সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলায় প্রাণহানি ২০০০ ছাড়াল
কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলায় প্রাণহানি ২০০০ ছাড়াল; ডব্লিউএইচও বলছে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’

কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা ভাইরাসের ভয়াবহ প্রকোপে এখন পর্যন্ত অন্তত দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা সংক্রমণ হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। সরকারি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৮১ জনের শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২ হাজার ১১ জন মারা গেছেন। ২০১৪-১৬ সালের স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা প্রকোপের তুলনায় এবার প্রায় তিন গুণ দ্রুত গতিতে মৃত্যুর এই সংখ্যা ছুঁয়েছে। চলতি বছরের ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকোপের ঘোষণা দেওয়া হলেও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, মূলত ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই এর শুরু হয়েছিল।   প্রথম এক হাজার মানুষের মৃত্যু হতে যেখানে প্রায় নয় সপ্তাহ সময় লেগেছিল, সেখানে পরবর্তী মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই মৃতের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যায়। ইতুরি প্রদেশের একটি স্থানীয় ক্লিনিকে কর্মরত চিকিৎসক ড. জিন-ম্যারি আকান্দাবো এই পরিস্থিতিকে 'উদ্বেগজনক' আখ্যা দিয়ে দুর্গত এলাকাগুলোতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দ্বিগুণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এটি ইতিমধ্যেই ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা প্রাদুর্ভাবে পরিণত হয়েছে। এর আগে ২০১৪-২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় সবচেয়ে বড় ইবোলা সংক্রমণে ২৮ হাজারের বেশি আক্রান্ত এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।   এবারের প্রকোপটি আগেরগুলোর চেয়ে বেশ আলাদা। কারণ, 'বান্ডিবুগিও' (Bundibugyo) নামক ভাইরাসের একটি বিরল ধরন এর জন্য দায়ী, যার কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা নেই। কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে এই ভাইরাসের কেন্দ্রস্থল চিহ্নিত করে পরীক্ষামূলক চিকিৎসা শুরু হয়েছে। তবে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত, অনুন্নত সড়ক যোগাযোগ এবং বেতন নিয়ে জটিলতার কারণে স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মবিরতির ফলে দুর্গম এলাকাগুলোতে সহায়তা পৌঁছানো চরম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, নতুন আক্রান্তদের বেশিরভাগই নজরদারির বাইরে থাকা এলাকা থেকে আসছেন, যা প্রমাণ করে যে সংক্রমণটি স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।   সীমিত চিকিৎসা সেবার কারণে এবারের সংক্রমণে মৃত্যুর হার আগের চেয়ে অনেক বেশি। বর্তমানে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার ৪৫.৯ শতাংশ, যা ২০১৪-১৬ সালের প্রকোপের ৩৯.৬ শতাংশের চেয়েও ভয়াবহ। শুরুতে দুর্গম ও সংবেদনশীল এই অঞ্চলে ইবোলার উপসর্গগুলোকে ভুলবশত ম্যালেরিয়া ও টাইফয়েড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ডব্লিউএইচও-এর আফ্রিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ড. মোহাম্মদ ইয়াকুব জানাবি একটি সংবাদ সম্মেলনে জানান, কর্মকর্তারা ভাইরাসের পেছনে ছুটছেন, কিন্তু ভাইরাসটি তাদের চেয়েও দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। ইতুরি অঞ্চলে জনসমাগম সীমিত করার পাশাপাশি প্রধান বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হলেও ব্যবসা, খনি শ্রমিকদের যাতায়াত এবং সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের চলাচলের ফলে পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা ও রুয়ান্ডা সীমান্তে বিস্তারের চরম ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। ১৯৭৬ সালে প্রথম ইবোলা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এটি কঙ্গোর ১৭তম এবং এযাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রকোপ।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৩:৫
একাধিক পরিচয় ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়া মুরতাজা আলী। ছবি: সংগৃহীত
আঙুলের ছাপেই ধরা পড়ল পরিচয় জালিয়াতি, পাকিস্তানি নাগরিকের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা

অভিবাসন সুবিধা পেতে তিনটি ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে শেষ পর্যন্ত ‘মুহাম্মদ ইকবাল’ নামে গ্রিন কার্ড ও মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানে জন্মগ্রহণকারী ৬৫ বছর বয়সী মুরতাজা আলীর বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে চার দফায় নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ১৪ জুলাই ২০২৬ নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের ফেডারেল আদালতে মামলাটি করা হয়।    যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, মুরতাজা আলী বিভিন্ন নামে একাধিক অ্যাপ্লিকেশন জমা দিয়ে অভিবাসন সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত ‘মুহাম্মদ ইকবাল’ নামের একটি পরিচয়ে তিনি অভিবাসন সুবিধা পান। ওই পরিচয়ের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী হন এবং ২০০৯ সালে একই নামে মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।    নাগরিকত্ব পাওয়ার পর তার আগের অভিবাসন নথি যাচাই করতে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞরা দেখতে পান, ‘মোর্তজা আলী’ এবং ‘মুহাম্মদ ইকবাল’ নামে জমা দেওয়া অভিবাসন অ্যাপ্লিকেশনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট একই ব্যক্তির। অর্থাৎ ভিন্ন নামে করা ওই অ্যাপ্লিকেশনগুলো একই ব্যক্তির ছিল বলে শনাক্ত হয়।    এই তথ্যের ভিত্তিতে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের ফেডারেল প্রসিকিউটররা আলীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি সংস্থার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনেন। মামলাটি ১৮ ইউএসসি সেকশন ১০০১-এর অধীনে করা হয়।   ২০১৪ সালে আলী ওই অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি স্বীকার করেন, তিনটি ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার জন্য তিনি তিনটি পৃথক অ্যাপ্লিকেশন জমা দিয়েছিলেন। তার এই স্বীকারোক্তিই পরবর্তী নাগরিকত্ব বাতিলের মামলায় সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠেছে।    এবার সরকারের করা চার দফার নাগরিকত্ব বাতিলের মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আলী অভিবাসন জালিয়াতির মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন, এমন বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন যা তার নৈতিক চরিত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, নাগরিকত্বের প্রক্রিয়ায় শপথের অধীনে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন ও ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেয়েছেন।    তবে এই মামলার মাধ্যমে এখনই তার নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায়নি। এটি একটি দেওয়ানি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ফেডারেল আদালতের। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগও জানিয়েছে, এসব মামলায় করা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।    মুরতাজা আলীর মামলা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাম্প্রতিক বড় পরিসরের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগের অংশ। বিচার বিভাগ ২০ জুলাই জানায়, এর আগের ৩০ দিনে বিভিন্ন ফেডারেল আদালতে ১০ জন ন্যাচারালাইজড মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় অভিবাসন জালিয়াতি, হেলথ কেয়ার ও ওয়্যার জালিয়াতি, শিশু যৌন নির্যাতন এবং মাদক পাচারসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি প্রতারণা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্যের মাধ্যমে ন্যাচারালাইজেশন বা নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাহলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তার নাগরিকত্ব বাতিল এবং ন্যাচারালাইজেশন সার্টিফিকেট বাতিলের জন্য আদালতে মামলা করা যেতে পারে।    মুরতাজা আলীর ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নাগরিকত্ব পাওয়ার কয়েক বছর পর ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার ব্যবহৃত ভিন্ন পরিচয়গুলোর মধ্যে যোগসূত্র শনাক্ত হয়। ২০০৯ সালে ‘মুহাম্মদ ইকবাল’ নামে নাগরিকত্ব নেওয়ার পর ২০১৪ সালে তিনি তিনটি পরিচয় ব্যবহারের কথা স্বীকার করেন। আর ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সরকার সেই পুরোনো অভিবাসন জালিয়াতির ভিত্তিতে তার ন্যাচারালাইজড নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য নতুন আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১২:৫৭
টেক্সাসের লিগ সিটিতে লাল রঙে রাঙানো সেই বিড়াল। ছবি: সংগৃহীত
লাল রঙে রাঙানো বিড়াল ঘিরে রহস্য, দূরে থাকতে বলল টেক্সাস কর্তৃপক্ষ

