমের কোনো সম্পর্ক নেই এবং একাধিক বৃহৎ গবেষণায় তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। ২০১৯ সালে ডেনমার্কে ছয় লক্ষাধিক শিশুর ওপর পরিচালিত এক গবেষণাতেও এমএমআর টিকা অটিজম সৃষ্টি করে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং এএপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সমন্বিত এমএমআর টিকাকে তিনটি পৃথক টিকায় ভাগ করার কোনো বৈজ্ঞানিক উপকারিতা নেই। বরং টিকার মধ্যে বেশি সময়ের ব্যবধান রাখলে শিশুরা ওই নির্দিষ্ট সময়ে মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। টিকায় থাকা সামান্য অ্যালুমিনিয়াম লবণের সঙ্গেও কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক নেই বলে নিশ্চিত করেছে এএপি।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৩:৩৭
খাদ্য নিরাপত্তা ত্রুটিতে ফ্লোরিডা-টেক্সাসে ৩০ হাজার পাউন্ড গরুর মাংস বাজার থেকে প্রত্যাহার
খাদ্য নিরাপত্তা ত্রুটিতে ফ্লোরিডা-টেক্সাসে ৩০ হাজার পাউন্ড গরুর মাংস বাজার থেকে প্রত্যাহার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড কাঁচা গরুর মাংস বাজার থেকে জরুরি ভিত্তিতে তুলে নেওয়া হচ্ছে। সঠিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা 'রি-ইন্সপেকশন' ছাড়াই এই বিপুল পরিমাণ মাংস বাজারে সরবরাহ করার কারণে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার (ইউএসডিএ)-এর ফুড সেফটি অ্যান্ড ইন্সপেকশন সার্ভিস (এফএসআইএস)। ফ্লোরিডাভিত্তিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'কোর্টে আর্জেন্টিনো ইউএসএ' মূলত আর্জেন্টিনা থেকে এই মাংস আমদানি করেছিল।   সাধারণত কোনো খাদ্যপণ্য যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে পৌঁছালে কাস্টমস এবং অ্যানিমেল অ্যান্ড প্ল্যান্ট হেলথ ইন্সপেকশন সার্ভিস এর কাগজপত্র, প্যাকেজিং ও গুণগত মান পরীক্ষা করে থাকে। অনেক সময় দূষণ পরীক্ষার জন্য নমুনাও সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু এই কাঁচা গরুর মাংসের চালানটি সেই রুটিন পরীক্ষা এড়িয়ে সরাসরি ফ্লোরিডা এবং টেক্সাসের বিভিন্ন পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছে যায়। পরবর্তীতে এফএসআইএস-এর নিয়মিত পরিদর্শনের সময় এই গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়ে। জানা গেছে, পরীক্ষা এড়িয়ে যাওয়া এই মাংসগুলো চলতি বছরের ১৫ থেকে ২০ মে-এর মধ্যে প্যাকেটজাত করা হয়েছিল এবং এগুলোর ব্যবহারের শেষ মেয়াদ (use-by বা freeze-by date) ছিল ১৫ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর।   বাজার থেকে তুলে নেওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ওজনের কার্ডবোর্ড বক্সে রাখা হাড়বিহীন গরুর মাংস। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— টপ সারলয়েন বাট, আই রাউন্ড, টপসাইড, ফ্ল্যাট এবং নাকল, যা আর্জেন্টিনার 'ফ্রিগোরিফিকো গোরিনা এসএআইসি' থেকে সরবরাহ করা হয়েছিল। পণ্যগুলোর গায়ে আর্জেন্টিনার স্ট্যাবলিশমেন্ট নম্বর 'EST. N° OF. 2025' এবং শিপিং মার্ক '26644-AA' উল্লেখ রয়েছে। এফএসআইএস সতর্ক করেছে যে, এই মাংসগুলো ইতিমধ্যেই অনেক ক্রেতার রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজারে সংরক্ষিত থাকতে পারে।   ক্রেতাদের এসব পণ্য কোনোভাবেই না খেয়ে সরাসরি বক্সে করে ফেলে দিতে অথবা যেখান থেকে কিনেছেন সেখানে ফেরত দেওয়ার জন্য জোরালোভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব মাংস খেয়ে কেউ অসুস্থ হয়েছেন, এমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি। শারীরিক কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্যের জন্য 'কোর্টে আর্জেন্টিনো'-এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।   উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে সঠিক পরীক্ষা ছাড়া খাদ্যপণ্য প্রবেশের কারণে গত কয়েক মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয় বড় প্রত্যাহারের ঘটনা। গত মাসেই কানাডা থেকে আমদানি করা ১২ হাজার পাউন্ডের বেশি বেকন একই কারণে বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ইলিনয়ভিত্তিক মেপল লিফ ফুডস নামের একটি প্রতিষ্ঠান আইডাহো, ওরেগন এবং ওয়াশিংটনে এসব বেকন বাজারজাত করার পর তা স্বেচ্ছায় তুলে নিতে বাধ্য হয়।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৩:১২
কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলায় প্রাণহানি ২০০০ ছাড়াল
কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলায় প্রাণহানি ২০০০ ছাড়াল; ডব্লিউএইচও বলছে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’

কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা ভাইরাসের ভয়াবহ প্রকোপে এখন পর্যন্ত অন্তত দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা সংক্রমণ হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। সরকারি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৮১ জনের শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২ হাজার ১১ জন মারা গেছেন। ২০১৪-১৬ সালের স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা প্রকোপের তুলনায় এবার প্রায় তিন গুণ দ্রুত গতিতে মৃত্যুর এই সংখ্যা ছুঁয়েছে। চলতি বছরের ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকোপের ঘোষণা দেওয়া হলেও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, মূলত ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই এর শুরু হয়েছিল।   প্রথম এক হাজার মানুষের মৃত্যু হতে যেখানে প্রায় নয় সপ্তাহ সময় লেগেছিল, সেখানে পরবর্তী মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই মৃতের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যায়। ইতুরি প্রদেশের একটি স্থানীয় ক্লিনিকে কর্মরত চিকিৎসক ড. জিন-ম্যারি আকান্দাবো এই পরিস্থিতিকে 'উদ্বেগজনক' আখ্যা দিয়ে দুর্গত এলাকাগুলোতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দ্বিগুণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এটি ইতিমধ্যেই ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা প্রাদুর্ভাবে পরিণত হয়েছে। এর আগে ২০১৪-২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় সবচেয়ে বড় ইবোলা সংক্রমণে ২৮ হাজারের বেশি আক্রান্ত এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।   এবারের প্রকোপটি আগেরগুলোর চেয়ে বেশ আলাদা। কারণ, 'বান্ডিবুগিও' (Bundibugyo) নামক ভাইরাসের একটি বিরল ধরন এর জন্য দায়ী, যার কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা নেই। কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে এই ভাইরাসের কেন্দ্রস্থল চিহ্নিত করে পরীক্ষামূলক চিকিৎসা শুরু হয়েছে। তবে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত, অনুন্নত সড়ক যোগাযোগ এবং বেতন নিয়ে জটিলতার কারণে স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মবিরতির ফলে দুর্গম এলাকাগুলোতে সহায়তা পৌঁছানো চরম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, নতুন আক্রান্তদের বেশিরভাগই নজরদারির বাইরে থাকা এলাকা থেকে আসছেন, যা প্রমাণ করে যে সংক্রমণটি স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।   সীমিত চিকিৎসা সেবার কারণে এবারের সংক্রমণে মৃত্যুর হার আগের চেয়ে অনেক বেশি। বর্তমানে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার ৪৫.৯ শতাংশ, যা ২০১৪-১৬ সালের প্রকোপের ৩৯.৬ শতাংশের চেয়েও ভয়াবহ। শুরুতে দুর্গম ও সংবেদনশীল এই অঞ্চলে ইবোলার উপসর্গগুলোকে ভুলবশত ম্যালেরিয়া ও টাইফয়েড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ডব্লিউএইচও-এর আফ্রিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ড. মোহাম্মদ ইয়াকুব জানাবি একটি সংবাদ সম্মেলনে জানান, কর্মকর্তারা ভাইরাসের পেছনে ছুটছেন, কিন্তু ভাইরাসটি তাদের চেয়েও দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। ইতুরি অঞ্চলে জনসমাগম সীমিত করার পাশাপাশি প্রধান বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হলেও ব্যবসা, খনি শ্রমিকদের যাতায়াত এবং সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের চলাচলের ফলে পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা ও রুয়ান্ডা সীমান্তে বিস্তারের চরম ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। ১৯৭৬ সালে প্রথম ইবোলা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এটি কঙ্গোর ১৭তম এবং এযাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রকোপ।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৩:৫
একাধিক পরিচয় ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়া মুরতাজা আলী। ছবি: সংগৃহীত
আঙুলের ছাপেই ধরা পড়ল পরিচয় জালিয়াতি, পাকিস্তানি নাগরিকের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা

অভিবাসন সুবিধা পেতে তিনটি ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে শেষ পর্যন্ত ‘মুহাম্মদ ইকবাল’ নামে গ্রিন কার্ড ও মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানে জন্মগ্রহণকারী ৬৫ বছর বয়সী মুরতাজা আলীর বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে চার দফায় নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ১৪ জুলাই ২০২৬ নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের ফেডারেল আদালতে মামলাটি করা হয়।    যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, মুরতাজা আলী বিভিন্ন নামে একাধিক অ্যাপ্লিকেশন জমা দিয়ে অভিবাসন সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত ‘মুহাম্মদ ইকবাল’ নামের একটি পরিচয়ে তিনি অভিবাসন সুবিধা পান। ওই পরিচয়ের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী হন এবং ২০০৯ সালে একই নামে মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।    নাগরিকত্ব পাওয়ার পর তার আগের অভিবাসন নথি যাচাই করতে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞরা দেখতে পান, ‘মোর্তজা আলী’ এবং ‘মুহাম্মদ ইকবাল’ নামে জমা দেওয়া অভিবাসন অ্যাপ্লিকেশনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট একই ব্যক্তির। অর্থাৎ ভিন্ন নামে করা ওই অ্যাপ্লিকেশনগুলো একই ব্যক্তির ছিল বলে শনাক্ত হয়।    এই তথ্যের ভিত্তিতে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের ফেডারেল প্রসিকিউটররা আলীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি সংস্থার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনেন। মামলাটি ১৮ ইউএসসি সেকশন ১০০১-এর অধীনে করা হয়।   ২০১৪ সালে আলী ওই অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি স্বীকার করেন, তিনটি ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার জন্য তিনি তিনটি পৃথক অ্যাপ্লিকেশন জমা দিয়েছিলেন। তার এই স্বীকারোক্তিই পরবর্তী নাগরিকত্ব বাতিলের মামলায় সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠেছে।    এবার সরকারের করা চার দফার নাগরিকত্ব বাতিলের মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আলী অভিবাসন জালিয়াতির মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন, এমন বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন যা তার নৈতিক চরিত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, নাগরিকত্বের প্রক্রিয়ায় শপথের অধীনে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন ও ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেয়েছেন।    তবে এই মামলার মাধ্যমে এখনই তার নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায়নি। এটি একটি দেওয়ানি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ফেডারেল আদালতের। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগও জানিয়েছে, এসব মামলায় করা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।    মুরতাজা আলীর মামলা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাম্প্রতিক বড় পরিসরের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগের অংশ। বিচার বিভাগ ২০ জুলাই জানায়, এর আগের ৩০ দিনে বিভিন্ন ফেডারেল আদালতে ১০ জন ন্যাচারালাইজড মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় অভিবাসন জালিয়াতি, হেলথ কেয়ার ও ওয়্যার জালিয়াতি, শিশু যৌন নির্যাতন এবং মাদক পাচারসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি প্রতারণা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্যের মাধ্যমে ন্যাচারালাইজেশন বা নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাহলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তার নাগরিকত্ব বাতিল এবং ন্যাচারালাইজেশন সার্টিফিকেট বাতিলের জন্য আদালতে মামলা করা যেতে পারে।    মুরতাজা আলীর ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নাগরিকত্ব পাওয়ার কয়েক বছর পর ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার ব্যবহৃত ভিন্ন পরিচয়গুলোর মধ্যে যোগসূত্র শনাক্ত হয়। ২০০৯ সালে ‘মুহাম্মদ ইকবাল’ নামে নাগরিকত্ব নেওয়ার পর ২০১৪ সালে তিনি তিনটি পরিচয় ব্যবহারের কথা স্বীকার করেন। আর ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সরকার সেই পুরোনো অভিবাসন জালিয়াতির ভিত্তিতে তার ন্যাচারালাইজড নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য নতুন আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১২:৫৭