টেক্সাসের লিগ সিটিতে লাল রঙে বা রঞ্জকে মাখা একটি ধূসর বিড়ালকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিড়ালটিকে নিরাপদে উদ্ধার করতে প্রাণী উদ্ধারকারীরা কাজ করছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিড়ালটিকে ধরার চেষ্টা বা খাবার দেওয়ার পরিবর্তে সেটি কোথায় ও কখন দেখা গেছে, তা প্রাণী পরিচর্যা কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।   লিগ সিটি অ্যানিমেল কেয়ার জানিয়েছে, বিড়ালটির শরীরে লাল রঙ বা রঞ্জক লেগে আছে এবং বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। বিড়ালটিকে নিরাপদে ধরতে তাদের দল কাজ করছে। উদ্ধার করার পর বিড়ালটির প্রয়োজনীয় যত্ন নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসিন্দারা নিজেরা বিড়ালটিকে ধরার চেষ্টা করলে উদ্ধারকারীদের চলমান প্রচেষ্টা ব্যাহত হতে পারে। একই কারণে বিড়ালটির জন্য বাইরে খাবার না রাখতেও বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হয়েছে। কেউ বিড়ালটিকে দেখতে পেলে তার অবস্থান এবং দেখার সময় জানিয়ে প্রাণী পরিচর্যা কর্তৃপক্ষকে বার্তা পাঠাতে বলা হয়েছে।   সোমবারের এক হালনাগাদ তথ্যে উদ্ধারকারীরা জানিয়েছে, বিড়ালটিকে নিরাপদে ধরার চেষ্টা এখনও চলছে। এ কাজে বিড়ালটির চলাফেরার এলাকার কাছাকাছি থাকা পরিচর্যাকারীরাও সহায়তা করছেন।   লাল রঙে ঢাকা বিড়ালটির ছবি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করেন, প্রাণীটিকে রঙ করা কোনো অবৈধ কুকুর লড়াইয়ের চক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। কেউ কেউ এমন ঘটনার তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন।   তবে এখন পর্যন্ত স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো সক্রিয় তদন্ত বা প্রাণীর ওপর নিষ্ঠুরতার অভিযোগে সম্ভাব্য কোনো মামলা বা অভিযোগের কথা জানায়নি। ফলে বিড়ালটির শরীরে কীভাবে লাল রঙ বা রঞ্জক লাগল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   প্রাণী পরিচর্যা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের প্রতি মূল অনুরোধ হলো, বিড়ালটিকে নিজেরা ধরার চেষ্টা না করে তার অবস্থান ও সময় জানানো। উদ্ধারকারীরা বিড়ালটিকে নিরাপদে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১২:৪৬
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও কম জিপিএ নিয়ে গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদনের সুযোগ। ছবি: সংগৃহীত
৩.০০ এর নিচে সিজিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে উচ্চশিক্ষার সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় যেতে ব্যাচেলর পর্যায়ে কম জিপিএ থাকলেই যে সব পথ বন্ধ হয়ে যায়, বিষয়টি এমন নয়। বেশ কিছু মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স বা নির্দিষ্ট গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ৪.০০ স্কেলে ২.৫০ থেকে ২.৭৫ জিপিএ নিয়েও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়, ডিপার্টমেন্ট ও প্রোগ্রামভেদে অ্যাডমিশনের শর্ত আলাদা হওয়ায় শুধু একটি সাধারণ জিপিএ তালিকার ওপর নির্ভর করে আবেদন করা ঠিক নয়।   বর্তমান অফিসিয়াল তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটির মাস্টার্স ও স্পেশালিস্ট প্রোগ্রামে সাধারণভাবে ন্যূনতম ২.৭৫ জিপিএ অথবা ব্যাচেলর পর্যায়ের শেষ ৬০ ক্রেডিট আওয়ারে ২.৭৫ জিপিএ প্রয়োজন। তবে নির্দিষ্ট ডিপার্টমেন্ট আরও বেশি জিপিএ চাইতে পারে।    আরকানসাস টেক ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট কলেজে সাধারণ আনকন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের জন্য ব্যাচেলর পর্যায়ে ন্যূনতম ২.৫০ জিপিএ অথবা শেষ ৩০ ক্রেডিট আওয়ারে ৩.০০ জিপিএ গ্রহণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি একই সঙ্গে জানিয়েছে, নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম চাইলে এর চেয়ে বেশি জিপিএ নির্ধারণ করতে পারে। জিপিএর শর্ত পূরণ না করলেও কিছু ক্ষেত্রে কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের সুযোগ থাকতে পারে।    ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় স্প্রিংফিল্ডে পূর্ণ গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশনের জন্য সাধারণভাবে ব্যাচেলর ডিগ্রিতে ন্যূনতম ২.৫০ জিপিএ প্রয়োজন। তবে এখানেও প্রতিটি প্রোগ্রামের নিজস্ব অ্যাডমিশন রিকোয়ারমেন্ট রয়েছে এবং কিছু প্রোগ্রামে এর চেয়ে বেশি জিপিএ দরকার হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কম জিপিএ থাকা আবেদনকারীকেও কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে।    ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন মিলওয়াকির গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন নীতিতে সাধারণভাবে ন্যূনতম ২.৭৫ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট জিপিএ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২.৭৫-এর নিচে জিপিএ থাকলে অতিরিক্ত একাডেমিক যোগ্যতা বা জিআরইসহ অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করা হতে পারে।   ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসের ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা দিয়ে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডমিশন নীতি বোঝানো ঠিক নয়। বর্তমান গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন তথ্যে বিভিন্ন ধরনের অ্যাডমিশনের ক্ষেত্রে ২.৭৫ থেকে ৩.০০ জিপিএর মানদণ্ড দেখা যায়। আবার বিশ্ববিদ্যালয়টির কিছু নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে ২.৫০ জিপিএ নিয়েও আবেদন বিবেচনা করা হয়। যেমন সাইকোলজির একটি মাস্টার্স প্রোগ্রামে ন্যূনতম ২.৫০ জিপিএ উল্লেখ রয়েছে।    ডিপল ইউনিভার্সিটিতেও একই পরিস্থিতি দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়টির কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ২.৫০ জিপিএ গ্রহণ করা হয়। উদাহরণ হিসেবে ডিজিটাল কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া আর্টস মাস্টার্স প্রোগ্রামে ন্যূনতম ২.৫০ জিপিএ উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও ৩.০০ জিপিএকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ মাস্টার্স প্রোগ্রামে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০। ফলে ডিপল ইউনিভার্সিটিকে সামগ্রিকভাবে ‘২.৫০ জিপিএ গ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়’ বলা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।    নিউ জার্সি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এনজেআইটির কিছু মাস্টার্স প্রোগ্রামে ২.৮০ জিপিএ উল্লেখ রয়েছে। যেমন এমএস ইন ইনফরমেশন সিস্টেমস এবং কিছু ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে সাধারণত ন্যূনতম ২.৮০ জিপিএ প্রত্যাশা করা হয়। তবে এটিও সব প্রোগ্রামের জন্য একই নিয়ম নয়।    লামার ইউনিভার্সিটির কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ২.৫০ জিপিএ নিয়েও আবেদন করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়টির অ্যাপ্লায়েড ডিজিটাল লার্নিং প্রোগ্রামে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট জিপিএ ২.৫০ হলে জিআরই ছাড়াই আবেদন করা যায়। তবে ২.৫০-এর নিচে গেলে ওই নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে সরাসরি অ্যাডমিশন দেওয়া হয় না।  কম জিপিএ থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু জিপিএ দিয়েই অ্যাডমিশনের সিদ্ধান্ত হয় না। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শেষ ৬০ ক্রেডিটের ফলাফল, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের কোর্সওয়ার্ক, কাজের অভিজ্ঞতা, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার, জিআরই বা জিম্যাট স্কোর এবং ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষার ফলাফলও বিবেচনা করে।   আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে টোফেল, আইইএলটিএস, ডুয়োলিঙ্গো বা বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত অন্য ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষার শর্তও থাকতে পারে। উদাহরণ হিসেবে টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটির অধিকাংশ আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট আবেদনকারীর জন্য নির্দিষ্ট ইংরেজি দক্ষতার মান পূরণ করা বাধ্যতামূলক।    এ কারণে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ‘২.০০ থেকে ২.৯৯ জিপিএ গ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা’ সরাসরি চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রোগ্রাম ২.৫০ জিপিএ গ্রহণ করলেও আরেকটি প্রোগ্রামে ৩.০০ বা তার বেশি প্রয়োজন হতে পারে। কোথাও আবার কম জিপিএর আবেদনকারীকে কন্ডিশনাল অ্যাডমিশন বা আলাদা একাডেমিক রিভিউয়ের মাধ্যমে বিবেচনা করা হয়।   যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দেখে আবেদন না করে প্রথমে নির্দিষ্ট ডিগ্রি ও ডিপার্টমেন্টের অফিসিয়াল অ্যাডমিশন রিকোয়ারমেন্ট যাচাই করা উচিত। বিশেষ করে ন্যূনতম জিপিএ, ইংরেজি দক্ষতার স্কোর, ব্যাচেলর ডিগ্রির সমমান, জিআরই বা জিম্যাটের প্রয়োজনীয়তা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত শর্ত ভালোভাবে দেখে আবেদন করলে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশন ফি ও সময় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১২:৩৩
যুক্তরাষ্ট্রে ট্যাক্স রিফান্ড বাড়ানোর বিভিন্ন সুযোগ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ট্যাক্স রিফান্ড বাড়াতে যেসব ক্রেডিট ও ডিডাকশন মিস করা উচিত নয়

যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে ট্যাক্স রিফান্ড বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো নিজের জন্য প্রযোজ্য সব ট্যাক্স ক্রেডিট ও ডিডাকশন সঠিকভাবে ক্লেম করা। আর্নড ইনকাম ট্যাক্স ক্রেডিট, চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট, ডে-কেয়ার খরচ, এডুকেশন ক্রেডিটসহ কয়েকটি সুবিধা বাদ পড়ে গেলে যোগ্য ট্যাক্সপেয়ারদের শত শত থেকে কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত কম রিফান্ড পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।   তবে ২০২৬ ট্যাক্স সিজন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। ২০২৬ সালে যে ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করা হয়েছে, সেটি মূলত ২০২৫ ট্যাক্স ইয়ারের আয় ও খরচের হিসাব। অন্যদিকে আইআরএস ঘোষিত ২০২৬ ট্যাক্স ইয়ারের কিছু নতুন সীমা ও অঙ্ক প্রযোজ্য হবে ২০২৬ সালের আয় ও লেনদেনে, যার রিটার্ন সাধারণভাবে ২০২৭ সালে ফাইল করা হবে।   ২০২৬ ফাইলিং সিজনে অর্থাৎ ২০২৫ ট্যাক্স ইয়ারের রিটার্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলোর একটি আর্নড ইনকাম ট্যাক্স ক্রেডিট বা ইআইটিসি। আইআরএসের তথ্য অনুযায়ী, তিন বা তার বেশি যোগ্য সন্তান থাকলে ২০২৫ ট্যাক্স ইয়ারে সর্বোচ্চ ইআইটিসি ৮ হাজার ৪৬ ডলার। দুই সন্তান থাকলে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ১৫২ ডলার, এক সন্তান থাকলে ৪ হাজার ৩২৮ ডলার এবং যোগ্য সন্তান না থাকলে সর্বোচ্চ ৬৪৯ ডলার।   ইআইটিসির ক্ষেত্রে শুধু আয়ের পরিমাণ নয়, ফাইলিং স্ট্যাটাস, সন্তানের সংখ্যা, বয়স, রেসিডেন্সি এবং বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরসহ একাধিক শর্ত পূরণ করতে হয়। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৫ ট্যাক্স ইয়ারে যোগ্য সন্তান না থাকা একজন সিঙ্গেল ফাইলারের আয় ও অ্যাডজাস্টেড গ্রস ইনকাম ১৯ হাজার ১০৪ ডলারের কম হতে হবে। ম্যারিড ফাইলিং জয়েন্টলি হলে এই সীমা ২৬ হাজার ২১৪ ডলার। তিন বা তার বেশি যোগ্য সন্তান থাকলে সীমা যথাক্রমে ৬১ হাজার ৫৫৫ এবং ৬৮ হাজার ৬৭৫ ডলার।   ইআইটিসি ক্লেম করতে ফর্ম ১০৪০ অথবা ১০৪০-এসআর ফাইল করতে হয়। যোগ্য সন্তানকে ভিত্তি করে ক্রেডিট ক্লেম করলে শিডিউল ইআইসিও যুক্ত করতে হয়। সন্তান ছাড়া ইআইটিসি ক্লেমের ক্ষেত্রে শিডিউল ইআইসি প্রয়োজন হয় না।   চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিটও পরিবারগুলোর জন্য বড় সুবিধা দিতে পারে। ২০২৫ ট্যাক্স ইয়ারে প্রতিটি যোগ্য সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ ২ হাজার ২০০ ডলার চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট পাওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে শর্ত পূরণ করলে অ্যাডিশনাল চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিটের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০০ ডলার পর্যন্ত রিফান্ডেবল হতে পারে। সাধারণভাবে যোগ্য শিশুর বয়স ট্যাক্স ইয়ার শেষে ১৭ বছরের নিচে হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইআরএস শর্তও পূরণ করতে হবে।   কর্মজীবী বাবা-মায়ের জন্য চাইল্ড অ্যান্ড ডিপেন্ডেন্ট কেয়ার ক্রেডিটও গুরুত্বপূর্ণ। কাজ করা বা চাকরি খোঁজার সুযোগ তৈরি করতে যোগ্য সন্তান বা নির্ভরশীল ব্যক্তির যত্নে অর্থ ব্যয় করলে এই ক্রেডিট পাওয়া যেতে পারে। হিসাবের জন্য সর্বোচ্চ ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ বিবেচিত হতে পারে একজন যোগ্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে এবং দুই বা তার বেশি যোগ্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ডলার।   ডে-কেয়ার বা বেবিসিটারের খরচ ক্লেম করার ক্ষেত্রে শুধু টাকা খরচ হয়েছে বললেই হবে না। ট্যাক্স রিটার্নে কেয়ার প্রোভাইডারের নাম, ঠিকানা এবং সাধারণত সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা এমপ্লয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর দিতে হয়। এ কারণে ক্যাশে অর্থ পরিশোধ করলেও প্রয়োজনীয় রেকর্ড ও প্রোভাইডারের তথ্য সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্রেডিটের জন্য সাধারণত ফর্ম ২৪৪১ ব্যবহার করা হয়।   ডিডাকশনের ক্ষেত্রেও সঠিক হিসাব বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। ২০২৫ ট্যাক্স ইয়ারে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন সিঙ্গেল ফাইলারের জন্য ১৫ হাজার ৭৫০ ডলার, ম্যারিড ফাইলিং জয়েন্টলির জন্য ৩১ হাজার ৫০০ ডলার এবং হেড অব হাউসহোল্ডের জন্য ২৩ হাজার ৬২৫ ডলার। কারও অনুমোদিত আইটেমাইজড ডিডাকশন স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের চেয়ে বেশি হলে আইটেমাইজ করা লাভজনক হতে পারে। তবে মর্টগেজ ইন্টারেস্ট, স্টেট ও লোকাল ট্যাক্স এবং চ্যারিটেবল কন্ট্রিবিউশনের মতো প্রতিটি ডিডাকশনের নিজস্ব যোগ্যতা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।   এডুকেশন ক্রেডিটও অনেক পরিবারের ট্যাক্স বিল কমাতে পারে। যোগ্য শিক্ষার্থীর অনুমোদিত উচ্চশিক্ষা ব্যয়ের ক্ষেত্রে আমেরিকান অপরচুনিটি ট্যাক্স ক্রেডিট বছরে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এর সর্বোচ্চ ১ হাজার ডলার রিফান্ডেবল হতে পারে। আয়সহ অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত এখানে প্রযোজ্য।   রিটায়ারমেন্ট সেভিংসের ক্ষেত্রেও সুযোগ রয়েছে। যোগ্য ট্যাক্সপেয়াররা ট্র্যাডিশনাল আইআরএতে অনুমোদিত কন্ট্রিবিউশনের জন্য ডিডাকশন পেতে পারেন, যদিও পুরো কন্ট্রিবিউশন ডিডাক্ট করা যাবে কি না তা আয়, ফাইলিং স্ট্যাটাস এবং কর্মক্ষেত্রে রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানের আওতায় থাকার মতো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। ফলে আইআরএতে টাকা জমা দিলেই সবার রিফান্ড একইভাবে বাড়বে এমন নয়।   আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে অ্যাডপশন ক্রেডিটে। তবে এখানে ২০২৫ ও ২০২৬ ট্যাক্স ইয়ারের অঙ্ক আলাদা। ২০২৫ ট্যাক্স ইয়ারে যোগ্য দত্তক গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ক্রেডিট ১৭ হাজার ২৮০ ডলার এবং এর সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার রিফান্ডেবল। ২০২৬ ট্যাক্স ইয়ারে সর্বোচ্চ অ্যাডপশন ক্রেডিট বেড়ে ১৭ হাজার ৬৭০ ডলার হয়েছে এবং রিফান্ডেবল অংশ সর্বোচ্চ ৫ হাজার ১২০ ডলার। ২০২৬ ট্যাক্স ইয়ারের এই অঙ্ক সাধারণত ২০২৭ সালে ফাইল করা রিটার্নে প্রযোজ্য হবে।   একইভাবে ২০২৬ ট্যাক্স ইয়ারে তিন বা তার বেশি যোগ্য সন্তান থাকা ট্যাক্সপেয়ারের সর্বোচ্চ ইআইটিসি বেড়ে ৮ হাজার ২৩১ ডলার হয়েছে। ফলে এই অঙ্কটি ২০২৬ ফাইলিং সিজনের রিফান্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক হবে না। এটি ২০২৬ ট্যাক্স ইয়ারের সীমা।   রিফান্ড পাওয়ার সময় নিয়েও বিভ্রান্তি এড়ানো জরুরি। আইন অনুযায়ী ইআইটিসি বা অ্যাডিশনাল চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট থাকা রিটার্নের রিফান্ড আইআরএস ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝির আগে ইস্যু করতে পারে না। ২০২৬ ফাইলিং সিজনে আইআরএস জানিয়েছিল, যেসব প্রাথমিক ফাইলার ই-ফাইল করেছেন, ডিরেক্ট ডিপোজিট বেছে নিয়েছেন এবং যাদের রিটার্নে অতিরিক্ত পর্যালোচনার প্রয়োজন হয়নি, তাদের অধিকাংশের রিফান্ড ২ মার্চের মধ্যে পাওয়ার কথা ছিল। ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনেক ফাইলার ‘হোয়্যারস মাই রিফান্ড’ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য ডিপোজিটের তারিখ দেখতে পেরেছেন।   আইআরএসের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ স্বাভাবিক রিফান্ড ২১ দিনের কম সময়ে ইস্যু করা হয়, তবে রিটার্নে ভুল, অসম্পূর্ণ তথ্য, পরিচয় যাচাই বা অতিরিক্ত পর্যালোচনার প্রয়োজন হলে বেশি সময় লাগতে পারে। ই-ফাইল এবং ডিরেক্ট ডিপোজিট সাধারণত দ্রুততম পদ্ধতি।   যোগ্য ব্যক্তিরা আইআরএস ফ্রি ফাইল এবং ভিটা কর্মসূচির মাধ্যমে বিনা খরচে বা বিনামূল্যের সহায়তায় রিটার্ন প্রস্তুত করার সুযোগও পেতে পারেন। একই সঙ্গে আইআরএস নিয়মিতভাবে ভুয়া বা অনৈতিক ট্যাক্স প্রিপেয়ারার এবং যোগ্যতা ছাড়া বড় রিফান্ডের প্রতিশ্রুতি দেওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক করে আসছে।   সবচেয়ে বড় রিফান্ড পাওয়ার অর্থ এমন কোনো ক্রেডিট বা ডিডাকশন ক্লেম করা নয় যার জন্য ট্যাক্সপেয়ার যোগ্য নন। বরং নিজের আয়, সন্তান, ডে-কেয়ার, শিক্ষা, রিটায়ারমেন্ট সেভিংস এবং অন্যান্য অনুমোদিত খরচের ভিত্তিতে যে সুবিধাগুলো আইনগতভাবে প্রযোজ্য, সেগুলো সঠিকভাবে ক্লেম করাই ট্যাক্স বিল কমানো এবং বৈধ রিফান্ড নিশ্চিত করার নিরাপদ উপায়।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১২:১২
ক্যালিফোর্নিয়ার ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সুযোগ পাওয়া তরুণী ওহান্না কারাসকোজা। ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ৯ বছর বয়সে বাবাকে এক্সেল শেখানো, সেই গল্প লিখেই ইয়েল-পেন-ডার্টমাউথে সুযোগ পেলেন তরুণী

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার তরুণী ওহান্না কারাসকোজার কলেজে ভর্তির গল্পটি এখন অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। গুয়াতেমালার অভিবাসী পরিবারের সন্তান এই শিক্ষার্থী ২৭টি কলেজে আবেদন করে ইয়েল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া এবং ডার্টমাউথ কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর কলেজের ব্যক্তিগত প্রবন্ধের বিষয় ছিল নিজের বাবা-মায়ের প্রযুক্তি ব্যবহারের সংগ্রাম এবং সেই পরিস্থিতিতে পরিবারকে সাহায্য করতে তাঁর নিজের নেওয়া দায়িত্ব। চলতি শরতে তিনি ইয়েলে পড়তে যাচ্ছেন।    সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাসকোজা মোট ২৭টি কলেজে আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে চারটি ছিল আইভি লিগের প্রতিষ্ঠান। তিনি শেষ পর্যন্ত চারটির মধ্যে তিনটিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। একই আবেদন প্রক্রিয়ায় ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে পূর্ণ টিউশন মেরিট স্কলারশিপও পেয়েছেন এবং শীর্ষস্থানীয় লিবারেল আর্টস কলেজগুলোর কয়েকটিতেও ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।    তবে তাঁর আবেদনপত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি ছিল এমন একটি অভিজ্ঞতা, যা শুরু হয়েছিল পরিবারের প্রয়োজন থেকে।   কারাসকোজার বাবা-মা দুজনই গুয়াতেমালার অভিবাসী। তাঁরা ছোট বয়সেই পড়াশোনা ছেড়ে কাজ শুরু করেছিলেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে এসে শ্রমনির্ভর কাজে যুক্ত হন। কারাসকোজার বাবা ট্রাক ব্যবসা পরিচালনা করতেন। ব্যবসার বিল তৈরি ও হিসাব রাখার জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রয়োজন হলেও প্রযুক্তি ব্যবহারে তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল সীমিত।    তখন মাত্র ৯ বছর বয়সে কারাসকোজা পরিবারের কাজে বাবাকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসেন। স্কুলের কম্পিউটার ল্যাবে বসে তিনি নিজে নিজে মাইক্রোসফট এক্সেল শেখেন। পরে বাবার ব্যবসার জন্য বিল তৈরির টেমপ্লেট বানানোও শেখেন। ধীরে ধীরে পরিবারের বিভিন্ন ডিজিটাল কাজেও তিনি সহায়তা করতে শুরু করেন।    এই অভিজ্ঞতাই পরে তাঁর কলেজের ব্যক্তিগত প্রবন্ধের মূল বিষয় হয়ে ওঠে। প্রযুক্তি ব্যবহারে বাবা-মায়ের সীমাবদ্ধতা এবং সেই সীমাবদ্ধতা পূরণ করতে ছোট বয়স থেকেই মেয়ের দায়িত্ব নেওয়ার গল্পটি তিনি তুলে ধরেন। তাঁর গল্পে প্রযুক্তি শুধু একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম শেখার বিষয় ছিল না, বরং পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে নিজের উদ্যোগে একটি নতুন দক্ষতা অর্জনের অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছিল।   কলেজে ভর্তির প্রস্তুতির সময়ও একই ধরনের উদ্যোগী মনোভাব দেখা যায় তাঁর মধ্যে। বিভিন্ন সুযোগ ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি সম্পর্কে নিজে গবেষণা করে তিনি কংগ্রেশনাল হিসপ্যানিক ককাস ইনস্টিটিউটের একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। পরে একটি জাতীয় পর্যায়ের আইন প্রতিষ্ঠানে বেতনভুক্ত ইন্টার্নশিপও করেন।    কারাসকোজা ক্যালিফোর্নিয়ার উডল্যান্ড হিলসের উইলিয়াম হাওয়ার্ড টাফট চার্টার হাইস্কুলের শিক্ষার্থী। স্কুলজীবনে তিনি টিন কোর্ট, মক ট্রায়াল, মডেল ইউনাইটেড নেশনস, স্পিচ অ্যান্ড ডিবেটসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। তিনি খেলাধুলাতেও সক্রিয় ছিলেন। কংগ্রেশনাল হিসপ্যানিক ককাস ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে তিনি আইনজীবী হওয়ার পরিকল্পনা করছেন।   শেষ পর্যন্ত কারাসকোজা ইয়েলকে বেছে নিয়েছেন। ইয়েলে ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়ার পর তাঁর আনন্দের মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। তিনটি আইভি লিগ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সুযোগ পাওয়ার খবর তিনি নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।    কারাসকোজার গল্পটি দেখাচ্ছে, কলেজের ব্যক্তিগত প্রবন্ধে শুধু ভালো ফলাফল বা পুরস্কারের তালিকা নয়, একজন শিক্ষার্থীর জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, দায়িত্ববোধ, উদ্যোগ এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে কী শেখা হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাঁর ক্ষেত্রে পরিবারের প্রয়োজন থেকে শেখা একটি প্রযুক্তিগত দক্ষতাই শেষ পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক কলেজ ভর্তি প্রক্রিয়ায় তাঁর গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১১:৫০
মেক্সিকান অভিনেত্রী ও গায়িকা মেলিসা ব্যারেরা। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার চাওয়ায় চাকরি হারিয়েছেন অনেকেই: মেলিসা ব্যারেরা

মেক্সিকান অভিনেত্রী ও গায়িকা মেলিসা ব্যারেরা বলেছেন, ফিলিস্তিনের পক্ষে এবং গাজায় ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার কারণে ‘স্ক্রিম’ ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে বাদ পড়ার ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। তার দাবি, এ ধরনের বক্তব্যের কারণে বিনোদন জগতের পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রেও অনেক মানুষ চাকরি হারিয়েছেন।   ‘লাতিনো ইউএসএ’কে দেওয়া এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে ব্যারেরা উপস্থাপক মারিয়া হিনোজোসার সঙ্গে কথা বলার সময় ফ্র্যাঞ্চাইজিটির প্রযোজকদের হাতে তিনি ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ হয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নে সম্মতি জানান। তিনি বলেন, এমন পরিণতির মুখোমুখি হওয়া তিনিই প্রথম নন এবং শেষও নন।   ব্যারেরার ভাষ্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার এবং গাজার পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার কারণে আরও অনেক মানুষ পেশাগতভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তবে তিনি যেসব ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তাদের নাম বা নির্দিষ্ট চাকরি হারানোর ঘটনা এই প্রতিবেদনের প্রাপ্ত তথ্য থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।   ব্যারেরাকে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ‘স্ক্রিম ৭’ থেকে বাদ দেওয়া হয়। এর আগে তিনি ‘স্ক্রিম’ এবং ‘স্ক্রিম ৬’ সিনেমায় স্যাম কার্পেন্টার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান স্পাইগ্লাস মিডিয়া জানিয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যারেরার কিছু পোস্টকে তারা ইহুদিবিদ্বেষী হিসেবে বিবেচনা করেছে এবং প্রতিষ্ঠানটি ঘৃণাত্মক বক্তব্যের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সহনশীলতা দেখাবে না।    সেই সময় ব্যারেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজা ও ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে একাধিক পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। এর মধ্যে কয়েকটি পোস্টে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও জাতিগত নির্মূলের অভিযোগ তোলা হয়েছিল এবং গাজার পরিস্থিতিকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছিল। স্পাইগ্লাস এসব বক্তব্যের কিছু অংশকে ইহুদিবিদ্বেষ এবং ঘৃণাত্মক বক্তব্যের সীমা অতিক্রমকারী হিসেবে দেখেছিল।    ব্যারেরা অবশ্য তখন ইহুদিবিদ্বেষ ও ইসলামোফোবিয়ার নিন্দা করেছিলেন। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেছিলেন, মানবাধিকার, স্বাধীনতা, শান্তি ও নিরাপত্তার পক্ষে কথা বলা থেকে তিনি সরে আসবেন না। তার বক্তব্য ছিল, নীরব থাকা তার জন্য কোনো বিকল্প নয়।    ‘স্ক্রিম’ ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে বাদ পড়ার পর ব্যারেরার ক্যারিয়ার নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। ২০২৪ সালে তিনি জানান, বরখাস্ত হওয়ার পর প্রায় ১০ মাস বড় ধরনের অভিনয়ের প্রস্তাব অনেকটাই কমে গিয়েছিল। পরে তিনি নিজের ক্যারিয়ার, মূল্যবোধ এবং জনসমক্ষে নিজের অবস্থান প্রকাশের বিষয়টি নতুন করে মূল্যায়ন করার কথা বলেন।    ব্যারেরা ‘লাতিনো ইউএসএ’র সঙ্গে আগেও কথা বলেছেন। ২০২৪ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি মেক্সিকোর টেলিনোভেলা থেকে হলিউডে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার পথ, অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহ এবং নিজের অবস্থান প্রকাশে জনপ্রিয়তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।    ‘স্ক্রিম’ থেকে তার বাদ পড়ার ঘটনা সে সময় হলিউডে ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্য নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে আসে। ব্যারেরার পাশাপাশি অভিনেত্রী সুসান সারান্ডনসহ আরও কয়েকজন বিনোদন ব্যক্তিত্ব ফিলিস্তিনের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কারণে পেশাগত প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছিলেন।    ব্যারেরার সর্বশেষ মন্তব্যে সেই পুরোনো বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। তার বক্তব্যের মূল প্রশ্ন হলো, কোনো শিল্পী বা পেশাজীবী আন্তর্জাতিক সংঘাত ও মানবাধিকার নিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নিলে সেই মতপ্রকাশের কারণে তার পেশাগত সুযোগ কতটা প্রভাবিত হতে পারে। আর এ কারণেই ‘স্ক্রিম’ থেকে বাদ পড়ার ঘটনা ঘিরে তার অভিযোগ এখনও হলিউডে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে চলমান আলোচনার অংশ হয়ে আছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১১:৩৬
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার জন্য লাইনে দাঁড়ানো মানুষ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারালে যেসব সরকারি সহায়তা পেতে পারেন

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানো মানেই আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব ধরনের সরকারি সহায়তার সুযোগও শেষ হয়ে যাওয়া নয়। পরিস্থিতি, আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বসবাসের অঙ্গরাজ্য এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থার ওপর নির্ভর করে বেকার ব্যক্তি ও তার পরিবার বিভিন্ন সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে বেকারত্ব বীমা, স্বাস্থ্যবিমা সহায়তা, খাদ্য সহায়তা, চাকরি খোঁজা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং কিছু ক্ষেত্রে নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য নগদ সহায়তা।   তবে এসব কর্মসূচির যোগ্যতার নিয়ম এক নয়। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ফেডারেল আইন এবং ২০২৬ সালে কার্যকর বা পরিবর্তনশীল কিছু নিয়মের কারণে অভিবাসীদের ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা আরও জটিল হয়েছে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তাগুলোর একটি হলো বেকারত্ব বীমা বা ইউআই। এটি ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকারের যৌথ ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হলেও প্রতিটি অঙ্গরাজ্য নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী সুবিধা দেয়। সাধারণত নিজের দোষে নয়, যেমন কর্মী ছাঁটাই বা কাজ না থাকার কারণে চাকরি হারালে এবং নির্দিষ্ট সময়ে পর্যাপ্ত কাজ ও মজুরির ইতিহাস থাকলে বেকারত্ব বীমা পাওয়ার সুযোগ থাকে। কত টাকা এবং কতদিন এই সুবিধা পাওয়া যাবে, তা অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন।   অ-নাগরিকদের জন্যও বেকারত্ব বীমা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সুবিধা দাবি করার সময় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি থাকতে হয় এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থাও যাচাই করতে পারে। ফলে গ্রিন কার্ডধারী বা বৈধভাবে কাজের অনুমতি থাকা অন্য কর্মীরা শুধু মার্কিন নাগরিক নন বলে বেকারত্ব বীমা থেকে বাদ পড়েন না।   চাকরি হারানোর পর যত দ্রুত সম্ভব যে অঙ্গরাজ্যে কাজ করতেন, সেই অঙ্গরাজ্যের বেকারত্ব বীমা কর্মসূচিতে আবেদন করা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু চাকরি হারিয়েছেন বলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুবিধা পাওয়া যায় না। কাজের ইতিহাস, মজুরি এবং অন্যান্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়।   চাকরির সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা চলে গেলে আরেকটি বড় সমস্যা তৈরি হয়। চাকরি-ভিত্তিক স্বাস্থ্যবিমা হারালে স্বাস্থ্যবিমা বাজারের মাধ্যমে নতুন বিমা পরিকল্পনায় যাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চাকরি ছাড়া, চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া বা অন্য কোনো কারণে চাকরির স্বাস্থ্যবিমা হারালেও বিশেষ নিবন্ধন সময়সীমার আওতায় নতুন পরিকল্পনার জন্য আবেদন করা যায়। সাধারণত চাকরির স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ৬০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হয়। আয় কমে গেলে মাসিক প্রিমিয়াম কমানোর জন্য কর-ছাড় বা আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতাও তৈরি হতে পারে।   কিছু পরিবারের ক্ষেত্রে মেডিকেইডও গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে। তবে মেডিকেইড পাওয়ার যোগ্যতা অঙ্গরাজ্য, আয়, পরিবারের পরিস্থিতি এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। ২০২৬ সালে মেডিকেইডের নিয়মেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। ফেডারেল আইনের অধীনে নির্দিষ্ট কিছু প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ, নির্দিষ্ট কর্মমুখী প্রশিক্ষণ, সামাজিক সেবা বা শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার মতো শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। তবে কিছু মানুষ এসব শর্তের বাইরে থাকতে পারেন এবং অঙ্গরাজ্যভেদে বাস্তবায়নের সময়ও ভিন্ন হতে পারে।   চাকরি হারিয়ে পরিবারের আয় কমে গেলে খাবারের খরচ সামলানোর জন্য খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি বা স্ন্যাপের জন্যও আবেদন করা যেতে পারে। এটি সাধারণভাবে ‘ফুড স্ট্যাম্প’ নামে পরিচিত। স্ন্যাপের জন্য অঙ্গরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয় এবং আয়, সম্পদ ও পরিবারের সদস্যসংখ্যাসহ বিভিন্ন যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়। ২০২৫ সালের নতুন ফেডারেল আইনের পর স্ন্যাপের কাজ-সংক্রান্ত শর্ত এবং অ-নাগরিকদের যোগ্যতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে।   অভিবাসীদের জন্য এ ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা জরুরি। কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীরা সাধারণভাবে স্ন্যাপ পাওয়ার যোগ্য নন। নির্দিষ্ট কিছু বৈধভাবে অবস্থানরত অ-নাগরিক স্ন্যাপ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত পাঁচ বছর বসবাসের শর্ত রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু এবং নির্দিষ্ট প্রতিবন্ধিতার কারণে সুবিধা পাওয়া কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকতে পারে। পরিবারের কোনো সদস্য স্ন্যাপের জন্য অযোগ্য হলেও পরিবারের অন্য যোগ্য সদস্যরা আবেদন করতে পারেন।   চাকরি হারানোর পর সরাসরি নগদ সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সবার জন্য নেই। তবে পরিবারে ছোট সন্তান থাকলে এবং আয় খুব কম হলে অঙ্গরাজ্যের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের জন্য সাময়িক সহায়তা কর্মসূচি বা ট্যানফের আওতায় সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। এই কর্মসূচি মূলত নিম্নআয়ের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার জন্য পরিচালিত হয়। এর নিয়ম, সুবিধার পরিমাণ এবং যোগ্যতার শর্ত অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন।   অন্যদিকে, সম্পূরক নিরাপত্তা আয় বা এসএসআই সাধারণ বেকার ভাতা নয়। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী অথবা নির্ধারিত ধরনের প্রতিবন্ধিতা রয়েছে এবং একই সঙ্গে সীমিত আয় ও সম্পদ রয়েছে, এমন ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এসএসআই-এর জন্য যোগ্য হতে পারেন। তাই শুধু চাকরি হারিয়েছেন বলেই কেউ এসএসআই পাওয়ার যোগ্য হয়ে যান না।   সরকারি সহায়তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নতুন চাকরি খোঁজা ও দক্ষতা উন্নয়ন। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০টি আমেরিকান জব সেন্টার রয়েছে। এসব কেন্দ্রে চাকরিপ্রার্থীরা বিনামূল্যে চাকরি খোঁজার সহায়তা, জীবনবৃত্তান্ত তৈরির পরামর্শ, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি, পেশা নির্বাচন-সংক্রান্ত পরামর্শ, চাকরি খোঁজার কর্মশালা এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির তথ্য পেতে পারেন। কিছু কেন্দ্রে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধাও থাকে।   বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন একই ধরনের কাজে ছিলেন এবং চাকরি হারানোর পর নতুন খাতে যেতে চান, তাদের জন্য এসব কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। স্থানীয় কেন্দ্রে গিয়ে কোন প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থান কর্মসূচির জন্য তারা যোগ্য হতে পারেন, সে বিষয়েও তথ্য পাওয়া যায়।   তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার যোগ্যতা নির্ধারণে শুধু বেকার হওয়াই যথেষ্ট নয়। আবেদনকারীর অঙ্গরাজ্য, পারিবারিক আয়, সম্পদ, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, কাজের ইতিহাস এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থার ওপর নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই একটি সরকারি সুবিধার যোগ্যতার নিয়ম দেখে অন্য সব সুবিধার ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।   চাকরি হারালে প্রথম কাজ হওয়া উচিত দ্রুত বেকারত্ব বীমার জন্য আবেদন করা। পাশাপাশি নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাকরি শেষ হওয়া বা কর্মী ছাঁটাই-সংক্রান্ত নথি, শেষ কয়েকটি বেতনপত্র এবং কাজের ইতিহাসের অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করা দরকার। চাকরি-ভিত্তিক স্বাস্থ্যবিমা কখন শেষ হবে, সেটিও জেনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এরপর স্বাস্থ্যবিমা বাজার, মেডিকেইড অথবা চাকরি হারানোর পর সাময়িকভাবে আগের স্বাস্থ্যবিমা চালিয়ে যাওয়ার সুবিধা কোবরা, কোনটি প্রযোজ্য হতে পারে তা যাচাই করা যেতে পারে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যোগ্যতা থাকলে সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করতে দ্বিধা না করা। তবে ২০২৬ সালে বিভিন্ন কর্মসূচির নিয়ম পরিবর্তিত হওয়ায়, বিশেষ করে অভিবাসীদের ক্ষেত্রে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য বা ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ যোগ্যতার শর্ত যাচাই করা জরুরি।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১১:২৮
জেমস ম্যাকগ্রর করানো কেলি ম্যাকগ্রর ঘুমন্ত অবস্থার ট্যাটু। ছবি: সংগৃহীত
স্ত্রীর চুল কাটার বদলা নিতে ঘুমন্ত অবস্থার ছবি ট্যাটু করালেন স্বামী

২০১৯ সালে স্ত্রী কেলি ম্যাকগ্রর দেওয়া একটি চুল কাটায় অসন্তুষ্ট হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার অভিনব পথ বেছে নেন জেমস ম্যাকগ্র। স্ত্রীর ঘুমন্ত অবস্থায় বিমানে তোলা একটি অপ্রস্তুত ছবি, যেখানে তাকে নাক ডাকতে দেখা যায়, সেটিই শেষ পর্যন্ত জায়গা করে নেয় জেমসের উরুতে ট্যাটু হিসেবে।   দীর্ঘ ২৪ বছরের দাম্পত্য জীবনে নানা ধরনের মজার প্র্যাঙ্ক বা ঠাট্টা করে একে অপরকে চমকে দেওয়ার অভ্যাস রয়েছে জেমস ও কেলির। তবে ২০১৯ সালের ঘটনাটি তাদের সেই মজার প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে যেন অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়।   স্ত্রীর দেওয়া চুল কাটাটি পছন্দ হয়নি জেমসের। তাই প্রতিশোধ হিসেবে তিনি বিমানে ঘুমিয়ে থাকা কেলির একটি ছবি বেছে নেন। ছবিতে কেলিকে নাক ডাকতে দেখা যাচ্ছিল। শুধু তাই নয়, ট্যাটুতে তার চেহারার একটি বৈশিষ্ট্য আরও বাড়িয়ে দেখানো হয়, যাতে ছবিটি আরও হাস্যকর দেখায়।   ঘটনাটি জানার পর প্রথমে বেশ ক্ষুব্ধ হয়ে যান কেলি। তার মনে হয়েছিল, মজা করতে গিয়ে জেমস এবার সীমা ছাড়িয়ে গেছেন। বিশেষ করে নিজের এমন একটি ছবি স্থায়ীভাবে স্বামীর শরীরে ট্যাটু হিসেবে দেখে তিনি মোটেও খুশি হননি।   তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই ক্ষোভ অনেকটাই হাসিতে পরিণত হয়। শেষ পর্যন্ত কেলিও ট্যাটুটির অদ্ভুত ও হাস্যকর দিকটি মেনে নিয়ে বিষয়টি নিয়ে মজা করতে শুরু করেন।   তবে এখানেই গল্প শেষ নয়। দীর্ঘদিনের এই প্র্যাঙ্ক যুদ্ধের পাল্টা জবাব দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন কেলি। তিনি জানিয়েছেন, জেমসের এই কাণ্ডের প্রতিশোধ তিনি নেবেন।   আর কেলির সেই প্রতিশোধ নিয়ে এখন বেশ চিন্তিত জেমস নিজেই। এত বছরের দাম্পত্য জীবনে একে অপরকে নিয়ে অসংখ্য মজার কাণ্ড ঘটালেও, এবার কেলি কী করবেন, সেটিই যেন জেমসের কাছে সবচেয়ে বড় রহস্য।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১১:২
শিক্ষার্থীদের জন্য রাখা বিভিন্ন রঙের স্কুল ব্যাকপ্যাক। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য সুখবর, স্কুল শুরুর আগে মিলছে ফ্রি ব্যাকপ্যাক ও স্কুল সামগ্রী

নিউইয়র্ক সিটিতে নতুন স্কুল বছর শুরুর আগে পরিবারের খরচ কমাতে বিভিন্ন এলাকায় বিনামূল্যে ব্যাকপ্যাক ও স্কুল সামগ্রী বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। আগস্টজুড়ে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে শিশুদের জন্য ব্যাকপ্যাক, খাতা, পেনসিলসহ প্রয়োজনীয় স্কুল সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সামগ্রী সীমিত এবং আগে এলে আগে পাওয়ার ভিত্তিতে বিতরণ করা হবে।   নিউইয়র্কের বিভিন্ন বরোতে স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধি, কমিউনিটি সংগঠন, লাইব্রেরি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এসব স্কুল শুরুর প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচির আয়োজন করছে। কুইন্সের জ্যামাইকা এলাকায় ডেপুটি স্পিকার নাতাশা উইলিয়ামস, স্টেট সিনেটর লেরয় কমরি এবং অ্যাসেম্বলি মেম্বার অ্যালিসিয়া হাইন্ডম্যানের উদ্যোগে ১৫ আগস্ট দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যাকপ্যাক ও স্কুল সামগ্রী বিতরণ করা হবে। আয়োজনটি হবে ১৭২-১২ লিন্ডেন বুলেভার্ডে। সামগ্রী শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিতরণ চলবে।   কুইন্সের কিং ম্যানর মিউজিয়ামেও ১৫ আগস্ট দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিনামূল্যে ব্যাকপ্যাক ও স্কুলের প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হবে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রী থাকা পর্যন্ত এগুলো বিনামূল্যে পাওয়া যাবে।   ম্যানহাটনে ১৭ আগস্টও একটি ব্যাকপ্যাক বিতরণ কর্মসূচি রয়েছে। ৪১৯ ওয়েস্ট ১৭তম স্ট্রিটে বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সীমিতসংখ্যক ব্যাগ দেওয়া হবে। প্রতি শিশুর জন্য একটি ব্যাগ বরাদ্দ থাকবে এবং ব্যাগ নিতে শিশুকে নিজে উপস্থিত থাকতে হবে।   এ ছাড়া ম্যানহাটনের ১২৪তম স্ট্রিট, সেকেন্ড ও থার্ড অ্যাভিনিউয়ের মধ্যবর্তী এলাকায় ২২ আগস্ট দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটি কমিউনিটি রিসোর্স ও স্কুল শুরুর প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচি হবে। সেখানে ব্যাকপ্যাক, স্কুল সামগ্রী, শিশুদের পোশাক ও জুতাসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   হারলেমেও ২৩ আগস্ট দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৬০ ওয়েস্ট ১৪১তম স্ট্রিটে স্কুল শুরুর প্রস্তুতি উপলক্ষে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে শিশুদের জন্য ব্যাকপ্যাক ও স্কুল সামগ্রীর পাশাপাশি বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম থাকবে।   কুইন্স বরো প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি বিনামূল্যের ব্যাকপ্যাক বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে সাধারণত শিশুকে অভিভাবক বা গার্ডিয়ানের সঙ্গে উপস্থিত থাকতে হয়। সরবরাহ শেষ হয়ে গেলে বিতরণও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।   নিউইয়র্ক সিটিতে নতুন স্কুল বছর শুরুর আগে স্কুল সামগ্রী কেনা অনেক পরিবারের জন্য বড় ধরনের বাড়তি খরচ। বিশেষ করে একাধিক সন্তান থাকা পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে ব্যাকপ্যাক, খাতা, পেনসিল, ফোল্ডারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়। এ কারণে স্থানীয় কমিউনিটি সংগঠন ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিনামূল্যের এসব বিতরণ কর্মসূচি অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হয়ে উঠেছে।   এদিকে গৃহহীন বা অস্থায়ী আবাসনে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্যও আলাদা সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল ২০২৬ অর্থবছরের বাজেটে ‘অপারেশন ব্যাকপ্যাক’ কর্মসূচির জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার বরাদ্দ করেছে। ভলান্টিয়ার্স অব আমেরিকা গ্রেটার নিউইয়র্ক পরিচালিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে আশ্রয়কেন্দ্র ও অস্থায়ী আবাসনে থাকা শিক্ষার্থীদের ব্যাকপ্যাক ও স্কুল সামগ্রী দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ১৯ হাজার ব্যাকপ্যাক বিতরণ করা হয়েছিল।   বিনামূল্যের ব্যাকপ্যাক নিতে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির নিয়ম জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কোথাও শিশুর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক, আবার কোথাও আগে থেকে নিবন্ধনের প্রয়োজন হতে পারে। অধিকাংশ কর্মসূচিতেই সামগ্রী সীমিত থাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেই পৌঁছানো সুবিধাজনক।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১০:৫৩
গুরুতর প্রতিবন্ধী দুই সন্তানসহ ভুক্তভোগী মা। ছবি: সংগৃহীত
বাবা-মা আইসিইর হাতে বন্দী, প্রতিবন্ধী দুই সন্তানের সামনে এখন কার আশ্রয়ে থাকবে!

ফ্লোরিডার ইন্ডিয়ানটাউনে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে বাবা-মা আটক হওয়ার পর গুরুতর প্রতিবন্ধী দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বাবা-মাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হলে সন্তানদের দেখাশোনা কে করবে এবং তারা কোথায় থাকবে, তা নিয়ে পরিবারটির সামনে বড় সংকট দেখা দিয়েছে।   ট্রেজার কোস্ট পাম বিচের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারটির পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে না পারলে তাদের প্রতিবন্ধী সন্তানদের স্টেটের হেফাজতে নেওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। সন্তানদের বিশেষ যত্ন ও সহায়তার প্রয়োজন হওয়ায় তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।   পরিবারটির ক্ষেত্রে মূল সংকট তৈরি হয়েছে অভিবাসন আইনের প্রয়োগ এবং প্রতিবন্ধী সন্তানদের দৈনন্দিন যত্নের প্রয়োজনীয়তার মধ্যে। বাবা-মা যদি আইসিইর হেফাজত থেকে মুক্তি না পান কিংবা শেষ পর্যন্ত দেশ থেকে বহিষ্কৃত হন, তাহলে সন্তানদের দেখাশোনার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।   প্রতিবেদনটি এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ জোরদার করা হয়েছে। আইসিই দেশজুড়ে যাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশসহ বিভিন্ন অভিবাসন-সংক্রান্ত ব্যবস্থা রয়েছে, তাদের আটক ও বহিষ্কারের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।   তবে কোনো অভিবাসীকে আটক বা বহিষ্কার করা হলেও তার যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটি আলাদা আইনি ও সামাজিক প্রশ্ন তৈরি করে। বিশেষ করে সন্তানরা যদি প্রতিবন্ধী হন এবং নিয়মিত চিকিৎসা, থেরাপি, ব্যক্তিগত সহায়তা বা বিশেষ যত্নের ওপর নির্ভরশীল হন, তাহলে অভিভাবক হারানোর সম্ভাবনা তাদের জন্য আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।   ইন্ডিয়ানটাউন ও আশপাশের এলাকায় অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে এ ধরনের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। কারণ অনেক পরিবারেই বাবা-মা সন্তানদের প্রধান বা একমাত্র পরিচর্যাকারী। অভিভাবক আটক হলে বা দেশ ছাড়তে বাধ্য হলে আত্মীয়স্বজন, পরিচিত ব্যক্তি, সামাজিক সেবা সংস্থা কিংবা স্টেট কর্তৃপক্ষকে বিকল্প যত্নের ব্যবস্থা করতে হতে পারে।   তবে প্রতিবন্ধী সন্তানদের স্টেটের হেফাজতে নেওয়া স্বয়ংক্রিয় কোনো প্রক্রিয়া নয়। শিশুর বয়স, অভিভাবকত্বের অবস্থা, পরিবারের অন্য সদস্যদের সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট স্টেটের শিশু সুরক্ষা ও হেফাজত সংক্রান্ত নিয়মের ওপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করে।   এ ধরনের পরিস্থিতিতে পরিবারগুলোর জন্য অভিবাসন আইনজীবীর পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবা প্রদানকারী স্থানীয় সংস্থা ও শিশু কল্যাণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সন্তানদের চিকিৎসা ও পরিচর্যার নথি, ওষুধের তালিকা, চিকিৎসকের তথ্য এবং জরুরি অভিভাবকত্ব-সংক্রান্ত কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   ইন্ডিয়ানটাউনের এই পরিবারের ঘটনাটি তাই শুধু অভিবাসন নিয়ে নয়, একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী সন্তানদের নিরাপত্তা, পারিবারিক পরিচর্যা এবং অভিভাবক বিচ্ছিন্নতার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বাবা-মায়ের অভিবাসন মামলার পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই এখন সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১০:৪৬
কিডনি দান করা মার্কিন নারী ডেবি স্টিভেন্স। ছবি: সংগৃহীত
বসকে বাঁচাতে কিডনি দান, অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হতে দেরি হওয়ায় চাকরিই হারালেন কর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডে নিজের বসের জীবন বাঁচাতে কিডনি দান করেছিলেন ডেবি স্টিভেন্স। কিন্তু কিডনি দানের পর অস্ত্রোপচারের জটিলতায় ভুগতে শুরু করার কয়েক মাসের মধ্যেই চাকরি হারানোর মুখে পড়েন তিনি। স্টিভেন্সের অভিযোগ, শারীরিক অসুস্থতার কারণে কাজে সমস্যা তৈরি হওয়ার পরই তার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে আচরণ বদলে যায়। তবে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, কিডনি দান বা অস্ত্রোপচার নয়, কর্মদক্ষতার সমস্যার কারণেই তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।   ডেবি স্টিভেন্স লং আইল্যান্ডের একটি গাড়ি বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। তার বস জ্যাকলিন ব্রুচিয়ার কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হলে স্টিভেন্স তাকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেন। সরাসরি বসের সঙ্গে তার কিডনি মিল না হওয়ায় চিকিৎসকেরা একটি কিডনি দান চেইনের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করেন।   এই ব্যবস্থায় স্টিভেন্সের কিডনি অন্য এক রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। বিনিময়ে ওই দান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্রুচিয়ার জন্য উপযুক্ত একটি কিডনি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। অর্থাৎ সরাসরি কিডনি না মিললেও স্টিভেন্সের দান শেষ পর্যন্ত তার বসের কিডনি প্রতিস্থাপনের পথ খুলে দেয়।   অস্ত্রোপচারের পর অবশ্য স্টিভেন্সের সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া সহজ ছিল না। তার দাবি, তিনি স্নায়ুজনিত ক্ষতি, হজমের সমস্যা এবং আরও কিছু শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকেন। প্রায় চার সপ্তাহ পর তিনি আবার কাজে ফিরলেও তখন থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।   স্টিভেন্সের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচার থেকে পুরোপুরি সুস্থ না হয়েও কাজে ফেরার পর অসুস্থতার কারণে ছুটি নেওয়ায় তাকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। পরে তাকে আগের কর্মস্থল থেকে প্রায় ৫০ মাইল দূরের আরেকটি কর্মস্থলে বদলি করা হয়। শেষ পর্যন্ত চাকরিও হারান তিনি।   তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, কিডনি দান কিংবা অস্ত্রোপচারের পর তার শারীরিক সমস্যার কারণে তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। বরং কর্মদক্ষতা-সংক্রান্ত সমস্যাই ছিল চাকরি হারানোর কারণ।   অন্যদিকে স্টিভেন্সের বক্তব্য ছিল ভিন্ন। তিনি মনে করেন, কিডনি দানের পর দেখা দেওয়া স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে কাজে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গেই পরবর্তী আচরণ ও চাকরি হারানোর ঘটনা সরাসরি সম্পর্কিত।   একজন বসের জীবন বাঁচাতে নিজের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন স্টিভেন্স। কিন্তু সেই মানবিক সিদ্ধান্তের কয়েক মাস পর তাকেই নিজের চাকরি টিকিয়ে রাখার জন্য লড়তে হয়েছে। ঘটনাটি কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত জটিলতা, কর্মীর অধিকার এবং অঙ্গদানের মতো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের পর কর্মজীবনে তৈরি হওয়া ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১০:৩৮
ঢাকার নটর ডেম কলেজের ২০২৬ সালের এইচএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ফায়েজ আহমাদ বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় এমআইটিতে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
এইচএসসি শেষেই এমআইটিতে ফায়েজ! বছরে ৯২ হাজার ডলারের বেশি স্কলারশিপ

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কাছে বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটিতে পড়ার সুযোগ পাওয়া অনেকটা স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্নই এবার বাস্তবে পরিণত করেছেন ঢাকার নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী ফায়েজ আহমাদ। ২০২৬ সালের এইচএসসি ব্যাচের এই শিক্ষার্থী এমআইটিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। চলতি বছরের জুলাইয়ে তার এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে, আর আগামী সেপ্টেম্বরেই শুরু হবে এমআইটিতে তার নতুন অধ্যায়।   রাজশাহীতে ২০০৮ সালে জন্ম ফায়েজের। তিন বড় ভাইবোনের সঙ্গে বেড়ে ওঠার সময় থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি নানা বিষয়ে জানার আগ্রহ তৈরি হয় তার। মাত্র চার বছর বয়সে ভাইবোনদের কাছ থেকেই দাবা খেলা শেখেন। এরপর ধীরে ধীরে একাডেমিক পড়াশোনার গণ্ডি পেরিয়ে বিজ্ঞান, গবেষণা, বিতর্ক, দাবা ও বিভিন্ন অলিম্পিয়াডে নিজেকে যুক্ত করেন।   ফায়েজের এই পথচলায় সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তার পরিবার। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অনেক পরিবার একাডেমিক পড়াশোনার ক্ষতি হবে আশঙ্কায় সন্তানদের সহশিক্ষা কার্যক্রম থেকে দূরে রাখেন। তবে তার বাবা-মা কখনো তাকে সেভাবে সীমাবদ্ধ করেননি। পরিবারের এই স্বাধীনতা ও সহযোগিতাই তাকে নিজের আগ্রহ অনুসরণ করার সুযোগ দিয়েছে।   শুধু এমআইটিতে ভর্তি নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিজের মেধার প্রমাণ রেখেছেন ফায়েজ। ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের হয়ে রৌপ্য পদক জেতেন তিনি। আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডেও ২০২৩ ও ২০২৪ সালে টানা দুটি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। এসব অর্জন তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের একজন প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত করে।   বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের পাশাপাশি গবেষণাতেও আগ্রহ রয়েছে ফায়েজের। তিনি বায়োইনফরমেটিকস নিয়ে গবেষণায় যুক্ত ছিলেন এবং ক্যানসার-সম্পর্কিত জৈবিক তথ্য বিশ্লেষণ নিয়েও কাজ করেছেন। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী হিসেবে গবেষণায় তার এই সম্পৃক্ততা এমআইটিতে আবেদনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।   দাবার প্রতিও তার রয়েছে দীর্ঘদিনের আগ্রহ। নটর ডেম কলেজের দাবা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতাতেও অংশ নিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজি বিতর্কেও সক্রিয় ছিলেন।   এমআইটিতে ভর্তি হওয়ার খবর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়ে ফায়েজ বলেন, এই অর্জনের পেছনে বাবা-মা, ভাইবোন, শিক্ষক, বন্ধু এবং যারা ভর্তি প্রক্রিয়ায় তাকে সহযোগিতা করেছেন, সবার অবদান রয়েছে। এমআইটি থেকে তিনি বছরে ৯২ হাজার ৭৮৪ ডলারের আর্থিক সহায়তাও পেয়েছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সহায়তার আওতায় টিউশন, আবাসন, খাবার, হেলথ ইন্স্যুরেন্স ও অন্যান্য খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   ফায়েজের যাত্রা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনার গুরুত্বও সামনে আনে। রাজশাহীতে বেড়ে ওঠা এই তরুণ শিক্ষার্থী দেখিয়েছেন, নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা, অলিম্পিয়াড, বিতর্ক, দাবা ও অন্যান্য আগ্রহকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়াও সম্ভব।   এইচএসসি পরীক্ষার পর যখন অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন ফায়েজের সামনে খুলে গেছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্রযুক্তি ও গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে এমআইটির ২০৩০ সালের ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে শুরু হবে তার নতুন পথচলা।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১০:১
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির স্ত্রী রামা দুওয়াজির আসন্ন সিরিয়া ও লেবানন সফরে এনওয়াইপিডির নিরাপত্তা দেওয়া নিয়ে সিটি হল ও পুলিশের মতবিরোধ। ছবি: সংগৃহীত
মামদানি-পত্নীর সিরিয়া-লেবানন সফরে পুলিশ পাহারা নিয়ে পুলিশ বিভাগের বিরোধ

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির স্ত্রী রামা দুওয়াজির আসন্ন সিরিয়া ও লেবানন সফরে নিউইয়র্ক পুলিশের নিরাপত্তা থাকবে কি না, তা নিয়ে নিউইয়র্ক সিটি হল ও পুলিশ বিভাগের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।   সিটি হলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে রামা দুওয়াজির সফরে তার সঙ্গে পুলিশের একটি নিরাপত্তা দল থাকবে। তবে পুলিশ বিভাগ পরে এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে জানায়, ব্যক্তিগত সফরে তাকে নিরাপত্তা দিতে পুলিশ সদস্যদের সিরিয়া বা লেবাননে পাঠানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই।   ২৯ বছর বয়সী রামা দুওয়াজি আগামী ২০ সেপ্টেম্বর সিরিয়া ও লেবানন সফরের পরিকল্পনা করছেন। দুই দেশই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ভ্রমণ সতর্কতার আওতায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সফরটি ব্যক্তিগত এবং নিউইয়র্ক সিটির কোনো সরকারি কার্যক্রমের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।   মেয়রের মুখপাত্র ডোরা পেকেক এর আগে জানিয়েছিলেন, রামার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নিউইয়র্ক পুলিশের সদস্যরা তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সফরের সময় তার সঙ্গে থাকবেন। তবে পুলিশ বিভাগের একজন মুখপাত্র পরে স্পষ্ট করে বলেন, রামার সফর কোনো তদন্ত বা সরকারি দায়িত্বের অংশ নয়। তাই তাকে সঙ্গ দিতে নিউইয়র্ক পুলিশের সদস্যদের বিদেশে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।   জানা গেছে, রামা এর আগে একটি বিদেশ সফরে পুলিশি নিরাপত্তা ছাড়াই গিয়েছিলেন। পরে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি নিউইয়র্ক পুলিশের সহায়তা চেয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে এবারের সফর ব্যক্তিগত হওয়ায় বিদেশে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।   মেয়র জোহরান মামদানি এর আগে তার স্ত্রী রামাকে ব্যক্তিগত স্বভাবের মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে, রামার পরিকল্পিত সফরের সময় নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনও চলবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতির কারণে ওই সময়ে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ওপর বাড়তি নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকবে।   রামা দুওয়াজির সফরে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে সিটি হল ও নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা দিয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত মেয়রের স্ত্রীকে নিরাপত্তা দিতে নিউইয়র্ক পুলিশের সদস্যরা সিরিয়া ও লেবাননে যাবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ১০:২
ফ্লোরিডায় দুই সন্তানের মাকে অপহরণ ও হত্যার পর আত্মঘাতী হওয়া পিনেলাস কাউন্টি শেরিফের ডেপুটি ট্রয় সাভেটজ সংবলিত বিভিন্ন খণ্ডচিত্র। ছবি: সংগৃহীত
৯১১-এ ফোন করেছিল সন্তানরা, ততক্ষণে দুই সন্তানের মাকে অপহরণ করে হত্যা ডেপুটি প্রেমিকের

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই সন্তানের এক মাকে অপহরণ করে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন তার সঙ্গে ওঠানামা করা সম্পর্কে থাকা এক শেরিফের ডেপুটি। সোমবার সন্ধ্যায় হাডসনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় নিহত নারীর দুই সন্তানও ঘটনাস্থলে ছিল। তবে মায়ের নির্দেশে তারা দ্রুত ঘরের ভেতরে গিয়ে ৯১১ নম্বরে ফোন করে নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম হয়।    পাসকো কাউন্টি শেরিফ ক্রিস নোকোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই নারী তার ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই সন্তানকে নিয়ে সৈকত থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন। বাড়ির উঠানে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন ৪৭ বছর বয়সী ট্রয় সাভেটজ, যিনি পিনেলাস কাউন্টি শেরিফের অফিসের ডেপুটি ছিলেন।   সাভেটজের সঙ্গে ওই নারীর দীর্ঘদিনের অস্থির সম্পর্ক ছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বাড়িতে ফিরে দুজনের মধ্যে একটি টেলিভিশন নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ওই নারী সন্তানদের ঘরের ভেতরে গিয়ে ৯১১ নম্বরে ফোন করতে বলেন।   পাসকো কাউন্টি শেরিফ নোকো জানান, ৯১১ কলের রেকর্ডে ওই নারীর সন্তানদের নিরাপদ জায়গায় যেতে বলার বিষয়টি শোনা যায়। তিনি বলেন, সন্তানরা তাদের মায়ের নির্দেশ মেনে দ্রুত ঘরে গিয়ে সাহায্যের জন্য ফোন করেছিল।   এরপর সাভেটজ ওই নারীর ফোন কেড়ে নেন এবং তাকে সঙ্গে নিয়ে চলে যান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে। তবে ততক্ষণে দুজনই সেখানে ছিলেন না। সাভেটজের কাছে অস্ত্র থাকার বিষয়েও পুলিশ জানত।   কর্তৃপক্ষ পরে জানতে পারে, ওই নারীকে একটি ভাড়া করা গাড়িতে করে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গাড়িটির অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ প্রায় দুই ঘণ্টা পর স্প্রিং হিলের প্ল্যাটিনাম ড্রাইভ এলাকায় পৌঁছায়। জায়গাটি ওই নারীর বাড়ি থেকে প্রায় ছয় মাইল দূরে।   গাড়ির ভেতর পুলিশ সাভেটজ ও ওই নারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত দেখতে পায়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে হত্যা ও আত্মহত্যা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহত নারীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।    নিহত নারীর দুই সন্তান বর্তমানে তাদের জৈবিক বাবার হেফাজতে রয়েছে। শেরিফ নোকো বলেন, সন্তান দুটির সামনে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা থাকলেও তাদের এখন মাকে হারানোর শোক নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।   পিনেলাস কাউন্টি শেরিফ বব গল্টিয়ার জানিয়েছেন, সাভেটজ প্রায় ১৪ বছর শেরিফের অফিসে কাজ করেছেন এবং সর্বশেষ মেরিন ইউনিটে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে এই ঘটনায় তার কর্মকাণ্ডকে কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।   গল্টিয়ার বলেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধ করার মুহূর্তে তিনি আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা থাকেন না, বরং অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হন। তিনি সাভেটজের কর্মকাণ্ডকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন।    ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নিহত নারীর সন্তানদের দ্রুত ঘরে গিয়ে ৯১১ নম্বরে ফোন করার সিদ্ধান্ত তাদের জীবন রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ৯:৩৯
ফেডারেল আপিল আদালতের এক রায়ে প্রতারণার শিকার প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ঋণগ্রহীতার স্টুডেন্ট লোন মাফের পথ নিশ্চিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
কলেজের ভুয়া প্রতিশ্রুতির শিকার, আদালতের রায়ে ১ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থীর স্টুডেন্ট লোন মাফ

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতারণার শিকার শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর এসেছে। ফেডারেল আপিল আদালতের এক রায়ে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ঋণগ্রহীতার স্টুডেন্ট লোন মাফের পথ নিশ্চিত হয়েছে। এসব ঋণগ্রহীতা এমন কলেজে পড়াশোনা করেছিলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে।   ‘সুইট বনাম ম্যাকমাহন’ মামলায় নবম সার্কিট কোর্ট অব আপিলের তিন বিচারকের একটি প্যানেল সর্বসম্মতভাবে শিক্ষা বিভাগের সময় বাড়ানোর আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। শিক্ষা বিভাগ আদালত নির্ধারিত সময়সীমা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল। আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনগুলোর সিদ্ধান্ত না হওয়া ঋণগ্রহীতাদের জন্য চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ ঋণমুক্তির পথ বহাল থাকছে।   মামলাটির মূল বিষয় ছিল ‘বরোয়ার ডিফেন্স টু রিপেমেন্ট’ ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার আওতায় কোনো শিক্ষার্থী যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তার কলেজ প্রতারণা করেছে বা গুরুতর অসদাচরণ করেছে, তাহলে নির্দিষ্ট শর্তে সেই শিক্ষার্থীর ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন বাতিলের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ ছিল, তারা ঋণ মওকুফের জন্য আবেদন করলেও শিক্ষা বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে সেসব আবেদনের যথাযথ সিদ্ধান্ত নেয়নি।   ২০১৯ সালে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ‘সুইট বনাম ম্যাকমাহন’ মামলা করা হয়। পরে ২০২২ সালে একটি সমঝোতার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বরোয়ার ডিফেন্সের আবেদন নিষ্পত্তির নিয়ম করা হয়। সমঝোতার আওতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না হলে নির্দিষ্ট শ্রেণির আবেদনকারীদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূর্ণ ঋণমুক্তির বিধান রাখা হয়।   নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় মূলত ২০২২ সালের ২৩ জুন থেকে ১৬ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন করা পরবর্তী পর্যায়ের আবেদনকারীদের একটি বড় অংশ রয়েছে। যেসব আবেদনকারী নির্দিষ্ট তালিকাভুক্ত কলেজে পড়েছেন এবং ২৮ জানুয়ারি ২০২৬-এর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তাদের আবেদনের সিদ্ধান্ত পাননি, তারা সমঝোতা অনুযায়ী পূর্ণ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী।   শিক্ষা বিভাগ আগে যুক্তি দিয়েছিল, এত বিপুলসংখ্যক আবেদন নির্ধারিত সময়ে পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়নি। বিভাগ আরও সময় চেয়েছিল এবং জানিয়েছিল, বাকি আবেদনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মওকুফ করতে হলে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের স্টুডেন্ট লোন বাতিল করতে হবে। এর পাশাপাশি আগে পরিশোধ করা অর্থ ফেরত দেওয়ার খরচও হতে পারে।   কিন্তু আদালত শিক্ষা বিভাগের সময় বাড়ানোর আবেদন গ্রহণ করেনি। ফলে সমঝোতায় নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী যোগ্য ঋণগ্রহীতাদের ঋণমুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা বহাল থাকছে।   এই সুবিধা শুধু বাকি স্টুডেন্ট লোন বাতিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যোগ্য ঋণগ্রহীতারা সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী আগে পরিশোধ করা অর্থ ফেরত এবং সংশ্লিষ্ট ঋণের কারণে ক্রেডিট রিপোর্টে থাকা নেতিবাচক তথ্য সংশোধনের সুবিধাও পেতে পারেন।   প্রিডেটরি স্টুডেন্ট লেন্ডিংবিরোধী সংগঠন প্রজেক্ট অন প্রিডেটরি স্টুডেন্ট লেন্ডিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ‘সুইট’ সমঝোতার আওতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৩ বিলিয়ন ডলারের স্টুডেন্ট লোন থেকে ঋণমুক্তির সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে এবং মোট ৫ লাখের বেশি ঋণগ্রহীতা এর আওতায় সুবিধা পেয়েছেন বা পাওয়ার অধিকারী হয়েছেন। নতুন করে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ঋণগ্রহীতার জন্য এই স্বয়ংক্রিয় ঋণমুক্তি যুক্ত হচ্ছে।   তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সব স্টুডেন্ট লোন গ্রহীতার জন্য সাধারণ ঋণ মওকুফের ঘোষণা নয়। আদালতের এই সিদ্ধান্ত নির্দিষ্ট সমঝোতার আওতাভুক্ত এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বরোয়ার ডিফেন্সের আবেদন করা ও সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণ করা ঋণগ্রহীতাদের জন্য প্রযোজ্য।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ৯:৩০
ক্যালিফোর্নিয়ায় শত শত বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার মতো একটি মহাদুর্যোগ যে কোনো সময় আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা। ছবি: সংগৃহীত
‘আমরা প্রস্তুত নই’ ক্যালিফোর্নিয়ায় কোটি মানুষের জন্য ‘কেয়ামতের মতো মহাবন্যার’ আশঙ্কা, সতর্ক বিজ্ঞানীরা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় শত শত বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার মতো একটি মহাদুর্যোগ যে কোনো সময় আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা। ‘এআরকে-স্টর্ম ২.০’ নামে পরিচিত সম্ভাব্য এই দুর্যোগে টানা প্রায় ৩০ দিন ধরে শক্তিশালী ঝড় ও বায়ুমণ্ডলীয় নদীর কারণে বিপুল বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবন ও সম্পদ ঝুঁকিতে পড়ার পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।    বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের মহাবন্যার সম্ভাবনা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার জলবায়ু বিজ্ঞানী ড্যানিয়েল সোয়েনের মতে, প্রশ্নটি এখন আর এমন বন্যা হবে কি না, বরং কখন হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের আগে এমন ঘটনা ঘটতে হয়তো আরও কয়েক শতাব্দী অপেক্ষা করতে হতো, কিন্তু এখন তার নিজের জীবনকালেই এমন একটি দুর্যোগ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।    এআরকে-স্টর্ম বলতে বোঝানো হচ্ছে একের পর এক শক্তিশালী ‘অ্যাটমসফেরিক রিভার’ বা বায়ুমণ্ডলীয় নদীর আঘাতে সৃষ্ট মহাঝড়। এগুলো আকাশে বিশাল জলীয়বাষ্পের প্রবাহ, যা উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ আর্দ্রতা পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রের দিকে নিয়ে আসে। পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছানোর পর এই জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে দীর্ঘস্থায়ী ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাত ঘটাতে পারে। শক্তিশালী এসব বায়ুমণ্ডলীয় নদী একেকটি মিসিসিপি নদীর মোহনা দিয়ে প্রবাহিত পানির প্রায় ১৫ গুণ পরিমাণ পানি বহন করতে পারে।    যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস ২০১০ সালে প্রথম এআরকে-স্টর্মের সম্ভাব্য পরিস্থিতি তৈরি করে। এর ভিত্তি ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার অতীতের ভয়াবহ বন্যা, বিশেষ করে ১৮৬১ ও ১৮৬২ সালের ধারাবাহিক ঝড়। ওই সময় প্রায় ৪৫ দিন ধরে প্রবল বৃষ্টিপাতের পর সেন্ট্রাল ভ্যালির কয়েক শ মাইল এলাকা কার্যত বিশাল অভ্যন্তরীণ সাগরে পরিণত হয়েছিল।   বর্তমান পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হওয়ার অন্যতম কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। উষ্ণ বায়ুমণ্ডল বেশি জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বায়ুমণ্ডলের জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ফলে ঝড়ের সময় বৃষ্টির পরিমাণও আরও বেশি হতে পারে।    এর পাশাপাশি সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালায় তুষারের পরিবর্তে বৃষ্টি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগে শীতকালে পাহাড়ে জমে থাকা তুষার বসন্তে ধীরে ধীরে গলে নদীতে পানি সরবরাহ করত। কিন্তু উষ্ণ আবহাওয়ায় বেশি বৃষ্টি এবং তুষারের ওপর বৃষ্টিপাত হলে জমে থাকা তুষার দ্রুত গলে গিয়ে অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ পানি নদী ও নিচু এলাকায় নেমে আসতে পারে। বিজ্ঞানীরা এই দুই প্রভাবকে একসঙ্গে বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।    এআরকে-স্টর্ম ২.০-এর মডেল অনুযায়ী, সিয়েরা নেভাদার দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় ঐতিহাসিক মহাঝড়ের তুলনায় পানির প্রবাহ ২০০ থেকে ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হতে পারে। একই গবেষণায় দেখা গেছে, গত শতাব্দীর শুরুর সময়ের তুলনায় মহাবন্যা সৃষ্টি করতে সক্ষম ঝড়ের ধারাবাহিকতার সম্ভাবনা ইতোমধ্যে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। বর্তমান হারে কার্বন নিঃসরণ অব্যাহত থাকলে ২০৬০ সালের মধ্যে অতীতে প্রায় ২০০ বছরে একবার ঘটতে পারে এমন বিপর্যয় প্রতি শতকে প্রায় তিনবার ঘটার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।    সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ভ্যালি। অঞ্চলটি একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষি এলাকা, অন্যদিকে রাজ্যের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্যাক্রামেন্টো ও সান জোয়াকিন নদীসহ বিভিন্ন নদী ও খালের পানি এই বিস্তীর্ণ নিচু এলাকায় প্রবাহিত হয়। বন্যা নিয়ন্ত্রণে শত শত মাইল বাঁধ, খাল, পাম্পিং স্টেশন ও জলাধার থাকলেও এগুলোর অনেকগুলো এমন জলবায়ুর কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছিল, যখন শীতের বৃষ্টিপাত তুলনামূলকভাবে স্বল্পস্থায়ী ছিল এবং পাহাড়ের তুষার গলে ধীরে ধীরে নদীর পানি বাড়ত।    প্রথম এআরকে-স্টর্ম পরিস্থিতির হিসাব অনুযায়ী, এমন একটি মহাঝড়ে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পানির গভীরতা ২০ ফুট বা প্রায় ৬ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। সান ফ্রান্সিসকো থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত বিস্তৃত জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়তে পারে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হতে পারে। সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে বলে মডেলিংয়ে উঠে এসেছে।    তবে বিজ্ঞানীরা এটিকে ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে দেখছেন না। এআরকে-স্টর্ম ২.০ একটি সম্ভাব্য দুর্যোগের মডেল বা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ। ঠিক কোন বছর এমন ঘটনা ঘটবে, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তবে অতীতের ভূতাত্ত্বিক ও আবহাওয়াগত তথ্য এবং বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রবণতা দেখিয়ে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ঝুঁকিটিকে আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।   ক্যালিফোর্নিয়ার কর্তৃপক্ষও বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো সম্ভাব্য বন্যার পরিস্থিতি নিয়ে মহড়া চালাচ্ছে। একই সঙ্গে উচ্চমাত্রার বন্যার ক্ষেত্রে কোন এলাকা, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পানির নিচে যেতে পারে, তা নির্ধারণে আরও বিস্তারিত বন্যা মানচিত্র তৈরির কাজ চলছে।    বিজ্ঞানীদের কাছে ক্যালিফোর্নিয়ার এই সম্ভাব্য মহাবন্যা তাই শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা নয়। এটি এমন এক ঝুঁকি, যার সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে জলবায়ু পরিবর্তন, জনবসতির বিস্তার, কৃষি, পানি সরবরাহ এবং রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা। প্রস্তুতি কতটা কার্যকর হবে, শেষ পর্যন্ত সেটিই নির্ধারণ করতে পারে এমন একটি মহাদুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কতটা ভয়াবহ হবে।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ৯:১৪
লুইজিয়ানার নিউ অরলিন্সের ডেনিস মালিক বার্নস
১৬ বছর বয়সে ১৭০ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, ৯ মিলিয়ন ডলারের বেশি বৃত্তির প্রস্তাব

মাত্র ১৬ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার নিউ অরলিন্সের ডেনিস মালিক বার্নস এমন এক একাডেমিক সাফল্য অর্জন করেছেন, যা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হাইস্কুল নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগেই শেষ করে তিনি ১৭০টির বেশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তাব পেয়েছেন। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া বৃত্তির প্রস্তাবের মোট মূল্য ছাড়িয়েছে ৯ মিলিয়ন ডলার।   ইন্টারন্যাশনাল হাই স্কুল অব নিউ অরলিন্সের এই শিক্ষার্থী ৪.৯৮ জিপিএ নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০০টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন শুরু করেন। শুরুতে কোনো রেকর্ড গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এতগুলো প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেননি। তবে একের পর এক ভর্তি ও বৃত্তির প্রস্তাব আসতে থাকায় বিষয়টি তার কাছেও ব্যতিক্রমী হয়ে ওঠে।   বার্নসের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার অসাধারণ একাডেমিক ফলাফল, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ। তিনি ন্যাশনাল অনার সোসাইটির নেতৃত্বেও ছিলেন। পাশাপাশি স্প্যানিশ ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছেন এবং উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব নিউ অরলিন্সে দ্বৈতভাবে পড়াশোনা করে কলেজ পর্যায়ের ক্রেডিট অর্জন করেছেন।   বার্নসের ক্ষেত্রে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সংখ্যাই নজরকাড়া নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাকে বড় অঙ্কের বৃত্তির প্রস্তাব দিয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, ১৭০টির বেশি ভর্তি প্রস্তাবের সঙ্গে বৃত্তির মোট মূল্য ৯ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। পরে আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত আসার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি এবং মোট বৃত্তির পরিমাণ ১০ মিলিয়ন ডলারে নেওয়ার লক্ষ্যও জানিয়েছিলেন।   এই অর্জনের ফলে আগের মার্কিন রেকর্ডও ছাড়িয়ে যান বার্নস। এর আগে ২০১৯ সালে লুইজিয়ানার আরেক শিক্ষার্থী নরম্যান্ডি করমিয়ের বিভিন্ন কলেজ থেকে প্রায় ৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তির প্রস্তাব পেয়েছিলেন বলে সে সময়ের বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়।   তবে বার্নসের অর্জনকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের আনুষ্ঠানিক বিশ্বরেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে সতর্কতা রয়েছে। তার স্কুল কর্তৃপক্ষ গিনেস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সে সময় গিনেসের পক্ষ থেকে এমন কোনো রেকর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভুক্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কলেজে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃত্তির প্রস্তাব পাওয়া শিক্ষার্থীদের একজন হিসেবে উল্লেখ করাই বেশি নির্ভুল।   বার্নস ভবিষ্যতে কম্পিউটার সায়েন্স ও ক্রিমিনাল জাস্টিস নিয়ে পড়াশোনা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। এরপর আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন।   নিজের সাফল্যের জন্য পরিবার, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহায়তার কথা তুলে ধরেছেন বার্নস। তার এই অর্জন যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ভর্তি প্রক্রিয়ায় একাডেমিক প্রস্তুতি, আগেভাগে আবেদন এবং বিভিন্ন বৃত্তির সুযোগ খোঁজার গুরুত্বও সামনে এনেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ৯:৪
'ওই সময় মানসিক যন্ত্রণা এতটাই তীব্র ছিল আত্মহত্যার কথা মাথায় এসেছিল', ব্র্যাড পিটের স্বীকারোক্তি
'ওই সময় মানসিক যন্ত্রণা এতটাই তীব্র ছিল আত্মহত্যার কথা মাথায় এসেছিল', ব্র্যাড পিটের স্বীকারোক্তি

হলিউড তারকা ব্র্যাড পিট জানিয়েছেন, জীবনের এক কঠিন সময়ে পারিবারিক সংকটের কারণে মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে আত্মহত্যাকে তিনি সাময়িকভাবে ‘স্বস্তির পথ’ হিসেবে বুঝতে পেরেছিলেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা তাঁর ছিল না।    সোমবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ৬২ বছর বয়সী এই অভিনেতা নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। পিট জানান, ওই সময় মানসিক যন্ত্রণা এতটাই তীব্র ছিল যে আত্মহত্যার চিন্তার সঙ্গে নিজেকে পরিচিত মনে হচ্ছিল। তবে তাঁর বেঁচে থাকার প্রবল ইচ্ছা এবং আশাবাদী মানসিকতা তাঁকে সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছে।  পিটের এই বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর সাবেক স্ত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও সন্তানদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের বিষয়টিও সামনে এসেছে। জোলির সঙ্গে তাঁদের বিচ্ছেদ ২০১৬ সালে শুরু হলেও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। তাঁদের ছয় সন্তান রয়েছে।  সন্তানদের সঙ্গে পিটের সম্পর্কও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ দূরত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁদের কয়েকজন সন্তান ইতোমধ্যে পিটের পদবি ব্যবহার করা বন্ধ করেছেন। শিলোর পদবি পরিবর্তনের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে এবং জাহারা ও ম্যাডক্সের ক্ষেত্রেও এ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।  সাক্ষাৎকারে পিট তাঁর মায়ের মৃত্যুর প্রভাবের কথাও বলেন। তাঁর মা জেন পিট ২০২৫ সালের আগস্টে মারা যান। পারিবারিক দূরত্ব, মায়ের মৃত্যু এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা পরিবর্তন মিলিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলো তাঁর জন্য বেশ কঠিন ছিল বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।      পিট আরও জানান, সাত বছর মদ্যপান থেকে দূরে থাকার পর তিনি আবার পান করা শুরু করেছেন। তবে এখন তিনি আগের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক থাকার চেষ্টা করেন। অতীতে মদ্যপান থেকে দূরে থাকার ক্ষেত্রে অ্যালকোহলিকস অ্যানোনিমাসের সহায়তা এবং অভিনেতা ব্র্যাডলি কুপারের সমর্থনের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।  অ্যাঞ্জেলিনা জোলিও সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের সন্তানদের নিয়ে কথা বলেছেন। জুনে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সন্তানরা তাঁকে জীবনের কঠিন সময় পার হতে সহায়তা করেছে এবং তাঁর আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে ভূমিকা রেখেছে।    তবে পিটের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তিনি আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন এমন দাবি করেননি। বরং তীব্র মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে আত্মহত্যাকে কেন কেউ স্বস্তির পথ মনে করতে পারে, সেই অনুভূতির কথা বলেছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ৮:১৮
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের বড় পরিবর্তন, আবেদন করতে ফিরতে হতে পারে দেশে
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের বড় পরিবর্তন, আবেদন করতে ফিরতে হতে পারে দেশে

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে গ্রিন কার্ডের আবেদন করার দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন এনেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস। নতুন নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে স্থায়ী বসবাসের আবেদন বা অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগকে এখন বিশেষ পরিস্থিতিতে দেওয়া একটি সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে অনেক অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গিয়ে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হতে পারে।  গত ২১ মে জারি করা নতুন নীতিনির্দেশনায় ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী ভিসায় থাকা কেউ গ্রিন কার্ড পেতে চাইলে সাধারণ নিয়মে তাকে কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আবেদন করতে হবে। তবে বিশেষ বা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকেই আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।  এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অনেক অভিবাসীর গ্রিন কার্ডের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অস্থায়ী কর্মী এবং অন্যান্য অস্থায়ী ভিসাধারীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই আবেদন করা সম্ভব হবে কি না, তা এখন আরও কঠোরভাবে যাচাই করতে পারেন অভিবাসন কর্মকর্তারা। তবে নতুন নীতির অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কেউই আর গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যোগ্যতা পূরণকারী অস্থায়ী ভিসাধারীরা এখনো অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারেন। তবে নতুন নীতিতে এই সুবিধা অনুমোদনের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের বিবেচনামূলক ক্ষমতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।  নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীর পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করা হতে পারে। অর্থাৎ শুধু আইনগত যোগ্যতা পূরণ করলেই আবেদন অনুমোদনের নিশ্চয়তা থাকবে না। কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি এবং অন্যান্য ইতিবাচক ও নেতিবাচক বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।  গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে দুটি প্রক্রিয়ার পার্থক্যও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে আবেদন করার পদ্ধতিকে বলা হয় অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার আবেদন। অন্যদিকে কনস্যুলার প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গিয়ে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে অভিবাসী ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। নতুন নীতির ফলে যাঁদের যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যেতে হবে, তাঁদের জন্য চাকরি, পড়াশোনা, পরিবার এবং ভ্রমণসংক্রান্ত নানা বাস্তব সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের পরিবারের সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকা বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে। অভিবাসন আইনজীবীরাও নতুন নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।    বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী, কর্মী বা অন্য কোনো অস্থায়ী ভিসায় থাকা কেউ যদি ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ডের আবেদন করার পরিকল্পনা করেন, তাহলে পুরোনো নিয়মের ওপর নির্ভর না করে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের পরিস্থিতি যাচাই করা জরুরি। তবে ইতোমধ্যে গ্রিন কার্ডধারী বা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর এই পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব নেই। মূলত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে নতুন করে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার আবেদনকারীদের জন্যই পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ।   যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তথ্য অনুযায়ী, অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া এখনো বিদ্যমান। তাই প্রত্যেক আবেদনকারীর ভিসার ধরন, আবেদন করার ভিত্তি এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়ম আলাদা হতে পারে। জটিল কোনো আবেদন করার আগে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : আগস্ট ১১, ২০২৬ ৭:৪৩